সহিহ মুসলিম > মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা

সহিহ মুসলিম ৪৫৪৪

وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحسن بن أعين، حدثنا زهير، حدثنا أبو إسحاق، عن عمرو بن ميمون، عن عبد الله، قال استقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم البيت فدعا على ستة نفر من قريش ‏.‏ فيهم أبو جهل وأمية بن خلف وعتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة وعقبة بن أبي معيط فأقسم بالله لقد رأيتهم صرعى على بدر ‏.‏ قد غيرتهم الشمس وكان يوما حارا ‏.‏

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা বাইতুল্লাহর দিকে মুখ করে কুরায়শের ছয় ব্যক্তির জন্য বদদু’আ করলেন। তাদের মধ্যে আবূ জাহ্‌ল, উমাইয়াহ্‌ ইবনু খালাফ, উত্‌বাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, শাইবাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মু’আয়ত রয়েছে। আল্লাহ্‌র কসম করে বলছি, আমি তাদের কর্তিত মৃত লাশগুলো বাদ্‌রে দেখেছি। সূর্যতাপ তাদের বিকৃত করে ফেলেছিল। আর সেদিনটিও ছিল অত্যন্ত গরমের। (ই.ফা. ৪৫০১, ই.সে. ৪৫০৩)

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা বাইতুল্লাহর দিকে মুখ করে কুরায়শের ছয় ব্যক্তির জন্য বদদু’আ করলেন। তাদের মধ্যে আবূ জাহ্‌ল, উমাইয়াহ্‌ ইবনু খালাফ, উত্‌বাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, শাইবাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মু’আয়ত রয়েছে। আল্লাহ্‌র কসম করে বলছি, আমি তাদের কর্তিত মৃত লাশগুলো বাদ্‌রে দেখেছি। সূর্যতাপ তাদের বিকৃত করে ফেলেছিল। আর সেদিনটিও ছিল অত্যন্ত গরমের। (ই.ফা. ৪৫০১, ই.সে. ৪৫০৩)

وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحسن بن أعين، حدثنا زهير، حدثنا أبو إسحاق، عن عمرو بن ميمون، عن عبد الله، قال استقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم البيت فدعا على ستة نفر من قريش ‏.‏ فيهم أبو جهل وأمية بن خلف وعتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة وعقبة بن أبي معيط فأقسم بالله لقد رأيتهم صرعى على بدر ‏.‏ قد غيرتهم الشمس وكان يوما حارا ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৪৭

وحدثناه أبو بكر بن أبي شيبة، وإسحاق بن إبراهيم، جميعا عن ابن عيينة، عن الأسود بن قيس، بهذا الإسناد وقال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في غار فنكبت إصبعه ‏.‏

আসওয়াদ ইবনু কায়স (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাতে বর্ণনাকারী আরও বলেছেন: রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন এক গুহায় ছিলেন, তখন তাঁর আঙ্গুলে যখম হয়। (ই.ফা. ৪৫০৪, ই.সে. ৪৫০৬)

আসওয়াদ ইবনু কায়স (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাতে বর্ণনাকারী আরও বলেছেন: রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন এক গুহায় ছিলেন, তখন তাঁর আঙ্গুলে যখম হয়। (ই.ফা. ৪৫০৪, ই.সে. ৪৫০৬)

وحدثناه أبو بكر بن أبي شيبة، وإسحاق بن إبراهيم، جميعا عن ابن عيينة، عن الأسود بن قيس، بهذا الإسناد وقال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في غار فنكبت إصبعه ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৪৬

حدثنا يحيى بن يحيى، وقتيبة بن سعيد، كلاهما عن أبي عوانة، قال يحيى أخبرنا أبو عوانة، عن الأسود بن قيس، عن جندب بن سفيان، قال دميت إصبع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض تلك المشاهد فقال ‏ "‏ هل أنت إلا إصبع دميت وفي سبيل الله ما لقيت ‏"‏ ‏.‏

জুন্দুব ইবনু সুফ্‌ইয়ান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি আঙ্গুলি কোন একটি অভিযানে রক্তাক্ত হয়। তখন তিনি (উক্ত আঙ্গুলিকে লক্ষ্য করে) বললেন, তুমি তো আঙ্গুলি ছাড়া কিছু নও, তুমি আহত হয়েছ এবং তুমি যে কষ্ট পেয়েছ, তা আল্লাহ্‌র পথেই গণ্য। (ই.ফা. ৪৫০৩, ই.সে. ৪৫০৫)

জুন্দুব ইবনু সুফ্‌ইয়ান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি আঙ্গুলি কোন একটি অভিযানে রক্তাক্ত হয়। তখন তিনি (উক্ত আঙ্গুলিকে লক্ষ্য করে) বললেন, তুমি তো আঙ্গুলি ছাড়া কিছু নও, তুমি আহত হয়েছ এবং তুমি যে কষ্ট পেয়েছ, তা আল্লাহ্‌র পথেই গণ্য। (ই.ফা. ৪৫০৩, ই.সে. ৪৫০৫)

حدثنا يحيى بن يحيى، وقتيبة بن سعيد، كلاهما عن أبي عوانة، قال يحيى أخبرنا أبو عوانة، عن الأسود بن قيس، عن جندب بن سفيان، قال دميت إصبع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض تلك المشاهد فقال ‏ "‏ هل أنت إلا إصبع دميت وفي سبيل الله ما لقيت ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৪২

حدثنا محمد بن المثنى، ومحمد بن بشار، - واللفظ لابن المثنى - قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، قال سمعت أبا إسحاق، يحدث عن عمرو بن ميمون، عن عبد الله، قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم ساجد وحوله ناس من قريش إذ جاء عقبة بن أبي معيط بسلا جزور فقذفه على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يرفع رأسه فجاءت فاطمة فأخذته عن ظهره ودعت على من صنع ذلك فقال ‏ "‏ اللهم عليك الملأ من قريش أبا جهل بن هشام وعتبة بن ربيعة وعقبة بن أبي معيط وشيبة بن ربيعة وأمية بن خلف أو أبى بن خلف ‏"‏ ‏.‏ شعبة الشاك قال فلقد رأيتهم قتلوا يوم بدر فألقوا في بئر غير أن أمية أو أبيا تقطعت أوصاله فلم يلق في البئر ‏.‏

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজ্‌দারত ছিলেন এবং তাঁর আশেপাশে কুরায়শের কিছু লোকজন জড়ো ছিল। এমন সময় উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মু’আয়ত (উটনীর নাড়ি-ভুড়িসহ) জরায়ু নিয়ে এলো এবং তা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিঠে নিক্ষেপ করলো। তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না। তারপর ফাতিমাহ্‌ আসলেন এবং তা তাঁর পিঠ থেকে সরিয়ে দিলেন এবং যে ব্যক্তি তা করেছে, তাকে বদদু’আ করলেন। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইয়া আল্লাহ্‌! তোমার উপরই কুরায়শ সম্প্রদায়ের আবূ জাহ্‌ল ইবনু হিশাম, উত্‌বাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, শাইবাহ্‌ ইবনু রাবীআ’, উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মু’আইত, উমাইয়াহ্‌ ইবনু খালাফ অথবা উবাই ইবনু খালাফ এদের চিনে নাও। তবে রাবী শু’বাহ্‌ (শেষের দু’ নামের) কোন্‌টি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, সে ব্যাপারে) সন্দেহ করেছেন। রাবী বলেন, এরপর আমি বাদ্‌রের দিন তাদের দেখেছি যে, তারা সকলে নিহত হয়েছে এবং একটি কূপে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। কেবল উমাইয়াহ্‌ বা উবাই এর লাশ বাদ ছিল। কেননা, তার লাশ জোড়ায় জোড়ায় কেটে ফেলা হয়েছিল বিধায় কূপে নিক্ষেপ করা হয়নি। (ই.ফা. ৪৪৯৯, ই.সে. ৪৫০১)

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজ্‌দারত ছিলেন এবং তাঁর আশেপাশে কুরায়শের কিছু লোকজন জড়ো ছিল। এমন সময় উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মু’আয়ত (উটনীর নাড়ি-ভুড়িসহ) জরায়ু নিয়ে এলো এবং তা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিঠে নিক্ষেপ করলো। তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না। তারপর ফাতিমাহ্‌ আসলেন এবং তা তাঁর পিঠ থেকে সরিয়ে দিলেন এবং যে ব্যক্তি তা করেছে, তাকে বদদু’আ করলেন। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইয়া আল্লাহ্‌! তোমার উপরই কুরায়শ সম্প্রদায়ের আবূ জাহ্‌ল ইবনু হিশাম, উত্‌বাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, শাইবাহ্‌ ইবনু রাবীআ’, উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মু’আইত, উমাইয়াহ্‌ ইবনু খালাফ অথবা উবাই ইবনু খালাফ এদের চিনে নাও। তবে রাবী শু’বাহ্‌ (শেষের দু’ নামের) কোন্‌টি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, সে ব্যাপারে) সন্দেহ করেছেন। রাবী বলেন, এরপর আমি বাদ্‌রের দিন তাদের দেখেছি যে, তারা সকলে নিহত হয়েছে এবং একটি কূপে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। কেবল উমাইয়াহ্‌ বা উবাই এর লাশ বাদ ছিল। কেননা, তার লাশ জোড়ায় জোড়ায় কেটে ফেলা হয়েছিল বিধায় কূপে নিক্ষেপ করা হয়নি। (ই.ফা. ৪৪৯৯, ই.সে. ৪৫০১)

