সহিহ মুসলিম > ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা এবং অল্পতুষ্ট থাকা সম্পর্কে
সহিহ মুসলিম ২৩১৭
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وعمرو الناقد، وأبو سعيد الأشج قالوا حدثنا وكيع، حدثنا الأعمش، ح وحدثني زهير بن حرب، حدثنا محمد بن فضيل، عن أبيه، كلاهما عن عمارة بن القعقاع، عن أبي زرعة، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اللهم اجعل رزق آل محمد قوتا " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “হে আল্লাহ্! মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের রিয্ক্ব (বা পানাহারের ব্যবস্থা) প্রয়োজন পরিমান রাখুন।” ( ই.ফা. ২২৯৫, ই.সে. ২২৯৬)
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “হে আল্লাহ্! মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের রিয্ক্ব (বা পানাহারের ব্যবস্থা) প্রয়োজন পরিমান রাখুন।” ( ই.ফা. ২২৯৫, ই.সে. ২২৯৬)
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وعمرو الناقد، وأبو سعيد الأشج قالوا حدثنا وكيع، حدثنا الأعمش، ح وحدثني زهير بن حرب، حدثنا محمد بن فضيل، عن أبيه، كلاهما عن عمارة بن القعقاع، عن أبي زرعة، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اللهم اجعل رزق آل محمد قوتا " .
সহিহ মুসলিম ২৩১৬
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا أبو عبد الرحمن المقرئ، عن سعيد بن أبي، أيوب حدثني شرحبيل، - وهو ابن شريك - عن أبي عبد الرحمن الحبلي، عن عبد الله، بن عمرو بن العاص أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " قد أفلح من أسلم ورزق كفافا وقنعه الله بما آتاه " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার ইবনুল ’আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘যে ব্যক্তির ইসলাম কবুল করার সৌভাগ্য হয়েছে, যাকে প্রয়োজন পরিমাণ রিয্ক্ব দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ্ তা’আলা তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন এর উপর পরিতৃপ্ত হওয়ার শক্তি দিয়েছেন, সে-ই (জীবনে) সফলতা লাভ করেছে’। ( ই.ফা. ২২৯৪, ই.সে. ২২৯৫)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার ইবনুল ’আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘যে ব্যক্তির ইসলাম কবুল করার সৌভাগ্য হয়েছে, যাকে প্রয়োজন পরিমাণ রিয্ক্ব দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ্ তা’আলা তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন এর উপর পরিতৃপ্ত হওয়ার শক্তি দিয়েছেন, সে-ই (জীবনে) সফলতা লাভ করেছে’। ( ই.ফা. ২২৯৪, ই.সে. ২২৯৫)
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا أبو عبد الرحمن المقرئ، عن سعيد بن أبي، أيوب حدثني شرحبيل، - وهو ابن شريك - عن أبي عبد الرحمن الحبلي، عن عبد الله، بن عمرو بن العاص أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " قد أفلح من أسلم ورزق كفافا وقنعه الله بما آتاه " .
সহিহ মুসলিম > কঠোরতা ও অশোভন আচরণ করা সত্ত্বেও প্রার্থনাকারীকে কিছু দান করা
সহিহ মুসলিম ২৩২১
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، عن ابن أبي مليكة، عن المسور بن مخرمة، أنه قال قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبية ولم يعط مخرمة شيئا فقال مخرمة يا بنى انطلق بنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم . فانطلقت معه قال ادخل فادعه لي . قال فدعوته له فخرج إليه وعليه قباء منها فقال " خبأت هذا لك " . قال فنظر إليه فقال " رضي مخرمة " .
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু সংখ্যক ক্বাবা (শেরওয়ানী) বণ্টন করলেন। কিন্তু (আমার পিতা) মাখরামাহ্কে একটিও দিলেন না। মাখরামাহ্ বললেন, বৎস ! আমার সাথে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে চলো। আমি তার সাথে গেলাম। তিনি বললেন, তুমি ঘরের ভিতর গিয়ে তাঁকে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে) ডাক। আমি তাঁকে ডাকলাম। তিনি যখন বেরিয়ে আসলেন, ঐ ক্বাবাগুলোর একটি তার পরনে ছিল। তিনি বললেন, ‘এটা আমি তোমার জন্যই রেখেছিলাম।’ বর্ণনাকারী বলেন, তিনি মাখরামার দিকে তাকালেন এবং বললেন, “মাখরামাহ্ সন্তুষ্ট হয়েছে”। (ই.ফা. ২২৯৯, ই.সে. ২৩০০)
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু সংখ্যক ক্বাবা (শেরওয়ানী) বণ্টন করলেন। কিন্তু (আমার পিতা) মাখরামাহ্কে একটিও দিলেন না। মাখরামাহ্ বললেন, বৎস ! আমার সাথে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে চলো। আমি তার সাথে গেলাম। তিনি বললেন, তুমি ঘরের ভিতর গিয়ে তাঁকে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে) ডাক। আমি তাঁকে ডাকলাম। তিনি যখন বেরিয়ে আসলেন, ঐ ক্বাবাগুলোর একটি তার পরনে ছিল। তিনি বললেন, ‘এটা আমি তোমার জন্যই রেখেছিলাম।’ বর্ণনাকারী বলেন, তিনি মাখরামার দিকে তাকালেন এবং বললেন, “মাখরামাহ্ সন্তুষ্ট হয়েছে”। (ই.ফা. ২২৯৯, ই.সে. ২৩০০)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، عن ابن أبي مليكة، عن المسور بن مخرمة، أنه قال قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبية ولم يعط مخرمة شيئا فقال مخرمة يا بنى انطلق بنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم . فانطلقت معه قال ادخل فادعه لي . قال فدعوته له فخرج إليه وعليه قباء منها فقال " خبأت هذا لك " . قال فنظر إليه فقال " رضي مخرمة " .
সহিহ মুসলিম ২৩২২
حدثنا أبو الخطاب، زياد بن يحيى الحساني حدثنا حاتم بن وردان أبو صالح، حدثنا أيوب السختياني، عن عبد الله بن أبي مليكة، عن المسور بن مخرمة، قال قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم أقبية فقال لي أبي مخرمة انطلق بنا إليه عسى أن يعطينا منها شيئا . قال فقام أبي على الباب فتكلم فعرف النبي صلى الله عليه وسلم صوته فخرج ومعه قباء وهو يريه محاسنه وهو يقول " خبأت هذا لك خبأت هذا لك " .
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে কিছু সংখ্যক ক্বাবা (পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধানের জন্য কাপড় বিশেষ) আসলো। আমার পিতা মাখরামাহ্ আমাকে বললেন, “আমার সাথে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে চলো, হয় তো তিনি আমাদেরকে তা থেকে দু’ একটা দিতে পারেন।” বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা গিয়ে তাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে কথা বললেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কণ্ঠস্বর বুঝতে পারলেন। তিনি একটি ক্বাবা সাথে করে তার কারুকাজ ও সৌন্দর্য দেখতে দেখতে বের হলেন এবং বলতে থাকলেনঃ “আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম; আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম”। ( ই.ফা. ২৩০০, ই.সে. ২৩০১)
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে কিছু সংখ্যক ক্বাবা (পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধানের জন্য কাপড় বিশেষ) আসলো। আমার পিতা মাখরামাহ্ আমাকে বললেন, “আমার সাথে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে চলো, হয় তো তিনি আমাদেরকে তা থেকে দু’ একটা দিতে পারেন।” বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা গিয়ে তাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে কথা বললেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কণ্ঠস্বর বুঝতে পারলেন। তিনি একটি ক্বাবা সাথে করে তার কারুকাজ ও সৌন্দর্য দেখতে দেখতে বের হলেন এবং বলতে থাকলেনঃ “আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম; আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম”। ( ই.ফা. ২৩০০, ই.সে. ২৩০১)
حدثنا أبو الخطاب، زياد بن يحيى الحساني حدثنا حاتم بن وردان أبو صالح، حدثنا أيوب السختياني، عن عبد الله بن أبي مليكة، عن المسور بن مخرمة، قال قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم أقبية فقال لي أبي مخرمة انطلق بنا إليه عسى أن يعطينا منها شيئا . قال فقام أبي على الباب فتكلم فعرف النبي صلى الله عليه وسلم صوته فخرج ومعه قباء وهو يريه محاسنه وهو يقول " خبأت هذا لك خبأت هذا لك " .
