সহিহ মুসলিম > সম্ভ্রান্ত চোর এবং অন্যান্যদের হাত কাটা এবং ‘হুদূদ’ (শারী’আত কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি)- এর ব্যাপারে সুপারিশ নিষিদ্ধ

সহিহ মুসলিম ৪৩০৫

وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحسن بن أعين، حدثنا معقل، عن أبي الزبير، عن جابر، أن امرأة، من بني مخزوم سرقت فأتي بها النبي صلى الله عليه وسلم فعاذت بأم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ والله لو كانت فاطمة لقطعت يدها ‏"‏ ‏.‏ فقطعت ‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা এক মাখযূমী মহিলা চুরি করল। অতঃপর তাকে (নিয়ে এসে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর সহধর্মিণী উম্মু সালামার মাধ্যমে ক্ষমা চাইলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেনঃ যদি ফাতিমাহ্‌ও চুরি করতো, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম। এরপর মহিলাটির হাত কেটে দেয়া হল। (ই.ফা. ৪২৬৬, ই.সে. ৪২৬৬)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা এক মাখযূমী মহিলা চুরি করল। অতঃপর তাকে (নিয়ে এসে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর সহধর্মিণী উম্মু সালামার মাধ্যমে ক্ষমা চাইলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেনঃ যদি ফাতিমাহ্‌ও চুরি করতো, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম। এরপর মহিলাটির হাত কেটে দেয়া হল। (ই.ফা. ৪২৬৬, ই.সে. ৪২৬৬)

وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحسن بن أعين، حدثنا معقل، عن أبي الزبير، عن جابر، أن امرأة، من بني مخزوم سرقت فأتي بها النبي صلى الله عليه وسلم فعاذت بأم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ والله لو كانت فاطمة لقطعت يدها ‏"‏ ‏.‏ فقطعت ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩০৪

وحدثنا عبد بن حميد، أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، قالت كانت امرأة مخزومية تستعير المتاع وتجحده فأمر النبي صلى الله عليه وسلم أن تقطع يدها فأتى أهلها أسامة بن زيد فكلموه فكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها ‏.‏ ثم ذكر نحو حديث الليث ويونس ‏.‏

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক মাখযুমী মহিলা বিভিন্ন ঋণ নিয়ে পরে সে তা অস্বীকার করতো। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। এরপর সে মহিলার পরিবারবর্গ উসামাহ্‌ (রাঃ)- এর কাছে এসে এ ব্যাপারে কথোপকথন করলো। তিনি এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর সঙ্গে কথা বললেন। অতঃপর তিনি লায়স ও ইউনুস (রাঃ)..... এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ই.ফা. ৪২৬৫, ই.সে. ৪২৪৫)

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক মাখযুমী মহিলা বিভিন্ন ঋণ নিয়ে পরে সে তা অস্বীকার করতো। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। এরপর সে মহিলার পরিবারবর্গ উসামাহ্‌ (রাঃ)- এর কাছে এসে এ ব্যাপারে কথোপকথন করলো। তিনি এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর সঙ্গে কথা বললেন। অতঃপর তিনি লায়স ও ইউনুস (রাঃ)..... এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ই.ফা. ৪২৬৫, ই.সে. ৪২৪৫)

وحدثنا عبد بن حميد، أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، قالت كانت امرأة مخزومية تستعير المتاع وتجحده فأمر النبي صلى الله عليه وسلم أن تقطع يدها فأتى أهلها أسامة بن زيد فكلموه فكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها ‏.‏ ثم ذكر نحو حديث الليث ويونس ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩০২

حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، ح وحدثنا محمد بن رمح، أخبرنا الليث، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عائشة، أن قريشا، أهمهم شأن المرأة المخزومية التي سرقت فقالوا من يكلم فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا ومن يجترئ عليه إلا أسامة حب رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فكلمه أسامة ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أتشفع في حد من حدود الله ‏"‏ ‏.‏ ثم قام فاختطب فقال ‏"‏ أيها الناس إنما أهلك الذين قبلكم أنهم كانوا إذا سرق فيهم الشريف تركوه وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد وايم الله لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها ‏"‏ ‏.‏ وفي حديث ابن رمح ‏"‏ إنما هلك الذين من قبلكم ‏"‏ ‏.‏

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মাখযূমী গোত্রের একজন মহিলা চুরি করলে তার (প্রতি হদ প্রয়োগের ব্যাপারে) কুরায়শগণ চিন্তান্বিত হয়ে পড়লো। তাঁরা বলল, কে এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর কাছে কথা বলতে (সুপারিশ করতে) পারে? তখন তাঁরা বললেন, এ ব্যাপারে উসামাহ (রাঃ) ব্যতিত আর কারো হিম্মত নেই। তিনি হলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর প্রিয় ব্যক্তি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর সাথে তিনি এ ব্যাপারে কথা বললেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণ ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে, তাদের মধ্যে যখন কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি কোন দুর্বল লোক চুরি করতো, তবে তারা তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করতো। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদ– এর কন্যা ফাতিমাহ্‌-ও চুরি করতো, তবুও নিশ্চয়ই আমি তার হাত কেটে দিতাম। ইবনু রুমহ (রহঃ) বর্ণিত অপর এক হাদীসে ‘নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে’ বাক্যটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ৪২৬৩, ই.সে. ৪২৬৩)

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মাখযূমী গোত্রের একজন মহিলা চুরি করলে তার (প্রতি হদ প্রয়োগের ব্যাপারে) কুরায়শগণ চিন্তান্বিত হয়ে পড়লো। তাঁরা বলল, কে এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর কাছে কথা বলতে (সুপারিশ করতে) পারে? তখন তাঁরা বললেন, এ ব্যাপারে উসামাহ (রাঃ) ব্যতিত আর কারো হিম্মত নেই। তিনি হলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর প্রিয় ব্যক্তি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর সাথে তিনি এ ব্যাপারে কথা বললেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণ ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে, তাদের মধ্যে যখন কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি কোন দুর্বল লোক চুরি করতো, তবে তারা তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করতো। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদ– এর কন্যা ফাতিমাহ্‌-ও চুরি করতো, তবুও নিশ্চয়ই আমি তার হাত কেটে দিতাম। ইবনু রুমহ (রহঃ) বর্ণিত অপর এক হাদীসে ‘নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে’ বাক্যটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ৪২৬৩, ই.সে. ৪২৬৩)

حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، ح وحدثنا محمد بن رمح، أخبرنا الليث، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عائشة، أن قريشا، أهمهم شأن المرأة المخزومية التي سرقت فقالوا من يكلم فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا ومن يجترئ عليه إلا أسامة حب رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فكلمه أسامة ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أتشفع في حد من حدود الله ‏"‏ ‏.‏ ثم قام فاختطب فقال ‏"‏ أيها الناس إنما أهلك الذين قبلكم أنهم كانوا إذا سرق فيهم الشريف تركوه وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد وايم الله لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها ‏"‏ ‏.‏ وفي حديث ابن رمح ‏"‏ إنما هلك الذين من قبلكم ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩০৩

وحدثني أبو الطاهر، وحرملة بن يحيى، - واللفظ لحرملة - قالا أخبرنا ابن، وهب قال أخبرني يونس بن يزيد، عن ابن شهاب، قال أخبرني عروة بن الزبير، عن عائشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن قريشا أهمهم شأن المرأة التي سرقت في عهد النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة الفتح فقالوا من يكلم فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا ومن يجترئ عليه إلا أسامة بن زيد حب رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فأتي بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فكلمه فيها أسامة بن زيد فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ أتشفع في حد من حدود الله ‏"‏ ‏.‏ فقال له أسامة استغفر لي يا رسول الله ‏.‏ فلما كان العشي قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فاختطب فأثنى على الله بما هو أهله ثم قال ‏"‏ أما بعد فإنما أهلك الذين من قبلكم أنهم كانوا إذا سرق فيهم الشريف تركوه وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد وإني والذي نفسي بيده لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها ‏"‏ ‏.‏ ثم أمر بتلك المرأة التي سرقت فقطعت يدها ‏.‏ قال يونس قال ابن شهاب قال عروة قالت عائشة فحسنت توبتها بعد وتزوجت وكانت تأتيني بعد ذلك فأرفع حاجتها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

কুরায়শরা এক মহিলার ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে পড়লো, যে মহিলাটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর সময়কালে মাক্কাহ্ বিজয়ের সময় চুরি করেছিল। তখন তাঁরা বলল, এ ব্যাপারে কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর নিকট কথা (সুপারিশ) বলবে? তখন তাঁরা বলল, এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর প্রিয়পাত্র উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) ব্যতীত আর কার হিম্মত থাকতে পারে? তিনি হলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর খুবই প্রিয় পাত্র। অতঃপর উক্ত মহিলাকে নিয়ে উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর নিকটে এসে তার ব্যাপারে কথা বললেন। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ-এর ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? তখন উসামাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল। আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন। যখন সন্ধ্যা হল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- দন্ডায়মান হয়ে এক ভাষণ দিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণকে ধ্বংস করা হয়েছে এজন্য যে, যখন তাদের মধ্যে যখন কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে হীন লোক চুরি করতো, তখন তার উপর ‘হদ’ প্রয়োগ করতো। সে মহান আল্লাহর কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাহ্ও চুরি করতো, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম। এরপর যে মহিলা চুরি করেছিল, তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তার হাত কেটে দেয়া হল। ইউনুস (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর সে মহিলা খাঁটিভাবে তাওবাহ্ করল এবং এরপরে তার বিয়ে হলো। ‘আয়িশা (রাঃ)..... বলেন, এ ঘটনার পর ঐ মহিলা প্রায়ই আমার কাছে আসতো। তাঁর কোন প্রয়োজন থাকলে আমি তা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর কাছে তুলে ধরতাম। (ই.ফা. ৪২৬৪, ই.সে. ৪২৬৪)

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

কুরায়শরা এক মহিলার ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে পড়লো, যে মহিলাটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর সময়কালে মাক্কাহ্ বিজয়ের সময় চুরি করেছিল। তখন তাঁরা বলল, এ ব্যাপারে কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর নিকট কথা (সুপারিশ) বলবে? তখন তাঁরা বলল, এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর প্রিয়পাত্র উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) ব্যতীত আর কার হিম্মত থাকতে পারে? তিনি হলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর খুবই প্রিয় পাত্র। অতঃপর উক্ত মহিলাকে নিয়ে উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর নিকটে এসে তার ব্যাপারে কথা বললেন। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ-এর ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? তখন উসামাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল। আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন। যখন সন্ধ্যা হল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- দন্ডায়মান হয়ে এক ভাষণ দিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণকে ধ্বংস করা হয়েছে এজন্য যে, যখন তাদের মধ্যে যখন কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে হীন লোক চুরি করতো, তখন তার উপর ‘হদ’ প্রয়োগ করতো। সে মহান আল্লাহর কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাহ্ও চুরি করতো, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম। এরপর যে মহিলা চুরি করেছিল, তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তার হাত কেটে দেয়া হল। ইউনুস (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর সে মহিলা খাঁটিভাবে তাওবাহ্ করল এবং এরপরে তার বিয়ে হলো। ‘আয়িশা (রাঃ)..... বলেন, এ ঘটনার পর ঐ মহিলা প্রায়ই আমার কাছে আসতো। তাঁর কোন প্রয়োজন থাকলে আমি তা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর কাছে তুলে ধরতাম। (ই.ফা. ৪২৬৪, ই.সে. ৪২৬৪)

