সহিহ মুসলিম > কিয়ামাত দিবসের বর্ণনা, এ দিবসের ভীতিকর অবস্থাতে আল্লাহ আমাদেরকে সহযোগিতা করুন
সহিহ মুসলিম ৭০৯৭
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কিয়ামাতের দিন ঘাম জমিনের উপর দিয়ে একশ’ চল্লিশ হাত পর্যন্ত উঁচু হয়ে বয়ে যাবে। আর তা মানুষের মুখমণ্ডল পর্যন্ত বা কান পর্যন্ত পৌছাবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দুয়ের মধ্যে কোন্টির কথা বলেছেন, বর্ণনাকারী সাওর এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৪১, ই.সে. ৬৯৯৯)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কিয়ামাতের দিন ঘাম জমিনের উপর দিয়ে একশ’ চল্লিশ হাত পর্যন্ত উঁচু হয়ে বয়ে যাবে। আর তা মানুষের মুখমণ্ডল পর্যন্ত বা কান পর্যন্ত পৌছাবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দুয়ের মধ্যে কোন্টির কথা বলেছেন, বর্ণনাকারী সাওর এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৪১, ই.সে. ৬৯৯৯)
সহিহ মুসলিম ৭০৯৮
মিকদাদ ইবনুল আস্ওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামাতের দিন সূর্যকে মানুষের সন্নিকটবর্তী করে দেয়া হবে। অবশেষে তা মানুষের এক মাইলের দূরত্বের মাঝে চলে আসবে। বর্ণনাকারী সুলায়ম ইবনু ‘আমির (রহঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি জানি না, (আরবি) শব্দ দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে, জমিদের দূরত্ব, না ঐ শলাকা যা চোখে সুরমা দেয়া কাজে ব্যবহৃত হয়। মানুষ তাদের ‘আমাল অনুসারে ঘর্মের মাঝে ডুবে থাকবে। তাদের কারো ঘাম পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত হবে, কেউ হাঁটু পর্যন্ত ঘামের মধ্যে থাকবে, কেউ কোমর পর্যন্ত আর কারো মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ মুখের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (ই.ফা. ৬৯৪২, ই.সে. ৭০০০)
মিকদাদ ইবনুল আস্ওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামাতের দিন সূর্যকে মানুষের সন্নিকটবর্তী করে দেয়া হবে। অবশেষে তা মানুষের এক মাইলের দূরত্বের মাঝে চলে আসবে। বর্ণনাকারী সুলায়ম ইবনু ‘আমির (রহঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি জানি না, (আরবি) শব্দ দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে, জমিদের দূরত্ব, না ঐ শলাকা যা চোখে সুরমা দেয়া কাজে ব্যবহৃত হয়। মানুষ তাদের ‘আমাল অনুসারে ঘর্মের মাঝে ডুবে থাকবে। তাদের কারো ঘাম পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত হবে, কেউ হাঁটু পর্যন্ত ঘামের মধ্যে থাকবে, কেউ কোমর পর্যন্ত আর কারো মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ মুখের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (ই.ফা. ৬৯৪২, ই.সে. ৭০০০)
সহিহ মুসলিম ৭০৯৫
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(আরবি) - এর ব্যাখ্যায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সেদিন মানুষ অর্ধ কর্ণ পর্যন্ত ঘামে ডুবে দাঁড়িয়ে থাকবে। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনাতে তিনি (আরবি) “যেখানে” শব্দটি উল্লেখ করা ছাড়া শুধু (আরবি) “লোকজন দাঁড়িয়ে থাকবে” উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৩৯, ই.সে. ৬৯৯৭)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(আরবি) - এর ব্যাখ্যায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সেদিন মানুষ অর্ধ কর্ণ পর্যন্ত ঘামে ডুবে দাঁড়িয়ে থাকবে। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনাতে তিনি (আরবি) “যেখানে” শব্দটি উল্লেখ করা ছাড়া শুধু (আরবি) “লোকজন দাঁড়িয়ে থাকবে” উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৩৯, ই.সে. ৬৯৯৭)
সহিহ মুসলিম ৭০৯৬
ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূ্ত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
‘উবাইদুল্লাহর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে মূসা ইবনু ‘উকবাহ্ ও সালিহ (রহঃ)-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, (আরবি) অর্থাৎ- তাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি স্বীয় ঘামে দুই কানের অর্ধেক অবধি ডুবে যাবে। (ই.ফা. ৬৯৪০, ই.সে. ৬৯৯৮)
ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূ্ত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
‘উবাইদুল্লাহর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে মূসা ইবনু ‘উকবাহ্ ও সালিহ (রহঃ)-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, (আরবি) অর্থাৎ- তাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি স্বীয় ঘামে দুই কানের অর্ধেক অবধি ডুবে যাবে। (ই.ফা. ৬৯৪০, ই.সে. ৬৯৯৮)
সহিহ মুসলিম > পৃথিবীতে জান্নাতী ও জাহান্নামী লোকদের পরিচয়
সহিহ মুসলিম ৭১০১
‘ইয়ায ইবনু হিমার থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাষণ দিলেন। তারপর তিনি পুরো হাদীসটি বর্ণনা করলেন এবং শেষ ভাগে বলেছেনঃ , কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি মুতার্রিফকে বলতে শুনেছি। (ই.ফা. ৬৯৪৫, ই.সে. ৭০০৩)
