হাদিস সম্ভার > জীবন থেকে নিরাশ হওয়ার সময়ে দু’আ
হাদিস সম্ভার ১২৭৫
عن عائشة رضي الله عنها قالت : سمعت النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو مستند إلي يقول اللهم اغفر لي وارحمني وألحقني بالرفيق الأعلى متفق عليه
আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এই দু‘আ বলতে শুনেছি, যখন তিনি (তাঁর মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে) আমার উপর ঠেস লাগিয়ে ছিলেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফিরলী অরহামনী অ আলহিক্বনী বির্রাফীক্বিল আ’লা।’ অর্থাৎ, আল্লাহ গো! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর এবং আমাকে মহান সাথীর সাথে মিলিত কর। (বুখারী ৪৪৪০, ৫৬৭৪, মুসলিম ৬৪৪৬)
আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এই দু‘আ বলতে শুনেছি, যখন তিনি (তাঁর মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে) আমার উপর ঠেস লাগিয়ে ছিলেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফিরলী অরহামনী অ আলহিক্বনী বির্রাফীক্বিল আ’লা।’ অর্থাৎ, আল্লাহ গো! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর এবং আমাকে মহান সাথীর সাথে মিলিত কর। (বুখারী ৪৪৪০, ৫৬৭৪, মুসলিম ৬৪৪৬)
عن عائشة رضي الله عنها قالت : سمعت النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو مستند إلي يقول اللهم اغفر لي وارحمني وألحقني بالرفيق الأعلى متفق عليه
হাদিস সম্ভার > মুমূর্ষু ব্যক্তিকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে
হাদিস সম্ভার ১২৭৬
عن معاذ قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة رواه أبو داود والحاكم وقال صحيح الإسناد
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে (অর্থাৎ এই কালেমা পড়তে পড়তে যার মৃত্যু হবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ ২২০৩৪, ২২১২৭, আবূ দাঊদ ৩১১৮, হাকেম ১২৯৯, সহীহুল জামে’ ৬৪৭৯)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে (অর্থাৎ এই কালেমা পড়তে পড়তে যার মৃত্যু হবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ ২২০৩৪, ২২১২৭, আবূ দাঊদ ৩১১৮, হাকেম ১২৯৯, সহীহুল জামে’ ৬৪৭৯)
عن معاذ قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة رواه أبو داود والحاكم وقال صحيح الإسناد
হাদিস সম্ভার ১২৭৭
عن حذيفة قال أسندت النبي صلى اللٰه عليه وسلم إلى صدري فقال من قال لا إله إلا الله ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن صام يوما ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن تصدق بصدقة ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আমার বুকে লাগালাম। অতঃপর তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলে এবং সেটাই তার শেষ কথা হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে একদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সিয়াম রাখে এবং সেটাই তার শেষ আমল হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কিছু সাদকাহ করে এবং সেটা তার শেষ কর্ম হয় তবে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ ২৩৩২৪)
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আমার বুকে লাগালাম। অতঃপর তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলে এবং সেটাই তার শেষ কথা হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে একদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সিয়াম রাখে এবং সেটাই তার শেষ আমল হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কিছু সাদকাহ করে এবং সেটা তার শেষ কর্ম হয় তবে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ ২৩৩২৪)
عن حذيفة قال أسندت النبي صلى اللٰه عليه وسلم إلى صدري فقال من قال لا إله إلا الله ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن صام يوما ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن تصدق بصدقة ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة
হাদিস সম্ভার ১২৭৮
عن جابر قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يبعث كل عبد على ما مات عليهرواه مسلم
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (কিয়ামতের দিন) প্রত্যেক ব্যক্তিকে ঐ অবস্থায় উঠানো হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে। (মুসলিম ৭৪১৩)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (কিয়ামতের দিন) প্রত্যেক ব্যক্তিকে ঐ অবস্থায় উঠানো হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে। (মুসলিম ৭৪১৩)
