আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তি কি বৈঠকে উপস্থিত লোকদের দিকে তার পা ছড়িয়ে দিয়ে বসতে পারে?

আদাবুল মুফরাদ ১১৫৭

حدثنا محمد بن عبد العزيز قال: حدثنا أسد بن موسى قال: حدثنا معاوية بن صالح قال: حدثني أبو الزاهرية قال: حدثني كثير بن مرة قال: دخلت المسجد يوم الجمعة، فوجدت عوف بن مالك الأشجعي جالسا في حلقة مادا رجليه بين يديه، فلما رآني قبض رجليه، ثم قال لي: تدري لأي شيء مددت رجلي؟ ليجيء رجل صالح فيجلس

আমি জুমুআর দিন মসজিদে প্রবেশ করে আওফ ইবনে মালেক আল-আশজাঈ (রাঃ)-কে একটি সভায় জনগণের দিকে তার দুই পা প্রসারিত করে দিয়ে বসা অবস্থায় পেলাম। তিনি আমাকে দেখামাত্র তার পদদ্বয় গুটিয়ে নিয়ে আমাকে বলেন, তুমি কি জানো, কি কারণে আমি আমার পদদ্বয় প্রসারিত করে রেখেছিলাম? যাতে কোন সৎকর্মশীল লোক এসে (আমার নিকটে) বসতে পারে।

আমি জুমুআর দিন মসজিদে প্রবেশ করে আওফ ইবনে মালেক আল-আশজাঈ (রাঃ)-কে একটি সভায় জনগণের দিকে তার দুই পা প্রসারিত করে দিয়ে বসা অবস্থায় পেলাম। তিনি আমাকে দেখামাত্র তার পদদ্বয় গুটিয়ে নিয়ে আমাকে বলেন, তুমি কি জানো, কি কারণে আমি আমার পদদ্বয় প্রসারিত করে রেখেছিলাম? যাতে কোন সৎকর্মশীল লোক এসে (আমার নিকটে) বসতে পারে।

حدثنا محمد بن عبد العزيز قال: حدثنا أسد بن موسى قال: حدثنا معاوية بن صالح قال: حدثني أبو الزاهرية قال: حدثني كثير بن مرة قال: دخلت المسجد يوم الجمعة، فوجدت عوف بن مالك الأشجعي جالسا في حلقة مادا رجليه بين يديه، فلما رآني قبض رجليه، ثم قال لي: تدري لأي شيء مددت رجلي؟ ليجيء رجل صالح فيجلس


আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তি জনসমাবেসের মধ্যে কিভাবে থুথু ফেলবে?

আদাবুল মুফরাদ ১১৫৮

حدثنا أبو معمر قال: حدثنا عبد الوارث قال: حدثنا عتبة بن عبد الملك قال: حدثني زرارة بن كريم بن الحارث بن عمرو السهمي، أن الحارث بن عمرو السهمي حدثه قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو بمنى - أو بعرفات - وقد أطاف به الناس، ويجيء الأعراب، فإذا رأوا وجهه قالوا: هذا وجه مبارك، قلت: يا رسول الله، استغفر لي، فقال: «اللهم اغفر لنا» ، فدرت فقلت: استغفر لي، قال: «اللهم اغفر لنا» ، فدرت فقلت: استغفر لي، فقال: «اللهم اغفر لنا» ، فذهب يبزق، فقال بيده فأخذ بها بزاقه، ومسح به نعله، كره أن يصيب أحدا من حوله

আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি মিনা অথবা আরাফাতে ছিলেন। লোকজন তার চারপাশে ঘোরাফেরা করছিল। বেদুইনরা এসে যখন তাঁর চেহারা দেখতো তখন বলতো, এতো বরকতময় চেহারা। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেঃ হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আমি পুনরায় ঘুরে এসে বললাম, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। তার মুখে থুথু এলে তিনি তা নিজ হাতে নিয়ে তার জুতায় মুছে ফেলেন এই আশংকায় যে, তা লোকজনের গায়ে না পড়ে। -(আবু দাউদ, নাসাঈ, হাকিম)

আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি মিনা অথবা আরাফাতে ছিলেন। লোকজন তার চারপাশে ঘোরাফেরা করছিল। বেদুইনরা এসে যখন তাঁর চেহারা দেখতো তখন বলতো, এতো বরকতময় চেহারা। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেঃ হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আমি পুনরায় ঘুরে এসে বললাম, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। তার মুখে থুথু এলে তিনি তা নিজ হাতে নিয়ে তার জুতায় মুছে ফেলেন এই আশংকায় যে, তা লোকজনের গায়ে না পড়ে। -(আবু দাউদ, নাসাঈ, হাকিম)

