সহিহ মুসলিম > জাবির (রাঃ)-এর বাবা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনু হারাম (রাঃ)-এর ফযিলত
সহিহ মুসলিম ৬২৪৯
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا وهب بن جرير، حدثنا شعبة، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، قال أصيب أبي يوم أحد فجعلت أكشف الثوب عن وجهه، وأبكي، وجعلوا ينهونني ورسول الله صلى الله عليه وسلم لا ينهاني - قال - وجعلت فاطمة بنت عمرو تبكيه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " تبكيه أو لا تبكيه ما زالت الملائكة تظله بأجنحتها حتى رفعتموه " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমার বাবা উহুদের দিবস শহীদ বলেন, আমি তাঁর মুখায়ব হতে বস্ত্র তুলি আর কাঁদি। ব্যক্তিরা আমাকে নিষেধ করল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বারণ করেননি। আর ‘আম্রের মেয়ে ফাতিমাও তাঁর জন্য কান্নাকাটি করতে থাকলেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেন: তুমি কাঁদো কিংবা না-ই কাঁদো, ফেরেশ্তাগণ তাঁর উপর আপন পাখার ছায়া বিস্তার করে রেখেছিল, যতক্ষণ না তোমরা তাকে তুলে নিয়েছো। (ই. ফা. ৬১৩১, ই. সে. ৬১৭৪)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমার বাবা উহুদের দিবস শহীদ বলেন, আমি তাঁর মুখায়ব হতে বস্ত্র তুলি আর কাঁদি। ব্যক্তিরা আমাকে নিষেধ করল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বারণ করেননি। আর ‘আম্রের মেয়ে ফাতিমাও তাঁর জন্য কান্নাকাটি করতে থাকলেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেন: তুমি কাঁদো কিংবা না-ই কাঁদো, ফেরেশ্তাগণ তাঁর উপর আপন পাখার ছায়া বিস্তার করে রেখেছিল, যতক্ষণ না তোমরা তাকে তুলে নিয়েছো। (ই. ফা. ৬১৩১, ই. সে. ৬১৭৪)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا وهب بن جرير، حدثنا شعبة، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، قال أصيب أبي يوم أحد فجعلت أكشف الثوب عن وجهه، وأبكي، وجعلوا ينهونني ورسول الله صلى الله عليه وسلم لا ينهاني - قال - وجعلت فاطمة بنت عمرو تبكيه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " تبكيه أو لا تبكيه ما زالت الملائكة تظله بأجنحتها حتى رفعتموه " .
সহিহ মুসলিম ৬২৫১
حدثنا محمد بن أحمد بن أبي خلف، حدثنا زكرياء بن عدي، أخبرنا عبيد الله، بن عمرو عن عبد الكريم، عن محمد بن المنكدر، عن جابر، قال جيء بأبي يوم أحد مجدعا فوضع بين يدى النبي صلى الله عليه وسلم . فذكر نحو حديثهم .
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উহুদের দিবস আমার বাবাকে অঙ্গহানী অবস্থায় আনা হলো এবং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে রাখা হলো . . . তারপর তাদের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেন। (ই. ফা. ৬১৩৩, ই. সে. ৬১৭৬)
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উহুদের দিবস আমার বাবাকে অঙ্গহানী অবস্থায় আনা হলো এবং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে রাখা হলো . . . তারপর তাদের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেন। (ই. ফা. ৬১৩৩, ই. সে. ৬১৭৬)
حدثنا محمد بن أحمد بن أبي خلف، حدثنا زكرياء بن عدي، أخبرنا عبيد الله، بن عمرو عن عبد الكريم، عن محمد بن المنكدر، عن جابر، قال جيء بأبي يوم أحد مجدعا فوضع بين يدى النبي صلى الله عليه وسلم . فذكر نحو حديثهم .
সহিহ মুসলিম ৬২৪৮
حدثنا عبيد الله بن عمر القواريري، وعمرو الناقد، كلاهما عن سفيان، قال عبيد الله حدثنا سفيان بن عيينة، قال سمعت ابن المنكدر، يقول سمعت جابر بن عبد الله، يقول لما كان يوم أحد جيء بأبي مسجى وقد مثل به - قال - فأردت أن أرفع الثوب فنهاني قومي ثم أردت أن أرفع الثوب فنهاني قومي فرفعه رسول الله صلى الله عليه وسلم أو أمر به فرفع فسمع صوت باكية أو صائحة فقال " من هذه " . فقالوا بنت عمرو أو أخت عمرو فقال " ولم تبكي فما زالت الملائكة تظله بأجنحتها حتى رفع " .
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
উহুদ যুদ্ধের দিন যখন আমার বাবাকে বস্ত্রে ঢেকে আনা হলো এমতাবস্থায় যে, অঙ্গচ্ছেদন করা (নাক-কান হাত-পা কেটে ফেলা) হয়েছে। আমি তার কাপড় সরাতে চাইলে লোকেরা আমায় বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই তার বস্ত্র সরালেন কিংবা তিনি সরানোর নির্দেশ দেয়ায় সরানো হলো। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন ক্রন্দসী নারীর শব্দ শুনে প্রশ্ন করলেন, ইনি কে? লোকেরা বলল, ‘আম্রের মেয়ে কিংবা বলল, ‘আম্রের বোন। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃতুমি কান্নাকাটি করছো কেন? অথচ ফেরেশ্তারা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত পাখা মেলে ছায়া দিচ্ছিল। (ই. ফা. ৬১৩০, ই. সে. ৬১৭২)
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
উহুদ যুদ্ধের দিন যখন আমার বাবাকে বস্ত্রে ঢেকে আনা হলো এমতাবস্থায় যে, অঙ্গচ্ছেদন করা (নাক-কান হাত-পা কেটে ফেলা) হয়েছে। আমি তার কাপড় সরাতে চাইলে লোকেরা আমায় বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই তার বস্ত্র সরালেন কিংবা তিনি সরানোর নির্দেশ দেয়ায় সরানো হলো। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন ক্রন্দসী নারীর শব্দ শুনে প্রশ্ন করলেন, ইনি কে? লোকেরা বলল, ‘আম্রের মেয়ে কিংবা বলল, ‘আম্রের বোন। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃতুমি কান্নাকাটি করছো কেন? অথচ ফেরেশ্তারা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত পাখা মেলে ছায়া দিচ্ছিল। (ই. ফা. ৬১৩০, ই. সে. ৬১৭২)
حدثنا عبيد الله بن عمر القواريري، وعمرو الناقد، كلاهما عن سفيان، قال عبيد الله حدثنا سفيان بن عيينة، قال سمعت ابن المنكدر، يقول سمعت جابر بن عبد الله، يقول لما كان يوم أحد جيء بأبي مسجى وقد مثل به - قال - فأردت أن أرفع الثوب فنهاني قومي ثم أردت أن أرفع الثوب فنهاني قومي فرفعه رسول الله صلى الله عليه وسلم أو أمر به فرفع فسمع صوت باكية أو صائحة فقال " من هذه " . فقالوا بنت عمرو أو أخت عمرو فقال " ولم تبكي فما زالت الملائكة تظله بأجنحتها حتى رفع " .
সহিহ মুসলিম ৬২৫০
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، حدثنا ابن جريج، ح وحدثنا إسحاق، بن إبراهيم أخبرنا عبد الرزاق، حدثنا معمر، كلاهما عن محمد بن المنكدر، عن جابر، . بهذا الحديث غير أن ابن جريج، ليس في حديثه ذكر الملائكة وبكاء الباكية .
জাবির (রাঃ) এর সানাদ থেকে বর্নিতঃ
এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে জুরায়জের বর্ণনায় ফেরেশ্তা ও ক্রন্দনকারীর কান্নার বর্ণনা নেই। (ই. ফা. ৬১৩২, ই. সে. ৬১৭৫)
জাবির (রাঃ) এর সানাদ থেকে বর্নিতঃ
এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে জুরায়জের বর্ণনায় ফেরেশ্তা ও ক্রন্দনকারীর কান্নার বর্ণনা নেই। (ই. ফা. ৬১৩২, ই. সে. ৬১৭৫)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، حدثنا ابن جريج، ح وحدثنا إسحاق، بن إبراهيم أخبرنا عبد الرزاق، حدثنا معمر، كلاهما عن محمد بن المنكدر، عن جابر، . بهذا الحديث غير أن ابن جريج، ليس في حديثه ذكر الملائكة وبكاء الباكية .
সহিহ মুসলিম > জুলাইবীব (রাঃ)-এর ফযিলত
সহিহ মুসলিম ৬২৫২
حدثنا إسحاق بن عمر بن سليط، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن كنانة، بن نعيم عن أبي برزة، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان في مغزى له فأفاء الله عليه فقال لأصحابه " هل تفقدون من أحد " . قالوا نعم فلانا وفلانا وفلانا . ثم قال " هل تفقدون من أحد " . قالوا نعم فلانا وفلانا وفلانا . ثم قال " هل تفقدون من أحد " . قالوا لا . قال " لكني أفقد جليبيبا فاطلبوه " . فطلب في القتلى فوجدوه إلى جنب سبعة قد قتلهم ثم قتلوه فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فوقف عليه فقال " قتل سبعة ثم قتلوه هذا مني وأنا منه هذا مني وأنا منه " . قال فوضعه على ساعديه ليس له إلا ساعدا النبي صلى الله عليه وسلم قال فحفر له ووضع في قبره . ولم يذكر غسلا .