عن جابر قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يبعث كل عبد على ما مات عليهرواه مسلم
হাদিস সম্ভার ১২৭৯
وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لقنوا موتاكم لا إله إلا اللهرواه مسلم
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দাও।” (মুসলিম
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দাও।” (মুসলিম
وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لقنوا موتاكم لا إله إلا اللهرواه مسلم
হাদিস সম্ভার ১২৮১
عن أنس أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم دخل على رجل من بني النجار يعوده فقال له رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم (يا خال قل لا إله إلا الله) فقال أوخال أنا أو عم فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم لا بل خال) فقال له قول لا إله إلا الله هو خير لي قال نعم
একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের এক (মরণাপন্ন) ব্যক্তিকে দেখা করতে গিয়ে বললেন, “হে মামা! ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বল।” লোকটি বলল, ‘মামা নাকি চাচা?’ তিনি বললেন, “বরং মামা।” অতঃপর লোকটি বলল, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলা কি আমার জন্য কল্যাণকর?’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অবশ্যই।” (আহমাদ ১২৫৪৩)
একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের এক (মরণাপন্ন) ব্যক্তিকে দেখা করতে গিয়ে বললেন, “হে মামা! ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বল।” লোকটি বলল, ‘মামা নাকি চাচা?’ তিনি বললেন, “বরং মামা।” অতঃপর লোকটি বলল, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলা কি আমার জন্য কল্যাণকর?’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অবশ্যই।” (আহমাদ ১২৫৪৩)
عن أنس أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم دخل على رجل من بني النجار يعوده فقال له رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم (يا خال قل لا إله إلا الله) فقال أوخال أنا أو عم فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم لا بل خال) فقال له قول لا إله إلا الله هو خير لي قال نعم
হাদিস সম্ভার ১২৮০
عن المسيب قال لما حضرت أبا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فوجد عنده أبا جهل وعبد الله بن أبى أمية بن المغيرة فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا عم قل لا إله إلا الله كلمة أشهد لك بها عند الله فقال أبو جهل وعبد الله بن أبى أمية يا أبا طالب أترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يعرضها عليه ويعيد له تلك المقالة حتى قال أبو طالب آخر ما كلمهم هو على ملة عبد المطلب وأبى أن يقول لا إله إلا الله
আবূ তালেবের যখন মৃত্যুর সময় হল, তখন মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “চাচাজান! আপনি কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়ে নিন। আমি আল্লাহর দরবারে আপনার জন্য সাক্ষ্য দেব। এই কালিমা দলীল স্বরূপ পেশ ক’রে আপনার পরিত্রাণের জন্য সুপারিশ করব।”কিন্তু পাশে বড় বড় নেতা বসে ছিল। আবূ জাহ্ল আব্দুল্লাহ বিন আবী উমাইয়া বলল, ‘আপনি কি শেষ অবস্থায় বিধর্মী হয়ে মরবেন? আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করবেন?’ যতবার মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উপর পরিত্রাণের জন্য ঐ কালেমা পেশ করেন, ততবার তারা তা নাকচ ক’রে দেয়। ফলে কালিমা না পড়েই তাঁর জীবন-লীলা সাঙ্গ হয়। (বুখারী ১৩৬০, ৩৮৮৪, ৪৬৭৫, ৪৭৭২, মুসলিম ১৪১)
আবূ তালেবের যখন মৃত্যুর সময় হল, তখন মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “চাচাজান! আপনি কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়ে নিন। আমি আল্লাহর দরবারে আপনার জন্য সাক্ষ্য দেব। এই কালিমা দলীল স্বরূপ পেশ ক’রে আপনার পরিত্রাণের জন্য সুপারিশ করব।”কিন্তু পাশে বড় বড় নেতা বসে ছিল। আবূ জাহ্ল আব্দুল্লাহ বিন আবী উমাইয়া বলল, ‘আপনি কি শেষ অবস্থায় বিধর্মী হয়ে মরবেন? আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করবেন?’ যতবার মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উপর পরিত্রাণের জন্য ঐ কালেমা পেশ করেন, ততবার তারা তা নাকচ ক’রে দেয়। ফলে কালিমা না পড়েই তাঁর জীবন-লীলা সাঙ্গ হয়। (বুখারী ১৩৬০, ৩৮৮৪, ৪৬৭৫, ৪৭৭২, মুসলিম ১৪১)