حدثنا محمد بن المثنى، ومحمد بن بشار، - واللفظ لابن المثنى - قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، قال سمعت أبا إسحاق، يحدث عن عمرو بن ميمون، عن عبد الله، قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم ساجد وحوله ناس من قريش إذ جاء عقبة بن أبي معيط بسلا جزور فقذفه على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يرفع رأسه فجاءت فاطمة فأخذته عن ظهره ودعت على من صنع ذلك فقال ‏ "‏ اللهم عليك الملأ من قريش أبا جهل بن هشام وعتبة بن ربيعة وعقبة بن أبي معيط وشيبة بن ربيعة وأمية بن خلف أو أبى بن خلف ‏"‏ ‏.‏ شعبة الشاك قال فلقد رأيتهم قتلوا يوم بدر فألقوا في بئر غير أن أمية أو أبيا تقطعت أوصاله فلم يلق في البئر ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৪৫

وحدثني أبو الطاهر، أحمد بن عمرو بن سرح وحرملة بن يحيى وعمرو بن سواد العامري - وألفاظهم متقاربة - قالوا حدثنا ابن وهب، قال أخبرني يونس، عن ابن شهاب، حدثني عروة بن الزبير، أن عائشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم حدثته أنها قالت لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله هل أتى عليك يوم كان أشد من يوم أحد فقال ‏"‏ لقد لقيت من قومك وكان أشد ما لقيت منهم يوم العقبة إذ عرضت نفسي على ابن عبد ياليل بن عبد كلال فلم يجبني إلى ما أردت فانطلقت وأنا مهموم على وجهي فلم أستفق إلا بقرن الثعالب فرفعت رأسي فإذا أنا بسحابة قد أظلتني فنظرت فإذا فيها جبريل فناداني فقال إن الله عز وجل قد سمع قول قومك لك وما ردوا عليك وقد بعث إليك ملك الجبال لتأمره بما شئت فيهم قال فناداني ملك الجبال وسلم على ‏.‏ ثم قال يا محمد إن الله قد سمع قول قومك لك وأنا ملك الجبال وقد بعثني ربك إليك لتأمرني بأمرك فما شئت إن شئت أن أطبق عليهم الأخشبين ‏"‏ ‏.‏ فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ بل أرجو أن يخرج الله من أصلابهم من يعبد الله وحده لا يشرك به شيئا ‏"‏ ‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহধর্মিণী আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার জীবনে কি উহুদ দিবসের চেয়েও অধিকতর কঠিন কোন দিন এসেছে? তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের হাতে আকাবার দিন যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তা এর চেয়েও অধিকতর কঠিন ছিল। যখন আমি (আল্লাহ্‌র পানে দাওয়াত দিতে গিয়ে) ইবনু আব্‌দে ইয়ালীল ইবনু আব্‌দে কিলালের কাছে নিজেকে পেশ করেছিলাম। কিন্তু সে আমার কাঙ্ক্ষিত ডাকে সাড়া দেয়নি। তখন আমি অত্যন্ত বিষণ্ণ অবস্থায় সম্মুখের দিকে চলতে লাগলাম এবং কারনুস সা’আলিব নামক স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত আমি সম্বিৎ ফিরে পাইনি। তারপর যখন আমি মাথা উঠালাম তখন দেখি, একখণ্ড মেঘ আমাকে ছায়াপাত করছে এবং এর মধ্যে জিবরাঈল (আঃ)-কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, মহা মহিমান্বিত আল্লাহ্‌ আপনার প্রতি আপনার সম্প্রদায়ের উক্তি এবং আপনার বিরুদ্ধে তাদের উত্তরও শুনেছেন এবং তিনি আপনার নিকট পাহাড়ের ফেরেশ্‌তাকে পাঠিয়েছেন, যেন আপনি আপনার সম্প্রদায়ের লোকজনের ব্যাপারে যেরূপ ইচ্ছা সেরূপ আদেশ তাঁকে করেন। তখন পাহাড়ের ফেরেশ্‌তাও আমাকে ডাক দিলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। তারপর বললেন, “হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রতি আপনার সম্প্রদায়ের লোকজনের উক্তি আল্লাহ্‌ তা’আলা শুনেছেন আর আমি হলাম পাহাড়ের (তত্ত্বাবধানকারী) ফেরেশ্‌তা। আপনার রব আপনার কাছে আমাকে এজন্যে পাঠিয়েছেন যেন আপনি আপনার ইচ্ছামত আমাকে নির্দেশ দেন। (আপনি বললে) আমি এ পাহাড় দু’টিকে তাদের উপর চাপা দিয়ে দিব। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি বরং আশা করি যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা হয়তো এদের ঔরস থেকেই এমন ব্যক্তি বের করে আনবেন, যারা তাঁর সঙ্গে কিছুকে শরীক না করে এক আল্লাহ্‌র ইবাদাত করবে। (ই.ফা. ৪৫০২, ই.সে. ৪৫০৪)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহধর্মিণী আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার জীবনে কি উহুদ দিবসের চেয়েও অধিকতর কঠিন কোন দিন এসেছে? তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের হাতে আকাবার দিন যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তা এর চেয়েও অধিকতর কঠিন ছিল। যখন আমি (আল্লাহ্‌র পানে দাওয়াত দিতে গিয়ে) ইবনু আব্‌দে ইয়ালীল ইবনু আব্‌দে কিলালের কাছে নিজেকে পেশ করেছিলাম। কিন্তু সে আমার কাঙ্ক্ষিত ডাকে সাড়া দেয়নি। তখন আমি অত্যন্ত বিষণ্ণ অবস্থায় সম্মুখের দিকে চলতে লাগলাম এবং কারনুস সা’আলিব নামক স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত আমি সম্বিৎ ফিরে পাইনি। তারপর যখন আমি মাথা উঠালাম তখন দেখি, একখণ্ড মেঘ আমাকে ছায়াপাত করছে এবং এর মধ্যে জিবরাঈল (আঃ)-কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, মহা মহিমান্বিত আল্লাহ্‌ আপনার প্রতি আপনার সম্প্রদায়ের উক্তি এবং আপনার বিরুদ্ধে তাদের উত্তরও শুনেছেন এবং তিনি আপনার নিকট পাহাড়ের ফেরেশ্‌তাকে পাঠিয়েছেন, যেন আপনি আপনার সম্প্রদায়ের লোকজনের ব্যাপারে যেরূপ ইচ্ছা সেরূপ আদেশ তাঁকে করেন। তখন পাহাড়ের ফেরেশ্‌তাও আমাকে ডাক দিলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। তারপর বললেন, “হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রতি আপনার সম্প্রদায়ের লোকজনের উক্তি আল্লাহ্‌ তা’আলা শুনেছেন আর আমি হলাম পাহাড়ের (তত্ত্বাবধানকারী) ফেরেশ্‌তা। আপনার রব আপনার কাছে আমাকে এজন্যে পাঠিয়েছেন যেন আপনি আপনার ইচ্ছামত আমাকে নির্দেশ দেন। (আপনি বললে) আমি এ পাহাড় দু’টিকে তাদের উপর চাপা দিয়ে দিব। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি বরং আশা করি যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা হয়তো এদের ঔরস থেকেই এমন ব্যক্তি বের করে আনবেন, যারা তাঁর সঙ্গে কিছুকে শরীক না করে এক আল্লাহ্‌র ইবাদাত করবে। (ই.ফা. ৪৫০২, ই.সে. ৪৫০৪)

وحدثني أبو الطاهر، أحمد بن عمرو بن سرح وحرملة بن يحيى وعمرو بن سواد العامري - وألفاظهم متقاربة - قالوا حدثنا ابن وهب، قال أخبرني يونس، عن ابن شهاب، حدثني عروة بن الزبير، أن عائشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم حدثته أنها قالت لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله هل أتى عليك يوم كان أشد من يوم أحد فقال ‏"‏ لقد لقيت من قومك وكان أشد ما لقيت منهم يوم العقبة إذ عرضت نفسي على ابن عبد ياليل بن عبد كلال فلم يجبني إلى ما أردت فانطلقت وأنا مهموم على وجهي فلم أستفق إلا بقرن الثعالب فرفعت رأسي فإذا أنا بسحابة قد أظلتني فنظرت فإذا فيها جبريل فناداني فقال إن الله عز وجل قد سمع قول قومك لك وما ردوا عليك وقد بعث إليك ملك الجبال لتأمره بما شئت فيهم قال فناداني ملك الجبال وسلم على ‏.‏ ثم قال يا محمد إن الله قد سمع قول قومك لك وأنا ملك الجبال وقد بعثني ربك إليك لتأمرني بأمرك فما شئت إن شئت أن أطبق عليهم الأخشبين ‏"‏ ‏.‏ فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ بل أرجو أن يخرج الله من أصلابهم من يعبد الله وحده لا يشرك به شيئا ‏"‏ ‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৪১