সহিহ মুসলিম ২৩১৯
حدثني عمرو الناقد، حدثنا إسحاق بن سليمان الرازي، قال سمعت مالكا، ح وحدثني يونس بن عبد الأعلى، - واللفظ له - أخبرنا عبد الله بن وهب، حدثني مالك، بن أنس عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، عن أنس بن مالك، قال كنت أمشي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه رداء نجراني غليظ الحاشية فأدركه أعرابي فجبذه بردائه جبذة شديدة نظرت إلى صفحة عنق رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد أثرت بها حاشية الرداء من شدة جبذته ثم قال يا محمد مر لي من مال الله الذي عندك . فالتفت إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فضحك ثم أمر له بعطاء .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে পথ চলছিলাম, তাঁর পরনে ছিল নাজরানের তৈরি মোটা আঁচল বিশিষ্ট চাদর। এক বেদুঈন তাঁর কাছে আসলো। সে তাঁর চাদর ধরে তাকে সজোরে টান দিল। আমি দেখলাম ফলে তাঁর ঘাড়ে দাগ পরে গেল। সজোরে তার এ টানের কারণে চাদরের আঁচলও পরে গেল। সে (বেদুঈন) বলল, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র দেয়া যে সব মাল তোমার কাছে আছে এ থেকে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দাও। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু মাল দেয়ার নির্দেশ দিলেন। (ই.ফা. ২২৯৭, ই.সে. ২২৯৮)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে পথ চলছিলাম, তাঁর পরনে ছিল নাজরানের তৈরি মোটা আঁচল বিশিষ্ট চাদর। এক বেদুঈন তাঁর কাছে আসলো। সে তাঁর চাদর ধরে তাকে সজোরে টান দিল। আমি দেখলাম ফলে তাঁর ঘাড়ে দাগ পরে গেল। সজোরে তার এ টানের কারণে চাদরের আঁচলও পরে গেল। সে (বেদুঈন) বলল, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র দেয়া যে সব মাল তোমার কাছে আছে এ থেকে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দাও। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু মাল দেয়ার নির্দেশ দিলেন। (ই.ফা. ২২৯৭, ই.সে. ২২৯৮)
حدثني عمرو الناقد، حدثنا إسحاق بن سليمان الرازي، قال سمعت مالكا، ح وحدثني يونس بن عبد الأعلى، - واللفظ له - أخبرنا عبد الله بن وهب، حدثني مالك، بن أنس عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، عن أنس بن مالك، قال كنت أمشي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه رداء نجراني غليظ الحاشية فأدركه أعرابي فجبذه بردائه جبذة شديدة نظرت إلى صفحة عنق رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد أثرت بها حاشية الرداء من شدة جبذته ثم قال يا محمد مر لي من مال الله الذي عندك . فالتفت إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فضحك ثم أمر له بعطاء .
সহিহ মুসলিম ২৩১৮
حدثنا عثمان بن أبي شيبة، وزهير بن حرب، وإسحاق بن إبراهيم الحنظلي، قال إسحاق أخبرنا وقال الآخران، حدثنا جرير، عن الأعمش، عن أبي وائل، عن سلمان، بن ربيعة قال قال عمر بن الخطاب رضى الله عنه قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم قسما فقلت والله يا رسول الله لغير هؤلاء كان أحق به منهم . قال " إنهم خيروني أن يسألوني بالفحش أو يبخلوني فلست بباخل " .
‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু যাকাতের মাল বন্টন করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি যাদেরকে দিয়েছেন প্রকৃত পক্ষে এরা পাওয়ার যোগ্য নয়। বরং পাওয়ার যোগ্য হল অন্য লোক। উত্তরে তিনি বললেন, তারা আমাকে এমনভাবে বাধ্য করেছে যে, আমি তাদেরকে যদি না দিতাম তাহলে তারা আমার কাছে নির্লজ্জভাবে প্রশ্ন করত অথবা আমাকে কৃপন বলে আখ্যায়িত করত। সুতরাং আমি কৃপণতার আশ্রয় গ্রহণকারী নই (অর্থাৎ কৃপণ নই)। ( ই.ফা. ২২৯৬, ই. সে. ২২৯৭)
‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু যাকাতের মাল বন্টন করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি যাদেরকে দিয়েছেন প্রকৃত পক্ষে এরা পাওয়ার যোগ্য নয়। বরং পাওয়ার যোগ্য হল অন্য লোক। উত্তরে তিনি বললেন, তারা আমাকে এমনভাবে বাধ্য করেছে যে, আমি তাদেরকে যদি না দিতাম তাহলে তারা আমার কাছে নির্লজ্জভাবে প্রশ্ন করত অথবা আমাকে কৃপন বলে আখ্যায়িত করত। সুতরাং আমি কৃপণতার আশ্রয় গ্রহণকারী নই (অর্থাৎ কৃপণ নই)। ( ই.ফা. ২২৯৬, ই. সে. ২২৯৭)
حدثنا عثمان بن أبي شيبة، وزهير بن حرب، وإسحاق بن إبراهيم الحنظلي، قال إسحاق أخبرنا وقال الآخران، حدثنا جرير، عن الأعمش، عن أبي وائل، عن سلمان، بن ربيعة قال قال عمر بن الخطاب رضى الله عنه قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم قسما فقلت والله يا رسول الله لغير هؤلاء كان أحق به منهم . قال " إنهم خيروني أن يسألوني بالفحش أو يبخلوني فلست بباخل " .
সহিহ মুসলিম ২৩২০
حدثنا زهير بن حرب، حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث، حدثنا همام، ح وحدثني زهير بن حرب، حدثنا عمر بن يونس، حدثنا عكرمة بن عمار، ح وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا أبو المغيرة، حدثنا الأوزاعي، كلهم عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، عن أنس، بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا الحديث . وفي حديث عكرمة بن عمار من الزيادة قال ثم جبذه إليه جبذة رجع نبي الله صلى الله عليه وسلم في نحر الأعرابي . وفي حديث همام فجاذبه حتى انشق البرد وحتى بقيت حاشيته في عنق رسول الله صلى الله عليه وسلم .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একই হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ‘আমরের বর্ণিত হাদিসে আরও আছে “তারপর সে (বেদুঈন) এমন জোরে চাদর ধরে টান দিল যে, আল্লাহ্র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেদুঈনের ঘাড়ের সাথে লেগে গেল”। আর হাম্মামের বর্ণনায় আছেঃ এমন জোরে তাঁর চাদর ধরে টান দিল যে, তা ফেটে গেল এবং এর আঁচল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর ঘাড়ে থেকে গেল। (ই.ফা. ২২৯৮, ই. সে. ২২৯৯)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একই হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ‘আমরের বর্ণিত হাদিসে আরও আছে “তারপর সে (বেদুঈন) এমন জোরে চাদর ধরে টান দিল যে, আল্লাহ্র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেদুঈনের ঘাড়ের সাথে লেগে গেল”। আর হাম্মামের বর্ণনায় আছেঃ এমন জোরে তাঁর চাদর ধরে টান দিল যে, তা ফেটে গেল এবং এর আঁচল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর ঘাড়ে থেকে গেল। (ই.ফা. ২২৯৮, ই. সে. ২২৯৯)
حدثنا زهير بن حرب، حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث، حدثنا همام، ح وحدثني زهير بن حرب، حدثنا عمر بن يونس، حدثنا عكرمة بن عمار، ح وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا أبو المغيرة، حدثنا الأوزاعي، كلهم عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، عن أنس، بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا الحديث . وفي حديث عكرمة بن عمار من الزيادة قال ثم جبذه إليه جبذة رجع نبي الله صلى الله عليه وسلم في نحر الأعرابي . وفي حديث همام فجاذبه حتى انشق البرد وحتى بقيت حاشيته في عنق رسول الله صلى الله عليه وسلم .
সহিহ মুসলিম > যাকে না দিলে ঈমান থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাকে দান করা প্রসঙ্গে
সহিহ মুসলিম ২৩২৫
حدثنا الحسن بن علي الحلواني، حدثنا يعقوب بن إبراهيم بن سعد، حدثنا أبي، عن صالح، عن إسماعيل بن محمد بن سعد، قال سمعت محمد بن سعد، يحدث بهذا الحديث - يعني حديث الزهري الذي ذكرنا - فقال في حديثه فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده بين عنقي وكتفي ثم قال " أقتالا أى سعد إني لأعطي الرجل " .
মুহাম্মাদ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সূত্রেও যুহরী বর্ণিত হয়েছে। এ বর্ণনায় আরও আছে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (স্নেহ ভরে) আমার ঘাড় ও কাধের মাঝে হাত মেরে বললেনঃ হে সা’দ! তুমি কি আমার সাথে লড়তে চাও? নিশ্চয়ই আমি কোন ব্যক্তিকে দিয়ে থাকি। (ই.ফা. ২৩০৩, ই.সে. ২৩০৪)
মুহাম্মাদ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সূত্রেও যুহরী বর্ণিত হয়েছে। এ বর্ণনায় আরও আছে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (স্নেহ ভরে) আমার ঘাড় ও কাধের মাঝে হাত মেরে বললেনঃ হে সা’দ! তুমি কি আমার সাথে লড়তে চাও? নিশ্চয়ই আমি কোন ব্যক্তিকে দিয়ে থাকি। (ই.ফা. ২৩০৩, ই.সে. ২৩০৪)
حدثنا الحسن بن علي الحلواني، حدثنا يعقوب بن إبراهيم بن سعد، حدثنا أبي، عن صالح، عن إسماعيل بن محمد بن سعد، قال سمعت محمد بن سعد، يحدث بهذا الحديث - يعني حديث الزهري الذي ذكرنا - فقال في حديثه فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده بين عنقي وكتفي ثم قال " أقتالا أى سعد إني لأعطي الرجل " .
সহিহ মুসলিম ২৩২৩
حدثنا الحسن بن علي الحلواني، وعبد بن حميد، قالا حدثنا يعقوب، - وهو ابن إبراهيم بن سعد - حدثنا أبي، عن صالح، عن ابن شهاب، أخبرني عامر بن سعد، عن أبيه، سعد أنه أعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم رهطا وأنا جالس فيهم قال فترك رسول الله صلى الله عليه وسلم منهم رجلا لم يعطه وهو أعجبهم إلى فقمت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فساررته فقلت يا رسول الله ما لك عن فلان والله إني لأراه مؤمنا . قال " أو مسلما " . فسكت قليلا ثم غلبني ما أعلم منه فقلت يا رسول الله ما لك عن فلان فوالله إني لأراه مؤمنا . قال " أو مسلما " . فسكت قليلا ثم غلبني ما أعلم منه فقلت يا رسول الله ما لك عن فلان فوالله إني لأراه مؤمنا . قال " أو مسلما " . قال " إني لأعطي الرجل . وغيره أحب إلى منه خشية أن يكب في النار على وجهه " . وفي حديث الحلواني تكرار القول مرتين .
সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উপস্থিতিতে কতিপয় লোককে কিছু দান করলেন। আমিও তখন তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে দেয়া থেকে বিরত থাকলেন। সে আমার দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক ছিল। সুতরাং আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে দেননি কেন? আল্লাহ্র শপথ! আমি জানি সে মু’মিন লোক। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম। অতঃপর আমি সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সৎগুলাবলী ও ঈমানী চরিত্র সম্পর্কে আমার অবগতি আমাকে প্রভাবিত করায় পুনরায় বললাম, “হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কেন দেননি? আল্লাহ্র শপথ! আমি জানি সে মু’মিন লোক”। তিনি (এবারও) বললেন, বরং সে মুসলিম। আমি এবারও সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সম্পর্কে আমার অবগতি পুনরায় আমাকে প্রভাবিত করল। তাই আমি বললাম, আল্লাহ্র রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কিছু দেননি কেন? আল্লাহ্র শপথ! আমি ভাল করেই জানি সে মু’মিন। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম। তৃতীয়বার বললেন, আমি অধিকাংশ সময় কোন ব্যক্তিকে দেই কিন্তু অপর ব্যক্তি আমার কাছে তার তুলনায় অধিক প্রিয়। এর কারণ হচ্ছে - যদি তাদেরকে না দেই তাহলে হয়তো তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আল হুলওয়ানীর বর্ণনায় দু’বারের উল্লেখ আছে। ( ই.ফা.২৩০১, ই.সে. ২৩০২)
সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উপস্থিতিতে কতিপয় লোককে কিছু দান করলেন। আমিও তখন তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে দেয়া থেকে বিরত থাকলেন। সে আমার দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক ছিল। সুতরাং আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে দেননি কেন? আল্লাহ্র শপথ! আমি জানি সে মু’মিন লোক। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম। অতঃপর আমি সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সৎগুলাবলী ও ঈমানী চরিত্র সম্পর্কে আমার অবগতি আমাকে প্রভাবিত করায় পুনরায় বললাম, “হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কেন দেননি? আল্লাহ্র শপথ! আমি জানি সে মু’মিন লোক”। তিনি (এবারও) বললেন, বরং সে মুসলিম। আমি এবারও সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সম্পর্কে আমার অবগতি পুনরায় আমাকে প্রভাবিত করল। তাই আমি বললাম, আল্লাহ্র রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কিছু দেননি কেন? আল্লাহ্র শপথ! আমি ভাল করেই জানি সে মু’মিন। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম। তৃতীয়বার বললেন, আমি অধিকাংশ সময় কোন ব্যক্তিকে দেই কিন্তু অপর ব্যক্তি আমার কাছে তার তুলনায় অধিক প্রিয়। এর কারণ হচ্ছে - যদি তাদেরকে না দেই তাহলে হয়তো তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আল হুলওয়ানীর বর্ণনায় দু’বারের উল্লেখ আছে। ( ই.ফা.২৩০১, ই.সে. ২৩০২)
حدثنا الحسن بن علي الحلواني، وعبد بن حميد، قالا حدثنا يعقوب، - وهو ابن إبراهيم بن سعد - حدثنا أبي، عن صالح، عن ابن شهاب، أخبرني عامر بن سعد، عن أبيه، سعد أنه أعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم رهطا وأنا جالس فيهم قال فترك رسول الله صلى الله عليه وسلم منهم رجلا لم يعطه وهو أعجبهم إلى فقمت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فساررته فقلت يا رسول الله ما لك عن فلان والله إني لأراه مؤمنا . قال " أو مسلما " . فسكت قليلا ثم غلبني ما أعلم منه فقلت يا رسول الله ما لك عن فلان فوالله إني لأراه مؤمنا . قال " أو مسلما " . فسكت قليلا ثم غلبني ما أعلم منه فقلت يا رسول الله ما لك عن فلان فوالله إني لأراه مؤمنا . قال " أو مسلما " . قال " إني لأعطي الرجل . وغيره أحب إلى منه خشية أن يكب في النار على وجهه " . وفي حديث الحلواني تكرار القول مرتين .
সহিহ মুসলিম ২৩২৪
حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، ح وحدثنيه زهير بن حرب، حدثنا يعقوب، بن إبراهيم بن سعد حدثنا ابن أخي ابن شهاب، ح وحدثناه إسحاق بن إبراهيم، وعبد، بن حميد قالا أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، كلهم عن الزهري، بهذا الإسناد على معنى حديث صالح عن الزهري .
যুহরী (রাঃ) থেকে সালিহ (রহঃ) -এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৩০২, ই.সে. ২৩০৩)
যুহরী (রাঃ) থেকে সালিহ (রহঃ) -এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৩০২, ই.সে. ২৩০৩)
حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، ح وحدثنيه زهير بن حرب، حدثنا يعقوب، بن إبراهيم بن سعد حدثنا ابن أخي ابن شهاب، ح وحدثناه إسحاق بن إبراهيم، وعبد، بن حميد قالا أخبرنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، كلهم عن الزهري، بهذا الإسناد على معنى حديث صالح عن الزهري .
সহিহ মুসলিম > ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে
সহিহ মুসলিম ২৩৩৩
حدثنا محمد بن أبي عمر المكي، حدثنا سفيان، عن عمر بن سعيد بن مسروق، عن أبيه، عن عباية بن رفاعة، عن رافع بن خديج، قال أعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم أبا سفيان بن حرب وصفوان بن أمية وعيينة بن حصن والأقرع بن حابس كل إنسان منهم مائة من الإبل وأعطى عباس بن مرداس دون ذلك . فقال عباس بن مرداس أتجعل نهبي ونهب العبيد بين عيينة والأقرع فما كان بدر ولا حابس يفوقان مرداس في المجمع وما كنت دون امرئ منهما ومن تخفض اليوم لا يرفع قال فأتم له رسول الله صلى الله عليه وسلم مائة .
রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হার্ব, সফ্ওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ্, ‘উয়াইনাহ্ ইবনু হিস্ন ও আক্বরা’ ইবনু হাবিসকে একশ’টি করে উট দিলেন এবং ‘আব্বাস ইবনু মিরদাসকে এদের চেয়ে কিছু কম দিলেন। তখন মিরদাস এ কবিতা পাঠ করলেনঃ আপনি কি আমার ও আমার ‘উবায়দ’ নামক ঘোড়াটির অংশ ‘উয়াইনাহ্ ও আক্বরা’-কে প্রদত্ত অংশের মাঝামাঝি নির্ধারণ করেছেন? বস্তুতঃ ‘উয়াইনাহ্ এবং আক্বরা’ উভয়ই সমাজ ও সমাবেশে মিরদাসের চেয়ে অধিক অগ্রসর হতে বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে না। আর প্রতিযোগিতায় আমি তাদের দু’জনের তুলনায় পিছিয়ে নেই। আজ যে অনগ্রসর ও হীন বলে গণ্য হবে সে আর উর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এ কবিতা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার উটের সংখ্যাও একশ’ পূর্ণ করে দিলেন। (ই.ফা. ২৩১১, ই.সে. ২৩১২)
রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হার্ব, সফ্ওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ্, ‘উয়াইনাহ্ ইবনু হিস্ন ও আক্বরা’ ইবনু হাবিসকে একশ’টি করে উট দিলেন এবং ‘আব্বাস ইবনু মিরদাসকে এদের চেয়ে কিছু কম দিলেন। তখন মিরদাস এ কবিতা পাঠ করলেনঃ আপনি কি আমার ও আমার ‘উবায়দ’ নামক ঘোড়াটির অংশ ‘উয়াইনাহ্ ও আক্বরা’-কে প্রদত্ত অংশের মাঝামাঝি নির্ধারণ করেছেন? বস্তুতঃ ‘উয়াইনাহ্ এবং আক্বরা’ উভয়ই সমাজ ও সমাবেশে মিরদাসের চেয়ে অধিক অগ্রসর হতে বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে না। আর প্রতিযোগিতায় আমি তাদের দু’জনের তুলনায় পিছিয়ে নেই। আজ যে অনগ্রসর ও হীন বলে গণ্য হবে সে আর উর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এ কবিতা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার উটের সংখ্যাও একশ’ পূর্ণ করে দিলেন। (ই.ফা. ২৩১১, ই.সে. ২৩১২)
حدثنا محمد بن أبي عمر المكي، حدثنا سفيان، عن عمر بن سعيد بن مسروق، عن أبيه، عن عباية بن رفاعة، عن رافع بن خديج، قال أعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم أبا سفيان بن حرب وصفوان بن أمية وعيينة بن حصن والأقرع بن حابس كل إنسان منهم مائة من الإبل وأعطى عباس بن مرداس دون ذلك . فقال عباس بن مرداس أتجعل نهبي ونهب العبيد بين عيينة والأقرع فما كان بدر ولا حابس يفوقان مرداس في المجمع وما كنت دون امرئ منهما ومن تخفض اليوم لا يرفع قال فأتم له رسول الله صلى الله عليه وسلم مائة .