عن المسيب قال لما حضرت أبا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فوجد عنده أبا جهل وعبد الله بن أبى أمية بن المغيرة فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا عم قل لا إله إلا الله كلمة أشهد لك بها عند الله فقال أبو جهل وعبد الله بن أبى أمية يا أبا طالب أترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يعرضها عليه ويعيد له تلك المقالة حتى قال أبو طالب آخر ما كلمهم هو على ملة عبد المطلب وأبى أن يقول لا إله إلا الله
হাদিস সম্ভার ১২৮৪
عن بريدة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال إن المؤمن يموت بعرق الجبين
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মুমিনের মৃত্যুকালে তার কপালে ঘাম ঝরে।” (তিরমিযী ৯৮২, নাসাঈ ১৮২৭, ইবনে মাজাহ ১৪৫২, আহমাদ ৫/৩৫০, ৩৫৭, ৩৬০, হাকেম ১/৩৬১, ইবনে হিব্বান ৭৩০ প্রমুখ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মুমিনের মৃত্যুকালে তার কপালে ঘাম ঝরে।” (তিরমিযী ৯৮২, নাসাঈ ১৮২৭, ইবনে মাজাহ ১৪৫২, আহমাদ ৫/৩৫০, ৩৫৭, ৩৬০, হাকেম ১/৩৬১, ইবনে হিব্বান ৭৩০ প্রমুখ)
عن بريدة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال إن المؤمن يموت بعرق الجبين
হাদিস সম্ভার ১২৮৫
عن عائشة رضي الله عنها قالت: إن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم حين توفي سجي ببرد حبرة
“আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করলেন তখন তাঁকে চেককাটা ইয়ামানী চাদর দ্বারা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।” (বুখারী ৫৮১৪, আবু দাউদ ৩১২২, প্রমুখ)
“আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করলেন তখন তাঁকে চেককাটা ইয়ামানী চাদর দ্বারা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।” (বুখারী ৫৮১৪, আবু দাউদ ৩১২২, প্রমুখ)
عن عائشة رضي الله عنها قالت: إن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم حين توفي سجي ببرد حبرة
হাদিস সম্ভার ১২৮২
عن أنس رضي الله عنه قال كان غلام يهودي يخدم النبي صلى اللٰه عليه وسلم فمرض فأتاه النبي صلى اللٰه عليه وسلم يعوده فقعد عند رأسه فقال له أسلم فنظر إلى أبيه وهو عنده فقال له أطع أبا القاسم صلى اللٰه عليه وسلم فأسلم فخرج النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو يقول الحمد لله الذي أنقذه من النار
একজন ইহুদী কিশোর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর খিদমত করত। সে পীড়িত হলে মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখা করতে এলেন এবং তার শিথানে বসে বললেন, “ইসলাম গ্রহণ কর (তুমি মুসলিম হয়ে যাও)।” তাঁর এই কথা শুনে সে তার পিতার দিকে (তার মত জানতে) দৃষ্টিপাত করল। তার পিতা তার নিকটেই বসে ছিল। সে বলল, ‘আবুল কাসেম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কথা তুমি মেনে নাও। ফলে কিশোরটি মুসলমান হয়ে গেল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বলতে বলতে বের হয়ে গেলেন, “সেই আল্লাহর সকল প্রশংসা যিনি ওকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে নিলেন।” (আহমাদ ১২৭৯২, বুখারী ১৩৫৬) তারপর কিশোরটি মারা গেলে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমরা তোমাদের এক সাথীর উপর (জানাযার) নামায পড়।” (আহমাদ ১৩৭৩৬)
একজন ইহুদী কিশোর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর খিদমত করত। সে পীড়িত হলে মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখা করতে এলেন এবং তার শিথানে বসে বললেন, “ইসলাম গ্রহণ কর (তুমি মুসলিম হয়ে যাও)।” তাঁর এই কথা শুনে সে তার পিতার দিকে (তার মত জানতে) দৃষ্টিপাত করল। তার পিতা তার নিকটেই বসে ছিল। সে বলল, ‘আবুল কাসেম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কথা তুমি মেনে নাও। ফলে কিশোরটি মুসলমান হয়ে গেল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বলতে বলতে বের হয়ে গেলেন, “সেই আল্লাহর সকল প্রশংসা যিনি ওকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে নিলেন।” (আহমাদ ১২৭৯২, বুখারী ১৩৫৬) তারপর কিশোরটি মারা গেলে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমরা তোমাদের এক সাথীর উপর (জানাযার) নামায পড়।” (আহমাদ ১৩৭৩৬)
