সহিহ বুখারী > নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উক্তিঃ আমি যদি কোন ব্যক্তিকে আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম।
সহিহ বুখারী ৩৬৫৬
حدثنا مسلم بن إبراهيم حدثنا وهيب حدثنا أيوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لو كنت متخذا من أمتي خليلا لاتخذت أبا بكر ولكن أخي وصاحبي
আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি আমার উম্মাতের কাউকে যদি আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে আবূ বাক্রকেই গ্রহণ করতাম। তবে তিনি আমার ভাই ও আমার সাহাবী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯১)
আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি আমার উম্মাতের কাউকে যদি আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে আবূ বাক্রকেই গ্রহণ করতাম। তবে তিনি আমার ভাই ও আমার সাহাবী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯১)
حدثنا مسلم بن إبراهيم حدثنا وهيب حدثنا أيوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لو كنت متخذا من أمتي خليلا لاتخذت أبا بكر ولكن أخي وصاحبي
সহিহ বুখারী ৩৬৫৭
حدثنا معلى بن أسد وموسى بن إسماعيل التبوذكي قالا حدثنا وهيب عن أيوب وقال لو كنت متخذا خليلا لاتخذته خليلا ولكن أخوة الإسلام أفضل حدثنا قتيبة حدثنا عبد الوهاب عن أيوب مثله
আইয়ুব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি কাউকে আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে তাকেই আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী ভ্রাতৃত্বই শ্রেয়তম। কুতায়বা (রহঃ).... আইয়ুব (রহঃ) হতে ঐরূপ বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯২)
আইয়ুব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি কাউকে আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে তাকেই আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী ভ্রাতৃত্বই শ্রেয়তম। কুতায়বা (রহঃ).... আইয়ুব (রহঃ) হতে ঐরূপ বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯২)
حدثنا معلى بن أسد وموسى بن إسماعيل التبوذكي قالا حدثنا وهيب عن أيوب وقال لو كنت متخذا خليلا لاتخذته خليلا ولكن أخوة الإسلام أفضل حدثنا قتيبة حدثنا عبد الوهاب عن أيوب مثله
সহিহ বুখারী ৩৬৫৮
حدثنا سليمان بن حرب أخبرنا حماد بن زيد عن أيوب عن عبد الله بن أبي مليكة قال كتب أهل الكوفة إلى ابن الزبير في الجد فقال أما الذي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لو كنت متخذا من هذه الأمة خليلا لاتخذته أنزله أبا يعني أبا بكر
আবদুল্লাহ ইব্নু আবূ মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, কুফাবাসীগণ দাদার (অংশ) সম্পর্কে জানতে চেয়ে ইব্নু যুবায়রের নিকট পত্র পাঠালেন, তিনি বললেন, ঐ মহান ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এ উম্মাতের কাউকে যদি আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে তাকেই করতাম, [অর্থাৎ আবূ বকর (রাঃ)] তিনি দাদাকে মিরাসের ক্ষেত্রে পিতার সম মর্যাদা দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৩)
আবদুল্লাহ ইব্নু আবূ মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, কুফাবাসীগণ দাদার (অংশ) সম্পর্কে জানতে চেয়ে ইব্নু যুবায়রের নিকট পত্র পাঠালেন, তিনি বললেন, ঐ মহান ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এ উম্মাতের কাউকে যদি আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে তাকেই করতাম, [অর্থাৎ আবূ বকর (রাঃ)] তিনি দাদাকে মিরাসের ক্ষেত্রে পিতার সম মর্যাদা দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৩)
حدثنا سليمان بن حرب أخبرنا حماد بن زيد عن أيوب عن عبد الله بن أبي مليكة قال كتب أهل الكوفة إلى ابن الزبير في الجد فقال أما الذي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لو كنت متخذا من هذه الأمة خليلا لاتخذته أنزله أبا يعني أبا بكر
সহিহ বুখারী > ৬২/৬. অধ্যায়ঃ
সহিহ বুখারী ৩৬৫৯
حدثنا الحميدي ومحمد بن عبيد الله قالا حدثنا إبراهيم بن سعد عن أبيه عن محمد بن جبير بن مطعم عن أبيه قال أتت امرأة النبي صلى الله عليه وسلم فأمرها أن ترجع إليه قالت أرأيت إن جئت ولم أجدك كأنها تقول الموت قال إن لم تجديني فأتي أبا بكر
জুবায়ের ইব্নু মুত’ঈম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক স্ত্রীলোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এল। তিনি তাঁকে আবার আসার জন্য বললেন। স্ত্রীলোকটি বলল, আমি এসে যদি আপনাকে না পাই তবে কী করব? এ কথা দ্বারা স্ত্রীলোকটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর প্রতি ইশারা করেছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যদি আমাকে না পাও তাহলে আবূ বাক্রের নিকট আসবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৪)
জুবায়ের ইব্নু মুত’ঈম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক স্ত্রীলোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এল। তিনি তাঁকে আবার আসার জন্য বললেন। স্ত্রীলোকটি বলল, আমি এসে যদি আপনাকে না পাই তবে কী করব? এ কথা দ্বারা স্ত্রীলোকটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর প্রতি ইশারা করেছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যদি আমাকে না পাও তাহলে আবূ বাক্রের নিকট আসবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৪)
حدثنا الحميدي ومحمد بن عبيد الله قالا حدثنا إبراهيم بن سعد عن أبيه عن محمد بن جبير بن مطعم عن أبيه قال أتت امرأة النبي صلى الله عليه وسلم فأمرها أن ترجع إليه قالت أرأيت إن جئت ولم أجدك كأنها تقول الموت قال إن لم تجديني فأتي أبا بكر
সহিহ বুখারী ৩৬৬০
حدثني أحمد بن أبي الطيب حدثنا إسماعيل بن مجالد حدثنا بيان بن بشر عن وبرة بن عبد الرحمن عن همام قال سمعت عمارا يقول رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وما معه إلا خمسة أعبد وامرأتان وأبو بكر
আম্মার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এমন অবস্থায় দেখেছি যে তাঁর সঙ্গে মাত্র পাঁচজন গোলাম, দু’জন মহিলা এবং আবূ বকর (রাঃ) ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৫)
আম্মার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এমন অবস্থায় দেখেছি যে তাঁর সঙ্গে মাত্র পাঁচজন গোলাম, দু’জন মহিলা এবং আবূ বকর (রাঃ) ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৫)
حدثني أحمد بن أبي الطيب حدثنا إسماعيل بن مجالد حدثنا بيان بن بشر عن وبرة بن عبد الرحمن عن همام قال سمعت عمارا يقول رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وما معه إلا خمسة أعبد وامرأتان وأبو بكر
সহিহ বুখারী ৩৬৬২
حدثنا معلى بن أسد حدثنا عبد العزيز بن المختار قال خالد الحذاء حدثنا عن أبي عثمان قال حدثني عمرو بن العاص أن النبي صلى الله عليه وسلم بعثه على جيش ذات السلاسل فأتيته فقلت أي الناس أحب إليك قال عائشة فقلت من الرجال فقال أبوها قلت ثم من قال ثم عمر بن الخطاب فعد رجالا
‘আম্র ইব্নু ‘আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধের সেনাপতি করে পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘আয়িশাহ্! আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তাঁর পিতা (আবূ বাক্র)। আমি জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোন লোকটি? তিনি বললেন, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব অতঃপর আরো কয়েকজনের নাম করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৭)
‘আম্র ইব্নু ‘আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধের সেনাপতি করে পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘আয়িশাহ্! আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তাঁর পিতা (আবূ বাক্র)। আমি জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোন লোকটি? তিনি বললেন, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব অতঃপর আরো কয়েকজনের নাম করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৭)
حدثنا معلى بن أسد حدثنا عبد العزيز بن المختار قال خالد الحذاء حدثنا عن أبي عثمان قال حدثني عمرو بن العاص أن النبي صلى الله عليه وسلم بعثه على جيش ذات السلاسل فأتيته فقلت أي الناس أحب إليك قال عائشة فقلت من الرجال فقال أبوها قلت ثم من قال ثم عمر بن الخطاب فعد رجالا
সহিহ বুখারী ৩৬৬৩
حدثنا أبو اليمان أخبرنا شعيب عن الزهري قال أخبرني أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف أن أبا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بينما راع في غنمه عدا عليه الذئب فأخذ منها شاة فطلبه الراعي فالتفت إليه الذئب فقال من لها يوم السبع يوم ليس لها راع غيري وبينما رجل يسوق بقرة قد حمل عليها فالتفتت إليه فكلمته فقالت إني لم أخلق لهذا ولكني خلقت للحرث قال الناس سبحان الله قال النبي صلى الله عليه وسلم فإني أومن بذلك وأبو بكر وعمر بن الخطاب رضي الله عنهما
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি; এক সময় এক রাখাল তার বকরীর পালের নিকট ছিল। এমন সময় একটি নেকড়ে বাঘ আক্রমণ করে পাল হতে একটি বকরী নিয়ে গেল। রাখাল নেকড়ে বাঘের পিছু ধাওয়া করে বকরীটি ছিনিয়ে আনল। তখন বাঘটি তাকে উদ্দেশ্য করে বলল, তুমি বকরীটি ছিনিয়ে নিলে? হিংস্র জন্তুর আক্রমণের দিন কে তাকে রক্ষা করবে, যেদিন তার জন্য আমি ছাড়া কোন রাখাল থাকবে না। এক সময় এক লোক একটি গাভীর পিঠে আরোহণ করে সেটিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন গাভীটি তাকে লক্ষ্য করে বলল, আমি এ কাজের জন্য সৃষ্ট হয়নি। বরং আমি কৃষি কাজের জন্য সৃষ্ট হয়েছি। একথা শুনে সকলেই বিস্ময়ের সঙ্গে বলতে লাগল, “সুবহানাল্লাহ”! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন আমি, আবূ বাক্র এবং ‘উমার ইব্নু খাত্তাব এ কথা বিশ্বাস করি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৮)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি; এক সময় এক রাখাল তার বকরীর পালের নিকট ছিল। এমন সময় একটি নেকড়ে বাঘ আক্রমণ করে পাল হতে একটি বকরী নিয়ে গেল। রাখাল নেকড়ে বাঘের পিছু ধাওয়া করে বকরীটি ছিনিয়ে আনল। তখন বাঘটি তাকে উদ্দেশ্য করে বলল, তুমি বকরীটি ছিনিয়ে নিলে? হিংস্র জন্তুর আক্রমণের দিন কে তাকে রক্ষা করবে, যেদিন তার জন্য আমি ছাড়া কোন রাখাল থাকবে না। এক সময় এক লোক একটি গাভীর পিঠে আরোহণ করে সেটিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন গাভীটি তাকে লক্ষ্য করে বলল, আমি এ কাজের জন্য সৃষ্ট হয়নি। বরং আমি কৃষি কাজের জন্য সৃষ্ট হয়েছি। একথা শুনে সকলেই বিস্ময়ের সঙ্গে বলতে লাগল, “সুবহানাল্লাহ”! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন আমি, আবূ বাক্র এবং ‘উমার ইব্নু খাত্তাব এ কথা বিশ্বাস করি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৮)
حدثنا أبو اليمان أخبرنا شعيب عن الزهري قال أخبرني أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف أن أبا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بينما راع في غنمه عدا عليه الذئب فأخذ منها شاة فطلبه الراعي فالتفت إليه الذئب فقال من لها يوم السبع يوم ليس لها راع غيري وبينما رجل يسوق بقرة قد حمل عليها فالتفتت إليه فكلمته فقالت إني لم أخلق لهذا ولكني خلقت للحرث قال الناس سبحان الله قال النبي صلى الله عليه وسلم فإني أومن بذلك وأبو بكر وعمر بن الخطاب رضي الله عنهما
সহিহ বুখারী ৩৬৬৪
حدثنا عبدان أخبرنا عبد الله عن يونس عن الزهري قال أخبرني ابن المسيب سمع أبا هريرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول بينا أنا نائم رأيتني على قليب عليها دلو فنزعت منها ما شاء الله ثم أخذها ابن أبي قحافة فنزع بها ذنوبا أو ذنوبين وفي نزعه ضعف والله يغفر له ضعفه ثم استحالت غربا فأخذها ابن الخطاب فلم أر عبقريا من الناس ينزع نزع عمر حتى ضرب الناس بعطن
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে আমি আমাকে এমন একটি কূপের কিনারায় দেখতে পেলাম যেখানে বালতিও রয়েছে আমি কূপ হতে পানি উঠালাম যে পরিমাণ আল্লাহ ইচ্ছা করলেন। অতঃপর বালতিটি ইব্নু আবূ কুহাফা নিলেন এবং এক বা দু’বালতি পানি উঠালেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তার দুর্বলতাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর ‘উমার ইব্নু খাত্তাব বালতিটি তার হাতে নিলেন। তার হাতে বালতিটির আয়তন বেড়ে গেল। পানি উঠানোতে আমি ‘উমারের মত শক্তিশালী বাহাদুর ব্যক্তি কাউকে দেখিনি। শেষে মানুষ নিজ নিজ আবাসে অবস্থান নিল। [১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৯)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে আমি আমাকে এমন একটি কূপের কিনারায় দেখতে পেলাম যেখানে বালতিও রয়েছে আমি কূপ হতে পানি উঠালাম যে পরিমাণ আল্লাহ ইচ্ছা করলেন। অতঃপর বালতিটি ইব্নু আবূ কুহাফা নিলেন এবং এক বা দু’বালতি পানি উঠালেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তার দুর্বলতাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর ‘উমার ইব্নু খাত্তাব বালতিটি তার হাতে নিলেন। তার হাতে বালতিটির আয়তন বেড়ে গেল। পানি উঠানোতে আমি ‘উমারের মত শক্তিশালী বাহাদুর ব্যক্তি কাউকে দেখিনি। শেষে মানুষ নিজ নিজ আবাসে অবস্থান নিল। [১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৯)
حدثنا عبدان أخبرنا عبد الله عن يونس عن الزهري قال أخبرني ابن المسيب سمع أبا هريرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول بينا أنا نائم رأيتني على قليب عليها دلو فنزعت منها ما شاء الله ثم أخذها ابن أبي قحافة فنزع بها ذنوبا أو ذنوبين وفي نزعه ضعف والله يغفر له ضعفه ثم استحالت غربا فأخذها ابن الخطاب فلم أر عبقريا من الناس ينزع نزع عمر حتى ضرب الناس بعطن
সহিহ বুখারী ৩৬৬১
حدثني هشام بن عمار حدثنا صدقة بن خالد حدثنا زيد بن واقد عن بسر بن عبيد الله عن عائذ الله أبي إدريس عن أبي الدرداء قال كنت جالسا عند النبي صلى الله عليه وسلم إذ أقبل أبو بكر آخذا بطرف ثوبه حتى أبدى عن ركبته فقال النبي صلى الله عليه وسلم أما صاحبكم فقد غامر فسلم وقال إني كان بيني وبين ابن الخطاب شيء فأسرعت إليه ثم ندمت فسألته أن يغفر لي فأبى علي فأقبلت إليك فقال يغفر الله لك يا أبا بكر ثلاثا ثم إن عمر ندم فأتى منزل أبي بكر فسأل أثم أبو بكر فقالوا لا فأتى إلى النبي صلى الله عليه وسلم فسلم فجعل وجه النبي صلى الله عليه وسلم يتمعر حتى أشفق أبو بكر فجثا على ركبتيه فقال يا رسول الله والله أنا كنت أظلم مرتين فقال النبي صلى الله عليه وسلم إن الله بعثني إليكم فقلتم كذبت وقال أبو بكر صدق وواساني بنفسه وماله فهل أنتم تاركوا لي صاحبي مرتين فما أوذي بعدها
আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় আবূ বকর (রাঃ) পরনের কাপড়ের একপাশ এমনভাবে ধরে আসলেন যে তার দু’ হাঁটু বেরিয়ে পড়ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের এ সাথী এই মাত্র কারো সঙ্গে ঝগড়া করে আসছে। তিনি সালাম করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার এবং ‘উমার ইব্নু খাত্তাবের মাঝে একটি বিষয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে। আমিই প্রথমে কটু কথা বলেছি। অতঃপর আমি লজ্জিত হয়ে তার কাছে মাফ চেয়েছি। কিন্তু তিনি মাফ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন আমি আপনার নিকট হাযির হয়েছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে মাফ করবেন, হে আবূ বকর (রাঃ)! এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবূ বকর (রাঃ)-এর বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আবূ বাক্র কি বাড়িতে আছেন? তারা বলল, ‘না’। তখন ‘উমার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট চলে আসলেন। (তাকে দেখে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। আবূ বকর (রাঃ) ভীত হয়ে নতজানু হয়ে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমিই প্রথমে অন্যায় করেছি। এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ যখন আমাকে তোমাদের নিকট রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন তখন তোমরা সবাই বলেছ, তুমি মিথ্যা বলছ আর আবূ বাক্র বলেছে, আপনি সত্য বলছেন। তাঁর জান মাল সবকিছু দিয়ে আমার সহানুভূতি দেখিয়েছে। তোমরা কি আমার সম্মানে আমার সাথীকে অব্যাহতি দিবে? এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ)-কে আর কখনও কষ্ট দেয়া হয়নি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৬)
আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় আবূ বকর (রাঃ) পরনের কাপড়ের একপাশ এমনভাবে ধরে আসলেন যে তার দু’ হাঁটু বেরিয়ে পড়ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের এ সাথী এই মাত্র কারো সঙ্গে ঝগড়া করে আসছে। তিনি সালাম করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার এবং ‘উমার ইব্নু খাত্তাবের মাঝে একটি বিষয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে। আমিই প্রথমে কটু কথা বলেছি। অতঃপর আমি লজ্জিত হয়ে তার কাছে মাফ চেয়েছি। কিন্তু তিনি মাফ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন আমি আপনার নিকট হাযির হয়েছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে মাফ করবেন, হে আবূ বকর (রাঃ)! এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবূ বকর (রাঃ)-এর বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আবূ বাক্র কি বাড়িতে আছেন? তারা বলল, ‘না’। তখন ‘উমার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট চলে আসলেন। (তাকে দেখে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। আবূ বকর (রাঃ) ভীত হয়ে নতজানু হয়ে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমিই প্রথমে অন্যায় করেছি। এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ যখন আমাকে তোমাদের নিকট রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন তখন তোমরা সবাই বলেছ, তুমি মিথ্যা বলছ আর আবূ বাক্র বলেছে, আপনি সত্য বলছেন। তাঁর জান মাল সবকিছু দিয়ে আমার সহানুভূতি দেখিয়েছে। তোমরা কি আমার সম্মানে আমার সাথীকে অব্যাহতি দিবে? এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ)-কে আর কখনও কষ্ট দেয়া হয়নি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯৬)
حدثني هشام بن عمار حدثنا صدقة بن خالد حدثنا زيد بن واقد عن بسر بن عبيد الله عن عائذ الله أبي إدريس عن أبي الدرداء قال كنت جالسا عند النبي صلى الله عليه وسلم إذ أقبل أبو بكر آخذا بطرف ثوبه حتى أبدى عن ركبته فقال النبي صلى الله عليه وسلم أما صاحبكم فقد غامر فسلم وقال إني كان بيني وبين ابن الخطاب شيء فأسرعت إليه ثم ندمت فسألته أن يغفر لي فأبى علي فأقبلت إليك فقال يغفر الله لك يا أبا بكر ثلاثا ثم إن عمر ندم فأتى منزل أبي بكر فسأل أثم أبو بكر فقالوا لا فأتى إلى النبي صلى الله عليه وسلم فسلم فجعل وجه النبي صلى الله عليه وسلم يتمعر حتى أشفق أبو بكر فجثا على ركبتيه فقال يا رسول الله والله أنا كنت أظلم مرتين فقال النبي صلى الله عليه وسلم إن الله بعثني إليكم فقلتم كذبت وقال أبو بكر صدق وواساني بنفسه وماله فهل أنتم تاركوا لي صاحبي مرتين فما أوذي بعدها
সহিহ বুখারী ৩৬৬৫
حدثنا محمد بن مقاتل أخبرنا عبد الله أخبرنا موسى بن عقبة عن سالم بن عبد الله عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من جر ثوبه خيلاء لم ينظر الله إليه يوم القيامة فقال أبو بكر إن أحد شقي ثوبي يسترخي إلا أن أتعاهد ذلك منه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنك لست تصنع ذلك خيلاء قال موسى فقلت لسالم أذكر عبد الله من جر إزاره قال لم أسمعه ذكر إلا ثوبه
‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি গর্বের সঙ্গে পরনের কাপড় টাখনুর নিম্নভাগে ঝুলিয়ে চলাফিরা করে, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টি দিবেন না। এ শুনে আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমার অজ্ঞাতে কাপড়ের একপাশ কোন কোন সময় নীচে নেমে যায়। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তো ফখরের সঙ্গে তা করছ না। মূসা (রহঃ) বলেন, আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) কি ‘যে ব্যক্তি তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলল’ বলেছেন? সালিম (রহঃ) বললেন, আমি তাকে শুধু কাপড়ের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০০)
‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি গর্বের সঙ্গে পরনের কাপড় টাখনুর নিম্নভাগে ঝুলিয়ে চলাফিরা করে, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টি দিবেন না। এ শুনে আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমার অজ্ঞাতে কাপড়ের একপাশ কোন কোন সময় নীচে নেমে যায়। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তো ফখরের সঙ্গে তা করছ না। মূসা (রহঃ) বলেন, আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) কি ‘যে ব্যক্তি তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলল’ বলেছেন? সালিম (রহঃ) বললেন, আমি তাকে শুধু কাপড়ের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০০)
حدثنا محمد بن مقاتل أخبرنا عبد الله أخبرنا موسى بن عقبة عن سالم بن عبد الله عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من جر ثوبه خيلاء لم ينظر الله إليه يوم القيامة فقال أبو بكر إن أحد شقي ثوبي يسترخي إلا أن أتعاهد ذلك منه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنك لست تصنع ذلك خيلاء قال موسى فقلت لسالم أذكر عبد الله من جر إزاره قال لم أسمعه ذكر إلا ثوبه
সহিহ বুখারী ৩৬৬৬
حدثنا أبو اليمان حدثنا شعيب عن الزهري قال أخبرني حميد بن عبد الرحمن بن عوف أن أبا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من أنفق زوجين من شيء من الأشياء في سبيل الله دعي من أبواب يعني الجنة يا عبد الله هذا خير فمن كان من أهل الصلاة دعي من باب الصلاة ومن كان من أهل الجهاد دعي من باب الجهاد ومن كان من أهل الصدقة دعي من باب الصدقة ومن كان من أهل الصيام دعي من باب الصيام وباب الريان فقال أبو بكر ما على هذا الذي يدعى من تلك الأبواب من ضرورة وقال هل يدعى منها كلها أحد يا رسول الله قال نعم وأرجو أن تكون منهم يا أبا بكر
