হাদিস সম্ভার > যাকাতের অপরিহার্যতা এবং তার ফযীলত
হাদিস সম্ভার ৯০৭
و عن ابن عمر رضي الله عنهما : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال بني الإسلام على خمس : شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصوم رمضان متفق عليه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পাঁচটি ভিত্তির উপর দ্বীনে ইসলাম স্থাপিত। (১) এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রসূল। (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা। (৩) যাকাত আদায় করা। (৪) বায়তুল্লাহর (কা’বা গৃহে)র হজ্জ করা। এবং (৫) রমযানের রোযা পালন করা।” (বুখারী ৮, মুসলিম ১২২)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পাঁচটি ভিত্তির উপর দ্বীনে ইসলাম স্থাপিত। (১) এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রসূল। (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা। (৩) যাকাত আদায় করা। (৪) বায়তুল্লাহর (কা’বা গৃহে)র হজ্জ করা। এবং (৫) রমযানের রোযা পালন করা।” (বুখারী ৮, মুসলিম ১২২)
و عن ابن عمر رضي الله عنهما : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال بني الإسلام على خمس : شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصوم رمضان متفق عليه
হাদিস সম্ভার ৯১০
و عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحق الإسلام وحسابهم على الله متفق عليه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ সংগ্রাম করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। আর নামায কায়েম করবে ও (ধনের) যাকাত আদায় করবে। যখন তারা এগুলি বাস্তবায়ন করবে, তখন ইসলামী হক (অর্থদন্ড ইত্যাদি) ছাড়া তারা নিজেদের জান-মাল আমার নিকট হতে সুরক্ষিত ক’রে নেবে। আর (অন্তরের গভীরে কুফরী বা পাপ লুকানো থাকলে) তাদের হিসাব আল্লাহর যিম্মায়।” (বুখারী ২৫, মুসলিম ১৩৮)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ সংগ্রাম করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। আর নামায কায়েম করবে ও (ধনের) যাকাত আদায় করবে। যখন তারা এগুলি বাস্তবায়ন করবে, তখন ইসলামী হক (অর্থদন্ড ইত্যাদি) ছাড়া তারা নিজেদের জান-মাল আমার নিকট হতে সুরক্ষিত ক’রে নেবে। আর (অন্তরের গভীরে কুফরী বা পাপ লুকানো থাকলে) তাদের হিসাব আল্লাহর যিম্মায়।” (বুখারী ২৫, মুসলিম ১৩৮)
و عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحق الإسلام وحسابهم على الله متفق عليه
হাদিস সম্ভার ৯০৯
وعن ابن عباس أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم بعث معاذا إلى اليمن فقال ادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأني رسول الله فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله تعالى افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم وترد على فقرائهم متفق عليه
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআয (রাঃ) কে ইয়ামান পাঠাবার সময়ে (তাঁর উদ্দেশ্যে) বললেন, “তাদের (ইয়ামানবাসীদেরকে সর্বপ্রথম) এই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহবান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আর আমি আল্লাহর রসূল। যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের উপর রাতদিনে পাঁচ অক্তের নামায ফরয করেছেন। অতঃপর যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন; যা তাদের মধ্যে যারা (নিসাব পরিমাণ) মালের অধিকারী তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের মাঝে তা বন্টন ক’রে দেওয়া হবে।” (বুখারী ১৩৯৫, ১৪৯৬, মুসলিম ১৩০)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআয (রাঃ) কে ইয়ামান পাঠাবার সময়ে (তাঁর উদ্দেশ্যে) বললেন, “তাদের (ইয়ামানবাসীদেরকে সর্বপ্রথম) এই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহবান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আর আমি আল্লাহর রসূল। যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের উপর রাতদিনে পাঁচ অক্তের নামায ফরয করেছেন। অতঃপর যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন; যা তাদের মধ্যে যারা (নিসাব পরিমাণ) মালের অধিকারী তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের মাঝে তা বন্টন ক’রে দেওয়া হবে।” (বুখারী ১৩৯৫, ১৪৯৬, মুসলিম ১৩০)
وعن ابن عباس أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم بعث معاذا إلى اليمن فقال ادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأني رسول الله فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله تعالى افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم وترد على فقرائهم متفق عليه
হাদিস সম্ভার ৯০৮
وعن طلحة بن عبيد الله قال : جاء رجل إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من أهل نجد ثائر الرأس نسمع دوي صوته ولا نفقه ما يقول حتى دنا من رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فإذا هو يسأل عن الإسلام فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم خمس صلوات في اليوم والليلة قال : هل علي غيرهن ؟ قال لا إلا أن تطوع فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وصيام شهر رمضان قال : هل علي غيره ؟ قال لا إلا أن تطوع قال : وذكر له رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم الزكاة فقال : هل علي غيرها ؟ قال لا إلا أن تطوع فأدبر الرجل وهو يقول : والله لا أزيد على هذا ولا أنقص منه فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أفلح إن صدق متفق عليه
তিনি বলেন নাজ্দ (রিয়ায এলাকার) অধিবাসীদের একজন আলুলায়িত কেশী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হল। আমরা তার ভ্নভ্ন শব্দ শুনছিলাম, আর তার কথাও বুঝতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে আসল এবং (তখন বুঝলাম,) সে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। (উত্তরে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “(ইসলাম হল,) দিবা-রাত্রিতে পাঁচ অক্তের নামায (প্রতিষ্ঠা করা)।” সে বলল, ‘তা ছাড়া আমার উপর অন্য নামায আছে কি?’ তিনি বললেন, “না, কিন্তু যা কিছু তুমি নফল হিসাবে পড়বে।” রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, “এবং রমযান মাসের রোযা।” লোকটি বলল, ‘তা ছাড়া আমার উপর অন্য রোযা আছে কি?’ তিনি বললেন, “না, তবে তুমি যা নফল হিসাবে করবে।” বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে যাকাতের কথা বললেন। সে বলল, ‘তাছাড়া আমার উপর অন্য দান আছে কি?’ তিনি বললেন, “না, তবে তুমি যা নফল হিসাবে করবে।” তারপর লোকটি পিঠ ফিরিয়ে এ কথা বলতে বলতে যেতে লাগল, ‘আল্লাহর কসম! আমি এর চাইতে বেশী কিছু করব না এবং এর চেয়ে কমও করব না।’ তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “লোকটি সত্য বলে থাকলে পরিত্রাণ পেয়ে গেল।” (বুখারী ৪৬, ২৬৭৮, মুসলিম ১০৯)
তিনি বলেন নাজ্দ (রিয়ায এলাকার) অধিবাসীদের একজন আলুলায়িত কেশী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হল। আমরা তার ভ্নভ্ন শব্দ শুনছিলাম, আর তার কথাও বুঝতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে আসল এবং (তখন বুঝলাম,) সে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। (উত্তরে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “(ইসলাম হল,) দিবা-রাত্রিতে পাঁচ অক্তের নামায (প্রতিষ্ঠা করা)।” সে বলল, ‘তা ছাড়া আমার উপর অন্য নামায আছে কি?’ তিনি বললেন, “না, কিন্তু যা কিছু তুমি নফল হিসাবে পড়বে।” রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, “এবং রমযান মাসের রোযা।” লোকটি বলল, ‘তা ছাড়া আমার উপর অন্য রোযা আছে কি?’ তিনি বললেন, “না, তবে তুমি যা নফল হিসাবে করবে।” বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে যাকাতের কথা বললেন। সে বলল, ‘তাছাড়া আমার উপর অন্য দান আছে কি?’ তিনি বললেন, “না, তবে তুমি যা নফল হিসাবে করবে।” তারপর লোকটি পিঠ ফিরিয়ে এ কথা বলতে বলতে যেতে লাগল, ‘আল্লাহর কসম! আমি এর চাইতে বেশী কিছু করব না এবং এর চেয়ে কমও করব না।’ তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “লোকটি সত্য বলে থাকলে পরিত্রাণ পেয়ে গেল।” (বুখারী ৪৬, ২৬৭৮, মুসলিম ১০৯)
