সহিহ মুসলিম > তিন ত্বলাক্ব প্রসঙ্গে

সহিহ মুসলিম ৩৫৬৭

وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا سليمان بن حرب، عن حماد بن زيد، عن أيوب السختياني، عن إبراهيم بن ميسرة، عن طاوس، أن أبا الصهباء، قال لابن عباس هات من هناتك ألم يكن الطلاق الثلاث على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر واحدة فقال قد كان ذلك فلما كان في عهد عمر تتايع الناس في الطلاق فأجازه عليهم ‏.‏

আবূ আস্‌ সাহ্‌বা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ)-এর সময়ে কি তিন ত্বলাক্বকে এক ত্বলাক্ব ধরা হত? তিনি বলেন, হাঁ এরুপই ছিল। তবে ‘উমার (রাঃ)-এর যমানায় লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যুপরি ত্বলাক্ব দিতে লাগল। অতঃপর তিনি সেটিকে যথার্থভাবে কার্যকর করেন (অর্থাৎ তিন ত্বলাকে পরিণত করেন।) [৫৯] (ই.ফা. ৩৫৩৯, ই.সে. ৩৫৩৮)

আবূ আস্‌ সাহ্‌বা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ)-এর সময়ে কি তিন ত্বলাক্বকে এক ত্বলাক্ব ধরা হত? তিনি বলেন, হাঁ এরুপই ছিল। তবে ‘উমার (রাঃ)-এর যমানায় লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যুপরি ত্বলাক্ব দিতে লাগল। অতঃপর তিনি সেটিকে যথার্থভাবে কার্যকর করেন (অর্থাৎ তিন ত্বলাকে পরিণত করেন।) [৫৯] (ই.ফা. ৩৫৩৯, ই.সে. ৩৫৩৮)

وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا سليمان بن حرب، عن حماد بن زيد، عن أيوب السختياني، عن إبراهيم بن ميسرة، عن طاوس، أن أبا الصهباء، قال لابن عباس هات من هناتك ألم يكن الطلاق الثلاث على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر واحدة فقال قد كان ذلك فلما كان في عهد عمر تتايع الناس في الطلاق فأجازه عليهم ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৬৫

حدثنا إسحاق بن إبراهيم، ومحمد بن رافع، - واللفظ لابن رافع - قال إسحاق أخبرنا وقال ابن رافع، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن ابن طاوس، عن أبيه، عن ابن عباس، قال كان الطلاق على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وسنتين من خلافة عمر طلاق الثلاث واحدة فقال عمر بن الخطاب إن الناس قد استعجلوا في أمر قد كانت لهم فيه أناة فلو أمضيناه عليهم ‏.‏ فأمضاه عليهم ‏.‏

ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এবং আবূ বকর (রাঃ)-এর যুগে ও ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দু’ বছর পর্যন্ত তিন ত্বলাক্ব এক ত্বলাক্ব সাব্যস্ত হত। পরে ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, লোকেরা একটি বিষয়ে অতি ব্যস্ততা দেখিয়েছে যাতে তাদের ধৈর্যের (ও সুযোগ গ্রহণের) অবকাশ ছিল। এখন যদি বিষয়টি তাদের জন্য কার্যকর সাব্যস্ত করে দেই...(তবে তা-ই কল্যাণকর হবে)। সুতরাং তিনি তা তাদের জন্য বাস্তবায়িত ও কার্যকর সাব্যস্ত করলেন। [৫৮] (ই.ফা. ৩৫৩৭, ই.সে. ৩৫৩৬)

ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এবং আবূ বকর (রাঃ)-এর যুগে ও ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দু’ বছর পর্যন্ত তিন ত্বলাক্ব এক ত্বলাক্ব সাব্যস্ত হত। পরে ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, লোকেরা একটি বিষয়ে অতি ব্যস্ততা দেখিয়েছে যাতে তাদের ধৈর্যের (ও সুযোগ গ্রহণের) অবকাশ ছিল। এখন যদি বিষয়টি তাদের জন্য কার্যকর সাব্যস্ত করে দেই...(তবে তা-ই কল্যাণকর হবে)। সুতরাং তিনি তা তাদের জন্য বাস্তবায়িত ও কার্যকর সাব্যস্ত করলেন। [৫৮] (ই.ফা. ৩৫৩৭, ই.সে. ৩৫৩৬)

حدثنا إسحاق بن إبراهيم، ومحمد بن رافع، - واللفظ لابن رافع - قال إسحاق أخبرنا وقال ابن رافع، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن ابن طاوس، عن أبيه، عن ابن عباس، قال كان الطلاق على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وسنتين من خلافة عمر طلاق الثلاث واحدة فقال عمر بن الخطاب إن الناس قد استعجلوا في أمر قد كانت لهم فيه أناة فلو أمضيناه عليهم ‏.‏ فأمضاه عليهم ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৬৬

حدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا روح بن عبادة، أخبرنا ابن جريج، ح وحدثنا ابن رافع، - واللفظ له - حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا ابن جريج، أخبرني ابن طاوس، عن أبيه، أن أبا الصهباء، قال لابن عباس أتعلم أنما كانت الثلاث تجعل واحدة على عهد النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وثلاثا من إمارة عمر ‏.‏ فقال ابن عباس نعم ‏.‏

ত্বাউস (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আবূ আস্ সাহ্বা (রহঃ) ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, আপনার সে সব (বিরল ও অভিনব প্রকৃতির হাদীস) হতে কিছু উপস্থাপন করুন না! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবূ বকর (রাঃ)-এর যুগে তিন ত্বলাক্ব কি এক (ত্বলাক্ব) ছিল না? তিনি বললেন, ‘তা ছিল তো’; পরে যখন ‘উমার (রাঃ)-এর যুগে লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যুপরি ত্বলাক্ব দিতে লাগল তখন ‘উমার (রাঃ) সেটিকে (অর্থাৎ তিন ত্বলাক্বের যথার্থ বিধি)- তাদের জন্য কার্যকর করলেন। (ই.ফা. ৩৫৩৮, ই.সে. ৩৫৩৭)

ত্বাউস (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আবূ আস্ সাহ্বা (রহঃ) ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, আপনার সে সব (বিরল ও অভিনব প্রকৃতির হাদীস) হতে কিছু উপস্থাপন করুন না! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবূ বকর (রাঃ)-এর যুগে তিন ত্বলাক্ব কি এক (ত্বলাক্ব) ছিল না? তিনি বললেন, ‘তা ছিল তো’; পরে যখন ‘উমার (রাঃ)-এর যুগে লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যুপরি ত্বলাক্ব দিতে লাগল তখন ‘উমার (রাঃ) সেটিকে (অর্থাৎ তিন ত্বলাক্বের যথার্থ বিধি)- তাদের জন্য কার্যকর করলেন। (ই.ফা. ৩৫৩৮, ই.সে. ৩৫৩৭)

حدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا روح بن عبادة، أخبرنا ابن جريج، ح وحدثنا ابن رافع، - واللفظ له - حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا ابن جريج، أخبرني ابن طاوس، عن أبيه، أن أبا الصهباء، قال لابن عباس أتعلم أنما كانت الثلاث تجعل واحدة على عهد النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وثلاثا من إمارة عمر ‏.‏ فقال ابن عباس نعم ‏.‏


সহিহ মুসলিম > ত্বলাক্বের নিয়্যাত না করে স্ত্রীকে ‘হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফ্ফারাহ্ ওয়াজিব হবে

সহিহ মুসলিম ৩৫৬৯

حدثنا يحيى بن بشر الحريري، حدثنا معاوية، - يعني ابن سلام - عن يحيى، بن أبي كثير أن يعلى بن حكيم، أخبره أن سعيد بن جبير أخبره أنه، سمع ابن عباس، قال إذا حرم الرجل عليه امرأته فهى يمين يكفرها وقال ‏{‏ لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة‏}‏

সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম (ঘোষণা) করলে তা কসম সাব্যস্ত হবে, তার কাফ্ফারাহ্ আদায় করবে। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ রয়েছে। (ই.ফা. ৩৫৪১, ই.সে. ৩৫৪০)

সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম (ঘোষণা) করলে তা কসম সাব্যস্ত হবে, তার কাফ্ফারাহ্ আদায় করবে। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ রয়েছে। (ই.ফা. ৩৫৪১, ই.সে. ৩৫৪০)

حدثنا يحيى بن بشر الحريري، حدثنا معاوية، - يعني ابن سلام - عن يحيى، بن أبي كثير أن يعلى بن حكيم، أخبره أن سعيد بن جبير أخبره أنه، سمع ابن عباس، قال إذا حرم الرجل عليه امرأته فهى يمين يكفرها وقال ‏{‏ لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة‏}‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৬৮

وحدثنا زهير بن حرب، حدثنا إسماعيل بن إبراهيم، عن هشام، - يعني الدستوائي - قال كتب إلى يحيى بن أبي كثير يحدث عن يعلى بن حكيم عن سعيد بن جبير عن ابن عباس أنه كان يقول في الحرام يمين يكفرها ‏.‏ وقال ابن عباس ‏{‏ لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة‏}‏ ‏.‏

সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে (লিখিতরূপে) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সা’ঈদ) বলেছেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম করা সম্বন্ধে বলতেন যে, তা কসম (ইয়ামীন) সাব্যস্ত হবে, তার কাফ্ফারাহ্ আদায় করবে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) (এ প্রসঙ্গে) আরো বলেছেন, (পবিত্র কুরআনের) (আরবী) (আয়াত উদ্ধৃত করে) “তোমাদের জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। “ (সূরাহ্ আল আহ্যাব ৩৩:২১) (ই.ফা. ৩৫৪০, ই.সে. ৩৫৩৯)

সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে (লিখিতরূপে) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সা’ঈদ) বলেছেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম করা সম্বন্ধে বলতেন যে, তা কসম (ইয়ামীন) সাব্যস্ত হবে, তার কাফ্ফারাহ্ আদায় করবে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) (এ প্রসঙ্গে) আরো বলেছেন, (পবিত্র কুরআনের) (আরবী) (আয়াত উদ্ধৃত করে) “তোমাদের জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। “ (সূরাহ্ আল আহ্যাব ৩৩:২১) (ই.ফা. ৩৫৪০, ই.সে. ৩৫৩৯)

وحدثنا زهير بن حرب، حدثنا إسماعيل بن إبراهيم، عن هشام، - يعني الدستوائي - قال كتب إلى يحيى بن أبي كثير يحدث عن يعلى بن حكيم عن سعيد بن جبير عن ابن عباس أنه كان يقول في الحرام يمين يكفرها ‏.‏ وقال ابن عباس ‏{‏ لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة‏}‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৭০

وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا حجاج بن محمد، أخبرنا ابن جريج، أخبرني عطاء، أنه سمع عبيد بن عمير، يخبر أنه سمع عائشة، تخبر أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يمكث عند زينب بنت جحش فيشرب عندها عسلا قالت فتواطأت أنا وحفصة أن أيتنا ما دخل عليها النبي صلى الله عليه وسلم فلتقل إني أجد منك ريح مغافير أكلت مغافير فدخل على إحداهما فقالت ذلك له ‏.‏ فقال ‏"‏ بل شربت عسلا عند زينب بنت جحش ولن أعود له ‏"‏ ‏.‏ فنزل ‏{‏ لم تحرم ما أحل الله لك‏}‏ إلى قوله ‏{‏ إن تتوبا‏}‏ لعائشة وحفصة ‏{‏ وإذ أسر النبي إلى بعض أزواجه حديثا‏}‏ لقوله ‏"‏ بل شربت عسلا ‏"‏ ‏.‏

‘উবায়দ ইবনু ‘উমায়র (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে এ মর্মে হাদীসের খবর প্রদান করতে শুনেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আসর পরবর্তী সময় হুজরা সমূহে আবর্তন কালে) যায়নাব বিনত জাহশ (রাঃ) -এর গৃহে অবস্হান করে সেখানে মধূ পান করেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমি ও হাফ্সাহ্ মিলে এরূপ যুক্তি-পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দু’জনের মাঝে যার কাছেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (প্রথমে) আগমন করবেন সে বলবে- “আমি আপনার মুখে ‘মাগাফীর’-এর দুর্গন্ধ পাচ্ছি।[৬০] আপনি মাগাফীর খেয়েছেন।” পরে তিনি এদের কোন একজনের কাছে গেলে সে তাঁকে অনুরূপ বলল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,... বরং আমি তো যায়নাব বিনত জাহ্শ-এর ঘরে মধু পান করেছি এবং পুনরায় কখনো পান করব না। তখন নাযিল হল- (অর্থ) “হে নাবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, আপনি তা হারাম করছেন কেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তি লাভের ব্যবস্হা করেছেন। আল্লাহ তোমাদের সহায়; তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। স্মরণ কর-নাবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নাবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন নবী এ বিষয় কিছু ব্যক্ত করলেন; কিছু অব্যক্ত রাখলেন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা তার সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে তা অবহিত করল? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত। যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে- আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন”- (সূরাহ্ আত্ তাহ্রীমঃ ৬৬ : ১-৪)। এতে “যদি তোমরা উভয়ে তাওবাহ্ কর (অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর) দ্বারা ‘আয়িশাহ্ ও হাফ্সাহ্ (রাঃ) উদ্দেশ্য। এবং “যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের একজনকে তিনি গোপনে কিছু বলেছিলেন”- দ্বারা ‘বরং আমি মধুপান করেছি এবং আর কখনো পান করবো না উদ্দেশ্য”। (ই.ফা. ৩৫৪২, ই.সে. ৩৫৪১)

‘উবায়দ ইবনু ‘উমায়র (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে এ মর্মে হাদীসের খবর প্রদান করতে শুনেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আসর পরবর্তী সময় হুজরা সমূহে আবর্তন কালে) যায়নাব বিনত জাহশ (রাঃ) -এর গৃহে অবস্হান করে সেখানে মধূ পান করেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমি ও হাফ্সাহ্ মিলে এরূপ যুক্তি-পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দু’জনের মাঝে যার কাছেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (প্রথমে) আগমন করবেন সে বলবে- “আমি আপনার মুখে ‘মাগাফীর’-এর দুর্গন্ধ পাচ্ছি।[৬০] আপনি মাগাফীর খেয়েছেন।” পরে তিনি এদের কোন একজনের কাছে গেলে সে তাঁকে অনুরূপ বলল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,... বরং আমি তো যায়নাব বিনত জাহ্শ-এর ঘরে মধু পান করেছি এবং পুনরায় কখনো পান করব না। তখন নাযিল হল- (অর্থ) “হে নাবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, আপনি তা হারাম করছেন কেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তি লাভের ব্যবস্হা করেছেন। আল্লাহ তোমাদের সহায়; তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। স্মরণ কর-নাবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নাবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন নবী এ বিষয় কিছু ব্যক্ত করলেন; কিছু অব্যক্ত রাখলেন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা তার সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে তা অবহিত করল? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত। যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে- আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন”- (সূরাহ্ আত্ তাহ্রীমঃ ৬৬ : ১-৪)। এতে “যদি তোমরা উভয়ে তাওবাহ্ কর (অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর) দ্বারা ‘আয়িশাহ্ ও হাফ্সাহ্ (রাঃ) উদ্দেশ্য। এবং “যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের একজনকে তিনি গোপনে কিছু বলেছিলেন”- দ্বারা ‘বরং আমি মধুপান করেছি এবং আর কখনো পান করবো না উদ্দেশ্য”। (ই.ফা. ৩৫৪২, ই.সে. ৩৫৪১)

وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا حجاج بن محمد، أخبرنا ابن جريج، أخبرني عطاء، أنه سمع عبيد بن عمير، يخبر أنه سمع عائشة، تخبر أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يمكث عند زينب بنت جحش فيشرب عندها عسلا قالت فتواطأت أنا وحفصة أن أيتنا ما دخل عليها النبي صلى الله عليه وسلم فلتقل إني أجد منك ريح مغافير أكلت مغافير فدخل على إحداهما فقالت ذلك له ‏.‏ فقال ‏"‏ بل شربت عسلا عند زينب بنت جحش ولن أعود له ‏"‏ ‏.‏ فنزل ‏{‏ لم تحرم ما أحل الله لك‏}‏ إلى قوله ‏{‏ إن تتوبا‏}‏ لعائشة وحفصة ‏{‏ وإذ أسر النبي إلى بعض أزواجه حديثا‏}‏ لقوله ‏"‏ بل شربت عسلا ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৭১

حدثنا أبو كريب، محمد بن العلاء وهارون بن عبد الله قالا حدثنا أبو أسامة، عن هشام، عن أبيه، عن عائشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب الحلواء والعسل فكان إذا صلى العصر دار على نسائه فيدنو منهن فدخل على حفصة فاحتبس عندها أكثر مما كان يحتبس فسألت عن ذلك فقيل لي أهدت لها امرأة من قومها عكة من عسل فسقت رسول الله صلى الله عليه وسلم منه شربة فقلت أما والله لنحتالن له ‏.‏ فذكرت ذلك لسودة وقلت إذا دخل عليك فإنه سيدنو منك فقولي له يا رسول الله أكلت مغافير فإنه سيقول لك لا ‏.‏ فقولي له ما هذه الريح وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يشتد عليه أن يوجد منه الريح - فإنه سيقول لك سقتني حفصة شربة عسل ‏.‏ فقولي له جرست نحله العرفط وسأقول ذلك له وقوليه أنت يا صفية فلما دخل على سودة قالت تقول سودة والذي لا إله إلا هو لقد كدت أن أبادئه بالذي قلت لي وإنه لعلى الباب فرقا منك فلما دنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت يا رسول الله أكلت مغافير قال ‏"‏ لا ‏"‏ ‏.‏ قالت فما هذه الريح قال ‏"‏ سقتني حفصة شربة عسل ‏"‏ ‏.‏ قالت جرست نحله العرفط ‏.‏ فلما دخل على قلت له مثل ذلك ثم دخل على صفية فقالت بمثل ذلك فلما دخل على حفصة قالت يا رسول الله ألا أسقيك منه قال ‏"‏ لا حاجة لي به ‏"‏ ‏.‏ قالت تقول سودة سبحان الله والله لقد حرمناه ‏.‏ قالت قلت لها اسكتي ‏.‏

