সহিহ মুসলিম > মাক্কাহ বিজয়

সহিহ মুসলিম ৪৫১৬

حدثني عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، حدثنا يحيى بن حسان، حدثنا حماد، بن سلمة أخبرنا ثابت، عن عبد الله بن رباح، قال وفدنا إلى معاوية بن أبي سفيان وفينا أبو هريرة فكان كل رجل منا يصنع طعاما يوما لأصحابه فكانت نوبتي فقلت يا أبا هريرة اليوم نوبتي ‏.‏ فجاءوا إلى المنزل ولم يدرك طعامنا فقلت يا أبا هريرة لو حدثتنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يدرك طعامنا فقال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفتح فجعل خالد بن الوليد على المجنبة اليمنى وجعل الزبير على المجنبة اليسرى وجعل أبا عبيدة على البياذقة وبطن الوادي فقال ‏"‏ يا أبا هريرة ادع لي الأنصار ‏"‏ ‏.‏ فدعوتهم فجاءوا يهرولون فقال ‏"‏ يا معشر الأنصار هل ترون أوباش قريش ‏"‏ ‏.‏ قالوا نعم ‏.‏ قال ‏"‏ انظروا إذا لقيتموهم غدا أن تحصدوهم حصدا ‏"‏ ‏.‏ وأخفى بيده ووضع يمينه على شماله وقال ‏"‏ موعدكم الصفا ‏"‏ ‏.‏ قال فما أشرف يومئذ لهم أحد إلا أناموه - قال - وصعد رسول الله صلى الله عليه وسلم الصفا وجاءت الأنصار فأطافوا بالصفا فجاء أبو سفيان فقال يا رسول الله أبيدت خضراء قريش لا قريش بعد اليوم ‏.‏ قال أبو سفيان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من دخل دار أبي سفيان فهو آمن ومن ألقى السلاح فهو آمن ومن أغلق بابه فهو آمن ‏"‏ ‏.‏ فقالت الأنصار أما الرجل فقد أخذته رأفة بعشيرته ورغبة في قريته ‏.‏ ونزل الوحى على رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ قلتم أما الرجل فقد أخذته رأفة بعشيرته ورغبة في قريته ‏.‏ ألا فما اسمي إذا - ثلاث مرات - أنا محمد عبد الله ورسوله هاجرت إلى الله وإليكم فالمحيا محياكم والممات مماتكم ‏"‏ ‏.‏ قالوا والله ما قلنا إلا ضنا بالله ورسوله ‏.‏ قال ‏"‏ فإن الله ورسوله يصدقانكم ويعذرانكم ‏"‏ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা ভ্রমণ করে মু’আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাঃ)–এর নিকট গেলাম। আমাদের মধ্যে তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) –ও ছিলেন। প্রত্যেকেই একদিন তাঁর সাথীর জন্য খানা তৈরী করতেন। একদিন আমার পালা আসল। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আজতো আমার পালা। অতএব সকলেই আমার বাসস্থানে এলেন, তখনও খানা রান্না করা শেষ হয়নি। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আপনি যদি আমাদেরকে খানা তৈরীর পূর্ব পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কোন হাদীস বর্ণনা করতেন! (তবে ভাল হতো) অতএব তিনি বললেন, আমরা মাক্কাহ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে ছিলাম। তখন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)–কে ডানদিকের বাহিনীর এবং যুবায়র (রাঃ)–কে বাম দিকের বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করলেন। আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ)–কে পদাতিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করলেন প্রান্তর অতিক্রম করার জন্য। এরপর তিনি বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আনসারদেরকে আমার কাছে আসার জন্য আহ্বান কর। অতএব আমি তাদেরকে আহ্বান করলাম। এরপর তাঁরা দ্রুত আসলেন। তখন তিনি বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কুরায়শদের বিভিন্ন গোত্রের বিরাট জমায়েত কি দেখতে পাচ্ছ, তারা সবাই বলল হ্যাঁ। অতএব তিনি বললেন, আগামীকাল যখন তোমরা (যুদ্ধক্ষেত্রে) তাদের মুকাবিলা করবে তখন তাদেরকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেবে। তারপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে ইঙ্গিতে বললেনঃ তাদেরকে সমূলে বিনষ্ট করে দেবে। তারপর বললেনঃ আমার সাথে তোমাদের একসাথে হওয়ার জায়গা সাফা পাহাড়। বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন যে কোন বিধর্মী আনসারদের লক্ষ্যস্থলে পড়েছে, তাকেই তারা নির্মূল করেছে। এরপরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তখন আনসারগণ তথায় উপনীত হয়ে সাফা পাহাড় ঘিরে ফেললো। ইত্যবসরে আবূ সুফইয়ান এলেন এবং বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! কুরায়শদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আজ থেকে আর কোন কুরায়শের অস্তিত্ব থাকবে না। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফইয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করবে সে নিরাপত্তা পাবে। যে অস্ত্র ফেলে দিবে সেও নিরাপদ এবং যে স্বীয় গৃহের দরজা বন্ধ করে রাখবে সেও নিরাপত্তা পাবে। তখন আনসারগণ বলাবলি করছিল যে, এ লোকটিকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর উপর ওয়াহী নাযিল হলো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরাই কি বলেছিলে যে, “এ লোকটিকে (মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে।” সাবধান! তোমরা কি জান আমার নাম কী? এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। আমি হলাম মুহাম্মাদ, আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল। আমি আল্লাহর নির্দেশেই তোমাদের কাছে হিজরত করেছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের জীবন ও মরণের সাথে সম্পৃক্ত। তখন তাঁরা বলল, আল্লাহর শপথ! আমরা এ কথা বলেছিলাম আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি দুর্বলতার কারণে। (যেন তিনি আমাদেরকে ছেড়ে না যান।) নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল তোমাদের সত্য বলে গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের ওজর কবুল করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৩, ই.সে. ৪৪৭৫)

‘আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা ভ্রমণ করে মু’আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাঃ)–এর নিকট গেলাম। আমাদের মধ্যে তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) –ও ছিলেন। প্রত্যেকেই একদিন তাঁর সাথীর জন্য খানা তৈরী করতেন। একদিন আমার পালা আসল। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আজতো আমার পালা। অতএব সকলেই আমার বাসস্থানে এলেন, তখনও খানা রান্না করা শেষ হয়নি। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আপনি যদি আমাদেরকে খানা তৈরীর পূর্ব পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কোন হাদীস বর্ণনা করতেন! (তবে ভাল হতো) অতএব তিনি বললেন, আমরা মাক্কাহ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে ছিলাম। তখন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)–কে ডানদিকের বাহিনীর এবং যুবায়র (রাঃ)–কে বাম দিকের বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করলেন। আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ)–কে পদাতিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করলেন প্রান্তর অতিক্রম করার জন্য। এরপর তিনি বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আনসারদেরকে আমার কাছে আসার জন্য আহ্বান কর। অতএব আমি তাদেরকে আহ্বান করলাম। এরপর তাঁরা দ্রুত আসলেন। তখন তিনি বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কুরায়শদের বিভিন্ন গোত্রের বিরাট জমায়েত কি দেখতে পাচ্ছ, তারা সবাই বলল হ্যাঁ। অতএব তিনি বললেন, আগামীকাল যখন তোমরা (যুদ্ধক্ষেত্রে) তাদের মুকাবিলা করবে তখন তাদেরকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেবে। তারপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে ইঙ্গিতে বললেনঃ তাদেরকে সমূলে বিনষ্ট করে দেবে। তারপর বললেনঃ আমার সাথে তোমাদের একসাথে হওয়ার জায়গা সাফা পাহাড়। বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন যে কোন বিধর্মী আনসারদের লক্ষ্যস্থলে পড়েছে, তাকেই তারা নির্মূল করেছে। এরপরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তখন আনসারগণ তথায় উপনীত হয়ে সাফা পাহাড় ঘিরে ফেললো। ইত্যবসরে আবূ সুফইয়ান এলেন এবং বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! কুরায়শদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আজ থেকে আর কোন কুরায়শের অস্তিত্ব থাকবে না। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফইয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করবে সে নিরাপত্তা পাবে। যে অস্ত্র ফেলে দিবে সেও নিরাপদ এবং যে স্বীয় গৃহের দরজা বন্ধ করে রাখবে সেও নিরাপত্তা পাবে। তখন আনসারগণ বলাবলি করছিল যে, এ লোকটিকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর উপর ওয়াহী নাযিল হলো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরাই কি বলেছিলে যে, “এ লোকটিকে (মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে।” সাবধান! তোমরা কি জান আমার নাম কী? এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। আমি হলাম মুহাম্মাদ, আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল। আমি আল্লাহর নির্দেশেই তোমাদের কাছে হিজরত করেছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের জীবন ও মরণের সাথে সম্পৃক্ত। তখন তাঁরা বলল, আল্লাহর শপথ! আমরা এ কথা বলেছিলাম আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি দুর্বলতার কারণে। (যেন তিনি আমাদেরকে ছেড়ে না যান।) নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল তোমাদের সত্য বলে গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের ওজর কবুল করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৩, ই.সে. ৪৪৭৫)