আবূ বারযাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক জিহাদে ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে গানীমাতের সম্পদ দান করলেন। তিনি তাঁর সহাবাদের বললেন, তোমরা কেউ কি হারিয়ে যায়নি? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অমুক, অমুক ও অমুককে। তিনি বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অমুক, অমুক এবং অমুককে। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকরো বলল, জি-না। তিনি বললেন, কিন্তু আমি জুলায়বীবকে হারিয়েছি। তোমরা তাঁকে সন্ধান করো। তখন তাঁকে নিহতদের মাঝে সন্ধান করা হলো। তারপর তারা সাতটা লাশের সামনে তাঁকে খুঁজে পেল। তিনি এ সাতজনকে মেরে ফেলেছিলেন। তারপর শত্রুরা তাঁকে মারে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকট আসলেন এবং ওখানে দণ্ডায়মান অবস্থায় বললেন, সে সাতজন হত্যা করেছে; তারপর শত্রুরা তাঁকে মেরেছে। সে আমার আর আমিও তাঁর। সে আমার আর আমি তাঁর। অতঃপর তিনি তাঁকে দু’বাহুর উপর উঠিয়ে নিলেন। কেবল রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাহুই তাঁকে বহন করছিল। তাঁর কবর খনন করা হলো এবং তিনি তাঁকে তাঁর কবরে রেখে দিলেন। রাবী তাঁর গোসলের বর্ণনা করেননি। (ই. ফা. ৬১৩৪, ই. সে. ৬১৭৭)
আবূ বারযাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক জিহাদে ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে গানীমাতের সম্পদ দান করলেন। তিনি তাঁর সহাবাদের বললেন, তোমরা কেউ কি হারিয়ে যায়নি? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অমুক, অমুক ও অমুককে। তিনি বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অমুক, অমুক এবং অমুককে। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকরো বলল, জি-না। তিনি বললেন, কিন্তু আমি জুলায়বীবকে হারিয়েছি। তোমরা তাঁকে সন্ধান করো। তখন তাঁকে নিহতদের মাঝে সন্ধান করা হলো। তারপর তারা সাতটা লাশের সামনে তাঁকে খুঁজে পেল। তিনি এ সাতজনকে মেরে ফেলেছিলেন। তারপর শত্রুরা তাঁকে মারে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকট আসলেন এবং ওখানে দণ্ডায়মান অবস্থায় বললেন, সে সাতজন হত্যা করেছে; তারপর শত্রুরা তাঁকে মেরেছে। সে আমার আর আমিও তাঁর। সে আমার আর আমি তাঁর। অতঃপর তিনি তাঁকে দু’বাহুর উপর উঠিয়ে নিলেন। কেবল রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাহুই তাঁকে বহন করছিল। তাঁর কবর খনন করা হলো এবং তিনি তাঁকে তাঁর কবরে রেখে দিলেন। রাবী তাঁর গোসলের বর্ণনা করেননি। (ই. ফা. ৬১৩৪, ই. সে. ৬১৭৭)
حدثنا إسحاق بن عمر بن سليط، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن كنانة، بن نعيم عن أبي برزة، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان في مغزى له فأفاء الله عليه فقال لأصحابه " هل تفقدون من أحد " . قالوا نعم فلانا وفلانا وفلانا . ثم قال " هل تفقدون من أحد " . قالوا نعم فلانا وفلانا وفلانا . ثم قال " هل تفقدون من أحد " . قالوا لا . قال " لكني أفقد جليبيبا فاطلبوه " . فطلب في القتلى فوجدوه إلى جنب سبعة قد قتلهم ثم قتلوه فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فوقف عليه فقال " قتل سبعة ثم قتلوه هذا مني وأنا منه هذا مني وأنا منه " . قال فوضعه على ساعديه ليس له إلا ساعدا النبي صلى الله عليه وسلم قال فحفر له ووضع في قبره . ولم يذكر غسلا .
সহিহ মুসলিম > আবূ যার (রাঃ)-এর ফযিলত
সহিহ মুসলিম ৬২৫৫
حدثنا محمد بن المثنى العنزي، حدثني ابن أبي عدي، قال أنبأنا ابن عون، عن حميد بن هلال، عن عبد الله بن الصامت، قال قال أبو ذر يا ابن أخي صليت سنتين قبل مبعث النبي صلى الله عليه وسلم . قال قلت فأين كنت توجه قال حيث وجهني الله . واقتص الحديث بنحو حديث سليمان بن المغيرة وقال في الحديث فتنافرا إلى رجل من الكهان . قال فلم يزل أخي أنيس يمدحه حتى غلبه - قال - فأخذنا صرمته فضممناها إلى صرمتنا . وقال أيضا في حديثه قال فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فطاف بالبيت وصلى ركعتين خلف المقام - قال - فأتيته فإني لأول الناس حياه بتحية الإسلام - قال - قلت السلام عليك يا رسول الله . قال " وعليك السلام من أنت " . وفي حديثه أيضا فقال " منذ كم أنت ها هنا " . قال قلت منذ خمس عشرة . وفيه فقال أبو بكر أتحفني بضيافته الليلة .
আবদুল্লাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আবির্ভাবের আগে আমি দু’ বছর সলাত আদায় করেছি। বর্ণনাকারী বললেন, আমি বললাম, আপনি কোন্ দিকে মুখ ফিরাতেন। তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে। তারপর তিনি সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ্ (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেন। আর তিনি হাদীসে বলেছেন, তারপর তারা দু’জনে এক গণকের নিকট গেলেন। তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বলেন, আমার ভাই উনায়স এ গণকের প্রশংসা করতে লাগল, পরিশেষে প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী হলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা তার জন্তুগুলো নিলাম এবং আমাদের জন্তুগুলোর সঙ্গে একত্রিত করে রাখলাম। তিনি তাঁর হাদীসে আরও বর্ননা করেছেন, এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং বাইতুল্লাহ্র তাওয়াফ করলেন। অতঃপর মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে দু’রাকা‘আত সলাত আদায় করলেন। তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বলেন, আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলাম এবং আমিই প্রথম লোক, সে তাঁকে ইসলামী বিধান অনুযায়ী সালাম করে। তিনি বলেন, আমি বললাম, আস্সালামু ‘আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! (হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘ওয়া ‘আলাইকুমুস্ সালাম’ (তোমার প্রতিও শান্তি বর্ষিত হোক)। তুমি কে? তার বর্ণিত হাদীসে আরও রয়েছে যে, এরপর তিনি বললেন, তুমি এখানে কতদিন ধরে আছ? আমি বললাম, পনের (দিন) ধরে অবস্থান করছি। এ হাদীসের আরও অতিরিক্ত রয়েছে, অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তাঁকে এক রাতের আতিথেয়তার অনুমতি আমাকে দিন। (ই. ফা. ৬১৩৭, ই. সে. ৬১৮০)
আবদুল্লাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আবির্ভাবের আগে আমি দু’ বছর সলাত আদায় করেছি। বর্ণনাকারী বললেন, আমি বললাম, আপনি কোন্ দিকে মুখ ফিরাতেন। তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে। তারপর তিনি সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ্ (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেন। আর তিনি হাদীসে বলেছেন, তারপর তারা দু’জনে এক গণকের নিকট গেলেন। তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বলেন, আমার ভাই উনায়স এ গণকের প্রশংসা করতে লাগল, পরিশেষে প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী হলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা তার জন্তুগুলো নিলাম এবং আমাদের জন্তুগুলোর সঙ্গে একত্রিত করে রাখলাম। তিনি তাঁর হাদীসে আরও বর্ননা করেছেন, এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং বাইতুল্লাহ্র তাওয়াফ করলেন। অতঃপর মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে দু’রাকা‘আত সলাত আদায় করলেন। তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বলেন, আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলাম এবং আমিই প্রথম লোক, সে তাঁকে ইসলামী বিধান অনুযায়ী সালাম করে। তিনি বলেন, আমি বললাম, আস্সালামু ‘আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! (হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘ওয়া ‘আলাইকুমুস্ সালাম’ (তোমার প্রতিও শান্তি বর্ষিত হোক)। তুমি কে? তার বর্ণিত হাদীসে আরও রয়েছে যে, এরপর তিনি বললেন, তুমি এখানে কতদিন ধরে আছ? আমি বললাম, পনের (দিন) ধরে অবস্থান করছি। এ হাদীসের আরও অতিরিক্ত রয়েছে, অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তাঁকে এক রাতের আতিথেয়তার অনুমতি আমাকে দিন। (ই. ফা. ৬১৩৭, ই. সে. ৬১৮০)
حدثنا محمد بن المثنى العنزي، حدثني ابن أبي عدي، قال أنبأنا ابن عون، عن حميد بن هلال، عن عبد الله بن الصامت، قال قال أبو ذر يا ابن أخي صليت سنتين قبل مبعث النبي صلى الله عليه وسلم . قال قلت فأين كنت توجه قال حيث وجهني الله . واقتص الحديث بنحو حديث سليمان بن المغيرة وقال في الحديث فتنافرا إلى رجل من الكهان . قال فلم يزل أخي أنيس يمدحه حتى غلبه - قال - فأخذنا صرمته فضممناها إلى صرمتنا . وقال أيضا في حديثه قال فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فطاف بالبيت وصلى ركعتين خلف المقام - قال - فأتيته فإني لأول الناس حياه بتحية الإسلام - قال - قلت السلام عليك يا رسول الله . قال " وعليك السلام من أنت " . وفي حديثه أيضا فقال " منذ كم أنت ها هنا " . قال قلت منذ خمس عشرة . وفيه فقال أبو بكر أتحفني بضيافته الليلة .
