সহিহ মুসলিম > বদরের যুদ্ধ

সহিহ মুসলিম ৪৫১৩

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عفان، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن أنس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم شاور حين بلغه إقبال أبي سفيان قال فتكلم أبو بكر فأعرض عنه ثم تكلم عمر فأعرض عنه فقام سعد بن عبادة فقال إيانا تريد يا رسول الله والذي نفسي بيده لو أمرتنا أن نخيضها البحر لأخضناها ولو أمرتنا أن نضرب أكبادها إلى برك الغماد لفعلنا - قال - فندب رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس فانطلقوا حتى نزلوا بدرا ووردت عليهم روايا قريش وفيهم غلام أسود لبني الحجاج فأخذوه فكان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يسألونه عن أبي سفيان وأصحابه ‏.‏ فيقول ما لي علم بأبي سفيان ولكن هذا أبو جهل وعتبة وشيبة وأمية بن خلف ‏.‏ فإذا قال ذلك ضربوه فقال نعم أنا أخبركم هذا أبو سفيان ‏.‏ فإذا تركوه فسألوه فقال ما لي بأبي سفيان علم ولكن هذا أبو جهل وعتبة وأمية بن خلف في الناس ‏.‏ فإذا قال هذا أيضا ضربوه ورسول الله صلى الله عليه وسلم قائم يصلي فلما رأى ذلك انصرف قال ‏"‏ والذي نفسي بيده لتضربوه إذا صدقكم وتتركوه إذا كذبكم ‏"‏ ‏.‏ قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هذا مصرع فلان ‏"‏ ‏.‏ قال ويضع يده على الأرض ها هنا وها هنا قال فما ماط أحدهم عن موضع يد رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কাছে যখন আবূ সুফইয়ানের (মাদীনায়) অগ্রাভিযানের সংবাদ পৌঁছল তখন তিনি সাহাবীদের সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করলেন। আবূ বাকর (রাঃ) এ ব্যাপারে কথা বললেন, কিন্তু তিনি তাঁর কথার উত্তর দিলেন না। এরপর ‘উমার (রাঃ) কথা বললেন। তিনি তার কথারও কোন উত্তর দিলেন না। পরিশেষে সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) দণ্ডায়মান হলেন। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি আমাদের জবাব আশা করেন? সে আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন, যদি আপনি আমাদেরকে আমাদের ঘোড়া নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেন, তবে নিশ্চয়ই আমরা সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ব। আর যদি আপনি আমাদেরকে নির্দেশ দেন, সওয়ারী হাঁকিয়ে ‘বারকুল গামাদ’ পর্যন্ত পৌঁছার জন্য তবে নিশ্চয়ই আমরা তাই করবো। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদেরকে আহ্বান করলেন। তখন সকলেই রওয়ানা হলেন এবং বাদর নামক স্থানে উপনীত হলেন। আর সাহাবীগণের সামনে সেখানে কুরায়শের সাথীগণও উপনীত হল। তাদের মধ্যে বানী হাজ্জাজের একজন কৃষ্ণকায় দাস ছিল। সাহাবীগণ তাকে পাকড়াও করলেন। তারপর তাকে আবূ সুফইয়ান এবং তার সাথীদের সম্পর্কে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তখন সে বলতে লাগলো, আবূ সুফইয়ান সম্পর্কে আমার কোন কিছু জানা নেই। তবে আবূ জাহল, ‘উতবাহ, শাইবাহ এবং উমাইয়াহ ইবনু খালাফ তো-উপস্থিত আছে। যখন সে এরূপ বলল তখন তাঁরা তাকে প্রহার করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় সে বলল, হ্যাঁ, আমি আবূ সুফইয়ান সম্পর্কে খবর দিচ্ছি। তখন তাঁরা তাকে ছেড়ে দিলেন। এরপর যখন তারা পুনরায় আবূ সুফইয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন, তখন সে বলল, আবূ সুফইয়ান জনগণের মাঝে উপস্থিত আছেন। যখন সে পুনরায় এ একই কথা বলল, তখন তাঁরা আবার তাকে প্রহার করতে লাগলেন। সে সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে দণ্ডায়মান ছিলেন। অতএব যখন তিনি এ অবস্থা দেখলেন, তখন সলাত সমাপ্ত করার পর বললেন, সে আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার জান, যখন সে তোমাদের কাছে সত্য কথা বলে তখন তোমরা তাকে প্রহার করো, আর যখন সে মিথ্যে কথা বলে তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দাও। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভূমির উপর স্বীয় হাত রেখে বললেন, এ স্থান অমুক বিধর্মীয় ধরাশায়ী হওয়ার স্থান বা মৃত্যুস্থল। বর্ণনাকারী বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে স্থানে যে বিধর্মীর নাম নিয়ে হাত রেখেছিলেন, সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে, এর সামান্যও ব্যতিক্রম হয়নি। (ই.ফা. ৪৪৭০, ই.