حدثني عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، حدثنا يحيى بن حسان، حدثنا حماد، بن سلمة أخبرنا ثابت، عن عبد الله بن رباح، قال وفدنا إلى معاوية بن أبي سفيان وفينا أبو هريرة فكان كل رجل منا يصنع طعاما يوما لأصحابه فكانت نوبتي فقلت يا أبا هريرة اليوم نوبتي ‏.‏ فجاءوا إلى المنزل ولم يدرك طعامنا فقلت يا أبا هريرة لو حدثتنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يدرك طعامنا فقال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفتح فجعل خالد بن الوليد على المجنبة اليمنى وجعل الزبير على المجنبة اليسرى وجعل أبا عبيدة على البياذقة وبطن الوادي فقال ‏"‏ يا أبا هريرة ادع لي الأنصار ‏"‏ ‏.‏ فدعوتهم فجاءوا يهرولون فقال ‏"‏ يا معشر الأنصار هل ترون أوباش قريش ‏"‏ ‏.‏ قالوا نعم ‏.‏ قال ‏"‏ انظروا إذا لقيتموهم غدا أن تحصدوهم حصدا ‏"‏ ‏.‏ وأخفى بيده ووضع يمينه على شماله وقال ‏"‏ موعدكم الصفا ‏"‏ ‏.‏ قال فما أشرف يومئذ لهم أحد إلا أناموه - قال - وصعد رسول الله صلى الله عليه وسلم الصفا وجاءت الأنصار فأطافوا بالصفا فجاء أبو سفيان فقال يا رسول الله أبيدت خضراء قريش لا قريش بعد اليوم ‏.‏ قال أبو سفيان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من دخل دار أبي سفيان فهو آمن ومن ألقى السلاح فهو آمن ومن أغلق بابه فهو آمن ‏"‏ ‏.‏ فقالت الأنصار أما الرجل فقد أخذته رأفة بعشيرته ورغبة في قريته ‏.‏ ونزل الوحى على رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ قلتم أما الرجل فقد أخذته رأفة بعشيرته ورغبة في قريته ‏.‏ ألا فما اسمي إذا - ثلاث مرات - أنا محمد عبد الله ورسوله هاجرت إلى الله وإليكم فالمحيا محياكم والممات مماتكم ‏"‏ ‏.‏ قالوا والله ما قلنا إلا ضنا بالله ورسوله ‏.‏ قال ‏"‏ فإن الله ورسوله يصدقانكم ويعذرانكم ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫১৪

حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا سليمان بن المغيرة، حدثنا ثابت البناني، عن عبد الله بن رباح، عن أبي هريرة، قال وفدت وفود إلى معاوية وذلك في رمضان فكان يصنع بعضنا لبعض الطعام فكان أبو هريرة مما يكثر أن يدعونا إلى رحله فقلت ألا أصنع طعاما فأدعوهم إلى رحلي فأمرت بطعام يصنع ثم لقيت أبا هريرة من العشي فقلت الدعوة عندي الليلة فقال سبقتني ‏.‏ قلت نعم ‏.‏ فدعوتهم فقال أبو هريرة ألا أعلمكم بحديث من حديثكم يا معشر الأنصار ثم ذكر فتح مكة فقال أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قدم مكة فبعث الزبير على إحدى المجنبتين وبعث خالدا على المجنبة الأخرى وبعث أبا عبيدة على الحسر فأخذوا بطن الوادي ورسول الله صلى الله عليه وسلم في كتيبة - قال - فنظر فرآني فقال ‏"‏ أبو هريرة ‏"‏ ‏.‏ قلت لبيك يا رسول الله ‏.‏ فقال ‏"‏ لا يأتيني إلا أنصاري ‏"‏ ‏.‏ زاد غير شيبان فقال ‏"‏ اهتف لي بالأنصار ‏"‏ ‏.‏ قال فأطافوا به ووبشت قريش أوباشا لها وأتباعا ‏.‏ فقالوا نقدم هؤلاء فإن كان لهم شىء كنا معهم ‏.‏ وإن أصيبوا أعطينا الذي سئلنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ترون إلى أوباش قريش وأتباعهم ‏"‏ ‏.‏ ثم قال بيديه إحداهما على الأخرى ثم قال ‏"‏ حتى توافوني بالصفا ‏"‏ ‏.‏ قال فانطلقنا فما شاء أحد منا أن يقتل أحدا إلا قتله وما أحد منهم يوجه إلينا شيئا - قال - فجاء أبو سفيان فقال يا رسول الله أبيحت خضراء قريش لا قريش بعد اليوم ‏.‏ ثم قال ‏"‏ من دخل دار أبي سفيان فهو آمن ‏"‏ ‏.‏ فقالت الأنصار بعضهم لبعض أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ورأفة بعشيرته ‏.‏ قال أبو هريرة وجاء الوحى وكان إذا جاء الوحى لا يخفى علينا فإذا جاء فليس أحد يرفع طرفه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ينقضي الوحى فلما انقضى الوحى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يا معشر الأنصار ‏"‏ ‏.‏ قالوا لبيك يا رسول الله قال ‏"‏ قلتم أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ‏"‏ ‏.‏ قالوا قد كان ذاك ‏.‏ قال ‏"‏ كلا إني عبد الله ورسوله هاجرت إلى الله وإليكم والمحيا محياكم والممات مماتكم ‏"‏ ‏.‏ فأقبلوا إليه يبكون ويقولون والله ما قلنا الذي قلنا إلا الضن بالله وبرسوله ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله ورسوله يصدقانكم ويعذرانكم ‏"‏ ‏.‏ قال فأقبل الناس إلى دار أبي سفيان وأغلق الناس أبوابهم - قال - وأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أقبل إلى الحجر فاستلمه ثم طاف بالبيت - قال - فأتى على صنم إلى جنب البيت كانوا يعبدونه - قال - وفي يد رسول الله صلى الله عليه وسلم قوس وهو آخذ بسية القوس فلما أتى على الصنم جعل يطعنه في عينه ويقول ‏"‏ جاء الحق وزهق الباطل ‏"‏ ‏.‏ فلما فرغ من طوافه أتى الصفا فعلا عليه حتى نظر إلى البيت ورفع يديه فجعل يحمد الله ويدعو بما شاء أن يدعو ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) বলেন, আমি একটি প্রতিনিধি দলের সাথে [যার মধ্যে আবূ হুরায়রা (রাঃ) –ও ছিলেন] রমাযান মাসে মু’আবিয়াহ (রাঃ) –এর কাছে গেলাম। তখন তাঁরা একে অন্যের জন্য খানা পাকাতেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) অধিকাংশ সময় আমাদেরকে তাঁর বাসস্থানে দা’ওয়াত করতেন। সুতরাং একদিন আমি তাঁকে বললাম, আমিও খানা তৈরী করবো এবং সকলকেই আমার বাসস্থানে দা’ওয়াত করবো। আমি খানা তৈরীর নির্দেশ দিলাম। এরপর আবূ হুরায়রা (রাঃ)–এর সঙ্গে আমি বিকালে দেখা করলাম এবং বললাম, আজ রাত আমার বাসায় আপনার দা’ওয়াত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আপনি আজ আমার পূর্বেই দা’ওয়াত দিয়ে দিলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি সকলকেই দা’ওয়াত করলাম। তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণনা করবো না? তারপর তিনি মাক্কাহ বিজয়ের ঘটনার বিবরণ দিতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কার দিকে অগ্রসর হলেন এবং পরিশেষে তিনি তথায় উপনীত হলেন। এরপর যুবায়রকে মাক্কার একদিকে এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে অপর দিকে প্রেরণ করলেন। আর আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) –কে সেসব লোকদের উপর নেতা বানিয়ে পাঠালেন যাদের কাছে লৌহ বর্ম ছিলনা। তাঁরা উপত্যকার ভিতরের পথ অবলম্বন করে চললেন। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন একটি ছোট সেনাদলের মধ্যে। তিনি তাকালেন এবং আমাকে দেখে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি উপস্থিত। এরপর তিনি বললেনঃ আমার নিকট আনসার ছাড়া আর কেউ যেন না আসে। শাইবান ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তারপর তিনি বললেনঃ আনসারদেরকে আহ্বান করো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আনসারগণ তাঁর চারপাশে জমায়েত হলেন। এদিকে কুরায়শগণও তাদের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং অনুগতদেরকে একত্রিত করলো। এরপর তারা বলল, আমরা তাদেরকে আগে প্রেরণ করব। যদি তাদের ভাগে কিছু জুটে, তবে আমরাও তো তাদের সঙ্গেই আছি। আর যদি তারা বিপদের সম্মুখীন হয় তবে তারা আমাদের কাছে যা চাইবে, তাই দিয়ে দেব। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা কি কুরায়শের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং তাদের অনুগতদেরকে দেখতে পাচ্ছ? এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একহাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করলেন, (মাক্কার পথে যারা তোমাদের বাধা দেয় তোমরা তাদের খতম করে দিবে।) এরপর বললেন, অবশেষে সাফা পাহাড়ে তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা অগ্রসর হতে লাগলাম। আমাদের মধ্য হতে কেউ যাকে হত্যা করতে চেয়েছে তাকে হত্যা করেছে। তাই তাদের মধ্য হতে কেউই আমাদের উপর আক্রমণ করতে সাহস পায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ সুফইয়ান এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আজ কুরায়শ সম্প্রদায়ের রক্ত হালাল করে দেয়া হয়েছে। আজকের পরে আর কোন কুরায়শের অস্তিত্ব থাকবে না। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফইয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। সুতরাং আনসারগণ একে অপরের সাথে বলাবলি করত লাগলো যে, লোকটিকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে) স্বদেশের অনুরাগ এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রেমে পেয়ে বসেছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, তখনই ওয়াহী অবতীর্ণ হলো। যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো তখন তা আমাদের নিকট গোপন থাকত না। ঐ সময় কারো সাধ্য হতো না যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দিকে চোখ তুলে দেখে যতক্ষণ না ওয়াহী শেষ হতো। এরপর যখন ওয়াহী শেষ হলো, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার কাছে হাজির। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি বলেছ যে, “লোকটিকে স্বদেশের অনুপ্রেরণায় পেয়ে বসেছে”। তখন তারা বললেন, এ রকম কিছু হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কখনও না। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর প্রেরিত রসূল। আমি আল্লাহর উদ্দেশে স্বদেশ ত্যাগ করে তোমাদের কাছে গিয়েছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের সাথে। তারা কাঁদতে কাঁদতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দিকে অগ্রসর হলেন এবং বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা যা বলেছিলাম, তা ছিল আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও দুর্বলতার কারণে। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল তোমাদের বক্তব্য বিশ্বাস করেন এবং তোমাদের ওজর গ্রহণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মাক্কার জনগণ আবূ সুফইয়ানের বাড়ীর দিকে চলে গেল (জীবন রক্ষার জন্যে) আর অন্যান্য মানুষ আপন ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে রইল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজর ‘আসওয়াদ’–এর নিকটবর্তী হয়ে তাকে চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ শারীফের তাওয়াফ করলেন। এরপর তিনি বাইতুল্লাহর কাছে থাকা একটি মূর্তির নিকটবর্তী হলেন, যাকে তারা উপাসনা করতো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাতে তখন একটি ধনুক ছিল, তিনি এর এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। যখন তিনি মূর্তিটির নিকটবর্তী হলেন তখন তিনি তা দ্বারা এর চোখে খুঁচাতে লাগলেন এবং বললেন, “সত্য আগমন করেছে এবং বাতিল (মিথ্যা) চলে গেছে।” এরপর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শেষে তিনি সাফা পাহাড়ের দিকে গেলেন। এরপর তাতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহর দিকে চেয়ে দেখলেন এবং দু’হাত উঁচু করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং তাঁর যা প্রার্থনা করার ছিল তাই প্রার্থনা করলেন। (ই.ফা. ৪৪৭১, ই.সে. ৪৪৭৩)