‘ইয়ায ইবনু হিমার থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাষণ দিলেন। তারপর তিনি পুরো হাদীসটি বর্ণনা করলেন এবং শেষ ভাগে বলেছেনঃ , কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি মুতার্রিফকে বলতে শুনেছি। (ই.ফা. ৬৯৪৫, ই.সে. ৭০০৩)
সহিহ মুসলিম ৭১০২
বানী মুজাশি’-এর ভাই ‘ইয়ায ইবনু হিমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাষণ প্রদানকালে আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আদেশ দিয়েছেন। তারপর তিনি কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে হিশাম-এর সানাদে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এ কথা বর্ধিত উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা আমার প্রতি ওয়াহী নাযিল করেছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, কারো উপর কেউ যেন গর্ব না করে এবং কারো প্রতি যেন কেউ যুল্ম না করে। এ হাদীসে এটাও রয়েছে যে, তারা তোমাদের এমন অনুগামী যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ সন্ধান করে না। কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আবূ ‘আবদুল্লাহ! এমনটি কি হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই। জাহিলিয়্যাতের যুগে আমি তাদেরকে পেয়েছি। আর এরূপ এক গোত্রে কোন এক লোক ছিল। সে বকরী চরাতো। দাসী ছাড়া সেখানে তার কাছে কেউ যেত না। তার সাথেই সে সহবাস করত। (ই.ফা. ৬৯৪৬, ই.সে. ৭০০৪)
বানী মুজাশি’-এর ভাই ‘ইয়ায ইবনু হিমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাষণ প্রদানকালে আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আদেশ দিয়েছেন। তারপর তিনি কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে হিশাম-এর সানাদে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এ কথা বর্ধিত উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা আমার প্রতি ওয়াহী নাযিল করেছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, কারো উপর কেউ যেন গর্ব না করে এবং কারো প্রতি যেন কেউ যুল্ম না করে। এ হাদীসে এটাও রয়েছে যে, তারা তোমাদের এমন অনুগামী যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ সন্ধান করে না। কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আবূ ‘আবদুল্লাহ! এমনটি কি হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই। জাহিলিয়্যাতের যুগে আমি তাদেরকে পেয়েছি। আর এরূপ এক গোত্রে কোন এক লোক ছিল। সে বকরী চরাতো। দাসী ছাড়া সেখানে তার কাছে কেউ যেত না। তার সাথেই সে সহবাস করত। (ই.ফা. ৬৯৪৬, ই.সে. ৭০০৪)
সহিহ মুসলিম ৭০৯৯
‘ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি‘ঈ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(তিনি বলেন,) একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবাহ্ প্রদানকালে বললেনঃ সাবধান! আমার প্রতিপালক আজ আমাকে যা শিক্ষা প্রদান করেছেন, এ থেকে তোমাদেরকে এমন বিষয়ের শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন, যে বিষয়ে তোমরা সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। তা হলো এই যে, আমি আমার বান্দাদেরকে যে প্রাচুর্য দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ। আমি আমার সকল বান্দাদেরকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শাইতান এসে তাদেরকে দ্বীন হতে সরিয়ে দেয়। আমি যে সমস্ত জিনিস তাদের জন্য বৈধ করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদেরকে আমার সাথে এমন বিষয়ে অংশীদার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে, যে বিষয়ে আমি কোন প্রমাণ পাঠাইনি। আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে কিতাবীদের কিছু লোক ছাড়া আরব-আজম সকলকে অপছন্দ করেছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে এবং তোমার দ্বারা অন্যদেরকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে আমি তোমাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছি এবং তোমার প্রতি আমি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি কখনো ধুয়ে-মুছে ফেলতে পারবে না। ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় তুমি সেটা পাঠ করবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন কুরায়শ সম্প্রদায়ের লোকেদেরকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ করেছেন। আমি তখন বললাম, হে আমার প্রতিপালক! আমি যদি এ কাজ করি তবে তারা তো আমার মাথা ঙেঙ্গে রুটির মতো টুকরো টুকরো করে ফেলবে। আল্লাহ তা‘আলা বললেন, তারা যেমনিভাবে তোমাকে বহিষ্কার করেছে ঠিক তেমনিভাবে তুমিও তাদেরকে বহিষ্কার করে দাও। তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ করো। আমি তোমাকে সাহায্য করব। ব্যয় করো আল্লাহর পথে, তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। তুমি একটি সেনাদল প্রেরণ করো, আমি অনুরূপ পাঁচটি বাহিনী প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যারা তোমার বিরুদ্ধাচারণ করে তাদের সাথে যুদ্ধ করো। তিন শ্রেণীর মানুষ জান্নাতী হবে। এক প্রকার