সহিহ বুখারী > জ্বিনদের উল্লেখ।
সহিহ বুখারী ৩৮৫৯
حدثني عبيد الله بن سعيد حدثنا أبو أسامة حدثنا مسعر عن معن بن عبد الرحمن قال سمعت أبي قال سألت مسروقا من آذن النبي صلى الله عليه وسلم بالجن ليلة استمعوا القرآن فقال حدثني أبوك يعني عبد الله أنه آذنت بهم شجرة
আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি মাসরূক (রহঃ) - কে জিজ্ঞেস করলাম, যে রাতে জ্বিনরা মনযোগের সঙ্গে কুরআন শ্রবণ করেছিল ঐ রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে তাদের উপস্থিতির খবর কে দিয়েছিল? তিনি বললেন, তোমার পিতা ‘আবদুল্লাহ [ইব্নু মাসউদ (রাঃ)] আমাকে বলেছেন যে, একটি গাছ তাদের উপস্থিতির খবর দিয়েছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৭)
আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি মাসরূক (রহঃ) - কে জিজ্ঞেস করলাম, যে রাতে জ্বিনরা মনযোগের সঙ্গে কুরআন শ্রবণ করেছিল ঐ রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে তাদের উপস্থিতির খবর কে দিয়েছিল? তিনি বললেন, তোমার পিতা ‘আবদুল্লাহ [ইব্নু মাসউদ (রাঃ)] আমাকে বলেছেন যে, একটি গাছ তাদের উপস্থিতির খবর দিয়েছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৭)
حدثني عبيد الله بن سعيد حدثنا أبو أسامة حدثنا مسعر عن معن بن عبد الرحمن قال سمعت أبي قال سألت مسروقا من آذن النبي صلى الله عليه وسلم بالجن ليلة استمعوا القرآن فقال حدثني أبوك يعني عبد الله أنه آذنت بهم شجرة
সহিহ বুখারী ৩৮৬০
حدثنا موسى بن إسماعيل حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد قال أخبرني جدي عن أبي هريرة أنه كان يحمل مع النبي صلى الله عليه وسلم إداوة لوضوئه وحاجته فبينما هو يتبعه بها فقال من هذا فقال أنا أبو هريرة فقال ابغني أحجارا أستنفض بها ولا تأتني بعظم ولا بروثة فأتيته بأحجار أحملها في طرف ثوبي حتى وضعتها إلى جنبه ثم انصرفت حتى إذا فرغ مشيت فقلت ما بال العظم والروثة قال هما من طعام الجن وإنه أتاني وفد جن نصيبين ونعم الجن فسألوني الزاد فدعوت الله لهم أن لا يمروا بعظم ولا بروثة إلا وجدوا عليها طعاما
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর উযু ও ইস্তিন্জার ব্যবহারের জন্য পানি ভর্তি একটি পাত্র নিয়ে পিছনে পিছনে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তিনি তাকিয়ে বললেন, কে? আমি বললাম, আমি আবূ হুরায়রা। তিনি বললেন, আমাকে কয়েকটি পাথর তালাশ করে দাও। আমি তা দিয়ে ইস্তিন্জা করব। [১] তবে, হাড় এবং গোবর আনবে না। আমি আমার কাপড়ের কিনারায় কয়েকটি পাথর এনে তাঁর কাছে রেখে দিলাম এবং আমি সেখান থেকে কিছুটা দূরে গেলাম। তিনি যখন ইস্তিন্জা হতে বেরোলেন, তখন আমি এগিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হাড় ও গোবরের ব্যাপার কি? তিনি বললেন, এগুলো জ্বিনের খাবার। আমার কাছে নাসীবীন [২] নামের জায়গা হতে জ্বিনের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। তারা ভাল জ্বিন ছিল। তারা আমার কাছে খাদ্যদ্রব্যের আবেদন জানাল। তখন আমি আল্লাহ্র নিকট দু'আ করলাম যে, যখন কোন হাড্ডি বা গোবর তারা লাভ করে তখন তারা যেন তাতে খাদ্য পায়। [৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৮)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর উযু ও ইস্তিন্জার ব্যবহারের জন্য পানি ভর্তি একটি পাত্র নিয়ে পিছনে পিছনে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তিনি তাকিয়ে বললেন, কে? আমি বললাম, আমি আবূ হুরায়রা। তিনি বললেন, আমাকে কয়েকটি পাথর তালাশ করে দাও। আমি তা দিয়ে ইস্তিন্জা করব। [১] তবে, হাড় এবং গোবর আনবে না। আমি আমার কাপড়ের কিনারায় কয়েকটি পাথর এনে তাঁর কাছে রেখে দিলাম এবং আমি সেখান থেকে কিছুটা দূরে গেলাম। তিনি যখন ইস্তিন্জা হতে বেরোলেন, তখন আমি এগিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হাড় ও গোবরের ব্যাপার কি? তিনি বললেন, এগুলো জ্বিনের খাবার। আমার কাছে নাসীবীন [২] নামের জায়গা হতে জ্বিনের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। তারা ভাল জ্বিন ছিল। তারা আমার কাছে খাদ্যদ্রব্যের আবেদন জানাল। তখন আমি আল্লাহ্র নিকট দু'আ করলাম যে, যখন কোন হাড্ডি বা গোবর তারা লাভ করে তখন তারা যেন তাতে খাদ্য পায়। [৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৮)
