হাদিস সম্ভার > জানাযার স্বলাতে যে সব দু‘আ পড়া হয়
হাদিস সম্ভার ১৩২৭
وعن أبي هريرة قال : سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقولإذا صليتم على الميت فأخلصوا له الدعاء
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “যখন তোমরা মৃতের জানাযা পড়বে, তখন তার জন্য আন্তরিকতার সাথে দু‘আ করো।” (আবু দাঊদ ৩২০১, ইবনে মাজাহ ১৪৯৭)
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “যখন তোমরা মৃতের জানাযা পড়বে, তখন তার জন্য আন্তরিকতার সাথে দু‘আ করো।” (আবু দাঊদ ৩২০১, ইবনে মাজাহ ১৪৯৭)
وعن أبي هريرة قال : سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقولإذا صليتم على الميت فأخلصوا له الدعاء
হাদিস সম্ভার ১৩২৮
وعن واثلة بن الأسقع قال : صلى بنا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم على رجل من المسلمين فسمعته يقولاللهم إن فلان ابن فلان في ذمتك وحبل جوارك فقه فتنة القبر وعذاب النار وأنت أهل الوفاء والحمد ؛ اللهم فاغفر له وارحمه إنك أنت الغفور الرحيمرواه أبو داود
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এক মুসলিম ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ালেন। সুতরাং আমি তাঁকে এই দু‘আটি বলতে শুনলাম, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্না ফুলা-নাবনা ফুলা-নিন ফী যিম্মাতিকা অহাবলি জিওয়ারিক, ফাক্বিহী ফিতনাতাল ক্বাবরি অ আযা-বান্নার, অ আন্তা আহলুল অফা-ই অলহাম্দ, ফাগ্ফির লাহু অরহামহু ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রাহীম।’ অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক তোমার দায়িত্বে এবং তোমার আমানতে। অতএব ওকে তুমি কবর ও দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। তুমি প্রতিশ্রুতি পালনকারী ও প্রশংসার পাত্র। সুতরাং ওকে তুমি মাফ ক’রে দাও এবং ওর প্রতি দয়া কর। নিঃসন্দেহে তুমিই মহাক্ষমাশীল অতি দয়াবান। (আবূ দাউদ ৩২০৪, ইবনে মাজাহ ১৪৯৯)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এক মুসলিম ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ালেন। সুতরাং আমি তাঁকে এই দু‘আটি বলতে শুনলাম, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্না ফুলা-নাবনা ফুলা-নিন ফী যিম্মাতিকা অহাবলি জিওয়ারিক, ফাক্বিহী ফিতনাতাল ক্বাবরি অ আযা-বান্নার, অ আন্তা আহলুল অফা-ই অলহাম্দ, ফাগ্ফির লাহু অরহামহু ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রাহীম।’ অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক তোমার দায়িত্বে এবং তোমার আমানতে। অতএব ওকে তুমি কবর ও দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। তুমি প্রতিশ্রুতি পালনকারী ও প্রশংসার পাত্র। সুতরাং ওকে তুমি মাফ ক’রে দাও এবং ওর প্রতি দয়া কর। নিঃসন্দেহে তুমিই মহাক্ষমাশীল অতি দয়াবান। (আবূ দাউদ ৩২০৪, ইবনে মাজাহ ১৪৯৯)
وعن واثلة بن الأسقع قال : صلى بنا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم على رجل من المسلمين فسمعته يقولاللهم إن فلان ابن فلان في ذمتك وحبل جوارك فقه فتنة القبر وعذاب النار وأنت أهل الوفاء والحمد ؛ اللهم فاغفر له وارحمه إنك أنت الغفور الرحيمرواه أبو داود
হাদিস সম্ভার ১৩২৫
عن أبي عبد الرحمان عوف بن مالك قال : صلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم على جنازة فحفظت من دعائه وهو يقولاللهم اغفر له وارحمه وعافه واعف عنه وأكرم نزله ووسع مدخله واغسله بالماء والثلج والبرد ونقه من الخطايا كما نقيت الثوب الأبيض من الدنس وأبدله دارا خيرا من داره وأهلا خيرا من أهله وزوجا خيرا من زوجه وأدخله الجنة وأعذه من عذاب القبر ومن عذاب النارحتى تمنيت أن أكون أنا ذلك الميت رواه مسلم