মানুষ তারা, যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের তাওফীক লাভে ধন্য লোক। দ্বিতীয় ঐ সকল মানুষ, যারা দয়ালূ এবং আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কোমলচিত্ত। তৃতীয় ঐ শ্রেণীর মানুষ, যারা পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, যাঞ্চাকারী নয় এবং সন্তানাদি সম্পন্ন লোক। অতঃপর তিনি বললেন, পাঁচ ধরনের মানুষ জাহান্নামী হবে। এক- এমন দুর্বল মানুষ যাদের মধ্যে পার্থক্য ক্ষমতা নেই, যারা তোমাদের এমন তাবেদার যে, না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনৈশ্বর্য। দুই- এমন খিয়ানতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানত করে যার লালসা কারো নিকটই লুক্কায়িত নেই। তিন- ঐ ব্যক্তি, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিষয়ে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে। অবশেষে তিনি কৃপণতা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ গাস্সান (রহঃ) তার হাদীসের মাঝে (আরবি) অর্থাৎ- “তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় কর, আমিও তোমার জন্য ব্যয় করব” বাক্যটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৬৯৪৩, ই.সে. ৭০০১)
‘ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি‘ঈ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(তিনি বলেন,) একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবাহ্ প্রদানকালে বললেনঃ সাবধান! আমার প্রতিপালক আজ আমাকে যা শিক্ষা প্রদান করেছেন, এ থেকে তোমাদেরকে এমন বিষয়ের শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন, যে বিষয়ে তোমরা সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। তা হলো এই যে, আমি আমার বান্দাদেরকে যে প্রাচুর্য দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ। আমি আমার সকল বান্দাদেরকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শাইতান এসে তাদেরকে দ্বীন হতে সরিয়ে দেয়। আমি যে সমস্ত জিনিস তাদের জন্য বৈধ করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদেরকে আমার সাথে এমন বিষয়ে অংশীদার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে, যে বিষয়ে আমি কোন প্রমাণ পাঠাইনি। আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে কিতাবীদের কিছু লোক ছাড়া আরব-আজম সকলকে অপছন্দ করেছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে এবং তোমার দ্বারা অন্যদেরকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে আমি তোমাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছি এবং তোমার প্রতি আমি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি কখনো ধুয়ে-মুছে ফেলতে পারবে না। ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় তুমি সেটা পাঠ করবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন কুরায়শ সম্প্রদায়ের লোকেদেরকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ করেছেন। আমি তখন বললাম, হে আমার প্রতিপালক! আমি যদি এ কাজ করি তবে তারা তো আমার মাথা ঙেঙ্গে রুটির মতো টুকরো টুকরো করে ফেলবে। আল্লাহ তা‘আলা বললেন, তারা যেমনিভাবে তোমাকে বহিষ্কার করেছে ঠিক তেমনিভাবে তুমিও তাদেরকে বহিষ্কার করে দাও। তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ করো। আমি তোমাকে সাহায্য করব। ব্যয় করো আল্লাহর পথে, তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। তুমি একটি সেনাদল প্রেরণ করো, আমি অনুরূপ পাঁচটি বাহিনী প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যারা তোমার বিরুদ্ধাচারণ করে তাদের সাথে যুদ্ধ করো। তিন শ্রেণীর মানুষ জান্নাতী হবে। এক প্রকার মানুষ তারা, যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের তাওফীক লাভে ধন্য লোক। দ্বিতীয় ঐ সকল মানুষ, যারা দয়ালূ এবং আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কোমলচিত্ত। তৃতীয় ঐ শ্রেণীর মানুষ, যারা পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, যাঞ্চাকারী নয় এবং সন্তানাদি সম্পন্ন লোক। অতঃপর তিনি বললেন, পাঁচ ধরনের মানুষ জাহান্নামী হবে। এক- এমন দুর্বল মানুষ যাদের মধ্যে পার্থক্য ক্ষমতা নেই, যারা তোমাদের এমন তাবেদার যে, না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনৈশ্বর্য। দুই- এমন খিয়ানতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানত করে যার লালসা কারো নিকটই লুক্কায়িত নেই। তিন- ঐ ব্যক্তি, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিষয়ে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে। অবশেষে তিনি কৃপণতা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ গাস্সান (রহঃ) তার হাদীসের মাঝে (আরবি) অর্থাৎ- “তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় কর, আমিও তোমার জন্য ব্যয় করব” বাক্যটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৬৯৪৩, ই.সে. ৭০০১)
সহিহ মুসলিম ৭১০০
কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ
অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি (আরবি) অর্থাৎ “আমি বান্দাকে যে সম্পদ দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ” কথাটি বর্ণনা করেননি। (ই.ফা. ৬৯৪৪, ই.সে. ৭০০২)
কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ
অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি (আরবি) অর্থাৎ “আমি বান্দাকে যে সম্পদ দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ” কথাটি বর্ণনা করেননি। (ই.ফা. ৬৯৪৪, ই.সে. ৭০০২)
সহিহ মুসলিম > মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ঠিকানা উপস্থিত করা হয়, আর কবরের শাস্তি প্রমাণ করা এবং তাত্থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা
সহিহ মুসলিম ৭১০৩
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের কোন লোকের মৃত্যুর পর সকাল-সন্ধ্যা তার সম্মুখে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাতবাসীদের থেকে আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নামীদের থেকে। আর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার বাসস্থান। কিয়ামাতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। (ই.ফা. ৬৯৪৭, ই.সে. ৭০০৫)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের কোন লোকের মৃত্যুর পর সকাল-সন্ধ্যা তার সম্মুখে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাতবাসীদের থেকে আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নামীদের থেকে। আর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার বাসস্থান। কিয়ামাতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। (ই.ফা. ৬৯৪৭, ই.সে. ৭০০৫)
সহিহ মুসলিম ৭১০৪
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাত আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নাম। তারপর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার ঐ বাসস্থান যেখানে তোমাকে কিয়ামাতের দিন পাঠানো হবে। (ই.ফা. ৬৯৪৮, ই.সে. ৭০০৬)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাত আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নাম। তারপর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার ঐ বাসস্থান যেখানে তোমাকে কিয়ামাতের দিন পাঠানো হবে। (ই.ফা. ৬৯৪৮, ই.সে. ৭০০৬)
সহিহ মুসলিম ৭১০৬
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা মৃতদেরকে দাফন করা বর্জন করবে এ ভয় না থাকলে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকে কবরের কিছু ‘আযাব শুনিয়ে দেন। (ই.ফা. ৬৯৫০, ই.সে. ৭০০৮)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা মৃতদেরকে দাফন করা বর্জন করবে এ ভয় না থাকলে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকে কবরের কিছু ‘আযাব শুনিয়ে দেন। (ই.ফা. ৬৯৫০, ই.সে. ৭০০৮)
সহিহ মুসলিম ৭১০৭
আবূ আইয়ূব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যাস্ত হওয়ার পর বের হলেন। এমন সময় তিনি একটি শব্দ শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়াহূদী লোকদেরকে তাদের কবরের মধ্যে ‘আযাব দেয়া হচ্ছে। (ই.ফা. ৬৯৫১, ই.সে. ৭০০৯)
আবূ আইয়ূব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যাস্ত হওয়ার পর বের হলেন। এমন সময় তিনি একটি শব্দ শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়াহূদী লোকদেরকে তাদের কবরের মধ্যে ‘আযাব দেয়া হচ্ছে। (ই.ফা. ৬৯৫১, ই.সে. ৭০০৯)
সহিহ মুসলিম ৭১০৯
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃতদেরকে যখন তার কবরে রাখা হয় তখন সে তার সঙ্গী-সাথীদের ফিরে আসার সময় তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। (ই.ফা. ৬৯৫৩, ই.সে. ৭০১১)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃতদেরকে যখন তার কবরে রাখা হয় তখন সে তার সঙ্গী-সাথীদের ফিরে আসার সময় তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। (ই.ফা. ৬৯৫৩, ই.সে. ৭০১১)
সহিহ মুসলিম ৭১০৮
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরের মধ্যে রেখে তার সঙ্গী-সাথীরা সেখান থেকে ফিরে আসে এবং সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় তখন তার কাছে দু’জন ফেরেশ্তা এসে তাকে উঠিয়ে বসান। তারপর তাকে তারা জিজ্ঞেস করে, এ লোকটির ব্যাপারে তুমি কি বলতে? মু’মিন বান্দা তখন বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল। তখন তাকে বলা হয়, জাহান্নামে তুমি তোমার আসন দেখে নাও। আল্লাহ তা‘আলা তোমার এ আসনকে জান্নাতের আসনের দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তখন সে তার উভয় আসন অবলোকন করে নেয়। বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতঃপর তার কবরকে (দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে) সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয় এবং সবুজ শ্যামল গাছের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় কিয়ামাত পর্যন্ত। (ই.ফা. ৬৯৫২, ই.