সে. ৪৪৭২)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কাছে যখন আবূ সুফইয়ানের (মাদীনায়) অগ্রাভিযানের সংবাদ পৌঁছল তখন তিনি সাহাবীদের সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করলেন। আবূ বাকর (রাঃ) এ ব্যাপারে কথা বললেন, কিন্তু তিনি তাঁর কথার উত্তর দিলেন না। এরপর ‘উমার (রাঃ) কথা বললেন। তিনি তার কথারও কোন উত্তর দিলেন না। পরিশেষে সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) দণ্ডায়মান হলেন। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি আমাদের জবাব আশা করেন? সে আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন, যদি আপনি আমাদেরকে আমাদের ঘোড়া নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেন, তবে নিশ্চয়ই আমরা সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ব। আর যদি আপনি আমাদেরকে নির্দেশ দেন, সওয়ারী হাঁকিয়ে ‘বারকুল গামাদ’ পর্যন্ত পৌঁছার জন্য তবে নিশ্চয়ই আমরা তাই করবো। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদেরকে আহ্বান করলেন। তখন সকলেই রওয়ানা হলেন এবং বাদর নামক স্থানে উপনীত হলেন। আর সাহাবীগণের সামনে সেখানে কুরায়শের সাথীগণও উপনীত হল। তাদের মধ্যে বানী হাজ্জাজের একজন কৃষ্ণকায় দাস ছিল। সাহাবীগণ তাকে পাকড়াও করলেন। তারপর তাকে আবূ সুফইয়ান এবং তার সাথীদের সম্পর্কে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তখন সে বলতে লাগলো, আবূ সুফইয়ান সম্পর্কে আমার কোন কিছু জানা নেই। তবে আবূ জাহল, ‘উতবাহ, শাইবাহ এবং উমাইয়াহ ইবনু খালাফ তো-উপস্থিত আছে। যখন সে এরূপ বলল তখন তাঁরা তাকে প্রহার করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় সে বলল, হ্যাঁ, আমি আবূ সুফইয়ান সম্পর্কে খবর দিচ্ছি। তখন তাঁরা তাকে ছেড়ে দিলেন। এরপর যখন তারা পুনরায় আবূ সুফইয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন, তখন সে বলল, আবূ সুফইয়ান জনগণের মাঝে উপস্থিত আছেন। যখন সে পুনরায় এ একই কথা বলল, তখন তাঁরা আবার তাকে প্রহার করতে লাগলেন। সে সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে দণ্ডায়মান ছিলেন। অতএব যখন তিনি এ অবস্থা দেখলেন, তখন সলাত সমাপ্ত করার পর বললেন, সে আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার জান, যখন সে তোমাদের কাছে সত্য কথা বলে তখন তোমরা তাকে প্রহার করো, আর যখন সে মিথ্যে কথা বলে তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দাও। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভূমির উপর স্বীয় হাত রেখে বললেন, এ স্থান অমুক বিধর্মীয় ধরাশায়ী হওয়ার স্থান বা মৃত্যুস্থল। বর্ণনাকারী বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে স্থানে যে বিধর্মীর নাম নিয়ে হাত রেখেছিলেন, সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে, এর সামান্যও ব্যতিক্রম হয়নি। (ই.ফা. ৪৪৭০, ই.সে. ৪৪৭২)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عفان، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن أنس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم شاور حين بلغه إقبال أبي سفيان قال فتكلم أبو بكر فأعرض عنه ثم تكلم عمر فأعرض عنه فقام سعد بن عبادة فقال إيانا تريد يا رسول الله والذي نفسي بيده لو أمرتنا أن نخيضها البحر لأخضناها ولو أمرتنا أن نضرب أكبادها إلى برك الغماد لفعلنا - قال - فندب رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس فانطلقوا حتى نزلوا بدرا ووردت عليهم روايا قريش وفيهم غلام أسود لبني الحجاج فأخذوه فكان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يسألونه عن أبي سفيان وأصحابه ‏.‏ فيقول ما لي علم بأبي سفيان ولكن هذا أبو جهل وعتبة وشيبة وأمية بن خلف ‏.‏ فإذا قال ذلك ضربوه فقال نعم أنا أخبركم هذا أبو سفيان ‏.‏ فإذا تركوه فسألوه فقال ما لي بأبي سفيان علم ولكن هذا أبو جهل وعتبة وأمية بن خلف في الناس ‏.‏ فإذا قال هذا أيضا ضربوه ورسول الله صلى الله عليه وسلم قائم يصلي فلما رأى ذلك انصرف قال ‏"‏ والذي نفسي بيده لتضربوه إذا صدقكم وتتركوه إذا كذبكم ‏"‏ ‏.‏ قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هذا مصرع فلان ‏"‏ ‏.‏ قال ويضع يده على الأرض ها هنا وها هنا قال فما ماط أحدهم عن موضع يد رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏


