সহিহ মুসলিম > সূর্যগ্রহণের সলাতে প্রতি রাক‘আতে তিনটি রুকূ’র বর্ণনা
সহিহ মুসলিম ১৯৮১
وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا محمد بن بكر، أخبرنا ابن جريج، قال سمعت عطاء، يقول سمعت عبيد بن عمير، يقول حدثني من، أصدق - حسبته يريد عائشة - أن الشمس انكسفت على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام قياما شديدا يقوم قائما ثم يركع ثم يقوم ثم يركع ثم يقوم ثم يركع ركعتين في ثلاث ركعات وأربع سجدات فانصرف وقد تجلت الشمس وكان إذا ركع قال " الله أكبر " . ثم يركع وإذا رفع رأسه قال " سمع الله لمن حمده " . فقام فحمد الله وأثنى عليه ثم قال " إن الشمس والقمر لا يكسفان لموت أحد ولا لحياته ولكنهما من آيات الله يخوف الله بهما عباده فإذا رأيتم كسوفا فاذكروا الله حتى ينجليا " .
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় সূর্যগহণ লাগলে তিনি সলাতের উদ্দেশে দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ ক্বিয়াম করলেন। অতঃপর রুকু’ করেন। রুকূ’র পর আবার দাঁড়ালেন আবার রুকূ’ করলেন। আবার দাঁড়ালেন, আবার রুকূ’ করলেন। এভাবে দু’ রাক‘আতে তিন রূকূ’ ও চার সাজদায় আদায় করলেন। সলাত শেষ হতে হতে সূর্যও পরিষ্কার হয়ে গেল। তিনি রুকূ’তে যাওয়ার সময় “আল্ল-হু আকবার” বলতেন, অতঃপর রুকূ’ করতেন। রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে “সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেনঃচন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগে না বরং এ দু’টি আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখ, আল্লাহর যিক্রে মশ্গুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত হয়ে না যায়। (ই.ফা. ১৯৬৫, ই.সে. ১৯৭২)
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় সূর্যগহণ লাগলে তিনি সলাতের উদ্দেশে দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ ক্বিয়াম করলেন। অতঃপর রুকু’ করেন। রুকূ’র পর আবার দাঁড়ালেন আবার রুকূ’ করলেন। আবার দাঁড়ালেন, আবার রুকূ’ করলেন। এভাবে দু’ রাক‘আতে তিন রূকূ’ ও চার সাজদায় আদায় করলেন। সলাত শেষ হতে হতে সূর্যও পরিষ্কার হয়ে গেল। তিনি রুকূ’তে যাওয়ার সময় “আল্ল-হু আকবার” বলতেন, অতঃপর রুকূ’ করতেন। রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে “সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেনঃচন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগে না বরং এ দু’টি আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখ, আল্লাহর যিক্রে মশ্গুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত হয়ে না যায়। (ই.ফা. ১৯৬৫, ই.সে. ১৯৭২)
وحدثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا محمد بن بكر، أخبرنا ابن جريج، قال سمعت عطاء، يقول سمعت عبيد بن عمير، يقول حدثني من، أصدق - حسبته يريد عائشة - أن الشمس انكسفت على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام قياما شديدا يقوم قائما ثم يركع ثم يقوم ثم يركع ثم يقوم ثم يركع ركعتين في ثلاث ركعات وأربع سجدات فانصرف وقد تجلت الشمس وكان إذا ركع قال " الله أكبر " . ثم يركع وإذا رفع رأسه قال " سمع الله لمن حمده " . فقام فحمد الله وأثنى عليه ثم قال " إن الشمس والقمر لا يكسفان لموت أحد ولا لحياته ولكنهما من آيات الله يخوف الله بهما عباده فإذا رأيتم كسوفا فاذكروا الله حتى ينجليا " .
সহিহ মুসলিম ১৯৮২
وحدثني أبو غسان المسمعي ، ومحمد بن المثنى ، قالا : حدثنا معاذ وهو ابن هشام ، حدثني أبي ، عن قتادة ، عن عطاء بن أبي رباح عن عبيد بن عمير ، عن عائشة ، أن نبي الله صلى الله عليه وسلم " صلى ست ركعات وأربع سجدات " .
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সূর্য গ্রহণের সময়) ছয় রুকূ’ ও চার সাজদাহ্ সহকারে দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করেছেন। (ই.ফা. ১৯৬৬, ই.সে. ১৯৭৩)
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সূর্য গ্রহণের সময়) ছয় রুকূ’ ও চার সাজদাহ্ সহকারে দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করেছেন। (ই.ফা. ১৯৬৬, ই.সে. ১৯৭৩)
وحدثني أبو غسان المسمعي ، ومحمد بن المثنى ، قالا : حدثنا معاذ وهو ابن هشام ، حدثني أبي ، عن قتادة ، عن عطاء بن أبي رباح عن عبيد بن عمير ، عن عائشة ، أن نبي الله صلى الله عليه وسلم " صلى ست ركعات وأربع سجدات " .
সহিহ মুসলিম > সূর্যগ্রহণের সলাতে ক্ববরের শাস্তির উল্লেখ
সহিহ মুসলিম ১৯৮৩
وحدثنا عبد الله بن مسلمة القعنبي، حدثنا سليمان، - يعني ابن بلال - عن يحيى، عن عمرة، أن يهودية، أتت عائشة تسألها فقالت أعاذك الله من عذاب القبر . قالت عائشة فقلت يا رسول الله يعذب الناس في القبور قالت عمرة فقالت عائشة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عائذا بالله ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات غداة مركبا فخسفت الشمس . قالت عائشة فخرجت في نسوة بين ظهرى الحجر في المسجد فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم من مركبه حتى انتهى إلى مصلاه الذي كان يصلي فيه فقام وقام الناس وراءه - قالت عائشة - فقام قياما طويلا ثم ركع فركع ركوعا طويلا ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع فركع ركوعا طويلا وهو دون ذلك الركوع ثم رفع وقد تجلت الشمس فقال " إني قد رأيتكم تفتنون في القبور كفتنة الدجال " . قالت عمرة فسمعت عائشة تقول فكنت أسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك يتعوذ من عذاب النار وعذاب القبر .
