সহিহ বুখারী > খুযা’আহ গোত্রের কাহিনী।
সহিহ বুখারী ৩৫২০
حدثني إسحاق بن إبراهيم، حدثنا يحيى بن آدم، أخبرنا إسرائيل، عن أبي حصين، عن أبي صالح، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " عمرو بن لحى بن قمعة بن خندف أبو خزاعة ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আম্র ইব্ন লুহাই ইব্ন কাম’আহ ইব্ন খিনদাফ খুযা’আহ গোত্রের পূর্বপুরুষ ছিল।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আম্র ইব্ন লুহাই ইব্ন কাম’আহ ইব্ন খিনদাফ খুযা’আহ গোত্রের পূর্বপুরুষ ছিল।
حدثني إسحاق بن إبراهيم، حدثنا يحيى بن آدم، أخبرنا إسرائيل، عن أبي حصين، عن أبي صالح، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " عمرو بن لحى بن قمعة بن خندف أبو خزاعة ".
সহিহ বুখারী ৩৫২১
حدثنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، عن الزهري، قال سمعت سعيد بن المسيب، قال البحيرة التي يمنع درها للطواغيت ولا يحلبها أحد من الناس، والسائبة التي كانوا يسيبونها لآلهتهم فلا يحمل عليها شىء. قال وقال أبو هريرة قال النبي صلى الله عليه وسلم " رأيت عمرو بن عامر بن لحى الخزاعي يجر قصبه في النار، وكان أول من سيب السوائب ".
যুহরী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি সাঈ’দ ইব্ন মুসাইয়্যাব (রহঃ) -কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, বাহীরাহ বলে দেবতার নামে উৎসর্গ করা উটনী যার দুধ আট্কিয়ে রাখা হত এবং কোন লোক তার দুধ দোহন করত না। সা-য়িবাহ বলে ঐ পশুকে যাকে তারা ছেড়ে দিত দেবতার নামে। তাকে বোঝা বহন ইত্যাদি কোন কাজ কর্মে ব্যবহার করা হয় না। রাবী বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি ‘আম্র ইব্ন ‘আমির খুয’আহকে তার বহির্গত নাড়ি - ভুঁড়ি নিয়ে জাহান্নামের আগুনে চলাফেরা করতে দেখেছি। সেই প্রথম ব্যক্তি যে সা-য়্যিবাহ উৎসর্গ করার প্রথা প্রচলন করে।
যুহরী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি সাঈ’দ ইব্ন মুসাইয়্যাব (রহঃ) -কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, বাহীরাহ বলে দেবতার নামে উৎসর্গ করা উটনী যার দুধ আট্কিয়ে রাখা হত এবং কোন লোক তার দুধ দোহন করত না। সা-য়িবাহ বলে ঐ পশুকে যাকে তারা ছেড়ে দিত দেবতার নামে। তাকে বোঝা বহন ইত্যাদি কোন কাজ কর্মে ব্যবহার করা হয় না। রাবী বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি ‘আম্র ইব্ন ‘আমির খুয’আহকে তার বহির্গত নাড়ি - ভুঁড়ি নিয়ে জাহান্নামের আগুনে চলাফেরা করতে দেখেছি। সেই প্রথম ব্যক্তি যে সা-য়্যিবাহ উৎসর্গ করার প্রথা প্রচলন করে।
حدثنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، عن الزهري، قال سمعت سعيد بن المسيب، قال البحيرة التي يمنع درها للطواغيت ولا يحلبها أحد من الناس، والسائبة التي كانوا يسيبونها لآلهتهم فلا يحمل عليها شىء. قال وقال أبو هريرة قال النبي صلى الله عليه وسلم " رأيت عمرو بن عامر بن لحى الخزاعي يجر قصبه في النار، وكان أول من سيب السوائب ".
