সহিহ মুসলিম > তিন গর্তবাসীর ঘটনা এবং সৎকর্মকে ওয়াসীলা করা সংক্রান্ত
সহিহ মুসলিম ৬৮৪৪
حدثني محمد بن سهل التميمي، وعبد الله بن عبد الرحمن بن بهرام، وأبو بكر بن إسحاق قال ابن سهل حدثنا وقال الآخران، أخبرنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، عن الزهري، أخبرني سالم بن عبد الله، أن عبد الله بن عمر، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " انطلق ثلاثة رهط ممن كان قبلكم حتى آواهم المبيت إلى غار " . واقتص الحديث بمعنى حديث نافع عن ابن عمر غير أنه قال قال رجل منهم " اللهم كان لي أبوان شيخان كبيران فكنت لا أغبق قبلهما أهلا ولا مالا " . وقال " فامتنعت مني حتى ألمت بها سنة من السنين فجاءتني فأعطيتها عشرين ومائة دينار " . وقال " فثمرت أجره حتى كثرت منه الأموال فارتعجت " . وقال " فخرجوا من الغار يمشون
ইমাম যুহরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেছেনঃ আমি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আগেকার উম্মাতের মাঝে তিনজন লোক একদিকে যাত্রা শুরু করেন, অবশেষে সন্ধ্যাবেলায় এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলেন।... তারপর নাফি‘ বর্ণিত হাদীসের একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইবনু ‘উমার বলেন, তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, আমার দুই বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিল। আমি কক্ষনও তাঁদের পূর্বে পরিজনকে সন্ধ্যায় খাবার খাওয়াতাম না এবং তিনি (ইবনু ‘উমার) বলেন, (চাচাতো বোনটি) আমার প্রস্তাবে রাজী হলো না। পরিশেষে সে অভাব-অনটনে আপতিত হলে আমার কাছে আসল। তখন আমি তাকে একশ’ বিশটি দিনার দিলাম। আর তিনি বলেন, আমি তার পাওনাটা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলাম। ফলে অনেক ধন-সম্পদ হয়ে গেল, এরপর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকল এবং তিনি বলেন, অতঃপর তারা গুহা হতে বের হয়ে চলতে লাগল। (ই.ফা. নেই, ই.সে. ৬৭৫৪)
ইমাম যুহরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেছেনঃ আমি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আগেকার উম্মাতের মাঝে তিনজন লোক একদিকে যাত্রা শুরু করেন, অবশেষে সন্ধ্যাবেলায় এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলেন।... তারপর নাফি‘ বর্ণিত হাদীসের একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইবনু ‘উমার বলেন, তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, আমার দুই বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিল। আমি কক্ষনও তাঁদের পূর্বে পরিজনকে সন্ধ্যায় খাবার খাওয়াতাম না এবং তিনি (ইবনু ‘উমার) বলেন, (চাচাতো বোনটি) আমার প্রস্তাবে রাজী হলো না। পরিশেষে সে অভাব-অনটনে আপতিত হলে আমার কাছে আসল। তখন আমি তাকে একশ’ বিশটি দিনার দিলাম। আর তিনি বলেন, আমি তার পাওনাটা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলাম। ফলে অনেক ধন-সম্পদ হয়ে গেল, এরপর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকল এবং তিনি বলেন, অতঃপর তারা গুহা হতে বের হয়ে চলতে লাগল। (ই.ফা. নেই, ই.সে. ৬৭৫৪)
حدثني محمد بن سهل التميمي، وعبد الله بن عبد الرحمن بن بهرام، وأبو بكر بن إسحاق قال ابن سهل حدثنا وقال الآخران، أخبرنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، عن الزهري، أخبرني سالم بن عبد الله، أن عبد الله بن عمر، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " انطلق ثلاثة رهط ممن كان قبلكم حتى آواهم المبيت إلى غار " . واقتص الحديث بمعنى حديث نافع عن ابن عمر غير أنه قال قال رجل منهم " اللهم كان لي أبوان شيخان كبيران فكنت لا أغبق قبلهما أهلا ولا مالا " . وقال " فامتنعت مني حتى ألمت بها سنة من السنين فجاءتني فأعطيتها عشرين ومائة دينار " . وقال " فثمرت أجره حتى كثرت منه الأموال فارتعجت " . وقال " فخرجوا من الغار يمشون
সহিহ মুসলিম ৬৮৪৩
وحدثنا إسحاق بن منصور، وعبد بن حميد، قالا أخبرنا أبو عاصم، عن ابن، جريج أخبرني موسى بن عقبة، ح وحدثني سويد بن سعيد، حدثنا علي بن مسهر، عن عبيد الله، ح وحدثني أبو كريب، ومحمد بن طريف البجلي، قالا حدثنا ابن فضيل، حدثنا أبي ورقبة بن مسقلة، ح وحدثني زهير بن حرب، وحسن الحلواني، وعبد بن حميد، قالوا حدثنا يعقوب، - يعنون ابن إبراهيم بن سعد - حدثنا أبي، عن صالح بن كيسان، كلهم عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمعنى حديث أبي ضمرة عن موسى بن عقبة وزادوا في حديثهم " وخرجوا يمشون " . وفي حديث صالح " يتماشون " . إلا عبيد الله فإن في حديثه " وخرجوا " . ولم يذكر بعدها شيئا .