আম্রাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক ইয়াহূদী মহিলা ‘আয়িশা (রাঃ)-কে কিছু জিজ্ঞেস করার উদ্দেশে তাঁর নিকট আসলো। এসে বলল, আল্লাহ আপনাকে ক্ববর ‘আযাব থেকে মুক্তি দিন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! মানুষকে ক্ববরে কি ‘আযাব দেয়া হবে? ‘আমরাহ-এর বর্ণনা অনুযায়ী ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, ‘নাউযুবিল্লাহ’। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন সকালবেলা সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, তখন সূর্যগ্রহণ লাগছিল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি কতিপয় মেয়ে লোকদের সাথে নিয়ে হুজরাগুলোর পিছন দিয়ে বের হলাম। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারী থেকে নেমে যেখানে সলাত আদায় করতেন সোজা সেখানে পৌঁছলে তিনি সলাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। লোকেরাও সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লম্বা ক্বিয়াম করলেন। অতঃপর রুকূ’ করলেন এবং রুকূ’ও লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে আবার বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন যা পূর্বের ক্বিয়াম অপেক্ষা কিচু কম। অতঃপর রুকূ’তে গেলেন তবে তা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা কম ছিল। তারপর মাথা উত্তোলন করলেন। এতক্ষণে সূর্য একেবারে উজ্জ্বল হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি দেখতে পেলাম তোমরা ক্ববরেও দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। ‘আম্রাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, এরপর থেকে আমি শুনতে পেতাম যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাহান্নামের ‘আযাব থেকে ও ক্ববর ‘আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। (ই.ফা. ১৯৬৭, ই.সে. ১৯৭৪)
আম্রাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক ইয়াহূদী মহিলা ‘আয়িশা (রাঃ)-কে কিছু জিজ্ঞেস করার উদ্দেশে তাঁর নিকট আসলো। এসে বলল, আল্লাহ আপনাকে ক্ববর ‘আযাব থেকে মুক্তি দিন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! মানুষকে ক্ববরে কি ‘আযাব দেয়া হবে? ‘আমরাহ-এর বর্ণনা অনুযায়ী ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, ‘নাউযুবিল্লাহ’। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন সকালবেলা সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, তখন সূর্যগ্রহণ লাগছিল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি কতিপয় মেয়ে লোকদের সাথে নিয়ে হুজরাগুলোর পিছন দিয়ে বের হলাম। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারী থেকে নেমে যেখানে সলাত আদায় করতেন সোজা সেখানে পৌঁছলে তিনি সলাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। লোকেরাও সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লম্বা ক্বিয়াম করলেন। অতঃপর রুকূ’ করলেন এবং রুকূ’ও লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে আবার বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন যা পূর্বের ক্বিয়াম অপেক্ষা কিচু কম। অতঃপর রুকূ’তে গেলেন তবে তা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা কম ছিল। তারপর মাথা উত্তোলন করলেন। এতক্ষণে সূর্য একেবারে উজ্জ্বল হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি দেখতে পেলাম তোমরা ক্ববরেও দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। ‘আম্রাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, এরপর থেকে আমি শুনতে পেতাম যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাহান্নামের ‘আযাব থেকে ও ক্ববর ‘আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। (ই.ফা. ১৯৬৭, ই.সে. ১৯৭৪)
وحدثنا عبد الله بن مسلمة القعنبي، حدثنا سليمان، - يعني ابن بلال - عن يحيى، عن عمرة، أن يهودية، أتت عائشة تسألها فقالت أعاذك الله من عذاب القبر . قالت عائشة فقلت يا رسول الله يعذب الناس في القبور قالت عمرة فقالت عائشة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عائذا بالله ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات غداة مركبا فخسفت الشمس . قالت عائشة فخرجت في نسوة بين ظهرى الحجر في المسجد فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم من مركبه حتى انتهى إلى مصلاه الذي كان يصلي فيه فقام وقام الناس وراءه - قالت عائشة - فقام قياما طويلا ثم ركع فركع ركوعا طويلا ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع فركع ركوعا طويلا وهو دون ذلك الركوع ثم رفع وقد تجلت الشمس فقال " إني قد رأيتكم تفتنون في القبور كفتنة الدجال " . قالت عمرة فسمعت عائشة تقول فكنت أسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك يتعوذ من عذاب النار وعذاب القبر .
সহিহ মুসলিম ১৯৮৪
وحدثناه محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب، ح وحدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، جميعا عن يحيى بن سعيد، في هذا الإسناد بمثل معنى حديث سليمان بن بلال.
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
সুলায়মান ইবনু বিলাল-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ১৯৬৮, ই.সে. ১৯৭৫)
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
সুলায়মান ইবনু বিলাল-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ১৯৬৮, ই.সে. ১৯৭৫)
وحدثناه محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب، ح وحدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، جميعا عن يحيى بن سعيد، في هذا الإسناد بمثل معنى حديث سليمان بن بلال.
সহিহ মুসলিম > সুর্যগ্রহণের সলাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে
সহিহ মুসলিম ১৯৮৯
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وأبو كريب قالا حدثنا أبو أسامة، عن هشام، عن فاطمة، عن أسماء، قالت أتيت عائشة فإذا الناس قيام وإذا هي تصلي فقلت ما شأن الناس واقتص الحديث بنحو حديث ابن نمير عن هشام
আসমা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট এসে দেখলাম, লোকেরা সলাতে দাঁড়ানো এবং ‘আয়িশা (রাঃ)-ও সলাত আদায় করছেন। আমি বললাম, লোকদের কি অবস্থা? হাদীসটি হিশাম-এর সূত্রে বর্ণিত। ইবনু নুমায়র–এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ১৯৭৩, ই.সে. ১৯৮০)
আসমা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট এসে দেখলাম, লোকেরা সলাতে দাঁড়ানো এবং ‘আয়িশা (রাঃ)-ও সলাত আদায় করছেন। আমি বললাম, লোকদের কি অবস্থা? হাদীসটি হিশাম-এর সূত্রে বর্ণিত। ইবনু নুমায়র–এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ১৯৭৩, ই.সে. ১৯৮০)
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، وأبو كريب قالا حدثنا أبو أسامة، عن هشام، عن فاطمة، عن أسماء، قالت أتيت عائشة فإذا الناس قيام وإذا هي تصلي فقلت ما شأن الناس واقتص الحديث بنحو حديث ابن نمير عن هشام
সহিহ মুসলিম ১৯৯১
حدثنا يحيى بن حبيب الحارثي، حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا ابن جريج، حدثني منصور بن عبد الرحمن، عن أمه، صفية بنت شيبة عن أسماء بنت أبي بكر، أنها قالت فزع النبي صلى الله عليه وسلم يوما - قالت تعني يوم كسفت الشمس - فأخذ درعا حتى أدرك بردائه فقام للناس قياما طويلا لو أن إنسانا أتى لم يشعر أن النبي صلى الله عليه وسلم ركع ما حدث أنه ركع من طول القيام .
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন অর্থাৎ- যেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল, এরূপ আতঙ্কগ্রস্ত হলেন যে, চাদর নিতে গিয়ে ভুলে (মহিলাদের) বড় চাদর উঠিয়ে নিলেন। পরে তাঁর চাদরই তাঁকে পৌছে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি লোকদের নিয়ে সলাত শুরু করে দিলেন এবং বেশ লম্বা ক্বিয়াম করলেন। যদি কোন লোক তাঁর কাছে আসত বুঝতে পারত না যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ’ করেছেন (রুকূ’র পর) দীর্ঘ ক্বিয়ামের কারণে। যে পর্যন্ত কেউ প্রকাশ না করে দিত যে, তিনি রুকূ’ করেছেন। (ই.ফা. ১৯৭৫, ই.সে. ১৯৮২)
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন অর্থাৎ- যেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল, এরূপ আতঙ্কগ্রস্ত হলেন যে, চাদর নিতে গিয়ে ভুলে (মহিলাদের) বড় চাদর উঠিয়ে নিলেন। পরে তাঁর চাদরই তাঁকে পৌছে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি লোকদের নিয়ে সলাত শুরু করে দিলেন এবং বেশ লম্বা ক্বিয়াম করলেন। যদি কোন লোক তাঁর কাছে আসত বুঝতে পারত না যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ’ করেছেন (রুকূ’র পর) দীর্ঘ ক্বিয়ামের কারণে। যে পর্যন্ত কেউ প্রকাশ না করে দিত যে, তিনি রুকূ’ করেছেন। (ই.ফা. ১৯৭৫, ই.সে. ১৯৮২)
حدثنا يحيى بن حبيب الحارثي، حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا ابن جريج، حدثني منصور بن عبد الرحمن، عن أمه، صفية بنت شيبة عن أسماء بنت أبي بكر، أنها قالت فزع النبي صلى الله عليه وسلم يوما - قالت تعني يوم كسفت الشمس - فأخذ درعا حتى أدرك بردائه فقام للناس قياما طويلا لو أن إنسانا أتى لم يشعر أن النبي صلى الله عليه وسلم ركع ما حدث أنه ركع من طول القيام .