সে. ৭০১০)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরের মধ্যে রেখে তার সঙ্গী-সাথীরা সেখান থেকে ফিরে আসে এবং সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় তখন তার কাছে দু’জন ফেরেশ্তা এসে তাকে উঠিয়ে বসান। তারপর তাকে তারা জিজ্ঞেস করে, এ লোকটির ব্যাপারে তুমি কি বলতে? মু’মিন বান্দা তখন বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল। তখন তাকে বলা হয়, জাহান্নামে তুমি তোমার আসন দেখে নাও। আল্লাহ তা‘আলা তোমার এ আসনকে জান্নাতের আসনের দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তখন সে তার উভয় আসন অবলোকন করে নেয়। বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতঃপর তার কবরকে (দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে) সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয় এবং সবুজ শ্যামল গাছের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় কিয়ামাত পর্যন্ত। (ই.ফা. ৬৯৫২, ই.সে. ৭০১০)
সহিহ মুসলিম ৭১১০
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রেখে তার সঙ্গী-সাথীগণ প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর সা‘ঈদ (রহঃ) শাইবান-এর সানাদে কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৫৪, ই.সে. ৭০১২)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রেখে তার সঙ্গী-সাথীগণ প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর সা‘ঈদ (রহঃ) শাইবান-এর সানাদে কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৫৪, ই.সে. ৭০১২)
সহিহ মুসলিম ৭১১৩
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মু’মিন লোকের রূহ্ কব্য করার পর দু’জন ফেরেশ্তা এসে তার রূহ আকাশের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা্ (রাঃ) এখানে ঐ রূহের সুগন্ধি এবং মিশ্কের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আকাশের বাসিন্দারা বলতে থাকে, এক পবিত্রাত্মা পৃথিবী হতে আগমন করেছে! আল্লাহ তোমার প্রতি এবং তোমার আবাদকৃত শরীরের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। তারপর তাকে তার প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আর যখন কোন কাফির লোকের রূহ বের হয়- বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা্ (রাঃ) এখানে তার দুর্গন্ধ এবং তার প্রতি অভিসম্পাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরা বলতে থাকে, এক অপবিত্র আত্মা দুনিয়া হতে এসেছে। অতঃপর বলা হয়, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আবূ হুরায়রা্ (রাঃ) বলেন, এ সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গায়ে জড়ানো একটি পাতলা কাপড় দ্বারা নিজের নাকটি এভাবে ধরলেন। (ই.ফা. ৬৯৫৭, ই.সে. ৭০১৫)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মু’মিন লোকের রূহ্ কব্য করার পর দু’জন ফেরেশ্তা এসে তার রূহ আকাশের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা্ (রাঃ) এখানে ঐ রূহের সুগন্ধি এবং মিশ্কের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আকাশের বাসিন্দারা বলতে থাকে, এক পবিত্রাত্মা পৃথিবী হতে আগমন করেছে! আল্লাহ তোমার প্রতি এবং তোমার আবাদকৃত শরীরের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। তারপর তাকে তার প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আর যখন কোন কাফির লোকের রূহ বের হয়- বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা্ (রাঃ) এখানে তার দুর্গন্ধ এবং তার প্রতি অভিসম্পাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরা বলতে থাকে, এক অপবিত্র আত্মা দুনিয়া হতে এসেছে। অতঃপর বলা হয়, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আবূ হুরায়রা্ (রাঃ) বলেন, এ সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গায়ে জড়ানো একটি পাতলা কাপড় দ্বারা নিজের নাকটি এভাবে ধরলেন। (ই.ফা. ৬৯৫৭, ই.সে. ৭০১৫)
সহিহ মুসলিম ৭১১৪
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে একদা আমরা মাক্কাহ্ ও মাদীনার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম। তখন আমরা চাঁদ দেখছিলাম। আমি তীক্ষ্ন দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলাম, তাই আমি চাঁদ দেখে ফেললাম। আমি ব্যতীত কেউ বলেনি যে, সে চাঁদ দেখেছে। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বলছিলাম, আপনি কি চাঁদ দেখছেন না? এ-ই তো চাঁদ। কিন্তু তিনি দেখছিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বলছিলেন, আমি আমার বিছানায় শুয়ে থেকেই তা দেখতে পাব। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কাফিরদের (নিহত হবার) ঘটনার অবস্থা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। বললেন, গতকাল বাদ্র যোদ্ধাদের ধরাশায়ী হবার স্থান রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে (পূর্ব থেকেই) দেখাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এটা অমুকের ধরাশায়ী হবার স্থান। বর্ণনাকারী বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেনঃ শপথ সে সত্তার! যিনি তাঁকে সত্য বাণী সহ পাঠিয়েছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সীমারেখা বলে দিয়েছেন, তারা সে সীমারেখা একটুও অতিক্রম করেনি। তারপর তাদেরকে একটি কূপে একজনের উপর অপরজনকে নিক্ষেপ করা হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে গিয়ে বললেন, হে অমুকের ছেলে অমুক, হে অমুকের ছেলে অমুক! আল্লাহ ও তাঁর রসূল যে ওয়া‘দা তোমাদের সঙ্গে করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পেয়েছ? আমার প্রতিপালক আমার সঙ্গে যে ওয়া‘দা করেছেন আমি তা বাস্তবে সঠিক পেয়েছি। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যেসব দেহে প্রাণ নেই, আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি যা বলছি, তা তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনছ না। তবে তারা এ কথার প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম। (ই.ফা. ৬৯৫৮, ই.সে. ৭০১৬)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে একদা আমরা মাক্কাহ্ ও মাদীনার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম। তখন আমরা চাঁদ দেখছিলাম। আমি তীক্ষ্ন দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলাম, তাই আমি চাঁদ দেখে ফেললাম। আমি ব্যতীত কেউ বলেনি যে, সে চাঁদ দেখেছে। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বলছিলাম, আপনি কি চাঁদ দেখছেন না? এ-ই তো চাঁদ। কিন্তু তিনি দেখছিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বলছিলেন, আমি আমার বিছানায় শুয়ে থেকেই তা দেখতে পাব। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কাফিরদের (নিহত হবার) ঘটনার অবস্থা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। বললেন, গতকাল বাদ্র যোদ্ধাদের ধরাশায়ী হবার স্থান রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে (পূর্ব থেকেই) দেখাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এটা অমুকের ধরাশায়ী হবার স্থান। বর্ণনাকারী বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেনঃ শপথ সে সত্তার! যিনি তাঁকে সত্য বাণী সহ পাঠিয়েছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সীমারেখা বলে দিয়েছেন, তারা সে সীমারেখা একটুও অতিক্রম করেনি। তারপর তাদেরকে একটি কূপে একজনের উপর অপরজনকে নিক্ষেপ করা হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে গিয়ে বললেন, হে অমুকের ছেলে অমুক, হে অমুকের ছেলে অমুক! আল্লাহ ও তাঁর রসূল যে ওয়া‘দা তোমাদের সঙ্গে করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পেয়েছ? আমার প্রতিপালক আমার সঙ্গে যে ওয়া‘দা করেছেন আমি তা বাস্তবে সঠিক পেয়েছি। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যেসব দেহে প্রাণ নেই, আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি যা বলছি, তা তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনছ না। তবে তারা এ কথার প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম। (ই.ফা. ৬৯৫৮, ই.সে. ৭০১৬)
সহিহ মুসলিম ৭১১৬
আবূ তাল্হাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কাফিরদের উপরি বিজয়ী হলেন, তখন তিনি বিশের অধিক কুরায়শ নেতৃবৃন্দ। অপর হাদীসে রাওহ (রাঃ) বলেন, চব্বিশ জন কুরায়শ নেতৃবৃন্দ সম্বন্ধে আদেশ দিলেন। তারপর তাদের লাশ বাদ্র প্রান্তে এক নোংরা আবর্জনাপূর্ণ কুয়ায় নিক্ষেপ করা হলো। অতঃপর তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত সাবিত-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৬০, ই.সে. ৭০১৮)
আবূ তাল্হাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কাফিরদের উপরি বিজয়ী হলেন, তখন তিনি বিশের অধিক কুরায়শ নেতৃবৃন্দ। অপর হাদীসে রাওহ (রাঃ) বলেন, চব্বিশ জন কুরায়শ নেতৃবৃন্দ সম্বন্ধে আদেশ দিলেন। তারপর তাদের লাশ বাদ্র প্রান্তে এক নোংরা আবর্জনাপূর্ণ কুয়ায় নিক্ষেপ করা হলো। অতঃপর তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত সাবিত-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৬০, ই.সে. ৭০১৮)
সহিহ মুসলিম ৭১১৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদর যুদ্ধে নিহত লোকদেরকে তিন দিন পর্যন্ত এভাবেই রেখে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাদের কাছে এসে তাদের লাশের সামনে দাঁড়ালেন এবং তাদেরকে উচ্চ আওয়াজে বললেন, হে হিশামের পুত্র আবূ জাহল! হে উমায়্যাহ্ ইবনু খালাফ! হে ‘উত্বাহ্ ইবনু রাবী‘আহ্! হে শাইবাহ্ ইবনু রাবী‘আহ্! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সঙ্গে যা ওয়া’দা করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পাওনি? আমার প্রতিপালক আমার সাথে যা ওয়া’দা করেছেন আমি তা বাস্তবে পেয়েছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ কথা ‘উমার (রাঃ) শুনে বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তারা তো মৃত। কিভাবে তারা শুনবে এবং কিভাবে তারা উত্তর দিবে? তিনি বললেন, আমি তাদেরকে যা বলছি এ কথা তাদের থেকে তোমরা বেশি শুনছ না। তবে তারা প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম। অতঃপর তিনি তাদের সম্বন্ধে আদেশ দিলে তাদেরকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে বাদ্রের কূপে নিক্ষেপ করা হলো। [৯] (ই.