عن أنس رضي الله عنه قال كان غلام يهودي يخدم النبي صلى اللٰه عليه وسلم فمرض فأتاه النبي صلى اللٰه عليه وسلم يعوده فقعد عند رأسه فقال له أسلم فنظر إلى أبيه وهو عنده فقال له أطع أبا القاسم صلى اللٰه عليه وسلم فأسلم فخرج النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو يقول الحمد لله الذي أنقذه من النار
হাদিস সম্ভার ১২৮৩
وعن عائشة قالت : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من أحب لقاء الله أحب الله لقاءه ومن كره لقاء الله كره الله لقاءه فقلت : يا رسول الله أكراهية الموت فكلنا نكره الموت ؟ قالليس كذلك ولكن المؤمن إذا بشر برحمة الله ورضوانه وجنته أحب لقاء الله فأحب الله لقاءه وإن الكافر إذا بشر بعذاب الله وسخطه كره لقاء الله وكره الله لقاءه رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” এ কথা শুনে আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! তার মানে কি মরণকে অপছন্দ করা? আমরা তো সকলেই মরণকে অপছন্দ করি।’ তিনি বললেন, “ব্যাপারটি এরূপ নয়। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, (মৃত্যুর সময়) মু’মিনকে যখন আল্লাহর করুণা, তাঁর সন্তুষ্টি তথা জান্নাতের সুসংবাদ শুনানো হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভকেই পছন্দ করে, আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর কাফেরের (অন্তিমকালে) যখন তাকে আল্লাহর আযাব ও তাঁর অসন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে। আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” (বুখারী ৬৫০৭, মুসলিম ৬৯৯৮)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” এ কথা শুনে আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! তার মানে কি মরণকে অপছন্দ করা? আমরা তো সকলেই মরণকে অপছন্দ করি।’ তিনি বললেন, “ব্যাপারটি এরূপ নয়। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, (মৃত্যুর সময়) মু’মিনকে যখন আল্লাহর করুণা, তাঁর সন্তুষ্টি তথা জান্নাতের সুসংবাদ শুনানো হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভকেই পছন্দ করে, আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর কাফেরের (অন্তিমকালে) যখন তাকে আল্লাহর আযাব ও তাঁর অসন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে। আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” (বুখারী ৬৫০৭, মুসলিম ৬৯৯৮)
وعن عائشة قالت : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من أحب لقاء الله أحب الله لقاءه ومن كره لقاء الله كره الله لقاءه فقلت : يا رسول الله أكراهية الموت فكلنا نكره الموت ؟ قالليس كذلك ولكن المؤمن إذا بشر برحمة الله ورضوانه وجنته أحب لقاء الله فأحب الله لقاءه وإن الكافر إذا بشر بعذاب الله وسخطه كره لقاء الله وكره الله لقاءه رواه مسلم
হাদিস সম্ভার > মৃতের চোখ বন্ধ করার পর দু‘আ
হাদিস সম্ভার ১২৮৬
عن أم سلمة رضي الله عنها قالت : دخل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم على أبي سلمة وقد شق بصره، فأغمضه ثم قالإن الروح إذا قبض تبعه البصر فضج ناس من أهله فقال لا تدعوا على أنفسكم إلا بخير فإن الملائكة يؤمنون على ما تقولون ثم قال اللهم اغفر لأبي سلمة وارفع درجته في المهديين واخلفه في عقبه في الغابرين واغفر لنا وله يا رب العالمين وافسح له في قبره ونور له فيه رواه مسلم
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ সালামার নিকট গেলেন। তখন তাঁর (আত্মা বের হওয়ার পর) চোখ খোলা ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বন্ধ করার পর বললেন, “যখন (কারো) প্রাণ নিয়ে নেওয়া হয়, তখন চোখ তার দিকে তাকিয়ে থাকে।” (এ কথা শুনে) তাঁর পরিবারের কিছু লোক চিল্লিয়ে কাঁদতে আরম্ভ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তোমরা নিজেদের আত্মার জন্য মঙ্গলেরই দু‘আ কর। কেননা, ফিরিশতাবর্গ তোমাদের কথার উপর ‘আমীন’ বলেন।” অতঃপর তিনি এই দু‘আ বললেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফির লি আবী সালামাহ, (এখানে মৃতের নাম নিতে হবে) অরফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিইয়্যীন, অখ্লুফহু ফী আক্বিবিহী ফিল গা-বিরীন, অগফির লানা অলাহু ইয়া রাব্বাল আ-লামীন, অফ্সাহ লাহু ফী ক্বাবরিহী অ নাউবিরলাহু ফীহ।