হাদিস সম্ভার > কোন কষ্টের কারণে মৃত্যু-কামনা করা বৈধ নয়, দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কায় বৈধ

হাদিস সম্ভার ১২৬৮

وعن أنس قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يتمنين أحدكم الموت لضر أصابه، فإن كان لا بد فاعلا فليقل : اللهم أحيني ما كانت الحياة خيرا لي، وتوفني إذا كانت الوفاة خيرا لي متفق عليه

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ কোন বিপদে পড়ার কারণে যেন মরার আকাঙ্ক্ষা না করে। আর যদি তা করতেই হয়, তাহলে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জীবিত রাখ; যে পর্যন্ত জীবিত থাকাটা আমার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর আমাকে মরণ দাও; যদি মরণ আমার জন্য মঙ্গলময় হয়।” (বুখারী ৬৩৫১,মুসলিম ৬৯৯০)

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ কোন বিপদে পড়ার কারণে যেন মরার আকাঙ্ক্ষা না করে। আর যদি তা করতেই হয়, তাহলে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জীবিত রাখ; যে পর্যন্ত জীবিত থাকাটা আমার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর আমাকে মরণ দাও; যদি মরণ আমার জন্য মঙ্গলময় হয়।” (বুখারী ৬৩৫১,মুসলিম ৬৯৯০)

وعن أنس قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يتمنين أحدكم الموت لضر أصابه، فإن كان لا بد فاعلا فليقل : اللهم أحيني ما كانت الحياة خيرا لي، وتوفني إذا كانت الوفاة خيرا لي متفق عليه


হাদিস সম্ভার ১২৭১

عن أبي بكرة أن رجلا قال يا رسول الله أي الناس خير؟ قال من طال عمره وحسن عمله قال: فأي الناس شر؟ قال من طال عمره وساء عمله

এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! সবচেয়ে উত্তম লোক কে?’ তিনি বললেন, “যার আয়ু লম্বা হয় এবং কর্ম উত্তম হয়।” লোকটি বলল, ‘আর সবচেয়ে খারাপ লোক কে?’ তিনি বললেন, “যার আয়ু লম্বা হয় এবং কর্ম খারাপ হয়।” (আহমাদ ২০৪১৫)

এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! সবচেয়ে উত্তম লোক কে?’ তিনি বললেন, “যার আয়ু লম্বা হয় এবং কর্ম উত্তম হয়।” লোকটি বলল, ‘আর সবচেয়ে খারাপ লোক কে?’ তিনি বললেন, “যার আয়ু লম্বা হয় এবং কর্ম খারাপ হয়।” (আহমাদ ২০৪১৫)

عن أبي بكرة أن رجلا قال يا رسول الله أي الناس خير؟ قال من طال عمره وحسن عمله قال: فأي الناس شر؟ قال من طال عمره وساء عمله


হাদিস সম্ভার ১২৭২

عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ألا أنبئكم بخيركم قالوا نعم يا رسول الله قال خياركم أطولكم أعمارا وأحسنكم أعمالا

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির কথা বলব না কি?” সাহাবাগণ বললেন, ‘জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে বয়সে বেশি এবং (নেক) কাজে উত্তম।” (আহমাদ ৭২১২, ৯২৩৫, সিঃ সহীহাহ ১২৯৮)

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির কথা বলব না কি?” সাহাবাগণ বললেন, ‘জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে বয়সে বেশি এবং (নেক) কাজে উত্তম।” (আহমাদ ৭২১২, ৯২৩৫, সিঃ সহীহাহ ১২৯৮)

عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ألا أنبئكم بخيركم قالوا نعم يا رسول الله قال خياركم أطولكم أعمارا وأحسنكم أعمالا


হাদিস সম্ভার ১২৬৭

عن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قاللا يتمن أحدكم الموت إما محسنا فلعله يزداد وإما مسيئا فلعله يستعتب متفق عليه وهذا لفظ البخاري وفي رواية لمسلم عن أبي هريرة عن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قاللا يتمن أحدكم الموت ولا يدع به من قبل أن يأتيه ؛ إنه إذا مات انقطع عمله وإنه لا يزيد المؤمن عمره إلا خيرا

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে পুণ্যবান হলে স‎ম্ভবতঃ সে পুণ্য বৃদ্ধি করবে। আর পাপী হলে (পাপ থেকে) তাওবাহ করতে পারবে।” (বুখারী ৫৬৭৩, ৭২৩৫) মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং তা আসার পূর্বে কেউ যেন তার জন্য দু‘আ না করে। কারণ, সে মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ মু’মিনের আয়ু কেবল মঙ্গলই বৃদ্ধি করবে।” (মুসলিম ৬৯৯৫)

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে পুণ্যবান হলে স‎ম্ভবতঃ সে পুণ্য বৃদ্ধি করবে। আর পাপী হলে (পাপ থেকে) তাওবাহ করতে পারবে।” (বুখারী ৫৬৭৩, ৭২৩৫) মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং তা আসার পূর্বে কেউ যেন তার জন্য দু‘আ না করে। কারণ, সে মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ মু’মিনের আয়ু কেবল মঙ্গলই বৃদ্ধি করবে।” (মুসলিম ৬৯৯৫)