وعن طلحة بن عبيد الله قال : جاء رجل إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من أهل نجد ثائر الرأس نسمع دوي صوته ولا نفقه ما يقول حتى دنا من رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فإذا هو يسأل عن الإسلام فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم خمس صلوات في اليوم والليلة قال : هل علي غيرهن ؟ قال لا إلا أن تطوع فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وصيام شهر رمضان قال : هل علي غيره ؟ قال لا إلا أن تطوع قال : وذكر له رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم الزكاة فقال : هل علي غيرها ؟ قال لا إلا أن تطوع فأدبر الرجل وهو يقول : والله لا أزيد على هذا ولا أنقص منه فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أفلح إن صدق متفق عليه
হাদিস সম্ভার ৯১১
وعن أبي هريرة قال : لما توفي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وكان أبو بكر وكفر من كفر من العرب فقال عمر كيف تقاتل الناس وقد قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله فمن قالها فقد عصم مني ماله ونفسه إلا بحقه وحسابه على الله فقال أبو بكر : والله لأقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة فإن الزكاة حق المال والله لو منعوني عقالا كانوا يؤدونه إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لقاتلتهم على منعه قال عمر فوالله ما هو إلا أن رأيت الله قد شرح صدر أبي بكر للقتال فعرفت أنه الحق متفق عليه
তিনি বলেন, যখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং আবূ বাকার (রাঃ) খলীফা নিযুক্ত হলেন। আর আরববাসীদের মধ্যে যার কাফের (মুর্তাদ্দ) হবার ছিল সে কাফের (মুর্তাদ্দ) হয়ে গেল, (এবং যারা সম্পূর্ণ ধর্মত্যাগ করেনি; বরং যাকাত দিতে অস্বীকার করছে মাত্র, তাদের বিরুদ্ধে আবূ বাক্র (রাঃ) সশস্ত্র সংগ্রামের সংকল্প প্রকাশ করলেন) তখন উমার (রাঃ) বললেন, ‘ঐ (যাকাত দিতে নারাজ) লোকেদের বিরুদ্ধে কেমন ক’রে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, “লোকেরা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই) না বলা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি তা বলবে, সে ইসলামী অধিকার (অর্থদন্ড ইত্যাদি) ছাড়া তার জান-মাল আমার নিকট থেকে নিরাপদ ক’রে নেবে। আর তার (অন্তরের গভীরে কুফ্রী বা পাপ লুকানো থাকলে) হিসাব আল্লাহর যিম্মায়”? আবূ বাক্র (রাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! যে ব্যক্তি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, তার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করব। কারণ, যাকাত মালের উপর আরোপিত হক। আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যে রশি আদায় করত, তা যদি আমাকে না দেয়, তাহলে তা না দেওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আমি জিহাদ করবই।’ উমার (রাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! অচিরেই আমি দেখলাম যে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ আবূ বাক্র (রাঃ) এর হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করেছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর সিদ্ধান্তই যথার্থ।’ (বুখারী ৭২৮৪-৭২৮৫, মুসলিম ১৩৩)
তিনি বলেন, যখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং আবূ বাকার (রাঃ) খলীফা নিযুক্ত হলেন। আর আরববাসীদের মধ্যে যার কাফের (মুর্তাদ্দ) হবার ছিল সে কাফের (মুর্তাদ্দ) হয়ে গেল, (এবং যারা সম্পূর্ণ ধর্মত্যাগ করেনি; বরং যাকাত দিতে অস্বীকার করছে মাত্র, তাদের বিরুদ্ধে আবূ বাক্র (রাঃ) সশস্ত্র সংগ্রামের সংকল্প প্রকাশ করলেন) তখন উমার (রাঃ) বললেন, ‘ঐ (যাকাত দিতে নারাজ) লোকেদের বিরুদ্ধে কেমন ক’রে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, “লোকেরা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই) না বলা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি তা বলবে, সে ইসলামী অধিকার (অর্থদন্ড ইত্যাদি) ছাড়া তার জান-মাল আমার নিকট থেকে নিরাপদ ক’রে নেবে। আর তার (অন্তরের গভীরে কুফ্রী বা পাপ লুকানো থাকলে) হিসাব আল্লাহর যিম্মায়”? আবূ বাক্র (রাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! যে ব্যক্তি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, তার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করব। কারণ, যাকাত মালের উপর আরোপিত হক। আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যে রশি আদায় করত, তা যদি আমাকে না দেয়, তাহলে তা না দেওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আমি জিহাদ করবই।’ উমার (রাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! অচিরেই আমি দেখলাম যে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ আবূ বাক্র (রাঃ) এর হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করেছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর সিদ্ধান্তই যথার্থ।’ (বুখারী ৭২৮৪-৭২৮৫, মুসলিম ১৩৩)
وعن أبي هريرة قال : لما توفي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وكان أبو بكر وكفر من كفر من العرب فقال عمر كيف تقاتل الناس وقد قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله فمن قالها فقد عصم مني ماله ونفسه إلا بحقه وحسابه على الله فقال أبو بكر : والله لأقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة فإن الزكاة حق المال والله لو منعوني عقالا كانوا يؤدونه إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لقاتلتهم على منعه قال عمر فوالله ما هو إلا أن رأيت الله قد شرح صدر أبي بكر للقتال فعرفت أنه الحق متفق عليه
হাদিস সম্ভার ৯১২
وعن أبي أيوب أن رجلا قال للنبي صلى اللٰه عليه وسلم : أخبرني بعمل يدخلني الجنة قال تعبد الله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصل الرحم متفق عليه
একটি লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলল, ‘আমাকে এমন একটি আমল বলুন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।’ তিনি বললেন, “আল্লাহর বন্দেগী করবে, আর তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থির করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখবে।” (বুখারী ১৩৯৬, ৫৯৮৩, মুসলিম ১১৩) অন্য বর্ণনার শব্দাবলীতে আছে, একদা এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলল, ‘আমাকে এমন এক আমলের সন্ধান দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।’ সকলে বলল, ‘আরে! কী হল, ওর কী হল?’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “ওর কোন প্রয়োজন আছে।” (অতঃপর ঐ লোকটির উদ্দেশ্যে বললেন,) “তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে আর তাঁর সাথে কাউকেও শরীক করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে। আর আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখবে।”
একটি লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলল, ‘আমাকে এমন একটি আমল বলুন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।’ তিনি বললেন, “আল্লাহর বন্দেগী করবে, আর তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থির করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখবে।” (বুখারী ১৩৯৬, ৫৯৮৩, মুসলিম ১১৩) অন্য বর্ণনার শব্দাবলীতে আছে, একদা এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলল, ‘আমাকে এমন এক আমলের সন্ধান দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।’ সকলে বলল, ‘আরে! কী হল, ওর কী হল?’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “ওর কোন প্রয়োজন আছে।” (অতঃপর ঐ লোকটির উদ্দেশ্যে বললেন,) “তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে আর তাঁর সাথে কাউকেও শরীক করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে। আর আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখবে।”
وعن أبي أيوب أن رجلا قال للنبي صلى اللٰه عليه وسلم : أخبرني بعمل يدخلني الجنة قال تعبد الله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصل الرحم متفق عليه
হাদিস সম্ভার ৯১৪
وعن جرير بن عبد الله قال : بايعت النبي صلى اللٰه عليه وسلم على إقام الصلاة وإيتاء الزكاة والنصح لكل مسلم متفق عليه
তিনি বলেন, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাতে নামায কায়েম করার, যাকাত আদায় করার ও প্রতিটি মুসলমানের মঙ্গল কামনা করার বায়আত করেছি।’ (বুখারী ৫৭, ৫২৪, মুসলিম ২০৮)
তিনি বলেন, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাতে নামায কায়েম করার, যাকাত আদায় করার ও প্রতিটি মুসলমানের মঙ্গল কামনা করার বায়আত করেছি।’ (বুখারী ৫৭, ৫২৪, মুসলিম ২০৮)
وعن جرير بن عبد الله قال : بايعت النبي صلى اللٰه عليه وسلم على إقام الصلاة وإيتاء الزكاة والنصح لكل مسلم متفق عليه