সহিহ মুসলিম ২৩৩০
حدثنا محمد بن الوليد، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن أبي التياح، قال سمعت أنس بن مالك، قال لما فتحت مكة قسم الغنائم في قريش فقالت الأنصار إن هذا لهو العجب إن سيوفنا تقطر من دمائهم وإن غنائمنا ترد عليهم . فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فجمعهم فقال " ما الذي بلغني عنكم " . قالوا هو الذي بلغك . وكانوا لا يكذبون . قال " أما ترضون أن يرجع الناس بالدنيا إلى بيوتهم وترجعون برسول الله إلى بيوتكم لو سلك الناس واديا أو شعبا وسلكت الأنصار واديا أو شعبا لسلكت وادي الأنصار أو شعب الأنصار " .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মাক্কাহ্ বিজয়ের পরে গনীমাতের মাল কুরায়শদের মধ্যে বন্টন করা হলে আনসারগন বললেন, এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের কথা যে, আমাদের তরবারি দিয়ে এখনো তাদের রক্ত ঝরছে আর আমাদের গনীমাত তারাই লুটে নিচ্ছে। এ কথা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাদেরকে সমবেত করে বললেন, এ কেমন কথা যা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ; এ ধরনের কথা হয়েছে। তারা কখনো মিথ্যা বলেন না। তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরুক আর তোমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? অন্যান্য লোকেরা যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথে চলে এবং আনসারগণ যদি অপর কোন উপত্যকা বা গিরিপথ ধরে চলে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথেই চলব (আমি আনসারদের সাথেই থাকব)। (ই.ফা. ২৩০৮, ই.সে. ২৩০৯)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মাক্কাহ্ বিজয়ের পরে গনীমাতের মাল কুরায়শদের মধ্যে বন্টন করা হলে আনসারগন বললেন, এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের কথা যে, আমাদের তরবারি দিয়ে এখনো তাদের রক্ত ঝরছে আর আমাদের গনীমাত তারাই লুটে নিচ্ছে। এ কথা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাদেরকে সমবেত করে বললেন, এ কেমন কথা যা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ; এ ধরনের কথা হয়েছে। তারা কখনো মিথ্যা বলেন না। তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরুক আর তোমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? অন্যান্য লোকেরা যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথে চলে এবং আনসারগণ যদি অপর কোন উপত্যকা বা গিরিপথ ধরে চলে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথেই চলব (আমি আনসারদের সাথেই থাকব)। (ই.ফা. ২৩০৮, ই.সে. ২৩০৯)
حدثنا محمد بن الوليد، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن أبي التياح، قال سمعت أنس بن مالك، قال لما فتحت مكة قسم الغنائم في قريش فقالت الأنصار إن هذا لهو العجب إن سيوفنا تقطر من دمائهم وإن غنائمنا ترد عليهم . فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فجمعهم فقال " ما الذي بلغني عنكم " . قالوا هو الذي بلغك . وكانوا لا يكذبون . قال " أما ترضون أن يرجع الناس بالدنيا إلى بيوتهم وترجعون برسول الله إلى بيوتكم لو سلك الناس واديا أو شعبا وسلكت الأنصار واديا أو شعبا لسلكت وادي الأنصار أو شعب الأنصار " .
সহিহ মুসলিম ২৩২৯
حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قال ابن المثنى حدثنا محمد بن جعفر، أخبرنا شعبة، قال سمعت قتادة، يحدث عن أنس بن مالك، قال جمع رسول الله صلى الله عليه وسلم الأنصار فقال " أفيكم أحد من غيركم " . فقالوا لا إلا ابن أخت لنا . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " إن ابن أخت القوم منهم " . فقال " إن قريشا حديث عهد بجاهلية ومصيبة وإني أردت أن أجبرهم وأتألفهم أما ترضون أن يرجع الناس بالدنيا وترجعون برسول الله إلى بيوتكم لو سلك الناس واديا وسلك الأنصار شعبا لسلكت شعب الأنصار " .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের এক স্থানে সমবেত করে বললেনঃ তোমরা অর্থাৎ আনসারগণ ছাড়া অন্য কেউ এখানে আছে কি? তারা (আনসারগণ) বললেন, না। তবে আমাদের এ ভাগ্নে এখানে উপস্থিত আছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বোনের ছেলে বা ভাগ্নে (মাতুল) গোত্রের অন্তর্ভূক্ত। অতঃপর তিনি বললেনঃ কুরায়শরা কেবলমাত্র জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগ করেছে এবং সবেমাত্র বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাই আমি চাচ্ছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রসূলকে নিয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন কর? তোমাদের সাথে আমার ভালবাসা ও হৃদ্যতার স্বরূপ এই যে, দুনিয়ার সব লোক যদি উপত্যকার দিকে ছুটে আর আনসারগণ যদি কোন গিরিপথে যায় তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথেই যাবো (তাদের সাথেই থাকব)। (ই.ফা. ২৩০৭, ই.সে. ২৩০৮)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের এক স্থানে সমবেত করে বললেনঃ তোমরা অর্থাৎ আনসারগণ ছাড়া অন্য কেউ এখানে আছে কি? তারা (আনসারগণ) বললেন, না। তবে আমাদের এ ভাগ্নে এখানে উপস্থিত আছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বোনের ছেলে বা ভাগ্নে (মাতুল) গোত্রের অন্তর্ভূক্ত। অতঃপর তিনি বললেনঃ কুরায়শরা কেবলমাত্র জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগ করেছে এবং সবেমাত্র বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাই আমি চাচ্ছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রসূলকে নিয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন কর? তোমাদের সাথে আমার ভালবাসা ও হৃদ্যতার স্বরূপ এই যে, দুনিয়ার সব লোক যদি উপত্যকার দিকে ছুটে আর আনসারগণ যদি কোন গিরিপথে যায় তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথেই যাবো (তাদের সাথেই থাকব)। (ই.ফা. ২৩০৭, ই.সে. ২৩০৮)
حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قال ابن المثنى حدثنا محمد بن جعفر، أخبرنا شعبة، قال سمعت قتادة، يحدث عن أنس بن مالك، قال جمع رسول الله صلى الله عليه وسلم الأنصار فقال " أفيكم أحد من غيركم " . فقالوا لا إلا ابن أخت لنا . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " إن ابن أخت القوم منهم " . فقال " إن قريشا حديث عهد بجاهلية ومصيبة وإني أردت أن أجبرهم وأتألفهم أما ترضون أن يرجع الناس بالدنيا وترجعون برسول الله إلى بيوتكم لو سلك الناس واديا وسلك الأنصار شعبا لسلكت شعب الأنصار " .
সহিহ মুসলিম ২৩২৬
حدثني حرملة بن يحيى التجيبي، أخبرنا عبد الله بن وهب، أخبرني يونس، عن ابن شهاب، أخبرني أنس بن مالك، أن أناسا، من الأنصار قالوا يوم حنين حين أفاء الله على رسوله من أموال هوازن ما أفاء فطفق رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطي رجالا من قريش المائة من الإبل فقالوا يغفر الله لرسول الله يعطي قريشا ويتركنا وسيوفنا تقطر من دمائهم . قال أنس بن مالك فحدث ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم من قولهم فأرسل إلى الأنصار فجمعهم في قبة من أدم فلما اجتمعوا جاءهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " ما حديث بلغني عنكم " . فقال له فقهاء الأنصار أما ذوو رأينا يا رسول الله فلم يقولوا شيئا وأما أناس منا حديثة أسنانهم قالوا يغفر الله لرسوله يعطي قريشا ويتركنا وسيوفنا تقطر من دمائهم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فإني أعطي رجالا حديثي عهد بكفر أتألفهم أفلا ترضون أن يذهب الناس بالأموال وترجعون إلى رحالكم برسول الله فوالله لما تنقلبون به خير مما ينقلبون به " . فقالوا بلى يا رسول الله قد رضينا . قال " فإنكم ستجدون أثرة شديدة فاصبروا حتى تلقوا الله ورسوله فإني على الحوض " . قالوا سنصبر .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
হুনায়নের দিনে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলকে বিনা যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্রের ধন-সম্পদ থেকে যা (গনীমাত হিসাবে) দান করেছিলেন এ থেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরাইশদের কয়েকজন লোককে একশ’ উট প্রদান করলেন। আনসারদের মধ্যে কয়েক ব্যক্তি বলল, “আল্লাহ্ তাঁর রাসূল কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ তাদের তরবারি থেকে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে। ” আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, এ খবর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে পৌঁছলে তিনি আনসারদেরকে ডেকে পাঠালেন। তিনি একটি চামড়ার তাঁবুতে তাদের একত্রিত করলেন। তারা জড়ো হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বললেন, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে যে কথা পৌঁছেছে তাঁর মানে কি? আনসারদের মধ্যে থেকে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ তারা তো কিছুই বলেনি। তবে আমাদের মধ্যে যারা কম বয়সী তারা বলেছেন - আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ এখনো আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত টপকে পড়ছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আমি এমন লোকদের দিয়ে থাকি যারা সেদিনও কাফির ছিল যাতে তাদের মন সন্তুষ্ট (ও ইসলামের দিকে আকৃষ্ট) থাকে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা (গনীমাতের) মাল নিয়ে তাদের ঘরে চলে যাবে আর তোমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে নিয়ে ঘরে যাবে?” আল্লাহ্র শপথ! ওরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে তার চেয়ে উত্তম হচ্ছে তোমরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা যা নিচ্ছি তাই উত্তম এবং আমরা সন্তুষ্ট আছি। পুনরায় তিনি বললেন, ভবিষ্যতেও এভাবে তোমাদের উপর অন্যদের (দানের ব্যাপারে) প্রাধান্য দেয়া হবে। তখন তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে এবং হাওযে কাওসারের কাছে থাকবে। তারা বললেন, এখন থেকে আমরা ধৈর্য ধারণ করব। (ই.ফা. ২৩০৪, ই.সে. ২৩০৫)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
