সহিহ বুখারী > যখন একটি দল কোন এক লোককে বিপদগ্রস্ত করে তোলে, তখন তাদের সবাইকে শাস্তি দেয়া হবে কি? অথবা সবার নিকট থেকে কিসাস গ্রহণ করা হবে কি?
সহিহ বুখারী ৬৮৯৬
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، قَالَ زَائِدَةُ ذَكَرَهُ عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ أَتَيْنَا مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ نَعُودُهُ فَدَخَلَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَقَالَ لَهُ مَعْقِلٌ أُحَدِّثُكَ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا مِنْ وَالٍ يَلِي رَعِيَّةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَيَمُوتُ وَهْوَ غَاشٌّ لَهُمْ، إِلاَّ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ "
আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমাকে ইব্নু বাশশার (রহঃ) ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একটি বালককে গোপনে হত্যা করা হয়। তখন উমর (রাঃ) বললেন, যদি গোটা সান’আবাসী এতে অংশ নিত তাহলে আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। মুগীরাহ ইব্নু হাকীম (রহঃ) আপন পিতা হাকীম থেকে বর্ণনা করেন যে, চারজন লোক একটি বালককে হত্যা করেছিল। তখন ‘উমর (রাঃ) ঐরকম কথা বলেছিলেন। আবূ বকর ও ইব্নু যুবায়র, ‘আলী ও সুওয়ায়দ ইব্নু মুকাররিন (রাঃ) চড়ের বিষয়ে কিসাসের নির্দেশ দেন। উমর (রাঃ) ছড়ি দিয়ে মারা ব্যাপারে কিসাসের নির্দেশ দেন। আর ‘আলী (রাঃ) তিনটি বেত্রাঘাতের জন্য কিসাসের নির্দেশ দেন এবং শুরায়হ (রহঃ) একটি বেত্রাঘাত ও নখের আঁচড়ের জন্য কিসাস বলবৎ করেন।(আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ই.ফা, অনুচ্ছেদ)
সহিহ বুখারী ৬৮৯৭
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنِ طَرِيفٍ أَبِي تَمِيمَةَ، قَالَ شَهِدْتُ صَفْوَانَ وَجُنْدَبًا وَأَصْحَابَهُ وَهْوَ يُوصِيهِمْ فَقَالُوا هَلْ سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ـ قَالَ ـ وَمَنْ يُشَاقِقْ يَشْقُقِ اللَّهُ عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ". فَقَالُوا أَوْصِنَا. فَقَالَ" إِنَّ أَوَّلَ مَا يُنْتِنُ مِنَ الإِنْسَانِ بَطْنُهُ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ لاَ يَأْكُلَ إِلاَّ طَيِّبًا فَلْيَفْعَلْ، وَمَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ لاَ يُحَالَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجَنَّةِ بِمِلْءِ كَفِّهِ مِنْ دَمٍ أَهْرَاقَهُ فَلْيَفْعَلْ ". قُلْتُ لأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَنْ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جُنْدَبٌ قَالَ نَعَمْ جُنْدَبٌ."
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন , আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর অসুস্থতার সময় তাঁর মুখের এক পাশে ঔষধ ঢেলে দিলাম। আর তিনি আমাদের দিকে ইঙ্গিত করতে থাকলেন যে, তোমরা আমার মুখের এক পাশে ঔষধ ঢেলে দিও না। আমরা মনে করলাম যে , রোগীর ঔষধের প্রতি অনাসক্তিই এর কারণ। যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন , তখন বললেনঃ আমাকে ( জোর পূর্বক ) ঔষধ সেবন করাতে কি তোমাদেরকে নিষেধ করিনি? আমরা বললাম , রোগীর ঔষধের প্রতি অনাসক্তিই এর কারণ বলে আমরা মনে করেছি। তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ যেন না থাকে যার মুখে জোরপূর্বক ঔষধ ঢালা না হবে আর আমি দেখব শুধু ‘আব্বাস ছাড়া। কারণ, সে তোমাদের সাথে উপস্থিত ছিল না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩০)
সহিহ বুখারী > ‘কাসামাহ’ (শপথ)
সহিহ বুখারী ৬৮৯৮
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ بَيْنَمَا أَنَا وَالنَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم خَارِجَانِ مِنَ الْمَسْجِدِ فَلَقِيَنَا رَجُلٌ عِنْدَ سُدَّةِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا أَعْدَدْتَ لَهَا " فَكَأَنَّ الرَّجُلَ اسْتَكَانَ ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَعْدَدْتُ لَهَا كَبِيرَ صِيَامٍ وَلاَ صَلاَةٍ وَلاَ صَدَقَةٍ، وَلَكِنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ. قَالَ " أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ "."