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন জিনিসের জোড়া জোড়া আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করবে তাকে জান্নাতে প্রবেশের জন্য সকল দরজা হতে আহবান করা হবে। বলা হবে, হে আল্লাহ্র বান্দা! এ দরজাই উত্তম। যে ব্যক্তি সলাত সম্পাদনকারী হবে তাঁকে সলাতের দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য ডাকা হবে। যে ব্যক্তি জিহাদকারী হবে তাকে জিহাদের দরজা হতে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি সদাকাহকারী হবে, তাকে সদাকাহ্র দরজা দিয়ে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি সওম পালনকারী হবে তাকে সওমের দরজা বাবুররাইয়ান হতে ডাকা হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কোন ব্যক্তিকে সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে এমন তো অবশ্য জরুরী নয়, তবে কি এরূপ কাউকে ডাকা হবে? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাঁ, হবে। আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হবে, হে আবূ বাক্র। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০১)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন জিনিসের জোড়া জোড়া আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করবে তাকে জান্নাতে প্রবেশের জন্য সকল দরজা হতে আহবান করা হবে। বলা হবে, হে আল্লাহ্র বান্দা! এ দরজাই উত্তম। যে ব্যক্তি সলাত সম্পাদনকারী হবে তাঁকে সলাতের দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য ডাকা হবে। যে ব্যক্তি জিহাদকারী হবে তাকে জিহাদের দরজা হতে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি সদাকাহকারী হবে, তাকে সদাকাহ্র দরজা দিয়ে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি সওম পালনকারী হবে তাকে সওমের দরজা বাবুররাইয়ান হতে ডাকা হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কোন ব্যক্তিকে সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে এমন তো অবশ্য জরুরী নয়, তবে কি এরূপ কাউকে ডাকা হবে? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাঁ, হবে। আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হবে, হে আবূ বাক্র। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০১)
حدثنا أبو اليمان حدثنا شعيب عن الزهري قال أخبرني حميد بن عبد الرحمن بن عوف أن أبا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من أنفق زوجين من شيء من الأشياء في سبيل الله دعي من أبواب يعني الجنة يا عبد الله هذا خير فمن كان من أهل الصلاة دعي من باب الصلاة ومن كان من أهل الجهاد دعي من باب الجهاد ومن كان من أهل الصدقة دعي من باب الصدقة ومن كان من أهل الصيام دعي من باب الصيام وباب الريان فقال أبو بكر ما على هذا الذي يدعى من تلك الأبواب من ضرورة وقال هل يدعى منها كلها أحد يا رسول الله قال نعم وأرجو أن تكون منهم يا أبا بكر
সহিহ বুখারী ৩৬৬৭
حدثنا إسماعيل بن عبد الله حدثنا سليمان بن بلال عن هشام بن عروة قال أخبرني عروة بن الزبير عن عائشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مات وأبو بكر بالسنح قال إسماعيل يعني بالعالية فقام عمر يقول والله ما مات رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت وقال عمر والله ما كان يقع في نفسي إلا ذاك وليبعثنه الله فليقطعن أيدي رجال وأرجلهم فجاء أبو بكر فكشف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقبله قال بأبي أنت وأمي طبت حيا وميتا والذي نفسي بيده لا يذيقك الله الموتتين أبدا ثم خرج فقال أيها الحالف على رسلك فلما تكلم أبو بكر جلس عمر
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যখন মৃত্যু হয়, তখন আবূ বকর (রাঃ) সুনহ-এ ছিলেন। ইসমাঈল (রাবী) বলেন, সুনহ মাদীনাহর উঁচু এলাকার একটি স্থানের নাম। ‘উমার (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন, আল্লাহ্র কসম, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যু হয়নি। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম, তখন আমার অন্তরে এ বিশ্বাসই ছিল আল্লাহ্ অবশ্যই তাঁকে পুনরায় জীবিত করবেন এবং তিনি কিছু সংখ্যক লোকের হাত-পা কেটে ফেলবেন। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) এলেন এবং আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা হতে আবরণ সরিয়ে তাঁর কপালে চুম্বন করলেন এবং বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান। আপনি জীবনে মরণে পবিত্র। ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ্ আপনাকে কখনও দু’বার মৃত্যু [১] আস্বাদন করাবেন না। অতঃপর তিনি বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, হে হলফকারী! ধৈর্য অবলম্বন কর। আবূ বকর (রাঃ) যখন কথা বলতে লাগলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বসে পড়লেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৫ প্রথমাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ প্রথমাংশ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যখন মৃত্যু হয়, তখন আবূ বকর (রাঃ) সুনহ-এ ছিলেন। ইসমাঈল (রাবী) বলেন, সুনহ মাদীনাহর উঁচু এলাকার একটি স্থানের নাম। ‘উমার (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন, আল্লাহ্র কসম, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যু হয়নি। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম, তখন আমার অন্তরে এ বিশ্বাসই ছিল আল্লাহ্ অবশ্যই তাঁকে পুনরায় জীবিত করবেন এবং তিনি কিছু সংখ্যক লোকের হাত-পা কেটে ফেলবেন। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) এলেন এবং আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা হতে আবরণ সরিয়ে তাঁর কপালে চুম্বন করলেন এবং বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান। আপনি জীবনে মরণে পবিত্র। ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ্ আপনাকে কখনও দু’বার মৃত্যু [১] আস্বাদন করাবেন না। অতঃপর তিনি বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, হে হলফকারী! ধৈর্য অবলম্বন কর। আবূ বকর (রাঃ) যখন কথা বলতে লাগলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বসে পড়লেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৫ প্রথমাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ প্রথমাংশ)
حدثنا إسماعيل بن عبد الله حدثنا سليمان بن بلال عن هشام بن عروة قال أخبرني عروة بن الزبير عن عائشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مات وأبو بكر بالسنح قال إسماعيل يعني بالعالية فقام عمر يقول والله ما مات رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت وقال عمر والله ما كان يقع في نفسي إلا ذاك وليبعثنه الله فليقطعن أيدي رجال وأرجلهم فجاء أبو بكر فكشف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقبله قال بأبي أنت وأمي طبت حيا وميتا والذي نفسي بيده لا يذيقك الله الموتتين أبدا ثم خرج فقال أيها الحالف على رسلك فلما تكلم أبو بكر جلس عمر
সহিহ বুখারী ৩৬৬৯
وقال عبد الله بن سالم عن الزبيدي قال عبد الرحمن بن القاسم أخبرني القاسم أن عائشة رضي الله عنها قالت شخص بصر النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال في الرفيق الأعلى ثلاثا وقص الحديث قالت فما كانت من خطبتهما من خطبة إلا نفع الله بها لقد خوف عمر الناس وإن فيهم لنفاقا فردهم الله بذلك
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
মৃত্যুর সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চোখ দু’টি বার বার উপর দিকে উঠছিল এবং তিনি বার বার বলছিলেন, সর্বোচ্চ বন্ধুর সাক্ষাতের আমি আগ্রহী। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) –এর খুতবা দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা এ চরম মুহূর্তে উম্মাতকে রক্ষা করেছেন। উমার (রাঃ) জনগণকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এমন কিছু মানুষ আছে যাদের অন্তরে কপটতা আছে আল্লাহ্ তাদের ফাঁদ হতে উম্মাতকে রক্ষা করেছেন। (আ. ঈ্র. ৩৩৯৫ মধ্যমাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ মধ্যমাংশ)
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
মৃত্যুর সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চোখ দু’টি বার বার উপর দিকে উঠছিল এবং তিনি বার বার বলছিলেন, সর্বোচ্চ বন্ধুর সাক্ষাতের আমি আগ্রহী। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) –এর খুতবা দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা এ চরম মুহূর্তে উম্মাতকে রক্ষা করেছেন। উমার (রাঃ) জনগণকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এমন কিছু মানুষ আছে যাদের অন্তরে কপটতা আছে আল্লাহ্ তাদের ফাঁদ হতে উম্মাতকে রক্ষা করেছেন। (আ. ঈ্র. ৩৩৯৫ মধ্যমাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ মধ্যমাংশ)
وقال عبد الله بن سالم عن الزبيدي قال عبد الرحمن بن القاسم أخبرني القاسم أن عائشة رضي الله عنها قالت شخص بصر النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال في الرفيق الأعلى ثلاثا وقص الحديث قالت فما كانت من خطبتهما من خطبة إلا نفع الله بها لقد خوف عمر الناس وإن فيهم لنفاقا فردهم الله بذلك
সহিহ বুখারী ৩৬৬৮
فحمد الله أبو بكر وأثنى عليه وقال ألا من كان يعبد محمدا فإن محمدا قد مات ومن كان يعبد الله فإن الله حي لا يموت وقال إنك ميت وإنهم ميتون (الزمر : 30) وقالوما محمد إلا رسول قد خلت من قبله الرسل أفإنم مات أو قتل انقلبتم علٰى أعقابكم ومن ينقلب علٰى عقبيه فلن يضر الله شيئا وسيجزي الله الشاكرين (آل عمران : 135) قال فنشج الناس يبكون قال واجتمعت الأنصار إلى سعد بن عبادة في سقيفة بني ساعدة فقالوا منا أمير ومنكم أمير فذهب إليهم أبو بكر وعمر بن الخطاب وأبو عبيدة بن الجراح فذهب عمر يتكلم فأسكته أبو بكر وكان عمر يقول والله ما أردت بذلك إلا أني قد هيأت كلاما قد أعجبني خشيت أن لا يبلغه أبو بكر ثم تكلم أبو بكر فتكلم أبلغ الناس فقال في كلامه نحن الأمراء وأنتم الوزراء فقال حباب بن المنذر لا والله لا نفعل منا أمير ومنكم أمير فقال أبو بكر لا ولكنا الأمراء وأنتم الوزراء هم أوسط العرب دارا وأعربهم أحسابا فبايعوا عمر أو أبا عبيدة بن الجراح فقال عمر بل نبايعك أنت فأنت سيدنا وخيرنا وأحبنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخذ عمر بيده فبايعه وبايعه الناس فقال قائل قتلتم سعد بن عبادة فقال عمر قتله الله
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ বকর (রাঃ) আল্লাহ্ তা’আলার হাম’দ ও সানা বর্ণনা করে বললেন, যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইবাদাতকারী ছিলে তারা জেনে রাখ, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা গেছেন। আর যারা আল্লাহ্র ইবাদাত করতে তারা নিশ্চিত জেনে রাখ আল্লাহ্ চিরঞ্জীব, তিনি অমর। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল আর তারা সকলেই মরণশীল”- (আয যুমার ৩০)। আরো তিলাওয়াত করলেনঃ মুহাম্মাদ তো একজন রাসূল ব্যতিরেকে আর কিছু নয়। তার পূর্বেও অনেক রাসূল চলে গেছে। অতএব যদি সে মারা যায় অথবা নিহত হয় তাহলে কি তোমরা ইসলাম ত্যাগ করবে? আর যদি কেউ সেরূপ পেছনে ফিরেও যায়, তবে সে কখনও আল্লাহ্র বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না –(আল ইমরান ১৪৪)। আল্লাহ্ তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। রাবী বলেন, আবূ বকর (রাঃ)-এর এ কথাগুলি শুনে সবাই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। রাবী বলেন, আনসারগণ সাকীফা বনূ সায়িদায়ে সা’দ ইবনু ‘উবাইদাহ (রাঃ)-এর নিকট সমবেত হলেন এবং বলতে লাগলেন, আমাদের মধ্য হতে একজন আমীর হবেন এবং তোমাদের মধ্য হতে একজন আমীর হবেন। আবূ বকর (রাঃ), ‘উমার ইবনু খাত্তাব, আবূ ‘উবাইদাহ ইবনু জাররাহ (রাঃ) এ তিনজন আনসারদের নিকট গমন করলেন। ‘উমার (রাঃ) কথা বলতে চাইলে, আবূ বকর (রাঃ) তাকে থামিয়ে দিলেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম আমি বক্তব্য রাখতে চেয়েছিলাম এই জন্য যে, আমি আনসারদের মাহফিলে বলার জন্য চিন্তা-ভাবনা করে এমন কিছু যুক্তিযুক্ত কথা প্রস্তুত করেছিলাম যার প্রেক্ষিতে আমার ধারণা ছিল হয়ত আবূ বকর (রাঃ) এর চিন্তা চেতনা এতটা গভীরে নাও যেতে পারে। কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) অত্যন্ত জোরালো ও যুক্তিপূর্ণ ভাষণ রাখলেন। তিনি তার বক্তব্যে বললেন, আমীর আমাদের মধ্য হতে একজন হবেন এবং তোমাদের মধ্য হতে হবেন উযীর। তখন হুবাব ইবনু মুনযির (রহঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমরা এমন করব না বরং আমাদের মধ্যে একজন ও আপনাদের মধ্যে একজন আমীর হবেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, না, তা হয় না। আমাদের মধ্য হতে খলীফা এবং তোমাদের মধ্য হতে উযীর হবেন। কেননা কুরাইশ গোত্র অবস্থানের দিক দিয়ে যেমন আরবের মধ্যস্থানে, বংশ ও রক্তের দিকে থেকেও তারা তেমনি শ্রেষ্ঠ। তাঁরা নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতায় সবার শীর্ষে। “তোমরা ‘উমার (রাঃ) অথবা আবূ ‘উবাইদাহ ইবনু জাররাহ (রাঃ) এর হাতে বায়’আত করে নাও। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমরা কিন্তু আপনার হাতেই বায়’আত করব। আপনি আমাদের নেতা। আপনিই আমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আমাদের মাঝে আপনি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয়তম ব্যক্তি। এই বলে ‘উমার (রাঃ) তাঁর হাত ধরে বায়’আত করে নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সকলেই বায়’আত করলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলেন, আপনারা সা’দ ইব’নু ‘উবাইদাহ (রাঃ) কে মেরে ফেললেন? ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তাকে মেরে ফেলেছেন। (আ. প্র. ৩৩৯৫ প্রথমাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ প্রথমাংশ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ বকর (রাঃ) আল্লাহ্ তা’আলার হাম’দ ও সানা বর্ণনা করে বললেন, যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইবাদাতকারী ছিলে তারা জেনে রাখ, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা গেছেন। আর যারা আল্লাহ্র ইবাদাত করতে তারা নিশ্চিত জেনে রাখ আল্লাহ্ চিরঞ্জীব, তিনি অমর। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল আর তারা সকলেই মরণশীল”- (আয যুমার ৩০)। আরো তিলাওয়াত করলেনঃ মুহাম্মাদ তো একজন রাসূল ব্যতিরেকে আর কিছু নয়। তার পূর্বেও অনেক রাসূল চলে গেছে। অতএব যদি সে মারা যায় অথবা নিহত হয় তাহলে কি তোমরা ইসলাম ত্যাগ করবে? আর যদি কেউ সেরূপ পেছনে ফিরেও যায়, তবে সে কখনও আল্লাহ্র বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না –(আল ইমরান ১৪৪)। আল্লাহ্ তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। রাবী বলেন, আবূ বকর (রাঃ)-এর এ কথাগুলি শুনে সবাই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। রাবী বলেন, আনসারগণ সাকীফা বনূ সায়িদায়ে সা’দ ইবনু ‘উবাইদাহ (রাঃ)-এর নিকট সমবেত হলেন এবং বলতে লাগলেন, আমাদের মধ্য হতে একজন আমীর হবেন এবং তোমাদের মধ্য হতে একজন আমীর হবেন। আবূ বকর (রাঃ), ‘উমার ইবনু খাত্তাব, আবূ ‘উবাইদাহ ইবনু জাররাহ (রাঃ) এ তিনজন আনসারদের নিকট গমন করলেন। ‘উমার (রাঃ) কথা বলতে চাইলে, আবূ বকর (রাঃ) তাকে থামিয়ে দিলেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম আমি বক্তব্য রাখতে চেয়েছিলাম এই জন্য যে, আমি আনসারদের মাহফিলে বলার জন্য চিন্তা-ভাবনা করে এমন কিছু যুক্তিযুক্ত কথা প্রস্তুত করেছিলাম যার প্রেক্ষিতে আমার ধারণা ছিল হয়ত আবূ বকর (রাঃ) এর চিন্তা চেতনা এতটা গভীরে নাও যেতে পারে। কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) অত্যন্ত জোরালো ও যুক্তিপূর্ণ ভাষণ রাখলেন। তিনি তার বক্তব্যে বললেন, আমীর আমাদের মধ্য হতে একজন হবেন এবং তোমাদের মধ্য হতে হবেন উযীর। তখন হুবাব ইবনু মুনযির (রহঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমরা এমন করব না বরং আমাদের মধ্যে একজন ও আপনাদের মধ্যে একজন আমীর হবেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, না, তা হয় না। আমাদের মধ্য হতে খলীফা এবং তোমাদের মধ্য হতে উযীর হবেন। কেননা কুরাইশ গোত্র অবস্থানের দিক দিয়ে যেমন আরবের মধ্যস্থানে, বংশ ও রক্তের দিকে থেকেও তারা তেমনি শ্রেষ্ঠ। তাঁরা নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতায় সবার শীর্ষে। “তোমরা ‘উমার (রাঃ) অথবা আবূ ‘উবাইদাহ ইবনু জাররাহ (রাঃ) এর হাতে বায়’আত করে নাও। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমরা কিন্তু আপনার হাতেই বায়’আত করব। আপনি আমাদের নেতা। আপনিই আমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আমাদের মাঝে আপনি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয়তম ব্যক্তি। এই বলে ‘উমার (রাঃ) তাঁর হাত ধরে বায়’আত করে নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সকলেই বায়’আত করলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলেন, আপনারা সা’দ ইব’নু ‘উবাইদাহ (রাঃ) কে মেরে ফেললেন? ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তাকে মেরে ফেলেছেন। (আ. প্র. ৩৩৯৫ প্রথমাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ প্রথমাংশ)
فحمد الله أبو بكر وأثنى عليه وقال ألا من كان يعبد محمدا فإن محمدا قد مات ومن كان يعبد الله فإن الله حي لا يموت وقال إنك ميت وإنهم ميتون (الزمر : 30) وقالوما محمد إلا رسول قد خلت من قبله الرسل أفإنم مات أو قتل انقلبتم علٰى أعقابكم ومن ينقلب علٰى عقبيه فلن يضر الله شيئا وسيجزي الله الشاكرين (آل عمران : 135) قال فنشج الناس يبكون قال واجتمعت الأنصار إلى سعد بن عبادة في سقيفة بني ساعدة فقالوا منا أمير ومنكم أمير فذهب إليهم أبو بكر وعمر بن الخطاب وأبو عبيدة بن الجراح فذهب عمر يتكلم فأسكته أبو بكر وكان عمر يقول والله ما أردت بذلك إلا أني قد هيأت كلاما قد أعجبني خشيت أن لا يبلغه أبو بكر ثم تكلم أبو بكر فتكلم أبلغ الناس فقال في كلامه نحن الأمراء وأنتم الوزراء فقال حباب بن المنذر لا والله لا نفعل منا أمير ومنكم أمير فقال أبو بكر لا ولكنا الأمراء وأنتم الوزراء هم أوسط العرب دارا وأعربهم أحسابا فبايعوا عمر أو أبا عبيدة بن الجراح فقال عمر بل نبايعك أنت فأنت سيدنا وخيرنا وأحبنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخذ عمر بيده فبايعه وبايعه الناس فقال قائل قتلتم سعد بن عبادة فقال عمر قتله الله
সহিহ বুখারী ৩৬৭০
ثم لقد بصر أبو بكر الناس الهدى وعرفهم الحق الذي عليهم وخرجوا به يتلونوما محمد إلا رسول قد خلت من قبله الرسل إلى الشاكرين (آل عمران 144)
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এবং আবূ বকর (রাঃ) লোকদেরকে সত্য সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন। হক ও ন্যায়ের পথ নির্দেশ করেছেন, তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর সাহাবাগন এ আয়াত পড়তে পড়তে চলে গেলেনঃ “মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন রসূল মাত্র। তাঁর পূর্বে বহু রসূল গত হয়েছেন... কৃতজ্ঞ বান্দাদের”। (আলি ইমরানঃ ১৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৫ শেষাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ শেষাংশ)
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এবং আবূ বকর (রাঃ) লোকদেরকে সত্য সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন। হক ও ন্যায়ের পথ নির্দেশ করেছেন, তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর সাহাবাগন এ আয়াত পড়তে পড়তে চলে গেলেনঃ “মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন রসূল মাত্র। তাঁর পূর্বে বহু রসূল গত হয়েছেন... কৃতজ্ঞ বান্দাদের”। (আলি ইমরানঃ ১৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৫ শেষাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ শেষাংশ)
ثم لقد بصر أبو بكر الناس الهدى وعرفهم الحق الذي عليهم وخرجوا به يتلونوما محمد إلا رسول قد خلت من قبله الرسل إلى الشاكرين (آل عمران 144)
সহিহ বুখারী ৩৬৭১
حدثنا محمد بن كثير أخبرنا سفيان حدثنا جامع بن أبي راشد حدثنا أبو يعلى عن محمد بن الحنفية قال قلت لأبي أي الناس خير بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أبو بكر قلت ثم من قال ثم عمر وخشيت أن يقول عثمان قلت ثم أنت قال ما أنا إلا رجل من المسلمين
মুহাম্মাদ ইবনু হানাফীয়া (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি আমার পিতা ‘আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কে? তিনি বললেন, আবূ বকর (রাঃ)। আমি বললাম, অতঃপর কে? তিনি বললেন, ‘উমার (রাঃ)। আমার আশংকা হল যে, অতঃপর তিনি ‘উসমান (রাঃ) এর নাম বলবেন, তাই আমি বললাম, অতঃপর আপনি? তিনি বললেন, না, আমি তো মুসলিমদের একজন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৩)
মুহাম্মাদ ইবনু হানাফীয়া (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি আমার পিতা ‘আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কে? তিনি বললেন, আবূ বকর (রাঃ)। আমি বললাম, অতঃপর কে? তিনি বললেন, ‘উমার (রাঃ)। আমার আশংকা হল যে, অতঃপর তিনি ‘উসমান (রাঃ) এর নাম বলবেন, তাই আমি বললাম, অতঃপর আপনি? তিনি বললেন, না, আমি তো মুসলিমদের একজন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৩)
حدثنا محمد بن كثير أخبرنا سفيان حدثنا جامع بن أبي راشد حدثنا أبو يعلى عن محمد بن الحنفية قال قلت لأبي أي الناس خير بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أبو بكر قلت ثم من قال ثم عمر وخشيت أن يقول عثمان قلت ثم أنت قال ما أنا إلا رجل من المسلمين
সহিহ বুখারী ৩৬৭২