সহিহ মুসলিম > মাক্কাহ বিজয়

সহিহ মুসলিম ৪৫১৬

حدثني عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، حدثنا يحيى بن حسان، حدثنا حماد، بن سلمة أخبرنا ثابت، عن عبد الله بن رباح، قال وفدنا إلى معاوية بن أبي سفيان وفينا أبو هريرة فكان كل رجل منا يصنع طعاما يوما لأصحابه فكانت نوبتي فقلت يا أبا هريرة اليوم نوبتي ‏.‏ فجاءوا إلى المنزل ولم يدرك طعامنا فقلت يا أبا هريرة لو حدثتنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يدرك طعامنا فقال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفتح فجعل خالد بن الوليد على المجنبة اليمنى وجعل الزبير على المجنبة اليسرى وجعل أبا عبيدة على البياذقة وبطن الوادي فقال ‏"‏ يا أبا هريرة ادع لي الأنصار ‏"‏ ‏.‏ فدعوتهم فجاءوا يهرولون فقال ‏"‏ يا معشر الأنصار هل ترون أوباش قريش ‏"‏ ‏.‏ قالوا نعم ‏.‏ قال ‏"‏ انظروا إذا لقيتموهم غدا أن تحصدوهم حصدا ‏"‏ ‏.‏ وأخفى بيده ووضع يمينه على شماله وقال ‏"‏ موعدكم الصفا ‏"‏ ‏.‏ قال فما أشرف يومئذ لهم أحد إلا أناموه - قال - وصعد رسول الله صلى الله عليه وسلم الصفا وجاءت الأنصار فأطافوا بالصفا فجاء أبو سفيان فقال يا رسول الله أبيدت خضراء قريش لا قريش بعد اليوم ‏.‏ قال أبو سفيان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من دخل دار أبي سفيان فهو آمن ومن ألقى السلاح فهو آمن ومن أغلق بابه فهو آمن ‏"‏ ‏.‏ فقالت الأنصار أما الرجل فقد أخذته رأفة بعشيرته ورغبة في قريته ‏.‏ ونزل الوحى على رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ قلتم أما الرجل فقد أخذته رأفة بعشيرته ورغبة في قريته ‏.‏ ألا فما اسمي إذا - ثلاث مرات - أنا محمد عبد الله ورسوله هاجرت إلى الله وإليكم فالمحيا محياكم والممات مماتكم ‏"‏ ‏.‏ قالوا والله ما قلنا إلا ضنا بالله ورسوله ‏.‏ قال ‏"‏ فإن الله ورسوله يصدقانكم ويعذرانكم ‏"‏ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা ভ্রমণ করে মু’আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাঃ)–এর নিকট গেলাম। আমাদের মধ্যে তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) –ও ছিলেন। প্রত্যেকেই একদিন তাঁর সাথীর জন্য খানা তৈরী করতেন। একদিন আমার পালা আসল। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আজতো আমার পালা। অতএব সকলেই আমার বাসস্থানে এলেন, তখনও খানা রান্না করা শেষ হয়নি। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আপনি যদি আমাদেরকে খানা তৈরীর পূর্ব পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কোন হাদীস বর্ণনা করতেন! (তবে ভাল হতো) অতএব তিনি বললেন, আমরা মাক্কাহ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে ছিলাম। তখন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)–কে ডানদিকের বাহিনীর এবং যুবায়র (রাঃ)–কে বাম দিকের বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করলেন। আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ)–কে পদাতিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করলেন প্রান্তর অতিক্রম করার জন্য। এরপর তিনি বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আনসারদেরকে আমার কাছে আসার জন্য আহ্বান কর। অতএব আমি তাদেরকে আহ্বান করলাম। এরপর তাঁরা দ্রুত আসলেন। তখন তিনি বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কুরায়শদের বিভিন্ন গোত্রের বিরাট জমায়েত কি দেখতে পাচ্ছ, তারা সবাই বলল হ্যাঁ। অতএব তিনি বললেন, আগামীকাল যখন তোমরা (যুদ্ধক্ষেত্রে) তাদের মুকাবিলা করবে তখন তাদেরকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেবে। তারপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে ইঙ্গিতে বললেনঃ তাদেরকে সমূলে বিনষ্ট করে দেবে। তারপর বললেনঃ আমার সাথে তোমাদের একসাথে হওয়ার জায়গা সাফা পাহাড়। বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন যে কোন বিধর্মী আনসারদের লক্ষ্যস্থলে পড়েছে, তাকেই তারা নির্মূল করেছে। এরপরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তখন আনসারগণ তথায় উপনীত হয়ে সাফা পাহাড় ঘিরে ফেললো। ইত্যবসরে আবূ সুফইয়ান এলেন এবং বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! কুরায়শদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আজ থেকে আর কোন কুরায়শের অস্তিত্ব থাকবে না। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফইয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করবে সে নিরাপত্তা পাবে। যে অস্ত্র ফেলে দিবে সেও নিরাপদ এবং যে স্বীয় গৃহের দরজা বন্ধ করে রাখবে সেও নিরাপত্তা পাবে। তখন আনসারগণ বলাবলি করছিল যে, এ লোকটিকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর উপর ওয়াহী নাযিল হলো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরাই কি বলেছিলে যে, “এ লোকটিকে (মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে।” সাবধান! তোমরা কি জান আমার নাম কী? এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। আমি হলাম মুহাম্মাদ, আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল। আমি আল্লাহর নির্দেশেই তোমাদের কাছে হিজরত করেছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের জীবন ও মরণের সাথে সম্পৃক্ত। তখন তাঁরা বলল, আল্লাহর শপথ! আমরা এ কথা বলেছিলাম আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি দুর্বলতার কারণে। (যেন তিনি আমাদেরকে ছেড়ে না যান।) নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল তোমাদের সত্য বলে গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের ওজর কবুল করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৩, ই.সে. ৪৪৭৫)

‘আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা ভ্রমণ করে মু’আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাঃ)–এর নিকট গেলাম। আমাদের মধ্যে তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) –ও ছিলেন। প্রত্যেকেই একদিন তাঁর সাথীর জন্য খানা তৈরী করতেন। একদিন আমার পালা আসল। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আজতো আমার পালা। অতএব সকলেই আমার বাসস্থানে এলেন, তখনও খানা রান্না করা শেষ হয়নি। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আপনি যদি আমাদেরকে খানা তৈরীর পূর্ব পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কোন হাদীস বর্ণনা করতেন! (তবে ভাল হতো) অতএব তিনি বললেন, আমরা মাক্কাহ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে ছিলাম। তখন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)–কে ডানদিকের বাহিনীর এবং যুবায়র (রাঃ)–কে বাম দিকের বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করলেন। আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ)–কে পদাতিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করলেন প্রান্তর অতিক্রম করার জন্য। এরপর তিনি বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আনসারদেরকে আমার কাছে আসার জন্য আহ্বান কর। অতএব আমি তাদেরকে আহ্বান করলাম। এরপর তাঁরা দ্রুত আসলেন। তখন তিনি বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কুরায়শদের বিভিন্ন গোত্রের বিরাট জমায়েত কি দেখতে পাচ্ছ, তারা সবাই বলল হ্যাঁ। অতএব তিনি বললেন, আগামীকাল যখন তোমরা (যুদ্ধক্ষেত্রে) তাদের মুকাবিলা করবে তখন তাদেরকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেবে। তারপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে ইঙ্গিতে বললেনঃ তাদেরকে সমূলে বিনষ্ট করে দেবে। তারপর বললেনঃ আমার সাথে তোমাদের একসাথে হওয়ার জায়গা সাফা পাহাড়। বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন যে কোন বিধর্মী আনসারদের লক্ষ্যস্থলে পড়েছে, তাকেই তারা নির্মূল করেছে। এরপরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তখন আনসারগণ তথায় উপনীত হয়ে সাফা পাহাড় ঘিরে ফেললো। ইত্যবসরে আবূ সুফইয়ান এলেন এবং বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! কুরায়শদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আজ থেকে আর কোন কুরায়শের অস্তিত্ব থাকবে না। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফইয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করবে সে নিরাপত্তা পাবে। যে অস্ত্র ফেলে দিবে সেও নিরাপদ এবং যে স্বীয় গৃহের দরজা বন্ধ করে রাখবে সেও নিরাপত্তা পাবে। তখন আনসারগণ বলাবলি করছিল যে, এ লোকটিকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর উপর ওয়াহী নাযিল হলো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরাই কি বলেছিলে যে, “এ লোকটিকে (মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে।” সাবধান! তোমরা কি জান আমার নাম কী? এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। আমি হলাম মুহাম্মাদ, আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল। আমি আল্লাহর নির্দেশেই তোমাদের কাছে হিজরত করেছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের জীবন ও মরণের সাথে সম্পৃক্ত। তখন তাঁরা বলল, আল্লাহর শপথ! আমরা এ কথা বলেছিলাম আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি দুর্বলতার কারণে। (যেন তিনি আমাদেরকে ছেড়ে না যান।) নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল তোমাদের সত্য বলে গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের ওজর কবুল করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৩, ই.সে. ৪৪৭৫)