সহিহ বুখারী > আবূ যর গিফারী (রাঃ) -এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা। [১]
এই অধ্যায়ে কোনো হাদিস পাওয়া যায়নি।
সহিহ বুখারী > যমযম কূপের ঘটনা।
সহিহ বুখারী ৩৫২২
حدثنا زيد ـ هو ابن أخزم ـ قال أبو قتيبة سلم بن قتيبة حدثني مثنى بن سعيد القصير، قال حدثني أبو جمرة، قال لنا ابن عباس ألا أخبركم بإسلام أبي ذر، قال قلنا بلى. قال قال أبو ذر كنت رجلا من غفار، فبلغنا أن رجلا قد خرج بمكة، يزعم أنه نبي، فقلت لأخي انطلق إلى هذا الرجل كلمه وأتني بخبره. فانطلق فلقيه، ثم رجع فقلت ما عندك فقال والله لقد رأيت رجلا يأمر بالخير وينهى عن الشر. فقلت له لم تشفني من الخبر. فأخذت جرابا وعصا، ثم أقبلت إلى مكة فجعلت لا أعرفه، وأكره أن أسأل عنه، وأشرب من ماء زمزم وأكون في المسجد. قال فمر بي علي فقال كأن الرجل غريب. قال قلت نعم. قال فانطلق إلى المنزل. قال فانطلقت معه لا يسألني عن شىء، ولا أخبره، فلما أصبحت غدوت إلى المسجد لأسأل عنه، وليس أحد يخبرني عنه بشىء. قال فمر بي علي فقال أما نال للرجل يعرف منزله بعد قال قلت لا. قال انطلق معي. قال فقال ما أمرك وما أقدمك هذه البلدة قال قلت له إن كتمت على أخبرتك. قال فإني أفعل. قال قلت له بلغنا أنه قد خرج ها هنا رجل يزعم أنه نبي، فأرسلت أخي ليكلمه فرجع ولم يشفني من الخبر، فأردت أن ألقاه. فقال له أما إنك قد رشدت، هذا وجهي إليه، فاتبعني، ادخل حيث أدخل، فإني إن رأيت أحدا أخافه عليك، قمت إلى الحائط، كأني أصلح نعلي، وامض أنت، فمضى ومضيت معه، حتى دخل ودخلت معه على النبي صلى الله عليه وسلم فقلت له اعرض على الإسلام. فعرضه فأسلمت مكاني، فقال لي " يا أبا ذر اكتم هذا الأمر، وارجع إلى بلدك، فإذا بلغك ظهورنا فأقبل ". فقلت والذي بعثك بالحق لأصرخن بها بين أظهرهم. فجاء إلى المسجد، وقريش فيه فقال يا معشر قريش، إني أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله. فقالوا قوموا إلى هذا الصابئ. فقاموا فضربت لأموت فأدركني العباس، فأكب على ثم أقبل عليهم، فقال ويلكم تقتلون رجلا من غفار، ومتجركم وممركم على غفار. فأقلعوا عني، فلما أن أصبحت الغد رجعت فقلت مثل ما قلت بالأمس، فقالوا قوموا إلى هذا الصابئ. فصنع {بي} مثل ما صنع بالأمس وأدركني العباس فأكب على، وقال مثل مقالته بالأمس. قال فكان هذا أول إسلام أبي ذر رحمه الله.
আবূ জামরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) আমাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে আবূ যার (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব? আমরা বললাম হাঁ, অবশ্যই। তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) বলেছেন, আমি গিফার গোত্রের একজন মানুষ। আমরা জানতে পেলাম মক্কায় এক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করে নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন। আমি আমার ভাইকে বললাম, তুমি মক্কায় গিয়ে ঐ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করে বিস্তারিত খোঁজ - খবর নিয়ে এস। সে রওয়ানা হয়ে গেল এবং মক্কার ঐ লোকটির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপ - আলোচনা করে ফিরে আসলে আমি জিজ্ঞেস করলাম- কী খবর নিয়ে এলে? সে বলল, আল্লাহ্র কসম! আমি একজন মহান ব্যক্তিকে দেখেছি যিনি সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করেন। আমি বললাম, তোমার খবরে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। অতঃপর আমি একটি ছড়ি ও এক পাত্র খাবার নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হলাম। মক্কায় পৌছে আমার অবস্থা দাঁড়াল এমন- তিনি আমার পরিচিত নন, কারো নিকট জিজ্ঞেস করাও আমি সমীচীন মনে করি না। তাই আমি যমযমের পানি পান করে মসজিদে থাকতে লাগলাম। একদিন সন্ধ্যা বেলা ‘আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গমনকালে