عن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قاللا يتمن أحدكم الموت إما محسنا فلعله يزداد وإما مسيئا فلعله يستعتب متفق عليه وهذا لفظ البخاري وفي رواية لمسلم عن أبي هريرة عن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قاللا يتمن أحدكم الموت ولا يدع به من قبل أن يأتيه ؛ إنه إذا مات انقطع عمله وإنه لا يزيد المؤمن عمره إلا خيرا


হাদিস সম্ভার ১২৬৯

وعن قيس بن أبي حازم قال : دخلنا على خباب بن الأرت نعوده وقد اكتوى سبع كيات فقال : إن أصحابنا الذين سلفوا مضوا ولم تنقصهم الدنيا وإنا أصبنا ما لا نجد له موضعا إلا التراب ولولا أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم نهانا أن ندعو بالموت لدعوت به ثم أتيناه مرة أخرى وهو يبني حائطا له فقال : إن المسلم ليؤجر في كل شيء ينفقه إلا في شيء يجعله في هذا التراب متفق عليه وهذا لفظ رواية البخاري

তিনি বলেন, আমরা অসুস্থ খাব্বাব বিন আরাত্ (রাঃ) কে দেখা করতে গেলাম। সে সময় তিনি (তাঁর দেহে চিকিৎসার জন্য) সাতবার দেগেছিলেন। তিনি বললেন, ‘আমাদের সাথীরা যাঁরা (পূর্বেই) মারা গেছেন তাঁরা এমতাবস্থায় চলে গেছেন যে, দুনিয়া তাদের আমলের সওয়াবে কোন রকম কমতি করতে পারেনি। আর আমরা এমন (সম্পদ) লাভ করেছি, যা মাটি ছাড়া অন্য কোথাও রাখার জায়গা পাচ্ছি না। যদি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে মৃত্যু-কামনা করতে নিষেধ না করতেন, তাহলে (রোগ-যন্ত্রণার কারণে) আমি মৃত্যুর জন্য দু‘আ করতাম।’ (কাইস বলেন,) অতঃপর আমরা অন্য এক সময় তাঁর কাছে এলাম। তখন তিনি তাঁর (বাড়ির) দেওয়াল তৈরী করছিলেন। তিনি বললেন, ‘মুসলিম ব্যক্তিকে তার সকল প্রকার ব্যয়ের উপর সওয়াব দান করা হয়, তবে এ মাটিতে ব্যয়কৃত জিনিস ব্যতীত।’ (বুখারী ৫৬৭২, মুসলিম ৬৯৯৩ শব্দাবলী বুখারীর)

তিনি বলেন, আমরা অসুস্থ খাব্বাব বিন আরাত্ (রাঃ) কে দেখা করতে গেলাম। সে সময় তিনি (তাঁর দেহে চিকিৎসার জন্য) সাতবার দেগেছিলেন। তিনি বললেন, ‘আমাদের সাথীরা যাঁরা (পূর্বেই) মারা গেছেন তাঁরা এমতাবস্থায় চলে গেছেন যে, দুনিয়া তাদের আমলের সওয়াবে কোন রকম কমতি করতে পারেনি। আর আমরা এমন (সম্পদ) লাভ করেছি, যা মাটি ছাড়া অন্য কোথাও রাখার জায়গা পাচ্ছি না। যদি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে মৃত্যু-কামনা করতে নিষেধ না করতেন, তাহলে (রোগ-যন্ত্রণার কারণে) আমি মৃত্যুর জন্য দু‘আ করতাম।’ (কাইস বলেন,) অতঃপর আমরা অন্য এক সময় তাঁর কাছে এলাম। তখন তিনি তাঁর (বাড়ির) দেওয়াল তৈরী করছিলেন। তিনি বললেন, ‘মুসলিম ব্যক্তিকে তার সকল প্রকার ব্যয়ের উপর সওয়াব দান করা হয়, তবে এ মাটিতে ব্যয়কৃত জিনিস ব্যতীত।’ (বুখারী ৫৬৭২, মুসলিম ৬৯৯৩ শব্দাবলী বুখারীর)

وعن قيس بن أبي حازم قال : دخلنا على خباب بن الأرت نعوده وقد اكتوى سبع كيات فقال : إن أصحابنا الذين سلفوا مضوا ولم تنقصهم الدنيا وإنا أصبنا ما لا نجد له موضعا إلا التراب ولولا أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم نهانا أن ندعو بالموت لدعوت به ثم أتيناه مرة أخرى وهو يبني حائطا له فقال : إن المسلم ليؤجر في كل شيء ينفقه إلا في شيء يجعله في هذا التراب متفق عليه وهذا لفظ رواية البخاري


