সহিহ মুসলিম > হায়য-নিফাস অবস্থায় ইহরাম বাঁধা জায়িয এবং ইহরাম বাঁধার পূর্বে গোসল করা মুস্তাহাব

সহিহ মুসলিম ২৭৯৮

حدثنا هناد بن السري، وزهير بن حرب، وعثمان بن أبي شيبة، كلهم عن عبدة، - قال زهير حدثنا عبدة بن سليمان، - عن عبيد الله بن عمر، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت نفست أسماء بنت عميس بمحمد بن أبي بكر بالشجرة فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أبا بكر يأمرها أن تغتسل وتهل ‏.

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আসমা বিনতু ‘উমায়স (রাঃ) আশ্ শাজার নামক স্থানে আবূ বাকর (রাঃ)-এর পুত্র মুহাম্মাদকে প্রসব করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাকর (রাঃ)-এর মাধ্যমে তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। (ই.ফা. ২৭৭৫, ই.সে.২৭৭৩)

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আসমা বিনতু ‘উমায়স (রাঃ) আশ্ শাজার নামক স্থানে আবূ বাকর (রাঃ)-এর পুত্র মুহাম্মাদকে প্রসব করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাকর (রাঃ)-এর মাধ্যমে তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। (ই.ফা. ২৭৭৫, ই.সে.২৭৭৩)

حدثنا هناد بن السري، وزهير بن حرب، وعثمان بن أبي شيبة، كلهم عن عبدة، - قال زهير حدثنا عبدة بن سليمان، - عن عبيد الله بن عمر، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت نفست أسماء بنت عميس بمحمد بن أبي بكر بالشجرة فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أبا بكر يأمرها أن تغتسل وتهل ‏.


সহিহ মুসলিম ২৭৯৯

حدثنا أبو غسان، محمد بن عمرو حدثنا جرير بن عبد الحميد، عن يحيى بن، سعيد عن جعفر بن محمد، عن أبيه، عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - في حديث أسماء بنت عميس حين نفست بذي الحليفة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر أبا بكر - رضى الله عنه - فأمرها أن تغتسل وتهل ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আসমা বিনতু ‘উমায়স (রাঃ) যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে সন্তান প্রসব করলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধতে বললেন। (ই.ফা. ২৭৭৬, ই.সে.২৭৭৪)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আসমা বিনতু ‘উমায়স (রাঃ) যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে সন্তান প্রসব করলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধতে বললেন। (ই.ফা. ২৭৭৬, ই.সে.২৭৭৪)

حدثنا أبو غسان، محمد بن عمرو حدثنا جرير بن عبد الحميد، عن يحيى بن، سعيد عن جعفر بن محمد، عن أبيه، عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - في حديث أسماء بنت عميس حين نفست بذي الحليفة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر أبا بكر - رضى الله عنه - فأمرها أن تغتسل وتهل ‏.


সহিহ মুসলিম > ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে

সহিহ মুসলিম ২৮০০

حدثنا يحيى بن يحيى التميمي، قال قرأت على مالك عن ابن شهاب، عن عروة، عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فأهللنا بعمرة ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من كان معه هدى فليهل بالحج مع العمرة ثم لا يحل حتى يحل منهما جميعا ‏"‏ ‏.‏ قالت فقدمت مكة وأنا حائض لم أطف بالبيت ولا بين الصفا والمروة فشكوت ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ انقضي رأسك وامتشطي وأهلي بالحج ودعي العمرة ‏"‏ ‏.‏ قالت ففعلت فلما قضينا الحج أرسلني رسول الله صلى الله عليه وسلم مع عبد الرحمن بن أبي بكر إلى التنعيم فاعتمرت فقال ‏"‏ هذه مكان عمرتك ‏"‏ ‏.‏ فطاف الذين أهلوا بالعمرة بالبيت وبالصفا والمروة ثم حلوا ثم طافوا طوافا آخر بعد أن رجعوا من منى لحجهم وأما الذين كانوا جمعوا الحج والعمرة فإنما طافوا طوافا واحدا ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার সাথে হাদী অর্থাৎ কুরবানীর পশু আছে সে যেন একত্রে ‘উমরার সাথে হাজ্জের ইহরাম বাঁধে, অতঃপর ‘উমরাহ ও হাজ্জের অনুষ্ঠান শেষ না করে যেন ইহরামমুক্ত না হয়। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমি হায়য অবস্থায় মাক্কায় পৌঁছলাম। তাই আমি বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করতে এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা’ঈ করতে পারিনি। এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমার চুলের বেণী খুলে ফেল এবং চিরুনী কর, হাজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং ‘উমরাহ পরিত্যাগ কর। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। আমাদের হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে (আমার ভাই) ‘আবদুর রহমানের সাথে তান’ঈম নামক স্থানে পাঠালেন। আমি সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে ‘উমরাহ পালন করি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা তোমার (ইহরাম বাঁধার) স্থান। যে সব লোক শুধু ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিল, তারা বায়তুল্লাহর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহারদ্বয়ের মাঝে সা’ঈ করার পর ইহরামমুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তারা মিনা থেকে ফিরে এসে পুনরায় তাদের হাজ্জের ত্বওয়াফ করল আর যারা ‘উমরাহ ও হাজ্জের জন্য একত্রে ইহরাম বেঁধেছিল, তারা একবার ত্বওয়াফ করল। (ই.ফা. ২৭৭৭, ই.সে.২৭৭৫)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার সাথে হাদী অর্থাৎ কুরবানীর পশু আছে সে যেন একত্রে ‘উমরার সাথে হাজ্জের ইহরাম বাঁধে, অতঃপর ‘উমরাহ ও হাজ্জের অনুষ্ঠান শেষ না করে যেন ইহরামমুক্ত না হয়। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমি হায়য অবস্থায় মাক্কায় পৌঁছলাম। তাই আমি বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করতে এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা’ঈ করতে পারিনি। এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমার চুলের বেণী খুলে ফেল এবং চিরুনী কর, হাজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং ‘উমরাহ পরিত্যাগ কর। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। আমাদের হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে (আমার ভাই) ‘আবদুর রহমানের সাথে তান’ঈম নামক স্থানে পাঠালেন। আমি সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে ‘উমরাহ পালন করি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা তোমার (ইহরাম বাঁধার) স্থান। যে সব লোক শুধু ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিল, তারা বায়তুল্লাহর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহারদ্বয়ের মাঝে সা’ঈ করার পর ইহরামমুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তারা মিনা থেকে ফিরে এসে পুনরায় তাদের হাজ্জের ত্বওয়াফ করল আর যারা ‘উমরাহ ও হাজ্জের জন্য একত্রে ইহরাম বেঁধেছিল, তারা একবার ত্বওয়াফ করল। (ই.ফা. ২৭৭৭, ই.সে.২৭৭৫)

حدثنا يحيى بن يحيى التميمي، قال قرأت على مالك عن ابن شهاب، عن عروة، عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فأهللنا بعمرة ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من كان معه هدى فليهل بالحج مع العمرة ثم لا يحل حتى يحل منهما جميعا ‏"‏ ‏.‏ قالت فقدمت مكة وأنا حائض لم أطف بالبيت ولا بين الصفا والمروة فشكوت ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ انقضي رأسك وامتشطي وأهلي بالحج ودعي العمرة ‏"‏ ‏.‏ قالت ففعلت فلما قضينا الحج أرسلني رسول الله صلى الله عليه وسلم مع عبد الرحمن بن أبي بكر إلى التنعيم فاعتمرت فقال ‏"‏ هذه مكان عمرتك ‏"‏ ‏.‏ فطاف الذين أهلوا بالعمرة بالبيت وبالصفا والمروة ثم حلوا ثم طافوا طوافا آخر بعد أن رجعوا من منى لحجهم وأما الذين كانوا جمعوا الحج والعمرة فإنما طافوا طوافا واحدا ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮০১

وحدثنا عبد الملك بن شعيب بن الليث، حدثني أبي، عن جدي، حدثني عقيل بن، خالد عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عائشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فمنا من أهل بعمرة ومنا من أهل بحج حتى قدمنا مكة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ من أحرم بعمرة ولم يهد فليحلل ومن أحرم بعمرة وأهدى فلا يحل حتى ينحر هديه ومن أهل بحج فليتم حجه ‏"‏ ‏.‏ قالت عائشة - رضى الله عنها - فحضت فلم أزل حائضا حتى كان يوم عرفة ولم أهلل إلا بعمرة فأمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أنقض رأسي وأمتشط وأهل بحج وأترك العمرة - قالت - ففعلت ذلك حتى إذا قضيت حجتي بعث معي رسول الله صلى الله عليه وسلم عبد الرحمن بن أبي بكر وأمرني أن أعتمر من التنعيم مكان عمرتي التي أدركني الحج ولم أحلل منها ‏.

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের কেউ শুধু ‘উমরার ইহরাম বাঁধল, আর কেউ শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। এভাবে আমরা মাক্কায় পৌঁছলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যারা ‘উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছে কিন্তু কুরবানীর পশু আনেনি, তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং সাথে কুরবানীর পশুও এনেছে, তারা কুরবানী করার পরই কেবল ইহরামমুক্ত হবে। আর যারা হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছে তারা যেন হাজ্জ পূর্ণ করে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমার হায়য শুরু হয়ে গেল এবং ‘আরাফাহ্ দিবস পর্যন্ত চলতে থাকল। আমি ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মাথার চুল খুলে ফেলতে, তাতে চিরুণী করতে, হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে এবং ‘উমরাহ্ পরিত্যাগ করতে নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম এবং হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পূর্ণ করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে (আমার ভাই) ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরকে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তান’ঈম থেকে ইহরাম বেধে ‘উমারাহ করার নির্দেশ দিলেন- যেহেতু আমি ‘উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলাম; অথচ আমি উক্ত ‘উমরাহ্ সমাপ্ত করতে পারিনি। (ই.ফা. ২৭৭৮, ই.সে. ২৭৭৬)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের কেউ শুধু ‘উমরার ইহরাম বাঁধল, আর কেউ শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। এভাবে আমরা মাক্কায় পৌঁছলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যারা ‘উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছে কিন্তু কুরবানীর পশু আনেনি, তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং সাথে কুরবানীর পশুও এনেছে, তারা কুরবানী করার পরই কেবল ইহরামমুক্ত হবে। আর যারা হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছে তারা যেন হাজ্জ পূর্ণ করে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমার হায়য শুরু হয়ে গেল এবং ‘আরাফাহ্ দিবস পর্যন্ত চলতে থাকল। আমি ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মাথার চুল খুলে ফেলতে, তাতে চিরুণী করতে, হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে এবং ‘উমরাহ্ পরিত্যাগ করতে নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম এবং হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পূর্ণ করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে (আমার ভাই) ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরকে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তান’ঈম থেকে ইহরাম বেধে ‘উমারাহ করার নির্দেশ দিলেন- যেহেতু আমি ‘উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলাম; অথচ আমি উক্ত ‘উমরাহ্ সমাপ্ত করতে পারিনি। (ই.ফা. ২৭৭৮, ই.সে. ২৭৭৬)

وحدثنا عبد الملك بن شعيب بن الليث، حدثني أبي، عن جدي، حدثني عقيل بن، خالد عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عائشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فمنا من أهل بعمرة ومنا من أهل بحج حتى قدمنا مكة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ من أحرم بعمرة ولم يهد فليحلل ومن أحرم بعمرة وأهدى فلا يحل حتى ينحر هديه ومن أهل بحج فليتم حجه ‏"‏ ‏.‏ قالت عائشة - رضى الله عنها - فحضت فلم أزل حائضا حتى كان يوم عرفة ولم أهلل إلا بعمرة فأمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أنقض رأسي وأمتشط وأهل بحج وأترك العمرة - قالت - ففعلت ذلك حتى إذا قضيت حجتي بعث معي رسول الله صلى الله عليه وسلم عبد الرحمن بن أبي بكر وأمرني أن أعتمر من التنعيم مكان عمرتي التي أدركني الحج ولم أحلل منها ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮০২

وحدثنا عبد بن حميد، أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فأهللت بعمرة ولم أكن سقت الهدى فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من كان معه هدى فليهلل بالحج مع عمرته ثم لا يحل حتى يحل منهما جميعا ‏"‏ ‏.‏ قالت فحضت فلما دخلت ليلة عرفة قلت يا رسول الله إني كنت أهللت بعمرة فكيف أصنع بحجتي قال ‏"‏ انقضي رأسك وامتشطي وأمسكي عن العمرة وأهلي بالحج ‏"‏ ‏.‏ قالت فلما قضيت حجتي أمر عبد الرحمن بن أبي بكر فأردفني فأعمرني من التنعيم مكان عمرتي التي أمسكت عنها ‏.

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম এবং সাথে কুরবানির পশু নেইনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার সাথে কুরবানির পশু আছে, সে যেন তার ‘উমরার সাথে হাজ্জের ইহরামও বাঁধে এবং উভয়ের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করার পূর্বে যেন ইহরাম না খুলে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। ‘আরাফার রাত শুরু হলে আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম, অতএব আমি কিভাবে হাজ্জ করব? তিনি বললেন, তোমার চুল খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, ‘উমরাহ্ স্থগিত রাখ এবং হাজ্জের ইহরাম বাঁধ। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি যখন হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন তিনি (আমার ভাই) ‘আবদূর রহমানকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী আমাকে তার বাহনের পেছন দিকে বসিয়ে তান’ঈম থেকে উমরাহ্ করালেন- যেহেতু আমি ‘উমরার অনুষ্ঠান পালন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম। (ই.ফা. ২৭৭৯, ই.সে. ২৭৭৭)

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম এবং সাথে কুরবানির পশু নেইনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার সাথে কুরবানির পশু আছে, সে যেন তার ‘উমরার সাথে হাজ্জের ইহরামও বাঁধে এবং উভয়ের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করার পূর্বে যেন ইহরাম না খুলে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। ‘আরাফার রাত শুরু হলে আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম, অতএব আমি কিভাবে হাজ্জ করব? তিনি বললেন, তোমার চুল খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, ‘উমরাহ্ স্থগিত রাখ এবং হাজ্জের ইহরাম বাঁধ। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি যখন হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন তিনি (আমার ভাই) ‘আবদূর রহমানকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী আমাকে তার বাহনের পেছন দিকে বসিয়ে তান’ঈম থেকে উমরাহ্ করালেন- যেহেতু আমি ‘উমরার অনুষ্ঠান পালন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম। (ই.ফা. ২৭৭৯, ই.সে. ২৭৭৭)

وحدثنا عبد بن حميد، أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فأهللت بعمرة ولم أكن سقت الهدى فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من كان معه هدى فليهلل بالحج مع عمرته ثم لا يحل حتى يحل منهما جميعا ‏"‏ ‏.‏ قالت فحضت فلما دخلت ليلة عرفة قلت يا رسول الله إني كنت أهللت بعمرة فكيف أصنع بحجتي قال ‏"‏ انقضي رأسك وامتشطي وأمسكي عن العمرة وأهلي بالحج ‏"‏ ‏.‏ قالت فلما قضيت حجتي أمر عبد الرحمن بن أبي بكر فأردفني فأعمرني من التنعيم مكان عمرتي التي أمسكت عنها ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮০৪

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عبدة بن سليمان، عن هشام، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع موافين لهلال ذي الحجة - قالت - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من أراد منكم أن يهل بعمرة فليهل فلولا أني أهديت لأهللت بعمرة ‏"‏ ‏.‏ قالت فكان من القوم من أهل بعمرة ومنهم من أهل بالحج - قالت - فكنت أنا ممن أهل بعمرة فخرجنا حتى قدمنا مكة فأدركني يوم عرفة وأنا حائض لم أحل من عمرتي فشكوت ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ دعي عمرتك وانقضي رأسك وامتشطي وأهلي بالحج ‏"‏ ‏.‏ قالت ففعلت فلما كانت ليلة الحصبة - وقد قضى الله حجنا - أرسل معي عبد الرحمن بن أبي بكر فأردفني وخرج بي إلى التنعيم فأهللت بعمرة فقضى الله حجنا وعمرتنا ولم يكن في ذلك هدى ولا صدقة ولا صوم ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

বিদায় হাজ্জের বছর যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মাক্কাহ্) রওনা হলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ‘উমরার ইহরাম বাধঁতে চায়, সে তা করতে পারে। আমার সঙ্গে হাদী বা কুরবানীর পশু না থাকলে আমি ‘উমরার ইহরাম বাধঁতাম। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, লোকদের মধ্যে কতক ‘উমরার ইহরাম বাঁধল এবং কতক হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। তিনি বললেন, আমি ‘উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা রওনা হলাম, অতঃপর মাক্কায় পৌঁছে গেলাম। ‘আরাফাহ্ দিবস পর্যন্ত আমার মাসিক ঋতু অব্যাহত থাকল এবং ‘উমরাহ্ করে ইহরাম খোলার সুযোগ পেলাম না। এ সংকটের বিষয়ে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তুমি তোমার ‘উমরাহ্ পরিত্যাগ কর, চুলের বাঁধন খুলে ফেল এবং তাতে চিরুণী কর আর হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধ। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। অতঃপর যখন মুহাস্সাব-এর রাত হলো এবং আল্লাহ তা’আলা আমাদের হাজ্জ সমাপন করার তাওফীক্ব দিলেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে তান’ঈম নামক স্থানে রওনা হলেন। অতঃপর আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ সমাপনের তাওফীক্ব দান করলেন। এজন্য হাদী বা কুরবানী, সদাক্বাহ্ বা সওম কোনটিই পালন করতে হয়নি। (ই.ফা. ২৭৮১, ই.সে. ২৭৭৯)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

বিদায় হাজ্জের বছর যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মাক্কাহ্) রওনা হলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ‘উমরার ইহরাম বাধঁতে চায়, সে তা করতে পারে। আমার সঙ্গে হাদী বা কুরবানীর পশু না থাকলে আমি ‘উমরার ইহরাম বাধঁতাম। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, লোকদের মধ্যে কতক ‘উমরার ইহরাম বাঁধল এবং কতক হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। তিনি বললেন, আমি ‘উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা রওনা হলাম, অতঃপর মাক্কায় পৌঁছে গেলাম। ‘আরাফাহ্ দিবস পর্যন্ত আমার মাসিক ঋতু অব্যাহত থাকল এবং ‘উমরাহ্ করে ইহরাম খোলার সুযোগ পেলাম না। এ সংকটের বিষয়ে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তুমি তোমার ‘উমরাহ্ পরিত্যাগ কর, চুলের বাঁধন খুলে ফেল এবং তাতে চিরুণী কর আর হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধ। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। অতঃপর যখন মুহাস্সাব-এর রাত হলো এবং আল্লাহ তা’আলা আমাদের হাজ্জ সমাপন করার তাওফীক্ব দিলেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে তান’ঈম নামক স্থানে রওনা হলেন। অতঃপর আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ সমাপনের তাওফীক্ব দান করলেন। এজন্য হাদী বা কুরবানী, সদাক্বাহ্ বা সওম কোনটিই পালন করতে হয়নি। (ই.ফা. ২৭৮১, ই.সে. ২৭৭৯)

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عبدة بن سليمان، عن هشام، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع موافين لهلال ذي الحجة - قالت - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من أراد منكم أن يهل بعمرة فليهل فلولا أني أهديت لأهللت بعمرة ‏"‏ ‏.‏ قالت فكان من القوم من أهل بعمرة ومنهم من أهل بالحج - قالت - فكنت أنا ممن أهل بعمرة فخرجنا حتى قدمنا مكة فأدركني يوم عرفة وأنا حائض لم أحل من عمرتي فشكوت ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ دعي عمرتك وانقضي رأسك وامتشطي وأهلي بالحج ‏"‏ ‏.‏ قالت ففعلت فلما كانت ليلة الحصبة - وقد قضى الله حجنا - أرسل معي عبد الرحمن بن أبي بكر فأردفني وخرج بي إلى التنعيم فأهللت بعمرة فقضى الله حجنا وعمرتنا ولم يكن في ذلك هدى ولا صدقة ولا صوم ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮০৩

حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏ "‏ من أراد منكم أن يهل بحج وعمرة فليفعل ومن أراد أن يهل بحج فليهل ومن أراد أن يهل بعمرة فليهل ‏"‏ ‏.‏ قالت عائشة رضى الله عنها فأهل رسول الله صلى الله عليه وسلم بحج وأهل به ناس معه وأهل ناس بالعمرة والحج وأهل ناس بعمرة وكنت فيمن أهل بالعمرة ‏.