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) বলেন, আমি একটি প্রতিনিধি দলের সাথে [যার মধ্যে আবূ হুরায়রা (রাঃ) –ও ছিলেন] রমাযান মাসে মু’আবিয়াহ (রাঃ) –এর কাছে গেলাম। তখন তাঁরা একে অন্যের জন্য খানা পাকাতেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) অধিকাংশ সময় আমাদেরকে তাঁর বাসস্থানে দা’ওয়াত করতেন। সুতরাং একদিন আমি তাঁকে বললাম, আমিও খানা তৈরী করবো এবং সকলকেই আমার বাসস্থানে দা’ওয়াত করবো। আমি খানা তৈরীর নির্দেশ দিলাম। এরপর আবূ হুরায়রা (রাঃ)–এর সঙ্গে আমি বিকালে দেখা করলাম এবং বললাম, আজ রাত আমার বাসায় আপনার দা’ওয়াত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আপনি আজ আমার পূর্বেই দা’ওয়াত দিয়ে দিলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি সকলকেই দা’ওয়াত করলাম। তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণনা করবো না? তারপর তিনি মাক্কাহ বিজয়ের ঘটনার বিবরণ দিতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কার দিকে অগ্রসর হলেন এবং পরিশেষে তিনি তথায় উপনীত হলেন। এরপর যুবায়রকে মাক্কার একদিকে এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে অপর দিকে প্রেরণ করলেন। আর আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) –কে সেসব লোকদের উপর নেতা বানিয়ে পাঠালেন যাদের কাছে লৌহ বর্ম ছিলনা। তাঁরা উপত্যকার ভিতরের পথ অবলম্বন করে চললেন। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন একটি ছোট সেনাদলের মধ্যে। তিনি তাকালেন এবং আমাকে দেখে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি উপস্থিত। এরপর তিনি বললেনঃ আমার নিকট আনসার ছাড়া আর কেউ যেন না আসে। শাইবান ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তারপর তিনি বললেনঃ আনসারদেরকে আহ্বান করো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আনসারগণ তাঁর চারপাশে জমায়েত হলেন। এদিকে কুরায়শগণও তাদের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং অনুগতদেরকে একত্রিত করলো। এরপর তারা বলল, আমরা তাদেরকে আগে প্রেরণ করব। যদি তাদের ভাগে কিছু জুটে, তবে আমরাও তো তাদের সঙ্গেই আছি। আর যদি তারা বিপদের সম্মুখীন হয় তবে তারা আমাদের কাছে যা চাইবে, তাই দিয়ে দেব। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা কি কুরায়শের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং তাদের অনুগতদেরকে দেখতে পাচ্ছ? এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একহাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করলেন, (মাক্কার পথে যারা তোমাদের বাধা দেয় তোমরা তাদের খতম করে দিবে।) এরপর বললেন, অবশেষে সাফা পাহাড়ে তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা অগ্রসর হতে লাগলাম। আমাদের মধ্য হতে কেউ যাকে হত্যা করতে চেয়েছে তাকে হত্যা করেছে। তাই তাদের মধ্য হতে কেউই আমাদের উপর আক্রমণ করতে সাহস পায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ সুফইয়ান এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আজ কুরায়শ সম্প্রদায়ের রক্ত হালাল করে দেয়া হয়েছে। আজকের পরে আর কোন কুরায়শের অস্তিত্ব থাকবে না। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফইয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। সুতরাং আনসারগণ একে অপরের সাথে বলাবলি করত লাগলো যে, লোকটিকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে) স্বদেশের অনুরাগ এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রেমে পেয়ে বসেছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, তখনই ওয়াহী অবতীর্ণ হলো। যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো তখন তা আমাদের নিকট গোপন থাকত না। ঐ সময় কারো সাধ্য হতো না যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দিকে চোখ তুলে দেখে যতক্ষণ না ওয়াহী শেষ হতো। এরপর যখন ওয়াহী শেষ হলো, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার কাছে হাজির। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি বলেছ যে, “লোকটিকে স্বদেশের অনুপ্রেরণায় পেয়ে বসেছে”। তখন তারা বললেন, এ রকম কিছু হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কখনও না। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর প্রেরিত রসূল। আমি আল্লাহর উদ্দেশে স্বদেশ ত্যাগ করে তোমাদের কাছে গিয়েছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের সাথে। তারা কাঁদতে কাঁদতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দিকে অগ্রসর হলেন এবং বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা যা বলেছিলাম, তা ছিল আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও দুর্বলতার কারণে। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল তোমাদের বক্তব্য বিশ্বাস করেন এবং তোমাদের ওজর গ্রহণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মাক্কার জনগণ আবূ সুফইয়ানের বাড়ীর দিকে চলে গেল (জীবন রক্ষার জন্যে) আর অন্যান্য মানুষ আপন ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে রইল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজর ‘আসওয়াদ’–এর নিকটবর্তী হয়ে তাকে চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ শারীফের তাওয়াফ করলেন। এরপর তিনি বাইতুল্লাহর কাছে থাকা একটি মূর্তির নিকটবর্তী হলেন, যাকে তারা উপাসনা করতো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাতে তখন একটি ধনুক ছিল, তিনি এর এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। যখন তিনি মূর্তিটির নিকটবর্তী হলেন তখন তিনি তা দ্বারা এর চোখে খুঁচাতে লাগলেন এবং বললেন, “সত্য আগমন করেছে এবং বাতিল (মিথ্যা) চলে গেছে।” এরপর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শেষে তিনি সাফা পাহাড়ের দিকে গেলেন। এরপর তাতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহর দিকে চেয়ে দেখলেন এবং দু’হাত উঁচু করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং তাঁর যা প্রার্থনা করার ছিল তাই প্রার্থনা করলেন। (ই.ফা. ৪৪৭১, ই.সে. ৪৪৭৩)

حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا سليمان بن المغيرة، حدثنا ثابت البناني، عن عبد الله بن رباح، عن أبي هريرة، قال وفدت وفود إلى معاوية وذلك في رمضان فكان يصنع بعضنا لبعض الطعام فكان أبو هريرة مما يكثر أن يدعونا إلى رحله فقلت ألا أصنع طعاما فأدعوهم إلى رحلي فأمرت بطعام يصنع ثم لقيت أبا هريرة من العشي فقلت الدعوة عندي الليلة فقال سبقتني ‏.‏ قلت نعم ‏.‏ فدعوتهم فقال أبو هريرة ألا أعلمكم بحديث من حديثكم يا معشر الأنصار ثم ذكر فتح مكة فقال أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قدم مكة فبعث الزبير على إحدى المجنبتين وبعث خالدا على المجنبة الأخرى وبعث أبا عبيدة على الحسر فأخذوا بطن الوادي ورسول الله صلى الله عليه وسلم في كتيبة - قال - فنظر فرآني فقال ‏"‏ أبو هريرة ‏"‏ ‏.‏ قلت لبيك يا رسول الله ‏.‏ فقال ‏"‏ لا يأتيني إلا أنصاري ‏"‏ ‏.‏ زاد غير شيبان فقال ‏"‏ اهتف لي بالأنصار ‏"‏ ‏.‏ قال فأطافوا به ووبشت قريش أوباشا لها وأتباعا ‏.‏ فقالوا نقدم هؤلاء فإن كان لهم شىء كنا معهم ‏.‏ وإن أصيبوا أعطينا الذي سئلنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ترون إلى أوباش قريش وأتباعهم ‏"‏ ‏.‏ ثم قال بيديه إحداهما على الأخرى ثم قال ‏"‏ حتى توافوني بالصفا ‏"‏ ‏.‏ قال فانطلقنا فما شاء أحد منا أن يقتل أحدا إلا قتله وما أحد منهم يوجه إلينا شيئا - قال - فجاء أبو سفيان فقال يا رسول الله أبيحت خضراء قريش لا قريش بعد اليوم ‏.‏ ثم قال ‏"‏ من دخل دار أبي سفيان فهو آمن ‏"‏ ‏.‏ فقالت الأنصار بعضهم لبعض أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ورأفة بعشيرته ‏.‏ قال أبو هريرة وجاء الوحى وكان إذا جاء الوحى لا يخفى علينا فإذا جاء فليس أحد يرفع طرفه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ينقضي الوحى فلما انقضى الوحى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يا معشر الأنصار ‏"‏ ‏.‏ قالوا لبيك يا رسول الله قال ‏"‏ قلتم أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ‏"‏ ‏.‏ قالوا قد كان ذاك ‏.‏ قال ‏"‏ كلا إني عبد الله ورسوله هاجرت إلى الله وإليكم والمحيا محياكم والممات مماتكم ‏"‏ ‏.‏ فأقبلوا إليه يبكون ويقولون والله ما قلنا الذي قلنا إلا الضن بالله وبرسوله ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله ورسوله يصدقانكم ويعذرانكم ‏"‏ ‏.‏ قال فأقبل الناس إلى دار أبي سفيان وأغلق الناس أبوابهم - قال - وأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أقبل إلى الحجر فاستلمه ثم طاف بالبيت - قال - فأتى على صنم إلى جنب البيت كانوا يعبدونه - قال - وفي يد رسول الله صلى الله عليه وسلم قوس وهو آخذ بسية القوس فلما أتى على الصنم جعل يطعنه في عينه ويقول ‏"‏ جاء الحق وزهق الباطل ‏"‏ ‏.‏ فلما فرغ من طوافه أتى الصفا فعلا عليه حتى نظر إلى البيت ورفع يديه فجعل يحمد الله ويدعو بما شاء أن يدعو ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫১৫

وحدثنيه عبد الله بن هاشم، حدثنا بهز، حدثنا سليمان بن المغيرة، بهذا الإسناد وزاد في الحديث ثم قال بيديه إحداهما على الأخرى ‏"‏ احصدوهم حصدا ‏"‏ ‏.‏ وقال في الحديث قالوا قلنا ذاك يا رسول الله قال ‏"‏ فما اسمي إذا كلا إني عبد الله ورسوله ‏"‏ ‏.‏

সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ (রাঃ) থেকে উক্ত সানাদ থেকে বর্নিতঃ

তবে তার হাদীসে অতিরিক্ত এ কথা উল্লেখ রয়েছে যে, তারপর তিনি তার এক হাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করে বললেন, তোমরা তাদেরকে শেষ করে দাও। এতে আরো উল্লেখ রয়েছে যে, তখন তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা এ রকম কিছু বলেছি। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমার নামের কী আর থাকবে। সুতরাং এমনটি কখনো হবে না। আমিতো আল্লাহর বান্দা ও রসূল। (ই.ফা. ৪৪৭২, ই.সে. ৪৪৭৪)

সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ (রাঃ) থেকে উক্ত সানাদ থেকে বর্নিতঃ

তবে তার হাদীসে অতিরিক্ত এ কথা উল্লেখ রয়েছে যে, তারপর তিনি তার এক হাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করে বললেন, তোমরা তাদেরকে শেষ করে দাও। এতে আরো উল্লেখ রয়েছে যে, তখন তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা এ রকম কিছু বলেছি। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমার নামের কী আর থাকবে। সুতরাং এমনটি কখনো হবে না। আমিতো আল্লাহর বান্দা ও রসূল। (ই.ফা. ৪৪৭২, ই.সে. ৪৪৭৪)

وحدثنيه عبد الله بن هاشم، حدثنا بهز، حدثنا سليمان بن المغيرة، بهذا الإسناد وزاد في الحديث ثم قال بيديه إحداهما على الأخرى ‏"‏ احصدوهم حصدا ‏"‏ ‏.‏ وقال في الحديث قالوا قلنا ذاك يا رسول الله قال ‏"‏ فما اسمي إذا كلا إني عبد الله ورسوله ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম > কা’বার চারপাশ থেকে মূর্তিসমূহ দূরীকরণ

সহিহ মুসলিম ৪৫১৭

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وعمرو الناقد، وابن أبي عمر، - واللفظ لابن أبي شيبة - قالوا حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، عن أبي معمر، عن عبد الله، قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة وحول الكعبة ثلاثمائة وستون نصبا فجعل يطعنها بعود كان بيده ويقول ‏"‏ ‏{‏ جاء الحق وزهق الباطل إن الباطل كان زهوقا‏}‏ ‏{‏ جاء الحق وما يبدئ الباطل وما يعيد‏}‏ زاد ابن أبي عمر يوم الفتح ‏.‏

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাতে একটি ছড়ি (কাঠি) ছিল তিনি তা দিয়ে মূর্তিগুলোকে খোঁচা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেনঃ “সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; মিথ্যাতো বিলুপ্ত হবারই” – (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭ : ৮১)। “সত্য এসেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে না পারে পুনরাবৃত্তি করতে” – (সূরা সাবা ৩৪ : ৪৯)। ইবনু আবূ ‘উমার (আরবি) (বিজয়ের দিন) কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৪, ই.সে. ৪৪৭৬)

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাতে একটি ছড়ি (কাঠি) ছিল তিনি তা দিয়ে মূর্তিগুলোকে খোঁচা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেনঃ “সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; মিথ্যাতো বিলুপ্ত হবারই” – (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭ : ৮১)। “সত্য এসেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে না পারে পুনরাবৃত্তি করতে” – (সূরা সাবা ৩৪ : ৪৯)। ইবনু আবূ ‘উমার (আরবি) (বিজয়ের দিন) কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৪, ই.সে. ৪৪৭৬)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وعمرو الناقد، وابن أبي عمر، - واللفظ لابن أبي شيبة - قالوا حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، عن أبي معمر، عن عبد الله، قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة وحول الكعبة ثلاثمائة وستون نصبا فجعل يطعنها بعود كان بيده ويقول ‏"‏ ‏{‏ جاء الحق وزهق الباطل إن الباطل كان زهوقا‏}‏ ‏{‏ جاء الحق وما يبدئ الباطل وما يعيد‏}‏ زاد ابن أبي عمر يوم الفتح ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫১৮

وحدثناه حسن بن علي الحلواني، وعبد بن حميد، كلاهما عن عبد الرزاق، أخبرنا الثوري، عن ابن أبي نجيح، بهذا الإسناد إلى قوله زهوقا ‏.‏ ولم يذكر الآية الأخرى وقال بدل نصبا صنما ‏.‏

ইবনু আবূ নাজীহ হতে এ সানাদ থেকে বর্নিতঃ

উল্লিখিত হাদীস, আয়াতের শেষ (আরবি) (বিলুপ্ত হবারই) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অপর আয়াতটি বর্ণনা করেননি। আর তিনি (আরবি) (মূর্তি, পূজার বেদী) শব্দের পরিবর্তে (আরবি) (মূর্তি) শব্দ ব্যবহার করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৫, ই.সে. ৪৪৭৭)

ইবনু আবূ নাজীহ হতে এ সানাদ থেকে বর্নিতঃ

উল্লিখিত হাদীস, আয়াতের শেষ (আরবি) (বিলুপ্ত হবারই) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অপর আয়াতটি বর্ণনা করেননি। আর তিনি (আরবি) (মূর্তি, পূজার বেদী) শব্দের পরিবর্তে (আরবি) (মূর্তি) শব্দ ব্যবহার করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৫, ই.সে. ৪৪৭৭)

وحدثناه حسن بن علي الحلواني، وعبد بن حميد، كلاهما عن عبد الرزاق، أخبرنا الثوري، عن ابن أبي نجيح، بهذا الإسناد إلى قوله زهوقا ‏.‏ ولم يذكر الآية الأخرى وقال بدل نصبا صنما ‏.‏


সহিহ মুসলিম > বিজয়ের পর কুরায়শদের ধর্মত্যাগের অপরাধে কতল করা হবে না

সহিহ মুসলিম ৪৫১৯

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا علي بن مسهر، ووكيع، عن زكرياء، عن الشعبي، قال أخبرني عبد الله بن مطيع، عن أبيه، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول يوم فتح مكة ‏ "‏ لا يقتل قرشي صبرا بعد هذا اليوم إلى يوم القيامة ‏"‏ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু মুতী’ (রহঃ) –এর পিতা থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে মাক্কাহ বিজয়ের দিন বলতে শুনেছি যে, আজকের দিনের পর কিয়ামাত পর্যন্ত কুরায়শগণকে (ধর্মত্যাগের অপরাধে ও যুদ্ধে) হত্যা করা হবে না। [৩৯] (ই.ফা. ৪৪৭৬, ই.সে. ৪৪৭৮)