حدثنا قتيبة بن سعيد عن مالك عن عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض أسفاره حتى إذا كنا بالبيداء أو بذات الجيش انقطع عقد لي فأقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على التماسه وأقام الناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فأتى الناس أبا بكر فقالوا ألا ترى ما صنعت عائشة أقامت برسول الله صلى الله عليه وسلم وبالناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فجاء أبو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم واضع رأسه على فخذي قد نام فقال حبست رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس وليسوا على ماء وليس معهم ماء قالت فعاتبني وقال ما شاء الله أن يقول وجعل يطعنني بيده في خاصرتي فلا يمنعني من التحرك إلا مكان رسول الله صلى الله عليه وسلم على فخذي فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أصبح على غير ماء فأنزل الله آية التيمم فتيمموا فقال أسيد بن الحضير ما هي بأول بركتكم يا آل أبي بكر فقالت عائشة فبعثنا البعير الذي كنت عليه فوجدنا العقد تحته
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে এক যুদ্ধ সফরে গিয়েছিলাম; তখন আমার হারটি গলা হতে ছিঁড়ে পড়ে যায়। হারটি খোঁজার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে অবস্থান করেন। এজন্য সাহাবীগণও তাঁর সঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন। সেখানে পানি ছিল না এবং তাঁদের সঙ্গেও পানি ছিল না। তাই সাহাবীগণ আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট এসে বললেন, আপনি কি দেখছেন না, ‘আয়িশা (রাঃ) কি করলেন? তিনি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তার সঙ্গে সাহাবীগণকে এমন স্থানে অবস্থান করালেন যেখানে পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও পানি নেই। তখন আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট আসলেন। আর আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে বলতে লাগলেন, তুমি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এবং সাহাবীগণকে এমন এক স্থানে আটকিয়ে রেখেছ, যেখানে পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও পানি নেই। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে অনেক বকাবকি করলেন। এমনকি তিনি হাত দ্বারা আমার কোমরে খোঁচা মারতে লাগলেন। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উরুর উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকার কারণে আমি নড়াচড়াও করতে পারছিলাম না। এমনি পানি না থাকা অবস্থায় আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকাল পর্যন্ত ঘুমন্ত থাকলেন। তখন আল্লাহ্ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন এবং সকলেই তায়াম্মুম করলেন। উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাঃ) বলেন, হে আবূ বকর (রাঃ) এর পরিবারবর্গ, এটা আপনাদের প্রথম বরকত নয়। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা সে উটটিকে উঠালাম যে উটের উপর আমি সাওয়ার ছিলাম। আমরা হারটি তার নীচে পেয়ে গেলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৪)
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে এক যুদ্ধ সফরে গিয়েছিলাম; তখন আমার হারটি গলা হতে ছিঁড়ে পড়ে যায়। হারটি খোঁজার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে অবস্থান করেন। এজন্য সাহাবীগণও তাঁর সঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন। সেখানে পানি ছিল না এবং তাঁদের সঙ্গেও পানি ছিল না। তাই সাহাবীগণ আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট এসে বললেন, আপনি কি দেখছেন না, ‘আয়িশা (রাঃ) কি করলেন? তিনি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তার সঙ্গে সাহাবীগণকে এমন স্থানে অবস্থান করালেন যেখানে পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও পানি নেই। তখন আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট আসলেন। আর আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে বলতে লাগলেন, তুমি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এবং সাহাবীগণকে এমন এক স্থানে আটকিয়ে রেখেছ, যেখানে পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও পানি নেই। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে অনেক বকাবকি করলেন। এমনকি তিনি হাত দ্বারা আমার কোমরে খোঁচা মারতে লাগলেন। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উরুর উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকার কারণে আমি নড়াচড়াও করতে পারছিলাম না। এমনি পানি না থাকা অবস্থায় আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকাল পর্যন্ত ঘুমন্ত থাকলেন। তখন আল্লাহ্ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন এবং সকলেই তায়াম্মুম করলেন। উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাঃ) বলেন, হে আবূ বকর (রাঃ) এর পরিবারবর্গ, এটা আপনাদের প্রথম বরকত নয়। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা সে উটটিকে উঠালাম যে উটের উপর আমি সাওয়ার ছিলাম। আমরা হারটি তার নীচে পেয়ে গেলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৪)
حدثنا قتيبة بن سعيد عن مالك عن عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض أسفاره حتى إذا كنا بالبيداء أو بذات الجيش انقطع عقد لي فأقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على التماسه وأقام الناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فأتى الناس أبا بكر فقالوا ألا ترى ما صنعت عائشة أقامت برسول الله صلى الله عليه وسلم وبالناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فجاء أبو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم واضع رأسه على فخذي قد نام فقال حبست رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس وليسوا على ماء وليس معهم ماء قالت فعاتبني وقال ما شاء الله أن يقول وجعل يطعنني بيده في خاصرتي فلا يمنعني من التحرك إلا مكان رسول الله صلى الله عليه وسلم على فخذي فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أصبح على غير ماء فأنزل الله آية التيمم فتيمموا فقال أسيد بن الحضير ما هي بأول بركتكم يا آل أبي بكر فقالت عائشة فبعثنا البعير الذي كنت عليه فوجدنا العقد تحته
সহিহ বুখারী ৩৬৭৩
حدثنا آدم بن أبي إياس حدثنا شعبة عن الأعمش قال سمعت ذكوان يحدث عن أبي سعيد الخدري قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لا تسبوا أصحابي فلو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه تابعه جرير وعبد الله بن داود وأبو معاوية ومحاضر عن الأعمش
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ কর না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমান সোনা আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় কর, তবুও তাদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ-এর সমপরিমাণ সওয়াব হবে না। জারীর আবদুল্লাহ ইবনু দাউদ, আবূ মু’আবিয়াহ ও মুহাযির (রহঃ) আ’মাশ (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় শুবা (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৫)
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ কর না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমান সোনা আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় কর, তবুও তাদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ-এর সমপরিমাণ সওয়াব হবে না। জারীর আবদুল্লাহ ইবনু দাউদ, আবূ মু’আবিয়াহ ও মুহাযির (রহঃ) আ’মাশ (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় শুবা (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৫)
حدثنا آدم بن أبي إياس حدثنا شعبة عن الأعمش قال سمعت ذكوان يحدث عن أبي سعيد الخدري قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لا تسبوا أصحابي فلو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه تابعه جرير وعبد الله بن داود وأبو معاوية ومحاضر عن الأعمش
সহিহ বুখারী ৩৬৭৪
حدثنا محمد بن مسكين أبو الحسن حدثنا يحيى بن حسان حدثنا سليمان عن شريك بن أبي نمر عن سعيد بن المسيب قال أخبرني أبو موسى الأشعري أنه توضأ في بيته ثم خرج فقلت لالزمن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولاكونن معه يومي هذا قال فجاء المسجد فسأل عن النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا خرج ووجه ها هنا فخرجت على إثره أسأل عنه حتى دخل بئر أريس فجلست عند الباب وبابها من جريد حتى قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم حاجته فتوضأ فقمت إليه فإذا هو جالس على بئر أريس وتوسط قفها وكشف عن ساقيه ودلاهما في البئر فسلمت عليه ثم انصرفت فجلست عند الباب فقلت لاكونن بواب رسول الله صلى الله عليه وسلم اليوم فجاء أبو بكر فدفع الباب فقلت من هذا فقال أبو بكر فقلت على رسلك ثم ذهبت فقلت يا رسول الله هذا أبو بكر يستأذن فقال ائذن له وبشره بالجنة فأقبلت حتى قلت لأبي بكر ادخل ورسول الله صلى الله عليه وسلم يبشرك بالجنة فدخل أبو بكر فجلس عن يمين رسول الله صلى الله عليه وسلم معه في القف ودلى رجليه في البئر كما صنع النبي صلى الله عليه وسلم وكشف عن ساقيه ثم رجعت فجلست وقد تركت أخي يتوضأ ويلحقني فقلت إن يرد الله بفلان خيرا يريد أخاه يأت به فإذا إنسان يحرك الباب فقلت من هذا فقال عمر بن الخطاب فقلت على رسلك ثم جئت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلمت عليه فقلت هذا عمر بن الخطاب يستأذن فقال ائذن له وبشره بالجنة فجئت فقلت ادخل وبشرك رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة فدخل فجلس مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في القف عن يساره ودلى رجليه في البئر ثم رجعت فجلست فقلت إن يرد الله بفلان خيرا يأت به فجاء إنسان يحرك الباب فقلت من هذا فقال عثمان بن عفان فقلت على رسلك فجئت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته فقال ائذن له وبشره بالجنة على بلوى تصيبه فجئته فقلت له ادخل وبشرك رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة على بلوى تصيبك فدخل فوجد القف قد ملئ فجلس وجاهه من الشق الآخر قال شريك بن عبد الله قال سعيد بن المسيب فأولتها قبورهم
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি একদা ঘরে উযূ করে বের হলেন এবং আমি আজ সারাদিন আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে কাটাব, তার হতে পৃথক হব না। তিনি মসজিদে গিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খবর নিলেন, সাহাবীগন বললেন, তিনি এদিকে বেরিয়ে গেছেন, আমিও ঐ পথ ধরে তাঁর অনুসরণ করলাম। তাঁর খোঁজে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত আরীস কূপের নিকট গিয়ে পৌছলেন। আমি কূপের দরজার নিকট বসে পড়লাম। দরজাটি খেজুর শাখা দিয়ে তৈরি ছিল। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তার প্রয়োজন সেরে উযূ করলেন। তখন আমি তাঁর নিকটে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম তিনি আরীস কূপের কিনারার বাঁধের মাঝখানে বসে হাঁটু পর্যন্ত পা দু’টি খুলে কূপের ভিতরে ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমি তাঁকে সালাম করলাম। এবং ফিরে এসে দরজায় বসে রইলাম এবং মনে মনে স্থির করে নিলাম যে আজ আমি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করব। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) এসে দরজায় ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আবূ বাক্র! আমি বললাম থামুন, আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি ফিরে এসে আবূ বকর (রাঃ) কে বললাম, ভিতরে আসুন। আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসলেন এবং আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ডানপাশে কূপের ধারে বসে দু’পায়ের কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মত কূপের ভিতর ভাগে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে পড়েন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে উযূ রত অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। তারও আমার সঙ্গে মিলিত হবার কথা ছিল। তাই আমি বলতে লাগলাম, আল্লাহ্ যদি তার কল্যাণ চান তবে তাকে নিয়ে আসুন। এমন সময় এক ব্যক্তি দরজা নাড়তে লাগল। আমি বললাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সালাম পেশ করে আরয করলাম, হে আল্লাহ্র রসূল! ‘উমার ইবনু খাত্তাব অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, তাঁকে ভিতরে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ জানিয়ে দাও। আমি এসে তাঁকে বললাম, ভিতরে আসুন। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বামপাশে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় উঠিয়ে কূপের ভিতর পা ঝুলিয়ে বসে গেলেন। আমি আবার ফিরে আসলাম এবং বলতে থাকলাম আল্লাহ্ যদি তার কল্যাণ চান, তবে যেন তাকে নিয়ে আসেন। অতঃপর আর এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়তে লাগল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উসমান ইবনু আফফান। আমি বললাম, থামুন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খেদমতে গিয়ে জানালাম। তিনি বললেন, তাকে ভিতরে আসতে বল এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও। তবে কঠিন পরীক্ষা হবে। আমি এসে বললাম, ভিতরে আসুন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন, তবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে। তিনি ভিতরে এসে দেখলেন, কূপের ধারে খালি জায়গা নাই। তাই তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মুখে অপর এক স্থানে বসে পড়লেন। শরীফ (রহঃ) বলেন, সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেছেন, আমি এর দ্বারা তাদের কবর এরূপ হবে এই অর্থ করেছি। [১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৬)
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি একদা ঘরে উযূ করে বের হলেন এবং আমি আজ সারাদিন আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে কাটাব, তার হতে পৃথক হব না। তিনি মসজিদে গিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খবর নিলেন, সাহাবীগন বললেন, তিনি এদিকে বেরিয়ে গেছেন, আমিও ঐ পথ ধরে তাঁর অনুসরণ করলাম। তাঁর খোঁজে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত আরীস কূপের নিকট গিয়ে পৌছলেন। আমি কূপের দরজার নিকট বসে পড়লাম। দরজাটি খেজুর শাখা দিয়ে তৈরি ছিল। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তার প্রয়োজন সেরে উযূ করলেন। তখন আমি তাঁর নিকটে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম তিনি আরীস কূপের কিনারার বাঁধের মাঝখানে বসে হাঁটু পর্যন্ত পা দু’টি খুলে কূপের ভিতরে ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমি তাঁকে সালাম করলাম। এবং ফিরে এসে দরজায় বসে রইলাম এবং মনে মনে স্থির করে নিলাম যে আজ আমি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করব। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) এসে দরজায় ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আবূ বাক্র! আমি বললাম থামুন, আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি ফিরে এসে আবূ বকর (রাঃ) কে বললাম, ভিতরে আসুন। আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসলেন এবং আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ডানপাশে কূপের ধারে বসে দু’পায়ের কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মত কূপের ভিতর ভাগে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে পড়েন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে উযূ রত অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। তারও আমার সঙ্গে মিলিত হবার কথা ছিল। তাই আমি বলতে লাগলাম, আল্লাহ্ যদি তার কল্যাণ চান তবে তাকে নিয়ে আসুন। এমন সময় এক ব্যক্তি দরজা নাড়তে লাগল। আমি বললাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সালাম পেশ করে আরয করলাম, হে আল্লাহ্র রসূল! ‘উমার ইবনু খাত্তাব অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, তাঁকে ভিতরে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ জানিয়ে দাও। আমি এসে তাঁকে বললাম, ভিতরে আসুন। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বামপাশে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় উঠিয়ে কূপের ভিতর পা ঝুলিয়ে বসে গেলেন। আমি আবার ফিরে আসলাম এবং বলতে থাকলাম আল্লাহ্ যদি তার কল্যাণ চান, তবে যেন তাকে নিয়ে আসেন। অতঃপর আর এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়তে লাগল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উসমান ইবনু আফফান। আমি বললাম, থামুন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খেদমতে গিয়ে জানালাম। তিনি বললেন, তাকে ভিতরে আসতে বল এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও। তবে কঠিন পরীক্ষা হবে। আমি এসে বললাম, ভিতরে আসুন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন, তবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে। তিনি ভিতরে এসে দেখলেন, কূপের ধারে খালি জায়গা নাই। তাই তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মুখে অপর এক স্থানে বসে পড়লেন। শরীফ (রহঃ) বলেন, সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেছেন, আমি এর দ্বারা তাদের কবর এরূপ হবে এই অর্থ করেছি। [১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৬)
حدثنا محمد بن مسكين أبو الحسن حدثنا يحيى بن حسان حدثنا سليمان عن شريك بن أبي نمر عن سعيد بن المسيب قال أخبرني أبو موسى الأشعري أنه توضأ في بيته ثم خرج فقلت لالزمن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولاكونن معه يومي هذا قال فجاء المسجد فسأل عن النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا خرج ووجه ها هنا فخرجت على إثره أسأل عنه حتى دخل بئر أريس فجلست عند الباب وبابها من جريد حتى قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم حاجته فتوضأ فقمت إليه فإذا هو جالس على بئر أريس وتوسط قفها وكشف عن ساقيه ودلاهما في البئر فسلمت عليه ثم انصرفت فجلست عند الباب فقلت لاكونن بواب رسول الله صلى الله عليه وسلم اليوم فجاء أبو بكر فدفع الباب فقلت من هذا فقال أبو بكر فقلت على رسلك ثم ذهبت فقلت يا رسول الله هذا أبو بكر يستأذن فقال ائذن له وبشره بالجنة فأقبلت حتى قلت لأبي بكر ادخل ورسول الله صلى الله عليه وسلم يبشرك بالجنة فدخل أبو بكر فجلس عن يمين رسول الله صلى الله عليه وسلم معه في القف ودلى رجليه في البئر كما صنع النبي صلى الله عليه وسلم وكشف عن ساقيه ثم رجعت فجلست وقد تركت أخي يتوضأ ويلحقني فقلت إن يرد الله بفلان خيرا يريد أخاه يأت به فإذا إنسان يحرك الباب فقلت من هذا فقال عمر بن الخطاب فقلت على رسلك ثم جئت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلمت عليه فقلت هذا عمر بن الخطاب يستأذن فقال ائذن له وبشره بالجنة فجئت فقلت ادخل وبشرك رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة فدخل فجلس مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في القف عن يساره ودلى رجليه في البئر ثم رجعت فجلست فقلت إن يرد الله بفلان خيرا يأت به فجاء إنسان يحرك الباب فقلت من هذا فقال عثمان بن عفان فقلت على رسلك فجئت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته فقال ائذن له وبشره بالجنة على بلوى تصيبه فجئته فقلت له ادخل وبشرك رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة على بلوى تصيبك فدخل فوجد القف قد ملئ فجلس وجاهه من الشق الآخر قال شريك بن عبد الله قال سعيد بن المسيب فأولتها قبورهم
সহিহ বুখারী ৩৬৭৯
حدثنا حجاج بن منهال، حدثنا عبد العزيز الماجشون، حدثنا محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله ـ رضى الله عنهما ـ قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " رأيتني دخلت الجنة، فإذا أنا بالرميصاء امرأة أبي طلحة وسمعت خشفة، فقلت من هذا فقال هذا بلال. ورأيت قصرا بفنائه جارية، فقلت لمن هذا فقال لعمر. فأردت أن أدخله فأنظر إليه، فذكرت غيرتك ". فقال عمر بأمي وأبي يا رسول الله أعليك أغار
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি স্বপ্নে আমাকে দেখলাম যে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি। হঠাৎ আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর স্ত্রী রুমায়সাকে দেখতে পেলাম এবং আমি পদচারণার শব্দও শুনতে পেলাম। তখন আমি বললাম, এই ব্যক্তি কে? এক ব্যক্তি বলল, তিনি বিলাল (রাঃ)। আমি একটি প্রাসাদও দেখতে পেলাম যার উঠানে এক মহিলা আছে। আমি বললাম, ঐ প্রাসাদটি কার? এক ব্যক্তি বলল, প্রাসাদটি ‘উমার ইবনু খাত্তাবের (রাঃ)। আমি প্রাসাদটিতে প্রবেশ করে দেখার ইচ্ছা করলাম। তখন তোমার [‘উমার (রাঃ)] সূক্ষ্ম মর্যাদাবোধের কথা স্মরণ করলাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমার বাপ-মা আপনার উপর কুরবান, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনার কাছেও কি মর্যাদাবোধ দেখাতে পারি? (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১১)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি স্বপ্নে আমাকে দেখলাম যে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি। হঠাৎ আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর স্ত্রী রুমায়সাকে দেখতে পেলাম এবং আমি পদচারণার শব্দও শুনতে পেলাম। তখন আমি বললাম, এই ব্যক্তি কে? এক ব্যক্তি বলল, তিনি বিলাল (রাঃ)। আমি একটি প্রাসাদও দেখতে পেলাম যার উঠানে এক মহিলা আছে। আমি বললাম, ঐ প্রাসাদটি কার? এক ব্যক্তি বলল, প্রাসাদটি ‘উমার ইবনু খাত্তাবের (রাঃ)। আমি প্রাসাদটিতে প্রবেশ করে দেখার ইচ্ছা করলাম। তখন তোমার [‘উমার (রাঃ)] সূক্ষ্ম মর্যাদাবোধের কথা স্মরণ করলাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমার বাপ-মা আপনার উপর কুরবান, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনার কাছেও কি মর্যাদাবোধ দেখাতে পারি? (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১১)