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সঙ্গে রওনা হলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি একত্রে হাজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন তাই করে। আর যে ব্যক্তি শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, সেও যেন তাই করে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুধুমাত্র হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন এবং তাঁর সাথের লোকেরাও তাই করল। কতিপয় লোক ‘উমরাহ্ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধল এবং কতিপয় লোক শুধু ‘উমরার ইহরাম বাঁধল। আমি ‘উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (ই.ফা. ২৭৮০, ই.সে. ২৭৭৮)

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সঙ্গে রওনা হলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি একত্রে হাজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন তাই করে। আর যে ব্যক্তি শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, সেও যেন তাই করে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুধুমাত্র হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন এবং তাঁর সাথের লোকেরাও তাই করল। কতিপয় লোক ‘উমরাহ্ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধল এবং কতিপয় লোক শুধু ‘উমরার ইহরাম বাঁধল। আমি ‘উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (ই.ফা. ২৭৮০, ই.সে. ২৭৭৮)

حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏ "‏ من أراد منكم أن يهل بحج وعمرة فليفعل ومن أراد أن يهل بحج فليهل ومن أراد أن يهل بعمرة فليهل ‏"‏ ‏.‏ قالت عائشة رضى الله عنها فأهل رسول الله صلى الله عليه وسلم بحج وأهل به ناس معه وأهل ناس بالعمرة والحج وأهل ناس بعمرة وكنت فيمن أهل بالعمرة ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮০৫

وحدثنا أبو كريب، حدثنا ابن نمير، حدثنا هشام، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا موافين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لهلال ذي الحجة لا نرى إلا الحج فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ من أحب منكم أن يهل بعمرة فليهل بعمرة ‏"‏ ‏.‏ وساق الحديث بمثل حديث عبدة ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে রওনা হলাম। হাজ্জ করা ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ‘উমরার ইহরাম বাধঁতে চায়, সে তাই করুক............ হাদীসের অবশিষ্ট অংশ ‘আব্দাহ্’ (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ২৭৮২, ই.সে. ২৭৮০)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে রওনা হলাম। হাজ্জ করা ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ‘উমরার ইহরাম বাধঁতে চায়, সে তাই করুক............ হাদীসের অবশিষ্ট অংশ ‘আব্দাহ্’ (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ২৭৮২, ই.সে. ২৭৮০)

وحدثنا أبو كريب، حدثنا ابن نمير، حدثنا هشام، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا موافين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لهلال ذي الحجة لا نرى إلا الحج فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ من أحب منكم أن يهل بعمرة فليهل بعمرة ‏"‏ ‏.‏ وساق الحديث بمثل حديث عبدة ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮০৬

وحدثنا أبو كريب، حدثنا وكيع، حدثنا هشام، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم موافين لهلال ذي الحجة منا من أهل بعمرة ومنا من أهل بحجة وعمرة ومنا من أهل بحجة فكنت فيمن أهل بعمرة ‏.‏ وساق الحديث بنحو حديثهما وقال فيه قال عروة في ذلك إنه قضى الله حجها وعمرتها ‏.‏ قال هشام ولم يكن في ذلك هدى ولا صيام ولا صدقة ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক ‘উমরার, কতক হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের এবং কতক শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। আমি ‘উমরার উদ্দেশে ইহ্‌রামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ......অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত (উভয়ের) হাদীসের অনুরূপ। তবে ‘উরওয়াহ্র বর্ণনায় আছে, “আল্লাহ্ তা‘আলা ‘আয়িশা (রাঃ)-কে তার হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ সমাপনের তাওফীক্ব দিলেন।” আর হিশামের বর্ণনায় আছে, “এজন্য (‘উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের ইহরাম বাঁধার কারণে তাকে) হাদী বা কুরবানীও করতে হয়নি, সওমও পালন করতে হয়নি, সদাক্বাহ্ও দিতে হয়নি।” (ই.ফা. ২৭৮৩, ই.সে. ২৭৮১)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক ‘উমরার, কতক হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের এবং কতক শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। আমি ‘উমরার উদ্দেশে ইহ্‌রামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ......অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত (উভয়ের) হাদীসের অনুরূপ। তবে ‘উরওয়াহ্র বর্ণনায় আছে, “আল্লাহ্ তা‘আলা ‘আয়িশা (রাঃ)-কে তার হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ সমাপনের তাওফীক্ব দিলেন।” আর হিশামের বর্ণনায় আছে, “এজন্য (‘উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের ইহরাম বাঁধার কারণে তাকে) হাদী বা কুরবানীও করতে হয়নি, সওমও পালন করতে হয়নি, সদাক্বাহ্ও দিতে হয়নি।” (ই.ফা. ২৭৮৩, ই.সে. ২৭৮১)

وحدثنا أبو كريب، حدثنا وكيع، حدثنا هشام، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم موافين لهلال ذي الحجة منا من أهل بعمرة ومنا من أهل بحجة وعمرة ومنا من أهل بحجة فكنت فيمن أهل بعمرة ‏.‏ وساق الحديث بنحو حديثهما وقال فيه قال عروة في ذلك إنه قضى الله حجها وعمرتها ‏.‏ قال هشام ولم يكن في ذلك هدى ولا صيام ولا صدقة ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮০৭

حدثنا يحيى بن يحيى، قال قرأت على مالك عن أبي الأسود، محمد بن عبد الرحمن بن نوفل عن عروة، عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فمنا من أهل بعمرة ومنا من أهل بحج وعمرة ومنا من أهل بالحج وأهل رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحج فأما من أهل بعمرة فحل وأما من أهل بحج أو جمع الحج والعمرة فلم يحلوا حتى كان يوم النحر ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক ‘উমরার উদ্দেশে, কতক হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের উদ্দেশে এবং কতক শুধু হাজ্জের উদ্দেশে ইহরাম বাঁধল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিল, তারা (‘উমরাহ্ সমাপনান্তে) ইহরাম খুলে ফেলল। আর যারা শুধু হাজ্জের, আর যারা হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিল, তারা কুরবানী দিবসের পূর্ব পর্যন্ত ইহরামমুক্ত হতে পারেনি। (ই.ফা. ২৭৮৪, ই.সে. ২৭৮২)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক ‘উমরার উদ্দেশে, কতক হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের উদ্দেশে এবং কতক শুধু হাজ্জের উদ্দেশে ইহরাম বাঁধল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিল, তারা (‘উমরাহ্ সমাপনান্তে) ইহরাম খুলে ফেলল। আর যারা শুধু হাজ্জের, আর যারা হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিল, তারা কুরবানী দিবসের পূর্ব পর্যন্ত ইহরামমুক্ত হতে পারেনি। (ই.ফা. ২৭৮৪, ই.সে. ২৭৮২)

حدثنا يحيى بن يحيى، قال قرأت على مالك عن أبي الأسود، محمد بن عبد الرحمن بن نوفل عن عروة، عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فمنا من أهل بعمرة ومنا من أهل بحج وعمرة ومنا من أهل بالحج وأهل رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحج فأما من أهل بعمرة فحل وأما من أهل بحج أو جمع الحج والعمرة فلم يحلوا حتى كان يوم النحر ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮০৮

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وعمرو الناقد، وزهير بن حرب، جميعا عن ابن، عيينة - قال عمرو حدثنا سفيان بن عيينة، - عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ولا نرى إلا الحج حتى إذا كنا بسرف أو قريبا منها حضت فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال ‏"‏ أنفست ‏"‏ ‏.‏ يعني الحيضة ‏.‏ - قالت - قلت نعم ‏.‏ قال ‏"‏ إن هذا شىء كتبه الله على بنات آدم فاقضي ما يقضي الحاج غير أن لا تطوفي بالبيت حتى تغتسلي ‏"‏ ‏.‏ قالت وضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نسائه بالبقر ‏.

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা একমাত্র হাজ্জের উদ্দেশে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা ‘সারিফ’ নামক স্থানে বা এর কাছাকাছি পৌঁছলে আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা এটা আদাম (আঃ)-এর কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি হাজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান পূর্ণ কর, শুধু (হায়যকাল শেষ হবার পর) গোসল না করা পর্যন্ত বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করবে না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিণীগণের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেন। (ই.ফা. ২৭৮৫, ই.সে. ২৭৮৩)

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা একমাত্র হাজ্জের উদ্দেশে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা ‘সারিফ’ নামক স্থানে বা এর কাছাকাছি পৌঁছলে আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা এটা আদাম (আঃ)-এর কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি হাজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান পূর্ণ কর, শুধু (হায়যকাল শেষ হবার পর) গোসল না করা পর্যন্ত বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করবে না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিণীগণের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেন। (ই.ফা. ২৭৮৫, ই.সে. ২৭৮৩)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وعمرو الناقد، وزهير بن حرب، جميعا عن ابن، عيينة - قال عمرو حدثنا سفيان بن عيينة، - عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ولا نرى إلا الحج حتى إذا كنا بسرف أو قريبا منها حضت فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال ‏"‏ أنفست ‏"‏ ‏.‏ يعني الحيضة ‏.‏ - قالت - قلت نعم ‏.‏ قال ‏"‏ إن هذا شىء كتبه الله على بنات آدم فاقضي ما يقضي الحاج غير أن لا تطوفي بالبيت حتى تغتسلي ‏"‏ ‏.‏ قالت وضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نسائه بالبقر ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১০

وحدثني أبو أيوب الغيلاني، حدثنا بهز، حدثنا حماد، عن عبد الرحمن، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت لبينا بالحج حتى إذا كنا بسرف حضت فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي ‏.‏ وساق الحديث بنحو حديث الماجشون ‏.‏ غير أن حمادا ليس في حديثه فكان الهدى مع النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر وذوي اليسارة ثم أهلوا حين راحوا ولا قولها وأنا جارية حديثة السن أنعس فتصيب وجهي مؤخرة الرحل ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন আমি ঋতুবতী হলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলেন- আমি তখন কাঁদছিলাম...... অবশিষ্ট বর্ণনা (পূর্ববর্তী) মাজিশূনের হাদীসের অনুরূপ। তবে হাম্মাদের বর্ণনায় নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেই : “নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বকর (রাঃ), ‘উমার (রাঃ) ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে (হাদী) কুরবানীর পশু ছিল, তাঁরা অগ্রসর হওয়ার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধলেন।” তার বর্ণনায় ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেই “আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার উত্তমরূপে মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আমার মাথা বারংবার পালানের খুঁটির সাথে টক্কর খাচ্ছিল।” (ই.ফা. ২৭৮৭, ই.সে. ২৭৮৫)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন আমি ঋতুবতী হলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলেন- আমি তখন কাঁদছিলাম...... অবশিষ্ট বর্ণনা (পূর্ববর্তী) মাজিশূনের হাদীসের অনুরূপ। তবে হাম্মাদের বর্ণনায় নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেই : “নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বকর (রাঃ), ‘উমার (রাঃ) ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে (হাদী) কুরবানীর পশু ছিল, তাঁরা অগ্রসর হওয়ার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধলেন।” তার বর্ণনায় ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেই “আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার উত্তমরূপে মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আমার মাথা বারংবার পালানের খুঁটির সাথে টক্কর খাচ্ছিল।” (ই.ফা. ২৭৮৭, ই.সে. ২৭৮৫)

وحدثني أبو أيوب الغيلاني، حدثنا بهز، حدثنا حماد، عن عبد الرحمن، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت لبينا بالحج حتى إذا كنا بسرف حضت فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي ‏.‏ وساق الحديث بنحو حديث الماجشون ‏.‏ غير أن حمادا ليس في حديثه فكان الهدى مع النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر وذوي اليسارة ثم أهلوا حين راحوا ولا قولها وأنا جارية حديثة السن أنعس فتصيب وجهي مؤخرة الرحل ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮০৯

حدثني سليمان بن عبيد الله أبو أيوب الغيلاني، حدثنا أبو عامر عبد الملك، بن عمرو حدثنا عبد العزيز بن أبي سلمة الماجشون، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لا نذكر إلا الحج حتى جئنا سرف فطمثت فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال ‏"‏ ما يبكيك ‏"‏ ‏.‏ فقلت والله لوددت أني لم أكن خرجت العام قال ‏"‏ ما لك لعلك نفست ‏"‏ ‏.‏ قلت نعم ‏.‏ قال ‏"‏ هذا شىء كتبه الله على بنات آدم افعلي ما يفعل الحاج غير أن لا تطوفي بالبيت حتى تطهري ‏"‏ ‏.‏ قالت فلما قدمت مكة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه ‏"‏ اجعلوها عمرة ‏"‏ ‏.‏ فأحل الناس إلا من كان معه الهدى - قالت - فكان الهدى مع النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر وذوي اليسارة ثم أهلوا حين راحوا - قالت - فلما كان يوم النحر طهرت فأمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم فأفضت - قالت - فأتينا بلحم بقر ‏.‏ فقلت ما هذا فقالوا أهدى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نسائه البقر ‏.‏ فلما كانت ليلة الحصبة قلت يا رسول الله يرجع الناس بحجة وعمرة وأرجع بحجة قالت فأمر عبد الرحمن بن أبي بكر فأردفني على جمله - قالت - فإني لأذكر وأنا جارية حديثة السن أنعس فتصيب وجهي مؤخرة الرحل حتى جئنا إلى التنعيم فأهللت منها بعمرة جزاء بعمرة الناس التي اعتمروا ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা কেবল হাজ্জের উদ্দেশে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ বছর হাজ্জ করতে না আসতাম! তিনি বললেন, কী হয়েছে তোমার? সম্ভবতঃ তুমি ঋতুবতী হয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা এটি আদাম (আঃ)-এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তুমি হাজ্জ পালনকারীগণ যা করে, তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করো না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি যখন মাক্কায় পৌঁছলাম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-তাঁর সাহাবীগণদের বললেন, তোমরা ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধ। যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে ‘উমরার ইহরাম বাঁধল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বকর (রাঃ), ‘উমার (রাঃ) ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) ছিল, তারা (ইতোপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধল। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে ত্বওয়াফে ইফাযাহ্ [১৮] করলাম। আমাদের জন্য গরুর গোশ্ত পাঠানো হ’ল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কী? তারা বলল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। যখন হাসবার রাত এলো, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ পালন করে প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি শুধু হাজ্জ করে প্রত্যাবর্তন করছি। রাবী বলেন, তিনি বলেন, তিনি ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী তিনি আমাকে তার উটের পেছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালানের খুঁটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। এভাবে আমরা তান’ঈম পৌঁছলাম। সেখান থেকে আমি আবার ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম- যা লোকেরা ইতোপূর্বে আদায় করেছে। (ই.ফা. ২৭৮৬, ই.সে. ২৭৮৪)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা কেবল হাজ্জের উদ্দেশে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ বছর হাজ্জ করতে না আসতাম! তিনি বললেন, কী হয়েছে তোমার? সম্ভবতঃ তুমি ঋতুবতী হয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা এটি আদাম (আঃ)-এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তুমি হাজ্জ পালনকারীগণ যা করে, তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করো না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি যখন মাক্কায় পৌঁছলাম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-তাঁর সাহাবীগণদের বললেন, তোমরা ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধ। যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে ‘উমরার ইহরাম বাঁধল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বকর (রাঃ), ‘উমার (রাঃ) ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) ছিল, তারা (ইতোপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধল। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে ত্বওয়াফে ইফাযাহ্ [১৮] করলাম। আমাদের জন্য গরুর গোশ্ত পাঠানো হ’ল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কী? তারা বলল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। যখন হাসবার রাত এলো, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ পালন করে প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি শুধু হাজ্জ করে প্রত্যাবর্তন করছি। রাবী বলেন, তিনি বলেন, তিনি ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী তিনি আমাকে তার উটের পেছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালানের খুঁটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। এভাবে আমরা তান’ঈম পৌঁছলাম। সেখান থেকে আমি আবার ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম- যা লোকেরা ইতোপূর্বে আদায় করেছে। (ই.ফা. ২৭৮৬, ই.সে. ২৭৮৪)

حدثني سليمان بن عبيد الله أبو أيوب الغيلاني، حدثنا أبو عامر عبد الملك، بن عمرو حدثنا عبد العزيز بن أبي سلمة الماجشون، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لا نذكر إلا الحج حتى جئنا سرف فطمثت فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال ‏"‏ ما يبكيك ‏"‏ ‏.‏ فقلت والله لوددت أني لم أكن خرجت العام قال ‏"‏ ما لك لعلك نفست ‏"‏ ‏.‏ قلت نعم ‏.‏ قال ‏"‏ هذا شىء كتبه الله على بنات آدم افعلي ما يفعل الحاج غير أن لا تطوفي بالبيت حتى تطهري ‏"‏ ‏.‏ قالت فلما قدمت مكة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه ‏"‏ اجعلوها عمرة ‏"‏ ‏.‏ فأحل الناس إلا من كان معه الهدى - قالت - فكان الهدى مع النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر وذوي اليسارة ثم أهلوا حين راحوا - قالت - فلما كان يوم النحر طهرت فأمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم فأفضت - قالت - فأتينا بلحم بقر ‏.‏ فقلت ما هذا فقالوا أهدى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نسائه البقر ‏.‏ فلما كانت ليلة الحصبة قلت يا رسول الله يرجع الناس بحجة وعمرة وأرجع بحجة قالت فأمر عبد الرحمن بن أبي بكر فأردفني على جمله - قالت - فإني لأذكر وأنا جارية حديثة السن أنعس فتصيب وجهي مؤخرة الرحل حتى جئنا إلى التنعيم فأهللت منها بعمرة جزاء بعمرة الناس التي اعتمروا ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১১

حدثنا إسماعيل بن أبي أويس، حدثني خالي، مالك بن أنس ح وحدثنا يحيى، بن يحيى قال قرأت على مالك عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، رضى الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أفرد الحج ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- ইফরাদ হাজ্জ করেছিলেন। [১৯] (ই.ফা. ২৭৮৮, ই.সে. ২৭৮৬)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- ইফরাদ হাজ্জ করেছিলেন। [১৯] (ই.ফা. ২৭৮৮, ই.সে. ২৭৮৬)

حدثنا إسماعيل بن أبي أويس، حدثني خالي، مالك بن أنس ح وحدثنا يحيى، بن يحيى قال قرأت على مالك عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، رضى الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أفرد الحج ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১৩

حدثني يحيى بن أيوب، حدثنا عباد بن عباد المهلبي، حدثنا عبيد الله بن عمر، عن القاسم بن محمد، عن أم المؤمنين، عائشة - رضى الله عنها - قالت منا من أهل بالحج مفردا ومنا من قرن ومنا من تمتع ‏.

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমাদের কেউ ইফরাদ হাজ্জের, কেউ ক্বিরান হাজ্জের এবং তামাত্তু’ হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। (ই.ফা. ২৭৯০, ই.সে. ২৭৮৮)

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমাদের কেউ ইফরাদ হাজ্জের, কেউ ক্বিরান হাজ্জের এবং তামাত্তু’ হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। (ই.ফা. ২৭৯০, ই.সে. ২৭৮৮)

حدثني يحيى بن أيوب، حدثنا عباد بن عباد المهلبي، حدثنا عبيد الله بن عمر، عن القاسم بن محمد، عن أم المؤمنين، عائشة - رضى الله عنها - قالت منا من أهل بالحج مفردا ومنا من قرن ومنا من تمتع ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১২

وحدثنا محمد بن عبد الله بن نمير، حدثنا إسحاق بن سليمان، عن أفلح بن حميد، عن القاسم، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج في أشهر الحج وفي حرم الحج وليالي الحج حتى نزلنا بسرف فخرج إلى أصحابه فقال ‏"‏ من لم يكن معه منكم هدى فأحب أن يجعلها عمرة فليفعل ومن كان معه هدى فلا ‏"‏ ‏.‏ فمنهم الآخذ بها والتارك لها ممن لم يكن معه هدى فأما رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان معه الهدى ومع رجال من أصحابه لهم قوة فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال ‏"‏ ما يبكيك ‏"‏ ‏.‏ قلت سمعت كلامك مع أصحابك فسمعت بالعمرة فمنعت العمرة ‏.‏ قال ‏"‏ وما لك ‏"‏ ‏.‏ قلت لا أصلي ‏.‏ قال ‏"‏ فلا يضرك فكوني في حجك فعسى الله أن يرزقكيها وإنما أنت من بنات آدم كتب الله عليك ما كتب عليهن ‏"‏ ‏.‏ قالت فخرجت في حجتي حتى نزلنا منى فتطهرت ثم طفنا بالبيت ونزل رسول الله صلى الله عليه وسلم المحصب فدعا عبد الرحمن بن أبي بكر فقال ‏"‏ اخرج بأختك من الحرم فلتهل بعمرة ثم لتطف بالبيت فإني أنتظركما ها هنا ‏"‏ ‏.‏ قالت فخرجنا فأهللت ثم طفت بالبيت وبالصفا والمروة فجئنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في منزله من جوف الليل فقال ‏"‏ هل فرغت ‏"‏ ‏.‏ قلت نعم ‏.‏ فآذن في أصحابه بالرحيل فخرج فمر بالبيت فطاف به قبل صلاة الصبح ثم خرج إلى المدينة ‏.