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক জানাযায় নামায পড়লেন। আমি তাঁর দু‘আ মুখস্থ ক’রে ফেললাম। সে দু‘আ হল এই ঃ ‘আল্লা-হুম্মাগফির লাহু অরহামহু অআ-ফিহী অ’ফু আনহু অআকরিম নুযুলাহু অঅসসি’ মুদখালাহু, অগ্সিলহু বিলমা-ই অস্সালজি অল-বারাদ। অনাক্ক্বিহী মিনাল খাত্বায়্যা কামা নাক্ক্বাইতাস সাউবাল আবয়্যায্বা মিনাদ দানাস। অ আবদিলহু দা-রান খাইরাম মিন দা-রিহী অ আহলান খাইরাম মিন আহলিহী অযাওজান খাইরাম মিন যাওজিহ। অ আদখিলহুল জান্নাতা অ আইয্হু মিন আযা-বিল ক্বাবরি অমিন আযা-বিন্নার।’ অর্থ- হে আল্লাহ! তুমি ওকে ক্ষমা করে দাও এবং ওকে রহম কর। ওকে নিরাপত্তা দাও এবং মার্জনা ক’রে দাও, ওর মেহেমানী সম্মানজনক কর এবং ওর প্রবেশস্থল প্রশস্ত কর। ওকে তুমি পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা ধৌত করে দাও এবং ওকে গোনাহ থেকে এমন পরিষ্কার কর, যেমন তুমি সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করেছ। আর ওকে তুমি ওর ঘর অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ঘর, ওর পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবার, ওর জুড়ী অপেক্ষা উৎকৃষ্ট জুড়ী দান কর। ওকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবর ও দোযখের আযাব থেকে রেহাই দাও। (বর্ণনাকারী সাহাবী আউফ বিন মালেক (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যখন এই দু‘আ বলতে শুনলাম) তখন আমি এই কামনা করলাম যে, যদি আমি এই মাইয়্যেত হতাম! (মুসলিম ২২৭৬-২২৭৮, নাসাঈ ১৯৮৩)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক জানাযায় নামায পড়লেন। আমি তাঁর দু‘আ মুখস্থ ক’রে ফেললাম। সে দু‘আ হল এই ঃ ‘আল্লা-হুম্মাগফির লাহু অরহামহু অআ-ফিহী অ’ফু আনহু অআকরিম নুযুলাহু অঅসসি’ মুদখালাহু, অগ্সিলহু বিলমা-ই অস্সালজি অল-বারাদ। অনাক্ক্বিহী মিনাল খাত্বায়্যা কামা নাক্ক্বাইতাস সাউবাল আবয়্যায্বা মিনাদ দানাস। অ আবদিলহু দা-রান খাইরাম মিন দা-রিহী অ আহলান খাইরাম মিন আহলিহী অযাওজান খাইরাম মিন যাওজিহ। অ আদখিলহুল জান্নাতা অ আইয্হু মিন আযা-বিল ক্বাবরি অমিন আযা-বিন্নার।’ অর্থ- হে আল্লাহ! তুমি ওকে ক্ষমা করে দাও এবং ওকে রহম কর। ওকে নিরাপত্তা দাও এবং মার্জনা ক’রে দাও, ওর মেহেমানী সম্মানজনক কর এবং ওর প্রবেশস্থল প্রশস্ত কর। ওকে তুমি পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা ধৌত করে দাও এবং ওকে গোনাহ থেকে এমন পরিষ্কার কর, যেমন তুমি সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করেছ। আর ওকে তুমি ওর ঘর অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ঘর, ওর পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবার, ওর জুড়ী অপেক্ষা উৎকৃষ্ট জুড়ী দান কর। ওকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবর ও দোযখের আযাব থেকে রেহাই দাও। (বর্ণনাকারী সাহাবী আউফ বিন মালেক (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যখন এই দু‘আ বলতে শুনলাম) তখন আমি এই কামনা করলাম যে, যদি আমি এই মাইয়্যেত হতাম! (মুসলিম ২২৭৬-২২৭৮, নাসাঈ ১৯৮৩)
عن أبي عبد الرحمان عوف بن مالك قال : صلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم على جنازة فحفظت من دعائه وهو يقولاللهم اغفر له وارحمه وعافه واعف عنه وأكرم نزله ووسع مدخله واغسله بالماء والثلج والبرد ونقه من الخطايا كما نقيت الثوب الأبيض من الدنس وأبدله دارا خيرا من داره وأهلا خيرا من أهله وزوجا خيرا من زوجه وأدخله الجنة وأعذه من عذاب القبر ومن عذاب النارحتى تمنيت أن أكون أنا ذلك الميت رواه مسلم
হাদিস সম্ভার ১৩২৬
وعن أبي هريرة وأبي قتادة وأبي إبراهيم الأشهلي، عن أبيه – وأبوه صحابي ، عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم : أنه صلى على جنازة فقال اللهم اغفر لحينا وميتنا وصغيرنا وكبيرنا وذكرنا وأنثانا وشاهدنا وغائبنا اللهم من أحييته منا فأحيه على الإسلام ومن توفيته منا فتوفه على الإيمان اللهم لا تحرمنا أجره ولا تفتنا بعده رواه الترمذي من رواية أبي هريرة والأشهلي ورواه أبو داود من رواية أبي هريرة وأبي قتادة قال الحاكمحديث أبي هريرة صحيح على شرط البخاري ومسلم قال الترمذيقال البخاري : أصح روايات هذا الحديث رواية الأشهلي قال البخاري : وأصح شيء في هذا الباب حديث عوف ابن مالك