সহিহ মুসলিম ১৯৮৫
وحدثني يعقوب بن إبراهيم الدورقي، حدثنا إسماعيل ابن علية، عن هشام الدستوائي، قال حدثنا أبو الزبير، عن جابر بن عبد الله، قال كسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في يوم شديد الحر فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بأصحابه فأطال القيام حتى جعلوا يخرون ثم ركع فأطال ثم رفع فأطال ثم ركع فأطال ثم رفع فأطال ثم سجد سجدتين ثم قام فصنع نحوا من ذاك فكانت أربع ركعات وأربع سجدات ثم قال " إنه عرض على كل شىء تولجونه فعرضت على الجنة حتى لو تناولت منها قطفا أخذته - أو قال تناولت منها قطفا - فقصرت يدي عنه وعرضت على النار فرأيت فيها امرأة من بني إسرائيل تعذب في هرة لها ربطتها فلم تطعمها ولم تدعها تأكل من خشاش الأرض ورأيت أبا ثمامة عمرو بن مالك يجر قصبه في النار . وإنهم كانوا يقولون إن الشمس والقمر لا يخسفان إلا لموت عظيم وإنهما آيتان من آيات الله يريكموهما فإذا خسفا فصلوا حتى تنجلي "
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যামানায় ভীষণ গরমের দিনে একবার সূর্যগ্রহণ লাগল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণকে নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাতে ক্বিয়াম এত দীর্ঘায়িত করলেন যে, লোকরা পড়ে যেতে লাগল। অতঃপর রুকূ’ করলেন এবং তাও খুব লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূ’তে গেলেন এবং লম্বা রুকূ’ করলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর দু’টি সাজদাহ্ করলেন। এরপর দাঁড়িয়ে পূর্বের ন্যায় ক্বিয়াম এ রুকূ’ করলেন। এতে চারটি রুকূ’ ও চারটি সাজদাহ্ ছিল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা সেসব স্থানে প্রবেশ করবে যে সব স্থান আমাকে দেখানো হয়েছে। আমার সামনে জান্নাত পেশ করা হয়েছিল। আমি সেখান থেকে একটি আঙ্গুর ধরতে চেয়েছিলাম। অথবা তিনি বলেছেন, একটি শাখা ধরতে চাইলে আমার হাত সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি এবং আমার সম্মুখে জাহান্নামও পেশ করা হয়েছিল। সেখানে বানী ইসরাঈলের একটি মহিলাকে দেখতে পেলাম। তাকে একটা বিড়ালের কারণে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল, খানাপানি কিছু দেয়নি। আর ছেড়েও দেয়নি যে তা জমিনের পোকামাড় খেয়ে জীবন ধারণ করত (এভাবে অনাহারে বিড়ালটি মারা গেল)। এছাড়াও জাহান্নামে আবূ সুমামাহ্ ‘আম্র ইবনু মালিককেও দেখলাম, সে তার নাড়িভুঁড়ি টানাটানি করছে। আরবরা বলত যে, চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কোন মহান ব্যক্তির মৃত্যুর কারণেই সংঘটিত হয়ে থাকে। অথচ এ দু’টি আল্লাহ্র দু’টি নিদর্শন যা আল্লাহ তোমাদেরকে দেখান। অতএব যখন চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ লাগে, তোমরা সলাত আদায় কর যে পর্যন্ত তা পরিষ্কার না হয়ে যায়।(ই.ফা. ১৯৬৯, ই.সে. ১৯৭৬)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যামানায় ভীষণ গরমের দিনে একবার সূর্যগ্রহণ লাগল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণকে নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাতে ক্বিয়াম এত দীর্ঘায়িত করলেন যে, লোকরা পড়ে যেতে লাগল। অতঃপর রুকূ’ করলেন এবং তাও খুব লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূ’তে গেলেন এবং লম্বা রুকূ’ করলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর দু’টি সাজদাহ্ করলেন। এরপর দাঁড়িয়ে পূর্বের ন্যায় ক্বিয়াম এ রুকূ’ করলেন। এতে চারটি রুকূ’ ও চারটি সাজদাহ্ ছিল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা সেসব স্থানে প্রবেশ করবে যে সব স্থান আমাকে দেখানো হয়েছে। আমার সামনে জান্নাত পেশ করা হয়েছিল। আমি সেখান থেকে একটি আঙ্গুর ধরতে চেয়েছিলাম। অথবা তিনি বলেছেন, একটি শাখা ধরতে চাইলে আমার হাত সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি এবং আমার সম্মুখে জাহান্নামও পেশ করা হয়েছিল। সেখানে বানী ইসরাঈলের একটি মহিলাকে দেখতে পেলাম। তাকে একটা বিড়ালের কারণে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল, খানাপানি কিছু দেয়নি। আর ছেড়েও দেয়নি যে তা জমিনের পোকামাড় খেয়ে জীবন ধারণ করত (এভাবে অনাহারে বিড়ালটি মারা গেল)। এছাড়াও জাহান্নামে আবূ সুমামাহ্ ‘আম্র ইবনু মালিককেও দেখলাম, সে তার নাড়িভুঁড়ি টানাটানি করছে। আরবরা বলত যে, চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কোন মহান ব্যক্তির মৃত্যুর কারণেই সংঘটিত হয়ে থাকে। অথচ এ দু’টি আল্লাহ্র দু’টি নিদর্শন যা আল্লাহ তোমাদেরকে দেখান। অতএব যখন চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ লাগে, তোমরা সলাত আদায় কর যে পর্যন্ত তা পরিষ্কার না হয়ে যায়।(ই.ফা. ১৯৬৯, ই.সে. ১৯৭৬)
وحدثني يعقوب بن إبراهيم الدورقي، حدثنا إسماعيل ابن علية، عن هشام الدستوائي، قال حدثنا أبو الزبير، عن جابر بن عبد الله، قال كسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في يوم شديد الحر فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بأصحابه فأطال القيام حتى جعلوا يخرون ثم ركع فأطال ثم رفع فأطال ثم ركع فأطال ثم رفع فأطال ثم سجد سجدتين ثم قام فصنع نحوا من ذاك فكانت أربع ركعات وأربع سجدات ثم قال " إنه عرض على كل شىء تولجونه فعرضت على الجنة حتى لو تناولت منها قطفا أخذته - أو قال تناولت منها قطفا - فقصرت يدي عنه وعرضت على النار فرأيت فيها امرأة من بني إسرائيل تعذب في هرة لها ربطتها فلم تطعمها ولم تدعها تأكل من خشاش الأرض ورأيت أبا ثمامة عمرو بن مالك يجر قصبه في النار . وإنهم كانوا يقولون إن الشمس والقمر لا يخسفان إلا لموت عظيم وإنهما آيتان من آيات الله يريكموهما فإذا خسفا فصلوا حتى تنجلي "
সহিহ মুসলিম ১৯৮৮
حدثنا محمد بن العلاء الهمداني، حدثنا ابن نمير، حدثنا هشام، عن فاطمة، عن أسماء، قالت خسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخلت على عائشة وهي تصلي فقلت ما شأن الناس يصلون فأشارت برأسها إلى السماء فقلت آية قالت نعم . فأطال رسول الله صلى الله عليه وسلم القيام جدا حتى تجلاني الغشى فأخذت قربة من ماء إلى جنبي فجعلت أصب على رأسي أو على وجهي من الماء - قالت - فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد تجلت الشمس فخطب رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس فحمد الله وأثنى عليه ثم قال " أما بعد ما من شىء لم أكن رأيته إلا قد رأيته في مقامي هذا حتى الجنة والنار وإنه قد أوحي إلى أنكم تفتنون في القبور قريبا أو مثل فتنة المسيح الدجال - لا أدري أى ذلك قالت أسماء - فيؤتى أحدكم فيقال ما علمك بهذا الرجل فأما المؤمن أو الموقن - لا أدري أى ذلك قالت أسماء - فيقول هو محمد هو رسول الله جاءنا بالبينات والهدى فأجبنا وأطعنا . ثلاث مرار فيقال له نم قد كنا نعلم إنك لتؤمن به فنم صالحا وأما المنافق أو المرتاب - لا أدري أى ذلك قالت أسماء - فيقول لا أدري سمعت الناس يقولون شيئا فقلت " .