حدثنا موسى بن إسماعيل حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد قال أخبرني جدي عن أبي هريرة أنه كان يحمل مع النبي صلى الله عليه وسلم إداوة لوضوئه وحاجته فبينما هو يتبعه بها فقال من هذا فقال أنا أبو هريرة فقال ابغني أحجارا أستنفض بها ولا تأتني بعظم ولا بروثة فأتيته بأحجار أحملها في طرف ثوبي حتى وضعتها إلى جنبه ثم انصرفت حتى إذا فرغ مشيت فقلت ما بال العظم والروثة قال هما من طعام الجن وإنه أتاني وفد جن نصيبين ونعم الجن فسألوني الزاد فدعوت الله لهم أن لا يمروا بعظم ولا بروثة إلا وجدوا عليها طعاما
সহিহ বুখারী > আবূ যার (রাঃ) - এর ইসলাম গ্রহন।
সহিহ বুখারী ৩৮৬১
حدثني عمرو بن عباس حدثنا عبد الرحمن بن مهدي حدثنا المثنى عن أبي جمرة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال لما بلغ أبا ذر مبعث النبي صلى الله عليه وسلم قال لأخيه اركب إلى هذا الوادي فاعلم لي علم هذا الرجل الذي يزعم أنه نبي يأتيه الخبر من السماء واسمع من قوله ثم ائتني فانطلق الأخ حتى قدمه وسمع من قوله ثم رجع إلى أبي ذر فقال له رأيته يأمر بمكارم الأخلاق وكلاما ما هو بالشعر فقال ما شفيتني مما أردت فتزود وحمل شنة له فيها ماء حتى قدم مكة فأتى المسجد فالتمس النبي صلى الله عليه وسلم ولا يعرفه وكره أن يسأل عنه حتى أدركه بعض الليل فاضطجع فرآه علي فعرف أنه غريب فلما رآه تبعه فلم يسأل واحد منهما صاحبه عن شيء حتى أصبح ثم احتمل قربته وزاده إلى المسجد وظل ذلك اليوم ولا يراه النبي صلى الله عليه وسلم حتى أمسى فعاد إلى مضجعه فمر به علي فقال أما نال للرجل أن يعلم منزله فأقامه فذهب به معه لا يسأل واحد منهما صاحبه عن شيء حتى إذا كان يوم الثالث فعاد علي على مثل ذلك فأقام معه ثم قال ألا تحدثني ما الذي أقدمك قال إن أعطيتني عهدا وميثاقا لترشدني فعلت ففعل فأخبره قال فإنه حق وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا أصبحت فاتبعني فإني إن رأيت شيئا أخاف عليك قمت كأني أريق الماء فإن مضيت فاتبعني حتى تدخل مدخلي ففعل فانطلق يقفوه حتى دخل على النبي صلى الله عليه وسلم ودخل معه فسمع من قوله وأسلم مكانه فقال له النبي صلى الله عليه وسلم ارجع إلى قومك فأخبرهم حتى يأتيك أمري قال والذي نفسي بيده لاصرخن بها بين ظهرانيهم فخرج حتى أتى المسجد فنادى بأعلى صوته أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله ثم قام القوم فضربوه حتى أضجعوه وأتى العباس فأكب عليه قال ويلكم ألستم تعلمون أنه من غفار وأن طريق تجاركم إلى الشأم فأنقذه منهم ثم عاد من الغد لمثلها فضربوه وثاروا إليه فأكب العباس عليه
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর আবির্ভাবের খবর যখন আবূ যার (রাঃ) এর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাঁর ভাইকে বললেন, তুমি এই উপত্যকায় গিয়ে ঐ লোক সম্পর্কে জেনে আস যে লোক নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন ও তাঁর কাছে আসমান হতে সংবাদ আসে। তাঁর কথাবার্তা মনোযোগ দিয়ে শুন এবং ফিরে এসে আমাকে শুনাও। তাঁর ভাই রওয়ানা হয়ে ঐ লোকের কাছে পৌঁছে তাঁর কথাবার্তা শুনলেন। এরপর তিনি আবূ যারের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম আখলাক গ্রহন করার জন্য নির্দেশ দান করছেন এবং এমন কালাম যা পদ্য নয়। এতে আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি যে জন্য তোমাকে পাঠিয়েছিলাম সে বিষয়ে তুমি আমাকে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলে না। আবূ যার (রাঃ) সফরের জন্য সামান্য পাথেয় সংগ্রহ করলেন এবং একটি ছোট্ট পানির মশকসহ মক্কায় উপস্থিত হলেন। মসজিদে হারামে প্রবেশ করে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে খোঁজ করতে লাগলেন। তিনি তাঁকে চিনতেন না। আবার কাউকে তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করাও পছন্দ করলেন না। এ অবস্থায় রাত হয়ে গেল। তিনি শুয়ে পড়লেন। ‘আলী (রাঃ) তাঁকে দেখে বুঝলেন যে, লোকটি বিদেশী। যখন আবূ যার ‘আলী (রাঃ) - কে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর পিছনে পিছনে গেলেন। কিন্তু সকাল পর্যন্ত একে অন্যকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলেন না। আবূ যার (রাঃ) পুনরায় তাঁর পাথেয় ও মশক নিয়ে মসজিদে হারামের দিকে চলে গেলেন। এ দিনটি এমনিভাবে কেটে গেল, কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখতে পেলেন না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। তিনি