হাদিস সম্ভার ৯১৬
عن جابر قال: قال رجل يا رسول الله أرأيت إذا أدى الرجل زكاة ماله؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ্রمن أدى زكاة ماله فقد ذهب عنه شرهগ্ধ
এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী; যদি কোন ব্যক্তি তার মালের যাকাত আদায় করে দেয়?’ উত্তরে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “যে ব্যক্তি তার মালের যাকাত আদায় করে দেয়, সে ব্যক্তির নিকট থেকে তার অনিষ্ট দূর হয়ে যায়।” (ত্বাবারানীর আওসাত্ব, ইবনে খুযাইমাহ, হাকেম, সহীহ তারগীব ৭৪৩)
এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী; যদি কোন ব্যক্তি তার মালের যাকাত আদায় করে দেয়?’ উত্তরে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “যে ব্যক্তি তার মালের যাকাত আদায় করে দেয়, সে ব্যক্তির নিকট থেকে তার অনিষ্ট দূর হয়ে যায়।” (ত্বাবারানীর আওসাত্ব, ইবনে খুযাইমাহ, হাকেম, সহীহ তারগীব ৭৪৩)
عن جابر قال: قال رجل يا رسول الله أرأيت إذا أدى الرجل زكاة ماله؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ্রمن أدى زكاة ماله فقد ذهب عنه شرهগ্ধ
হাদিস সম্ভার ৯১৩
وعن أبي هريرة أن أعرابيا أتى النبي صلى اللٰه عليه وسلم فقال : يا رسول الله دلني على عمل إذا عملته دخلت الجنة قال تعبد الله لا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان قال : والذي نفسي بيده لا أزيد على هذا فلما ولى قال النبي صلى اللٰه عليه وسلم من سره أن ينظر إلى رجل من أهل الجنة فلينظر إلى هذا متفق عليه
এক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন এক আমলের কথা বলে দিন, যার উপর আমল করলে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।’ তিনি বললেন, “আল্লাহর ইবাদত করবে ও তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থির করবে না। নামায কায়েম করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে ও রমযানের রোযা পালন করবে।” সে বলল, ‘সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন আছে, আমি এর চেয়ে বেশী করব না।’ তারপর যখন সে লোকটা পিঠ ফিরে চলতে লাগল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “যে ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের কোন লোক দেখতে আগ্রহী, সে যেন এই লোকটিকে দেখে।” (বুখারী ১২৯৭, মুসলিম ১১৬)
এক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন এক আমলের কথা বলে দিন, যার উপর আমল করলে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।’ তিনি বললেন, “আল্লাহর ইবাদত করবে ও তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থির করবে না। নামায কায়েম করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে ও রমযানের রোযা পালন করবে।” সে বলল, ‘সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন আছে, আমি এর চেয়ে বেশী করব না।’ তারপর যখন সে লোকটা পিঠ ফিরে চলতে লাগল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “যে ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের কোন লোক দেখতে আগ্রহী, সে যেন এই লোকটিকে দেখে।” (বুখারী ১২৯৭, মুসলিম ১১৬)
وعن أبي هريرة أن أعرابيا أتى النبي صلى اللٰه عليه وسلم فقال : يا رسول الله دلني على عمل إذا عملته دخلت الجنة قال تعبد الله لا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان قال : والذي نفسي بيده لا أزيد على هذا فلما ولى قال النبي صلى اللٰه عليه وسلم من سره أن ينظر إلى رجل من أهل الجنة فلينظر إلى هذا متفق عليه
হাদিস সম্ভার ৯১৭
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من آتاه الله مالا فلم يؤد زكاته مثل له ماله شجاعا أقرع له زبيبتان يطوقه يوم القيامة يأخذ بلهزمتيه يعني بشدقيه يقول أنا مالك أنا كنزك ثم تلا هذه الآية ولا يحسبن الذين يبخلون بما آتاهم الله من فضله إلى آخر الآية
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তিকে আল্লাহ ধন-মাল দান করেছেন; কিন্তু সে ব্যক্তি তার সেই ধন-মালের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন (আযাবের) জন্য তার সমস্ত ধন-মালকে একটি মাথায় টাক পড়া (অতি বিষাক্ত) সাপের আকৃতি দান করা হবে; যার চোখের উপর দু’টি কালো দাগ থাকবে। সেই সাপকে বেড়ির মত তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর সে তার উভয় কশে ধারণ (দংশন) করে বলবে, ‘আমি তোমার মাল, আমি তোমার সেই সঞ্চিত ধনভান্ডার।’ এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াত পাঠ করলেন, وَلاَ يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ بِمَا آتَاهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَّهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ سَيُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوْا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থাৎ, আল্লাহর দানকৃত অনুগ্রহে (ধন-মালে) যারা কৃপণতা করে, সে কার্পণ্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পণ্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে বেড়ি বানিয়ে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় পরানো হবে। (সূরা আ-লি ইমরান ১৮০ আয়াত) (বুখারী১৪০৩, নাসাঈ ২৪৪১)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তিকে আল্লাহ ধন-মাল দান করেছেন; কিন্তু সে ব্যক্তি তার সেই ধন-মালের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন (আযাবের) জন্য তার সমস্ত ধন-মালকে একটি মাথায় টাক পড়া (অতি বিষাক্ত) সাপের আকৃতি দান করা হবে; যার চোখের উপর দু’টি কালো দাগ থাকবে। সেই সাপকে বেড়ির মত তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর সে তার উভয় কশে ধারণ (দংশন) করে বলবে, ‘আমি তোমার মাল, আমি তোমার সেই সঞ্চিত ধনভান্ডার।’ এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াত পাঠ করলেন, وَلاَ يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ بِمَا آتَاهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَّهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ سَيُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوْا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থাৎ, আল্লাহর দানকৃত অনুগ্রহে (ধন-মালে) যারা কৃপণতা করে, সে কার্পণ্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পণ্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে বেড়ি বানিয়ে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় পরানো হবে। (সূরা আ-লি ইমরান ১৮০ আয়াত) (বুখারী১৪০৩, নাসাঈ ২৪৪১)
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من آتاه الله مالا فلم يؤد زكاته مثل له ماله شجاعا أقرع له زبيبتان يطوقه يوم القيامة يأخذ بلهزمتيه يعني بشدقيه يقول أنا مالك أنا كنزك ثم تلا هذه الآية ولا يحسبن الذين يبخلون بما آتاهم الله من فضله إلى آخر الآية
হাদিস সম্ভার ৯১৮
عن مسروق قال قال عبد الله رضى الله عنه : آكل الربا ومؤكله وشاهداه إذا علماه والواشمة والمؤتشمة ولاوى الصدقة والمرتد أعرابيا بعد الهجرة ملعونون على لسان محمد صلى اللٰه عليه وسلم
আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন, “সূদখোর, সূদদাতা, সূদের কারবার জেনেও তার দুই সাক্ষ্যদাতা, কোন অঙ্গ দেগে নকশা করে দেয় এবং করায় এমন মহিলা, যাকাত আদায়ে অনিচ্ছুক ও টালবাহানাকারী ব্যক্তি এবং হিজরতের পর মরুবাসী হয়ে ধর্মত্যাগী ব্যক্তি কিয়ামতের দিন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুখে অভিশপ্ত।” (আহমাদ ৩৮৮১, নাসাঈ ৫১০২, ইবনে খুযাইমা ২২৫০, আবূ য়্যা’লা ৫২৪১, ইবনে হিব্বান ৩২৫২, বাইহাক্বী ১৮২৪৭, সহীহ তারগীব ৭৫৭)
আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন, “সূদখোর, সূদদাতা, সূদের কারবার জেনেও তার দুই সাক্ষ্যদাতা, কোন অঙ্গ দেগে নকশা করে দেয় এবং করায় এমন মহিলা, যাকাত আদায়ে অনিচ্ছুক ও টালবাহানাকারী ব্যক্তি এবং হিজরতের পর মরুবাসী হয়ে ধর্মত্যাগী ব্যক্তি কিয়ামতের দিন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুখে অভিশপ্ত।” (আহমাদ ৩৮৮১, নাসাঈ ৫১০২, ইবনে খুযাইমা ২২৫০, আবূ য়্যা’লা ৫২৪১, ইবনে হিব্বান ৩২৫২, বাইহাক্বী ১৮২৪৭, সহীহ তারগীব ৭৫৭)
عن مسروق قال قال عبد الله رضى الله عنه : آكل الربا ومؤكله وشاهداه إذا علماه والواشمة والمؤتشمة ولاوى الصدقة والمرتد أعرابيا بعد الهجرة ملعونون على لسان محمد صلى اللٰه عليه وسلم
হাদিস সম্ভার ৯১৯