আসমা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগে। তখন আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে দেখি তিনি সলাত আদায় করছেন। আমি বললাম কি ব্যাপার! লোকেরা সলাত আদায় করছে? ‘আয়িশাহ (রাঃ) মাথা নেড়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, একি বিশেষ কোন ঘটনা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এদিকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এত লম্বা ক্বিয়াম করলেন যে, আমার মাথার চক্কর এসে গেল। তখন আমি আমার পাশে রাখা পানির মশক নিয়ে আমার মাথায় অথবা চেহারায় পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। আস্মা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সলাত শেষ করার সাথে সাথে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের উদ্দেশ্যে খুত্বাহ্ দিলেন। আল্লাহর হাম্দ ও নাত আদায় করার পর তিনি বললেন, ‘আম্মাবা’দ, যে সব বস্তু আমি ইতিপূর্বে দেখিনি তা আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলাম। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। আর এ মুহূর্তে আমার নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে যে, অচিরেই তোমরা ক্ববরে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। অথবা বলেছেন, মাসীহ দাজ্জালের ফিৎনার ন্যায় ফিৎনায় পতিত হবে। (রাবী বলেন,) আমার জানা নেই আস্মা এর কোন্টা বলেছে। এরপর তোমাদের প্রত্যেককে হাজির করে জিজ্ঞেস করা হবে “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কি জানা আছে?” এ সময় ঈমানদার ব্যক্তি অথবা বলেছে ‘মু’মিন’ দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি (আমার জানা নেই আস্মা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, ইনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ইনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুপষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতের বিষয়বস্তু নিয়ে এসেছেন। তাই আমরা তাঁর আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তিনবার সে এ কথা উচ্চারণ করবে। তখন তাকে বলা হবে। ঘুমাও, আমরা জানতাম তুমি তাঁর প্রতি ঈমান বজায় রেখেছো। ভালরূপে ঘুমাও। কিন্তু মুনাফিক্ব অথবা ‘মুরতাদ’ (সংশয়বাদী আমার জানা নেই আস্মা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, আমি তো কিছু জানি না। লোকদের কিছু বলাবলি করতে শুনেছি আমিও তা-ই বলেছি। (ই.ফা. ১৯৭২, ই.সে. ১৯৭৯)
আসমা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগে। তখন আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে দেখি তিনি সলাত আদায় করছেন। আমি বললাম কি ব্যাপার! লোকেরা সলাত আদায় করছে? ‘আয়িশাহ (রাঃ) মাথা নেড়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, একি বিশেষ কোন ঘটনা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এদিকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এত লম্বা ক্বিয়াম করলেন যে, আমার মাথার চক্কর এসে গেল। তখন আমি আমার পাশে রাখা পানির মশক নিয়ে আমার মাথায় অথবা চেহারায় পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। আস্মা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সলাত শেষ করার সাথে সাথে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের উদ্দেশ্যে খুত্বাহ্ দিলেন। আল্লাহর হাম্দ ও নাত আদায় করার পর তিনি বললেন, ‘আম্মাবা’দ, যে সব বস্তু আমি ইতিপূর্বে দেখিনি তা আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলাম। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। আর এ মুহূর্তে আমার নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে যে, অচিরেই তোমরা ক্ববরে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। অথবা বলেছেন, মাসীহ দাজ্জালের ফিৎনার ন্যায় ফিৎনায় পতিত হবে। (রাবী বলেন,) আমার জানা নেই আস্মা এর কোন্টা বলেছে। এরপর তোমাদের প্রত্যেককে হাজির করে জিজ্ঞেস করা হবে “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কি জানা আছে?” এ সময় ঈমানদার ব্যক্তি অথবা বলেছে ‘মু’মিন’ দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি (আমার জানা নেই আস্মা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, ইনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ইনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুপষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতের বিষয়বস্তু নিয়ে এসেছেন। তাই আমরা তাঁর আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তিনবার সে এ কথা উচ্চারণ করবে। তখন তাকে বলা হবে। ঘুমাও, আমরা জানতাম তুমি তাঁর প্রতি ঈমান বজায় রেখেছো। ভালরূপে ঘুমাও। কিন্তু মুনাফিক্ব অথবা ‘মুরতাদ’ (সংশয়বাদী আমার জানা নেই আস্মা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, আমি তো কিছু জানি না। লোকদের কিছু বলাবলি করতে শুনেছি আমিও তা-ই বলেছি। (ই.ফা. ১৯৭২, ই.সে. ১৯৭৯)
حدثنا محمد بن العلاء الهمداني، حدثنا ابن نمير، حدثنا هشام، عن فاطمة، عن أسماء، قالت خسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخلت على عائشة وهي تصلي فقلت ما شأن الناس يصلون فأشارت برأسها إلى السماء فقلت آية قالت نعم . فأطال رسول الله صلى الله عليه وسلم القيام جدا حتى تجلاني الغشى فأخذت قربة من ماء إلى جنبي فجعلت أصب على رأسي أو على وجهي من الماء - قالت - فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد تجلت الشمس فخطب رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس فحمد الله وأثنى عليه ثم قال " أما بعد ما من شىء لم أكن رأيته إلا قد رأيته في مقامي هذا حتى الجنة والنار وإنه قد أوحي إلى أنكم تفتنون في القبور قريبا أو مثل فتنة المسيح الدجال - لا أدري أى ذلك قالت أسماء - فيؤتى أحدكم فيقال ما علمك بهذا الرجل فأما المؤمن أو الموقن - لا أدري أى ذلك قالت أسماء - فيقول هو محمد هو رسول الله جاءنا بالبينات والهدى فأجبنا وأطعنا . ثلاث مرار فيقال له نم قد كنا نعلم إنك لتؤمن به فنم صالحا وأما المنافق أو المرتاب - لا أدري أى ذلك قالت أسماء - فيقول لا أدري سمعت الناس يقولون شيئا فقلت " .
সহিহ মুসলিম ১৯৯৩
وحدثني أحمد بن سعيد الدارمي، حدثنا حبان، حدثنا وهيب، حدثنا منصور، عن أمه، عن أسماء بنت أبي بكر، قالت كسفت الشمس على عهد النبي صلى الله عليه وسلم ففزع فأخطأ بدرع حتى أدرك بردائه بعد ذلك قالت فقضيت حاجتي ثم جئت ودخلت المسجد فرأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم قائما فقمت معه فأطال القيام حتى رأيتني أريد أن أجلس ثم ألتفت إلى المرأة الضعيفة فأقول هذه أضعف مني . فأقوم فركع فأطال الركوع ثم رفع رأسه فأطال القيام حتى لو أن رجلا جاء خيل إليه أنه لم يركع .
