আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ কারো কথা, আমি ক্লান্ত-শ্রান্ত।
আদাবুল মুফরাদ ৮০৭
حدثنا محمد بن بشار قال: حدثنا أبو داود قال: حدثنا شعبة، عن يزيد بن خمير قال: سمعت عبد الله بن أبي موسى قال: قالت عائشة: لا تدع قيام الليل، فإن النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يذره، وكان إذا مرض أو كسل صلى قاعدا
আয়েশা (রাঃ) বললেন, রাতে দাঁড়ানো (নফল নামায পড়া) কখনো ত্যাগ করো না। কেননা নবী (সাঃ) কখনো তা ত্যাগ করেননি। তিনি অসুস্থ থাকলে বা ক্লান্তি বোধ করলে বসে বসে নামায পড়তেন। (আবু দাউদ)
আয়েশা (রাঃ) বললেন, রাতে দাঁড়ানো (নফল নামায পড়া) কখনো ত্যাগ করো না। কেননা নবী (সাঃ) কখনো তা ত্যাগ করেননি। তিনি অসুস্থ থাকলে বা ক্লান্তি বোধ করলে বসে বসে নামায পড়তেন। (আবু দাউদ)
حدثنا محمد بن بشار قال: حدثنا أبو داود قال: حدثنا شعبة، عن يزيد بن خمير قال: سمعت عبد الله بن أبي موسى قال: قالت عائشة: لا تدع قيام الليل، فإن النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يذره، وكان إذا مرض أو كسل صلى قاعدا
আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ ব্যক্তি অলসতা থেকে পানাহ চায়।
আদাবুল মুফরাদ ৮০৮
حدثنا خالد بن مخلد قال: حدثنا سليمان بن بلال قال: حدثني عمرو بن أبي عمرو قال: سمعت أنس بن مالك يقول: كان النبي صلى الله عليه وسلم يكثر أن يقول: «اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن، والعجز والكسل، والجبن والبخل، وضلع الدين، وغلبة الرجال»
নবী (সাঃ) অধিক পরিমাণে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখজনক অবস্থা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং ঋণভার ও লোকের (শত্রুর) আধিপত্য থেকে”। -(বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)
নবী (সাঃ) অধিক পরিমাণে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখজনক অবস্থা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং ঋণভার ও লোকের (শত্রুর) আধিপত্য থেকে”। -(বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)
حدثنا خالد بن مخلد قال: حدثنا سليمان بن بلال قال: حدثني عمرو بن أبي عمرو قال: سمعت أنس بن مالك يقول: كان النبي صلى الله عليه وسلم يكثر أن يقول: «اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن، والعجز والكسل، والجبن والبخل، وضلع الدين، وغلبة الرجال»
আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ কারো কথা, আমার জান আপনার জন্য উৎসর্গিত।
আদাবুল মুফরাদ ৮০৯
حدثنا علي بن عبد الله قال: حدثنا سفيان، عن ابن جدعان قال: سمعت أنس بن مالك يقول: كان أبو طلحة يجثو بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وينثر كنانته ويقول: وجهي لوجهك الوقاء، ونفسي لنفسك الفداء
আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সামনে হাঁটু গেড়ে বসতেন এবং তার তীরগুলো ছড়িয়ে দিয়ে বলতেন, হে প্রিয় নবী! আমার মুখমণ্ডল আপনার মুখমণ্ডলের ঢালস্বরূপ। আমার জান আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। (ইবনুস সুন্নী)
আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সামনে হাঁটু গেড়ে বসতেন এবং তার তীরগুলো ছড়িয়ে দিয়ে বলতেন, হে প্রিয় নবী! আমার মুখমণ্ডল আপনার মুখমণ্ডলের ঢালস্বরূপ। আমার জান আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। (ইবনুস সুন্নী)
حدثنا علي بن عبد الله قال: حدثنا سفيان، عن ابن جدعان قال: سمعت أنس بن مالك يقول: كان أبو طلحة يجثو بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وينثر كنانته ويقول: وجهي لوجهك الوقاء، ونفسي لنفسك الفداء
আদাবুল মুফরাদ ৮১০