عن أنس بن مالك قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مانع الزكاة يوم القيامة في النار
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যাকাত আদায় করে না এমন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন জাহান্নামে যাবে।” (ত্বাবারানীর সাগীর ৯৩৫, সহীহ তারগীব ৭৬২)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যাকাত আদায় করে না এমন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন জাহান্নামে যাবে।” (ত্বাবারানীর সাগীর ৯৩৫, সহীহ তারগীব ৭৬২)
عن أنس بن مالك قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مانع الزكاة يوم القيامة في النار
হাদিস সম্ভার ৯১৫
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما من صاحب ذهب ولا فضة لا يؤدي منها حقها إلا إذا كان يوم القيامة صفحت له صفائح من نار فأحمي عليها في نار جهنم فيكوى بها جنبه وجبينه وظهره كلما بردت أعيدت له في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار قيل : يا رسول الله فالإبل ؟ قال ولا صاحب إبل لا يؤدي منها حقها ومن حقها حلبها يوم وردها إلا إذا كان يوم القيامة بطح لها بقاع قرقر أوفر ما كانت لا يفقد منها فصيلا واحدا تطؤه بأخفافها وتعضه بأفواهها كلما مر عليه أولاها رد عليه أخراها في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار قيل : يا رسول الله فالبقر والغنم ؟ قال ولا صاحب بقر ولا غنم لا يؤدي منها حقها إلا إذا كان يوم القيامة بطح لها بقاع قرقر لا يفقد منها شيئا ليس فيها عقصاء ولا جلحاء ولا عضباء تنطحه بقرونها وتطؤه بأظلافها كلما مر عليه أولاها رد عليه أخراها في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار قيل : يا رسول الله فالخيل ؟ قال الخيل ثلاثة : هي لرجل وزر وهي لرجل ستر وهي لرجل أجر فأما التي هي له وزر فرجل ربطها رياء وفخرا ونواء على أهل الإسلام فهي له وزر وأما التي هي له ستر فرجل ربطها في سبيل الله ثم لم ينس حق الله في ظهورها ولا رقابها فهي له ستر وأما التي هي له أجر فرجل ربطها في سبيل الله لأهل الإسلام في مرج أو روضة فما أكلت من ذلك المرج أو الروضة من شيء إلا كتب له عدد ما أكلت حسنات وكتب له عدد أرواثها وأبوالها حسنات ولا تقطع طولها فاستنت شرفا أو شرفين إلا كتب الله له عدد آثارها وأرواثها حسنات ولا مر بها صاحبها على نهر فشربت منه ولا يريد أن يسقيها إلا كتب الله له عدد ما شربت حسنات قيل : يا رسول الله فالحمر ؟ قال ما أنزل علي في الحمر شيء إلا هذه الآية الفاذة الجامعة فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره ঃ متفق عليه وهذا لفظ مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “প্রত্যেক সোনা ও চাঁদির অধিকারী ব্যক্তি যে তার হক (যাকাত) আদায় করে না, যখন কিয়ামতের দিন আসবে, তখন তার জন্য ঐ সমুদয় সোনা-চাঁদিকে আগুনে দিয়ে বহু পাত তৈরী করা হবে। অতঃপর সেগুলোকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তার পাঁজর, কপাল ও পিঠে দাগা হবে। যখনই সে পাত ঠান্ডা হয়ে যাবে, তখনই তা পুনরায় গরম ক’রে অনুরূপ দাগার শাস্তি সেই দিনে চলতেই থাকবে, যার পরিমাণ হবে ৫০ হাজার বছরের সমান; যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দাদের মাঝে বিচার-নিষ্পত্তি শেষ করা হয়েছে। অতঃপর সে তার পথ দেখতে পাবে; হয় জান্নাতের দিকে, না হয় জাহান্নামের দিকে।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আর উটের ব্যাপারে কী হবে?’ তিনি বললেন, “প্রত্যেক উঁটের মালিকও; যে তার হক (যাকাত) আদায় করবে না---আর তার অন্যতম হক এই যে, পানি পান করাবার দিন তাকে দোহন করা (এবং সে দুধ লোকেদের দান করা)- যখন কিয়ামতের দিন আসবে, তখন তাকে এক সমতল প্রশস্ত প্রান্তরে উপুড় ক’রে ফেলা হবে। আর তার উট সকল পূর্ণ সংখ্যায় উপস্থিত হবে; ওদের মধ্যে একটি বাচ্চাকেও অনুপস্থিত দেখবে না। অতঃপর সেই উটদল তাদের খুর দ্বারা তাকে দলবে এবং মুখ দ্বারা তাকে কামড়াতে থাকবে। এইভাবে যখনই তাদের শেষ দল তাকে দলে অতিক্রম করে যাবে, তখনই পুনরায় প্রথম দলটি উপস্থিত হবে। তার এই শাস্তি সেদিন হবে, যার পরিমাণ হবে ৫০ হাজার বছরের সমান; যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দাদের মাঝে বিচার-নিষ্পত্তি শেষ করা হয়েছে। অতঃপর সে তার শেষ পরিণাম দর্শন করবে; জান্নাতের অথবা জাহান্নামের।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের ব্যাপারে কী হবে?’ তিনি বললেন, “আর প্রত্যেক গরু-ছাগলের মালিককেও; যে তার হক আদায় করবে না, যখন কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, তখন তাদের সামনে তাকে এক সমতল প্রশস্ত ময়দানে উপুড় ক’রে ফেলা হবে; যাদের একটিকেও সে অনুপস্থিত দেখবে না এবং তাদের কেউই শিং-বাঁকা, শিংবিহীন ও শিং-ভাঙ্গা থাকবে না। প্রত্যেকেই তার শিং দ্বারা তাকে আঘাত করতে থাকবে এবং খুর দ্বারা দলতে থাকবে। তাদের শেষ দলটি যখনই (ঢুস মেরে ও দলে) পার হয়ে যাবে তখনই প্রথম দলটি পুনরায় এসে উপস্থিত হবে। এই শাস্তি সেদিন হবে যার পরিমাণ ৫০ হাজার বছরের সমান; যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দাদের মাঝে বিচার-নিষ্পত্তি শেষ করা হয়েছে। অতঃপর সে তার রাস্তা ধরবে; জান্নাতের দিকে, নতুবা জাহান্নামের দিকে।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আর ঘোড়া সম্পর্কে কী হবে?’ তিনি বললেন, “ঘোড়া হল তিন প্রকারের; ঘোড়া কারো পক্ষে পাপের বোঝা, কারো পক্ষে পর্দাস্বরূপ এবং কারো জন্য সওয়াবের বিষয়। যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে পাপের বোঝা তা হল সেই ব্যক্তির ঘোড়া, যে লোকপ্রদর্শন, গর্বপ্রকাশ এবং মুসলিমদের প্রতি শত্রুতার উদ্দেশ্যে পালন করেছে। এ ঘোড়া হল তার মালিকের জন্য পাপের বোঝা। যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে পর্দাস্বরূপ, তা হল সেই ব্যক্তির ঘোড়া, যাকে সে আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের জন্য) প্রস্তুত রেখেছে। অতঃপর সে তার পিঠ ও গর্দানে আল্লাহর হক ভুলে যায়নি। তার যথার্থ প্রতিপালন করে জিহাদ করেছে। এ ঘোড়া হল তার মালিকের পক্ষে (দোযখ হতে অথবা ইজ্জত-সম্মানের জন্য) পর্দাস্বরূপ। আর যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য সওয়াবের বিষয়, তা হল সেই ঘোড়া যাকে তার মালিক মুসলিমদের (প্রতিরক্ষার) উদ্দেশ্যে কোন চারণভূমি বা বাগানে প্রস্তুত রেখেছে। তখন সে ঘোড়া ঐ চারণভূমি বা বাগানের যা কিছু খাবে, তার খাওয়া ঐ (ঘাস-পাতা) পরিমাণ সওয়াব মালিকের জন্য লিপিবদ্ধ হবে। অনুরূপ লেখা হবে তার লাদ ও পেশাব পরিমাণ সওয়াব। সে ঘোড়া যখনই তার রশি ছিঁড়ে একটি অথবা দু’টি ময়দান অতিক্রম করবে, তখনই তার পদক্ষেপ ও লাদ পরিমাণ সওয়াব তার মালিকের জন্য লিখিত হবে। অনুরূপ তার মালিক যদি তাকে কোন নদীর কিনারায় নিয়ে যায়, অতঃপর সে সেই নদী হতে পানি পান করে অথচ মালিকের পান করানোর ইচ্ছা থাকে না, তবুও আল্লাহ তা‘আলা তার পান করা পানির সমপরিমাণ সওয়াব মালিকের জন্য লিপিবদ্ধ ক’রে দেবেন।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আর গাধা সম্পর্কে কী হবে?’ তিনি বললেন, “গাধার ব্যাপারে এই ব্যাপকার্থক একক আয়াতটি ছাড়া আমার উপর অন্য কিছু অবতীর্ণ হয়নি, فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْراً يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرّاً يَرَهُ অর্থাৎ, যে ব্যক্তি অণুপরিমাণ সৎকর্ম করবে সে তাও (কিয়ামতে) প্রত্যক্ষ করবে এবং যে ব্যক্তি অণুপরিমাণ অসৎকার্য করবে সে তাও (সেদিন) প্রত্যক্ষ করবে।” (সূরা যিলযাল ৭-৮ আয়াত) (বুখারী ২৩৭১, মুসলিম ২৩৩৭, নাসাঈ, হাদীসের শব্দাবলী সহীহ মুসলিম শরীফের।) নাসাঈর এক বর্ণনায় আছে যে, “যে ব্যক্তিই তার ধন-মালের যাকাত আদায় করবে না সেই ব্যক্তিরই ধন-মাল সেদিন আগুনের সাপরূপে উপস্থিত হবে এবং তদ্দ্বারা তার কপাল, পাঁজর ও পিঠকে দাগা হবে -যে দিনটি হবে ৫০ হাজার বছরের সমান। এমন আযাব তার ততক্ষণ পর্যন্ত হতে থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত সকল বান্দার বিচার-নিষ্পত্তি শেষ না হয়েছে।”