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘাবড়ে গেলেন। যে কারণে তিনি ভুল করে নিজের চাদর নিতে গিয়ে (মহিলাদের) বড় চাদর নিয়ে গেলেন। অবশ্য পরে তাঁর চাদর পৌছিয়ে দেয়া হলো। আস্মা (রাঃ) বলেন, আমি আমার প্রয়োজন সেরে আসলাম এবং এসে মাসজিদে প্রবেশ করলাম। ঢুকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছেন। আমিও তাঁর সাথে দাঁড়ালাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দীর্ঘ ক্বিয়াম করলেন। এমনকি আমি মনে মনে ভাবছিলাম বসে পড়ব কিনা, অতঃপর তাকিয়ে দেখলাম একটি দুর্বল মহিলা। তখন মনে মনে বললাম, এ মেয়ে লোকটি তো আমার চেয়েও দুর্বল। অতএব দাঁড়িয়ে থাকলাম। দীর্ঘ সময় পর তিনি রুকূ’তে গেলেন এবং রুকূ’ও দীর্ঘ করলেন, অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন। রুকূ’ থেকে উঠেও দীর্ঘ ক্বিয়াম করলেন। এমনকি কোন ব্যক্তি এসে দেখলে মনে করত তিনি রুকূ’ই করেননি। (ই.ফা. ১৯৭৭, ই.সে. ১৯৮৪)
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘাবড়ে গেলেন। যে কারণে তিনি ভুল করে নিজের চাদর নিতে গিয়ে (মহিলাদের) বড় চাদর নিয়ে গেলেন। অবশ্য পরে তাঁর চাদর পৌছিয়ে দেয়া হলো। আস্মা (রাঃ) বলেন, আমি আমার প্রয়োজন সেরে আসলাম এবং এসে মাসজিদে প্রবেশ করলাম। ঢুকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছেন। আমিও তাঁর সাথে দাঁড়ালাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দীর্ঘ ক্বিয়াম করলেন। এমনকি আমি মনে মনে ভাবছিলাম বসে পড়ব কিনা, অতঃপর তাকিয়ে দেখলাম একটি দুর্বল মহিলা। তখন মনে মনে বললাম, এ মেয়ে লোকটি তো আমার চেয়েও দুর্বল। অতএব দাঁড়িয়ে থাকলাম। দীর্ঘ সময় পর তিনি রুকূ’তে গেলেন এবং রুকূ’ও দীর্ঘ করলেন, অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন। রুকূ’ থেকে উঠেও দীর্ঘ ক্বিয়াম করলেন। এমনকি কোন ব্যক্তি এসে দেখলে মনে করত তিনি রুকূ’ই করেননি। (ই.ফা. ১৯৭৭, ই.সে. ১৯৮৪)
وحدثني أحمد بن سعيد الدارمي، حدثنا حبان، حدثنا وهيب، حدثنا منصور، عن أمه، عن أسماء بنت أبي بكر، قالت كسفت الشمس على عهد النبي صلى الله عليه وسلم ففزع فأخطأ بدرع حتى أدرك بردائه بعد ذلك قالت فقضيت حاجتي ثم جئت ودخلت المسجد فرأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم قائما فقمت معه فأطال القيام حتى رأيتني أريد أن أجلس ثم ألتفت إلى المرأة الضعيفة فأقول هذه أضعف مني . فأقوم فركع فأطال الركوع ثم رفع رأسه فأطال القيام حتى لو أن رجلا جاء خيل إليه أنه لم يركع .
সহিহ মুসলিম ১৯৮৭
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عبد الله بن نمير، ح وحدثنا محمد بن عبد، الله بن نمير - وتقاربا في اللفظ - قال حدثنا أبي، حدثنا عبد الملك، عن عطاء، عن جابر، قال انكسفت الشمس في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم مات إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال الناس إنما انكسفت لموت إبراهيم . فقام النبي صلى الله عليه وسلم فصلى بالناس ست ركعات بأربع سجدات بدأ فكبر ثم قرأ فأطال القراءة ثم ركع نحوا مما قام ثم رفع رأسه من الركوع فقرأ قراءة دون القراءة الأولى ثم ركع نحوا مما قام ثم رفع رأسه من الركوع فقرأ قراءة دون القراءة الثانية ثم ركع نحوا مما قام ثم رفع رأسه من الركوع ثم انحدر بالسجود فسجد سجدتين ثم قام فركع أيضا ثلاث ركعات ليس فيها ركعة إلا التي قبلها أطول من التي بعدها وركوعه نحوا من سجوده ثم تأخر وتأخرت الصفوف خلفه حتى انتهينا - وقال أبو بكر حتى انتهى إلى النساء - ثم تقدم وتقدم الناس معه حتى قام في مقامه فانصرف حين انصرف وقد آضت الشمس فقال " يا أيها الناس إنما الشمس والقمر آيتان من آيات الله وإنهما لا ينكسفان لموت أحد من الناس - وقال أبو بكر لموت بشر - فإذا رأيتم شيئا من ذلك فصلوا حتى تنجلي ما من شىء توعدونه إلا قد رأيته في صلاتي هذه لقد جيء بالنار وذلكم حين رأيتموني تأخرت مخافة أن يصيبني من لفحها وحتى رأيت فيها صاحب المحجن يجر قصبه في النار كان يسرق الحاج بمحجنه فإن فطن له قال إنما تعلق بمحجني . وإن غفل عنه ذهب به وحتى رأيت فيها صاحبة الهرة التي ربطتها فلم تطعمها ولم تدعها تأكل من خشاش الأرض حتى ماتت جوعا ثم جيء بالجنة وذلكم حين رأيتموني تقدمت حتى قمت في مقامي ولقد مددت يدي وأنا أريد أن أتناول من ثمرها لتنظروا إليه ثم بدا لي أن لا أفعل فما من شىء توعدونه إلا قد رأيته في صلاتي هذه " .