ইসহাক্ ইবনু মানসূর ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ, সুওয়াইদ ইবনু সা‘ঈদ, আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনু তারীফ আল বাজালী, যুহায়র ইবনু হার্ব, হাসান আল হুলওয়ানী, ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ)- এরা সকলেই ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
মূসা ইবনু ‘উক্বাহ্ (রহঃ)-এর সানাদে আবূ যামরাহ্ (রহঃ)-এর হাদীসের মর্ম অনুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তাঁদের হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন, (আরবী) ‘তারা পায়ে হেঁটে বের হয়েছিল’। সালিহ্ (রহঃ)-এর হাদীসে (আরবী) ‘তারা পায়ে হেঁটে চলছিল’ বর্ণনা রয়েছে। ‘উবাইদুল্লাহ তার হাদীসে (আরবী) “তারা বের হলো” বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কোন বিষয় বর্ণনা করেননি। (ই.ফা. ৬৬৯৯, ই.সে. ৬৭৫৩)
ইসহাক্ ইবনু মানসূর ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ, সুওয়াইদ ইবনু সা‘ঈদ, আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনু তারীফ আল বাজালী, যুহায়র ইবনু হার্ব, হাসান আল হুলওয়ানী, ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ)- এরা সকলেই ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
মূসা ইবনু ‘উক্বাহ্ (রহঃ)-এর সানাদে আবূ যামরাহ্ (রহঃ)-এর হাদীসের মর্ম অনুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তাঁদের হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন, (আরবী) ‘তারা পায়ে হেঁটে বের হয়েছিল’। সালিহ্ (রহঃ)-এর হাদীসে (আরবী) ‘তারা পায়ে হেঁটে চলছিল’ বর্ণনা রয়েছে। ‘উবাইদুল্লাহ তার হাদীসে (আরবী) “তারা বের হলো” বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কোন বিষয় বর্ণনা করেননি। (ই.ফা. ৬৬৯৯, ই.সে. ৬৭৫৩)
وحدثنا إسحاق بن منصور، وعبد بن حميد، قالا أخبرنا أبو عاصم، عن ابن، جريج أخبرني موسى بن عقبة، ح وحدثني سويد بن سعيد، حدثنا علي بن مسهر، عن عبيد الله، ح وحدثني أبو كريب، ومحمد بن طريف البجلي، قالا حدثنا ابن فضيل، حدثنا أبي ورقبة بن مسقلة، ح وحدثني زهير بن حرب، وحسن الحلواني، وعبد بن حميد، قالوا حدثنا يعقوب، - يعنون ابن إبراهيم بن سعد - حدثنا أبي، عن صالح بن كيسان، كلهم عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمعنى حديث أبي ضمرة عن موسى بن عقبة وزادوا في حديثهم " وخرجوا يمشون " . وفي حديث صالح " يتماشون " . إلا عبيد الله فإن في حديثه " وخرجوا " . ولم يذكر بعدها شيئا .