حدثنا حجاج بن منهال، حدثنا عبد العزيز الماجشون، حدثنا محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله ـ رضى الله عنهما ـ قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " رأيتني دخلت الجنة، فإذا أنا بالرميصاء امرأة أبي طلحة وسمعت خشفة، فقلت من هذا فقال هذا بلال. ورأيت قصرا بفنائه جارية، فقلت لمن هذا فقال لعمر. فأردت أن أدخله فأنظر إليه، فذكرت غيرتك ". فقال عمر بأمي وأبي يا رسول الله أعليك أغار
সহিহ বুখারী ৩৬৭৮
حدثني محمد بن يزيد الكوفي حدثنا الوليد عن الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن محمد بن إبراهيم عن عروة بن الزبير قال سألت عبد الله بن عمرو عن أشد ما صنع المشركون برسول الله صلى الله عليه وسلم قال رأيت عقبة بن أبي معيط جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي فوضع رداءه في عنقه فخنقه به خنقا شديدا فجاء أبو بكر حتى دفعه عنه فقالأتقتلون رجلا أن يقول ربـي الله وقد جاءكم بالبينٰت من ربكم (غافر : 28)
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, মক্কার মুশরিকরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সবচেয়ে কঠিন আচরণ কী করেছিল? তিনি বললেন, আমি ‘উকবাহ ইবনু আবূ মুআইতকে দেখেছি; সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসল যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। সে নিজের চাদর দিয়ে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গলায় জড়িয়ে শক্ত করে চেপে ধরল। আবূ বকর (রাঃ) এসে ‘উকবাহকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, “তোমরা কি এমন লোককে মেরে ফেলতে চাও, যিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহ্ই আমার রব। যিনি তাঁর দাবীর স্বপক্ষে তোমাদের রবের কাছ হতে স্পষ্ট প্রমাণ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন?” (আল-মু’মিন/ গাফির : ২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১০)
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, মক্কার মুশরিকরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সবচেয়ে কঠিন আচরণ কী করেছিল? তিনি বললেন, আমি ‘উকবাহ ইবনু আবূ মুআইতকে দেখেছি; সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসল যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। সে নিজের চাদর দিয়ে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গলায় জড়িয়ে শক্ত করে চেপে ধরল। আবূ বকর (রাঃ) এসে ‘উকবাহকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, “তোমরা কি এমন লোককে মেরে ফেলতে চাও, যিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহ্ই আমার রব। যিনি তাঁর দাবীর স্বপক্ষে তোমাদের রবের কাছ হতে স্পষ্ট প্রমাণ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন?” (আল-মু’মিন/ গাফির : ২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১০)
حدثني محمد بن يزيد الكوفي حدثنا الوليد عن الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن محمد بن إبراهيم عن عروة بن الزبير قال سألت عبد الله بن عمرو عن أشد ما صنع المشركون برسول الله صلى الله عليه وسلم قال رأيت عقبة بن أبي معيط جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي فوضع رداءه في عنقه فخنقه به خنقا شديدا فجاء أبو بكر حتى دفعه عنه فقالأتقتلون رجلا أن يقول ربـي الله وقد جاءكم بالبينٰت من ربكم (غافر : 28)
সহিহ বুখারী ৩৬৮০
حدثنا سعيد بن أبي مريم أخبرنا الليث قال حدثني عقيل عن ابن شهاب قال أخبرني سعيد بن المسيب أن أبا هريرة قال بينا نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ قال بينا أنا نائم رأيتني في الجنة فإذا امرأة تتوضأ إلى جانب قصر فقلت لمن هذا القصر قالوا لعمر فذكرت غيرته فوليت مدبرا فبكى عمر وقال أعليك أغار يا رسول الله
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক সময় আমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। স্বপ্নে আমি নিজেকে জান্নাতে দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম, এক নারী একটি প্রাসাদের উঠানে উযূ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ প্রাসাদটি কার? ফেরেশতামণ্ডলী বললেন, তা ‘উমার (রাঃ) এর। আমি ‘উমার (রাঃ) এর সূক্ষ্ম মর্যাদাবোধের কথা মনে করে ফিরে এলাম। ‘উমার (রাঃ) (শুনে) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, আপনার নিকটও কি মর্যাদাবোধ দেখাব হে আল্লাহ্র রসূল? (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১২)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক সময় আমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। স্বপ্নে আমি নিজেকে জান্নাতে দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম, এক নারী একটি প্রাসাদের উঠানে উযূ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ প্রাসাদটি কার? ফেরেশতামণ্ডলী বললেন, তা ‘উমার (রাঃ) এর। আমি ‘উমার (রাঃ) এর সূক্ষ্ম মর্যাদাবোধের কথা মনে করে ফিরে এলাম। ‘উমার (রাঃ) (শুনে) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, আপনার নিকটও কি মর্যাদাবোধ দেখাব হে আল্লাহ্র রসূল? (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১২)
حدثنا سعيد بن أبي مريم أخبرنا الليث قال حدثني عقيل عن ابن شهاب قال أخبرني سعيد بن المسيب أن أبا هريرة قال بينا نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ قال بينا أنا نائم رأيتني في الجنة فإذا امرأة تتوضأ إلى جانب قصر فقلت لمن هذا القصر قالوا لعمر فذكرت غيرته فوليت مدبرا فبكى عمر وقال أعليك أغار يا رسول الله
সহিহ বুখারী ৩৬৭৫
حدثني محمد بن بشار حدثنا يحيى عن سعيد عن قتادة أن أنس بن مالك حدثهم أن النبي صلى الله عليه وسلم صعد أحدا وأبو بكر وعمر وعثمان فرجف بهم فقال اثبت أحد فإنما عليك نبي وصديق وشهيدان
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(একবার) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বাক্র, ‘উমার, ‘উসমান (রাঃ) উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করেন। পাহাড়টি নড়ে উঠল। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে উহুদ! থামো তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ রয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৭)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(একবার) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বাক্র, ‘উমার, ‘উসমান (রাঃ) উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করেন। পাহাড়টি নড়ে উঠল। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে উহুদ! থামো তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ রয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৭)
حدثني محمد بن بشار حدثنا يحيى عن سعيد عن قتادة أن أنس بن مالك حدثهم أن النبي صلى الله عليه وسلم صعد أحدا وأبو بكر وعمر وعثمان فرجف بهم فقال اثبت أحد فإنما عليك نبي وصديق وشهيدان
সহিহ বুখারী ৩৬৭৭
حدثني الوليد بن صالح حدثنا عيسى بن يونس حدثنا عمر بن سعيد بن أبي الحسين المكي عن ابن أبي مليكة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال إني لواقف في قوم فدعوا الله لعمر بن الخطاب وقد وضع على سريره إذا رجل من خلفي قد وضع مرفقه على منكبي يقول رحمك الله إن كنت لارجو أن يجعلك الله مع صاحبيك لأني كثيرا ما كنت أسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كنت وأبو بكر وعمر وفعلت وأبو بكر وعمر وانطلقت وأبو بكر وعمر فإن كنت لارجو أن يجعلك الله معهما فالتفت فإذا هو علي بن أبي طالب
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমিও ঐ দলের সঙ্গে দু’আয় রত ছিলাম, যারা ‘উমার ইবনু খাত্তাবের জন্য দু’আ করেছিল। তখন তাঁর লাশটি খাটের উপর রাখা ছিল। এমন সময় এক লোক হঠাৎ আমার পিছন দিক হতে তার কনুই আমার কাঁধের উপর রেখে ‘উমার (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলল, আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করুন। আমি অবশ্য এ আশা পোষণ করি যে, আল্লাহ্ আপনাকে আপনার উভয় সঙ্গীর সঙ্গেই রাখবেন। কেননা, আমি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনেক বার বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার এক সঙ্গে ছিলাম, আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার এ কাজ করেছি। আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার চলেছি। আমি এ আশাই পোষণ করি যে, আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে তাদের দু’জনের সাথেই রাখবেন। আমি পেছনে চেয়ে দেখলাম, তিনি ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৯)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমিও ঐ দলের সঙ্গে দু’আয় রত ছিলাম, যারা ‘উমার ইবনু খাত্তাবের জন্য দু’আ করেছিল। তখন তাঁর লাশটি খাটের উপর রাখা ছিল। এমন সময় এক লোক হঠাৎ আমার পিছন দিক হতে তার কনুই আমার কাঁধের উপর রেখে ‘উমার (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলল, আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করুন। আমি অবশ্য এ আশা পোষণ করি যে, আল্লাহ্ আপনাকে আপনার উভয় সঙ্গীর সঙ্গেই রাখবেন। কেননা, আমি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনেক বার বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার এক সঙ্গে ছিলাম, আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার এ কাজ করেছি। আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার চলেছি। আমি এ আশাই পোষণ করি যে, আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে তাদের দু’জনের সাথেই রাখবেন। আমি পেছনে চেয়ে দেখলাম, তিনি ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৯)
حدثني الوليد بن صالح حدثنا عيسى بن يونس حدثنا عمر بن سعيد بن أبي الحسين المكي عن ابن أبي مليكة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال إني لواقف في قوم فدعوا الله لعمر بن الخطاب وقد وضع على سريره إذا رجل من خلفي قد وضع مرفقه على منكبي يقول رحمك الله إن كنت لارجو أن يجعلك الله مع صاحبيك لأني كثيرا ما كنت أسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كنت وأبو بكر وعمر وفعلت وأبو بكر وعمر وانطلقت وأبو بكر وعمر فإن كنت لارجو أن يجعلك الله معهما فالتفت فإذا هو علي بن أبي طالب
সহিহ বুখারী ৩৬৭৬
حدثني أحمد بن سعيد أبو عبد الله حدثنا وهب بن جرير حدثنا صخر عن نافع أن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينما أنا على بئر أنزع منها جاءني أبو بكر وعمر فأخذ أبو بكر الدلو فنزع ذنوبا أو ذنوبين وفي نزعه ضعف والله يغفر له ثم أخذها ابن الخطاب من يد أبي بكر فاستحالت في يده غربا فلم أر عبقريا من الناس يفري فريه فنزع حتى ضرب الناس بعطن قال وهب العطن مبرك الإبل يقول حتى رويت الإبل فأناخت
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, একদা আমি একটি কূপ হতে পানি টেনে তুলছি। তখন আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) আসলেন। আবূ বকর (রাঃ) আমার হাত হতে বালতি তার হাতে নিয়ে এক বালতি কি দু’বালতি পানি টেনে তুললেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বালতিটি আবূ বাকরের হাত হতে নিলেন, তার হাতে নিলেন, তার হাতে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বালতির আকার বড় হয়ে গেল। কোন শক্তিশালী জোরওয়ালাকে তার মত পানি আমি উঠাতে দেখিনি। লোকজন তাদের উটগুলিকে পরিতৃপ্ত করে পানি পান করিয়ে উটশালায় নিয়ে গেল। ওয়াহাব (রাবী) বলেন, (আরবী) অর্থ উটশালা। এমনকি উটগুলি পানি পান করে তৃপ্ত হয়ে বসে গেল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৮)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, একদা আমি একটি কূপ হতে পানি টেনে তুলছি। তখন আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) আসলেন। আবূ বকর (রাঃ) আমার হাত হতে বালতি তার হাতে নিয়ে এক বালতি কি দু’বালতি পানি টেনে তুললেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বালতিটি আবূ বাকরের হাত হতে নিলেন, তার হাতে নিলেন, তার হাতে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বালতির আকার বড় হয়ে গেল। কোন শক্তিশালী জোরওয়ালাকে তার মত পানি আমি উঠাতে দেখিনি। লোকজন তাদের উটগুলিকে পরিতৃপ্ত করে পানি পান করিয়ে উটশালায় নিয়ে গেল। ওয়াহাব (রাবী) বলেন, (আরবী) অর্থ উটশালা। এমনকি উটগুলি পানি পান করে তৃপ্ত হয়ে বসে গেল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৮)
حدثني أحمد بن سعيد أبو عبد الله حدثنا وهب بن جرير حدثنا صخر عن نافع أن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينما أنا على بئر أنزع منها جاءني أبو بكر وعمر فأخذ أبو بكر الدلو فنزع ذنوبا أو ذنوبين وفي نزعه ضعف والله يغفر له ثم أخذها ابن الخطاب من يد أبي بكر فاستحالت في يده غربا فلم أر عبقريا من الناس يفري فريه فنزع حتى ضرب الناس بعطن قال وهب العطن مبرك الإبل يقول حتى رويت الإبل فأناخت
সহিহ বুখারী ৩৬৮১
حدثني محمد بن الصلت أبو جعفر الكوفي حدثنا ابن المبارك عن يونس عن الزهري قال أخبرني حمزة عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا أنا نائم شربت يعني اللبن حتى أنظر إلى الري يجري في ظفري أو في أظفاري ثم ناولت عمر فقالوا فما أولته قال العلم
হামযাহ (রহঃ)-এর পিতা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি ঘুমিয়েছিলাম। (স্বপ্নে) দুধ পান করতে দেখলাম যে তৃপ্তির নিদর্শন যেন আমার নখগুলির মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর দুধ ‘উমার (রাঃ)-কে দিলাম। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন? তিনি বললেন, ইলম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৩)
হামযাহ (রহঃ)-এর পিতা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি ঘুমিয়েছিলাম। (স্বপ্নে) দুধ পান করতে দেখলাম যে তৃপ্তির নিদর্শন যেন আমার নখগুলির মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর দুধ ‘উমার (রাঃ)-কে দিলাম। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন? তিনি বললেন, ইলম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৩)
حدثني محمد بن الصلت أبو جعفر الكوفي حدثنا ابن المبارك عن يونس عن الزهري قال أخبرني حمزة عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا أنا نائم شربت يعني اللبن حتى أنظر إلى الري يجري في ظفري أو في أظفاري ثم ناولت عمر فقالوا فما أولته قال العلم
সহিহ বুখারী ৩৬৮২
حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير حدثنا محمد بن بشر حدثنا عبيد الله قال حدثني أبو بكر بن سالم عن سالم عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال أريت في المنام أني أنزع بدلو بكرة على قليب فجاء أبو بكر فنزع ذنوبا أو ذنوبين نزعا ضعيفا والله يغفر له ثم جاء عمر بن الخطاب فاستحالت غربا فلم أر عبقريا يفري فريه حتى روي الناس وضربوا بعطن قال ابن جبير العبقري عتاق الزرابي وقال يحيى الزرابي الطنافس لها خمل رقيق مبثوثة كثيرة
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, একটি কূপের পাড়ে বড় বালতি দিয়ে পানি তুলছি। তখন আবূ বাকর (রাঃ) এসে এক বালতি বা দু’বালতি পানি তুললেন। তবে পানি তোলার মধ্যে তাঁর দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। অতঃপর ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এলেন। বালতিটি তাঁর হাতে গিয়ে বড় আকার ধারণ করল। তাঁর মত এমন দৃঢ়ভাবে পানি উঠাতে আমি কোন তাকৎওয়ালাকেও দেখেনি। এমনকি লোকেরা তৃপ্তির সাথে পানি পান করে গৃহে বিশ্রাম নিল। ইবনু জুবাইর (রহ.) বলেন, الْعَبْقَرِيُّ হল উন্নত মানের সুন্দর বিছানা। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, الزَّرَابِيِّ হল মখমলের সূক্ষ্ম সূতার তৈরি বিছানা। مَبْثُوْثَةٌ অর্থ বিস্তারিত। আর الْعَبْقَرِيَّ হল গোত্রপতি। (৩৬৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৪)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, একটি কূপের পাড়ে বড় বালতি দিয়ে পানি তুলছি। তখন আবূ বাকর (রাঃ) এসে এক বালতি বা দু’বালতি পানি তুললেন। তবে পানি তোলার মধ্যে তাঁর দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। অতঃপর ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এলেন। বালতিটি তাঁর হাতে গিয়ে বড় আকার ধারণ করল। তাঁর মত এমন দৃঢ়ভাবে পানি উঠাতে আমি কোন তাকৎওয়ালাকেও দেখেনি। এমনকি লোকেরা তৃপ্তির সাথে পানি পান করে গৃহে বিশ্রাম নিল। ইবনু জুবাইর (রহ.) বলেন, الْعَبْقَرِيُّ হল উন্নত মানের সুন্দর বিছানা। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, الزَّرَابِيِّ হল মখমলের সূক্ষ্ম সূতার তৈরি বিছানা। مَبْثُوْثَةٌ অর্থ বিস্তারিত। আর الْعَبْقَرِيَّ হল গোত্রপতি। (৩৬৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৪)
حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير حدثنا محمد بن بشر حدثنا عبيد الله قال حدثني أبو بكر بن سالم عن سالم عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال أريت في المنام أني أنزع بدلو بكرة على قليب فجاء أبو بكر فنزع ذنوبا أو ذنوبين نزعا ضعيفا والله يغفر له ثم جاء عمر بن الخطاب فاستحالت غربا فلم أر عبقريا يفري فريه حتى روي الناس وضربوا بعطن قال ابن جبير العبقري عتاق الزرابي وقال يحيى الزرابي الطنافس لها خمل رقيق مبثوثة كثيرة
সহিহ বুখারী ৩৬৮৩
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا يعقوب بن إبراهيم قال حدثني أبي عن صالح عن ابن شهاب أخبرني عبد الحميد أن محمد بن سعد أخبره أن أباه قال ح حدثني عبد العزيز بن عبد الله حدثنا إبراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب عن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد عن محمد بن سعد بن أبي وقاص عن أبيه قال استأذن عمر بن الخطاب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعنده نسوة من قريش يكلمنه ويستكثرنه عالية أصواتهن على صوته فلما استأذن عمر بن الخطاب قمن فبادرن الحجاب فأذن له رسول الله فدخل عمر ورسول الله يضحك فقال عمر أضحك الله سنك يا رسول الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم عجبت من هؤلاء اللاتي كن عندي فلما سمعن صوتك ابتدرن الحجاب فقال عمر فأنت أحق أن يهبن يا رسول الله ثم قال عمر يا عدوات أنفسهن أتهبنني ولا تهبن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلن نعم أنت أفظ وأغلظ من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إيها يا ابن الخطاب والذي نفسي بيده ما لقيك الشيطان سالكا فجا قط إلا سلك فجا غير فجك
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একবার ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর সঙ্গে কুরাইশের কয়েকজন নারী কথা বলছিলেন এবং তাঁরা অধিক পরিমাণ দাবী দাওয়া করতে গিয়ে তাঁর আওয়াজের চেয়ে তাদের আওয়াজ উচ্চ ছিল। যখন ‘উমার ইবনু খাত্তাব প্রবেশের অনুমতি চাইলেন তখন তাঁরা উঠে দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে অনুমতি দিলেন। আর ‘উমার (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ আপনাকে সদা হাস্য রাখুন হে আল্লাহ্র রসূল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নারীদের ব্যাপার দেখে আমি অবাক হচ্ছি, তাঁরা আমার নিকট ছিল, অথচ তোমার আওয়াজ শুনা মাত্র তারা সব দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনাকেই-তো অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) ঐ মহিলাগণকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে নিজের ক্ষতিকারী নারীরা! তোমরা আমাকে ভয় কর, অথচ আল্লাহ্র রসূলকে ভয় কর না? তারা উত্তরে বললেন, হাঁ ঠিকই হে ইবনু খাত্তাব! যে সত্তার হাতে আমার জান, তাঁর কসম, শয়তান যখনই কোন রাস্তায় তোমাকে দেখতে পায় সে তখনই তোমার ভয়ে এ রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তা ধরে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৫)
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একবার ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর সঙ্গে কুরাইশের কয়েকজন নারী কথা বলছিলেন এবং তাঁরা অধিক পরিমাণ দাবী দাওয়া করতে গিয়ে তাঁর আওয়াজের চেয়ে তাদের আওয়াজ উচ্চ ছিল। যখন ‘উমার ইবনু খাত্তাব প্রবেশের অনুমতি চাইলেন তখন তাঁরা উঠে দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে অনুমতি দিলেন। আর ‘উমার (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ আপনাকে সদা হাস্য রাখুন হে আল্লাহ্র রসূল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নারীদের ব্যাপার দেখে আমি অবাক হচ্ছি, তাঁরা আমার নিকট ছিল, অথচ তোমার আওয়াজ শুনা মাত্র তারা সব দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনাকেই-তো অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) ঐ মহিলাগণকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে নিজের ক্ষতিকারী নারীরা! তোমরা আমাকে ভয় কর, অথচ আল্লাহ্র রসূলকে ভয় কর না? তারা উত্তরে বললেন, হাঁ ঠিকই হে ইবনু খাত্তাব! যে সত্তার হাতে আমার জান, তাঁর কসম, শয়তান যখনই কোন রাস্তায় তোমাকে দেখতে পায় সে তখনই তোমার ভয়ে এ রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তা ধরে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৫)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا يعقوب بن إبراهيم قال حدثني أبي عن صالح عن ابن شهاب أخبرني عبد الحميد أن محمد بن سعد أخبره أن أباه قال ح حدثني عبد العزيز بن عبد الله حدثنا إبراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب عن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد عن محمد بن سعد بن أبي وقاص عن أبيه قال استأذن عمر بن الخطاب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعنده نسوة من قريش يكلمنه ويستكثرنه عالية أصواتهن على صوته فلما استأذن عمر بن الخطاب قمن فبادرن الحجاب فأذن له رسول الله فدخل عمر ورسول الله يضحك فقال عمر أضحك الله سنك يا رسول الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم عجبت من هؤلاء اللاتي كن عندي فلما سمعن صوتك ابتدرن الحجاب فقال عمر فأنت أحق أن يهبن يا رسول الله ثم قال عمر يا عدوات أنفسهن أتهبنني ولا تهبن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلن نعم أنت أفظ وأغلظ من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إيها يا ابن الخطاب والذي نفسي بيده ما لقيك الشيطان سالكا فجا قط إلا سلك فجا غير فجك