হুনায়নের দিনে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলকে বিনা যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্রের ধন-সম্পদ থেকে যা (গনীমাত হিসাবে) দান করেছিলেন এ থেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরাইশদের কয়েকজন লোককে একশ’ উট প্রদান করলেন। আনসারদের মধ্যে কয়েক ব্যক্তি বলল, “আল্লাহ্ তাঁর রাসূল কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ তাদের তরবারি থেকে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে। ” আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, এ খবর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে পৌঁছলে তিনি আনসারদেরকে ডেকে পাঠালেন। তিনি একটি চামড়ার তাঁবুতে তাদের একত্রিত করলেন। তারা জড়ো হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বললেন, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে যে কথা পৌঁছেছে তাঁর মানে কি? আনসারদের মধ্যে থেকে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ তারা তো কিছুই বলেনি। তবে আমাদের মধ্যে যারা কম বয়সী তারা বলেছেন - আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ এখনো আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত টপকে পড়ছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আমি এমন লোকদের দিয়ে থাকি যারা সেদিনও কাফির ছিল যাতে তাদের মন সন্তুষ্ট (ও ইসলামের দিকে আকৃষ্ট) থাকে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা (গনীমাতের) মাল নিয়ে তাদের ঘরে চলে যাবে আর তোমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে নিয়ে ঘরে যাবে?” আল্লাহ্র শপথ! ওরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে তার চেয়ে উত্তম হচ্ছে তোমরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা যা নিচ্ছি তাই উত্তম এবং আমরা সন্তুষ্ট আছি। পুনরায় তিনি বললেন, ভবিষ্যতেও এভাবে তোমাদের উপর অন্যদের (দানের ব্যাপারে) প্রাধান্য দেয়া হবে। তখন তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে এবং হাওযে কাওসারের কাছে থাকবে। তারা বললেন, এখন থেকে আমরা ধৈর্য ধারণ করব। (ই.ফা. ২৩০৪, ই.সে. ২৩০৫)
حدثني حرملة بن يحيى التجيبي، أخبرنا عبد الله بن وهب، أخبرني يونس، عن ابن شهاب، أخبرني أنس بن مالك، أن أناسا، من الأنصار قالوا يوم حنين حين أفاء الله على رسوله من أموال هوازن ما أفاء فطفق رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطي رجالا من قريش المائة من الإبل فقالوا يغفر الله لرسول الله يعطي قريشا ويتركنا وسيوفنا تقطر من دمائهم . قال أنس بن مالك فحدث ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم من قولهم فأرسل إلى الأنصار فجمعهم في قبة من أدم فلما اجتمعوا جاءهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " ما حديث بلغني عنكم " . فقال له فقهاء الأنصار أما ذوو رأينا يا رسول الله فلم يقولوا شيئا وأما أناس منا حديثة أسنانهم قالوا يغفر الله لرسوله يعطي قريشا ويتركنا وسيوفنا تقطر من دمائهم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فإني أعطي رجالا حديثي عهد بكفر أتألفهم أفلا ترضون أن يذهب الناس بالأموال وترجعون إلى رحالكم برسول الله فوالله لما تنقلبون به خير مما ينقلبون به " . فقالوا بلى يا رسول الله قد رضينا . قال " فإنكم ستجدون أثرة شديدة فاصبروا حتى تلقوا الله ورسوله فإني على الحوض " . قالوا سنصبر .
সহিহ মুসলিম ২৩৩২
حدثنا عبيد الله بن معاذ، وحامد بن عمر، ومحمد بن عبد الأعلى، قال ابن معاذ حدثنا المعتمر بن سليمان، عن أبيه، قال حدثني السميط، عن أنس بن مالك، قال افتتحنا مكة ثم إنا غزونا حنينا فجاء المشركون بأحسن صفوف رأيت - قال - فصفت الخيل ثم صفت المقاتلة ثم صفت النساء من وراء ذلك ثم صفت الغنم ثم صفت النعم - قال - ونحن بشر كثير قد بلغنا ستة آلاف وعلى مجنبة خيلنا خالد بن الوليد - قال - فجعلت خيلنا تلوي خلف ظهورنا فلم نلبث أن انكشفت خيلنا وفرت الأعراب ومن نعلم من الناس - قال - فنادى رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا للمهاجرين يا للمهاجرين " . ثم قال " يا للأنصار يا للأنصار " . قال قال أنس هذا حديث عمية . قال قلنا لبيك يا رسول الله - قال - فتقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم - قال - فايم الله ما أتيناهم حتى هزمهم الله - قال - فقبضنا ذلك المال ثم انطلقنا إلى الطائف فحاصرناهم أربعين ليلة ثم رجعنا إلى مكة فنزلنا - قال - فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطي الرجل المائة من الإبل . ثم ذكر باقي الحديث كنحو حديث قتادة وأبي التياح وهشام بن زيد .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা মাক্কাহ্ বিজয় করার পর হুনায়নের যুদ্ধ করলাম। আমি দেখেছি এ যুদ্ধে মুশরিকরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্তভাবে কাতারবন্দী হয়েছিল। এদের প্রথম সারিতে অশ্বারোহীগণ, তারপর পদাতিকগণ, এদের পিছনে স্ত্রী লোকেরা যথাক্রমে বকরী অন্যান্য গবাদি পশুগুলো সারিবদ্ধ হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সংখ্যায় অনেক লোক ছিলাম। আমাদের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার পৌঁছে ছিল। আমাদের একদিকে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) আমাদের অশ্বারোহী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে আমাদের ঘোড়া পিছু হটতে লাগলো। এমনকি আমরা টিকে থাকতে পারছিলাম না। বেদুঈনরা পালাতে শুরু করল। আমার জানা মতে আরো কিছু লোক পালিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম মুহাজিরদের ধমক দিয়ে ডাকলেন, হে মুহাজিরগণ! হে মুহাজিরগণ! অতঃপর আনসারদের ধমক দিয়ে বললেন, হে আনসারগণ! হে আনসারগণ! আনসার (রাঃ) বলেন, এ হাদীস আমার নিকট লোক বর্ণনা করেছেন অথবা তিনি বলেছেন, আমার চাচা বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে অগ্রসর হলেন। আনসার (রাঃ) আরো বলেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের পৌঁছার পূর্বেই আল্লাহ তা’আলা তাদের পরাজিত করবেন এবং আমরা তাদের সকল প্রকার মাল হস্তগত করলাম। তারপর আমরা ত্বায়িফে গেলাম। ত্বায়িফের অধিবাসীদের চল্লিশ দিন যাবৎ অবরোধ করে রাখলাম, অতঃপর আমরা মাক্কায় ফিরে আসলাম এবং অভিযান সমাপ্ত করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক ব্যক্তিকে একশ’টি করে উট দিলেন ও অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ ক্বাতাদাহ্, আবূ তাইয়্যাহ ও হিমাম ইবনু যায়দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ২৩১০, ই.সে. ২৩১১)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা মাক্কাহ্ বিজয় করার পর হুনায়নের যুদ্ধ করলাম। আমি দেখেছি এ যুদ্ধে মুশরিকরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্তভাবে কাতারবন্দী হয়েছিল। এদের প্রথম সারিতে অশ্বারোহীগণ, তারপর পদাতিকগণ, এদের পিছনে স্ত্রী লোকেরা যথাক্রমে বকরী অন্যান্য গবাদি পশুগুলো সারিবদ্ধ হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সংখ্যায় অনেক লোক ছিলাম। আমাদের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার পৌঁছে ছিল। আমাদের একদিকে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) আমাদের অশ্বারোহী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে আমাদের ঘোড়া পিছু হটতে লাগলো। এমনকি আমরা টিকে থাকতে পারছিলাম না। বেদুঈনরা পালাতে শুরু করল। আমার জানা মতে আরো কিছু লোক পালিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম মুহাজিরদের ধমক দিয়ে ডাকলেন, হে মুহাজিরগণ! হে মুহাজিরগণ! অতঃপর আনসারদের ধমক দিয়ে বললেন, হে আনসারগণ! হে আনসারগণ! আনসার (রাঃ) বলেন, এ হাদীস আমার নিকট লোক বর্ণনা করেছেন অথবা তিনি বলেছেন, আমার চাচা বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে অগ্রসর হলেন। আনসার (রাঃ) আরো বলেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের পৌঁছার পূর্বেই আল্লাহ তা’আলা তাদের পরাজিত করবেন এবং আমরা তাদের সকল প্রকার মাল হস্তগত করলাম। তারপর আমরা ত্বায়িফে গেলাম। ত্বায়িফের অধিবাসীদের চল্লিশ দিন যাবৎ অবরোধ করে রাখলাম, অতঃপর আমরা মাক্কায় ফিরে আসলাম এবং অভিযান সমাপ্ত করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক ব্যক্তিকে একশ’টি করে উট দিলেন ও অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ ক্বাতাদাহ্, আবূ তাইয়্যাহ ও হিমাম ইবনু যায়দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ২৩১০, ই.সে. ২৩১১)
حدثنا عبيد الله بن معاذ، وحامد بن عمر، ومحمد بن عبد الأعلى، قال ابن معاذ حدثنا المعتمر بن سليمان، عن أبيه، قال حدثني السميط، عن أنس بن مالك، قال افتتحنا مكة ثم إنا غزونا حنينا فجاء المشركون بأحسن صفوف رأيت - قال - فصفت الخيل ثم صفت المقاتلة ثم صفت النساء من وراء ذلك ثم صفت الغنم ثم صفت النعم - قال - ونحن بشر كثير قد بلغنا ستة آلاف وعلى مجنبة خيلنا خالد بن الوليد - قال - فجعلت خيلنا تلوي خلف ظهورنا فلم نلبث أن انكشفت خيلنا وفرت الأعراب ومن نعلم من الناس - قال - فنادى رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا للمهاجرين يا للمهاجرين " . ثم قال " يا للأنصار يا للأنصار " . قال قال أنس هذا حديث عمية . قال قلنا لبيك يا رسول الله - قال - فتقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم - قال - فايم الله ما أتيناهم حتى هزمهم الله - قال - فقبضنا ذلك المال ثم انطلقنا إلى الطائف فحاصرناهم أربعين ليلة ثم رجعنا إلى مكة فنزلنا - قال - فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطي الرجل المائة من الإبل . ثم ذكر باقي الحديث كنحو حديث قتادة وأبي التياح وهشام بن زيد .