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি (অমুককে) মাফ ক’রে দাও এবং হিদায়াত প্রাপ্তদের দলে ওর মর্যাদা উন্নত কর, অবশিষ্টদের মধ্যে ওর পশ্চাতে ওর উত্তরাধিকারী দাও। আমাদেরকে এবং ওকে মার্জনা ক’রে দাও হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! ওর কবরকে প্রশস্ত করো এবং ওর জন্য কবরকে আলোকিত করো। (মুসলিম ২১৬৯)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ সালামার নিকট গেলেন। তখন তাঁর (আত্মা বের হওয়ার পর) চোখ খোলা ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বন্ধ করার পর বললেন, “যখন (কারো) প্রাণ নিয়ে নেওয়া হয়, তখন চোখ তার দিকে তাকিয়ে থাকে।” (এ কথা শুনে) তাঁর পরিবারের কিছু লোক চিল্লিয়ে কাঁদতে আরম্ভ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তোমরা নিজেদের আত্মার জন্য মঙ্গলেরই দু‘আ কর। কেননা, ফিরিশতাবর্গ তোমাদের কথার উপর ‘আমীন’ বলেন।” অতঃপর তিনি এই দু‘আ বললেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফির লি আবী সালামাহ, (এখানে মৃতের নাম নিতে হবে) অরফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিইয়্যীন, অখ্লুফহু ফী আক্বিবিহী ফিল গা-বিরীন, অগফির লানা অলাহু ইয়া রাব্বাল আ-লামীন, অফ্সাহ লাহু ফী ক্বাবরিহী অ নাউবিরলাহু ফীহ।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি (অমুককে) মাফ ক’রে দাও এবং হিদায়াত প্রাপ্তদের দলে ওর মর্যাদা উন্নত কর, অবশিষ্টদের মধ্যে ওর পশ্চাতে ওর উত্তরাধিকারী দাও। আমাদেরকে এবং ওকে মার্জনা ক’রে দাও হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! ওর কবরকে প্রশস্ত করো এবং ওর জন্য কবরকে আলোকিত করো। (মুসলিম ২১৬৯)
عن أم سلمة رضي الله عنها قالت : دخل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم على أبي سلمة وقد شق بصره، فأغمضه ثم قالإن الروح إذا قبض تبعه البصر فضج ناس من أهله فقال لا تدعوا على أنفسكم إلا بخير فإن الملائكة يؤمنون على ما تقولون ثم قال اللهم اغفر لأبي سلمة وارفع درجته في المهديين واخلفه في عقبه في الغابرين واغفر لنا وله يا رب العالمين وافسح له في قبره ونور له فيه رواه مسلم
হাদিস সম্ভার > শেষ বয়সে অধিক পরিমাণে পুণ্য করার প্রতি উৎসাহ দান
হাদিস সম্ভার ১২৬১
عن أنس قال : إن الله عز وجل - تابع الوحي على رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قبل وفاته حتى توفي أكثر ما كان الوحي متفق عليه
নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মৃত্যুর পূর্বে (পূর্বাপেক্ষা) বেশী অহী নিরবচ্ছিন্নভাবে অবতীর্ণ করেছেন। (বুখারী ৪৯৮২, মুসলিম ৭৭০৯)
নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মৃত্যুর পূর্বে (পূর্বাপেক্ষা) বেশী অহী নিরবচ্ছিন্নভাবে অবতীর্ণ করেছেন। (বুখারী ৪৯৮২, মুসলিম ৭৭০৯)
عن أنس قال : إن الله عز وجل - تابع الوحي على رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قبل وفاته حتى توفي أكثر ما كان الوحي متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১২৫৮
عن أبي هريرة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال أعذر الله إلى امرئ أخر أجله حتى بلغ ستين سنة رواه البخاري
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির জন্য কোন ওজর পেশ করার অবকাশ রাখেন না (অর্থাৎ, ওজর গ্রহণ করবেন না), যার মৃত্যুকে তিনি এত পিছিয়ে দিলেন যে, সে ৬০ বছর বয়সে পৌঁছল।” (বুখারী ৬৪১৯) উলামাগণ বলেন, ‘এই বয়সে পৌঁছে গেলে ওজর-আপত্তি পেশ করার আর কোন সুযোগ থাকবে না।’
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির জন্য কোন ওজর পেশ করার অবকাশ রাখেন না (অর্থাৎ, ওজর গ্রহণ করবেন না), যার মৃত্যুকে তিনি এত পিছিয়ে দিলেন যে, সে ৬০ বছর বয়সে পৌঁছল।” (বুখারী ৬৪১৯) উলামাগণ বলেন, ‘এই বয়সে পৌঁছে গেলে ওজর-আপত্তি পেশ করার আর কোন সুযোগ থাকবে না।’
عن أبي هريرة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال أعذر الله إلى امرئ أخر أجله حتى بلغ ستين سنة رواه البخاري
হাদিস সম্ভার ১২৫৯
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال : كان عمر يدخلني مع أشياخ بدر فكأن بعضهم وجد في نفسه فقال : لم يدخل هذا معنا ولنا أبناء مثله فقال عمر : إنه من حيث علمتم فدعاني ذات يوم فأدخلني معهم فما رأيت أنه دعاني يومئذ إلا ليريهم قال : ما تقولون في قول الله : إذا جاء نصر الله والفتح: فقال بعضهم : أمرنا نحمد الله ونستغفره إذا نصرنا وفتح علينا وسكت بعضهم فلم يقل شيئا فقال لي : أكذلك تقول يا ابن عباس ؟ فقلت : لا قال : فما تقول ؟ قلت : هو أجل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أعلمه له، قال إذا جاء نصر الله والفتح وذلك علامة أجلك فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توابا فقال عمر ما أعلم منها إلا ما تقول رواه البخاري