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা হাজ্জের মাসসমূহে, হাজ্জের সময় ও স্থানসমূহে (অথবা হাজ্জের সময়কার বিধি-নিষেধ অনুসরণ করে) এবং হাজ্জের রাতসমূহে ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যদি চায় তবে সে এই হাজ্জকে ‘উমরায় পরিবর্তিত করে নিক। আর যার সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) আছে, সে যেন এরূপ না করে। তাদের মাঝে কিছু সংখ্যক এটা গ্রহণ করল এবং কিছু সংখ্যক- যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, তারা ‘উমরাহ্ করল না। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর স্বচ্ছল সাহাবীগণের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আমি আপনার সাহাবীগণের উদ্দেশে আপনার কথাবার্তা শুনেছি যে, আপনি ‘উমরাহ্ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমি তা করতে পারছি না। তিনি বললেন, কেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সলাত আদায় করতে পারছি না। আমার ঋতু দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পালন কর। আশা করি আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে ‘উমরাহ্ পালনের সুযোগ দেবেন। তুমি আদাম (আঃ)-এর কন্যাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যও তা নির্ধারণ করেছেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতএব আমি হাজ্জের জন্য বের হলাম। অবশেষে মিনায় অবতরণ করলাম এবং পাক হয়ে গেলাম। এরপর আমি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুহাস্সাবে অবতরণ করলেন এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, তোমার বোনকে হারাম সীমার বাইরে নিয়ে যাও, সে (সেখানে গিয়ে ) ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমরা রওনা হয়ে (তান’ঈম) গেলাম এবং (সেখানে) ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়াহ্ সা’ঈ করলাম। অতঃপর আমরা মধ্যরাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি স্বস্থানেই ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি ‘উমরাহ্ সম্পাদন করে নিয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তাঁর সাহাবীগণের রওনা হওয়ার জন্য ঘোষণা দিলেন। তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌঁছলেন এবং ফজরের সলাতের পূর্বে তাঁর ত্বওয়াফ করলেন, অতঃপর মাদীনার উদ্দেশে রওনা হলেন। (ই.ফা. ২৭৮৯, ই.সে. ২৭৮৭)

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা হাজ্জের মাসসমূহে, হাজ্জের সময় ও স্থানসমূহে (অথবা হাজ্জের সময়কার বিধি-নিষেধ অনুসরণ করে) এবং হাজ্জের রাতসমূহে ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যদি চায় তবে সে এই হাজ্জকে ‘উমরায় পরিবর্তিত করে নিক। আর যার সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) আছে, সে যেন এরূপ না করে। তাদের মাঝে কিছু সংখ্যক এটা গ্রহণ করল এবং কিছু সংখ্যক- যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, তারা ‘উমরাহ্ করল না। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর স্বচ্ছল সাহাবীগণের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আমি আপনার সাহাবীগণের উদ্দেশে আপনার কথাবার্তা শুনেছি যে, আপনি ‘উমরাহ্ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমি তা করতে পারছি না। তিনি বললেন, কেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সলাত আদায় করতে পারছি না। আমার ঋতু দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পালন কর। আশা করি আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে ‘উমরাহ্ পালনের সুযোগ দেবেন। তুমি আদাম (আঃ)-এর কন্যাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যও তা নির্ধারণ করেছেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতএব আমি হাজ্জের জন্য বের হলাম। অবশেষে মিনায় অবতরণ করলাম এবং পাক হয়ে গেলাম। এরপর আমি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুহাস্সাবে অবতরণ করলেন এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, তোমার বোনকে হারাম সীমার বাইরে নিয়ে যাও, সে (সেখানে গিয়ে ) ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমরা রওনা হয়ে (তান’ঈম) গেলাম এবং (সেখানে) ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়াহ্ সা’ঈ করলাম। অতঃপর আমরা মধ্যরাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি স্বস্থানেই ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি ‘উমরাহ্ সম্পাদন করে নিয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তাঁর সাহাবীগণের রওনা হওয়ার জন্য ঘোষণা দিলেন। তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌঁছলেন এবং ফজরের সলাতের পূর্বে তাঁর ত্বওয়াফ করলেন, অতঃপর মাদীনার উদ্দেশে রওনা হলেন। (ই.ফা. ২৭৮৯, ই.সে. ২৭৮৭)

وحدثنا محمد بن عبد الله بن نمير، حدثنا إسحاق بن سليمان، عن أفلح بن حميد، عن القاسم، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج في أشهر الحج وفي حرم الحج وليالي الحج حتى نزلنا بسرف فخرج إلى أصحابه فقال ‏"‏ من لم يكن معه منكم هدى فأحب أن يجعلها عمرة فليفعل ومن كان معه هدى فلا ‏"‏ ‏.‏ فمنهم الآخذ بها والتارك لها ممن لم يكن معه هدى فأما رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان معه الهدى ومع رجال من أصحابه لهم قوة فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال ‏"‏ ما يبكيك ‏"‏ ‏.‏ قلت سمعت كلامك مع أصحابك فسمعت بالعمرة فمنعت العمرة ‏.‏ قال ‏"‏ وما لك ‏"‏ ‏.‏ قلت لا أصلي ‏.‏ قال ‏"‏ فلا يضرك فكوني في حجك فعسى الله أن يرزقكيها وإنما أنت من بنات آدم كتب الله عليك ما كتب عليهن ‏"‏ ‏.‏ قالت فخرجت في حجتي حتى نزلنا منى فتطهرت ثم طفنا بالبيت ونزل رسول الله صلى الله عليه وسلم المحصب فدعا عبد الرحمن بن أبي بكر فقال ‏"‏ اخرج بأختك من الحرم فلتهل بعمرة ثم لتطف بالبيت فإني أنتظركما ها هنا ‏"‏ ‏.‏ قالت فخرجنا فأهللت ثم طفت بالبيت وبالصفا والمروة فجئنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في منزله من جوف الليل فقال ‏"‏ هل فرغت ‏"‏ ‏.‏ قلت نعم ‏.‏ فآذن في أصحابه بالرحيل فخرج فمر بالبيت فطاف به قبل صلاة الصبح ثم خرج إلى المدينة ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১৪

حدثنا عبد بن حميد، أخبرنا محمد بن بكر، أخبرنا ابن جريج، أخبرني عبيد الله، بن عمر عن القاسم بن محمد، قال جاءت عائشة حاجة ‏.

ক্বাসিম ইবনু মুহামাদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) হাজ্জ করার জন্য এসেছিলেন। (ই.ফা. ২৭৯১, ই.সে. ২৭৮৯)

ক্বাসিম ইবনু মুহামাদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) হাজ্জ করার জন্য এসেছিলেন। (ই.ফা. ২৭৯১, ই.সে. ২৭৮৯)

حدثنا عبد بن حميد، أخبرنا محمد بن بكر، أخبرنا ابن جريج، أخبرني عبيد الله، بن عمر عن القاسم بن محمد، قال جاءت عائشة حاجة ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১৫

وحدثنا عبد الله بن مسلمة بن قعنب، حدثنا سليمان، - يعني ابن بلال - عن يحيى، - وهو ابن سعيد - عن عمرة، قالت سمعت عائشة، - رضى الله عنها - تقول خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لخمس بقين من ذي القعدة ولا نرى إلا أنه الحج حتى إذا دنونا من مكة أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يكن معه هدى إذا طاف بالبيت وبين الصفا والمروة أن يحل ‏.‏ قالت عائشة رضى الله عنها فدخل علينا يوم النحر بلحم بقر فقلت ما هذا فقيل ذبح رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أزواجه ‏.‏ قال يحيى فذكرت هذا الحديث للقاسم بن محمد فقال أتتك والله بالحديث على وجهه ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যিল ক্ব‘দাহ্ মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। হাজ্জ পালন ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মাক্কার নিকটবর্তী হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা’ঈ করার পর ইহরাম ভঙ্গ করবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, কুরবানীর দিন কেউ আমদের জন্য গরুর গোশ্ত নিয়ে এলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? বলা হল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছেন। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) বলেন, আমি এ হাদীস ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদের নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (‘আম্রাহ্) তোমার নিকট হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৭৯২, ই.সে. ২৭৯০)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যিল ক্ব‘দাহ্ মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। হাজ্জ পালন ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মাক্কার নিকটবর্তী হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা’ঈ করার পর ইহরাম ভঙ্গ করবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, কুরবানীর দিন কেউ আমদের জন্য গরুর গোশ্ত নিয়ে এলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? বলা হল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছেন। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) বলেন, আমি এ হাদীস ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদের নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (‘আম্রাহ্) তোমার নিকট হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৭৯২, ই.সে. ২৭৯০)

وحدثنا عبد الله بن مسلمة بن قعنب، حدثنا سليمان، - يعني ابن بلال - عن يحيى، - وهو ابن سعيد - عن عمرة، قالت سمعت عائشة، - رضى الله عنها - تقول خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لخمس بقين من ذي القعدة ولا نرى إلا أنه الحج حتى إذا دنونا من مكة أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يكن معه هدى إذا طاف بالبيت وبين الصفا والمروة أن يحل ‏.‏ قالت عائشة رضى الله عنها فدخل علينا يوم النحر بلحم بقر فقلت ما هذا فقيل ذبح رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أزواجه ‏.‏ قال يحيى فذكرت هذا الحديث للقاسم بن محمد فقال أتتك والله بالحديث على وجهه ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১৬

وحدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب، قال سمعت يحيى بن سعيد، يقول أخبرتني عمرة، أنها سمعت عائشة، رضى الله عنها ح. وحدثناه ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن يحيى، بهذا الإسناد مثله ‏.

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু আবূ ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এ সানাদেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৭৯৩, ই.সে. ২৭৯১)

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু আবূ ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এ সানাদেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৭৯৩, ই.সে. ২৭৯১)

وحدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب، قال سمعت يحيى بن سعيد، يقول أخبرتني عمرة، أنها سمعت عائشة، رضى الله عنها ح. وحدثناه ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن يحيى، بهذا الإسناد مثله ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১৭

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا ابن علية، عن ابن عون، عن إبراهيم، عن الأسود، عن أم المؤمنين، ح وعن القاسم، عن أم المؤمنين، قالت قلت يا رسول الله يصدر الناس بنسكين وأصدر بنسك واحد قال ‏ "‏ انتظري فإذا طهرت فاخرجي إلى التنعيم فأهلي منه ثم القينا عند كذا وكذا - قال أظنه قال غدا - ولكنها على قدر نصبك - أو قال - نفقتك ‏"‏ ‏.

উম্মুল মু’মিনীন [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু’টি ‘ইবাদাতসহ (হাজ্জ ও ‘উমরাহ্) প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি একটি মাত্র ‘ইবাদাতসহ (হাজ্জ) ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, অপেক্ষা কর। তুমি পবিত্র হয়ে যাবার পর তান‘ঈম চলে যাও এবং সেখানে ইহরাম বাঁধ, অতঃপর অমুক অমুক সময় আমাদের সঙ্গে মিলিত হও। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি ভোরবেলার কথা বলেছেন এবং তুমি তোমার পরিশ্রম অথবা খরচ অনুযায়ী (এ ‘উমরার সওয়াব পাবে)। (ই.ফা. ২৭৯৪, ই.সে. ২৭৯২)

উম্মুল মু’মিনীন [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু’টি ‘ইবাদাতসহ (হাজ্জ ও ‘উমরাহ্) প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি একটি মাত্র ‘ইবাদাতসহ (হাজ্জ) ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, অপেক্ষা কর। তুমি পবিত্র হয়ে যাবার পর তান‘ঈম চলে যাও এবং সেখানে ইহরাম বাঁধ, অতঃপর অমুক অমুক সময় আমাদের সঙ্গে মিলিত হও। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি ভোরবেলার কথা বলেছেন এবং তুমি তোমার পরিশ্রম অথবা খরচ অনুযায়ী (এ ‘উমরার সওয়াব পাবে)। (ই.ফা. ২৭৯৪, ই.সে. ২৭৯২)

وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا ابن علية، عن ابن عون، عن إبراهيم، عن الأسود، عن أم المؤمنين، ح وعن القاسم، عن أم المؤمنين، قالت قلت يا رسول الله يصدر الناس بنسكين وأصدر بنسك واحد قال ‏ "‏ انتظري فإذا طهرت فاخرجي إلى التنعيم فأهلي منه ثم القينا عند كذا وكذا - قال أظنه قال غدا - ولكنها على قدر نصبك - أو قال - نفقتك ‏"‏ ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১৮

وحدثنا ابن المثنى، حدثنا ابن أبي عدي، عن ابن عون، عن القاسم، وإبراهيم، - قال لا أعرف حديث أحدهما من الآخر - أن أم المؤمنين - رضى الله عنها - قالت يا رسول الله يصدر الناس بنسكين ‏.‏ فذكر الحديث ‏.

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু’টি ‘ইবাদাতের সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাচ্ছে... অতঃপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৭৯৫, ই.সে. ২৭৯৩)

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু’টি ‘ইবাদাতের সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাচ্ছে... অতঃপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৭৯৫, ই.সে. ২৭৯৩)

وحدثنا ابن المثنى، حدثنا ابن أبي عدي، عن ابن عون، عن القاسم، وإبراهيم، - قال لا أعرف حديث أحدهما من الآخر - أن أم المؤمنين - رضى الله عنها - قالت يا رسول الله يصدر الناس بنسكين ‏.‏ فذكر الحديث ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২০

وحدثناه سويد بن سعيد، عن علي بن مسهر، عن الأعمش، عن إبراهيم، عن الأسود، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم نلبي لا نذكر حجا ولا عمرة ‏.‏ وساق الحديث بمعنى حديث منصور ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে তালবিয়াহ্ পাঠ করতে করতে রওনা হলাম। আমরা সুস্পষ্টভাবে হাজ্জ বা ‘উমরাহ্ কোনটিরই উল্লেখ করিনি।......অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত মানসূর (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ২৭৯৭, ই.সে. ২৭৯৫)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে তালবিয়াহ্ পাঠ করতে করতে রওনা হলাম। আমরা সুস্পষ্টভাবে হাজ্জ বা ‘উমরাহ্ কোনটিরই উল্লেখ করিনি।......অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত মানসূর (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ২৭৯৭, ই.সে. ২৭৯৫)

وحدثناه سويد بن سعيد، عن علي بن مسهر، عن الأعمش، عن إبراهيم، عن الأسود، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم نلبي لا نذكر حجا ولا عمرة ‏.‏ وساق الحديث بمعنى حديث منصور ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮১৯

حدثنا زهير بن حرب، وإسحاق بن إبراهيم، قال زهير حدثنا وقال، إسحاق أخبرنا جرير، عن منصور، عن إبراهيم، عن الأسود، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا نرى إلا أنه الحج فلما قدمنا مكة تطوفنا بالبيت فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يكن ساق الهدى أن يحل - قالت - فحل من لم يكن ساق الهدى ونساؤه لم يسقن الهدى فأحللن ‏.‏ قالت عائشة فحضت فلم أطف بالبيت فلما كانت ليلة الحصبة - قالت - قلت يا رسول الله يرجع الناس بعمرة وحجة وأرجع أنا بحجة قال ‏"‏ أوما كنت طفت ليالي قدمنا مكة ‏"‏ ‏.‏ قالت قلت لا ‏.‏ قال ‏"‏ فاذهبي مع أخيك إلى التنعيم فأهلي بعمرة ثم موعدك مكان كذا وكذا ‏"‏ ‏.‏ قالت صفية ما أراني إلا حابستكم قال ‏"‏ عقرى حلقى أوما كنت طفت يوم النحر ‏"‏ ‏.‏ قالت بلى ‏.‏ قال ‏"‏ لا بأس انفري ‏"‏ ‏.‏ قالت عائشة فلقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مصعد من مكة وأنا منهبطة عليها أو أنا مصعدة وهو منهبط منها ‏.‏ وقال إسحاق متهبطة ومتهبط ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, শুধুমাত্র হাজ্জের উদ্দেশেই আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা (মাক্কায়) পৌছে বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করলাম। যারা কুরবানীর পশু (হাদী) সাথে আনেনি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতএব যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেনি, তারা ইহরাম ছেড়ে দিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণীগণ সাথে কুরবানীর পশু আনেননি। তাই তারাও ইহরাম খুলে ফেললেন। ‘আয়িশা (রাঃ) আরও বললেন, আমার মাসিক দেখা দিল এবং বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করতে পারলাম না। হাসবায় অবস্থানের রাতে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ করে ফিরে যাচ্ছে, আর আমি শুধু হাজ্জ করে ফিরছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা যে রাতে মাক্কায় পৌছেছি, তখন তুমি কি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে তান‘ঈম যাও এবং (সেখানে) ‘উমরার ইহরাম বাঁধ। অতঃপর তুমি অমুক অমুক জায়গায় (আমাদের সাথে) মিলিত হতে পারবে। উম্মুল মু’মিনীন সফিয়্যাহ্ (রাঃ) বললেন, মনে হয় আমি আপনাদের আটকিয়ে রাখব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দূর হতভাগী, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করেছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাহলে কোন অসুবিধা নেই, তুমি অগ্রসর হও। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তিনি মাক্কার উচ্চভূমি দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আর আমি তা অতিক্রম করে নিম্নভূমিতে নামছিলাম। অথবা তিনি উচ্চভূমি অতিক্রম করে নিম্নভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, আর আমি নিম্নভূমি থেকে উচ্চভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। ইসহাক্বের বর্ণনায় আছে, ‘আয়িশা (রাঃ) এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উভয়ে নিম্নভূমি অতিক্রম করছিলেন। (ই.ফা. ২৭৯৬, ই.সে. ২৭৯৪)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, শুধুমাত্র হাজ্জের উদ্দেশেই আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা (মাক্কায়) পৌছে বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করলাম। যারা কুরবানীর পশু (হাদী) সাথে আনেনি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতএব যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেনি, তারা ইহরাম ছেড়ে দিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণীগণ সাথে কুরবানীর পশু আনেননি। তাই তারাও ইহরাম খুলে ফেললেন। ‘আয়িশা (রাঃ) আরও বললেন, আমার মাসিক দেখা দিল এবং বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করতে পারলাম না। হাসবায় অবস্থানের রাতে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ করে ফিরে যাচ্ছে, আর আমি শুধু হাজ্জ করে ফিরছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা যে রাতে মাক্কায় পৌছেছি, তখন তুমি কি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে তান‘ঈম যাও এবং (সেখানে) ‘উমরার ইহরাম বাঁধ। অতঃপর তুমি অমুক অমুক জায়গায় (আমাদের সাথে) মিলিত হতে পারবে। উম্মুল মু’মিনীন সফিয়্যাহ্ (রাঃ) বললেন, মনে হয় আমি আপনাদের আটকিয়ে রাখব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দূর হতভাগী, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করেছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাহলে কোন অসুবিধা নেই, তুমি অগ্রসর হও। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তিনি মাক্কার উচ্চভূমি দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আর আমি তা অতিক্রম করে নিম্নভূমিতে নামছিলাম। অথবা তিনি উচ্চভূমি অতিক্রম করে নিম্নভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, আর আমি নিম্নভূমি থেকে উচ্চভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। ইসহাক্বের বর্ণনায় আছে, ‘আয়িশা (রাঃ) এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উভয়ে নিম্নভূমি অতিক্রম করছিলেন। (ই.ফা. ২৭৯৬, ই.সে. ২৭৯৪)

حدثنا زهير بن حرب، وإسحاق بن إبراهيم، قال زهير حدثنا وقال، إسحاق أخبرنا جرير، عن منصور، عن إبراهيم، عن الأسود، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا نرى إلا أنه الحج فلما قدمنا مكة تطوفنا بالبيت فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يكن ساق الهدى أن يحل - قالت - فحل من لم يكن ساق الهدى ونساؤه لم يسقن الهدى فأحللن ‏.‏ قالت عائشة فحضت فلم أطف بالبيت فلما كانت ليلة الحصبة - قالت - قلت يا رسول الله يرجع الناس بعمرة وحجة وأرجع أنا بحجة قال ‏"‏ أوما كنت طفت ليالي قدمنا مكة ‏"‏ ‏.‏ قالت قلت لا ‏.‏ قال ‏"‏ فاذهبي مع أخيك إلى التنعيم فأهلي بعمرة ثم موعدك مكان كذا وكذا ‏"‏ ‏.‏ قالت صفية ما أراني إلا حابستكم قال ‏"‏ عقرى حلقى أوما كنت طفت يوم النحر ‏"‏ ‏.‏ قالت بلى ‏.‏ قال ‏"‏ لا بأس انفري ‏"‏ ‏.‏ قالت عائشة فلقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مصعد من مكة وأنا منهبطة عليها أو أنا مصعدة وهو منهبط منها ‏.‏ وقال إسحاق متهبطة ومتهبط ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২১