حدثنا أبو معمر قال: حدثنا عبد الوارث قال: حدثنا عتبة بن عبد الملك قال: حدثني زرارة بن كريم بن الحارث بن عمرو السهمي، أن الحارث بن عمرو السهمي حدثه قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو بمنى - أو بعرفات - وقد أطاف به الناس، ويجيء الأعراب، فإذا رأوا وجهه قالوا: هذا وجه مبارك، قلت: يا رسول الله، استغفر لي، فقال: «اللهم اغفر لنا» ، فدرت فقلت: استغفر لي، قال: «اللهم اغفر لنا» ، فدرت فقلت: استغفر لي، فقال: «اللهم اغفر لنا» ، فذهب يبزق، فقال بيده فأخذ بها بزاقه، ومسح به نعله، كره أن يصيب أحدا من حوله


আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ বহিরাঙ্গিনার বৈঠক।

আদাবুল মুফরাদ ১১৫৯

حدثنا عبد العزيز بن عبد الله قال: حدثنا سليمان بن بلال، عن العلاء، عن أبيه، عن أبي هريرة، أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن المجالس بالصعدات، فقالوا: يا رسول الله، ليشق علينا الجلوس في بيوتنا؟ قال: «فإن جلستم فأعطوا المجالس حقها» ، قالوا: وما حقها يا رسول الله؟ قال: «إدلال السائل، ورد السلام، وغض الأبصار، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر»

নবী (সাঃ) বহিরাঙ্গিনায় (বা রাস্তায়) সভা অনুষ্ঠান বা বৈঠকাদি করতে নিষেধ করেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরে বসে থাকা তো আমাদের জন্য কষ্টকর। তিনি বলেনঃ যদি তোমরা বহিরাঙ্গনে (বা রাস্তায়) বসো তবে বৈঠকের দাবি পূরণ করো (বা কর্তব্য পালন করো)। তারা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! বৈঠকের দাবি কি? তিনি বলেনঃ পথভোলা লোককে তার গন্তব্য পথ বলে দেয়া, (পথচারীদের) সালামের জবাব দেয়া, চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজে বাধা দেয়া। (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)

নবী (সাঃ) বহিরাঙ্গিনায় (বা রাস্তায়) সভা অনুষ্ঠান বা বৈঠকাদি করতে নিষেধ করেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরে বসে থাকা তো আমাদের জন্য কষ্টকর। তিনি বলেনঃ যদি তোমরা বহিরাঙ্গনে (বা রাস্তায়) বসো তবে বৈঠকের দাবি পূরণ করো (বা কর্তব্য পালন করো)। তারা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! বৈঠকের দাবি কি? তিনি বলেনঃ পথভোলা লোককে তার গন্তব্য পথ বলে দেয়া, (পথচারীদের) সালামের জবাব দেয়া, চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজে বাধা দেয়া। (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)

حدثنا عبد العزيز بن عبد الله قال: حدثنا سليمان بن بلال، عن العلاء، عن أبيه، عن أبي هريرة، أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن المجالس بالصعدات، فقالوا: يا رسول الله، ليشق علينا الجلوس في بيوتنا؟ قال: «فإن جلستم فأعطوا المجالس حقها» ، قالوا: وما حقها يا رسول الله؟ قال: «إدلال السائل، ورد السلام، وغض الأبصار، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر»


আদাবুল মুফরাদ ১১৬০

حدثنا محمد بن عبيد الله قال: حدثنا الدراوردي، عن زيد بن أسلم، عن عطاء بن يسار، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إياكم والجلوس في الطرقات» ، قالوا: يا رسول الله، ما لنا بد من مجالسنا نتحدث فيها، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أما إذ أبيتم، فأعطوا الطريق حقه» ، قالوا: وما حق الطريق يا رسول الله؟ قال: «غض البصر، وكف الأذى، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر»

নবী (সাঃ) বলেনঃ রাস্তায় বসার ব্যাপারে তোমরা সাবধান হও। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তায় না বসে তো আমাদের উপায় নাইবনে মাজাহ, তথায় আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তোমরা যখন অসম্মত হচ্ছে, তাহলে রাস্তার দাবি পূরণ করো। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ রাস্তার দাবি কি? তিনি বলেনঃ চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী)