وحدثني أبو الطاهر، وحرملة بن يحيى، - واللفظ لحرملة - قالا أخبرنا ابن، وهب قال أخبرني يونس بن يزيد، عن ابن شهاب، قال أخبرني عروة بن الزبير، عن عائشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن قريشا أهمهم شأن المرأة التي سرقت في عهد النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة الفتح فقالوا من يكلم فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا ومن يجترئ عليه إلا أسامة بن زيد حب رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فأتي بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فكلمه فيها أسامة بن زيد فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ أتشفع في حد من حدود الله ‏"‏ ‏.‏ فقال له أسامة استغفر لي يا رسول الله ‏.‏ فلما كان العشي قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فاختطب فأثنى على الله بما هو أهله ثم قال ‏"‏ أما بعد فإنما أهلك الذين من قبلكم أنهم كانوا إذا سرق فيهم الشريف تركوه وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد وإني والذي نفسي بيده لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها ‏"‏ ‏.‏ ثم أمر بتلك المرأة التي سرقت فقطعت يدها ‏.‏ قال يونس قال ابن شهاب قال عروة قالت عائشة فحسنت توبتها بعد وتزوجت وكانت تأتيني بعد ذلك فأرفع حاجتها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏


সহিহ মুসলিম > ব্যভিচারের শাস্তি

সহিহ মুসলিম ৪৩০৬

وحدثنا يحيى بن يحيى التميمي، أخبرنا هشيم، عن منصور، عن الحسن، عن حطان، بن عبد الله الرقاشي عن عبادة بن الصامت، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ خذوا عني خذوا عني قد جعل الله لهن سبيلا البكر بالبكر جلد مائة ونفى سنة والثيب بالثيب جلد مائة والرجم ‏"‏ ‏.‏

উবাদাহ্‌ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর, তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করেছেন। যদি কোন অবিবাহিত পুরুষ কোন কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে তবে একশ’ বেত্রাঘাত কর এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর যদি বিবাহিত ব্যক্তি কোন বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে তাদেরকে প্রথমত একশ’ বেত্রাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে। (ই.ফা. ৪২৬৭, ই.সে. ৪২৬৭)

উবাদাহ্‌ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর, তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করেছেন। যদি কোন অবিবাহিত পুরুষ কোন কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে তবে একশ’ বেত্রাঘাত কর এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর যদি বিবাহিত ব্যক্তি কোন বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে তাদেরকে প্রথমত একশ’ বেত্রাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে। (ই.ফা. ৪২৬৭, ই.সে. ৪২৬৭)

وحدثنا يحيى بن يحيى التميمي، أخبرنا هشيم، عن منصور، عن الحسن، عن حطان، بن عبد الله الرقاشي عن عبادة بن الصامت، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ خذوا عني خذوا عني قد جعل الله لهن سبيلا البكر بالبكر جلد مائة ونفى سنة والثيب بالثيب جلد مائة والرجم ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩০৮

حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار جميعا عن عبد الأعلى، قال ابن المثنى حدثنا عبد الأعلى، حدثنا سعيد، عن قتادة، عن الحسن، عن حطان بن عبد الله الرقاشي، عن عبادة بن الصامت، قال كان نبي الله صلى الله عليه وسلم إذا أنزل عليه كرب لذلك وتربد له وجهه - قال - فأنزل عليه ذات يوم فلقي كذلك فلما سري عنه قال ‏ "‏ خذوا عني فقد جعل الله لهن سبيلا الثيب بالثيب والبكر بالبكر الثيب جلد مائة ثم رجم بالحجارة والبكر جلد مائة ثم نفى سنة ‏"‏ ‏.‏

উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো, তখন তাঁকে ক্লান্ত মনে হতো এবং তাঁর মুখমণ্ডলে ক্লান্তির চিহ্ন ফুটে উঠত। বর্ণনাকারী বলেন, একদা যখন তাঁর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হলো তখন তাঁর অবস্থা ঐরূপ হলো। এরপর যখন অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা আমার কাছ হতে শিক্ষা গ্রহণ কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করে দিয়েছেন। যদি কোন বিবাহিত পুরুষ কোন বিবাহিতা মহিলার সাথে এবং কোন অবিবাহিত পুরুষ কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে, তবে বিবাহিত ব্যক্তিকে একশ’ বেত্রাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে। আর অবিবাহিত পুরুষ বা মহিলাকে একশ’ বেত্রঘাত করবে, এরপর তাদেরকে এক বছরের জন্য নির্বাসন দেবে। (ই.ফা ৪২৬৯, ই.সে. ৪২৬৯)

উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো, তখন তাঁকে ক্লান্ত মনে হতো এবং তাঁর মুখমণ্ডলে ক্লান্তির চিহ্ন ফুটে উঠত। বর্ণনাকারী বলেন, একদা যখন তাঁর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হলো তখন তাঁর অবস্থা ঐরূপ হলো। এরপর যখন অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা আমার কাছ হতে শিক্ষা গ্রহণ কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করে দিয়েছেন। যদি কোন বিবাহিত পুরুষ কোন বিবাহিতা মহিলার সাথে এবং কোন অবিবাহিত পুরুষ কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে, তবে বিবাহিত ব্যক্তিকে একশ’ বেত্রাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে। আর অবিবাহিত পুরুষ বা মহিলাকে একশ’ বেত্রঘাত করবে, এরপর তাদেরকে এক বছরের জন্য নির্বাসন দেবে। (ই.ফা ৪২৬৯, ই.সে. ৪২৬৯)

حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار جميعا عن عبد الأعلى، قال ابن المثنى حدثنا عبد الأعلى، حدثنا سعيد، عن قتادة، عن الحسن، عن حطان بن عبد الله الرقاشي، عن عبادة بن الصامت، قال كان نبي الله صلى الله عليه وسلم إذا أنزل عليه كرب لذلك وتربد له وجهه - قال - فأنزل عليه ذات يوم فلقي كذلك فلما سري عنه قال ‏ "‏ خذوا عني فقد جعل الله لهن سبيلا الثيب بالثيب والبكر بالبكر الثيب جلد مائة ثم رجم بالحجارة والبكر جلد مائة ثم نفى سنة ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩০৯

وحدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، ح وحدثنا محمد بن بشار، حدثنا معاذ بن هشام، حدثني أبي كلاهما، عن قتادة، بهذا الإسناد ‏.‏ غير أن في، حديثهما ‏ "‏ البكر يجلد وينفى والثيب يجلد ويرجم ‏"‏ ‏‏ لا يذكران سنة ولا مائة ‏

কাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, (আরবী) [ অবিবাহিত (পুরুষ বা মহিলা)-কে বেত্রাঘাত করা হবে এবং নির্বাসন দেয়া হবে। আর বিবাহিত (পুরুষ বা মহিলা) –কে প্রথমতঃ বেত্রাঘাত করা হবে এরপর পাথর মেরে হত্যা করা হবে]। কিন্তু তিনি (আরবী) (এক বছর ও একশ’) এ কথাটি তাঁর হাদীসে উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৪২৭০, ই.সে. ৪২৭০)

কাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, (আরবী) [ অবিবাহিত (পুরুষ বা মহিলা)-কে বেত্রাঘাত করা হবে এবং নির্বাসন দেয়া হবে। আর বিবাহিত (পুরুষ বা মহিলা) –কে প্রথমতঃ বেত্রাঘাত করা হবে এরপর পাথর মেরে হত্যা করা হবে]। কিন্তু তিনি (আরবী) (এক বছর ও একশ’) এ কথাটি তাঁর হাদীসে উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৪২৭০, ই.সে. ৪২৭০)

وحدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، ح وحدثنا محمد بن بشار، حدثنا معاذ بن هشام، حدثني أبي كلاهما، عن قتادة، بهذا الإسناد ‏.‏ غير أن في، حديثهما ‏ "‏ البكر يجلد وينفى والثيب يجلد ويرجم ‏"‏ ‏‏ لا يذكران سنة ولا مائة ‏


সহিহ মুসলিম ৪৩০৭

وحدثنا عمرو الناقد، حدثنا هشيم، أخبرنا منصور، بهذا الإسناد مثله ‏.

মানসূর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছন। (ই. ফা. ৪২৬৮, ই. সে. ৪২৬৮)

মানসূর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছন। (ই. ফা. ৪২৬৮, ই. সে. ৪২৬৮)

وحدثنا عمرو الناقد، حدثنا هشيم، أخبرنا منصور، بهذا الإسناد مثله ‏.


সহিহ মুসলিম > ব্যভিচারের জন্য বিবাহিতকে রজম করা

সহিহ মুসলিম ৪৩১০

حدثني أبو الطاهر، وحرملة بن يحيى، قالا حدثنا ابن وهب، أخبرني يونس، عن ابن شهاب، قال أخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، أنه سمع عبد الله بن عباس، يقول قال عمر بن الخطاب وهو جالس على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله قد بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالحق وأنزل عليه الكتاب فكان مما أنزل عليه آية الرجم قرأناها ووعيناها وعقلناها فرجم رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجمنا بعده فأخشى إن طال بالناس زمان أن يقول قائل ما نجد الرجم في كتاب الله فيضلوا بترك فريضة أنزلها الله وإن الرجم في كتاب الله حق على من زنى إذا أحصن من الرجال والنساء إذا قامت البينة أو كان الحبل أو الاعتراف ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মিম্বারের উপর বসা অবস্থায় বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ্‌র নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে (আরবী) (ব্যভিচারের জন্য পাথর নিক্ষেপের আয়াত) রয়েছে। তা আমরা পাঠ করেছি, স্মরণ রেখেছি এবং হৃদয়ঙ্গম করেছি। সুতরাং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যভিচারের জন্য রজম করার হুকুম বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর পরবর্তী সময়ে আমরাও (ব্যভিচারের জন্য) রজমের হুকুম বাস্তবায়িত করেছি। আমি ভয় করছি যে, দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর কেউ এ কথা হয়তো বলবে যে, আমারা আল্লাহর কিতাবে (ব্যভিচারের শাস্তি) রজমের নির্দেশ পাই না। তখন আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত এ ফরয কাজটি পরিত্যাগ করে তারা মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে বিবাহিত নর-নারীর ব্যভিচারের শাস্তি (আরবী) (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা)-এর হুকুম সাব্যস্ত। যখন সাক্ষ্য দ্বারা তা প্রমাণিত হয়, কিংবা গর্ভবতী হয়, অথবা সে নিজে স্বীকার করে। [২৬] (ই. ফা. ৪২৭১, ই. সে. ৪২৭১)

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মিম্বারের উপর বসা অবস্থায় বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ্‌র নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে (আরবী) (ব্যভিচারের জন্য পাথর নিক্ষেপের আয়াত) রয়েছে। তা আমরা পাঠ করেছি, স্মরণ রেখেছি এবং হৃদয়ঙ্গম করেছি। সুতরাং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যভিচারের জন্য রজম করার হুকুম বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর পরবর্তী সময়ে আমরাও (ব্যভিচারের জন্য) রজমের হুকুম বাস্তবায়িত করেছি। আমি ভয় করছি যে, দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর কেউ এ কথা হয়তো বলবে যে, আমারা আল্লাহর কিতাবে (ব্যভিচারের শাস্তি) রজমের নির্দেশ পাই না। তখন আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত এ ফরয কাজটি পরিত্যাগ করে তারা মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে বিবাহিত নর-নারীর ব্যভিচারের শাস্তি (আরবী) (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা)-এর হুকুম সাব্যস্ত। যখন সাক্ষ্য দ্বারা তা প্রমাণিত হয়, কিংবা গর্ভবতী হয়, অথবা সে নিজে স্বীকার করে। [২৬] (ই. ফা. ৪২৭১, ই. সে. ৪২৭১)