حدثني عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، حدثنا يحيى بن حسان، حدثنا حماد، بن سلمة أخبرنا ثابت، عن عبد الله بن رباح، قال وفدنا إلى معاوية بن أبي سفيان وفينا أبو هريرة فكان كل رجل منا يصنع طعاما يوما لأصحابه فكانت نوبتي فقلت يا أبا هريرة اليوم نوبتي ‏.‏ فجاءوا إلى المنزل ولم يدرك طعامنا فقلت يا أبا هريرة لو حدثتنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يدرك طعامنا فقال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفتح فجعل خالد بن الوليد على المجنبة اليمنى وجعل الزبير على المجنبة اليسرى وجعل أبا عبيدة على البياذقة وبطن الوادي فقال ‏"‏ يا أبا هريرة ادع لي الأنصار ‏"‏ ‏.‏ فدعوتهم فجاءوا يهرولون فقال ‏"‏ يا معشر الأنصار هل ترون أوباش قريش ‏"‏ ‏.‏ قالوا نعم ‏.‏ قال ‏"‏ انظروا إذا لقيتموهم غدا أن تحصدوهم حصدا ‏"‏ ‏.‏ وأخفى بيده ووضع يمينه على شماله وقال ‏"‏ موعدكم الصفا ‏"‏ ‏.‏ قال فما أشرف يومئذ لهم أحد إلا أناموه - قال - وصعد رسول الله صلى الله عليه وسلم الصفا وجاءت الأنصار فأطافوا بالصفا فجاء أبو سفيان فقال يا رسول الله أبيدت خضراء قريش لا قريش بعد اليوم ‏.‏ قال أبو سفيان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من دخل دار أبي سفيان فهو آمن ومن ألقى السلاح فهو آمن ومن أغلق بابه فهو آمن ‏"‏ ‏.‏ فقالت الأنصار أما الرجل فقد أخذته رأفة بعشيرته ورغبة في قريته ‏.‏ ونزل الوحى على رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ قلتم أما الرجل فقد أخذته رأفة بعشيرته ورغبة في قريته ‏.‏ ألا فما اسمي إذا - ثلاث مرات - أنا محمد عبد الله ورسوله هاجرت إلى الله وإليكم فالمحيا محياكم والممات مماتكم ‏"‏ ‏.‏ قالوا والله ما قلنا إلا ضنا بالله ورسوله ‏.‏ قال ‏"‏ فإن الله ورسوله يصدقانكم ويعذرانكم ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫১৪

حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا سليمان بن المغيرة، حدثنا ثابت البناني، عن عبد الله بن رباح، عن أبي هريرة، قال وفدت وفود إلى معاوية وذلك في رمضان فكان يصنع بعضنا لبعض الطعام فكان أبو هريرة مما يكثر أن يدعونا إلى رحله فقلت ألا أصنع طعاما فأدعوهم إلى رحلي فأمرت بطعام يصنع ثم لقيت أبا هريرة من العشي فقلت الدعوة عندي الليلة فقال سبقتني ‏.‏ قلت نعم ‏.‏ فدعوتهم فقال أبو هريرة ألا أعلمكم بحديث من حديثكم يا معشر الأنصار ثم ذكر فتح مكة فقال أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قدم مكة فبعث الزبير على إحدى المجنبتين وبعث خالدا على المجنبة الأخرى وبعث أبا عبيدة على الحسر فأخذوا بطن الوادي ورسول الله صلى الله عليه وسلم في كتيبة - قال - فنظر فرآني فقال ‏"‏ أبو هريرة ‏"‏ ‏.‏ قلت لبيك يا رسول الله ‏.‏ فقال ‏"‏ لا يأتيني إلا أنصاري ‏"‏ ‏.‏ زاد غير شيبان فقال ‏"‏ اهتف لي بالأنصار ‏"‏ ‏.‏ قال فأطافوا به ووبشت قريش أوباشا لها وأتباعا ‏.‏ فقالوا نقدم هؤلاء فإن كان لهم شىء كنا معهم ‏.‏ وإن أصيبوا أعطينا الذي سئلنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ترون إلى أوباش قريش وأتباعهم ‏"‏ ‏.‏ ثم قال بيديه إحداهما على الأخرى ثم قال ‏"‏ حتى توافوني بالصفا ‏"‏ ‏.‏ قال فانطلقنا فما شاء أحد منا أن يقتل أحدا إلا قتله وما أحد منهم يوجه إلينا شيئا - قال - فجاء أبو سفيان فقال يا رسول الله أبيحت خضراء قريش لا قريش بعد اليوم ‏.‏ ثم قال ‏"‏ من دخل دار أبي سفيان فهو آمن ‏"‏ ‏.‏ فقالت الأنصار بعضهم لبعض أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ورأفة بعشيرته ‏.‏ قال أبو هريرة وجاء الوحى وكان إذا جاء الوحى لا يخفى علينا فإذا جاء فليس أحد يرفع طرفه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ينقضي الوحى فلما انقضى الوحى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يا معشر الأنصار ‏"‏ ‏.‏ قالوا لبيك يا رسول الله قال ‏"‏ قلتم أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ‏"‏ ‏.‏ قالوا قد كان ذاك ‏.‏ قال ‏"‏ كلا إني عبد الله ورسوله هاجرت إلى الله وإليكم والمحيا محياكم والممات مماتكم ‏"‏ ‏.‏ فأقبلوا إليه يبكون ويقولون والله ما قلنا الذي قلنا إلا الضن بالله وبرسوله ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله ورسوله يصدقانكم ويعذرانكم ‏"‏ ‏.‏ قال فأقبل الناس إلى دار أبي سفيان وأغلق الناس أبوابهم - قال - وأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أقبل إلى الحجر فاستلمه ثم طاف بالبيت - قال - فأتى على صنم إلى جنب البيت كانوا يعبدونه - قال - وفي يد رسول الله صلى الله عليه وسلم قوس وهو آخذ بسية القوس فلما أتى على الصنم جعل يطعنه في عينه ويقول ‏"‏ جاء الحق وزهق الباطل ‏"‏ ‏.‏ فلما فرغ من طوافه أتى الصفا فعلا عليه حتى نظر إلى البيت ورفع يديه فجعل يحمد الله ويدعو بما شاء أن يدعو ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) বলেন, আমি একটি প্রতিনিধি দলের সাথে [যার মধ্যে আবূ হুরায়রা (রাঃ) –ও ছিলেন] রমাযান মাসে মু’আবিয়াহ (রাঃ) –এর কাছে গেলাম। তখন তাঁরা একে অন্যের জন্য খানা পাকাতেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) অধিকাংশ সময় আমাদেরকে তাঁর বাসস্থানে দা’ওয়াত করতেন। সুতরাং একদিন আমি তাঁকে বললাম, আমিও খানা তৈরী করবো এবং সকলকেই আমার বাসস্থানে দা’ওয়াত করবো। আমি খানা তৈরীর নির্দেশ দিলাম। এরপর আবূ হুরায়রা (রাঃ)–এর সঙ্গে আমি বিকালে দেখা করলাম এবং বললাম, আজ রাত আমার বাসায় আপনার দা’ওয়াত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আপনি আজ আমার পূর্বেই দা’ওয়াত দিয়ে দিলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি সকলকেই দা’ওয়াত করলাম। তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণনা করবো না? তারপর তিনি মাক্কাহ বিজয়ের ঘটনার বিবরণ দিতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কার দিকে অগ্রসর হলেন এবং পরিশেষে তিনি তথায় উপনীত হলেন। এরপর যুবায়রকে মাক্কার একদিকে এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে অপর দিকে প্রেরণ করলেন। আর আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) –কে সেসব লোকদের উপর নেতা বানিয়ে পাঠালেন যাদের কাছে লৌহ বর্ম ছিলনা। তাঁরা উপত্যকার ভিতরের পথ অবলম্বন করে চললেন। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন একটি ছোট সেনাদলের মধ্যে। তিনি তাকালেন এবং আমাকে দেখে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি উপস্থিত। এরপর তিনি বললেনঃ আমার নিকট আনসার ছাড়া আর কেউ যেন না আসে। শাইবান ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তারপর তিনি বললেনঃ আনসারদেরকে আহ্বান করো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আনসারগণ তাঁর চারপাশে জমায়েত হলেন। এদিকে কুরায়শগণও তাদের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং অনুগতদেরকে একত্রিত করলো। এরপর তারা বলল, আমরা তাদেরকে আগে প্রেরণ করব। যদি তাদের ভাগে কিছু জুটে, তবে আমরাও তো তাদের সঙ্গেই আছি। আর যদি তারা বিপদের সম্মুখীন হয় তবে তারা আমাদের কাছে যা চাইবে, তাই দিয়ে দেব। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা কি কুরায়শের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং তাদের অনুগতদেরকে দেখতে পাচ্ছ? এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একহাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করলেন, (মাক্কার পথে যারা তোমাদের বাধা দেয় তোমরা তাদের খতম করে দিবে।) এরপর বললেন, অবশেষে সাফা পাহাড়ে তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা অগ্রসর হতে লাগলাম। আমাদের মধ্য হতে কেউ যাকে হত্যা করতে চেয়েছে তাকে হত্যা করেছে। তাই তাদের মধ্য হতে কেউই আমাদের উপর আক্রমণ করতে সাহস পায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ সুফইয়ান এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আজ কুরায়শ সম্প্রদায়ের রক্ত হালাল করে দেয়া হয়েছে। আজকের পরে আর কোন কুরায়শের অস্তিত্ব থাকবে না। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফইয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। সুতরাং আনসারগণ একে অপরের সাথে বলাবলি করত লাগলো যে, লোকটিকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে) স্বদেশের অনুরাগ এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রেমে পেয়ে বসেছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, তখনই ওয়াহী অবতীর্ণ হলো। যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো তখন তা আমাদের নিকট গোপন থাকত না। ঐ সময় কারো সাধ্য হতো না যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দিকে চোখ তুলে দেখে যতক্ষণ না ওয়াহী শেষ হতো। এরপর যখন ওয়াহী শেষ হলো, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার কাছে হাজির। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি বলেছ যে, “লোকটিকে স্বদেশের অনুপ্রেরণায় পেয়ে বসেছে”। তখন তারা বললেন, এ রকম কিছু হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কখনও না। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর প্রেরিত রসূল। আমি আল্লাহর উদ্দেশে স্বদেশ ত্যাগ করে তোমাদের কাছে গিয়েছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের সাথে। তারা কাঁদতে কাঁদতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দিকে অগ্রসর হলেন এবং বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা যা বলেছিলাম, তা ছিল আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও দুর্বলতার কারণে। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল তোমাদের বক্তব্য বিশ্বাস করেন এবং তোমাদের ওজর গ্রহণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মাক্কার জনগণ আবূ সুফইয়ানের বাড়ীর দিকে চলে গেল (জীবন রক্ষার জন্যে) আর অন্যান্য মানুষ আপন ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে রইল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজর ‘আসওয়াদ’–এর নিকটবর্তী হয়ে তাকে চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ শারীফের তাওয়াফ করলেন। এরপর তিনি বাইতুল্লাহর কাছে থাকা একটি মূর্তির নিকটবর্তী হলেন, যাকে তারা উপাসনা করতো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাতে তখন একটি ধনুক ছিল, তিনি এর এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। যখন তিনি মূর্তিটির নিকটবর্তী হলেন তখন তিনি তা দ্বারা এর চোখে খুঁচাতে লাগলেন এবং বললেন, “সত্য আগমন করেছে এবং বাতিল (মিথ্যা) চলে গেছে।” এরপর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শেষে তিনি সাফা পাহাড়ের দিকে গেলেন। এরপর তাতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহর দিকে চেয়ে দেখলেন এবং দু’হাত উঁচু করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং তাঁর যা প্রার্থনা করার ছিল তাই প্রার্থনা করলেন। (ই.ফা. ৪৪৭১, ই.সে. ৪৪৭৩)