সহিহ মুসলিম ৬২৫৬
وحدثني إبراهيم بن محمد بن عرعرة السامي، ومحمد بن حاتم، - وتقاربا في سياق الحديث واللفظ لابن حاتم - قالا حدثنا عبد الرحمن بن مهدي حدثنا المثنى بن سعيد عن أبي جمرة عن ابن عباس قال لما بلغ أبا ذر مبعث النبي صلى الله عليه وسلم بمكة قال لأخيه اركب إلى هذا الوادي فاعلم لي علم هذا الرجل الذي يزعم أنه يأتيه الخبر من السماء فاسمع من قوله ثم ائتني . فانطلق الآخر حتى قدم مكة وسمع من قوله ثم رجع إلى أبي ذر فقال رأيته يأمر بمكارم الأخلاق وكلاما ما هو بالشعر . فقال ما شفيتني فيما أردت . فتزود وحمل شنة له فيها ماء حتى قدم مكة فأتى المسجد فالتمس النبي صلى الله عليه وسلم ولا يعرفه وكره أن يسأل عنه حتى أدركه - يعني الليل - فاضطجع فرآه علي فعرف أنه غريب فلما رآه تبعه فلم يسأل واحد منهما صاحبه عن شىء حتى أصبح ثم احتمل قريبته وزاده إلى المسجد فظل ذلك اليوم ولا يرى النبي صلى الله عليه وسلم حتى أمسى فعاد إلى مضجعه فمر به علي فقال ما أنى للرجل أن يعلم منزله فأقامه فذهب به معه ولا يسأل واحد منهما صاحبه عن شىء حتى إذا كان يوم الثالث فعل مثل ذلك فأقامه علي معه ثم قال له ألا تحدثني ما الذي أقدمك هذا البلد قال إن أعطيتني عهدا وميثاقا لترشدني فعلت . ففعل فأخبره فقال فإنه حق وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا أصبحت فاتبعني فإني إن رأيت شيئا أخاف عليك قمت كأني أريق الماء فإن مضيت فاتبعني حتى تدخل مدخلي . ففعل فانطلق يقفوه حتى دخل على النبي صلى الله عليه وسلم ودخل معه فسمع من قوله وأسلم مكانه فقال له النبي صلى الله عليه وسلم " ارجع إلى قومك فأخبرهم حتى يأتيك أمري " . فقال والذي نفسي بيده لأصرخن بها بين ظهرانيهم . فخرج حتى أتى المسجد فنادى بأعلى صوته أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله . وثار القوم فضربوه حتى أضجعوه فأتى العباس فأكب عليه فقال ويلكم ألستم تعلمون أنه من غفار وأن طريق تجاركم إلى الشام عليهم . فأنقذه منهم ثم عاد من الغد بمثلها وثاروا إليه فضربوه فأكب عليه العباس فأنقذه .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট সংবাদ আসলো যে, মাক্কায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আবির্ভাব হয়েছে, তখন তিনি তাঁর ভাইকে বললেন, তুমি সওয়ারীতে চড়ে সে (মাক্কাহ্) উপত্যকায় যাও এবং সে লোকের ব্যাপারে আমাকে অবহিত কর, যিনি মনে করেন যে, আসমান থেকে তাঁর নিকট ওয়াহী আসে। তাঁর কথা ভাল করে শুনবে এবং এরপর তুমি আমার নিকট আসবে। তখন অপর লোক (তাঁর ভাই) রওনা হয়ে মাক্কায় আসলো এবং তাঁর কথা শুনল। এরপর সে আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট প্রত্যাবর্তন করল এবং সে বলল, আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম চরিত্রের আদেশ দেন এবং এমন বাণী শুনান, যা কবিতার সাদৃশ্য নয়। তখন তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, আমি যা চেয়েছি তা তুমি পূরণ করতে পারনি। এরপর তিনি পাথেয় ব্যবস্থা করলেন এবং একটি পানি ভর্তি মশক নিলেন। পরিশেষে মাক্কায় পৌঁছে তিনি মাসজিদে আসলেন। আর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সন্ধান করলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে চিনতে পারলেন না। আর তাঁর ব্যাপারে (কারও নিকট) প্রশ্ন করাও পছন্দ করলেন না। পরিশেষে রাত হয়ে গেল। তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন ‘আলী (রাঃ) তাঁকে দেখলেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে, ইনি একজন আগুন্তুক, তখন তিনি তাঁকে দেখে তাঁর অনুকরণ করলেন; কিন্তু কেউ কারও নিকট কিছু প্রশ্ন করলেন না। এমনকি (এভাবে) সকাল হয়ে গেল। এরপর তিনি [আবূ যার (রাঃ) তাঁর আসবাবপত্র ও মশক মাসজিদে রাখলেন এবং সেদিনটি সেখানে অতিবাহিত করলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাক্ষাৎ পেলেন না, এমনকি সন্ধ্যা হয়ে গেল। এরপর তিনি তার ঘুমানোর স্থানে ফিরে এলেন। ‘আলী (রাঃ) তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন, এখনও সময় আসেনি, যাতে সে লোকটির গন্তব্য সম্বন্ধে জানা যায়। তারপর তিনি তাঁকে দাঁড় করালেন এবং তাঁকে সাথে নিয়ে চললেন। তবে কেউ কারোর নিকট কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলেন না। এমনকি তৃতীয় দিন এসে গেল। এদিনও তেমনটি করলেন। তারপর ‘আলী (রাঃ) তাঁর সাথে তাঁকে দাঁড় করিয়ে বললেন, আপনি কি আমাকে জানাবেন, কিসে আপনাকে এ শহরে এনেছে? তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, আপনি যদি আমাকে পথ দেখানোর ওয়া‘দাবন্ধ হন তাহলে আমি আপনার নিকট বলব। তিনি (ওয়া‘দা) করলেন। তখন তিনি [আবূ যার (রাঃ)] তাঁকে সব জানালেন। তারপর ‘আলী (রাঃ) বললেন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হক এবং তিনি আল্লাহর রসূল। সকাল হলে আপনি আমাকে অনুকরণ করবেন। যদি আমি এমন কিছু দেখতে পাই যাতে আপনার ভয় আছে, তখন আমি দাঁড়িয়ে যাব, যেন আমি প্রস্রাব করছি। পুনরায় যখন আমি চলতে শুরু করব তখন আমাকে অনুসরণ করবেন। পরিশেষে আমার প্রবেশ দ্বারে আপনি প্রবেশ করবেন। তিনি তা-ই করলেন। তিনি তাঁর পশ্চাতে চললেন, শেষ অবধি তিনি [‘আলী (রাঃ)] রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হলেন আর আবূ যার (রাঃ)ও তাঁর সাথে উপস্থিত হলেন। অতঃপর তিনি তাঁর (সাঃ-এর) কথা শুনলেন এবং সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের নিকট (দ্বীনের) সংবাদ পৌঁছে দাও। আমার আদেশ তোমার নিকট পৌঁছা পর্যন্ত (এ কাজ করতে থাক)। তারপর তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, সে মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি তা মাক্কাবাসীদের মধ্যে চীৎকার করে প্রচার করব। এরপর তিনি বেরিয়ে পড়লেন এবং মাসজিদে ঢুকলেন। এরপর উচ্চৈঃস্বরে প্রচার করলেন: … “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল।” এতে ব্যক্তিরা ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে আঘাত করে ধরাশায়ী করে ফেলল। ‘আব্বাস (রাঃ) সেখানে এলেন এবং তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লেন। তারপর তিনি [‘আব্বাস (রাঃ)] বললেন, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমাদের কি অজানা যে, তিনি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি? তোমাদের সিরিয়া দেশে বাণিজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের এলাকা দিয়ে। এরপর তিনি তাঁকে তাদের নিকট হতে ছাড়িয়ে আনলেন। পরের দিন তিনি আবার আগের দিনের মতোই করলেন। ব্যক্তিরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে বেদম প্রহার করল। ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে তিনি মুক্ত করলেন। (ই. ফা. ৬১৩৮, ই. সে. ৬১৮১)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট সংবাদ আসলো যে, মাক্কায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আবির্ভাব হয়েছে, তখন তিনি তাঁর ভাইকে বললেন, তুমি সওয়ারীতে চড়ে সে (মাক্কাহ্) উপত্যকায় যাও এবং সে লোকের ব্যাপারে আমাকে অবহিত কর, যিনি মনে করেন যে, আসমান থেকে তাঁর নিকট ওয়াহী আসে। তাঁর কথা ভাল করে শুনবে এবং এরপর তুমি আমার নিকট আসবে। তখন অপর লোক (তাঁর ভাই) রওনা হয়ে মাক্কায় আসলো এবং তাঁর কথা শুনল। এরপর সে আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট প্রত্যাবর্তন করল এবং সে বলল, আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম চরিত্রের আদেশ দেন এবং এমন বাণী শুনান, যা কবিতার সাদৃশ্য নয়। তখন তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, আমি যা চেয়েছি তা তুমি পূরণ করতে পারনি। এরপর তিনি পাথেয় ব্যবস্থা করলেন এবং একটি পানি ভর্তি মশক নিলেন। পরিশেষে মাক্কায় পৌঁছে তিনি মাসজিদে আসলেন। আর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সন্ধান করলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে চিনতে পারলেন না। আর তাঁর ব্যাপারে (কারও নিকট) প্রশ্ন করাও পছন্দ করলেন না। পরিশেষে রাত হয়ে গেল। তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন ‘আলী (রাঃ) তাঁকে দেখলেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে, ইনি একজন আগুন্তুক, তখন তিনি তাঁকে দেখে তাঁর অনুকরণ করলেন; কিন্তু কেউ কারও নিকট কিছু প্রশ্ন করলেন না। এমনকি (এভাবে) সকাল হয়ে গেল। এরপর তিনি [আবূ যার (রাঃ) তাঁর আসবাবপত্র ও মশক মাসজিদে রাখলেন এবং সেদিনটি সেখানে অতিবাহিত করলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাক্ষাৎ পেলেন না, এমনকি সন্ধ্যা হয়ে গেল। এরপর তিনি তার ঘুমানোর স্থানে ফিরে এলেন। ‘আলী (রাঃ) তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন, এখনও সময় আসেনি, যাতে সে লোকটির গন্তব্য সম্বন্ধে জানা যায়। তারপর তিনি তাঁকে দাঁড় করালেন এবং তাঁকে সাথে নিয়ে চললেন। তবে কেউ কারোর নিকট কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলেন না। এমনকি তৃতীয় দিন এসে গেল। এদিনও তেমনটি করলেন। তারপর ‘আলী (রাঃ) তাঁর সাথে তাঁকে দাঁড় করিয়ে বললেন, আপনি কি আমাকে জানাবেন, কিসে আপনাকে এ শহরে এনেছে? তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, আপনি যদি আমাকে পথ দেখানোর ওয়া‘দাবন্ধ হন তাহলে আমি আপনার নিকট বলব। তিনি (ওয়া‘দা) করলেন। তখন তিনি [আবূ যার (রাঃ)] তাঁকে সব জানালেন। তারপর ‘আলী (রাঃ) বললেন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হক এবং তিনি আল্লাহর রসূল। সকাল হলে আপনি আমাকে অনুকরণ করবেন। যদি আমি এমন কিছু দেখতে পাই যাতে আপনার ভয় আছে, তখন আমি দাঁড়িয়ে যাব, যেন আমি প্রস্রাব করছি। পুনরায় যখন আমি চলতে শুরু করব তখন আমাকে অনুসরণ করবেন। পরিশেষে আমার প্রবেশ দ্বারে আপনি প্রবেশ করবেন। তিনি তা-ই করলেন। তিনি তাঁর পশ্চাতে চললেন, শেষ অবধি তিনি [‘আলী (রাঃ)] রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হলেন আর আবূ যার (রাঃ)ও তাঁর সাথে উপস্থিত হলেন। অতঃপর তিনি তাঁর (সাঃ-এর) কথা শুনলেন এবং সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের নিকট (দ্বীনের) সংবাদ পৌঁছে দাও। আমার আদেশ তোমার নিকট পৌঁছা পর্যন্ত (এ কাজ করতে থাক)। তারপর তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, সে মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি তা মাক্কাবাসীদের মধ্যে চীৎকার করে প্রচার করব। এরপর তিনি বেরিয়ে পড়লেন এবং মাসজিদে ঢুকলেন। এরপর উচ্চৈঃস্বরে প্রচার করলেন: … “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল।” এতে ব্যক্তিরা ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে আঘাত করে ধরাশায়ী করে ফেলল। ‘আব্বাস (রাঃ) সেখানে এলেন এবং তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লেন। তারপর তিনি [‘আব্বাস (রাঃ)] বললেন, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমাদের কি অজানা যে, তিনি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি? তোমাদের সিরিয়া দেশে বাণিজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের এলাকা দিয়ে। এরপর তিনি তাঁকে তাদের নিকট হতে ছাড়িয়ে আনলেন। পরের দিন তিনি আবার আগের দিনের মতোই করলেন। ব্যক্তিরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে বেদম প্রহার করল। ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে তিনি মুক্ত করলেন। (ই. ফা. ৬১৩৮, ই. সে. ৬১৮১)
وحدثني إبراهيم بن محمد بن عرعرة السامي، ومحمد بن حاتم، - وتقاربا في سياق الحديث واللفظ لابن حاتم - قالا حدثنا عبد الرحمن بن مهدي حدثنا المثنى بن سعيد عن أبي جمرة عن ابن عباس قال لما بلغ أبا ذر مبعث النبي صلى الله عليه وسلم بمكة قال لأخيه اركب إلى هذا الوادي فاعلم لي علم هذا الرجل الذي يزعم أنه يأتيه الخبر من السماء فاسمع من قوله ثم ائتني . فانطلق الآخر حتى قدم مكة وسمع من قوله ثم رجع إلى أبي ذر فقال رأيته يأمر بمكارم الأخلاق وكلاما ما هو بالشعر . فقال ما شفيتني فيما أردت . فتزود وحمل شنة له فيها ماء حتى قدم مكة فأتى المسجد فالتمس النبي صلى الله عليه وسلم ولا يعرفه وكره أن يسأل عنه حتى أدركه - يعني الليل - فاضطجع فرآه علي فعرف أنه غريب فلما رآه تبعه فلم يسأل واحد منهما صاحبه عن شىء حتى أصبح ثم احتمل قريبته وزاده إلى المسجد فظل ذلك اليوم ولا يرى النبي صلى الله عليه وسلم حتى أمسى فعاد إلى مضجعه فمر به علي فقال ما أنى للرجل أن يعلم منزله فأقامه فذهب به معه ولا يسأل واحد منهما صاحبه عن شىء حتى إذا كان يوم الثالث فعل مثل ذلك فأقامه علي معه ثم قال له ألا تحدثني ما الذي أقدمك هذا البلد قال إن أعطيتني عهدا وميثاقا لترشدني فعلت . ففعل فأخبره فقال فإنه حق وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا أصبحت فاتبعني فإني إن رأيت شيئا أخاف عليك قمت كأني أريق الماء فإن مضيت فاتبعني حتى تدخل مدخلي . ففعل فانطلق يقفوه حتى دخل على النبي صلى الله عليه وسلم ودخل معه فسمع من قوله وأسلم مكانه فقال له النبي صلى الله عليه وسلم " ارجع إلى قومك فأخبرهم حتى يأتيك أمري " . فقال والذي نفسي بيده لأصرخن بها بين ظهرانيهم . فخرج حتى أتى المسجد فنادى بأعلى صوته أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله . وثار القوم فضربوه حتى أضجعوه فأتى العباس فأكب عليه فقال ويلكم ألستم تعلمون أنه من غفار وأن طريق تجاركم إلى الشام عليهم . فأنقذه منهم ثم عاد من الغد بمثلها وثاروا إليه فضربوه فأكب عليه العباس فأنقذه .
সহিহ মুসলিম ৬২৫৩
حدثنا هداب بن خالد الأزدي، حدثنا سليمان بن المغيرة، أخبرنا حميد بن هلال، عن عبد الله بن الصامت، قال قال أبو ذر خرجنا من قومنا غفار وكانوا يحلون الشهر الحرام فخرجت أنا وأخي أنيس وأمنا فنزلنا على خال لنا فأكرمنا خالنا وأحسن إلينا فحسدنا قومه فقالوا إنك إذا خرجت عن أهلك خالف إليهم أنيس فجاء خالنا فنثا علينا الذي قيل له فقلت له أما ما مضى من معروفك فقد كدرته ولا جماع لك فيما بعد . فقربنا صرمتنا فاحتملنا عليها وتغطى خالنا ثوبه فجعل يبكي فانطلقنا حتى نزلنا بحضرة مكة فنافر أنيس عن صرمتنا وعن مثلها فأتيا الكاهن فخير أنيسا فأتانا أنيس بصرمتنا ومثلها معها - قال - وقد صليت يا ابن أخي قبل أن ألقى رسول الله صلى الله عليه وسلم بثلاث سنين . قلت لمن قال لله . قلت فأين توجه قال أتوجه حيث يوجهني ربي أصلي عشاء حتى إذا كان من آخر الليل ألقيت كأني خفاء حتى تعلوني الشمس . فقال أنيس إن لي حاجة بمكة فاكفني . فانطلق أنيس حتى أتى مكة فراث على ثم جاء فقلت ما صنعت قال لقيت رجلا بمكة على دينك يزعم أن الله أرسله . قلت فما يقول الناس قال يقولون شاعر كاهن ساحر . وكان أنيس أحد الشعراء . قال أنيس لقد سمعت قول الكهنة فما هو بقولهم ولقد وضعت قوله على أقراء الشعر فما يلتئم على لسان أحد بعدي أنه شعر والله إنه لصادق وإنهم لكاذبون . قال قلت فاكفني حتى أذهب فأنظر . قال فأتيت مكة فتضعفت رجلا منهم فقلت أين هذا الذي تدعونه الصابئ فأشار إلى فقال الصابئ . فمال على أهل الوادي بكل مدرة وعظم حتى خررت مغشيا على - قال - فارتفعت حين ارتفعت كأني نصب أحمر - قال - فأتيت زمزم فغسلت عني الدماء وشربت من مائها ولقد لبثت يا ابن أخي ثلاثين بين ليلة ويوم ما كان لي طعام إلا ماء زمزم فسمنت حتى تكسرت عكن بطني وما وجدت على كبدي سخفة جوع - قال - فبينا أهل مكة في ليلة قمراء إضحيان إذ ضرب على أسمختهم فما يطوف بالبيت أحد وامرأتين منهم تدعوان إسافا ونائلة - قال - فأتتا على في طوافهما فقلت أنكحا أحدهما الأخرى - قال - فما تناهتا عن قولهما - قال - فأتتا على فقلت هن مثل الخشبة غير أني لا أكني . فانطلقتا تولولان وتقولان لو كان ها هنا أحد من أنفارنا . قال فاستقبلهما رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وهما هابطان قال " ما لكما " . قالتا الصابئ بين الكعبة وأستارها قال " ما قال لكما " . قالتا إنه قال لنا كلمة تملأ الفم . وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى استلم الحجر وطاف بالبيت هو وصاحبه ثم صلى فلما قضى صلاته قال أبو ذر . فكنت أنا أول من حياه بتحية الإسلام - قال - فقلت السلام عليك يا رسول الله . فقال " وعليك ورحمة الله " . ثم قال " من أنت " . قال قلت من غفار - قال - فأهوى بيده فوضع أصابعه على جبهته فقلت في نفسي كره أن انتميت إلى غفار . فذهبت آخذ بيده فقدعني صاحبه وكان أعلم به مني ثم رفع رأسه ثم قال " متى كنت ها هنا " . قال قلت قد كنت ها هنا منذ ثلاثين بين ليلة ويوم قال " فمن كان يطعمك " . قال قلت ما كان لي طعام إلا ماء زمزم . فسمنت حتى تكسرت عكن بطني وما أجد على كبدي سخفة جوع قال " إنها مباركة إنها طعام طعم " . فقال أبو بكر يا رسول الله ائذن لي في طعامه الليلة . فانطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وانطلقت معهما ففتح أبو بكر بابا فجعل يقبض لنا من زبيب الطائف وكان ذلك أول طعام أكلته بها ثم غبرت ما غبرت ثم أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " إنه قد وجهت لي أرض ذات نخل لا أراها إلا يثرب فهل أنت مبلغ عني قومك عسى الله أن ينفعهم بك ويأجرك فيهم " . فأتيت أنيسا فقال ما صنعت قلت صنعت أني قد أسلمت وصدقت . قال ما بي رغبة عن دينك فإني قد أسلمت وصدقت . فأتينا أمنا فقالت ما بي رغبة عن دينكما فإني قد أسلمت وصدقت . فاحتملنا حتى أتينا قومنا غفارا فأسلم نصفهم وكان يؤمهم إيماء بن رحضة الغفاري وكان سيدهم . وقال نصفهم إذا قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة أسلمنا . فقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة فأسلم نصفهم الباقي وجاءت أسلم فقالوا يا رسول الله إخوتنا نسلم على الذي أسلموا عليه . فأسلموا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " غفار غفر الله لها وأسلم سالمها الله " .