حدثني أبو الطاهر، وحرملة بن يحيى، قالا حدثنا ابن وهب، أخبرني يونس، عن ابن شهاب، قال أخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، أنه سمع عبد الله بن عباس، يقول قال عمر بن الخطاب وهو جالس على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله قد بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالحق وأنزل عليه الكتاب فكان مما أنزل عليه آية الرجم قرأناها ووعيناها وعقلناها فرجم رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجمنا بعده فأخشى إن طال بالناس زمان أن يقول قائل ما نجد الرجم في كتاب الله فيضلوا بترك فريضة أنزلها الله وإن الرجم في كتاب الله حق على من زنى إذا أحصن من الرجال والنساء إذا قامت البينة أو كان الحبل أو الاعتراف ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩১১

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وزهير بن حرب، وابن أبي عمر، قالوا حدثنا سفيان، عن الزهري، بهذا الإسناد ‏.‏

যুহরী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ৪২৭২, ই. সে. ৪২৭২)

যুহরী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ৪২৭২, ই. সে. ৪২৭২)

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وزهير بن حرب، وابن أبي عمر، قالوا حدثنا سفيان، عن الزهري، بهذا الإسناد ‏.‏


সহিহ মুসলিম > যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে

সহিহ মুসলিম ৪৩১৯

حدثنا قتيبة بن سعيد، وأبو كامل الجحدري - واللفظ لقتيبة - قالا حدثنا أبو عوانة عن سماك، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لماعز بن مالك ‏"‏ أحق ما بلغني عنك ‏"‏ ‏.‏ قال وما بلغك عني قال ‏"‏ بلغني أنك وقعت بجارية آل فلان ‏"‏ ‏.‏ قال نعم ‏.‏ قال فشهد أربع شهادات ‏.‏ ثم أمر به فرجم ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মা’ইয ইবনু মালিক (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সম্পর্কে আমার কাছে যে সংবাদ এসেছে তা সত্য কিনা? তিনি বললেন, আমার সম্পর্কে আপনার কাছে কী সংবাদ পৌঁছছে? তখন তিনি বললেন, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তুমি অমুক বংশের কোন এক দাসীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছ। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। এরপরে তিনি এ ব্যাপারে চারবার সাক্ষ্য দিলেন অর্থাৎ- স্বীকারোক্তি দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ব্যাপারে আদেশ দিলেন। তাকে তখন পাথর মারা হলো। (ই. ফা ৪২৭৮, ই. সে. ৪২৭৯)

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মা’ইয ইবনু মালিক (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সম্পর্কে আমার কাছে যে সংবাদ এসেছে তা সত্য কিনা? তিনি বললেন, আমার সম্পর্কে আপনার কাছে কী সংবাদ পৌঁছছে? তখন তিনি বললেন, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তুমি অমুক বংশের কোন এক দাসীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছ। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। এরপরে তিনি এ ব্যাপারে চারবার সাক্ষ্য দিলেন অর্থাৎ- স্বীকারোক্তি দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ব্যাপারে আদেশ দিলেন। তাকে তখন পাথর মারা হলো। (ই. ফা ৪২৭৮, ই. সে. ৪২৭৯)

حدثنا قتيبة بن سعيد، وأبو كامل الجحدري - واللفظ لقتيبة - قالا حدثنا أبو عوانة عن سماك، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لماعز بن مالك ‏"‏ أحق ما بلغني عنك ‏"‏ ‏.‏ قال وما بلغك عني قال ‏"‏ بلغني أنك وقعت بجارية آل فلان ‏"‏ ‏.‏ قال نعم ‏.‏ قال فشهد أربع شهادات ‏.‏ ثم أمر به فرجم ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩২০

حدثني محمد بن المثنى، حدثني عبد الأعلى، حدثنا داود، عن أبي نضرة، عن أبي، سعيد أن رجلا، من أسلم يقال له ماعز بن مالك أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال إني أصبت فاحشة فأقمه على ‏.‏ فرده النبي صلى الله عليه وسلم مرارا قال ثم سأل قومه فقالوا ما نعلم به بأسا إلا أنه أصاب شيئا يرى أنه لا يخرجه منه إلا أن يقام فيه الحد - قال - فرجع إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأمرنا أن نرجمه - قال - فانطلقنا به إلى بقيع الغرقد - قال - فما أوثقناه ولا حفرنا له - قال - فرميناه بالعظم والمدر والخزف - قال - فاشتد فاشتددنا خلفه حتى أتى عرض الحرة فانتصب لنا فرميناه بجلاميد الحرة - يعني الحجارة - حتى سكت - قال - ثم قام رسول الله صلى الله عليه وسلم خطيبا من العشي فقال ‏ "‏ أوكلما انطلقنا غزاة في سبيل الله تخلف رجل في عيالنا له نبيب كنبيب التيس على أن لا أوتى برجل فعل ذلك إلا نكلت به ‏"‏ ‏.‏ قال فما استغفر له ولا سبه ‏.‏

আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আসলাম গোত্রের মা’ইয ইবনু মালিক নামক এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, আমি তো এক গর্হিত কাজ করে ফেলেছি। অতএব এর জন্য আমার উপর শারী’আতের বিধান প্রয়োগ করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এ স্বীকারোক্তি কয়েকবার প্রত্যাখ্যান করেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি ঐ ব্যক্তির স্বগোত্রীয় লোকের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তাঁরা বলল, আমারা তো তার সম্বন্ধে কোন খারাপ জানি না। কিন্তু হঠাৎ করেই সে এমন অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সে এখন ভাবছে যে, তার প্রতি ‘হদ’ (আরবী) শারী’আতের বিধান প্রয়োগ ব্যতীত তার আর কোন নিষ্কৃতি নেই। বর্ণনাকারী বলেন যে, তখন সে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এল। তখন তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপের জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমারা তখন তাকে ‘বাকীউল গারকাদ’ নামক স্থানে নিয়ে চললাম। আমরা তাকে বাঁধলাম না এবং মাটিতে পুঁতলামও না। এরপর আমরা তাঁকে হাড়, মৃত্তিকা, ঢিলা এবং ইট মারতে শুরু করলাম। হঠাৎ সে দৌঁড়ে পালাল, আমরাও তার পিছনে ছুটলাম। অবশেষে সে ‘হাররাহ্’ নামক স্থানে উপনীত হলো। আমারা তথায় তাকে ধরলাম এবং পাথর নিক্ষেপ করলাম। পরিশেষে সে নিশ্চল হয়ে গেল অর্থাৎ- মরে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সন্ধ্যাবেলায় কিছু বলার উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হলেন এবং বললেন, আমরা যখনই আল্লাহর পথে যখন যুদ্ধে গমন করি তখন কোন না কোন ব্যক্তি আমাদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। আমার উপর কর্তব্য হল যদি এরূপ কোন ব্যক্তিকে আমার কাছে আনা হয়, তবে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং কোন গালিও দেননি। (দু’আ এজন্য করেননি যে, হয়তো এ আশায় কেউ আবার পাপচারে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে; মন্দ বলেননি এজন্য যে, তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেছে।) (ই. ফা ৪২৭৯, ই. সে. ৪২৮০)

আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আসলাম গোত্রের মা’ইয ইবনু মালিক নামক এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, আমি তো এক গর্হিত কাজ করে ফেলেছি। অতএব এর জন্য আমার উপর শারী’আতের বিধান প্রয়োগ করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এ স্বীকারোক্তি কয়েকবার প্রত্যাখ্যান করেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি ঐ ব্যক্তির স্বগোত্রীয় লোকের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তাঁরা বলল, আমারা তো তার সম্বন্ধে কোন খারাপ জানি না। কিন্তু হঠাৎ করেই সে এমন অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সে এখন ভাবছে যে, তার প্রতি ‘হদ’ (আরবী) শারী’আতের বিধান প্রয়োগ ব্যতীত তার আর কোন নিষ্কৃতি নেই। বর্ণনাকারী বলেন যে, তখন সে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এল। তখন তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপের জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমারা তখন তাকে ‘বাকীউল গারকাদ’ নামক স্থানে নিয়ে চললাম। আমরা তাকে বাঁধলাম না এবং মাটিতে পুঁতলামও না। এরপর আমরা তাঁকে হাড়, মৃত্তিকা, ঢিলা এবং ইট মারতে শুরু করলাম। হঠাৎ সে দৌঁড়ে পালাল, আমরাও তার পিছনে ছুটলাম। অবশেষে সে ‘হাররাহ্’ নামক স্থানে উপনীত হলো। আমারা তথায় তাকে ধরলাম এবং পাথর নিক্ষেপ করলাম। পরিশেষে সে নিশ্চল হয়ে গেল অর্থাৎ- মরে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সন্ধ্যাবেলায় কিছু বলার উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হলেন এবং বললেন, আমরা যখনই আল্লাহর পথে যখন যুদ্ধে গমন করি তখন কোন না কোন ব্যক্তি আমাদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। আমার উপর কর্তব্য হল যদি এরূপ কোন ব্যক্তিকে আমার কাছে আনা হয়, তবে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং কোন গালিও দেননি। (দু’আ এজন্য করেননি যে, হয়তো এ আশায় কেউ আবার পাপচারে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে; মন্দ বলেননি এজন্য যে, তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেছে।) (ই. ফা ৪২৭৯, ই. সে. ৪২৮০)

حدثني محمد بن المثنى، حدثني عبد الأعلى، حدثنا داود، عن أبي نضرة، عن أبي، سعيد أن رجلا، من أسلم يقال له ماعز بن مالك أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال إني أصبت فاحشة فأقمه على ‏.‏ فرده النبي صلى الله عليه وسلم مرارا قال ثم سأل قومه فقالوا ما نعلم به بأسا إلا أنه أصاب شيئا يرى أنه لا يخرجه منه إلا أن يقام فيه الحد - قال - فرجع إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأمرنا أن نرجمه - قال - فانطلقنا به إلى بقيع الغرقد - قال - فما أوثقناه ولا حفرنا له - قال - فرميناه بالعظم والمدر والخزف - قال - فاشتد فاشتددنا خلفه حتى أتى عرض الحرة فانتصب لنا فرميناه بجلاميد الحرة - يعني الحجارة - حتى سكت - قال - ثم قام رسول الله صلى الله عليه وسلم خطيبا من العشي فقال ‏ "‏ أوكلما انطلقنا غزاة في سبيل الله تخلف رجل في عيالنا له نبيب كنبيب التيس على أن لا أوتى برجل فعل ذلك إلا نكلت به ‏"‏ ‏.‏ قال فما استغفر له ولا سبه ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩১২