হিশামের পিতা (‘উরওয়াহ্) সূত্রে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিষ্ট দ্রব্য (হালুয়া) ও মধু পছন্দ করতেন। তাঁর নিয়ম ছিল- ‘আসরের সলাত আদায়ের পরে স্ত্রীদের ঘরে ঘরে এক চক্কর গিয়ে আসতেন এবং তাদের সান্নিধ্য-সন্নিকটে গমন করতেন। এভাবে তিনি হাফ্সাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে স্বাভাবিক-ভাবে আবদ্ধ থাকার সময়ের চেয়ে অধিক সময় আবদ্ধ রইলেন। আমি (‘আয়িশাহ্) এ বিষয় জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলা হল- তাকে (হাফসাকে) তাঁর গোত্রের কোন মহিলা এক পাত্র মধু হাদিয়া দিয়েছিল। তাই সে তা থেকে কিছু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পান করিয়েছিল। (‘আয়িশাহ্ বলেন) আমি বললাম, ওহে! আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাঁর জন্য কৌশলের ফাঁদ পাতব। আমি বিষয়টি সাওদাহ্-এর সঙ্গে আলোচনা করলাম এবং তাঁকে বললাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমার কাছে আগমন করলে তিনি তো তোমার সন্নিকটে আসবেন, তখন তুমি তাঁকে বলবে, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন। তখন তিনি তো তোমাকে বলবেন- ‘না’। তখন তুমি তাঁকে বলবে, (তবে) এ দুর্গন্ধ কিসের?- আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাবে- এটা ছিল তাঁর কাছে অতি অসহনীয় বিষয়। তখন তিনি তোমাকে বলবেন- হাফসাহ্ আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। তুমি তখন তাঁকে বলবে, ‘ঐ মধুর মৌমাছি- উরফুত (গাছের কষ) চুষেছে।” আর আমিও তাঁকে এভাবেই বলব। আর তুমিও হে সাফিয়্যাহ্! তাই বলবে। পরে যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাওদাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন- ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, সাওদাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনা- “কসম সে সত্তার যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই! তুমি আমাকে যা কিছু বলেছিলে তা তাঁর কাছে প্রকাশ করেই দিচ্ছিলাম প্রায়- তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন দরজায়- তোমার ভয়ে (তা আর করা হল না)। পরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকটবর্তী হলে সে বলল, “হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি বললেন, ‘না’। সে (সাওদাহ্) বলল, “তবে এ ঘ্রাণ কিসের? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাফ্সাহ্ আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। সাওদাহ্ বলল, (তবে-তাই) তার মৌমাছি উরফুত বা মাগাফিরের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেছে।” পরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আগমন করলে আমিও তাঁকে অনুরুপ বললাম। অতঃপর সাফিয়্যাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলে সেও অনুরুপ বলল। পরে (আবার) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাফ্সাহ্-এর নিকট গেলে সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি কি আপনাকে তা পান করতে দিব না? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তার প্রতি আমার কোন চাহিদা নেই।” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, সাওদাহ্ (রাঃ) বলতে লাগল, ‘আল্লাহর কসম! আমরা তো তাকে (একটি প্রিয় পানীয় হতে) বঞ্চিত করে দিয়েছি। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, চুপ থাক। (ই.ফা. ৩৫৪৩, ই.সে. ৩৫৪২)

হিশামের পিতা (‘উরওয়াহ্) সূত্রে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিষ্ট দ্রব্য (হালুয়া) ও মধু পছন্দ করতেন। তাঁর নিয়ম ছিল- ‘আসরের সলাত আদায়ের পরে স্ত্রীদের ঘরে ঘরে এক চক্কর গিয়ে আসতেন এবং তাদের সান্নিধ্য-সন্নিকটে গমন করতেন। এভাবে তিনি হাফ্সাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে স্বাভাবিক-ভাবে আবদ্ধ থাকার সময়ের চেয়ে অধিক সময় আবদ্ধ রইলেন। আমি (‘আয়িশাহ্) এ বিষয় জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলা হল- তাকে (হাফসাকে) তাঁর গোত্রের কোন মহিলা এক পাত্র মধু হাদিয়া দিয়েছিল। তাই সে তা থেকে কিছু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পান করিয়েছিল। (‘আয়িশাহ্ বলেন) আমি বললাম, ওহে! আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাঁর জন্য কৌশলের ফাঁদ পাতব। আমি বিষয়টি সাওদাহ্-এর সঙ্গে আলোচনা করলাম এবং তাঁকে বললাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমার কাছে আগমন করলে তিনি তো তোমার সন্নিকটে আসবেন, তখন তুমি তাঁকে বলবে, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন। তখন তিনি তো তোমাকে বলবেন- ‘না’। তখন তুমি তাঁকে বলবে, (তবে) এ দুর্গন্ধ কিসের?- আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাবে- এটা ছিল তাঁর কাছে অতি অসহনীয় বিষয়। তখন তিনি তোমাকে বলবেন- হাফসাহ্ আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। তুমি তখন তাঁকে বলবে, ‘ঐ মধুর মৌমাছি- উরফুত (গাছের কষ) চুষেছে।” আর আমিও তাঁকে এভাবেই বলব। আর তুমিও হে সাফিয়্যাহ্! তাই বলবে। পরে যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাওদাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন- ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, সাওদাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনা- “কসম সে সত্তার যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই! তুমি আমাকে যা কিছু বলেছিলে তা তাঁর কাছে প্রকাশ করেই দিচ্ছিলাম প্রায়- তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন দরজায়- তোমার ভয়ে (তা আর করা হল না)। পরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকটবর্তী হলে সে বলল, “হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি বললেন, ‘না’। সে (সাওদাহ্) বলল, “তবে এ ঘ্রাণ কিসের? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাফ্সাহ্ আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। সাওদাহ্ বলল, (তবে-তাই) তার মৌমাছি উরফুত বা মাগাফিরের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেছে।” পরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আগমন করলে আমিও তাঁকে অনুরুপ বললাম। অতঃপর সাফিয়্যাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলে সেও অনুরুপ বলল। পরে (আবার) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাফ্সাহ্-এর নিকট গেলে সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি কি আপনাকে তা পান করতে দিব না? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তার প্রতি আমার কোন চাহিদা নেই।” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, সাওদাহ্ (রাঃ) বলতে লাগল, ‘আল্লাহর কসম! আমরা তো তাকে (একটি প্রিয় পানীয় হতে) বঞ্চিত করে দিয়েছি। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, চুপ থাক। (ই.ফা. ৩৫৪৩, ই.সে. ৩৫৪২)

حدثنا أبو كريب، محمد بن العلاء وهارون بن عبد الله قالا حدثنا أبو أسامة، عن هشام، عن أبيه، عن عائشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب الحلواء والعسل فكان إذا صلى العصر دار على نسائه فيدنو منهن فدخل على حفصة فاحتبس عندها أكثر مما كان يحتبس فسألت عن ذلك فقيل لي أهدت لها امرأة من قومها عكة من عسل فسقت رسول الله صلى الله عليه وسلم منه شربة فقلت أما والله لنحتالن له ‏.‏ فذكرت ذلك لسودة وقلت إذا دخل عليك فإنه سيدنو منك فقولي له يا رسول الله أكلت مغافير فإنه سيقول لك لا ‏.‏ فقولي له ما هذه الريح وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يشتد عليه أن يوجد منه الريح - فإنه سيقول لك سقتني حفصة شربة عسل ‏.‏ فقولي له جرست نحله العرفط وسأقول ذلك له وقوليه أنت يا صفية فلما دخل على سودة قالت تقول سودة والذي لا إله إلا هو لقد كدت أن أبادئه بالذي قلت لي وإنه لعلى الباب فرقا منك فلما دنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت يا رسول الله أكلت مغافير قال ‏"‏ لا ‏"‏ ‏.‏ قالت فما هذه الريح قال ‏"‏ سقتني حفصة شربة عسل ‏"‏ ‏.‏ قالت جرست نحله العرفط ‏.‏ فلما دخل على قلت له مثل ذلك ثم دخل على صفية فقالت بمثل ذلك فلما دخل على حفصة قالت يا رسول الله ألا أسقيك منه قال ‏"‏ لا حاجة لي به ‏"‏ ‏.‏ قالت تقول سودة سبحان الله والله لقد حرمناه ‏.‏ قالت قلت لها اسكتي ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৭২

قال أبو إسحاق إبراهيم حدثنا الحسن بن بشر بن القاسم، حدثنا أبو أسامة، بهذا سواء وحدثنيه سويد بن سعيد، حدثنا علي بن مسهر، عن هشام بن عروة، بهذا الإسناد نحوه ‏.‏

আবূ উসামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমাকে অবিকল এ হাদীস শুনিয়েছেন। সূওয়ায়দ ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ‘আলী ইবনু মিস্হার ও হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে ঐ সানাদে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন। (ই.ফা. ৩৫৪৩, ই.সে. ৩৫৪৩)

আবূ উসামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমাকে অবিকল এ হাদীস শুনিয়েছেন। সূওয়ায়দ ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ‘আলী ইবনু মিস্হার ও হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে ঐ সানাদে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন। (ই.ফা. ৩৫৪৩, ই.সে. ৩৫৪৩)

قال أبو إسحاق إبراهيم حدثنا الحسن بن بشر بن القاسم، حدثنا أبو أسامة، بهذا سواء وحدثنيه سويد بن سعيد، حدثنا علي بن مسهر، عن هشام بن عروة، بهذا الإسناد نحوه ‏.‏


সহিহ মুসলিম > ইখ্তিয়ার প্রদান করলে ত্বলাক্বের নিয়্যাত না করলে ত্বলাক্ব হবে না

সহিহ মুসলিম ৩৫৭৬

حدثنا يحيى بن يحيى التميمي، أخبرنا عبثر، عن إسماعيل بن أبي خالد، عن الشعبي، عن مسروق، قال قالت عائشة قد خيرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم نعده طلاقا ‏.‏

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ইখ্‌তিয়ার দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তা ত্বলাক্ব মনে করিনি। (ই.ফা. ৩৫৪৭, ই.সে. ৩৫৪৭)

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ইখ্‌তিয়ার দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তা ত্বলাক্ব মনে করিনি। (ই.ফা. ৩৫৪৭, ই.সে. ৩৫৪৭)

حدثنا يحيى بن يحيى التميمي، أخبرنا عبثر، عن إسماعيل بن أبي خالد، عن الشعبي، عن مسروق، قال قالت عائشة قد خيرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم نعده طلاقا ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৭৮

حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن عاصم، عن الشعبي، عن مسروق، عن عائشة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خير نساءه فلم يكن طلاقا‏.‏

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তা (ইখ্‌তিয়ার প্রদান করা) ত্বলাক্ব বলে গণ্য হয় নি। (ই.ফা. ৩৫৪৯, ই.সে. ৩৫৪৯)

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তা (ইখ্‌তিয়ার প্রদান করা) ত্বলাক্ব বলে গণ্য হয় নি। (ই.ফা. ৩৫৪৯, ই.সে. ৩৫৪৯)

حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن عاصم، عن الشعبي، عن مسروق، عن عائشة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خير نساءه فلم يكن طلاقا‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৭৯

وحدثني إسحاق بن منصور، أخبرنا عبد الرحمن، عن سفيان، عن عاصم الأحول، وإسماعيل بن أبي خالد عن الشعبي، عن مسروق، عن عائشة، قالت خيرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخترناه فلم يعده طلاقا ‏.‏

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদিগকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করেছিলেন। এরপর আমরা তাঁকে গ্রহণ করলাম। এটা আমাদের উপর ত্বলাক্ব বলে গন্য হয় নি। (ই.ফা. ৩৫৫০, ই.সে. ৩৫৫০)

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদিগকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করেছিলেন। এরপর আমরা তাঁকে গ্রহণ করলাম। এটা আমাদের উপর ত্বলাক্ব বলে গন্য হয় নি। (ই.ফা. ৩৫৫০, ই.সে. ৩৫৫০)

وحدثني إسحاق بن منصور، أخبرنا عبد الرحمن، عن سفيان، عن عاصم الأحول، وإسماعيل بن أبي خالد عن الشعبي، عن مسروق، عن عائشة، قالت خيرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخترناه فلم يعده طلاقا ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৮০

حدثنا يحيى بن يحيى، وأبو بكر بن أبي شيبة وأبو كريب قال يحيى أخبرنا وقال الآخران، حدثنا أبو معاوية، عن الأعمش، عن مسلم، عن مسروق، عن عائشة، قالت خيرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخترناه فلم يعددها علينا شيئا ‏.‏

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করেছিলেন। এরপর আমরা তাকে গ্রহণ করলাম। এটা আমাদের উপর ত্বলাক্ব বলে গণ্য হয় নি। (ই.ফা. ৩৫৫১, ই.সে. ৩৫৫১)

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করেছিলেন। এরপর আমরা তাকে গ্রহণ করলাম। এটা আমাদের উপর ত্বলাক্ব বলে গণ্য হয় নি। (ই.ফা. ৩৫৫১, ই.সে. ৩৫৫১)

حدثنا يحيى بن يحيى، وأبو بكر بن أبي شيبة وأبو كريب قال يحيى أخبرنا وقال الآخران، حدثنا أبو معاوية، عن الأعمش، عن مسلم، عن مسروق، عن عائشة، قالت خيرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخترناه فلم يعددها علينا شيئا ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৭৭

وحدثناه أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا علي بن مسهر، عن إسماعيل بن أبي، خالد عن الشعبي، عن مسروق، قال ما أبالي خيرت امرأتي واحدة أو مائة أو ألفا بعد أن تختارني ولقد سألت عائشة فقالت قد خيرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أفكان طلاقا.

মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমার স্ত্রীকে ইখ্‌তিয়ার প্রদানে আমার কোন পরোয়া নেই- একবার শতবার কিংবা হাজারবার যদি সে আমাকে পছন্দ করে থাকে। আর আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করেছিলেন। এতে কি ত্বলাক্ব হয়ে গিয়েছে? (না এতে ত্বলাক্ব হয় নি)। (ই.ফা. ৩৫৪৮, ই.সে. ৩৫৪৮)

মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমার স্ত্রীকে ইখ্‌তিয়ার প্রদানে আমার কোন পরোয়া নেই- একবার শতবার কিংবা হাজারবার যদি সে আমাকে পছন্দ করে থাকে। আর আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করেছিলেন। এতে কি ত্বলাক্ব হয়ে গিয়েছে? (না এতে ত্বলাক্ব হয় নি)। (ই.ফা. ৩৫৪৮, ই.সে. ৩৫৪৮)

وحدثناه أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا علي بن مسهر، عن إسماعيل بن أبي، خالد عن الشعبي، عن مسروق، قال ما أبالي خيرت امرأتي واحدة أو مائة أو ألفا بعد أن تختارني ولقد سألت عائشة فقالت قد خيرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أفكان طلاقا.


সহিহ মুসলিম ৩৫৭৪

حدثنا سريج بن يونس، حدثنا عباد بن عباد، عن عاصم، عن معاذة العدوية، عن عائشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يستأذننا إذا كان في يوم المرأة منا بعد ما نزلت ‏{‏ ترجي من تشاء منهن وتؤوي إليك من تشاء‏}‏ فقالت لها معاذة فما كنت تقولين لرسول الله صلى الله عليه وسلم إذا استأذنك قالت كنت أقول إن كان ذاك إلى لم أوثر أحدا على نفسي ‏.‏

মূ’আযাহ্‌ আল ‘আদাবিয়্যাহ্‌ (রহঃ)-এর সূত্রে ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, “আপনি তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্হান দিতে পারেন”- (সূরাহ্‌ আল আহযাব ৩৩ : ৫১) আয়াত নাযিল হবার পরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন এক স্ত্রীর পালার দিনে (অন্যদের জন্য) আমাদের নিকট হতে অনুমতি চাইতেন। তখন মু’আযাহ্‌ (রহঃ) তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার নিকট অনুমতি চাইলে আপনি তাঁকে কী বলতেন? তিনি বললেন, আমি বলতাম : এ বিষয়টি আমার অধিকারে থাকলে তো কাউকে আমি আমার উপর অগ্রাধিকার দিতাম না। (অর্থাৎ অনুমতি প্রার্থনার বিষয়টি অধিকারমূলক ছিল না। বরং তা ছিল নৈতিক ও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সৌজন্যমূলক আচরণ মাত্র। সুতরাং সেখানে অনুমতি না দেওয়ার অবকাশ ছিল না। অন্যথায় আমি অনুমতি প্রদানে রাযী হতাম না। (ই.ফা. ৩৫৪৫, ই.সে. ৩৫৪৫)

মূ’আযাহ্‌ আল ‘আদাবিয়্যাহ্‌ (রহঃ)-এর সূত্রে ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, “আপনি তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্হান দিতে পারেন”- (সূরাহ্‌ আল আহযাব ৩৩ : ৫১) আয়াত নাযিল হবার পরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন এক স্ত্রীর পালার দিনে (অন্যদের জন্য) আমাদের নিকট হতে অনুমতি চাইতেন। তখন মু’আযাহ্‌ (রহঃ) তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার নিকট অনুমতি চাইলে আপনি তাঁকে কী বলতেন? তিনি বললেন, আমি বলতাম : এ বিষয়টি আমার অধিকারে থাকলে তো কাউকে আমি আমার উপর অগ্রাধিকার দিতাম না। (অর্থাৎ অনুমতি প্রার্থনার বিষয়টি অধিকারমূলক ছিল না। বরং তা ছিল নৈতিক ও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সৌজন্যমূলক আচরণ মাত্র। সুতরাং সেখানে অনুমতি না দেওয়ার অবকাশ ছিল না। অন্যথায় আমি অনুমতি প্রদানে রাযী হতাম না। (ই.ফা. ৩৫৪৫, ই.সে. ৩৫৪৫)

حدثنا سريج بن يونس، حدثنا عباد بن عباد، عن عاصم، عن معاذة العدوية، عن عائشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يستأذننا إذا كان في يوم المرأة منا بعد ما نزلت ‏{‏ ترجي من تشاء منهن وتؤوي إليك من تشاء‏}‏ فقالت لها معاذة فما كنت تقولين لرسول الله صلى الله عليه وسلم إذا استأذنك قالت كنت أقول إن كان ذاك إلى لم أوثر أحدا على نفسي ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৮২