নবী (সাঃ) বলেনঃ রাস্তায় বসার ব্যাপারে তোমরা সাবধান হও। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তায় না বসে তো আমাদের উপায় নাইবনে মাজাহ, তথায় আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তোমরা যখন অসম্মত হচ্ছে, তাহলে রাস্তার দাবি পূরণ করো। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ রাস্তার দাবি কি? তিনি বলেনঃ চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী)

حدثنا محمد بن عبيد الله قال: حدثنا الدراوردي، عن زيد بن أسلم، عن عطاء بن يسار، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إياكم والجلوس في الطرقات» ، قالوا: يا رسول الله، ما لنا بد من مجالسنا نتحدث فيها، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أما إذ أبيتم، فأعطوا الطريق حقه» ، قالوا: وما حق الطريق يا رسول الله؟ قال: «غض البصر، وكف الأذى، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر»


আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নিজের পায়ের নলা উদলা করে কূপের পাশে বসে পদদ্বয় কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দেয়।

আদাবুল মুফরাদ ১১৬১

حدثنا سعيد بن أبي مريم قال: حدثنا محمد بن جعفر، عن شريك بن عبد الله، عن سعيد بن المسيب، عن أبي موسى الأشعري قال: خرج النبي صلى الله عليه وسلم يوما إلى حائط من حوائط المدينة لحاجته، وخرجت في أثره، فلما دخل الحائط جلست على بابه، وقلت: لأكونن اليوم بواب النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يأمرني، فذهب النبي صلى الله عليه وسلم فقضى حاجته وجلس على قف البئر، وكشف عن ساقيه، ودلاهما في البئر، فجاء أبو بكر رضي الله عنه ليستأذن عليه ليدخل، فقلت: كما أنت حتى أستأذن لك، فوقف، وجئت النبي صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله، أبو بكر يستأذن عليك؟ فقال: «ائذن له، وبشره بالجنة» ، فدخل فجاء عن يمين النبي صلى الله عليه وسلم، فكشف عن ساقيه ودلاهما في البئر. فجاء عمر، فقلت: كما أنت حتى أستأذن لك، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ائذن له، وبشره بالجنة» ، فجاء عمر عن يسار النبي صلى الله عليه وسلم فكشف عن ساقيه ودلاهما في البئر فامتلأ القف، فلم يكن فيه مجلس. ثم جاء عثمان، فقلت: كما أنت حتى أستأذن لك، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ائذن له، وبشره بالجنة معها بلاء يصيبه» ، فدخل فلم يجد معهم مجلسا، فتحول حتى جاء مقابلهم على شفة البئر، فكشف عن ساقيه ثم دلاهما في البئر، فجعلت أتمنى أن يأتي أخ لي، وأدعو الله أن يأتي به، فلم يأت حتى قاموا. قال ابن المسيب: فأولت ذلك قبورهم، اجتمعت ها هنا، وانفرد عثمان

একদিন নবী (সাঃ) তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়ার জন্য মদীনার এক বাগানে প্রবেশ করেন। আমিও তার পিছে পিছে গেলাম। তিনি বাগানের ভেতর প্রবেশ করলে আমি এর ফটকে বসে থাকলাম এবং মনে মনে বললাম, আমি আজ অবশ্যই নবী (সাঃ)-এর দ্বাররক্ষী হবো, যদিও তিনি আমাকে আদেশ করেননি। নবী (সাঃ) গিয়ে তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়ার পর একটি কূপের কিনারায় বসেন এবং তার পায়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। তখন আবু বাকর (রাঃ) এসে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রবেশানুমতি প্রার্থনা করেন। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আপনার জন্য অনুমতি চাই। তিনি অপেক্ষা করলেন। আমি গিয়ে নবী (সাঃ)-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু বকর (রাঃ) আপনার সাক্ষাতপ্রার্থী। তিনি বলেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদও দাও। তিনি প্রবেশ করে নবী (সাঃ)-এর ডান দিক দিয়ে এসে নিজ পায়ের নলা উদলা করে কূপের মধ্যে তা ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন। অতঃপর উমার (রাঃ) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী (সাঃ) বলেনঃ তাকেও অনুমতি দাও এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দাও। উমার (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর বাম পাশ দিয়ে এসে নিজ পদদ্বয়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন। ফলে কূপের বেষ্টনী দেয়াল ভরে গেলো এবং তাতে আর বসার জায়গা থাকলো না। অতঃপর উসমান (রাঃ) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী (সাঃ) বলেনঃ তাকেও আসার অনুমতি দাও এবং তার উপর বিপদ আপতিত হওয়াসহ তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি প্রবেশ করে তথায় তাদের সাথে বসার খালি জায়গা পেলেন না। তাই তিনি ঘুরে গিয়ে তাদের সম্মুখভাগে কূপের কিনারে এলেন। তিনিও নিজ পদদ্বয়ের নলা উন্মুক্ত করে দিয়ে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তখন আকাঙ্ক্ষা করতে থাকলাম, আমার ভাইটি যদি এসে পৌছতো এবং আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকলাম যে, তিনি যেন তাকে নিয়ে আসেন। তাঁরা উঠে যাওয়া পর্যন্ত সে এসে পৌঁছেনি। ইবনুল মুসাইয়্যাব (র) বলেন, আমি উক্ত হাদীসের এই ব্যাখ্যা করেছি যে, সেটা তাদের তিনজনের কবর যা এখানে এক স্থানে অবস্থিত, আর উসমান (রাঃ)-র কবর পৃথক স্থানে অবস্থিত। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)