সহিহ বুখারী ৩৬৮৪
حدثنا محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن إسماعيل حدثنا قيس قال قال عبد الله مازلنا أعزة منذ أسلم عمر
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যেদিন ‘উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন, সেদিন হতে আমরা অত্যন্ত মর্যাদাশীল হয়ে আসছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৬)
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যেদিন ‘উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন, সেদিন হতে আমরা অত্যন্ত মর্যাদাশীল হয়ে আসছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৬)
حدثنا محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن إسماعيل حدثنا قيس قال قال عبد الله مازلنا أعزة منذ أسلم عمر
সহিহ বুখারী ৩৬৮৫
حدثنا عبدان أخبرنا عبد الله حدثنا عمر بن سعيد عن ابن أبي مليكة أنه سمع ابن عباس يقول وضع عمر على سريره فتكنفه الناس يدعون ويصلون قبل أن يرفع وأنا فيهم فلم يرعني إلا رجل آخذ منكبي فإذا علي بن أبي طالب فترحم على عمر وقال ما خلفت أحدا أحب إلي أن ألقى الله بمثل عمله منك وايم الله إن كنت لاظن أن يجعلك الله مع صاحبيك وحسبت إني كنت كثيرا أسمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول ذهبت أنا وأبو بكر وعمر ودخلت أنا وأبو بكر وعمر وخرجت أنا وأبو بكر وعمر
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর লাশ খাটের উপর রাখা হল। খাটটি কাঁধে তুলে নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত লোকজন তা ঘিরে দু’আ পাঠ করছিল। আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। হঠাৎ একজন আমার স্কন্ধে হাত রাখায় আমি চমকে উঠলাম। চেয়ে দেখলাম, তিনি ‘আলী (রাঃ)। তিনি ‘উমার (রাঃ)-এর জন্য আল্লাহ্র অশেষ রহমতের দু’আ করছিলেন। তিনি বলছিলেন, হে ‘উমার! আমার জন্য আপনার চেয়ে বেশি প্রিয় এমন কোন ব্যক্তি আপনি রেখে যাননি, যাঁর কালের অনুসরণ করে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করব। আল্লাহ্র কসম। আমার এ বিশ্বাস যে আল্লাহ্ আপনাকে আপনার সঙ্গীদ্বয়ের সঙ্গে রাখবেন। আমার মনে আছে, আমি অনেকবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার গেলাম। আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার প্রবেশ করলাম এবং আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার বাহির হলাম ইত্যাদি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৭)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর লাশ খাটের উপর রাখা হল। খাটটি কাঁধে তুলে নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত লোকজন তা ঘিরে দু’আ পাঠ করছিল। আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। হঠাৎ একজন আমার স্কন্ধে হাত রাখায় আমি চমকে উঠলাম। চেয়ে দেখলাম, তিনি ‘আলী (রাঃ)। তিনি ‘উমার (রাঃ)-এর জন্য আল্লাহ্র অশেষ রহমতের দু’আ করছিলেন। তিনি বলছিলেন, হে ‘উমার! আমার জন্য আপনার চেয়ে বেশি প্রিয় এমন কোন ব্যক্তি আপনি রেখে যাননি, যাঁর কালের অনুসরণ করে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করব। আল্লাহ্র কসম। আমার এ বিশ্বাস যে আল্লাহ্ আপনাকে আপনার সঙ্গীদ্বয়ের সঙ্গে রাখবেন। আমার মনে আছে, আমি অনেকবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার গেলাম। আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার প্রবেশ করলাম এবং আমি, আবূ বাক্র ও ‘উমার বাহির হলাম ইত্যাদি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৭)
حدثنا عبدان أخبرنا عبد الله حدثنا عمر بن سعيد عن ابن أبي مليكة أنه سمع ابن عباس يقول وضع عمر على سريره فتكنفه الناس يدعون ويصلون قبل أن يرفع وأنا فيهم فلم يرعني إلا رجل آخذ منكبي فإذا علي بن أبي طالب فترحم على عمر وقال ما خلفت أحدا أحب إلي أن ألقى الله بمثل عمله منك وايم الله إن كنت لاظن أن يجعلك الله مع صاحبيك وحسبت إني كنت كثيرا أسمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول ذهبت أنا وأبو بكر وعمر ودخلت أنا وأبو بكر وعمر وخرجت أنا وأبو بكر وعمر
সহিহ বুখারী ৩৬৮৬
حدثنا مسدد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد بن أبي عروبة ح و قال لي خليفة حدثنا محمد بن سواء وكهمس بن المنهال قالا حدثنا سعيد عن قتادة عن أنس بن مالك قال صعد النبي صلى الله عليه وسلم إلى أحد ومعه أبو بكر وعمر وعثمان فرجف بهم فضربه برجله قال اثبت أحد فما عليك إلا نبي أو صديق أو شهيدان
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদ পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবূ বাক্র, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ)। তাদেরকে নিয়ে পাহাড়টি দুলে উঠল। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাহাড়কে পায়ে আঘাত করে বললেন, হে উহুদ, থামো। তোমার উপর নবী, সিদ্দীক ও শহীদ ছাড়া অন্য কেউ নেই। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৮)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদ পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবূ বাক্র, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ)। তাদেরকে নিয়ে পাহাড়টি দুলে উঠল। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাহাড়কে পায়ে আঘাত করে বললেন, হে উহুদ, থামো। তোমার উপর নবী, সিদ্দীক ও শহীদ ছাড়া অন্য কেউ নেই। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৮)
حدثنا مسدد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد بن أبي عروبة ح و قال لي خليفة حدثنا محمد بن سواء وكهمس بن المنهال قالا حدثنا سعيد عن قتادة عن أنس بن مالك قال صعد النبي صلى الله عليه وسلم إلى أحد ومعه أبو بكر وعمر وعثمان فرجف بهم فضربه برجله قال اثبت أحد فما عليك إلا نبي أو صديق أو شهيدان
সহিহ বুখারী ৩৬৮৭
حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر هو ابن محمد أن زيد بن أسلم حدثه عن أبيه قال سألني ابن عمر عن بعض شأنه يعني عمر فأخبرته فقال ما رأيت أحدا قط بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم من حين قبض كان أجد وأجود حتى انتهى من عمر بن الخطاب
আসলাম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে ‘উমার (রাঃ) –এর গুণাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আমি তাকে সে সম্পর্কে জ্ঞাত করলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর মৃত্যুর পর কাউকে (এ সব গুণের অধিকারী) আমি দেখিনি। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়চেতা দানবীর ছিলেন। এ সকল গুণাগুণ যেন ‘উমার (রাঃ) পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৯)
আসলাম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে ‘উমার (রাঃ) –এর গুণাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আমি তাকে সে সম্পর্কে জ্ঞাত করলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর মৃত্যুর পর কাউকে (এ সব গুণের অধিকারী) আমি দেখিনি। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়চেতা দানবীর ছিলেন। এ সকল গুণাগুণ যেন ‘উমার (রাঃ) পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৯)
حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر هو ابن محمد أن زيد بن أسلم حدثه عن أبيه قال سألني ابن عمر عن بعض شأنه يعني عمر فأخبرته فقال ما رأيت أحدا قط بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم من حين قبض كان أجد وأجود حتى انتهى من عمر بن الخطاب
সহিহ বুখারী ৩৬৮৮
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ثابت عن أنس أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الساعة فقال متى الساعة قال وماذا أعددت لها قال لا شيء إلا أني أحب الله ورسوله فقال أنت مع من أحببت قال أنس فما فرحنا بشيء فرحنا بقول النبي صلى الله عليه وسلم أنت مع من أحببت قال أنس فأنا أحب النبي صلى الله عليه وسلم وأبا بكر وعمر وأرجو أن أكون معهم بحبي إياهم وإن لم أعمل بمثل أعمالهم
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে জিজ্ঞেস করল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, তুমি কিয়ামাতের জন্য কী জোগাড় করেছ? সে বলল, কোন কিছু জোগাড় করতে পরিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসি। তখন তিনি বললেন, তুমি তাঁদের সঙ্গেই থাকবে যাঁদেরকে তুমি ভালবাস। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কথা দ্বারা আমরা এত আনন্দিত হয়েছি যে অন্য কোন কথায় এত আনন্দিত হইনি। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে ভালবাসি এবং আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ)-কেও। আশা করি তাঁদেরকে আমার ভালবাসার কারণে তাদের সঙ্গে জান্নাতে বসবাস করতে পারব; যদিও তাঁদের ‘আমলের মত ‘আমল আমি করতে পারিনি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২০)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে জিজ্ঞেস করল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, তুমি কিয়ামাতের জন্য কী জোগাড় করেছ? সে বলল, কোন কিছু জোগাড় করতে পরিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসি। তখন তিনি বললেন, তুমি তাঁদের সঙ্গেই থাকবে যাঁদেরকে তুমি ভালবাস। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কথা দ্বারা আমরা এত আনন্দিত হয়েছি যে অন্য কোন কথায় এত আনন্দিত হইনি। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে ভালবাসি এবং আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ)-কেও। আশা করি তাঁদেরকে আমার ভালবাসার কারণে তাদের সঙ্গে জান্নাতে বসবাস করতে পারব; যদিও তাঁদের ‘আমলের মত ‘আমল আমি করতে পারিনি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২০)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ثابت عن أنس أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الساعة فقال متى الساعة قال وماذا أعددت لها قال لا شيء إلا أني أحب الله ورسوله فقال أنت مع من أحببت قال أنس فما فرحنا بشيء فرحنا بقول النبي صلى الله عليه وسلم أنت مع من أحببت قال أنس فأنا أحب النبي صلى الله عليه وسلم وأبا بكر وعمر وأرجو أن أكون معهم بحبي إياهم وإن لم أعمل بمثل أعمالهم
সহিহ বুখারী ৩৬৮৯
حدثنا يحيى بن قزعة حدثنا إبراهيم بن سعد عن أبيه عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لقد كان فيما قبلكم من الأمم محدثون فإن يك في أمتي أحد فإنه عمر زاد زكرياء بن أبي زائدة عن سعد عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لقد كان فيمن كان قبلكم من بني إسرائيل رجال يكلمون من غير أن يكونوا أنبياء فإن يكن من أمتي منهم أحد فعمر قال ابن عباس رضي الله عنهما من نبي ولا محدث
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের আগের উম্মাতগণের মধ্যে অনেক মুহাদ্দাস (যার ক্বলবে সত্য কথা অবতীর্ণ হয়) ব্যক্তি ছিলেন। আমার উম্মাতের মধ্যে যদি কেউ মুহাদ্দাস হন তবে সে ব্যক্তি উমর। যাকারিয়া (রহ.)....আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে অধিক বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের আগের বনী ইসরাঈলের মধ্যে এমন কতক লোক ছিলেন, যাঁরা নাবী ছিলেন না বটে, তবে ফেরেশতামন্ডলী তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন। আমার উম্মাতে এমন কোন লোক হলে সে হবে ‘উমার (রাঃ)। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) (কুরআনের আয়াতে) وَلَا مُحَدَّثٍ অতিরিক্ত বলেছেন। (৩৪৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২১)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের আগের উম্মাতগণের মধ্যে অনেক মুহাদ্দাস (যার ক্বলবে সত্য কথা অবতীর্ণ হয়) ব্যক্তি ছিলেন। আমার উম্মাতের মধ্যে যদি কেউ মুহাদ্দাস হন তবে সে ব্যক্তি উমর। যাকারিয়া (রহ.)....আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে অধিক বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের আগের বনী ইসরাঈলের মধ্যে এমন কতক লোক ছিলেন, যাঁরা নাবী ছিলেন না বটে, তবে ফেরেশতামন্ডলী তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন। আমার উম্মাতে এমন কোন লোক হলে সে হবে ‘উমার (রাঃ)। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) (কুরআনের আয়াতে) وَلَا مُحَدَّثٍ অতিরিক্ত বলেছেন। (৩৪৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২১)
حدثنا يحيى بن قزعة حدثنا إبراهيم بن سعد عن أبيه عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لقد كان فيما قبلكم من الأمم محدثون فإن يك في أمتي أحد فإنه عمر زاد زكرياء بن أبي زائدة عن سعد عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لقد كان فيمن كان قبلكم من بني إسرائيل رجال يكلمون من غير أن يكونوا أنبياء فإن يكن من أمتي منهم أحد فعمر قال ابن عباس رضي الله عنهما من نبي ولا محدث
সহিহ বুখারী ৩৬৯০
حدثنا عبد الله بن يوسف حدثنا الليث حدثنا عقيل عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب وأبي سلمة بن عبد الرحمن قالا سمعنا أبا هريرة يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينما راع في غنمه عدا الذئب فأخذ منها شاة فطلبها حتى استنقذها فالتفت إليه الذئب فقال له من لها يوم السبع ليس لها راع غيري فقال الناس سبحان الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم فإني أومن به وأبو بكر وعمر وما ثم أبو بكر وعمر
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, একদা এক রাখাল তার বকরীর পালের সঙ্গে ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ পাল আক্রমণ করে একটি বকরী নিয়ে গেল। রাখাল বাঘের পিছে দৌড়ে বকরীকে উদ্ধার করে আনল। তখন বাঘ রাখালকে বলল, যখন আমি ছাড়া অন্য কেউ থাকবে না তখন হিংস্র জন্তুদের আক্রমণ হতে তাদের কে রক্ষা করবে? সাহাবীগণ বললেন, সুবহানাল্লাহ। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি এটা বিশ্বাস করি এবং আবূ বাক্র ও উমরও বিশ্বাস করে। অথচ আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২২)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, একদা এক রাখাল তার বকরীর পালের সঙ্গে ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ পাল আক্রমণ করে একটি বকরী নিয়ে গেল। রাখাল বাঘের পিছে দৌড়ে বকরীকে উদ্ধার করে আনল। তখন বাঘ রাখালকে বলল, যখন আমি ছাড়া অন্য কেউ থাকবে না তখন হিংস্র জন্তুদের আক্রমণ হতে তাদের কে রক্ষা করবে? সাহাবীগণ বললেন, সুবহানাল্লাহ। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি এটা বিশ্বাস করি এবং আবূ বাক্র ও উমরও বিশ্বাস করে। অথচ আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২২)
حدثنا عبد الله بن يوسف حدثنا الليث حدثنا عقيل عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب وأبي سلمة بن عبد الرحمن قالا سمعنا أبا هريرة يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينما راع في غنمه عدا الذئب فأخذ منها شاة فطلبها حتى استنقذها فالتفت إليه الذئب فقال له من لها يوم السبع ليس لها راع غيري فقال الناس سبحان الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم فإني أومن به وأبو بكر وعمر وما ثم أبو بكر وعمر
সহিহ বুখারী ৩৬৯১
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب قال أخبرني أبو أمامة بن سهل بن حنيف عن أبي سعيد الخدري قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بينا أنا نائم رأيت الناس عرضوا علي وعليهم قمص فمنها ما يبلغ الثدي ومنها ما يبلغ دون ذلك وعرض علي عمر وعليه قميص اجتره قالوا فما أولته يا رسول الله قال الدين
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে বলতে শুনেছি যে, একদা আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। দেখতে পেলাম, অনেক লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হল। তাদের গায়ে জামা ছিল। কারো কারো জামা এত ছোট ছিল যে, কোন ভাবে বুক পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর কারো জামা এত্থেকেও ছোট ছিল। আর ‘উমার (রাঃ) –কেও আমার সামনে পেশ করা হলো। তাঁর শরীরে এত লম্বা জামা ছিল যে, সে জামাটি হেচঁড়িয়ে চলছিল। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এ স্বপ্নের কি তাবীর করলেন। তিনি বললেন, দীনদারী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৩)
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে বলতে শুনেছি যে, একদা আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। দেখতে পেলাম, অনেক লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হল। তাদের গায়ে জামা ছিল। কারো কারো জামা এত ছোট ছিল যে, কোন ভাবে বুক পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর কারো জামা এত্থেকেও ছোট ছিল। আর ‘উমার (রাঃ) –কেও আমার সামনে পেশ করা হলো। তাঁর শরীরে এত লম্বা জামা ছিল যে, সে জামাটি হেচঁড়িয়ে চলছিল। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এ স্বপ্নের কি তাবীর করলেন। তিনি বললেন, দীনদারী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৩)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب قال أخبرني أبو أمامة بن سهل بن حنيف عن أبي سعيد الخدري قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بينا أنا نائم رأيت الناس عرضوا علي وعليهم قمص فمنها ما يبلغ الثدي ومنها ما يبلغ دون ذلك وعرض علي عمر وعليه قميص اجتره قالوا فما أولته يا رسول الله قال الدين
সহিহ বুখারী ৩৬৯২
حدثنا الصلت بن محمد حدثنا إسماعيل بن إبراهيم حدثنا أيوب عن ابن أبي مليكة عن المسور بن مخرمة قال لما طعن عمر جعل يألم فقال له ابن عباس وكأنه يجزعه يا أمير المؤمنين ولئن كان ذاك لقد صحبت رسول الله فأحسنت صحبته ثم فارقته وهو عنك راض ثم صحبت أبا بكر فأحسنت صحبته ثم فارقته وهو عنك راض ثم صحبت صحبتهم فأحسنت صحبتهم ولئن فارقتهم لتفارقنهم وهم عنك راضون قال أما ما ذكرت من صحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم ورضاه فإنما ذاك من من الله تعالى من به علي وأما ما ذكرت من صحبة أبي بكر ورضاه فإنما ذاك من من الله جل ذكره من به علي وأما ما ترى من جزعي فهو من أجلك وأجل أصحابك والله لو أن لي طلاع الأرض ذهبا لافتديت به من عذاب الله عز وجل قبل أن أراه قال حماد بن زيد حدثنا أيوب عن ابن أبي مليكة عن ابن عباس دخلت على عمر بهذا
মিসওয়ার ইব্নু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন ‘উমার (রাঃ) আহত হলেন, তখন তিনি বেদনা অনুভব করছিলেন। তখন তাঁকে সান্ত্বনা দেয়ার উদ্দেশ্যে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলতে লাগলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ আঘাত জনিত কারণে যদি আপনার কিছু হয় দুঃখের কোন কারণ নেই। আপনি তো আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাহচর্য পেয়েছেন এবং তাঁর সাহচর্যের হক ভালভাবে আদায় করেছেন। অতঃপর আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর আপনি আবূ বকর (রাঃ) –এর সঙ্গ লাভ করেন এবং এর হকও আপনি পূর্ণরূপে আদায় করেন। অতঃপর আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর আপনি সাহাবাগণের সাহচর্য পেয়েছেন এবং তাদের হকও সঠিকভাবে আদায় করেছেন। যদি আপনি তাদের হতে আলাদা হয়ে পড়েন তবে আপনি অবশ্যই তাদের হতে এমন অবস্থায় আলাদা হবেন যে তাঁরাও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গ ও সন্তুষ্টির ব্যাপারে যা বলেছ, তাতো আল্লাহ্র বিশেষ অনুগ্রহ, যা তিনি আমার প্রতি করেছেন। এবং আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গ ও সন্তুষ্টির ব্যাপারে যা তুমি বলেছ তাও একমাত্র মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যা তিনি আমার উপর করেছেন। আর আমার যে অস্থিরতা তুমি দেখছ তা তোমার এবং তোমার সাথীদের কারণেই। আল্লাহর কসম, আমার নিকট যদি দুনিয়া ভরা সোনা থাকত তবে আল্লাহ্র আযাব দেখার আগেই তা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য ফিদয়া হিসাবে বিলিয়ে দিতাম। হাম্মাদ (রহঃ) .....ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ) –এর নিকট প্রবেশ করলাম .....। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৪)
মিসওয়ার ইব্নু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন ‘উমার (রাঃ) আহত হলেন, তখন তিনি বেদনা অনুভব করছিলেন। তখন তাঁকে সান্ত্বনা দেয়ার উদ্দেশ্যে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলতে লাগলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ আঘাত জনিত কারণে যদি আপনার কিছু হয় দুঃখের কোন কারণ নেই। আপনি তো আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাহচর্য পেয়েছেন এবং তাঁর সাহচর্যের হক ভালভাবে আদায় করেছেন। অতঃপর আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর আপনি আবূ বকর (রাঃ) –এর সঙ্গ লাভ করেন এবং এর হকও আপনি পূর্ণরূপে আদায় করেন। অতঃপর আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর আপনি সাহাবাগণের সাহচর্য পেয়েছেন এবং তাদের হকও সঠিকভাবে আদায় করেছেন। যদি আপনি তাদের হতে আলাদা হয়ে পড়েন তবে আপনি অবশ্যই তাদের হতে এমন অবস্থায় আলাদা হবেন যে তাঁরাও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গ ও সন্তুষ্টির ব্যাপারে যা বলেছ, তাতো আল্লাহ্র বিশেষ অনুগ্রহ, যা তিনি আমার প্রতি করেছেন। এবং আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গ ও সন্তুষ্টির ব্যাপারে যা তুমি বলেছ তাও একমাত্র মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যা তিনি আমার উপর করেছেন। আর আমার যে অস্থিরতা তুমি দেখছ তা তোমার এবং তোমার সাথীদের কারণেই। আল্লাহর কসম, আমার নিকট যদি দুনিয়া ভরা সোনা থাকত তবে আল্লাহ্র আযাব দেখার আগেই তা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য ফিদয়া হিসাবে বিলিয়ে দিতাম। হাম্মাদ (রহঃ) .....ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ) –এর নিকট প্রবেশ করলাম .....। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৪)