ফা. ৬৯৫৯, ই.সে. ৭০১৭)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদর যুদ্ধে নিহত লোকদেরকে তিন দিন পর্যন্ত এভাবেই রেখে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাদের কাছে এসে তাদের লাশের সামনে দাঁড়ালেন এবং তাদেরকে উচ্চ আওয়াজে বললেন, হে হিশামের পুত্র আবূ জাহল! হে উমায়্যাহ্ ইবনু খালাফ! হে ‘উত্বাহ্ ইবনু রাবী‘আহ্! হে শাইবাহ্ ইবনু রাবী‘আহ্! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সঙ্গে যা ওয়া’দা করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পাওনি? আমার প্রতিপালক আমার সাথে যা ওয়া’দা করেছেন আমি তা বাস্তবে পেয়েছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ কথা ‘উমার (রাঃ) শুনে বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তারা তো মৃত। কিভাবে তারা শুনবে এবং কিভাবে তারা উত্তর দিবে? তিনি বললেন, আমি তাদেরকে যা বলছি এ কথা তাদের থেকে তোমরা বেশি শুনছ না। তবে তারা প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম। অতঃপর তিনি তাদের সম্বন্ধে আদেশ দিলে তাদেরকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে বাদ্রের কূপে নিক্ষেপ করা হলো। [৯] (ই.ফা. ৬৯৫৯, ই.সে. ৭০১৭)
সহিহ মুসলিম ৭১১১
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)- এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি আল্লাহর বাণী : “যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন” সম্পর্কে বলেন, এ আয়াত কবরের ‘আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কবরে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ এবং আমার নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এটাই আল্লাহর নিম্নবর্ণিত বাণীর মর্ম, “যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন”। (ই.ফা. ৬৯৫৫, ই.সে. ৭০১৩)
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)- এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি আল্লাহর বাণী : “যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন” সম্পর্কে বলেন, এ আয়াত কবরের ‘আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কবরে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ এবং আমার নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এটাই আল্লাহর নিম্নবর্ণিত বাণীর মর্ম, “যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন”। (ই.ফা. ৬৯৫৫, ই.সে. ৭০১৩)
সহিহ মুসলিম ৭১১২
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর বাণী : “যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন”- (সূরাহ্ ইব্রাহীম ১৪ : ২৭) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এ আয়াতটি কবরের শাস্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। (ই.ফা. ৬৯৫৬, ই.সে. ৭০১৪)
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর বাণী : “যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন”- (সূরাহ্ ইব্রাহীম ১৪ : ২৭) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এ আয়াতটি কবরের শাস্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। (ই.ফা. ৬৯৫৬, ই.সে. ৭০১৪)
সহিহ মুসলিম ৭১০৫
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর সূত্রে আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ সা‘ঈদ আল খুদ্রী (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম না, বরং আমাকে যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজ্জার গোত্রের একটি প্রাচীর ঘেরা বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। এ সময় আমরা তাঁর সাথে ছিলাম। অকস্মাৎ তা লাফিয়ে উঠল এবং তাঁকে ফেলে দেয়ার উপক্রম করল। দেখা গেল, সেখানে ছয়টি কিংবা পাঁচটি অথবা চারটি কবর রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, জুরাইরী এমনটিই বর্ণনা করতেন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করলেন, এ কবরবাসীদেরকে কে চিনে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি চিনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে? তিনি বললেন, তারা শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ উম্মাতকে তাদের কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এ আশঙ্কা না হলে আমি আল্লাহর নিকট দু‘আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকেও কবরের ‘আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি। তারপর তিনি আমাদের প্রতি মনোনিবেশ করে বললেন, তোমরা সাবই জাহান্নামের ‘আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সহাবাগণ বললেন, জাহান্নামের শাস্তি হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা সকলে কবরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সহাবাগণ বললেন, কবরের ‘আযাব হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। তারা বললেন, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তিনি আবারো বললেন, তোমরা দাজ্জালের ফিতনা হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। সহাবাগণ বললেন, দাজ্জালের ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। (ই.ফা. ৬৯৪৯, ই.সে. ৭০০৭)