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “প্রত্যেক সোনা ও চাঁদির অধিকারী ব্যক্তি যে তার হক (যাকাত) আদায় করে না, যখন কিয়ামতের দিন আসবে, তখন তার জন্য ঐ সমুদয় সোনা-চাঁদিকে আগুনে দিয়ে বহু পাত তৈরী করা হবে। অতঃপর সেগুলোকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তার পাঁজর, কপাল ও পিঠে দাগা হবে। যখনই সে পাত ঠান্ডা হয়ে যাবে, তখনই তা পুনরায় গরম ক’রে অনুরূপ দাগার শাস্তি সেই দিনে চলতেই থাকবে, যার পরিমাণ হবে ৫০ হাজার বছরের সমান; যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দাদের মাঝে বিচার-নিষ্পত্তি শেষ করা হয়েছে। অতঃপর সে তার পথ দেখতে পাবে; হয় জান্নাতের দিকে, না হয় জাহান্নামের দিকে।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আর উটের ব্যাপারে কী হবে?’ তিনি বললেন, “প্রত্যেক উঁটের মালিকও; যে তার হক (যাকাত) আদায় করবে না---আর তার অন্যতম হক এই যে, পানি পান করাবার দিন তাকে দোহন করা (এবং সে দুধ লোকেদের দান করা)- যখন কিয়ামতের দিন আসবে, তখন তাকে এক সমতল প্রশস্ত প্রান্তরে উপুড় ক’রে ফেলা হবে। আর তার উট সকল পূর্ণ সংখ্যায় উপস্থিত হবে; ওদের মধ্যে একটি বাচ্চাকেও অনুপস্থিত দেখবে না। অতঃপর সেই উটদল তাদের খুর দ্বারা তাকে দলবে এবং মুখ দ্বারা তাকে কামড়াতে থাকবে। এইভাবে যখনই তাদের শেষ দল তাকে দলে অতিক্রম করে যাবে, তখনই পুনরায় প্রথম দলটি উপস্থিত হবে। তার এই শাস্তি সেদিন হবে, যার পরিমাণ হবে ৫০ হাজার বছরের সমান; যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দাদের মাঝে বিচার-নিষ্পত্তি শেষ করা হয়েছে। অতঃপর সে তার শেষ পরিণাম দর্শন করবে; জান্নাতের অথবা জাহান্নামের।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের ব্যাপারে কী হবে?’ তিনি বললেন, “আর প্রত্যেক গরু-ছাগলের মালিককেও; যে তার হক আদায় করবে না, যখন কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, তখন তাদের সামনে তাকে এক সমতল প্রশস্ত ময়দানে উপুড় ক’রে ফেলা হবে; যাদের একটিকেও সে অনুপস্থিত দেখবে না এবং তাদের কেউই শিং-বাঁকা, শিংবিহীন ও শিং-ভাঙ্গা থাকবে না। প্রত্যেকেই তার শিং দ্বারা তাকে আঘাত করতে থাকবে এবং খুর দ্বারা দলতে থাকবে। তাদের শেষ দলটি যখনই (ঢুস মেরে ও দলে) পার হয়ে যাবে তখনই প্রথম দলটি পুনরায় এসে উপস্থিত হবে। এই শাস্তি সেদিন হবে যার পরিমাণ ৫০ হাজার বছরের সমান; যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দাদের মাঝে বিচার-নিষ্পত্তি শেষ করা হয়েছে। অতঃপর সে তার রাস্তা ধরবে; জান্নাতের দিকে, নতুবা জাহান্নামের দিকে।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আর ঘোড়া সম্পর্কে কী হবে?’ তিনি বললেন, “ঘোড়া হল তিন প্রকারের; ঘোড়া কারো পক্ষে পাপের বোঝা, কারো পক্ষে পর্দাস্বরূপ এবং কারো জন্য সওয়াবের বিষয়। যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে পাপের বোঝা তা হল সেই ব্যক্তির ঘোড়া, যে লোকপ্রদর্শন, গর্বপ্রকাশ এবং মুসলিমদের প্রতি শত্রুতার উদ্দেশ্যে পালন করেছে। এ ঘোড়া হল তার মালিকের জন্য পাপের বোঝা। যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে পর্দাস্বরূপ, তা হল সেই ব্যক্তির ঘোড়া, যাকে সে আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের জন্য) প্রস্তুত রেখেছে। অতঃপর সে তার পিঠ ও গর্দানে আল্লাহর হক ভুলে যায়নি। তার যথার্থ প্রতিপালন করে জিহাদ করেছে। এ ঘোড়া হল তার মালিকের পক্ষে (দোযখ হতে অথবা ইজ্জত-সম্মানের জন্য) পর্দাস্বরূপ। আর যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য সওয়াবের বিষয়, তা হল সেই ঘোড়া যাকে তার মালিক মুসলিমদের (প্রতিরক্ষার) উদ্দেশ্যে কোন চারণভূমি বা বাগানে প্রস্তুত রেখেছে। তখন সে ঘোড়া ঐ চারণভূমি বা বাগানের যা কিছু খাবে, তার খাওয়া ঐ (ঘাস-পাতা) পরিমাণ সওয়াব মালিকের জন্য লিপিবদ্ধ হবে। অনুরূপ লেখা হবে তার লাদ ও পেশাব পরিমাণ সওয়াব। সে ঘোড়া যখনই তার রশি ছিঁড়ে একটি অথবা দু’টি ময়দান অতিক্রম করবে, তখনই তার পদক্ষেপ ও লাদ পরিমাণ সওয়াব তার মালিকের জন্য লিখিত হবে। অনুরূপ তার মালিক যদি তাকে কোন নদীর কিনারায় নিয়ে যায়, অতঃপর সে সেই নদী হতে পানি পান করে অথচ মালিকের পান করানোর ইচ্ছা থাকে না, তবুও আল্লাহ তা‘আলা তার পান করা পানির সমপরিমাণ সওয়াব মালিকের জন্য লিপিবদ্ধ ক’রে দেবেন।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আর গাধা সম্পর্কে কী হবে?’ তিনি বললেন, “গাধার ব্যাপারে এই ব্যাপকার্থক একক আয়াতটি ছাড়া আমার উপর অন্য কিছু অবতীর্ণ হয়নি, فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْراً يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرّاً يَرَهُ অর্থাৎ, যে ব্যক্তি অণুপরিমাণ সৎকর্ম করবে সে তাও (কিয়ামতে) প্রত্যক্ষ করবে এবং যে ব্যক্তি অণুপরিমাণ অসৎকার্য করবে সে তাও (সেদিন) প্রত্যক্ষ করবে।” (সূরা যিলযাল ৭-৮ আয়াত) (বুখারী ২৩৭১, মুসলিম ২৩৩৭, নাসাঈ, হাদীসের শব্দাবলী সহীহ মুসলিম শরীফের।) নাসাঈর এক বর্ণনায় আছে যে, “যে ব্যক্তিই তার ধন-মালের যাকাত আদায় করবে না সেই ব্যক্তিরই ধন-মাল সেদিন আগুনের সাপরূপে উপস্থিত হবে এবং তদ্দ্বারা তার কপাল, পাঁজর ও পিঠকে দাগা হবে -যে দিনটি হবে ৫০ হাজার বছরের সমান। এমন আযাব তার ততক্ষণ পর্যন্ত হতে থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত সকল বান্দার বিচার-নিষ্পত্তি শেষ না হয়েছে।”
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما من صاحب ذهب ولا فضة لا يؤدي منها حقها إلا إذا كان يوم القيامة صفحت له صفائح من نار فأحمي عليها في نار جهنم فيكوى بها جنبه وجبينه وظهره كلما بردت أعيدت له في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار قيل : يا رسول الله فالإبل ؟ قال ولا صاحب إبل لا يؤدي منها حقها ومن حقها حلبها يوم وردها إلا إذا كان يوم القيامة بطح لها بقاع قرقر أوفر ما كانت لا يفقد منها فصيلا واحدا تطؤه بأخفافها وتعضه بأفواهها كلما مر عليه أولاها رد عليه أخراها في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار قيل : يا رسول الله فالبقر والغنم ؟ قال ولا صاحب بقر ولا غنم لا يؤدي منها حقها إلا إذا كان يوم القيامة بطح لها بقاع قرقر لا يفقد منها شيئا ليس فيها عقصاء ولا جلحاء ولا عضباء تنطحه بقرونها وتطؤه بأظلافها كلما مر عليه أولاها رد عليه أخراها في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار قيل : يا رسول الله فالخيل ؟ قال الخيل ثلاثة : هي لرجل وزر وهي لرجل ستر وهي لرجل أجر فأما التي هي له وزر فرجل ربطها رياء وفخرا ونواء على أهل الإسلام فهي له وزر وأما التي هي له ستر فرجل ربطها في سبيل الله ثم لم ينس حق الله في ظهورها ولا رقابها فهي له ستر وأما التي هي له أجر فرجل ربطها في سبيل الله لأهل الإسلام في مرج أو روضة فما أكلت من ذلك المرج أو الروضة من شيء إلا كتب له عدد ما أكلت حسنات وكتب له عدد أرواثها وأبوالها حسنات ولا تقطع طولها فاستنت شرفا أو شرفين إلا كتب الله له عدد آثارها وأرواثها حسنات ولا مر بها صاحبها على نهر فشربت منه ولا يريد أن يسقيها إلا كتب الله له عدد ما شربت حسنات قيل : يا رسول الله فالحمر ؟ قال ما أنزل علي في الحمر شيء إلا هذه الآية الفاذة الجامعة فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره ঃ متفق عليه وهذا لفظ مسلم
হাদিস সম্ভার ৯২০
عن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ্রما منع قوم الزكاة إلا ابتلاهم الله بالسنينগ্ধ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে জাতিই যাকাত প্রদানে বিরত থেকেছে, সে জাতিকেই আল্লাহ দুর্ভিক্ষ দ্বারা আক্রান্ত করেছেন।” (ত্বাবারানীর আউসাত্ব ৪৫৭৭, ৬৭৮৮, হাকেম ২৫৭৭, বাইহাকী ৬৬২৫ অনুরূপ, সহীহ তারগীব ৭৬৩)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে জাতিই যাকাত প্রদানে বিরত থেকেছে, সে জাতিকেই আল্লাহ দুর্ভিক্ষ দ্বারা আক্রান্ত করেছেন।” (ত্বাবারানীর আউসাত্ব ৪৫৭৭, ৬৭৮৮, হাকেম ২৫৭৭, বাইহাকী ৬৬২৫ অনুরূপ, সহীহ তারগীব ৭৬৩)
عن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ্রما منع قوم الزكاة إلا ابتلاهم الله بالسنينগ্ধ
হাদিস সম্ভার ৯২১
عن عبد الله بن عمر قال: أقبل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا معشر المهاجرين خمس إذا ابتليتم بهن وأعوذ بالله أن تدركوهن لم تظهر الفاحشة فى قوم قط حتى يعلنوا بها إلا فشا فيهم الطاعون والأوجاع التى لم تكن مضت فى أسلافهم الذين مضوا ولم ينقصوا المكيال والميزان إلا أخذوا بالسنين وشدة المؤنة وجور السلطان عليهم ولم يمنعوا زكاة أموالهم إلا منعوا القطر من السماء ولولا البهائم لم يمطروا ولم ينقضوا عهد الله وعهد رسوله إلا سلط الله عليهم عدوا من غيرهم فأخذوا بعض ما فى أيديهم وما لم تحكم أئمتهم بكتاب الله ويتخيروا مما أنزل الله إلا جعل الله بأسهم بينهم