‘আবদুল্লাহ ইবনু মুতী’ (রহঃ) –এর পিতা থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে মাক্কাহ বিজয়ের দিন বলতে শুনেছি যে, আজকের দিনের পর কিয়ামাত পর্যন্ত কুরায়শগণকে (ধর্মত্যাগের অপরাধে ও যুদ্ধে) হত্যা করা হবে না। [৩৯] (ই.ফা. ৪৪৭৬, ই.সে. ৪৪৭৮)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا علي بن مسهر، ووكيع، عن زكرياء، عن الشعبي، قال أخبرني عبد الله بن مطيع، عن أبيه، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول يوم فتح مكة ‏ "‏ لا يقتل قرشي صبرا بعد هذا اليوم إلى يوم القيامة ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২০

حدثنا ابن نمير، حدثنا أبي، حدثنا زكرياء، بهذا الإسناد ‏.‏ وزاد قال ولم يكن أسلم أحد من عصاة قريش غير مطيع كان اسمه العاصي فسماه رسول الله صلى الله عليه وسلم مطيعا ‏.‏

যাকারিয়্যা (রহঃ) হতে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ

উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, কুরায়শদের মধ্য থেকে কোন ‘আসী ইসলাম গ্রহণ করেনি, মুতী’ ব্যতীত, তার নাম ছিল ‘আসী (অবাধ্য)। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নাম রাখলেন মুতী’ (অনুগত)। (ই.ফা. ৪৪৭৭, ই.সে. ৪৪৭৯)

যাকারিয়্যা (রহঃ) হতে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ

উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, কুরায়শদের মধ্য থেকে কোন ‘আসী ইসলাম গ্রহণ করেনি, মুতী’ ব্যতীত, তার নাম ছিল ‘আসী (অবাধ্য)। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নাম রাখলেন মুতী’ (অনুগত)। (ই.ফা. ৪৪৭৭, ই.সে. ৪৪৭৯)

حدثنا ابن نمير، حدثنا أبي، حدثنا زكرياء، بهذا الإسناد ‏.‏ وزاد قال ولم يكن أسلم أحد من عصاة قريش غير مطيع كان اسمه العاصي فسماه رسول الله صلى الله عليه وسلم مطيعا ‏.‏


সহিহ মুসলিম > হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে

সহিহ মুসলিম ৪৫২২

حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن أبي إسحاق، قال سمعت البراء بن عازب، يقول لما صالح رسول الله صلى الله عليه وسلم أهل الحديبية كتب علي كتابا بينهم قال فكتب ‏"‏ محمد رسول الله ‏"‏ ثم ذكر بنحو حديث معاذ غير أنه لم يذكر في الحديث ‏"‏ هذا ما كاتب عليه ‏"‏ ‏.‏

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদাইবিয়াবাসীদের মধ্যে সন্ধি করলেন, ‘আলী (রাঃ) উভয়ের মধ্যে একটি সন্ধিপত্র লিখলেন। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) লিখলেন, মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ, তারপর মু’আয বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার হাদীসে (আরবি) কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৪৪৭৯, ই.সে. ৪৪৮১)

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদাইবিয়াবাসীদের মধ্যে সন্ধি করলেন, ‘আলী (রাঃ) উভয়ের মধ্যে একটি সন্ধিপত্র লিখলেন। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) লিখলেন, মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ, তারপর মু’আয বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার হাদীসে (আরবি) কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৪৪৭৯, ই.সে. ৪৪৮১)

حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن أبي إسحاق، قال سمعت البراء بن عازب، يقول لما صالح رسول الله صلى الله عليه وسلم أهل الحديبية كتب علي كتابا بينهم قال فكتب ‏"‏ محمد رسول الله ‏"‏ ثم ذكر بنحو حديث معاذ غير أنه لم يذكر في الحديث ‏"‏ هذا ما كاتب عليه ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২৬

وحدثنا أبو كريب، محمد بن العلاء ومحمد بن عبد الله بن نمير قالا حدثنا أبو معاوية عن الأعمش، عن شقيق، قال سمعت سهل بن حنيف، يقول بصفين أيها الناس اتهموا رأيكم والله لقد رأيتني يوم أبي جندل ولو أني أستطيع أن أرد أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم لرددته والله ما وضعنا سيوفنا على عواتقنا إلى أمر قط إلا أسهلن بنا إلى أمر نعرفه إلا أمركم هذا ‏.‏ لم يذكر ابن نمير إلى أمر قط ‏.‏

শাকীক (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, সিফফীন দিবসে সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) –কে আমি বলতে শুনেছি, হে লোক সকল! তোমাদের নিজেদের অভিমতকে অভিযুক্ত মনে করবে। আল্লাহর কসম! আমি আবূ জান্দালের সে দিনটি দেখেছি। যদি আমার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর আদেশ প্রত্যাখ্যান করার সাধ্য থাকতো, তবে অবশ্যই তা প্রত্যাখ্যান করতাম। আল্লাহর কসম! আমরা আমাদের তরবারি স্বীয় গর্দানে উঠাতাম না যতক্ষণ না আমাদের কোন বিষয় বোধগম্য ছিল। কিন্তু তোমাদের এ ব্যাপারটির কথা তার বিপরীত। ইবনু নুমায়র তাঁর বর্ণনায় (আরবি) (কোন ব্যাপারে) কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৪৪৮৩, ই.সে. ৪৪৮৫)

শাকীক (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, সিফফীন দিবসে সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) –কে আমি বলতে শুনেছি, হে লোক সকল! তোমাদের নিজেদের অভিমতকে অভিযুক্ত মনে করবে। আল্লাহর কসম! আমি আবূ জান্দালের সে দিনটি দেখেছি। যদি আমার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর আদেশ প্রত্যাখ্যান করার সাধ্য থাকতো, তবে অবশ্যই তা প্রত্যাখ্যান করতাম। আল্লাহর কসম! আমরা আমাদের তরবারি স্বীয় গর্দানে উঠাতাম না যতক্ষণ না আমাদের কোন বিষয় বোধগম্য ছিল। কিন্তু তোমাদের এ ব্যাপারটির কথা তার বিপরীত। ইবনু নুমায়র তাঁর বর্ণনায় (আরবি) (কোন ব্যাপারে) কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৪৪৮৩, ই.সে. ৪৪৮৫)

وحدثنا أبو كريب، محمد بن العلاء ومحمد بن عبد الله بن نمير قالا حدثنا أبو معاوية عن الأعمش، عن شقيق، قال سمعت سهل بن حنيف، يقول بصفين أيها الناس اتهموا رأيكم والله لقد رأيتني يوم أبي جندل ولو أني أستطيع أن أرد أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم لرددته والله ما وضعنا سيوفنا على عواتقنا إلى أمر قط إلا أسهلن بنا إلى أمر نعرفه إلا أمركم هذا ‏.‏ لم يذكر ابن نمير إلى أمر قط ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২৪

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عفان، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن أنس، أن قريشا، صالحوا النبي صلى الله عليه وسلم فيهم سهيل بن عمرو فقال النبي صلى الله عليه وسلم لعلي ‏"‏ اكتب بسم الله الرحمن الرحيم ‏"‏ ‏.‏ قال سهيل أما باسم الله فما ندري ما بسم الله الرحمن الرحيم ولكن اكتب ما نعرف باسمك اللهم فقال ‏"‏ اكتب من محمد رسول الله ‏"‏ ‏.‏ قالوا لو علمنا أنك رسول الله لاتبعناك ولكن اكتب اسمك واسم أبيك ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اكتب من محمد بن عبد الله ‏"‏ ‏.‏ فاشترطوا على النبي صلى الله عليه وسلم أن من جاء منكم لم نرده عليكم ومن جاءكم منا رددتموه علينا فقالوا يا رسول الله أنكتب هذا قال ‏"‏ نعم إنه من ذهب منا إليهم فأبعده الله ومن جاءنا منهم سيجعل الله له فرجا ومخرجا ‏"‏ ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

কুরায়শরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সাথে সন্ধি করল। তাদের মধ্যে সুহায়ল ইবনু ‘আমরও ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আলী (রাঃ) –কে বললেনঃ লিখ ‘বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’। সুহায়ল বলল, কি বিসমিল্লা-হ্‌? আমরা তো জানি না বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম কী? তবে আমরা জানি বি ইসমিকা আল্লাহুমা, তাই লিখ। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ লিখ, মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর পক্ষ থেকে। তখন তারা বলে উঠলো, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রসূলই জানতাম, তাহলে তো আমরা আপনার অনুসরণই করতাম। বরং আপনি আপনার নাম এবং আপনার পিতার নাম লিখুন।” তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ লিখ, মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর উপর এ মর্মে শর্ত আরোপ করলো যে, যারা আপনাদের নিকট থেকে চলে আসবে, আমরা তাকে ফেরত পাঠাবো না, কিন্তু আমাদের কেউ যদি আপনাদের নিকট চলে যায়, তবে আপনারা তাকে অবশ্যই ফিরিয়ে দেবেন। তখন সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি এরূপ লিখবো? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি তাদের কাছে যায় তবে আল্লাহ্‌ই তাকে (রহমাত থেকে) সরিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে যে আমাদের কাছে আসবে (তাকে ফেরত দিলেও) আল্লাহ্‌ অচিরেই তার কোন ব্যবস্থা ও পথ বের করে দেবেন। (ই.ফা. ৪৪৮১, ই.সে. ৪৪৮৩)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