حدثنا الصلت بن محمد حدثنا إسماعيل بن إبراهيم حدثنا أيوب عن ابن أبي مليكة عن المسور بن مخرمة قال لما طعن عمر جعل يألم فقال له ابن عباس وكأنه يجزعه يا أمير المؤمنين ولئن كان ذاك لقد صحبت رسول الله فأحسنت صحبته ثم فارقته وهو عنك راض ثم صحبت أبا بكر فأحسنت صحبته ثم فارقته وهو عنك راض ثم صحبت صحبتهم فأحسنت صحبتهم ولئن فارقتهم لتفارقنهم وهم عنك راضون قال أما ما ذكرت من صحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم ورضاه فإنما ذاك من من الله تعالى من به علي وأما ما ذكرت من صحبة أبي بكر ورضاه فإنما ذاك من من الله جل ذكره من به علي وأما ما ترى من جزعي فهو من أجلك وأجل أصحابك والله لو أن لي طلاع الأرض ذهبا لافتديت به من عذاب الله عز وجل قبل أن أراه قال حماد بن زيد حدثنا أيوب عن ابن أبي مليكة عن ابن عباس دخلت على عمر بهذا
সহিহ বুখারী ৩৬৯৩
حدثنا يوسف بن موسى حدثنا أبو أسامة قال حدثني عثمان بن غياث حدثنا أبو عثمان النهدي عن أبي موسى قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في حائط من حيطان المدينة فجاء رجل فاستفتح فقال النبي صلى الله عليه وسلم افتح له وبشره بالجنة ففتحت له فإذا أبو بكر فبشرته بما قال النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله ثم جاء رجل فاستفتح فقال النبي صلى الله عليه وسلم افتح له وبشره بالجنة ففتحت له فإذا هو عمر فأخبرته بما قال النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله ثم استفتح رجل فقال لي افتح له وبشره بالجنة على بلوى تصيبه فإذا عثمان فأخبرته بما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فحمد الله ثم قال الله المستعان
আবূ মুসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মদিনার এক বাগানের ভিতর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে বাগানের দরজা খুলে দেয়ার জন্য বলল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম যে, তিনি আবূ বাকর (রাঃ)। তাঁকে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেয়া সুসংবাদ দিলাম। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তি এসে দরজা খোলার জন্য বলল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম, তিনি ‘উমার (রাঃ)। তাঁকে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুসংবাদ জানিয়ে দিলাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর আর একজন দরজা খুলে দেয়ার জন্য বললেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দরজা খুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সু-সংবাদ জানিয়ে দাও। কিন্তু তার উপর ভয়ানক বিপদ আসবে। দেখলাম যে, তিনি ‘উসমান (রাঃ)। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, আমি তাকে বললাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন আর বললেন, اللهُ الْمُسْتَعَانُ আল্লাহই সাহায্যকারী। (৩৬৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৫)
আবূ মুসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মদিনার এক বাগানের ভিতর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে বাগানের দরজা খুলে দেয়ার জন্য বলল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম যে, তিনি আবূ বাকর (রাঃ)। তাঁকে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেয়া সুসংবাদ দিলাম। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তি এসে দরজা খোলার জন্য বলল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম, তিনি ‘উমার (রাঃ)। তাঁকে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুসংবাদ জানিয়ে দিলাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর আর একজন দরজা খুলে দেয়ার জন্য বললেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দরজা খুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সু-সংবাদ জানিয়ে দাও। কিন্তু তার উপর ভয়ানক বিপদ আসবে। দেখলাম যে, তিনি ‘উসমান (রাঃ)। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, আমি তাকে বললাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন আর বললেন, اللهُ الْمُسْتَعَانُ আল্লাহই সাহায্যকারী। (৩৬৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৫)
حدثنا يوسف بن موسى حدثنا أبو أسامة قال حدثني عثمان بن غياث حدثنا أبو عثمان النهدي عن أبي موسى قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في حائط من حيطان المدينة فجاء رجل فاستفتح فقال النبي صلى الله عليه وسلم افتح له وبشره بالجنة ففتحت له فإذا أبو بكر فبشرته بما قال النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله ثم جاء رجل فاستفتح فقال النبي صلى الله عليه وسلم افتح له وبشره بالجنة ففتحت له فإذا هو عمر فأخبرته بما قال النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله ثم استفتح رجل فقال لي افتح له وبشره بالجنة على بلوى تصيبه فإذا عثمان فأخبرته بما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فحمد الله ثم قال الله المستعان
সহিহ বুখারী ৩৬৯৪
حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال أخبرني حيوة قال حدثني أبو عقيل زهرة بن معبد أنه سمع جده عبد الله بن هشام قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو آخذ بيد عمر بن الخطاب
আবদুল্লাহ ইব্নু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে ছিলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) –এর হস্তধারণকৃত অবস্থায় ছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৬)
আবদুল্লাহ ইব্নু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে ছিলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) –এর হস্তধারণকৃত অবস্থায় ছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৬)
حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال أخبرني حيوة قال حدثني أبو عقيل زهرة بن معبد أنه سمع جده عبد الله بن هشام قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو آخذ بيد عمر بن الخطاب
সহিহ বুখারী > ‘উসমান ইব্নু আফ্ফান আবূ ‘আম্র কুরায়শী (রাঃ) –এর ফযীলত ও মর্যাদা।
সহিহ বুখারী ৩৬৯৫
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن أيوب عن أبي عثمان عن أبي موسى أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل حائطا وأمرني بحفظ باب الحائط فجاء رجل يستأذن فقال ائذن له وبشره بالجنة فإذا أبو بكر ثم جاء آخر يستأذن فقال ائذن له وبشره بالجنة فإذا عمر ثم جاء آخر يستأذن فسكت هنيهة ثم قال ائذن له وبشره بالجنة على بلوى ستصيبه فإذا عثمان بن عفان قال حماد وحدثنا عاصم الأحول وعلي بن الحكم سمعا أبا عثمان يحدث عن أبي موسى بنحوه وزاد فيه عاصم أن النبي صلى الله عليه وسلم كان قاعدا في مكان فيه ماء قد انكشف عن ركبتيه أو ركبته فلما دخل عثمان غطاها
আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি বাগানে প্রবেশ করলেন এবং বাগানের দরজা পাহারা দেয়ার জন্য আমাকে আদেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাকে আসতে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও। আমি দেখলাম যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ) অতঃপর আর একজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। দেখতে পেলেন, তিনি ‘উমার (রাঃ)। অতঃপর আর একজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুক্ষণ চুপ করে বললেন, তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি দাও এবং শীঘ্রই তার উপর বিপদ আসবে এ কথা বলে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও। দেখতে পেলাম যে, তিনি ‘উসমান ইব্নু আফফান (রাঃ)। হাম্মাদ (রহঃ) .... আবূ মূসা (রাঃ) হতে এ রকম বর্ণিত আছে। আসিম (রহঃ) উক্ত বর্ণনায় আরো বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাগানের এমন এক জায়গায় বসেছিলেন যেখানে পানি ছিল এবং তাঁর হাঁটুদ্বয় অথবা এক হাঁটু খোলা ছিলেন। যখন ‘উসমান (রাঃ) আসলেন তখন হাঁটু কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেললেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৭)
আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি বাগানে প্রবেশ করলেন এবং বাগানের দরজা পাহারা দেয়ার জন্য আমাকে আদেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাকে আসতে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও। আমি দেখলাম যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ) অতঃপর আর একজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। দেখতে পেলেন, তিনি ‘উমার (রাঃ)। অতঃপর আর একজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুক্ষণ চুপ করে বললেন, তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি দাও এবং শীঘ্রই তার উপর বিপদ আসবে এ কথা বলে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও। দেখতে পেলাম যে, তিনি ‘উসমান ইব্নু আফফান (রাঃ)। হাম্মাদ (রহঃ) .... আবূ মূসা (রাঃ) হতে এ রকম বর্ণিত আছে। আসিম (রহঃ) উক্ত বর্ণনায় আরো বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাগানের এমন এক জায়গায় বসেছিলেন যেখানে পানি ছিল এবং তাঁর হাঁটুদ্বয় অথবা এক হাঁটু খোলা ছিলেন। যখন ‘উসমান (রাঃ) আসলেন তখন হাঁটু কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেললেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৭)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن أيوب عن أبي عثمان عن أبي موسى أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل حائطا وأمرني بحفظ باب الحائط فجاء رجل يستأذن فقال ائذن له وبشره بالجنة فإذا أبو بكر ثم جاء آخر يستأذن فقال ائذن له وبشره بالجنة فإذا عمر ثم جاء آخر يستأذن فسكت هنيهة ثم قال ائذن له وبشره بالجنة على بلوى ستصيبه فإذا عثمان بن عفان قال حماد وحدثنا عاصم الأحول وعلي بن الحكم سمعا أبا عثمان يحدث عن أبي موسى بنحوه وزاد فيه عاصم أن النبي صلى الله عليه وسلم كان قاعدا في مكان فيه ماء قد انكشف عن ركبتيه أو ركبته فلما دخل عثمان غطاها
সহিহ বুখারী ৩৬৯৯
حدثنا موسى بن إسماعيل حدثنا أبو عوانة حدثنا عثمان هو ابن موهب قال جاء رجل من أهل مصر حج البيت فرأى قوما جلوسا فقال من هؤلاء القوم فقالوا هؤلاء قريش قال فمن الشيخ فيهم قالوا عبد الله بن عمر قال يا ابن عمر إني سائلك عن شيء فحدثني هل تعلم أن عثمان فر يوم أحد قال نعم قال تعلم أنه تغيب عن بدر ولم يشهد قال نعم قال تعلم أنه تغيب عن بيعة الرضوان فلم يشهدها قال نعم قال الله أكبر قال ابن عمر تعال أبين لك أما فراره يوم أحد فأشهد أن الله عفا عنه وغفر له وأما تغيبه عن بدر فإنه كانت تحته بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت مريضة فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم إن لك أجر رجل ممن شهد بدرا وسهمه وأما تغيبه عن بيعة الرضوان فلو كان أحد أعز ببطن مكة من عثمان لبعثه مكانه فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عثمان وكانت بيعة الرضوان بعد ما ذهب عثمان إلى مكة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده اليمنى هذه يد عثمان فضرب بها على يده فقال هذه لعثمان فقال له ابن عمر اذهب بها الآن معك
‘উসমান ইবনু মাওহাব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক মিসরবাসী মক্কায় এসে হাজ্জ করে দেখতে পেল যে, কিছু লোক একত্রে বসে আছে। সে বলল, এ লোকজন কারা? বললেন, ইনি ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ)। সে ব্যক্তি (তাঁর নিকট এসে) বলল, হে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ), আমি আপনাকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করব; আপনি আমাকে বলুন, (১) আপনি কি এটা জানেন যে, ‘উসমান (রাঃ) উহুদ যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে গিয়েছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ। (২) সে বলল, আপনি জানেন কি ‘উসমান (রাঃ) বাদার যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন? ইব্নু ‘উমার (রাঃ) বললেন, হাঁ। লোকটি বলে উঠল, আল্লাহু আকবার। ইব্নু ‘উমার (রাঃ) তাকে বললেন, এস, তোমাকে আসল ঘটনা বলে দেই। ‘উসমান (রাঃ) –এর উহুদ যুদ্ধ হতে পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ তাঁকে মাফ করে দিয়েছেন ও ক্ষমা করেছেন। আর তিনি বাদার যুদ্ধে এজন্য অনুপস্থিত ছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কন্যা তাঁর স্ত্রী রোগাক্রান্ত ছিলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, বাদারে অংশ গ্রহণকারী ব্যক্তির সমপরিমাণ সাওয়াব ও গনীমতের অংশ মিলবে। আর বায়’আত রিযওয়ান হতে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হল, মক্কার বুকে তাঁর চেয়ে সম্ভ্রান্ত অন্য কেউ যদি থাকতো তবে তাকেই তিনি ‘উসমানের বদলে পাঠাতেন। অতঃপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উসমান (রাঃ) –কে মক্কায় পাঠান। এবং তাঁর চলে যাবার পর বায়’আত রিযওয়ান অনুষ্ঠিত হয়। তখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাতের প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, এটি ‘উসমানের হাত। অতঃপর ডান হাত বাম হাতে স্থাপন করে বললেন যে, এ হল ‘উসমানের বায়’আত। ইব্নু ‘উমার (রাঃ) ঐ লোকটিকে বললেন, তুমি এই জবাব তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৩০)
‘উসমান ইবনু মাওহাব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক মিসরবাসী মক্কায় এসে হাজ্জ করে দেখতে পেল যে, কিছু লোক একত্রে বসে আছে। সে বলল, এ লোকজন কারা? বললেন, ইনি ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ)। সে ব্যক্তি (তাঁর নিকট এসে) বলল, হে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ), আমি আপনাকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করব; আপনি আমাকে বলুন, (১) আপনি কি এটা জানেন যে, ‘উসমান (রাঃ) উহুদ যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে গিয়েছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ। (২) সে বলল, আপনি জানেন কি ‘উসমান (রাঃ) বাদার যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন? ইব্নু ‘উমার (রাঃ) বললেন, হাঁ। লোকটি বলে উঠল, আল্লাহু আকবার। ইব্নু ‘উমার (রাঃ) তাকে বললেন, এস, তোমাকে আসল ঘটনা বলে দেই। ‘উসমান (রাঃ) –এর উহুদ যুদ্ধ হতে পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ তাঁকে মাফ করে দিয়েছেন ও ক্ষমা করেছেন। আর তিনি বাদার যুদ্ধে এজন্য অনুপস্থিত ছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কন্যা তাঁর স্ত্রী রোগাক্রান্ত ছিলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, বাদারে অংশ গ্রহণকারী ব্যক্তির সমপরিমাণ সাওয়াব ও গনীমতের অংশ মিলবে। আর বায়’আত রিযওয়ান হতে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হল, মক্কার বুকে তাঁর চেয়ে সম্ভ্রান্ত অন্য কেউ যদি থাকতো তবে তাকেই তিনি ‘উসমানের বদলে পাঠাতেন। অতঃপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উসমান (রাঃ) –কে মক্কায় পাঠান। এবং তাঁর চলে যাবার পর বায়’আত রিযওয়ান অনুষ্ঠিত হয়। তখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাতের প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, এটি ‘উসমানের হাত। অতঃপর ডান হাত বাম হাতে স্থাপন করে বললেন যে, এ হল ‘উসমানের বায়’আত। ইব্নু ‘উমার (রাঃ) ঐ লোকটিকে বললেন, তুমি এই জবাব তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৩০)
حدثنا موسى بن إسماعيل حدثنا أبو عوانة حدثنا عثمان هو ابن موهب قال جاء رجل من أهل مصر حج البيت فرأى قوما جلوسا فقال من هؤلاء القوم فقالوا هؤلاء قريش قال فمن الشيخ فيهم قالوا عبد الله بن عمر قال يا ابن عمر إني سائلك عن شيء فحدثني هل تعلم أن عثمان فر يوم أحد قال نعم قال تعلم أنه تغيب عن بدر ولم يشهد قال نعم قال تعلم أنه تغيب عن بيعة الرضوان فلم يشهدها قال نعم قال الله أكبر قال ابن عمر تعال أبين لك أما فراره يوم أحد فأشهد أن الله عفا عنه وغفر له وأما تغيبه عن بدر فإنه كانت تحته بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت مريضة فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم إن لك أجر رجل ممن شهد بدرا وسهمه وأما تغيبه عن بيعة الرضوان فلو كان أحد أعز ببطن مكة من عثمان لبعثه مكانه فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عثمان وكانت بيعة الرضوان بعد ما ذهب عثمان إلى مكة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده اليمنى هذه يد عثمان فضرب بها على يده فقال هذه لعثمان فقال له ابن عمر اذهب بها الآن معك
সহিহ বুখারী ৩৬৯৮
حدثني محمد بن حاتم بن بزيع حدثنا شاذان حدثنا عبد العزيز بن أبي سلمة الماجشون عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال كنا في زمن النبي صلى الله عليه وسلم لا نعدل بأبي بكر أحدا ثم عمر ثم عثمان ثم نترك أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم لا نفاضل بينهم تابعه عبد الله بن صالح عن عبد العزيز
ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে আবূ বকর (রাঃ) –এর ন্যায় মর্যাদাবান কাউকে মনে করতাম না, অতঃপর ‘উমার (রাঃ)-কে, অতঃপর ‘উসমান (রাঃ)-কে, অতঃপর সাহাবাগণের মধ্যে কাউকে কারও উপর মর্যাদা দিতাম না। ‘আবদুল্লাহ ইব্নু সালিহ (রহঃ) ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় শাবান (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৯)
ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে আবূ বকর (রাঃ) –এর ন্যায় মর্যাদাবান কাউকে মনে করতাম না, অতঃপর ‘উমার (রাঃ)-কে, অতঃপর ‘উসমান (রাঃ)-কে, অতঃপর সাহাবাগণের মধ্যে কাউকে কারও উপর মর্যাদা দিতাম না। ‘আবদুল্লাহ ইব্নু সালিহ (রহঃ) ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় শাবান (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৯)
حدثني محمد بن حاتم بن بزيع حدثنا شاذان حدثنا عبد العزيز بن أبي سلمة الماجشون عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال كنا في زمن النبي صلى الله عليه وسلم لا نعدل بأبي بكر أحدا ثم عمر ثم عثمان ثم نترك أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم لا نفاضل بينهم تابعه عبد الله بن صالح عن عبد العزيز
সহিহ বুখারী ৩৬৯৭
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن سعيد عن قتادة أن أنسا حدثهم قال صعد النبي صلى الله عليه وسلم أحدا ومعه أبو بكر وعمر وعثمان فرجف وقال اسكن أحد أظنه ضربه برجله فليس عليك إلا نبي وصديق وشهيدان
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহুদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন। তাঁর সাথে ছিলেন আবূ বাক্র, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ)। তাদেঁরকে পেয়ে পাহাড়টি কেঁপে উঠল। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্থির হও উহুদ। আমার ধারণা তিনি তাঁর পা দ্বারা আঘাত করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক এবং দু’জন শহীদ ছাড়া আর কেউ নেই। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৩১)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহুদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন। তাঁর সাথে ছিলেন আবূ বাক্র, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ)। তাদেঁরকে পেয়ে পাহাড়টি কেঁপে উঠল। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্থির হও উহুদ। আমার ধারণা তিনি তাঁর পা দ্বারা আঘাত করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক এবং দু’জন শহীদ ছাড়া আর কেউ নেই। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৩১)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن سعيد عن قتادة أن أنسا حدثهم قال صعد النبي صلى الله عليه وسلم أحدا ومعه أبو بكر وعمر وعثمان فرجف وقال اسكن أحد أظنه ضربه برجله فليس عليك إلا نبي وصديق وشهيدان
সহিহ বুখারী ৩৬৯৬
حدثني أحمد بن شبيب بن سعيد قال حدثني أبي عن يونس قال ابن شهاب أخبرني عروة أن عبيد الله بن عدي بن الخيار أخبره أن المسور بن مخرمة وعبد الرحمن بن الأسود بن عبد يغوث قالا ما يمنعك أن تكلم عثمان لأخيه الوليد فقد أكثر الناس فيه فقصدت لعثمان حتى خرج إلى الصلاة قلت إن لي إليك حاجة وهي نصيحة لك قال يا أيها المرء قال معمر أراه قال أعوذ بالله منك فانصرفت فرجعت إليهم إذ جاء رسول عثمان فأتيته فقال ما نصيحتك فقلت إن الله سبحانه بعث محمدا بالحق وأنزل عليه الكتاب وكنت ممن استجاب لله ولرسوله فهاجرت الهجرتين وصحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم ورأيت هديه وقد أكثر الناس في شأن الوليد قال أدركت رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت لا ولكن خلص إلي من علمه ما يخلص إلى العذراء في سترها قال أما بعد فإن الله بعث محمدا بالحق فكنت ممن استجاب لله ولرسوله وآمنت بما بعث به وهاجرت الهجرتين كما قلت وصحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم وبايعته فوالله ما عصيته ولا غششته حتى توفاه الله عز وجل ثم أبو بكر مثله ثم عمر مثله ثم استخلفت أفليس لي من الحق مثل الذي لهم قلت بلى قال فما هذه الأحاديث التي تبلغني عنكم أما ما ذكرت من شأن الوليد فسنأخذ فيه بالحق إن شاء الله ثم دعا عليا فأمره أن يجلده فجلده ثمانين
‘উবাইদুল্লাহ ইব্নু আদী ইব্নু খিয়ার (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