আবূ নু’আয়ম (রহঃ) সাহ্ল ইব্নু আবূ হাস্মা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তার গোত্রের একদল লোক খায়বার গেল ও সেখানে তারা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ল। তারা তাদের একজনকে নিহত অবস্থায় পেল। এবং যাদের কাছে তাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল তাদেরকে তারা বলল , তোমরা আমাদের সাথীকে হত্যা করেছ। তারা বলল, আমরা তাকে হত্যা করিনি, আর হত্যাকারীকে জানিও না। এরপর তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেল এবং বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা খায়বার গিয়েছিলাম। আর আমাদের একজনকে সেখানে নিহত অবস্থায় পেলাম। তখন তিনি বললেন বড়দের কে বলতে দাও, বড়দেরকে বলতে দাও। তারপর তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমাদেরকে তার হত্যাকারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করতে হবে। তারা বলল, আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ওরা কসম করবে। তারা বলল, ইয়াহূদীদের কসমে আমাদের বিশ্বাস নেই। এই নিহতের রক্ত বৃথা হয়ে যাক তা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পছন্দ করলেন না। তাই সদাকাহ্র একশ উট দিয়ে তার রক্তপণ আদায় করলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩১)
সহিহ বুখারী ৬৮৯৯
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، يَقُولُ لاِمْرَأَةٍ مِنْ أَهْلِهِ تَعْرِفِينَ فُلاَنَةَ قَالَتْ نَعَمْ. قَالَ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِهَا وَهْىَ تَبْكِي عِنْدَ قَبْرٍ فَقَالَ اتَّقِي اللَّهَ وَاصْبِرِي ". فَقَالَتْ إِلَيْكَ عَنِّي، فَإِنَّكَ خِلْوٌ مِنْ مُصِيبَتِي. قَالَ فَجَاوَزَهَا وَمَضَى فَمَرَّ بِهَا رَجُلٌ فَقَالَ مَا قَالَ لَكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَتْ مَا عَرَفْتُهُ قَالَ إِنَّهُ لَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَجَاءَتْ إِلَى بَابِهِ فَلَمْ تَجِدْ عَلَيْهِ بَوَّابًا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا عَرَفْتُكَ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الصَّبْرَ عِنْدَ أَوَّلِ صَدْمَةٍ "."