কুরায়শরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সাথে সন্ধি করল। তাদের মধ্যে সুহায়ল ইবনু ‘আমরও ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আলী (রাঃ) –কে বললেনঃ লিখ ‘বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’। সুহায়ল বলল, কি বিসমিল্লা-হ্‌? আমরা তো জানি না বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম কী? তবে আমরা জানি বি ইসমিকা আল্লাহুমা, তাই লিখ। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ লিখ, মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর পক্ষ থেকে। তখন তারা বলে উঠলো, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রসূলই জানতাম, তাহলে তো আমরা আপনার অনুসরণই করতাম। বরং আপনি আপনার নাম এবং আপনার পিতার নাম লিখুন।” তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ লিখ, মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর উপর এ মর্মে শর্ত আরোপ করলো যে, যারা আপনাদের নিকট থেকে চলে আসবে, আমরা তাকে ফেরত পাঠাবো না, কিন্তু আমাদের কেউ যদি আপনাদের নিকট চলে যায়, তবে আপনারা তাকে অবশ্যই ফিরিয়ে দেবেন। তখন সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি এরূপ লিখবো? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি তাদের কাছে যায় তবে আল্লাহ্‌ই তাকে (রহমাত থেকে) সরিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে যে আমাদের কাছে আসবে (তাকে ফেরত দিলেও) আল্লাহ্‌ অচিরেই তার কোন ব্যবস্থা ও পথ বের করে দেবেন। (ই.ফা. ৪৪৮১, ই.সে. ৪৪৮৩)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عفان، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن أنس، أن قريشا، صالحوا النبي صلى الله عليه وسلم فيهم سهيل بن عمرو فقال النبي صلى الله عليه وسلم لعلي ‏"‏ اكتب بسم الله الرحمن الرحيم ‏"‏ ‏.‏ قال سهيل أما باسم الله فما ندري ما بسم الله الرحمن الرحيم ولكن اكتب ما نعرف باسمك اللهم فقال ‏"‏ اكتب من محمد رسول الله ‏"‏ ‏.‏ قالوا لو علمنا أنك رسول الله لاتبعناك ولكن اكتب اسمك واسم أبيك ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اكتب من محمد بن عبد الله ‏"‏ ‏.‏ فاشترطوا على النبي صلى الله عليه وسلم أن من جاء منكم لم نرده عليكم ومن جاءكم منا رددتموه علينا فقالوا يا رسول الله أنكتب هذا قال ‏"‏ نعم إنه من ذهب منا إليهم فأبعده الله ومن جاءنا منهم سيجعل الله له فرجا ومخرجا ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২৩

حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، وأحمد بن جناب المصيصي، جميعا عن عيسى بن يونس، - واللفظ لإسحاق - أخبرنا عيسى بن يونس، أخبرنا زكرياء، عن أبي إسحاق، عن البراء، قال لما أحصر النبي صلى الله عليه وسلم عند البيت صالحه أهل مكة على أن يدخلها فيقيم بها ثلاثا ولا يدخلها إلا بجلبان السلاح السيف وقرابه ‏.‏ ولا يخرج بأحد معه من أهلها ولا يمنع أحدا يمكث بها ممن كان معه ‏.‏ قال لعلي ‏"‏ اكتب الشرط بيننا بسم الله الرحمن الرحيم هذا ما قاضى عليه محمد رسول الله ‏"‏ ‏.‏ فقال له المشركون لو نعلم أنك رسول الله تابعناك ولكن اكتب محمد بن عبد الله ‏.‏ فأمر عليا أن يمحاها فقال علي لا والله لا أمحاها ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أرني مكانها ‏"‏ ‏.‏ فأراه مكانها فمحاها وكتب ‏"‏ ابن عبد الله ‏"‏ ‏.‏ فأقام بها ثلاثة أيام فلما أن كان يوم الثالث قالوا لعلي هذا آخر يوم من شرط صاحبك فأمره فليخرج ‏.‏ فأخبره بذلك فقال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ فخرج ‏.‏ وقال ابن جناب في روايته مكان تابعناك بايعناك ‏.‏

বারা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বাইতুল্লাহ শারীফের নিকট বাধাগ্রস্ত হলেন, তখন মাক্কাবাসীরা এ মর্মে তাঁর সঙ্গে সন্ধি করলো যে, (পরবর্তী বছর) তিনি মাক্কায় প্রবেশ করবেন এবং সেখানে তিনদিন অবস্থান করবেন এবং কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া আর কিছু নিয়ে সেখানে প্রবেশ করবেন না এবং কোন মাক্কাবাসী কাউকে নিয়ে মাক্কাহ থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন না। পক্ষান্তরে তাঁর সাথীদের কেউ যদি সেখানে থেকে যেতে চায়, তবে তাকে বারণ করবেন না। তখন তিনি ‘আলী (রাঃ)–কে বললেনঃ আমাদের মধ্যকার শর্তগুলো এভাবে লিখে নাওঃ বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম ..... এ হচ্ছে সেই সন্ধি যা মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চূড়ান্ত করেছেন। তখন মুশরিকরা তাঁকে বলল, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রসূলই জানতাম তবে আপনার অনুসরণই করতাম, বরং লিখুন, মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ। তখন তিনি ‘আলী (রাঃ) –কে তা মুছে ফেলতে নির্দেশ দিলেন। ‘আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তা মুছতে পারব না। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে আমাকেই সে স্থান দেখিয়ে দাও। তিনি সে স্থান দেখিয়ে দিলেন আর তিনি তা (স্বহস্তে) মুছে ফেললেন এবং লিখালেন মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ। তারপর (পরের বছর তিনি সাহাবাদের নিয়ে তাশরীফ আনলেন) সেখানে তিনি তিনদিন অবস্থান করলেন। যখন তৃতীয়দিন সমাগত হলো, তখন তারা ‘আলী (রাঃ) –কে বললেন এটা হচ্ছে তোমার সাথীর শর্তের স্থিরীকৃত শেষ দিবস। তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলে দাও। তখন তিনি তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন। ইবনু জানাব (আরবি) স্থলে (আরবি) বলে বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৮০, ই.সে. ৪৪৮২)

বারা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বাইতুল্লাহ শারীফের নিকট বাধাগ্রস্ত হলেন, তখন মাক্কাবাসীরা এ মর্মে তাঁর সঙ্গে সন্ধি করলো যে, (পরবর্তী বছর) তিনি মাক্কায় প্রবেশ করবেন এবং সেখানে তিনদিন অবস্থান করবেন এবং কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া আর কিছু নিয়ে সেখানে প্রবেশ করবেন না এবং কোন মাক্কাবাসী কাউকে নিয়ে মাক্কাহ থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন না। পক্ষান্তরে তাঁর সাথীদের কেউ যদি সেখানে থেকে যেতে চায়, তবে তাকে বারণ করবেন না। তখন তিনি ‘আলী (রাঃ)–কে বললেনঃ আমাদের মধ্যকার শর্তগুলো এভাবে লিখে নাওঃ বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম ..... এ হচ্ছে সেই সন্ধি যা মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চূড়ান্ত করেছেন। তখন মুশরিকরা তাঁকে বলল, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রসূলই জানতাম তবে আপনার অনুসরণই করতাম, বরং লিখুন, মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ। তখন তিনি ‘আলী (রাঃ) –কে তা মুছে ফেলতে নির্দেশ দিলেন। ‘আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তা মুছতে পারব না। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে আমাকেই সে স্থান দেখিয়ে দাও। তিনি সে স্থান দেখিয়ে দিলেন আর তিনি তা (স্বহস্তে) মুছে ফেললেন এবং লিখালেন মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ। তারপর (পরের বছর তিনি সাহাবাদের নিয়ে তাশরীফ আনলেন) সেখানে তিনি তিনদিন অবস্থান করলেন। যখন তৃতীয়দিন সমাগত হলো, তখন তারা ‘আলী (রাঃ) –কে বললেন এটা হচ্ছে তোমার সাথীর শর্তের স্থিরীকৃত শেষ দিবস। তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলে দাও। তখন তিনি তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন। ইবনু জানাব (আরবি) স্থলে (আরবি) বলে বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৮০, ই.সে. ৪৪৮২)

حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، وأحمد بن جناب المصيصي، جميعا عن عيسى بن يونس، - واللفظ لإسحاق - أخبرنا عيسى بن يونس، أخبرنا زكرياء، عن أبي إسحاق، عن البراء، قال لما أحصر النبي صلى الله عليه وسلم عند البيت صالحه أهل مكة على أن يدخلها فيقيم بها ثلاثا ولا يدخلها إلا بجلبان السلاح السيف وقرابه ‏.‏ ولا يخرج بأحد معه من أهلها ولا يمنع أحدا يمكث بها ممن كان معه ‏.‏ قال لعلي ‏"‏ اكتب الشرط بيننا بسم الله الرحمن الرحيم هذا ما قاضى عليه محمد رسول الله ‏"‏ ‏.‏ فقال له المشركون لو نعلم أنك رسول الله تابعناك ولكن اكتب محمد بن عبد الله ‏.‏ فأمر عليا أن يمحاها فقال علي لا والله لا أمحاها ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أرني مكانها ‏"‏ ‏.‏ فأراه مكانها فمحاها وكتب ‏"‏ ابن عبد الله ‏"‏ ‏.‏ فأقام بها ثلاثة أيام فلما أن كان يوم الثالث قالوا لعلي هذا آخر يوم من شرط صاحبك فأمره فليخرج ‏.‏ فأخبره بذلك فقال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ فخرج ‏.‏ وقال ابن جناب في روايته مكان تابعناك بايعناك ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২৫