حدثنا معاذ بن فضالة، عن هشام، عن حماد، عن زيد بن وهب، عن أبي ذر قال: فانطلق النبي صلى الله عليه وسلم نحو البقيع، وانطلقت أتلوه، فالتفت فرآني فقال: «يا أبا ذر» ، فقلت: لبيك يا رسول الله، وسعديك، وأنا فداؤك، فقال: «إن المكثرين هم المقلون يوم القيامة، إلا من قال هكذا وهكذا في حق» ، قلت: الله ورسوله أعلم، فقال: «هكذا» ثلاثاثم عرض لنا أحد فقال: «يا أبا ذر» ، فقلت: لبيك رسول الله وسعديك، وأنا فداؤك، قال: " ما يسرني أن أحدا لآل محمد ذهبا، فيمسي عندهم دينار - أو قال: مثقال "ثم عرض لنا واد، فاستنتل فظننت أن له حاجة، فجلست على شفير، وأبطأ علي. قال: فخشيت عليه، ثم سمعته كأنه يناجي رجلا، ثم خرج إلي وحده، فقلت: يا رسول الله، من الرجل الذي كنت تناجي؟ فقال: «أو سمعته؟» قلت: نعم، قال: «فإنه جبريل أتاني، فبشرني أنه من مات من أمتي لا يشرك بالله شيئا دخل الجنة» ، قلت: وإن زنى وإن سرق؟ قال: «نعم»
নবী (সাঃ) ‘আল-বাকী’ নামক কবরস্থানের দিকে গেলেন। আমিও তাঁর অনুগামী হলাম। তিনি পিছনে ফিরে আমাকে দেখতে পেয়ে বলেনঃ হে আবু যার! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় দরবারে হাযির। আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত। তিনি বলেনঃ সম্পদশালীরাই হবে কিয়ামতের দিন দরিদ্র, তবে যারা এরূপ এরূপ (দান-খয়রাত) করবে তারা ব্যতীত। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সমধিক জ্ঞাত। তিনি এরূপ তিনবার বলেন। অতঃপর উহুদ পাহাড় আমাদের সামনে পড়লো। তিনি বলেনঃ হে আবু যার! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় দরবারে হাযির। আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত। তিনি বলেনঃ “এই উহুদ পাহাড় যদি মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য সোনায় পরিণত হয়, তবে রাত আসা অবধি তাদের নিকট এক দীনার বা এক মিসকাল পরিমাণ সোনা অবশিষ্ট থাকলেও তাতে আমি খুশি হবো না”। অতঃপর আমরা একটি উন্মুক্ত মাঠে উপনীত হলাম। তিনি মাঠের এক প্রান্তে চলে গেলেন। আমি ভাবলাম, তিনি হয়তো প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়তে গেছেন। তাই আমি একপাশে বসে থাকলাম। আমার কাছে ফিরে আসতে তাঁর বিলম্ব হলে তাঁর সম্পর্কে আমার (বিপদের) আশংকা হলো। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির সাথে ফিস ফিস করে তাঁর কথা বলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। অতঃপর তিনি একাকী আমার নিকট ফিরে এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কার সাথে গোপনে কথা বললেন? তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি তা শুনতে পেয়েছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তিনি জিবরাঈল (আঃ)। তিনি আমার নিকট এসে আমাকে এই সুসংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মাতের যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরীক না করে মারা যাবে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদি সে যেন করে থাকে, যদি সে চুরি করে থাকে তবুও? তিনি বলেনঃ হাঁ তবুও। (বুখারী, মুসলিম)
নবী (সাঃ) ‘আল-বাকী’ নামক কবরস্থানের দিকে গেলেন। আমিও তাঁর অনুগামী হলাম। তিনি পিছনে ফিরে আমাকে দেখতে পেয়ে বলেনঃ হে আবু যার! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় দরবারে হাযির। আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত। তিনি বলেনঃ সম্পদশালীরাই হবে কিয়ামতের দিন দরিদ্র, তবে যারা এরূপ এরূপ (দান-খয়রাত) করবে তারা ব্যতীত। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সমধিক জ্ঞাত। তিনি এরূপ তিনবার বলেন। অতঃপর উহুদ পাহাড় আমাদের সামনে পড়লো। তিনি বলেনঃ হে আবু যার! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় দরবারে হাযির। আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত। তিনি বলেনঃ “এই উহুদ পাহাড় যদি মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য সোনায় পরিণত হয়, তবে রাত আসা অবধি তাদের নিকট এক দীনার বা এক মিসকাল পরিমাণ সোনা অবশিষ্ট থাকলেও তাতে আমি খুশি হবো না”। অতঃপর আমরা একটি উন্মুক্ত মাঠে উপনীত হলাম। তিনি মাঠের এক প্রান্তে চলে গেলেন। আমি ভাবলাম, তিনি হয়তো প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়তে গেছেন। তাই আমি একপাশে বসে থাকলাম। আমার কাছে ফিরে আসতে তাঁর বিলম্ব হলে তাঁর সম্পর্কে আমার (বিপদের) আশংকা হলো। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির সাথে ফিস ফিস করে তাঁর কথা বলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। অতঃপর তিনি একাকী আমার নিকট ফিরে এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কার সাথে গোপনে কথা বললেন? তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি তা শুনতে পেয়েছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তিনি জিবরাঈল (আঃ)। তিনি আমার নিকট এসে আমাকে এই সুসংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মাতের যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরীক না করে মারা যাবে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদি সে যেন করে থাকে, যদি সে চুরি করে থাকে তবুও? তিনি বলেনঃ হাঁ তবুও। (বুখারী, মুসলিম)
حدثنا معاذ بن فضالة، عن هشام، عن حماد، عن زيد بن وهب، عن أبي ذر قال: فانطلق النبي صلى الله عليه وسلم نحو البقيع، وانطلقت أتلوه، فالتفت فرآني فقال: «يا أبا ذر» ، فقلت: لبيك يا رسول الله، وسعديك، وأنا فداؤك، فقال: «إن المكثرين هم المقلون يوم القيامة، إلا من قال هكذا وهكذا في حق» ، قلت: الله ورسوله أعلم، فقال: «هكذا» ثلاثاثم عرض لنا أحد فقال: «يا أبا ذر» ، فقلت: لبيك رسول الله وسعديك، وأنا فداؤك، قال: " ما يسرني أن أحدا لآل محمد ذهبا، فيمسي عندهم دينار - أو قال: مثقال "ثم عرض لنا واد، فاستنتل فظننت أن له حاجة، فجلست على شفير، وأبطأ علي. قال: فخشيت عليه، ثم سمعته كأنه يناجي رجلا، ثم خرج إلي وحده، فقلت: يا رسول الله، من الرجل الذي كنت تناجي؟ فقال: «أو سمعته؟» قلت: نعم، قال: «فإنه جبريل أتاني، فبشرني أنه من مات من أمتي لا يشرك بالله شيئا دخل الجنة» ، قلت: وإن زنى وإن سرق؟ قال: «نعم»
আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ কারো বলা, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক ।
আদাবুল মুফরাদ ৮১১
حدثنا قبيصة قال: حدثنا سفيان، عن سعد بن إبراهيم قال: حدثني عبد الله بن شداد قال: سمعت عليا رضي الله عنه يقول: ما رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يفدي رجلا بعد سعد، سمعته يقول: «ارم، فداك أبي وأمي»
আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সাদ (রাঃ) ছাড়া আর কারো জন্য ‘ফিদা’ (উৎসর্গ) শব্দ ব্যবহার করতে দেখিনি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ তীর নিক্ষেপ করো, আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)
আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সাদ (রাঃ) ছাড়া আর কারো জন্য ‘ফিদা’ (উৎসর্গ) শব্দ ব্যবহার করতে দেখিনি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ তীর নিক্ষেপ করো, আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)
حدثنا قبيصة قال: حدثنا سفيان، عن سعد بن إبراهيم قال: حدثني عبد الله بن شداد قال: سمعت عليا رضي الله عنه يقول: ما رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يفدي رجلا بعد سعد، سمعته يقول: «ارم، فداك أبي وأمي»
আদাবুল মুফরাদ ৮১২
حدثنا علي بن الحسن قال: أخبرنا الحسين قال: حدثنا عبد الله بن بريدة، عن أبيه: خرج النبي صلى الله عليه وسلم إلى المسجد وأبو موسى يقرأ، فقال: «من هذا؟» فقلت: أنا بريدة جعلت فداك، قال: «قد أعطي هذا مزمارا من مزامير آل داود»
নবী (সাঃ) মসজিদের দিকে গেলেন। তখন আবু মূসা (রাঃ) কুরআন মাজীদ পড়ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ এ কে? আমি বললাম, আমি বুরায়আবু দাউদ, আমি আপনার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলাম। তিনি বলেনঃ একে দাউদ (আঃ)-এর পরিবারের সুরসমূহের একটি সুর দান করা হয়েছে। (মুসলিম)
নবী (সাঃ) মসজিদের দিকে গেলেন। তখন আবু মূসা (রাঃ) কুরআন মাজীদ পড়ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ এ কে? আমি বললাম, আমি বুরায়আবু দাউদ, আমি আপনার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলাম। তিনি বলেনঃ একে দাউদ (আঃ)-এর পরিবারের সুরসমূহের একটি সুর দান করা হয়েছে। (মুসলিম)
حدثنا علي بن الحسن قال: أخبرنا الحسين قال: حدثنا عبد الله بن بريدة، عن أبيه: خرج النبي صلى الله عليه وسلم إلى المسجد وأبو موسى يقرأ، فقال: «من هذا؟» فقلت: أنا بريدة جعلت فداك، قال: «قد أعطي هذا مزمارا من مزامير آل داود»