মিসওয়ার ইব্নু মাখরামা ও ‘আবদুর রাহমান ইব্নু আসওয়াদ ইব্নু ‘আবদ ইয়াগুস (রহঃ) আমাকে বললেন যে, ‘উসমান (রাঃ) এর সঙ্গে তাঁর (বৈপিত্রিয় ভাই) অলীদের ব্যাপারে আলোচনা করতে তোমাদের কিসে বাধা দেয়? লোকেরা তার সম্পর্কে নানারূপ কথাবার্তা বলছে। ‘উসমান (রাঃ) যখন সলাত আদায়ের উদ্দেশে বের হলেন তখন আমি তাঁর নিকটে গিয়ে বললাম, আপনার সঙ্গে আমার একটি দরকার আছে এবং তা আমি আপনার ভালোর জন্যই বলবো। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, ওহে, আমি তোমা হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাচ্ছি। আমি তাদের নিকট ফিরে আসলাম। তৎক্ষণাৎ ‘উসমান (রাঃ) –এর দূত এসে হাযির হলো। আমি তার নিকট গেলাম। তিনি বললেন, বল, তোমার নাসীহাত কী? আমি বললাম, আল্লাহ্ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন। কুরআন তাঁর উপর অবতীর্ণ করেছেন। আপনি ঐ সকলের একজন যাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। আপনি উভয় হিজরাত করেছেন এবং আপনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর চরিত্রের মাধূর্য লক্ষ্য করেছেন। অলীদ সম্পর্কে লোকেরা নানা ধরনের কথাবার্তা বলাবলি করছে। ‘উসমান (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দর্শন পেয়েছ? আমি বললাম, না। তবে তাঁর ‘ইলম আমার পর্দানশীন কুমারীগণের নিকট যখন পৌঁছেছে তখন আমার নিকট অবশ্যই পৌঁছেছে। ‘উসমান (রাঃ) হামদ ও সানা বর্ণনা করে বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন। আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের ডাকে সাড়াদানকারীদের মধ্যে আমিও ছিলাম। তাঁর আনা শরীয়তের উপর আমিও ঈমান এনেছি। আমি উভয় হিজরাত করেছি, যেমন তুমি বলছ। আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাহচর্য লাভ করেছি, তাঁর হাতে বায়’আত করেছি। আল্লাহ্র কসম, আমি তাঁর অবাধ্যতা করিনি ও তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূলকে দুনিয়া হতে নিয়ে গিয়েছেন। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) –এর সঙ্গে ঐরূপই সম্পর্ক ছিল। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) –এর সঙ্গেও তেমনই সম্পর্ক ছিল। অতঃপর আমার কাঁধে খিলাফতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমার কি ঐ সকল অধিকার নেই যা তাঁদের ছিল? আমি বললাম হাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমাদের পক্ষ হতে কী সব কথাবার্তা আমার নিকট পৌঁছেছে? অবশ্য অলীদের ব্যাপারে তুমি যা বলছ অতি শীঘ্র আমি সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিব। এ বলে তিনি ‘আলী (রাঃ) কে ডেকে এনে অলীদকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিলেন। ‘আলী (রাঃ) তাকে আশিটি বেত্রঘাত করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৮)
‘উবাইদুল্লাহ ইব্নু আদী ইব্নু খিয়ার (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
মিসওয়ার ইব্নু মাখরামা ও ‘আবদুর রাহমান ইব্নু আসওয়াদ ইব্নু ‘আবদ ইয়াগুস (রহঃ) আমাকে বললেন যে, ‘উসমান (রাঃ) এর সঙ্গে তাঁর (বৈপিত্রিয় ভাই) অলীদের ব্যাপারে আলোচনা করতে তোমাদের কিসে বাধা দেয়? লোকেরা তার সম্পর্কে নানারূপ কথাবার্তা বলছে। ‘উসমান (রাঃ) যখন সলাত আদায়ের উদ্দেশে বের হলেন তখন আমি তাঁর নিকটে গিয়ে বললাম, আপনার সঙ্গে আমার একটি দরকার আছে এবং তা আমি আপনার ভালোর জন্যই বলবো। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, ওহে, আমি তোমা হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাচ্ছি। আমি তাদের নিকট ফিরে আসলাম। তৎক্ষণাৎ ‘উসমান (রাঃ) –এর দূত এসে হাযির হলো। আমি তার নিকট গেলাম। তিনি বললেন, বল, তোমার নাসীহাত কী? আমি বললাম, আল্লাহ্ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন। কুরআন তাঁর উপর অবতীর্ণ করেছেন। আপনি ঐ সকলের একজন যাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। আপনি উভয় হিজরাত করেছেন এবং আপনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর চরিত্রের মাধূর্য লক্ষ্য করেছেন। অলীদ সম্পর্কে লোকেরা নানা ধরনের কথাবার্তা বলাবলি করছে। ‘উসমান (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দর্শন পেয়েছ? আমি বললাম, না। তবে তাঁর ‘ইলম আমার পর্দানশীন কুমারীগণের নিকট যখন পৌঁছেছে তখন আমার নিকট অবশ্যই পৌঁছেছে। ‘উসমান (রাঃ) হামদ ও সানা বর্ণনা করে বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন। আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের ডাকে সাড়াদানকারীদের মধ্যে আমিও ছিলাম। তাঁর আনা শরীয়তের উপর আমিও ঈমান এনেছি। আমি উভয় হিজরাত করেছি, যেমন তুমি বলছ। আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাহচর্য লাভ করেছি, তাঁর হাতে বায়’আত করেছি। আল্লাহ্র কসম, আমি তাঁর অবাধ্যতা করিনি ও তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূলকে দুনিয়া হতে নিয়ে গিয়েছেন। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) –এর সঙ্গে ঐরূপই সম্পর্ক ছিল। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) –এর সঙ্গেও তেমনই সম্পর্ক ছিল। অতঃপর আমার কাঁধে খিলাফতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমার কি ঐ সকল অধিকার নেই যা তাঁদের ছিল? আমি বললাম হাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমাদের পক্ষ হতে কী সব কথাবার্তা আমার নিকট পৌঁছেছে? অবশ্য অলীদের ব্যাপারে তুমি যা বলছ অতি শীঘ্র আমি সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিব। এ বলে তিনি ‘আলী (রাঃ) কে ডেকে এনে অলীদকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিলেন। ‘আলী (রাঃ) তাকে আশিটি বেত্রঘাত করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২৮)
حدثني أحمد بن شبيب بن سعيد قال حدثني أبي عن يونس قال ابن شهاب أخبرني عروة أن عبيد الله بن عدي بن الخيار أخبره أن المسور بن مخرمة وعبد الرحمن بن الأسود بن عبد يغوث قالا ما يمنعك أن تكلم عثمان لأخيه الوليد فقد أكثر الناس فيه فقصدت لعثمان حتى خرج إلى الصلاة قلت إن لي إليك حاجة وهي نصيحة لك قال يا أيها المرء قال معمر أراه قال أعوذ بالله منك فانصرفت فرجعت إليهم إذ جاء رسول عثمان فأتيته فقال ما نصيحتك فقلت إن الله سبحانه بعث محمدا بالحق وأنزل عليه الكتاب وكنت ممن استجاب لله ولرسوله فهاجرت الهجرتين وصحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم ورأيت هديه وقد أكثر الناس في شأن الوليد قال أدركت رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت لا ولكن خلص إلي من علمه ما يخلص إلى العذراء في سترها قال أما بعد فإن الله بعث محمدا بالحق فكنت ممن استجاب لله ولرسوله وآمنت بما بعث به وهاجرت الهجرتين كما قلت وصحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم وبايعته فوالله ما عصيته ولا غششته حتى توفاه الله عز وجل ثم أبو بكر مثله ثم عمر مثله ثم استخلفت أفليس لي من الحق مثل الذي لهم قلت بلى قال فما هذه الأحاديث التي تبلغني عنكم أما ما ذكرت من شأن الوليد فسنأخذ فيه بالحق إن شاء الله ثم دعا عليا فأمره أن يجلده فجلده ثمانين
সহিহ বুখারী > ‘উসমান ইব্নু আফ্ফান (রাঃ) –এর প্রতি বায়’আত ও তাঁর উপর (জনগণের) ঐক্যমত্য হবার বিবরণ আর এতে ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) –এর শহীদ হওয়ার বর্ণনা।
সহিহ বুখারী ৩৭০০
حدثنا موسى بن إسماعيل حدثنا أبو عوانة عن حصين عن عمرو بن ميمون قال رأيت عمر بن الخطاب قبل أن يصاب بأيام بالمدينة وقف على حذيفة بن اليمان وعثمان بن حنيف قال كيف فعلتما أتخافان أن تكونا قد حملتما الأرض ما لا تطيق قالا حملناها أمرا هي له مطيقة ما فيها كبير فضل قال انظرا أن تكونا حملتما الأرض ما لا تطيق قال قالا لا فقال عمر لئن سلمني الله لادعن أرامل أهل العراق لا يحتجن إلى رجل بعدي أبدا قال فما أتت عليه إلا رابعة حتى أصيب قال إني لقائم ما بيني وبينه إلا عبد الله بن عباس غداة أصيب وكان إذا مر بين الصفين قال استووا حتى إذا لم ير فيهن خللا تقدم فكبر وربما قرأ سورة يوسف أو النحل أو نحو ذلك في الركعة الأولى حتٰى يجتمع الناس فما هو إلا أن كبر فسمعته يقول قتلني أو أكلني الكلب حين طعنه فطار العلج بسكين ذات طرفين لا يمر على أحد يمينا ولا شمالا إلا طعنه حتى طعن ثلاثة عشر رجلا مات منهم سبعة فلما رأى ذلك رجل من المسلمين طرح عليه برنسا فلما ظن العلج أنه مأخوذ نحر نفسه وتناول عمر يد عبد الرحمن بن عوف فقدمه فمن يلي عمر فقد رأى الذي أرى وأما نواحي المسجد فإنهم لا يدرون غير أنهم قد فقدوا صوت عمر وهم يقولون سبحان الله سبحان الله فصلى بهم عبد الرحمن صلاة خفيفة فلما انصرفوا قال يا ابن عباس انظر من قتلني فجال ساعة ثم جاء فقال غلام المغيرة قال الصنع قال نعم قال قاتله الله لقد أمرت به معروفا الحمد لله الذي لم يجعل ميتتي بيد رجل يدعي الإسلام قد كنت أنت وأبوك تحبان أن تكثر العلوج بالمدينة وكان العباس أكثرهم رقيقا فقال إن شئت فعلت أي إن شئت قتلنا قال كذبت بعد ما تكلموا بلسانكم وصلوا قبلتكم وحجوا حجكم فاحتمل إلى بيته فانطلقنا معه وكأن الناس لم تصبهم مصيبة قبل يومئذ فقائل يقول لا بأس وقائل يقول أخاف عليه فأتي بنبيذ فشربه فخرج من جوفه ثم أتي بلبن فشربه فخرج من جرحه فعلموا أنه ميت فدخلنا عليه وجاء الناس فجعلوا يثنون عليه وجاء رجل شاب فقال أبشر يا أمير المؤمنين ببشرى الله لك من صحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم وقدم في الإسلام ما قد علمت ثم وليت فعدلت ثم شهادة قال وددت أن ذلك كفاف لا علي ولا لي فلما أدبر إذا إزاره يمس الأرض قال ردوا علي الغلام قال يا ابن أخي ارفع ثوبك فإنه أبقى لثوبك وأتقى لربك يا عبد الله بن عمر انظر ما علي من الدين فحسبوه فوجدوه ستة وثمانين ألفا أو نحوه قال إن وفى له مال آل عمر فأده من أموالهم وإلا فسل في بني عدي بن كعب فإن لم تف أموالهم فسل في قريش ولا تعدهم إلى غيرهم فأد عني هذا المال انطلق إلى عائشة أم المؤمنين فقل يقرأ عليك عمر السلام ولا تقل أمير المؤمنين فإني لست اليوم للمؤمنين أميرا وقل يستأذن عمر بن الخطاب أن يدفن مع صاحبيه فسلم واستأذن ثم دخل عليها فوجدها قاعدة تبكي فقال يقرأ عليك عمر بن الخطاب السلام ويستأذن أن يدفن مع صاحبيه فقالت كنت أريده لنفسي ولاوثرن به اليوم على نفسي فلما أقبل قيل هذا عبد الله بن عمر قد جاء قال ارفعوني فأسنده رجل إليه فقال ما لديك قال الذي تحب يا أمير المؤمنين أذنت قال الحمد لله ما كان من شيء أهم إلي من ذلك فإذا أنا قضيت فاحملوني ثم سلم فقل يستأذن عمر بن الخطاب فإن أذنت لي فأدخلوني وإن ردتني ردوني إلى مقابر المسلمين وجاءت أم المؤمنين حفصة والنساء تسير معها فلما رأيناها قمنا فولجت عليه فبكت عنده ساعة واستأذن الرجال فولجت داخلا لهم فسمعنا بكاءها من الداخل فقالوا أوص يا أمير المؤمنين استخلف قال ما أجد أحدا أحق بهذا الأمر من هؤلاء النفر أو الرهط الذين توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عنهم راض فسمى عليا وعثمان والزبير وطلحة وسعدا وعبد الرحمن وقال يشهدكم عبد الله بن عمر وليس له من الأمر شيء كهيئة التعزية له فإن أصابت الإمرة سعدا فهو ذاك وإلا فليستعن به أيكم ما أمر فإني لم أعزله عن عجز ولا خيانة وقال أوصي الخليفة من بعدي بالمهاجرين الأولين أن يعرف لهم حقهم ويحفظ لهم حرمتهم وأوصيه بالأنصار خيرا الذين تبوءوا الدار والإيمان من قبلهم أن يقبل من محسنهم وأن يعفى عن مسيئهم وأوصيه بأهل الأمصار خيرا فإنهم ردء الإسلام وجباة المال وغيظ العدو وأن لا يؤخذ منهم إلا فضلهم عن رضاهم وأوصيه بالأعراب خيرا فإنهم أصل العرب ومادة الإسلام أن يؤخذ من حواشي أموالهم ويرد على فقرائهم وأوصيه بذمة الله وذمة رسوله أن يوفى لهم بعهدهم وأن يقاتل من ورائهم ولا يكلفوا إلا طاقتهم فلما قبض خرجنا به فانطلقنا نمشي فسلم عبد الله بن عمر قال يستأذن عمر بن الخطاب قالت أدخلوه فأدخل فوضع هنالك مع صاحبيه فلما فرغ من دفنه اجتمع هؤلاء الرهط فقال عبد الرحمن اجعلوا أمركم إلى ثلاثة منكم فقال الزبير قد جعلت أمري إلى علي فقال طلحة قد جعلت أمري إلى عثمان وقال سعد قد جعلت أمري إلى عبد الرحمن بن عوف فقال عبد الرحمن أيكما تبرأ من هذا الأمر فنجعله إليه والله عليه والإسلام لينظرن أفضلهم في نفسه فأسكت الشيخان فقال عبد الرحمن أفتجعلونه إلي والله علي أن لا آل عن أفضلكم قالا نعم فأخذ بيد أحدهما فقال لك قرابة من رسول الله صلى الله عليه وسلم والقدم في الإسلام ما قد علمت فالله عليك لئن أمرتك لتعدلن ولئن أمرت عثمان لتسمعن ولتطيعن ثم خلا بالآخر فقال له مثل ذلك فلما أخذ الميثاق قال ارفع يدك يا عثمان فبايعه فبايع له علي وولج أهل الدار فبايعوه
‘আম্র ইব্নু মায়মূন (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) –কে আহত হবার কিছুদিন পূর্বে মদীনায় দেখেছি যে তিনি হুযায়ফা ইব্নু ইয়ামান (রাঃ) ও ‘উসমান ইব্নু হুনায়ফ (রহঃ) –এর নিকট দাঁড়িয়ে তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বলছেন, তোমরা এটা কী করলে? তোমরা এটা কী করলে? তোমরা কি আশঙ্কা করছ যে, তোমরা ইরাক ভূমির উপর যে কর ধার্য করেছ তা বহনে ঐ ভূখন্ড অক্ষম? তারা বললেন, আমরা যে পরিমাণ কর ধার্য করেছি, ঐ ভূখন্ড তা বহনে সক্ষম। এতে বাড়তি কোন বোঝা চাপান হয়নি। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, তোমরা আবার চিন্তা করে দেখ যে, তোমারা এ ভূখন্ডের উপর যে কর আরোপ করেছ তা বহন সক্ষম নয়? বর্ণনাকারী বলেন, তাঁরা বললেন, না। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ যদি আমাকে সুস্থ রাখেন তবে ইরাকের বিধবাগণকে এমন অবস্থায় রেখে যাব যে তারা আমার পরে কখনো অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর চতুর্থ দিন তিনি আহত হলেন। যেদিন ভোরে তিনি আহত হন, আমি তাঁর কাছে দাঁড়িয়েছিলাম এবং তাঁর ও আমার মাঝে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। ‘উমার (রাঃ) দু’কাতারের মধ্য দিয়ে চলার সময় বলতেন, কাতার সোজা করে নাও। যখন দেখতেন কাতারে কোন ত্রুটি নেই তখন তাকবীর বলতেন। তিনি অধিকাংশ সময় সূরা ইউসুফ, সূরা নাহ্ল অথবা এ ধরণের সূরা প্রথম রাক’আতে তিলাওয়াত করতেন, যেন অধিক পরিমাণ লোক প্রথম রাক’আতে শরীক হতে পারেন। তাকবীর বলার পরেই আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, একটি কুকুর আমাকে আঘাত করেছে অথবা বলেন, আমাকে আক্রমণ করেছে। ঘাতক ‘ইলজ’ দ্রুত পলায়নের সময় দু’ধারী খঞ্জর দিয়ে ডানে বামে আঘাত করে চলছে। এভাবে তের জনকে আহত করল। এদের মধ্যে সাত জন শহীদ হলেন। এ অবস্থা দেখে এক মুসলিম তার লম্বা চাদরটি ঘাতকের উপর ফেলে দিলেন। ঘাতক যখন বুঝতে পারল সে ধরা পড়ে যাবে তখন সে আত্মহত্যা করল। ‘উমার (রাঃ) আব্দুর রাহমান ইব্নু আউফ (রাঃ) –এর হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিলেন। ‘উমার (রাঃ) –এর নিকটে যারা ছিল শুধুমাত্র তারাই ব্যাপারটি দেখতে পেল। আর মাসজিদের শেষে যারা ছিল তারা ব্যাপারটি এর অধিক বুঝতে পারল না যে, ‘উমার (রাঃ)-এর কন্ঠস্বর শুনা যাচ্ছে না। তাই তারা “সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ” বলতে লাগলেন। আব্দুর রহমান ইব্নু আউফ (রাঃ) তাঁদেরকে নিয়ে সংক্ষেপে সলাত আদায় করলেন। যখন মুসল্লীগণ চলে গেলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে ইব্নু আব্বাস (রাঃ) দেখ তো কে আমাকে আঘাত করল। তিনি কিছুক্ষণ অনুসন্ধান করে এসে বললেন, মুগীরাহ ইব্নু শু’বাহ (রাঃ) –এর গোলাম (আবূ লুলু)। ‘উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ঐ কারিগর গোলামটি? তিনি বললেন, হাঁ। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তার সর্বনাশ করুন। আমি তার সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমার মৃত্যু ইসলামের দাবীদার কোন ব্যক্তির হাতে ঘটাননি। হে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তুমি এবং তোমার পিতা মদীনায় কাফির গোলামের সংখ্যা বৃদ্ধি পছন্দ করতেন। ‘আব্বাস (রাঃ) –এর নিকট অনেক অমুসলিম গোলাম ছিল। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, যদি আপনি চান তবে আমি কাজ করে ফেলি অর্থাৎ আমি তাদেরকে হত্যা করে ফেলি। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তুমি ভুল বলছ। কেননা তারা তোমাদের ভাষায় কথা বলে, তোমাদের কিবলামুখী হয়ে সলাত আদায় করে, তোমাদের মত হাজ্জ করে। অতঃপর তাঁকে তাঁর ঘরে নেওয়া হল। আমরা তাঁর সঙ্গে চললাম। মানুষের অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল, ইতোপূর্বে তাদের উপর এত বড় মুসীবত আর আসেনি। কেউ কেউ বলছিলেন, ভয়ের কিছু নেই। আবার কেউ বলছিলেন, আমি তাঁর সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। অতঃপর খেজুরের শরবত আনা হল, তিনি তা পান করলেন। কিন্তু তা তার পেট হতে বেরিয়ে পড়ল। অতঃপর দুধ আনা হল, তিনি তা পান করলেন। তাও তার পেট হতে বেরিয়ে পড়ল। তখন সকলেই বুঝতে পারলেন, মৃত্যু তাঁর অবশ্যম্ভাবী। আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। অন্যান্য লোকজনও আসতে শুরু করল। সকলেই তার প্রশংসা করতে লাগল। তখন যুবক বয়সী একটি লোক এসে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন। আপনার জন্য আল্লাহ্র সু-সংবাদ রয়েছে; আপনি তা গ্রহণ করুন। আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাহচর্য গ্রহণ করেছেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই আপনি তা গ্রহণ করেছেন, যে সম্পর্কে আপনি নিজেই অবগত আছেন অতঃপর আপনি খলীফা হয়ে ন্যায় বিচার করেছেন। অতঃপর আপনি শাহাদাত লাভ করেছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি পছন্দ করি যে তা আমার জন্য ক্ষতিকর বা লাভজনক না হয়ে সমান সমান হয়ে থাকে। যখন যুবকটি চলে যেতে উদ্যত হল তখন তার লুঙ্গিটি মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছিল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, যুবকটিকে আমার নিকট ডেকে আন। তিনি বললেন– হে ভাতিজা! তোমার কাপড়টি উঠিয়ে নাও। এটা তোমার কাপড়ের পরিচ্ছন্নতার জন্য এবং তোমার রবের নিকটও পছন্দনীয়। হে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার, তুমি হিসাব করে দেখ আমার ঋণের পরিমাণ কত। তারা হিসাব করে দেখতে পেলেন ছিয়াশি হাজার (দিরহাম) বা এর কাছাকাছি। তিনি বললেন, যদি ‘উমারের পরিবার পরিজনের মাল দ্বারা পরিশোধ হয়ে যায় তবে তা দিয়ে পরিশোধ করে দাও। অন্যথায় আদি ইব্নু কা’ব এর বংশধরদের নিকট হতে সাহায্য গ্রহন কর। তাদের মাল দিয়েও যদি ঋণ পরিশোধ না হয় তবে কুরাইস কবিলা হতে সাহায্য গ্রহণ করবে, এর বাহিরে কারো সাহায্য গ্রহণ করবে না। আমার পক্ষ হতে তাড়াতাড়ি ঋণ আদায় করে দাও। উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ) –এর খিদমতে এবং বল ‘উমার আপনাকে সালাম পাঠিয়েছে। ‘আমীরুল মু’মিনীন’ শব্দটি বলবে না। কেননা এখন আমি মু’মিনগণের আমীর নই। তাঁকে বল ‘উমার ইব্ন খাত্তাব তাঁর সাথীদের পাশে দাফন হবার অনুমতি চাচ্ছেন। ইব্ন ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) এর খিদমতে গিয়ে সালাম জানিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, প্রবেশ কর, তিনি দেখলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) বসে বসে কাঁদছেন। তিনি গিয়ে বললেন, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন হবার জন্য আপনার অনুমতি চেয়েছেন। ‘আয়িশা বললেন, আমার আকাঙ্খা ছিল। কিন্তু আজ আমি এ ব্যাপার আমার উপরে তাঁকে অগ্রগণ্য করছি। ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) যখন ফিরে আসছেন তখন বলা হল– এই যে ‘আবদুল্লাহ ফিরে আসছে। তিনি বললেন, আমাকে উঠিয়ে বসাও। তখন এক ব্যক্তি তাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে ধরে রাখলেন। ‘উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন কী সংবাদ? তিনি বললেন, আমীরুল মু’মিনীন, আপনি যা কামনা করেছেন, তাই হয়েছে, তিনি অনুমতি দিয়েছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। এর চেয়ে বড় কোন বিষয় আমার নিকট ছিল না। যখন আমার মৃত্যু হয়ে যাবে তখন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে, তাঁকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। যদি তিনি অনুমতি দেন, তবে আমাকে প্রবেশ করাবে আর যদি অনুমতি না দেন তবে আমাকে সাধারণ মুসলিমদের গোরস্থানে নিয়ে যাবে। এ সময় উম্মুল মু’মিনীন হাফসা (রাঃ)-কে কতিপয় মহিলাসহ আসতে দেখে আমরা উঠে পড়লাম। হাফসা (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলেন। অতঃপর পুরুষরা প্রবেশের অনুমতি চাইলে, তিনি ঘরের ভিতর গেলে ঘরের ভেতর হতে হতেও আমরা তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি ওয়াসিয়াত করুন এবং খলীফা মনোনীত করুন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, খিলাফতের জন্য এ কয়েকজন ছাড়া অন্য কাউকে আমি যোগ্যতম পাচ্ছি না, যাদের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ইন্তিকালের সময় রাযী ও খুশী ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁদের নাম বললেন, ‘আলী, ‘উসমান, যুবায়র, ত্বলহা, সা’দ ও ‘আবদুর রাহমান ইব্নু আউফ (রাঃ) এবং বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) তোমাদের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু সে খিলাফত লাভ করতে পারবে না। তা ছিল শুধু সান্ত্বনা মাত্র। যদি খিলাফতের দায়িত্ব সা’দের (রাঃ) এর উপর ন্যস্ত করা হয় তবে তিনি এর জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি। আর যদি তোমাদের মধ্যে অন্য কেউ খলীফা নির্বাচিত হন তবে তিনি যেন সর্ব বিষয়ে সা’দের সাহায্য ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। আমি তাঁকে অযোগ্যতা বা খিয়ানতের কারণে অপসারণ করিনি। আমার পরের খলীফাকে আমি ওয়াসিয়াত করছি, তিনি যেন প্রথম যুগের মুহাজিরগণের হক সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তাদের মান সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। এবং আমি তাঁকে আনসার সাহাবীগণের যাঁরা মুহাজিরগণৈর আসার আগে এই নগরীতে (মদীনায়) বসবাস করে আসছিলেন এবং ঈমান এনেছেন, তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওয়াসিয়াত করছি যে তাঁদের মধ্যে নেককারগণের ওযর আপত্তি যেন গ্রহণ করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে কারোর ভুলত্রুটি হলে তা যেন ক্ষমা করে দেয়া হয়। আমি তাঁকে এ ওয়াসিওয়াত ও করছি যে, তিনি যেন রাজ্যের বিভিন্ন শহরের আধিবাসীদের সদ্ব্যবহার করন। কেননা তাঁরাও ইসলামের হিফাযতকারী। এবং তারাই ধনসম্পদের যোগানদাতা। তারাই শত্রুদের চোখের কাঁটা। তাদের হতে তাদের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কেবলমাত্র তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ যেন যাকাত আদায় করা হয়। আমি তাঁকে পল্লীবাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করারও ওয়াসিয়াত করছি। কেননা তারাই আরবের ভিত্তি এবং ইসলামের মূল শক্তি। তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ এনে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে যেন বিলিয়ে দেয়া হয়। আমি তাঁকে আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর জিম্মীদের (অর্থাৎ সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়) বিষয়ে ওয়াসিয়াত করছি যে, তাদের সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার যেন পুরা করা হয়। তাদের পক্ষাবলম্বনে যেন যুদ্ধ করা হয়, তাদের শক্তি সামর্থ্যের অধিক জিযিয়া যেন চাপানো না হয়। ‘উমার (রাঃ) এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে আমরা তাঁর লাশ নিয়ে পায়ে হেঁটে চললাম। ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) –কে সালাম করলেন এবং বললেন, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) অনুমতি চাচ্ছেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, তাকে প্রবেশ করাও। অতঃপর তাঁকে প্রবেশ করান হল এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন করা হল। যখন তাঁর দাফনকাজ শেষ হল, তখন ঐ ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হলেন। তখন ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) বললেন, তোমারা তোমাদের বিষয়টি তোমাদের মধ্য হতে তিনজনের উপর ছেড়ে দাও। তখন যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি আমার বিষয়টি ‘আলী (রাঃ) –এর উপর অর্পণ করলাম। ত্বলহা (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি ‘উসমান (রাঃ) –এর উপর ন্যস্ত করলাম। সা’দ (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি ‘আবদুর রহমান ইব্নু আউফ (রাঃ) উপর ন্যস্ত করলাম। অতঃপর ‘আবদুর রহমান (রাঃ) ‘উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-কে বললেন, আপনাদের দু’জনের মধ্য হতে কে এই দায়িত্ব হতে অব্যাহতি পেতে ইচ্ছা করেন? এ দায়িত্ব অপর জনের উপর অর্পন করব। আল্লাহ্ ও ইসলামের হক আদায় করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হবে। কে অধিকতর যোগ্য সে সম্পর্কে দুজনেরই চিন্তা করা উচিত। ব্যক্তিদ্বয় চুপ থাকলেন। তখন ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) নিজেই বললেন আপনারা এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করতে পারেন কি? আল্লাহ্কে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আপনাদের মধ্যকার ষোগ্যতম ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে একটুও ত্রুটি করব না। তাঁরা উভয়ে বললেন, হাঁ। তাদের একজনের হাত ধরে বললেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে আপনার যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামিতা আছে তা আপনিও ভালভাবে জানেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এটা আপনার জন্য জরুরী হবে যে, যদি আপনাকে খলীফা মনোনীত করি তাহলে আপনি ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। আর যদি ‘উসমান (রাঃ) –কে মনোনীত করি তবে আপনি তাঁর কথা শুনবেন এবং তাঁর প্রতি অনুগত থাকবেন। অতঃপর তিনি অপর জনের সঙ্গে একান্তে অনুরূপ কথা বললেন। এভাবে অঙ্গীকার গ্রহণ করে তিনি বললেন, হে ‘উসমান (রাঃ) আপনার হাত বাড়িয়ে দিন। তিনি [আবদুর রাহমান (রাঃ)], তাঁর হাতে বায়’আত করলেন। অতঃপর ‘আলী (রাঃ) তাঁর ‘উসমান (রাঃ)-এর বায়’আত করলেন। অতঃপর মদীনাবাসীগণ এগিয়ে এস সকলেই বায়’আত করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৩২)