আবূ হুরাইরা (রাঃ) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) এবং আবূ ইব্রাহীম আশহালী (রাঃ) তাঁর পিতা হতে যিনি সাহাবী ছিলেন বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক জানাযার নামায পড়ার সময় এই দু‘আ পড়লেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফির লিহাইয়িনা অমাইয়িতিনা অস্বাগীরিনা অকাবীরিনা অযাকারিনা অউনসা-না অ শা-হিদিনা অগা-য়িবিনা, আল্লা-হুম্মা মান আহয়্যাইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম, অমান তাওয়াফ্ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফ্ফাহু আলাল ঈমান, আল্লা-হুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহ, অলা তাফতিন্না বা’দাহ।’ অর্থ- হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, পুরুষ ও নারী, উপস্থিত ও অনুপস্থিতকে ক্ষমা ক’রে দাও। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যাকে তুমি জীবিত রাখবে তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ এবং যাকে মরণ দিবে তাকে ঈমানের উপর মরণ দাও। হে আল্লাহ! ওর সওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করো না এবং ওর পরে আমাদেরকে ফিতনায় ফেলো না। (তিরমিযী ১০২৪ আবূ হুরাইরা ও আশহালী হতে, আবূ দাউদ ৩২০৩ আবূ হুরাইরা ও আবূ ক্বাতাদাহ হতে। হাকেম বলেছেন, আবূ হুরাইরার হাদীস বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। তিরমিযী বলেন, বুখারী বলেছেন, এ হাদীসের সবচেয়ে সহীহ বর্ণনা হল আশহালীর বর্ণনা। বুখারী বলেন, এ বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হল আওফ বিন মালেকের হাদীস। নাসাঈ ১৯৮৬, ইবনে মাজাহ ১৪৯৮)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) এবং আবূ ইব্রাহীম আশহালী (রাঃ) তাঁর পিতা হতে যিনি সাহাবী ছিলেন বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক জানাযার নামায পড়ার সময় এই দু‘আ পড়লেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফির লিহাইয়িনা অমাইয়িতিনা অস্বাগীরিনা অকাবীরিনা অযাকারিনা অউনসা-না অ শা-হিদিনা অগা-য়িবিনা, আল্লা-হুম্মা মান আহয়্যাইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম, অমান তাওয়াফ্ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফ্ফাহু আলাল ঈমান, আল্লা-হুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহ, অলা তাফতিন্না বা’দাহ।’ অর্থ- হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, পুরুষ ও নারী, উপস্থিত ও অনুপস্থিতকে ক্ষমা ক’রে দাও। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যাকে তুমি জীবিত রাখবে তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ এবং যাকে মরণ দিবে তাকে ঈমানের উপর মরণ দাও। হে আল্লাহ! ওর সওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করো না এবং ওর পরে আমাদেরকে ফিতনায় ফেলো না। (তিরমিযী ১০২৪ আবূ হুরাইরা ও আশহালী হতে, আবূ দাউদ ৩২০৩ আবূ হুরাইরা ও আবূ ক্বাতাদাহ হতে। হাকেম বলেছেন, আবূ হুরাইরার হাদীস বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। তিরমিযী বলেন, বুখারী বলেছেন, এ হাদীসের সবচেয়ে সহীহ বর্ণনা হল আশহালীর বর্ণনা। বুখারী বলেন, এ বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হল আওফ বিন মালেকের হাদীস। নাসাঈ ১৯৮৬, ইবনে মাজাহ ১৪৯৮)
وعن أبي هريرة وأبي قتادة وأبي إبراهيم الأشهلي، عن أبيه – وأبوه صحابي ، عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم : أنه صلى على جنازة فقال اللهم اغفر لحينا وميتنا وصغيرنا وكبيرنا وذكرنا وأنثانا وشاهدنا وغائبنا اللهم من أحييته منا فأحيه على الإسلام ومن توفيته منا فتوفه على الإيمان اللهم لا تحرمنا أجره ولا تفتنا بعده رواه الترمذي من رواية أبي هريرة والأشهلي ورواه أبو داود من رواية أبي هريرة وأبي قتادة قال الحاكمحديث أبي هريرة صحيح على شرط البخاري ومسلم قال الترمذيقال البخاري : أصح روايات هذا الحديث رواية الأشهلي قال البخاري : وأصح شيء في هذا الباب حديث عوف ابن مالك
হাদিস সম্ভার ১৩২৯
وعن عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنهما : أنه كبر على جنازة ابنة له أربع تكبيرات فقام بعد الرابعة كقدر ما بين التكبيرتين يستغفر لها ويدعو، ثم قال: كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يصنع هكذا وفي رواية : كبر أربعا فمكث ساعة حتى ظننت أنه سيكبر خمسا ثم سلم عن يمينه وعن شماله فلما انصرف قلنا له : ما هذا ؟ فقال : إني لا أزيدكم على ما رأيت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يصنع أو : هكذا صنع رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم رواه الحاكم وقال حديث صحيح
আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা (রাঃ) তাঁর এক মেয়ের জানাযায় চার তাকবীর দিলেন। অতঃপর তিনি চতুর্থ তাকবীরের পর দুই তাকবীরের মধ্যস্থলে যতটা সময় লাগে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে তার (কন্যার) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দু‘আ করলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই রকমই করতেন।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি চার তাকবীর বলার পর কিছুক্ষণ থেমে গেলেন, এমনকি আমি ধারণা করলাম যে, তিনি পাঁচ তাকবীর বলবেন। অতঃপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফিরলেন। তারপর তিনি যখন নামায শেষ করলেন, তখন আমরা তাঁকে বললাম, ‘এ কী!?’ তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যা করতে দেখেছি, তার চেয়ে বেশী করব না’ অথবা ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ রকমই করেছেন।’ (হাকেম ১৩৩০, সহীহ সূত্রে, বাইহাক্বী ৭২৩৮)
আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা (রাঃ) তাঁর এক মেয়ের জানাযায় চার তাকবীর দিলেন। অতঃপর তিনি চতুর্থ তাকবীরের পর দুই তাকবীরের মধ্যস্থলে যতটা সময় লাগে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে তার (কন্যার) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দু‘আ করলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই রকমই করতেন।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি চার তাকবীর বলার পর কিছুক্ষণ থেমে গেলেন, এমনকি আমি ধারণা করলাম যে, তিনি পাঁচ তাকবীর বলবেন। অতঃপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফিরলেন। তারপর তিনি যখন নামায শেষ করলেন, তখন আমরা তাঁকে বললাম, ‘এ কী!?’ তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যা করতে দেখেছি, তার চেয়ে বেশী করব না’ অথবা ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ রকমই করেছেন।’ (হাকেম ১৩৩০, সহীহ সূত্রে, বাইহাক্বী ৭২৩৮)
وعن عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنهما : أنه كبر على جنازة ابنة له أربع تكبيرات فقام بعد الرابعة كقدر ما بين التكبيرتين يستغفر لها ويدعو، ثم قال: كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يصنع هكذا وفي رواية : كبر أربعا فمكث ساعة حتى ظننت أنه سيكبر خمسا ثم سلم عن يمينه وعن شماله فلما انصرف قلنا له : ما هذا ؟ فقال : إني لا أزيدكم على ما رأيت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يصنع أو : هكذا صنع رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم رواه الحاكم وقال حديث صحيح
হাদিস সম্ভার > মৃতের ঋণ পরিশোধ করা এবং তার কাফন-দাফনের কাজে শীঘ্রতা করা প্রসঙ্গে। কিন্তু হঠাৎ মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা কর্তব্য
হাদিস সম্ভার ১৩৩০
عن أبي هريرة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال نفس المؤمن معلقة بدينه حتى يقضى عنه
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (মরণের পর ঐ ঋণের কারণে) মু’মিনের আত্মা (বেহেশেÍর পথে) লটকে থাকবে; যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তার সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।” (আহমাদ ১০৫৯৯, তিরমিযী ১০৭৮, ইবনে মাজাহ ২৪১৩, আবূ য়্যা’লা ৬০২৬)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (মরণের পর ঐ ঋণের কারণে) মু’মিনের আত্মা (বেহেশেÍর পথে) লটকে থাকবে; যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তার সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।” (আহমাদ ১০৫৯৯, তিরমিযী ১০৭৮, ইবনে মাজাহ ২৪১৩, আবূ য়্যা’লা ৬০২৬)
عن أبي هريرة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال نفس المؤمن معلقة بدينه حتى يقضى عنه
হাদিস সম্ভার > দাফন-কার্য
হাদিস সম্ভার ১৩৩১
عن أبي بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لما توفي آدم غسلته الملائكة بالماء وترا وألحدوا له وقالوا هذه سنة آدم في ولده
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন আদম মৃত্যুবরণ করলেন, তখন ফেরেশতা বেজোড় সংখ্যায় পানি দ্বারা তাঁর গোসল দিলেন এবং তাঁকে বগলী কবরে দাফন করা হল। আর বলা হল, এ হল আদমের সুন্নাত তাঁর সন্তানদের মধ্যে।” (হাকেম ৪০০৪, সঃ জামে’ ৫২০৭)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন আদম মৃত্যুবরণ করলেন, তখন ফেরেশতা বেজোড় সংখ্যায় পানি দ্বারা তাঁর গোসল দিলেন এবং তাঁকে বগলী কবরে দাফন করা হল। আর বলা হল, এ হল আদমের সুন্নাত তাঁর সন্তানদের মধ্যে।” (হাকেম ৪০০৪, সঃ জামে’ ৫২০৭)