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، ومحمد بن المثنى، وابن، بشار جميعا عن غندر، - قال ابن المثنى حدثنا محمد بن جعفر، - حدثنا شعبة، عن الحكم، عن علي بن الحسين، عن ذكوان، مولى عائشة عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها قالت قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم لأربع مضين من ذي الحجة أو خمس فدخل على وهو غضبان فقلت من أغضبك يا رسول الله أدخله الله النار ‏.‏ قال ‏ "‏ أوما شعرت أني أمرت الناس بأمر فإذا هم يترددون قال الحكم كأنهم يترددون أحسب - ولو أني استقبلت من أمري ما استدبرت ما سقت الهدى معي حتى أشتريه ثم أحل كما حلوا ‏"‏ ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিলহাজ্জ মাসের ৪র্থ অথবা ৫ম দিনে (মাক্কায়) এলেন। এরপর রাগান্বিত অবস্থায় আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কে আপনাকে রাগান্বিত করল, আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করুন? তিনি বললেন, তুমি কি জান না- আমি লোকদের একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছিলাম অথচ তারা ইতস্ততঃ করছে? রাবী হাকাম বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, যেন তারা ইতস্ততঃ করছে। আমি যদি পূর্বেই জানতাম, যে বিষয়ে আমি পরে সম্মুখীন হয়েছি, তবে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না; বরং পরে তা কিনে নিতাম এবং আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম যেমন অন্যরা ইহরাম খুলেছে। (ই.ফা. ২৭৯৮, ই.সে. ২৭৯৬)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিলহাজ্জ মাসের ৪র্থ অথবা ৫ম দিনে (মাক্কায়) এলেন। এরপর রাগান্বিত অবস্থায় আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কে আপনাকে রাগান্বিত করল, আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করুন? তিনি বললেন, তুমি কি জান না- আমি লোকদের একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছিলাম অথচ তারা ইতস্ততঃ করছে? রাবী হাকাম বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, যেন তারা ইতস্ততঃ করছে। আমি যদি পূর্বেই জানতাম, যে বিষয়ে আমি পরে সম্মুখীন হয়েছি, তবে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না; বরং পরে তা কিনে নিতাম এবং আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম যেমন অন্যরা ইহরাম খুলেছে। (ই.ফা. ২৭৯৮, ই.সে. ২৭৯৬)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، ومحمد بن المثنى، وابن، بشار جميعا عن غندر، - قال ابن المثنى حدثنا محمد بن جعفر، - حدثنا شعبة، عن الحكم، عن علي بن الحسين، عن ذكوان، مولى عائشة عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها قالت قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم لأربع مضين من ذي الحجة أو خمس فدخل على وهو غضبان فقلت من أغضبك يا رسول الله أدخله الله النار ‏.‏ قال ‏ "‏ أوما شعرت أني أمرت الناس بأمر فإذا هم يترددون قال الحكم كأنهم يترددون أحسب - ولو أني استقبلت من أمري ما استدبرت ما سقت الهدى معي حتى أشتريه ثم أحل كما حلوا ‏"‏ ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২২

وحدثناه عبيد الله بن معاذ، حدثنا أبي، حدثنا شعبة، عن الحكم، سمع علي بن، الحسين عن ذكوان، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت قدم النبي صلى الله عليه وسلم لأربع أو خمس مضين من ذي الحجة ‏.‏ بمثل حديث غندر ولم يذكر الشك من الحكم في قوله يترددون ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিলহাজ্জ মাসের চার অথবা পাঁচ তারিখে (মাক্কায়) পৌঁছলেন......পূর্বোক্ত গুন্‌দার-এর হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু এ সানাদে তিনি (রাবী) হাকামের উক্তিতে এ সন্দেহ, “তারা ইতস্ততঃ করেছে” উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ২৭৯৯, ই.সে. ২৭৯৭)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিলহাজ্জ মাসের চার অথবা পাঁচ তারিখে (মাক্কায়) পৌঁছলেন......পূর্বোক্ত গুন্‌দার-এর হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু এ সানাদে তিনি (রাবী) হাকামের উক্তিতে এ সন্দেহ, “তারা ইতস্ততঃ করেছে” উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ২৭৯৯, ই.সে. ২৭৯৭)

وحدثناه عبيد الله بن معاذ، حدثنا أبي، حدثنا شعبة، عن الحكم، سمع علي بن، الحسين عن ذكوان، عن عائشة، - رضى الله عنها - قالت قدم النبي صلى الله عليه وسلم لأربع أو خمس مضين من ذي الحجة ‏.‏ بمثل حديث غندر ولم يذكر الشك من الحكم في قوله يترددون ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২৩

حدثني محمد بن حاتم، حدثنا بهز، حدثنا وهيب، حدثنا عبد الله بن طاوس، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها أهلت بعمرة فقدمت ولم تطف بالبيت حتى حاضت فنسكت المناسك كلها ‏.‏ وقد أهلت بالحج ‏.‏ فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم يوم النفر ‏ "‏ يسعك طوافك لحجك وعمرتك ‏"‏ ‏.‏ فأبت فبعث بها مع عبد الرحمن إلى التنعيم فاعتمرت بعد الحج ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন, এরপর (মাক্কায়) পৌঁছলেন এবং বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ না করতেই ঋতুবতী হলেন। এরপর তিনি হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন এবং এর যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন (ত্বওয়াফ ব্যতীত)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় অগ্রসর হবার দিন তাকে বললেন, তোমার (একবারের) ত্বওয়াফই তোমার হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তিনি তাতে তৃপ্ত হলেন না। তাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ‘আবদুর রহমানের সাথে তান‘ঈম পাঠালেন। অতএব তিনি হাজ্জের পর (এখান থেকে) ইহরাম বেঁধে ‘উমরাহ্ করলেন। (ই.ফা. ২৮০০, ই.সে. ২৭৯৮)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন, এরপর (মাক্কায়) পৌঁছলেন এবং বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ না করতেই ঋতুবতী হলেন। এরপর তিনি হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন এবং এর যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন (ত্বওয়াফ ব্যতীত)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় অগ্রসর হবার দিন তাকে বললেন, তোমার (একবারের) ত্বওয়াফই তোমার হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তিনি তাতে তৃপ্ত হলেন না। তাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ‘আবদুর রহমানের সাথে তান‘ঈম পাঠালেন। অতএব তিনি হাজ্জের পর (এখান থেকে) ইহরাম বেঁধে ‘উমরাহ্ করলেন। (ই.ফা. ২৮০০, ই.সে. ২৭৯৮)

حدثني محمد بن حاتم، حدثنا بهز، حدثنا وهيب، حدثنا عبد الله بن طاوس، عن أبيه، عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها أهلت بعمرة فقدمت ولم تطف بالبيت حتى حاضت فنسكت المناسك كلها ‏.‏ وقد أهلت بالحج ‏.‏ فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم يوم النفر ‏ "‏ يسعك طوافك لحجك وعمرتك ‏"‏ ‏.‏ فأبت فبعث بها مع عبد الرحمن إلى التنعيم فاعتمرت بعد الحج ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২৪

وحدثني حسن بن علي الحلواني، حدثنا زيد بن الحباب، حدثني إبراهيم بن نافع، حدثني عبد الله بن أبي نجيح، عن مجاهد، عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها حاضت بسرف فتطهرت بعرفة فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يجزئ عنك طوافك بالصفا والمروة عن حجك وعمرتك ‏"‏ ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি সারিফ নামক স্থানে ঋতুবতী হলেন এবং ‘আরাফাহ্ দিবসে পবিত্র হলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তোমার সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যকার সা’ঈ তোমার হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়টির জন্য যথেষ্ট। (ই.ফা. ২৮০১, ই.সে. ২৭৯৯)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি সারিফ নামক স্থানে ঋতুবতী হলেন এবং ‘আরাফাহ্ দিবসে পবিত্র হলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তোমার সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যকার সা’ঈ তোমার হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়টির জন্য যথেষ্ট। (ই.ফা. ২৮০১, ই.সে. ২৭৯৯)

وحدثني حسن بن علي الحلواني، حدثنا زيد بن الحباب، حدثني إبراهيم بن نافع، حدثني عبد الله بن أبي نجيح، عن مجاهد، عن عائشة، - رضى الله عنها - أنها حاضت بسرف فتطهرت بعرفة فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يجزئ عنك طوافك بالصفا والمروة عن حجك وعمرتك ‏"‏ ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২৫

وحدثنا يحيى بن حبيب الحارثي، حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا قرة، حدثنا عبد الحميد بن جبير بن شيبة، حدثتنا صفية بنت شيبة، قالت قالت عائشة رضى الله عنها يا رسول الله أيرجع الناس بأجرين وأرجع بأجر فأمر عبد الرحمن بن أبي بكر أن ينطلق بها إلى التنعيم ‏.‏ قالت فأردفني خلفه على جمل له - قالت - فجعلت أرفع خماري أحسره عن عنقي فيضرب رجلي بعلة الراحلة ‏.‏ قلت له وهل ترى من أحد قالت فأهللت بعمرة ثم أقبلنا حتى انتهينا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بالحصبة ‏.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু’টি সাওয়াবসহ প্রত্যাবর্তন করবে আর আমি কি মাত্র একটি সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাব? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন- তাকে নিয়ে তান’ঈম যাওয়ার জন্য। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি তার উটের পিঠে আমাকে তার পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। আমি আমার ওড়না উঠাচ্ছিলাম এবং তা ঘাড় থেকে সরিয়ে রাখছিলাম। তিনি আমার পায়ে আঘাত করছিলেন- যেমন উটকে আঘাত করেন। আমি তাকে বললাম, আপনি এখানে কাউকে দেখতে পাচ্ছেন কি? তিনি বলেন, আমি (তান‘ঈম পৌঁছে) ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর (মাক্কায়) ফিরে এসে (ত্বওয়াফ শেষে) হাস্‌বাহ্ নামক স্থানে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মিলিত হলাম। (ই.ফা. ২৮০২, ই.সে. ২৮০০)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু’টি সাওয়াবসহ প্রত্যাবর্তন করবে আর আমি কি মাত্র একটি সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাব? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন- তাকে নিয়ে তান’ঈম যাওয়ার জন্য। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি তার উটের পিঠে আমাকে তার পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। আমি আমার ওড়না উঠাচ্ছিলাম এবং তা ঘাড় থেকে সরিয়ে রাখছিলাম। তিনি আমার পায়ে আঘাত করছিলেন- যেমন উটকে আঘাত করেন। আমি তাকে বললাম, আপনি এখানে কাউকে দেখতে পাচ্ছেন কি? তিনি বলেন, আমি (তান‘ঈম পৌঁছে) ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর (মাক্কায়) ফিরে এসে (ত্বওয়াফ শেষে) হাস্‌বাহ্ নামক স্থানে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মিলিত হলাম। (ই.ফা. ২৮০২, ই.সে. ২৮০০)

وحدثنا يحيى بن حبيب الحارثي، حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا قرة، حدثنا عبد الحميد بن جبير بن شيبة، حدثتنا صفية بنت شيبة، قالت قالت عائشة رضى الله عنها يا رسول الله أيرجع الناس بأجرين وأرجع بأجر فأمر عبد الرحمن بن أبي بكر أن ينطلق بها إلى التنعيم ‏.‏ قالت فأردفني خلفه على جمل له - قالت - فجعلت أرفع خماري أحسره عن عنقي فيضرب رجلي بعلة الراحلة ‏.‏ قلت له وهل ترى من أحد قالت فأهللت بعمرة ثم أقبلنا حتى انتهينا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بالحصبة ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২৬

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وابن، نمير قالا حدثنا سفيان، عن عمرو، أخبره عمرو بن أوس، أخبرني عبد الرحمن بن أبي بكر، أن النبي صلى الله عليه وسلم أمره أن يردف عائشة فيعمرها من التنعيم ‏.

‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাক্‌র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নির্দেশ দিলেন ‘আয়িশা (রাঃ)-কে (বাহনে) তার পিছনে বসিয়ে তান‘ঈম নিয়ে যাবার জন্য- যাতে তিনি তাঁকে (তান‘ঈম থেকে) ‘উমরাহ্ করান। (ই.ফা. ২৮০৩, ই.সে. ২৮০১)

‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাক্‌র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নির্দেশ দিলেন ‘আয়িশা (রাঃ)-কে (বাহনে) তার পিছনে বসিয়ে তান‘ঈম নিয়ে যাবার জন্য- যাতে তিনি তাঁকে (তান‘ঈম থেকে) ‘উমরাহ্ করান। (ই.ফা. ২৮০৩, ই.সে. ২৮০১)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وابن، نمير قالا حدثنا سفيان، عن عمرو، أخبره عمرو بن أوس، أخبرني عبد الرحمن بن أبي بكر، أن النبي صلى الله عليه وسلم أمره أن يردف عائشة فيعمرها من التنعيم ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২৮

وحدثني محمد بن حاتم، وعبد بن حميد، قال ابن حاتم حدثنا وقال عبد، أخبرنا محمد بن بكر، أخبرنا ابن جريج، أخبرني أبو الزبير، أنه سمع جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - يقول دخل النبي صلى الله عليه وسلم على عائشة - رضى الله عنها - وهى تبكي ‏.‏ فذكر بمثل حديث الليث إلى آخره ولم يذكر ما قبل هذا من حديث الليث ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লায়স (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য উক্ত হাদীসের প্রথমাংশ এ হাদীসে বর্ণনা করা হয়নি। (ই.ফা. ২৮০৫, ই.সে. ২৮০৩)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লায়স (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য উক্ত হাদীসের প্রথমাংশ এ হাদীসে বর্ণনা করা হয়নি। (ই.ফা. ২৮০৫, ই.সে. ২৮০৩)

وحدثني محمد بن حاتم، وعبد بن حميد، قال ابن حاتم حدثنا وقال عبد، أخبرنا محمد بن بكر، أخبرنا ابن جريج، أخبرني أبو الزبير، أنه سمع جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - يقول دخل النبي صلى الله عليه وسلم على عائشة - رضى الله عنها - وهى تبكي ‏.‏ فذكر بمثل حديث الليث إلى آخره ولم يذكر ما قبل هذا من حديث الليث ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২৭

حدثنا قتيبة بن سعيد، ومحمد بن رمح، جميعا عن الليث بن سعد، - قال قتيبة حدثنا ليث، - عن أبي الزبير، عن جابر، - رضى الله عنه - أنه قال أقبلنا مهلين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بحج مفرد وأقبلت عائشة - رضى الله عنها - بعمرة حتى إذا كنا بسرف عركت حتى إذا قدمنا طفنا بالكعبة والصفا والمروة فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يحل منا من لم يكن معه هدى - قال - فقلنا حل ماذا قال ‏"‏ الحل كله ‏"‏ ‏.‏ فواقعنا النساء وتطيبنا بالطيب ولبسنا ثيابنا وليس بيننا وبين عرفة إلا أربع ليال ثم أهللنا يوم التروية ثم دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على عائشة - رضى الله عنها - فوجدها تبكي فقال ‏"‏ ما شانك ‏"‏ ‏.‏ قالت شاني أني قد حضت وقد حل الناس ولم أحلل ولم أطف بالبيت والناس يذهبون إلى الحج الآن ‏.‏ فقال ‏"‏ إن هذا أمر كتبه الله على بنات آدم فاغتسلي ثم أهلي بالحج ‏"‏ ‏.‏ ففعلت ووقفت المواقف حتى إذا طهرت طافت بالكعبة والصفا والمروة ثم قال ‏"‏ قد حللت من حجك وعمرتك جميعا ‏"‏ ‏.‏ فقالت يا رسول الله إني أجد في نفسي أني لم أطف بالبيت حتى حججت ‏.‏ قال ‏"‏ فاذهب بها يا عبد الرحمن فأعمرها من التنعيم ‏"‏ ‏.‏ وذلك ليلة الحصبة ‏.

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা ইফরাদ হাজ্জের ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মাক্কার দিকে) অগ্রসর হলাম আর ‘আয়িশা (রাঃ) ‘উমরার ইহরাম বেঁধে আসলেন। আমরা যখন ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, ‘আয়িশা (রাঃ)-এর মাসিক ঋতু শুরু হ’ল। অবশেষে আমরা মাক্কায় পৌঁছে কা‘বাহ্ ঘর ত্বওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা‘ঈ করলাম। আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না- রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। আমরা বললাম, কী প্রকারে ইহরাম খোলা হবে? তিনি বললেন, “সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হওয়া।” অতএব আমরা স্ত্রী যৌন সঙ্গম করলাম, সুগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং সাধারণ পোশাক পরিধান করলাম। তখন ‘আরাফাহ্ দিবস ও আমাদের মাঝে আর মাত্র চার দিনের ব্যবধান ছিল। অতঃপর তালবিয়াহ্ দিবসে (৮ই যিলহাজ্জ) আমরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলাম। এদিকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে? ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, ব্যাপার এই যে, আমার হায়য দেখা দিয়েছে। লোকেরা ইহরাম খুলেছে কিন্তু আমি ইহরামমুক্ত হতে পারিনি এবং বায়তুল্লাহ্‌রও ত্বওয়াফ করতে পারিনি, আর এখন লোকেরা হাজ্জের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ তা’আলা আদাম (আঃ)-এর কন্যা সন্তানদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হাজ্জের ইহরাম বাঁধ। তিনি তাই করলেন এবং হাজ্জের স্থানসমূহে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি পবিত্র হলেন, কা‘বাহ্ ঘর ত্বওয়াফ করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এখন তোমার হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়টিই পূর্ণ হ’ল। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার অবস্থা এই যে, হাজ্জ না করা পর্যন্ত আমি (‘উমরার জন্য) বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করতে পারিনি, কিন্তু হাজ্জ আদায় করে নিয়েছি। তিনি বললেন, হে ‘আবদুর রহমান! তাকে নিয়ে চলে যাও এবং তান‘ঈম থেকে তাকে ‘উমরাহ্ করাও। এটা ছিল হাসবার রাতের ঘটনা। (ই.ফা. ২৮০৪, ই.সে. ২৮০২)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা ইফরাদ হাজ্জের ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মাক্কার দিকে) অগ্রসর হলাম আর ‘আয়িশা (রাঃ) ‘উমরার ইহরাম বেঁধে আসলেন। আমরা যখন ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, ‘আয়িশা (রাঃ)-এর মাসিক ঋতু শুরু হ’ল। অবশেষে আমরা মাক্কায় পৌঁছে কা‘বাহ্ ঘর ত্বওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা‘ঈ করলাম। আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না- রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। আমরা বললাম, কী প্রকারে ইহরাম খোলা হবে? তিনি বললেন, “সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হওয়া।” অতএব আমরা স্ত্রী যৌন সঙ্গম করলাম, সুগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং সাধারণ পোশাক পরিধান করলাম। তখন ‘আরাফাহ্ দিবস ও আমাদের মাঝে আর মাত্র চার দিনের ব্যবধান ছিল। অতঃপর তালবিয়াহ্ দিবসে (৮ই যিলহাজ্জ) আমরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলাম। এদিকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে? ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, ব্যাপার এই যে, আমার হায়য দেখা দিয়েছে। লোকেরা ইহরাম খুলেছে কিন্তু আমি ইহরামমুক্ত হতে পারিনি এবং বায়তুল্লাহ্‌রও ত্বওয়াফ করতে পারিনি, আর এখন লোকেরা হাজ্জের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ তা’আলা আদাম (আঃ)-এর কন্যা সন্তানদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হাজ্জের ইহরাম বাঁধ। তিনি তাই করলেন এবং হাজ্জের স্থানসমূহে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি পবিত্র হলেন, কা‘বাহ্ ঘর ত্বওয়াফ করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এখন তোমার হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়টিই পূর্ণ হ’ল। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার অবস্থা এই যে, হাজ্জ না করা পর্যন্ত আমি (‘উমরার জন্য) বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করতে পারিনি, কিন্তু হাজ্জ আদায় করে নিয়েছি। তিনি বললেন, হে ‘আবদুর রহমান! তাকে নিয়ে চলে যাও এবং তান‘ঈম থেকে তাকে ‘উমরাহ্ করাও। এটা ছিল হাসবার রাতের ঘটনা। (ই.ফা. ২৮০৪, ই.সে. ২৮০২)

حدثنا قتيبة بن سعيد، ومحمد بن رمح، جميعا عن الليث بن سعد، - قال قتيبة حدثنا ليث، - عن أبي الزبير، عن جابر، - رضى الله عنه - أنه قال أقبلنا مهلين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بحج مفرد وأقبلت عائشة - رضى الله عنها - بعمرة حتى إذا كنا بسرف عركت حتى إذا قدمنا طفنا بالكعبة والصفا والمروة فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يحل منا من لم يكن معه هدى - قال - فقلنا حل ماذا قال ‏"‏ الحل كله ‏"‏ ‏.‏ فواقعنا النساء وتطيبنا بالطيب ولبسنا ثيابنا وليس بيننا وبين عرفة إلا أربع ليال ثم أهللنا يوم التروية ثم دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على عائشة - رضى الله عنها - فوجدها تبكي فقال ‏"‏ ما شانك ‏"‏ ‏.‏ قالت شاني أني قد حضت وقد حل الناس ولم أحلل ولم أطف بالبيت والناس يذهبون إلى الحج الآن ‏.‏ فقال ‏"‏ إن هذا أمر كتبه الله على بنات آدم فاغتسلي ثم أهلي بالحج ‏"‏ ‏.‏ ففعلت ووقفت المواقف حتى إذا طهرت طافت بالكعبة والصفا والمروة ثم قال ‏"‏ قد حللت من حجك وعمرتك جميعا ‏"‏ ‏.‏ فقالت يا رسول الله إني أجد في نفسي أني لم أطف بالبيت حتى حججت ‏.‏ قال ‏"‏ فاذهب بها يا عبد الرحمن فأعمرها من التنعيم ‏"‏ ‏.‏ وذلك ليلة الحصبة ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮২৯