একদিন নবী (সাঃ) তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়ার জন্য মদীনার এক বাগানে প্রবেশ করেন। আমিও তার পিছে পিছে গেলাম। তিনি বাগানের ভেতর প্রবেশ করলে আমি এর ফটকে বসে থাকলাম এবং মনে মনে বললাম, আমি আজ অবশ্যই নবী (সাঃ)-এর দ্বাররক্ষী হবো, যদিও তিনি আমাকে আদেশ করেননি। নবী (সাঃ) গিয়ে তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়ার পর একটি কূপের কিনারায় বসেন এবং তার পায়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। তখন আবু বাকর (রাঃ) এসে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রবেশানুমতি প্রার্থনা করেন। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আপনার জন্য অনুমতি চাই। তিনি অপেক্ষা করলেন। আমি গিয়ে নবী (সাঃ)-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু বকর (রাঃ) আপনার সাক্ষাতপ্রার্থী। তিনি বলেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদও দাও। তিনি প্রবেশ করে নবী (সাঃ)-এর ডান দিক দিয়ে এসে নিজ পায়ের নলা উদলা করে কূপের মধ্যে তা ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন। অতঃপর উমার (রাঃ) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী (সাঃ) বলেনঃ তাকেও অনুমতি দাও এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দাও। উমার (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর বাম পাশ দিয়ে এসে নিজ পদদ্বয়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন। ফলে কূপের বেষ্টনী দেয়াল ভরে গেলো এবং তাতে আর বসার জায়গা থাকলো না। অতঃপর উসমান (রাঃ) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী (সাঃ) বলেনঃ তাকেও আসার অনুমতি দাও এবং তার উপর বিপদ আপতিত হওয়াসহ তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি প্রবেশ করে তথায় তাদের সাথে বসার খালি জায়গা পেলেন না। তাই তিনি ঘুরে গিয়ে তাদের সম্মুখভাগে কূপের কিনারে এলেন। তিনিও নিজ পদদ্বয়ের নলা উন্মুক্ত করে দিয়ে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তখন আকাঙ্ক্ষা করতে থাকলাম, আমার ভাইটি যদি এসে পৌছতো এবং আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকলাম যে, তিনি যেন তাকে নিয়ে আসেন। তাঁরা উঠে যাওয়া পর্যন্ত সে এসে পৌঁছেনি। ইবনুল মুসাইয়্যাব (র) বলেন, আমি উক্ত হাদীসের এই ব্যাখ্যা করেছি যে, সেটা তাদের তিনজনের কবর যা এখানে এক স্থানে অবস্থিত, আর উসমান (রাঃ)-র কবর পৃথক স্থানে অবস্থিত। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)

