সহিহ ফাযায়েলে আমল > ইসলাম গ্রহণে অতীতের সৎ ‘আমল নষ্ট হয় না

সহিহ ফাযায়েলে আমল ২৯

আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, যে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন, জাহিলী যুগে ভাল কাজ মনে করে আমি যে দান-খয়রাত করেছি, দাস মুক্ত করেছি বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেছি, তার জন্য কোন প্রতিদান পাওয়া যাবে কি? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন : তুমি অতীত জীবনে যে সব সাওয়াবের কাজ করেছো তা সহকারেই তুমি মুসলিম হয়েছো। [১]

আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, যে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন, জাহিলী যুগে ভাল কাজ মনে করে আমি যে দান-খয়রাত করেছি, দাস মুক্ত করেছি বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেছি, তার জন্য কোন প্রতিদান পাওয়া যাবে কি? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন : তুমি অতীত জীবনে যে সব সাওয়াবের কাজ করেছো তা সহকারেই তুমি মুসলিম হয়েছো। [১]


সহিহ ফাযায়েলে আমল > ইসলাম গ্রহণ নিরাপত্তার বিধান দেয়

সহিহ ফাযায়েলে আমল ৩১

“আল্লাহর শপথ! আমি জাহিলী যুগে যেসব নেক কাজ করেছি তা কখনো পরিত্যাগ করবো না, বরং ইসলামের মধ্যেও অনুরূপ করবো।” (সহীহ মুসলিম হা/৩৪০)

“আল্লাহর শপথ! আমি জাহিলী যুগে যেসব নেক কাজ করেছি তা কখনো পরিত্যাগ করবো না, বরং ইসলামের মধ্যেও অনুরূপ করবো।” (সহীহ মুসলিম হা/৩৪০)


সহিহ ফাযায়েলে আমল ৩০

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলছেন : আমি মানুষের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করার জন্য প্রেরিত হয়েছি যতক্ষণ না তারা এ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহামাদ আল্লাহর রাসূল, সলাত ক্বায়িম করবে এবং যাকাত দিবে। তারা যদি এটা করে তাহলে আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদের নিরাপত্তার ঘোষণা রইল। তবে ইসলামের হাক্ব ব্যতীত। তাদের হিসাব্ আল্লাহর উপর। [১]

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলছেন : আমি মানুষের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করার জন্য প্রেরিত হয়েছি যতক্ষণ না তারা এ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহামাদ আল্লাহর রাসূল, সলাত ক্বায়িম করবে এবং যাকাত দিবে। তারা যদি এটা করে তাহলে আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদের নিরাপত্তার ঘোষণা রইল। তবে ইসলামের হাক্ব ব্যতীত। তাদের হিসাব্ আল্লাহর উপর। [১]


সহিহ ফাযায়েলে আমল ৩২

“হাকিম হিযাম জাহিলী যুগে একশো দাস মুক্ত করেছেন এবং সওয়ারীর জন্য একশো উট দান করেছিলেন। অতঃপর মুসলিম হওয়ার পরও পুনরায় একশো দাস মুক্ত করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য একশো উট দান করেছেন। অতঃপর নাবী (সাঃ)-এর নিকট আসলেন।” হাদীসের বাকী অংশ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। (সহীহ মুসলিম হা/১৪১)

“হাকিম হিযাম জাহিলী যুগে একশো দাস মুক্ত করেছেন এবং সওয়ারীর জন্য একশো উট দান করেছিলেন। অতঃপর মুসলিম হওয়ার পরও পুনরায় একশো দাস মুক্ত করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য একশো উট দান করেছেন। অতঃপর নাবী (সাঃ)-এর নিকট আসলেন।” হাদীসের বাকী অংশ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। (সহীহ মুসলিম হা/১৪১)


সহিহ ফাযায়েলে আমল > নাবী (সাঃ)- কে না দেখে ঈমান আনার ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল ৩৪