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عبد الله بن نمير، ح وحدثنا ابن نمير، - وتقاربا في اللفظ - حدثنا أبي، حدثنا عبد العزيز بن سياه، حدثنا حبيب بن أبي ثابت، عن أبي وائل، قال قام سهل بن حنيف يوم صفين فقال أيها الناس اتهموا أنفسكم لقد كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية ولو نرى قتالا لقاتلنا وذلك في الصلح الذي كان بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين المشركين فجاء عمر بن الخطاب فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ألسنا على حق وهم على باطل قال ‏"‏ بلى ‏"‏ ‏.‏ قال أليس قتلانا في الجنة وقتلاهم في النار قال ‏"‏ بلى ‏"‏ ‏.‏ قال ففيم نعطي الدنية في ديننا ونرجع ولما يحكم الله بيننا وبينهم فقال ‏"‏ يا ابن الخطاب إني رسول الله ولن يضيعني الله أبدا ‏"‏ ‏.‏ قال فانطلق عمر فلم يصبر متغيظا فأتى أبا بكر فقال يا أبا بكر ألسنا على حق وهم على باطل قال بلى ‏.‏ قال أليس قتلانا في الجنة وقتلاهم في النار قال بلى ‏.‏ قال فعلام نعطي الدنية في ديننا ونرجع ولما يحكم الله بيننا وبينهم فقال يا ابن الخطاب إنه رسول الله ولن يضيعه الله أبدا ‏.‏ قال فنزل القرآن على رسول الله صلى الله عليه وسلم بالفتح فأرسل إلى عمر فأقرأه إياه فقال يا رسول الله أوفتح هو قال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ فطابت نفسه ورجع ‏.‏

আবুল ওয়ায়িল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) সিফফীন দিবসে উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের অভিযুক্ত মনে করবে। আমরা হুদাইবিয়ার দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাথে ছিলাম। আমরা এটিকে যুদ্ধ মনে করলে সেদিন অবশ্যই আমরা যুদ্ধ করতাম। এটি হচ্ছে সেই সন্ধির কথা যা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুশরিকদের মধ্যে হয়েছিল। তখন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর নিকট এসে বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি সত্যের উপর নই, আর তারা বাতিলের উপর নয়”? তিনি বললেনঃ “হ্যাঁ, তাই।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী এবং তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়?” তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে কী কারণে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে লাঞ্ছনা মেনে নিয়ে ফিরে যাবো, অথচ এখনো এ ব্যাপারে তাদের ও আমাদের মধ্যে আল্লাহর কোন ফায়সালা আসেনি? তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে খাত্তাব পুত্র! নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহর রসূল। আর তিনি অবশ্যই কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না। রাবী বলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) চলে গেলেন। তিনি ক্রোধে ধৈর্যধারণ করতে পারছিলেন না। তাই তিনি আবূ বাকরের কাছে এলেন এবং তাঁকে বললেন, হে আবূ বাকর! আমরা কি হকের উপর এবং তারা কি বাতিলের উপর নয়? তিনি বললেন, অবশ্যই। আবার তিনি বললেন, “আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী এবং তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। তখন তিনি বললেন, “তাহলে কী কারণে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে লাঞ্ছনা মেনে নিয়ে ফিরে যাবো, অথচ এখনো এ ব্যাপারে আমাদের এবং তাদের মধ্যে আল্লাহ কোন ফায়সালা দেননি? তখন তিনি বললেন, হে খাত্তাব তনয়! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আল্লাহ্‌ কখনও তাঁর বিনাশ করবেন না। রাবী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর প্রতি বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে কুরআন অবতীর্ণ হলো। তখন তিনি ‘উমারকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁর সম্মুখে তা পাঠ করলে তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! এ কি বিজয়?” তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তাঁর অন্তর শান্ত হলো এবং তিনি ফিরে গেলেন। (ই.ফা. ৪৪৮২, ই.সে. ৪৪৮৪)

আবুল ওয়ায়িল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) সিফফীন দিবসে উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের অভিযুক্ত মনে করবে। আমরা হুদাইবিয়ার দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাথে ছিলাম। আমরা এটিকে যুদ্ধ মনে করলে সেদিন অবশ্যই আমরা যুদ্ধ করতাম। এটি হচ্ছে সেই সন্ধির কথা যা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুশরিকদের মধ্যে হয়েছিল। তখন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর নিকট এসে বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি সত্যের উপর নই, আর তারা বাতিলের উপর নয়”? তিনি বললেনঃ “হ্যাঁ, তাই।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী এবং তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়?” তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে কী কারণে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে লাঞ্ছনা মেনে নিয়ে ফিরে যাবো, অথচ এখনো এ ব্যাপারে তাদের ও আমাদের মধ্যে আল্লাহর কোন ফায়সালা আসেনি? তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে খাত্তাব পুত্র! নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহর রসূল। আর তিনি অবশ্যই কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না। রাবী বলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) চলে গেলেন। তিনি ক্রোধে ধৈর্যধারণ করতে পারছিলেন না। তাই তিনি আবূ বাকরের কাছে এলেন এবং তাঁকে বললেন, হে আবূ বাকর! আমরা কি হকের উপর এবং তারা কি বাতিলের উপর নয়? তিনি বললেন, অবশ্যই। আবার তিনি বললেন, “আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী এবং তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। তখন তিনি বললেন, “তাহলে কী কারণে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে লাঞ্ছনা মেনে নিয়ে ফিরে যাবো, অথচ এখনো এ ব্যাপারে আমাদের এবং তাদের মধ্যে আল্লাহ কোন ফায়সালা দেননি? তখন তিনি বললেন, হে খাত্তাব তনয়! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আল্লাহ্‌ কখনও তাঁর বিনাশ করবেন না। রাবী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর প্রতি বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে কুরআন অবতীর্ণ হলো। তখন তিনি ‘উমারকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁর সম্মুখে তা পাঠ করলে তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! এ কি বিজয়?” তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তাঁর অন্তর শান্ত হলো এবং তিনি ফিরে গেলেন। (ই.ফা. ৪৪৮২, ই.সে. ৪৪৮৪)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عبد الله بن نمير، ح وحدثنا ابن نمير، - وتقاربا في اللفظ - حدثنا أبي، حدثنا عبد العزيز بن سياه، حدثنا حبيب بن أبي ثابت، عن أبي وائل، قال قام سهل بن حنيف يوم صفين فقال أيها الناس اتهموا أنفسكم لقد كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية ولو نرى قتالا لقاتلنا وذلك في الصلح الذي كان بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين المشركين فجاء عمر بن الخطاب فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ألسنا على حق وهم على باطل قال ‏"‏ بلى ‏"‏ ‏.‏ قال أليس قتلانا في الجنة وقتلاهم في النار قال ‏"‏ بلى ‏"‏ ‏.‏ قال ففيم نعطي الدنية في ديننا ونرجع ولما يحكم الله بيننا وبينهم فقال ‏"‏ يا ابن الخطاب إني رسول الله ولن يضيعني الله أبدا ‏"‏ ‏.‏ قال فانطلق عمر فلم يصبر متغيظا فأتى أبا بكر فقال يا أبا بكر ألسنا على حق وهم على باطل قال بلى ‏.‏ قال أليس قتلانا في الجنة وقتلاهم في النار قال بلى ‏.‏ قال فعلام نعطي الدنية في ديننا ونرجع ولما يحكم الله بيننا وبينهم فقال يا ابن الخطاب إنه رسول الله ولن يضيعه الله أبدا ‏.‏ قال فنزل القرآن على رسول الله صلى الله عليه وسلم بالفتح فأرسل إلى عمر فأقرأه إياه فقال يا رسول الله أوفتح هو قال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ فطابت نفسه ورجع ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২১

حدثني عبيد الله بن معاذ العنبري، حدثنا أبي، حدثنا شعبة، عن أبي إسحاق، قال سمعت البراء بن عازب، يقول كتب علي بن أبي طالب الصلح بين النبي صلى الله عليه وسلم وبين المشركين يوم الحديبية فكتب ‏"‏ هذا ما كاتب عليه محمد رسول الله‏"‏ ‏.‏ فقالوا لا تكتب رسول الله فلو نعلم أنك رسول الله لم نقاتلك ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم لعلي ‏"‏ امحه ‏"‏ ‏.‏ فقال ما أنا بالذي أمحاه ‏.‏ فمحاه النبي صلى الله عليه وسلم بيده قال وكان فيما اشترطوا أن يدخلوا مكة فيقيموا بها ثلاثا ولا يدخلها بسلاح إلا جلبان السلاح ‏.‏ قلت لأبي إسحاق وما جلبان السلاح قال القراب وما فيه ‏.‏

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘হুদাইবিয়াহ দিবসে’ ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুশরিকদের মধ্যে সন্ধিপত্র লিপিবদ্ধ করলেন, “এ সন্ধিটি লিখিয়েছেন মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তখন তারা বলল, ‘রসূলুল্লাহ’ কথাটি লেখবেন না। যদি আমরা বিশ্বাস করতাম যে, আপনি আল্লাহর রসূল, তবে তো আপনার সাথে আমরা যুদ্ধ করতাম না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আলী (রাঃ)–কে বললেন, এ অংশটি কেটে দাও। তখন ‘আলী বললেন, আমি তা কেটে দেয়ার লোক নই। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–ই নিজ হাতে তা কেটে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধির একটি শর্ত এই ছিল যে, তারা মাক্কায় প্রবেশ করে তিন দিন অবস্থান করতে পারবে এবং তখন তারা কোন অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারবে না। কিন্তু কোষবদ্ধ তলোয়ার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। আমি আবূ ইসহাককে জিজ্ঞেস করলাম, (আরবি) এর অর্থ কী? তখন তিনি বলেন, এর অর্থ খাপ এবং এর মধ্যে যা থাকে। (ই.ফা. ৪৪৭৮, ই.সে. ৪৪৮০)