উমার (রাঃ) আমাকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে (তাঁর সভায়) প্রবেশ করাতেন। তাঁদের মধ্যে কিছু লোক যেন মনে মনে ক্ষুন্ন হলেন। অতএব বললেন, ‘এ আমাদের সঙ্গে কেন প্রবেশ করছে? এর মত (সমবয়স্ক) ছেলে তো আমাদেরও আছে।’ (এ কথা শুনে) উমার (রাঃ) বললেন, ‘এ কে, তা তোমরা জান।’ সুতরাং তিনি একদিন আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে তাঁদের সঙ্গে (সভায়) প্রবেশ করালেন। আমার ধারণা ছিল যে, এদিন আমাকে ডাকার উদ্দেশ্য হল, তাদেরকে আমার মর্যাদা দেখানো। তিনি (পরীক্ষাস্বরূপ সভার লোককে) বললেন, ‘তোমরা আল্লাহর এই কথা “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় উপস্থিত হবে।” (সূরা নাস্র ১ আয়াত) এর ব্যাখ্যার ব্যাপারে কী বলছ?’ কিছু লোক বললেন, ‘আমাদেরকে এতে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য ও বিজয় দান করবেন, তখন যেন আমরা তাঁর প্রশংসা করি ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাই।’ আর কিছু লোক নিরুত্তর থাকলেন; তাঁরা কিছুই বললেন না। (ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,) অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, ‘হে ইবনে আব্বাস! তুমিও কি এ কথাই বলছ?’ আমি বললাম, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি (এর ব্যাখ্যা) কী বলছ?’ আমি বললাম, ‘তা হল আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মৃত্যু সংবাদ, যা আল্লাহ তাঁকে জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় সমাগত হবে।” আর সেটা হল তোমার মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ। “তখন তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর ও তাঁর কাছে স্বীয় ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই তিনি তওবা গ্রহণকারী।” (সূরা নাস্র ৩) অতঃপর উমার (রাঃ) বললেন, এর অর্থ আমি তাই জানি, যা তুমি বললে। (বুখারী ৪২৯৪, ৪৯৭০)
উমার (রাঃ) আমাকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে (তাঁর সভায়) প্রবেশ করাতেন। তাঁদের মধ্যে কিছু লোক যেন মনে মনে ক্ষুন্ন হলেন। অতএব বললেন, ‘এ আমাদের সঙ্গে কেন প্রবেশ করছে? এর মত (সমবয়স্ক) ছেলে তো আমাদেরও আছে।’ (এ কথা শুনে) উমার (রাঃ) বললেন, ‘এ কে, তা তোমরা জান।’ সুতরাং তিনি একদিন আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে তাঁদের সঙ্গে (সভায়) প্রবেশ করালেন। আমার ধারণা ছিল যে, এদিন আমাকে ডাকার উদ্দেশ্য হল, তাদেরকে আমার মর্যাদা দেখানো। তিনি (পরীক্ষাস্বরূপ সভার লোককে) বললেন, ‘তোমরা আল্লাহর এই কথা “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় উপস্থিত হবে।” (সূরা নাস্র ১ আয়াত) এর ব্যাখ্যার ব্যাপারে কী বলছ?’ কিছু লোক বললেন, ‘আমাদেরকে এতে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য ও বিজয় দান করবেন, তখন যেন আমরা তাঁর প্রশংসা করি ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাই।’ আর কিছু লোক নিরুত্তর থাকলেন; তাঁরা কিছুই বললেন না। (ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,) অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, ‘হে ইবনে আব্বাস! তুমিও কি এ কথাই বলছ?’ আমি বললাম, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি (এর ব্যাখ্যা) কী বলছ?’ আমি বললাম, ‘তা হল আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মৃত্যু সংবাদ, যা আল্লাহ তাঁকে জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় সমাগত হবে।” আর সেটা হল তোমার মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ। “তখন তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর ও তাঁর কাছে স্বীয় ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই তিনি তওবা গ্রহণকারী।” (সূরা নাস্র ৩) অতঃপর উমার (রাঃ) বললেন, এর অর্থ আমি তাই জানি, যা তুমি বললে। (বুখারী ৪২৯৪, ৪৯৭০)