وحدثنا زهير بن حرب، حدثنا روح بن عبادة، حدثنا زكرياء بن إسحاق، حدثنا أبو الزبير، عن جابر بن عبد الله، قال دخل أبو بكر يستأذن على رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد الناس جلوسا ببابه لم يؤذن لأحد منهم - قال - فأذن لأبي بكر فدخل ثم أقبل عمر فاستأذن فأذن له فوجد النبي صلى الله عليه وسلم جالسا حوله نساؤه واجما ساكتا - قال - فقال لأقولن شيئا أضحك النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله لو رأيت بنت خارجة سألتني النفقة فقمت إليها فوجأت عنقها ‏.‏ فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال ‏"‏ هن حولي كما ترى يسألنني النفقة ‏"‏ ‏.‏ فقام أبو بكر إلى عائشة يجأ عنقها فقام عمر إلى حفصة يجأ عنقها كلاهما يقول تسألن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ليس عنده ‏.‏ فقلن والله لا نسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا أبدا ليس عنده ثم اعتزلهن شهرا أو تسعا وعشرين ثم نزلت عليه هذه الآية ‏{‏ يا أيها النبي قل لأزواجك‏}‏ حتى بلغ ‏{‏ للمحسنات منكن أجرا عظيما‏}‏ قال فبدأ بعائشة فقال ‏"‏ يا عائشة إني أريد أن أعرض عليك أمرا أحب أن لا تعجلي فيه حتى تستشيري أبويك ‏"‏ ‏.‏ قالت وما هو يا رسول الله فتلا عليها الآية قالت أفيك يا رسول الله أستشير أبوى بل أختار الله ورسوله والدار الآخرة وأسألك أن لا تخبر امرأة من نسائك بالذي قلت ‏.‏ قال ‏"‏ لا تسألني امرأة منهن إلا أخبرتها إن الله لم يبعثني معنتا ولا متعنتا ولكن بعثني معلما ميسرا ‏"‏ ‏.‏

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) এসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে উপস্হিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি তাঁর দরজায় অনেক লোককে উপবিষ্ট দেখতে পেলেন। তবে তাদের কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করলে তিনি প্রবেশ করলেন। এরপর ‘উমার (রাঃ) এলেন এবং তিনি অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তখন তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হল। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চিন্তাযুক্ত ও নীরব বসে থাকতে দেখলেন আর তখন তাঁর চতুষ্পার্শ্বে তাঁর সহধর্মিনীগণ উপবিষ্টা ছিলেন। তিনি [বর্ণানাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)] বলেন, ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ নিশ্চয়ই আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এমন কথা বলব যা তাঁকে হাসাবে। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি যদি খারিজাহ্‌-এর কন্যাকে [‘উমার (রাঃ)-এর স্ত্রী] আমার কাছে খোরপোষ তলব করতে দেখতেন তাহলে (তৎক্ষণাৎ) আপনি তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে তার স্কন্ধে আঘাত করতেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেসে উঠলেন এবং বললেন, আমার চতূপার্শে তোমরা যাদের দেখতে পাচ্ছ তারা আমার কাছে খোরপোষ দাবী করছে। অমনি আবূ বকর (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর দিকে ছুটলেন এবং তাঁর গর্দানে আঘাত করলেন। ‘উমার (রাঃ) ও দাঁড়িয়ে গেলেন এবং হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ)-এর দিকে অগ্রসর হয়ে তাঁর ঘাড়ে আঘাত করলেন। তাঁরা উভয়ে বললেন, তোমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এমন জিনিস দাবী করছে যা তাঁর কাছে নেই। তখন তাঁরা (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিনীগণ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা আর কখনো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এমন জিনিস চাইব না যা তাঁর কাছে নেই। এরপর তিনি তাঁদের (তাঁর সহধর্মিনীগণের) থেকে একমাস কিংবা ঊনত্রিশ দিন পৃথক রইলেন। এরপর তাঁর প্রতি এই আয়াত নাযিল হল- (অর্থ) “হে নাবী! আপনি আপনার সহধর্মিনীদের বলে দিন, তোমরা যদি পার্থিব জীবনের ভোগ ও এর বিলাসিতা কামনা কর, তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ-বিলাসের ব্যবস্হা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকালকে কামনা কর তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন।” (সূরাহ্ আহযাবঃ ৩৩ : ২৮-২৯)। তিনি [জাবির (রা)] বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আয়িশা (রাঃ)-কে দিয়ে (আয়াতের নির্দেশ তামীল করতে) শুরু করলেন। তখন তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ্‌! আমি তোমার কাছে একটি (শুরত্বপূর্ণ) বিষয়ে আলাপ করতে চাই। তবে সে বিষয়ে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তোমার ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করাই আমি পছন্দ করি। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনার ব্যাপারে আমি কি আমার পিতা-মাতার কাছে পরামর্শ নিতে যাব? (এর কোন প্রয়োজন নেই)। না, বরং আমি আল্লাহ, তাঁর রসূল ও আখিরাতকেই বেছে নিয়েছি। তবে আপনার সকাশে আমার একান্ত নিবেদন, আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীগণের কারো কাছে ব্যক্ত করবেন না। তিনি বললেন, তাঁদের যে কেউ সে বিষয় আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি অবশ্যই তাঁকে তা বলে দিব। কারণ আল্লাহ আমাকে কঠোরতা আরোপকারী ও অত্যাচারীরূপে নয় বরং সহজ পন্হায় (শিক্ষাদানকারী) হিসেবে প্রেরণ করেছেন। (ই.ফা. ৩৫৫৩, ই.সে. ৩৫৫৩)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) এসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে উপস্হিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি তাঁর দরজায় অনেক লোককে উপবিষ্ট দেখতে পেলেন। তবে তাদের কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করলে তিনি প্রবেশ করলেন। এরপর ‘উমার (রাঃ) এলেন এবং তিনি অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তখন তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হল। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চিন্তাযুক্ত ও নীরব বসে থাকতে দেখলেন আর তখন তাঁর চতুষ্পার্শ্বে তাঁর সহধর্মিনীগণ উপবিষ্টা ছিলেন। তিনি [বর্ণানাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)] বলেন, ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ নিশ্চয়ই আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এমন কথা বলব যা তাঁকে হাসাবে। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি যদি খারিজাহ্‌-এর কন্যাকে [‘উমার (রাঃ)-এর স্ত্রী] আমার কাছে খোরপোষ তলব করতে দেখতেন তাহলে (তৎক্ষণাৎ) আপনি তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে তার স্কন্ধে আঘাত করতেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেসে উঠলেন এবং বললেন, আমার চতূপার্শে তোমরা যাদের দেখতে পাচ্ছ তারা আমার কাছে খোরপোষ দাবী করছে। অমনি আবূ বকর (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর দিকে ছুটলেন এবং তাঁর গর্দানে আঘাত করলেন। ‘উমার (রাঃ) ও দাঁড়িয়ে গেলেন এবং হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ)-এর দিকে অগ্রসর হয়ে তাঁর ঘাড়ে আঘাত করলেন। তাঁরা উভয়ে বললেন, তোমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এমন জিনিস দাবী করছে যা তাঁর কাছে নেই। তখন তাঁরা (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিনীগণ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা আর কখনো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এমন জিনিস চাইব না যা তাঁর কাছে নেই। এরপর তিনি তাঁদের (তাঁর সহধর্মিনীগণের) থেকে একমাস কিংবা ঊনত্রিশ দিন পৃথক রইলেন। এরপর তাঁর প্রতি এই আয়াত নাযিল হল- (অর্থ) “হে নাবী! আপনি আপনার সহধর্মিনীদের বলে দিন, তোমরা যদি পার্থিব জীবনের ভোগ ও এর বিলাসিতা কামনা কর, তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ-বিলাসের ব্যবস্হা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকালকে কামনা কর তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন।” (সূরাহ্ আহযাবঃ ৩৩ : ২৮-২৯)। তিনি [জাবির (রা)] বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আয়িশা (রাঃ)-কে দিয়ে (আয়াতের নির্দেশ তামীল করতে) শুরু করলেন। তখন তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ্‌! আমি তোমার কাছে একটি (শুরত্বপূর্ণ) বিষয়ে আলাপ করতে চাই। তবে সে বিষয়ে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তোমার ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করাই আমি পছন্দ করি। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনার ব্যাপারে আমি কি আমার পিতা-মাতার কাছে পরামর্শ নিতে যাব? (এর কোন প্রয়োজন নেই)। না, বরং আমি আল্লাহ, তাঁর রসূল ও আখিরাতকেই বেছে নিয়েছি। তবে আপনার সকাশে আমার একান্ত নিবেদন, আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীগণের কারো কাছে ব্যক্ত করবেন না। তিনি বললেন, তাঁদের যে কেউ সে বিষয় আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি অবশ্যই তাঁকে তা বলে দিব। কারণ আল্লাহ আমাকে কঠোরতা আরোপকারী ও অত্যাচারীরূপে নয় বরং সহজ পন্হায় (শিক্ষাদানকারী) হিসেবে প্রেরণ করেছেন। (ই.ফা. ৩৫৫৩, ই.সে. ৩৫৫৩)

وحدثنا زهير بن حرب، حدثنا روح بن عبادة، حدثنا زكرياء بن إسحاق، حدثنا أبو الزبير، عن جابر بن عبد الله، قال دخل أبو بكر يستأذن على رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد الناس جلوسا ببابه لم يؤذن لأحد منهم - قال - فأذن لأبي بكر فدخل ثم أقبل عمر فاستأذن فأذن له فوجد النبي صلى الله عليه وسلم جالسا حوله نساؤه واجما ساكتا - قال - فقال لأقولن شيئا أضحك النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله لو رأيت بنت خارجة سألتني النفقة فقمت إليها فوجأت عنقها ‏.‏ فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال ‏"‏ هن حولي كما ترى يسألنني النفقة ‏"‏ ‏.‏ فقام أبو بكر إلى عائشة يجأ عنقها فقام عمر إلى حفصة يجأ عنقها كلاهما يقول تسألن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ليس عنده ‏.‏ فقلن والله لا نسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا أبدا ليس عنده ثم اعتزلهن شهرا أو تسعا وعشرين ثم نزلت عليه هذه الآية ‏{‏ يا أيها النبي قل لأزواجك‏}‏ حتى بلغ ‏{‏ للمحسنات منكن أجرا عظيما‏}‏ قال فبدأ بعائشة فقال ‏"‏ يا عائشة إني أريد أن أعرض عليك أمرا أحب أن لا تعجلي فيه حتى تستشيري أبويك ‏"‏ ‏.‏ قالت وما هو يا رسول الله فتلا عليها الآية قالت أفيك يا رسول الله أستشير أبوى بل أختار الله ورسوله والدار الآخرة وأسألك أن لا تخبر امرأة من نسائك بالذي قلت ‏.‏ قال ‏"‏ لا تسألني امرأة منهن إلا أخبرتها إن الله لم يبعثني معنتا ولا متعنتا ولكن بعثني معلما ميسرا ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৭৩

وحدثني أبو الطاهر، حدثنا ابن وهب، ح وحدثني حرملة بن يحيى التجيبي، - واللفظ له - أخبرنا عبد الله بن وهب، أخبرني يونس بن يزيد، عن ابن شهاب، أخبرني أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، أن عائشة، قالت لما أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بتخيير أزواجه بدأ بي فقال ‏"‏ إني ذاكر لك أمرا فلا عليك أن لا تعجلي حتى تستأمري أبويك ‏"‏ ‏.‏ قالت قد علم أن أبوى لم يكونا ليأمراني بفراقه قالت ثم قال ‏"‏ إن الله عز وجل قال ‏{‏ يا أيها النبي قل لأزواجك إن كنتن تردن الحياة الدنيا وزينتها فتعالين أمتعكن وأسرحكن سراحا جميلا * وإن كنتن تردن الله ورسوله والدار الآخرة فإن الله أعد للمحسنات منكن أجرا عظيما‏}‏ قالت فقلت في أى هذا أستأمر أبوى فإني أريد الله ورسوله والدار الآخرة ‏.‏ قالت ثم فعل أزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما فعلت ‏.‏

আবূ সালামাহ্ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রহঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের ইখ্তিয়ার প্রদানে আদিষ্ট হলে বিষয়টি আমাকে দিয়ে সুচনা করলেন। তিনি বললেন, “আমি তোমার কাছে একটি বিষয় উপস্হাপন করছি, তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করা পর্যন্ত তুমি তাতে তাড়াহুড়া না করলে তোমার কোন লোকসান হবে না।” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চিত অবগত ছিলেন যে, আমার মা-বাপ আমাকে তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটাবার পরামর্শ দিতে প্রস্তুত হবেন না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ইখতিয়ারের বিষয়ের বিবরণ প্রদানে) বললেন, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ “হে নাবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলে দিন! তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর, তবে এসো আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্হা করে দেই এবং সৌজন্যের সঙ্গে তোমাদের বিদায় দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও আখিরাত কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন”- (সূরাহ্ আল আহ্যাব ৩৩ : ২৮-২৯)। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ এ ব্যাপারে আবার আমার মা-বাপের সঙ্গে পরামর্শ করব? আমি তো আল্লাহ এবং তাঁর রসূল ও আখিরাতকেই ইখ্তিয়ার করছি”। তিনি বলেন, পরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ তেমনই করেন যেমন আমি করেছিলাম। (ই.ফা. ৩৫৪৪, ই.সে. ৩৫৪৪)

আবূ সালামাহ্ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রহঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের ইখ্তিয়ার প্রদানে আদিষ্ট হলে বিষয়টি আমাকে দিয়ে সুচনা করলেন। তিনি বললেন, “আমি তোমার কাছে একটি বিষয় উপস্হাপন করছি, তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করা পর্যন্ত তুমি তাতে তাড়াহুড়া না করলে তোমার কোন লোকসান হবে না।” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চিত অবগত ছিলেন যে, আমার মা-বাপ আমাকে তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটাবার পরামর্শ দিতে প্রস্তুত হবেন না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ইখতিয়ারের বিষয়ের বিবরণ প্রদানে) বললেন, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ “হে নাবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলে দিন! তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর, তবে এসো আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্হা করে দেই এবং সৌজন্যের সঙ্গে তোমাদের বিদায় দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও আখিরাত কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন”- (সূরাহ্ আল আহ্যাব ৩৩ : ২৮-২৯)। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ এ ব্যাপারে আবার আমার মা-বাপের সঙ্গে পরামর্শ করব? আমি তো আল্লাহ এবং তাঁর রসূল ও আখিরাতকেই ইখ্তিয়ার করছি”। তিনি বলেন, পরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ তেমনই করেন যেমন আমি করেছিলাম। (ই.ফা. ৩৫৪৪, ই.সে. ৩৫৪৪)

وحدثني أبو الطاهر، حدثنا ابن وهب، ح وحدثني حرملة بن يحيى التجيبي، - واللفظ له - أخبرنا عبد الله بن وهب، أخبرني يونس بن يزيد، عن ابن شهاب، أخبرني أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، أن عائشة، قالت لما أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بتخيير أزواجه بدأ بي فقال ‏"‏ إني ذاكر لك أمرا فلا عليك أن لا تعجلي حتى تستأمري أبويك ‏"‏ ‏.‏ قالت قد علم أن أبوى لم يكونا ليأمراني بفراقه قالت ثم قال ‏"‏ إن الله عز وجل قال ‏{‏ يا أيها النبي قل لأزواجك إن كنتن تردن الحياة الدنيا وزينتها فتعالين أمتعكن وأسرحكن سراحا جميلا * وإن كنتن تردن الله ورسوله والدار الآخرة فإن الله أعد للمحسنات منكن أجرا عظيما‏}‏ قالت فقلت في أى هذا أستأمر أبوى فإني أريد الله ورسوله والدار الآخرة ‏.‏ قالت ثم فعل أزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما فعلت ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৭৫

وحدثناه الحسن بن عيسى، أخبرنا ابن المبارك، أخبرنا عاصم، بهذا الإسناد ‏.‏ نحوه ‏.‏

‘আসিম (রহঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

পূর্বোক্ত সানাদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। (ই.ফা. ৩৫৪৬, ই.সে. ৩৫৪৬)

‘আসিম (রহঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

পূর্বোক্ত সানাদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। (ই.ফা. ৩৫৪৬, ই.সে. ৩৫৪৬)

وحدثناه الحسن بن عيسى، أخبرنا ابن المبارك، أخبرنا عاصم، بهذا الإسناد ‏.‏ نحوه ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৮১

وحدثني أبو الربيع الزهراني، حدثنا إسماعيل بن زكرياء، حدثنا الأعمش، عن إبراهيم، عن الأسود، عن عائشة، وعن الأعمش، عن مسلم، عن مسروق، عن عائشة، بمثله‏.‏

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে আসওয়াদ (রহঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

মাসরূক (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ বর্ণিত আছে। (ই.ফা. ৩৫৫২, ই.সে. ৩৫৫২)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে আসওয়াদ (রহঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

মাসরূক (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ বর্ণিত আছে। (ই.ফা. ৩৫৫২, ই.সে. ৩৫৫২)

وحدثني أبو الربيع الزهراني، حدثنا إسماعيل بن زكرياء، حدثنا الأعمش، عن إبراهيم، عن الأسود، عن عائشة، وعن الأعمش، عن مسلم، عن مسروق، عن عائشة، بمثله‏.‏


সহিহ মুসলিম > স্ত্রী হতে দূরে থাকার কসম করা, স্ত্রী হতে বিরত থাকা ও তাদের অবকাশ দেয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার বানী- “যদি তারা যিহারে লিপ্ত হয়” ইত্যাদি প্রসঙ্গে

সহিহ মুসলিম ৩৫৮৫

وحدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عفان، حدثنا حماد بن سلمة، أخبرني يحيى بن، سعيد عن عبيد بن حنين، عن ابن عباس، قال أقبلت مع عمر حتى إذا كنا بمر الظهران ‏.‏ وساق الحديث بطوله كنحو حديث سليمان بن بلال غير أنه قال قلت شأن المرأتين قال حفصة وأم سلمة ‏.‏ وزاد فيه وأتيت الحجر فإذا في كل بيت بكاء ‏.‏ وزاد أيضا وكان آلى منهن شهرا فلما كان تسعا وعشرين نزل إليهن ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে রওনা হয়ে যখন ‘মার্‌রুয্‌ যাহ্‌রান’ নামক স্হানে পৌছলাম, তখন তিনি বিস্তারিতভাবে হাদীস বর্ণনা করেন। সুলায়মান ইবনু বিলাল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য তিনি [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] বলেনঃ আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম, সে দু’জন মহিলার ঘটনা আমাকে বলবেন কি? তিনি বললেন, তারা ছিল হাফ্‌সাহ্‌ ও উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)। তিনি তার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেন যে, ‘এরপর আমি (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর) হুজরার দিকে এলাম তখন সব ঘরেই কান্নাকাটি অব্যাহত ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীগণের সঙ্গে একমাস ঈলা করেছিলেন। যখন ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। তখন তিনি তাদের কাছে ফিরে এলেন। (ই.ফা. ৩৫৫৬, ই.সে. ৩৫৫৬)