আমার প্রতি ইশারা করে বললেন, মনে হয় লোকটি বিদেশী। আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, আমার সঙ্গে আমার বাড়িতে চল। পথেই তিনি আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করেননি। আর আমিও ইচ্ছা করে কোন কিছু বলিনি। তাঁর বাড়িতে রাত্রি যাপন করে ভোর বেলায় আবার মসজিদে গেলাম যাতে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। কিন্তু ওখানে এমন কোন লোক ছিল না যে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলবে। ঐ দিনও ‘আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে চলার সময় বললেন, এখনো কি লোকটি তার গন্তব্যস্থল ঠিক করতে পারেনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমার সঙ্গে চল। পথিমধ্যে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন বল, তোমার বিষয় কী? কেন এ শহরে এসেছ? আমি বললাম, যদি আপনি আমার বিষয়টি গোপন রাখার আশ্বাস দেন তাহলে তা আপনাকে বলতে পারি। তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি গোপন করব। আমি বললাম, আমরা জানতে পেরেছি, এখানে এমন এক লোকের আবির্ভাব হয়েছে যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করেন। আমি তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করার জন্য আমার ভাইকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে ফেরত গিয়ে আমাকে সন্তোষজনক কোন কিছু বলতে পারেনি। তাই নিজে দেখা করার ইচ্ছা নিয়ে এখানে আগমন করেছি। ‘আলী (রাঃ) বললেন, তুমি সঠিক পথপ্রদর্শক পেয়েছ। আমি এখনই তাঁর কাছে উপস্থিত হবার জন্য রওয়ানা হয়েছি। তুমি আমাকে অনুসরণ কর এবং আমি যে গৃহে প্রবেশ করি তুমিও সে গৃহে প্রবেশ করবে। রাস্তায় যদি তোমার বিপদজনক কোন লোক দেখতে পাই তবে আমি জুতা ঠিক করার অজুহাতে দেয়ালের পার্শ্বে সরে দাঁড়াব, যেন আমি জুতা ঠিক করছি। তুমি কিন্তু চলতেই থাকবে। ‘আলী (রাঃ) পথ চলতে শুরু করলেন। আমিও তাঁর অনুসরণ করে চলতে লাগলাম। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট প্রবেশ করলে, আমিও তাঁর সঙ্গে ঢুকে পড়লাম। আমি বললাম, আমার নিকট ইসলাম পেশ করুন। তিনি পেশ করলেন। আর আমি মুসলিম হয়ে গেলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আবূ যার। এখনকার মত তোমার ইসলাম গ্রহণ গোপন রেখে তোমার দেশে চলে যাও। যখন আমাদের বিজয়ের খবর জানতে পাবে তখন এসো। আমি বললাম, যে আল্লাহ্ আপনাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! আমি কাফির মুশরিকদের সামনে উচ্চঃস্বরে তৌহীদের বাণী ঘোষণা করব। (ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ) এই কথা বলে তিনি মসজিদে হারামে গমন করলেন, কুরাইশের লোকজনও সেখানে হাজির ছিল। তিনি বললেন হে কুরাইশগণ! আমি নিশ্চিতভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র বান্দা ও তাঁর রাসূল। এতদশ্রবণে কুরাইশগণ বলে উঠল, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। তারা আমার দিকে এগিয়ে আসলো এবং আমাকে নির্মমভাবে প্রহার করতে লাগল; যেন আমি মরে যাই। তখন ‘আব্বাস (রাঃ) আমার নিকট পৌঁছে আমাকে ঘিরে রাখলেন। অতঃপর তিনি কুরাইশকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের বিপদ অবশ্যম্ভাবী। তোমরা গিফার বংশের জনৈক ব্যক্তিকে হত্যা করতে উদ্যোগী হয়েছ অথচ তোমাদের ব্যবসা - বাণিজ্যের কাফেলাকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ কথা শুনে তারা সরে পড়ল। পরদিন ভোরবেলা কাবাগৃহে উপস্থিত হয়ে গতদিনের মতই আমি আমার ইসলাম গ্রহণের পূর্ণ ঘোষনা দিলাম। কুরাইশগণ বলে উঠলো, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। গতদিনের মত আজও তারা নির্মমভাবে আমাকে মারধর করলো। এই দিনও ‘আব্বাস (রাঃ) এসে আমাকে রক্ষা করলেন এবং কুরাইশদেরকে উদ্দেশ্য করে ঐ দিনের মত বক্তব্য রাখলেন। ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটাই ছিল আবূ যার (রাঃ) -এর ইসলাম গ্রহণের প্রথম ঘটনা।