وحدثني عبد الملك بن شعيب بن الليث بن سعد، حدثني أبي، عن جدي، قال حدثني عقيل، عن ابن شهاب، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، وسعيد بن المسيب، عن أبي هريرة، أنه قال أتى رجل من المسلمين رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد فناداه فقال يا رسول الله إني زنيت ‏.‏ فأعرض عنه فتنحى تلقاء وجهه فقال له يا رسول الله إني زنيت ‏.‏ فأعرض عنه حتى ثنى ذلك عليه أربع مرات فلما شهد على نفسه أربع شهادات دعاه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ أبك جنون ‏"‏ ‏.‏ قال لا ‏.‏ قال ‏"‏ فهل أحصنت ‏"‏ ‏.‏ قال نعم ‏‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اذهبوا به فارجموه ‏"‏ ‏.‏ قال ابن شهاب فأخبرني من، سمع جابر بن عبد الله، يقول فكنت فيمن رجمه فرجمناه بالمصلى فلما أذلقته الحجارة هرب فأدركناه بالحرة فرجمناه ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মুসলিমদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলো। তখন তিনি মাসজিদে বসে ছিলেন। সে তখন উচ্চৈঃস্বরে বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি ব্যভিচার করেছি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে লোকটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর চেহারার দিকে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে চারবার স্বীকারোক্তি প্রদান করল। এরপর সে যখন চারবার নিজের উপর সাক্ষ্য দিল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডাকলেন এবং বললেন, তোমার মধ্যে কি পাগলামী আছে? সে বলল, না। তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা কর। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে যিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন তিনি আমার কাছে বলেন যে, জাবির (রাঃ) বলেছেন, পাথর নিক্ষেপকারীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমারা তখন তাকে (ঈদের) সলাত পড়ার স্থানে পাথর নিক্ষেপ করলাম। যখন তার উপর পাথর পড়তে লাগল তখন সে পলায়ন করল। আমরা তাকে ‘হার্রা'’ নামক স্থানে ধরে ফেললাম এবং পাথর মেরে হত্যা করলাম। (ই. ফা ৪২৭৩, ই. সে. ৪২৭৩)

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মুসলিমদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলো। তখন তিনি মাসজিদে বসে ছিলেন। সে তখন উচ্চৈঃস্বরে বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি ব্যভিচার করেছি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে লোকটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর চেহারার দিকে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে চারবার স্বীকারোক্তি প্রদান করল। এরপর সে যখন চারবার নিজের উপর সাক্ষ্য দিল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডাকলেন এবং বললেন, তোমার মধ্যে কি পাগলামী আছে? সে বলল, না। তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা কর। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে যিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন তিনি আমার কাছে বলেন যে, জাবির (রাঃ) বলেছেন, পাথর নিক্ষেপকারীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমারা তখন তাকে (ঈদের) সলাত পড়ার স্থানে পাথর নিক্ষেপ করলাম। যখন তার উপর পাথর পড়তে লাগল তখন সে পলায়ন করল। আমরা তাকে ‘হার্রা'’ নামক স্থানে ধরে ফেললাম এবং পাথর মেরে হত্যা করলাম। (ই. ফা ৪২৭৩, ই. সে. ৪২৭৩)

وحدثني عبد الملك بن شعيب بن الليث بن سعد، حدثني أبي، عن جدي، قال حدثني عقيل، عن ابن شهاب، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، وسعيد بن المسيب، عن أبي هريرة، أنه قال أتى رجل من المسلمين رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد فناداه فقال يا رسول الله إني زنيت ‏.‏ فأعرض عنه فتنحى تلقاء وجهه فقال له يا رسول الله إني زنيت ‏.‏ فأعرض عنه حتى ثنى ذلك عليه أربع مرات فلما شهد على نفسه أربع شهادات دعاه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ أبك جنون ‏"‏ ‏.‏ قال لا ‏.‏ قال ‏"‏ فهل أحصنت ‏"‏ ‏.‏ قال نعم ‏‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اذهبوا به فارجموه ‏"‏ ‏.‏ قال ابن شهاب فأخبرني من، سمع جابر بن عبد الله، يقول فكنت فيمن رجمه فرجمناه بالمصلى فلما أذلقته الحجارة هرب فأدركناه بالحرة فرجمناه ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩১৭

وحدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار - واللفظ لابن المثنى - قالا حدثنا محمد، بن جعفر حدثنا شعبة، عن سماك بن حرب، قال سمعت جابر بن سمرة، يقول أتي رسول الله صلى الله عليه وسلم برجل قصير أشعث ذي عضلات عليه إزار وقد زنى فرده مرتين ثم أمر به فرجم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ كلما نفرنا غازين في سبيل الله تخلف أحدكم ينب نبيب التيس يمنح إحداهن الكثبة إن الله لا يمكني من أحد منهم إلا جعلته نكالا ‏"‏ ‏.‏ أو نكلته ‏.‏ قال فحدثته سعيد بن جبير فقال إنه رده أربع مرات ‏.‏

জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হলো। তিনি ছিলেন বেঁটে আকৃতির, চুল ছিল অবিন্যস্ত এবং বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী। তার গায়ে ছিল একটি চাদর। তিনি ব্যভিচার করেছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’বার তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর তার ব্যাপারে আদেশ দিলেন, তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা জেনে রেখো; আমরা যখনই আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে বের হই, তখন তোমাদের মধ্য হতে কেউ না কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে। সে তখন কোন নারীকে অল্প দুধ প্রদান করে। (অর্থাৎ-ব্যভিচার করে) নিশ্চয় আল্লাহ যদি আমাকে তাদের কারো উপর শক্তি দেন, তবে আমি তাকে এমন শাস্তি প্রদান করবো যা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীসই সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ ব্যক্তির স্বীকারোক্তি চারবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। (ই. ফা. ৪২৭৬, ই. সে. ৪২৭৭)

জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হলো। তিনি ছিলেন বেঁটে আকৃতির, চুল ছিল অবিন্যস্ত এবং বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী। তার গায়ে ছিল একটি চাদর। তিনি ব্যভিচার করেছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’বার তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর তার ব্যাপারে আদেশ দিলেন, তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা জেনে রেখো; আমরা যখনই আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে বের হই, তখন তোমাদের মধ্য হতে কেউ না কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে। সে তখন কোন নারীকে অল্প দুধ প্রদান করে। (অর্থাৎ-ব্যভিচার করে) নিশ্চয় আল্লাহ যদি আমাকে তাদের কারো উপর শক্তি দেন, তবে আমি তাকে এমন শাস্তি প্রদান করবো যা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীসই সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ ব্যক্তির স্বীকারোক্তি চারবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। (ই. ফা. ৪২৭৬, ই. সে. ৪২৭৭)

وحدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار - واللفظ لابن المثنى - قالا حدثنا محمد، بن جعفر حدثنا شعبة، عن سماك بن حرب، قال سمعت جابر بن سمرة، يقول أتي رسول الله صلى الله عليه وسلم برجل قصير أشعث ذي عضلات عليه إزار وقد زنى فرده مرتين ثم أمر به فرجم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ كلما نفرنا غازين في سبيل الله تخلف أحدكم ينب نبيب التيس يمنح إحداهن الكثبة إن الله لا يمكني من أحد منهم إلا جعلته نكالا ‏"‏ ‏.‏ أو نكلته ‏.‏ قال فحدثته سعيد بن جبير فقال إنه رده أربع مرات ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩১৫

وحدثني أبو الطاهر، وحرملة بن يحيى، قالا أخبرنا ابن وهب، أخبرني يونس، ح وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، وابن، جريج كلهم عن الزهري، عن أبي سلمة، عن جابر بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ نحو رواية عقيل عن الزهري عن سعيد وأبي سلمة عن أبي هريرة ‏.‏

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ

এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যেভাবে ‘উকায়ল যুহরীর মাধ্যমে আবূ হুরাইরার বরাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ৪২৭৪, ই. সে. ৪২৭৫)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ

এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যেভাবে ‘উকায়ল যুহরীর মাধ্যমে আবূ হুরাইরার বরাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ৪২৭৪, ই. সে. ৪২৭৫)

وحدثني أبو الطاهر، وحرملة بن يحيى، قالا أخبرنا ابن وهب، أخبرني يونس، ح وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، وابن، جريج كلهم عن الزهري، عن أبي سلمة، عن جابر بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ نحو رواية عقيل عن الزهري عن سعيد وأبي سلمة عن أبي هريرة ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩১৪

وحدثنيه عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، حدثنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، عن الزهري، بهذا الإسناد أيضا وفي حديثهما جميعا قال ابن شهاب أخبرني من سمع جابر بن عبد الله كما ذكر عقيل

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) আবুল ইয়ামান এবং শু’আয়বের মাধ্যমে যুহরী (রহঃ)-এর বরাতে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনিয়েছেন। আর উভয়ের বর্ণিত হাদীসে ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন যে, আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন, যেমন উল্লেখ করেছেন ‘উকায়ল (রাঃ)। (ই. ফা ৪২৭৩, ই. সে. ৪২৭৪)

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) আবুল ইয়ামান এবং শু’আয়বের মাধ্যমে যুহরী (রহঃ)-এর বরাতে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনিয়েছেন। আর উভয়ের বর্ণিত হাদীসে ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন যে, আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন, যেমন উল্লেখ করেছেন ‘উকায়ল (রাঃ)। (ই. ফা ৪২৭৩, ই. সে. ৪২৭৪)

وحدثنيه عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، حدثنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، عن الزهري، بهذا الإسناد أيضا وفي حديثهما جميعا قال ابن شهاب أخبرني من سمع جابر بن عبد الله كما ذكر عقيل


সহিহ মুসলিম ৪৩১৬

وحدثني أبو كامل، فضيل بن حسين الجحدري حدثنا أبو عوانة، عن سماك بن، حرب عن جابر بن سمرة، قال رأيت ماعز بن مالك حين جيء به إلى النبي صلى الله عليه وسلم رجل قصير أعضل ليس عليه رداء فشهد على نفسه أربع مرات أنه زنى فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فلعلك ‏"‏ ‏.‏ قال لا والله إنه قد زنى الأخر - قال - فرجمه ثم خطب فقال ‏"‏ ألا كلما نفرنا غازين في سبيل الله خلف أحدهم له نبيب كنبيب التيس يمنح أحدهم الكثبة أما والله إن يمكني من أحدهم لأنكلنه عنه ‏"‏ ‏.‏

জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি মা’ইয ইবনু মালিক (রাঃ)-কে দেখলাম, যখন তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আনা হলো। তিনি ছিলেন বেঁটে প্রকৃতির সুঠাম দেহের অধিকারী। তাঁর গায়ে কোন চাদর ছিল না। তিনি নিজেই চারবার স্বীকারোক্তি করলেন যে, তিনি ব্যভিচার করেছেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি হয়তো (শুধু চুমু খেয়েছ অথবা স্পর্শ করেছ) তখন তিনি উত্তরে বললেন, না, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই এ হতভাগা ব্যভিচার করেছে। পরিশেষে তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করার আদেশ করলেন। এরপর তিনি এক ভাষণ প্রদান করে বললেনঃ সাবধান! আমরা যখন আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে গমন করি, তখন কেউ কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে (-অর্থাৎ ছাগল যেমন সঙ্গমের সময় উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করে তদ্রুপ) আর তাদেরকে সে অল্প দুধ দেয়। (-অর্থাৎ সঙ্গম করে, দুধের অর্থ বীর্য।) আল্লাহর শপথ! যদি আল্লাহ আমাকে এ শ্রেণীর কোন লোকের উপর ক্ষমতা প্রদান করেন, তবে আমি তাকে অবশ্যই শাস্তি দেব। (যেন অন্যেরা তার থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।) (ই. ফা. ৪২৭৫, ই. সে. ৪২৭৬)

জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি মা’ইয ইবনু মালিক (রাঃ)-কে দেখলাম, যখন তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আনা হলো। তিনি ছিলেন বেঁটে প্রকৃতির সুঠাম দেহের অধিকারী। তাঁর গায়ে কোন চাদর ছিল না। তিনি নিজেই চারবার স্বীকারোক্তি করলেন যে, তিনি ব্যভিচার করেছেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি হয়তো (শুধু চুমু খেয়েছ অথবা স্পর্শ করেছ) তখন তিনি উত্তরে বললেন, না, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই এ হতভাগা ব্যভিচার করেছে। পরিশেষে তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করার আদেশ করলেন। এরপর তিনি এক ভাষণ প্রদান করে বললেনঃ সাবধান! আমরা যখন আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে গমন করি, তখন কেউ কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে (-অর্থাৎ ছাগল যেমন সঙ্গমের সময় উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করে তদ্রুপ) আর তাদেরকে সে অল্প দুধ দেয়। (-অর্থাৎ সঙ্গম করে, দুধের অর্থ বীর্য।) আল্লাহর শপথ! যদি আল্লাহ আমাকে এ শ্রেণীর কোন লোকের উপর ক্ষমতা প্রদান করেন, তবে আমি তাকে অবশ্যই শাস্তি দেব। (যেন অন্যেরা তার থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।) (ই. ফা. ৪২৭৫, ই. সে. ৪২৭৬)

وحدثني أبو كامل، فضيل بن حسين الجحدري حدثنا أبو عوانة، عن سماك بن، حرب عن جابر بن سمرة، قال رأيت ماعز بن مالك حين جيء به إلى النبي صلى الله عليه وسلم رجل قصير أعضل ليس عليه رداء فشهد على نفسه أربع مرات أنه زنى فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فلعلك ‏"‏ ‏.‏ قال لا والله إنه قد زنى الأخر - قال - فرجمه ثم خطب فقال ‏"‏ ألا كلما نفرنا غازين في سبيل الله خلف أحدهم له نبيب كنبيب التيس يمنح أحدهم الكثبة أما والله إن يمكني من أحدهم لأنكلنه عنه ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩১৩

ورواه الليث أيضا عن عبد الرحمن بن خالد بن مسافر، عن ابن شهاب، بهذا الإسناد ‏.‏ مثله

মুসলিম (রহঃ) বলেন যে, লায়স (রহঃ) ও ‘আবদূর রহমান বিন খালিদ বিন মুসাফিরের মাধ্যমে ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা ৪২৭৩, ই. সে. ৪২৭৩)

মুসলিম (রহঃ) বলেন যে, লায়স (রহঃ) ও ‘আবদূর রহমান বিন খালিদ বিন মুসাফিরের মাধ্যমে ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা ৪২৭৩, ই. সে. ৪২৭৩)

ورواه الليث أيضا عن عبد الرحمن بن خالد بن مسافر، عن ابن شهاب، بهذا الإسناد ‏.‏ مثله


সহিহ মুসলিম ৪৩১৮

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا شبابة، ح وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا أبو عامر العقدي، كلاهما عن شعبة، عن سماك، عن جابر بن سمرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ نحو حديث ابن جعفر ووافقه شبابة على قوله فرده مرتين ‏.‏ وفي حديث أبي عامر فرده مرتين أو ثلاثا ‏.‏

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ ও ইসহাক্ ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ….. উভয়েই জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু জা’ফার (রাঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আর শাবাবা (রাঃ)-ও তাঁর বাণী (আরবী) (তিনি তার স্বীকারোক্তি দু’বার প্রত্যাখ্যান করেন)-এর সাথে একমত হয়েছেন। আবূ ‘আমির (রাঃ)-এর অপর এক হাদীসে (আরবী) (তিনি তাঁর স্বীকারোক্তি দু’বার অথবা তিনবার প্রত্যাখ্যান করেছেন) বর্ণিত হয়েছে। (ই. ফা. ৪২৭৭, ই. সে. ৪২৭৮)

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ ও ইসহাক্ ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ….. উভয়েই জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু জা’ফার (রাঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আর শাবাবা (রাঃ)-ও তাঁর বাণী (আরবী) (তিনি তার স্বীকারোক্তি দু’বার প্রত্যাখ্যান করেন)-এর সাথে একমত হয়েছেন। আবূ ‘আমির (রাঃ)-এর অপর এক হাদীসে (আরবী) (তিনি তাঁর স্বীকারোক্তি দু’বার অথবা তিনবার প্রত্যাখ্যান করেছেন) বর্ণিত হয়েছে। (ই. ফা. ৪২৭৭, ই. সে. ৪২৭৮)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا شبابة، ح وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا أبو عامر العقدي، كلاهما عن شعبة، عن سماك، عن جابر بن سمرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ نحو حديث ابن جعفر ووافقه شبابة على قوله فرده مرتين ‏.‏ وفي حديث أبي عامر فرده مرتين أو ثلاثا ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩২১

حدثني محمد بن حاتم، حدثنا بهز، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا داود، بهذا الإسناد ‏.‏ مثل معناه ‏.‏ وقال في الحديث فقام النبي صلى الله عليه وسلم من العشي فحمد الله وأثنى عليه ثم قال ‏"‏ أما بعد فما بال أقوام إذا غزونا يتخلف أحدهم عنا له نبيب كنبيب التيس ‏"‏ ‏.‏ ولم يقل ‏"‏ في عيالنا ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) দাঊদ (রহঃ) হতে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উল্লেখিত হাদীসের মর্মার্থ বর্ণনা করেন। তিনি তাঁর হাদীসে উল্লেখ করেন যে, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্ধ্যাবেলায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা শেষে বললেন, তাদের কী পরিণতি হবে? যখন আমরা যুদ্ধে গমন করি তখন তাদের কেউ কেউ আমাদের পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। (অর্থাৎ-ব্যভিচার করে।) কিন্তু তিনি তাঁর বর্ণনায় ‘আমাদের পরিবারবর্গের মধ্যে’ কথাটি বর্ণনা করেননি। (ই. ফা ৪২৮০, ই. সে. ৪২৮১)

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) দাঊদ (রহঃ) হতে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উল্লেখিত হাদীসের মর্মার্থ বর্ণনা করেন। তিনি তাঁর হাদীসে উল্লেখ করেন যে, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্ধ্যাবেলায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা শেষে বললেন, তাদের কী পরিণতি হবে? যখন আমরা যুদ্ধে গমন করি তখন তাদের কেউ কেউ আমাদের পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। (অর্থাৎ-ব্যভিচার করে।) কিন্তু তিনি তাঁর বর্ণনায় ‘আমাদের পরিবারবর্গের মধ্যে’ কথাটি বর্ণনা করেননি। (ই. ফা ৪২৮০, ই. সে. ৪২৮১)

حدثني محمد بن حاتم، حدثنا بهز، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا داود، بهذا الإسناد ‏.‏ مثل معناه ‏.‏ وقال في الحديث فقام النبي صلى الله عليه وسلم من العشي فحمد الله وأثنى عليه ثم قال ‏"‏ أما بعد فما بال أقوام إذا غزونا يتخلف أحدهم عنا له نبيب كنبيب التيس ‏"‏ ‏.‏ ولم يقل ‏"‏ في عيالنا ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩২২

وحدثنا سريج بن يونس، حدثنا يحيى بن زكرياء بن أبي زائدة، ح وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة حدثنا معاوية بن هشام، حدثنا سفيان، كلاهما عن داود، بهذا الإسناد ‏.‏ بعض هذا الحديث ‏.‏ غير أن في حديث سفيان فاعترف بالزنى ثلاث مرات ‏.‏

সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও আবূ বাক্র ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) দাঊদ (রহঃ) হতে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উল্লেখিত হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করেছেন। তবে সুফ্ইয়ান (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে (আরবী) (অতএব, সে তিনবার ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করেছে) এ কথা উল্লেখ রয়েছে। (ই. ফা. ৪২৮১, ই. সে. ৪২৮২)

সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও আবূ বাক্র ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) দাঊদ (রহঃ) হতে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উল্লেখিত হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করেছেন। তবে সুফ্ইয়ান (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে (আরবী) (অতএব, সে তিনবার ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করেছে) এ কথা উল্লেখ রয়েছে। (ই. ফা. ৪২৮১, ই. সে. ৪২৮২)

وحدثنا سريج بن يونس، حدثنا يحيى بن زكرياء بن أبي زائدة، ح وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة حدثنا معاوية بن هشام، حدثنا سفيان، كلاهما عن داود، بهذا الإسناد ‏.‏ بعض هذا الحديث ‏.‏ غير أن في حديث سفيان فاعترف بالزنى ثلاث مرات ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩২৫

حدثني أبو غسان، مالك بن عبد الواحد المسمعي حدثنا معاذ، - يعني ابن هشام - حدثني أبي، عن يحيى بن أبي كثير، حدثني أبو قلابة، أن أبا المهلب، حدثه عن عمران، بن حصين أن امرأة، من جهينة أتت نبي الله صلى الله عليه وسلم وهي حبلى من الزنى فقالت يا نبي الله أصبت حدا فأقمه على فدعا نبي الله صلى الله عليه وسلم وليها فقال ‏"‏ أحسن إليها فإذا وضعت فائتني بها ‏"‏ ‏.‏ ففعل فأمر بها نبي الله صلى الله عليه وسلم فشكت عليها ثيابها ثم أمر بها فرجمت ثم صلى عليها فقال له عمر تصلي عليها يا نبي الله وقد زنت فقال ‏"‏ لقد تابت توبة لو قسمت بين سبعين من أهل المدينة لوسعتهم وهل وجدت توبة أفضل من أن جادت بنفسها لله تعالى ‏"‏ ‏.‏

‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

জুহাইনাহ্ গোত্রের এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমন করল। সে বলল, হে আল্লাহর নবী! আমি ‘হদ্দ’ (শারী’আত কর্তৃক নির্ধারিত ব্যভিচারের শাস্তি)-এর উপযোগী হয়েছি। অতএব আমার উপর তা কার্যকর করুন। তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার অভিভাবককে ডাকলেন এবং বললেন, তাকে ভালভাবে দেখাশোনা করো। তারপর সে যখন সন্তান প্রসব করবে তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। সে তাই করলো। এরপর আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রতি (শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলার কাপড় শক্ত করে বাঁধা হলো। এরপর তিনি শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দিলেন। তাকে পাথর মারা হলো। অতঃপর তিনি তার উপর জানাযার সলাত আদায় করলেন। তখন উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি তার (জানাযার) সলাত আদায় করলেন অথচ সে তো ব্যভিচার করেছিল? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই সে এমনভাবে তাওবাহ্ করেছে, যদি তা মাদীনার সত্তরজন লোকের মধ্যে বণ্টিত হতো, তবে তাদের জন্য তাই যথেষ্ট হতো। তুমি কি তার চেয়ে অধিক উত্তম তাওবাহ্কারী কখনও দেখেছ? সে-তো নিজের জীবন আল্লাহর জন্য দিয়ে দিয়েছে। (ই. ফা. ৪২৮৪, ই. সে. ৪২৮৫)

‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

জুহাইনাহ্ গোত্রের এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমন করল। সে বলল, হে আল্লাহর নবী! আমি ‘হদ্দ’ (শারী’আত কর্তৃক নির্ধারিত ব্যভিচারের শাস্তি)-এর উপযোগী হয়েছি। অতএব আমার উপর তা কার্যকর করুন। তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার অভিভাবককে ডাকলেন এবং বললেন, তাকে ভালভাবে দেখাশোনা করো। তারপর সে যখন সন্তান প্রসব করবে তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। সে তাই করলো। এরপর আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রতি (শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলার কাপড় শক্ত করে বাঁধা হলো। এরপর তিনি শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দিলেন। তাকে পাথর মারা হলো। অতঃপর তিনি তার উপর জানাযার সলাত আদায় করলেন। তখন উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি তার (জানাযার) সলাত আদায় করলেন অথচ সে তো ব্যভিচার করেছিল? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই সে এমনভাবে তাওবাহ্ করেছে, যদি তা মাদীনার সত্তরজন লোকের মধ্যে বণ্টিত হতো, তবে তাদের জন্য তাই যথেষ্ট হতো। তুমি কি তার চেয়ে অধিক উত্তম তাওবাহ্কারী কখনও দেখেছ? সে-তো নিজের জীবন আল্লাহর জন্য দিয়ে দিয়েছে। (ই. ফা. ৪২৮৪, ই. সে. ৪২৮৫)