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال : كان عمر يدخلني مع أشياخ بدر فكأن بعضهم وجد في نفسه فقال : لم يدخل هذا معنا ولنا أبناء مثله فقال عمر : إنه من حيث علمتم فدعاني ذات يوم فأدخلني معهم فما رأيت أنه دعاني يومئذ إلا ليريهم قال : ما تقولون في قول الله : إذا جاء نصر الله والفتح: فقال بعضهم : أمرنا نحمد الله ونستغفره إذا نصرنا وفتح علينا وسكت بعضهم فلم يقل شيئا فقال لي : أكذلك تقول يا ابن عباس ؟ فقلت : لا قال : فما تقول ؟ قلت : هو أجل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أعلمه له، قال إذا جاء نصر الله والفتح وذلك علامة أجلك فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توابا فقال عمر ما أعلم منها إلا ما تقول رواه البخاري
হাদিস সম্ভার ১২৬০
عن عائشة رضي الله عنها قالت : ما صلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم صلاة بعد أن نزلت عليه : إذا جاء نصر الله والفتح: إلا يقول فيها سبحانك ربنا وبحمدك اللهم اغفر لي متفق عليه وفي رواية في الصحيحين عنها : كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يكثر أن يقول في ركوعه وسجوده سبحانك اللهم ربنا وبحمدك اللهم اغفر لي يتأول القرآن معنى يتأول القرآن أي يعمل ما أمر به في القرآن في قوله تعالى فسبح بحمد ربك واستغفره وفي رواية لمسلم : كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يكثر أن يقول قبل أن يموتسبحانك اللهم وبحمدك أستغفرك وأتوب إليك قالت عائشة : قلت : يا رسول الله ما هذه الكلمات التي أراك أحدثتها تقولها ؟ قال جعلت لي علامة في أمتي إذا رأيتها قلتها -إذا جاء نصر الله والفتح- إلى آخر السورة وفي رواية له : كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يكثر من قول سبحان الله وبحمده أستغفر الله وأتوب إليه قالت : قلت : يا رسول الله أراك تكثر من قول سبحان الله وبحمده أستغفر الله وأتوب إليه ؟ فقال أخبرني ربي أني سأرى علامة في أمتي فإذا رأيتها أكثرت من قول : سبحان الله وبحمده أستغفر الله وأتوب إليه فقد رأيتها: إذا جاء نصر الله والفتح: فتح مكة- ورأيت الناس يدخلون في دين الله أفواجا فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توابا
‘ইযা জা-আ নাসরুল্লাহি অলফাত্হ’ অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক নামাযে অবশ্যই এই (দু‘আ) পড়তেন ‘সুবহানাকা রাব্বানা অবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী’ (অর্থাৎ হে আমাদের প্রভু! আমরা তোমার প্রশংসায় তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। হে আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা কর। (বুখারী ৪৯৬৭, মুসলিম ১১১৫) সহীহায়নের তাঁর অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রুকু ও সাজদায় অধিকাধিক ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা রাব্বানা অবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী’ পড়তেন। তিনি কুরআনের হুকুম তামিল করতেন। অর্থাৎ এই দু‘আ পড়ে তিনি কুরআনে বর্ণিত “(হে নবী) তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও।” আল্লাহর এই আদেশ পালন করতেন। (বুখারী ৮১৭, ৪৯৬৮, মুসলিম ১১১৩) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে অধিক পরিমাণে (এই দু‘আ) পড়তেন, ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা অবিহামদিকা আস্তাগফিরুকা অআতূবু ইলায়ক।’ আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! এই শব্দগুলো কি, যেগুলোকে আমি আপনাকে নতুন ক’রে পড়তে দেখছি?’ তিনি বললেন, “আমার জন্য আমার উম্মতের মধ্যে একটি চিহ্ন নির্দিষ্ট ক’রে দেওয়া হয়েছে, যখন আমি তা দেখব তখন এটি পড়ব। (চিহ্নটি হল) ‘ইযা জা-আ নাসরুল্লাহি অল্ফাত্হ---- শেষ সূরা পর্যন্ত।” (মুসলিম ১১১৪) মুসলিমের আর একটি বর্ণনায় আছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহী, আস্তাগফিরুল্লাহা অআতূবু ইলাইহ’ (দু‘আটি) বেশী বেশী পড়তেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে বেশী বেশী “সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহী, আস্তাগফিরুল্লাহা অআতূবু ইলাইহ” (দু‘আটি) পড়তে দেখছি (কী ব্যাপার)?’ তিনি বললেন, “আমার প্রভু আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমি শীঘ্রই আমার উম্মতের মধ্যে একটি চিহ্ন দেখব। সুতরাং আমি যখন তা দেখব, তখন ‘সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহী, আস্তাগফিরুল্লাহা অআতূবু ইলাইহ’ (দু‘আটি) বেশী বেশী পড়ব। এখন আমি তা দেখে নিয়েছি, ‘ইযা জা-আ নাসরুল্লাহি অলফাত্হ।’ যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়। অর্থাৎ, মক্কাবিজয়। আর তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবে। তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং তাঁর সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি অধিক তওবা গ্রহণকারী। (মুসলিম ১১১৬)