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে রওনা হয়ে যখন ‘মার্‌রুয্‌ যাহ্‌রান’ নামক স্হানে পৌছলাম, তখন তিনি বিস্তারিতভাবে হাদীস বর্ণনা করেন। সুলায়মান ইবনু বিলাল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য তিনি [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] বলেনঃ আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম, সে দু’জন মহিলার ঘটনা আমাকে বলবেন কি? তিনি বললেন, তারা ছিল হাফ্‌সাহ্‌ ও উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)। তিনি তার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেন যে, ‘এরপর আমি (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর) হুজরার দিকে এলাম তখন সব ঘরেই কান্নাকাটি অব্যাহত ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীগণের সঙ্গে একমাস ঈলা করেছিলেন। যখন ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। তখন তিনি তাদের কাছে ফিরে এলেন। (ই.ফা. ৩৫৫৬, ই.সে. ৩৫৫৬)

وحدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عفان، حدثنا حماد بن سلمة، أخبرني يحيى بن، سعيد عن عبيد بن حنين، عن ابن عباس، قال أقبلت مع عمر حتى إذا كنا بمر الظهران ‏.‏ وساق الحديث بطوله كنحو حديث سليمان بن بلال غير أنه قال قلت شأن المرأتين قال حفصة وأم سلمة ‏.‏ وزاد فيه وأتيت الحجر فإذا في كل بيت بكاء ‏.‏ وزاد أيضا وكان آلى منهن شهرا فلما كان تسعا وعشرين نزل إليهن ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৮৬

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وزهير بن حرب، - واللفظ لأبي بكر - قالا حدثنا سفيان بن عيينة، عن يحيى بن سعيد، سمع عبيد بن حنين، - وهو مولى العباس - قال سمعت ابن عباس، يقول كنت أريد أن أسأل، عمر عن المرأتين اللتين تظاهرتا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فلبثت سنة ما أجد له موضعا حتى صحبته إلى مكة فلما كان بمر الظهران ذهب يقضي حاجته فقال أدركني بإداوة من ماء فأتيته بها فلما قضى حاجته ورجع ذهبت أصب عليه وذكرت فقلت له يا أمير المؤمنين من المرأتان فما قضيت كلامي حتى قال عائشة وحفصة ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি (দীর্ঘদিন যাবৎ) মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসাছিলাম যে, ঐ দু’জন মহিলা সম্পর্কে ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করব যারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর অপ্রিয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা দান করছিল। আমি একটি বছর অপেক্ষা করলাম কিন্তু আমি তাকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেলাম না। শেষ পর্যন্ত মাক্কায় রওনা হবার পথে আমি তার সফর সঙ্গী হলাম। পথযাত্রায় তিনি যখন ‘মার্‌রুয্‌ যাহ্‌রান’ নামক স্হানে পৌছলেন তখন তিনি তার প্রযোজন পূরণের (ইসতিন্‌জা ইত্যাদির জন্য) ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন। এরপর তিনি বললেন, আমাকে এক বদনা পানি দাও। আমি এক বদনা পানি সহ তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। যখন তিনি হাজত সমাধান করে ফিরে এলেন তখন আমি (ওযূর) পানি ঢেলে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। তখন আমি সেই প্রশ্নের কথা স্মরণে আনলাম। এরপর আমি তাকে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! সে মহিলা দু’জন কারা ছিল? তখন আমার কথা শেষ না হতেই তিনি বললেন, সে দু’জন ছিল ‘আয়িশা (রাঃ) ও হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ)। (ই.ফা. ৩৫৫৭, ই.সে. ৩৫৫৭)

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি (দীর্ঘদিন যাবৎ) মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসাছিলাম যে, ঐ দু’জন মহিলা সম্পর্কে ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করব যারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর অপ্রিয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা দান করছিল। আমি একটি বছর অপেক্ষা করলাম কিন্তু আমি তাকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেলাম না। শেষ পর্যন্ত মাক্কায় রওনা হবার পথে আমি তার সফর সঙ্গী হলাম। পথযাত্রায় তিনি যখন ‘মার্‌রুয্‌ যাহ্‌রান’ নামক স্হানে পৌছলেন তখন তিনি তার প্রযোজন পূরণের (ইসতিন্‌জা ইত্যাদির জন্য) ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন। এরপর তিনি বললেন, আমাকে এক বদনা পানি দাও। আমি এক বদনা পানি সহ তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। যখন তিনি হাজত সমাধান করে ফিরে এলেন তখন আমি (ওযূর) পানি ঢেলে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। তখন আমি সেই প্রশ্নের কথা স্মরণে আনলাম। এরপর আমি তাকে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! সে মহিলা দু’জন কারা ছিল? তখন আমার কথা শেষ না হতেই তিনি বললেন, সে দু’জন ছিল ‘আয়িশা (রাঃ) ও হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ)। (ই.ফা. ৩৫৫৭, ই.সে. ৩৫৫৭)

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وزهير بن حرب، - واللفظ لأبي بكر - قالا حدثنا سفيان بن عيينة، عن يحيى بن سعيد، سمع عبيد بن حنين، - وهو مولى العباس - قال سمعت ابن عباس، يقول كنت أريد أن أسأل، عمر عن المرأتين اللتين تظاهرتا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فلبثت سنة ما أجد له موضعا حتى صحبته إلى مكة فلما كان بمر الظهران ذهب يقضي حاجته فقال أدركني بإداوة من ماء فأتيته بها فلما قضى حاجته ورجع ذهبت أصب عليه وذكرت فقلت له يا أمير المؤمنين من المرأتان فما قضيت كلامي حتى قال عائشة وحفصة ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৮৩

حدثني زهير بن حرب، حدثنا عمر بن يونس الحنفي، حدثنا عكرمة بن عمار، عن سماك أبي زميل، حدثني عبد الله بن عباس، حدثني عمر بن الخطاب، قال لما اعتزل نبي الله صلى الله عليه وسلم نساءه - قال - دخلت المسجد فإذا الناس ينكتون بالحصى ويقولون طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه وذلك قبل أن يؤمرن بالحجاب فقال عمر فقلت لأعلمن ذلك اليوم قال فدخلت على عائشة فقلت يا بنت أبي بكر أقد بلغ من شأنك أن تؤذي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت ما لي وما لك يا ابن الخطاب عليك بعيبتك ‏.‏ قال فدخلت على حفصة بنت عمر فقلت لها يا حفصة أقد بلغ من شأنك أن تؤذي رسول الله صلى الله عليه وسلم والله لقد علمت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحبك ‏.‏ ولولا أنا لطلقك رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فبكت أشد البكاء فقلت لها أين رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت هو في خزانته في المشربة ‏.‏ فدخلت فإذا أنا برباح غلام رسول الله صلى الله عليه وسلم قاعدا على أسكفة المشربة مدل رجليه على نقير من خشب وهو جذع يرقى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وينحدر فناديت يا رباح استأذن لي عندك على رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فنظر رباح إلى الغرفة ثم نظر إلى فلم يقل شيئا ثم قلت يا رباح استأذن لي عندك على رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فنظر رباح إلى الغرفة ثم نظر إلى فلم يقل شيئا ثم رفعت صوتي فقلت يا رباح استأذن لي عندك على رسول الله صلى الله عليه وسلم فإني أظن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ظن أني جئت من أجل حفصة والله لئن أمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم بضرب عنقها لأضربن عنقها ‏.‏ ورفعت صوتي فأومأ إلى أن ارقه فدخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مضطجع على حصير فجلست فأدنى عليه إزاره وليس عليه غيره وإذا الحصير قد أثر في جنبه فنظرت ببصري في خزانة رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا أنا بقبضة من شعير نحو الصاع ومثلها قرظا في ناحية الغرفة وإذا أفيق معلق - قال - فابتدرت عيناى قال ‏"‏ ما يبكيك يا ابن الخطاب ‏"‏ ‏.‏ قلت يا نبي الله وما لي لا أبكي وهذا الحصير قد أثر في جنبك وهذه خزانتك لا أرى فيها إلا ما أرى وذاك قيصر وكسرى في الثمار والأنهار وأنت رسول الله صلى الله عليه وسلم وصفوته وهذه خزانتك ‏.‏ فقال ‏"‏ يا ابن الخطاب ألا ترضى أن تكون لنا الآخرة ولهم الدنيا ‏"‏ ‏.‏ قلت بلى - قال - ودخلت عليه حين دخلت وأنا أرى في وجهه الغضب فقلت يا رسول الله ما يشق عليك من شأن النساء فإن كنت طلقتهن فإن الله معك وملائكته وجبريل وميكائيل وأنا وأبو بكر والمؤمنون معك وقلما تكلمت وأحمد الله بكلام إلا رجوت أن يكون الله يصدق قولي الذي أقول ونزلت هذه الآية آية التخيير ‏{‏ عسى ربه إن طلقكن أن يبدله أزواجا خيرا منكن‏}‏ ‏{‏ وإن تظاهرا عليه فإن الله هو مولاه وجبريل وصالح المؤمنين والملائكة بعد ذلك ظهير‏}‏ وكانت عائشة بنت أبي بكر وحفصة تظاهران على سائر نساء النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله أطلقتهن قال ‏"‏ لا ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله إني دخلت المسجد والمسلمون ينكتون بالحصى يقولون طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه أفأنزل فأخبرهم أنك لم تطلقهن قال ‏"‏ نعم إن شئت ‏"‏ ‏.‏ فلم أزل أحدثه حتى تحسر الغضب عن وجهه وحتى كشر فضحك وكان من أحسن الناس ثغرا ثم نزل نبي الله صلى الله عليه وسلم ونزلت فنزلت أتشبث بالجذع ونزل رسول الله صلى الله عليه وسلم كأنما يمشي على الأرض ما يمسه بيده فقلت يا رسول الله إنما كنت في الغرفة تسعة وعشرين ‏.‏ قال ‏"‏ إن الشهر يكون تسعا وعشرين ‏"‏ ‏.‏ فقمت على باب المسجد فناديت بأعلى صوتي لم يطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه ‏.‏ ونزلت هذه الآية ‏{‏ وإذا جاءهم أمر من الأمن أو الخوف أذاعوا به ولو ردوه إلى الرسول وإلى أولي الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطونه منهم‏}‏ فكنت أنا استنبطت ذلك الأمر وأنزل الله عز وجل آية التخيير ‏.‏

‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগন থেকে সাময়িকভাবে পৃথক হয়ে গেলেন, তখন আমি মাসজিদে নবাবীতে প্রবেশ করলাম। আমি দেখতে পেলাম লোকেরা হাতে কংকর নিযে নাড়াচাড়া করছে (যা দুশ্চিন্তার সময় স্বভাবিকভাবে ঘটে থাকে)। তাঁরা বলাবলি করছিল যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনা ছিল তাঁদের উপর পর্দার নির্দেশ আসার পূর্বেকার। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি আজই প্রকৃত ঘটনা জেনে নিব। তাই আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকটে গেলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে আবূ বাক্‌র তনয়া! তোমার অবস্হা কি এই পর্যায়ে নেমে গিয়েছে যে, তুমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দিচ্ছ? তিনি বললেন, হে খাত্ত্বাবের পূত্র! আমার ব্যাপার নিয়ে আপনি মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? আগে নিজের ঘরের খবর নিন। তিনি বলেন, তখনই আমি হাফ্‌সাহ্‌ বিনতু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে হাফ্‌সাহ্‌! তোমার অবস্হা এই পর্যায়ে গড়িয়েছে যে, তুমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দিচ্ছ? আল্লাহ্‌র কসম! আমি জানতে পেরেছি যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে ভালবাসেন না। আর আমি না হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবশ্যই তোমাকে ত্বলাক্ব দিয়ে দিতেন। একথা শুনে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তখন আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোথায় আছেন? সে [হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ)] বলল, তিনি ঐ চিলেকোঠায় অবস্থান করছেন। আমি সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চৌকাঠটি ছিল খেজুর গাছের কাণ্ড দিয়ে নির্মিত যা দিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠানামা করতেন। আমি রাবাহ-কে ডাকলাম এবং বললাম, হে রাবাহ! আমার জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো। তখন রাবাহ কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল। এরপর আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে কিছুই বলল না। আমি বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। এরপর রাবহা কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল। এরপর আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে এবারও কিছুই বলল না। তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। সে সময় আমি ভেবেছিলাম যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হয়ত ধারণা করছেন আমি আমার কন্যা হাফ্‌সার কারণেই এখানে এসেছি। আল্লাহ কসম! যদি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার গর্দান উড়িয়ে দিবার নির্দেশ দিতেন তাহলে আমি অবশ্যিই তার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। এ সব কথা আমি উচ্চৈঃস্বরেই বলছিলাম। তখন সে (রাবাহ) আমাকে ইশারায় উপরে উঠতে বলল। তখন আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশ করলাম। সে সময় তিনি খেজুর পত্র নির্মিত একটি চাটাইয়ের উপর কাত হয়ে শোয়া ছিলেন। আমি সেখানে বসে পড়লাম। তিনি তাঁর চাদরখানি তাঁর শরীরের উপরে টেনে দিলেন। তখন এটি ছাড়া তাঁর পরনে অন্য কোন কাপড় ছিল না আর বাহুতে চাটাইয়ের দাগ বসে গিয়েছিল। এরপর আমি স্বচক্ষে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামানাদির দিকে তাকালাম। আমি সেখানে একটি পাত্রে এক সা’ (আড়াই কেজি পরিমাণ) এর কাছাকাছি কয়েক মুঠো যব দেখতে পেলাম। অনুরূপ বাবলা জাতীয় গাছের কিছু পাতা (যা দিয়ে চামড়ায় রং করা হয়।) কামরার এক কোণায় পড়ে আছে দেখলাম। আরও দেখতে পেলাম ঝুলন্ত একখানি চামড়া যা পাকানো ছিল না। তখন তিনি বলেন, এই সব দেখে আমার দু’ চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে খাত্ত্বাবের পূত্র! কিসে তোমার কান্না পেয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর নাবী! কেন আমি কাঁদব না। এই যে চাটাই আপনার শরীরের পার্শ্বদেশে দাগ বসিয়ে দিয়েছে। আর এই হচ্ছে আপনার কোষাগার। এখানে সামান্য কিছু যা দেখলাম তা ছাড়া তো আর কিছুই নেই। পক্ষান্তরে ঐ যে রোমক বাদশাহ ও পারস্য সম্রাট, কত বিলাস ব্যসনে ফলমূল ও ঝরণায় পরিবেষ্টিত হয়ে আড়ম্বরপূর্ণ জীবন যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহর রসূল এবং তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। আর আপনার কোষাগার হচ্ছে এই! তখন তিনি বললেন, হে খাত্ত্বাব তনয়! তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নও যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাত আর তাদের জন্য দুনিয়া (পার্থিব ভোগ বিলাস)। আমি বললাম, নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। এরপর ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি যখন প্রবেশ করেছিলাম তখন তাঁর চেহারায় রাগের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনার সহধর্মিনীগণের কোন আচরণ আপনার মনোকষ্টের কারণ হয়েছে কি? আপনি যদি তাঁদের ত্বলাক্ব প্রদান করে থাকেন (তাতে আপনার কিছু আসে যায় না) সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনার সঙ্গে আছেন। তাঁর সকল মালাক, জিব্‌রীল, মীকাঈল, আমি, আবূ বকর (রাঃ) সহ সকল ঈমানদার আপনার সঙ্গে আছেন। তিনি [‘উমার (রাঃ)] বলেন, আল-হামদুলিল্লাহ, আমি যখনই কোন কথা বলি তাতে প্রায়ই আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ আমার কথা সত্য প্রমাণিত করবেন। তখন ইখ্‌তিয়ার সম্পর্কিত এ আয়াত নাযিল হল- “যদি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের সকলকে ত্বলাক্ব দিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে তাকে তোমাদের চাইতে উৎকৃষ্টতর সহধর্মিনী দিবেন।” (সূরাহ্‌ আত্‌ তাহরীম ৬৬ : ৫)। “আর তোমরা দু’জন যদি নাবীর বিরুদ্ধে একে অপরের সাহায্য কর তবে জেনে রাখ, আল্লাহ্‌ই তার বন্ধু এবং জিব্‌রীল (‘আঃ), সৎকর্মপরায়ণ মু’মিনগণও। অধিকন্তু সমস্থ মালায়িকাহ্‌ও তার সাহায্যকারী।” (সূরাহ্‌ আত্‌ তাহরীম ৬৬ : ৪) ‘আয়িশাহ্‌ বিনত আবূ বকর (রাঃ) ও হাফ্‌সাহ্‌ (বিনতু ‘উমার) (রাঃ) এ দু’জন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যান্য সহধর্মিনীগণের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে আসছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তাদের ত্বলাক্ব দিয়েছেন? তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম মুসলিমরা (চিন্তাযুক্ত হয়ে) মাটির কংকর মারছে এবং বলছে যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দিয়ে দিয়েছেন। এখন আমি কি তাদের কাছে গিয়ে জানিয়ে দিব যে, আপনি আপনার সহধর্মিনীদের ত্বলাক্ব দেননি? তিনি বললেন, হাঁ তোমার মনে চাইলে। এভাবে আমি তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে লাগলাম। পরিশেষে দেখলাম তার চেহারা থেকে রাগের ছাপ একেবারে মুছে গেছে এবং তিনি এমনভাবে হাসি দিলেন যে, তার দাঁত দেখা গেল। তাঁর দাঁত ছিল সকলের চাইতে সুন্দর। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান থেকে নিচে নেমে এলেন এবং আমিও খেজুর গাছের কাণ্ড নির্মিত (সিঁড়ির) কাষ্ঠ ধরে নিচে নেমে এলাম। তবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনভাবে নিচে নামলেন যেন তিনি সমতল যমীনে হাঁটছেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে কাণ্ডটি স্পর্শ করেননি। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তো এই বালাখানায় ঊনত্রিশ দিন অবস্হান করছেন। তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। এরপর আমি মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করলাম, তিনি তাঁর সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দেননি। তখন এই আয়াত নাযিল হল- “যখন শাস্তি কিংবা ভয়ের কোন সংবাদ তাদের কাছে আসে তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা বিষয়টি আল্লাহর রসূল এবং নেতৃত্ব স্হানীয় ব্যক্তিদের নিকট উপস্হাপন করত তাহলে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধানী তারা এর যথার্থতা নিরূপণ করতে সক্ষম হত।” মোটকথা আমি [‘উমার (রাযিঃ] এই বিষয়টির সঠিক তথ্য নির্ণয়ে সক্ষম হয়েছিলাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা ইখ্‌তিয়ার সস্পর্কিত আয়াত নাযিল করেন। (ই.ফা. ৩৫৫৪, ই.সে. ৩৫৫৪)

‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগন থেকে সাময়িকভাবে পৃথক হয়ে গেলেন, তখন আমি মাসজিদে নবাবীতে প্রবেশ করলাম। আমি দেখতে পেলাম লোকেরা হাতে কংকর নিযে নাড়াচাড়া করছে (যা দুশ্চিন্তার সময় স্বভাবিকভাবে ঘটে থাকে)। তাঁরা বলাবলি করছিল যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনা ছিল তাঁদের উপর পর্দার নির্দেশ আসার পূর্বেকার। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি আজই প্রকৃত ঘটনা জেনে নিব। তাই আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকটে গেলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে আবূ বাক্‌র তনয়া! তোমার অবস্হা কি এই পর্যায়ে নেমে গিয়েছে যে, তুমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দিচ্ছ? তিনি বললেন, হে খাত্ত্বাবের পূত্র! আমার ব্যাপার নিয়ে আপনি মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? আগে নিজের ঘরের খবর নিন। তিনি বলেন, তখনই আমি হাফ্‌সাহ্‌ বিনতু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে হাফ্‌সাহ্‌! তোমার অবস্হা এই পর্যায়ে গড়িয়েছে যে, তুমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দিচ্ছ? আল্লাহ্‌র কসম! আমি জানতে পেরেছি যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে ভালবাসেন না। আর আমি না হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবশ্যই তোমাকে ত্বলাক্ব দিয়ে দিতেন। একথা শুনে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তখন আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোথায় আছেন? সে [হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ)] বলল, তিনি ঐ চিলেকোঠায় অবস্থান করছেন। আমি সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চৌকাঠটি ছিল খেজুর গাছের কাণ্ড দিয়ে নির্মিত যা দিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠানামা করতেন। আমি রাবাহ-কে ডাকলাম এবং বললাম, হে রাবাহ! আমার জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো। তখন রাবাহ কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল। এরপর আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে কিছুই বলল না। আমি বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। এরপর রাবহা কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল। এরপর আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে এবারও কিছুই বলল না। তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। সে সময় আমি ভেবেছিলাম যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হয়ত ধারণা করছেন আমি আমার কন্যা হাফ্‌সার কারণেই এখানে এসেছি। আল্লাহ কসম! যদি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার গর্দান উড়িয়ে দিবার নির্দেশ দিতেন তাহলে আমি অবশ্যিই তার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। এ সব কথা আমি উচ্চৈঃস্বরেই বলছিলাম। তখন সে (রাবাহ) আমাকে ইশারায় উপরে উঠতে বলল। তখন আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশ করলাম। সে সময় তিনি খেজুর পত্র নির্মিত একটি চাটাইয়ের উপর কাত হয়ে শোয়া ছিলেন। আমি সেখানে বসে পড়লাম। তিনি তাঁর চাদরখানি তাঁর শরীরের উপরে টেনে দিলেন। তখন এটি ছাড়া তাঁর পরনে অন্য কোন কাপড় ছিল না আর বাহুতে চাটাইয়ের দাগ বসে গিয়েছিল। এরপর আমি স্বচক্ষে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামানাদির দিকে তাকালাম। আমি সেখানে একটি পাত্রে এক সা’ (আড়াই কেজি পরিমাণ) এর কাছাকাছি কয়েক মুঠো যব দেখতে পেলাম। অনুরূপ বাবলা জাতীয় গাছের কিছু পাতা (যা দিয়ে চামড়ায় রং করা হয়।) কামরার এক কোণায় পড়ে আছে দেখলাম। আরও দেখতে পেলাম ঝুলন্ত একখানি চামড়া যা পাকানো ছিল না। তখন তিনি বলেন, এই সব দেখে আমার দু’ চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে খাত্ত্বাবের পূত্র! কিসে তোমার কান্না পেয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর নাবী! কেন আমি কাঁদব না। এই যে চাটাই আপনার শরীরের পার্শ্বদেশে দাগ বসিয়ে দিয়েছে। আর এই হচ্ছে আপনার কোষাগার। এখানে সামান্য কিছু যা দেখলাম তা ছাড়া তো আর কিছুই নেই। পক্ষান্তরে ঐ যে রোমক বাদশাহ ও পারস্য সম্রাট, কত বিলাস ব্যসনে ফলমূল ও ঝরণায় পরিবেষ্টিত হয়ে আড়ম্বরপূর্ণ জীবন যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহর রসূল এবং তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। আর আপনার কোষাগার হচ্ছে এই! তখন তিনি বললেন, হে খাত্ত্বাব তনয়! তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নও যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাত আর তাদের জন্য দুনিয়া (পার্থিব ভোগ বিলাস)। আমি বললাম, নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। এরপর ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি যখন প্রবেশ করেছিলাম তখন তাঁর চেহারায় রাগের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনার সহধর্মিনীগণের কোন আচরণ আপনার মনোকষ্টের কারণ হয়েছে কি? আপনি যদি তাঁদের ত্বলাক্ব প্রদান করে থাকেন (তাতে আপনার কিছু আসে যায় না) সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনার সঙ্গে আছেন। তাঁর সকল মালাক, জিব্‌রীল, মীকাঈল, আমি, আবূ বকর (রাঃ) সহ সকল ঈমানদার আপনার সঙ্গে আছেন। তিনি [‘উমার (রাঃ)] বলেন, আল-হামদুলিল্লাহ, আমি যখনই কোন কথা বলি তাতে প্রায়ই আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ আমার কথা সত্য প্রমাণিত করবেন। তখন ইখ্‌তিয়ার সম্পর্কিত এ আয়াত নাযিল হল- “যদি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের সকলকে ত্বলাক্ব দিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে তাকে তোমাদের চাইতে উৎকৃষ্টতর সহধর্মিনী দিবেন।” (সূরাহ্‌ আত্‌ তাহরীম ৬৬ : ৫)। “আর তোমরা দু’জন যদি নাবীর বিরুদ্ধে একে অপরের সাহায্য কর তবে জেনে রাখ, আল্লাহ্‌ই তার বন্ধু এবং জিব্‌রীল (‘আঃ), সৎকর্মপরায়ণ মু’মিনগণও। অধিকন্তু সমস্থ মালায়িকাহ্‌ও তার সাহায্যকারী।” (সূরাহ্‌ আত্‌ তাহরীম ৬৬ : ৪) ‘আয়িশাহ্‌ বিনত আবূ বকর (রাঃ) ও হাফ্‌সাহ্‌ (বিনতু ‘উমার) (রাঃ) এ দু’জন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যান্য সহধর্মিনীগণের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে আসছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তাদের ত্বলাক্ব দিয়েছেন? তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম মুসলিমরা (চিন্তাযুক্ত হয়ে) মাটির কংকর মারছে এবং বলছে যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দিয়ে দিয়েছেন। এখন আমি কি তাদের কাছে গিয়ে জানিয়ে দিব যে, আপনি আপনার সহধর্মিনীদের ত্বলাক্ব দেননি? তিনি বললেন, হাঁ তোমার মনে চাইলে। এভাবে আমি তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে লাগলাম। পরিশেষে দেখলাম তার চেহারা থেকে রাগের ছাপ একেবারে মুছে গেছে এবং তিনি এমনভাবে হাসি দিলেন যে, তার দাঁত দেখা গেল। তাঁর দাঁত ছিল সকলের চাইতে সুন্দর। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান থেকে নিচে নেমে এলেন এবং আমিও খেজুর গাছের কাণ্ড নির্মিত (সিঁড়ির) কাষ্ঠ ধরে নিচে নেমে এলাম। তবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনভাবে নিচে নামলেন যেন তিনি সমতল যমীনে হাঁটছেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে কাণ্ডটি স্পর্শ করেননি। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তো এই বালাখানায় ঊনত্রিশ দিন অবস্হান করছেন। তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। এরপর আমি মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করলাম, তিনি তাঁর সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দেননি। তখন এই আয়াত নাযিল হল- “যখন শাস্তি কিংবা ভয়ের কোন সংবাদ তাদের কাছে আসে তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা বিষয়টি আল্লাহর রসূল এবং নেতৃত্ব স্হানীয় ব্যক্তিদের নিকট উপস্হাপন করত তাহলে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধানী তারা এর যথার্থতা নিরূপণ করতে সক্ষম হত।” মোটকথা আমি [‘উমার (রাযিঃ] এই বিষয়টির সঠিক তথ্য নির্ণয়ে সক্ষম হয়েছিলাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা ইখ্‌তিয়ার সস্পর্কিত আয়াত নাযিল করেন। (ই.ফা. ৩৫৫৪, ই.সে. ৩৫৫৪)

حدثني زهير بن حرب، حدثنا عمر بن يونس الحنفي، حدثنا عكرمة بن عمار، عن سماك أبي زميل، حدثني عبد الله بن عباس، حدثني عمر بن الخطاب، قال لما اعتزل نبي الله صلى الله عليه وسلم نساءه - قال - دخلت المسجد فإذا الناس ينكتون بالحصى ويقولون طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه وذلك قبل أن يؤمرن بالحجاب فقال عمر فقلت لأعلمن ذلك اليوم قال فدخلت على عائشة فقلت يا بنت أبي بكر أقد بلغ من شأنك أن تؤذي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت ما لي وما لك يا ابن الخطاب عليك بعيبتك ‏.‏ قال فدخلت على حفصة بنت عمر فقلت لها يا حفصة أقد بلغ من شأنك أن تؤذي رسول الله صلى الله عليه وسلم والله لقد علمت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحبك ‏.‏ ولولا أنا لطلقك رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فبكت أشد البكاء فقلت لها أين رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت هو في خزانته في المشربة ‏.‏ فدخلت فإذا أنا برباح غلام رسول الله صلى الله عليه وسلم قاعدا على أسكفة المشربة مدل رجليه على نقير من خشب وهو جذع يرقى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وينحدر فناديت يا رباح استأذن لي عندك على رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فنظر رباح إلى الغرفة ثم نظر إلى فلم يقل شيئا ثم قلت يا رباح استأذن لي عندك على رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فنظر رباح إلى الغرفة ثم نظر إلى فلم يقل شيئا ثم رفعت صوتي فقلت يا رباح استأذن لي عندك على رسول الله صلى الله عليه وسلم فإني أظن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ظن أني جئت من أجل حفصة والله لئن أمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم بضرب عنقها لأضربن عنقها ‏.‏ ورفعت صوتي فأومأ إلى أن ارقه فدخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مضطجع على حصير فجلست فأدنى عليه إزاره وليس عليه غيره وإذا الحصير قد أثر في جنبه فنظرت ببصري في خزانة رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا أنا بقبضة من شعير نحو الصاع ومثلها قرظا في ناحية الغرفة وإذا أفيق معلق - قال - فابتدرت عيناى قال ‏"‏ ما يبكيك يا ابن الخطاب ‏"‏ ‏.‏ قلت يا نبي الله وما لي لا أبكي وهذا الحصير قد أثر في جنبك وهذه خزانتك لا أرى فيها إلا ما أرى وذاك قيصر وكسرى في الثمار والأنهار وأنت رسول الله صلى الله عليه وسلم وصفوته وهذه خزانتك ‏.‏ فقال ‏"‏ يا ابن الخطاب ألا ترضى أن تكون لنا الآخرة ولهم الدنيا ‏"‏ ‏.‏ قلت بلى - قال - ودخلت عليه حين دخلت وأنا أرى في وجهه الغضب فقلت يا رسول الله ما يشق عليك من شأن النساء فإن كنت طلقتهن فإن الله معك وملائكته وجبريل وميكائيل وأنا وأبو بكر والمؤمنون معك وقلما تكلمت وأحمد الله بكلام إلا رجوت أن يكون الله يصدق قولي الذي أقول ونزلت هذه الآية آية التخيير ‏{‏ عسى ربه إن طلقكن أن يبدله أزواجا خيرا منكن‏}‏ ‏{‏ وإن تظاهرا عليه فإن الله هو مولاه وجبريل وصالح المؤمنين والملائكة بعد ذلك ظهير‏}‏ وكانت عائشة بنت أبي بكر وحفصة تظاهران على سائر نساء النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله أطلقتهن قال ‏"‏ لا ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله إني دخلت المسجد والمسلمون ينكتون بالحصى يقولون طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه أفأنزل فأخبرهم أنك لم تطلقهن قال ‏"‏ نعم إن شئت ‏"‏ ‏.‏ فلم أزل أحدثه حتى تحسر الغضب عن وجهه وحتى كشر فضحك وكان من أحسن الناس ثغرا ثم نزل نبي الله صلى الله عليه وسلم ونزلت فنزلت أتشبث بالجذع ونزل رسول الله صلى الله عليه وسلم كأنما يمشي على الأرض ما يمسه بيده فقلت يا رسول الله إنما كنت في الغرفة تسعة وعشرين ‏.‏ قال ‏"‏ إن الشهر يكون تسعا وعشرين ‏"‏ ‏.‏ فقمت على باب المسجد فناديت بأعلى صوتي لم يطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه ‏.‏ ونزلت هذه الآية ‏{‏ وإذا جاءهم أمر من الأمن أو الخوف أذاعوا به ولو ردوه إلى الرسول وإلى أولي الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطونه منهم‏}‏ فكنت أنا استنبطت ذلك الأمر وأنزل الله عز وجل آية التخيير ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৮৪