عن أبي بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لما توفي آدم غسلته الملائكة بالماء وترا وألحدوا له وقالوا هذه سنة آدم في ولده
হাদিস সম্ভার ১৩৩৩
وعن أبي رافع أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال ومن حفر له فأجنه أجرى عليه كأجر مسكن أسكنه إياه إلى يوم القيامة
রসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “--- আর যে ব্যক্তি (নেক নিয়্যাতে) মাইয়্যেতের জন্য কবর খুঁড়বে এবং তাকে তাতে দাফন করবে আল্লাহ তার জন্য সেই ঘর তৈরী করে দেওয়ার সওয়াব জারী করে দেবেন; যা কিয়ামত পর্যন্ত বাস করতে দেওয়ার জন্য করা হয়।” (হাকেম ১৩০৭, ১৩৪০, বাইহাক্বী ৬৯০০)
রসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “--- আর যে ব্যক্তি (নেক নিয়্যাতে) মাইয়্যেতের জন্য কবর খুঁড়বে এবং তাকে তাতে দাফন করবে আল্লাহ তার জন্য সেই ঘর তৈরী করে দেওয়ার সওয়াব জারী করে দেবেন; যা কিয়ামত পর্যন্ত বাস করতে দেওয়ার জন্য করা হয়।” (হাকেম ১৩০৭, ১৩৪০, বাইহাক্বী ৬৯০০)
وعن أبي رافع أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال ومن حفر له فأجنه أجرى عليه كأجر مسكن أسكنه إياه إلى يوم القيامة
হাদিস সম্ভার ১৩৩২
عن عقبة بن عامر الجهنى قال: ثلاث ساعات كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ينهانا أن نصلى فيهن أو أن نقبر فيهن موتانا حين تطلع الشمس بازغة حتى ترتفع وحين يقوم قائم الظهيرة حتى تميل الشمس وحين تضيف الشمس للغروب حتى تغرب
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে তিন সময়ে নামায পড়তে এবং মুর্দা দাফন করতে নিষেধ করতেন; (১) ঠিক সূর্য উদয় হওয়ার পর থেকে একটু উঁচু না হওয়া পর্যন্ত, (২) সূর্য ঠিক মাথার উপর আসার পর থেকে একটু ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত এবং (৩) সূর্য ডোবার কাছাকাছি হওয়া থেকে ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম ১৯৬৬, আহমাদ ১৭৩৭৭, আবূ দাঊদ ৩১৯৪, তিরমিযী ১০৩০, নাসাঈ ৫৬০, ইবনে মাজাহ ১৫১৯, মিশকাত ১০৪০)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে তিন সময়ে নামায পড়তে এবং মুর্দা দাফন করতে নিষেধ করতেন; (১) ঠিক সূর্য উদয় হওয়ার পর থেকে একটু উঁচু না হওয়া পর্যন্ত, (২) সূর্য ঠিক মাথার উপর আসার পর থেকে একটু ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত এবং (৩) সূর্য ডোবার কাছাকাছি হওয়া থেকে ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম ১৯৬৬, আহমাদ ১৭৩৭৭, আবূ দাঊদ ৩১৯৪, তিরমিযী ১০৩০, নাসাঈ ৫৬০, ইবনে মাজাহ ১৫১৯, মিশকাত ১০৪০)
عن عقبة بن عامر الجهنى قال: ثلاث ساعات كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ينهانا أن نصلى فيهن أو أن نقبر فيهن موتانا حين تطلع الشمس بازغة حتى ترتفع وحين يقوم قائم الظهيرة حتى تميل الشمس وحين تضيف الشمس للغروب حتى تغرب
হাদিস সম্ভার ১৩৩৫
عن عائشة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال كسر عظم الميت ككسره حيا
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মৃত (মুসলিমের) হাড় ভাঙ্গা জীবিত (মুসলিমের) হাড় ভাঙ্গার সমান।” (অর্থাৎ উভয়ের পাপ সমান।) (আবূ দাউদ ৩২০৯, ইবনে মাজাহ ১৬১৬,, ইবনে হিব্বান, আহমাদ, সহীহুল জামে’ ৪৪৭৯)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মৃত (মুসলিমের) হাড় ভাঙ্গা জীবিত (মুসলিমের) হাড় ভাঙ্গার সমান।” (অর্থাৎ উভয়ের পাপ সমান।) (আবূ দাউদ ৩২০৯, ইবনে মাজাহ ১৬১৬,, ইবনে হিব্বান, আহমাদ, সহীহুল জামে’ ৪৪৭৯)
عن عائشة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال كسر عظم الميت ككسره حيا
হাদিস সম্ভার ১৩৩৭
عن جابر قال نهى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أن يجصص القبر وأن يقعد عليه وأن يبنى عليه
“আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর চুনকাম করা, তার উপর বসা এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করা হতে নিষেধ করেছেন।” (মুসলিম ২২৮৯)
“আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর চুনকাম করা, তার উপর বসা এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করা হতে নিষেধ করেছেন।” (মুসলিম ২২৮৯)
