সহিহ বুখারী > হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? (ত্বা-হা: ৯) আর আল্লাহ্‌ মূসার সঙ্গে সাক্ষাতে কথাবার্তা বলেছেন। (আন-নিসাঃ ১৬৪)

সহিহ বুখারী ৩৩৯৭

حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا أيوب السختياني، عن ابن سعيد بن جبير، عن أبيه، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم لما قدم المدينة وجدهم يصومون يوما، يعني عاشوراء، فقالوا هذا يوم عظيم، وهو يوم نجى الله فيه موسى، وأغرق آل فرعون، فصام موسى شكرا لله‏.‏ فقال ‏ "‏ أنا أولى بموسى منهم ‏"‏‏.‏ فصامه وأمر بصيامه‏.‏

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন তিনি মদীনাবাসীকে এমনভাবে পেলেন যে, তারা একদিন সাওম পালন করে অর্থাৎ সে দিনটি হল ‘আশুরার দিন। তারা বলল, এটি একটি মহান দিবস। এ এমন দিন যে দিনে আল্লাহ্‌ মূসা (‘আঃ) –কে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর মূসা (‘আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এদিন সাওম পালন করেছেন। তখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদের তুলনায় আমি হলাম মূসা (‘আঃ)–এর অধিক নিকটবর্তী। কাজেই তিনি নিজেও এদিন সাওম পালন করেছেন এবং এদিন সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন তিনি মদীনাবাসীকে এমনভাবে পেলেন যে, তারা একদিন সাওম পালন করে অর্থাৎ সে দিনটি হল ‘আশুরার দিন। তারা বলল, এটি একটি মহান দিবস। এ এমন দিন যে দিনে আল্লাহ্‌ মূসা (‘আঃ) –কে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর মূসা (‘আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এদিন সাওম পালন করেছেন। তখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদের তুলনায় আমি হলাম মূসা (‘আঃ)–এর অধিক নিকটবর্তী। কাজেই তিনি নিজেও এদিন সাওম পালন করেছেন এবং এদিন সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا أيوب السختياني، عن ابن سعيد بن جبير، عن أبيه، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم لما قدم المدينة وجدهم يصومون يوما، يعني عاشوراء، فقالوا هذا يوم عظيم، وهو يوم نجى الله فيه موسى، وأغرق آل فرعون، فصام موسى شكرا لله‏.‏ فقال ‏ "‏ أنا أولى بموسى منهم ‏"‏‏.‏ فصامه وأمر بصيامه‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৯৬

See previous Hadith

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আর নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিরাজের রাতের কথাও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন মূসা (‘আঃ) বাদামী রঙ বিশিষ্ট দীর্ঘদেহী ছিলেন। যেন তিনি শানু’আহ গোত্রের লোকদের মত। তিনি আরো বলেছেন যে, ‘ঈসা (‘আঃ) ছিলেন মধ্যমদেহী, কোকঁড়ানো চুলওয়ালা ব্যক্তি। আর তিনি [নবী‎(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] জাহান্নামের দারোগা মালিক এবং দাজ্জালের কথাও উল্লেখ করেছেন।

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আর নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিরাজের রাতের কথাও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন মূসা (‘আঃ) বাদামী রঙ বিশিষ্ট দীর্ঘদেহী ছিলেন। যেন তিনি শানু’আহ গোত্রের লোকদের মত। তিনি আরো বলেছেন যে, ‘ঈসা (‘আঃ) ছিলেন মধ্যমদেহী, কোকঁড়ানো চুলওয়ালা ব্যক্তি। আর তিনি [নবী‎(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] জাহান্নামের দারোগা মালিক এবং দাজ্জালের কথাও উল্লেখ করেছেন।

See previous Hadith


সহিহ বুখারী ৩৩৯৪

حدثنا إبراهيم بن موسى، أخبرنا هشام بن يوسف، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة أسري به ‏ "‏ رأيت موسى وإذا رجل ضرب رجل، كأنه من رجال شنوءة، ورأيت عيسى، فإذا هو رجل ربعة أحمر كأنما خرج من ديماس، وأنا أشبه ولد إبراهيم صلى الله عليه وسلم به، ثم أتيت بإناءين، في أحدهما لبن، وفي الآخر خمر فقال اشرب أيهما شئت‏.‏ فأخذت اللبن فشربته فقيل أخذت الفطرة، أما إنك لو أخذت الخمر غوت أمتك ‏"‏‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে রাতে আমার মি’রাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা (‘আঃ)-কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহের অধিকারী ব্যক্তি তাঁর চুল কোঁকড়ানো ছিল না। মনে হচ্ছিল তিনি যে ইয়ামান দেশীয় শানূআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, আর আমি ‘ঈসা (‘আঃ)-কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন মধ্যম দেহবিশিষ্ট, গায়ের রঙ ছিল লাল। যেন তিনি এক্ষুণি গোসলখানা হতে বের হলেন। আর ইব্‌রাহীম (‘আঃ)-এর বংশধরদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার চেহারার মিল সবচেয়ে বেশি। অতঃপর আমার সম্মুখে দু’টি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব। তখন জিব্‌রাঈল (‘আঃ) বললেন, এ দু’টির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হল, আপনি স্বভাব প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে রাতে আমার মি’রাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা (‘আঃ)-কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহের অধিকারী ব্যক্তি তাঁর চুল কোঁকড়ানো ছিল না। মনে হচ্ছিল তিনি যে ইয়ামান দেশীয় শানূআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, আর আমি ‘ঈসা (‘আঃ)-কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন মধ্যম দেহবিশিষ্ট, গায়ের রঙ ছিল লাল। যেন তিনি এক্ষুণি গোসলখানা হতে বের হলেন। আর ইব্‌রাহীম (‘আঃ)-এর বংশধরদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার চেহারার মিল সবচেয়ে বেশি। অতঃপর আমার সম্মুখে দু’টি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব। তখন জিব্‌রাঈল (‘আঃ) বললেন, এ দু’টির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হল, আপনি স্বভাব প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

حدثنا إبراهيم بن موسى، أخبرنا هشام بن يوسف، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة أسري به ‏ "‏ رأيت موسى وإذا رجل ضرب رجل، كأنه من رجال شنوءة، ورأيت عيسى، فإذا هو رجل ربعة أحمر كأنما خرج من ديماس، وأنا أشبه ولد إبراهيم صلى الله عليه وسلم به، ثم أتيت بإناءين، في أحدهما لبن، وفي الآخر خمر فقال اشرب أيهما شئت‏.‏ فأخذت اللبن فشربته فقيل أخذت الفطرة، أما إنك لو أخذت الخمر غوت أمتك ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৯৫

حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن قتادة، قال سمعت أبا العالية، حدثنا ابن عم، نبيكم ـ يعني ابن عباس ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ لا ينبغي لعبد أن يقول أنا خير من يونس بن متى ‏"‏‏.‏ ونسبه إلى أبيه‏.‏ وذكر النبي صلى الله عليه وسلم ليلة أسري به فقال ‏"‏ موسى آدم طوال كأنه من رجال شنوءة ‏"‏‏.‏ وقال ‏"‏ عيسى جعد مربوع ‏"‏‏.‏ وذكر مالكا خازن النار، وذكر الدجال‏.‏

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, আমি (নবী‎) ইউনুস ইব্‌নু মাত্তার চেয়ে উত্তম। নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলতে গিয়ে ইউনুস (‘আঃ)-এর পিতার নাম উল্লেখ করেছেন।

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, আমি (নবী‎) ইউনুস ইব্‌নু মাত্তার চেয়ে উত্তম। নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলতে গিয়ে ইউনুস (‘আঃ)-এর পিতার নাম উল্লেখ করেছেন।

حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن قتادة، قال سمعت أبا العالية، حدثنا ابن عم، نبيكم ـ يعني ابن عباس ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ لا ينبغي لعبد أن يقول أنا خير من يونس بن متى ‏"‏‏.‏ ونسبه إلى أبيه‏.‏ وذكر النبي صلى الله عليه وسلم ليلة أسري به فقال ‏"‏ موسى آدم طوال كأنه من رجال شنوءة ‏"‏‏.‏ وقال ‏"‏ عيسى جعد مربوع ‏"‏‏.‏ وذكر مالكا خازن النار، وذكر الدجال‏.‏


সহিহ বুখারী > মহান আল্লাহর বাণীঃ

সহিহ বুখারী ৩৩৯৮

حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن عمرو بن يحيى، عن أبيه، عن أبي سعيد ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ الناس يصعقون يوم القيامة، فأكون أول من يفيق، فإذا أنا بموسى آخذ بقائمة من قوائم العرش، فلا أدري أفاق قبلي، أم جوزي بصعقة الطور ‏"‏‏.‏

আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ বেহুশ হবে। অতঃপর সর্বপ্রথম আমারই হুশ আসবে। তখন আমি মূসা (‘আঃ)-কে দেখতে পাব যে, তিনি আরশের খুঁটিগুলোর একটি খুঁটি ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, আমার আগেই কি তাঁর হুশ আসল, না-কি তুর পাহাড়ে বেহুশ হবার প্রতিদান তাঁকে দেয়া হল।

আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ বেহুশ হবে। অতঃপর সর্বপ্রথম আমারই হুশ আসবে। তখন আমি মূসা (‘আঃ)-কে দেখতে পাব যে, তিনি আরশের খুঁটিগুলোর একটি খুঁটি ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, আমার আগেই কি তাঁর হুশ আসল, না-কি তুর পাহাড়ে বেহুশ হবার প্রতিদান তাঁকে দেয়া হল।

حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن عمرو بن يحيى، عن أبيه، عن أبي سعيد ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ الناس يصعقون يوم القيامة، فأكون أول من يفيق، فإذا أنا بموسى آخذ بقائمة من قوائم العرش، فلا أدري أفاق قبلي، أم جوزي بصعقة الطور ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৯৯

حدثني عبد الله بن محمد الجعفي، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن همام، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لولا بنو إسرائيل لم يخنز اللحم، ولولا حواء لم تخن أنثى زوجها الدهر ‏"‏‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যদি বনী ইসরাঈল না হত, তবে গোশ্‌ত পচে যেত না। আর যদি (মা) হাওয়া (‘আঃ) না হতেন, তাহলে কক্ষনো কোন নারী তার স্বামীর খেয়ানত করত না।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যদি বনী ইসরাঈল না হত, তবে গোশ্‌ত পচে যেত না। আর যদি (মা) হাওয়া (‘আঃ) না হতেন, তাহলে কক্ষনো কোন নারী তার স্বামীর খেয়ানত করত না।

حدثني عبد الله بن محمد الجعفي، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن همام، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لولا بنو إسرائيل لم يخنز اللحم، ولولا حواء لم تخن أنثى زوجها الدهر ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী > বন্যার কারণে তুফান।

এই অধ্যায়ে কোনো হাদিস পাওয়া যায়নি।

সহিহ বুখারী > মূসা (‘আঃ)-এর সম্পর্কিত খাযির (‘আঃ)-এর ঘটনা।

সহিহ বুখারী ৩৪০২

حدثنا محمد بن سعيد الأصبهاني، أخبرنا ابن المبارك، عن معمر، عن همام بن منبه، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ إنما سمي الخضر أنه جلس على فروة بيضاء فإذا هي تهتز من خلفه خضراء ‏"‏‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, খাযির (‘আঃ) –কে খাযির নামে আখ্যায়িত করার কারণ এই যে, একদা তিনি ঘাস-পাতা বিহীন শুকনো সাদা জায়গায় বসেছিলেন। সেখান হতে তাঁর উঠে যাবার পরই হঠাৎ ঐ জায়গাটি সবুজ হয়ে গেল।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, খাযির (‘আঃ) –কে খাযির নামে আখ্যায়িত করার কারণ এই যে, একদা তিনি ঘাস-পাতা বিহীন শুকনো সাদা জায়গায় বসেছিলেন। সেখান হতে তাঁর উঠে যাবার পরই হঠাৎ ঐ জায়গাটি সবুজ হয়ে গেল।

حدثنا محمد بن سعيد الأصبهاني، أخبرنا ابن المبارك، عن معمر، عن همام بن منبه، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ إنما سمي الخضر أنه جلس على فروة بيضاء فإذا هي تهتز من خلفه خضراء ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৪০০