حدثنا هارون بن سعيد الأيلي، حدثنا عبد الله بن وهب، أخبرني سليمان، - يعني ابن بلال - أخبرني يحيى، أخبرني عبيد بن حنين، أنه سمع عبد الله بن عباس، يحدث قال مكثت سنة وأنا أريد، أن أسأل، عمر بن الخطاب عن آية، فما أستطيع أنله حتى خرج حاجا فخرجت معه فلما رجع فكنا ببعض الطريق عدل إلى الأراك لحاجة له فوقفت له حتى فرغ ثم سرت معه فقلت يا أمير المؤمنين من اللتان تظاهرتا على رسول الله صلى الله عليه وسلم من أزواجه فقال تلك حفصة وعائشة ‏.‏ قال فقلت له والله إن كنت لأريد أن أسألك عن هذا منذ سنة فما أستطيع هيبة لك ‏.‏ قال فلا تفعل ما ظننت أن عندي من علم فسلني عنه فإن كنت أعلمه أخبرتك - قال - وقال عمر والله إن كنا في الجاهلية ما نعد للنساء أمرا حتى أنزل الله تعالى فيهن ما أنزل وقسم لهن ما قسم قال فبينما أنا في أمر أأتمره إذ قالت لي امرأتي لو صنعت كذا وكذا فقلت لها وما لك أنت ولما ها هنا وما تكلفك في أمر أريده فقالت لي عجبا لك يا ابن الخطاب ما تريد أن تراجع أنت وإن ابنتك لتراجع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يظل يومه غضبان ‏.‏ قال عمر فآخذ ردائي ثم أخرج مكاني حتى أدخل على حفصة فقلت لها يا بنية إنك لتراجعين رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يظل يومه غضبان ‏.‏ فقالت حفصة والله إنا لنراجعه ‏.‏ فقلت تعلمين أني أحذرك عقوبة الله وغضب رسوله يا بنية لا يغرنك هذه التي قد أعجبها حسنها وحب رسول الله صلى الله عليه وسلم إياها ‏.‏ ثم خرجت حتى أدخل على أم سلمة لقرابتي منها فكلمتها فقالت لي أم سلمة عجبا لك يا ابن الخطاب قد دخلت في كل شىء حتى تبتغي أن تدخل بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وأزواجه ‏.‏ قال فأخذتني أخذا كسرتني عن بعض ما كنت أجد فخرجت من عندها وكان لي صاحب من الأنصار إذا غبت أتاني بالخبر وإذا غاب كنت أنا آتيه بالخبر ونحن حينئذ نتخوف ملكا من ملوك غسان ذكر لنا أنه يريد أن يسير إلينا فقد امتلأت صدورنا منه فأتى صاحبي الأنصاري يدق الباب وقال افتح افتح ‏.‏ فقلت جاء الغساني فقال أشد من ذلك اعتزل رسول الله صلى الله عليه وسلم أزواجه ‏.‏ فقلت رغم أنف حفصة وعائشة ‏.‏ ثم آخذ ثوبي فأخرج حتى جئت فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم في مشربة له يرتقى إليها بعجلة وغلام لرسول الله صلى الله عليه وسلم أسود على رأس الدرجة فقلت هذا عمر ‏.‏ فأذن لي ‏.‏ قال عمر فقصصت على رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا الحديث فلما بلغت حديث أم سلمة تبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وإنه لعلى حصير ما بينه وبينه شىء وتحت رأسه وسادة من أدم حشوها ليف وإن عند رجليه قرظا مضبورا وعند رأسه أهبا معلقة فرأيت أثر الحصير في جنب رسول الله صلى الله عليه وسلم فبكيت فقال ‏"‏ ما يبكيك ‏"‏ ‏.‏ فقلت يا رسول الله إن كسرى وقيصر فيما هما فيه وأنت رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أما ترضى أن تكون لهما الدنيا ولك الآخرة ‏"‏ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ এক বছর যাবত ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলাম যে, একটি আয়াত সম্পর্কে ‘উমার উবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করব। কিন্তু আমি তার গাম্ভীর্যের কারণে তাঁকে জিজ্ঞেস করতে সাহস পাইনি। একবার তিনি হজ্জ পালনের জন্য রওনা হলেন, আমিও তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। যখন আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলছিলাম এই সময় তিনি (প্রকৃতির) প্রয়োজনে পিলুগাছের ঝোপের দিকে গেলেন। আমি তাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনি তাঁর প্রয়োজন পূরণ করে ফিরে এলেন। এরপর আমি তাঁর সঙ্গে রওনা করলাম। (এক সুযোগ পেয়ে) আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিনীগণের মধ্যে থেকে কোন্‌ দু’জন তাঁর অপ্রিয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করেছিল? তিনি বললেন, তারা ছিল হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ) ও ‘আয়িশা (রাঃ)। তিনি [‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] বলেন, আমি তাঁকে [‘উমার (রাঃ)-কে] বললামঃ আল্লাহ্‌র কসম! দীর্ঘ এক বছর যাবত এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করব বলে মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসাছিলাম, কিন্তু আপনার ভয়ের কারণে সাহস পাইনি। তিনি [‘উমার রা)] বললেন, কখনো এরূপ করবে না বরং আমার কাছে কোন বিষয়ের জ্ঞান আছে বলে তোমার ধারণা হলে তুমি অবশ্যই সে সম্পর্কে আমার কাছে জিজ্ঞেস করে জেনে নিবে। যদি তা আমার জানা থাকে তাহলে তোমাকে অবহিত করবই। রাবী [‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] বলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! জাহিলিয়্যাত যুগে আমরা নারী জাতির জন্য কোন অধিকার স্বীকার করতাম না। এরপর আল্লাহ তাদের অধিকার সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করার অবতীর্ণ করলেন এবং তাদের জন্য যা নির্ধারণের ছিল তা নির্ধারণ করে দিলেন। তিনি বলেন, আমি কোন একদিন এক বিষয়ে চিন্তা করছিলাম। এমন সময় আমার স্ত্রী আমার কাছে এসে বলল, আপনি যদি এরূপ এরূপ করতেন তাহলে বেশ ভাল হত। আমি তাকে বললাম, তোমার কী হয়েছে? তুমি এখানে এলে কেন? আমি যে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি তাতে তুমি নাক গলাচ্ছ কেন? তখন সে বলল, হে খাত্ত্বাবের পূত্র! আপনি তো আমাকে মুখ খুলতেই দিচ্ছেন না, কী আশ্চর্য! অথচ আপনার (স্নেহের) কন্যাটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে প্রতি উত্তর করে, যার ফলে তিনি সারা দিন রাগান্বিত অবস্হায় অতিবাহিত করেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, এরপর আমি (তড়িঘড়ি) আমার চাদর গুটিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম এবং সোজা হাফ্‌সার কাছে পৌছলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে আমার কন্যা! তুমি নাকি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথার প্রত্যুত্তর করে থাক, যাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সারা দিন রাগান্বিত থাকেন? হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! আমরা সত্যিই তাঁর কথার প্রত্যুত্তর দিয়ে থাকি। তখন আমি বললাম, জেনে রাখ! আমি তোমাকে আল্লাহ্‌র শাস্তির ও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসন্তুষ্টির ভীতি প্রদর্শন করছি। হে আমার কন্যা! ঐ মেয়েটি যেন তোমাকে ধোঁকায় ফেলতে না পারে যাকে তাঁর সৌন্দর্য ও তার প্রতি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুরাগ গর্বিতা করে ফেলেছে [এর দ্বারা তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বুঝাতে চেয়েছেন]। এরপর আমি সেখানে থেকে বেরিয়ে উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তাঁর সাথে আমার আত্মীয়তার সস্পর্ক ছিল। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বললাম। তখন উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ) আমাকে বললেন, কী আশ্চার্য! হে খাত্ত্বাবের পূত্র! তুমি সব কিছুতেই দখল নিতে চাচ্ছ? এমন কি তুমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সহধর্মিনীগণের মধ্যকার বিষয়ে দখল নিতে চাচ্ছ? তিনি বলেন, এই বিষয়ে উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)-এর কথা আমাকে এমনভাবে জব্দ করল যে, আমি হতোদ্যম হয়ে পড়লাম। তাই আমি তার নিকট হতে কেটে পড়লাম। এদিকে আমার একজন আনসারী বন্ধু ছিলেন। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মজলিসে অনুপস্হিত থাকলে তিনি আমাকে জানাতেন এবং তিনি তাঁর মজলিসে অনুপস্হিত থাকলে আমি তার কাছে এসে তাকে (আলোচ্য বিষয়ে) জানাতাম। সে সময়ে আমরা জনৈক গাস্‌সানী বাদশার আক্রমণের আশংকা করছিলাম। কারণ তখন আমাদের মাঝে সংবাদ (শুজব) ছড়িয়ে পড়েছিল যে, সে আমাদের উপর হামলার পাঁয়তারা করছে তাই ভয়-ভীতি ও দুশ্চিন্তায় আমাদের অন্তর ছিল আচছন্ন। ইত্যবসরে আমার আনসারী বন্ধুটি এসে দরজা খটখটাতে লাগলেন এবং বললেন, খুলে দিন! আমি বললাম, তাহলে গাস্‌সানীরা কি এসেই পড়ল। তিনি (আমার আনসারী বন্ধুটি) বললেন, (না, গাস্‌সানীরা আসেনি) তবে তার চাইতেও সাংঘাতিক কিছু। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দিয়েছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তখন আমি বললাম, হাফ্‌সাহ্‌ ও ‘আয়িশার নাক ধূলোয় মলিন হোক। এরপর আমি আমার কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম এবং ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলাম। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর বালাখানায় দেখতে পেলাম। সেটা ছিল এমন ছাদযুক্ত কামরা যাতে খেজুর কাণ্ড নির্মিত সিড়ি বেয়ে উঠতে হত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক সিঁড়ির কামরার দরজায় পাহাড়ারত ছিল। তখন আমি তাকে বললাম, আমি ‘উমার। আমাকে অনুমতি এনে দাও। সে অনুমতি নিয়ে এলে আমি ভিতরে প্রবেশ করে এই ঘটনা বিশদভাবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে খুলে বললাম। আমি যখন উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)-এর ঘটনা পর্যন্ত পৌছলাম, তখন তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তিনি তখন একটি সাদামাটা চাটাইয়ের উপর (কাত হয়ে শায়িত) ছিলেন, তাঁর ও চাটাইয়ের মাঝখানে অন্য কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল চামড়ার তৈরি একটি বালিশ যার মধ্যে খেজুর গাছের ছাল ভর্তি ছিল। তাঁর পায়ের কাছে ছিল স্তুপীকৃত বাবলা জাতীয় গাছের কিছু পাতা এবং শিয়রের কাছে ঝুলন্ত ছিল একটি কাঁচা চামড়া। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরীরের পার্শ্বদেশে চাটাই-এর দাগ দেখতে পেলাম, এতে আমি কাঁদলাম। তিনি বললেন, (হে খাত্ত্বাব তনয়) তুমি কাঁদছ কেন? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! পারস্য সম্রাট ও রোমক সম্রটি কত বিলাসব্যসনে কাটাচ্ছে আর আপনি হলেন আল্লাহ্‌র রসূল, (আপনার অবস্হা এই)। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (হে ‘উমার) তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নয় যে, তাদের জন্য কেবল দুনিয়া (পার্থিব ভোগ-বিলাস) আর তোমার জন্য রয়েছে আখিরাত (চিরস্হায়ী সুখ শান্তি)। (ই.ফা. ৩৫৫৫, ই.সে. ৩৫৫৫)

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ এক বছর যাবত ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলাম যে, একটি আয়াত সম্পর্কে ‘উমার উবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করব। কিন্তু আমি তার গাম্ভীর্যের কারণে তাঁকে জিজ্ঞেস করতে সাহস পাইনি। একবার তিনি হজ্জ পালনের জন্য রওনা হলেন, আমিও তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। যখন আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলছিলাম এই সময় তিনি (প্রকৃতির) প্রয়োজনে পিলুগাছের ঝোপের দিকে গেলেন। আমি তাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনি তাঁর প্রয়োজন পূরণ করে ফিরে এলেন। এরপর আমি তাঁর সঙ্গে রওনা করলাম। (এক সুযোগ পেয়ে) আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিনীগণের মধ্যে থেকে কোন্‌ দু’জন তাঁর অপ্রিয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করেছিল? তিনি বললেন, তারা ছিল হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ) ও ‘আয়িশা (রাঃ)। তিনি [‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] বলেন, আমি তাঁকে [‘উমার (রাঃ)-কে] বললামঃ আল্লাহ্‌র কসম! দীর্ঘ এক বছর যাবত এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করব বলে মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসাছিলাম, কিন্তু আপনার ভয়ের কারণে সাহস পাইনি। তিনি [‘উমার রা)] বললেন, কখনো এরূপ করবে না বরং আমার কাছে কোন বিষয়ের জ্ঞান আছে বলে তোমার ধারণা হলে তুমি অবশ্যই সে সম্পর্কে আমার কাছে জিজ্ঞেস করে জেনে নিবে। যদি তা আমার জানা থাকে তাহলে তোমাকে অবহিত করবই। রাবী [‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] বলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! জাহিলিয়্যাত যুগে আমরা নারী জাতির জন্য কোন অধিকার স্বীকার করতাম না। এরপর আল্লাহ তাদের অধিকার সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করার অবতীর্ণ করলেন এবং তাদের জন্য যা নির্ধারণের ছিল তা নির্ধারণ করে দিলেন। তিনি বলেন, আমি কোন একদিন এক বিষয়ে চিন্তা করছিলাম। এমন সময় আমার স্ত্রী আমার কাছে এসে বলল, আপনি যদি এরূপ এরূপ করতেন তাহলে বেশ ভাল হত। আমি তাকে বললাম, তোমার কী হয়েছে? তুমি এখানে এলে কেন? আমি যে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি তাতে তুমি নাক গলাচ্ছ কেন? তখন সে বলল, হে খাত্ত্বাবের পূত্র! আপনি তো আমাকে মুখ খুলতেই দিচ্ছেন না, কী আশ্চর্য! অথচ আপনার (স্নেহের) কন্যাটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে প্রতি উত্তর করে, যার ফলে তিনি সারা দিন রাগান্বিত অবস্হায় অতিবাহিত করেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, এরপর আমি (তড়িঘড়ি) আমার চাদর গুটিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম এবং সোজা হাফ্‌সার কাছে পৌছলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে আমার কন্যা! তুমি নাকি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথার প্রত্যুত্তর করে থাক, যাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সারা দিন রাগান্বিত থাকেন? হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! আমরা সত্যিই তাঁর কথার প্রত্যুত্তর দিয়ে থাকি। তখন আমি বললাম, জেনে রাখ! আমি তোমাকে আল্লাহ্‌র শাস্তির ও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসন্তুষ্টির ভীতি প্রদর্শন করছি। হে আমার কন্যা! ঐ মেয়েটি যেন তোমাকে ধোঁকায় ফেলতে না পারে যাকে তাঁর সৌন্দর্য ও তার প্রতি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুরাগ গর্বিতা করে ফেলেছে [এর দ্বারা তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বুঝাতে চেয়েছেন]। এরপর আমি সেখানে থেকে বেরিয়ে উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তাঁর সাথে আমার আত্মীয়তার সস্পর্ক ছিল। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বললাম। তখন উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ) আমাকে বললেন, কী আশ্চার্য! হে খাত্ত্বাবের পূত্র! তুমি সব কিছুতেই দখল নিতে চাচ্ছ? এমন কি তুমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সহধর্মিনীগণের মধ্যকার বিষয়ে দখল নিতে চাচ্ছ? তিনি বলেন, এই বিষয়ে উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)-এর কথা আমাকে এমনভাবে জব্দ করল যে, আমি হতোদ্যম হয়ে পড়লাম। তাই আমি তার নিকট হতে কেটে পড়লাম। এদিকে আমার একজন আনসারী বন্ধু ছিলেন। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মজলিসে অনুপস্হিত থাকলে তিনি আমাকে জানাতেন এবং তিনি তাঁর মজলিসে অনুপস্হিত থাকলে আমি তার কাছে এসে তাকে (আলোচ্য বিষয়ে) জানাতাম। সে সময়ে আমরা জনৈক গাস্‌সানী বাদশার আক্রমণের আশংকা করছিলাম। কারণ তখন আমাদের মাঝে সংবাদ (শুজব) ছড়িয়ে পড়েছিল যে, সে আমাদের উপর হামলার পাঁয়তারা করছে তাই ভয়-ভীতি ও দুশ্চিন্তায় আমাদের অন্তর ছিল আচছন্ন। ইত্যবসরে আমার আনসারী বন্ধুটি এসে দরজা খটখটাতে লাগলেন এবং বললেন, খুলে দিন! আমি বললাম, তাহলে গাস্‌সানীরা কি এসেই পড়ল। তিনি (আমার আনসারী বন্ধুটি) বললেন, (না, গাস্‌সানীরা আসেনি) তবে তার চাইতেও সাংঘাতিক কিছু। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দিয়েছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তখন আমি বললাম, হাফ্‌সাহ্‌ ও ‘আয়িশার নাক ধূলোয় মলিন হোক। এরপর আমি আমার কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম এবং ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলাম। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর বালাখানায় দেখতে পেলাম। সেটা ছিল এমন ছাদযুক্ত কামরা যাতে খেজুর কাণ্ড নির্মিত সিড়ি বেয়ে উঠতে হত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক সিঁড়ির কামরার দরজায় পাহাড়ারত ছিল। তখন আমি তাকে বললাম, আমি ‘উমার। আমাকে অনুমতি এনে দাও। সে অনুমতি নিয়ে এলে আমি ভিতরে প্রবেশ করে এই ঘটনা বিশদভাবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে খুলে বললাম। আমি যখন উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)-এর ঘটনা পর্যন্ত পৌছলাম, তখন তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তিনি তখন একটি সাদামাটা চাটাইয়ের উপর (কাত হয়ে শায়িত) ছিলেন, তাঁর ও চাটাইয়ের মাঝখানে অন্য কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল চামড়ার তৈরি একটি বালিশ যার মধ্যে খেজুর গাছের ছাল ভর্তি ছিল। তাঁর পায়ের কাছে ছিল স্তুপীকৃত বাবলা জাতীয় গাছের কিছু পাতা এবং শিয়রের কাছে ঝুলন্ত ছিল একটি কাঁচা চামড়া। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরীরের পার্শ্বদেশে চাটাই-এর দাগ দেখতে পেলাম, এতে আমি কাঁদলাম। তিনি বললেন, (হে খাত্ত্বাব তনয়) তুমি কাঁদছ কেন? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! পারস্য সম্রাট ও রোমক সম্রটি কত বিলাসব্যসনে কাটাচ্ছে আর আপনি হলেন আল্লাহ্‌র রসূল, (আপনার অবস্হা এই)। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (হে ‘উমার) তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নয় যে, তাদের জন্য কেবল দুনিয়া (পার্থিব ভোগ-বিলাস) আর তোমার জন্য রয়েছে আখিরাত (চিরস্হায়ী সুখ শান্তি)। (ই.ফা. ৩৫৫৫, ই.সে. ৩৫৫৫)

حدثنا هارون بن سعيد الأيلي، حدثنا عبد الله بن وهب، أخبرني سليمان، - يعني ابن بلال - أخبرني يحيى، أخبرني عبيد بن حنين، أنه سمع عبد الله بن عباس، يحدث قال مكثت سنة وأنا أريد، أن أسأل، عمر بن الخطاب عن آية، فما أستطيع أنله حتى خرج حاجا فخرجت معه فلما رجع فكنا ببعض الطريق عدل إلى الأراك لحاجة له فوقفت له حتى فرغ ثم سرت معه فقلت يا أمير المؤمنين من اللتان تظاهرتا على رسول الله صلى الله عليه وسلم من أزواجه فقال تلك حفصة وعائشة ‏.‏ قال فقلت له والله إن كنت لأريد أن أسألك عن هذا منذ سنة فما أستطيع هيبة لك ‏.‏ قال فلا تفعل ما ظننت أن عندي من علم فسلني عنه فإن كنت أعلمه أخبرتك - قال - وقال عمر والله إن كنا في الجاهلية ما نعد للنساء أمرا حتى أنزل الله تعالى فيهن ما أنزل وقسم لهن ما قسم قال فبينما أنا في أمر أأتمره إذ قالت لي امرأتي لو صنعت كذا وكذا فقلت لها وما لك أنت ولما ها هنا وما تكلفك في أمر أريده فقالت لي عجبا لك يا ابن الخطاب ما تريد أن تراجع أنت وإن ابنتك لتراجع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يظل يومه غضبان ‏.‏ قال عمر فآخذ ردائي ثم أخرج مكاني حتى أدخل على حفصة فقلت لها يا بنية إنك لتراجعين رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يظل يومه غضبان ‏.‏ فقالت حفصة والله إنا لنراجعه ‏.‏ فقلت تعلمين أني أحذرك عقوبة الله وغضب رسوله يا بنية لا يغرنك هذه التي قد أعجبها حسنها وحب رسول الله صلى الله عليه وسلم إياها ‏.‏ ثم خرجت حتى أدخل على أم سلمة لقرابتي منها فكلمتها فقالت لي أم سلمة عجبا لك يا ابن الخطاب قد دخلت في كل شىء حتى تبتغي أن تدخل بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وأزواجه ‏.‏ قال فأخذتني أخذا كسرتني عن بعض ما كنت أجد فخرجت من عندها وكان لي صاحب من الأنصار إذا غبت أتاني بالخبر وإذا غاب كنت أنا آتيه بالخبر ونحن حينئذ نتخوف ملكا من ملوك غسان ذكر لنا أنه يريد أن يسير إلينا فقد امتلأت صدورنا منه فأتى صاحبي الأنصاري يدق الباب وقال افتح افتح ‏.‏ فقلت جاء الغساني فقال أشد من ذلك اعتزل رسول الله صلى الله عليه وسلم أزواجه ‏.‏ فقلت رغم أنف حفصة وعائشة ‏.‏ ثم آخذ ثوبي فأخرج حتى جئت فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم في مشربة له يرتقى إليها بعجلة وغلام لرسول الله صلى الله عليه وسلم أسود على رأس الدرجة فقلت هذا عمر ‏.‏ فأذن لي ‏.‏ قال عمر فقصصت على رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا الحديث فلما بلغت حديث أم سلمة تبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وإنه لعلى حصير ما بينه وبينه شىء وتحت رأسه وسادة من أدم حشوها ليف وإن عند رجليه قرظا مضبورا وعند رأسه أهبا معلقة فرأيت أثر الحصير في جنب رسول الله صلى الله عليه وسلم فبكيت فقال ‏"‏ ما يبكيك ‏"‏ ‏.‏ فقلت يا رسول الله إن كسرى وقيصر فيما هما فيه وأنت رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أما ترضى أن تكون لهما الدنيا ولك الآخرة ‏"‏ ‏.‏