সহিহ মুসলিম ২৩৩১
حدثنا محمد بن المثنى، وإبراهيم بن محمد بن عرعرة، - يزيد أحدهما على الآخر الحرف بعد الحرف - قالا حدثنا معاذ بن معاذ حدثنا ابن عون عن هشام بن زيد بن أنس عن أنس بن مالك قال لما كان يوم حنين أقبلت هوازن وغطفان وغيرهم بذراريهم ونعمهم ومع النبي صلى الله عليه وسلم يومئذ عشرة آلاف ومعه الطلقاء فأدبروا عنه حتى بقي وحده - قال - فنادى يومئذ نداءين لم يخلط بينهما شيئا - قال - فالتفت عن يمينه فقال " يا معشر الأنصار " . فقالوا لبيك يا رسول الله أبشر نحن معك - قال - ثم التفت عن يساره فقال " يا معشر الأنصار " . قالوا لبيك يا رسول الله أبشر نحن معك - قال - وهو على بغلة بيضاء فنزل فقال أنا عبد الله ورسوله . فانهزم المشركون وأصاب رسول الله صلى الله عليه وسلم غنائم كثيرة فقسم في المهاجرين والطلقاء ولم يعط الأنصار شيئا فقالت الأنصار إذا كانت الشدة فنحن ندعى وتعطى الغنائم غيرنا . فبلغه ذلك فجمعهم في قبة فقال " يا معشر الأنصار ما حديث بلغني عنكم " . فسكتوا فقال " يا معشر الأنصار أما ترضون أن يذهب الناس بالدنيا وتذهبون بمحمد تحوزونه إلى بيوتكم " . قالوا بلى يا رسول الله رضينا . قال فقال " لو سلك الناس واديا وسلكت الأنصار شعبا لأخذت شعب الأنصار " . قال هشام فقلت يا أبا حمزة أنت شاهد ذاك قال وأين أغيب عنه
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে হাওয়াযিন, গাত্বফান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা তাদের সন্তান-সন্ততি ও গবাদি পশু নিয়ে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দশ হাজারের এক বিরাট বাহিনী এবং মাক্কার তুলাক্বাদের নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। তুমুল যুদ্ধের মুখে এরা সবাই পিছে হটে গেল এবং (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একা যুদ্ধ ক্ষেত্রে রয়ে গেলেন। সেদিন তিনি দু’টি ডাক দিলেন কিন্তু এর মাঝখানে কোন কথা বলেননি। প্রথমে তিনি ডান দিকে ফিরে ডাক দিয়ে বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়”! তারা তাকে সাড়া দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি- আপনি এ সুসংবাদ গ্রহণ করুন। অতঃপর তিনি বাম দিকে ফিরে পুনরায় ডেকে বললেনঃ হে আনসার সম্প্রদায়! তারা ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদা বর্ণের একটি খচ্চরের পিঠে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি নীচে নেমে এসে বললেন, “আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল! মুশরিকরা পরাজিত হলো, গনীমাতের অনেক মাল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হস্তগত হলো। তিনি এসব মাল মুহাজির ও তুলাক্বাদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। তিনি আনসারদের এ থেকে কিছুই দিলেন না। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আনসারগণ বললেন, “বিপদের সময় আমাদের ডাকা হয়, আর গনীমাত বন্টনের সময় মজা লুটে অন্যরা। তাঁদের এ উক্তি তাঁর কানে গিয়ে পৌঁছল। তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুর নীচে একত্র করে বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের পক্ষ থেকে কী কথা আমার কাছে পৌঁছেছে? তাঁরা সবাই নীরব হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এতে খুশী নও যে, অন্যান্য লোক দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সঙ্গে নিয়ে ফিরবে? তারা (উত্তরে) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এতে খুশী আছি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “যদি অন্য লোকেরা এক গিরিপথের দিকে যায় আর আনসারগণ অন্য গিরিপথে চলে তাহলে আমি আনসারদের পথই আনুসরণ করব। বর্ণনাকারী হিশাম বলেন, “আমি আনসারকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হামযাহ্! আপনি কি তখন উপস্থিত ছিলেন! তিনি বললেন, আমি তাঁকে ছেড়ে কোথায় যাব?” (ই.ফা. ২৩০৯, ই.সে. ২৩১০)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে হাওয়াযিন, গাত্বফান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা তাদের সন্তান-সন্ততি ও গবাদি পশু নিয়ে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দশ হাজারের এক বিরাট বাহিনী এবং মাক্কার তুলাক্বাদের নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। তুমুল যুদ্ধের মুখে এরা সবাই পিছে হটে গেল এবং (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একা যুদ্ধ ক্ষেত্রে রয়ে গেলেন। সেদিন তিনি দু’টি ডাক দিলেন কিন্তু এর মাঝখানে কোন কথা বলেননি। প্রথমে তিনি ডান দিকে ফিরে ডাক দিয়ে বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়”! তারা তাকে সাড়া দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি- আপনি এ সুসংবাদ গ্রহণ করুন। অতঃপর তিনি বাম দিকে ফিরে পুনরায় ডেকে বললেনঃ হে আনসার সম্প্রদায়! তারা ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদা বর্ণের একটি খচ্চরের পিঠে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি নীচে নেমে এসে বললেন, “আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল! মুশরিকরা পরাজিত হলো, গনীমাতের অনেক মাল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হস্তগত হলো। তিনি এসব মাল মুহাজির ও তুলাক্বাদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। তিনি আনসারদের এ থেকে কিছুই দিলেন না। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আনসারগণ বললেন, “বিপদের সময় আমাদের ডাকা হয়, আর গনীমাত বন্টনের সময় মজা লুটে অন্যরা। তাঁদের এ উক্তি তাঁর কানে গিয়ে পৌঁছল। তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুর নীচে একত্র করে বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের পক্ষ থেকে কী কথা আমার কাছে পৌঁছেছে? তাঁরা সবাই নীরব হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এতে খুশী নও যে, অন্যান্য লোক দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সঙ্গে নিয়ে ফিরবে? তারা (উত্তরে) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এতে খুশী আছি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “যদি অন্য লোকেরা এক গিরিপথের দিকে যায় আর আনসারগণ অন্য গিরিপথে চলে তাহলে আমি আনসারদের পথই আনুসরণ করব। বর্ণনাকারী হিশাম বলেন, “আমি আনসারকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হামযাহ্! আপনি কি তখন উপস্থিত ছিলেন! তিনি বললেন, আমি তাঁকে ছেড়ে কোথায় যাব?” (ই.ফা. ২৩০৯, ই.সে. ২৩১০)
حدثنا محمد بن المثنى، وإبراهيم بن محمد بن عرعرة، - يزيد أحدهما على الآخر الحرف بعد الحرف - قالا حدثنا معاذ بن معاذ حدثنا ابن عون عن هشام بن زيد بن أنس عن أنس بن مالك قال لما كان يوم حنين أقبلت هوازن وغطفان وغيرهم بذراريهم ونعمهم ومع النبي صلى الله عليه وسلم يومئذ عشرة آلاف ومعه الطلقاء فأدبروا عنه حتى بقي وحده - قال - فنادى يومئذ نداءين لم يخلط بينهما شيئا - قال - فالتفت عن يمينه فقال " يا معشر الأنصار " . فقالوا لبيك يا رسول الله أبشر نحن معك - قال - ثم التفت عن يساره فقال " يا معشر الأنصار " . قالوا لبيك يا رسول الله أبشر نحن معك - قال - وهو على بغلة بيضاء فنزل فقال أنا عبد الله ورسوله . فانهزم المشركون وأصاب رسول الله صلى الله عليه وسلم غنائم كثيرة فقسم في المهاجرين والطلقاء ولم يعط الأنصار شيئا فقالت الأنصار إذا كانت الشدة فنحن ندعى وتعطى الغنائم غيرنا . فبلغه ذلك فجمعهم في قبة فقال " يا معشر الأنصار ما حديث بلغني عنكم " . فسكتوا فقال " يا معشر الأنصار أما ترضون أن يذهب الناس بالدنيا وتذهبون بمحمد تحوزونه إلى بيوتكم " . قالوا بلى يا رسول الله رضينا . قال فقال " لو سلك الناس واديا وسلكت الأنصار شعبا لأخذت شعب الأنصار " . قال هشام فقلت يا أبا حمزة أنت شاهد ذاك قال وأين أغيب عنه