حدثني أبو غسان، مالك بن عبد الواحد المسمعي حدثنا معاذ، - يعني ابن هشام - حدثني أبي، عن يحيى بن أبي كثير، حدثني أبو قلابة، أن أبا المهلب، حدثه عن عمران، بن حصين أن امرأة، من جهينة أتت نبي الله صلى الله عليه وسلم وهي حبلى من الزنى فقالت يا نبي الله أصبت حدا فأقمه على فدعا نبي الله صلى الله عليه وسلم وليها فقال ‏"‏ أحسن إليها فإذا وضعت فائتني بها ‏"‏ ‏.‏ ففعل فأمر بها نبي الله صلى الله عليه وسلم فشكت عليها ثيابها ثم أمر بها فرجمت ثم صلى عليها فقال له عمر تصلي عليها يا نبي الله وقد زنت فقال ‏"‏ لقد تابت توبة لو قسمت بين سبعين من أهل المدينة لوسعتهم وهل وجدت توبة أفضل من أن جادت بنفسها لله تعالى ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩২৩

وحدثنا محمد بن العلاء الهمداني، حدثنا يحيى بن يعلى، - وهو ابن الحارث المحاربي - عن غيلان، - وهو ابن جامع المحاربي - عن علقمة بن مرثد، عن سليمان، بن بريدة عن أبيه، قال جاء ماعز بن مالك إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله طهرني ‏.‏ فقال ‏"‏ ويحك ارجع فاستغفر الله وتب إليه ‏"‏ ‏.‏ قال فرجع غير بعيد ثم جاء فقال يا رسول الله طهرني ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ويحك ارجع فاستغفر الله وتب إليه ‏"‏ ‏.‏ قال فرجع غير بعيد ثم جاء فقال يا رسول الله طهرني ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك حتى إذا كانت الرابعة قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فيم أطهرك ‏"‏ ‏.‏ فقال من الزنى ‏.‏ فسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أبه جنون ‏"‏ ‏.‏ فأخبر أنه ليس بمجنون ‏.‏ فقال ‏"‏ أشرب خمرا ‏"‏ ‏.‏ فقام رجل فاستنكهه فلم يجد منه ريح خمر ‏.‏ قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أزنيت ‏"‏ ‏.‏ فقال نعم ‏.‏ فأمر به فرجم فكان الناس فيه فرقتين قائل يقول لقد هلك لقد أحاطت به خطيئته وقائل يقول ما توبة أفضل من توبة ماعز أنه جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فوضع يده في يده ثم قال اقتلني بالحجارة - قال - فلبثوا بذلك يومين أو ثلاثة ثم جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم جلوس فسلم ثم جلس فقال ‏"‏ استغفروا لماعز بن مالك ‏"‏ ‏.‏ قال فقالوا غفر الله لماعز بن مالك ‏.‏ - قال - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لقد تاب توبة لو قسمت بين أمة لوسعتهم ‏"‏ ‏.‏ قال ثم جاءته امرأة من غامد من الأزد فقالت يا رسول الله طهرني ‏.‏ فقال ‏"‏ ويحك ارجعي فاستغفري الله وتوبي إليه ‏"‏ ‏.‏ فقالت أراك تريد أن ترددني كما رددت ماعز بن مالك ‏.‏ قال ‏"‏ وما ذاك ‏"‏ ‏.‏ قالت إنها حبلى من الزنا ‏.‏ فقال ‏"‏ آنت ‏"‏ ‏.‏ قالت نعم ‏.‏ فقال لها ‏"‏ حتى تضعي ما في بطنك ‏"‏ ‏.‏ قال فكفلها رجل من الأنصار حتى وضعت قال فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال قد وضعت الغامدية ‏.‏ فقال ‏"‏ إذا لا نرجمها وندع ولدها صغيرا ليس له من يرضعه ‏"‏ ‏.‏ فقام رجل من الأنصار فقال إلى رضاعه يا نبي الله ‏.‏ قال فرجمها ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলা হামদানী (রহঃ) সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ্ (রহঃ) তাঁর পিতার থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মা’ইয ইবনু মালিক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ্ কর। বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্প দূর চলে গিয়ে আবার ফিরে এলো। এরপর বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্প দূর গিয়ে আবার ফিরে আসলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ্ কর। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্বের মতই কথা বললেন, যখন চতুর্থবার মা’ইয একই কথা বলল, আমাকে পবিত্র করুন হে আল্লাহর রসূল! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, কোন বিষয়ে আমি তোমাকে পবিত্র করবো? তখন সে বলল, যিনার পাপ হতে। সুতরাং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার (সঙ্গী-সাথীদের নিকট) জিজ্ঞেস করলেন, তার মধ্যে কি কোন পাগলামী আছে? তখন তাঁকে জানানো হলো যে, সে পাগল নয়। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে মদ্যপান করেছে কি? তখন এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হলো এবং তার মুখ শুঁকে দেখল, সে তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পেল না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি যিনা করেছ? প্রতি উত্তরে সে বলল, জী-হ্যাঁ। অতএব রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ দিলেন। এরপর তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। সুতরাং এ ব্যাপারে জনগণ দু’দলে বিভক্ত হয়ে গেল। একদল বলতে লাগল, নিশ্চয় সে (মা’ইয) ধ্বংস হয়ে গেছে। নিশ্চয় তার পাপ কার্যত তাকে ঘিরে ফেলেছে। দ্বিতীয় দল বলতে লাগল, মা’ইয এর তাওবার চেয়ে উত্তম (তাওবার অনুশোচনা) আর হয় না। সে প্রথমে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আগমন করলো এবং নিজের হাত তাঁর হাতের উপর রাখলো। এরপর বলল,আমাকে পাথর দ্বারা হত্যা করুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, দু’ তিন দিন পর্যন্ত মানুষ কেবল এ কথাই বলাবলি করছিল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন করলেন এবং দেখলেন যে, সাহাবাগণ বসে আছেন। তিনি প্রথমে সালাম দিলেন, এরপর বসলেন এবং বললেন, তোমরা মা’ইয ইবনু মালিক-এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তখন তাঁরা বললেন, আল্লাহ! মা’ইয ইবনু মালিককে ক্ষমা করুন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে এমনভাবে ‘তাওবাহ্’ করেছে, যদি তা একটি উম্মাতের লোকদের মাঝে বণ্টিত হয় তবে সকলের জন্যই তা যথেষ্ট হতো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাঁর নিকট আযদ গোত্রের গামিদ পরিবারের এক মহিলা আগমন করলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য তুমি ফিরে যাও এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ্ কর। তখন মহিলা বলল, আপনি কি আমাকে সেভাবে ফিরিয়ে দিতে চান যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মা’ইয ইবনু মালিককে? তখন তিনি বললেন, তোমার কী হয়েছে? মহিলা বলল, আমি ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী হয়েছি। তিনি (রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এমন কাজ করেছ? সে প্রতি উত্তরে বলল, জী-হ্যাঁ। তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার গর্ভের সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত তুমি অপেক্ষা কর। বর্ণনাকারী বলেন যে, এক আনসারী ব্যক্তি তার গর্ভের সন্তান প্রসবকাল পর্যন্ত তার দায়িত্ব গ্রহণ করলো। বর্ণনাকারী বলেন, কিছুদিন পর ঐ ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, গামিদীয় মহিলা তো সন্তান প্রসব করেছেন। তখন তিনি বললেন, এমতাবস্থায় তার ছোট শিশু সন্তানকে রেখে আমি তাকে ‘রজম’ করতে পারি না। কেননা তার শিশু সন্তানকে দুধপান করানোর মত কেউ নেই। তখন এক আনসারী লোক দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তার দুধপান করানোর দায়িত্ব নিলাম। তখন তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করার আদেশ করলেন। (ই. ফা ৪২৮২, ই. সে. ৪২৮৩)

মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলা হামদানী (রহঃ) সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ্ (রহঃ) তাঁর পিতার থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মা’ইয ইবনু মালিক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ্ কর। বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্প দূর চলে গিয়ে আবার ফিরে এলো। এরপর বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্প দূর গিয়ে আবার ফিরে আসলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ্ কর। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্বের মতই কথা বললেন, যখন চতুর্থবার মা’ইয একই কথা বলল, আমাকে পবিত্র করুন হে আল্লাহর রসূল! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, কোন বিষয়ে আমি তোমাকে পবিত্র করবো? তখন সে বলল, যিনার পাপ হতে। সুতরাং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার (সঙ্গী-সাথীদের নিকট) জিজ্ঞেস করলেন, তার মধ্যে কি কোন পাগলামী আছে? তখন তাঁকে জানানো হলো যে, সে পাগল নয়। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে মদ্যপান করেছে কি? তখন এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হলো এবং তার মুখ শুঁকে দেখল, সে তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পেল না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি যিনা করেছ? প্রতি উত্তরে সে বলল, জী-হ্যাঁ। অতএব রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ দিলেন। এরপর তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। সুতরাং এ ব্যাপারে জনগণ দু’দলে বিভক্ত হয়ে গেল। একদল বলতে লাগল, নিশ্চয় সে (মা’ইয) ধ্বংস হয়ে গেছে। নিশ্চয় তার পাপ কার্যত তাকে ঘিরে ফেলেছে। দ্বিতীয় দল বলতে লাগল, মা’ইয এর তাওবার চেয়ে উত্তম (তাওবার অনুশোচনা) আর হয় না। সে প্রথমে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আগমন করলো এবং নিজের হাত তাঁর হাতের উপর রাখলো। এরপর বলল,আমাকে পাথর দ্বারা হত্যা করুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, দু’ তিন দিন পর্যন্ত মানুষ কেবল এ কথাই বলাবলি করছিল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন করলেন এবং দেখলেন যে, সাহাবাগণ বসে আছেন। তিনি প্রথমে সালাম দিলেন, এরপর বসলেন এবং বললেন, তোমরা মা’ইয ইবনু মালিক-এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তখন তাঁরা বললেন, আল্লাহ! মা’ইয ইবনু মালিককে ক্ষমা করুন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে এমনভাবে ‘তাওবাহ্’ করেছে, যদি তা একটি উম্মাতের লোকদের মাঝে বণ্টিত হয় তবে সকলের জন্যই তা যথেষ্ট হতো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাঁর নিকট আযদ গোত্রের গামিদ পরিবারের এক মহিলা আগমন করলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য তুমি ফিরে যাও এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ্ কর। তখন মহিলা বলল, আপনি কি আমাকে সেভাবে ফিরিয়ে দিতে চান যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মা’ইয ইবনু মালিককে? তখন তিনি বললেন, তোমার কী হয়েছে? মহিলা বলল, আমি ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী হয়েছি। তিনি (রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এমন কাজ করেছ? সে প্রতি উত্তরে বলল, জী-হ্যাঁ। তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার গর্ভের সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত তুমি অপেক্ষা কর। বর্ণনাকারী বলেন যে, এক আনসারী ব্যক্তি তার গর্ভের সন্তান প্রসবকাল পর্যন্ত তার দায়িত্ব গ্রহণ করলো। বর্ণনাকারী বলেন, কিছুদিন পর ঐ ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, গামিদীয় মহিলা তো সন্তান প্রসব করেছেন। তখন তিনি বললেন, এমতাবস্থায় তার ছোট শিশু সন্তানকে রেখে আমি তাকে ‘রজম’ করতে পারি না। কেননা তার শিশু সন্তানকে দুধপান করানোর মত কেউ নেই। তখন এক আনসারী লোক দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তার দুধপান করানোর দায়িত্ব নিলাম। তখন তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করার আদেশ করলেন। (ই. ফা ৪২৮২, ই. সে. ৪২৮৩)