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “হে মুহাজিরদল! পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে যাতে তোমরা লিপ্ত হয়ে পড়লে (উপযুক্ত শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে)। আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, যাতে তোমরা তা প্রত্যক্ষ না কর। যখনই কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ্যভাবে ব্যাপক হবে, তখনই সেই জাতির মধ্যে প্লেগ এবং এমন মহামারী ব্যাপক হবে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না। যে জাতিই মাপ ও ওজনে কম দেবে, সে জাতিই দুর্ভিক্ষ, কঠিন খাদ্য-সংকট এবং শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার হবে। যে জাতিই তার মালের যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সে জাতির জন্যই আকাশ হতে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদি অন্যান্য প্রাণীকুল না থাকত, তাহলে তাদের জন্য আদৌ বৃষ্টি হত না। যে জাতি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সে জাতির উপরেই তাদের বিজাতীয় শত্রুদলকে ক্ষমতাসীন করা হবে; যারা তাদের মালিকানা-ভুক্ত বহু ধন-সম্পদ নিজেদের কুক্ষিগত করবে। আর যে জাতির শাসকগোষ্ঠী যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর কিতাব (বিধান) অনুযায়ী দেশ শাসন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাদের মাঝে গৃহদ্বন্দ্ব অবস্থায়ী রাখবেন।” (বাইহাকী, ইবনে মাজাহ ৪০১৯, সহীহ তারগীব ৭৬৪)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “হে মুহাজিরদল! পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে যাতে তোমরা লিপ্ত হয়ে পড়লে (উপযুক্ত শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে)। আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, যাতে তোমরা তা প্রত্যক্ষ না কর। যখনই কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ্যভাবে ব্যাপক হবে, তখনই সেই জাতির মধ্যে প্লেগ এবং এমন মহামারী ব্যাপক হবে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না। যে জাতিই মাপ ও ওজনে কম দেবে, সে জাতিই দুর্ভিক্ষ, কঠিন খাদ্য-সংকট এবং শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার হবে। যে জাতিই তার মালের যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সে জাতির জন্যই আকাশ হতে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদি অন্যান্য প্রাণীকুল না থাকত, তাহলে তাদের জন্য আদৌ বৃষ্টি হত না। যে জাতি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সে জাতির উপরেই তাদের বিজাতীয় শত্রুদলকে ক্ষমতাসীন করা হবে; যারা তাদের মালিকানা-ভুক্ত বহু ধন-সম্পদ নিজেদের কুক্ষিগত করবে। আর যে জাতির শাসকগোষ্ঠী যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর কিতাব (বিধান) অনুযায়ী দেশ শাসন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাদের মাঝে গৃহদ্বন্দ্ব অবস্থায়ী রাখবেন।” (বাইহাকী, ইবনে মাজাহ ৪০১৯, সহীহ তারগীব ৭৬৪)
عن عبد الله بن عمر قال: أقبل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا معشر المهاجرين خمس إذا ابتليتم بهن وأعوذ بالله أن تدركوهن لم تظهر الفاحشة فى قوم قط حتى يعلنوا بها إلا فشا فيهم الطاعون والأوجاع التى لم تكن مضت فى أسلافهم الذين مضوا ولم ينقصوا المكيال والميزان إلا أخذوا بالسنين وشدة المؤنة وجور السلطان عليهم ولم يمنعوا زكاة أموالهم إلا منعوا القطر من السماء ولولا البهائم لم يمطروا ولم ينقضوا عهد الله وعهد رسوله إلا سلط الله عليهم عدوا من غيرهم فأخذوا بعض ما فى أيديهم وما لم تحكم أئمتهم بكتاب الله ويتخيروا مما أنزل الله إلا جعل الله بأسهم بينهم
হাদিস সম্ভার ৯২২
عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما قال: قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم خمس بخمس) قالوا: يا رسول الله وما خمس بخمس؟ قال ما نقض قوم العهد إلا سلط عليهم عدوهم وما حكموا بغير ما أنزل الله إلا فشا فيهم الفقر ولا ظهرت فيهم الفاحشة إلا فشا فيهم الموت ولا طففوا المكيال إلا منعوا النبات وأخذوا بالسنين ولا منعوا الزكاة إلا حبس عنهم القطر
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি কী কী?’ তিনি বললেন, “যে জাতিই (আল্লাহর) প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সেই জাতির উপরেই তাদের শত্রুকে ক্ষমতাসীন করা হবে। যে জাতিই আল্লাহর অবতীর্ণকৃত সংবিধান ছাড়া অন্য দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সেই জাতির মাঝেই দরিদ্রতা ব্যাপক হবে। যে জাতির মাঝে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ পাবে, সে জাতির মাঝেই মৃত্যু ব্যাপক হবে। যে জাতিই যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সেই জাতির জন্যই বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে জাতি দাঁড়ি-মারা শুরু করবে, সে জাতি ফসল থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হবে।” (ত্বাবারানীর কাবীর ১০৮৩০, সহীহ তারগীব ৭৬৫)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি কী কী?’ তিনি বললেন, “যে জাতিই (আল্লাহর) প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সেই জাতির উপরেই তাদের শত্রুকে ক্ষমতাসীন করা হবে। যে জাতিই আল্লাহর অবতীর্ণকৃত সংবিধান ছাড়া অন্য দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সেই জাতির মাঝেই দরিদ্রতা ব্যাপক হবে। যে জাতির মাঝে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ পাবে, সে জাতির মাঝেই মৃত্যু ব্যাপক হবে। যে জাতিই যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সেই জাতির জন্যই বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে জাতি দাঁড়ি-মারা শুরু করবে, সে জাতি ফসল থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হবে।” (ত্বাবারানীর কাবীর ১০৮৩০, সহীহ তারগীব ৭৬৫)
عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما قال: قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم خمس بخمس) قالوا: يا رسول الله وما خمس بخمس؟ قال ما نقض قوم العهد إلا سلط عليهم عدوهم وما حكموا بغير ما أنزل الله إلا فشا فيهم الفقر ولا ظهرت فيهم الفاحشة إلا فشا فيهم الموت ولا طففوا المكيال إلا منعوا النبات وأخذوا بالسنين ولا منعوا الزكاة إلا حبس عنهم القطر
হাদিস সম্ভার ৯২৩
عن بريدة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما يخرج رجل شيئا من الصدقة حتى يفك عنها لحيي سبعين شيطانا
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন ব্যক্তি কিছু সাদকা বের করে, তখনই সে ৭০টি শয়তানের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেয়।” (আহমাদ ২২৯৬২, ইবনে খুযাইমাহ ২৪৫৭, হাকেম ১৫২১, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ১০৩৪, বাইহাক্বী ৮০৭১, সিলসিলাহ সহীহাহ ১২৬৮) অর্থাৎ, যাকাত ও সাদকা বের করার সময় মানুষ শয়তান কর্তৃক চরমভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন ব্যক্তি কিছু সাদকা বের করে, তখনই সে ৭০টি শয়তানের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেয়।” (আহমাদ ২২৯৬২, ইবনে খুযাইমাহ ২৪৫৭, হাকেম ১৫২১, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ১০৩৪, বাইহাক্বী ৮০৭১, সিলসিলাহ সহীহাহ ১২৬৮) অর্থাৎ, যাকাত ও সাদকা বের করার সময় মানুষ শয়তান কর্তৃক চরমভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
عن بريدة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما يخرج رجل شيئا من الصدقة حتى يفك عنها لحيي سبعين شيطانا
হাদিস সম্ভার > দুধ খেতে গাই ধার দেওয়া
হাদিস সম্ভার ৯৫৩
عن أبى هريرة يبلغ به ألا رجل يمنح أهل بيت ناقة تغدو بعس وتروح بعس إن أجرها لعظيم
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “শোনো! কোন ব্যক্তি কোন পরিবারকে এমন দুধাল পশু দুধ খাওয়ার জন্য (কিছুকাল অবধি) ধার দেয়; যে সকালে এক বড় পাত্রপূর্ণ দুধ দেয় এবং সন্ধ্যায়ও এক বড় পাত্রপূর্ণ দুধ দেয় তবে তার সওয়াব অবশ্যই খুব বড়।” (মুসলিম ২৪০৪)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “শোনো! কোন ব্যক্তি কোন পরিবারকে এমন দুধাল পশু দুধ খাওয়ার জন্য (কিছুকাল অবধি) ধার দেয়; যে সকালে এক বড় পাত্রপূর্ণ দুধ দেয় এবং সন্ধ্যায়ও এক বড় পাত্রপূর্ণ দুধ দেয় তবে তার সওয়াব অবশ্যই খুব বড়।” (মুসলিম ২৪০৪)
عن أبى هريرة يبلغ به ألا رجل يمنح أهل بيت ناقة تغدو بعس وتروح بعس إن أجرها لعظيم
হাদিস সম্ভার ৯৫৪
عن أبى هريرة عن النبى صلى اللٰه عليه وسلم قال من منح منيحة غدت بصدقة وراحت بصدقة صبوحها وغبوقها