হাদিস সম্ভার ১২৭০

عن أم الفضل)امرأة العباس (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليهم وعباس عم رسول الله صلى الله عليه وسلم يشتكي فتمنى عباس الموت فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ্রيا عم لا تتمن الموت فإنك إن كنت محسنا فإن تؤخر تزدد إحسانا إلى إحسانك خير لك، وإن كنت مسيئا فإن تؤخر فتستعتب من إساءتك خير لك فلا تتمن الموتগ্ধ هذا حديث صحيح على شرط الشيخين

‘আল্লাহর রসূলের চাচা পীড়িত হলে তিনি তাঁর নিকট এলেন। আব্বাস মৃত্যুকামনা প্রকাশ করলে আল্লাহর রসূল তাঁকে বললেন, “হে চাচাজান! মৃত্যু কামনা করেন না। কারণ, আপনি নেক লোক হলে এবং হায়াত বেশী পেলে বেশী-বেশী নেকী করে নিতে পারবেন; যা আপনার জন্য মঙ্গলময়। আর গোনাহগার হলে এবং বেশী হায়াত পেলে আপনি গোনাহ থেকে তওবা করার সুযোগ পাবেন, সুতরাং তাও আপনার জন্য মঙ্গলময়। অতএব মৃত্যুকামনা করেন না।” (হাকেম ১২৫৪, আহকামুল জানায়েয, আলবানী ৪পৃঃ, হাদীসটি সহীহ)

‘আল্লাহর রসূলের চাচা পীড়িত হলে তিনি তাঁর নিকট এলেন। আব্বাস মৃত্যুকামনা প্রকাশ করলে আল্লাহর রসূল তাঁকে বললেন, “হে চাচাজান! মৃত্যু কামনা করেন না। কারণ, আপনি নেক লোক হলে এবং হায়াত বেশী পেলে বেশী-বেশী নেকী করে নিতে পারবেন; যা আপনার জন্য মঙ্গলময়। আর গোনাহগার হলে এবং বেশী হায়াত পেলে আপনি গোনাহ থেকে তওবা করার সুযোগ পাবেন, সুতরাং তাও আপনার জন্য মঙ্গলময়। অতএব মৃত্যুকামনা করেন না।” (হাকেম ১২৫৪, আহকামুল জানায়েয, আলবানী ৪পৃঃ, হাদীসটি সহীহ)

عن أم الفضل)امرأة العباس (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليهم وعباس عم رسول الله صلى الله عليه وسلم يشتكي فتمنى عباس الموت فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ্রيا عم لا تتمن الموت فإنك إن كنت محسنا فإن تؤخر تزدد إحسانا إلى إحسانك خير لك، وإن كنت مسيئا فإن تؤخر فتستعتب من إساءتك خير لك فلا تتمن الموتগ্ধ هذا حديث صحيح على شرط الشيخين


হাদিস সম্ভার ১২৭৪

অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বললেন, (أَلَيْسَ قَدْ مَكَثَ هَذَا بَعْدَهُ سَنَةً) ؟ قَالُوا بَلَى (وَأَدْرَكَ رَمَضَانَ فَصَامَهُ) ؟ قَالُوا بَلَى (وَصَلَّى كَذَا وَكَذَا سَجْدَةً فِي السَّنَةِ) ؟ قَالُوا بَلَى قَالَ رَسُولُ اللهِ (فَلَمَا بَيْنَهُمَا أَبْعَدُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضََََََََََََِ “(ওদের মধ্যে দীর্ঘজীবী ব্যক্তি যে) সে কি ঐ (দ্বিতীয় ব্যক্তির) পরে এক বছর বেশি জীবিত ছিল না।” সকলে বলল, ‘অবশ্যই।’ তিনি বললেন, “সে (ঐ বছরে) রমযান পেয়ে কি সিয়াম রাখেনি, এত এত নামায পড়েনি ও সিজদাহ করেনি?” সকলে বলল, ‘অবশ্যই।’ তিনি বললেন, “তাই ওদের উভয়ের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা আসমান-যমীনের মধ্যবর্তীর দূরত্ব থেকেও বেশি!” (আহমাদ ১৪০৩, ইবনে মাজাহ ৩৯২৫)

অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বললেন, (أَلَيْسَ قَدْ مَكَثَ هَذَا بَعْدَهُ سَنَةً) ؟ قَالُوا بَلَى (وَأَدْرَكَ رَمَضَانَ فَصَامَهُ) ؟ قَالُوا بَلَى (وَصَلَّى كَذَا وَكَذَا سَجْدَةً فِي السَّنَةِ) ؟ قَالُوا بَلَى قَالَ رَسُولُ اللهِ (فَلَمَا بَيْنَهُمَا أَبْعَدُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضََََََََََََِ “(ওদের মধ্যে দীর্ঘজীবী ব্যক্তি যে) সে কি ঐ (দ্বিতীয় ব্যক্তির) পরে এক বছর বেশি জীবিত ছিল না।” সকলে বলল, ‘অবশ্যই।’ তিনি বললেন, “সে (ঐ বছরে) রমযান পেয়ে কি সিয়াম রাখেনি, এত এত নামায পড়েনি ও সিজদাহ করেনি?” সকলে বলল, ‘অবশ্যই।’ তিনি বললেন, “তাই ওদের উভয়ের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা আসমান-যমীনের মধ্যবর্তীর দূরত্ব থেকেও বেশি!” (আহমাদ ১৪০৩, ইবনে মাজাহ ৩৯২৫)