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) বলেন, আমি একটি প্রতিনিধি দলের সাথে [যার মধ্যে আবূ হুরায়রা (রাঃ) –ও ছিলেন] রমাযান মাসে মু’আবিয়াহ (রাঃ) –এর কাছে গেলাম। তখন তাঁরা একে অন্যের জন্য খানা পাকাতেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) অধিকাংশ সময় আমাদেরকে তাঁর বাসস্থানে দা’ওয়াত করতেন। সুতরাং একদিন আমি তাঁকে বললাম, আমিও খানা তৈরী করবো এবং সকলকেই আমার বাসস্থানে দা’ওয়াত করবো। আমি খানা তৈরীর নির্দেশ দিলাম। এরপর আবূ হুরায়রা (রাঃ)–এর সঙ্গে আমি বিকালে দেখা করলাম এবং বললাম, আজ রাত আমার বাসায় আপনার দা’ওয়াত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আপনি আজ আমার পূর্বেই দা’ওয়াত দিয়ে দিলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি সকলকেই দা’ওয়াত করলাম। তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণনা করবো না? তারপর তিনি মাক্কাহ বিজয়ের ঘটনার বিবরণ দিতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কার দিকে অগ্রসর হলেন এবং পরিশেষে তিনি তথায় উপনীত হলেন। এরপর যুবায়রকে মাক্কার একদিকে এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে অপর দিকে প্রেরণ করলেন। আর আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) –কে সেসব লোকদের উপর নেতা বানিয়ে পাঠালেন যাদের কাছে লৌহ বর্ম ছিলনা। তাঁরা উপত্যকার ভিতরের পথ অবলম্বন করে চললেন। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন একটি ছোট সেনাদলের মধ্যে। তিনি তাকালেন এবং আমাকে দেখে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি উপস্থিত। এরপর তিনি বললেনঃ আমার নিকট আনসার ছাড়া আর কেউ যেন না আসে। শাইবান ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তারপর তিনি বললেনঃ আনসারদেরকে আহ্বান করো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আনসারগণ তাঁর চারপাশে জমায়েত হলেন। এদিকে কুরায়শগণও তাদের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং অনুগতদেরকে একত্রিত করলো। এরপর তারা বলল, আমরা তাদেরকে আগে প্রেরণ করব। যদি তাদের ভাগে কিছু জুটে, তবে আমরাও তো তাদের সঙ্গেই আছি। আর যদি তারা বিপদের সম্মুখীন হয় তবে তারা আমাদের কাছে যা চাইবে, তাই দিয়ে দেব। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা কি কুরায়শের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং তাদের অনুগতদেরকে দেখতে পাচ্ছ? এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একহাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করলেন, (মাক্কার পথে যারা তোমাদের বাধা দেয় তোমরা তাদের খতম করে দিবে।) এরপর বললেন, অবশেষে সাফা পাহাড়ে তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা অগ্রসর হতে লাগলাম। আমাদের মধ্য হতে কেউ যাকে হত্যা করতে চেয়েছে তাকে হত্যা করেছে। তাই তাদের মধ্য হতে কেউই আমাদের উপর আক্রমণ করতে সাহস পায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ সুফইয়ান এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আজ কুরায়শ সম্প্রদায়ের রক্ত হালাল করে দেয়া হয়েছে। আজকের পরে আর কোন কুরায়শের অস্তিত্ব থাকবে না। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফইয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। সুতরাং আনসারগণ একে অপরের সাথে বলাবলি করত লাগলো যে, লোকটিকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে) স্বদেশের অনুরাগ এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রেমে পেয়ে বসেছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, তখনই ওয়াহী অবতীর্ণ হলো। যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো তখন তা আমাদের নিকট গোপন থাকত না। ঐ সময় কারো সাধ্য হতো না যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দিকে চোখ তুলে দেখে যতক্ষণ না ওয়াহী শেষ হতো। এরপর যখন ওয়াহী শেষ হলো, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার কাছে হাজির। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি বলেছ যে, “লোকটিকে স্বদেশের অনুপ্রেরণায় পেয়ে বসেছে”। তখন তারা বললেন, এ রকম কিছু হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কখনও না। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর প্রেরিত রসূল। আমি আল্লাহর উদ্দেশে স্বদেশ ত্যাগ করে তোমাদের কাছে গিয়েছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের সাথে। তারা কাঁদতে কাঁদতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দিকে অগ্রসর হলেন এবং বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা যা বলেছিলাম, তা ছিল আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও দুর্বলতার কারণে। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল তোমাদের বক্তব্য বিশ্বাস করেন এবং তোমাদের ওজর গ্রহণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মাক্কার জনগণ আবূ সুফইয়ানের বাড়ীর দিকে চলে গেল (জীবন রক্ষার জন্যে) আর অন্যান্য মানুষ আপন ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে রইল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজর ‘আসওয়াদ’–এর নিকটবর্তী হয়ে তাকে চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ শারীফের তাওয়াফ করলেন। এরপর তিনি বাইতুল্লাহর কাছে থাকা একটি মূর্তির নিকটবর্তী হলেন, যাকে তারা উপাসনা করতো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাতে তখন একটি ধনুক ছিল, তিনি এর এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। যখন তিনি মূর্তিটির নিকটবর্তী হলেন তখন তিনি তা দ্বারা এর চোখে খুঁচাতে লাগলেন এবং বললেন, “সত্য আগমন করেছে এবং বাতিল (মিথ্যা) চলে গেছে।” এরপর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শেষে তিনি সাফা পাহাড়ের দিকে গেলেন। এরপর তাতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহর দিকে চেয়ে দেখলেন এবং দু’হাত উঁচু করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং তাঁর যা প্রার্থনা করার ছিল তাই প্রার্থনা করলেন। (ই.ফা. ৪৪৭১, ই.সে. ৪৪৭৩)

حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا سليمان بن المغيرة، حدثنا ثابت البناني، عن عبد الله بن رباح، عن أبي هريرة، قال وفدت وفود إلى معاوية وذلك في رمضان فكان يصنع بعضنا لبعض الطعام فكان أبو هريرة مما يكثر أن يدعونا إلى رحله فقلت ألا أصنع طعاما فأدعوهم إلى رحلي فأمرت بطعام يصنع ثم لقيت أبا هريرة من العشي فقلت الدعوة عندي الليلة فقال سبقتني ‏.‏ قلت نعم ‏.‏ فدعوتهم فقال أبو هريرة ألا أعلمكم بحديث من حديثكم يا معشر الأنصار ثم ذكر فتح مكة فقال أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قدم مكة فبعث الزبير على إحدى المجنبتين وبعث خالدا على المجنبة الأخرى وبعث أبا عبيدة على الحسر فأخذوا بطن الوادي ورسول الله صلى الله عليه وسلم في كتيبة - قال - فنظر فرآني فقال ‏"‏ أبو هريرة ‏"‏ ‏.‏ قلت لبيك يا رسول الله ‏.‏ فقال ‏"‏ لا يأتيني إلا أنصاري ‏"‏ ‏.‏ زاد غير شيبان فقال ‏"‏ اهتف لي بالأنصار ‏"‏ ‏.‏ قال فأطافوا به ووبشت قريش أوباشا لها وأتباعا ‏.‏ فقالوا نقدم هؤلاء فإن كان لهم شىء كنا معهم ‏.‏ وإن أصيبوا أعطينا الذي سئلنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ترون إلى أوباش قريش وأتباعهم ‏"‏ ‏.‏ ثم قال بيديه إحداهما على الأخرى ثم قال ‏"‏ حتى توافوني بالصفا ‏"‏ ‏.‏ قال فانطلقنا فما شاء أحد منا أن يقتل أحدا إلا قتله وما أحد منهم يوجه إلينا شيئا - قال - فجاء أبو سفيان فقال يا رسول الله أبيحت خضراء قريش لا قريش بعد اليوم ‏.‏ ثم قال ‏"‏ من دخل دار أبي سفيان فهو آمن ‏"‏ ‏.‏ فقالت الأنصار بعضهم لبعض أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ورأفة بعشيرته ‏.‏ قال أبو هريرة وجاء الوحى وكان إذا جاء الوحى لا يخفى علينا فإذا جاء فليس أحد يرفع طرفه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ينقضي الوحى فلما انقضى الوحى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يا معشر الأنصار ‏"‏ ‏.‏ قالوا لبيك يا رسول الله قال ‏"‏ قلتم أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ‏"‏ ‏.‏ قالوا قد كان ذاك ‏.‏ قال ‏"‏ كلا إني عبد الله ورسوله هاجرت إلى الله وإليكم والمحيا محياكم والممات مماتكم ‏"‏ ‏.‏ فأقبلوا إليه يبكون ويقولون والله ما قلنا الذي قلنا إلا الضن بالله وبرسوله ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله ورسوله يصدقانكم ويعذرانكم ‏"‏ ‏.‏ قال فأقبل الناس إلى دار أبي سفيان وأغلق الناس أبوابهم - قال - وأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أقبل إلى الحجر فاستلمه ثم طاف بالبيت - قال - فأتى على صنم إلى جنب البيت كانوا يعبدونه - قال - وفي يد رسول الله صلى الله عليه وسلم قوس وهو آخذ بسية القوس فلما أتى على الصنم جعل يطعنه في عينه ويقول ‏"‏ جاء الحق وزهق الباطل ‏"‏ ‏.‏ فلما فرغ من طوافه أتى الصفا فعلا عليه حتى نظر إلى البيت ورفع يديه فجعل يحمد الله ويدعو بما شاء أن يدعو ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫১৫

وحدثنيه عبد الله بن هاشم، حدثنا بهز، حدثنا سليمان بن المغيرة، بهذا الإسناد وزاد في الحديث ثم قال بيديه إحداهما على الأخرى ‏"‏ احصدوهم حصدا ‏"‏ ‏.‏ وقال في الحديث قالوا قلنا ذاك يا رسول الله قال ‏"‏ فما اسمي إذا كلا إني عبد الله ورسوله ‏"‏ ‏.‏

সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ (রাঃ) থেকে উক্ত সানাদ থেকে বর্নিতঃ

তবে তার হাদীসে অতিরিক্ত এ কথা উল্লেখ রয়েছে যে, তারপর তিনি তার এক হাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করে বললেন, তোমরা তাদেরকে শেষ করে দাও। এতে আরো উল্লেখ রয়েছে যে, তখন তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা এ রকম কিছু বলেছি। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমার নামের কী আর থাকবে। সুতরাং এমনটি কখনো হবে না। আমিতো আল্লাহর বান্দা ও রসূল। (ই.ফা. ৪৪৭২, ই.সে. ৪৪৭৪)

সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ (রাঃ) থেকে উক্ত সানাদ থেকে বর্নিতঃ

তবে তার হাদীসে অতিরিক্ত এ কথা উল্লেখ রয়েছে যে, তারপর তিনি তার এক হাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করে বললেন, তোমরা তাদেরকে শেষ করে দাও। এতে আরো উল্লেখ রয়েছে যে, তখন তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা এ রকম কিছু বলেছি। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমার নামের কী আর থাকবে। সুতরাং এমনটি কখনো হবে না। আমিতো আল্লাহর বান্দা ও রসূল। (ই.ফা. ৪৪৭২, ই.সে. ৪৪৭৪)

وحدثنيه عبد الله بن هاشم، حدثنا بهز، حدثنا سليمان بن المغيرة، بهذا الإسناد وزاد في الحديث ثم قال بيديه إحداهما على الأخرى ‏"‏ احصدوهم حصدا ‏"‏ ‏.‏ وقال في الحديث قالوا قلنا ذاك يا رسول الله قال ‏"‏ فما اسمي إذا كلا إني عبد الله ورسوله ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম > কা’বার চারপাশ থেকে মূর্তিসমূহ দূরীকরণ

সহিহ মুসলিম ৪৫১৭

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وعمرو الناقد، وابن أبي عمر، - واللفظ لابن أبي شيبة - قالوا حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، عن أبي معمر، عن عبد الله، قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة وحول الكعبة ثلاثمائة وستون نصبا فجعل يطعنها بعود كان بيده ويقول ‏"‏ ‏{‏ جاء الحق وزهق الباطل إن الباطل كان زهوقا‏}‏ ‏{‏ جاء الحق وما يبدئ الباطل وما يعيد‏}‏ زاد ابن أبي عمر يوم الفتح ‏.‏