حدثنا عمرو بن محمد، حدثنا يعقوب بن إبراهيم، قال حدثني أبي، عن صالح، عن ابن شهاب، أن عبيد الله بن عبد الله، أخبره عن ابن عباس، أنه تمارى هو والحر بن قيس الفزاري في صاحب موسى، قال ابن عباس هو خضر، فمر بهما أبى بن كعب، فدعاه ابن عباس، فقال إني تماريت أنا وصاحبي، هذا في صاحب موسى الذي سأل السبيل إلى لقيه، هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر شأنه قال نعم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ بينما موسى في ملإ من بني إسرائيل جاءه رجل، فقال هل تعلم أحدا أعلم منك قال لا‏.‏ فأوحى الله إلى موسى بلى عبدنا خضر‏.‏ فسأل موسى السبيل إليه، فجعل له الحوت آية، وقيل له إذا فقدت الحوت فارجع، فإنك ستلقاه‏.‏ فكان يتبع الحوت في البحر، فقال لموسى فتاه أرأيت إذ أوينا إلى الصخرة، فإني نسيت الحوت، وما أنسانيه إلا الشيطان أن أذكره‏.‏ فقال موسى ذلك ما كنا نبغ‏.‏ فارتدا على آثارهما قصصا فوجدا خضرا، فكان من شأنهما الذي قص الله في كتابه ‏"‏‏.‏

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি এবং হুর ইব্‌নু কাযেস ফাযারী মূসা (‘আঃ)-এর সাথীর ব্যাপারে বিতর্ক করছিলেন। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি হলেন, খাযির। এমনি সময় উবাই ইব্‌নু কা’ব (রাঃ) তাদের উভয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে ডাকলেন এবং বললেন, আমি এবং আমার এ সাথী মূসা (‘আঃ)–এর সাথী সম্পর্কে বিতর্ক করছি, যাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মূসা (‘আঃ) পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে তাঁর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, মূসা (‘আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি আসল এবং জিজ্ঞেস করল, আপনি কি এমন কাউকে জানেন, যিনি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, না। তখন মূসা (‘আঃ)–এর প্রতি আল্লাহ্‌ ওহী পাঠিয়ে জানিয়ে দিলেন, হাঁ, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (‘আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। তখন তাঁর জন্য একটি মাছ নিদর্শন হিসেবে ঠিক করে দেয়া হল এবং তাকে বলে দেয়া হল, যখন তুমি মাছটি হারাবে, তখন তুমি পিছনে ফিরে আসবে, তাহলেই তুমি তাঁর সাক্ষাৎ পাবে। তারপর মূসা (‘আঃ) নদীতে মাছের পিছে পিছে চলছিলেন, এমন সময় মূসা (‘আঃ) –কে তাঁর খাদিম বলে উঠল, “আপনি কি লক্ষ্য করেছেন। আমরা যখন ঐ পাথরটির নিকট অবস্থান করছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। বস্তুতঃ তার হতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল”– (কাহ্‌ফ ৬৩)। মূসা (‘আঃ) বললেন, আমরা তো সে স্থানেরই খোঁজ করছিলাম। অতএব তাঁরা উভয়ে পিছনে ফিরে চললেন, এবং খাযিরের সাক্ষাৎ পেলেন- (কাহ্‌ফ ৬৪) তাঁদের উভয়েরই অবস্থার বর্ণনা ঠিক তাই যা আল্লাহ্‌ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন।

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি এবং হুর ইব্‌নু কাযেস ফাযারী মূসা (‘আঃ)-এর সাথীর ব্যাপারে বিতর্ক করছিলেন। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি হলেন, খাযির। এমনি সময় উবাই ইব্‌নু কা’ব (রাঃ) তাদের উভয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে ডাকলেন এবং বললেন, আমি এবং আমার এ সাথী মূসা (‘আঃ)–এর সাথী সম্পর্কে বিতর্ক করছি, যাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মূসা (‘আঃ) পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে তাঁর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, মূসা (‘আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি আসল এবং জিজ্ঞেস করল, আপনি কি এমন কাউকে জানেন, যিনি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, না। তখন মূসা (‘আঃ)–এর প্রতি আল্লাহ্‌ ওহী পাঠিয়ে জানিয়ে দিলেন, হাঁ, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (‘আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। তখন তাঁর জন্য একটি মাছ নিদর্শন হিসেবে ঠিক করে দেয়া হল এবং তাকে বলে দেয়া হল, যখন তুমি মাছটি হারাবে, তখন তুমি পিছনে ফিরে আসবে, তাহলেই তুমি তাঁর সাক্ষাৎ পাবে। তারপর মূসা (‘আঃ) নদীতে মাছের পিছে পিছে চলছিলেন, এমন সময় মূসা (‘আঃ) –কে তাঁর খাদিম বলে উঠল, “আপনি কি লক্ষ্য করেছেন। আমরা যখন ঐ পাথরটির নিকট অবস্থান করছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। বস্তুতঃ তার হতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল”– (কাহ্‌ফ ৬৩)। মূসা (‘আঃ) বললেন, আমরা তো সে স্থানেরই খোঁজ করছিলাম। অতএব তাঁরা উভয়ে পিছনে ফিরে চললেন, এবং খাযিরের সাক্ষাৎ পেলেন- (কাহ্‌ফ ৬৪) তাঁদের উভয়েরই অবস্থার বর্ণনা ঠিক তাই যা আল্লাহ্‌ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন।

حدثنا عمرو بن محمد، حدثنا يعقوب بن إبراهيم، قال حدثني أبي، عن صالح، عن ابن شهاب، أن عبيد الله بن عبد الله، أخبره عن ابن عباس، أنه تمارى هو والحر بن قيس الفزاري في صاحب موسى، قال ابن عباس هو خضر، فمر بهما أبى بن كعب، فدعاه ابن عباس، فقال إني تماريت أنا وصاحبي، هذا في صاحب موسى الذي سأل السبيل إلى لقيه، هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر شأنه قال نعم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ بينما موسى في ملإ من بني إسرائيل جاءه رجل، فقال هل تعلم أحدا أعلم منك قال لا‏.‏ فأوحى الله إلى موسى بلى عبدنا خضر‏.‏ فسأل موسى السبيل إليه، فجعل له الحوت آية، وقيل له إذا فقدت الحوت فارجع، فإنك ستلقاه‏.‏ فكان يتبع الحوت في البحر، فقال لموسى فتاه أرأيت إذ أوينا إلى الصخرة، فإني نسيت الحوت، وما أنسانيه إلا الشيطان أن أذكره‏.‏ فقال موسى ذلك ما كنا نبغ‏.‏ فارتدا على آثارهما قصصا فوجدا خضرا، فكان من شأنهما الذي قص الله في كتابه ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৪০১

حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو بن دينار، قال أخبرني سعيد بن جبير، قال قلت لابن عباس إن نوفا البكالي يزعم أن موسى صاحب الخضر ليس هو موسى بني إسرائيل، إنما هو موسى آخر‏.‏ فقال كذب عدو الله حدثنا أبى بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أن موسى قام خطيبا في بني إسرائيل، فسئل أى الناس أعلم فقال أنا‏.‏ فعتب الله عليه إذ لم يرد العلم إليه‏.‏ فقال له بلى، لي عبد بمجمع البحرين هو أعلم منك‏.‏ قال أى رب ومن لي به ـ وربما قال سفيان أى رب وكيف لي به ـ قال تأخذ حوتا، فتجعله في مكتل، حيثما فقدت الحوت فهو ثم ـ وربما قال فهو ثمه ـ وأخذ حوتا، فجعله في مكتل، ثم انطلق هو وفتاه يوشع بن نون، حتى أتيا الصخرة، وضعا رءوسهما فرقد موسى، واضطرب الحوت فخرج فسقط في البحر، فاتخذ سبيله في البحر سربا، فأمسك الله عن الحوت جرية الماء، فصار مثل الطاق، فقال هكذا مثل الطاق‏.‏ فانطلقا يمشيان بقية ليلتهما ويومهما، حتى إذا كان من الغد قال لفتاه آتنا غداءنا لقد لقينا من سفرنا هذا نصبا‏.‏ ولم يجد موسى النصب حتى جاوز حيث أمره الله‏.‏ قال له فتاه أرأيت إذ أوينا إلى الصخرة فإني نسيت الحوت، وما أنسانيه إلا الشيطان أن أذكره، واتخذ سبيله في البحر عجبا، فكان للحوت سربا ولهما عجبا‏.‏ قال له موسى ذلك ما كنا نبغي، فارتدا على آثارهما قصصا، رجعا يقصان آثارهما حتى انتهيا إلى الصخرة، فإذا رجل مسجى بثوب، فسلم موسى، فرد عليه‏.‏ فقال وأنى بأرضك السلام‏.‏ قال أنا موسى‏.‏ قال موسى بني إسرائيل قال نعم، أتيتك لتعلمني مما علمت رشدا‏.‏ قال يا موسى إني على علم من علم الله، علمنيه الله لا تعلمه وأنت على علم من علم الله علمكه الله لا أعلمه‏.‏ قال هل أتبعك قال ‏{‏إنك لن تستطيع معي صبرا * وكيف تصبر على ما لم تحط به خبرا‏}‏ إلى قوله ‏{‏إمرا‏}‏ فانطلقا يمشيان على ساحل البحر، فمرت بهما سفينة، كلموهم أن يحملوهم، فعرفوا الخضر، فحملوه بغير نول، فلما ركبا في السفينة جاء عصفور، فوقع على حرف السفينة، فنقر في البحر نقرة أو نقرتين، قال له الخضر يا موسى، ما نقص علمي وعلمك من علم الله إلا مثل ما نقص هذا العصفور بمنقاره من البحر‏.‏ إذ أخذ الفأس فنزع لوحا، قال فلم يفجأ موسى إلا وقد قلع لوحا بالقدوم‏.‏ فقال له موسى ما صنعت قوم حملونا بغير نول، عمدت إلى سفينتهم فخرقتها لتغرق أهلها، لقد جئت شيئا إمرا‏.‏ قال ألم أقل إنك لن تستطيع معي صبرا‏.‏ قال لا تؤاخذني بما نسيت ولا ترهقني من أمري عسرا، فكانت الأولى من موسى نسيانا‏.‏ فلما خرجا من البحر مروا بغلام يلعب مع الصبيان، فأخذ الخضر برأسه فقلعه بيده هكذا ـ وأومأ سفيان بأطراف أصابعه كأنه يقطف شيئا ـ فقال له موسى أقتلت نفسا زكية بغير نفس لقد جئت شيئا نكرا‏.‏ قال ألم أقل لك إنك لن تستطيع معي صبرا‏.‏ قال إن سألتك عن شىء بعدها فلا تصاحبني، قد بلغت من لدني عذرا‏.‏ فانطلقا حتى إذا أتيا أهل قرية استطعما أهلها فأبوا أن يضيفوهما فوجدا فيها جدارا يريد أن ينقض مائلا ـ أومأ بيده هكذا وأشار سفيان كأنه يمسح شيئا إلى فوق، فلم أسمع سفيان يذكر مائلا إلا مرة ـ قال قوم أتيناهم فلم يطعمونا ولم يضيفونا عمدت إلى حائطهم لو شئت لاتخذت عليه أجرا‏.‏ قال هذا فراق بيني وبينك، سأنبئك بتأويل ما لم تستطع عليه صبرا‏"‏‏.‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وددنا أن موسى كان صبر، فقص الله علينا من خبرهما ‏"‏‏.‏ قال سفيان قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يرحم الله موسى، لو كان صبر يقص علينا من أمرهما ‏"‏‏.‏ وقرأ ابن عباس أمامهم ملك يأخذ كل سفينة صالحة غصبا، وأما الغلام فكان كافرا وكان أبواه مؤمنين‏.‏ ثم قال لي سفيان سمعته منه مرتين وحفظته منه‏.‏ قيل لسفيان حفظته قبل أن تسمعه من عمرو، أو تحفظته من إنسان فقال ممن أتحفظه ورواه أحد عن عمرو غيري سمعته منه مرتين أو ثلاثا وحفظته منه‏.‏