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন “যে কোন দুগ্ধবতী পশু কাউকে দুধ খেতে ধার দেয়, তবে ঐ পশু (তার জন্য) সকালে সদকাহ্র সওয়াব অর্জন করে দেয় এবং সন্ধ্যাতেও সদকাহ্র সওয়াব অর্জন করে দেয়; সকালে সকালের পানীয় দুগ্ধ দেওয়ার মাধ্যমে এবং সন্ধ্যায় সন্ধ্যার পানীয় দুগ্ধ দেওয়ার মাধ্যমে (ঐ সদকাহ্র সওয়াব লাভ হয়)।” (মুসলিম ২৪০৫)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন “যে কোন দুগ্ধবতী পশু কাউকে দুধ খেতে ধার দেয়, তবে ঐ পশু (তার জন্য) সকালে সদকাহ্র সওয়াব অর্জন করে দেয় এবং সন্ধ্যাতেও সদকাহ্র সওয়াব অর্জন করে দেয়; সকালে সকালের পানীয় দুগ্ধ দেওয়ার মাধ্যমে এবং সন্ধ্যায় সন্ধ্যার পানীয় দুগ্ধ দেওয়ার মাধ্যমে (ঐ সদকাহ্র সওয়াব লাভ হয়)।” (মুসলিম ২৪০৫)
عن أبى هريرة عن النبى صلى اللٰه عليه وسلم قال من منح منيحة غدت بصدقة وراحت بصدقة صبوحها وغبوقها
হাদিস সম্ভার > অন্নদান
হাদিস সম্ভার ৯৫৫
عن عبد الله بن عمرو أن رجلا سأل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أى الإسلام خير قال تطعم الطعام وتقرأ السلام على من عرفت ومن لم تعرف
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে প্রশ্ন করল যে, ইসলামের কোন্ কাজ সবচেয়ে উত্তম? উত্তরে তিনি বললেন, “খাদ্য দান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত (সকল মুসলিম) কে সালাম দেওয়া।” (বুখারী ১২, ২৮, ৬২৩৬ মুসলিম ১৬৯, আবূ দাঊদ ৫১৯৬, নাসাঈ ৫০০০, ইবনে মাজাহ ৩২৫৩)
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে প্রশ্ন করল যে, ইসলামের কোন্ কাজ সবচেয়ে উত্তম? উত্তরে তিনি বললেন, “খাদ্য দান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত (সকল মুসলিম) কে সালাম দেওয়া।” (বুখারী ১২, ২৮, ৬২৩৬ মুসলিম ১৬৯, আবূ দাঊদ ৫১৯৬, নাসাঈ ৫০০০, ইবনে মাজাহ ৩২৫৩)
عن عبد الله بن عمرو أن رجلا سأل رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أى الإسلام خير قال تطعم الطعام وتقرأ السلام على من عرفت ومن لم تعرف
হাদিস সম্ভার ৯৫৬
عن صهيب قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم خياركم من أطعم الطعام
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে অন্নদান করে।” (আবুশ শায়খ, সহীহ তারগীব ৯৪৮)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে অন্নদান করে।” (আবুশ শায়খ, সহীহ তারগীব ৯৪৮)
عن صهيب قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم خياركم من أطعم الطعام
হাদিস সম্ভার ৯৫৭
عن البراء بن عازب قال جاء أعرابي إلى النبي صلى اللٰه عليه وسلم فقال يا رسول الله علمني عملا يدخلني الجنة فقال لئن كنت أقصرت الخطبة لقد أعرضت المسألة أعتق النسمة وفك الرقبة فإن لم تطق ذلك فأطعم الجائع واسق الظمآن
এক মরুবাসী আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বলল যে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তিনি বললেন, “বক্তব্য ছোট হলেও, বিষয়টি তুমি (স্পষ্ট) পেশ করে ফেলেছ। তুমি ক্রীতদাস স্বাধীন কর। তাতে সক্ষম না হলে ক্ষুধার্তকে অন্ন এবং তৃষ্ণার্তকে পানীয় দান কর---।” (আহমাদ ১৯৬৪৭, বুখারীর আদব ৬৯, ইবনে হিব্বান ৩৭৪, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৪৩৩৫, সহীহ তারগীব ৯৫১)
এক মরুবাসী আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বলল যে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তিনি বললেন, “বক্তব্য ছোট হলেও, বিষয়টি তুমি (স্পষ্ট) পেশ করে ফেলেছ। তুমি ক্রীতদাস স্বাধীন কর। তাতে সক্ষম না হলে ক্ষুধার্তকে অন্ন এবং তৃষ্ণার্তকে পানীয় দান কর---।” (আহমাদ ১৯৬৪৭, বুখারীর আদব ৬৯, ইবনে হিব্বান ৩৭৪, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৪৩৩৫, সহীহ তারগীব ৯৫১)
عن البراء بن عازب قال جاء أعرابي إلى النبي صلى اللٰه عليه وسلم فقال يا رسول الله علمني عملا يدخلني الجنة فقال لئن كنت أقصرت الخطبة لقد أعرضت المسألة أعتق النسمة وفك الرقبة فإن لم تطق ذلك فأطعم الجائع واسق الظمآن
হাদিস সম্ভার ৯৫৮
عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أحب الأعمال إلى الله عز و جل سرور تدخله على مسلم أو تكشف عنه كربة أو تطرد عنه جوعا أو تقضي عنه دنيا
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল হল, মুসলিমের হৃদয়কে আনন্দিত করা, তার কষ্ট দূর করে দেওয়া, তার ক্ষুধা দূর করা, তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া, (এবং পরিধানের কাপড় দান করা)। (আবুশ শায়খ, সহীহ তারগীব ৯৫৪-৯৫৫)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল হল, মুসলিমের হৃদয়কে আনন্দিত করা, তার কষ্ট দূর করে দেওয়া, তার ক্ষুধা দূর করা, তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া, (এবং পরিধানের কাপড় দান করা)। (আবুশ শায়খ, সহীহ তারগীব ৯৫৪-৯৫৫)
عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أحب الأعمال إلى الله عز و جل سرور تدخله على مسلم أو تكشف عنه كربة أو تطرد عنه جوعا أو تقضي عنه دنيا
হাদিস সম্ভার ৯৬০
عن عبد الله بن عمرو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن في الجنة غرفة يرى ظاهرها من باطنها وباطنها من ظاهرها فقال أبو موسى الأشعري : لمن هي يا رسول الله ؟ قال لمن ألان الكلام وأطعم الطعام وبات لله قائما والناس نيام
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “জান্নাতে এমন এক কক্ষ আছে যার বাহিরের অংশ ভিতর হতে এবং ভিতরের অংশ বাহির হতে পরিদৃষ্ট হবে।” এ কথা শুনে আবু মূসা আশআরী (রাঃ) বললেন, ‘সে কক্ষ কার জন্য হবে হে আল্লাহর রসূল?’ তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি উত্তম (ও মিষ্টি) কথা বলে, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান করে, আর লোকেরা যখন নিদ্রাভিভূত থাকে, তখন যে নামায পড়ে রাত্রি অতিবাহিত করে।” (আহমাদ ৬৬১৫, ত্বাবারানী, হাকেম ১২০০, সহীহ তারগীব ৬১১)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “জান্নাতে এমন এক কক্ষ আছে যার বাহিরের অংশ ভিতর হতে এবং ভিতরের অংশ বাহির হতে পরিদৃষ্ট হবে।” এ কথা শুনে আবু মূসা আশআরী (রাঃ) বললেন, ‘সে কক্ষ কার জন্য হবে হে আল্লাহর রসূল?’ তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি উত্তম (ও মিষ্টি) কথা বলে, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান করে, আর লোকেরা যখন নিদ্রাভিভূত থাকে, তখন যে নামায পড়ে রাত্রি অতিবাহিত করে।” (আহমাদ ৬৬১৫, ত্বাবারানী, হাকেম ১২০০, সহীহ তারগীব ৬১১)
عن عبد الله بن عمرو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن في الجنة غرفة يرى ظاهرها من باطنها وباطنها من ظاهرها فقال أبو موسى الأشعري : لمن هي يا رسول الله ؟ قال لمن ألان الكلام وأطعم الطعام وبات لله قائما والناس نيام
হাদিস সম্ভার ৯৫৯
عن عبد الله بن سلام قال: قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا أيها الناس أفشوا السلام وأطعموا الطعام وصلوا الأرحام وصلوا بالليل والناس نيام تدخلوا الجنة بسلام
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী হতে সর্বপ্রথম যা শুনেছি তা হল, “হে মানুষ! তোমরা সালাম প্রচার কর, অন্নদান কর, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুন্ন রাখ এবং লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তোমরা নামায পড়। এতে তোমরা নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” (আহমাদ ২৩৭৮৪, তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনে মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১, হাকেম ৪২৮৩, সহীহ তারগীব ৬১৬)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী হতে সর্বপ্রথম যা শুনেছি তা হল, “হে মানুষ! তোমরা সালাম প্রচার কর, অন্নদান কর, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুন্ন রাখ এবং লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তোমরা নামায পড়। এতে তোমরা নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” (আহমাদ ২৩৭৮৪, তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনে মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১, হাকেম ৪২৮৩, সহীহ তারগীব ৬১৬)
عن عبد الله بن سلام قال: قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا أيها الناس أفشوا السلام وأطعموا الطعام وصلوا الأرحام وصلوا بالليل والناس نيام تدخلوا الجنة بسلام
হাদিস সম্ভার > সাদকা-এ-জারিয়াহ
হাদিস সম্ভার ৯৬১
عن أبى هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আদম সন্তান মারা গেলে তার সমস্ত আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অবশ্য তিনটি আমল বিচ্ছিন্ন হয় না; সদকাহ জারিয়াহ, উপকারী ইল্ম, অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দু‘আ করে থাকে।” (মুসলিম ৪৩১০, আবূ দাঊদ ২৮৮২ প্রমুখ)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আদম সন্তান মারা গেলে তার সমস্ত আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অবশ্য তিনটি আমল বিচ্ছিন্ন হয় না; সদকাহ জারিয়াহ, উপকারী ইল্ম, অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দু‘আ করে থাকে।” (মুসলিম ৪৩১০, আবূ দাঊদ ২৮৮২ প্রমুখ)