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যামানায় অর্থাৎ যেদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রিয় পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যুবরণ করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। এতে লোকেরা বলতে লাগল ইব্রাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে গিয়ে উপস্থিত লোকদের নিয়ে ছয় রুকূ’ ও চার সাজদায় সলাত আদায় করলেন। সূচনাতে তাকবীর উচ্চারণ করলেন পরে ক্বিরাআত পাঠ করলেন এবং ক্বিরাআত বেশ লম্বা করলেন। অতঃপর রুকূ’ করলেন। রুকূ’তে ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় অবস্থান করলেন। অতঃপর রুকূ’ থেকে মাথা উঠালেন এবং ক্বিয়ামে প্রথম ক্বিরাআত অপেক্ষা কিছু ছোট ক্বিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকূতে কাটালেন। তারপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে ক্বিরাআত পাঠ করলেন যা পূর্বের ক্বিরাআত অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর রুকূতে গিয়ে ক্বিয়ামের পরিমাণ সময় অতিবাহিত করলেন। এরপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে সাজদায় গেলেন এবং দুটি সাজদাহ করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে আরো তিনটি রুকূ করলেন যাতে কোন রাক‘আত ছিল না। শেষের তিন রুকূ’ এরূপ ছিল যে, প্রত্যেক রুকূ’ পূর্ববর্তী রুকূ’ অপেক্ষা ছোট এবং পরবর্তী রুকূ’ অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল। আর প্রতিটি রুকূ’র সময় সাজদার সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি একটু পিছনে সরে আসলেন আর তাঁর পিছনের সারিগুলোও পিছনে সরে গিয়ে আমরা পৌছে গেলাম। আবূ বাক্র বলেনঃ মহিলাদের কাতার পর্যন্ত পৌছে গেলেন। অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর সাথে সব লোক সামনে এগিয়ে গেল। অবশেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে সলাত শেষ করলেন। এদিকে সূর্য তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এল। সলাত শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে লোক সকল। চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। আবূ বাক্র-এর বর্ণনায় (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন), “কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে” (এ দুটি গ্রহণ হয় না)। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু ঘটতে দেখ তখন সলাত আদায় কর যে পর্যন্ত সূর্য স্পষ্ট হয়ে না যায়। তোমাদের কাছে যে সব বিষয় সম্পর্কে ওয়া’দা করা হয়েছে তার প্রতিটি আমি আমার সলাতের মধ্যে দেখতে পেয়েছি। আমার কাছে জাহান্নাম তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন যখন তোমরা আমাকে দেখেছ যে, আমি পিছনে সরে এসেছি এর লেলিহান শিখা আমাকে স্পর্শ করার ভয়ে। অবশেষে আমি জাহান্নামের মধ্যে লৌহশলাকাধারীকে (‘আমর ইবনু মালিক) দেখলাম, সে জাহান্নামের মধ্যে নিজের নাড়ীভূঁড়ি টানছে। এ ব্যক্তি নিজ লাঠি দ্বারা হাজ্জ যাত্রীদের মালপত্র চুরি করত। এরপর যদি ধরা পড়ে যেত তখন বলত আহ ! আমার শলাকার সাথে লেগে গেছে। আর কেউ অসাবধান থাকলে তা নিয়ে যেত। এছাড়া জাহান্নামের মধ্যে ঐ মহিলাকেও দেখতে পেলাম যে, একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল। এরপর এটাকে আহারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি, যাতে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিড়ালটি ক্ষুধায় ছটফট করে মারা গেল। অতঃপর আমার সামনে জান্নাত তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন দৃষ্ট হয়েছে, যখন তোমরা আমাকে দেখতে পেয়েছ যে, আমি সামনে এগিয়ে গেছি এবং নিজস্থানে দাঁড়িয়েছি। আমি আমার হাত প্রসারিত করলাম এবং এর ফল তুলে নেবার ইচ্ছা করলাম যাতে তোমরা তা দেখতে পাও। অতঃপর এরূপ না করাই স্থিরকৃত হলো। যেসব বিষয় তোমাদের জানানো হয়েছিল তার প্রতিটি বিষয় আমি আমার এ সলাতে থাকাকালীন দেখতে পেয়েছি। (ই.ফা. ১৯৭১, ই.সে. ১৯৭৮)
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যামানায় অর্থাৎ যেদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রিয় পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যুবরণ করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। এতে লোকেরা বলতে লাগল ইব্রাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে গিয়ে উপস্থিত লোকদের নিয়ে ছয় রুকূ’ ও চার সাজদায় সলাত আদায় করলেন। সূচনাতে তাকবীর উচ্চারণ করলেন পরে ক্বিরাআত পাঠ করলেন এবং ক্বিরাআত বেশ লম্বা করলেন। অতঃপর রুকূ’ করলেন। রুকূ’তে ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় অবস্থান করলেন। অতঃপর রুকূ’ থেকে মাথা উঠালেন এবং ক্বিয়ামে প্রথম ক্বিরাআত অপেক্ষা কিছু ছোট ক্বিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকূতে কাটালেন। তারপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে ক্বিরাআত পাঠ করলেন যা পূর্বের ক্বিরাআত অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর রুকূতে গিয়ে ক্বিয়ামের পরিমাণ সময় অতিবাহিত করলেন। এরপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে সাজদায় গেলেন এবং দুটি সাজদাহ করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে আরো তিনটি রুকূ করলেন যাতে কোন রাক‘আত ছিল না। শেষের তিন রুকূ’ এরূপ ছিল যে, প্রত্যেক রুকূ’ পূর্ববর্তী রুকূ’ অপেক্ষা ছোট এবং পরবর্তী রুকূ’ অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল। আর প্রতিটি রুকূ’র সময় সাজদার সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি একটু পিছনে সরে আসলেন আর তাঁর পিছনের সারিগুলোও পিছনে সরে গিয়ে আমরা পৌছে গেলাম। আবূ বাক্র বলেনঃ মহিলাদের কাতার পর্যন্ত পৌছে গেলেন। অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর সাথে সব লোক সামনে এগিয়ে গেল। অবশেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে সলাত শেষ করলেন। এদিকে সূর্য তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এল। সলাত শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে লোক সকল। চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। আবূ বাক্র-এর বর্ণনায় (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন), “কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে” (এ দুটি গ্রহণ হয় না)। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু ঘটতে দেখ তখন সলাত আদায় কর যে পর্যন্ত সূর্য স্পষ্ট হয়ে না যায়। তোমাদের কাছে যে সব বিষয় সম্পর্কে ওয়া’দা করা হয়েছে তার প্রতিটি আমি আমার সলাতের মধ্যে দেখতে পেয়েছি। আমার কাছে জাহান্নাম তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন যখন তোমরা আমাকে দেখেছ যে, আমি পিছনে সরে এসেছি এর লেলিহান শিখা আমাকে স্পর্শ করার ভয়ে। অবশেষে আমি জাহান্নামের মধ্যে লৌহশলাকাধারীকে (‘আমর ইবনু মালিক) দেখলাম, সে জাহান্নামের মধ্যে নিজের নাড়ীভূঁড়ি টানছে। এ ব্যক্তি নিজ লাঠি দ্বারা হাজ্জ যাত্রীদের মালপত্র চুরি করত। এরপর যদি ধরা পড়ে যেত তখন বলত আহ ! আমার শলাকার সাথে লেগে গেছে। আর কেউ অসাবধান থাকলে তা নিয়ে যেত। এছাড়া জাহান্নামের মধ্যে ঐ মহিলাকেও দেখতে পেলাম যে, একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল। এরপর এটাকে আহারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি, যাতে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিড়ালটি ক্ষুধায় ছটফট করে মারা গেল। অতঃপর আমার সামনে জান্নাত তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন দৃষ্ট হয়েছে, যখন তোমরা আমাকে দেখতে পেয়েছ যে, আমি সামনে এগিয়ে গেছি এবং নিজস্থানে দাঁড়িয়েছি। আমি আমার হাত প্রসারিত করলাম এবং এর ফল তুলে নেবার ইচ্ছা করলাম যাতে তোমরা তা দেখতে পাও। অতঃপর এরূপ না করাই স্থিরকৃত হলো। যেসব বিষয় তোমাদের জানানো হয়েছিল তার প্রতিটি বিষয় আমি আমার এ সলাতে থাকাকালীন দেখতে পেয়েছি। (ই.ফা. ১৯৭১, ই.সে. ১৯৭৮)
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا عبد الله بن نمير، ح وحدثنا محمد بن عبد، الله بن نمير - وتقاربا في اللفظ - قال حدثنا أبي، حدثنا عبد الملك، عن عطاء، عن جابر، قال انكسفت الشمس في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم مات إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال الناس إنما انكسفت لموت إبراهيم . فقام النبي صلى الله عليه وسلم فصلى بالناس ست ركعات بأربع سجدات بدأ فكبر ثم قرأ فأطال القراءة ثم ركع نحوا مما قام ثم رفع رأسه من الركوع فقرأ قراءة دون القراءة الأولى ثم ركع نحوا مما قام ثم رفع رأسه من الركوع فقرأ قراءة دون القراءة الثانية ثم ركع نحوا مما قام ثم رفع رأسه من الركوع ثم انحدر بالسجود فسجد سجدتين ثم قام فركع أيضا ثلاث ركعات ليس فيها ركعة إلا التي قبلها أطول من التي بعدها وركوعه نحوا من سجوده ثم تأخر وتأخرت الصفوف خلفه حتى انتهينا - وقال أبو بكر حتى انتهى إلى النساء - ثم تقدم وتقدم الناس معه حتى قام في مقامه فانصرف حين انصرف وقد آضت الشمس فقال " يا أيها الناس إنما الشمس والقمر آيتان من آيات الله وإنهما لا ينكسفان لموت أحد من الناس - وقال أبو بكر لموت بشر - فإذا رأيتم شيئا من ذلك فصلوا حتى تنجلي ما من شىء توعدونه إلا قد رأيته في صلاتي هذه لقد جيء بالنار وذلكم حين رأيتموني تأخرت مخافة أن يصيبني من لفحها وحتى رأيت فيها صاحب المحجن يجر قصبه في النار كان يسرق الحاج بمحجنه فإن فطن له قال إنما تعلق بمحجني . وإن غفل عنه ذهب به وحتى رأيت فيها صاحبة الهرة التي ربطتها فلم تطعمها ولم تدعها تأكل من خشاش الأرض حتى ماتت جوعا ثم جيء بالجنة وذلكم حين رأيتموني تقدمت حتى قمت في مقامي ولقد مددت يدي وأنا أريد أن أتناول من ثمرها لتنظروا إليه ثم بدا لي أن لا أفعل فما من شىء توعدونه إلا قد رأيته في صلاتي هذه " .