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আমাদের গিফার সম্প্রদায় হতে বের হলাম। তারা হারাম মাসগুলোকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করত। আমি আমার ভাই উনায়স এবং আমাদের মা সহ বের হলাম এবং আমাদের এক মামার নিকট গেলাম। মামা আমাদের অনেক সসম্মানে গ্রহণ করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ভদ্রতাসূচক আচরণ করলেন। এতে তাঁর সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা আমাদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হল। তারা বলল, তুমি যখন তোমার পরিবার হতে দূরে থাকে তখন উনায়স তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের নিকট আসা-যাওয়া করে। তারপর আমাদের মামা আসলেন এবং তাঁকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের কাছে বলে দিলেন। তখন আমি বললাম, আপনি আমাদের সঙ্গে অতীতে যে সদ্ব্যবহার করেছেন তাকে নিঃশেষ করে দিলেন। তারপর আপনার সাথে আমাদের এক থাকার কোন সুযোগ নেই। অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোকে সন্নিকটে আনলাম এবং তাদের উপর আরোহিত হলাম। তখন আমাদের মামা তাঁর বস্ত্র দ্বারা নিজেকে আবৃত করে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা রওনা হয়ে মক্কার নিকটবর্তী অবতরণ করলাম। উনায়স আমাদের পশুগুলো এবং সে পরিমাণ পশুর মাঝে বাজি ধরল। এরপর তারা উভয়ে এক গণকের নিকট গেল। গণক উনায়সকে শ্রেষ্ঠ বলে রায় দিল। তারপর উনায়স আমাদের উটগুলো এবং তার সমসংখ্যক উট নিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাবর্তন করল। আবূ যার (রাঃ) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পত্র! আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দেখা করার তিন বছর আগে সলাত আদায় করেছি। আমি (রাবী) বললাম, কার জন্যে? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্যে। আমি (রাবী) বললাম, কোন্ দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি বললেন, আমার মহান আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে মুখ ফিরাতাম। আমি ‘ইশার সলাত আদায় করতে করতে রাতের শেষাংশে ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়তাম, যতক্ষণ না সূর্যের কিরণ এসে আমার উপর পড়ত। তারপর উনায়স (রাঃ) বললেন, মক্কায় আমার একটু দরকার আছে। সুতরাং আপনি আমার সংসার দেখাশুনা করবেন। তারপর উনায়স (রাঃ) চলে গেল এবং মাক্কায় পৌঁছলো এবং সে দেরীতে আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, আমি মাক্কায় কতিপয় জনৈক লোকের দেখা পেয়েছি যিনি আপনার দ্বীনের উপর অবিচল। তিনি মনে করেন যে, আল্লাহ তাঁকে (রসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন। আমি [আবূ যার (রাঃ)] বললাম, ব্যক্তিরা তাঁর ব্যাপারে কী বলে। সে বলল, তারা তাঁকে কবি, জ্যোতিষী ও যাদুকর বলে। উনায়স (রাঃ) নিজেও একজন কবি ছিল। উনায়স (রাঃ) বলল, আমি বহু গণকের কথা শুনেছি; কিন্তু সে লোকের কথা গণকের মতো নয়। আমি তাঁর বাক্যকে কবিদের রচনার সাথে মিলিয়ে দেখেছি; কিন্তু কোন কবির ভাষার সঙ্গে তার কোন সামঞ্জস্য নেই। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং ওরা মিথ্যাবদী। তিনি বললেন, আমি বললাম, তুমি আমার সংসার খোঁজ-খবর রাখবে এবং আমি গিয়ে একটু দেখে নেই। তিনি বললেন, আমি মক্কায় আসলাম এবং তাদের এক জীর্ণ লোককে উদ্দেশ্য করে বললাম, সে লোক কোথায়, যাকে তোমরা সাবী (বিধর্মী) বলে ডাক? সে আমার দিকে ইঙ্গিত করল এবং বলল, এ-ই সাবী। এরপর মক্কা পর্বতের ব্যক্তিরা ঢেলা ও হাড়সহ আমার উপর চড়াও হলো, এমনকি আমি অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়লাম। তিনি বললেন, যখন আমি উঠলাম তখন লাল মূর্তির (অর্থাৎ- রক্তের ঢল) অবস্থায় উঠলাম। তিনি বলেন, তারপর আমি যমযম কূপের নিকট এসে আমার রক্ত ধুয়ে নিলাম। তারপর তার পানি পান করলাম। হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি সেখানে ত্রিশ রাত-দিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় যমযমের পানি ব্যতীত আমার নিকট কোন খাবার ছিল না। এরপর আমি এমন মোটা হয়ে গেলাম যে, আমার পেটের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেল। আমি আমার অন্তরে ক্ষুধার যাতনা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে মাক্কাবাসীরা যখন এক উজ্জ্বল গভীর রাতে ঘুমিয়ে পড়ল, তখন কেউ বাইতুল্লাহ্র তাওয়াফ করছিল না। সে সময় তাদের মধ্য থেকে দু’জন মহিলা ইসাফা ও নায়িলাকে ডাকছিল। তিনি বলরেন, তারা তাওয়াফ করতে করতে আমার নিকট এসে উপস্থিত হল। আমি বললাম, তাদের একজনকে অপরজনের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ কর। তিনি বললেন, তবুও তারা তাদের কথা হতে বিচ্ছিন্ন হলো না। তিনি বলেন, তারা আবার আমার সামনে দিয়ে আসলো। আমি অধৈর্য হয়ে বললাম, গুপ্তাঙ্গ কাষ্ঠের ন্যায়। এখানে আমি ইশারা ইঙ্গিত না করে স্পষ্টভাবেই বললাম। এতে তারা অভিসম্পাত করতে করতে ফিরে চলল আর বলতে লাগল, যদি এখানে আমাদের লোকদের মাঝে কেউ থাকত (তাহলে এ দুষ্টকে উপযুক্ত শাস্তি দিত)! পথিমধ্যে উভয় নারীর সাথে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ)-এর দেখা হলো। তখন তাঁরা উভয়ে উঁচুভূমি থেকে নীচে নামছিলেন। তিনি তাদের দু’জনকেই প্রশ্ন করলেন, কী হয়েছে তোমাদের? তাঁরা বলল, কা‘বাহ্ ও তার পর্দার মধ্যস্থলে এ বিধর্মী আছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, সে তোমাদের কী বলেছে? তারা বলল, সে এমন কথা বলেছে যাতে মুখ ভরে যায় (মুখে বলা ঠিক না)। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে তাঁর সাথীসহ হাজ্রে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ্’র তাওয়াফ করে সলাত আদায় করলেন। যখন তিনি তাঁর সলাত আদায় শেষ করলেন তখন আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি প্রথম লোক, যে তাঁকে ইসলামী শার’ঈ নিয়মে সালাম জানিয়ে বললাম, আস্সালামু ‘আলাইকা ইয়া রসূলুল্লাহ্! (আপনার প্রতি সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক)। অতঃপর তিনি জানতে চাইলেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। তিনি বললেন, তারপর তিনি তাঁর হাত ঝুকালেন এবং তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো কপালে রাখলেন। আমি ধারণা করলাম, গিফার সম্প্রদায়ের প্রতি আমার সম্পর্ককে তিনি পছন্দ করছেন না। তারপর আমি তাঁর হাত ধরতে চাইলাম। তাঁর সাথী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি তাঁকে আমার তুলনায় বহু বেশী ভাল জানতেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে দেখলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কতদিন যাবৎ এখানে অবস্থান করছ? আমি বললাম, আমি এখানে ত্রিশটি রাত্রদিন যাবৎ আছি। তিনি বললেন, তোমাকে কে খাদ্য দিত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ব্যতীত আমার জন্য অন্য কোন খাদ্য ছিল না। এ পানি পান করেই আমি স্থূলদেহী হয়ে গেছি, এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে এবং আমি কক্ষনো ক্ষুধার কোন দুর্বলতা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, এ পানি অতিশয় বারাকাতময় ও প্রাচুর্যময় এবং তা অন্যান্য খাবারের মতো তা পেট পূর্ণ করে দেয়। তারপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তাকে আজ রাতের খাবার খাওয়ানোর জন্য আমাকে অনুমতি দিন। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ) রওনা হলেন এবং আমিও তাঁদের সঙ্গে চললাম। আবূ বকর (রাঃ) একটি দরজা খুললেন এবং আমাদের জন্য তিনি মুষ্টি ভরে তায়িফের কিশ্মিশ্ খেতে দিলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম খাদ্য যা সেখানে আমি খেলাম। সেখানে যতক্ষণ থাকার তা থাকলাম। তারপর আমি রসূলুল্লা (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, আমাকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি দেশের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমার ধারণ সেটি ইয়াস্রিব (মাদীনার পুরনো নাম) ব্যতীত অন্য কোন জায়গা নয়। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃতুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট আমার আহ্বান পৌঁছিয়ে দিবে? হয়ত তোমার ওয়াসীলায় আল্লাহ তাদের কল্যাণ দান করবেন এবং এদের হিদায়াতের জন্য তোমাকে পুরস্কৃত করবেন। তারপর আমি উনায়সের নিকট প্রত্যাবর্তন করলাম। সে বলল, আপনি কী করেছেন? আমি বললাম, আমি অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছি। সে (উনায়স) বলল, আপনার দ্বীন সম্পর্কে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবূল করেছি এবং ঈমান এনেছি। তারপর আমরা দু’জনে মায়ের নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবূল করলাম এবং ঈমান আনলাম। তারপর আমরা আরোহিত হয়ে আমাদের গিফার সম্প্রদায়ের নিকট আসলাম। তাদের অর্ধেক লোক ইসলাম কবূল করল এবং ঈমা ইবনু রাহাযাহ্ গিফারী তাঁদের ইমামাত করেন। তিনি ছিলেন তাঁদের নেতা। তাদের বাকী অর্ধেক বলল, যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় আসবেন তখন আমরা ইসলাম কবূল করব। তারপরে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাতে আসলেন এবং তাঁদের (গিফার সম্প্রদায়ের) অবশিষ্ট অর্ধেক ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষিত হলো। এরপর আসলাম সম্প্রদায়ের লোকেরা আসলো। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ভাইয়েরা (মিত্ররা) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমরাও তাঁদের ন্যায় ইসলাম গ্রহণ করলাম। এভাবে তাঁরাও ইসলামে দীক্ষিত হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃগিফার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা‘আলা মাফ করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তা‘আলা নিরাপত্তা প্রদান করুন। (ই. ফা. ৬১৩৫, ই. সে. ৬১৭৮)