عن أبى هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له
হাদিস সম্ভার ৯৬২
عن أنس قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما من مسلم يغرس غرسا أو يزرع زرعا فيأكل منه طير أو إنسان أو بهيمة إلا كان له به صدقة
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে কোন মুসলিম যখন কোন গাছ লাগায় অথবা ফসল বোনে অতঃপর তা হতে কোন পাখী, মানুষ অথবা পশু (তার ফল ইত্যাদি) খায়, তখন ঐ খাওয়া ফল-ফসল তার জন্য সদকাহ স্বরূপ হয়।” (বুখারী ২৩২০, মুসলিম ৪০৫৫)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে কোন মুসলিম যখন কোন গাছ লাগায় অথবা ফসল বোনে অতঃপর তা হতে কোন পাখী, মানুষ অথবা পশু (তার ফল ইত্যাদি) খায়, তখন ঐ খাওয়া ফল-ফসল তার জন্য সদকাহ স্বরূপ হয়।” (বুখারী ২৩২০, মুসলিম ৪০৫৫)
عن أنس قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما من مسلم يغرس غرسا أو يزرع زرعا فيأكل منه طير أو إنسان أو بهيمة إلا كان له به صدقة
হাদিস সম্ভার ৯৬৩
عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم (إن قامت الساعة وبيد أحدكم فسيلة فإن استطاع أن لا تقوم حتى يغرسها فليفعل
আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “কিয়ামত কায়েম হয়ে গেলেও তোমাদের কারো হাতে যদি কোন গাছের চারা থাকে এবং সে তা এর আগেই রোপন করতে সক্ষম হয়, তবে যেন তা রোপন করে ফেলে।” (আহমাদ ১২৯৮১, বুখারীর আদাব ৪৭৯, বায্যার ৭৪০৮, সহীহুল জামে’ ১৪২৪)
আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “কিয়ামত কায়েম হয়ে গেলেও তোমাদের কারো হাতে যদি কোন গাছের চারা থাকে এবং সে তা এর আগেই রোপন করতে সক্ষম হয়, তবে যেন তা রোপন করে ফেলে।” (আহমাদ ১২৯৮১, বুখারীর আদাব ৪৭৯, বায্যার ৭৪০৮, সহীহুল জামে’ ১৪২৪)
عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم (إن قامت الساعة وبيد أحدكم فسيلة فإن استطاع أن لا تقوم حتى يغرسها فليفعل
হাদিস সম্ভার ৯৬৫
عن سعد بن عبادة أنه قال يا رسول الله إن أم سعد ماتت فأى الصدقة أفضل قال الماء قال فحفر بئرا وقال هذه لأم سعد
‘তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! উম্মে সা’দ (আমার মা) মারা গেছে। অতএব কোন্ দান সবচেয়ে উত্তম হবে?’ তিনি বললেন, “পানি।” বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং সা’দ (রাঃ) একটি কুয়া খনন করে বললেন, ‘এটি উম্মে সা’দের।’ (আবু দাঊদ ১৬৮৩)
‘তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! উম্মে সা’দ (আমার মা) মারা গেছে। অতএব কোন্ দান সবচেয়ে উত্তম হবে?’ তিনি বললেন, “পানি।” বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং সা’দ (রাঃ) একটি কুয়া খনন করে বললেন, ‘এটি উম্মে সা’দের।’ (আবু দাঊদ ১৬৮৩)
عن سعد بن عبادة أنه قال يا رسول الله إن أم سعد ماتت فأى الصدقة أفضل قال الماء قال فحفر بئرا وقال هذه لأم سعد
হাদিস সম্ভার ৯৬৬
عن سراقة بن جعشم قال سألت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عن الضالة من الإبل تغشى حياضي هل لي من أجر أسقيها؟ قال نعم من كل ذات كبد حراء أجر
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সেই হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা আমার জলাশয়ে অবতরণ করে; যে জলাশয় আমি আমার নিজ উটের জন্য তৈরী করে রেখেছি। (ঐ) উটকে পানি পান করালে আমি সওয়াবের অধিকারী হব কি? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, প্রত্যেক পিপাসার্ত প্রাণী(কে পানি পান করানো) তে সওয়াব আছে।” (আহমাদ ১৭৫৮১, ১৭৫৮৪, ইবনে মাজাহ ৩৬৮৬)
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সেই হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা আমার জলাশয়ে অবতরণ করে; যে জলাশয় আমি আমার নিজ উটের জন্য তৈরী করে রেখেছি। (ঐ) উটকে পানি পান করালে আমি সওয়াবের অধিকারী হব কি? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, প্রত্যেক পিপাসার্ত প্রাণী(কে পানি পান করানো) তে সওয়াব আছে।” (আহমাদ ১৭৫৮১, ১৭৫৮৪, ইবনে মাজাহ ৩৬৮৬)
عن سراقة بن جعشم قال سألت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عن الضالة من الإبل تغشى حياضي هل لي من أجر أسقيها؟ قال نعم من كل ذات كبد حراء أجر
হাদিস সম্ভার ৯৬৪
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن مما يلحق المؤمن من عمله وحسناته بعد موته علما علمه ونشره وولدا صالحا تركه ومصحفا ورثه أو مسجدا بناه أو بيتا لابن السبيل بناه أو نهرا أجراه أو صدقة أخرجها من ماله في صحته وحياته يلحقه من بعد موته
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও পুণ্যকর্মসমূহ হতে নিশ্চিতভাবে যা এসে তার সাথে মিলিত হয় তা হল; সেই ইল্ম, যা সে শিক্ষা করে প্রচার করেছে অথবা নেক সন্তান যাকে রেখে সে মারা গেছে, অথবা কুরআন শরীফ যা সে মীরাসরূপে ছেড়ে গেছে, অথবা মসজিদ যা সে নিজে নির্মাণ করে গেছে, অথবা মুসাফিরখানা যা সে মুসাফিরদের সুবিধার্থে নির্মাণ করে গেছে, অথবা পানির নালা যা সে (সেচ ইত্যাদির উদ্দেশ্যে) প্রবাহিত করে গেছে, অথবা সদকাহ যা সে নিজের মাল থেকে তার সুস্থ ও জীবিতাবস্থায় বের (দান) করে গেছে; এসব কর্মের সওয়াব তার মৃত্যুর পরও তার সাথে এসে মিলিত হবে।” (ইবনে মাজাহ ২৪২, বাইহাকী, ইবনে খুযাইমাহ ২৪৯০ ভিন্ন শব্দে, সহীহ তারগীব ৭৭, ১১২, ২৭৫)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও পুণ্যকর্মসমূহ হতে নিশ্চিতভাবে যা এসে তার সাথে মিলিত হয় তা হল; সেই ইল্ম, যা সে শিক্ষা করে প্রচার করেছে অথবা নেক সন্তান যাকে রেখে সে মারা গেছে, অথবা কুরআন শরীফ যা সে মীরাসরূপে ছেড়ে গেছে, অথবা মসজিদ যা সে নিজে নির্মাণ করে গেছে, অথবা মুসাফিরখানা যা সে মুসাফিরদের সুবিধার্থে নির্মাণ করে গেছে, অথবা পানির নালা যা সে (সেচ ইত্যাদির উদ্দেশ্যে) প্রবাহিত করে গেছে, অথবা সদকাহ যা সে নিজের মাল থেকে তার সুস্থ ও জীবিতাবস্থায় বের (দান) করে গেছে; এসব কর্মের সওয়াব তার মৃত্যুর পরও তার সাথে এসে মিলিত হবে।” (ইবনে মাজাহ ২৪২, বাইহাকী, ইবনে খুযাইমাহ ২৪৯০ ভিন্ন শব্দে, সহীহ তারগীব ৭৭, ১১২, ২৭৫)
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن مما يلحق المؤمن من عمله وحسناته بعد موته علما علمه ونشره وولدا صالحا تركه ومصحفا ورثه أو مسجدا بناه أو بيتا لابن السبيل بناه أو نهرا أجراه أو صدقة أخرجها من ماله في صحته وحياته يلحقه من بعد موته
হাদিস সম্ভার ৯৬৭
عن أبي هريرة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا ينظر إليهم رجل حلف على سلعة لقد أعطى بها أكثر مما أعطى وهو كاذب ورجل حلف على يمين كاذبة بعد العصر ليقتطع بها مال امرئ مسلم ورجل منع فضل ماء فيقول الله يوم القيامة اليوم أمنعك فضلي كما منعت فضل ما لم تعمل يداك
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। তাদের দিকে তাকিয়ে দেখবেন না, তাদেরকে পাপমুক্ত করবেন না এবং তাদের জন্য হবে কঠিন আযাব। ওদের মধ্যে একজন হল সেই ব্যক্তি, যার নিকট গাছ-পানিহীন প্রান্তরে উদ্বৃত্ত পানি থাকে অথচ সে মুসাফিরকে তা দান করে না।” (এক বর্ণনায় এ কথা অতিরিক্ত আছে যে, আল্লাহ তাকে বলবেন, ‘আজ আমি নিজ অনুগ্রহ তোমাকে দান করব না, যেমন তুমি তোমার উদ্বৃত্ত জিনিস দান করনি; যা তোমার মেহনতের উপার্জনও ছিল না। (বুখারী ২৩৬৯, ৭৪৪৬, মুসলিম ৩১০ আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। তাদের দিকে তাকিয়ে দেখবেন না, তাদেরকে পাপমুক্ত করবেন না এবং তাদের জন্য হবে কঠিন আযাব। ওদের মধ্যে একজন হল সেই ব্যক্তি, যার নিকট গাছ-পানিহীন প্রান্তরে উদ্বৃত্ত পানি থাকে অথচ সে মুসাফিরকে তা দান করে না।” (এক বর্ণনায় এ কথা অতিরিক্ত আছে যে, আল্লাহ তাকে বলবেন, ‘আজ আমি নিজ অনুগ্রহ তোমাকে দান করব না, যেমন তুমি তোমার উদ্বৃত্ত জিনিস দান করনি; যা তোমার মেহনতের উপার্জনও ছিল না। (বুখারী ২৩৬৯, ৭৪৪৬, মুসলিম ৩১০ আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
عن أبي هريرة عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا ينظر إليهم رجل حلف على سلعة لقد أعطى بها أكثر مما أعطى وهو كاذب ورجل حلف على يمين كاذبة بعد العصر ليقتطع بها مال امرئ مسلم ورجل منع فضل ماء فيقول الله يوم القيامة اليوم أمنعك فضلي كما منعت فضل ما لم تعمل يداك