আবূ জামরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) আমাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে আবূ যার (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব? আমরা বললাম হাঁ, অবশ্যই। তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) বলেছেন, আমি গিফার গোত্রের একজন মানুষ। আমরা জানতে পেলাম মক্কায় এক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করে নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন। আমি আমার ভাইকে বললাম, তুমি মক্কায় গিয়ে ঐ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করে বিস্তারিত খোঁজ - খবর নিয়ে এস। সে রওয়ানা হয়ে গেল এবং মক্কার ঐ লোকটির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপ - আলোচনা করে ফিরে আসলে আমি জিজ্ঞেস করলাম- কী খবর নিয়ে এলে? সে বলল, আল্লাহ্র কসম! আমি একজন মহান ব্যক্তিকে দেখেছি যিনি সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করেন। আমি বললাম, তোমার খবরে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। অতঃপর আমি একটি ছড়ি ও এক পাত্র খাবার নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হলাম। মক্কায় পৌছে আমার অবস্থা দাঁড়াল এমন- তিনি আমার পরিচিত নন, কারো নিকট জিজ্ঞেস করাও আমি সমীচীন মনে করি না। তাই আমি যমযমের পানি পান করে মসজিদে থাকতে লাগলাম। একদিন সন্ধ্যা বেলা ‘আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গমনকালে আমার প্রতি ইশারা করে বললেন, মনে হয় লোকটি বিদেশী। আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, আমার সঙ্গে আমার বাড়িতে চল। পথেই তিনি আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করেননি। আর আমিও ইচ্ছা করে কোন কিছু বলিনি। তাঁর বাড়িতে রাত্রি যাপন করে ভোর বেলায় আবার মসজিদে গেলাম যাতে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। কিন্তু ওখানে এমন কোন লোক ছিল না যে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলবে। ঐ দিনও ‘আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে চলার সময় বললেন, এখনো কি লোকটি তার গন্তব্যস্থল ঠিক করতে পারেনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমার সঙ্গে চল। পথিমধ্যে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন বল, তোমার বিষয় কী? কেন এ শহরে এসেছ? আমি বললাম, যদি আপনি আমার বিষয়টি গোপন রাখার আশ্বাস দেন তাহলে তা আপনাকে বলতে পারি। তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি গোপন করব। আমি বললাম, আমরা জানতে পেরেছি, এখানে এমন এক লোকের আবির্ভাব হয়েছে যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করেন। আমি তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করার জন্য আমার ভাইকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে ফেরত গিয়ে আমাকে সন্তোষজনক কোন কিছু বলতে পারেনি। তাই নিজে দেখা করার ইচ্ছা নিয়ে এখানে আগমন করেছি। ‘আলী (রাঃ) বললেন, তুমি সঠিক পথপ্রদর্শক পেয়েছ। আমি এখনই তাঁর কাছে উপস্থিত হবার জন্য রওয়ানা হয়েছি। তুমি আমাকে অনুসরণ কর এবং আমি যে গৃহে প্রবেশ করি তুমিও সে গৃহে প্রবেশ করবে। রাস্তায় যদি তোমার বিপদজনক কোন লোক দেখতে পাই তবে আমি জুতা ঠিক করার অজুহাতে দেয়ালের পার্শ্বে সরে দাঁড়াব, যেন আমি জুতা ঠিক করছি। তুমি কিন্তু চলতেই থাকবে। ‘আলী (রাঃ) পথ চলতে শুরু করলেন। আমিও তাঁর অনুসরণ করে চলতে লাগলাম। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট প্রবেশ করলে, আমিও তাঁর সঙ্গে ঢুকে পড়লাম। আমি বললাম, আমার নিকট ইসলাম পেশ করুন। তিনি পেশ করলেন। আর আমি মুসলিম হয়ে গেলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আবূ যার। এখনকার মত তোমার ইসলাম গ্রহণ গোপন রেখে তোমার দেশে চলে যাও। যখন আমাদের বিজয়ের খবর জানতে পাবে তখন এসো। আমি বললাম, যে আল্লাহ্ আপনাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! আমি কাফির মুশরিকদের সামনে উচ্চঃস্বরে তৌহীদের বাণী ঘোষণা করব। (ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ) এই কথা বলে তিনি মসজিদে হারামে গমন করলেন, কুরাইশের লোকজনও সেখানে হাজির ছিল। তিনি বললেন হে কুরাইশগণ! আমি নিশ্চিতভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র বান্দা ও তাঁর রাসূল। এতদশ্রবণে কুরাইশগণ বলে উঠল, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। তারা আমার দিকে এগিয়ে আসলো এবং আমাকে নির্মমভাবে প্রহার করতে লাগল; যেন আমি মরে যাই। তখন ‘আব্বাস (রাঃ) আমার নিকট পৌঁছে আমাকে ঘিরে রাখলেন। অতঃপর তিনি কুরাইশকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের বিপদ অবশ্যম্ভাবী। তোমরা গিফার বংশের জনৈক ব্যক্তিকে হত্যা করতে উদ্যোগী হয়েছ অথচ তোমাদের ব্যবসা - বাণিজ্যের কাফেলাকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ কথা শুনে তারা সরে পড়ল। পরদিন ভোরবেলা কাবাগৃহে উপস্থিত হয়ে গতদিনের মতই আমি আমার ইসলাম গ্রহণের পূর্ণ ঘোষনা দিলাম। কুরাইশগণ বলে উঠলো, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। গতদিনের মত আজও তারা নির্মমভাবে আমাকে মারধর করলো। এই দিনও ‘আব্বাস (রাঃ) এসে আমাকে রক্ষা করলেন এবং কুরাইশদেরকে উদ্দেশ্য করে ঐ দিনের মত বক্তব্য রাখলেন। ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটাই ছিল আবূ যার (রাঃ) -এর ইসলাম গ্রহণের প্রথম ঘটনা।
حدثنا زيد ـ هو ابن أخزم ـ قال أبو قتيبة سلم بن قتيبة حدثني مثنى بن سعيد القصير، قال حدثني أبو جمرة، قال لنا ابن عباس ألا أخبركم بإسلام أبي ذر، قال قلنا بلى. قال قال أبو ذر كنت رجلا من غفار، فبلغنا أن رجلا قد خرج بمكة، يزعم أنه نبي، فقلت لأخي انطلق إلى هذا الرجل كلمه وأتني بخبره. فانطلق فلقيه، ثم رجع فقلت ما عندك فقال والله لقد رأيت رجلا يأمر بالخير وينهى عن الشر. فقلت له لم تشفني من الخبر. فأخذت جرابا وعصا، ثم أقبلت إلى مكة فجعلت لا أعرفه، وأكره أن أسأل عنه، وأشرب من ماء زمزم وأكون في المسجد. قال فمر بي علي فقال كأن الرجل غريب. قال قلت نعم. قال فانطلق إلى المنزل. قال فانطلقت معه لا يسألني عن شىء، ولا أخبره، فلما أصبحت غدوت إلى المسجد لأسأل عنه، وليس أحد يخبرني عنه بشىء. قال فمر بي علي فقال أما نال للرجل يعرف منزله بعد قال قلت لا. قال انطلق معي. قال فقال ما أمرك وما أقدمك هذه البلدة قال قلت له إن كتمت على أخبرتك. قال فإني أفعل. قال قلت له بلغنا أنه قد خرج ها هنا رجل يزعم أنه نبي، فأرسلت أخي ليكلمه فرجع ولم يشفني من الخبر، فأردت أن ألقاه. فقال له أما إنك قد رشدت، هذا وجهي إليه، فاتبعني، ادخل حيث أدخل، فإني إن رأيت أحدا أخافه عليك، قمت إلى الحائط، كأني أصلح نعلي، وامض أنت، فمضى ومضيت معه، حتى دخل ودخلت معه على النبي صلى الله عليه وسلم فقلت له اعرض على الإسلام. فعرضه فأسلمت مكاني، فقال لي " يا أبا ذر اكتم هذا الأمر، وارجع إلى بلدك، فإذا بلغك ظهورنا فأقبل ". فقلت والذي بعثك بالحق لأصرخن بها بين أظهرهم. فجاء إلى المسجد، وقريش فيه فقال يا معشر قريش، إني أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله. فقالوا قوموا إلى هذا الصابئ. فقاموا فضربت لأموت فأدركني العباس، فأكب على ثم أقبل عليهم، فقال ويلكم تقتلون رجلا من غفار، ومتجركم وممركم على غفار. فأقلعوا عني، فلما أن أصبحت الغد رجعت فقلت مثل ما قلت بالأمس، فقالوا قوموا إلى هذا الصابئ. فصنع {بي} مثل ما صنع بالأمس وأدركني العباس فأكب على، وقال مثل مقالته بالأمس. قال فكان هذا أول إسلام أبي ذر رحمه الله.