সহিহ মুসলিম ২৩৩৬
حدثنا سريج بن يونس، حدثنا إسماعيل بن جعفر، عن عمرو بن يحيى بن عمارة، عن عباد بن تميم، عن عبد الله بن زيد، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما فتح حنينا قسم الغنائم فأعطى المؤلفة قلوبهم فبلغه أن الأنصار يحبون أن يصيبوا ما أصاب الناس فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فخطبهم فحمد الله وأثنى عليه ثم قال " يا معشر الأنصار ألم أجدكم ضلالا فهداكم الله بي وعالة فأغناكم الله بي ومتفرقين فجمعكم الله بي " . ويقولون الله ورسوله أمن . فقال " ألا تجيبوني " . فقالوا الله ورسوله أمن . فقال " أما إنكم لو شئتم أن تقولوا كذا وكذا وكان من الأمر كذا وكذا " . لأشياء عددها . زعم عمرو أن لا يحفظها فقال " ألا ترضون أن يذهب الناس بالشاء والإبل وتذهبون برسول الله إلى رحالكم الأنصار شعار والناس دثار ولولا الهجرة لكنت امرأ من الأنصار ولو سلك الناس واديا وشعبا لسلكت وادي الأنصار وشعبهم إنكم ستلقون بعدي أثرة فاصبروا حتى تلقوني على الحوض " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
হুনায়নের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনীমাতের মাল ‘মুয়াল্লাফাতুল কুলূব-দের মধ্যে বন্টন করলেন। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, অন্যান্য লোকেরা যেভাবে গনীমাতের মাল পেয়েছে আনসারগণও অনুরূপ পেতে চায়। তাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশ্যে খুতবাহ্ দান করলেন। খুতবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট, দারিদ্র্য ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাইনি?” তারপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, দারিদ্র্যের অভিশাপ হতে মুক্ত করে ধনী করেছেন। আর তাঁরা বলতেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূল অত্যন্ত আমানাতদার। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা আমার কথা জবাব দিচ্ছ না কেন? তখন তাঁরা বললেন, অত্যন্ত আমানাতদার। (অর্থাৎ তিনি যা করেছেন ঠিক করেছেন এবং এতে আমরা রাযী আছি)। অতঃপর তিনি বললেন, যদি তোমরা এভাবে এভাবে বলতে চাও আর বাস্তবে কাজ এরূপ ও এরূপ হয়। ‘আম্র (রাঃ) বলেন, এই বলে তিনি কতগুলো জিনিসের কথা উল্লেখ করলেন যা আমি মনে রাখতে পারিনি। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা ছাগল ও উট নিয়ে ঘরে ফিরে যাক আর তোমরা রসূলুল্লাহ (সা)-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? তিনি আরো বললেনঃ আনসারগণ হচ্ছে আচ্ছাদন (শরীরের সাথে লেগে থাকা আবরণ) আর অন্য লোকেরা আমাদের থেকে দূরের। যদি হিজরাত না হতো তাহলে আমি আনসারদের মাঠ ও গিরিপথেই যাব। আমার পরে তোমাদেরকে (দেয়ার ব্যাপারে) পিছনে ফেলে রাখা হবে। তখন তোমরা আমার সাথে হাওজের কাছে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে। (ই.ফা. ২৩১৪, ই.সে. ২৩১৫)
‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
হুনায়নের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনীমাতের মাল ‘মুয়াল্লাফাতুল কুলূব-দের মধ্যে বন্টন করলেন। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, অন্যান্য লোকেরা যেভাবে গনীমাতের মাল পেয়েছে আনসারগণও অনুরূপ পেতে চায়। তাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশ্যে খুতবাহ্ দান করলেন। খুতবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট, দারিদ্র্য ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাইনি?” তারপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, দারিদ্র্যের অভিশাপ হতে মুক্ত করে ধনী করেছেন। আর তাঁরা বলতেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূল অত্যন্ত আমানাতদার। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা আমার কথা জবাব দিচ্ছ না কেন? তখন তাঁরা বললেন, অত্যন্ত আমানাতদার। (অর্থাৎ তিনি যা করেছেন ঠিক করেছেন এবং এতে আমরা রাযী আছি)। অতঃপর তিনি বললেন, যদি তোমরা এভাবে এভাবে বলতে চাও আর বাস্তবে কাজ এরূপ ও এরূপ হয়। ‘আম্র (রাঃ) বলেন, এই বলে তিনি কতগুলো জিনিসের কথা উল্লেখ করলেন যা আমি মনে রাখতে পারিনি। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা ছাগল ও উট নিয়ে ঘরে ফিরে যাক আর তোমরা রসূলুল্লাহ (সা)-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? তিনি আরো বললেনঃ আনসারগণ হচ্ছে আচ্ছাদন (শরীরের সাথে লেগে থাকা আবরণ) আর অন্য লোকেরা আমাদের থেকে দূরের। যদি হিজরাত না হতো তাহলে আমি আনসারদের মাঠ ও গিরিপথেই যাব। আমার পরে তোমাদেরকে (দেয়ার ব্যাপারে) পিছনে ফেলে রাখা হবে। তখন তোমরা আমার সাথে হাওজের কাছে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে। (ই.ফা. ২৩১৪, ই.সে. ২৩১৫)
حدثنا سريج بن يونس، حدثنا إسماعيل بن جعفر، عن عمرو بن يحيى بن عمارة، عن عباد بن تميم، عن عبد الله بن زيد، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما فتح حنينا قسم الغنائم فأعطى المؤلفة قلوبهم فبلغه أن الأنصار يحبون أن يصيبوا ما أصاب الناس فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فخطبهم فحمد الله وأثنى عليه ثم قال " يا معشر الأنصار ألم أجدكم ضلالا فهداكم الله بي وعالة فأغناكم الله بي ومتفرقين فجمعكم الله بي " . ويقولون الله ورسوله أمن . فقال " ألا تجيبوني " . فقالوا الله ورسوله أمن . فقال " أما إنكم لو شئتم أن تقولوا كذا وكذا وكان من الأمر كذا وكذا " . لأشياء عددها . زعم عمرو أن لا يحفظها فقال " ألا ترضون أن يذهب الناس بالشاء والإبل وتذهبون برسول الله إلى رحالكم الأنصار شعار والناس دثار ولولا الهجرة لكنت امرأ من الأنصار ولو سلك الناس واديا وشعبا لسلكت وادي الأنصار وشعبهم إنكم ستلقون بعدي أثرة فاصبروا حتى تلقوني على الحوض " .
সহিহ মুসলিম ২৩৩৭
حدثنا زهير بن حرب، وعثمان بن أبي شيبة، وإسحاق بن إبراهيم، قال إسحاق أخبرنا وقال الآخران، حدثنا جرير، عن منصور، عن أبي وائل، عن عبد الله، قال لما كان يوم حنين آثر رسول الله صلى الله عليه وسلم ناسا في القسمة فأعطى الأقرع بن حابس مائة من الإبل وأعطى عيينة مثل ذلك وأعطى أناسا من أشراف العرب وآثرهم يومئذ في القسمة فقال رجل والله إن هذه لقسمة ما عدل فيها وما أريد فيها وجه الله . قال فقلت والله لأخبرن رسول الله صلى الله عليه وسلم - قال - فأتيته فأخبرته بما قال - قال - فتغير وجهه حتى كان كالصرف ثم قال " فمن يعدل إن لم يعدل الله ورسوله " . قال ثم قال " يرحم الله موسى قد أوذي بأكثر من هذا فصبر " . قال قلت لا جرم لا أرفع إليه بعدها حديثا .