‘ইযা জা-আ নাসরুল্লাহি অলফাত্হ’ অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক নামাযে অবশ্যই এই (দু‘আ) পড়তেন ‘সুবহানাকা রাব্বানা অবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী’ (অর্থাৎ হে আমাদের প্রভু! আমরা তোমার প্রশংসায় তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। হে আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা কর। (বুখারী ৪৯৬৭, মুসলিম ১১১৫) সহীহায়নের তাঁর অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রুকু ও সাজদায় অধিকাধিক ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা রাব্বানা অবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী’ পড়তেন। তিনি কুরআনের হুকুম তামিল করতেন। অর্থাৎ এই দু‘আ পড়ে তিনি কুরআনে বর্ণিত “(হে নবী) তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও।” আল্লাহর এই আদেশ পালন করতেন। (বুখারী ৮১৭, ৪৯৬৮, মুসলিম ১১১৩) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে অধিক পরিমাণে (এই দু‘আ) পড়তেন, ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা অবিহামদিকা আস্তাগফিরুকা অআতূবু ইলায়ক।’ আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! এই শব্দগুলো কি, যেগুলোকে আমি আপনাকে নতুন ক’রে পড়তে দেখছি?’ তিনি বললেন, “আমার জন্য আমার উম্মতের মধ্যে একটি চিহ্ন নির্দিষ্ট ক’রে দেওয়া হয়েছে, যখন আমি তা দেখব তখন এটি পড়ব। (চিহ্নটি হল) ‘ইযা জা-আ নাসরুল্লাহি অল্ফাত্হ---- শেষ সূরা পর্যন্ত।” (মুসলিম ১১১৪) মুসলিমের আর একটি বর্ণনায় আছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহী, আস্তাগফিরুল্লাহা অআতূবু ইলাইহ’ (দু‘আটি) বেশী বেশী পড়তেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে বেশী বেশী “সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহী, আস্তাগফিরুল্লাহা অআতূবু ইলাইহ” (দু‘আটি) পড়তে দেখছি (কী ব্যাপার)?’ তিনি বললেন, “আমার প্রভু আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমি শীঘ্রই আমার উম্মতের মধ্যে একটি চিহ্ন দেখব। সুতরাং আমি যখন তা দেখব, তখন ‘সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহী, আস্তাগফিরুল্লাহা অআতূবু ইলাইহ’ (দু‘আটি) বেশী বেশী পড়ব। এখন আমি তা দেখে নিয়েছি, ‘ইযা জা-আ নাসরুল্লাহি অলফাত্হ।’ যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়। অর্থাৎ, মক্কাবিজয়। আর তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবে। তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং তাঁর সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি অধিক তওবা গ্রহণকারী। (মুসলিম ১১১৬)
عن عائشة رضي الله عنها قالت : ما صلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم صلاة بعد أن نزلت عليه : إذا جاء نصر الله والفتح: إلا يقول فيها سبحانك ربنا وبحمدك اللهم اغفر لي متفق عليه وفي رواية في الصحيحين عنها : كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يكثر أن يقول في ركوعه وسجوده سبحانك اللهم ربنا وبحمدك اللهم اغفر لي يتأول القرآن معنى يتأول القرآن أي يعمل ما أمر به في القرآن في قوله تعالى فسبح بحمد ربك واستغفره وفي رواية لمسلم : كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يكثر أن يقول قبل أن يموتسبحانك اللهم وبحمدك أستغفرك وأتوب إليك قالت عائشة : قلت : يا رسول الله ما هذه الكلمات التي أراك أحدثتها تقولها ؟ قال جعلت لي علامة في أمتي إذا رأيتها قلتها -إذا جاء نصر الله والفتح- إلى آخر السورة وفي رواية له : كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يكثر من قول سبحان الله وبحمده أستغفر الله وأتوب إليه قالت : قلت : يا رسول الله أراك تكثر من قول سبحان الله وبحمده أستغفر الله وأتوب إليه ؟ فقال أخبرني ربي أني سأرى علامة في أمتي فإذا رأيتها أكثرت من قول : سبحان الله وبحمده أستغفر الله وأتوب إليه فقد رأيتها: إذا جاء نصر الله والفتح: فتح مكة- ورأيت الناس يدخلون في دين الله أفواجا فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توابا