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আমাদের গিফার সম্প্রদায় হতে বের হলাম। তারা হারাম মাসগুলোকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করত। আমি আমার ভাই উনায়স এবং আমাদের মা সহ বের হলাম এবং আমাদের এক মামার নিকট গেলাম। মামা আমাদের অনেক সসম্মানে গ্রহণ করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ভদ্রতাসূচক আচরণ করলেন। এতে তাঁর সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা আমাদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হল। তারা বলল, তুমি যখন তোমার পরিবার হতে দূরে থাকে তখন উনায়স তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের নিকট আসা-যাওয়া করে। তারপর আমাদের মামা আসলেন এবং তাঁকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের কাছে বলে দিলেন। তখন আমি বললাম, আপনি আমাদের সঙ্গে অতীতে যে সদ্ব্যবহার করেছেন তাকে নিঃশেষ করে দিলেন। তারপর আপনার সাথে আমাদের এক থাকার কোন সুযোগ নেই। অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোকে সন্নিকটে আনলাম এবং তাদের উপর আরোহিত হলাম। তখন আমাদের মামা তাঁর বস্ত্র দ্বারা নিজেকে আবৃত করে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা রওনা হয়ে মক্কার নিকটবর্তী অবতরণ করলাম। উনায়স আমাদের পশুগুলো এবং সে পরিমাণ পশুর মাঝে বাজি ধরল। এরপর তারা উভয়ে এক গণকের নিকট গেল। গণক উনায়সকে শ্রেষ্ঠ বলে রায় দিল। তারপর উনায়স আমাদের উটগুলো এবং তার সমসংখ্যক উট নিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাবর্তন করল। আবূ যার (রাঃ) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পত্র! আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দেখা করার তিন বছর আগে সলাত আদায় করেছি। আমি (রাবী) বললাম, কার জন্যে? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্যে। আমি (রাবী) বললাম, কোন্ দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি বললেন, আমার মহান আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে মুখ ফিরাতাম। আমি ‘ইশার সলাত আদায় করতে করতে রাতের শেষাংশে ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়তাম, যতক্ষণ না সূর্যের কিরণ এসে আমার উপর পড়ত। তারপর উনায়স (রাঃ) বললেন, মক্কায় আমার একটু দরকার আছে। সুতরাং আপনি আমার সংসার দেখাশুনা করবেন। তারপর উনায়স (রাঃ) চলে গেল এবং মাক্কায় পৌঁছলো এবং সে দেরীতে আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, আমি মাক্কায় কতিপয় জনৈক লোকের দেখা পেয়েছি যিনি আপনার দ্বীনের উপর অবিচল। তিনি মনে করেন যে, আল্লাহ তাঁকে (রসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন। আমি [আবূ যার (রাঃ)] বললাম, ব্যক্তিরা তাঁর ব্যাপারে কী বলে। সে বলল, তারা তাঁকে কবি, জ্যোতিষী ও যাদুকর বলে। উনায়স (রাঃ) নিজেও একজন কবি ছিল। উনায়স (রাঃ) বলল, আমি বহু গণকের কথা শুনেছি; কিন্তু সে লোকের কথা গণকের মতো নয়। আমি তাঁর বাক্যকে কবিদের রচনার সাথে মিলিয়ে দেখেছি; কিন্তু কোন কবির ভাষার সঙ্গে তার কোন সামঞ্জস্য নেই। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং ওরা মিথ্যাবদী। তিনি বললেন, আমি বললাম, তুমি আমার সংসার খোঁজ-খবর রাখবে এবং আমি গিয়ে একটু দেখে নেই। তিনি বললেন, আমি মক্কায় আসলাম এবং তাদের এক জীর্ণ লোককে উদ্দেশ্য করে বললাম, সে লোক কোথায়, যাকে তোমরা সাবী (বিধর্মী) বলে ডাক? সে আমার দিকে ইঙ্গিত করল এবং বলল, এ-ই সাবী। এরপর মক্কা পর্বতের ব্যক্তিরা ঢেলা ও হাড়সহ আমার উপর চড়াও হলো, এমনকি আমি অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়লাম। তিনি বললেন, যখন আমি উঠলাম তখন লাল মূর্তির (অর্থাৎ- রক্তের ঢল) অবস্থায় উঠলাম। তিনি বলেন, তারপর আমি যমযম কূপের নিকট এসে আমার রক্ত ধুয়ে নিলাম। তারপর তার পানি পান করলাম। হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি সেখানে ত্রিশ রাত-দিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় যমযমের পানি ব্যতীত আমার নিকট কোন খাবার ছিল না। এরপর আমি এমন মোটা হয়ে গেলাম যে, আমার পেটের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেল। আমি আমার অন্তরে ক্ষুধার যাতনা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে মাক্কাবাসীরা যখন এক উজ্জ্বল গভীর রাতে ঘুমিয়ে পড়ল, তখন কেউ বাইতুল্লাহ্র তাওয়াফ করছিল না। সে সময় তাদের মধ্য থেকে দু’জন মহিলা ইসাফা ও নায়িলাকে ডাকছিল। তিনি বলরেন, তারা তাওয়াফ করতে করতে আমার নিকট এসে উপস্থিত হল। আমি বললাম, তাদের একজনকে অপরজনের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ কর। তিনি বললেন, তবুও তারা তাদের কথা হতে বিচ্ছিন্ন হলো না। তিনি বলেন, তারা আবার আমার সামনে দিয়ে আসলো। আমি অধৈর্য হয়ে বললাম, গুপ্তাঙ্গ কাষ্ঠের ন্যায়। এখানে আমি ইশারা ইঙ্গিত না করে স্পষ্টভাবেই বললাম। এতে তারা অভিসম্পাত করতে করতে ফিরে চলল আর বলতে লাগল, যদি এখানে আমাদের লোকদের মাঝে কেউ থাকত (তাহলে এ দুষ্টকে উপযুক্ত শাস্তি দিত)! পথিমধ্যে উভয় নারীর সাথে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ)-এর দেখা হলো। তখন তাঁরা উভয়ে উঁচুভূমি থেকে নীচে নামছিলেন। তিনি তাদের দু’জনকেই প্রশ্ন করলেন, কী হয়েছে তোমাদের? তাঁরা বলল, কা‘বাহ্ ও তার পর্দার মধ্যস্থলে এ বিধর্মী আছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, সে তোমাদের কী বলেছে? তারা বলল, সে এমন কথা বলেছে যাতে মুখ ভরে যায় (মুখে বলা ঠিক না)। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে তাঁর সাথীসহ হাজ্রে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ্’র তাওয়াফ করে সলাত আদায় করলেন। যখন তিনি তাঁর সলাত আদায় শেষ করলেন তখন আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি প্রথম লোক, যে তাঁকে ইসলামী শার’ঈ নিয়মে সালাম জানিয়ে বললাম, আস্সালামু ‘আলাইকা ইয়া রসূলুল্লাহ্! (আপনার প্রতি সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক)। অতঃপর তিনি জানতে চাইলেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। তিনি বললেন, তারপর তিনি তাঁর হাত ঝুকালেন এবং তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো কপালে রাখলেন। আমি ধারণা করলাম, গিফার সম্প্রদায়ের প্রতি আমার সম্পর্ককে তিনি পছন্দ করছেন না। তারপর আমি তাঁর হাত ধরতে চাইলাম। তাঁর সাথী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি তাঁকে আমার তুলনায় বহু বেশী ভাল জানতেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে দেখলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কতদিন যাবৎ এখানে অবস্থান করছ? আমি বললাম, আমি এখানে ত্রিশটি রাত্রদিন যাবৎ আছি। তিনি বললেন, তোমাকে কে খাদ্য দিত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ব্যতীত আমার জন্য অন্য কোন খাদ্য ছিল না। এ পানি পান করেই আমি স্থূলদেহী হয়ে গেছি, এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে এবং আমি কক্ষনো ক্ষুধার কোন দুর্বলতা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, এ পানি অতিশয় বারাকাতময় ও প্রাচুর্যময় এবং তা অন্যান্য খাবারের মতো তা পেট পূর্ণ করে দেয়। তারপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তাকে আজ রাতের খাবার খাওয়ানোর জন্য আমাকে অনুমতি দিন। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ) রওনা হলেন এবং আমিও তাঁদের সঙ্গে চললাম। আবূ বকর (রাঃ) একটি দরজা খুললেন এবং আমাদের জন্য তিনি মুষ্টি ভরে তায়িফের কিশ্মিশ্ খেতে দিলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম খাদ্য যা সেখানে আমি খেলাম। সেখানে যতক্ষণ থাকার তা থাকলাম। তারপর আমি রসূলুল্লা (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, আমাকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি দেশের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমার ধারণ সেটি ইয়াস্রিব (মাদীনার পুরনো নাম) ব্যতীত অন্য কোন জায়গা নয়। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃতুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট আমার আহ্বান পৌঁছিয়ে দিবে? হয়ত তোমার ওয়াসীলায় আল্লাহ তাদের কল্যাণ দান করবেন এবং এদের হিদায়াতের জন্য তোমাকে পুরস্কৃত করবেন। তারপর আমি উনায়সের নিকট প্রত্যাবর্তন করলাম। সে বলল, আপনি কী করেছেন? আমি বললাম, আমি অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছি। সে (উনায়স) বলল, আপনার দ্বীন সম্পর্কে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবূল করেছি এবং ঈমান এনেছি। তারপর আমরা দু’জনে মায়ের নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবূল করলাম এবং ঈমান আনলাম। তারপর আমরা আরোহিত হয়ে আমাদের গিফার সম্প্রদায়ের নিকট আসলাম। তাদের অর্ধেক লোক ইসলাম কবূল করল এবং ঈমা ইবনু রাহাযাহ্ গিফারী তাঁদের ইমামাত করেন। তিনি ছিলেন তাঁদের নেতা। তাদের বাকী অর্ধেক বলল, যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় আসবেন তখন আমরা ইসলাম কবূল করব। তারপরে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাতে আসলেন এবং তাঁদের (গিফার সম্প্রদায়ের) অবশিষ্ট অর্ধেক ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষিত হলো। এরপর আসলাম সম্প্রদায়ের লোকেরা আসলো। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ভাইয়েরা (মিত্ররা) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমরাও তাঁদের ন্যায় ইসলাম গ্রহণ করলাম। এভাবে তাঁরাও ইসলামে দীক্ষিত হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃগিফার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা‘আলা মাফ করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তা‘আলা নিরাপত্তা প্রদান করুন। (ই. ফা. ৬১৩৫, ই. সে. ৬১৭৮)