وحدثنا عبد الله بن عمر بن محمد بن أبان الجعفي، حدثنا عبد الرحيم، - يعني ابن سليمان - عن زكرياء، عن أبي إسحاق، عن عمرو بن ميمون الأودي، عن ابن مسعود، قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي عند البيت وأبو جهل وأصحاب له جلوس وقد نحرت جزور بالأمس فقال أبو جهل أيكم يقوم إلى سلا جزور بني فلان فيأخذه فيضعه في كتفى محمد إذا سجد فانبعث أشقى القوم فأخذه فلما سجد النبي صلى الله عليه وسلم وضعه بين كتفيه قال فاستضحكوا وجعل بعضهم يميل على بعض وأنا قائم أنظر ‏.‏ لو كانت لي منعة طرحته عن ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم والنبي صلى الله عليه وسلم ساجد ما يرفع رأسه حتى انطلق إنسان فأخبر فاطمة فجاءت وهي جويرية فطرحته عنه ‏.‏ ثم أقبلت عليهم تشتمهم فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم صلاته رفع صوته ثم دعا عليهم وكان إذا دعا دعا ثلاثا ‏.‏ وإذا سأل سأل ثلاثا ثم قال ‏"‏ اللهم عليك بقريش ‏"‏ ‏.‏ ثلاث مرات فلما سمعوا صوته ذهب عنهم الضحك وخافوا دعوته ثم قال ‏"‏ اللهم عليك بأبي جهل بن هشام وعتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة والوليد بن عقبة وأمية بن خلف وعقبة بن أبي معيط ‏"‏ ‏.‏ وذكر السابع ولم أحفظه فوالذي بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالحق لقد رأيت الذين سمى صرعى يوم بدر ثم سحبوا إلى القليب قليب بدر ‏.‏ قال أبو إسحاق الوليد بن عقبة غلط في هذا الحديث ‏.‏

ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাইতুল্লাহিল হারামের নিকট সলাত আদায় করছিলেন। আবূ জাহল ও তার সাথীরা অদূরে উপবিষ্ট ছিল। পূর্বদিন সেখানে একটি উট নহর করা হয়েছিল। আবূ জাহল বলল, কে অমুক গোত্রের উটের (নাড়ি-ভূড়িসহ) জরায়ুকে নিয়ে আসবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সিজদারত হবে, তখন তার দু’কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দেবে? তখন সম্প্রদায়ের সবচাইতে হতভাগা দূরাচার লোকটি উঠে দাঁড়াল এবং তা নিয়ে আসলো এবং যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজ্‌দায় গেলেন তখন তাঁর দু’কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। তখন তারা হাসাহাসি করতে লাগল এবং একে অপরের গায়ের উপর ঢলে পড়তে লাগল, আর আমি তখন দাঁড়িয়ে তা দেখলাম। যদি আমার প্রতিরোধের সাধ্য থাকতো তবে আমি তা অবশ্যই রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিঠ থেকে ফেলে দিতাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজ্‌দায় রইলেন এবং তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না। অবশেষে এক ব্যক্তি গিয়ে ফাতিমাহ্‌কে খবর দিল। ফাতিমাহ্‌ সাথে সাথে আসলেন। আর তিনি তখন বালিকা। তিনি তা তাঁর উপর থেকে ফেলে দিলেন। তারপর তাদের দিকে মুখ করে তাদেরকে মন্দাচারের বিষয়ে বলছিলেন। তারপর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত সম্পন্ন করলেন তখন উচ্চৈঃস্বরে তাদেরকে বদদু’আ দিলেন আর তিনি যখন দু’আ করতেন (সাধারণতঃ) তিনবার করতেন এবং যখন কিছু প্রার্থনা করতেন তখন তিনি তিনবার করতেন। তারপর তিনি তিন তিনবার বললেন “ইয়া আল্লাহ্‌! তোমার উপরেই কুরায়শদের বিচারের ভার ন্যাস্ত করলাম। যখন তারা তাঁর আওয়াজ শুনতে পেল তখন তাদের হাসি চলে গেল এবং তারা তাঁর বদ দু’আয় ভয় পেয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌! আবূ জাহ্‌ল ইবনু হিশাম, উত্‌বাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, শাইবাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, ওয়ালিদ ইবনু উক্‌বাহ্‌, উমাইয়াহ্‌ ইবনু খালাফ ও উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মুআ’য়তের শাস্তির ভার তোমার উপর ন্যস্ত। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম আরেকজনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যে পবিত্র সত্তা সত্যসহ রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম! তিনি যাদের নাম সেদিন উচ্চারণ করেছিলেন বাদ্‌রের দিন তাদের পতিত লাশ আমি দেখেছি। তারপর তাদের হেঁচড়িয়ে বাদ্‌রের একটি নোংরা কূপে নিক্ষেপ করা হয়। আবূ ইসহাক্‌ বলেন, ওয়ালিদ ইবনু উকবার নাম এখানে ভুলে হয়েছে। (ই.ফা. ৪৪৯৮, ই.সে. ৪৫০০)

ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাইতুল্লাহিল হারামের নিকট সলাত আদায় করছিলেন। আবূ জাহল ও তার সাথীরা অদূরে উপবিষ্ট ছিল। পূর্বদিন সেখানে একটি উট নহর করা হয়েছিল। আবূ জাহল বলল, কে অমুক গোত্রের উটের (নাড়ি-ভূড়িসহ) জরায়ুকে নিয়ে আসবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সিজদারত হবে, তখন তার দু’কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দেবে? তখন সম্প্রদায়ের সবচাইতে হতভাগা দূরাচার লোকটি উঠে দাঁড়াল এবং তা নিয়ে আসলো এবং যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজ্‌দায় গেলেন তখন তাঁর দু’কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। তখন তারা হাসাহাসি করতে লাগল এবং একে অপরের গায়ের উপর ঢলে পড়তে লাগল, আর আমি তখন দাঁড়িয়ে তা দেখলাম। যদি আমার প্রতিরোধের সাধ্য থাকতো তবে আমি তা অবশ্যই রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিঠ থেকে ফেলে দিতাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজ্‌দায় রইলেন এবং তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না। অবশেষে এক ব্যক্তি গিয়ে ফাতিমাহ্‌কে খবর দিল। ফাতিমাহ্‌ সাথে সাথে আসলেন। আর তিনি তখন বালিকা। তিনি তা তাঁর উপর থেকে ফেলে দিলেন। তারপর তাদের দিকে মুখ করে তাদেরকে মন্দাচারের বিষয়ে বলছিলেন। তারপর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত সম্পন্ন করলেন তখন উচ্চৈঃস্বরে তাদেরকে বদদু’আ দিলেন আর তিনি যখন দু’আ করতেন (সাধারণতঃ) তিনবার করতেন এবং যখন কিছু প্রার্থনা করতেন তখন তিনি তিনবার করতেন। তারপর তিনি তিন তিনবার বললেন “ইয়া আল্লাহ্‌! তোমার উপরেই কুরায়শদের বিচারের ভার ন্যাস্ত করলাম। যখন তারা তাঁর আওয়াজ শুনতে পেল তখন তাদের হাসি চলে গেল এবং তারা তাঁর বদ দু’আয় ভয় পেয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌! আবূ জাহ্‌ল ইবনু হিশাম, উত্‌বাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, শাইবাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, ওয়ালিদ ইবনু উক্‌বাহ্‌, উমাইয়াহ্‌ ইবনু খালাফ ও উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মুআ’য়তের শাস্তির ভার তোমার উপর ন্যস্ত। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম আরেকজনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যে পবিত্র সত্তা সত্যসহ রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম! তিনি যাদের নাম সেদিন উচ্চারণ করেছিলেন বাদ্‌রের দিন তাদের পতিত লাশ আমি দেখেছি। তারপর তাদের হেঁচড়িয়ে বাদ্‌রের একটি নোংরা কূপে নিক্ষেপ করা হয়। আবূ ইসহাক্‌ বলেন, ওয়ালিদ ইবনু উকবার নাম এখানে ভুলে হয়েছে। (ই.ফা. ৪৪৯৮, ই.সে. ৪৫০০)