সহিহ মুসলিম ১৯৯৪
حدثنا سويد بن سعيد، حدثنا حفص بن ميسرة، حدثني زيد بن أسلم، عن عطاء، بن يسار عن ابن عباس، قال انكسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس معه فقام قياما طويلا قدر نحو سورة البقرة ثم ركع ركوعا طويلا ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الأول ثم سجد ثم قام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الأول ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الأول ثم سجد ثم انصرف وقد انجلت الشمس فقال " إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله لا ينكسفان لموت أحد ولا لحياته فإذا رأيتم ذلك فاذكروا الله " . قالوا يا رسول الله رأيناك تناولت شيئا في مقامك هذا ثم رأيناك كففت . فقال " إني رأيت الجنة فتناولت منها عنقودا ولو أخذته لأكلتم منه ما بقيت الدنيا ورأيت النار فلم أر كاليوم منظرا قط ورأيت أكثر أهلها النساء " . قالوا بم يا رسول الله قال " بكفرهن " . قيل أيكفرن بالله قال " بكفر العشير وبكفر الإحسان لو أحسنت إلى إحداهن الدهر ثم رأت منك شيئا قالت ما رأيت منك خيرا قط " .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের সাথে লোকদের নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাত শুরু করে তিনি লম্বা ক্বিয়াম করলেন প্রায় সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ পড়ার সমপরিমাণ সময়। অতঃপর রুকূ’ করলেন লম্বা রুকূ’। অতঃপর (রুকূ’ থেকে) মাথা উঠালেন। আবার লম্বা ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কিছুটা ছোট। অতঃপর লম্বা রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর সাজদাহ্ করলেন। সাজদাহ্ থেকে উঠে আবার লম্বা ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কম। আবার লম্বা রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’র চেয়ে কিছু কম। অতঃপর সাজদাহ্ করলেন। সাজদাহ্ থেকে উঠে আবার লম্বা ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কিছু কম। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কম। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। অতঃপর সাজদাহ্ করে সলাত সমাপ্ত করলেন। এতক্ষণে সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দু’টি নিদর্শন। এগুলো কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখ, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর। সাথীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পর দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। অতএব জান্নাত থেকে ফলের একটি ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তাহলে তোমরা তা পৃথিবী ক্বিয়াম থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে। আমি জাহান্নামও দেখতে পেলাম এবং আজকের ন্যায় এমন ভয়াবহ দৃশ্য আরি কখনও দেখিনি। আমি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে বেশীর ভাগ দেখলাম মহিলা। সাথীরা জিজ্ঞেস করলেন, কি কারণ হে আল্লাহ রসূল! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাঁদের অকৃতজ্ঞতার কারণে। তিনি বলেন, তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে এবং অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো সারাজীবনও উপকার কর, অতঃপর যদি কখনও তোমার থেকে কোন ত্রুটি দেখে তখন বলে ফেলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন কল্যাণ দেখতে পাইনি। (ই.ফা. ১৯৭৮, ই.সে. ১৯৮৫)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের সাথে লোকদের নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাত শুরু করে তিনি লম্বা ক্বিয়াম করলেন প্রায় সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ পড়ার সমপরিমাণ সময়। অতঃপর রুকূ’ করলেন লম্বা রুকূ’। অতঃপর (রুকূ’ থেকে) মাথা উঠালেন। আবার লম্বা ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কিছুটা ছোট। অতঃপর লম্বা রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর সাজদাহ্ করলেন। সাজদাহ্ থেকে উঠে আবার লম্বা ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কম। আবার লম্বা রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’র চেয়ে কিছু কম। অতঃপর সাজদাহ্ করলেন। সাজদাহ্ থেকে উঠে আবার লম্বা ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কিছু কম। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কম। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। অতঃপর সাজদাহ্ করে সলাত সমাপ্ত করলেন। এতক্ষণে সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দু’টি নিদর্শন। এগুলো কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখ, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর। সাথীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পর দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। অতএব জান্নাত থেকে ফলের একটি ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তাহলে তোমরা তা পৃথিবী ক্বিয়াম থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে। আমি জাহান্নামও দেখতে পেলাম এবং আজকের ন্যায় এমন ভয়াবহ দৃশ্য আরি কখনও দেখিনি। আমি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে বেশীর ভাগ দেখলাম মহিলা। সাথীরা জিজ্ঞেস করলেন, কি কারণ হে আল্লাহ রসূল! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাঁদের অকৃতজ্ঞতার কারণে। তিনি বলেন, তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে এবং অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো সারাজীবনও উপকার কর, অতঃপর যদি কখনও তোমার থেকে কোন ত্রুটি দেখে তখন বলে ফেলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন কল্যাণ দেখতে পাইনি। (ই.ফা. ১৯৭৮, ই.সে. ১৯৮৫)
حدثنا سويد بن سعيد، حدثنا حفص بن ميسرة، حدثني زيد بن أسلم، عن عطاء، بن يسار عن ابن عباس، قال انكسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس معه فقام قياما طويلا قدر نحو سورة البقرة ثم ركع ركوعا طويلا ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الأول ثم سجد ثم قام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الأول ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الأول ثم سجد ثم انصرف وقد انجلت الشمس فقال " إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله لا ينكسفان لموت أحد ولا لحياته فإذا رأيتم ذلك فاذكروا الله " . قالوا يا رسول الله رأيناك تناولت شيئا في مقامك هذا ثم رأيناك كففت . فقال " إني رأيت الجنة فتناولت منها عنقودا ولو أخذته لأكلتم منه ما بقيت الدنيا ورأيت النار فلم أر كاليوم منظرا قط ورأيت أكثر أهلها النساء " . قالوا بم يا رسول الله قال " بكفرهن " . قيل أيكفرن بالله قال " بكفر العشير وبكفر الإحسان لو أحسنت إلى إحداهن الدهر ثم رأت منك شيئا قالت ما رأيت منك خيرا قط " .