কুতাইবা ইব্নু সা’ঈদ (রহঃ) আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
একবার ‘উমর ইব্নু আবদুল ‘আযীয (রহঃ) তাঁর সিংহাসন মানুষদেরকে দেখানোর জন্য বের করলেন। তারপর লোকদেরকে তাঁর নিকট আসার অনুমতি প্রদান করলেন। তারা প্রবেশ করল। তারপর বললেন, তোমরা কাসামার ব্যাপারে কি মত পোষণ কর? তারা বলল, আমাদের মতে কাসামার ভিত্তিতে কিসাস গ্রহণ করা বৈধ। খলীফাগণ এর ভিত্তিতে কিসাস কার্যকর করেছেন। তিনি আমাকে বললেন, হে আবূ কিলাবা ! তুমি কী বল? তিনি আমাকে লোকদের সামনে দাঁড় করালেন। আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার কাছে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থগণ ও আরব নেতাগণ আছেন, বলুন তো ! যদি তাদের থেকে পঞ্চাশ ব্যাক্তি দামেশ্কের একজন বিবাহিত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় যে সে যিনা করেছে , অথচ তারা তাকে দেখেনি, তাহলে আপনি তাকে রজম করবেন কি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, বলুন তো ! যদি তাদের মধ্য থেকে পঞ্চাশ জন হিম্স নিবাসী এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় যে সে চুরি করেছে অথচ তারা তাকে দেখেনি, তাহলে কি আপনি তার হাত কাটবেন? তিনি বললেন, না। আমি বললাম , আল্লাহ্র কসম ! রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিন কারণের কোন একটি ছাড়া কাউকে হত্যা করেননি। (যথাঃ) (অন্যায় ভাবে ) কাউকে হত্যা করলে তাকে হত্যা করা হবে। অথবা যে ব্যাক্তি বিয়ের পর যিনা করে, অথবা যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ও ইসলাম থেকে ফিরে মুরতাদ হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলল, আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) কি বর্ণনা করেননি যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুরির ব্যাপারে হাত কেটেছেন , লৌহশলাকা দ্বারা চক্ষু ফুঁড়ে দিয়েছেন, তারপর তাদেরকে উত্তপ্ত রৌদ্রে ফেলে রেখেছেন। তখন আমি বললাম, আমি তোমাদেরকে আনাস (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনা করছি। আমাকে আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, উক্ল গোত্রের আটজন লোক রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এল। তারা তাঁর হাতে ইসলামের বায়’আত গ্রহণ করল। কিন্তু সে এলাকার আবহাওয়া তাদের অনুকূলে হল না এবং তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এর অভিযোগ করল। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা কি আমার রাখালের সঙ্গে তার উটপালের কাছে গিয়ে সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করবেনা? তারা বলল, হ্যাঁ। তারপর তারা সেখানে গিয়ে সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করল। ফলে তারা সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কানে পৌঁছলে তিনি তাদের পেছনে ধাওয়া করার জন্য লোক পাঠালেন। তারা ধরা পরল এবং তাদেরকে নিয়ে আসা হল। তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হল। তাদের হাত-পা কাটা হল, লৌহশলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দেয়া হল। এরপর তপ্ত রোদে তাদেরকে ফেলে রাখা হল। অবশেষে তারা মারা গেল। আমি বললাম, তারা যা করেছে এর চেয়ে জঘন্য আর কী হতে পারে? তারা ইসলাম থেকে মুরতাদ্ হল, হত্যা করল, চুরি করল। তখন আম্বাসা ইব্নু সা’ঈদ বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আজকের মত আমি আর কখনো শুনিনি। আমি বললাম , হে আম্বাসা! তাহলে তুমি আমার বর্ণিত হাদীসটি প্রত্যখান করছ কি? তিনি বললেন, না, তুমি হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছ। আল্লাহ্র কসম! এ লোকগুলো কল্যাণের উপর থাকবে যতদিন এ শায়খ (বুযর্গ) তাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন। আমি বললাম, এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একটা নিয়ম আছে। আনসারদের একটি দল তাঁর কাছে আসল। তারা তাঁর কাছে আলোচনা করছিল। ইতিমধ্যে তাদের সামনে তাদের এক লোক বেরিয়ে গেল এবং নিহত হল। তারপর তারা বের হল। তারা তাদের সাথী কে দেখতে পেল যে, রক্তের মাঝে নড়াচড়া করছে। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফিরে এল এবং বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের সাথী যে আমাদের সাথে আলোচনা করছিল এবং সে আমাদের সামনেই বের হয়ে গিয়েছিল, আমরা এখন তাকে রক্তের মাঝে নড়াচড়া করতে দেখতে পাচ্ছি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেরিয়ে গেলেন এবং বললেনঃ তাকে হত্যা করার ব্যাপারে কাদের সম্বন্ধে তোমাদের ধারণা? তারা বলল, আমরা মনে করি, ইয়াহূদীরা তাকে হত্যা করেছে। তিনি ইয়াহূদীদেরকে ডেকে পাঠালেন। এরপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ওকে হত্যা করেছ? তারা বলল, না। তিনি আনসারদেরকে বললেন, তোমরা কি এতে রাযী আছ যে, ইয়াহূদীদের পঞ্চাশ জন লোক শপথ করে বলবে যে, তারা তাকে হত্যা করেনি। আনসাররা বলল, তারা এতে পরওয়া করবেনা, তারা আমাদের সকলকে হত্যা করার পরও শপথ করে নিতে পারবে। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমরা কি এজন্য প্রস্তুত আছ যে, তোমাদের থেকে পঞ্চাশজনের শপথের মাধ্যমে তোমরা দীয়াতের অধিকারী হবে? তারা বলল, আমরা শপথ করব না। তখন তিনি নিজের পক্ষ থেকে দীয়াত প্রদান করে দেন। (রাবী আবূ কালাবা বলেন) আমি বললাম, হুযায়ল গোত্র জাহিলী যুগে তাদের গোত্রের লোকেরা এক ব্যাক্তিকে সকল প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। এক রাতে সে লোক বাহ্হা নামক স্থানে ইয়ামনের এক পরিবারের উপর হঠাৎ হামলা চালায়। কিন্তু সে পরিবারের এক লোক তা টের পেয়ে যায় এবং তার প্রতি তরবারী নিক্ষেপ করে তাকে হত্যা করে ফেলে। অতঃপর হুযায়ল গোত্রের লোকেরা এসে ইয়ামনী গোত্রের ব্যাক্তিটিকে ধরে ফেলে এবং (হজ্জের) মৌসুমে ‘উমর (রাঃ)-এর কাছে তাকে নিয়ে পেশ করে। আর বলে সে আমাদের এক সঙ্গী কে হত্যা করেছে। ইয়ামনী লোকটি বলল, তারা কিন্তু ওকে সকল প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তখন তিনি বললেন, হুযায়ল গোত্রের পঞ্চাশ জন লোক এ মর্মে শপথ করবে যে তারা ওকে সকল দায়-দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের মধ্যে থেকে ঊনপঞ্চাশ জন লোক শপথ করে নিল, অতঃপর তাদের একজন সিরিয়া থেকে এলো, তারা তাকে শপথ করতে বলল। কিন্তু সে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে শপথ থেকে তাদের সঙ্গে আপোস করে নিল। তখন তারা তার স্থলে অপর একজন কে যোগ করে নিল। তারা তাকে নিহত ব্যাক্তির ভাইয়ের কাছে পেশ করল। তারা উভয়েই করমর্দন করল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা এবং ঐ পঞ্চাশ জন লোক, যারা শপথ করেছে, চললাম। যখন তারা নাখ্লা নামক স্থানে পৌঁছল, তাদের উপর বৃষ্টি নেমে এল। তখন তারা পর্বতের এক গুহায় প্রবেশ করল। কিন্তু গুহা এ পঞ্চাশজন শপথকারীর উপর ভেঙ্গে পড়ল? এতে তারা সকলেই মারা গেল। তবে করমর্দনকারী দু’জন বেঁচে গেল। কিন্তু একটি পাথর তাদের উভয়ের প্রতি নিক্ষিপ্ত হল এবং নিহত লোকের ভাইয়ের পা ভেঙ্গে ফেলল। আর সে এক বছর জীবিত থাকার পর মারা গেল। (রাবী বলেন) আমি বললাম, আবদুল মালিক ইব্নু মারওয়ান (এক সময়) কাসামার ভিত্তিতে এক ব্যাক্তির কিসাস গ্রহণ করেন। এরপর আপন কৃতকর্মের উপর তিনি লজ্জিত হন এবং ঐ পঞ্চাশ জন লোক সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন যারা শপথ করেছিল, তাদেরকে রেজিস্ট্রার থেকে খারিজ করে দিয়ে সিরিয়ায় নির্বাসন দিলেন।[২৩৩; মুসলিম ২৮/২, হাঃ ১৬৭১, আহমাদ ১২৯৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩২)