হাদিস সম্ভার ১২৭৩

عن عبد الله بن شداد أن نفرا من بني عذرة ثلاثة أتوا النبي صلى اللٰه عليه وسلم فأسلموا قال فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم من يكفنيهم قال طلحة أنا قال فكانوا عند طلحة فبعث النبي صلى اللٰه عليه وسلم بعثا فخرج أحدهم فاستشهد قال ثم بعث بعثا فخرج فيهم آخر فاستشهد قال ثم مات الثالث على فراشه قال طلحة فرأيت هؤلاء الثلاثة الذين كانوا عندي في الجنة فرأيت الميت على فراشه أمامهم ورأيت الذي استشهد أخيرا يليه ورأيت الذي استشهد أولهم آخرهم قال فدخلني من ذلك قال فأتيت النبي صلى اللٰه عليه وسلم فذكرت ذلك له قال فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وما أنكرت من ذلك ليس أحد أفضل عند الله من مؤمن يعمر في الإسلام لتسبيحه وتكبيره وتهليله

বানী উযরার তিন ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর তারা ত্বালহার তত্ত্বাবধানে বাস করতে লাগল। এক সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধে কিছু লোক প্রেরণ করলেন। তাদের মধ্যে একজন লোকে তাতে যোগদান ক’রে শহীদ হয়ে গেল। তারপর আরো এক অভিযানে লোক পাঠালে তাদের মধ্যে দ্বিতীয়জন যোগ দিয়ে শহীদ হয়ে গেল। আর তৃতীয়জন বিছানায় মৃত্যুবরণ করল। ত্বালহা বলেন, ‘অতঃপর এক রাতে আমি ঐ তিনজনকে স্বপ্নে দেখি, ওদের মধ্যে যে বিছানায় মারা গেছে সে সবার আগে আছে, অতঃপর যে পরে শহীদ হয়েছে সে আছে এবং সর্বপ্রথম যে শহীদ হয়েছে সে সবার শেষে রয়েছে। এতে আমার সন্দেহ হলে আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গিয়ে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “এতে আপত্তিকর কি আছে? আল্লাহর নিকট সেই মু’মিন অপেক্ষা উত্তম কেউ নয়, যাকে ইসলামে তার তসবীহ, তকবীর ও তহলীলের জন্য বেশি বয়স দেওয়া হবে।” (আহমাদ ১৪০১)

বানী উযরার তিন ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর তারা ত্বালহার তত্ত্বাবধানে বাস করতে লাগল। এক সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধে কিছু লোক প্রেরণ করলেন। তাদের মধ্যে একজন লোকে তাতে যোগদান ক’রে শহীদ হয়ে গেল। তারপর আরো এক অভিযানে লোক পাঠালে তাদের মধ্যে দ্বিতীয়জন যোগ দিয়ে শহীদ হয়ে গেল। আর তৃতীয়জন বিছানায় মৃত্যুবরণ করল। ত্বালহা বলেন, ‘অতঃপর এক রাতে আমি ঐ তিনজনকে স্বপ্নে দেখি, ওদের মধ্যে যে বিছানায় মারা গেছে সে সবার আগে আছে, অতঃপর যে পরে শহীদ হয়েছে সে আছে এবং সর্বপ্রথম যে শহীদ হয়েছে সে সবার শেষে রয়েছে। এতে আমার সন্দেহ হলে আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গিয়ে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “এতে আপত্তিকর কি আছে? আল্লাহর নিকট সেই মু’মিন অপেক্ষা উত্তম কেউ নয়, যাকে ইসলামে তার তসবীহ, তকবীর ও তহলীলের জন্য বেশি বয়স দেওয়া হবে।” (আহমাদ ১৪০১)

عن عبد الله بن شداد أن نفرا من بني عذرة ثلاثة أتوا النبي صلى اللٰه عليه وسلم فأسلموا قال فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم من يكفنيهم قال طلحة أنا قال فكانوا عند طلحة فبعث النبي صلى اللٰه عليه وسلم بعثا فخرج أحدهم فاستشهد قال ثم بعث بعثا فخرج فيهم آخر فاستشهد قال ثم مات الثالث على فراشه قال طلحة فرأيت هؤلاء الثلاثة الذين كانوا عندي في الجنة فرأيت الميت على فراشه أمامهم ورأيت الذي استشهد أخيرا يليه ورأيت الذي استشهد أولهم آخرهم قال فدخلني من ذلك قال فأتيت النبي صلى اللٰه عليه وسلم فذكرت ذلك له قال فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وما أنكرت من ذلك ليس أحد أفضل عند الله من مؤمن يعمر في الإسلام لتسبيحه وتكبيره وتهليله