সহিহ মুসলিম ১৯৯০
أخبرنا يحيى بن يحيى، أخبرنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن عروة، قال لا تقل كسفت الشمس ولكن قل خسفت الشمس
‘উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, (আরবী) বলবে না, বরং (আরবী) বলো। অর্থ একই সূর্যগ্রহণ লেগেছে। (ই.ফা. ১৯৭৪, ই.সে. ১৯৮১)
‘উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, (আরবী) বলবে না, বরং (আরবী) বলো। অর্থ একই সূর্যগ্রহণ লেগেছে। (ই.ফা. ১৯৭৪, ই.সে. ১৯৮১)
أخبرنا يحيى بن يحيى، أخبرنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن عروة، قال لا تقل كسفت الشمس ولكن قل خسفت الشمس
সহিহ মুসলিম ১৯৯৫
وحدثناه محمد بن رافع، حدثنا إسحاق، - يعني ابن عيسى - أخبرنا مالك، عن زيد بن أسلم، في هذا الإسناد بمثله غير أنه قال ثم رأيناك تكعكعت .
যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) থেকে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেছেনঃ “অতঃপর আপনাকে দেখলাম হাত গুটিয়ে নিলেন”। (ই.ফা. ১৯৭৯, ই.সে. ১৯৮৬)
যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) থেকে একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেছেনঃ “অতঃপর আপনাকে দেখলাম হাত গুটিয়ে নিলেন”। (ই.ফা. ১৯৭৯, ই.সে. ১৯৮৬)
وحدثناه محمد بن رافع، حدثنا إسحاق، - يعني ابن عيسى - أخبرنا مالك، عن زيد بن أسلم، في هذا الإسناد بمثله غير أنه قال ثم رأيناك تكعكعت .
সহিহ মুসলিম ১৯৮৬
وحدثنيه أبو غسان المسمعي، حدثنا عبد الملك بن الصباح، عن هشام، بهذا الإسناد مثله إلا أنه قال " ورأيت في النار امرأة حميرية سوداء طويلة " . ولم يقل " من بني إسرائيل " .
হিশাম (রহঃ) থেকে একই সানাদ থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেন, আমি জাহান্নামের মধ্যে হিম্ইয়ারিয়্যাহ্ গোত্রের একটি দীর্ঘকায় কালো মেয়েলোককে দেখতে পেলাম। এতে তিনি বানী ইসরাঈলের কথা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১৯৭০, ই.সে. ১৯৭৭)
হিশাম (রহঃ) থেকে একই সানাদ থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেন, আমি জাহান্নামের মধ্যে হিম্ইয়ারিয়্যাহ্ গোত্রের একটি দীর্ঘকায় কালো মেয়েলোককে দেখতে পেলাম। এতে তিনি বানী ইসরাঈলের কথা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১৯৭০, ই.সে. ১৯৭৭)
وحدثنيه أبو غسان المسمعي، حدثنا عبد الملك بن الصباح، عن هشام، بهذا الإسناد مثله إلا أنه قال " ورأيت في النار امرأة حميرية سوداء طويلة " . ولم يقل " من بني إسرائيل " .
সহিহ মুসলিম ১৯৯২
وحدثني سعيد بن يحيى الأموي، حدثني أبي، حدثنا ابن جريج، بهذا الإسناد مثله وقال قياما طويلا يقوم ثم يركع وزاد فجعلت أنظر إلى المرأة أسن مني وإلى الأخرى هي أسقم مني .
ইবনু জুরায়জ (রহঃ) একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে আস্মা (রাঃ) বলেছেন, দীর্ঘ সময় ক্বিয়াম করে পরে রুকূ’ করেছেন। বর্ণনাকারী এ কথাটুকু বাড়িয়েছেন- “আমি মহিলাদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার চেয়ে বয়স্কা মহিলাও আছে আর আমার চেয়ে অধিক রুগ্না মহিলাও রয়েছে”। (ই.ফা. ১৯৭৬, ই.সে. ১৯৮৩)
ইবনু জুরায়জ (রহঃ) একই সূত্রে থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে আস্মা (রাঃ) বলেছেন, দীর্ঘ সময় ক্বিয়াম করে পরে রুকূ’ করেছেন। বর্ণনাকারী এ কথাটুকু বাড়িয়েছেন- “আমি মহিলাদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার চেয়ে বয়স্কা মহিলাও আছে আর আমার চেয়ে অধিক রুগ্না মহিলাও রয়েছে”। (ই.ফা. ১৯৭৬, ই.সে. ১৯৮৩)
وحدثني سعيد بن يحيى الأموي، حدثني أبي، حدثنا ابن جريج، بهذا الإسناد مثله وقال قياما طويلا يقوم ثم يركع وزاد فجعلت أنظر إلى المرأة أسن مني وإلى الأخرى هي أسقم مني .
সহিহ মুসলিম > যে ব্যক্তি বলে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার সাজদায় আট রাক‘আত সলাত আদায় করেছেন
সহিহ মুসলিম ১৯৯৬
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا إسماعيل ابن علية، عن سفيان، عن حبيب، عن طاوس، عن ابن عباس، قال صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حين كسفت الشمس ثمان ركعات في أربع سجدات . وعن علي مثل ذلك .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহণের সময় আটটি রুকূ’ ও চারটি সাজদাহ্ সহকারে সলাত আদায় করেছেন। ‘আলী (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ১৯৮০, ই.সে. ১৯৮৭)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহণের সময় আটটি রুকূ’ ও চারটি সাজদাহ্ সহকারে সলাত আদায় করেছেন। ‘আলী (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ১৯৮০, ই.সে. ১৯৮৭)
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا إسماعيل ابن علية، عن سفيان، عن حبيب، عن طاوس، عن ابن عباس، قال صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حين كسفت الشمس ثمان ركعات في أربع سجدات . وعن علي مثل ذلك .
সহিহ মুসলিম ১৯৯৭
وحدثنا محمد بن المثنى، وأبو بكر بن خلاد كلاهما عن يحيى القطان، - قال ابن المثنى حدثنا يحيى، - عن سفيان، قال حدثنا حبيب، عن طاوس، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه صلى في كسوف قرأ ثم ركع ثم قرأ ثم ركع ثم قرأ ثم ركع ثم قرأ ثم ركع ثم سجد . قال والأخرى مثلها .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহণের সময় সলাত শুরু করে প্রথমে ক্বিরাআত পাঠ করেছেন, তারপর রুকূ’ করেছেন। আবার ক্বিরাআত পড়েছেন, আবার রুকূ’ করেছেন। আবার ক্বিরাআত পাঠ করে আবার রুকূ’ করেছেন। আবার ক্বিরাআত পাঠ করে আবার রুকূ’ করেছেন। অতঃপর সাজদাহ্ করেছেন। দ্বিতীয় রাক‘আতও অনুরূপভাবে আদায় করেছেন। (ই.ফা. ১৯৮১, ই.সে. ১৯৮৮)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহণের সময় সলাত শুরু করে প্রথমে ক্বিরাআত পাঠ করেছেন, তারপর রুকূ’ করেছেন। আবার ক্বিরাআত পড়েছেন, আবার রুকূ’ করেছেন। আবার ক্বিরাআত পাঠ করে আবার রুকূ’ করেছেন। আবার ক্বিরাআত পাঠ করে আবার রুকূ’ করেছেন। অতঃপর সাজদাহ্ করেছেন। দ্বিতীয় রাক‘আতও অনুরূপভাবে আদায় করেছেন। (ই.ফা. ১৯৮১, ই.সে. ১৯৮৮)
وحدثنا محمد بن المثنى، وأبو بكر بن خلاد كلاهما عن يحيى القطان، - قال ابن المثنى حدثنا يحيى، - عن سفيان، قال حدثنا حبيب، عن طاوس، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه صلى في كسوف قرأ ثم ركع ثم قرأ ثم ركع ثم قرأ ثم ركع ثم قرأ ثم ركع ثم سجد . قال والأخرى مثلها .