সা‘ঈদ ইব্‌নু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, নাওফল বিক্কালী ধারণা করছে যে, খাযিরের সঙ্গী মূসা বনী ইসরাঈলের নবী‎ মূসা (‘আঃ) নন; নিশ্চয়ই তিনি অপর কোন মূসা। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। উবাই ইব্‌নু কা‘ব (রাঃ) নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একবার মূসা (‘আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্‌ ব্যক্তি সবচেয় অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। মূসা (‘আঃ)–এর এ উত্তরে আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহ্‌র দিকে সম্পর্কিত করেননি। আল্লাহ্‌ তাঁকে বললেন, বরং দুই নদীর সংযোগ স্থলে আমার একজন বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। মূসা (‘আঃ) আরয করলেন, হে আমার রব! তাঁর নিকট পৌছতে কে আমাকে সাহায্য করবে? কখনও সুফিয়ান এভাবে বর্ণনা করেছেন, হে আমার রব! আমি তাঁর সঙ্গে কিভাবে সাক্ষাৎ করব? আল্লাহ্‌ বললেন, তুমি একটি মাছ ধর এবং তা একটি থলের মধ্যে ভরে রাখ। যেখানে গিয়ে তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন। অতঃপর মূসা (‘আঃ) একটি মাছ ধরলেন এবং থলের মধ্যে ভরে রাখলেন। অতঃপর তিনি এবং তাঁর সাথী ইউশা ইব্‌নু নূন চলতে লাগলেন অবশেষে তাঁরা উভয়ে একটি পাথরের নিকট এসে পৌঁছে তার উপরে মাথা রেখে বিশ্রাম করলেন। এ সময় মূসা (‘আঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন আর মাছটি নড়াচড়া করতে করতে থলে হতে বের হয়ে নদীতে চলে গেল। অতঃপর সে নদীতে সুড়ঙ্গ আকারে স্বীয় পথ করে নিল আর আল্লাহ্‌ মাছটির চলার পথে পানির গতি স্তব্ধ করে দিলেন। ফলে তার গমন পথটি সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল। এ সময় নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতের ইঙ্গিত করে বললেন, এভাবে সুড়ঙ্গের মত হয়েছিল। অতঃপর তাঁরা উভয়ে অবশিষ্ট রাত এবং পুরো দিন পথ চললেন। শেষে যখন পরের দিন ভোর হল তখন মূসা (‘আঃ) তাঁর যুবক সঙ্গীকে বললেন, আমার সকালের খাবার আন। আমি এ সফরে খুব ক্লান্তিবোধ করছি। বস্তুতঃ মূসা (‘আঃ) যে পর্যন্ত আল্লাহ্‌র নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম না করেছেন সে পর্যন্ত তিনি সফরে কোন ক্রান্তিই অনুভব করেননি। তখন তাঁর সঙ্গী তাঁকে বললেন, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন সেই পাথরটির নিকট বিশ্রাম নিয়েছিলাম মাছটি চলে যাবার কথা বলতে আমি একেবারেই ভুলে গেছি। আসলে আপনার নিকট তা উল্লেখ করতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। মাছটি নদীতে আশ্চর্যজনকভাবে নিজের রাস্তা করে নিয়েছে। (রাবী বলেন) পথটি মাছের জন্য ছিল একটি সুড়ঙ্গের মত আর তাঁদের জন্য ছিল একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার। মূসা (‘আঃ) তাকে বললেন, ওটাইতো সেই স্থান যা আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি। অতঃপর উভয়ে নিজ নিজ পদচিহ্ন ধরে পিছনের দিকে ফিরে চললেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা দু’জনে সেই পাথরটির নিকট এসে পৌঁছালেন এবং দেখলেন সেখানে জনৈক ব্যক্তি বস্ত্রাবৃত হয়ে আছেন। মূসা (‘আঃ) তাঁকে সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, এখানে সালাম কী করে এলো? তিনি বললেন, আমি মূসা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আপনার নিকট এসেছি, সরল সঠিক জ্ঞানের ঐ সব কথাগুলো শিখার জন্যে যা আপনাকে শিখানো হয়েছে। তিনি বললেন, হে মূসা! আমার আল্লাহ্‌র দেয়া কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ্‌ আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনি তা জানেন। আর আপনারও আল্লাহ্‌ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ্‌ আপনাকে শিখিয়েছেন, আমি তা জানি না। মূসা (‘আঃ) বললেন, আমি কি আপনার সাথী হতে পারি? খাযির (‘আঃ) বললেন, আপনি আমার সঙ্গে থেকে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না আর আপনি এমন বিষয়ে ধৈর্য রাখবেন কী করে, যার রহস্য আপনার জানা নেই? মূসা (‘আঃ) বললেন, ইন্‌ শা আল্লাহ্‌ আপনি আমাকে একজন ধৈর্যশীল হিসেবে দেখতে পাবেন। আমি আপনার কোন আদেশই অমান্য করব না। অতঃপর তাঁরা দু’জনে রওয়ানা হয়ে নদীর তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। এমন সময় একটি নৌকা তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা তাদেরকেও নৌকায় উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করলেন। তারা খাযির (‘আঃ) –কে চিনে ফেললেন এবং তারা তাঁকে তাঁর সঙ্গীসহ পারিশ্রমিক ছাড়াই নৌকায় তুলে নিল। তারা দু’জন যখন নৌকায় উঠলেন, তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির এক