হাদিস সম্ভার > জীবন থেকে নিরাশ হওয়ার সময়ে দু’আ

হাদিস সম্ভার ১২৭৫

عن عائشة رضي الله عنها قالت : سمعت النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو مستند إلي يقول اللهم اغفر لي وارحمني وألحقني بالرفيق الأعلى متفق عليه

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এই দু‘আ বলতে শুনেছি, যখন তিনি (তাঁর মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে) আমার উপর ঠেস লাগিয়ে ছিলেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফিরলী অরহামনী অ আলহিক্বনী বির্রাফীক্বিল আ’লা।’ অর্থাৎ, আল্লাহ গো! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর এবং আমাকে মহান সাথীর সাথে মিলিত কর। (বুখারী ৪৪৪০, ৫৬৭৪, মুসলিম ৬৪৪৬)

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এই দু‘আ বলতে শুনেছি, যখন তিনি (তাঁর মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে) আমার উপর ঠেস লাগিয়ে ছিলেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফিরলী অরহামনী অ আলহিক্বনী বির্রাফীক্বিল আ’লা।’ অর্থাৎ, আল্লাহ গো! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর এবং আমাকে মহান সাথীর সাথে মিলিত কর। (বুখারী ৪৪৪০, ৫৬৭৪, মুসলিম ৬৪৪৬)

عن عائشة رضي الله عنها قالت : سمعت النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو مستند إلي يقول اللهم اغفر لي وارحمني وألحقني بالرفيق الأعلى متفق عليه


হাদিস সম্ভার > মুমূর্ষু ব্যক্তিকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে

হাদিস সম্ভার ১২৭৬

عن معاذ قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة رواه أبو داود والحاكم وقال صحيح الإسناد

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে (অর্থাৎ এই কালেমা পড়তে পড়তে যার মৃত্যু হবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ ২২০৩৪, ২২১২৭, আবূ দাঊদ ৩১১৮, হাকেম ১২৯৯, সহীহুল জামে’ ৬৪৭৯)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে (অর্থাৎ এই কালেমা পড়তে পড়তে যার মৃত্যু হবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ ২২০৩৪, ২২১২৭, আবূ দাঊদ ৩১১৮, হাকেম ১২৯৯, সহীহুল জামে’ ৬৪৭৯)

عن معاذ قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة رواه أبو داود والحاكم وقال صحيح الإسناد


হাদিস সম্ভার ১২৭৭

عن حذيفة قال أسندت النبي صلى اللٰه عليه وسلم إلى صدري فقال من قال لا إله إلا الله ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن صام يوما ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن تصدق بصدقة ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আমার বুকে লাগালাম। অতঃপর তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলে এবং সেটাই তার শেষ কথা হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে একদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সিয়াম রাখে এবং সেটাই তার শেষ আমল হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কিছু সাদকাহ করে এবং সেটা তার শেষ কর্ম হয় তবে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ ২৩৩২৪)

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আমার বুকে লাগালাম। অতঃপর তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলে এবং সেটাই তার শেষ কথা হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে একদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সিয়াম রাখে এবং সেটাই তার শেষ আমল হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কিছু সাদকাহ করে এবং সেটা তার শেষ কর্ম হয় তবে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ ২৩৩২৪)

عن حذيفة قال أسندت النبي صلى اللٰه عليه وسلم إلى صدري فقال من قال لا إله إلا الله ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن صام يوما ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن تصدق بصدقة ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة


হাদিস সম্ভার ১২৭৮

عن جابر قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يبعث كل عبد على ما مات عليهرواه مسلم

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (কিয়ামতের দিন) প্রত্যেক ব্যক্তিকে ঐ অবস্থায় উঠানো হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে। (মুসলিম ৭৪১৩)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (কিয়ামতের দিন) প্রত্যেক ব্যক্তিকে ঐ অবস্থায় উঠানো হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে। (মুসলিম ৭৪১৩)

عن جابر قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يبعث كل عبد على ما مات عليهرواه مسلم


হাদিস সম্ভার ১২৭৯

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لقنوا موتاكم لا إله إلا اللهرواه مسلم

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দাও।” (মুসলিম

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দাও।” (মুসলিম

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لقنوا موتاكم لا إله إلا اللهرواه مسلم


হাদিস সম্ভার ১২৮১

عن أنس أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم دخل على رجل من بني النجار يعوده فقال له رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم (يا خال قل لا إله إلا الله) فقال أوخال أنا أو عم فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم لا بل خال) فقال له قول لا إله إلا الله هو خير لي قال نعم

একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের এক (মরণাপন্ন) ব্যক্তিকে দেখা করতে গিয়ে বললেন, “হে মামা! ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বল।” লোকটি বলল, ‘মামা নাকি চাচা?’ তিনি বললেন, “বরং মামা।” অতঃপর লোকটি বলল, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলা কি আমার জন্য কল্যাণকর?’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অবশ্যই।” (আহমাদ ১২৫৪৩)

একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের এক (মরণাপন্ন) ব্যক্তিকে দেখা করতে গিয়ে বললেন, “হে মামা! ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বল।” লোকটি বলল, ‘মামা নাকি চাচা?’ তিনি বললেন, “বরং মামা।” অতঃপর লোকটি বলল, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলা কি আমার জন্য কল্যাণকর?’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অবশ্যই।” (আহমাদ ১২৫৪৩)

عن أنس أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم دخل على رجل من بني النجار يعوده فقال له رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم (يا خال قل لا إله إلا الله) فقال أوخال أنا أو عم فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم لا بل خال) فقال له قول لا إله إلا الله هو خير لي قال نعم


হাদিস সম্ভার ১২৮০

عن المسيب قال لما حضرت أبا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فوجد عنده أبا جهل وعبد الله بن أبى أمية بن المغيرة فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا عم قل لا إله إلا الله كلمة أشهد لك بها عند الله فقال أبو جهل وعبد الله بن أبى أمية يا أبا طالب أترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يعرضها عليه ويعيد له تلك المقالة حتى قال أبو طالب آخر ما كلمهم هو على ملة عبد المطلب وأبى أن يقول لا إله إلا الله

আবূ তালেবের যখন মৃত্যুর সময় হল, তখন মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “চাচাজান! আপনি কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়ে নিন। আমি আল্লাহর দরবারে আপনার জন্য সাক্ষ্য দেব। এই কালিমা দলীল স্বরূপ পেশ ক’রে আপনার পরিত্রাণের জন্য সুপারিশ করব।”কিন্তু পাশে বড় বড় নেতা বসে ছিল। আবূ জাহ্‌ল আব্দুল্লাহ বিন আবী উমাইয়া বলল, ‘আপনি কি শেষ অবস্থায় বিধর্মী হয়ে মরবেন? আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করবেন?’ যতবার মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উপর পরিত্রাণের জন্য ঐ কালেমা পেশ করেন, ততবার তারা তা নাকচ ক’রে দেয়। ফলে কালিমা না পড়েই তাঁর জীবন-লীলা সাঙ্গ হয়। (বুখারী ১৩৬০, ৩৮৮৪, ৪৬৭৫, ৪৭৭২, মুসলিম ১৪১)

আবূ তালেবের যখন মৃত্যুর সময় হল, তখন মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “চাচাজান! আপনি কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়ে নিন। আমি আল্লাহর দরবারে আপনার জন্য সাক্ষ্য দেব। এই কালিমা দলীল স্বরূপ পেশ ক’রে আপনার পরিত্রাণের জন্য সুপারিশ করব।”কিন্তু পাশে বড় বড় নেতা বসে ছিল। আবূ জাহ্‌ল আব্দুল্লাহ বিন আবী উমাইয়া বলল, ‘আপনি কি শেষ অবস্থায় বিধর্মী হয়ে মরবেন? আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করবেন?’ যতবার মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উপর পরিত্রাণের জন্য ঐ কালেমা পেশ করেন, ততবার তারা তা নাকচ ক’রে দেয়। ফলে কালিমা না পড়েই তাঁর জীবন-লীলা সাঙ্গ হয়। (বুখারী ১৩৬০, ৩৮৮৪, ৪৬৭৫, ৪৭৭২, মুসলিম ১৪১)

عن المسيب قال لما حضرت أبا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فوجد عنده أبا جهل وعبد الله بن أبى أمية بن المغيرة فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا عم قل لا إله إلا الله كلمة أشهد لك بها عند الله فقال أبو جهل وعبد الله بن أبى أمية يا أبا طالب أترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يعرضها عليه ويعيد له تلك المقالة حتى قال أبو طالب آخر ما كلمهم هو على ملة عبد المطلب وأبى أن يقول لا إله إلا الله


হাদিস সম্ভার ১২৮৪

عن بريدة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال إن المؤمن يموت بعرق الجبين

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মুমিনের মৃত্যুকালে তার কপালে ঘাম ঝরে।” (তিরমিযী ৯৮২, নাসাঈ ১৮২৭, ইবনে মাজাহ ১৪৫২, আহমাদ ৫/৩৫০, ৩৫৭, ৩৬০, হাকেম ১/৩৬১, ইবনে হিব্বান ৭৩০ প্রমুখ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মুমিনের মৃত্যুকালে তার কপালে ঘাম ঝরে।” (তিরমিযী ৯৮২, নাসাঈ ১৮২৭, ইবনে মাজাহ ১৪৫২, আহমাদ ৫/৩৫০, ৩৫৭, ৩৬০, হাকেম ১/৩৬১, ইবনে হিব্বান ৭৩০ প্রমুখ)

عن بريدة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال إن المؤمن يموت بعرق الجبين


হাদিস সম্ভার ১২৮৫

عن عائشة رضي الله عنها قالت: إن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم حين توفي سجي ببرد حبرة

“আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করলেন তখন তাঁকে চেককাটা ইয়ামানী চাদর দ্বারা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।” (বুখারী ৫৮১৪, আবু দাউদ ৩১২২, প্রমুখ)

“আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করলেন তখন তাঁকে চেককাটা ইয়ামানী চাদর দ্বারা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।” (বুখারী ৫৮১৪, আবু দাউদ ৩১২২, প্রমুখ)

عن عائشة رضي الله عنها قالت: إن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم حين توفي سجي ببرد حبرة


হাদিস সম্ভার ১২৮২

عن أنس رضي الله عنه قال كان غلام يهودي يخدم النبي صلى اللٰه عليه وسلم فمرض فأتاه النبي صلى اللٰه عليه وسلم يعوده فقعد عند رأسه فقال له أسلم فنظر إلى أبيه وهو عنده فقال له أطع أبا القاسم صلى اللٰه عليه وسلم فأسلم فخرج النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو يقول الحمد لله الذي أنقذه من النار

একজন ইহুদী কিশোর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর খিদমত করত। সে পীড়িত হলে মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখা করতে এলেন এবং তার শিথানে বসে বললেন, “ইসলাম গ্রহণ কর (তুমি মুসলিম হয়ে যাও)।” তাঁর এই কথা শুনে সে তার পিতার দিকে (তার মত জানতে) দৃষ্টিপাত করল। তার পিতা তার নিকটেই বসে ছিল। সে বলল, ‘আবুল কাসেম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কথা তুমি মেনে নাও। ফলে কিশোরটি মুসলমান হয়ে গেল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বলতে বলতে বের হয়ে গেলেন, “সেই আল্লাহর সকল প্রশংসা যিনি ওকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে নিলেন।” (আহমাদ ১২৭৯২, বুখারী ১৩৫৬) তারপর কিশোরটি মারা গেলে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমরা তোমাদের এক সাথীর উপর (জানাযার) নামায পড়।” (আহমাদ ১৩৭৩৬)

একজন ইহুদী কিশোর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর খিদমত করত। সে পীড়িত হলে মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখা করতে এলেন এবং তার শিথানে বসে বললেন, “ইসলাম গ্রহণ কর (তুমি মুসলিম হয়ে যাও)।” তাঁর এই কথা শুনে সে তার পিতার দিকে (তার মত জানতে) দৃষ্টিপাত করল। তার পিতা তার নিকটেই বসে ছিল। সে বলল, ‘আবুল কাসেম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কথা তুমি মেনে নাও। ফলে কিশোরটি মুসলমান হয়ে গেল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বলতে বলতে বের হয়ে গেলেন, “সেই আল্লাহর সকল প্রশংসা যিনি ওকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে নিলেন।” (আহমাদ ১২৭৯২, বুখারী ১৩৫৬) তারপর কিশোরটি মারা গেলে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমরা তোমাদের এক সাথীর উপর (জানাযার) নামায পড়।” (আহমাদ ১৩৭৩৬)

عن أنس رضي الله عنه قال كان غلام يهودي يخدم النبي صلى اللٰه عليه وسلم فمرض فأتاه النبي صلى اللٰه عليه وسلم يعوده فقعد عند رأسه فقال له أسلم فنظر إلى أبيه وهو عنده فقال له أطع أبا القاسم صلى اللٰه عليه وسلم فأسلم فخرج النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو يقول الحمد لله الذي أنقذه من النار


হাদিস সম্ভার ১২৮৩

وعن عائشة قالت : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من أحب لقاء الله أحب الله لقاءه ومن كره لقاء الله كره الله لقاءه فقلت : يا رسول الله أكراهية الموت فكلنا نكره الموت ؟ قالليس كذلك ولكن المؤمن إذا بشر برحمة الله ورضوانه وجنته أحب لقاء الله فأحب الله لقاءه وإن الكافر إذا بشر بعذاب الله وسخطه كره لقاء الله وكره الله لقاءه رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” এ কথা শুনে আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! তার মানে কি মরণকে অপছন্দ করা? আমরা তো সকলেই মরণকে অপছন্দ করি।’ তিনি বললেন, “ব্যাপারটি এরূপ নয়। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, (মৃত্যুর সময়) মু’মিনকে যখন আল্লাহর করুণা, তাঁর সন্তুষ্টি তথা জান্নাতের সুসংবাদ শুনানো হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভকেই পছন্দ করে, আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর কাফেরের (অন্তিমকালে) যখন তাকে আল্লাহর আযাব ও তাঁর অসন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে। আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” (বুখারী ৬৫০৭, মুসলিম ৬৯৯৮)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” এ কথা শুনে আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! তার মানে কি মরণকে অপছন্দ করা? আমরা তো সকলেই মরণকে অপছন্দ করি।’ তিনি বললেন, “ব্যাপারটি এরূপ নয়। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, (মৃত্যুর সময়) মু’মিনকে যখন আল্লাহর করুণা, তাঁর সন্তুষ্টি তথা জান্নাতের সুসংবাদ শুনানো হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভকেই পছন্দ করে, আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর কাফেরের (অন্তিমকালে) যখন তাকে আল্লাহর আযাব ও তাঁর অসন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে। আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” (বুখারী ৬৫০৭, মুসলিম ৬৯৯৮)