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন হুনায়ুনের যুদ্ধ সংঘটিত হলো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনীমাতের মাল দেয়ার ব্যাপারে কতক লোককে প্রাধান্য দিলেন অর্থাৎ কতক লোককে বেশী দিলেন। সুতরাং তিনি আক্বরা’ ইবনু হাবিসকে একশ’ উট দিলেন, ‘উয়াইনাকেও অনুরূপ সংখ্যক উট দান করলেন এবং আরবের নেতৃস্থানীয় কিছু লোককেও অগ্রাধিকার দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! এ বন্টন ইনসাফ ভিত্তিক হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি এ কথা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছাব। রাবী বলেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে লোকটির উক্তি তাঁকে শুনালাম। ফলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখমন্ডল রক্তিম বর্ণ ধারন করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই যদি সুবিচার না করেন তাহলে কে আর ইনসাফ করবে? তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা মূসা (আঃ)-কে রহমাত করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে আর কখনও এ ধরনের কোন ব্যাপার তাঁকে জানাব না। (কেননা এতে তাঁর কষ্ট হয়)। (ই.ফা. ২৩১৫, ই.সে. ২৩১৬)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন হুনায়ুনের যুদ্ধ সংঘটিত হলো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনীমাতের মাল দেয়ার ব্যাপারে কতক লোককে প্রাধান্য দিলেন অর্থাৎ কতক লোককে বেশী দিলেন। সুতরাং তিনি আক্বরা’ ইবনু হাবিসকে একশ’ উট দিলেন, ‘উয়াইনাকেও অনুরূপ সংখ্যক উট দান করলেন এবং আরবের নেতৃস্থানীয় কিছু লোককেও অগ্রাধিকার দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! এ বন্টন ইনসাফ ভিত্তিক হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি এ কথা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছাব। রাবী বলেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে লোকটির উক্তি তাঁকে শুনালাম। ফলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখমন্ডল রক্তিম বর্ণ ধারন করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই যদি সুবিচার না করেন তাহলে কে আর ইনসাফ করবে? তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা মূসা (আঃ)-কে রহমাত করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে আর কখনও এ ধরনের কোন ব্যাপার তাঁকে জানাব না। (কেননা এতে তাঁর কষ্ট হয়)। (ই.ফা. ২৩১৫, ই.সে. ২৩১৬)
حدثنا زهير بن حرب، وعثمان بن أبي شيبة، وإسحاق بن إبراهيم، قال إسحاق أخبرنا وقال الآخران، حدثنا جرير، عن منصور، عن أبي وائل، عن عبد الله، قال لما كان يوم حنين آثر رسول الله صلى الله عليه وسلم ناسا في القسمة فأعطى الأقرع بن حابس مائة من الإبل وأعطى عيينة مثل ذلك وأعطى أناسا من أشراف العرب وآثرهم يومئذ في القسمة فقال رجل والله إن هذه لقسمة ما عدل فيها وما أريد فيها وجه الله . قال فقلت والله لأخبرن رسول الله صلى الله عليه وسلم - قال - فأتيته فأخبرته بما قال - قال - فتغير وجهه حتى كان كالصرف ثم قال " فمن يعدل إن لم يعدل الله ورسوله " . قال ثم قال " يرحم الله موسى قد أوذي بأكثر من هذا فصبر " . قال قلت لا جرم لا أرفع إليه بعدها حديثا .
সহিহ মুসলিম ২৩৩৮
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا حفص بن غياث، عن الأعمش، عن شقيق، عن عبد الله، قال قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم قسما فقال رجل إنها لقسمة ما أريد بها وجه الله - قال - فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فساررته فغضب من ذلك غضبا شديدا واحمر وجهه حتى تمنيت أني لم أذكره له - قال - ثم قال " قد أوذي موسى بأكثر من هذا فصبر " .
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনীমাতের কিছু মাল বন্টন করলেন। এক ব্যক্তি বলল, এ বন্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে এ কথা তাঁকে চুপে চুপে অবহিত করলাম, এতে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিলাম এ ধরনের কথা তাঁকে আর কখনও বলব না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ মূসা (আঃ)-কে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। (ই.ফা. ২৩১৬, ই.সে. ২৩১৭)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনীমাতের কিছু মাল বন্টন করলেন। এক ব্যক্তি বলল, এ বন্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে এ কথা তাঁকে চুপে চুপে অবহিত করলাম, এতে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিলাম এ ধরনের কথা তাঁকে আর কখনও বলব না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ মূসা (আঃ)-কে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। (ই.ফা. ২৩১৬, ই.সে. ২৩১৭)
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا حفص بن غياث، عن الأعمش، عن شقيق، عن عبد الله، قال قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم قسما فقال رجل إنها لقسمة ما أريد بها وجه الله - قال - فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فساررته فغضب من ذلك غضبا شديدا واحمر وجهه حتى تمنيت أني لم أذكره له - قال - ثم قال " قد أوذي موسى بأكثر من هذا فصبر " .
সহিহ মুসলিম ২৩২৮
وحدثني زهير بن حرب، حدثنا يعقوب بن إبراهيم، حدثنا ابن أخي ابن شهاب، عن عمه، قال أخبرني أنس بن مالك، . وساق الحديث بمثله . إلا أنه قال قال أنس قالوا نصبر . كرواية يونس عن الزهري .
আনাস ইবনু মালিক (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে আনাস (রাঃ) বলেছেন যে, তারা বললেন, “আমরা ধৈর্য ধারণ করব।” যেমন যুহরী ইউনুসের রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে। (ই.ফা. ২৩০৬, ই.সে. ২৩০৭)
আনাস ইবনু মালিক (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে আনাস (রাঃ) বলেছেন যে, তারা বললেন, “আমরা ধৈর্য ধারণ করব।” যেমন যুহরী ইউনুসের রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে। (ই.ফা. ২৩০৬, ই.সে. ২৩০৭)
وحدثني زهير بن حرب، حدثنا يعقوب بن إبراهيم، حدثنا ابن أخي ابن شهاب، عن عمه، قال أخبرني أنس بن مالك، . وساق الحديث بمثله . إلا أنه قال قال أنس قالوا نصبر . كرواية يونس عن الزهري .
সহিহ মুসলিম ২৩৩৪
وحدثنا أحمد بن عبدة الضبي، أخبرنا ابن عيينة، عن عمر بن سعيد بن مسروق، بهذا الإسناد أن النبي صلى الله عليه وسلم قسم غنائم حنين فأعطى أبا سفيان بن حرب مائة من الإبل . وساق الحديث بنحوه وزاد وأعطى علقمة بن علاثة مائة .
‘উমার ইবনু সা’ঈদ ইবনু মাসরূক্ব (রহঃ) থেকে এ সানাদ থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুনায়ন যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমাতের মাল বন্টন করলেন এবং আবূ সুফ্ইয়ানকে একশ’ উট দিলেন। ..... অবশিষ্ট অংশ উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে- তিনি ‘আলক্বামাহ্ ইবনু ‘উলাসাকেও একশ’ উট দিলেন। (ই.ফা. ২৩১২, ই.সে. ২৩১৩)
‘উমার ইবনু সা’ঈদ ইবনু মাসরূক্ব (রহঃ) থেকে এ সানাদ থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুনায়ন যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমাতের মাল বন্টন করলেন এবং আবূ সুফ্ইয়ানকে একশ’ উট দিলেন। ..... অবশিষ্ট অংশ উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে- তিনি ‘আলক্বামাহ্ ইবনু ‘উলাসাকেও একশ’ উট দিলেন। (ই.ফা. ২৩১২, ই.সে. ২৩১৩)
وحدثنا أحمد بن عبدة الضبي، أخبرنا ابن عيينة، عن عمر بن سعيد بن مسروق، بهذا الإسناد أن النبي صلى الله عليه وسلم قسم غنائم حنين فأعطى أبا سفيان بن حرب مائة من الإبل . وساق الحديث بنحوه وزاد وأعطى علقمة بن علاثة مائة .
সহিহ মুসলিম ২৩২৭
حدثنا حسن الحلواني، وعبد بن حميد، قالا حدثنا يعقوب، - وهو ابن إبراهيم بن سعد - حدثنا أبي، عن صالح، عن ابن شهاب، حدثني أنس بن مالك، أنه قال لما أفاء الله على رسوله ما أفاء من أموال هوازن . واقتص الحديث بمثله غير أنه قال قال أنس فلم نصبر . وقال فأما أناس حديثة أسنانهم .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ
হাওয়াযিন গোত্র থেকে বিনা যুদ্ধে সম্পদ লাভ ও বণ্টন সম্পর্কিত উপরের হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে আরও আছেঃ আনাস (রাঃ) বলেছেন, আমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারিনি এবং ‘আমাদের কিছু লোক’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা. ২৩০৫, ই.সে. ২৩০৬)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ
হাওয়াযিন গোত্র থেকে বিনা যুদ্ধে সম্পদ লাভ ও বণ্টন সম্পর্কিত উপরের হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে আরও আছেঃ আনাস (রাঃ) বলেছেন, আমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারিনি এবং ‘আমাদের কিছু লোক’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা. ২৩০৫, ই.সে. ২৩০৬)
حدثنا حسن الحلواني، وعبد بن حميد، قالا حدثنا يعقوب، - وهو ابن إبراهيم بن سعد - حدثنا أبي، عن صالح، عن ابن شهاب، حدثني أنس بن مالك، أنه قال لما أفاء الله على رسوله ما أفاء من أموال هوازن . واقتص الحديث بمثله غير أنه قال قال أنس فلم نصبر . وقال فأما أناس حديثة أسنانهم .
সহিহ মুসলিম ২৩৩৫
وحدثنا مخلد بن خالد الشعيري، حدثنا سفيان، حدثني عمر بن سعيد، بهذا الإسناد ولم يذكر في الحديث علقمة بن علاثة ولا صفوان بن أمية ولم يذكر الشعر في حديثه.
‘উমার ইবনু সা’ঈদ থেকে এ সানাদ থেকে বর্নিতঃ
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে ‘আলক্বামাহ্ ইবনু ‘উসালাহ্ এবং সফ্ওয়ান ইবনু উমাইয়্যার নাম উল্লেখ নেই। তাছাড়া হাদীসে কবিতারও উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ২৩১৩, ই.সে. ২৩১৪)
‘উমার ইবনু সা’ঈদ থেকে এ সানাদ থেকে বর্নিতঃ
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে ‘আলক্বামাহ্ ইবনু ‘উসালাহ্ এবং সফ্ওয়ান ইবনু উমাইয়্যার নাম উল্লেখ নেই। তাছাড়া হাদীসে কবিতারও উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ২৩১৩, ই.সে. ২৩১৪)
وحدثنا مخلد بن خالد الشعيري، حدثنا سفيان، حدثني عمر بن سعيد، بهذا الإسناد ولم يذكر في الحديث علقمة بن علاثة ولا صفوان بن أمية ولم يذكر الشعر في حديثه.