حدثنا سعيد بن أبي مريم قال: حدثنا محمد بن جعفر، عن شريك بن عبد الله، عن سعيد بن المسيب، عن أبي موسى الأشعري قال: خرج النبي صلى الله عليه وسلم يوما إلى حائط من حوائط المدينة لحاجته، وخرجت في أثره، فلما دخل الحائط جلست على بابه، وقلت: لأكونن اليوم بواب النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يأمرني، فذهب النبي صلى الله عليه وسلم فقضى حاجته وجلس على قف البئر، وكشف عن ساقيه، ودلاهما في البئر، فجاء أبو بكر رضي الله عنه ليستأذن عليه ليدخل، فقلت: كما أنت حتى أستأذن لك، فوقف، وجئت النبي صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله، أبو بكر يستأذن عليك؟ فقال: «ائذن له، وبشره بالجنة» ، فدخل فجاء عن يمين النبي صلى الله عليه وسلم، فكشف عن ساقيه ودلاهما في البئر. فجاء عمر، فقلت: كما أنت حتى أستأذن لك، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ائذن له، وبشره بالجنة» ، فجاء عمر عن يسار النبي صلى الله عليه وسلم فكشف عن ساقيه ودلاهما في البئر فامتلأ القف، فلم يكن فيه مجلس. ثم جاء عثمان، فقلت: كما أنت حتى أستأذن لك، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ائذن له، وبشره بالجنة معها بلاء يصيبه» ، فدخل فلم يجد معهم مجلسا، فتحول حتى جاء مقابلهم على شفة البئر، فكشف عن ساقيه ثم دلاهما في البئر، فجعلت أتمنى أن يأتي أخ لي، وأدعو الله أن يأتي به، فلم يأت حتى قاموا. قال ابن المسيب: فأولت ذلك قبورهم، اجتمعت ها هنا، وانفرد عثمان


আদাবুল মুফরাদ ১১৬২

حدثنا علي قال: حدثنا سفيان، عن عبيد الله بن أبي يزيد، عن نافع بن جبير بن مطعم، عن أبي هريرة، خرج النبي صلى الله عليه وسلم في طائفة النهار لا يكلمني ولا أكلمه، حتى أتى سوق بني قينقاع، فجلس بفناء بيت فاطمة، فقال: «أثم لكع؟ أثم لكع؟» فحبسته شيئا، فظننت أنها تلبسه سخابا أو تغسله، فجاء يشتد حتى عانقه وقبله، وقال: «اللهم أحببه، وأحبب من يحبه»

নবী (সাঃ) দিনের কোন এক অংশে বের হলেন। (পথিমধ্যে) তিনিও আমার সাথে কোন কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সাথে কোন কথা বলিনি। এমতাবস্থায় তিনি কায়নুকা গোত্রের বাজারে এলেন। (ফেরার পথে) তিনি ফাতেমা (রাঃ)-র বাড়ির আঙ্গিনায় বসে ডেকে বলেনঃ খোকা (হাসান) কি এখানে আছে, খোকা কি এখানে আছে? ফাতেমা (রাঃ) শিশুকে আসতে দিতে খানিক বিলম্ব করলেন। আমি ভাবলাম, হয়তো তিনি তাকে পোশাক পরাচ্ছেন অথবা গোসল করাচ্ছেন। সে দ্রুতবেগে বের হয়ে আসলে নবী (সাঃ) তাকে বুকে চেপে ধরে চুমা দিলেন এবং বললেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি তাকে মহব্বত করো এবং যারা তাকে ভালোবাসে তাদেরকেও মহব্বত করো”। -(বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, আবু আওয়ানাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

নবী (সাঃ) দিনের কোন এক অংশে বের হলেন। (পথিমধ্যে) তিনিও আমার সাথে কোন কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সাথে কোন কথা বলিনি। এমতাবস্থায় তিনি কায়নুকা গোত্রের বাজারে এলেন। (ফেরার পথে) তিনি ফাতেমা (রাঃ)-র বাড়ির আঙ্গিনায় বসে ডেকে বলেনঃ খোকা (হাসান) কি এখানে আছে, খোকা কি এখানে আছে? ফাতেমা (রাঃ) শিশুকে আসতে দিতে খানিক বিলম্ব করলেন। আমি ভাবলাম, হয়তো তিনি তাকে পোশাক পরাচ্ছেন অথবা গোসল করাচ্ছেন। সে দ্রুতবেগে বের হয়ে আসলে নবী (সাঃ) তাকে বুকে চেপে ধরে চুমা দিলেন এবং বললেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি তাকে মহব্বত করো এবং যারা তাকে ভালোবাসে তাদেরকেও মহব্বত করো”। -(বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, আবু আওয়ানাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

حدثنا علي قال: حدثنا سفيان، عن عبيد الله بن أبي يزيد، عن نافع بن جبير بن مطعم، عن أبي هريرة، خرج النبي صلى الله عليه وسلم في طائفة النهار لا يكلمني ولا أكلمه، حتى أتى سوق بني قينقاع، فجلس بفناء بيت فاطمة، فقال: «أثم لكع؟ أثم لكع؟» فحبسته شيئا، فظننت أنها تلبسه سخابا أو تغسله، فجاء يشتد حتى عانقه وقبله، وقال: «اللهم أحببه، وأحبب من يحبه»


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00