وحدثنا عبد الله بن عمر بن محمد بن أبان الجعفي، حدثنا عبد الرحيم، - يعني ابن سليمان - عن زكرياء، عن أبي إسحاق، عن عمرو بن ميمون الأودي، عن ابن مسعود، قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي عند البيت وأبو جهل وأصحاب له جلوس وقد نحرت جزور بالأمس فقال أبو جهل أيكم يقوم إلى سلا جزور بني فلان فيأخذه فيضعه في كتفى محمد إذا سجد فانبعث أشقى القوم فأخذه فلما سجد النبي صلى الله عليه وسلم وضعه بين كتفيه قال فاستضحكوا وجعل بعضهم يميل على بعض وأنا قائم أنظر ‏.‏ لو كانت لي منعة طرحته عن ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم والنبي صلى الله عليه وسلم ساجد ما يرفع رأسه حتى انطلق إنسان فأخبر فاطمة فجاءت وهي جويرية فطرحته عنه ‏.‏ ثم أقبلت عليهم تشتمهم فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم صلاته رفع صوته ثم دعا عليهم وكان إذا دعا دعا ثلاثا ‏.‏ وإذا سأل سأل ثلاثا ثم قال ‏"‏ اللهم عليك بقريش ‏"‏ ‏.‏ ثلاث مرات فلما سمعوا صوته ذهب عنهم الضحك وخافوا دعوته ثم قال ‏"‏ اللهم عليك بأبي جهل بن هشام وعتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة والوليد بن عقبة وأمية بن خلف وعقبة بن أبي معيط ‏"‏ ‏.‏ وذكر السابع ولم أحفظه فوالذي بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالحق لقد رأيت الذين سمى صرعى يوم بدر ثم سحبوا إلى القليب قليب بدر ‏.‏ قال أبو إسحاق الوليد بن عقبة غلط في هذا الحديث ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৪৮

حدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا سفيان، عن الأسود بن قيس، أنه سمع جندبا، يقول أبطأ جبريل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال المشركون قد ودع محمد فأنزل الله عز وجل ‏{‏ والضحى * والليل إذا سجى * ما ودعك ربك وما قلى‏}‏

আসওয়াদ ইবনু কায়স থেকে বর্নিতঃ

তিনি জুন্দুব (রহঃ) -কে বলতে শুনেছেন যে, জিবরাঈল (‘আঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসতে বিলম্ব করেন। এতে মুশরিকরা বলতে লাগলো, মুহাম্মাদ পরিত্যক্ত হয়েছেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্নের,শপথ রজনীর! যখন তা হয় নিঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে ছেড়ে দেননি এবং তোমার প্রতি নারাজও হননি।” (ই.ফা. ৪৫০৫, ই.সে. ৪৫০৭)

আসওয়াদ ইবনু কায়স থেকে বর্নিতঃ

তিনি জুন্দুব (রহঃ) -কে বলতে শুনেছেন যে, জিবরাঈল (‘আঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসতে বিলম্ব করেন। এতে মুশরিকরা বলতে লাগলো, মুহাম্মাদ পরিত্যক্ত হয়েছেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্নের,শপথ রজনীর! যখন তা হয় নিঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে ছেড়ে দেননি এবং তোমার প্রতি নারাজও হননি।” (ই.ফা. ৪৫০৫, ই.সে. ৪৫০৭)

حدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا سفيان، عن الأسود بن قيس، أنه سمع جندبا، يقول أبطأ جبريل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال المشركون قد ودع محمد فأنزل الله عز وجل ‏{‏ والضحى * والليل إذا سجى * ما ودعك ربك وما قلى‏}‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৪৯

حدثنا إسحاق بن إبراهيم، ومحمد بن رافع، - واللفظ لابن رافع - قال إسحاق أخبرنا وقال ابن رافع، حدثنا يحيى بن آدم، حدثنا زهير، عن الأسود بن قيس، قال سمعت جندب بن سفيان، يقول اشتكى رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يقم ليلتين أو ثلاثا فجاءته امرأة فقالت يا محمد إني لأرجو أن يكون شيطانك قد تركك لم أره قربك منذ ليلتين أو ثلاث قال فأنزل الله عز وجل ‏{‏ والضحى * والليل إذا سجى * ما ودعك ربك وما قلى‏}‏

আসওয়াদ ইবনু কায়স (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি জুনদুব ইবনু সুফ্ইয়ান (রহঃ) –কে বলতে শুনেছি, একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পীড়িত হন বিধায় দুই বা তিন রাত্রি জাগতে পারেননি (তাহাজ্জুদের জন্যে)। তখন একটি মহিলা এসে বলল, “মুহাম্মাদ, আশা করি, এবার তোমার শাইতান তোমাকে ছেড়ে দিয়েছে। কেননা, দুই বা তিন রাত যাবৎ তোমার নিকটে আগমন লক্ষ্য করছি না।” তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রজনীর! যখন তা হয় নিঝ্ঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি।” (ই.ফা. ৪৫০৬, ই.সে. ৪৫০৮)

আসওয়াদ ইবনু কায়স (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি জুনদুব ইবনু সুফ্ইয়ান (রহঃ) –কে বলতে শুনেছি, একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পীড়িত হন বিধায় দুই বা তিন রাত্রি জাগতে পারেননি (তাহাজ্জুদের জন্যে)। তখন একটি মহিলা এসে বলল, “মুহাম্মাদ, আশা করি, এবার তোমার শাইতান তোমাকে ছেড়ে দিয়েছে। কেননা, দুই বা তিন রাত যাবৎ তোমার নিকটে আগমন লক্ষ্য করছি না।” তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রজনীর! যখন তা হয় নিঝ্ঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি।” (ই.ফা. ৪৫০৬, ই.সে. ৪৫০৮)

حدثنا إسحاق بن إبراهيم، ومحمد بن رافع، - واللفظ لابن رافع - قال إسحاق أخبرنا وقال ابن رافع، حدثنا يحيى بن آدم، حدثنا زهير، عن الأسود بن قيس، قال سمعت جندب بن سفيان، يقول اشتكى رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يقم ليلتين أو ثلاثا فجاءته امرأة فقالت يا محمد إني لأرجو أن يكون شيطانك قد تركك لم أره قربك منذ ليلتين أو ثلاث قال فأنزل الله عز وجل ‏{‏ والضحى * والليل إذا سجى * ما ودعك ربك وما قلى‏}‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৪৩

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا جعفر بن عون، أخبرنا سفيان، عن أبي، إسحاق بهذا الإسناد نحوه وزاد وكان يستحب ثلاثا يقول ‏ "‏ اللهم عليك بقريش اللهم عليك بقريش اللهم عليك بقريش ‏"‏ ‏.‏ ثلاثا وذكر فيهم الوليد بن عتبة وأمية بن خلف ولم يشك ‏.‏ قال أبو إسحاق ونسيت السابع ‏.‏

আবূ ইস্হাক (রহঃ) হতে উক্ত সানাদ থেকে বর্নিতঃ

অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী সুফ্ইয়ান (রহঃ) বাড়িয়ে বলেছেন, “এবং তিনি তিনবার বলা পছন্দ করতেন। তিনি বলেছিলেন, ইয়া আল্লাহ্! কুরায়শের (এদের) বিচারের ভার তোমার উপর ন্যাস্ত। ইয়া আল্লাহ্! কুরায়শদের বিচারের ভার তোমার উপর ন্যস্ত। ইয়া আল্লাহ্! কুরায়শের বিচারের ভার তোমার উপরই ন্যাস্ত। এভাবে তিনবার তিনি বলেন, এবং এদের মধ্যে ওয়ালীদ ইবনু উত্বাহ্ ও উমাইয়াহ্ ইবনু খালাফের কথা তিনি উল্লেখ করেন এবং তাতে কোনরূপ সন্দেহ প্রকাশ করেননি। রাবী আবূ ইসহাক্ বলেন, আমি সপ্তম (অভিশপ্ত) ব্যক্তির নাম ভুলে গেছি। (ই.ফা. ৪৫০০, ই.সে. ৪৫০২)

আবূ ইস্হাক (রহঃ) হতে উক্ত সানাদ থেকে বর্নিতঃ

অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী সুফ্ইয়ান (রহঃ) বাড়িয়ে বলেছেন, “এবং তিনি তিনবার বলা পছন্দ করতেন। তিনি বলেছিলেন, ইয়া আল্লাহ্! কুরায়শের (এদের) বিচারের ভার তোমার উপর ন্যাস্ত। ইয়া আল্লাহ্! কুরায়শদের বিচারের ভার তোমার উপর ন্যস্ত। ইয়া আল্লাহ্! কুরায়শের বিচারের ভার তোমার উপরই ন্যাস্ত। এভাবে তিনবার তিনি বলেন, এবং এদের মধ্যে ওয়ালীদ ইবনু উত্বাহ্ ও উমাইয়াহ্ ইবনু খালাফের কথা তিনি উল্লেখ করেন এবং তাতে কোনরূপ সন্দেহ প্রকাশ করেননি। রাবী আবূ ইসহাক্ বলেন, আমি সপ্তম (অভিশপ্ত) ব্যক্তির নাম ভুলে গেছি। (ই.ফা. ৪৫০০, ই.সে. ৪৫০২)