পাশে বসল এবং একবার কি দু’বার পানিতে ঠোঁট ডুবাল। খাযির (‘আঃ) বললেন, হে মূসা (‘আঃ)! আমার ও তোমার জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহ্‌র জ্ঞান হতে ততটুকুও কমেনি যতটুকু এ পাখিটি তার ঠোঁটের দ্বারা নদীর পানি হ্রাস করেছে। অতঃপর খাযির (‘আঃ) হঠাৎ একটি কুঠার নিয়ে নৌকাটির একটি তক্তা খুলে ফেললেন, মূসা (‘আঃ) অকস্মাৎ দৃষ্টি দিতেই দেখতে পেলেন তিনি কুঠার দিয়ে একটি তক্তা খুলে ফেলেছেন। তখন তাঁকে তিনি বললেন, আপনি এ কী করলেন? লোকেরা আমাদের মজুরি ছাড়া নৌকায় তুলে নিল, আর আপনি তাদের নৌকার যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ফুটো করে দিলেন? এতো আপনি একটি গুরুতর কাজ করলেন। খাযির (‘আঃ) বললেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি কখনও আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না? মূসা (‘আঃ) বললেন, আমি যে বিষয়টি ভুলে গেছি, তার জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন না। আর আমার এ ব্যবহারে আমার প্রতি কঠোর হবেন না। মূসা (‘আঃ)–এর পক্ষ হতে প্রথম এই কথাটি ছিল ভুলক্রমে। অতঃপর যখন তাঁরা উভয়ে নদী পার হয়ে আসলেন, তখন তাঁরা একটি বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন সে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলছিল। খাযির (‘আঃ) তার মাথা ধরলেন এবং নিজ হাতে তার ঘাড় আলাদা করে ফেললেন। এ কথাটি বুঝানোর জন্য সুফিয়ান (রহঃ) তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ দ্বারা এমনভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস ছিঁড়ে নিচ্ছিলেন। এতে মূসা (‘আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ বালককে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি অন্যায় কাজ করলেন। খাযির (‘আঃ) বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরতে পারবেন না? মূসা (‘আঃ) বললেন, অতঃপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না। কেননা আপনার উযর আপত্তি চূড়ান্ত হয়েছে। অতঃপর তাঁরা চলতে লাগলেন শেষ অবধি তাঁরা এক জনপদে এসে পৌঁছলেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের নিকট খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের আতিথ্য করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তাঁরা সেখানেই একটি দেয়াল দেখতে পেলেন যা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তা একদিকে ঝুঁকে গিয়েছিল। খাযির (‘আঃ) তা নিজের হাতে সোজা করে দিলেন। রাবী আপন হাতে এভাবে ইঙ্গিত করলেন। আর সুফিয়ান (রহঃ) এমনিভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস উপরের দিকে উঁচু করে দিচ্ছেন। “ঝুঁকে পড়েছে” এ কথাটি আমি সুফিয়ানকে মাত্র একবার বলতে শুনেছি। মূসা (‘আঃ) বললেন, তারা এমন মানুষ যে , আমরা তাদের নিকট আসলাম, তারা আমাদেরকে না খাবার দিল, না আমাদের আতিথ্য করল আর আপনি এদের দেয়াল সোজা করতে গেলেন। আপনি ইচ্ছা করলে এর বদলে মজুরি গ্রহণ করতে পারতেন। খাযির (‘আঃ) বললেন, এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ হল। তবে এখনই আমি আপনাকে জ্ঞাত করছি ওসব কথার রহস্য, যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি। নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমাদেরতো ইচ্ছা যে, মূসা (‘আঃ) ধৈর্য ধরলে আমাদের নিকট তাঁদের আরো আনেক অধিক খবর বর্ণনা করা হতো। সুফিয়ান (রহঃ) বর্ণনা করেন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্‌ মূসা (‘আঃ)–এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন, তাহলে তাদের উভয়ের ব্যাপারে আমাদের নিকট আরো অনেক ঘটনা জানানো হতো। রাবী বলেন, ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) এখানে পড়েছেন, তাদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, সে প্রতিটি নিখুঁত নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। আর সে ছেলেটি ছিল কাফির, তার পিতা-মাতা ছিলেন মুমিন। অতঃপর সুফিয়ান (রহঃ) আমাকে বলেছেন, আমি এ হাদীসটি তাঁর (‘আমর ইব্‌নু দীনার) হতে দু’বার শুনেছি এবং তাঁর নিকট হতেই মুখস্ত করেছি। সুফিয়ান (রহঃ) –কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি ‘আমর ইব্‌নু দীনার (রহঃ) হতে শুনার পূর্বেই তা মুখস্ত করেছেন না অপর কোন লোকের নিকট শুনে তা মুখস্ত করেছেন? তিনি বললেন, আমি কার নিকট হতে তা মুখস্ত করতে পারি? আমি ব্যতীত আর কেউ কি এ হাদীস আমরের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন? আমি তাঁর নিকট হতে শুনেছি দুইবার কি তিনবার। আর তাঁর থেকেই তা মুখস্ত করেছি। ‘আলী ইব্‌নু খুশরম (রহঃ) সুফিয়ান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