وحدثنا محمد بن العلاء الهمداني، حدثنا يحيى بن يعلى، - وهو ابن الحارث المحاربي - عن غيلان، - وهو ابن جامع المحاربي - عن علقمة بن مرثد، عن سليمان، بن بريدة عن أبيه، قال جاء ماعز بن مالك إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله طهرني ‏.‏ فقال ‏"‏ ويحك ارجع فاستغفر الله وتب إليه ‏"‏ ‏.‏ قال فرجع غير بعيد ثم جاء فقال يا رسول الله طهرني ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ويحك ارجع فاستغفر الله وتب إليه ‏"‏ ‏.‏ قال فرجع غير بعيد ثم جاء فقال يا رسول الله طهرني ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك حتى إذا كانت الرابعة قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فيم أطهرك ‏"‏ ‏.‏ فقال من الزنى ‏.‏ فسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أبه جنون ‏"‏ ‏.‏ فأخبر أنه ليس بمجنون ‏.‏ فقال ‏"‏ أشرب خمرا ‏"‏ ‏.‏ فقام رجل فاستنكهه فلم يجد منه ريح خمر ‏.‏ قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أزنيت ‏"‏ ‏.‏ فقال نعم ‏.‏ فأمر به فرجم فكان الناس فيه فرقتين قائل يقول لقد هلك لقد أحاطت به خطيئته وقائل يقول ما توبة أفضل من توبة ماعز أنه جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فوضع يده في يده ثم قال اقتلني بالحجارة - قال - فلبثوا بذلك يومين أو ثلاثة ثم جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم جلوس فسلم ثم جلس فقال ‏"‏ استغفروا لماعز بن مالك ‏"‏ ‏.‏ قال فقالوا غفر الله لماعز بن مالك ‏.‏ - قال - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لقد تاب توبة لو قسمت بين أمة لوسعتهم ‏"‏ ‏.‏ قال ثم جاءته امرأة من غامد من الأزد فقالت يا رسول الله طهرني ‏.‏ فقال ‏"‏ ويحك ارجعي فاستغفري الله وتوبي إليه ‏"‏ ‏.‏ فقالت أراك تريد أن ترددني كما رددت ماعز بن مالك ‏.‏ قال ‏"‏ وما ذاك ‏"‏ ‏.‏ قالت إنها حبلى من الزنا ‏.‏ فقال ‏"‏ آنت ‏"‏ ‏.‏ قالت نعم ‏.‏ فقال لها ‏"‏ حتى تضعي ما في بطنك ‏"‏ ‏.‏ قال فكفلها رجل من الأنصار حتى وضعت قال فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال قد وضعت الغامدية ‏.‏ فقال ‏"‏ إذا لا نرجمها وندع ولدها صغيرا ليس له من يرضعه ‏"‏ ‏.‏ فقام رجل من الأنصار فقال إلى رضاعه يا نبي الله ‏.‏ قال فرجمها ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩২৪

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عبد الله بن نمير، ح وحدثنا محمد بن عبد، الله بن نمير - وتقاربا في لفظ الحديث - حدثنا أبي، حدثنا بشير بن المهاجر، حدثنا عبد الله بن بريدة، عن أبيه، أن ماعز بن مالك الأسلمي، أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إني قد ظلمت نفسي وزنيت وإني أريد أن تطهرني ‏.‏ فرده فلما كان من الغد أتاه فقال يا رسول الله إني قد زنيت ‏.‏ فرده الثانية فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى قومه فقال ‏"‏ أتعلمون بعقله بأسا تنكرون منه شيئا ‏"‏ ‏.‏ فقالوا ما نعلمه إلا وفي العقل من صالحينا فيما نرى فأتاه الثالثة فأرسل إليهم أيضا فسأل عنه فأخبروه أنه لا بأس به ولا بعقله فلما كان الرابعة حفر له حفرة ثم أمر به فرجم ‏.‏ قال فجاءت الغامدية فقالت يا رسول الله إني قد زنيت فطهرني ‏.‏ وإنه ردها فلما كان الغد قالت يا رسول الله لم تردني لعلك أن تردني كما رددت ماعزا فوالله إني لحبلى ‏.‏ قال ‏"‏ إما لا فاذهبي حتى تلدي ‏"‏ ‏.‏ فلما ولدت أتته بالصبي في خرقة قالت هذا قد ولدته ‏.‏ قال ‏"‏ اذهبي فأرضعيه حتى تفطميه ‏"‏ ‏.‏ فلما فطمته أتته بالصبي في يده كسرة خبز فقالت هذا يا نبي الله قد فطمته وقد أكل الطعام ‏.‏ فدفع الصبي إلى رجل من المسلمين ثم أمر بها فحفر لها إلى صدرها وأمر الناس فرجموها فيقبل خالد بن الوليد بحجر فرمى رأسها فتنضح الدم على وجه خالد فسبها فسمع نبي الله صلى الله عليه وسلم سبه إياها فقال ‏"‏ مهلا يا خالد فوالذي نفسي بيده لقد تابت ت

বুরাইদাহ্ (রাঃ)-এর বরাতে তার পিতা থেকে বর্নিতঃ

মা’ইয ইবনু মালিক আসলামী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! নিশ্চয়ই আমি আমার আত্মার উপর জুলুম করেছি, অর্থাৎ ব্যভিচার করেছি। আমি চাই যে, আপনি আমাকে পবিত্র করবেন।’ তখন তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরের দিন সে আবার তাঁর (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ) কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন এক ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের লোকের কাছে পাঠালেন। লোক সেখানে গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি মনে করেন যে, তার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে এবং সে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়েছে? তারা প্রতি উত্তরে বললেন, আমরা তো তার মস্তিষ্কের বিকৃতি সম্পর্কে কোন কিছু জানি না। আমরা তো জানি যে, সে সম্পূর্ণ সুস্থ প্রকৃতির। এরপর মা’ইয তৃতীয়বার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আগমন করলো। তখন তিনি আবারও একজন লোককে তার গোত্রের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেরণ করলেন। তখনও তারা তাঁকে জানালো যে, আমরা তার সম্পর্কে খারাপ কোন কিছু জানি না এবং তার মস্তিষ্কেরও কোন বিকৃতি ঘটেনি। এরপর যখন চতুর্থবার সে আগমন করলো, তখন তার জন্য একটি গর্ত খনন করা হলো এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ প্রদান করলেন। সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর গামিদী এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরবর্তী দিন আবার ঐ মহিলা আগমন করলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি কেন আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আপনি সম্ভবত আমাকে ঐভাবে ফিরিয়ে দিতে চান, যেমনভাবে আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মা’ইযকে? আল্লাহর শপথ করে বলছি, ‘নিশ্চয়ই আমি গর্ভবতী’। তখন তিনি বললেন, তুমি যদি ফিরে যেতে না চাও, তবে আপাততঃ এখনকার মত চলে যাও এবং প্রসবকাল পর্যন্ত অপেক্ষা কর। রাবী বলেন, এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করলো- তখন ভূমিষ্ঠ সন্তানকে এক টুকরা কাপড়ের মধ্যে নিয়ে তাঁর কাছে আগমন করলো এবং বলল, এ সন্তান আমি প্রসব করেছি। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যাও তাকে (সন্তানকে) দুধপান করাও। দুধপান করানোর সময় পার হলে পরে এসো। এরপর যখন তার দুধপান করানোর সময় শেষ হলো তখন ঐ মহিলা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে তাঁর কাছে মহিলাটি আবার আগমন করলো-এমন অবস্থায় যে, শিশুটির হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। এরপর বলল, হে আল্লাহর নবী! এইতো সেই শিশু, যাকে আমি দুধপান করানোর কাজ শেষ করেছি। সে এখন খাদ্য খায়। তখন শিশু সন্তানটিকে তিনি কোন একজন মুসলিমকে প্রদান করলেন। এরপর তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি) প্রদানের নির্দেশ দিলেন। মহিলার বক্ষ পর্যন্ত গর্ত খনন করানো হলো এরপর জনগণকে (তার প্রতি পাথর নিক্ষেপের) নির্দেশ দিলেন। তারা তাকে পাথর মারতে শুরু করলো। খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) একটি পাথর নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং মহিলার মাথায় নিক্ষেপ করলেন, তাতে রক্ত ছিটকে পড়লো খালিদ (ইবনু ওয়ালীদ) (রাঃ)-এর মুখমন্ডলে। তখন তিনি মহিলাকে গালি দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার গালি শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, সাবধান! হে খালিদ! সে মহান আল্লাহর শপথ, যাঁর হস্তে আমার জীবন, জেনে রেখো! নিশ্চয়ই সে এমন তাওবাহ্ করেছে, যদি কোন “হক্কুল ইবাদ” বিনষ্টকারী ব্যক্তিও এমন তাওবাহ্ করতো, তবে তারও ক্ষমা হয়ে যেত। এরপর তার জানাযার সলাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। তিনি তার জানাযায় সলাত আদায় করলেন। এরপর তাকে দাফন করা হলো। (ই. ফা. ৪২৮৩, ই. সে. ৪২৮৪)