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا جعفر بن عون، أخبرنا سفيان، عن أبي، إسحاق بهذا الإسناد نحوه وزاد وكان يستحب ثلاثا يقول ‏ "‏ اللهم عليك بقريش اللهم عليك بقريش اللهم عليك بقريش ‏"‏ ‏.‏ ثلاثا وذكر فيهم الوليد بن عتبة وأمية بن خلف ولم يشك ‏.‏ قال أبو إسحاق ونسيت السابع ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৫০

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، ومحمد بن المثنى، وابن، بشار قالوا حدثنا محمد، بن جعفر عن شعبة، ح وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا الملائي، حدثنا سفيان، كلاهما عن الأسود بن قيس، بهذا الإسناد نحو حديثهما ‏.‏

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশ্শার (রহঃ) শু‘বাহ (রহঃ) হতে এবং ইসহাক্ ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) …সুফ্ইয়ান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

উভয়ে উক্ত সানাদে আসওয়াদ ইবনু কায়স (রহঃ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৫০৭, ই.সে. ৪৫০৯)

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশ্শার (রহঃ) শু‘বাহ (রহঃ) হতে এবং ইসহাক্ ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) …সুফ্ইয়ান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

উভয়ে উক্ত সানাদে আসওয়াদ ইবনু কায়স (রহঃ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৫০৭, ই.সে. ৪৫০৯)

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، ومحمد بن المثنى، وابن، بشار قالوا حدثنا محمد، بن جعفر عن شعبة، ح وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا الملائي، حدثنا سفيان، كلاهما عن الأسود بن قيس، بهذا الإسناد نحو حديثهما ‏.‏


সহিহ মুসলিম > মুনাফিকদের প্রদত্ত কষ্টে আল্লাহর নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দু‘আ ও ধৈর্যধারণ

সহিহ মুসলিম ৪৫৫৩

حدثنا محمد بن عبد الأعلى القيسي، حدثنا المعتمر، عن أبيه، عن أنس بن مالك، قال قيل للنبي صلى الله عليه وسلم لو أتيت عبد الله بن أبى قال فانطلق إليه وركب حمارا وانطلق المسلمون وهي أرض سبخة فلما أتاه النبي صلى الله عليه وسلم قال إليك عني فوالله لقد آذاني نتن حمارك ‏.‏ قال فقال رجل من الأنصار والله لحمار رسول الله صلى الله عليه وسلم أطيب ريحا منك - قال - فغضب لعبد الله رجل من قومه - قال - فغضب لكل واحد منهما أصحابه - قال - فكان بينهم ضرب بالجريد وبالأيدي وبالنعال - قال - فبلغنا أنها نزلت فيهم ‏{‏ وإن طائفتان من المؤمنين اقتتلوا فأصلحوا بينهما‏}‏ ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলা হলো, (হে আল্লাহ্‌র রসূল!) যদি আপনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর কাছে যেতেন! তিনি তখন একটি গাধায় চড়ে তার কাছে রওনা হলেন। একদল মুসলিমও তাঁর সঙ্গে গেলেন। তাদের পথে পড়লো একটি লোনা ঊষর ভূমি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তার কাছে উপস্থিত হলেন, তখন সে বলল, আমার কাছ থেকে দূরে থাকবেন। আল্লাহর কসম! আপনার গাধার দুর্গন্ধ আমাকে বিরক্ত করেছে। রাবী বলেন, তখন আনসারদের একজন উঠে (তৎক্ষণাৎ) জবাব দিলেন, “আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর গাধার গন্ধ তোমার দুর্গন্ধের চেয়ে অনেক উত্তম।” রাবী বলেন, তখন ‘আবদুল্লাহর সম্প্রদায়ের একব্যক্তি ক্ষেপে গেল। রাবী বলেন, তারপর উভয় পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। রাবী বলেন, তখন তাদের মধ্যে লাঠি, হাত ও জুতার দ্বারা মারামারি লেগে গেল। তারপর আমরা জানতে পারলাম তাদের উদ্দেশে কুরআনের আয়াত “যদি ঈমানদারদের দু‘টি দল পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে সমঝোতা করে দাও”-(সূরা হুজুরাত ৪৯:৯) নাযিল হয়েছে। (ই.ফা. ৪৫১০, ই.সে. ৪৫১২)

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলা হলো, (হে আল্লাহ্‌র রসূল!) যদি আপনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর কাছে যেতেন! তিনি তখন একটি গাধায় চড়ে তার কাছে রওনা হলেন। একদল মুসলিমও তাঁর সঙ্গে গেলেন। তাদের পথে পড়লো একটি লোনা ঊষর ভূমি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তার কাছে উপস্থিত হলেন, তখন সে বলল, আমার কাছ থেকে দূরে থাকবেন। আল্লাহর কসম! আপনার গাধার দুর্গন্ধ আমাকে বিরক্ত করেছে। রাবী বলেন, তখন আনসারদের একজন উঠে (তৎক্ষণাৎ) জবাব দিলেন, “আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর গাধার গন্ধ তোমার দুর্গন্ধের চেয়ে অনেক উত্তম।” রাবী বলেন, তখন ‘আবদুল্লাহর সম্প্রদায়ের একব্যক্তি ক্ষেপে গেল। রাবী বলেন, তারপর উভয় পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। রাবী বলেন, তখন তাদের মধ্যে লাঠি, হাত ও জুতার দ্বারা মারামারি লেগে গেল। তারপর আমরা জানতে পারলাম তাদের উদ্দেশে কুরআনের আয়াত “যদি ঈমানদারদের দু‘টি দল পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে সমঝোতা করে দাও”-(সূরা হুজুরাত ৪৯:৯) নাযিল হয়েছে। (ই.ফা. ৪৫১০, ই.সে. ৪৫১২)

حدثنا محمد بن عبد الأعلى القيسي، حدثنا المعتمر، عن أبيه، عن أنس بن مالك، قال قيل للنبي صلى الله عليه وسلم لو أتيت عبد الله بن أبى قال فانطلق إليه وركب حمارا وانطلق المسلمون وهي أرض سبخة فلما أتاه النبي صلى الله عليه وسلم قال إليك عني فوالله لقد آذاني نتن حمارك ‏.‏ قال فقال رجل من الأنصار والله لحمار رسول الله صلى الله عليه وسلم أطيب ريحا منك - قال - فغضب لعبد الله رجل من قومه - قال - فغضب لكل واحد منهما أصحابه - قال - فكان بينهم ضرب بالجريد وبالأيدي وبالنعال - قال - فبلغنا أنها نزلت فيهم ‏{‏ وإن طائفتان من المؤمنين اقتتلوا فأصلحوا بينهما‏}‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৫১

حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، ومحمد بن رافع، وعبد بن حميد، - واللفظ لابن رافع - قال ابن رافع حدثنا وقال الآخران، أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، أن أسامة بن زيد، أخبره أن النبي صلى الله عليه وسلم ركب حمارا عليه إكاف تحته قطيفة فدكية وأردف وراءه أسامة وهو يعود سعد بن عبادة في بني الحارث بن الخزرج وذاك قبل وقعة بدر حتى مر بمجلس فيه أخلاط من المسلمين والمشركين عبدة الأوثان واليهود فيهم عبد الله بن أبى وفي المجلس عبد الله بن رواحة فلما غشيت المجلس عجاجة الدابة خمر عبد الله بن أبى أنفه بردائه ثم قال لا تغبروا علينا ‏.‏ فسلم عليهم النبي صلى الله عليه وسلم ثم وقف فنزل فدعاهم إلى الله وقرأ عليهم القرآن فقال عبد الله بن أبى أيها المرء لا أحسن من هذا إن كان ما تقول حقا فلا تؤذنا في مجالسنا وارجع إلى رحلك فمن جاءك منا فاقصص عليه ‏.‏ فقال عبد الله بن رواحة اغشنا في مجالسنا فإنا نحب ذلك ‏.‏ قال فاستب المسلمون والمشركون واليهود حتى هموا أن يتواثبوا فلم يزل النبي صلى الله عليه وسلم يخفضهم ثم ركب دابته حتى دخل على سعد بن عبادة فقال ‏ "‏ أى سعد ألم تسمع إلى ما قال أبو حباب - يريد عبد الله بن أبى - قال كذا وكذا ‏"‏ ‏.‏ قال اعف عنه يا رسول الله واصفح فوالله لقد أعطاك الله الذي أعطاك ولقد اصطلح أهل هذه البحيرة أن يتوجوه فيعصبوه بالعصابة فلما رد الله ذلك بالحق الذي أعطاكه شرق بذلك فذلك فعل به ما رأيت ‏.‏ فعفا عنه النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি গাধায় আরোহণ করলেন যার উপর জীন (বসার গদি) ছিল এবং তার নীচে একটি ফদকী মখমল বিছানো ছিল। তিনি তার পশ্চাতে উসামাহ্ (রাঃ)-কে বসালেন। বানী হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্রের এলাকায় তিনি সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ)-কে (অসু্স্হ অবস্থায়) দেখতে যাচ্ছিলেন। এটি ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বের ঘটনা। তিনি এমন একটি মাজলিস অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, যেখানে মুসলিম, মুশরিক পৌত্তলিক ও ইয়াহূদীরা একত্রে বসা ছিল। তাদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাইও ছিল এবং মাজলিসে ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-ও ছিলেন। যখন মাজলিসটি সাওয়ারীর ধূলায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল, তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার নাক চাদর দিয়ে ঢেকে নিল। এরপর বলল, আপনারা আমাদের উপর ধূলি উঠাবেন না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সালাম দিলেন। তারপর তিনি সেখানে থামলেন এবং নামলেন। আর তাদের আল্লাহর পথে দা‘ওয়াত দিলেন এবং তাদের সম্মুখে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করলেন। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বলে উঠলো, ওহে লোক! আপনি যা বলছেন তা যদি সত্য হয় তবে এর চাইতে উত্তম আর কিছু নয়, তবে আমার মাজলিসে এসে আপনি আমাদের কষ্ট দিবেন না। আপনি আপনার বাসস্থানে ফিরে যান। সেখানে আমাদের মধ্যকার যে ব্যক্তি যায় তার কাছে আপনি এসব উপদেশ পরিবেশন করবেন। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বলে উঠলেন, “(হে আল্লাহ্‌র রসূল!)” আমাদের মাজলিসে (যতখুশি ইচ্ছা) ধূলি উড়াবেন। কেননা, আমরা তা পছন্দ করি। তখন মুসলিম, মুশরিক, ইয়াহূদীরা পরস্পরে বাদানুবাদ ও গালগালিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এমনকি রীতিমত একটি দাঙ্গা বাধার উপক্রম হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিবৃত করতে লাগলেন। তারপর তাঁর বাহনে সাওয়ার হয়ে সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ)-এর বাড়ীতে গিয়ে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, আয় সা‘দ! তুমি কি শোননি আবূ হুবাব অর্থাৎ ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কী বলেছে? সে এরূপ এরূপ কথা বলেছে। সা‘দ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! ওকে ক্ষমা করে দিন এবং উপেক্ষা করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে যে মর্যাদা দিয়েছেন, তা তো দিয়েছেনই। (কিন্তু তার ব্যাপার?) এ জনপদের লোকজন স্থির করেছিল যে, তাকে রাজ মুকুট ও পাগড়ী পরাবে। (অর্থাৎ -তাকে তাদের বাদশাহ্ বানাবে) কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যে সত্য দান করেছেন,তা দিয়ে যখন আল্লাহ তা‘আলা তার চাওয়া পাওয়াকে রুদ্ধ করে দিলেন, তাতে বিদ্বেষপ্রবণ হয়ে পড়ে। তাই সে এরূপ আচরণ করেছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে মার্জনা করে দিলেন। (ই.ফা. ৪৫০৮, ই.সে. ৪৫১০)

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি গাধায় আরোহণ করলেন যার উপর জীন (বসার গদি) ছিল এবং তার নীচে একটি ফদকী মখমল বিছানো ছিল। তিনি তার পশ্চাতে উসামাহ্ (রাঃ)-কে বসালেন। বানী হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্রের এলাকায় তিনি সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ)-কে (অসু্স্হ অবস্থায়) দেখতে যাচ্ছিলেন। এটি ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বের ঘটনা। তিনি এমন একটি মাজলিস অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, যেখানে মুসলিম, মুশরিক পৌত্তলিক ও ইয়াহূদীরা একত্রে বসা ছিল। তাদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাইও ছিল এবং মাজলিসে ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-ও ছিলেন। যখন মাজলিসটি সাওয়ারীর ধূলায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল, তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার নাক চাদর দিয়ে ঢেকে নিল। এরপর বলল, আপনারা আমাদের উপর ধূলি উঠাবেন না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সালাম দিলেন। তারপর তিনি সেখানে থামলেন এবং নামলেন। আর তাদের আল্লাহর পথে দা‘ওয়াত দিলেন এবং তাদের সম্মুখে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করলেন। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বলে উঠলো, ওহে লোক! আপনি যা বলছেন তা যদি সত্য হয় তবে এর চাইতে উত্তম আর কিছু নয়, তবে আমার মাজলিসে এসে আপনি আমাদের কষ্ট দিবেন না। আপনি আপনার বাসস্থানে ফিরে যান। সেখানে আমাদের মধ্যকার যে ব্যক্তি যায় তার কাছে আপনি এসব উপদেশ পরিবেশন করবেন। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বলে উঠলেন, “(হে আল্লাহ্‌র রসূল!)” আমাদের মাজলিসে (যতখুশি ইচ্ছা) ধূলি উড়াবেন। কেননা, আমরা তা পছন্দ করি। তখন মুসলিম, মুশরিক, ইয়াহূদীরা পরস্পরে বাদানুবাদ ও গালগালিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এমনকি রীতিমত একটি দাঙ্গা বাধার উপক্রম হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিবৃত করতে লাগলেন। তারপর তাঁর বাহনে সাওয়ার হয়ে সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ)-এর বাড়ীতে গিয়ে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, আয় সা‘দ! তুমি কি শোননি আবূ হুবাব অর্থাৎ ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কী বলেছে? সে এরূপ এরূপ কথা বলেছে। সা‘দ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! ওকে ক্ষমা করে দিন এবং উপেক্ষা করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে যে মর্যাদা দিয়েছেন, তা তো দিয়েছেনই। (কিন্তু তার ব্যাপার?) এ জনপদের লোকজন স্থির করেছিল যে, তাকে রাজ মুকুট ও পাগড়ী পরাবে। (অর্থাৎ -তাকে তাদের বাদশাহ্ বানাবে) কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যে সত্য দান করেছেন,তা দিয়ে যখন আল্লাহ তা‘আলা তার চাওয়া পাওয়াকে রুদ্ধ করে দিলেন, তাতে বিদ্বেষপ্রবণ হয়ে পড়ে। তাই সে এরূপ আচরণ করেছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে মার্জনা করে দিলেন। (ই.ফা. ৪৫০৮, ই.সে. ৪৫১০)

حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، ومحمد بن رافع، وعبد بن حميد، - واللفظ لابن رافع - قال ابن رافع حدثنا وقال الآخران، أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، أن أسامة بن زيد، أخبره أن النبي صلى الله عليه وسلم ركب حمارا عليه إكاف تحته قطيفة فدكية وأردف وراءه أسامة وهو يعود سعد بن عبادة في بني الحارث بن الخزرج وذاك قبل وقعة بدر حتى مر بمجلس فيه أخلاط من المسلمين والمشركين عبدة الأوثان واليهود فيهم عبد الله بن أبى وفي المجلس عبد الله بن رواحة فلما غشيت المجلس عجاجة الدابة خمر عبد الله بن أبى أنفه بردائه ثم قال لا تغبروا علينا ‏.‏ فسلم عليهم النبي صلى الله عليه وسلم ثم وقف فنزل فدعاهم إلى الله وقرأ عليهم القرآن فقال عبد الله بن أبى أيها المرء لا أحسن من هذا إن كان ما تقول حقا فلا تؤذنا في مجالسنا وارجع إلى رحلك فمن جاءك منا فاقصص عليه ‏.‏ فقال عبد الله بن رواحة اغشنا في مجالسنا فإنا نحب ذلك ‏.‏ قال فاستب المسلمون والمشركون واليهود حتى هموا أن يتواثبوا فلم يزل النبي صلى الله عليه وسلم يخفضهم ثم ركب دابته حتى دخل على سعد بن عبادة فقال ‏ "‏ أى سعد ألم تسمع إلى ما قال أبو حباب - يريد عبد الله بن أبى - قال كذا وكذا ‏"‏ ‏.‏ قال اعف عنه يا رسول الله واصفح فوالله لقد أعطاك الله الذي أعطاك ولقد اصطلح أهل هذه البحيرة أن يتوجوه فيعصبوه بالعصابة فلما رد الله ذلك بالحق الذي أعطاكه شرق بذلك فذلك فعل به ما رأيت ‏.‏ فعفا عنه النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৫২

حدثني محمد بن رافع، حدثنا حجين، - يعني ابن المثنى - حدثنا ليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، في هذا الإسناد بمثله وزاد وذلك قبل أن يسلم عبد الله ‏.‏

ইবনু শিহাব (রহঃ) -এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে এতটুকু বর্ধিত অংশ উল্লেখ করেছেন, এটি ‘আবদুল্লাহর (বাহ্যতঃ) ইসলাম গ্রহণের পূর্বের কথা। (ই.ফা. ৪৫০৯, ই.সে. ৪৫১১)