শোয়ার জায়গায় ফিরে গেলেন। তখন ‘আলী (রাঃ) তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এখনও কি মুসাফিরের গন্তব্য স্থানের সন্ধান হয়নি? সে এখনও এ জায়গায় অবস্থান করছে। তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। কেউ কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। এ অবস্থায় তৃতীয় দিন হয়ে গেল। ‘আলী (রাঃ) পূর্বের ন্যায় তাঁর পাশ দিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন - তুমি কি আমাকে বলবে না কোন জিনিস এখানে তোমাকে অনুপ্রেরিত করেছে? আবূ যার (রাঃ) বললেন, তুমি যদি আমাকে সঠিক রাস্তা দেখানোর পাকা অঙ্গীকার কর তবেই আমি তোমাকে বলতে পারি। ‘আলী (রাঃ) অঙ্গীকার করলেন এবং আবূ যার (রাঃ) ও তাঁর আগমনের উদেশ্য বললেন। ‘আলী (রাঃ) বললেন, তিনি সত্য, তিনি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। যখন ভোর হয়ে যাবে তখন তুমি আমার অনুসরণ করবে। তোমার জন্য ভয়ের কারণ আছে এমন যদি কোন ব্যাপার আমি দেখতে পাই তবে আমি রাস্তার পাশে চলে যাব যেন আমি পেশাব করতে চাই। আর যদি আমি সোজা চলতে থাকি তবে তুমিও আমার অনুসরণ করতে থাকবে এবং যে ঘরে আমি প্রবেশ করি সে ঘরে তুমিও প্রবেশ করবে। আবূ যার (রাঃ) তাই করলেন। ‘আলী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তিনিও তাঁর [‘আলী (রাঃ)] সাথে প্রবেশ করলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কথাবার্তা শুনলেন এবং ঐখানেই তিনি ইসলাম গ্রহন করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তোমার স্বগোত্রে ফিরে যাও এবং আমার নির্দেশ না পৌঁছা পর্যন্ত আমার ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করবে। আবূ যার (রাঃ) বললেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি আমার ইসলাম গ্রহনকে মুশরিকদের সম্মুখে উচ্চস্বরে ঘোষণা করব। এই বলে তিনি বেরিয়ে পড়লেন ও মসজিদে হারামে গিয়ে হাজির হলেন এবং উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করলেন, (আরবি) (তৎক্ষণাৎ) লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং মারতে মারতে তাঁকে মাটিতে ফেলে দিল। এমন সময় ‘আব্বাস (রাঃ) এসে তাঁকে রক্ষা করলেন এবং বললেন, তোমাদের বিপদ অবধারিত। তোমরা কি জান না, এ লোকটি গিফার গোত্রের? আর তোমাদের ব্যবসায়ী কাফেলাগুলোকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়েই সিরিয়া যাতায়াত করতে হয়। এ কথা বলে তিনি তাদের হাত হতে আবূ যারকে রক্ষা করলেন। পরদিন সকালে তিনি ঐরূপই বলতে লাগলেন। লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে ভীষণভাবে মারতে লাগল। ‘আব্বাস (রাঃ) এসে তাঁকে সামলে নিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৯)
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর আবির্ভাবের খবর যখন আবূ যার (রাঃ) এর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাঁর ভাইকে বললেন, তুমি এই উপত্যকায় গিয়ে ঐ লোক সম্পর্কে জেনে আস যে লোক নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন ও তাঁর কাছে আসমান হতে সংবাদ আসে। তাঁর কথাবার্তা মনোযোগ দিয়ে শুন এবং ফিরে এসে আমাকে শুনাও। তাঁর ভাই রওয়ানা হয়ে ঐ লোকের কাছে পৌঁছে তাঁর কথাবার্তা শুনলেন। এরপর তিনি আবূ যারের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম আখলাক গ্রহন করার জন্য নির্দেশ দান করছেন এবং এমন কালাম যা পদ্য নয়। এতে আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি যে জন্য তোমাকে পাঠিয়েছিলাম সে বিষয়ে তুমি আমাকে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলে না। আবূ যার (রাঃ) সফরের জন্য সামান্য পাথেয় সংগ্রহ করলেন এবং একটি ছোট্ট পানির মশকসহ মক্কায় উপস্থিত হলেন। মসজিদে হারামে প্রবেশ করে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে খোঁজ করতে লাগলেন। তিনি তাঁকে চিনতেন না। আবার কাউকে তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করাও পছন্দ করলেন না। এ অবস্থায় রাত হয়ে গেল। তিনি শুয়ে পড়লেন। ‘আলী (রাঃ) তাঁকে দেখে বুঝলেন যে, লোকটি বিদেশী। যখন আবূ যার ‘আলী (রাঃ) - কে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর পিছনে পিছনে গেলেন। কিন্তু সকাল পর্যন্ত একে অন্যকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলেন না। আবূ যার (রাঃ) পুনরায় তাঁর পাথেয় ও মশক নিয়ে মসজিদে হারামের দিকে চলে