সহিহ বুখারী > যমযমের ঘটনা ও আরবের মূর্খতা।
সহিহ বুখারী ৩৫২৪
حدثنا أبو النعمان، حدثنا أبو عوانة، عن أبي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال إذا سرك أن تعلم جهل العرب فاقرأ ما فوق الثلاثين ومائة في سورة الأنعام {قد خسر الذين قتلوا أولادهم سفها بغير علم} إلى قوله {قد ضلوا وما كانوا مهتدين}.
ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, তুমি যদি আরবদের অজ্ঞতা সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী হও, তবে সূরা আন্’আমের ১৩০ আয়াতের অংশটুকু মনোযোগের সঙ্গে পাঠ কর। “অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যারা নিজ সন্তানদেরকে হত্যা করেছে বোকামির দরুন ও অজ্ঞতাবশতঃ এবং হারাম করে নিয়েছে তা যা আল্লাহ্ তাদেরকে জীবিকা হিসেবে দিয়েছিলেন, কেবল আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করার উদ্দেশ্যে। নিশ্চয় তারা বিপথগামী হয়েছে এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্তও ছিল না”। (আল-আনআম ১৪০)
ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, তুমি যদি আরবদের অজ্ঞতা সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী হও, তবে সূরা আন্’আমের ১৩০ আয়াতের অংশটুকু মনোযোগের সঙ্গে পাঠ কর। “অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যারা নিজ সন্তানদেরকে হত্যা করেছে বোকামির দরুন ও অজ্ঞতাবশতঃ এবং হারাম করে নিয়েছে তা যা আল্লাহ্ তাদেরকে জীবিকা হিসেবে দিয়েছিলেন, কেবল আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করার উদ্দেশ্যে। নিশ্চয় তারা বিপথগামী হয়েছে এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্তও ছিল না”। (আল-আনআম ১৪০)
حدثنا أبو النعمان، حدثنا أبو عوانة، عن أبي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال إذا سرك أن تعلم جهل العرب فاقرأ ما فوق الثلاثين ومائة في سورة الأنعام {قد خسر الذين قتلوا أولادهم سفها بغير علم} إلى قوله {قد ضلوا وما كانوا مهتدين}.
সহিহ বুখারী ৩৫২৩
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد، عن أيوب، عن محمد، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال أسلم وغفار وشىء من مزينة وجهينة ـ أو قال شىء من جهينة أو مزينة ـ خير عند الله ـ أو قال ـ يوم القيامة من أسد وتميم وهوازن وغطفان.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আসলাম, গিফার এবং মুযাইনাহ ও জুহানাহ গোত্রের কিছু অংশ অথবা জুহানাহর কিছু অংশ কিংবা মুযায়নাহর কিছু অংশ আল্লাহ্র নিকট অথবা বলেছেন কিয়ামতের দিন আসাদ, তামীম, হাওয়াযিন ও গাত্ফান গোত্র চেয়ে উত্তম বলে বিবেচিত হবে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আসলাম, গিফার এবং মুযাইনাহ ও জুহানাহ গোত্রের কিছু অংশ অথবা জুহানাহর কিছু অংশ কিংবা মুযায়নাহর কিছু অংশ আল্লাহ্র নিকট অথবা বলেছেন কিয়ামতের দিন আসাদ, তামীম, হাওয়াযিন ও গাত্ফান গোত্র চেয়ে উত্তম বলে বিবেচিত হবে।
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد، عن أيوب، عن محمد، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال أسلم وغفار وشىء من مزينة وجهينة ـ أو قال شىء من جهينة أو مزينة ـ خير عند الله ـ أو قال ـ يوم القيامة من أسد وتميم وهوازن وغطفان.