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর সূত্রে আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ সা‘ঈদ আল খুদ্রী (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম না, বরং আমাকে যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজ্জার গোত্রের একটি প্রাচীর ঘেরা বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। এ সময় আমরা তাঁর সাথে ছিলাম। অকস্মাৎ তা লাফিয়ে উঠল এবং তাঁকে ফেলে দেয়ার উপক্রম করল। দেখা গেল, সেখানে ছয়টি কিংবা পাঁচটি অথবা চারটি কবর রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, জুরাইরী এমনটিই বর্ণনা করতেন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করলেন, এ কবরবাসীদেরকে কে চিনে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি চিনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে? তিনি বললেন, তারা শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ উম্মাতকে তাদের কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এ আশঙ্কা না হলে আমি আল্লাহর নিকট দু‘আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকেও কবরের ‘আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি। তারপর তিনি আমাদের প্রতি মনোনিবেশ করে বললেন, তোমরা সাবই জাহান্নামের ‘আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সহাবাগণ বললেন, জাহান্নামের শাস্তি হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা সকলে কবরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সহাবাগণ বললেন, কবরের ‘আযাব হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। তারা বললেন, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তিনি আবারো বললেন, তোমরা দাজ্জালের ফিতনা হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। সহাবাগণ বললেন, দাজ্জালের ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। (ই.ফা. ৬৯৪৯, ই.সে. ৭০০৭)
সহিহ মুসলিম > হিসাব-নিকাশের বর্ণনা
সহিহ মুসলিম ৭১১৭
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কিয়ামাতের দিন যার হিসাব (কষাকেষিভাবে) করা হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তা‘আলা কি বলেননি : (আরবি) “তার হিসাব-নিকাশ সহজেই নেয়া হবে”। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃএ তো হিসাব নয় বরং এটা তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ কিয়ামাতের দিন যার হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। (ই.ফা. ৬৯৬১, ই.সে. ৭০১৯)
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কিয়ামাতের দিন যার হিসাব (কষাকেষিভাবে) করা হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তা‘আলা কি বলেননি : (আরবি) “তার হিসাব-নিকাশ সহজেই নেয়া হবে”। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃএ তো হিসাব নয় বরং এটা তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ কিয়ামাতের দিন যার হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। (ই.ফা. ৬৯৬১, ই.সে. ৭০১৯)
সহিহ মুসলিম ৭১২০
‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যার হিসাব নেয়া হবে তার ধ্বংস অবধারিত। এরপর ‘উসমান ইবনু আসওয়াদ (রহঃ) আবূ ইউনুস-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৬৪, ই.সে. ৭০২২)
‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যার হিসাব নেয়া হবে তার ধ্বংস অবধারিত। এরপর ‘উসমান ইবনু আসওয়াদ (রহঃ) আবূ ইউনুস-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৬৪, ই.সে. ৭০২২)
সহিহ মুসলিম ৭১১৯
‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যারই হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার ধ্বংস অনিবার্য। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ কি সহজ হিসাবের কথা বলেননি? তিনি বললেন, এ তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ যার হিসাবে কষাকষি করা হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। (ই.ফা. ৬৯৬৩, ই.সে. ৭০২১)
‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যারই হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার ধ্বংস অনিবার্য। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ কি সহজ হিসাবের কথা বলেননি? তিনি বললেন, এ তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ যার হিসাবে কষাকষি করা হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। (ই.ফা. ৬৯৬৩, ই.সে. ৭০২১)
সহিহ মুসলিম ৭১১৮
আইয়ূব (রহঃ) হতে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ
অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৬২, ই.সে. ৭০২০)
আইয়ূব (রহঃ) হতে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ
অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৬২, ই.সে. ৭০২০)