সহিহ মুসলিম ৩৫৮৭

وحدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، ومحمد بن أبي عمر، - وتقاربا في لفظ الحديث - قال ابن أبي عمر حدثنا وقال، إسحاق أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن أبي ثور، عن ابن عباس، قال لم أزل حريصا أنأسأل عمر عن المرأتين من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتين قال الله تعالى ‏{‏إن تتوبا إلى الله فقد صغت قلوبكما‏}‏ حتى حج عمر وحججت معه فلما كنا ببعض الطريق عدل عمر وعدلت معه بالإداوة فتبرز ثم أتاني فسكبت على يديه فتوضأ فقلت يا أمير المؤمنين من المرأتان من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتان قال الله عز وجل لهما ‏{‏ إن تتوبا إلى الله فقد صغت قلوبكما‏}‏ قال عمر واعجبا لك يا ابن عباس - قال الزهري كره والله ما سأله عنه ولم يكتمه - قال هي حفصة وعائشة ‏.‏ ثم أخذ يسوق الحديث قال كنا معشر قريش قوما نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساؤهم فطفق نساؤنا يتعلمن من نسائهم - قال - وكان منزلي في بني أمية بن زيد بالعوالي فتغضبت يوما على امرأتي فإذا هي تراجعني فأنكرت أن تراجعني ‏.‏ فقالت ما تنكر أن أراجعك فوالله إن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره إحداهن اليوم إلى الليل ‏.‏ فانطلقت فدخلت على حفصة فقلت أتراجعين رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت نعم ‏.‏ فقلت أتهجره إحداكن اليوم إلى الليل قالت نعم ‏.‏ قلت قد خاب من فعل ذلك منكن وخسر أفتأمن إحداكن أن يغضب الله عليها لغضب رسوله صلى الله عليه وسلم فإذا هي قد هلكت لا تراجعي رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تسأليه شيئا وسليني ما بدا لك ولا يغرنك أن كانت جارتك هي أوسم وأحب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم منك - يريد عائشة - قال وكان لي جار من الأنصار فكنا نتناوب النزول إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فينزل يوما وأنزل يوما فيأتيني بخبر الوحى وغيره وآتيه بمثل ذلك وكنا نتحدث أن غسان تنعل الخيل لتغزونا فنزل صاحبي ثم أتاني عشاء فضرب بابي ثم ناداني فخرجت إليه فقال حدث أمر عظيم ‏.‏ قلت ماذا أجاءت غسان قال لا بل أعظم من ذلك وأطول طلق النبي صلى الله عليه وسلم نساءه ‏.‏ فقلت قد خابت حفصة وخسرت قد كنت أظن هذا كائنا حتى إذا صليت الصبح شددت على ثيابي ثم نزلت فدخلت على حفصة وهى تبكي فقلت أطلقكن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت لا أدري ها هو ذا معتزل في هذه المشربة ‏.‏ فأتيت غلاما له أسود فقلت استأذن لعمر ‏.‏ فدخل ثم خرج إلى فقال قد ذكرتك له فصمت فانطلقت حتى انتهيت إلى المنبر فجلست فإذا عنده رهط جلوس يبكي بعضهم فجلست قليلا ثم غلبني ما أجد ثم أتيت الغلام فقلت استأذن لعمر ‏.‏ فدخل ثم خرج إلى ‏.‏ فقال قد ذكرتك له فصمت ‏.‏ فوليت مدبرا فإذا الغلام يدعوني فقال ادخل فقد أذن لك فدخلت فسلمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا هو متكئ على رمل حصير قد أثر في جنبه فقلت أطلقت يا رسول الله نساءك فرفع رأسه إلى وقال ‏"‏ لا ‏"‏ ‏.‏ فقلت الله أكبر لو رأيتنا يا رسول الله وكنا معشر قريش قوما نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساؤهم فطفق نساؤنا يتعلمن من نسائهم فتغضبت على امرأتي يوما فإذا هي تراجعني فأنكرت أن تراجعني ‏.‏ فقالت ما تنكر أن أراجعك فوالله إن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره إحداهن اليوم إلى الليل ‏.‏ فقلت قد خاب من فعل ذلك منهن وخسر أفتأمن إحداهن أن يغضب الله عليها لغضب رسوله صلى الله عليه وسلم فإذا هي قد هلكت فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله قد دخلت على حفصة فقلت لا يغرنك أن كانت جارتك هي أوسم منك وأحب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم منك ‏.‏ فتبسم أخرى فقلت أستأنس يا رسول الله ‏.‏ قال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ فجلست فرفعت رأسي في البيت فوالله ما رأيت فيه شيئا يرد البصر إلا أهبا ثلاثة فقلت ادع الله يا رسول الله أن يوسع على أمتك فقد وسع على فارس والروم وهم لا يعبدون الله فاستوى جالسا ثم قال ‏"‏ أفي شك أنت يا ابن الخطاب أولئك قوم عجلت لهم طيباتهم في الحياة الدنيا ‏"‏ ‏.‏ فقلت استغفر لي يا رسول الله ‏.‏ وكان أقسم أن لا يدخل عليهن شهرا من شدة موجدته عليهن ‏‏ حتى عاتبه الله عز وجل

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্ত্রীগণের মধ্যে থেকে যে দু’জন মহিলা সম্পর্কে ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার জন্য বহুদিন যাবৎ আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলাম যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমাদের দু’জনের হৃদয় অন্যায় প্রবণ হয়েছে মনে করে তোমরা যদি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আসো তাহলে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন”। (সূরাহ্‌ আত্‌ তাহরীম ৬৬ : ৪) পরিশেষে ‘উমার (রাঃ) হাজ্জ পালনের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং আমিও হাজ্জ পালনের জন্য তাঁর সফরসঙ্গী হলাম। এরপর (হাজ্জ সমাপন করে ফেরার পথে) আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলার সময় ‘উমার (রাঃ) এক পার্শ্বে মোড় নিলেন। আমিও পানির বদনাসহ তাঁর সঙ্গে রাস্তার পাশে গেলাম। তিনি তাঁর হাজত পূরণ করলেন এবং আমার কাছে এলেন। আমি তাঁর উভয় হাতে পানি ঢাললাম, তিনি ওযু করে নিলেন। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের সে দুজন মহিলা কারা ছিলো যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ ‘উমার (রাঃ)বললেন, হে ইবনু ‘আব্বাস! এতো তোমার জন্য আশ্চর্যের বিষয় বলে মনে হচ্ছে (তুমি এত বিলম্বে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কেন?) যুহরী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি [‘উমার (রাঃ)] জিজ্ঞাসিত বিষয়টি (ইবনু ‘আব্বাসের এ বিষয়ে বিলম্বে প্রশ্ন করাকে) অপছন্দ করলেও তা বর্ণনা করতে কিছুই গোপন করলেন না। তিনি বললেন, তাঁরা দুজন ছিল হাফ্‌সাহ্‌ ও ‘আয়িশা (রাঃ)। এরপর তিনি ঘটনার বিবরণ দিতে লাগলেন। তিনি বললেন, আমরা কুরায়শ বংশের লোকেরা (জাহিলিয়্যাত যুগে) আমাদের স্ত্রীদের উপর প্রভুত্ব করে চলতাম। যখন আমরা মাদীনায় এলাম তখন এমন লোকদের দেখতে পেলাম যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভাব বিস্তার করছিল। এমনি পরিবেশে আমাদের নারীরা তাদের (মাদীনাহ্‌বাসীদের) নারীদের অভ্যাস রপ্ত করতে শুরু করে দেয়। তিনি বলেন, সে সময় মাদীনার উচ্চভূমির অধিবাসী বানূ উমাইয়্যাহ্‌ ইবনু যায়দের বংশধরদের মধ্যে আমার বসতবাটি ছিল। এরপর একদিন আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হলাম। সে আমার কথার প্রত্যুত্তর করতে লাগল। আমি আমার সঙ্গে তার প্রত্যুত্তর করাকে খুবই অপ্রিয় মনে করলাম। সে বলল, আপনার সঙ্গে আমার কথার প্রত্যুত্তর করাকে অপছন্দ করছেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণও তো তাঁর সঙ্গে কথার প্রত্যুত্তর করে থাকে। এমনকি তিনি তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে। তখন আমি রওনা করে (আমার মেয়ে) হাফ্‌সার কাছে চলে এলাম। এরপর আমি তাকে বললাম, তুমি কি রসূলুল্লাহ (সাঃ,-এর সঙ্গে প্রত্যুত্তর কর? সে বলল, হাঁ। আমি বললাম, তোমাদের মধ্যে কি কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে? সে বলল, হাঁ। আমি বললাম, তোমাদের যে কেউ এরূপ আচরণ করে সে আসলেই দুর্ভাগা ও ক্ষতিগ্রস্ত। তোমাদের মধ্যে কি কেউ বিপদমুক্ত ও নিরাপদ হতে পারে যদি আল্লাহ তাঁর রসূলের ক্রোধের কারণে ক্রুদ্ধ হন। এরূপ হলে তো তার ধ্বংস অনিবার্য। তুমি কখনো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে তাঁর কথার প্রত্যুত্তরে লিপ্ত হয়ো না এবং তাঁর কাছে কোন কিছু দাবী করবে না, তোমার মনে যা চায় তা আমার কাছে চাইবে। তোমার সতীন তোমার চাইতে অধিকতর সুন্দরী এবং রসূলুল্লাহ-(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট তোমার তুলনায় অধিকতর প্রিয়পাত্রী। সে যেন তোমাকে ধোঁকায় পতিত না করে ফেলে। এর দ্বারা তিনি [‘উমার (রাঃ)] ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বুঝাতে চাইছেন। তিনি বলেন, আমার একজন আনসারী প্রতিবেশী ছিলেন। আমরা দুই বন্ধু পালাক্রমে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে (তাঁর মজলিসে) যেতাম। একদিন তিনি উপস্হিত থাকতেন, অপরদিন আমি উপস্হিত হতাম। এভাবে তিনি আমাকে ওয়াহী ইত্যাদির খবর দিতেন, আমিও অনুরূপ খবর তাকে পৌছাতাম। সে সময় আমরা বেশ করে আলোচনা করতে ছিলাম যে, গাস্‌সানী বাদশাহ নাকি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা জন্য ঘোড়ার ক্ষুরে নাল লাগাচ্ছে। একদিন আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলেন এবং ‘ইশার সময় (রাত্রিকালে) আমার কাছে (ফিরে) এলেন। তিনি এসে আমার ঘরের দরজা খটখটালেন এবং আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর ডাক শুনে তাঁর কাছে ছুটে এলাম। তিনি বললেন, একটি বিরাট কাণ্ড ঘটে গেছে। আমি বললাম, সে কী? গাস্‌সানীরা তাহলে এসে গেছে নাকি? তিনি বললেনঃ না, তারা আসেনি বরং ব্যাপার তার চাইতেও সাংঘাতিক ও দীর্ঘতর। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীদের ত্বলাক্ব দিয়েছেন। তখন আমি বললাম, হাফ্‌সাহ্‌ হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি পূর্ব থেকেই ধারণা পোষণ করে আসছিলাম যে, এমন একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে। এরপর আমি ফাজরের সলাত আদায় করে প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি হাফসার কাছে উপস্থিত হলাম। তখন সে কাঁদছিল। আমি বললাম, রসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তোমাদেরকে ত্বলাক্ব দিয়েছেন। সে (শ্বাসরুদ্ধ করে) বলল, আমি জানি না। তবে তিনি তাঁর ঐ বালাখানায় নির্জনবাস করছেন। আমি তাঁর কৃষ্ণাঙ্গ খাদিমের কাছে বললাম ‘উমারের (প্রবেশের) জন্য অনুমতি প্রার্থনা করো। এরপর সে ভিতরে প্রবেশ করল এবং পরক্ষনেই বেরিয়ে এসে আমার দিকে তাকাল। এরপর সে বলল, আমি তাঁর (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর) কাছে আপনার কথা উত্থাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন (কিছুই বলছেন না)। অতঃপর আমি চলে এলাম এবং মিম্বারের কাছে এসে বসে পড়লাম। তখন আমি দেখতে পেলাম সেখানে একদল লোক বসা আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। আমি খানিকটা বসলাম। এরপর আমার মনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা আমার উপর প্রভাব বিস্তার করল। তখন আমি সেই কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটির কাছে চলে এলাম এবং তাকে বললাম, ‘উমারের জন্য ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো। সে ভেতরে প্রবেশ করল এবং বেরিয়ে এসে আমাকে বলল, আমি আপনার বিষয়টি তাঁর সামনে উত্তাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন। আমি যখন পিছনে ফিরে চললাম অমনি সে কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটি আমাকে ডাক দিয়ে বলল, আপনি প্রবেশ করুন; তিনি আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। আমি ভিতরে প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিলাম। আমি দেখতে পেলাম, তিনি খেজুর পাতার তৈরি একটি চাটাই এর উপর হেলান দিয়ে আরাম করছেন যা তাঁর পাঁজরে চাটাইয়ের দাগ বসিয়ে দিয়েছে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি কি আপনার সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দিয়েছেন? তিনি তাঁর মাথা উঁচিয়ে আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন, না। আমি বললাম, আল্লাহ আকবার। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি বিষয়টি ভেবে দেখূনঃ আমরা যখন মাদীনায় এলাম তখন দেখতে পেলাম, এখানকার পুরুষ লোকদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভুত্ব বিস্তার করে আসছে। এতে তাদের দেখাদেখি আমাদের স্ত্রীরাও তাদের অভ্যাস রপ্ত করতে শুর করে দিয়েছে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হলাম। অমনি সে আমার কথার প্রত্যুত্তর শুরু করে দিল। আমি তার প্রত্যুত্তর করাকে খুবই খারাপ মনে করলাম। সে বলে ফেলল, আপনার সঙ্গে প্রত্যুত্তর করাকে আপনি এত খারাপ মনে করছেন কেন? আল্লাহ্‌র কসম! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণও তো তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করে থাকে, এমনকি তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে। আমি বললাম, তাঁদের মধ্যে কেউ এমন আচরন করলে সে হতভাগ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে থেকে কারো উপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগান্বিত হওয়ার কারণে যদি আল্লাহ ক্রদ্ধ হয়ে যান তাহলে তার পতন ও ধ্বংস অনিবার্য। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃদু স্বরে হেসে উঠলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি হাফসার কাছে গিয়ে তাকে বলে দিয়েছি যে, তোমার সতীন সৌন্দর্যে তোমার তুলনায় অগ্রগামিনী এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তোমার চাইতে অধিকতর আদরিনী- তা যেন তোমাকে ধোঁকার জালে আবদ্ধ করতে না পারে। এতে আবার তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি আপনার সঙ্গে একান্তে আলাপ করতে চাই। তিনি বললেনঃ হাঁ, করতে পার। অতঃপর আমি বললাম এবং মাথা উঠিয়ে তাঁর কোঠার (এদিক ওদিক) তাকিয়ে দেখলাম। আল্লাহ্‌র কসম! আমি সেখানে তিনখানি চামড়া ব্যতীত নয়ন জুড়ানো তেমন কিছু দেখতে পাইনি। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করুন যেন তিনি আপনার উম্মাতকে প্রাচুর্য দান করেন। পারসিক ও রোমাকদের তো বৈষয়িক সুখ সমৃদ্ধি দান করা হয়েছে অথচ তারা আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত (আনুগত্য) করে না। তখন তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, হে খাত্ত্বাবের পুত্র! তুমি কি সন্দেহের জালে আচ্ছন্ন আছো। আসলে তারা তো এমন সম্প্রদায় যাদের পার্থিব জীবনে ক্ষণিকের তরে সুখ সমৃদ্ধি দান করা হয়েছে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি তাঁর সহধর্মিনীগণের আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে কসম করেছিলেন যে, দীর্ঘ একমাস তাদের সঙ্গে একত্রে অতিবাহিত করবেন না। শেষাবধি আল্লাহ তাঁকে এ আচরণের জন্য তিরষ্কার করেন। (ই.ফা. ৩৫৫৮, ই.সে. ৩৫৫৮)