وحدثني أبو غسان المسمعي، حدثنا معاذ، - يعني ابن هشام - حدثني أبي، عن مطر، عن أبي الزبير، عن جابر بن عبد الله، أن عائشة، - رضى الله عنها - في حجة النبي صلى الله عليه وسلم أهلت بعمرة ‏.‏ وساق الحديث بمعنى حديث الليث وزاد في الحديث قال وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا سهلا إذا هويت الشىء تابعها عليه فأرسلها مع عبد الرحمن بن أبي بكر فأهلت بعمرة من التنعيم ‏.‏ قال مطر قال أبو الزبير فكانت عائشة إذا حجت صنعت كما صنعت مع نبي الله صلى الله عليه وسلم ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে হাজ্জ উপলক্ষে ‘আয়িশা (রাঃ) ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন... অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লায়স (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে- জাবির (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন নমনীয় স্বভাবের। অতএব ‘আয়িশা (রাঃ) যখনই কোন কিছুর আবদার ধরতেন, তিনি সে আবদার রক্ষা করতেন। তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে ‘আবদুর রহমানের সাথে পাঠালেন এবং তিনি তান‘ঈম থেকে ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন। (অধঃস্তন রাবী) মাত্বার (রহঃ) বলেন, আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেছেনঃ ‘আয়িশা (রাঃ) যখনই হাজ্জ করতেন তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে যেভাবে হাজ্জ করেছেন তদানুরূপ করতেন। (ই.ফা. ২৮০৬, ই.সে. ২৮০৪)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে হাজ্জ উপলক্ষে ‘আয়িশা (রাঃ) ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন... অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লায়স (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে- জাবির (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন নমনীয় স্বভাবের। অতএব ‘আয়িশা (রাঃ) যখনই কোন কিছুর আবদার ধরতেন, তিনি সে আবদার রক্ষা করতেন। তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে ‘আবদুর রহমানের সাথে পাঠালেন এবং তিনি তান‘ঈম থেকে ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন। (অধঃস্তন রাবী) মাত্বার (রহঃ) বলেন, আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেছেনঃ ‘আয়িশা (রাঃ) যখনই হাজ্জ করতেন তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে যেভাবে হাজ্জ করেছেন তদানুরূপ করতেন। (ই.ফা. ২৮০৬, ই.সে. ২৮০৪)

وحدثني أبو غسان المسمعي، حدثنا معاذ، - يعني ابن هشام - حدثني أبي، عن مطر، عن أبي الزبير، عن جابر بن عبد الله، أن عائشة، - رضى الله عنها - في حجة النبي صلى الله عليه وسلم أهلت بعمرة ‏.‏ وساق الحديث بمعنى حديث الليث وزاد في الحديث قال وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا سهلا إذا هويت الشىء تابعها عليه فأرسلها مع عبد الرحمن بن أبي بكر فأهلت بعمرة من التنعيم ‏.‏ قال مطر قال أبو الزبير فكانت عائشة إذا حجت صنعت كما صنعت مع نبي الله صلى الله عليه وسلم ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮৩০

حدثنا أحمد بن يونس، حدثنا زهير، حدثنا أبو الزبير، عن جابر، - رضى الله عنه - ح وحدثنا يحيى بن يحيى، - واللفظ له - أخبرنا أبو خيثمة، عن أبي الزبير، عن جابر، - رضى الله عنه - قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج معنا النساء والولدان فلما قدمنا مكة طفنا بالبيت وبالصفا والمروة فقال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من لم يكن معه هدى فليحلل ‏"‏ ‏.‏ قال قلنا أى الحل قال ‏"‏ الحل كله ‏"‏ ‏.‏ قال فأتينا النساء ولبسنا الثياب ومسسنا الطيب فلما كان يوم التروية أهللنا بالحج وكفانا الطواف الأول بين الصفا والمروة فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نشترك في الإبل والبقر كل سبعة منا في بدنة

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হাজ্জের ইহরাম বেঁধে রওনা হলাম। আমাদের সাথে মহিলাগণ এবং শিশুরাও ছিল। আমরা মাক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আমরা বললাম, কী ধরনের ইহরাম ভঙ্গ করব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরাম ভঙ্গ কর। রাবী বলেন, অতএব আমরা আমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করলাম, (সাধারণ) পোশাক পরলাম এবং সুগন্ধি মাখলাম। তালবিয়ার দিন আমরা হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম এবং পূর্বেকার ত্বওয়াফ ও সা‘ঈ আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি কুরবানীর গরু এবং উটে সাতজন করে শারীক হবার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। (ই.ফা. ২৮০৭, ই.সে. ২৮০৫)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হাজ্জের ইহরাম বেঁধে রওনা হলাম। আমাদের সাথে মহিলাগণ এবং শিশুরাও ছিল। আমরা মাক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আমরা বললাম, কী ধরনের ইহরাম ভঙ্গ করব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরাম ভঙ্গ কর। রাবী বলেন, অতএব আমরা আমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করলাম, (সাধারণ) পোশাক পরলাম এবং সুগন্ধি মাখলাম। তালবিয়ার দিন আমরা হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম এবং পূর্বেকার ত্বওয়াফ ও সা‘ঈ আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি কুরবানীর গরু এবং উটে সাতজন করে শারীক হবার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। (ই.ফা. ২৮০৭, ই.সে. ২৮০৫)

حدثنا أحمد بن يونس، حدثنا زهير، حدثنا أبو الزبير، عن جابر، - رضى الله عنه - ح وحدثنا يحيى بن يحيى، - واللفظ له - أخبرنا أبو خيثمة، عن أبي الزبير، عن جابر، - رضى الله عنه - قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج معنا النساء والولدان فلما قدمنا مكة طفنا بالبيت وبالصفا والمروة فقال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ من لم يكن معه هدى فليحلل ‏"‏ ‏.‏ قال قلنا أى الحل قال ‏"‏ الحل كله ‏"‏ ‏.‏ قال فأتينا النساء ولبسنا الثياب ومسسنا الطيب فلما كان يوم التروية أهللنا بالحج وكفانا الطواف الأول بين الصفا والمروة فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نشترك في الإبل والبقر كل سبعة منا في بدنة


সহিহ মুসলিম ২৮৩১

وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا يحيى بن سعيد، عن ابن جريج، أخبرني أبو الزبير، عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - قال أمرنا النبي صلى الله عليه وسلم لما أحللنا أن نحرم إذا توجهنا إلى منى ‏.‏ قال فأهللنا من الأبطح ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা ইহরামমুক্ত হবার পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে (পুনরায়) ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন- যখন আমরা মিনার উদ্দেশে রওনা হলাম। অতএব আমরা আল আব্‌ত্বাহ নামক স্থান থেকে ইহরাম বাঁধলাম। (ই.ফা. ২৮০৮, ই.সে. ২৮০৬)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা ইহরামমুক্ত হবার পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে (পুনরায়) ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন- যখন আমরা মিনার উদ্দেশে রওনা হলাম। অতএব আমরা আল আব্‌ত্বাহ নামক স্থান থেকে ইহরাম বাঁধলাম। (ই.ফা. ২৮০৮, ই.সে. ২৮০৬)

وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا يحيى بن سعيد، عن ابن جريج، أخبرني أبو الزبير، عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - قال أمرنا النبي صلى الله عليه وسلم لما أحللنا أن نحرم إذا توجهنا إلى منى ‏.‏ قال فأهللنا من الأبطح ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮৩২

وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا يحيى بن سعيد، عن ابن جريج، ح وحدثنا عبد، بن حميد أخبرنا محمد بن بكر، أخبرنا ابن جريج، قال أخبرني أبو الزبير، أنه سمع جابر، بن عبد الله - رضى الله عنه - يقول لم يطف النبي صلى الله عليه وسلم ولا أصحابه بين الصفا والمروة إلا طوافا واحدا ‏.‏ زاد في حديث محمد بن بكر طوافه الأول ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ একবার মাত্র সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা‘ঈ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাক্‌র-এর বর্ণনায় আছে, “তাঁর প্রথমবারের ত্বওয়াফ।” (ই.ফা. ২৮০৯, ই.সে. ২৮০৭)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ একবার মাত্র সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা‘ঈ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাক্‌র-এর বর্ণনায় আছে, “তাঁর প্রথমবারের ত্বওয়াফ।” (ই.ফা. ২৮০৯, ই.সে. ২৮০৭)

وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا يحيى بن سعيد، عن ابن جريج، ح وحدثنا عبد، بن حميد أخبرنا محمد بن بكر، أخبرنا ابن جريج، قال أخبرني أبو الزبير، أنه سمع جابر، بن عبد الله - رضى الله عنه - يقول لم يطف النبي صلى الله عليه وسلم ولا أصحابه بين الصفا والمروة إلا طوافا واحدا ‏.‏ زاد في حديث محمد بن بكر طوافه الأول ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮৩৪

حدثنا ابن نمير، حدثني أبي، حدثنا عبد الملك بن أبي سليمان، عن عطاء، عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - قال أهللنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحج فلما قدمنا مكة أمرنا أن نحل ونجعلها عمرة فكبر ذلك علينا وضاقت به صدورنا فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فما ندري أشىء بلغه من السماء أم شىء من قبل الناس فقال ‏ "‏ أيها الناس أحلوا فلولا الهدى الذي معي فعلت كما فعلتم ‏"‏ ‏.‏ قال فأحللنا حتى وطئنا النساء وفعلنا ما يفعل الحلال حتى إذا كان يوم التروية وجعلنا مكة بظهر أهللنا بالحج ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মাক্কায় পৌঁছলে তিনি আমাদেরকে হালাল হওয়ার এবং এ ইহরামকে ‘উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের জন্য তাঁর এ নির্দেশ কঠোর মনে হ’ল এবং আমাদের মনোকষ্ট হ’ল। এ খবর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছল। আমাদের জানা নেই তিনি কি ওয়াহীর মাধ্যমে এ খবর পেয়েছেন, না কেউ তাঁর কাছে এ কথা পৌঁছিয়েছে? তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমরা হালাল (ইহরামমুক্ত) হও। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও তোমাদের অনুরূপ করতাম। জাবির (রাঃ) বলেন, অতএব আমরা ইহরামমুক্ত হলাম, এমনকি স্ত্রী সঙ্গম এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সাধারণত যা করা হয়, তাই করলাম। অতঃপর তালবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আমরা মক্কা ত্যাগ করলাম (মিনা ও ‘আরাফার উদ্দেশে) এবং হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। (ই.ফা. ২৮১১, ই.সে. ২৮০৯)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মাক্কায় পৌঁছলে তিনি আমাদেরকে হালাল হওয়ার এবং এ ইহরামকে ‘উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের জন্য তাঁর এ নির্দেশ কঠোর মনে হ’ল এবং আমাদের মনোকষ্ট হ’ল। এ খবর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছল। আমাদের জানা নেই তিনি কি ওয়াহীর মাধ্যমে এ খবর পেয়েছেন, না কেউ তাঁর কাছে এ কথা পৌঁছিয়েছে? তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমরা হালাল (ইহরামমুক্ত) হও। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও তোমাদের অনুরূপ করতাম। জাবির (রাঃ) বলেন, অতএব আমরা ইহরামমুক্ত হলাম, এমনকি স্ত্রী সঙ্গম এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সাধারণত যা করা হয়, তাই করলাম। অতঃপর তালবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আমরা মক্কা ত্যাগ করলাম (মিনা ও ‘আরাফার উদ্দেশে) এবং হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। (ই.ফা. ২৮১১, ই.সে. ২৮০৯)

حدثنا ابن نمير، حدثني أبي، حدثنا عبد الملك بن أبي سليمان، عن عطاء، عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - قال أهللنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحج فلما قدمنا مكة أمرنا أن نحل ونجعلها عمرة فكبر ذلك علينا وضاقت به صدورنا فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فما ندري أشىء بلغه من السماء أم شىء من قبل الناس فقال ‏ "‏ أيها الناس أحلوا فلولا الهدى الذي معي فعلت كما فعلتم ‏"‏ ‏.‏ قال فأحللنا حتى وطئنا النساء وفعلنا ما يفعل الحلال حتى إذا كان يوم التروية وجعلنا مكة بظهر أهللنا بالحج ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮৩৫

وحدثنا ابن نمير، حدثنا أبو نعيم، حدثنا موسى بن نافع، قال قدمت مكة متمتعا بعمرة قبل التروية بأربعة أيام فقال الناس تصير حجتك الآن مكية فدخلت على عطاء بن أبي رباح فاستفتيته فقال عطاء حدثني جابر بن عبد الله الأنصاري - رضى الله عنهما - أنه حج مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام ساق الهدى معه وقد أهلوا بالحج مفردا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أحلوا من إحرامكم فطوفوا بالبيت وبين الصفا والمروة وقصروا وأقيموا حلالا حتى إذا كان يوم التروية فأهلوا بالحج واجعلوا التي قدمتم بها متعة ‏"‏ ‏.‏ قالوا كيف نجعلها متعة وقد سمينا الحج قال ‏"‏ افعلوا ما آمركم به فإني لولا أني سقت الهدى لفعلت مثل الذي أمرتكم به ولكن لا يحل مني حرام حتى يبلغ الهدى محله ‏"‏ ‏.‏ ففعلوا ‏.

মূসা ইবনু নাফি‘ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি ‘উমরাসহ তামাত্তু‘ হাজ্জের ইহরাম বেঁধে তালবিয়াহ্ দিবসের চারদিন পূর্বে (৪ যিলহাজ্জ) মাক্কায় পৌঁছলাম। লোকেরা বলল, এখন তো আপনার হাজ্জ মাক্কাবাসীদের অনুরূপ হাজ্জ হয়ে যাবে। অতএব আমি ‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে মাসাআলাহ্ জিজ্ঞেস করলাম। ‘আত্বা (রহঃ) বললেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হাজ্জ করেছেন- যে বছর তিনি সঙ্গে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন এবং তারা কেবল হাজ্জের (ইফরাদ হাজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা ইহরাম খুলে ফেল, বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ কর, সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা‘ঈ কর, মাথার চুল ছাঁট এবং ইহরামমুক্ত অবস্থায় থাক। যখন তালবিয়ার দিন আসবে- তখন পুনরায় হাজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং এটা তামাত্তু‘ হাজ্জের ইহরামে পরিণত কর। তারা বললেন, কিভাবে আমরা তা তামাত্তু‘তে পরিণত করব, অথচ ইতোপূর্বে আমরা হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছি? তিনি বললেন, আমি তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, তাই কর। কারণ আমি যদি সাথে করে কুরবানীর পশু না আনতাম তবে তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, আমিও তদ্রূপ করতাম। কিন্তু হাদী যথাস্থানে কুরবানী না করা পর্যন্ত আমার জন্য ইহরাম খোলার সুযোগ নেই। অতএব তারা তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন। (ই.ফা. ২৮১২, ই.সে. ২৮১০)

মূসা ইবনু নাফি‘ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি ‘উমরাসহ তামাত্তু‘ হাজ্জের ইহরাম বেঁধে তালবিয়াহ্ দিবসের চারদিন পূর্বে (৪ যিলহাজ্জ) মাক্কায় পৌঁছলাম। লোকেরা বলল, এখন তো আপনার হাজ্জ মাক্কাবাসীদের অনুরূপ হাজ্জ হয়ে যাবে। অতএব আমি ‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে মাসাআলাহ্ জিজ্ঞেস করলাম। ‘আত্বা (রহঃ) বললেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হাজ্জ করেছেন- যে বছর তিনি সঙ্গে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন এবং তারা কেবল হাজ্জের (ইফরাদ হাজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা ইহরাম খুলে ফেল, বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ কর, সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা‘ঈ কর, মাথার চুল ছাঁট এবং ইহরামমুক্ত অবস্থায় থাক। যখন তালবিয়ার দিন আসবে- তখন পুনরায় হাজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং এটা তামাত্তু‘ হাজ্জের ইহরামে পরিণত কর। তারা বললেন, কিভাবে আমরা তা তামাত্তু‘তে পরিণত করব, অথচ ইতোপূর্বে আমরা হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছি? তিনি বললেন, আমি তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, তাই কর। কারণ আমি যদি সাথে করে কুরবানীর পশু না আনতাম তবে তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, আমিও তদ্রূপ করতাম। কিন্তু হাদী যথাস্থানে কুরবানী না করা পর্যন্ত আমার জন্য ইহরাম খোলার সুযোগ নেই। অতএব তারা তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন। (ই.ফা. ২৮১২, ই.সে. ২৮১০)

وحدثنا ابن نمير، حدثنا أبو نعيم، حدثنا موسى بن نافع، قال قدمت مكة متمتعا بعمرة قبل التروية بأربعة أيام فقال الناس تصير حجتك الآن مكية فدخلت على عطاء بن أبي رباح فاستفتيته فقال عطاء حدثني جابر بن عبد الله الأنصاري - رضى الله عنهما - أنه حج مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام ساق الهدى معه وقد أهلوا بالحج مفردا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أحلوا من إحرامكم فطوفوا بالبيت وبين الصفا والمروة وقصروا وأقيموا حلالا حتى إذا كان يوم التروية فأهلوا بالحج واجعلوا التي قدمتم بها متعة ‏"‏ ‏.‏ قالوا كيف نجعلها متعة وقد سمينا الحج قال ‏"‏ افعلوا ما آمركم به فإني لولا أني سقت الهدى لفعلت مثل الذي أمرتكم به ولكن لا يحل مني حرام حتى يبلغ الهدى محله ‏"‏ ‏.‏ ففعلوا ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮৩৩

وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا يحيى بن سعيد، عن ابن جريج، أخبرني عطاء، قال سمعت جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - في ناس معي قال أهللنا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم بالحج خالصا وحده - قال عطاء قال جابر - فقدم النبي صلى الله عليه وسلم صبح رابعة مضت من ذي الحجة فأمرنا أن نحل ‏.‏ قال عطاء قال ‏"‏ حلوا وأصيبوا النساء ‏"‏ ‏.‏ قال عطاء ولم يعزم عليهم ولكن أحلهن لهم ‏.‏ فقلنا لما لم يكن بيننا وبين عرفة إلا خمس أمرنا أن نفضي إلى نسائنا فنأتي عرفة تقطر مذاكيرنا المني ‏.‏ قال يقول جابر بيده - كأني أنظر إلى قوله بيده يحركها - قال فقام النبي صلى الله عليه وسلم فينا فقال ‏"‏ قد علمتم أني أتقاكم لله وأصدقكم وأبركم ولولا هديي لحللت كما تحلون ولو استقبلت من أمري ما استدبرت لم أسق الهدى فحلوا ‏"‏ ‏.‏ فحللنا وسمعنا وأطعنا ‏.‏ قال عطاء قال جابر فقدم علي من سعايته فقال ‏"‏ بم أهللت ‏"‏ ‏.‏ قال بما أهل به النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فأهد وامكث حراما ‏"‏ ‏.‏ قال وأهدى له علي هديا فقال سراقة بن مالك بن جعشم يا رسول الله ألعامنا هذا أم لأبد فقال ‏"‏ لأبد ‏"‏ ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ কেবল হাজ্জের ইহরামই বাঁধলাম। রাবী ‘আত্বা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার যিলহাজ্জের ভোরে (মাক্কায়) পৌঁছে আমাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। অধঃস্তন রাবী মাত্বারের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা ইহরামমুক্ত হও এবং স্ত্রীদের কাছে যাও। কিন্তু তাঁর এ নির্দেশ বাধ্যতামূলক ছিল না, বরং তাদেরকে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আরাফাহ্ দিবসের আর পাঁচদিন মাত্র বাকী। অতএব আমরা এমন অবস্থায় ‘আরাফায় পৌঁছলাম যে, আমরা যেন এইমাত্র স্ত্রী সঙ্গম করেছি। ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) তার হাত নেড়ে কথাগুলো বলছিলেন এবং আমি যেন তার হাতের নড়াচড়া দেখতে পাচ্ছি। জাবির (রাঃ) বলেন, ইত্যবসরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা নিশ্চিত জান- আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি, তোমাদের চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং পুণ্যবান। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম যেমন তোমরা ভঙ্গ করেছো। আমাকে কী করতে হবে তা পূর্বেই জানতে পারলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না, অতএব তোমরা হালাল হও (ইহরাম ভঙ্গ কর)। ‘আত্বা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাঃ) বলেনঃ অতএব আমরা হালাল হলাম, তাঁর কথা শুনলাম এবং তাঁর আনুগত্য করলাম। জাবির (রাঃ) আরও বলেন, ‘আলী (রাঃ) (ইয়ামানবাসীদের থেকে আদায়কৃত) খারাজ নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তুমি কোন্ ধরনের ইহরাম বেঁধেছো? তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে ধরনের ইহরাম বেঁধেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তুমি কুরবানী কর এবং ইহরাম অবস্থায় থাক। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আলী (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য কুরবানীর পশু এনেছিলেন। সুরাক্বাহ্ ইবনু মালিক জু‘শুম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি শুধু এ বছরের জন্য, না সব সমযের জন্য? তিনি বললেন, সর্বকালের জন্য। (ই.ফা. ২৮১০, ই.সে. ২৮০৮)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ কেবল হাজ্জের ইহরামই বাঁধলাম। রাবী ‘আত্বা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার যিলহাজ্জের ভোরে (মাক্কায়) পৌঁছে আমাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। অধঃস্তন রাবী মাত্বারের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা ইহরামমুক্ত হও এবং স্ত্রীদের কাছে যাও। কিন্তু তাঁর এ নির্দেশ বাধ্যতামূলক ছিল না, বরং তাদেরকে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আরাফাহ্ দিবসের আর পাঁচদিন মাত্র বাকী। অতএব আমরা এমন অবস্থায় ‘আরাফায় পৌঁছলাম যে, আমরা যেন এইমাত্র স্ত্রী সঙ্গম করেছি। ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) তার হাত নেড়ে কথাগুলো বলছিলেন এবং আমি যেন তার হাতের নড়াচড়া দেখতে পাচ্ছি। জাবির (রাঃ) বলেন, ইত্যবসরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা নিশ্চিত জান- আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি, তোমাদের চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং পুণ্যবান। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম যেমন তোমরা ভঙ্গ করেছো। আমাকে কী করতে হবে তা পূর্বেই জানতে পারলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না, অতএব তোমরা হালাল হও (ইহরাম ভঙ্গ কর)। ‘আত্বা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাঃ) বলেনঃ অতএব আমরা হালাল হলাম, তাঁর কথা শুনলাম এবং তাঁর আনুগত্য করলাম। জাবির (রাঃ) আরও বলেন, ‘আলী (রাঃ) (ইয়ামানবাসীদের থেকে আদায়কৃত) খারাজ নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তুমি কোন্ ধরনের ইহরাম বেঁধেছো? তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে ধরনের ইহরাম বেঁধেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তুমি কুরবানী কর এবং ইহরাম অবস্থায় থাক। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আলী (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য কুরবানীর পশু এনেছিলেন। সুরাক্বাহ্ ইবনু মালিক জু‘শুম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি শুধু এ বছরের জন্য, না সব সমযের জন্য? তিনি বললেন, সর্বকালের জন্য। (ই.ফা. ২৮১০, ই.সে. ২৮০৮)

وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا يحيى بن سعيد، عن ابن جريج، أخبرني عطاء، قال سمعت جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - في ناس معي قال أهللنا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم بالحج خالصا وحده - قال عطاء قال جابر - فقدم النبي صلى الله عليه وسلم صبح رابعة مضت من ذي الحجة فأمرنا أن نحل ‏.‏ قال عطاء قال ‏"‏ حلوا وأصيبوا النساء ‏"‏ ‏.‏ قال عطاء ولم يعزم عليهم ولكن أحلهن لهم ‏.‏ فقلنا لما لم يكن بيننا وبين عرفة إلا خمس أمرنا أن نفضي إلى نسائنا فنأتي عرفة تقطر مذاكيرنا المني ‏.‏ قال يقول جابر بيده - كأني أنظر إلى قوله بيده يحركها - قال فقام النبي صلى الله عليه وسلم فينا فقال ‏"‏ قد علمتم أني أتقاكم لله وأصدقكم وأبركم ولولا هديي لحللت كما تحلون ولو استقبلت من أمري ما استدبرت لم أسق الهدى فحلوا ‏"‏ ‏.‏ فحللنا وسمعنا وأطعنا ‏.‏ قال عطاء قال جابر فقدم علي من سعايته فقال ‏"‏ بم أهللت ‏"‏ ‏.‏ قال بما أهل به النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فأهد وامكث حراما ‏"‏ ‏.‏ قال وأهدى له علي هديا فقال سراقة بن مالك بن جعشم يا رسول الله ألعامنا هذا أم لأبد فقال ‏"‏ لأبد ‏"‏ ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮৩৬

وحدثنا محمد بن معمر بن ربعي القيسي، حدثنا أبو هشام المغيرة بن سلمة، المخزومي عن أبي عوانة، عن أبي بشر، عن عطاء بن أبي رباح، عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - قال قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نجعلها عمرة ونحل - قال - وكان معه الهدى فلم يستطع أن يجعلها عمرة ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা হাজ্জের ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মাক্কায়) পৌঁছলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে তা ‘উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার এবং (‘উমরাহ্ পালনের পর) ইহরামমুক্ত হবার নির্দেশ দিলেন। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু থাকায় তিনি নিজের হাজ্জের ইহরামকে ‘উমরার ইহরামে পরিবর্তন করতে পারেননি। (ই.ফা. ২৮১৩, ই.সে. ২৮১১)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা হাজ্জের ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মাক্কায়) পৌঁছলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে তা ‘উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার এবং (‘উমরাহ্ পালনের পর) ইহরামমুক্ত হবার নির্দেশ দিলেন। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু থাকায় তিনি নিজের হাজ্জের ইহরামকে ‘উমরার ইহরামে পরিবর্তন করতে পারেননি। (ই.ফা. ২৮১৩, ই.সে. ২৮১১)

وحدثنا محمد بن معمر بن ربعي القيسي، حدثنا أبو هشام المغيرة بن سلمة، المخزومي عن أبي عوانة، عن أبي بشر، عن عطاء بن أبي رباح، عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - قال قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نجعلها عمرة ونحل - قال - وكان معه الهدى فلم يستطع أن يجعلها عمرة ‏.


সহিহ মুসলিম > হাজ্জ ‘উমরাতে উপভোগ করা প্রসঙ্গে

সহিহ মুসলিম ২৮৩৭

حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قال ابن المثنى حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، قال سمعت قتادة، يحدث عن أبي نضرة، قال كان ابن عباس يأمر بالمتعة وكان ابن الزبير ينهى عنها قال فذكرت ذلك لجابر بن عبد الله فقال على يدى دار الحديث تمتعنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فلما قام عمر قال إن الله كان يحل لرسوله ما شاء بما شاء وإن القرآن قد نزل منازله فأتموا الحج والعمرة لله كما أمركم الله وأبتوا نكاح هذه النساء فلن أوتى برجل نكح امرأة إلى أجل إلا رجمته بالحجارة ‏.

আবূ নায্‌রাহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তামাত্তু’ হাজ্জ করার নির্দেশ দিতেন এবং ইবনু যুবায়র (রাঃ) তামাত্তু’ হাজ্জ করতে নিষেধ করতেন। আমি বিষয়টি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)- এর সামনে পেশ করলাম। তিনি বললেন, এ ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছে। আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সঙ্গে তামাত্তু’ হাজ্জ করেছি। ‘উমার (রাঃ) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর বললেন, আল্লাহ তা’আলা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জন্য যে জিনিস ইচ্ছা এবং যে কারণে ইচ্ছা হালাল করেন এবং কুরআন নাযিল হওয়া সমাপ্ত হয়েছে। অতএব তোমরা আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশ্যে হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ সম্পাদন কর- যেভাবে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং যেসব নারীকে তোমরা মুত্‌’আর (উপভোগ করার) মাধ্যমে বিবাহ করেছো- তাদের সঠিক বিবাহ বন্ধনে নিয়ে নাও। আমার নিকট মুত’আর শর্তে বিবাহকারী কোন পুরুষ লোক এলে আমি অবশ্যই তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করব। (ই. ফা. ২৮১৪, ই.সে. ২৮১২)

আবূ নায্‌রাহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তামাত্তু’ হাজ্জ করার নির্দেশ দিতেন এবং ইবনু যুবায়র (রাঃ) তামাত্তু’ হাজ্জ করতে নিষেধ করতেন। আমি বিষয়টি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)- এর সামনে পেশ করলাম। তিনি বললেন, এ ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছে। আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সঙ্গে তামাত্তু’ হাজ্জ করেছি। ‘উমার (রাঃ) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর বললেন, আল্লাহ তা’আলা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জন্য যে জিনিস ইচ্ছা এবং যে কারণে ইচ্ছা হালাল করেন এবং কুরআন নাযিল হওয়া সমাপ্ত হয়েছে। অতএব তোমরা আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশ্যে হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ সম্পাদন কর- যেভাবে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং যেসব নারীকে তোমরা মুত্‌’আর (উপভোগ করার) মাধ্যমে বিবাহ করেছো- তাদের সঠিক বিবাহ বন্ধনে নিয়ে নাও। আমার নিকট মুত’আর শর্তে বিবাহকারী কোন পুরুষ লোক এলে আমি অবশ্যই তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করব। (ই. ফা. ২৮১৪, ই.সে. ২৮১২)

حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قال ابن المثنى حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، قال سمعت قتادة، يحدث عن أبي نضرة، قال كان ابن عباس يأمر بالمتعة وكان ابن الزبير ينهى عنها قال فذكرت ذلك لجابر بن عبد الله فقال على يدى دار الحديث تمتعنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فلما قام عمر قال إن الله كان يحل لرسوله ما شاء بما شاء وإن القرآن قد نزل منازله فأتموا الحج والعمرة لله كما أمركم الله وأبتوا نكاح هذه النساء فلن أوتى برجل نكح امرأة إلى أجل إلا رجمته بالحجارة ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮৩৯

وحدثنا خلف بن هشام، وأبو الربيع، وقتيبة، جميعا عن حماد، - قال خلف حدثنا حماد بن زيد، - عن أيوب، قال سمعت مجاهدا، يحدث عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - قال قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نقول لبيك بالحج ‏.‏ فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نجعلها عمرة ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মাক্কায়) পৌঁছলাম হাজ্জের জন্য তালবিয়াহ্‌ উচ্চারণ করতে করতে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ইহরামকে ‘উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। (ই. ফা. ২৮১৬, ই.সে. ২৮১৪)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মাক্কায়) পৌঁছলাম হাজ্জের জন্য তালবিয়াহ্‌ উচ্চারণ করতে করতে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ইহরামকে ‘উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। (ই. ফা. ২৮১৬, ই.সে. ২৮১৪)

وحدثنا خلف بن هشام، وأبو الربيع، وقتيبة، جميعا عن حماد، - قال خلف حدثنا حماد بن زيد، - عن أيوب، قال سمعت مجاهدا، يحدث عن جابر بن عبد الله، - رضى الله عنهما - قال قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نقول لبيك بالحج ‏.‏ فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نجعلها عمرة ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮৩৮

وحدثنيه زهير بن حرب، حدثنا عفان، حدثنا همام، حدثنا قتادة، بهذا الإسناد وقال في الحديث فافصلوا حجكم من عمرتكم فإنه أتم لحجكم وأتم لعمرتكم ‏.

ক্বাতাদাহ্‌ (রাঃ)- এর সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, ‘উমার (রাঃ) বলেন, “তোমাদের হাজ্জকে ‘উমরাহ্‌ থেকে পৃথক কর। কারণ এতে তোমাদের হাজ্জও পূর্ণাঙ্গ হবে এবং ‘উমরাও পূর্ণাঙ্গ হবে”। (ই. ফা. ২৮১৫, ই.সে. ২৮১৩)

ক্বাতাদাহ্‌ (রাঃ)- এর সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, ‘উমার (রাঃ) বলেন, “তোমাদের হাজ্জকে ‘উমরাহ্‌ থেকে পৃথক কর। কারণ এতে তোমাদের হাজ্জও পূর্ণাঙ্গ হবে এবং ‘উমরাও পূর্ণাঙ্গ হবে”। (ই. ফা. ২৮১৫, ই.সে. ২৮১৩)

وحدثنيه زهير بن حرب، حدثنا عفان، حدثنا همام، حدثنا قتادة، بهذا الإسناد وقال في الحديث فافصلوا حجكم من عمرتكم فإنه أتم لحجكم وأتم لعمرتكم ‏.


সহিহ মুসলিম > নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর হাজ্জের বিবরণ

সহিহ মুসলিম ২৮৪১

وحدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا أبي، حدثنا جعفر بن محمد، حدثني أبي، قال أتيت جابر بن عبد الله فسألته عن حجة، رسول الله صلى الله عليه وسلم وساق الحديث بنحو حديث حاتم بن إسماعيل وزاد في الحديث وكانت العرب يدفع بهم أبو سيارة على حمار عرى فلما أجاز رسول الله صلى الله عليه وسلم من المزدلفة بالمشعر الحرام ‏.‏ لم تشك قريش أنه سيقتصر عليه ويكون منزله ثم فأجاز ولم يعرض له حتى أتى عرفات فنزل ‏.

জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)- এর নিকট এলাম এবং তাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিদায় হাজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। ...... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাতিম ইবনু ইসমা‘ঈলের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে : আরও আবূ সাইয়্যারাহ্‌ নামক এক ব্যক্তি (জাহিলী যুগে) লোকদেরকে জীনবিহীন গাধার পিঠে করে (মুযদালিফাহ্‌ থেকে) নিয়ে যেত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুযদালিফাহ্‌ থেকে আল-মাশ’আরুল-হারাম-এর দিকে অগ্রসর হলেন, তখন কুরায়শরা নিঃসন্দেহ ছিল যে, তিনি এখানে থামবেন এবং অবস্থান করবেন। কিন্তু তিনি আরও সামনে অগ্রসর হলেন এবং এদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না-অবশেষে তিনি আরাফতে পৌঁছে সেখানে অবতরণ করলেন। (ই. ফা. ২৮১৮, ই.সে. ২৮১৬)

জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)- এর নিকট এলাম এবং তাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিদায় হাজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। ...... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাতিম ইবনু ইসমা‘ঈলের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে : আরও আবূ সাইয়্যারাহ্‌ নামক এক ব্যক্তি (জাহিলী যুগে) লোকদেরকে জীনবিহীন গাধার পিঠে করে (মুযদালিফাহ্‌ থেকে) নিয়ে যেত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুযদালিফাহ্‌ থেকে আল-মাশ’আরুল-হারাম-এর দিকে অগ্রসর হলেন, তখন কুরায়শরা নিঃসন্দেহ ছিল যে, তিনি এখানে থামবেন এবং অবস্থান করবেন। কিন্তু তিনি আরও সামনে অগ্রসর হলেন এবং এদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না-অবশেষে তিনি আরাফতে পৌঁছে সেখানে অবতরণ করলেন। (ই. ফা. ২৮১৮, ই.সে. ২৮১৬)

وحدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا أبي، حدثنا جعفر بن محمد، حدثني أبي، قال أتيت جابر بن عبد الله فسألته عن حجة، رسول الله صلى الله عليه وسلم وساق الحديث بنحو حديث حاتم بن إسماعيل وزاد في الحديث وكانت العرب يدفع بهم أبو سيارة على حمار عرى فلما أجاز رسول الله صلى الله عليه وسلم من المزدلفة بالمشعر الحرام ‏.‏ لم تشك قريش أنه سيقتصر عليه ويكون منزله ثم فأجاز ولم يعرض له حتى أتى عرفات فنزل ‏.


সহিহ মুসলিম ২৮৪০

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وإسحاق بن إبراهيم، جميعا عن حاتم، - قال أبو بكر حدثنا حاتم بن إسماعيل المدني، - عن جعفر بن محمد، عن أبيه، قال دخلنا على جابر بن عبد الله فسأل عن القوم، حتى انتهى إلى فقلت أنا محمد بن علي بن حسين، ‏.‏ فأهوى بيده إلى رأسي فنزع زري الأعلى ثم نزع زري الأسفل ثم وضع كفه بين ثديى وأنا يومئذ غلام شاب فقال مرحبا بك يا ابن أخي سل عما شئت ‏.‏ فسألته وهو أعمى وحضر وقت الصلاة فقام في نساجة ملتحفا بها كلما وضعها على منكبه رجع طرفاها إليه من صغرها ورداؤه إلى جنبه على المشجب فصلى بنا فقلت أخبرني عن حجة رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فقال بيده فعقد تسعا فقال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم مكث تسع سنين لم يحج ثم أذن في الناس في العاشرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حاج فقدم المدينة بشر كثير كلهم يلتمس أن يأتم برسول الله صلى الله عليه وسلم ويعمل مثل عمله فخرجنا معه حتى أتينا ذا الحليفة فولدت أسماء بنت عميس محمد بن أبي بكر فأرسلت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف أصنع قال ‏"‏ اغتسلي واستثفري بثوب وأحرمي ‏"‏ ‏.‏ فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد ثم ركب القصواء حتى إذا استوت به ناقته على البيداء نظرت إلى مد بصري بين يديه من راكب وماش وعن يمينه مثل ذلك وعن يساره مثل ذلك ومن خلفه مثل ذلك ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا وعليه ينزل القرآن وهو يعرف تأويله وما عمل به من شىء عملنا به فأهل بالتوحيد ‏"‏ لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك ‏"‏ ‏.‏ وأهل الناس بهذا الذي يهلون به فلم يرد رسول الله صلى الله عليه وسلم عليهم شيئا منه ولزم رسول الله صلى الله عليه وسلم تلبيته قال جابر - رضى الله عنه - لسنا ننوي إلا الحج لسنا نعرف العمرة حتى إذا أتينا البيت معه استلم الركن فرمل ثلاثا ومشى أربعا ثم نفذ إلى مقام إبراهيم - عليه السلام - فقرأ ‏{‏ واتخذوا من مقام إبراهيم مصلى‏}‏ فجعل المقام بينه وبين البيت فكان أبي يقول ولا أعلمه ذكره إلا عن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ في الركعتين ‏{‏ قل هو الله أحد‏}‏ و ‏{‏ قل يا أيها الكافرون‏}‏ ثم رجع إلى الركن فاستلمه ثم خرج من الباب إلى الصفا فلما دنا من الصفا قرأ ‏{‏ إن الصفا والمروة من شعائر الله‏}‏ ‏"‏ أبدأ بما بدأ الله به ‏"‏ ‏.‏ فبدأ بالصفا فرقي عليه حتى رأى البيت فاستقبل القبلة فوحد الله وكبره وقال ‏"‏ لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شىء قدير لا إله إلا الله وحده أنجز وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده ‏"‏ ‏.‏ ثم دعا بين ذلك قال مثل هذا ثلاث مرات ثم نزل إلى المروة حتى إذا انصبت قدماه في بطن الوادي سعى حتى إذا صعدتا مشى حتى أتى المروة ففعل على المروة كما فعل على الصفا حتى إذا كان آخر طوافه على المروة فقال ‏"‏ لو أني استقبلت من أمري ما استدبرت لم أسق الهدى وجعلتها عمرة فمن كان منكم ليس معه هدى فليحل وليجعلها عمرة ‏"‏ ‏.‏ فقام سراقة بن مالك بن جعشم فقال يا رسول الله ألعامنا هذا أم لأبد فشبك رسول الله صلى الله عليه وسلم أصابعه واحدة في الأخرى وقال ‏"‏ دخلت العمرة في الحج - مرتين - لا بل لأبد أبد ‏"‏ ‏.‏ وقدم علي من اليمن ببدن النبي صلى الله عليه وسلم فوجد فاطمة - رضى الله عنها - ممن حل ولبست ثيابا صبيغا واكتحلت فأنكر ذلك عليها فقالت إن أبي أمرني بهذا ‏.‏ قال فكان علي يقول بالعراق فذهبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم محرشا على فاطمة للذي صنعت مستفتيا لرسول الله صلى الله عليه وسلم فيما ذكرت عنه فأخبرته أني أنكرت ذلك عليها فقال ‏"‏ صدقت صدقت ماذا قلت حين فرضت الحج ‏"‏ ‏.‏ قال قلت اللهم إني أهل بما أهل به رسولك ‏.‏ قال ‏"‏ فإن معي الهدى فلا تحل ‏"‏ ‏.‏ قال فكان جماعة الهدى الذي قدم به علي من اليمن والذي أتى به النبي صلى الله عليه وسلم مائة - قال - فحل الناس كلهم وقصروا إلا النبي صلى الله عليه وسلم ومن كان معه هدى فلما كان يوم التروية توجهوا إلى منى فأهلوا بالحج وركب رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى بها الظهر والعصر والمغرب والعشاء والفجر ثم مكث قليلا حتى طلعت الشمس وأمر بقبة من شعر تضرب له بنمرة فسار رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تشك قريش إلا أنه واقف عند المشعر الحرام كما كانت قريش تصنع في الجاهلية فأجاز رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أتى عرفة فوجد القبة قد ضربت له بنمرة فنزل بها حتى إذا زاغت الشمس أمر بالقصواء فرحلت له فأتى بطن الوادي فخطب الناس وقال ‏"‏ إن دماءكم وأموالكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا ألا كل شىء من أمر الجاهلية تحت قدمى موضوع ودماء الجاهلية موضوعة وإن أول دم أضع من دمائنا دم ابن ربيعة بن الحارث كان مسترضعا في بني سعد فقتلته هذيل وربا الجاهلية موضوع وأول ربا أضع ربانا ربا عباس بن عبد المطلب فإنه موضوع كله فاتقوا الله في النساء فإنكم أخذتموهن بأمان الله واستحللتم فروجهن بكلمة الله ولكم عليهن أن لا يوطئن فرشكم أحدا تكرهونه ‏.‏ فإن فعلن ذلك فاضربوهن ضربا غير مبرح ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف وقد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به كتاب الله ‏.‏ وأنتم تسألون عني فما أنتم قائلون ‏"‏ ‏.‏ قالوا نشهد أنك قد بلغت وأديت ونصحت ‏.‏ فقال بإصبعه السبابة يرفعها إلى السماء وينكتها إلى الناس ‏"‏ اللهم اشهد اللهم اشهد ‏"‏ ‏.‏ ثلاث مرات ثم أذن ثم أقام فصلى الظهر ثم أقام فصلى العصر ولم يصل بينهما شيئا ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أتى الموقف فجعل بطن ناقته القصواء إلى الصخرات وجعل حبل المشاة بين يديه واستقبل القبلة فلم يزل واقفا حتى غربت الشمس وذهبت الصفرة قليلا حتى غاب القرص وأردف أسامة خلفه ودفع رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد شنق للقصواء الزمام حتى إن رأسها ليصيب مورك رحله ويقول بيده اليمنى ‏"‏ أيها الناس السكينة السكينة ‏"‏ ‏.‏ كلما أتى حبلا من الحبال أرخى لها قليلا حتى تصعد حتى أتى المزدلفة فصلى بها المغرب والعشاء بأذان واحد وإقامتين ولم يسبح بينهما شيئا ثم اضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى طلع الفجر وصلى الفجر - حين تبين له الصبح - بأذان وإقامة ثم ركب القصواء حتى أتى المشعر الحرام فاستقبل القبلة فدعاه وكبره وهلله ووحده فلم يزل واقفا حتى أسفر جدا فدفع قبل أن تطلع الشمس وأردف الفضل بن عباس وكان رجلا حسن الشعر أبيض وسيما فلما دفع رسول الله صلى الله عليه وسلم مرت به ظعن يجرين فطفق الفضل ينظر إليهن فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده على وجه الفضل فحول الفضل وجهه إلى الشق الآخر ينظر فحول رسول الله صلى الله عليه وسلم يده من الشق الآخر على وجه الفضل يصرف وجهه من الشق الآخر ينظر حتى أتى بطن محسر فحرك قليلا ثم سلك الطريق الوسطى التي تخرج على الجمرة الكبرى حتى أتى الجمرة التي عند الشجرة فرماها بسبع حصيات يكبر مع كل حصاة منها مثل حصى الخذف رمى من بطن الوادي ثم انصرف إلى المنحر فنحر ثلاثا وستين بيده ثم أعطى عليا فنحر ما غبر وأشركه في هديه ثم أمر من كل بدنة ببضعة فجعلت في قدر فطبخت فأكلا من لحمها وشربا من مرقها ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم فأفاض إلى البيت فصلى بمكة الظهر فأتى بني عبد المطلب يسقون على زمزم فقال ‏"‏ انزعوا بني عبد المطلب فلولا أن يغلبكم الناس على سقايتكم لنزعت معكم ‏"‏ ‏.‏ فناولوه دلوا فشرب منه ‏.

জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)- এর কাছে গেলাম। তিনি সকলের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। অবশেষে আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী ইবনু হুসায়ন। অতএব তিনি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে আমার মাথার উপর রাখলেন। তিনি আমার জামার উপর দিকের বোতাম খুললেন তারপর নিচের বোতাম খুললেন। অতঃপর তার হাত আমার বুকের মাঝে রাখলেন। আমি তখন যুবক ছিলাম। তিনি বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তোমাকে স্বাগত জানাই, তুমি যা জানতে চাও, জিজ্ঞেস কর। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি (বার্ধক্যজনিত কারণে) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ইতোমধ্যে সলাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তিনি নিজেকে একটি চাদর আবৃত করে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি যখনই চাদরের প্রান্ত নিজ কাঁধের উপর রাখতেন – তা (আকারে) ছোট হবার কারণে নীচে পড়ে যেত। তার আরেকটি বড় চাদর তার পাশেই আনলায় রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সলাতের ইমামত করলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আমাদেরকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (বিদায়) হাজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন। জাবির (রাঃ) স্বহস্তে নয় সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেনঃ রসূলুল্লাহ নয় বছর (মদীনায়) অবস্থান করেন এবং এ সময়ের মধ্যে হাজ্জ করেননি। অতঃপর ১০ম বর্ষে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়া হ’ল যে , রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এ বছর হাজ্জে যাবেন। সুতরাং মাদীনায় বহু লোকের আগমন হল। তাদের প্রত্যেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর অনুসরণ করতে এবং তাঁর অনুরূপ ‘আমল করতে আগ্রহী ছিল। আমরা তাঁর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে পৌঁছলাম- আসমা বিনতু ‘উমায়স (রাঃ) মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাক্‌রকে প্রসব করলেন। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলেন – এখন আমি কী করব? তিনি বললেন, তুমি গোসল কর, একখণ্ড কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে নাও এবং ইহরামের পোশাক পরিধান কর। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে (ইহরামের দু’ রাক’আত) সলাত আদায় করলেন। অতঃপর ‘ক্বাসওয়া ‘ নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। অতঃপর বায়দা নামক স্থানে তাঁর উষ্ট্রী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল – আমি সামনের দিকে যতদূর দৃষ্টি যায়, তাকিয়ে দেখলাম লোকে লোকারণ্য- কতক সওয়ারীতে, কতক পদব্রজে অগ্রসর হচ্ছে। ডানদিকে, বাঁদিকে এবং পিছনেও একই দৃশ্য। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝখানে ছিলেন এবং তাঁর উপর কুরআন নাযিল হচ্ছিল। একমাত্র তিনিই এর আসল তাৎপর্য জানেন এবং তিনি যা করতেন, আমরাও তাই করতাম। তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত এ তালবিয়াহ্‌ পাঠ করলেনঃ (আরবি) অর্থঃ ‘‘আমি তোমার দরবারে হাযির আছি, হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে হাযির, আমি তোমার দরবারে হাযির, তোমার কোন শারীক নেই, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চিত সমস্ত প্রশংসা, নি’আমাত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব তোমার, তোমার কোন শারীক নেই”। লোকেরাও উপরোক্ত তালবিয়াহ্‌ পাঠ করল – যা (আজকাল) পাঠ করা হয়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর থেকে বেশি কিছু বলেননি। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপরোক্ত তালবিয়াহ্‌ পাঠ করতে থাকলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা হাজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর নিয়ত করিনি, আমরা ‘উমরার কথা জানতাম না। অবশেষে আমরা যখন তাঁর সঙ্গে বায়তুল্লাহ্‌য় পৌঁছলাম- তিনি রুকন (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর সাতবার কা’বাহ্‌ ঘর ত্বওয়াফ করলেন- তিনবার দ্রুতগতিতে এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর তিনি মাক্বামে ইব্‌রাহীমে পৌঁছে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (আরবি) অর্থঃ “তোমরা ইব্‌রাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে সলাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর”- (সূরাহ্‌ আল বাক্বারাহ্‌ ২ : ১২৫)। তিনি মাক্বামে ইব্‌রাহীমকে তাঁর ও বায়তুল্লাহর মাঝখানে রেখে (দু’ রাক’আত সলাত আদায় করলেন)। (জা’ফার বলেন) আমার পিতা (মুহাম্মাদ) বলতেন, আমি যতদূর জানি, তিনি (জাবির) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি দু’ রাক’আত সলাতে সূরাহ্‌ ‘কুল্‌ হুওআল্ল-হু আহাদ’ ও ‘কুল্‌ ইয়া আইয়ুহাল কা-ফিরূন’ পাঠ করেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজারে আসওয়াদের কাছে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং তাতে চুমু খেলেন। অতঃপর তিনি দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে বের হলেন এবং সাফার নিকটবর্তী হয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ (আরবি) অর্থঃ “নিশ্চয়ই সাফা-মারওয়াহ্‌ পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম”- (সূরাহ্‌ আল বাক্বারাহ্‌ ২ : ১৫৮) এবং আরো বললেন- আল্লাহ তা’আলা যে পাহাড়ের উল্লেখ করে আরম্ভ করেছেন, আমিও তা দিয়ে আরম্ভ করব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফা পাহাড় থেকে শুরু করলেন, অতঃপর এতটা উপরে আরোহণ করলেন যে, বায়তুল্লাহ দেখতে পেলেন। তিনি ক্বিবলামুখী হলেন, আল্লাহর একত্ব ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করলেন এবং বললেনঃ (আরবি) অর্থঃ ‘আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শারীক নেই। তাঁর জন্য রাজত্ব এবং তাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন”। তিনি এ দু’আ পড়লেন এবং তিনি অনুরূপ তিনবার বলেছেন। অতঃপর তিনি নেমে মারওয়াহ পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলেন- যতক্ষণ না তাঁর পা মুবারক উপত্যকার সমতল ভূমিতে গিয়ে ঠেকল। তিনি দ্রুত চললেন- যতক্ষণ না উপত্যকা অতিক্রম করলেন। মারওয়াহ্‌ পাহাড়ে ঊঠার সময় হেঁটে উঠলেন, অতঃপর এখানেও তাই করলেন যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। সর্বশেষ ত্বওয়াফে যখন তিনি মারওয়াহ্‌ পাহাড়ে পৌঁছলেন, তখন (লোকদের সম্বোধন করে) বললেনঃ যদি আমি আগেই ব্যাপারটি বুঝতে পারতাম, তাহলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না এবং (হাজ্জের) ইহরামকে ‘উমরায় পরিবর্তন করতাম। অতএব তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং একে ‘উমরায় পরিণত করে। এ সময় সুরাক্বাহ ইবনু মালিক ইবনু জু’শুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যবস্থা কি আমাদের এ বছরের জন্য, না সর্বকালের জন্য? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের ফাঁকে ঢুকালেন এবং দু’বার বললেন, ‘উমরাহ্‌ হাজ্জের মধ্যে প্রবেশ করেছে। আরও বললেন, না বরং সর্বকালের জন্য, সর্বকালের জন্য। এ সময় ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জন্য কুরবানীর পশু নিয়ে এলেন এবং যারা ইহরাম খুলে ফেলেছে, ফাত্বিমাহ্‌ (রাঃ)-কে তাদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলেন। তিনি রঙ্গীন কাপড় পরিহিতা ছিলেন এবং চোখে সুরমা দিয়েছিলেন। ‘আলী (রাঃ) তা অপছন্দ করলেন। ফাত্বিমাহ্‌ (রাঃ) বললেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাবী বলেন, ‘আলী (রাঃ) ইরাক্বে থাকতেন, অতএব ফাতিমাহ (রাঃ) যা করেছেন তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে আমি তাকে জানালাম যে, আমি তার এ কাজ অপছন্দ করেছি। তিনি যা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে জানার জন্য আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর কাছে গেলাম। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ফাত্বিমাহ্‌ সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। তুমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধার সময় কী বলেছিলে?‘আলী (রাঃ) বললেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! আমি ইহরাম বাঁধলাম, যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন আপনার রসূল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার সঙ্গে হাদী (কুরবানীর পশু) আছে, অতএব তুমি ইহরাম খুলবে না। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে যে পশুপাল নিয়ে এসেছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের সঙ্গে করে যে সব পশু নিয়ে এসেছিলেন, সর্বসাকুল্যে এর সংখ্যা দাঁড়ালো একশত। অতএব নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেললেন এবং চুল কাটলেন। অতঃপর যখন তালবিয়ার দিন (৮যিলহাজ্জ) আসলো, লোকেরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলো এবং মিনার দিকে রওনা হ’ল। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ার হয়ে গেলেন এবং সেখানে যুহর, ‘আস্‌র, মাগরিব, ‘ইশা ও ফাজ্‌রের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং নামিরাহ্‌ নামক স্থানে গিয়ে তার জন্য একটি তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং নিজেও রওনা হয়ে গেলেন। কুরায়শগণ নিঃসন্দেহ ছিল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাশ’আরুল হারামের কাছে অবস্থান করবেন যেমন জাহিলী যুগে কুরায়শগণ করত। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে অগ্রসর হলেন, তারপরে ‘আরাফায় পৌঁছলেন এবং দেখতে পেলেন নামিরায় তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। তিনি এখানে অবতরণ করলে। অতঃপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তখন তিনি তাঁর ক্বাস্‌ওয়া (নামক উষ্ট্রী)-কে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। তার পিঠে হাওদা লাগানো হ’ল। তখন তিনি বাত্বনে ওয়াদীতে এলেন এবং লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, “তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য হারাম যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে।” “সাবধান! জাহিলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহিলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হ’ল। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি, তা হল আমাদের বংশের রবী’আহ্‌ ইবনু হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বানূ সা’দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযায়ল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। “জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হল। আমি প্রথম যে সুদ বাতিল করছি তা হল আমাদের বংশের ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্ত্বালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হল”। “তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার কর। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হাক্ব রয়েছে। “আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।” “আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে, তখন তোমরা কী বলবে?” তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়েছেন, আপনার হাক্ব আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে লোকদের ইশারা করে বললেন, “ইয়া আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক, “ তিনবার এরূপ বললেন।” অতঃপর (মুয়ায্‌যিন) আযান দিলেন ও ইক্বামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত আদায় করলেন। এরপর ইক্বামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আস্‌রের সলাত আদায় করলেন। তিনি এ দু’ সলাতের মাঝখানে অন্য কোন সলাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ার হয়ে মাওক্বিফ (অবস্থানস্থল) এলেন, তাঁর ক্বাস্‌ওয়া উষ্ট্রীর পেট পাথরের স্তূপের দিকে করে দিলেন এবং লোকদের একত্র হবার জায়গা সামনে রেখে ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনি এভাবে উকূফ করলেন। হলদে আভা কিছু দূরীভূত হ’ল, এমনকি সূর্য গোলক সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি উসামাহ্‌ (রাঃ)-কে তাঁর বাহনের পিছন দিকে বসালেন এবং ক্বাসওয়ার নাকের দড়ি সজোরে টান দিলেন- ফলে তার মাথা মাওরিক (সওয়ারী ক্লান্তি অবসাদের জন্য যাতে পা রাখে) স্পর্শ করল। তিনি ডান হাতের ইশারায় বললেন, হে জনমণ্ডলী! ধীরে সুস্থে, ধীরে সুস্থে অগ্রসর হও। যখনই তিনি বালুর স্তূপের নিকট পৌঁছতেন, ক্বাসওয়ার নাকের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন যাতে সে উপরদিকে উঠতে পারে। এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলেন এবং এখানে একই আযানে ও দু’ ইক্বামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সলাত আদায় করলেন। এ সলাতের মাঝখানে অন্য কোন নাফ্‌ল সলাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুয়ে পড়লেন। যাবৎ না ফাজ্‌রের ওয়াক্ত হ’ল। অতঃপর ভোর হয়ে গেলে তিনি আযান ও ইক্বামাত সহ ফাজ্‌রের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর ক্বাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে “মাশ’আরুল হারাম” নামক স্থানে আসলেন। এখানে তিনি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহর নিকট দু’আ করলেন, তাঁর মহত্ব বর্ণনা করলেন, কালিমাহ তাওহীদ পড়লেন এবং তাঁর একত্ব ঘোষণা করলেন। দিনের আলো যথেষ্ট উজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন। সূর্যোদয়ের পূর্বে তিনি আবার রওনা করছিলেন এবং ফায্‌ল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সওয়ারীতে তাঁর পিছনে বসলেন। তিনি ছিলেন যুবক এবং তার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন অগ্রসর হলেন- পাশাপাশি একদল মহিলাও যাচ্ছিল। ফায্‌ল (রাঃ) তাদের দিকে তাকাতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের হাত ফায্‌লের চেহারার উপর রাখলেন এবং তিনি তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন এবং ফায্‌ল (রাঃ) অপরদিক দেখতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় অন্যদিক হতে ফায্‌ল (রাঃ)-এর মুখমণ্ডলে হাত রাখলেন। তিনি আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলেন। তিনি ‘বাত্বনে মুহাস্‌সাব’ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং সওয়ারীর গতি কিছুটা দ্রুত করলেন। তিনি মধ্যপথে অগ্রসর হলেন- যা জামরাতুল কুবরার দিকে বেরিয়ে গেছে। তিনি বৃক্ষের নিকটের জামরায় এলেন এবং নিচের খালি জায়গায় দাঁড়িয়ে এখানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করলেন এবং প্রত্যেকবার ‘আল্ল-হু আকবার’ বললেন। অতঃপর সেখান থেকে কুরবানীর স্থানে এলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু যাবাহ করলেন। তিনি কুরবানীর পশুতে ‘আলী (রাঃ)-কেও শারীক করলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি পশুর গোশ্‌তের কিছু অংশ নিয়ে একত্রে রান্না করার নির্দেশ দিলেন। অতএব তাই করা হ’ল। তারা উভয়ে এ গোশ্‌ত থেকে খেলেন এবং ঝোল পান করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ্‌র দিকে রওনা হলেন এবং মাক্কায় পৌঁছে যুহরের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর বানূ ‘আবদুল মুত্ত্বালিব –এর লোকদের কাছে আসলেন, তারা লোকদের যামযামের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে ‘আবদুল মুত্ত্বালিবের বংশধরগণ! পানি তোল। আমি যদি আশংকা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের পরাভূত করে দিবে, তবে আমি নিজেও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তখন তারা তাঁকে এক বালতি পানি দিল এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন। (ই. ফা. ২৮১৭, ই.সে. ২৮১৫)

জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)- এর কাছে গেলাম। তিনি সকলের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। অবশেষে আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী ইবনু হুসায়ন। অতএব তিনি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে আমার মাথার উপর রাখলেন। তিনি আমার জামার উপর দিকের বোতাম খুললেন তারপর নিচের বোতাম খুললেন। অতঃপর তার হাত আমার বুকের মাঝে রাখলেন। আমি তখন যুবক ছিলাম। তিনি বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তোমাকে স্বাগত জানাই, তুমি যা জানতে চাও, জিজ্ঞেস কর। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি (বার্ধক্যজনিত কারণে) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ইতোমধ্যে সলাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তিনি নিজেকে একটি চাদর আবৃত করে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি যখনই চাদরের প্রান্ত নিজ কাঁধের উপর রাখতেন – তা (আকারে) ছোট হবার কারণে নীচে পড়ে যেত। তার আরেকটি বড় চাদর তার পাশেই আনলায় রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সলাতের ইমামত করলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আমাদেরকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (বিদায়) হাজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন। জাবির (রাঃ) স্বহস্তে নয় সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেনঃ রসূলুল্লাহ নয় বছর (মদীনায়) অবস্থান করেন এবং এ সময়ের মধ্যে হাজ্জ করেননি। অতঃপর ১০ম বর্ষে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়া হ’ল যে , রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এ বছর হাজ্জে যাবেন। সুতরাং মাদীনায় বহু লোকের আগমন হল। তাদের প্রত্যেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর অনুসরণ করতে এবং তাঁর অনুরূপ ‘আমল করতে আগ্রহী ছিল। আমরা তাঁর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে পৌঁছলাম- আসমা বিনতু ‘উমায়স (রাঃ) মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাক্‌রকে প্রসব করলেন। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলেন – এখন আমি কী করব? তিনি বললেন, তুমি গোসল কর, একখণ্ড কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে নাও এবং ইহরামের পোশাক পরিধান কর। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে (ইহরামের দু’ রাক’আত) সলাত আদায় করলেন। অতঃপর ‘ক্বাসওয়া ‘ নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। অতঃপর বায়দা নামক স্থানে তাঁর উষ্ট্রী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল – আমি সামনের দিকে যতদূর দৃষ্টি যায়, তাকিয়ে দেখলাম লোকে লোকারণ্য- কতক সওয়ারীতে, কতক পদব্রজে অগ্রসর হচ্ছে। ডানদিকে, বাঁদিকে এবং পিছনেও একই দৃশ্য। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝখানে ছিলেন এবং তাঁর উপর কুরআন নাযিল হচ্ছিল। একমাত্র তিনিই এর আসল তাৎপর্য জানেন এবং তিনি যা করতেন, আমরাও তাই করতাম। তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত এ তালবিয়াহ্‌ পাঠ করলেনঃ (আরবি) অর্থঃ ‘‘আমি তোমার দরবারে হাযির আছি, হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে হাযির, আমি তোমার দরবারে হাযির, তোমার কোন শারীক নেই, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চিত সমস্ত প্রশংসা, নি’আমাত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব তোমার, তোমার কোন শারীক নেই”। লোকেরাও উপরোক্ত তালবিয়াহ্‌ পাঠ করল – যা (আজকাল) পাঠ করা হয়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর থেকে বেশি কিছু বলেননি। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপরোক্ত তালবিয়াহ্‌ পাঠ করতে থাকলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা হাজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর নিয়ত করিনি, আমরা ‘উমরার কথা জানতাম না। অবশেষে আমরা যখন তাঁর সঙ্গে বায়তুল্লাহ্‌য় পৌঁছলাম- তিনি রুকন (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর সাতবার কা’বাহ্‌ ঘর ত্বওয়াফ করলেন- তিনবার দ্রুতগতিতে এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর তিনি মাক্বামে ইব্‌রাহীমে পৌঁছে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (আরবি) অর্থঃ “তোমরা ইব্‌রাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে সলাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর”- (সূরাহ্‌ আল বাক্বারাহ্‌ ২ : ১২৫)। তিনি মাক্বামে ইব্‌রাহীমকে তাঁর ও বায়তুল্লাহর মাঝখানে রেখে (দু’ রাক’আত সলাত আদায় করলেন)। (জা’ফার বলেন) আমার পিতা (মুহাম্মাদ) বলতেন, আমি যতদূর জানি, তিনি (জাবির) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি দু’ রাক’আত সলাতে সূরাহ্‌ ‘কুল্‌ হুওআল্ল-হু আহাদ’ ও ‘কুল্‌ ইয়া আইয়ুহাল কা-ফিরূন’ পাঠ করেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজারে আসওয়াদের কাছে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং তাতে চুমু খেলেন। অতঃপর তিনি দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে বের হলেন এবং সাফার নিকটবর্তী হয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ (আরবি) অর্থঃ “নিশ্চয়ই সাফা-মারওয়াহ্‌ পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম”- (সূরাহ্‌ আল বাক্বারাহ্‌ ২ : ১৫৮) এবং আরো বললেন- আল্লাহ তা’আলা যে পাহাড়ের উল্লেখ করে আরম্ভ করেছেন, আমিও তা দিয়ে আরম্ভ করব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফা পাহাড় থেকে শুরু করলেন, অতঃপর এতটা উপরে আরোহণ করলেন যে, বায়তুল্লাহ দেখতে পেলেন। তিনি ক্বিবলামুখী হলেন, আল্লাহর একত্ব ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করলেন এবং বললেনঃ (আরবি) অর্থঃ ‘আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শারীক নেই। তাঁর জন্য রাজত্ব এবং তাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন”। তিনি এ দু’আ পড়লেন এবং তিনি অনুরূপ তিনবার বলেছেন। অতঃপর তিনি নেমে মারওয়াহ পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলেন- যতক্ষণ না তাঁর পা মুবারক উপত্যকার সমতল ভূমিতে গিয়ে ঠেকল। তিনি দ্রুত চললেন- যতক্ষণ না উপত্যকা অতিক্রম করলেন। মারওয়াহ্‌ পাহাড়ে ঊঠার সময় হেঁটে উঠলেন, অতঃপর এখানেও তাই করলেন যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। সর্বশেষ ত্বওয়াফে যখন তিনি মারওয়াহ্‌ পাহাড়ে পৌঁছলেন, তখন (লোকদের সম্বোধন করে) বললেনঃ যদি আমি আগেই ব্যাপারটি বুঝতে পারতাম, তাহলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না এবং (হাজ্জের) ইহরামকে ‘উমরায় পরিবর্তন করতাম। অতএব তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং একে ‘উমরায় পরিণত করে। এ সময় সুরাক্বাহ ইবনু মালিক ইবনু জু’শুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যবস্থা কি আমাদের এ বছরের জন্য, না সর্বকালের জন্য? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের ফাঁকে ঢুকালেন এবং দু’বার বললেন, ‘উমরাহ্‌ হাজ্জের মধ্যে প্রবেশ করেছে। আরও বললেন, না বরং সর্বকালের জন্য, সর্বকালের জন্য। এ সময় ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জন্য কুরবানীর পশু নিয়ে এলেন এবং যারা ইহরাম খুলে ফেলেছে, ফাত্বিমাহ্‌ (রাঃ)-কে তাদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলেন। তিনি রঙ্গীন কাপড় পরিহিতা ছিলেন এবং চোখে সুরমা দিয়েছিলেন। ‘আলী (রাঃ) তা অপছন্দ করলেন। ফাত্বিমাহ্‌ (রাঃ) বললেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাবী বলেন, ‘আলী (রাঃ) ইরাক্বে থাকতেন, অতএব ফাতিমাহ (রাঃ) যা করেছেন তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে আমি তাকে জানালাম যে, আমি তার এ কাজ অপছন্দ করেছি। তিনি যা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে জানার জন্য আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর কাছে গেলাম। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ফাত্বিমাহ্‌ সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। তুমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধার সময় কী বলেছিলে?‘আলী (রাঃ) বললেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! আমি ইহরাম বাঁধলাম, যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন আপনার রসূল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার সঙ্গে হাদী (কুরবানীর পশু) আছে, অতএব তুমি ইহরাম খুলবে না। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে যে পশুপাল নিয়ে এসেছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের সঙ্গে করে যে সব পশু নিয়ে এসেছিলেন, সর্বসাকুল্যে এর সংখ্যা দাঁড়ালো একশত। অতএব নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেললেন এবং চুল কাটলেন। অতঃপর যখন তালবিয়ার দিন (৮যিলহাজ্জ) আসলো, লোকেরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলো এবং মিনার দিকে রওনা হ’ল। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ার হয়ে গেলেন এবং সেখানে যুহর, ‘আস্‌র, মাগরিব, ‘ইশা ও ফাজ্‌রের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং নামিরাহ্‌ নামক স্থানে গিয়ে তার জন্য একটি তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং নিজেও রওনা হয়ে গেলেন। কুরায়শগণ নিঃসন্দেহ ছিল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাশ’আরুল হারামের কাছে অবস্থান করবেন যেমন জাহিলী যুগে কুরায়শগণ করত। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে অগ্রসর হলেন, তারপরে ‘আরাফায় পৌঁছলেন এবং দেখতে পেলেন নামিরায় তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। তিনি এখানে অবতরণ করলে। অতঃপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তখন তিনি তাঁর ক্বাস্‌ওয়া (নামক উষ্ট্রী)-কে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। তার পিঠে হাওদা লাগানো হ’ল। তখন তিনি বাত্বনে ওয়াদীতে এলেন এবং লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, “তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য হারাম যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে।” “সাবধান! জাহিলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহিলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হ’ল। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি, তা হল আমাদের বংশের রবী’আহ্‌ ইবনু হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বানূ সা’দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযায়ল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। “জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হল। আমি প্রথম যে সুদ বাতিল করছি তা হল আমাদের বংশের ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্ত্বালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হল”। “তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার কর। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হাক্ব রয়েছে। “আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।” “আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে, তখন তোমরা কী বলবে?” তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়েছেন, আপনার হাক্ব আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে লোকদের ইশারা করে বললেন, “ইয়া আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক, “ তিনবার এরূপ বললেন।” অতঃপর (মুয়ায্‌যিন) আযান দিলেন ও ইক্বামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত আদায় করলেন। এরপর ইক্বামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আস্‌রের সলাত আদায় করলেন। তিনি এ দু’ সলাতের মাঝখানে অন্য কোন সলাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ার হয়ে মাওক্বিফ (অবস্থানস্থল) এলেন, তাঁর ক্বাস্‌ওয়া উষ্ট্রীর পেট পাথরের স্তূপের দিকে করে দিলেন এবং লোকদের একত্র হবার জায়গা সামনে রেখে ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনি এভাবে উকূফ করলেন। হলদে আভা কিছু দূরীভূত হ’ল, এমনকি সূর্য গোলক সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি উসামাহ্‌ (রাঃ)-কে তাঁর বাহনের পিছন দিকে বসালেন এবং ক্বাসওয়ার নাকের দড়ি সজোরে টান দিলেন- ফলে তার মাথা মাওরিক (সওয়ারী ক্লান্তি অবসাদের জন্য যাতে পা রাখে) স্পর্শ করল। তিনি ডান হাতের ইশারায় বললেন, হে জনমণ্ডলী! ধীরে সুস্থে, ধীরে সুস্থে অগ্রসর হও। যখনই তিনি বালুর স্তূপের নিকট পৌঁছতেন, ক্বাসওয়ার নাকের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন যাতে সে উপরদিকে উঠতে পারে। এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলেন এবং এখানে একই আযানে ও দু’ ইক্বামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সলাত আদায় করলেন। এ সলাতের মাঝখানে অন্য কোন নাফ্‌ল সলাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুয়ে পড়লেন। যাবৎ না ফাজ্‌রের ওয়াক্ত হ’ল। অতঃপর ভোর হয়ে গেলে তিনি আযান ও ইক্বামাত সহ ফাজ্‌রের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর ক্বাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে “মাশ’আরুল হারাম” নামক স্থানে আসলেন। এখানে তিনি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহর নিকট দু’আ করলেন, তাঁর মহত্ব বর্ণনা করলেন, কালিমাহ তাওহীদ পড়লেন এবং তাঁর একত্ব ঘোষণা করলেন। দিনের আলো যথেষ্ট উজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন। সূর্যোদয়ের পূর্বে তিনি আবার রওনা করছিলেন এবং ফায্‌ল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সওয়ারীতে তাঁর পিছনে বসলেন। তিনি ছিলেন যুবক এবং তার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন অগ্রসর হলেন- পাশাপাশি একদল মহিলাও যাচ্ছিল। ফায্‌ল (রাঃ) তাদের দিকে তাকাতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের হাত ফায্‌লের চেহারার উপর রাখলেন এবং তিনি তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন এবং ফায্‌ল (রাঃ) অপরদিক দেখতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় অন্যদিক হতে ফায্‌ল (রাঃ)-এর মুখমণ্ডলে হাত রাখলেন। তিনি আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলেন। তিনি ‘বাত্বনে মুহাস্‌সাব’ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং সওয়ারীর গতি কিছুটা দ্রুত করলেন। তিনি মধ্যপথে অগ্রসর হলেন- যা জামরাতুল কুবরার দিকে বেরিয়ে গেছে। তিনি বৃক্ষের নিকটের জামরায় এলেন এবং নিচের খালি জায়গায় দাঁড়িয়ে এখানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করলেন এবং প্রত্যেকবার ‘আল্ল-হু আকবার’ বললেন। অতঃপর সেখান থেকে কুরবানীর স্থানে এলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু যাবাহ করলেন। তিনি কুরবানীর পশুতে ‘আলী (রাঃ)-কেও শারীক করলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি পশুর গোশ্‌তের কিছু অংশ নিয়ে একত্রে রান্না করার নির্দেশ দিলেন। অতএব তাই করা হ’ল। তারা উভয়ে এ গোশ্‌ত থেকে খেলেন এবং ঝোল পান করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ্‌র দিকে রওনা হলেন এবং মাক্কায় পৌঁছে যুহরের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর বানূ ‘আবদুল মুত্ত্বালিব –এর লোকদের কাছে আসলেন, তারা লোকদের যামযামের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে ‘আবদুল মুত্ত্বালিবের বংশধরগণ! পানি তোল। আমি যদি আশংকা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের পরাভূত করে দিবে, তবে আমি নিজেও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তখন তারা তাঁকে এক বালতি পানি দিল এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন। (ই. ফা. ২৮১৭, ই.সে. ২৮১৫)

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وإسحاق بن إبراهيم، جميعا عن حاتم، - قال أبو بكر حدثنا حاتم بن إسماعيل المدني، - عن جعفر بن محمد، عن أبيه، قال دخلنا على جابر بن عبد الله فسأل عن القوم، حتى انتهى إلى فقلت أنا محمد بن علي بن حسين، ‏.‏ فأهوى بيده إلى رأسي فنزع زري الأعلى ثم نزع زري الأسفل ثم وضع كفه بين ثديى وأنا يومئذ غلام شاب فقال مرحبا بك يا ابن أخي سل عما شئت ‏.‏ فسألته وهو أعمى وحضر وقت الصلاة فقام في نساجة ملتحفا بها كلما وضعها على منكبه رجع طرفاها إليه من صغرها ورداؤه إلى جنبه على المشجب فصلى بنا فقلت أخبرني عن حجة رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فقال بيده فعقد تسعا فقال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم مكث تسع سنين لم يحج ثم أذن في الناس في العاشرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حاج فقدم المدينة بشر كثير كلهم يلتمس أن يأتم برسول الله صلى الله عليه وسلم ويعمل مثل عمله فخرجنا معه حتى أتينا ذا الحليفة فولدت أسماء بنت عميس محمد بن أبي بكر فأرسلت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف أصنع قال ‏"‏ اغتسلي واستثفري بثوب وأحرمي ‏"‏ ‏.‏ فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد ثم ركب القصواء حتى إذا استوت به ناقته على البيداء نظرت إلى مد بصري بين يديه من راكب وماش وعن يمينه مثل ذلك وعن يساره مثل ذلك ومن خلفه مثل ذلك ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا وعليه ينزل القرآن وهو يعرف تأويله وما عمل به من شىء عملنا به فأهل بالتوحيد ‏"‏ لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك ‏"‏ ‏.‏ وأهل الناس بهذا الذي يهلون به فلم يرد رسول الله صلى الله عليه وسلم عليهم شيئا منه ولزم رسول الله صلى الله عليه وسلم تلبيته قال جابر - رضى الله عنه - لسنا ننوي إلا الحج لسنا نعرف العمرة حتى إذا أتينا البيت معه استلم الركن فرمل ثلاثا ومشى أربعا ثم نفذ إلى مقام إبراهيم - عليه السلام - فقرأ ‏{‏ واتخذوا من مقام إبراهيم مصلى‏}‏ فجعل المقام بينه وبين البيت فكان أبي يقول ولا أعلمه ذكره إلا عن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ في الركعتين ‏{‏ قل هو الله أحد‏}‏ و ‏{‏ قل يا أيها الكافرون‏}‏ ثم رجع إلى الركن فاستلمه ثم خرج من الباب إلى الصفا فلما دنا من الصفا قرأ ‏{‏ إن الصفا والمروة من شعائر الله‏}‏ ‏"‏ أبدأ بما بدأ الله به ‏"‏ ‏.‏ فبدأ بالصفا فرقي عليه حتى رأى البيت فاستقبل القبلة فوحد الله وكبره وقال ‏"‏ لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شىء قدير لا إله إلا الله وحده أنجز وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده ‏"‏ ‏.‏ ثم دعا بين ذلك قال مثل هذا ثلاث مرات ثم نزل إلى المروة حتى إذا انصبت قدماه في بطن الوادي سعى حتى إذا صعدتا مشى حتى أتى المروة ففعل على المروة كما فعل على الصفا حتى إذا كان آخر طوافه على المروة فقال ‏"‏ لو أني استقبلت من أمري ما استدبرت لم أسق الهدى وجعلتها عمرة فمن كان منكم ليس معه هدى فليحل وليجعلها عمرة ‏"‏ ‏.‏ فقام سراقة بن مالك بن جعشم فقال يا رسول الله ألعامنا هذا أم لأبد فشبك رسول الله صلى الله عليه وسلم أصابعه واحدة في الأخرى وقال ‏"‏ دخلت العمرة في الحج - مرتين - لا بل لأبد أبد ‏"‏ ‏.‏ وقدم علي من اليمن ببدن النبي صلى الله عليه وسلم فوجد فاطمة - رضى الله عنها - ممن حل ولبست ثيابا صبيغا واكتحلت فأنكر ذلك عليها فقالت إن أبي أمرني بهذا ‏.‏ قال فكان علي يقول بالعراق فذهبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم محرشا على فاطمة للذي صنعت مستفتيا لرسول الله صلى الله عليه وسلم فيما ذكرت عنه فأخبرته أني أنكرت ذلك عليها فقال ‏"‏ صدقت صدقت ماذا قلت حين فرضت الحج ‏"‏ ‏.‏ قال قلت اللهم إني أهل بما أهل به رسولك ‏.‏ قال ‏"‏ فإن معي الهدى فلا تحل ‏"‏ ‏.‏ قال فكان جماعة الهدى الذي قدم به علي من اليمن والذي أتى به النبي صلى الله عليه وسلم مائة - قال - فحل الناس كلهم وقصروا إلا النبي صلى الله عليه وسلم ومن كان معه هدى فلما كان يوم التروية توجهوا إلى منى فأهلوا بالحج وركب رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى بها الظهر والعصر والمغرب والعشاء والفجر ثم مكث قليلا حتى طلعت الشمس وأمر بقبة من شعر تضرب له بنمرة فسار رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تشك قريش إلا أنه واقف عند المشعر الحرام كما كانت قريش تصنع في الجاهلية فأجاز رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أتى عرفة فوجد القبة قد ضربت له بنمرة فنزل بها حتى إذا زاغت الشمس أمر بالقصواء فرحلت له فأتى بطن الوادي فخطب الناس وقال ‏"‏ إن دماءكم وأموالكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا ألا كل شىء من أمر الجاهلية تحت قدمى موضوع ودماء الجاهلية موضوعة وإن أول دم أضع من دمائنا دم ابن ربيعة بن الحارث كان مسترضعا في بني سعد فقتلته هذيل وربا الجاهلية موضوع وأول ربا أضع ربانا ربا عباس بن عبد المطلب فإنه موضوع كله فاتقوا الله في النساء فإنكم أخذتموهن بأمان الله واستحللتم فروجهن بكلمة الله ولكم عليهن أن لا يوطئن فرشكم أحدا تكرهونه ‏.‏ فإن فعلن ذلك فاضربوهن ضربا غير مبرح ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف وقد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به كتاب الله ‏.‏ وأنتم تسألون عني فما أنتم قائلون ‏"‏ ‏.‏ قالوا نشهد أنك قد بلغت وأديت ونصحت ‏.‏ فقال بإصبعه السبابة يرفعها إلى السماء وينكتها إلى الناس ‏"‏ اللهم اشهد اللهم اشهد ‏"‏ ‏.‏ ثلاث مرات ثم أذن ثم أقام فصلى الظهر ثم أقام فصلى العصر ولم يصل بينهما شيئا ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أتى الموقف فجعل بطن ناقته القصواء إلى الصخرات وجعل حبل المشاة بين يديه واستقبل القبلة فلم يزل واقفا حتى غربت الشمس وذهبت الصفرة قليلا حتى غاب القرص وأردف أسامة خلفه ودفع رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد شنق للقصواء الزمام حتى إن رأسها ليصيب مورك رحله ويقول بيده اليمنى ‏"‏ أيها الناس السكينة السكينة ‏"‏ ‏.‏ كلما أتى حبلا من الحبال أرخى لها قليلا حتى تصعد حتى أتى المزدلفة فصلى بها المغرب والعشاء بأذان واحد وإقامتين ولم يسبح بينهما شيئا ثم اضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى طلع الفجر وصلى الفجر - حين تبين له الصبح - بأذان وإقامة ثم ركب القصواء حتى أتى المشعر الحرام فاستقبل القبلة فدعاه وكبره وهلله ووحده فلم يزل واقفا حتى أسفر جدا فدفع قبل أن تطلع الشمس وأردف الفضل بن عباس وكان رجلا حسن الشعر أبيض وسيما فلما دفع رسول الله صلى الله عليه وسلم مرت به ظعن يجرين فطفق الفضل ينظر إليهن فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده على وجه الفضل فحول الفضل وجهه إلى الشق الآخر ينظر فحول رسول الله صلى الله عليه وسلم يده من الشق الآخر على وجه الفضل يصرف وجهه من الشق الآخر ينظر حتى أتى بطن محسر فحرك قليلا ثم سلك الطريق الوسطى التي تخرج على الجمرة الكبرى حتى أتى الجمرة التي عند الشجرة فرماها بسبع حصيات يكبر مع كل حصاة منها مثل حصى الخذف رمى من بطن الوادي ثم انصرف إلى المنحر فنحر ثلاثا وستين بيده ثم أعطى عليا فنحر ما غبر وأشركه في هديه ثم أمر من كل بدنة ببضعة فجعلت في قدر فطبخت فأكلا من لحمها وشربا من مرقها ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم فأفاض إلى البيت فصلى بمكة الظهر فأتى بني عبد المطلب يسقون على زمزم فقال ‏"‏ انزعوا بني عبد المطلب فلولا أن يغلبكم الناس على سقايتكم لنزعت معكم ‏"‏ ‏.‏ فناولوه دلوا فشرب منه ‏.


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00