عن جابر قال نهى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أن يجصص القبر وأن يقعد عليه وأن يبنى عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৩৮
عن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ ইয়াহুদ ও খ্রিস্টানকে অভিসম্পাত করুন (অথবা করেছেন), তারা তাদের পয়গম্বরদের সমাধিসমূহকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছে।” (বুখারী ১৩৩০, ১৩৯০, মুসলিম ১২১২)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ ইয়াহুদ ও খ্রিস্টানকে অভিসম্পাত করুন (অথবা করেছেন), তারা তাদের পয়গম্বরদের সমাধিসমূহকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছে।” (বুখারী ১৩৩০, ১৩৯০, মুসলিম ১২১২)
عن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد
হাদিস সম্ভার ১৩৩৪
وعن خباب بن الأرت قال : هاجرنا مع رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم نلتمس وجه الله تعالى فوقع أجرنا على الله فمنا من مات ولم يأكل من أجره شيئا منهم : مصعب بن عمير قتل يوم أحد وترك نمرة فكنا إذا غطينا بها رأسه بدت رجلاه وإذا غطينا بها رجليه بدا رأسه فأمرنا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أن نغطي رأسه ونجعل على رجليه شيئا من الإذخر، ومنا من أينعت له ثمرته فهو يهدبها متفق عليه
‘আমরা আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে (মদীনা) হিজরত করলাম। যার সওয়াব আল্লাহর নিকট আমাদের প্রাপ্য। এরপর আমাদের কেউ এ সওয়াব দুনিয়াতে ভোগ করার পূর্বেই বিদায় নিলেন। এর মধ্যে মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ); তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হলেন এবং শুধুমাত্র একখানা পশমের রঙিন চাদর রেখে গেলেন। আমরা (কাফনের জন্য) তা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর পা বেরিয়ে গেল। আর পা ঢাকলে তাঁর মাথা বেরিয়ে গেল। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, “তা দিয়ে ওর মাথাটা ঢেকে দাও এবং পায়ের উপর ‘ইযখির’ ঘাস বিছিয়ে দাও।” আর আমাদের মধ্যে এমনও লোক রয়েছেন, যাঁদের ফল পেকে গেছে। আর তাঁরা তা সংগ্রহ করছেন।’ (বুখারী ১২৭৬, মুসলিম ২২২০)
‘আমরা আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে (মদীনা) হিজরত করলাম। যার সওয়াব আল্লাহর নিকট আমাদের প্রাপ্য। এরপর আমাদের কেউ এ সওয়াব দুনিয়াতে ভোগ করার পূর্বেই বিদায় নিলেন। এর মধ্যে মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ); তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হলেন এবং শুধুমাত্র একখানা পশমের রঙিন চাদর রেখে গেলেন। আমরা (কাফনের জন্য) তা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর পা বেরিয়ে গেল। আর পা ঢাকলে তাঁর মাথা বেরিয়ে গেল। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, “তা দিয়ে ওর মাথাটা ঢেকে দাও এবং পায়ের উপর ‘ইযখির’ ঘাস বিছিয়ে দাও।” আর আমাদের মধ্যে এমনও লোক রয়েছেন, যাঁদের ফল পেকে গেছে। আর তাঁরা তা সংগ্রহ করছেন।’ (বুখারী ১২৭৬, মুসলিম ২২২০)
وعن خباب بن الأرت قال : هاجرنا مع رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم نلتمس وجه الله تعالى فوقع أجرنا على الله فمنا من مات ولم يأكل من أجره شيئا منهم : مصعب بن عمير قتل يوم أحد وترك نمرة فكنا إذا غطينا بها رأسه بدت رجلاه وإذا غطينا بها رجليه بدا رأسه فأمرنا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أن نغطي رأسه ونجعل على رجليه شيئا من الإذخر، ومنا من أينعت له ثمرته فهو يهدبها متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৩৯
عن جندب عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال ألا فلا تتخذوا القبور مساجد إنى أنهاكم عن ذلك
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ১২১৬)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ১২১৬)
عن جندب عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال ألا فلا تتخذوا القبور مساجد إنى أنهاكم عن ذلك
হাদিস সম্ভার ১৩৩৬
عن علي قال : كنا في جنازة في بقيع الغرقد فأتانا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فقعد وقعدنا حوله ومعه مخصرة فنكس وجعل ينكت بمخصرته ثم قالما منكم من أحد إلا وقد كتب مقعده من النار ومقعده من الجنة فقالوا : يا رسول الله أفلا نتكل على كتابنا ؟ فقال اعملوا فكل ميسر لما خلق لهوذكر تمام الحديث متفق عليه