সা‘ঈদ ইব্‌নু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, নাওফল বিক্কালী ধারণা করছে যে, খাযিরের সঙ্গী মূসা বনী ইসরাঈলের নবী‎ মূসা (‘আঃ) নন; নিশ্চয়ই তিনি অপর কোন মূসা। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। উবাই ইব্‌নু কা‘ব (রাঃ) নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একবার মূসা (‘আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্‌ ব্যক্তি সবচেয় অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। মূসা (‘আঃ)–এর এ উত্তরে আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহ্‌র দিকে সম্পর্কিত করেননি। আল্লাহ্‌ তাঁকে বললেন, বরং দুই নদীর সংযোগ স্থলে আমার একজন বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। মূসা (‘আঃ) আরয করলেন, হে আমার রব! তাঁর নিকট পৌছতে কে আমাকে সাহায্য করবে? কখনও সুফিয়ান এভাবে বর্ণনা করেছেন, হে আমার রব! আমি তাঁর সঙ্গে কিভাবে সাক্ষাৎ করব? আল্লাহ্‌ বললেন, তুমি একটি মাছ ধর এবং তা একটি থলের মধ্যে ভরে রাখ। যেখানে গিয়ে তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন। অতঃপর মূসা (‘আঃ) একটি মাছ ধরলেন এবং থলের মধ্যে ভরে রাখলেন। অতঃপর তিনি এবং তাঁর সাথী ইউশা ইব্‌নু নূন চলতে লাগলেন অবশেষে তাঁরা উভয়ে একটি পাথরের নিকট এসে পৌঁছে তার উপরে মাথা রেখে বিশ্রাম করলেন। এ সময় মূসা (‘আঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন আর মাছটি নড়াচড়া করতে করতে থলে হতে বের হয়ে নদীতে চলে গেল। অতঃপর সে নদীতে সুড়ঙ্গ আকারে স্বীয় পথ করে নিল আর আল্লাহ্‌ মাছটির চলার পথে পানির গতি স্তব্ধ করে দিলেন। ফলে তার গমন পথটি সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল। এ সময় নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতের ইঙ্গিত করে বললেন, এভাবে সুড়ঙ্গের মত হয়েছিল। অতঃপর তাঁরা উভয়ে অবশিষ্ট রাত এবং পুরো দিন পথ চললেন। শেষে যখন পরের দিন ভোর হল তখন মূসা (‘আঃ) তাঁর যুবক সঙ্গীকে বললেন, আমার সকালের খাবার আন। আমি এ সফরে খুব ক্লান্তিবোধ করছি। বস্তুতঃ মূসা (‘আঃ) যে পর্যন্ত আল্লাহ্‌র নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম না করেছেন সে পর্যন্ত তিনি সফরে কোন ক্রান্তিই অনুভব করেননি। তখন তাঁর সঙ্গী তাঁকে বললেন, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন সেই পাথরটির নিকট বিশ্রাম নিয়েছিলাম মাছটি চলে যাবার কথা বলতে আমি একেবারেই ভুলে গেছি। আসলে আপনার নিকট তা উল্লেখ করতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। মাছটি নদীতে আশ্চর্যজনকভাবে নিজের রাস্তা করে নিয়েছে। (রাবী বলেন) পথটি মাছের জন্য ছিল একটি সুড়ঙ্গের মত আর তাঁদের জন্য ছিল একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার। মূসা (‘আঃ) তাকে বললেন, ওটাইতো সেই স্থান যা আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি। অতঃপর উভয়ে নিজ নিজ পদচিহ্ন ধরে পিছনের দিকে ফিরে চললেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা দু’জনে সেই পাথরটির নিকট এসে পৌঁছালেন এবং দেখলেন সেখানে জনৈক ব্যক্তি বস্ত্রাবৃত হয়ে আছেন। মূসা (‘আঃ) তাঁকে সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, এখানে সালাম কী করে এলো? তিনি বললেন, আমি মূসা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আপনার নিকট এসেছি, সরল সঠিক জ্ঞানের ঐ সব কথাগুলো শিখার জন্যে যা আপনাকে শিখানো হয়েছে। তিনি বললেন, হে মূসা! আমার আল্লাহ্‌র দেয়া কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ্‌ আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনি তা জানেন। আর আপনারও আল্লাহ্‌ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ্‌ আপনাকে শিখিয়েছেন, আমি তা জানি না। মূসা (‘আঃ) বললেন, আমি কি আপনার সাথী হতে পারি? খাযির (‘আঃ) বললেন, আপনি আমার সঙ্গে থেকে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না আর আপনি এমন বিষয়ে ধৈর্য রাখবেন কী করে, যার রহস্য আপনার জানা নেই? মূসা (‘আঃ) বললেন, ইন্‌ শা আল্লাহ্‌ আপনি আমাকে একজন ধৈর্যশীল হিসেবে দেখতে পাবেন। আমি আপনার কোন আদেশই অমান্য করব না। অতঃপর তাঁরা দু’জনে রওয়ানা হয়ে নদীর তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। এমন সময় একটি নৌকা তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা তাদেরকেও নৌকায় উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করলেন। তারা খাযির (‘আঃ) –কে চিনে ফেললেন এবং তারা তাঁকে তাঁর সঙ্গীসহ পারিশ্রমিক ছাড়াই নৌকায় তুলে নিল। তারা দু’জন যখন নৌকায় উঠলেন, তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির এক পাশে বসল এবং একবার কি দু’বার পানিতে ঠোঁট ডুবাল। খাযির (‘আঃ) বললেন, হে মূসা (‘আঃ)! আমার ও তোমার জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহ্‌র জ্ঞান হতে ততটুকুও কমেনি যতটুকু এ পাখিটি তার ঠোঁটের দ্বারা নদীর পানি হ্রাস করেছে। অতঃপর খাযির (‘আঃ) হঠাৎ একটি কুঠার নিয়ে নৌকাটির একটি তক্তা খুলে ফেললেন, মূসা (‘আঃ) অকস্মাৎ দৃষ্টি দিতেই দেখতে পেলেন তিনি কুঠার দিয়ে একটি তক্তা খুলে ফেলেছেন। তখন তাঁকে তিনি বললেন, আপনি এ কী করলেন? লোকেরা আমাদের মজুরি ছাড়া নৌকায় তুলে নিল, আর আপনি তাদের নৌকার যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ফুটো করে দিলেন? এতো আপনি একটি গুরুতর কাজ করলেন। খাযির (‘আঃ) বললেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি কখনও আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না? মূসা (‘আঃ) বললেন, আমি যে বিষয়টি ভুলে গেছি, তার জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন না। আর আমার এ ব্যবহারে আমার প্রতি কঠোর হবেন না। মূসা (‘আঃ)–এর পক্ষ হতে প্রথম এই কথাটি ছিল ভুলক্রমে। অতঃপর যখন তাঁরা উভয়ে নদী পার হয়ে আসলেন, তখন তাঁরা একটি বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন সে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলছিল। খাযির (‘আঃ) তার মাথা ধরলেন এবং নিজ হাতে তার ঘাড় আলাদা করে ফেললেন। এ কথাটি বুঝানোর জন্য সুফিয়ান (রহঃ) তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ দ্বারা এমনভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস ছিঁড়ে নিচ্ছিলেন। এতে মূসা (‘আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ বালককে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি অন্যায় কাজ করলেন। খাযির (‘আঃ) বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরতে পারবেন না? মূসা (‘আঃ) বললেন, অতঃপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না। কেননা আপনার উযর আপত্তি চূড়ান্ত হয়েছে। অতঃপর তাঁরা চলতে লাগলেন শেষ অবধি তাঁরা এক জনপদে এসে পৌঁছলেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের নিকট খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের আতিথ্য করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তাঁরা সেখানেই একটি দেয়াল দেখতে পেলেন যা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তা একদিকে ঝুঁকে গিয়েছিল। খাযির (‘আঃ) তা নিজের হাতে সোজা করে দিলেন। রাবী আপন হাতে এভাবে ইঙ্গিত করলেন। আর সুফিয়ান (রহঃ) এমনিভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস উপরের দিকে উঁচু করে দিচ্ছেন। “ঝুঁকে পড়েছে” এ কথাটি আমি সুফিয়ানকে মাত্র একবার বলতে শুনেছি। মূসা (‘আঃ) বললেন, তারা এমন মানুষ যে , আমরা তাদের নিকট আসলাম, তারা আমাদেরকে না খাবার দিল, না আমাদের আতিথ্য করল আর আপনি এদের দেয়াল সোজা করতে গেলেন। আপনি ইচ্ছা করলে এর বদলে মজুরি গ্রহণ করতে পারতেন। খাযির (‘আঃ) বললেন, এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ হল। তবে এখনই আমি আপনাকে জ্ঞাত করছি ওসব কথার রহস্য, যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি। নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমাদেরতো ইচ্ছা যে, মূসা (‘আঃ) ধৈর্য ধরলে আমাদের নিকট তাঁদের আরো আনেক অধিক খবর বর্ণনা করা হতো। সুফিয়ান (রহঃ) বর্ণনা করেন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্‌ মূসা (‘আঃ)–এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন, তাহলে তাদের উভয়ের ব্যাপারে আমাদের নিকট আরো অনেক ঘটনা জানানো হতো। রাবী বলেন, ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) এখানে পড়েছেন, তাদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, সে প্রতিটি নিখুঁত নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। আর সে ছেলেটি ছিল কাফির, তার পিতা-মাতা ছিলেন মুমিন। অতঃপর সুফিয়ান (রহঃ) আমাকে বলেছেন, আমি এ হাদীসটি তাঁর (‘আমর ইব্‌নু দীনার) হতে দু’বার শুনেছি এবং তাঁর নিকট হতেই মুখস্ত করেছি। সুফিয়ান (রহঃ) –কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি ‘আমর ইব্‌নু দীনার (রহঃ) হতে শুনার পূর্বেই তা মুখস্ত করেছেন না অপর কোন লোকের নিকট শুনে তা মুখস্ত করেছেন? তিনি বললেন, আমি কার নিকট হতে তা মুখস্ত করতে পারি? আমি ব্যতীত আর কেউ কি এ হাদীস আমরের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন? আমি তাঁর নিকট হতে শুনেছি দুইবার কি তিনবার। আর তাঁর থেকেই তা মুখস্ত করেছি। ‘আলী ইব্‌নু খুশরম (রহঃ) সুফিয়ান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو بن دينار، قال أخبرني سعيد بن جبير، قال قلت لابن عباس إن نوفا البكالي يزعم أن موسى صاحب الخضر ليس هو موسى بني إسرائيل، إنما هو موسى آخر‏.‏ فقال كذب عدو الله حدثنا أبى بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أن موسى قام خطيبا في بني إسرائيل، فسئل أى الناس أعلم فقال أنا‏.‏ فعتب الله عليه إذ لم يرد العلم إليه‏.‏ فقال له بلى، لي عبد بمجمع البحرين هو أعلم منك‏.‏ قال أى رب ومن لي به ـ وربما قال سفيان أى رب وكيف لي به ـ قال تأخذ حوتا، فتجعله في مكتل، حيثما فقدت الحوت فهو ثم ـ وربما قال فهو ثمه ـ وأخذ حوتا، فجعله في مكتل، ثم انطلق هو وفتاه يوشع بن نون، حتى أتيا الصخرة، وضعا رءوسهما فرقد موسى، واضطرب الحوت فخرج فسقط في البحر، فاتخذ سبيله في البحر سربا، فأمسك الله عن الحوت جرية الماء، فصار مثل الطاق، فقال هكذا مثل الطاق‏.‏ فانطلقا يمشيان بقية ليلتهما ويومهما، حتى إذا كان من الغد قال لفتاه آتنا غداءنا لقد لقينا من سفرنا هذا نصبا‏.‏ ولم يجد موسى النصب حتى جاوز حيث أمره الله‏.‏ قال له فتاه أرأيت إذ أوينا إلى الصخرة فإني نسيت الحوت، وما أنسانيه إلا الشيطان أن أذكره، واتخذ سبيله في البحر عجبا، فكان للحوت سربا ولهما عجبا‏.‏ قال له موسى ذلك ما كنا نبغي، فارتدا على آثارهما قصصا، رجعا يقصان آثارهما حتى انتهيا إلى الصخرة، فإذا رجل مسجى بثوب، فسلم موسى، فرد عليه‏.‏ فقال وأنى بأرضك السلام‏.‏ قال أنا موسى‏.‏ قال موسى بني إسرائيل قال نعم، أتيتك لتعلمني مما علمت رشدا‏.‏ قال يا موسى إني على علم من علم الله، علمنيه الله لا تعلمه وأنت على علم من علم الله علمكه الله لا أعلمه‏.‏ قال هل أتبعك قال ‏{‏إنك لن تستطيع معي صبرا * وكيف تصبر على ما لم تحط به خبرا‏}‏ إلى قوله ‏{‏إمرا‏}‏ فانطلقا يمشيان على ساحل البحر، فمرت بهما سفينة، كلموهم أن يحملوهم، فعرفوا الخضر، فحملوه بغير نول، فلما ركبا في السفينة جاء عصفور، فوقع على حرف السفينة، فنقر في البحر نقرة أو نقرتين، قال له الخضر يا موسى، ما نقص علمي وعلمك من علم الله إلا مثل ما نقص هذا العصفور بمنقاره من البحر‏.‏ إذ أخذ الفأس فنزع لوحا، قال فلم يفجأ موسى إلا وقد قلع لوحا بالقدوم‏.‏ فقال له موسى ما صنعت قوم حملونا بغير نول، عمدت إلى سفينتهم فخرقتها لتغرق أهلها، لقد جئت شيئا إمرا‏.‏ قال ألم أقل إنك لن تستطيع معي صبرا‏.‏ قال لا تؤاخذني بما نسيت ولا ترهقني من أمري عسرا، فكانت الأولى من موسى نسيانا‏.‏ فلما خرجا من البحر مروا بغلام يلعب مع الصبيان، فأخذ الخضر برأسه فقلعه بيده هكذا ـ وأومأ سفيان بأطراف أصابعه كأنه يقطف شيئا ـ فقال له موسى أقتلت نفسا زكية بغير نفس لقد جئت شيئا نكرا‏.‏ قال ألم أقل لك إنك لن تستطيع معي صبرا‏.‏ قال إن سألتك عن شىء بعدها فلا تصاحبني، قد بلغت من لدني عذرا‏.‏ فانطلقا حتى إذا أتيا أهل قرية استطعما أهلها فأبوا أن يضيفوهما فوجدا فيها جدارا يريد أن ينقض مائلا ـ أومأ بيده هكذا وأشار سفيان كأنه يمسح شيئا إلى فوق، فلم أسمع سفيان يذكر مائلا إلا مرة ـ قال قوم أتيناهم فلم يطعمونا ولم يضيفونا عمدت إلى حائطهم لو شئت لاتخذت عليه أجرا‏.‏ قال هذا فراق بيني وبينك، سأنبئك بتأويل ما لم تستطع عليه صبرا‏"‏‏.‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وددنا أن موسى كان صبر، فقص الله علينا من خبرهما ‏"‏‏.‏ قال سفيان قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يرحم الله موسى، لو كان صبر يقص علينا من أمرهما ‏"‏‏.‏ وقرأ ابن عباس أمامهم ملك يأخذ كل سفينة صالحة غصبا، وأما الغلام فكان كافرا وكان أبواه مؤمنين‏.‏ ثم قال لي سفيان سمعته منه مرتين وحفظته منه‏.‏ قيل لسفيان حفظته قبل أن تسمعه من عمرو، أو تحفظته من إنسان فقال ممن أتحفظه ورواه أحد عن عمرو غيري سمعته منه مرتين أو ثلاثا وحفظته منه‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00