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্ত্রীগণের মধ্যে থেকে যে দু’জন মহিলা সম্পর্কে ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার জন্য বহুদিন যাবৎ আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলাম যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমাদের দু’জনের হৃদয় অন্যায় প্রবণ হয়েছে মনে করে তোমরা যদি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আসো তাহলে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন”। (সূরাহ্‌ আত্‌ তাহরীম ৬৬ : ৪) পরিশেষে ‘উমার (রাঃ) হাজ্জ পালনের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং আমিও হাজ্জ পালনের জন্য তাঁর সফরসঙ্গী হলাম। এরপর (হাজ্জ সমাপন করে ফেরার পথে) আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলার সময় ‘উমার (রাঃ) এক পার্শ্বে মোড় নিলেন। আমিও পানির বদনাসহ তাঁর সঙ্গে রাস্তার পাশে গেলাম। তিনি তাঁর হাজত পূরণ করলেন এবং আমার কাছে এলেন। আমি তাঁর উভয় হাতে পানি ঢাললাম, তিনি ওযু করে নিলেন। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের সে দুজন মহিলা কারা ছিলো যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ ‘উমার (রাঃ)বললেন, হে ইবনু ‘আব্বাস! এতো তোমার জন্য আশ্চর্যের বিষয় বলে মনে হচ্ছে (তুমি এত বিলম্বে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কেন?) যুহরী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি [‘উমার (রাঃ)] জিজ্ঞাসিত বিষয়টি (ইবনু ‘আব্বাসের এ বিষয়ে বিলম্বে প্রশ্ন করাকে) অপছন্দ করলেও তা বর্ণনা করতে কিছুই গোপন করলেন না। তিনি বললেন, তাঁরা দুজন ছিল হাফ্‌সাহ্‌ ও ‘আয়িশা (রাঃ)। এরপর তিনি ঘটনার বিবরণ দিতে লাগলেন। তিনি বললেন, আমরা কুরায়শ বংশের লোকেরা (জাহিলিয়্যাত যুগে) আমাদের স্ত্রীদের উপর প্রভুত্ব করে চলতাম। যখন আমরা মাদীনায় এলাম তখন এমন লোকদের দেখতে পেলাম যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভাব বিস্তার করছিল। এমনি পরিবেশে আমাদের নারীরা তাদের (মাদীনাহ্‌বাসীদের) নারীদের অভ্যাস রপ্ত করতে শুরু করে দেয়। তিনি বলেন, সে সময় মাদীনার উচ্চভূমির অধিবাসী বানূ উমাইয়্যাহ্‌ ইবনু যায়দের বংশধরদের মধ্যে আমার বসতবাটি ছিল। এরপর একদিন আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হলাম। সে আমার কথার প্রত্যুত্তর করতে লাগল। আমি আমার সঙ্গে তার প্রত্যুত্তর করাকে খুবই অপ্রিয় মনে করলাম। সে বলল, আপনার সঙ্গে আমার কথার প্রত্যুত্তর করাকে অপছন্দ করছেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণও তো তাঁর সঙ্গে কথার প্রত্যুত্তর করে থাকে। এমনকি তিনি তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে। তখন আমি রওনা করে (আমার মেয়ে) হাফ্‌সার কাছে চলে এলাম। এরপর আমি তাকে বললাম, তুমি কি রসূলুল্লাহ (সাঃ,-এর সঙ্গে প্রত্যুত্তর কর? সে বলল, হাঁ। আমি বললাম, তোমাদের মধ্যে কি কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে? সে বলল, হাঁ। আমি বললাম, তোমাদের যে কেউ এরূপ আচরণ করে সে আসলেই দুর্ভাগা ও ক্ষতিগ্রস্ত। তোমাদের মধ্যে কি কেউ বিপদমুক্ত ও নিরাপদ হতে পারে যদি আল্লাহ তাঁর রসূলের ক্রোধের কারণে ক্রুদ্ধ হন। এরূপ হলে তো তার ধ্বংস অনিবার্য। তুমি কখনো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে তাঁর কথার প্রত্যুত্তরে লিপ্ত হয়ো না এবং তাঁর কাছে কোন কিছু দাবী করবে না, তোমার মনে যা চায় তা আমার কাছে চাইবে। তোমার সতীন তোমার চাইতে অধিকতর সুন্দরী এবং রসূলুল্লাহ-(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট তোমার তুলনায় অধিকতর প্রিয়পাত্রী। সে যেন তোমাকে ধোঁকায় পতিত না করে ফেলে। এর দ্বারা তিনি [‘উমার (রাঃ)] ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বুঝাতে চাইছেন। তিনি বলেন, আমার একজন আনসারী প্রতিবেশী ছিলেন। আমরা দুই বন্ধু পালাক্রমে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে (তাঁর মজলিসে) যেতাম। একদিন তিনি উপস্হিত থাকতেন, অপরদিন আমি উপস্হিত হতাম। এভাবে তিনি আমাকে ওয়াহী ইত্যাদির খবর দিতেন, আমিও অনুরূপ খবর তাকে পৌছাতাম। সে সময় আমরা বেশ করে আলোচনা করতে ছিলাম যে, গাস্‌সানী বাদশাহ নাকি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা জন্য ঘোড়ার ক্ষুরে নাল লাগাচ্ছে। একদিন আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলেন এবং ‘ইশার সময় (রাত্রিকালে) আমার কাছে (ফিরে) এলেন। তিনি এসে আমার ঘরের দরজা খটখটালেন এবং আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর ডাক শুনে তাঁর কাছে ছুটে এলাম। তিনি বললেন, একটি বিরাট কাণ্ড ঘটে গেছে। আমি বললাম, সে কী? গাস্‌সানীরা তাহলে এসে গেছে নাকি? তিনি বললেনঃ না, তারা আসেনি বরং ব্যাপার তার চাইতেও সাংঘাতিক ও দীর্ঘতর। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিনীদের ত্বলাক্ব দিয়েছেন। তখন আমি বললাম, হাফ্‌সাহ্‌ হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি পূর্ব থেকেই ধারণা পোষণ করে আসছিলাম যে, এমন একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে। এরপর আমি ফাজরের সলাত আদায় করে প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি হাফসার কাছে উপস্থিত হলাম। তখন সে কাঁদছিল। আমি বললাম, রসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তোমাদেরকে ত্বলাক্ব দিয়েছেন। সে (শ্বাসরুদ্ধ করে) বলল, আমি জানি না। তবে তিনি তাঁর ঐ বালাখানায় নির্জনবাস করছেন। আমি তাঁর কৃষ্ণাঙ্গ খাদিমের কাছে বললাম ‘উমারের (প্রবেশের) জন্য অনুমতি প্রার্থনা করো। এরপর সে ভিতরে প্রবেশ করল এবং পরক্ষনেই বেরিয়ে এসে আমার দিকে তাকাল। এরপর সে বলল, আমি তাঁর (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর) কাছে আপনার কথা উত্থাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন (কিছুই বলছেন না)। অতঃপর আমি চলে এলাম এবং মিম্বারের কাছে এসে বসে পড়লাম। তখন আমি দেখতে পেলাম সেখানে একদল লোক বসা আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। আমি খানিকটা বসলাম। এরপর আমার মনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা আমার উপর প্রভাব বিস্তার করল। তখন আমি সেই কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটির কাছে চলে এলাম এবং তাকে বললাম, ‘উমারের জন্য ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো। সে ভেতরে প্রবেশ করল এবং বেরিয়ে এসে আমাকে বলল, আমি আপনার বিষয়টি তাঁর সামনে উত্তাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন। আমি যখন পিছনে ফিরে চললাম অমনি সে কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটি আমাকে ডাক দিয়ে বলল, আপনি প্রবেশ করুন; তিনি আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। আমি ভিতরে প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিলাম। আমি দেখতে পেলাম, তিনি খেজুর পাতার তৈরি একটি চাটাই এর উপর হেলান দিয়ে আরাম করছেন যা তাঁর পাঁজরে চাটাইয়ের দাগ বসিয়ে দিয়েছে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি কি আপনার সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক্ব দিয়েছেন? তিনি তাঁর মাথা উঁচিয়ে আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন, না। আমি বললাম, আল্লাহ আকবার। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি বিষয়টি ভেবে দেখূনঃ আমরা যখন মাদীনায় এলাম তখন দেখতে পেলাম, এখানকার পুরুষ লোকদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভুত্ব বিস্তার করে আসছে। এতে তাদের দেখাদেখি আমাদের স্ত্রীরাও তাদের অভ্যাস রপ্ত করতে শুর করে দিয়েছে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হলাম। অমনি সে আমার কথার প্রত্যুত্তর শুরু করে দিল। আমি তার প্রত্যুত্তর করাকে খুবই খারাপ মনে করলাম। সে বলে ফেলল, আপনার সঙ্গে প্রত্যুত্তর করাকে আপনি এত খারাপ মনে করছেন কেন? আল্লাহ্‌র কসম! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণও তো তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করে থাকে, এমনকি তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে। আমি বললাম, তাঁদের মধ্যে কেউ এমন আচরন করলে সে হতভাগ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে থেকে কারো উপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগান্বিত হওয়ার কারণে যদি আল্লাহ ক্রদ্ধ হয়ে যান তাহলে তার পতন ও ধ্বংস অনিবার্য। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃদু স্বরে হেসে উঠলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি হাফসার কাছে গিয়ে তাকে বলে দিয়েছি যে, তোমার সতীন সৌন্দর্যে তোমার তুলনায় অগ্রগামিনী এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তোমার চাইতে অধিকতর আদরিনী- তা যেন তোমাকে ধোঁকার জালে আবদ্ধ করতে না পারে। এতে আবার তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি আপনার সঙ্গে একান্তে আলাপ করতে চাই। তিনি বললেনঃ হাঁ, করতে পার। অতঃপর আমি বললাম এবং মাথা উঠিয়ে তাঁর কোঠার (এদিক ওদিক) তাকিয়ে দেখলাম। আল্লাহ্‌র কসম! আমি সেখানে তিনখানি চামড়া ব্যতীত নয়ন জুড়ানো তেমন কিছু দেখতে পাইনি। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করুন যেন তিনি আপনার উম্মাতকে প্রাচুর্য দান করেন। পারসিক ও রোমাকদের তো বৈষয়িক সুখ সমৃদ্ধি দান করা হয়েছে অথচ তারা আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত (আনুগত্য) করে না। তখন তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, হে খাত্ত্বাবের পুত্র! তুমি কি সন্দেহের জালে আচ্ছন্ন আছো। আসলে তারা তো এমন সম্প্রদায় যাদের পার্থিব জীবনে ক্ষণিকের তরে সুখ সমৃদ্ধি দান করা হয়েছে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি তাঁর সহধর্মিনীগণের আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে কসম করেছিলেন যে, দীর্ঘ একমাস তাদের সঙ্গে একত্রে অতিবাহিত করবেন না। শেষাবধি আল্লাহ তাঁকে এ আচরণের জন্য তিরষ্কার করেন। (ই.ফা. ৩৫৫৮, ই.সে. ৩৫৫৮)

وحدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، ومحمد بن أبي عمر، - وتقاربا في لفظ الحديث - قال ابن أبي عمر حدثنا وقال، إسحاق أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن أبي ثور، عن ابن عباس، قال لم أزل حريصا أنأسأل عمر عن المرأتين من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتين قال الله تعالى ‏{‏إن تتوبا إلى الله فقد صغت قلوبكما‏}‏ حتى حج عمر وحججت معه فلما كنا ببعض الطريق عدل عمر وعدلت معه بالإداوة فتبرز ثم أتاني فسكبت على يديه فتوضأ فقلت يا أمير المؤمنين من المرأتان من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتان قال الله عز وجل لهما ‏{‏ إن تتوبا إلى الله فقد صغت قلوبكما‏}‏ قال عمر واعجبا لك يا ابن عباس - قال الزهري كره والله ما سأله عنه ولم يكتمه - قال هي حفصة وعائشة ‏.‏ ثم أخذ يسوق الحديث قال كنا معشر قريش قوما نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساؤهم فطفق نساؤنا يتعلمن من نسائهم - قال - وكان منزلي في بني أمية بن زيد بالعوالي فتغضبت يوما على امرأتي فإذا هي تراجعني فأنكرت أن تراجعني ‏.‏ فقالت ما تنكر أن أراجعك فوالله إن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره إحداهن اليوم إلى الليل ‏.‏ فانطلقت فدخلت على حفصة فقلت أتراجعين رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت نعم ‏.‏ فقلت أتهجره إحداكن اليوم إلى الليل قالت نعم ‏.‏ قلت قد خاب من فعل ذلك منكن وخسر أفتأمن إحداكن أن يغضب الله عليها لغضب رسوله صلى الله عليه وسلم فإذا هي قد هلكت لا تراجعي رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تسأليه شيئا وسليني ما بدا لك ولا يغرنك أن كانت جارتك هي أوسم وأحب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم منك - يريد عائشة - قال وكان لي جار من الأنصار فكنا نتناوب النزول إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فينزل يوما وأنزل يوما فيأتيني بخبر الوحى وغيره وآتيه بمثل ذلك وكنا نتحدث أن غسان تنعل الخيل لتغزونا فنزل صاحبي ثم أتاني عشاء فضرب بابي ثم ناداني فخرجت إليه فقال حدث أمر عظيم ‏.‏ قلت ماذا أجاءت غسان قال لا بل أعظم من ذلك وأطول طلق النبي صلى الله عليه وسلم نساءه ‏.‏ فقلت قد خابت حفصة وخسرت قد كنت أظن هذا كائنا حتى إذا صليت الصبح شددت على ثيابي ثم نزلت فدخلت على حفصة وهى تبكي فقلت أطلقكن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت لا أدري ها هو ذا معتزل في هذه المشربة ‏.‏ فأتيت غلاما له أسود فقلت استأذن لعمر ‏.‏ فدخل ثم خرج إلى فقال قد ذكرتك له فصمت فانطلقت حتى انتهيت إلى المنبر فجلست فإذا عنده رهط جلوس يبكي بعضهم فجلست قليلا ثم غلبني ما أجد ثم أتيت الغلام فقلت استأذن لعمر ‏.‏ فدخل ثم خرج إلى ‏.‏ فقال قد ذكرتك له فصمت ‏.‏ فوليت مدبرا فإذا الغلام يدعوني فقال ادخل فقد أذن لك فدخلت فسلمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا هو متكئ على رمل حصير قد أثر في جنبه فقلت أطلقت يا رسول الله نساءك فرفع رأسه إلى وقال ‏"‏ لا ‏"‏ ‏.‏ فقلت الله أكبر لو رأيتنا يا رسول الله وكنا معشر قريش قوما نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساؤهم فطفق نساؤنا يتعلمن من نسائهم فتغضبت على امرأتي يوما فإذا هي تراجعني فأنكرت أن تراجعني ‏.‏ فقالت ما تنكر أن أراجعك فوالله إن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره إحداهن اليوم إلى الليل ‏.‏ فقلت قد خاب من فعل ذلك منهن وخسر أفتأمن إحداهن أن يغضب الله عليها لغضب رسوله صلى الله عليه وسلم فإذا هي قد هلكت فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله قد دخلت على حفصة فقلت لا يغرنك أن كانت جارتك هي أوسم منك وأحب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم منك ‏.‏ فتبسم أخرى فقلت أستأنس يا رسول الله ‏.‏ قال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ فجلست فرفعت رأسي في البيت فوالله ما رأيت فيه شيئا يرد البصر إلا أهبا ثلاثة فقلت ادع الله يا رسول الله أن يوسع على أمتك فقد وسع على فارس والروم وهم لا يعبدون الله فاستوى جالسا ثم قال ‏"‏ أفي شك أنت يا ابن الخطاب أولئك قوم عجلت لهم طيباتهم في الحياة الدنيا ‏"‏ ‏.‏ فقلت استغفر لي يا رسول الله ‏.‏ وكان أقسم أن لا يدخل عليهن شهرا من شدة موجدته عليهن ‏‏ حتى عاتبه الله عز وجل


সহিহ মুসলিম ৩৫৮৮

قال الزهري فأخبرني عروة، عن عائشة، قالت لما مضى تسع وعشرون ليلة دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم بدأ بي فقلت يا رسول الله إنك أقسمت أن لا تدخل علينا شهرا وإنك دخلت من تسع وعشرين أعدهن ‏.‏ فقال ‏"‏ إن الشهر تسع وعشرون - ثم قال - يا عائشة إني ذاكر لك أمرا فلا عليك أن لا تعجلي فيه حتى تستأمري أبويك ‏"‏ ‏.‏ ثم قرأ على الآية ‏{‏ يا أيها النبي قل لأزواجك‏}‏ حتى بلغ ‏{‏ أجرا عظيما‏}‏ قالت عائشة قد علم والله أن أبوى لم يكونا ليأمراني بفراقه قالت فقلت أوفي هذا أستأمر أبوى فإني أريد الله ورسوله والدار الآخرة ‏.‏ قال معمر فأخبرني أيوب أن عائشة قالت لا تخبر نساءك أني اخترتك فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله أرسلني مبلغا ولم يرسلني متعنتا ‏"‏ ‏.‏ قال قتادة صغت قلوبكما مالت قلوبكما‏.‏

যুহরী (রহঃ) বলেন, ‘উরওয়াহ্ (রাঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হল তখন প্রথমে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আসলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তো কসম করেছিলেন একমাস পর্যন্ত আমাদের কাছে আসবেন না অথচ ঊনত্রিশ দিন পরই আপনি আমাদের কাছে ফিরে এলেন। আমি এই দিনগুলো হিসেব করে রেখেছিলাম। তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। এরপর তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ্! আমি তোমাকে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, সে সম্পর্কে তোমার পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তাড়াতাড়ি উত্তর দেয়ার প্রয়োজন নেই। তখন তিনি আমাকে এই আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেনঃ “হে নাবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও এর ভূষণ কামনা কর তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ বিলাসের উপকরণের ব্যবস্হা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকাল কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন”- (সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩ : ২৮-২৯)। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, এটা নির্ঘাত সত্য যে, আমার পিতামাতা কস্মিনকালেও আমাকে তাঁর (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ দিবেন না। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এ বিষয়ে কি আমি আমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করতে যাব? নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকাল কামনা করি। মা’মার (রহঃ) বলেন, আইয়ূব আমাকে জানিয়েছেন যে, ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, (হে আল্লাহ্‌র রসূল!) আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীগনের কাছে বলবেন না যে, আমি আপনাকেই ইখ্তিয়ার করে নিয়েছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, আল্লাহ আমকে মুবাল্লিগ (সত্য প্রচারক) রুপে প্রেরণ করেছেন, বিপদে নিক্ষেপকারীরূপে পাঠাননি। ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)(আরবী) এর অর্থ (আরবী) “তোমাদের হৃদয় (অন্যায় প্রবণতার দিকে) ঝুঁকে পড়েছিল” বলে উল্লেখ করেছেন। ( ই.ফা. ৩৫৫৮, ই.সে. ৩৫৫৮)

যুহরী (রহঃ) বলেন, ‘উরওয়াহ্ (রাঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হল তখন প্রথমে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আসলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তো কসম করেছিলেন একমাস পর্যন্ত আমাদের কাছে আসবেন না অথচ ঊনত্রিশ দিন পরই আপনি আমাদের কাছে ফিরে এলেন। আমি এই দিনগুলো হিসেব করে রেখেছিলাম। তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। এরপর তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ্! আমি তোমাকে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, সে সম্পর্কে তোমার পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তাড়াতাড়ি উত্তর দেয়ার প্রয়োজন নেই। তখন তিনি আমাকে এই আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেনঃ “হে নাবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও এর ভূষণ কামনা কর তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ বিলাসের উপকরণের ব্যবস্হা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকাল কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন”- (সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩ : ২৮-২৯)। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, এটা নির্ঘাত সত্য যে, আমার পিতামাতা কস্মিনকালেও আমাকে তাঁর (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ দিবেন না। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এ বিষয়ে কি আমি আমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করতে যাব? নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকাল কামনা করি। মা’মার (রহঃ) বলেন, আইয়ূব আমাকে জানিয়েছেন যে, ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, (হে আল্লাহ্‌র রসূল!) আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীগনের কাছে বলবেন না যে, আমি আপনাকেই ইখ্তিয়ার করে নিয়েছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, আল্লাহ আমকে মুবাল্লিগ (সত্য প্রচারক) রুপে প্রেরণ করেছেন, বিপদে নিক্ষেপকারীরূপে পাঠাননি। ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)(আরবী) এর অর্থ (আরবী) “তোমাদের হৃদয় (অন্যায় প্রবণতার দিকে) ঝুঁকে পড়েছিল” বলে উল্লেখ করেছেন। ( ই.ফা. ৩৫৫৮, ই.সে. ৩৫৫৮)

قال الزهري فأخبرني عروة، عن عائشة، قالت لما مضى تسع وعشرون ليلة دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم بدأ بي فقلت يا رسول الله إنك أقسمت أن لا تدخل علينا شهرا وإنك دخلت من تسع وعشرين أعدهن ‏.‏ فقال ‏"‏ إن الشهر تسع وعشرون - ثم قال - يا عائشة إني ذاكر لك أمرا فلا عليك أن لا تعجلي فيه حتى تستأمري أبويك ‏"‏ ‏.‏ ثم قرأ على الآية ‏{‏ يا أيها النبي قل لأزواجك‏}‏ حتى بلغ ‏{‏ أجرا عظيما‏}‏ قالت عائشة قد علم والله أن أبوى لم يكونا ليأمراني بفراقه قالت فقلت أوفي هذا أستأمر أبوى فإني أريد الله ورسوله والدار الآخرة ‏.‏ قال معمر فأخبرني أيوب أن عائشة قالت لا تخبر نساءك أني اخترتك فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله أرسلني مبلغا ولم يرسلني متعنتا ‏"‏ ‏.‏ قال قتادة صغت قلوبكما مالت قلوبكما‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00