সহিহ মুসলিম ৬৮৪২
حدثني محمد بن إسحاق المسيبي، حدثني أنس، - يعني ابن عياض أبا ضمرة - عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال " بينما ثلاثة نفر يتمشون أخذهم المطر فأووا إلى غار في جبل فانحطت على فم غارهم صخرة من الجبل فانطبقت عليهم فقال بعضهم لبعض انظروا أعمالا عملتموها صالحة لله فادعوا الله تعالى بها لعل الله يفرجها عنكم . فقال أحدهم اللهم إنه كان لي والدان شيخان كبيران وامرأتي ولي صبية صغار أرعى عليهم فإذا أرحت عليهم حلبت فبدأت بوالدى فسقيتهما قبل بني وأنه نأى بي ذات يوم الشجر فلم آت حتى أمسيت فوجدتهما قد ناما فحلبت كما كنت أحلب فجئت بالحلاب فقمت عند رءوسهما أكره أن أوقظهما من نومهما وأكره أن أسقي الصبية قبلهما والصبية يتضاغون عند قدمى فلم يزل ذلك دأبي ودأبهم حتى طلع الفجر فإن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج لنا منها فرجة نرى منها السماء . ففرج الله منها فرجة فرأوا منها السماء . وقال الآخر اللهم إنه كانت لي ابنة عم أحببتها كأشد ما يحب الرجال النساء وطلبت إليها نفسها فأبت حتى آتيها بمائة دينار فتعبت حتى جمعت مائة دينار فجئتها بها فلما وقعت بين رجليها قالت يا عبد الله اتق الله ولا تفتح الخاتم إلا بحقه . فقمت عنها فإن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج لنا منها فرجة . ففرج لهم . وقال الآخر اللهم إني كنت استأجرت أجيرا بفرق أرز فلما قضى عمله قال أعطني حقي . فعرضت عليه فرقه فرغب عنه فلم أزل أزرعه حتى جمعت منه بقرا ورعاءها فجاءني فقال اتق الله ولا تظلمني حقي . قلت اذهب إلى تلك البقر ورعائها فخذها . فقال اتق الله ولا تستهزئ بي . فقلت إني لا أستهزئ بك خذ ذلك البقر ورعاءها . فأخذه فذهب به فإن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج لنا ما بقي . ففرج الله ما بقي .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, এক সময় তিন লোক পথে হেঁটে চলতে চলতে ঝড়-বৃষ্টি নেমে গেল। তখন তারা একটি পাহাড়ের গর্তে আশ্রয় নিল। ইতোমধ্যে পাহাড় হতে একটি পাথর খণ্ড খসে পরে তাদের গর্তে মুখ ঢেকে দিল। ফলে গর্তে মুখ বন্ধ হয়ে গেল। সে মুহুর্তে তারা পরস্পরকে বলতে লাগল, নিজ নিজ সৎ ‘আমালের প্রতি খেয়াল করো যা তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করেছ এবং সে সৎকর্মের ওয়াসীলার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট দু‘আ করতে থাকো। এমন হতে পারে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের এ মহাবিপদ (পাথরটি সরিয়ে) হতে নিষ্কৃতি দিবেন। তখন তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ। আমার একজন স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান-সন্ততি ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্য মেষ-বকরী মাঠে চরাতাম। (সন্ধ্যায়) ঘরে ফিরে এসে তাদের জন্য আমি সেগুলোকে দুধ দোহন করতাম এবং আমি আমার সন্তানদের পূর্বে প্রথমেই আমার পিতা-মাতাকে দুধ পান করাতাম। একদিন একটি গাছের সন্ধানে অনেক দূরে যেতে হলো, ফলে আমার ঘরে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। (ফিরে এসে) আমি তাদের (পিতা-মাতা) দু’জনকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। তারপর আমি আগের মতই দুধ দোহন করলাম। তারপর আমি দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার মাথার নিকট দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং তাদের ঘুম ভাঙ্গানো ঠিক মনে করলাম না এবং তাদের পূর্বে সন্তানদেরকে দুধ পান করানোও পছন্দ করলাম না। সে মুহুর্তে (আমার) সন্তানরা ক্ষুধার তাড়নায় আমার দু’পায়ের কাছে কাতরাচ্ছিল। তাদের ও আমার এ অবস্থা চলতে থাকলো। এ অবস্থায় শেষে ভোর হয়ে গেলো। যদি তুমি মনে কর যে, আমি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি, তাহলে আমাদের জন্য কিছুটা ফাঁকা করে দাও, যাদ্বারা আমরা আকাশ দেখতে পাই। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাতে একটু ফাঁকা করে দিলেন। তা দিয়ে তারা আকাশ দেখতে পেলেন। অপর জন বলল, হে আল্লাহ! আমার ঘটনা এই যে, আমার এক চাচাতো বোন ছিল কোন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসার মতই আমি তাকে অত্যধিক ভালবাসতাম এবং আমি তাকে একান্ত কাছে পেতে চাইলাম (যৌন আবেদন করলাম)। সে তা প্রত্যাখ্যান করল এবং (অবশেষে) একশ’ দীনার বিনিময় চাইল। অতঃপর আমি কষ্ট করে একশ’ দীনার জমা করলাম। তারপর সেগুলো নিয়ে তার নিকট আসলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মধ্যখানে বসলাম, সে সময় তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো। বিবাহ ব্যাতীত সতিত্ব নষ্ট করো না। এ কথা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালাম। তুমি যদি মনে কর যে, শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি এ কাজ করেছি তবে আমাদের জন্য একটু ফাঁকা করে দাও। তখন তিনি তাদের জন্য আরেকটু ফাঁকা করে দিলেন। অন্য লোকটি বলল, হে আল্লাহ! আমি এক ‘ফারাক’ (প্রায় সাত কিলোগ্রাম) শস্যের বিনিময়ে একজন মজদুর নিযুক্ত করেছিলাম। সে তার কর্ম শেষ করলো এবং বলল, আমাকে আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি এক ফারাক (শস্য) তার সামনে পেশ করলাম। কিন্তু সে তা না নিয়ে চলে গেল। আমি সে শস্য জমিনে চাষ করতে থাকলাম। শেষ অবধি তা দিয়ে গরু-বকরী ও রাখাল সংগ্রহ করলাম। পরে সে আমার নিকট আসলো এবং বলল, আল্লাহকে ভয় করো। আর আমার পাওনা আদায় করতে আমার উপর অবিচার করো না। আমি বললাম, তুমি এ (সমস্ত) গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম, সত্যিই আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। এ গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। অতঃপর সে তা নিয়ে চলে গেল। যদি তুমি জান যে, আমি এ কর্মটি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি তাহলে অবশিষ্টাংশ ফাঁকা করে দাও। তখন আল্লাহ তা‘আলা গুহার মুখের বাকী অংশটুকু ফাঁকা করে দিলেন। (ই.ফা. ৬৬৯৮, ই.সে. ৬৭৫২)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, এক সময় তিন লোক পথে হেঁটে চলতে চলতে ঝড়-বৃষ্টি নেমে গেল। তখন তারা একটি পাহাড়ের গর্তে আশ্রয় নিল। ইতোমধ্যে পাহাড় হতে একটি পাথর খণ্ড খসে পরে তাদের গর্তে মুখ ঢেকে দিল। ফলে গর্তে মুখ বন্ধ হয়ে গেল। সে মুহুর্তে তারা পরস্পরকে বলতে লাগল, নিজ নিজ সৎ ‘আমালের প্রতি খেয়াল করো যা তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করেছ এবং সে সৎকর্মের ওয়াসীলার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট দু‘আ করতে থাকো। এমন হতে পারে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের এ মহাবিপদ (পাথরটি সরিয়ে) হতে নিষ্কৃতি দিবেন। তখন তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ। আমার একজন স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান-সন্ততি ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্য মেষ-বকরী মাঠে চরাতাম। (সন্ধ্যায়) ঘরে ফিরে এসে তাদের জন্য আমি সেগুলোকে দুধ দোহন করতাম এবং আমি আমার সন্তানদের পূর্বে প্রথমেই আমার পিতা-মাতাকে দুধ পান করাতাম। একদিন একটি গাছের সন্ধানে অনেক দূরে যেতে হলো, ফলে আমার ঘরে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। (ফিরে এসে) আমি তাদের (পিতা-মাতা) দু’জনকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। তারপর আমি আগের মতই দুধ দোহন করলাম। তারপর আমি দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার মাথার নিকট দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং তাদের ঘুম ভাঙ্গানো ঠিক মনে করলাম না এবং তাদের পূর্বে সন্তানদেরকে দুধ পান করানোও পছন্দ করলাম না। সে মুহুর্তে (আমার) সন্তানরা ক্ষুধার তাড়নায় আমার দু’পায়ের কাছে কাতরাচ্ছিল। তাদের ও আমার এ অবস্থা চলতে থাকলো। এ অবস্থায় শেষে ভোর হয়ে গেলো। যদি তুমি মনে কর যে, আমি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি, তাহলে আমাদের জন্য কিছুটা ফাঁকা করে দাও, যাদ্বারা আমরা আকাশ দেখতে পাই। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাতে একটু ফাঁকা করে দিলেন। তা দিয়ে তারা আকাশ দেখতে পেলেন। অপর জন বলল, হে আল্লাহ! আমার ঘটনা এই যে, আমার এক চাচাতো বোন ছিল কোন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসার মতই আমি তাকে অত্যধিক ভালবাসতাম এবং আমি তাকে একান্ত কাছে পেতে চাইলাম (যৌন আবেদন করলাম)। সে তা প্রত্যাখ্যান করল এবং (অবশেষে) একশ’ দীনার বিনিময় চাইল। অতঃপর আমি কষ্ট করে একশ’ দীনার জমা করলাম। তারপর সেগুলো নিয়ে তার নিকট আসলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মধ্যখানে বসলাম, সে সময় তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো। বিবাহ ব্যাতীত সতিত্ব নষ্ট করো না। এ কথা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালাম। তুমি যদি মনে কর যে, শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি এ কাজ করেছি তবে আমাদের জন্য একটু ফাঁকা করে দাও। তখন তিনি তাদের জন্য আরেকটু ফাঁকা করে দিলেন। অন্য লোকটি বলল, হে আল্লাহ! আমি এক ‘ফারাক’ (প্রায় সাত কিলোগ্রাম) শস্যের বিনিময়ে একজন মজদুর নিযুক্ত করেছিলাম। সে তার কর্ম শেষ করলো এবং বলল, আমাকে আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি এক ফারাক (শস্য) তার সামনে পেশ করলাম। কিন্তু সে তা না নিয়ে চলে গেল। আমি সে শস্য জমিনে চাষ করতে থাকলাম। শেষ অবধি তা দিয়ে গরু-বকরী ও রাখাল সংগ্রহ করলাম। পরে সে আমার নিকট আসলো এবং বলল, আল্লাহকে ভয় করো। আর আমার পাওনা আদায় করতে আমার উপর অবিচার করো না। আমি বললাম, তুমি এ (সমস্ত) গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম, সত্যিই আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। এ গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। অতঃপর সে তা নিয়ে চলে গেল। যদি তুমি জান যে, আমি এ কর্মটি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি তাহলে অবশিষ্টাংশ ফাঁকা করে দাও। তখন আল্লাহ তা‘আলা গুহার মুখের বাকী অংশটুকু ফাঁকা করে দিলেন। (ই.ফা. ৬৬৯৮, ই.সে. ৬৭৫২)
حدثني محمد بن إسحاق المسيبي، حدثني أنس، - يعني ابن عياض أبا ضمرة - عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال " بينما ثلاثة نفر يتمشون أخذهم المطر فأووا إلى غار في جبل فانحطت على فم غارهم صخرة من الجبل فانطبقت عليهم فقال بعضهم لبعض انظروا أعمالا عملتموها صالحة لله فادعوا الله تعالى بها لعل الله يفرجها عنكم . فقال أحدهم اللهم إنه كان لي والدان شيخان كبيران وامرأتي ولي صبية صغار أرعى عليهم فإذا أرحت عليهم حلبت فبدأت بوالدى فسقيتهما قبل بني وأنه نأى بي ذات يوم الشجر فلم آت حتى أمسيت فوجدتهما قد ناما فحلبت كما كنت أحلب فجئت بالحلاب فقمت عند رءوسهما أكره أن أوقظهما من نومهما وأكره أن أسقي الصبية قبلهما والصبية يتضاغون عند قدمى فلم يزل ذلك دأبي ودأبهم حتى طلع الفجر فإن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج لنا منها فرجة نرى منها السماء . ففرج الله منها فرجة فرأوا منها السماء . وقال الآخر اللهم إنه كانت لي ابنة عم أحببتها كأشد ما يحب الرجال النساء وطلبت إليها نفسها فأبت حتى آتيها بمائة دينار فتعبت حتى جمعت مائة دينار فجئتها بها فلما وقعت بين رجليها قالت يا عبد الله اتق الله ولا تفتح الخاتم إلا بحقه . فقمت عنها فإن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج لنا منها فرجة . ففرج لهم . وقال الآخر اللهم إني كنت استأجرت أجيرا بفرق أرز فلما قضى عمله قال أعطني حقي . فعرضت عليه فرقه فرغب عنه فلم أزل أزرعه حتى جمعت منه بقرا ورعاءها فجاءني فقال اتق الله ولا تظلمني حقي . قلت اذهب إلى تلك البقر ورعائها فخذها . فقال اتق الله ولا تستهزئ بي . فقلت إني لا أستهزئ بك خذ ذلك البقر ورعاءها . فأخذه فذهب به فإن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج لنا ما بقي . ففرج الله ما بقي .