ইবনু শিহাব (রহঃ) -এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে এতটুকু বর্ধিত অংশ উল্লেখ করেছেন, এটি ‘আবদুল্লাহর (বাহ্যতঃ) ইসলাম গ্রহণের পূর্বের কথা। (ই.ফা. ৪৫০৯, ই.সে. ৪৫১১)

حدثني محمد بن رافع، حدثنا حجين، - يعني ابن المثنى - حدثنا ليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، في هذا الإسناد بمثله وزاد وذلك قبل أن يسلم عبد الله ‏.‏


সহিহ মুসলিম > আবূ জাহ্‌লের নিধন

সহিহ মুসলিম ৪৫৫৪

حدثنا علي بن حجر السعدي، أخبرنا إسماعيل، - يعني ابن علية - حدثنا سليمان، التيمي حدثنا أنس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ من ينظر لنا ما صنع أبو جهل ‏"‏ ‏.‏ فانطلق ابن مسعود فوجده قد ضربه ابنا عفراء حتى برك - قال - فأخذ بلحيته فقال آنت أبو جهل فقال وهل فوق رجل قتلتموه - أو قال - قتله قومه قال وقال أبو مجلز قال أبو جهل فلو غير أكار قتلني ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, (বাদ্‌র যুদ্ধের দিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃআবূ জাহ্লের কী হলো, কে আমাদের জানাবে? তখন ইবনু মাস‘ঊদ বেরিয়ে গেলেন এবং (যুদ্ধক্ষেত্রে) গিয়ে দেখলেন, আফরা-এর দু’পুত্র তাকে এমনি আঘাত করেছে যে, সে ঠান্ডা হয়ে গেছে। রাবী বলেন, তখন ইবনু মাস‘ঊদ তার দাড়ি ধরে বললেন, তুমিই কি আবূ জাহ্ল? সে বলল, তার চাইতেও উত্তম কাউকে তোমরা হত্যা করেছ? অথবা সে বলল, “যাকে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা হত্যা করেছে?” রাবী বলেন, আবূ মিজলায (রহঃ) বলেছেন, আবূ জাহ্ল বলেছে, হায়! চাষা ছাড়া অন্য কেউ যদি আমাকে হত্যা করতো। (ই.ফা. ৪৫১১, ই.সে. ৪৫১৩)

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, (বাদ্‌র যুদ্ধের দিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃআবূ জাহ্লের কী হলো, কে আমাদের জানাবে? তখন ইবনু মাস‘ঊদ বেরিয়ে গেলেন এবং (যুদ্ধক্ষেত্রে) গিয়ে দেখলেন, আফরা-এর দু’পুত্র তাকে এমনি আঘাত করেছে যে, সে ঠান্ডা হয়ে গেছে। রাবী বলেন, তখন ইবনু মাস‘ঊদ তার দাড়ি ধরে বললেন, তুমিই কি আবূ জাহ্ল? সে বলল, তার চাইতেও উত্তম কাউকে তোমরা হত্যা করেছ? অথবা সে বলল, “যাকে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা হত্যা করেছে?” রাবী বলেন, আবূ মিজলায (রহঃ) বলেছেন, আবূ জাহ্ল বলেছে, হায়! চাষা ছাড়া অন্য কেউ যদি আমাকে হত্যা করতো। (ই.ফা. ৪৫১১, ই.সে. ৪৫১৩)

حدثنا علي بن حجر السعدي، أخبرنا إسماعيل، - يعني ابن علية - حدثنا سليمان، التيمي حدثنا أنس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ من ينظر لنا ما صنع أبو جهل ‏"‏ ‏.‏ فانطلق ابن مسعود فوجده قد ضربه ابنا عفراء حتى برك - قال - فأخذ بلحيته فقال آنت أبو جهل فقال وهل فوق رجل قتلتموه - أو قال - قتله قومه قال وقال أبو مجلز قال أبو جهل فلو غير أكار قتلني ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৫৫

حدثنا حامد بن عمر البكراوي، حدثنا معتمر، قال سمعت أبي يقول، حدثنا أنس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ من يعلم لي ما فعل أبو جهل ‏"‏ ‏.‏ بمثل حديث ابن علية وقول أبي مجلز كما ذكره إسماعيل ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাতে তিনি বলেন, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, “আবূ জাহ্‌ল কি করলো, তা কে আমার পক্ষ থেকে জেনে আসবে? অতঃপর তিনি ইবনু ‘উলাইয়্যাহ্ ও আবূ মিজলায (রহঃ)-এর অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যেমন ইসমা‘ঈল (রহঃ) বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৫১২, ই.সে. ৪৫১৪)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাতে তিনি বলেন, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, “আবূ জাহ্‌ল কি করলো, তা কে আমার পক্ষ থেকে জেনে আসবে? অতঃপর তিনি ইবনু ‘উলাইয়্যাহ্ ও আবূ মিজলায (রহঃ)-এর অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যেমন ইসমা‘ঈল (রহঃ) বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৫১২, ই.সে. ৪৫১৪)

حدثنا حامد بن عمر البكراوي، حدثنا معتمر، قال سمعت أبي يقول، حدثنا أنس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ من يعلم لي ما فعل أبو جهل ‏"‏ ‏.‏ بمثل حديث ابن علية وقول أبي مجلز كما ذكره إسماعيل ‏.‏