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাতে একটি ছড়ি (কাঠি) ছিল তিনি তা দিয়ে মূর্তিগুলোকে খোঁচা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেনঃ “সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; মিথ্যাতো বিলুপ্ত হবারই” – (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭ : ৮১)। “সত্য এসেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে না পারে পুনরাবৃত্তি করতে” – (সূরা সাবা ৩৪ : ৪৯)। ইবনু আবূ ‘উমার (আরবি) (বিজয়ের দিন) কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৪, ই.সে. ৪৪৭৬)

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাতে একটি ছড়ি (কাঠি) ছিল তিনি তা দিয়ে মূর্তিগুলোকে খোঁচা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেনঃ “সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; মিথ্যাতো বিলুপ্ত হবারই” – (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭ : ৮১)। “সত্য এসেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে না পারে পুনরাবৃত্তি করতে” – (সূরা সাবা ৩৪ : ৪৯)। ইবনু আবূ ‘উমার (আরবি) (বিজয়ের দিন) কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৪, ই.সে. ৪৪৭৬)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وعمرو الناقد، وابن أبي عمر، - واللفظ لابن أبي شيبة - قالوا حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، عن أبي معمر، عن عبد الله، قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة وحول الكعبة ثلاثمائة وستون نصبا فجعل يطعنها بعود كان بيده ويقول ‏"‏ ‏{‏ جاء الحق وزهق الباطل إن الباطل كان زهوقا‏}‏ ‏{‏ جاء الحق وما يبدئ الباطل وما يعيد‏}‏ زاد ابن أبي عمر يوم الفتح ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫১৮

وحدثناه حسن بن علي الحلواني، وعبد بن حميد، كلاهما عن عبد الرزاق، أخبرنا الثوري، عن ابن أبي نجيح، بهذا الإسناد إلى قوله زهوقا ‏.‏ ولم يذكر الآية الأخرى وقال بدل نصبا صنما ‏.‏

ইবনু আবূ নাজীহ হতে এ সানাদ থেকে বর্নিতঃ

উল্লিখিত হাদীস, আয়াতের শেষ (আরবি) (বিলুপ্ত হবারই) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অপর আয়াতটি বর্ণনা করেননি। আর তিনি (আরবি) (মূর্তি, পূজার বেদী) শব্দের পরিবর্তে (আরবি) (মূর্তি) শব্দ ব্যবহার করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৫, ই.সে. ৪৪৭৭)

ইবনু আবূ নাজীহ হতে এ সানাদ থেকে বর্নিতঃ

উল্লিখিত হাদীস, আয়াতের শেষ (আরবি) (বিলুপ্ত হবারই) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অপর আয়াতটি বর্ণনা করেননি। আর তিনি (আরবি) (মূর্তি, পূজার বেদী) শব্দের পরিবর্তে (আরবি) (মূর্তি) শব্দ ব্যবহার করেছেন। (ই.ফা. ৪৪৭৫, ই.সে. ৪৪৭৭)

وحدثناه حسن بن علي الحلواني، وعبد بن حميد، كلاهما عن عبد الرزاق، أخبرنا الثوري، عن ابن أبي نجيح، بهذا الإسناد إلى قوله زهوقا ‏.‏ ولم يذكر الآية الأخرى وقال بدل نصبا صنما ‏.‏


সহিহ মুসলিম > বিজয়ের পর কুরায়শদের ধর্মত্যাগের অপরাধে কতল করা হবে না

সহিহ মুসলিম ৪৫১৯

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا علي بن مسهر، ووكيع، عن زكرياء، عن الشعبي، قال أخبرني عبد الله بن مطيع، عن أبيه، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول يوم فتح مكة ‏ "‏ لا يقتل قرشي صبرا بعد هذا اليوم إلى يوم القيامة ‏"‏ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু মুতী’ (রহঃ) –এর পিতা থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে মাক্কাহ বিজয়ের দিন বলতে শুনেছি যে, আজকের দিনের পর কিয়ামাত পর্যন্ত কুরায়শগণকে (ধর্মত্যাগের অপরাধে ও যুদ্ধে) হত্যা করা হবে না। [৩৯] (ই.ফা. ৪৪৭৬, ই.সে. ৪৪৭৮)

‘আবদুল্লাহ ইবনু মুতী’ (রহঃ) –এর পিতা থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে মাক্কাহ বিজয়ের দিন বলতে শুনেছি যে, আজকের দিনের পর কিয়ামাত পর্যন্ত কুরায়শগণকে (ধর্মত্যাগের অপরাধে ও যুদ্ধে) হত্যা করা হবে না। [৩৯] (ই.ফা. ৪৪৭৬, ই.সে. ৪৪৭৮)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا علي بن مسهر، ووكيع، عن زكرياء، عن الشعبي، قال أخبرني عبد الله بن مطيع، عن أبيه، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول يوم فتح مكة ‏ "‏ لا يقتل قرشي صبرا بعد هذا اليوم إلى يوم القيامة ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৫২০

حدثنا ابن نمير، حدثنا أبي، حدثنا زكرياء، بهذا الإسناد ‏.‏ وزاد قال ولم يكن أسلم أحد من عصاة قريش غير مطيع كان اسمه العاصي فسماه رسول الله صلى الله عليه وسلم مطيعا ‏.‏

যাকারিয়্যা (রহঃ) হতে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ

উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, কুরায়শদের মধ্য থেকে কোন ‘আসী ইসলাম গ্রহণ করেনি, মুতী’ ব্যতীত, তার নাম ছিল ‘আসী (অবাধ্য)। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নাম রাখলেন মুতী’ (অনুগত)। (ই.ফা. ৪৪৭৭, ই.সে. ৪৪৭৯)

যাকারিয়্যা (রহঃ) হতে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ

উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, কুরায়শদের মধ্য থেকে কোন ‘আসী ইসলাম গ্রহণ করেনি, মুতী’ ব্যতীত, তার নাম ছিল ‘আসী (অবাধ্য)। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নাম রাখলেন মুতী’ (অনুগত)। (ই.ফা. ৪৪৭৭, ই.সে. ৪৪৭৯)

حدثنا ابن نمير، حدثنا أبي، حدثنا زكرياء، بهذا الإسناد ‏.‏ وزاد قال ولم يكن أسلم أحد من عصاة قريش غير مطيع كان اسمه العاصي فسماه رسول الله صلى الله عليه وسلم مطيعا ‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00