বুরাইদাহ্ (রাঃ)-এর বরাতে তার পিতা থেকে বর্নিতঃ

মা’ইয ইবনু মালিক আসলামী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! নিশ্চয়ই আমি আমার আত্মার উপর জুলুম করেছি, অর্থাৎ ব্যভিচার করেছি। আমি চাই যে, আপনি আমাকে পবিত্র করবেন।’ তখন তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরের দিন সে আবার তাঁর (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ) কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন এক ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের লোকের কাছে পাঠালেন। লোক সেখানে গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি মনে করেন যে, তার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে এবং সে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়েছে? তারা প্রতি উত্তরে বললেন, আমরা তো তার মস্তিষ্কের বিকৃতি সম্পর্কে কোন কিছু জানি না। আমরা তো জানি যে, সে সম্পূর্ণ সুস্থ প্রকৃতির। এরপর মা’ইয তৃতীয়বার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আগমন করলো। তখন তিনি আবারও একজন লোককে তার গোত্রের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেরণ করলেন। তখনও তারা তাঁকে জানালো যে, আমরা তার সম্পর্কে খারাপ কোন কিছু জানি না এবং তার মস্তিষ্কেরও কোন বিকৃতি ঘটেনি। এরপর যখন চতুর্থবার সে আগমন করলো, তখন তার জন্য একটি গর্ত খনন করা হলো এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ প্রদান করলেন। সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর গামিদী এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরবর্তী দিন আবার ঐ মহিলা আগমন করলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি কেন আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আপনি সম্ভবত আমাকে ঐভাবে ফিরিয়ে দিতে চান, যেমনভাবে আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মা’ইযকে? আল্লাহর শপথ করে বলছি, ‘নিশ্চয়ই আমি গর্ভবতী’। তখন তিনি বললেন, তুমি যদি ফিরে যেতে না চাও, তবে আপাততঃ এখনকার মত চলে যাও এবং প্রসবকাল পর্যন্ত অপেক্ষা কর। রাবী বলেন, এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করলো- তখন ভূমিষ্ঠ সন্তানকে এক টুকরা কাপড়ের মধ্যে নিয়ে তাঁর কাছে আগমন করলো এবং বলল, এ সন্তান আমি প্রসব করেছি। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যাও তাকে (সন্তানকে) দুধপান করাও। দুধপান করানোর সময় পার হলে পরে এসো। এরপর যখন তার দুধপান করানোর সময় শেষ হলো তখন ঐ মহিলা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে তাঁর কাছে মহিলাটি আবার আগমন করলো-এমন অবস্থায় যে, শিশুটির হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। এরপর বলল, হে আল্লাহর নবী! এইতো সেই শিশু, যাকে আমি দুধপান করানোর কাজ শেষ করেছি। সে এখন খাদ্য খায়। তখন শিশু সন্তানটিকে তিনি কোন একজন মুসলিমকে প্রদান করলেন। এরপর তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি) প্রদানের নির্দেশ দিলেন। মহিলার বক্ষ পর্যন্ত গর্ত খনন করানো হলো এরপর জনগণকে (তার প্রতি পাথর নিক্ষেপের) নির্দেশ দিলেন। তারা তাকে পাথর মারতে শুরু করলো। খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) একটি পাথর নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং মহিলার মাথায় নিক্ষেপ করলেন, তাতে রক্ত ছিটকে পড়লো খালিদ (ইবনু ওয়ালীদ) (রাঃ)-এর মুখমন্ডলে। তখন তিনি মহিলাকে গালি দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার গালি শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, সাবধান! হে খালিদ! সে মহান আল্লাহর শপথ, যাঁর হস্তে আমার জীবন, জেনে রেখো! নিশ্চয়ই সে এমন তাওবাহ্ করেছে, যদি কোন “হক্কুল ইবাদ” বিনষ্টকারী ব্যক্তিও এমন তাওবাহ্ করতো, তবে তারও ক্ষমা হয়ে যেত। এরপর তার জানাযার সলাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। তিনি তার জানাযায় সলাত আদায় করলেন। এরপর তাকে দাফন করা হলো। (ই. ফা. ৪২৮৩, ই. সে. ৪২৮৪)

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عبد الله بن نمير، ح وحدثنا محمد بن عبد، الله بن نمير - وتقاربا في لفظ الحديث - حدثنا أبي، حدثنا بشير بن المهاجر، حدثنا عبد الله بن بريدة، عن أبيه، أن ماعز بن مالك الأسلمي، أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إني قد ظلمت نفسي وزنيت وإني أريد أن تطهرني ‏.‏ فرده فلما كان من الغد أتاه فقال يا رسول الله إني قد زنيت ‏.‏ فرده الثانية فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى قومه فقال ‏"‏ أتعلمون بعقله بأسا تنكرون منه شيئا ‏"‏ ‏.‏ فقالوا ما نعلمه إلا وفي العقل من صالحينا فيما نرى فأتاه الثالثة فأرسل إليهم أيضا فسأل عنه فأخبروه أنه لا بأس به ولا بعقله فلما كان الرابعة حفر له حفرة ثم أمر به فرجم ‏.‏ قال فجاءت الغامدية فقالت يا رسول الله إني قد زنيت فطهرني ‏.‏ وإنه ردها فلما كان الغد قالت يا رسول الله لم تردني لعلك أن تردني كما رددت ماعزا فوالله إني لحبلى ‏.‏ قال ‏"‏ إما لا فاذهبي حتى تلدي ‏"‏ ‏.‏ فلما ولدت أتته بالصبي في خرقة قالت هذا قد ولدته ‏.‏ قال ‏"‏ اذهبي فأرضعيه حتى تفطميه ‏"‏ ‏.‏ فلما فطمته أتته بالصبي في يده كسرة خبز فقالت هذا يا نبي الله قد فطمته وقد أكل الطعام ‏.‏ فدفع الصبي إلى رجل من المسلمين ثم أمر بها فحفر لها إلى صدرها وأمر الناس فرجموها فيقبل خالد بن الوليد بحجر فرمى رأسها فتنضح الدم على وجه خالد فسبها فسمع نبي الله صلى الله عليه وسلم سبه إياها فقال ‏"‏ مهلا يا خالد فوالذي نفسي بيده لقد تابت ت


সহিহ মুসলিম ৪৩২৬

وحدثناه أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا أبان العطار، حدثنا يحيى بن أبي كثير، بهذا الإسناد مثله ‏.‏

ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসির (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ৪২৮৫, ই. সে. ৪২৮৬)

ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসির (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ৪২৮৫, ই. সে. ৪২৮৬)

وحدثناه أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا أبان العطار، حدثنا يحيى بن أبي كثير، بهذا الإسناد مثله ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩২৭

حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، ح وحدثناه محمد بن رمح، أخبرنا الليث، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن أبي هريرة، وزيد بن خالد، الجهني أنهما قالا إن رجلا من الأعراب أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أنشدك الله إلا قضيت لي بكتاب الله ‏.‏ فقال الخصم الآخر وهو أفقه منه نعم فاقض بيننا بكتاب الله وائذن لي ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قل ‏"‏ ‏.‏ قال إن ابني كان عسيفا على هذا فزنى بامرأته وإني أخبرت أن على ابني الرجم فافتديت منه بمائة شاة ووليدة فسألت أهل العلم فأخبروني أنما على ابني جلد مائة وتغريب عام وأن على امرأة هذا الرجم ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ والذي نفسي بيده لأقضين بينكما بكتاب الله الوليدة والغنم رد وعلى ابنك جلد مائة وتغريب عام واغد يا أنيس إلى امرأة هذا فإن اعترفت فارجمها ‏"‏ ‏.‏ قال فغدا عليها فاعترفت فأمر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجمت ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্ এবং যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি আমার ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব অনুসারে হুকুম প্রদান করুন। তখন তার প্রতিপক্ষ অপর একব্যক্তি যে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিল বলল, হ্যাঁ, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করুন, তবে এর আগে আমাকে (কথা বলার) অনুমতি দিন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বলো। লোকটি বলল, আমার এক ছেলে ঐ ব্যক্তির বাড়িতে চাকর ছিল। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছে। অতএব, আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, আমার ছেলের উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ)-এর শাস্তি আরোপিত হবে। সুতরাং আমি সেটার বিনিময় প্রদান করলাম একশ’ ছাগল ও একটি দাসী। এরপর আমি এ ব্যাপারে ‘আলিমগণের কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তাঁরা আমাকে বললেন যে, আমার ছেলের উপর একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছর কাল নির্বাসনের হুকুম বলবৎ হবে। আর ঐ মহিলার উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ)-এর হুকুম কার্যকর হবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, সে মহান সত্তার শপথ! যাঁর হস্তে আমার জীবন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে নিষ্পত্তি করে দেব। সুতরাং দাসী এবং ছাগল প্রত্যাখ্যাত হবে। (অর্থাৎ-এগুলো তুমি ফিরিয়ে নেবে)। আর তোমার ছেলের উপর একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসনের হুকুম কার্যকর হবে। হে উনায়স (রাঃ)! (একজন সাহাবা) তুমি আগামীকাল সকালে ঐ মহিলার কাছে গমন করবে (এবং ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে।) যদি সে তা স্বীকার করে তবে তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপ) করে হত্যা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন সকালে তিনি মহিলার কাছে গেলেন (এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন।) সে তা স্বীকার করলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহিলার প্রতি শারী’আতের হুকুম কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর মারা হল। (ই. ফা. ৪২৮৬, ই. সে. ৪২৮৭)

আবূ হুরাইরাহ্ এবং যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি আমার ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব অনুসারে হুকুম প্রদান করুন। তখন তার প্রতিপক্ষ অপর একব্যক্তি যে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিল বলল, হ্যাঁ, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করুন, তবে এর আগে আমাকে (কথা বলার) অনুমতি দিন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বলো। লোকটি বলল, আমার এক ছেলে ঐ ব্যক্তির বাড়িতে চাকর ছিল। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছে। অতএব, আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, আমার ছেলের উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ)-এর শাস্তি আরোপিত হবে। সুতরাং আমি সেটার বিনিময় প্রদান করলাম একশ’ ছাগল ও একটি দাসী। এরপর আমি এ ব্যাপারে ‘আলিমগণের কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তাঁরা আমাকে বললেন যে, আমার ছেলের উপর একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছর কাল নির্বাসনের হুকুম বলবৎ হবে। আর ঐ মহিলার উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ)-এর হুকুম কার্যকর হবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, সে মহান সত্তার শপথ! যাঁর হস্তে আমার জীবন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে নিষ্পত্তি করে দেব। সুতরাং দাসী এবং ছাগল প্রত্যাখ্যাত হবে। (অর্থাৎ-এগুলো তুমি ফিরিয়ে নেবে)। আর তোমার ছেলের উপর একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসনের হুকুম কার্যকর হবে। হে উনায়স (রাঃ)! (একজন সাহাবা) তুমি আগামীকাল সকালে ঐ মহিলার কাছে গমন করবে (এবং ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে।) যদি সে তা স্বীকার করে তবে তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপ) করে হত্যা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন সকালে তিনি মহিলার কাছে গেলেন (এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন।) সে তা স্বীকার করলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহিলার প্রতি শারী’আতের হুকুম কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর মারা হল। (ই. ফা. ৪২৮৬, ই. সে. ৪২৮৭)

حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، ح وحدثناه محمد بن رمح، أخبرنا الليث، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن أبي هريرة، وزيد بن خالد، الجهني أنهما قالا إن رجلا من الأعراب أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أنشدك الله إلا قضيت لي بكتاب الله ‏.‏ فقال الخصم الآخر وهو أفقه منه نعم فاقض بيننا بكتاب الله وائذن لي ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قل ‏"‏ ‏.‏ قال إن ابني كان عسيفا على هذا فزنى بامرأته وإني أخبرت أن على ابني الرجم فافتديت منه بمائة شاة ووليدة فسألت أهل العلم فأخبروني أنما على ابني جلد مائة وتغريب عام وأن على امرأة هذا الرجم ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ والذي نفسي بيده لأقضين بينكما بكتاب الله الوليدة والغنم رد وعلى ابنك جلد مائة وتغريب عام واغد يا أنيس إلى امرأة هذا فإن اعترفت فارجمها ‏"‏ ‏.‏ قال فغدا عليها فاعترفت فأمر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجمت ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৪৩২৮

وحدثني أبو الطاهر، وحرملة، قالا أخبرنا ابن وهب، أخبرني يونس، ح وحدثني عمرو الناقد، حدثنا يعقوب بن إبراهيم بن سعد، حدثنا أبي، عن صالح، ح وحدثنا عبد، بن حميد أخبرنا عبد الرزاق، عن معمر، كلهم عن الزهري، بهذا الإسناد ‏.‏ نحوه ‏.‏

যুহরী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

যুহরী (রহঃ) হতে একই সুত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ৪২৮৭, ই. সে. ৪২৮৮)

যুহরী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

যুহরী (রহঃ) হতে একই সুত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ৪২৮৭, ই. সে. ৪২৮৮)

وحدثني أبو الطاهر، وحرملة، قالا أخبرنا ابن وهب، أخبرني يونس، ح وحدثني عمرو الناقد، حدثنا يعقوب بن إبراهيم بن سعد، حدثنا أبي، عن صالح، ح وحدثنا عبد، بن حميد أخبرنا عبد الرزاق، عن معمر، كلهم عن الزهري، بهذا الإسناد ‏.‏ نحوه ‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00