وعن عائشة قالت : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من أحب لقاء الله أحب الله لقاءه ومن كره لقاء الله كره الله لقاءه فقلت : يا رسول الله أكراهية الموت فكلنا نكره الموت ؟ قالليس كذلك ولكن المؤمن إذا بشر برحمة الله ورضوانه وجنته أحب لقاء الله فأحب الله لقاءه وإن الكافر إذا بشر بعذاب الله وسخطه كره لقاء الله وكره الله لقاءه رواه مسلم


হাদিস সম্ভার > মৃতের চোখ বন্ধ করার পর দু‘আ

হাদিস সম্ভার ১২৮৬

عن أم سلمة رضي الله عنها قالت : دخل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم على أبي سلمة وقد شق بصره، فأغمضه ثم قالإن الروح إذا قبض تبعه البصر فضج ناس من أهله فقال لا تدعوا على أنفسكم إلا بخير فإن الملائكة يؤمنون على ما تقولون ثم قال اللهم اغفر لأبي سلمة وارفع درجته في المهديين واخلفه في عقبه في الغابرين واغفر لنا وله يا رب العالمين وافسح له في قبره ونور له فيه رواه مسلم

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ সালামার নিকট গেলেন। তখন তাঁর (আত্মা বের হওয়ার পর) চোখ খোলা ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বন্ধ করার পর বললেন, “যখন (কারো) প্রাণ নিয়ে নেওয়া হয়, তখন চোখ তার দিকে তাকিয়ে থাকে।” (এ কথা শুনে) তাঁর পরিবারের কিছু লোক চিল্লিয়ে কাঁদতে আর‎ম্ভ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তোমরা নিজেদের আত্মার জন্য মঙ্গলেরই দু‘আ কর। কেননা, ফিরিশতাবর্গ তোমাদের কথার উপর ‘আমীন’ বলেন।” অতঃপর তিনি এই দু‘আ বললেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফির লি আবী সালামাহ, (এখানে মৃতের নাম নিতে হবে) অরফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিইয়্যীন, অখ্লুফহু ফী আক্বিবিহী ফিল গা-বিরীন, অগফির লানা অলাহু ইয়া রাব্বাল আ-লামীন, অফ্সাহ লাহু ফী ক্বাবরিহী অ নাউবিরলাহু ফীহ।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি (অমুককে) মাফ ক’রে দাও এবং হিদায়াত প্রাপ্তদের দলে ওর মর্যাদা উন্নত কর, অবশিষ্টদের মধ্যে ওর পশ্চাতে ওর উত্তরাধিকারী দাও। আমাদেরকে এবং ওকে মার্জনা ক’রে দাও হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! ওর কবরকে প্রশস্ত করো এবং ওর জন্য কবরকে আলোকিত করো। (মুসলিম ২১৬৯)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ সালামার নিকট গেলেন। তখন তাঁর (আত্মা বের হওয়ার পর) চোখ খোলা ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বন্ধ করার পর বললেন, “যখন (কারো) প্রাণ নিয়ে নেওয়া হয়, তখন চোখ তার দিকে তাকিয়ে থাকে।” (এ কথা শুনে) তাঁর পরিবারের কিছু লোক চিল্লিয়ে কাঁদতে আর‎ম্ভ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তোমরা নিজেদের আত্মার জন্য মঙ্গলেরই দু‘আ কর। কেননা, ফিরিশতাবর্গ তোমাদের কথার উপর ‘আমীন’ বলেন।” অতঃপর তিনি এই দু‘আ বললেন, ‘আল্লা-হুম্মাগফির লি আবী সালামাহ, (এখানে মৃতের নাম নিতে হবে) অরফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিইয়্যীন, অখ্লুফহু ফী আক্বিবিহী ফিল গা-বিরীন, অগফির লানা অলাহু ইয়া রাব্বাল আ-লামীন, অফ্সাহ লাহু ফী ক্বাবরিহী অ নাউবিরলাহু ফীহ।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি (অমুককে) মাফ ক’রে দাও এবং হিদায়াত প্রাপ্তদের দলে ওর মর্যাদা উন্নত কর, অবশিষ্টদের মধ্যে ওর পশ্চাতে ওর উত্তরাধিকারী দাও। আমাদেরকে এবং ওকে মার্জনা ক’রে দাও হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! ওর কবরকে প্রশস্ত করো এবং ওর জন্য কবরকে আলোকিত করো। (মুসলিম ২১৬৯)

عن أم سلمة رضي الله عنها قالت : دخل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم على أبي سلمة وقد شق بصره، فأغمضه ثم قالإن الروح إذا قبض تبعه البصر فضج ناس من أهله فقال لا تدعوا على أنفسكم إلا بخير فإن الملائكة يؤمنون على ما تقولون ثم قال اللهم اغفر لأبي سلمة وارفع درجته في المهديين واخلفه في عقبه في الغابرين واغفر لنا وله يا رب العالمين وافسح له في قبره ونور له فيه رواه مسلم


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00