আমরা এক জানাযার সাথে বাক্বীউল গারক্বাদ (কবর স্থানে) ছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বসলেন এবং আমরাও তাঁর আশপাশে বসে গেলাম। তাঁর সাথে একটি ছড়ি ছিল, তিনি মাথা নীচু করে তা দিয়ে (চিন্তাগ্রস্তের মত) মাটিতে আঁক কাটতে লাগলেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের প্রত্যেকের জাহান্নামে ও জান্নাতে ঠিকানা লিখে দেওয়া হয়েছে।” সাহাবীরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আমরা কি আমাদের (ভাগ্য) লিপির উপর ভরসা করব না?’ তিনি বললেন, “(না, বরং) তোমরা কর্ম করতে থাক। কেননা, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সে কাজ সহজ হয়, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।” (বুখারী ১৩৬২, ৪৯৪৮, মুসলিম ৬৯০১-৬৯০৩)
আমরা এক জানাযার সাথে বাক্বীউল গারক্বাদ (কবর স্থানে) ছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বসলেন এবং আমরাও তাঁর আশপাশে বসে গেলাম। তাঁর সাথে একটি ছড়ি ছিল, তিনি মাথা নীচু করে তা দিয়ে (চিন্তাগ্রস্তের মত) মাটিতে আঁক কাটতে লাগলেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের প্রত্যেকের জাহান্নামে ও জান্নাতে ঠিকানা লিখে দেওয়া হয়েছে।” সাহাবীরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আমরা কি আমাদের (ভাগ্য) লিপির উপর ভরসা করব না?’ তিনি বললেন, “(না, বরং) তোমরা কর্ম করতে থাক। কেননা, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সে কাজ সহজ হয়, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।” (বুখারী ১৩৬২, ৪৯৪৮, মুসলিম ৬৯০১-৬৯০৩)
عن علي قال : كنا في جنازة في بقيع الغرقد فأتانا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فقعد وقعدنا حوله ومعه مخصرة فنكس وجعل ينكت بمخصرته ثم قالما منكم من أحد إلا وقد كتب مقعده من النار ومقعده من الجنة فقالوا : يا رسول الله أفلا نتكل على كتابنا ؟ فقال اعملوا فكل ميسر لما خلق لهوذكر تمام الحديث متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৪১
وعن أبي عمرو وقيل : أبو عبد الله وقيل : أبو ليلى عثمان بن عفان قال : كان النبي صلى اللٰه عليه وسلم إذا فرغ من دفن الميت وقف عليه وقال استغفروا لأخيكم وسلوا له التثبيت فإنه الآن يسأل رواه أبو داود
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃতকে সমাধিস্থ করার পর তার নিকট দাঁড়িয়ে বলতেন, “তোমরা তোমাদের ভাইদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য স্থিরতার দু‘আ কর। কেননা, এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।” (আবূ দাঊদ ৩২২৩)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃতকে সমাধিস্থ করার পর তার নিকট দাঁড়িয়ে বলতেন, “তোমরা তোমাদের ভাইদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য স্থিরতার দু‘আ কর। কেননা, এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।” (আবূ দাঊদ ৩২২৩)
وعن أبي عمرو وقيل : أبو عبد الله وقيل : أبو ليلى عثمان بن عفان قال : كان النبي صلى اللٰه عليه وسلم إذا فرغ من دفن الميت وقف عليه وقال استغفروا لأخيكم وسلوا له التثبيت فإنه الآن يسأل رواه أبو داود
হাদিস সম্ভার ১৩৪২
وعن عمرو بن العاص قال : إذا دفنتموني فأقيموا حول قبري قدر ما تنحر جزور ويقسم لحمها حتى أستأنس بكم، وأعلم ماذا أراجع به رسل ربي رواه مسلم وقد سبق بطوله قال الشافعي رحمه الله : ويستحب أن يقرأ عنده شيء من القرآن وإن ختموا القرآن عنده كان حسنا
‘তোমরা যখন আমাকে সমাধিস্থ করবে, তখন আমার কবরের আশ-পাশে তোমরা ততক্ষণ অবস্থান করবে, যতক্ষণ একটা উট যবেহ ক’রে তার মাংস বন্টন করতে লাগে। যেন আমি তোমাদের পেয়ে নিঃসঙ্গতা বোধ না করি এবং জেনে নিই যে, আমি আমার প্রভুর দূতগণকে কী জবাব দিচ্ছি।’ (মুসলিম ৩৩৬)
‘তোমরা যখন আমাকে সমাধিস্থ করবে, তখন আমার কবরের আশ-পাশে তোমরা ততক্ষণ অবস্থান করবে, যতক্ষণ একটা উট যবেহ ক’রে তার মাংস বন্টন করতে লাগে। যেন আমি তোমাদের পেয়ে নিঃসঙ্গতা বোধ না করি এবং জেনে নিই যে, আমি আমার প্রভুর দূতগণকে কী জবাব দিচ্ছি।’ (মুসলিম ৩৩৬)