গেলেন। এ দিনটি এমনিভাবে কেটে গেল, কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখতে পেলেন না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। তিনি শোয়ার জায়গায় ফিরে গেলেন। তখন ‘আলী (রাঃ) তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এখনও কি মুসাফিরের গন্তব্য স্থানের সন্ধান হয়নি? সে এখনও এ জায়গায় অবস্থান করছে। তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। কেউ কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। এ অবস্থায় তৃতীয় দিন হয়ে গেল। ‘আলী (রাঃ) পূর্বের ন্যায় তাঁর পাশ দিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন - তুমি কি আমাকে বলবে না কোন জিনিস এখানে তোমাকে অনুপ্রেরিত করেছে? আবূ যার (রাঃ) বললেন, তুমি যদি আমাকে সঠিক রাস্তা দেখানোর পাকা অঙ্গীকার কর তবেই আমি তোমাকে বলতে পারি। ‘আলী (রাঃ) অঙ্গীকার করলেন এবং আবূ যার (রাঃ) ও তাঁর আগমনের উদেশ্য বললেন। ‘আলী (রাঃ) বললেন, তিনি সত্য, তিনি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। যখন ভোর হয়ে যাবে তখন তুমি আমার অনুসরণ করবে। তোমার জন্য ভয়ের কারণ আছে এমন যদি কোন ব্যাপার আমি দেখতে পাই তবে আমি রাস্তার পাশে চলে যাব যেন আমি পেশাব করতে চাই। আর যদি আমি সোজা চলতে থাকি তবে তুমিও আমার অনুসরণ করতে থাকবে এবং যে ঘরে আমি প্রবেশ করি সে ঘরে তুমিও প্রবেশ করবে। আবূ যার (রাঃ) তাই করলেন। ‘আলী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তিনিও তাঁর [‘আলী (রাঃ)] সাথে প্রবেশ করলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কথাবার্তা শুনলেন এবং ঐখানেই তিনি ইসলাম গ্রহন করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তোমার স্বগোত্রে ফিরে যাও এবং আমার নির্দেশ না পৌঁছা পর্যন্ত আমার ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করবে। আবূ যার (রাঃ) বললেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি আমার ইসলাম গ্রহনকে মুশরিকদের সম্মুখে উচ্চস্বরে ঘোষণা করব। এই বলে তিনি বেরিয়ে পড়লেন ও মসজিদে হারামে গিয়ে হাজির হলেন এবং উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করলেন, (আরবি) (তৎক্ষণাৎ) লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং মারতে মারতে তাঁকে মাটিতে ফেলে দিল। এমন সময় ‘আব্বাস (রাঃ) এসে তাঁকে রক্ষা করলেন এবং বললেন, তোমাদের বিপদ অবধারিত। তোমরা কি জান না, এ লোকটি গিফার গোত্রের? আর তোমাদের ব্যবসায়ী কাফেলাগুলোকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়েই সিরিয়া যাতায়াত করতে হয়। এ কথা বলে তিনি তাদের হাত হতে আবূ যারকে রক্ষা করলেন। পরদিন সকালে তিনি ঐরূপই বলতে লাগলেন। লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে ভীষণভাবে মারতে লাগল। ‘আব্বাস (রাঃ) এসে তাঁকে সামলে নিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৯)
حدثني عمرو بن عباس حدثنا عبد الرحمن بن مهدي حدثنا المثنى عن أبي جمرة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال لما بلغ أبا ذر مبعث النبي صلى الله عليه وسلم قال لأخيه اركب إلى هذا الوادي فاعلم لي علم هذا الرجل الذي يزعم أنه نبي يأتيه الخبر من السماء واسمع من قوله ثم ائتني فانطلق الأخ حتى قدمه وسمع من قوله ثم رجع إلى أبي ذر فقال له رأيته يأمر بمكارم الأخلاق وكلاما ما هو بالشعر فقال ما شفيتني مما أردت فتزود وحمل شنة له فيها ماء حتى قدم مكة فأتى المسجد فالتمس النبي صلى الله عليه وسلم ولا يعرفه وكره أن يسأل عنه حتى أدركه بعض الليل فاضطجع فرآه علي فعرف أنه غريب فلما رآه تبعه فلم يسأل واحد منهما صاحبه عن شيء حتى أصبح ثم احتمل قربته وزاده إلى المسجد وظل ذلك اليوم ولا يراه النبي صلى الله عليه وسلم حتى أمسى فعاد إلى مضجعه فمر به علي فقال أما نال للرجل أن يعلم منزله فأقامه فذهب به معه لا يسأل واحد منهما صاحبه عن شيء حتى إذا كان يوم الثالث فعاد علي على مثل ذلك فأقام معه ثم قال ألا تحدثني ما الذي أقدمك قال إن أعطيتني عهدا وميثاقا لترشدني فعلت ففعل فأخبره قال فإنه حق وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا أصبحت فاتبعني فإني إن رأيت شيئا أخاف عليك قمت كأني أريق الماء فإن مضيت فاتبعني حتى تدخل مدخلي ففعل فانطلق يقفوه حتى دخل على النبي صلى الله عليه وسلم ودخل معه فسمع من قوله وأسلم مكانه فقال له النبي صلى الله عليه وسلم ارجع إلى قومك فأخبرهم حتى يأتيك أمري قال والذي نفسي بيده لاصرخن بها بين ظهرانيهم فخرج حتى أتى المسجد فنادى بأعلى صوته أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله ثم قام القوم فضربوه حتى أضجعوه وأتى العباس فأكب عليه قال ويلكم ألستم تعلمون أنه من غفار وأن طريق تجاركم إلى الشأم فأنقذه منهم ثم عاد من الغد لمثلها فضربوه وثاروا إليه فأكب العباس عليه