حدثنا هداب بن خالد الأزدي، حدثنا سليمان بن المغيرة، أخبرنا حميد بن هلال، عن عبد الله بن الصامت، قال قال أبو ذر خرجنا من قومنا غفار وكانوا يحلون الشهر الحرام فخرجت أنا وأخي أنيس وأمنا فنزلنا على خال لنا فأكرمنا خالنا وأحسن إلينا فحسدنا قومه فقالوا إنك إذا خرجت عن أهلك خالف إليهم أنيس فجاء خالنا فنثا علينا الذي قيل له فقلت له أما ما مضى من معروفك فقد كدرته ولا جماع لك فيما بعد . فقربنا صرمتنا فاحتملنا عليها وتغطى خالنا ثوبه فجعل يبكي فانطلقنا حتى نزلنا بحضرة مكة فنافر أنيس عن صرمتنا وعن مثلها فأتيا الكاهن فخير أنيسا فأتانا أنيس بصرمتنا ومثلها معها - قال - وقد صليت يا ابن أخي قبل أن ألقى رسول الله صلى الله عليه وسلم بثلاث سنين . قلت لمن قال لله . قلت فأين توجه قال أتوجه حيث يوجهني ربي أصلي عشاء حتى إذا كان من آخر الليل ألقيت كأني خفاء حتى تعلوني الشمس . فقال أنيس إن لي حاجة بمكة فاكفني . فانطلق أنيس حتى أتى مكة فراث على ثم جاء فقلت ما صنعت قال لقيت رجلا بمكة على دينك يزعم أن الله أرسله . قلت فما يقول الناس قال يقولون شاعر كاهن ساحر . وكان أنيس أحد الشعراء . قال أنيس لقد سمعت قول الكهنة فما هو بقولهم ولقد وضعت قوله على أقراء الشعر فما يلتئم على لسان أحد بعدي أنه شعر والله إنه لصادق وإنهم لكاذبون . قال قلت فاكفني حتى أذهب فأنظر . قال فأتيت مكة فتضعفت رجلا منهم فقلت أين هذا الذي تدعونه الصابئ فأشار إلى فقال الصابئ . فمال على أهل الوادي بكل مدرة وعظم حتى خررت مغشيا على - قال - فارتفعت حين ارتفعت كأني نصب أحمر - قال - فأتيت زمزم فغسلت عني الدماء وشربت من مائها ولقد لبثت يا ابن أخي ثلاثين بين ليلة ويوم ما كان لي طعام إلا ماء زمزم فسمنت حتى تكسرت عكن بطني وما وجدت على كبدي سخفة جوع - قال - فبينا أهل مكة في ليلة قمراء إضحيان إذ ضرب على أسمختهم فما يطوف بالبيت أحد وامرأتين منهم تدعوان إسافا ونائلة - قال - فأتتا على في طوافهما فقلت أنكحا أحدهما الأخرى - قال - فما تناهتا عن قولهما - قال - فأتتا على فقلت هن مثل الخشبة غير أني لا أكني . فانطلقتا تولولان وتقولان لو كان ها هنا أحد من أنفارنا . قال فاستقبلهما رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وهما هابطان قال " ما لكما " . قالتا الصابئ بين الكعبة وأستارها قال " ما قال لكما " . قالتا إنه قال لنا كلمة تملأ الفم . وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى استلم الحجر وطاف بالبيت هو وصاحبه ثم صلى فلما قضى صلاته قال أبو ذر . فكنت أنا أول من حياه بتحية الإسلام - قال - فقلت السلام عليك يا رسول الله . فقال " وعليك ورحمة الله " . ثم قال " من أنت " . قال قلت من غفار - قال - فأهوى بيده فوضع أصابعه على جبهته فقلت في نفسي كره أن انتميت إلى غفار . فذهبت آخذ بيده فقدعني صاحبه وكان أعلم به مني ثم رفع رأسه ثم قال " متى كنت ها هنا " . قال قلت قد كنت ها هنا منذ ثلاثين بين ليلة ويوم قال " فمن كان يطعمك " . قال قلت ما كان لي طعام إلا ماء زمزم . فسمنت حتى تكسرت عكن بطني وما أجد على كبدي سخفة جوع قال " إنها مباركة إنها طعام طعم " . فقال أبو بكر يا رسول الله ائذن لي في طعامه الليلة . فانطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وانطلقت معهما ففتح أبو بكر بابا فجعل يقبض لنا من زبيب الطائف وكان ذلك أول طعام أكلته بها ثم غبرت ما غبرت ثم أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " إنه قد وجهت لي أرض ذات نخل لا أراها إلا يثرب فهل أنت مبلغ عني قومك عسى الله أن ينفعهم بك ويأجرك فيهم " . فأتيت أنيسا فقال ما صنعت قلت صنعت أني قد أسلمت وصدقت . قال ما بي رغبة عن دينك فإني قد أسلمت وصدقت . فأتينا أمنا فقالت ما بي رغبة عن دينكما فإني قد أسلمت وصدقت . فاحتملنا حتى أتينا قومنا غفارا فأسلم نصفهم وكان يؤمهم إيماء بن رحضة الغفاري وكان سيدهم . وقال نصفهم إذا قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة أسلمنا . فقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة فأسلم نصفهم الباقي وجاءت أسلم فقالوا يا رسول الله إخوتنا نسلم على الذي أسلموا عليه . فأسلموا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " غفار غفر الله لها وأسلم سالمها الله " .
সহিহ মুসলিম ৬২৫৪
حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، أخبرنا النضر بن شميل، حدثنا سليمان، بن المغيرة حدثنا حميد بن هلال، بهذا الإسناد وزاد بعد قوله قلت فاكفني حتى أذهب فأنظر . قال نعم وكن على حذر من أهل مكة فإنهم قد شنفوا له وتجهموا .
হুমায়দ ইবনু হিলাল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সূত্রে (রাবী) আবূ যার (রাঃ)-এর কথা “আমি বললাম, তুমি এখানে অবস্থান করো, আমি গিয়ে সে ব্যক্তিকে দেখে নেই।” তারপরে বর্ধিত করে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু মক্কাবাসীদের সম্বন্ধে সাবধান থাকবেন। তারা তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং তাঁর সাথে খারাপ আচরণ করে। (ই. ফা. ৬১৩৬, ই. সে. ৬১৭৯)
হুমায়দ ইবনু হিলাল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সূত্রে (রাবী) আবূ যার (রাঃ)-এর কথা “আমি বললাম, তুমি এখানে অবস্থান করো, আমি গিয়ে সে ব্যক্তিকে দেখে নেই।” তারপরে বর্ধিত করে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু মক্কাবাসীদের সম্বন্ধে সাবধান থাকবেন। তারা তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং তাঁর সাথে খারাপ আচরণ করে। (ই. ফা. ৬১৩৬, ই. সে. ৬১৭৯)
حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، أخبرنا النضر بن شميل، حدثنا سليمان، بن المغيرة حدثنا حميد بن هلال، بهذا الإسناد وزاد بعد قوله قلت فاكفني حتى أذهب فأنظر . قال نعم وكن على حذر من أهل مكة فإنهم قد شنفوا له وتجهموا .
সহিহ মুসলিম > জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর ফযিলত
সহিহ মুসলিম ৬২৫৭
حدثنا يحيى بن يحيى، أخبرنا خالد بن عبد الله، عن بيان، عن قيس بن أبي، حازم عن جرير بن عبد الله، ح وحدثني عبد الحميد بن بيان، حدثنا خالد، عن بيان، قال سمعت قيس بن أبي، حازم يقول قال جرير بن عبد الله ما حجبني رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ أسلمت ولا رآني إلا ضحك
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবূলের পর হতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে (তাঁর নিকট প্রবেশে) বাধা দেননি এবং তিনি আমার দিকে হাসি মুখ ব্যতীত দৃষ্টিপাত করতেন না। (ই. ফা. ৬১৩৯, ই. সে. ৬১৮২)
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবূলের পর হতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে (তাঁর নিকট প্রবেশে) বাধা দেননি এবং তিনি আমার দিকে হাসি মুখ ব্যতীত দৃষ্টিপাত করতেন না। (ই. ফা. ৬১৩৯, ই. সে. ৬১৮২)
حدثنا يحيى بن يحيى، أخبرنا خالد بن عبد الله، عن بيان، عن قيس بن أبي، حازم عن جرير بن عبد الله، ح وحدثني عبد الحميد بن بيان، حدثنا خالد، عن بيان، قال سمعت قيس بن أبي، حازم يقول قال جرير بن عبد الله ما حجبني رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ أسلمت ولا رآني إلا ضحك
সহিহ মুসলিম ৬২৫৮
وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا وكيع، وأبو أسامة عن إسماعيل، ح وحدثنا ابن نمير، حدثنا عبد الله بن إدريس، حدثنا إسماعيل، عن قيس، عن جرير، قال ما حجبني رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ أسلمت ولا رآني إلا تبسم في وجهي . زاد ابن نمير في حديثه عن ابن إدريس ولقد شكوت إليه أني لا أثبت على الخيل فضرب بيده في صدري وقال " اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا " .
জারীর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবূল করার পর হতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকট প্রবেশে আমাকে বাধা দেননি। তিনি আমার মুখমণ্ডলে মৃদু হাসি ব্যতীত দেখেননি। ইবনু নুমায়র (রহঃ) তাঁর হাদীসে ইবনু ইদ্রীস (রহঃ) হতে বর্ধিত রিওয়ায়াত করেছেন, “আমি তার নিকট অভিযোগ করলাম যে, আমি ঘোড়ার পৃষ্ঠে দৃঢ়ভাবে থাকতে পারি না। তখন তিনি তাঁর হাত দ্বারা আমার বুকে মৃদু আঘাত করে দু’আ করলেন: ……………………. . . “হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।” (ই. ফা. ৬১৪০, ই. সে. ৬১৮২)
জারীর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবূল করার পর হতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকট প্রবেশে আমাকে বাধা দেননি। তিনি আমার মুখমণ্ডলে মৃদু হাসি ব্যতীত দেখেননি। ইবনু নুমায়র (রহঃ) তাঁর হাদীসে ইবনু ইদ্রীস (রহঃ) হতে বর্ধিত রিওয়ায়াত করেছেন, “আমি তার নিকট অভিযোগ করলাম যে, আমি ঘোড়ার পৃষ্ঠে দৃঢ়ভাবে থাকতে পারি না। তখন তিনি তাঁর হাত দ্বারা আমার বুকে মৃদু আঘাত করে দু’আ করলেন: ……………………. . . “হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।” (ই. ফা. ৬১৪০, ই. সে. ৬১৮২)
وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا وكيع، وأبو أسامة عن إسماعيل، ح وحدثنا ابن نمير، حدثنا عبد الله بن إدريس، حدثنا إسماعيل، عن قيس، عن جرير، قال ما حجبني رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ أسلمت ولا رآني إلا تبسم في وجهي . زاد ابن نمير في حديثه عن ابن إدريس ولقد شكوت إليه أني لا أثبت على الخيل فضرب بيده في صدري وقال " اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا " .
সহিহ মুসলিম ৬২৫৯
حدثني عبد الحميد بن بيان، أخبرنا خالد، عن بيان، عن قيس، عن جرير، قال كان في الجاهلية بيت يقال له ذو الخلصة وكان يقال له الكعبة اليمانية والكعبة الشامية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل أنت مريحي من ذي الخلصة والكعبة اليمانية والشامية " . فنفرت إليه في مائة وخمسين من أحمس فكسرناه وقتلنا من وجدنا عنده فأتيته فأخبرته - قال - فدعا لنا ولأحمس .
জারীর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, জাহিলী যুগে একটি গৃহ ছিল, যেটিকে ‘যুলখালাসাহ্’ বলা হত এবং এটাকে ইয়ামানী কা‘বাহ্ ও শামিয়্যাহ্ কা‘বাও বলা হত। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (জারীরকে) বললেন, তুমি কি আমাদের যুল্খালাসাহ্, ইয়ামানী কা‘বাহ্ ও শামিয়্যাহ্ কা‘বাহ্ থেকে চিন্তু মুক্ত করতে পারবে? তখন আমি আহ্মাস সম্প্রদায়ের একশ’ পঞ্চাশজন ব্যক্তি সাথে নিয়ে রওনা হলাম। যুলখালাসাকে ভেঙ্গে দিলাম এবং সেখানে যাদের পেলাম তাদের হত্যা করলাম। তারপর আমি তাঁর নিকট ফিরে এসে তাঁকে জানালাম। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাদের ও আহ্মাস সম্প্রদায়ের জন্য দু’আ করলেন। (ই. ফা. ৬১৪১, ই. সে. ৬১৮৪)
জারীর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, জাহিলী যুগে একটি গৃহ ছিল, যেটিকে ‘যুলখালাসাহ্’ বলা হত এবং এটাকে ইয়ামানী কা‘বাহ্ ও শামিয়্যাহ্ কা‘বাও বলা হত। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (জারীরকে) বললেন, তুমি কি আমাদের যুল্খালাসাহ্, ইয়ামানী কা‘বাহ্ ও শামিয়্যাহ্ কা‘বাহ্ থেকে চিন্তু মুক্ত করতে পারবে? তখন আমি আহ্মাস সম্প্রদায়ের একশ’ পঞ্চাশজন ব্যক্তি সাথে নিয়ে রওনা হলাম। যুলখালাসাকে ভেঙ্গে দিলাম এবং সেখানে যাদের পেলাম তাদের হত্যা করলাম। তারপর আমি তাঁর নিকট ফিরে এসে তাঁকে জানালাম। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাদের ও আহ্মাস সম্প্রদায়ের জন্য দু’আ করলেন। (ই. ফা. ৬১৪১, ই. সে. ৬১৮৪)
حدثني عبد الحميد بن بيان، أخبرنا خالد، عن بيان، عن قيس، عن جرير، قال كان في الجاهلية بيت يقال له ذو الخلصة وكان يقال له الكعبة اليمانية والكعبة الشامية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل أنت مريحي من ذي الخلصة والكعبة اليمانية والشامية " . فنفرت إليه في مائة وخمسين من أحمس فكسرناه وقتلنا من وجدنا عنده فأتيته فأخبرته - قال - فدعا لنا ولأحمس .
সহিহ মুসলিম ৬২৬০
حدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا جرير، عن إسماعيل بن أبي خالد، عن قيس، بن أبي حازم عن جرير بن عبد الله البجلي، قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا جرير ألا تريحني من ذي الخلصة " . بيت لخثعم كان يدعى كعبة اليمانية . قال فنفرت في خمسين ومائة فارس وكنت لا أثبت على الخيل فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فضرب يده في صدري فقال " اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا " . قال فانطلق فحرقها بالنار ثم بعث جرير إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا يبشره يكنى أبا أرطاة منا فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له ما جئتك حتى تركناها كأنها جمل أجرب . فبرك رسول الله صلى الله عليه وسلم على خيل أحمس ورجالها خمس مرات .
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ বাজালী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন, হে জারীর! তুমি কি আমাকে খাস’আম গোষ্ঠীর ঘর (প্রতিমা মন্দির) যুলখালাসাহ্ থেকে চিন্তা মুক্ত করবে না? এটাকে ইয়ামানী কা‘বাও বলা হত। জারীর বলেন, েএরপর আমি দেড়শ’ অশ্বারোহীসহ সেদিকে রওনা হলাম; অথচ আমি উটের পিঠে স্থিরভাবে থাকতে পারতাম না। আমি এ ব্যাপারটি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তিমি আমার বুকে তাঁর হাত মারলেন এবং দু‘আ করলেন: ………………………. “হে আল্লাহ! তাকে (উটের পিঠে) স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।” বর্ননাকারী বলেন, তারপর তিনি চলে গেলেন েএবং সেটি (যুল্খালাসাহ্ মূর্তি) আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর জারীর (রাঃ) আমাদের মাঝখান হতে আবূ আরতাহ্ (রাঃ) নামধারী জনৈক লোককে সুখবর দেয়ার জন্য রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে বললেন, আমরা যুলখালাসাকে পাঁচড়াযুক্ত উষ্ট্রের ন্যায় করে দিয়ে আপনার নিকট এসেছি। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহ্মাস গোত্রীয় ঘোড়া ও লোকদের জন্য পাঁচবার কল্যাণের প্রার্থনা করলেন। (ই. ফা. ৬১৪২, ই. সে. ৬১৮৫)
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ বাজালী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন, হে জারীর! তুমি কি আমাকে খাস’আম গোষ্ঠীর ঘর (প্রতিমা মন্দির) যুলখালাসাহ্ থেকে চিন্তা মুক্ত করবে না? এটাকে ইয়ামানী কা‘বাও বলা হত। জারীর বলেন, েএরপর আমি দেড়শ’ অশ্বারোহীসহ সেদিকে রওনা হলাম; অথচ আমি উটের পিঠে স্থিরভাবে থাকতে পারতাম না। আমি এ ব্যাপারটি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তিমি আমার বুকে তাঁর হাত মারলেন এবং দু‘আ করলেন: ………………………. “হে আল্লাহ! তাকে (উটের পিঠে) স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।” বর্ননাকারী বলেন, তারপর তিনি চলে গেলেন েএবং সেটি (যুল্খালাসাহ্ মূর্তি) আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর জারীর (রাঃ) আমাদের মাঝখান হতে আবূ আরতাহ্ (রাঃ) নামধারী জনৈক লোককে সুখবর দেয়ার জন্য রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে বললেন, আমরা যুলখালাসাকে পাঁচড়াযুক্ত উষ্ট্রের ন্যায় করে দিয়ে আপনার নিকট এসেছি। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহ্মাস গোত্রীয় ঘোড়া ও লোকদের জন্য পাঁচবার কল্যাণের প্রার্থনা করলেন। (ই. ফা. ৬১৪২, ই. সে. ৬১৮৫)
حدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا جرير، عن إسماعيل بن أبي خالد، عن قيس، بن أبي حازم عن جرير بن عبد الله البجلي، قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا جرير ألا تريحني من ذي الخلصة " . بيت لخثعم كان يدعى كعبة اليمانية . قال فنفرت في خمسين ومائة فارس وكنت لا أثبت على الخيل فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فضرب يده في صدري فقال " اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا " . قال فانطلق فحرقها بالنار ثم بعث جرير إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا يبشره يكنى أبا أرطاة منا فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له ما جئتك حتى تركناها كأنها جمل أجرب . فبرك رسول الله صلى الله عليه وسلم على خيل أحمس ورجالها خمس مرات .
সহিহ মুসলিম ৬২৬১
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا وكيع، ح وحدثنا ابن نمير، حدثنا أبي ح، وحدثنا محمد بن عباد، حدثنا سفيان، ح وحدثنا ابن أبي عمر، حدثنا مروان، - يعني الفزاري ح وحدثني محمد بن رافع، حدثنا أبو أسامة، كلهم عن إسماعيل، بهذا الإسناد وقال في حديث مروان فجاء بشير جرير أبو أرطاة حصين بن ربيعة يبشر النبي صلى الله عليه وسلم .
ইসমা‘ঈল (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
উপরোক্ত সূত্রে মারওয়ান (রহঃ)-এর হাদীসে বলছেন যে, জারীর (রাঃ)-এর সুসংবাদদাতা আবূ আরতাত হুসায়ন ইবনু রাবী‘আহ্ (রাঃ) এলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সুসংবাদ দিলেন। (ই. ফা. ৬১৪৩, ই. সে. ৬১৮৬)
ইসমা‘ঈল (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
উপরোক্ত সূত্রে মারওয়ান (রহঃ)-এর হাদীসে বলছেন যে, জারীর (রাঃ)-এর সুসংবাদদাতা আবূ আরতাত হুসায়ন ইবনু রাবী‘আহ্ (রাঃ) এলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সুসংবাদ দিলেন। (ই. ফা. ৬১৪৩, ই. সে. ৬১৮৬)
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا وكيع، ح وحدثنا ابن نمير، حدثنا أبي ح، وحدثنا محمد بن عباد، حدثنا سفيان، ح وحدثنا ابن أبي عمر، حدثنا مروان، - يعني الفزاري ح وحدثني محمد بن رافع، حدثنا أبو أسامة، كلهم عن إسماعيل، بهذا الإسناد وقال في حديث مروان فجاء بشير جرير أبو أرطاة حصين بن ربيعة يبشر النبي صلى الله عليه وسلم .