وعن عمرو بن العاص قال : إذا دفنتموني فأقيموا حول قبري قدر ما تنحر جزور ويقسم لحمها حتى أستأنس بكم، وأعلم ماذا أراجع به رسل ربي رواه مسلم وقد سبق بطوله قال الشافعي رحمه الله : ويستحب أن يقرأ عنده شيء من القرآن وإن ختموا القرآن عنده كان حسنا
হাদিস সম্ভার ১৩৪০
عن أبى الهياج الأسدى قال قال لى على بن أبى طالب ألا أبعثك على ما بعثنى عليه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أن لا تدع تمثالا إلا طمسته ولا قبرا مشرفا إلا سويته
‘একদা আলী বিন আবী তালেব (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে সেই নির্দেশ দিয়ে পাঠাব না, যে নির্দেশ দিয়ে আমাকে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠিয়েছিলেন? (তিনি বলেছিলেন,) “কোন মূর্তি (বা ছবি) দেখলেই তা নষ্ট করে ফেলো এবং কোন উঁচু কবর দেখলেই তা মাটি বরাবর করে দিয়ো।” (মুসলিম ২২৮৭, আবূ দাঊদ ৩২২০)
‘একদা আলী বিন আবী তালেব (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে সেই নির্দেশ দিয়ে পাঠাব না, যে নির্দেশ দিয়ে আমাকে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠিয়েছিলেন? (তিনি বলেছিলেন,) “কোন মূর্তি (বা ছবি) দেখলেই তা নষ্ট করে ফেলো এবং কোন উঁচু কবর দেখলেই তা মাটি বরাবর করে দিয়ো।” (মুসলিম ২২৮৭, আবূ দাঊদ ৩২২০)
عن أبى الهياج الأسدى قال قال لى على بن أبى طالب ألا أبعثك على ما بعثنى عليه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أن لا تدع تمثالا إلا طمسته ولا قبرا مشرفا إلا سويته
হাদিস সম্ভার > মৃতব্যক্তির ঋণ পরিশোধ
হাদিস সম্ভার ১৩৪৩
عن ابن عمر قال: قضى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم بالدين قبل الوصية وأن لا وصية لوارث
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসিয়তের পূর্বে ঋণ পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর (বলেছেন,) কোন ওয়ারেসের জন্য অসিয়ত নেই।” (মুসনাদুল হারেষ, ইরওয়াউল গালীল ১৬৫৫)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসিয়তের পূর্বে ঋণ পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর (বলেছেন,) কোন ওয়ারেসের জন্য অসিয়ত নেই।” (মুসনাদুল হারেষ, ইরওয়াউল গালীল ১৬৫৫)
عن ابن عمر قال: قضى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم بالدين قبل الوصية وأن لا وصية لوارث
হাদিস সম্ভার ১৩৪৪
عن سعد بن الأطول قال مات أخي وترك ثلاث مائة دينار وترك ولدا صغارا فأردت أن أنفق عليهم فقال لي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن أخاك محبوس بدينه فاذهب فاقض عنه قال فذهبت فقضيت عنه ثم جئت فقلت: يا رسول الله قد قضيت عنه ولم يبق إلا امرأة تدعي دينارين وليست لها بينة قال أعطها فإنها صادقة
তার ভাই মাত্র ৩ শত দিরহাম রেখে মারা যান। আর ছেড়ে যান সন্তান-সন্ততিও। আমার ইচ্ছা ছিল ও দিরহামগুলো আমি তাঁর পরিবারবর্গের উপর খরচ করব। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “তোমার ভাই তো ঋণ-জালে আবদ্ধ। সুতরাং তুমি গিয়ে (আগে) তার ঋণ শোধ কর।” অতএব আমি গিয়ে তার ঋণ শোধ করে এলাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি তার সমস্ত ঋণ শোধ করে দিয়েছি। তবে একটি মহিলা দুই দীনার পাওয়ার কথা দাবী করছে, কিন্তু তার কোন সবুত নেই। তিনি বললেন, “ওকেও দিয়ে দাও। কারণ ও সঠিক বলছে।” (আহমাদ ১৭২২৭, ইবনে মাজাহ ২৪৩৩)
তার ভাই মাত্র ৩ শত দিরহাম রেখে মারা যান। আর ছেড়ে যান সন্তান-সন্ততিও। আমার ইচ্ছা ছিল ও দিরহামগুলো আমি তাঁর পরিবারবর্গের উপর খরচ করব। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “তোমার ভাই তো ঋণ-জালে আবদ্ধ। সুতরাং তুমি গিয়ে (আগে) তার ঋণ শোধ কর।” অতএব আমি গিয়ে তার ঋণ শোধ করে এলাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি তার সমস্ত ঋণ শোধ করে দিয়েছি। তবে একটি মহিলা দুই দীনার পাওয়ার কথা দাবী করছে, কিন্তু তার কোন সবুত নেই। তিনি বললেন, “ওকেও দিয়ে দাও। কারণ ও সঠিক বলছে।” (আহমাদ ১৭২২৭, ইবনে মাজাহ ২৪৩৩)
عن سعد بن الأطول قال مات أخي وترك ثلاث مائة دينار وترك ولدا صغارا فأردت أن أنفق عليهم فقال لي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن أخاك محبوس بدينه فاذهب فاقض عنه قال فذهبت فقضيت عنه ثم جئت فقلت: يا رسول الله قد قضيت عنه ولم يبق إلا امرأة تدعي دينارين وليست لها بينة قال أعطها فإنها صادقة