‘আম্র ইব্নু মায়মূন (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) –কে আহত হবার কিছুদিন পূর্বে মদীনায় দেখেছি যে তিনি হুযায়ফা ইব্নু ইয়ামান (রাঃ) ও ‘উসমান ইব্নু হুনায়ফ (রহঃ) –এর নিকট দাঁড়িয়ে তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বলছেন, তোমরা এটা কী করলে? তোমরা এটা কী করলে? তোমরা কি আশঙ্কা করছ যে, তোমরা ইরাক ভূমির উপর যে কর ধার্য করেছ তা বহনে ঐ ভূখন্ড অক্ষম? তারা বললেন, আমরা যে পরিমাণ কর ধার্য করেছি, ঐ ভূখন্ড তা বহনে সক্ষম। এতে বাড়তি কোন বোঝা চাপান হয়নি। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, তোমরা আবার চিন্তা করে দেখ যে, তোমারা এ ভূখন্ডের উপর যে কর আরোপ করেছ তা বহন সক্ষম নয়? বর্ণনাকারী বলেন, তাঁরা বললেন, না। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ যদি আমাকে সুস্থ রাখেন তবে ইরাকের বিধবাগণকে এমন অবস্থায় রেখে যাব যে তারা আমার পরে কখনো অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর চতুর্থ দিন তিনি আহত হলেন। যেদিন ভোরে তিনি আহত হন, আমি তাঁর কাছে দাঁড়িয়েছিলাম এবং তাঁর ও আমার মাঝে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। ‘উমার (রাঃ) দু’কাতারের মধ্য দিয়ে চলার সময় বলতেন, কাতার সোজা করে নাও। যখন দেখতেন কাতারে কোন ত্রুটি নেই তখন তাকবীর বলতেন। তিনি অধিকাংশ সময় সূরা ইউসুফ, সূরা নাহ্ল অথবা এ ধরণের সূরা প্রথম রাক’আতে তিলাওয়াত করতেন, যেন অধিক পরিমাণ লোক প্রথম রাক’আতে শরীক হতে পারেন। তাকবীর বলার পরেই আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, একটি কুকুর আমাকে আঘাত করেছে অথবা বলেন, আমাকে আক্রমণ করেছে। ঘাতক ‘ইলজ’ দ্রুত পলায়নের সময় দু’ধারী খঞ্জর দিয়ে ডানে বামে আঘাত করে চলছে। এভাবে তের জনকে আহত করল। এদের মধ্যে সাত জন শহীদ হলেন। এ অবস্থা দেখে এক মুসলিম তার লম্বা চাদরটি ঘাতকের উপর ফেলে দিলেন। ঘাতক যখন বুঝতে পারল সে ধরা পড়ে যাবে তখন সে আত্মহত্যা করল। ‘উমার (রাঃ) আব্দুর রাহমান ইব্নু আউফ (রাঃ) –এর হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিলেন। ‘উমার (রাঃ) –এর নিকটে যারা ছিল শুধুমাত্র তারাই ব্যাপারটি দেখতে পেল। আর মাসজিদের শেষে যারা ছিল তারা ব্যাপারটি এর অধিক বুঝতে পারল না যে, ‘উমার (রাঃ)-এর কন্ঠস্বর শুনা যাচ্ছে না। তাই তারা “সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ” বলতে লাগলেন। আব্দুর রহমান ইব্নু আউফ (রাঃ) তাঁদেরকে নিয়ে সংক্ষেপে সলাত আদায় করলেন। যখন মুসল্লীগণ চলে গেলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে ইব্নু আব্বাস (রাঃ) দেখ তো কে আমাকে আঘাত করল। তিনি কিছুক্ষণ অনুসন্ধান করে এসে বললেন, মুগীরাহ ইব্নু শু’বাহ (রাঃ) –এর গোলাম (আবূ লুলু)। ‘উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ঐ কারিগর গোলামটি? তিনি বললেন, হাঁ। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তার সর্বনাশ করুন। আমি তার সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমার মৃত্যু ইসলামের দাবীদার কোন ব্যক্তির হাতে ঘটাননি। হে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তুমি এবং তোমার পিতা মদীনায় কাফির গোলামের সংখ্যা বৃদ্ধি পছন্দ করতেন। ‘আব্বাস (রাঃ) –এর নিকট অনেক অমুসলিম গোলাম ছিল। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, যদি আপনি চান তবে আমি কাজ করে ফেলি অর্থাৎ আমি তাদেরকে হত্যা করে ফেলি। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তুমি ভুল বলছ। কেননা তারা তোমাদের ভাষায় কথা বলে, তোমাদের কিবলামুখী হয়ে সলাত আদায় করে, তোমাদের মত হাজ্জ করে। অতঃপর তাঁকে তাঁর ঘরে নেওয়া হল। আমরা তাঁর সঙ্গে চললাম। মানুষের অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল, ইতোপূর্বে তাদের উপর এত বড় মুসীবত আর আসেনি। কেউ কেউ বলছিলেন, ভয়ের কিছু নেই। আবার কেউ বলছিলেন, আমি তাঁর সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। অতঃপর খেজুরের শরবত আনা হল, তিনি তা পান করলেন। কিন্তু তা তার পেট হতে বেরিয়ে পড়ল। অতঃপর দুধ আনা হল, তিনি তা পান করলেন। তাও তার পেট হতে বেরিয়ে পড়ল। তখন সকলেই বুঝতে পারলেন, মৃত্যু তাঁর অবশ্যম্ভাবী। আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। অন্যান্য লোকজনও আসতে শুরু করল। সকলেই তার প্রশংসা করতে লাগল। তখন যুবক বয়সী একটি লোক এসে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন। আপনার জন্য আল্লাহ্র সু-সংবাদ রয়েছে; আপনি তা গ্রহণ করুন। আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাহচর্য গ্রহণ করেছেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই আপনি তা গ্রহণ করেছেন, যে সম্পর্কে আপনি নিজেই অবগত আছেন অতঃপর আপনি খলীফা হয়ে ন্যায় বিচার করেছেন। অতঃপর আপনি শাহাদাত লাভ করেছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি পছন্দ করি যে তা আমার জন্য ক্ষতিকর বা লাভজনক না হয়ে সমান সমান হয়ে থাকে। যখন যুবকটি চলে যেতে উদ্যত হল তখন তার লুঙ্গিটি মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছিল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, যুবকটিকে আমার নিকট ডেকে আন। তিনি বললেন– হে ভাতিজা! তোমার কাপড়টি উঠিয়ে নাও। এটা তোমার কাপড়ের পরিচ্ছন্নতার জন্য এবং তোমার রবের নিকটও পছন্দনীয়। হে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার, তুমি হিসাব করে দেখ আমার ঋণের পরিমাণ কত। তারা হিসাব করে দেখতে পেলেন ছিয়াশি হাজার (দিরহাম) বা এর কাছাকাছি। তিনি বললেন, যদি ‘উমারের পরিবার পরিজনের মাল দ্বারা পরিশোধ হয়ে যায় তবে তা দিয়ে পরিশোধ করে দাও। অন্যথায় আদি ইব্নু কা’ব এর বংশধরদের নিকট হতে সাহায্য গ্রহন কর। তাদের মাল দিয়েও যদি ঋণ পরিশোধ না হয় তবে কুরাইস কবিলা হতে সাহায্য গ্রহণ করবে, এর বাহিরে কারো সাহায্য গ্রহণ করবে না। আমার পক্ষ হতে তাড়াতাড়ি ঋণ আদায় করে দাও। উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ) –এর খিদমতে এবং বল ‘উমার আপনাকে সালাম পাঠিয়েছে। ‘আমীরুল মু’মিনীন’ শব্দটি বলবে না। কেননা এখন আমি মু’মিনগণের আমীর নই। তাঁকে বল ‘উমার ইব্ন খাত্তাব তাঁর সাথীদের পাশে দাফন হবার অনুমতি চাচ্ছেন। ইব্ন ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) এর খিদমতে গিয়ে সালাম জানিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, প্রবেশ কর, তিনি দেখলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) বসে বসে কাঁদছেন। তিনি গিয়ে বললেন, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন হবার জন্য আপনার অনুমতি চেয়েছেন। ‘আয়িশা বললেন, আমার আকাঙ্খা ছিল। কিন্তু আজ আমি এ ব্যাপার আমার উপরে তাঁকে অগ্রগণ্য করছি। ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) যখন ফিরে আসছেন তখন বলা হল– এই যে ‘আবদুল্লাহ ফিরে আসছে। তিনি বললেন, আমাকে উঠিয়ে বসাও। তখন এক ব্যক্তি তাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে ধরে রাখলেন। ‘উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন কী সংবাদ? তিনি বললেন, আমীরুল মু’মিনীন, আপনি যা কামনা করেছেন, তাই হয়েছে, তিনি অনুমতি দিয়েছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। এর চেয়ে বড় কোন বিষয় আমার নিকট ছিল না। যখন আমার মৃত্যু হয়ে যাবে তখন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে, তাঁকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। যদি তিনি অনুমতি দেন, তবে আমাকে প্রবেশ করাবে আর যদি অনুমতি না দেন তবে আমাকে সাধারণ মুসলিমদের গোরস্থানে নিয়ে যাবে। এ সময় উম্মুল মু’মিনীন হাফসা (রাঃ)-কে কতিপয় মহিলাসহ আসতে দেখে আমরা উঠে পড়লাম। হাফসা (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলেন। অতঃপর পুরুষরা প্রবেশের অনুমতি চাইলে, তিনি ঘরের ভিতর গেলে ঘরের ভেতর হতে হতেও আমরা তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি ওয়াসিয়াত করুন এবং খলীফা মনোনীত করুন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, খিলাফতের জন্য এ কয়েকজন ছাড়া অন্য কাউকে আমি যোগ্যতম পাচ্ছি না, যাদের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ইন্তিকালের সময় রাযী ও খুশী ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁদের নাম বললেন, ‘আলী, ‘উসমান, যুবায়র, ত্বলহা, সা’দ ও ‘আবদুর রাহমান ইব্নু আউফ (রাঃ) এবং বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) তোমাদের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু সে খিলাফত লাভ করতে পারবে না। তা ছিল শুধু সান্ত্বনা মাত্র। যদি খিলাফতের দায়িত্ব সা’দের (রাঃ) এর উপর ন্যস্ত করা হয় তবে তিনি এর জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি। আর যদি তোমাদের মধ্যে অন্য কেউ খলীফা নির্বাচিত হন তবে তিনি যেন সর্ব বিষয়ে সা’দের সাহায্য ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। আমি তাঁকে অযোগ্যতা বা খিয়ানতের কারণে অপসারণ করিনি। আমার পরের খলীফাকে আমি ওয়াসিয়াত করছি, তিনি যেন প্রথম যুগের মুহাজিরগণের হক সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তাদের মান সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। এবং আমি তাঁকে আনসার সাহাবীগণের যাঁরা মুহাজিরগণৈর আসার আগে এই নগরীতে (মদীনায়) বসবাস করে আসছিলেন এবং ঈমান এনেছেন, তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওয়াসিয়াত করছি যে তাঁদের মধ্যে নেককারগণের ওযর আপত্তি যেন গ্রহণ করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে কারোর ভুলত্রুটি হলে তা যেন ক্ষমা করে দেয়া হয়। আমি তাঁকে এ ওয়াসিওয়াত ও করছি যে, তিনি যেন রাজ্যের বিভিন্ন শহরের আধিবাসীদের সদ্ব্যবহার করন। কেননা তাঁরাও ইসলামের হিফাযতকারী। এবং তারাই ধনসম্পদের যোগানদাতা। তারাই শত্রুদের চোখের কাঁটা। তাদের হতে তাদের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কেবলমাত্র তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ যেন যাকাত আদায় করা হয়। আমি তাঁকে পল্লীবাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করারও ওয়াসিয়াত করছি। কেননা তারাই আরবের ভিত্তি এবং ইসলামের মূল শক্তি। তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ এনে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে যেন বিলিয়ে দেয়া হয়। আমি তাঁকে আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর জিম্মীদের (অর্থাৎ সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়) বিষয়ে ওয়াসিয়াত করছি যে, তাদের সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার যেন পুরা করা হয়। তাদের পক্ষাবলম্বনে যেন যুদ্ধ করা হয়, তাদের শক্তি সামর্থ্যের অধিক জিযিয়া যেন চাপানো না হয়। ‘উমার (রাঃ) এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে আমরা তাঁর লাশ নিয়ে পায়ে হেঁটে চললাম। ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) –কে সালাম করলেন এবং বললেন, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) অনুমতি চাচ্ছেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, তাকে প্রবেশ করাও। অতঃপর তাঁকে প্রবেশ করান হল এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন করা হল। যখন তাঁর দাফনকাজ শেষ হল, তখন ঐ ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হলেন। তখন ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) বললেন, তোমারা তোমাদের বিষয়টি তোমাদের মধ্য হতে তিনজনের উপর ছেড়ে দাও। তখন যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি আমার বিষয়টি ‘আলী (রাঃ) –এর উপর অর্পণ করলাম। ত্বলহা (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি ‘উসমান (রাঃ) –এর উপর ন্যস্ত করলাম। সা’দ (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি ‘আবদুর রহমান ইব্নু আউফ (রাঃ) উপর ন্যস্ত করলাম। অতঃপর ‘আবদুর রহমান (রাঃ) ‘উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-কে বললেন, আপনাদের দু’জনের মধ্য হতে কে এই দায়িত্ব হতে অব্যাহতি পেতে ইচ্ছা করেন? এ দায়িত্ব অপর জনের উপর অর্পন করব। আল্লাহ্ ও ইসলামের হক আদায় করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হবে। কে অধিকতর যোগ্য সে সম্পর্কে দুজনেরই চিন্তা করা উচিত। ব্যক্তিদ্বয় চুপ থাকলেন। তখন ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) নিজেই বললেন আপনারা এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করতে পারেন কি? আল্লাহ্কে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আপনাদের মধ্যকার ষোগ্যতম ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে একটুও ত্রুটি করব না। তাঁরা উভয়ে বললেন, হাঁ। তাদের একজনের হাত ধরে বললেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে আপনার যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামিতা আছে তা আপনিও ভালভাবে জানেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এটা আপনার জন্য জরুরী হবে যে, যদি আপনাকে খলীফা মনোনীত করি তাহলে আপনি ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। আর যদি ‘উসমান (রাঃ) –কে মনোনীত করি তবে আপনি তাঁর কথা শুনবেন এবং তাঁর প্রতি অনুগত থাকবেন। অতঃপর তিনি অপর জনের সঙ্গে একান্তে অনুরূপ কথা বললেন। এভাবে অঙ্গীকার গ্রহণ করে তিনি বললেন, হে ‘উসমান (রাঃ) আপনার হাত বাড়িয়ে দিন। তিনি [আবদুর রাহমান (রাঃ)], তাঁর হাতে বায়’আত করলেন। অতঃপর ‘আলী (রাঃ) তাঁর ‘উসমান (রাঃ)-এর বায়’আত করলেন। অতঃপর মদীনাবাসীগণ এগিয়ে এস সকলেই বায়’আত করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৩২)
حدثنا موسى بن إسماعيل حدثنا أبو عوانة عن حصين عن عمرو بن ميمون قال رأيت عمر بن الخطاب قبل أن يصاب بأيام بالمدينة وقف على حذيفة بن اليمان وعثمان بن حنيف قال كيف فعلتما أتخافان أن تكونا قد حملتما الأرض ما لا تطيق قالا حملناها أمرا هي له مطيقة ما فيها كبير فضل قال انظرا أن تكونا حملتما الأرض ما لا تطيق قال قالا لا فقال عمر لئن سلمني الله لادعن أرامل أهل العراق لا يحتجن إلى رجل بعدي أبدا قال فما أتت عليه إلا رابعة حتى أصيب قال إني لقائم ما بيني وبينه إلا عبد الله بن عباس غداة أصيب وكان إذا مر بين الصفين قال استووا حتى إذا لم ير فيهن خللا تقدم فكبر وربما قرأ سورة يوسف أو النحل أو نحو ذلك في الركعة الأولى حتٰى يجتمع الناس فما هو إلا أن كبر فسمعته يقول قتلني أو أكلني الكلب حين طعنه فطار العلج بسكين ذات طرفين لا يمر على أحد يمينا ولا شمالا إلا طعنه حتى طعن ثلاثة عشر رجلا مات منهم سبعة فلما رأى ذلك رجل من المسلمين طرح عليه برنسا فلما ظن العلج أنه مأخوذ نحر نفسه وتناول عمر يد عبد الرحمن بن عوف فقدمه فمن يلي عمر فقد رأى الذي أرى وأما نواحي المسجد فإنهم لا يدرون غير أنهم قد فقدوا صوت عمر وهم يقولون سبحان الله سبحان الله فصلى بهم عبد الرحمن صلاة خفيفة فلما انصرفوا قال يا ابن عباس انظر من قتلني فجال ساعة ثم جاء فقال غلام المغيرة قال الصنع قال نعم قال قاتله الله لقد أمرت به معروفا الحمد لله الذي لم يجعل ميتتي بيد رجل يدعي الإسلام قد كنت أنت وأبوك تحبان أن تكثر العلوج بالمدينة وكان العباس أكثرهم رقيقا فقال إن شئت فعلت أي إن شئت قتلنا قال كذبت بعد ما تكلموا بلسانكم وصلوا قبلتكم وحجوا حجكم فاحتمل إلى بيته فانطلقنا معه وكأن الناس لم تصبهم مصيبة قبل يومئذ فقائل يقول لا بأس وقائل يقول أخاف عليه فأتي بنبيذ فشربه فخرج من جوفه ثم أتي بلبن فشربه فخرج من جرحه فعلموا أنه ميت فدخلنا عليه وجاء الناس فجعلوا يثنون عليه وجاء رجل شاب فقال أبشر يا أمير المؤمنين ببشرى الله لك من صحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم وقدم في الإسلام ما قد علمت ثم وليت فعدلت ثم شهادة قال وددت أن ذلك كفاف لا علي ولا لي فلما أدبر إذا إزاره يمس الأرض قال ردوا علي الغلام قال يا ابن أخي ارفع ثوبك فإنه أبقى لثوبك وأتقى لربك يا عبد الله بن عمر انظر ما علي من الدين فحسبوه فوجدوه ستة وثمانين ألفا أو نحوه قال إن وفى له مال آل عمر فأده من أموالهم وإلا فسل في بني عدي بن كعب فإن لم تف أموالهم فسل في قريش ولا تعدهم إلى غيرهم فأد عني هذا المال انطلق إلى عائشة أم المؤمنين فقل يقرأ عليك عمر السلام ولا تقل أمير المؤمنين فإني لست اليوم للمؤمنين أميرا وقل يستأذن عمر بن الخطاب أن يدفن مع صاحبيه فسلم واستأذن ثم دخل عليها فوجدها قاعدة تبكي فقال يقرأ عليك عمر بن الخطاب السلام ويستأذن أن يدفن مع صاحبيه فقالت كنت أريده لنفسي ولاوثرن به اليوم على نفسي فلما أقبل قيل هذا عبد الله بن عمر قد جاء قال ارفعوني فأسنده رجل إليه فقال ما لديك قال الذي تحب يا أمير المؤمنين أذنت قال الحمد لله ما كان من شيء أهم إلي من ذلك فإذا أنا قضيت فاحملوني ثم سلم فقل يستأذن عمر بن الخطاب فإن أذنت لي فأدخلوني وإن ردتني ردوني إلى مقابر المسلمين وجاءت أم المؤمنين حفصة والنساء تسير معها فلما رأيناها قمنا فولجت عليه فبكت عنده ساعة واستأذن الرجال فولجت داخلا لهم فسمعنا بكاءها من الداخل فقالوا أوص يا أمير المؤمنين استخلف قال ما أجد أحدا أحق بهذا الأمر من هؤلاء النفر أو الرهط الذين توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عنهم راض فسمى عليا وعثمان والزبير وطلحة وسعدا وعبد الرحمن وقال يشهدكم عبد الله بن عمر وليس له من الأمر شيء كهيئة التعزية له فإن أصابت الإمرة سعدا فهو ذاك وإلا فليستعن به أيكم ما أمر فإني لم أعزله عن عجز ولا خيانة وقال أوصي الخليفة من بعدي بالمهاجرين الأولين أن يعرف لهم حقهم ويحفظ لهم حرمتهم وأوصيه بالأنصار خيرا الذين تبوءوا الدار والإيمان من قبلهم أن يقبل من محسنهم وأن يعفى عن مسيئهم وأوصيه بأهل الأمصار خيرا فإنهم ردء الإسلام وجباة المال وغيظ العدو وأن لا يؤخذ منهم إلا فضلهم عن رضاهم وأوصيه بالأعراب خيرا فإنهم أصل العرب ومادة الإسلام أن يؤخذ من حواشي أموالهم ويرد على فقرائهم وأوصيه بذمة الله وذمة رسوله أن يوفى لهم بعهدهم وأن يقاتل من ورائهم ولا يكلفوا إلا طاقتهم فلما قبض خرجنا به فانطلقنا نمشي فسلم عبد الله بن عمر قال يستأذن عمر بن الخطاب قالت أدخلوه فأدخل فوضع هنالك مع صاحبيه فلما فرغ من دفنه اجتمع هؤلاء الرهط فقال عبد الرحمن اجعلوا أمركم إلى ثلاثة منكم فقال الزبير قد جعلت أمري إلى علي فقال طلحة قد جعلت أمري إلى عثمان وقال سعد قد جعلت أمري إلى عبد الرحمن بن عوف فقال عبد الرحمن أيكما تبرأ من هذا الأمر فنجعله إليه والله عليه والإسلام لينظرن أفضلهم في نفسه فأسكت الشيخان فقال عبد الرحمن أفتجعلونه إلي والله علي أن لا آل عن أفضلكم قالا نعم فأخذ بيد أحدهما فقال لك قرابة من رسول الله صلى الله عليه وسلم والقدم في الإسلام ما قد علمت فالله عليك لئن أمرتك لتعدلن ولئن أمرت عثمان لتسمعن ولتطيعن ثم خلا بالآخر فقال له مثل ذلك فلما أخذ الميثاق قال ارفع يدك يا عثمان فبايعه فبايع له علي وولج أهل الدار فبايعوه