সহিহ মুসলিম > ইয়াহূদী নেতা কা‘ব ইবনু আশরাফের হত্যা

সহিহ মুসলিম ৪৫৫৬

حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، وعبد الله بن محمد بن عبد الرحمن بن المسور، الزهري كلاهما عن ابن عيينة، - واللفظ للزهري - حدثنا سفيان، عن عمرو، سمعت جابرا، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من لكعب بن الأشرف فإنه قد آذى الله ورسوله ‏"‏ ‏.‏ فقال محمد بن مسلمة يا رسول الله أتحب أن أقتله قال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ قال ائذن لي فلأقل قال ‏"‏ قل ‏"‏ ‏.‏ فأتاه فقال له وذكر ما بينهما وقال إن هذا الرجل قد أراد صدقة وقد عنانا ‏.‏ فلما سمعه قال وأيضا والله لتملنه ‏.‏ قال إنا قد اتبعناه الآن ونكره أن ندعه حتى ننظر إلى أى شىء يصير أمره - قال - وقد أردت أن تسلفني سلفا قال فما ترهنني قال ما تريد ‏.‏ قال ترهنني نساءكم قال أنت أجمل العرب أنرهنك نساءنا قال له ترهنوني أولادكم ‏.‏ قال يسب ابن أحدنا فيقال رهن في وسقين من تمر ‏.‏ ولكن نرهنك اللأمة - يعني السلاح - قال فنعم ‏.‏ وواعده أن يأتيه بالحارث وأبي عبس بن جبر وعباد بن بشر قال فجاءوا فدعوه ليلا فنزل إليهم قال سفيان قال غير عمرو قالت له امرأته إني لأسمع صوتا كأنه صوت دم قال إنما هذا محمد بن مسلمة ورضيعه وأبو نائلة إن الكريم لو دعي إلى طعنة ليلا لأجاب ‏.‏ قال محمد إني إذا جاء فسوف أمد يدي إلى رأسه فإذا استمكنت منه فدونكم قال فلما نزل نزل وهو متوشح فقالوا نجد منك ريح الطيب قال نعم تحتي فلانة هي أعطر نساء العرب ‏.‏ قال فتأذن لي أن أشم منه قال نعم فشم ‏.‏ فتناول فشم ثم قال أتأذن لي أن أعود قال فاستمكن من رأسه ثم قال دونكم ‏.‏ قال فقتلوه ‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃকা‘ব ইবনু আশরাফের (নিধনের) জন্য কে আছ? কেননা, সে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে কষ্ট দিয়েছে। তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি কি চান যে, আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে আমাকে (প্রয়োজনমত যা ইচ্ছা) বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, বলো। তারপর তিনি তার কাছে এলেন। তিনি (কথা প্রসঙ্গে তাদের পূর্বেকার) পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন, “এ ব্যক্তি তো (অর্থাৎ -নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) সদাকাহ্ উসূল করতে চায় এবং সে আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে।” সে যখন তা শুনতে পেলো, তখন বললো, আরো অপেক্ষা কর। আল্লাহর কসম, সে তোমাদের কষ্ট দেবেই। তখন তিনি বললেন, আমরা সবেমাত্র তারঁ অনুসারী হয়েছি। তাই ব্যাপারটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা না দেখে এ মুহূর্তেই তাকে ছেড়ে যাওয়াটা ঠিক মনে করছি না। এখন আমি চাই তুমি আমাকে কিছু ধার দাও। সে বলল, তুমি আমার কাছে কিছু বন্ধক রাখবে? তিনি বললেন, তুমি কী চাও? সে বলল, তোমাদের রমণীদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, “তুমি হলে আরবের সবচাইতে সুন্দর পুরুষ। তোমার কাছে বন্ধক রাখব আমাদের রমণীদের?” তখন সে বলল, ‘তাহলে তোমাদের সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখ।’ জবাবে তিনি বললেন, “আমাদের কারো সন্তানকে এ বলে গালি দেয়া হবে যে, তাকে মাত্র দু‘ওসাক (৫ মণ আড়াই সের পরিমাণ) খেজুরের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছিল। আমরা বরং তোমাদের কাছে যুদ্ধাস্ত্র বন্ধক রাখবো। সে বলল, “ঠিক আছে।” তখন তার সাথে ওয়া‘দাবদ্ধ হলেন যে, হারিস, আবূ আবস ইবনু জাব্র ও ‘আব্বাদ ইবনু বিশ্রসহ তার কাছে আসবেন। তারপর রাতের বেলা তাঁরা তার কাছে আসলেন এবং তাকে ডাকলেন। সে তাদের কাছে নেমে এল। রাবী সুফ্ইয়ান (রহঃ) বলেন, রাবী ‘আম্‌র ব্যতীত অন্য রাবী বলেন, তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, আমি এমন একটি আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি তা যেন খুনের স্বর। সে বলল, এ হচ্ছে মুহাম্মাদ আর তার দুধভাই আবূ নায়িলাহ্। সম্ভ্র্রান্ত লোককে যদি রাতের বেলা বর্শাবিদ্ধ হওয়ার দিকে ডাকা হয় তবুও সে ডাকে সে সাড়া দেয়। মুহাম্মাদ (তার সঙ্গীদের) বললেন, সে যখন আসবে, তখন আমি তার মাথা লক্ষ্য করে আমার হাত বাড়াবো। যখন আমি তা ভালমতো ধরে নেবো, তখন তোমরা তোমাদের কাজ সেরে নেবে। তিনি বলেন, তারপর সে গায়ে চাদর জড়িয়ে নীচে নেমে এল। তাঁরা বললেন, আমরা তোমার নিকট থেকে অতি সুঘ্রাণ পাচ্ছি। সে বলল, হ্যাঁ, আমার স্ত্রী অমুক হচ্ছে আরবের সর্বাধিক সুগন্ধ-পছন্দ মহিলা। তখন তিনি বললেন, “আমাকে তা থেকে একটু সুবাস নিতে অনুমতি দিবেন?” তখন সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি তার মাথা শুঁকলেন। তারপর আবার শুঁকলেন। এরপর পুনরায় বললেন, আমাকে কি আবারও একটু ঘ্রাণ নিতে দিবেন? এ কথা বলে তিনি তার মাথা শক্ত করে ধরে সাথীদের বললেন, তোমরা সেরে ফেল। তিনি বলেন, তখন তাঁরা তাকে হত্যা করে ফেললো। (ই.ফা. ৪৫১৩, ই.সে. ৪৫১৫)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃকা‘ব ইবনু আশরাফের (নিধনের) জন্য কে আছ? কেননা, সে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে কষ্ট দিয়েছে। তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি কি চান যে, আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে আমাকে (প্রয়োজনমত যা ইচ্ছা) বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, বলো। তারপর তিনি তার কাছে এলেন। তিনি (কথা প্রসঙ্গে তাদের পূর্বেকার) পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন, “এ ব্যক্তি তো (অর্থাৎ -নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) সদাকাহ্ উসূল করতে চায় এবং সে আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে।” সে যখন তা শুনতে পেলো, তখন বললো, আরো অপেক্ষা কর। আল্লাহর কসম, সে তোমাদের কষ্ট দেবেই। তখন তিনি বললেন, আমরা সবেমাত্র তারঁ অনুসারী হয়েছি। তাই ব্যাপারটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা না দেখে এ মুহূর্তেই তাকে ছেড়ে যাওয়াটা ঠিক মনে করছি না। এখন আমি চাই তুমি আমাকে কিছু ধার দাও। সে বলল, তুমি আমার কাছে কিছু বন্ধক রাখবে? তিনি বললেন, তুমি কী চাও? সে বলল, তোমাদের রমণীদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, “তুমি হলে আরবের সবচাইতে সুন্দর পুরুষ। তোমার কাছে বন্ধক রাখব আমাদের রমণীদের?” তখন সে বলল, ‘তাহলে তোমাদের সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখ।’ জবাবে তিনি বললেন, “আমাদের কারো সন্তানকে এ বলে গালি দেয়া হবে যে, তাকে মাত্র দু‘ওসাক (৫ মণ আড়াই সের পরিমাণ) খেজুরের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছিল। আমরা বরং তোমাদের কাছে যুদ্ধাস্ত্র বন্ধক রাখবো। সে বলল, “ঠিক আছে।” তখন তার সাথে ওয়া‘দাবদ্ধ হলেন যে, হারিস, আবূ আবস ইবনু জাব্র ও ‘আব্বাদ ইবনু বিশ্রসহ তার কাছে আসবেন। তারপর রাতের বেলা তাঁরা তার কাছে আসলেন এবং তাকে ডাকলেন। সে তাদের কাছে নেমে এল। রাবী সুফ্ইয়ান (রহঃ) বলেন, রাবী ‘আম্‌র ব্যতীত অন্য রাবী বলেন, তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, আমি এমন একটি আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি তা যেন খুনের স্বর। সে বলল, এ হচ্ছে মুহাম্মাদ আর তার দুধভাই আবূ নায়িলাহ্। সম্ভ্র্রান্ত লোককে যদি রাতের বেলা বর্শাবিদ্ধ হওয়ার দিকে ডাকা হয় তবুও সে ডাকে সে সাড়া দেয়। মুহাম্মাদ (তার সঙ্গীদের) বললেন, সে যখন আসবে, তখন আমি তার মাথা লক্ষ্য করে আমার হাত বাড়াবো। যখন আমি তা ভালমতো ধরে নেবো, তখন তোমরা তোমাদের কাজ সেরে নেবে। তিনি বলেন, তারপর সে গায়ে চাদর জড়িয়ে নীচে নেমে এল। তাঁরা বললেন, আমরা তোমার নিকট থেকে অতি সুঘ্রাণ পাচ্ছি। সে বলল, হ্যাঁ, আমার স্ত্রী অমুক হচ্ছে আরবের সর্বাধিক সুগন্ধ-পছন্দ মহিলা। তখন তিনি বললেন, “আমাকে তা থেকে একটু সুবাস নিতে অনুমতি দিবেন?” তখন সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি তার মাথা শুঁকলেন। তারপর আবার শুঁকলেন। এরপর পুনরায় বললেন, আমাকে কি আবারও একটু ঘ্রাণ নিতে দিবেন? এ কথা বলে তিনি তার মাথা শক্ত করে ধরে সাথীদের বললেন, তোমরা সেরে ফেল। তিনি বলেন, তখন তাঁরা তাকে হত্যা করে ফেললো। (ই.ফা. ৪৫১৩, ই.সে. ৪৫১৫)

حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، وعبد الله بن محمد بن عبد الرحمن بن المسور، الزهري كلاهما عن ابن عيينة، - واللفظ للزهري - حدثنا سفيان، عن عمرو، سمعت جابرا، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من لكعب بن الأشرف فإنه قد آذى الله ورسوله ‏"‏ ‏.‏ فقال محمد بن مسلمة يا رسول الله أتحب أن أقتله قال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ قال ائذن لي فلأقل قال ‏"‏ قل ‏"‏ ‏.‏ فأتاه فقال له وذكر ما بينهما وقال إن هذا الرجل قد أراد صدقة وقد عنانا ‏.‏ فلما سمعه قال وأيضا والله لتملنه ‏.‏ قال إنا قد اتبعناه الآن ونكره أن ندعه حتى ننظر إلى أى شىء يصير أمره - قال - وقد أردت أن تسلفني سلفا قال فما ترهنني قال ما تريد ‏.‏ قال ترهنني نساءكم قال أنت أجمل العرب أنرهنك نساءنا قال له ترهنوني أولادكم ‏.‏ قال يسب ابن أحدنا فيقال رهن في وسقين من تمر ‏.‏ ولكن نرهنك اللأمة - يعني السلاح - قال فنعم ‏.‏ وواعده أن يأتيه بالحارث وأبي عبس بن جبر وعباد بن بشر قال فجاءوا فدعوه ليلا فنزل إليهم قال سفيان قال غير عمرو قالت له امرأته إني لأسمع صوتا كأنه صوت دم قال إنما هذا محمد بن مسلمة ورضيعه وأبو نائلة إن الكريم لو دعي إلى طعنة ليلا لأجاب ‏.‏ قال محمد إني إذا جاء فسوف أمد يدي إلى رأسه فإذا استمكنت منه فدونكم قال فلما نزل نزل وهو متوشح فقالوا نجد منك ريح الطيب قال نعم تحتي فلانة هي أعطر نساء العرب ‏.‏ قال فتأذن لي أن أشم منه قال نعم فشم ‏.‏ فتناول فشم ثم قال أتأذن لي أن أعود قال فاستمكن من رأسه ثم قال دونكم ‏.‏ قال فقتلوه ‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00