সহিহ বুখারী > সা'ঈদ ইব্নু যায়দ (রাঃ) - এর ইসলাম গ্রহন।
সহিহ বুখারী ৩৮৬২
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن إسماعيل عن قيس قال سمعت سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل في مسجد الكوفة يقول والله لقد رأيتني وإن عمر لموثقي على الإسلام قبل أن يسلم عمر ولو أن أحدا ارفض للذي صنعتم بعثمان لكان
কায়স (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
কায়স (রাঃ) বলেন, আমি সা’ঈদ ইব্নু যায়দ ইব্নু ‘আমর ইব্নু নুফায়ল (রাঃ) - কে কুফার মসজিদে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, ‘উমরের ইসলাম গ্রহনের আগে আমার ইসলাম গ্রহনের কারণে তাঁর হাতে আমাকে বন্দী হতে দেখেছি। তোমরা ‘উসমান (রাঃ) এর সাথে যে আচরণ করলে এ কারণে যদি উহুদ পাহাড় বিদীর্ণ হয়ে যায় তবে তা হওয়া ঠিকই হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮০)
কায়স (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
কায়স (রাঃ) বলেন, আমি সা’ঈদ ইব্নু যায়দ ইব্নু ‘আমর ইব্নু নুফায়ল (রাঃ) - কে কুফার মসজিদে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, ‘উমরের ইসলাম গ্রহনের আগে আমার ইসলাম গ্রহনের কারণে তাঁর হাতে আমাকে বন্দী হতে দেখেছি। তোমরা ‘উসমান (রাঃ) এর সাথে যে আচরণ করলে এ কারণে যদি উহুদ পাহাড় বিদীর্ণ হয়ে যায় তবে তা হওয়া ঠিকই হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮০)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن إسماعيل عن قيس قال سمعت سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل في مسجد الكوفة يقول والله لقد رأيتني وإن عمر لموثقي على الإسلام قبل أن يسلم عمر ولو أن أحدا ارفض للذي صنعتم بعثمان لكان
সহিহ বুখারী > উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহন।
সহিহ বুখারী ৩৮৬৩
حدثني محمد بن كثير أخبرنا سفيان عن إسماعيل بن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم عن عبد الله بن مسعود قال ما زلنا أعزة منذ أسلم عم
আবদুল্লাহ ইব্নু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) যেদিন থেকে ইসলাম গ্রহন করলেন ঐ দিন হতে আমরা সর্বদা সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত আছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮১)
আবদুল্লাহ ইব্নু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) যেদিন থেকে ইসলাম গ্রহন করলেন ঐ দিন হতে আমরা সর্বদা সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত আছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮১)
حدثني محمد بن كثير أخبرنا سفيان عن إسماعيل بن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم عن عبد الله بن مسعود قال ما زلنا أعزة منذ أسلم عم
সহিহ বুখারী ৩৮৬৫
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال عمرو بن دينار سمعته قال قال عبد الله بن عمر رضي الله عنهما لما أسلم عمر اجتمع الناس عند داره وقالوا صبا عمر وأنا غلام فوق ظهر بيتي فجاء رجل عليه قباء من ديباج فقال قد صبا عمر فما ذاك فأنا له جار قال فرأيت الناس تصدعوا عنه فقلت من هذا قالوا العاص بن وائل
আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) বলেন, যখন ‘উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহন করলেন, তখন লোকেরা তাঁর গৃহের কাছে জড় হল এবং বলতে লাগল, ‘উমার স্বধর্ম ত্যাগ করেছে। আমি তখন ছোট ছেলে। আমাদের ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছিলাম। তখন একজন লোক এসে বলল, তার গায়ে রেশমী জুববা ছিল, ‘উমার স্বধর্ম ত্যাগ করেছে, কিন্তু এ সমাবেশ কেন? আমি তাকে আশ্রয় দিচ্ছি। ইব্নু ‘উমার (রাঃ) বলেন, তখন আমি দেখলাম, লোকজন চারিদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কে? লোকেরা বলল, ‘আস ইব্নু ওয়াইল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৩)
আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) বলেন, যখন ‘উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহন করলেন, তখন লোকেরা তাঁর গৃহের কাছে জড় হল এবং বলতে লাগল, ‘উমার স্বধর্ম ত্যাগ করেছে। আমি তখন ছোট ছেলে। আমাদের ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছিলাম। তখন একজন লোক এসে বলল, তার গায়ে রেশমী জুববা ছিল, ‘উমার স্বধর্ম ত্যাগ করেছে, কিন্তু এ সমাবেশ কেন? আমি তাকে আশ্রয় দিচ্ছি। ইব্নু ‘উমার (রাঃ) বলেন, তখন আমি দেখলাম, লোকজন চারিদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কে? লোকেরা বলল, ‘আস ইব্নু ওয়াইল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৩)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال عمرو بن دينار سمعته قال قال عبد الله بن عمر رضي الله عنهما لما أسلم عمر اجتمع الناس عند داره وقالوا صبا عمر وأنا غلام فوق ظهر بيتي فجاء رجل عليه قباء من ديباج فقال قد صبا عمر فما ذاك فأنا له جار قال فرأيت الناس تصدعوا عنه فقلت من هذا قالوا العاص بن وائل
সহিহ বুখারী ৩৮৬৭
حدثني محمد بن المثنى حدثنا يحيى حدثنا إسماعيل حدثنا قيس قال سمعت سعيد بن زيد يقول للقوم لو رأيتني موثقي عمر على الإسلام أنا وأخته وما أسلم ولو أن أحدا انقض لما صنعتم بعثمان لكان محقوقا أن ينقض
কাইস (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
কাইস (রহঃ) বলেন, আমি সা’ঈদ ইব্নু যায়দ (রাঃ) - কে তাঁর গোত্রকে লক্ষ্য করে একথা বলতে শুনেছি যে, আমি দেখেছি ‘উমার (রাঃ) আমাকে এবং তার বোন ফাতিমাকে ইসলাম গ্রহন করার কারণে বেঁধে রেখেছেন। তখন তিনি ইসলাম গ্রহন করেননি। তোমরা ‘উসমান (রাঃ) - এর সাথে যে অসদাচারণ করেছ তার কারণে যদি উহুদ পাহাড় বিদীর্ণ হয় তবে তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৫)
কাইস (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
কাইস (রহঃ) বলেন, আমি সা’ঈদ ইব্নু যায়দ (রাঃ) - কে তাঁর গোত্রকে লক্ষ্য করে একথা বলতে শুনেছি যে, আমি দেখেছি ‘উমার (রাঃ) আমাকে এবং তার বোন ফাতিমাকে ইসলাম গ্রহন করার কারণে বেঁধে রেখেছেন। তখন তিনি ইসলাম গ্রহন করেননি। তোমরা ‘উসমান (রাঃ) - এর সাথে যে অসদাচারণ করেছ তার কারণে যদি উহুদ পাহাড় বিদীর্ণ হয় তবে তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৫)
حدثني محمد بن المثنى حدثنا يحيى حدثنا إسماعيل حدثنا قيس قال سمعت سعيد بن زيد يقول للقوم لو رأيتني موثقي عمر على الإسلام أنا وأخته وما أسلم ولو أن أحدا انقض لما صنعتم بعثمان لكان محقوقا أن ينقض
সহিহ বুখারী ৩৮৬৪
حدثني يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر بن محمد قال فأخبرني جدي زيد بن عبد الله بن عمر عن أبيه قال بينما هو في الدار خائفا إذ جاءه العاص بن وائل السهمي أبو عمرو عليه حلة حبرة وقميص مكفوف بحرير وهو من بني سهم وهم حلفاؤنا في الجاهلية فقال له ما بالك قال زعم قومك أنهم سيقتلوني إن أسلمت قال لا سبيل إليك بعد أن قالها أمنت فخرج العاص فلقي الناس قد سال بهم الوادي فقال أين تريدون فقالوا نريد هذا ابن الخطاب الذي صبا قال لا سبيل إليه فكر الناس
ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, তাঁর পিতা ‘উমার (রাঃ) একদিন নিজ গৃহে ভীত অবস্থায় অবস্থান করছিলেন। তখন আবূ ‘আমর ‘আস ইব্নু ওয়াইল সাহমী তাঁর নিকট এলেন। তার গায়ে ছিল ধারিদার চাদর ও রেশমী জরির জামা। তিনি বানু সাহম গোত্রের লোক ছিলেন। জাহিলী যুগে তারা আমাদের হালীফ (বিপদকালে সাহায্যের চুক্তি যাদের সাথে করা হয়) ছিল। ‘আস ‘উমার (রাঃ) - কে জিজ্ঞের করলেন আপনার অবস্থা কেমন? ‘উমার (রাঃ) উত্তর দিলেন ইসলাম গ্রহন করার কারণে তোমার গোত্রের লোকজন অচিরেই আমাকে হত্যা করবে। তা শুনে ‘আস (রাঃ) বললেন, তোমার কোন কিছু করার শক্তি ক্ষমতা তাদের নেই। তার কথা শুনে ‘উমর (রাঃ) বললেন, তোমার কথা শুনে আমি নিঃশঙ্ক হলাম। ‘আস বেরিয়ে পড়লেন এবং দেখতে পেলেন, মক্কা ভূমি লোকে ভরপুর। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তারা বলল, আমরা ‘উমার ইব্নুল খাত্তাবের নিকট যাচ্ছি, সে নিজ ধর্ম ত্যাগ করতঃ বিধর্মী হয়ে গেছে। ‘আস বললেন তার নিকট যাওয়ার, তার কোন কিছু করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। এতে লোকজন ফিরে গেল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮২)
ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, তাঁর পিতা ‘উমার (রাঃ) একদিন নিজ গৃহে ভীত অবস্থায় অবস্থান করছিলেন। তখন আবূ ‘আমর ‘আস ইব্নু ওয়াইল সাহমী তাঁর নিকট এলেন। তার গায়ে ছিল ধারিদার চাদর ও রেশমী জরির জামা। তিনি বানু সাহম গোত্রের লোক ছিলেন। জাহিলী যুগে তারা আমাদের হালীফ (বিপদকালে সাহায্যের চুক্তি যাদের সাথে করা হয়) ছিল। ‘আস ‘উমার (রাঃ) - কে জিজ্ঞের করলেন আপনার অবস্থা কেমন? ‘উমার (রাঃ) উত্তর দিলেন ইসলাম গ্রহন করার কারণে তোমার গোত্রের লোকজন অচিরেই আমাকে হত্যা করবে। তা শুনে ‘আস (রাঃ) বললেন, তোমার কোন কিছু করার শক্তি ক্ষমতা তাদের নেই। তার কথা শুনে ‘উমর (রাঃ) বললেন, তোমার কথা শুনে আমি নিঃশঙ্ক হলাম। ‘আস বেরিয়ে পড়লেন এবং দেখতে পেলেন, মক্কা ভূমি লোকে ভরপুর। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তারা বলল, আমরা ‘উমার ইব্নুল খাত্তাবের নিকট যাচ্ছি, সে নিজ ধর্ম ত্যাগ করতঃ বিধর্মী হয়ে গেছে। ‘আস বললেন তার নিকট যাওয়ার, তার কোন কিছু করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। এতে লোকজন ফিরে গেল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮২)
حدثني يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر بن محمد قال فأخبرني جدي زيد بن عبد الله بن عمر عن أبيه قال بينما هو في الدار خائفا إذ جاءه العاص بن وائل السهمي أبو عمرو عليه حلة حبرة وقميص مكفوف بحرير وهو من بني سهم وهم حلفاؤنا في الجاهلية فقال له ما بالك قال زعم قومك أنهم سيقتلوني إن أسلمت قال لا سبيل إليك بعد أن قالها أمنت فخرج العاص فلقي الناس قد سال بهم الوادي فقال أين تريدون فقالوا نريد هذا ابن الخطاب الذي صبا قال لا سبيل إليه فكر الناس
সহিহ বুখারী ৩৮৬৬
حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر أن سالما حدثه عن عبد الله بن عمر قال ما سمعت عمر لشيء قط يقول إني لاظنه كذا إلا كان كما يظن بينما عمر جالس إذ مر به رجل جميل فقال لقد أخطأ ظني أو إن هذا على دينه في الجاهلية أو لقد كان كاهنهم علي الرجل فدعي له فقال له ذلك فقال ما رأيت كاليوم استقبل به رجل مسلم قال فإني أعزم عليك إلا ما أخبرتني قال كنت كاهنهم في الجاهلية قال فما أعجب ما جاءتك به جنيتك قال بينما أنا يوما في السوق جاءتني أعرف فيها الفزع فقالت ألم تر الجن وإبلاسها ويأسها من بعد إنكاسها ولحوقها بالقلاص وأحلاسها قال عمر صدق بينما أنا نائم عند آلهتهم إذ جاء رجل بعجل فذبحه فصرخ به صارخ لم أسمع صارخا قط أشد صوتا منه يقول يا جليح أمر نجيح رجل فصيح يقول لا إله إلا الله فوثب القوم قلت لا أبرح حتى أعلم ما وراء هذا ثم نادى يا جليح أمر نجيح رجل فصيح يقول لا إله إلا الله فقمت فما نشبنا أن قيل هذا نبي
আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি যখনই ‘উমার (রাঃ) - কে কোন ব্যাপারে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আমার মনে হয় ব্যাপারটি এমন হবে, তবে তার ধারণা মত ব্যাপারটি সংঘটিত হয়েছে। একবার ‘উমার (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় এক সুদর্শন লোক তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমার ধারণা ভুলও হতে পারে তবে আমার মনে হয় লোকটি জাহেলী ধর্মাবলম্বী কিংবা ভবিষ্যৎ গণনাকারীও হতে পারে। লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এস। তাকে তাঁর কাছে ডেকে আনা হল। ‘উমার (রাঃ) তার ধারণার কথা তাকে শুনালেন। তখন সে বলল, ইতিপূর্বে আমি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে এরূপ কথা বলতে দেখিনি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তুমি আমাকে তোমার বিষয়টি খুলে বল। সে বলল, জাহিলী যুগে আমি তাদের ভবিষ্যৎ গণনাকারী ছিলাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন, জ্বিনেরা তোমাকে যে সব কথাবার্তা বলেছে, তন্মধ্যে কোন কথাটি তোমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল। সে বলল, আমি একদিন বাজারে ছিলাম। তখন একটি মহিলা জ্বিন আমার নিকট আসল। আমি তাকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখতে পেলাম। তখন সে বলল, তুমি কি জ্বিন জাতির অবস্থা দেখছনা, তারা কেমন দুর্বল হয়ে পড়ছে? তাদের মধ্যে হতাশার চিহ্ণ দেখা যাচ্ছে। তারা ক্রমশঃ উটওয়ালাদের এবং চাদর জুব্বা পরিধানকারীদের অনুগত হয়ে পড়ছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, সে সত্য কথা বলেছে। আমি একদিন তাদের দেবতাদের কাছে ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন এক লোক একটি গরুর বাছুর নিয়ে হাজির হল এবং সেটা যবেহ করে দিল। ঐ সময় এক লোক এমন বিকট চিৎকার করে উঠল, যা আমি আর কখনো শুনিনি। সে চিৎকার করে বলছিল, হে জলীহ্! একটি সাধারণ কল্যাণময় ব্যাপার শীঘ্রই প্রকাশ লাভ করবে। তা হল- একজন শুদ্ধভাষী লোক বলবেন; لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ (শুনে) লোকজন ছুটাছুটি করে পলায়ন করল। আমি বললাম, এ ঘোষণার রহস্য অবশ্যই বের করব। তারপর আবার ঘোষণা দেয়া হল। হে জলীহ্! একটি সাধারণ ও কল্যাণময় ব্যাপার অতি শীঘ্র প্রকাশ পাবে। তাহল একজন বাগ্মী ব্যক্তি لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর প্রকাশ্যে ঘোষণা দিবে। তারপর আমি উঠে দাঁড়ালাম। এর কিছুদিন পরেই বলা হল যে, ইনিই নবী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৪)
আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি যখনই ‘উমার (রাঃ) - কে কোন ব্যাপারে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আমার মনে হয় ব্যাপারটি এমন হবে, তবে তার ধারণা মত ব্যাপারটি সংঘটিত হয়েছে। একবার ‘উমার (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় এক সুদর্শন লোক তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমার ধারণা ভুলও হতে পারে তবে আমার মনে হয় লোকটি জাহেলী ধর্মাবলম্বী কিংবা ভবিষ্যৎ গণনাকারীও হতে পারে। লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এস। তাকে তাঁর কাছে ডেকে আনা হল। ‘উমার (রাঃ) তার ধারণার কথা তাকে শুনালেন। তখন সে বলল, ইতিপূর্বে আমি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে এরূপ কথা বলতে দেখিনি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তুমি আমাকে তোমার বিষয়টি খুলে বল। সে বলল, জাহিলী যুগে আমি তাদের ভবিষ্যৎ গণনাকারী ছিলাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন, জ্বিনেরা তোমাকে যে সব কথাবার্তা বলেছে, তন্মধ্যে কোন কথাটি তোমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল। সে বলল, আমি একদিন বাজারে ছিলাম। তখন একটি মহিলা জ্বিন আমার নিকট আসল। আমি তাকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখতে পেলাম। তখন সে বলল, তুমি কি জ্বিন জাতির অবস্থা দেখছনা, তারা কেমন দুর্বল হয়ে পড়ছে? তাদের মধ্যে হতাশার চিহ্ণ দেখা যাচ্ছে। তারা ক্রমশঃ উটওয়ালাদের এবং চাদর জুব্বা পরিধানকারীদের অনুগত হয়ে পড়ছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, সে সত্য কথা বলেছে। আমি একদিন তাদের দেবতাদের কাছে ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন এক লোক একটি গরুর বাছুর নিয়ে হাজির হল এবং সেটা যবেহ করে দিল। ঐ সময় এক লোক এমন বিকট চিৎকার করে উঠল, যা আমি আর কখনো শুনিনি। সে চিৎকার করে বলছিল, হে জলীহ্! একটি সাধারণ কল্যাণময় ব্যাপার শীঘ্রই প্রকাশ লাভ করবে। তা হল- একজন শুদ্ধভাষী লোক বলবেন; لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ (শুনে) লোকজন ছুটাছুটি করে পলায়ন করল। আমি বললাম, এ ঘোষণার রহস্য অবশ্যই বের করব। তারপর আবার ঘোষণা দেয়া হল। হে জলীহ্! একটি সাধারণ ও কল্যাণময় ব্যাপার অতি শীঘ্র প্রকাশ পাবে। তাহল একজন বাগ্মী ব্যক্তি لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর প্রকাশ্যে ঘোষণা দিবে। তারপর আমি উঠে দাঁড়ালাম। এর কিছুদিন পরেই বলা হল যে, ইনিই নবী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৪)
حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر أن سالما حدثه عن عبد الله بن عمر قال ما سمعت عمر لشيء قط يقول إني لاظنه كذا إلا كان كما يظن بينما عمر جالس إذ مر به رجل جميل فقال لقد أخطأ ظني أو إن هذا على دينه في الجاهلية أو لقد كان كاهنهم علي الرجل فدعي له فقال له ذلك فقال ما رأيت كاليوم استقبل به رجل مسلم قال فإني أعزم عليك إلا ما أخبرتني قال كنت كاهنهم في الجاهلية قال فما أعجب ما جاءتك به جنيتك قال بينما أنا يوما في السوق جاءتني أعرف فيها الفزع فقالت ألم تر الجن وإبلاسها ويأسها من بعد إنكاسها ولحوقها بالقلاص وأحلاسها قال عمر صدق بينما أنا نائم عند آلهتهم إذ جاء رجل بعجل فذبحه فصرخ به صارخ لم أسمع صارخا قط أشد صوتا منه يقول يا جليح أمر نجيح رجل فصيح يقول لا إله إلا الله فوثب القوم قلت لا أبرح حتى أعلم ما وراء هذا ثم نادى يا جليح أمر نجيح رجل فصيح يقول لا إله إلا الله فقمت فما نشبنا أن قيل هذا نبي