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘হুদাইবিয়াহ দিবসে’ ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুশরিকদের মধ্যে সন্ধিপত্র লিপিবদ্ধ করলেন, “এ সন্ধিটি লিখিয়েছেন মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তখন তারা বলল, ‘রসূলুল্লাহ’ কথাটি লেখবেন না। যদি আমরা বিশ্বাস করতাম যে, আপনি আল্লাহর রসূল, তবে তো আপনার সাথে আমরা যুদ্ধ করতাম না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আলী (রাঃ)–কে বললেন, এ অংশটি কেটে দাও। তখন ‘আলী বললেন, আমি তা কেটে দেয়ার লোক নই। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–ই নিজ হাতে তা কেটে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধির একটি শর্ত এই ছিল যে, তারা মাক্কায় প্রবেশ করে তিন দিন অবস্থান করতে পারবে এবং তখন তারা কোন অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারবে না। কিন্তু কোষবদ্ধ তলোয়ার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। আমি আবূ ইসহাককে জিজ্ঞেস করলাম, (আরবি) এর অর্থ কী? তখন তিনি বলেন, এর অর্থ খাপ এবং এর মধ্যে যা থাকে। (ই.ফা. ৪৪৭৮, ই.সে. ৪৪৮০)

حدثني عبيد الله بن معاذ العنبري، حدثنا أبي، حدثنا شعبة، عن أبي إسحاق، قال سمعت البراء بن عازب، يقول كتب علي بن أبي طالب الصلح بين النبي صلى الله عليه وسلم وبين المشركين يوم الحديبية فكتب ‏"‏ هذا ما كاتب عليه محمد رسول الله‏"‏ ‏.‏ فقالوا لا تكتب رسول الله فلو نعلم أنك رسول الله لم نقاتلك ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم لعلي ‏"‏ امحه ‏"‏ ‏.‏ فقال ما أنا بالذي أمحاه ‏.‏ فمحاه النبي صلى الله عليه وسلم بيده قال وكان فيما اشترطوا أن يدخلوا مكة فيقيموا بها ثلاثا ولا يدخلها بسلاح إلا جلبان السلاح ‏.‏ قلت لأبي إسحاق وما جلبان السلاح قال القراب وما فيه ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২৮

وحدثني إبراهيم بن سعيد الجوهري، حدثنا أبو أسامة، عن مالك بن مغول، عن أبي حصين، عن أبي وائل، قال سمعت سهل بن حنيف، بصفين يقول اتهموا رأيكم على دينكم فلقد رأيتني يوم أبي جندل ولو أستطيع أن أرد أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم - ما فتحنا منه في خصم إلا انفجر علينا منه خصم ‏.‏

আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-কে সিফ্‌ফীনে বলতে শুনেছি, “তোমরা তোমাদের নিজেদের মতকে তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত মনে করবে। কারণ আমি আবূ জান্দালের দিনটি প্রত্যক্ষ করেছি। যদি আমার সেদিন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সামর্থ্য থাকত (তবে তাই করতাম, এখন ব্যপার এত সঙ্গীন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে,) আমরা এক দিকের ছিদ্র বন্ধ করলে ওপর দিকের ছিদ্র খুলে যায়। (ই.ফা. ৪৪৮৫, ই.সে. ৪৪৮৭)

আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-কে সিফ্‌ফীনে বলতে শুনেছি, “তোমরা তোমাদের নিজেদের মতকে তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত মনে করবে। কারণ আমি আবূ জান্দালের দিনটি প্রত্যক্ষ করেছি। যদি আমার সেদিন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সামর্থ্য থাকত (তবে তাই করতাম, এখন ব্যপার এত সঙ্গীন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে,) আমরা এক দিকের ছিদ্র বন্ধ করলে ওপর দিকের ছিদ্র খুলে যায়। (ই.ফা. ৪৪৮৫, ই.সে. ৪৪৮৭)

وحدثني إبراهيم بن سعيد الجوهري، حدثنا أبو أسامة، عن مالك بن مغول، عن أبي حصين، عن أبي وائل، قال سمعت سهل بن حنيف، بصفين يقول اتهموا رأيكم على دينكم فلقد رأيتني يوم أبي جندل ولو أستطيع أن أرد أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم - ما فتحنا منه في خصم إلا انفجر علينا منه خصم ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২৯

وحدثنا نصر بن علي الجهضمي، حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا سعيد بن أبي، عروبة عن قتادة، أن أنس بن مالك، حدثهم قال لما نزلت ‏{‏ إنا فتحنا لك فتحا مبينا * ليغفر لك الله‏}‏ إلى قوله ‏{‏ فوزا عظيما‏}‏ مرجعه من الحديبية وهم يخالطهم الحزن والكآبة وقد نحر الهدى بالحديبية فقال ‏"‏ لقد أنزلت على آية هي أحب إلى من الدنيا جميعا ‏"‏ ‏.‏

কাতাদাহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) তাঁদের বলেছেন, হুদাইবিয়াহ্‌ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ “নিশ্চয় আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়, যেন আল্লাহ্‌ তোমার ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেন ..... মহা সাফল্য” পর্যন্ত (সূরা ফাতহ্‌ ৪৮ : ১-৪), তখন তাঁদের সব দুঃখ বেদনা ক্ষোভে পূর্ণ ছিল। আর হুদাইবিয়াতেই (কুরবানীর) পশুগুলো কুরবানী করা হয়েছিল। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার প্রতি এমন আয়াত নাযিল হয়েছে, যা সমগ্র দুনিয়া থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয়। (ই.ফা. ৪৪৮৬, ই.সে. ৪৪৮৮)

কাতাদাহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) তাঁদের বলেছেন, হুদাইবিয়াহ্‌ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ “নিশ্চয় আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়, যেন আল্লাহ্‌ তোমার ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেন ..... মহা সাফল্য” পর্যন্ত (সূরা ফাতহ্‌ ৪৮ : ১-৪), তখন তাঁদের সব দুঃখ বেদনা ক্ষোভে পূর্ণ ছিল। আর হুদাইবিয়াতেই (কুরবানীর) পশুগুলো কুরবানী করা হয়েছিল। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার প্রতি এমন আয়াত নাযিল হয়েছে, যা সমগ্র দুনিয়া থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয়। (ই.ফা. ৪৪৮৬, ই.সে. ৪৪৮৮)

وحدثنا نصر بن علي الجهضمي، حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا سعيد بن أبي، عروبة عن قتادة، أن أنس بن مالك، حدثهم قال لما نزلت ‏{‏ إنا فتحنا لك فتحا مبينا * ليغفر لك الله‏}‏ إلى قوله ‏{‏ فوزا عظيما‏}‏ مرجعه من الحديبية وهم يخالطهم الحزن والكآبة وقد نحر الهدى بالحديبية فقال ‏"‏ لقد أنزلت على آية هي أحب إلى من الدنيا جميعا ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২৭

وحدثناه عثمان بن أبي شيبة، وإسحاق، جميعا عن جرير، ح وحدثني أبو سعيد، الأشج حدثنا وكيع، كلاهما عن الأعمش، بهذا الإسناد ‏.‏ وفي حديثهما إلى أمر يفظعنا.‏

আ’মাশ (রহঃ) হতে উক্ত সানাদ থেকে বর্নিতঃ

তবে তাদের হাদীসে (আরবী) (আমাদের ঘাবড়িয়ে দেয়) উল্লেখ রয়েছে। (ই.ফা. ৪৪৮৪, ই.সে. ৪৪৮৬)

আ’মাশ (রহঃ) হতে উক্ত সানাদ থেকে বর্নিতঃ

তবে তাদের হাদীসে (আরবী) (আমাদের ঘাবড়িয়ে দেয়) উল্লেখ রয়েছে। (ই.ফা. ৪৪৮৪, ই.সে. ৪৪৮৬)

وحدثناه عثمان بن أبي شيبة، وإسحاق، جميعا عن جرير، ح وحدثني أبو سعيد، الأشج حدثنا وكيع، كلاهما عن الأعمش، بهذا الإسناد ‏.‏ وفي حديثهما إلى أمر يفظعنا.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫৩০

وحدثنا عاصم بن النضر التيمي، حدثنا معتمر، قال سمعت أبي، حدثنا قتادة، قال سمعت أنس بن مالك، ح وحدثنا ابن المثنى، حدثنا أبو داود، حدثنا همام، ح وحدثنا عبد بن حميد، حدثنا يونس بن محمد، حدثنا شيبان، جميعا عن قتادة، عن أنس، نحو حديث ابن أبي عروبة ‏.‏

ইবনু মুসান্না, আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু আরূবাহ্ (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ৪৪৮৭, ই.সে. ৪৪৮৯)

ইবনু মুসান্না, আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু আরূবাহ্ (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ৪৪৮৭, ই.সে. ৪৪৮৯)

وحدثنا عاصم بن النضر التيمي، حدثنا معتمر، قال سمعت أبي، حدثنا قتادة، قال سمعت أنس بن مالك، ح وحدثنا ابن المثنى، حدثنا أبو داود، حدثنا همام، ح وحدثنا عبد بن حميد، حدثنا يونس بن محمد، حدثنا شيبان، جميعا عن قتادة، عن أنس، نحو حديث ابن أبي عروبة ‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00