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : “যে ব্যক্তি আমাকে দেখেছে এবং আমার প্রতি ঈমান এনেছে তার জন্য একবার সুসংবাদ। আর যে ব্যক্তি আমাকে দেখে নাই, তথাপি আমার প্রতি ঈমান এনেছে তার জন্য সাত বার (বারবার) মোবারকবাদ।”

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : “যে ব্যক্তি আমাকে দেখেছে এবং আমার প্রতি ঈমান এনেছে তার জন্য একবার সুসংবাদ। আর যে ব্যক্তি আমাকে দেখে নাই, তথাপি আমার প্রতি ঈমান এনেছে তার জন্য সাত বার (বারবার) মোবারকবাদ।”


সহিহ ফাযায়েলে আমল ৩৫

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : আমার আকাঙ্খা হয়, যদি আমার ভাইদের সাথে অমার সাক্ষ্য হতো! তখন নাবী (সাঃ)-এর সাহাবীগণ বলেন : আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি (সাঃ) বললেন : “তোমরা তো আমার সাহাবী। আমার ভাই হলো তারা, যারা আমাকে না দেখে আমার উপর ঈমান আনবে।”

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : আমার আকাঙ্খা হয়, যদি আমার ভাইদের সাথে অমার সাক্ষ্য হতো! তখন নাবী (সাঃ)-এর সাহাবীগণ বলেন : আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি (সাঃ) বললেন : “তোমরা তো আমার সাহাবী। আমার ভাই হলো তারা, যারা আমাকে না দেখে আমার উপর ঈমান আনবে।”


সহিহ ফাযায়েলে আমল ৩৬

একদা কিছু লোক “আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর সামনে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সাহাবীদের ঈমান সম্পর্কে আলোচনা করলো তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, যারা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)- কে দেখেছেন তাদের সামনে তাঁর সত্যতা একেবারেই সুস্পষ্ট ছিল। সেই সত্তার শপথ যিনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই। সবচেয়ে উত্তম ঈমান হলো ঐ ব্যক্তির যে না দেখে ঈমান এনেছে। অতঃপর এর প্রমাণে তিনি এ আয়াত পড়লেন : “আলিফ, লাম-মীম, এটা এমন কিতাব যাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। মুত্তাকীনদের জন্য হিদায়াত স্বরূপ, যারা গায়েবের প্রতি ঈমান রাখে।”

একদা কিছু লোক “আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর সামনে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সাহাবীদের ঈমান সম্পর্কে আলোচনা করলো তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, যারা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)- কে দেখেছেন তাদের সামনে তাঁর সত্যতা একেবারেই সুস্পষ্ট ছিল। সেই সত্তার শপথ যিনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই। সবচেয়ে উত্তম ঈমান হলো ঐ ব্যক্তির যে না দেখে ঈমান এনেছে। অতঃপর এর প্রমাণে তিনি এ আয়াত পড়লেন : “আলিফ, লাম-মীম, এটা এমন কিতাব যাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। মুত্তাকীনদের জন্য হিদায়াত স্বরূপ, যারা গায়েবের প্রতি ঈমান রাখে।”


সহিহ ফাযায়েলে আমল ৩৩

একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় দুইজন আরোহীকে আসতে দেখা গেলো। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তাদেরকে দেখে বললেন, এদেরকে কিন্দা ও মাযহিজ গোত্রের মনে হচ্ছে। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলো, তখন তাদের সাথে মাযহিজ গোত্রের কিছু লোকও ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর দুই আগুন্তুকের মধ্যকার একজন বাই’আত গ্রহণের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকটবর্তী হলো। যখন তিনি তাঁর (সাঃ) হাত নিজের হাতে নিলেন তখন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি আপনার সাথে সাক্ষ্যৎ করলো এবং আপনার উপর ঈমান আনলো, আপনাকে সত্য বলে মানলো এবং আপনার অনুসরণ করলো সে কি পাবে? তিনি (সাঃ) বললেন : তার জন্য সুসংবাদ (মোবারকবাদ)। অতঃপর লোকটি তাঁর হাতের উপর হাত বুলিয়ে বাই’আত গ্রহণ করে চলে গেলো। অতঃপর দ্বিতীয় ব্যক্তি অগ্রসর হলো। সেও বাই’আত গ্রহণের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর হাত নিজের হাতে রেখে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি আপনাকে না দেখে আপনার উপর ঈমান আনলো, আপনাকে সত্য বলে মানলো এবং আপনার অনুসরণ করলো সে কি পাবে? তিনি (সাঃ) বললেন : তার জন্য সুসংবাদ, তার জন্য সুসংবাদ, তার জন্য সুসংবাদ। অতঃপর এ লোকটিও তাঁর হাতের উপর নিজের হাত বুলিয়ে বাই’আত গ্রহণ করে চলে গেলো। [১]

একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় দুইজন আরোহীকে আসতে দেখা গেলো। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তাদেরকে দেখে বললেন, এদেরকে কিন্দা ও মাযহিজ গোত্রের মনে হচ্ছে। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলো, তখন তাদের সাথে মাযহিজ গোত্রের কিছু লোকও ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর দুই আগুন্তুকের মধ্যকার একজন বাই’আত গ্রহণের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকটবর্তী হলো। যখন তিনি তাঁর (সাঃ) হাত নিজের হাতে নিলেন তখন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি আপনার সাথে সাক্ষ্যৎ করলো এবং আপনার উপর ঈমান আনলো, আপনাকে সত্য বলে মানলো এবং আপনার অনুসরণ করলো সে কি পাবে? তিনি (সাঃ) বললেন : তার জন্য সুসংবাদ (মোবারকবাদ)। অতঃপর লোকটি তাঁর হাতের উপর হাত বুলিয়ে বাই’আত গ্রহণ করে চলে গেলো। অতঃপর দ্বিতীয় ব্যক্তি অগ্রসর হলো। সেও বাই’আত গ্রহণের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর হাত নিজের হাতে রেখে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি আপনাকে না দেখে আপনার উপর ঈমান আনলো, আপনাকে সত্য বলে মানলো এবং আপনার অনুসরণ করলো সে কি পাবে? তিনি (সাঃ) বললেন : তার জন্য সুসংবাদ, তার জন্য সুসংবাদ, তার জন্য সুসংবাদ। অতঃপর এ লোকটিও তাঁর হাতের উপর নিজের হাত বুলিয়ে বাই’আত গ্রহণ করে চলে গেলো। [১]


সহিহ ফাযায়েলে আমল > যে ‘আমলের দ্বারা ঈমানের স্বাদ পাওয়া যায়

সহিহ ফাযায়েলে আমল ৩৭

নাবী (সাঃ)- কে বলেছেন। তিনটি জিনিস যার মধ্যে রয়েছে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ সেই পাবে। এক, তার অন্তরে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা সবচেয়ে বেশি হবে। দুই, যে কোন ব্যক্তির সাথে কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে। তিন, ঈমানের পর কুফরীর দিকে ফিরে যাওয়া তার কাছে এরূপ অপছন্দনীয় যেরূপ আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া অপছন্দনীয়। [১]

নাবী (সাঃ)- কে বলেছেন। তিনটি জিনিস যার মধ্যে রয়েছে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ সেই পাবে। এক, তার অন্তরে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা সবচেয়ে বেশি হবে। দুই, যে কোন ব্যক্তির সাথে কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে। তিন, ঈমানের পর কুফরীর দিকে ফিরে যাওয়া তার কাছে এরূপ অপছন্দনীয় যেরূপ আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া অপছন্দনীয়। [১]


সহিহ ফাযায়েলে আমল ৩৮

তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) - কে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি সন্তুষ্টিচিত্তে আল্লাহকে রব্ব, ইসলামকে নিজের দ্বীন এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) - কে রাসূল হিসেবে মেনে নিয়েছে, সে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করেছে। [১]

তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) - কে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি সন্তুষ্টিচিত্তে আল্লাহকে রব্ব, ইসলামকে নিজের দ্বীন এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) - কে রাসূল হিসেবে মেনে নিয়েছে, সে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করেছে। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00