সহিহ বুখারী > ৫৮/১৮. অধ্যায়ঃ
সহিহ বুখারী ৩১৮১
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ،، قَالَتْ أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَتْلِ الأَبْتَرِ وَقَالَ إِنَّهُ يُصِيبُ الْبَصَرَ، وَيُذْهِبُ الْحَبَلَ "
আ’মাশ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়াইল (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সিফ্ফীনের যুদ্ধে হাযির ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি সাহ্ল ইব্নু হুনাইফ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা নিজ মতামতকে বিশুদ্ধ মনে করো না। আমি নিজেকে আবূ জান্দালের দিন দেখেছি। আমি যদি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশ রদ করতে পারতাম, তবে তা নিশ্চয়ই রদ করতাম। আসলে আমরা যখনই কোন ভয়ানক অবস্থায় আমাদের স্কন্ধে তলোয়ার তুলে নিয়েছি, তখন তা আমাদের জন্য সহজ করে দেয়া হয়েছে এমনভাবে যা আমরা উপলব্ধি করেছি। কিন্তু বর্তমান অবস্থা অন্যরূপ।
সহিহ বুখারী ৩১৮২
حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ أَبِي يُونُسَ الْقُشَيْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقْتُلُ الْحَيَّاتِ ثُمَّ نَهَى قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم هَدَمَ حَائِطًا لَهُ، فَوَجَدَ فِيهِ سِلْخَ حَيَّةٍ فَقَالَ انْظُرُوا أَيْنَ هُوَ ". فَنَظَرُوا فَقَالَ " اقْتُلُوهُ ". فَكُنْتُ أَقْتُلُهَا لِذَلِكَ. فَلَقِيتُ أَبَا لُبَابَةَ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقْتُلُوا الْجِنَّانَ، إِلاَّ كُلَّ أَبْتَرَ ذِي طُفْيَتَيْنِ، فَإِنَّهُ يُسْقِطُ الْوَلَدَ، وَيُذْهِبُ الْبَصَرَ، فَاقْتُلُوهُ "."
আবূ ওয়ায়িল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা সিফ্ফীন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সে সময় সাহ্ল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজ মতামতকে সঠিক মনে করো না। আমরা হুদায়বিয়ার দিন রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। যদি আমরা যুদ্ধ করা সঠিক মনে করতাম, তবে আমরা যুদ্ধ করতাম। পরে ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি হকের উপর নই এবং তারা বাতিলের উপর নয়? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি বললেন, আমাদের নিহত ব্যক্তিগণ কি জান্নাতী নন এবং তাদের নিহত ব্যক্তিরা জাহান্নামী নয়? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, আমাদের নিহতগণ অবশ্যই জান্নাতী। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তবে কী কারণে আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হীনতা স্বীকার করব? আমরা কি ফিরে যাব? অথচ আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের ও তাদের মধ্যে কোন ফায়সালা করেননি? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে ইব্নু খাত্তাব! আমি নিশ্চয়ই আল্লাহ্র রসূল, আল্লাহ আমাকে কখনো হেয় করবেন না। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট গেলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যা বলেছিলেন, তা তাঁর নিকট বললেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তিনি আল্লাহ্র রসূল, আল্লাহ তা’আলা কখনও তাঁকে অপদস্থ করবেন না। অতঃপর সূরা ফাত্হ নাযিল হয়। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শেষ পর্যন্ত ‘উমার (রাঃ) কে পাঠ করে শোনান। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি বিজয়? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ।
সহিহ বুখারী ৩১৮৩
حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقْتُلُ الْحَيَّاتِ. فَحَدَّثَهُ أَبُو لُبَابَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ قَتْلِ جِنَّانِ الْبُيُوتِ، فَأَمْسَكَ عَنْهَا.
আসমা বিনতে আবূ বাক্র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার মা, যিনি মুশরিক ছিলেন, তাঁর পিতার সঙ্গে আমার নিকট এলেন, যখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কুরাইশরা চুক্তি করেছিল। তখন আসমা (রাঃ) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার মা আমার কাছে এসেছেন। তিনি ইসলামের প্রতি আসক্ত নন। আমি কি তাঁর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করব?’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘হ্যাঁ, তাঁর সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর।
সহিহ বুখারী > তিন দিনের জন্য বা সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমঝোতা করা।
সহিহ বুখারী ৩১৮৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عَنْهَا ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ خَمْسٌ فَوَاسِقُ يُقْتَلْنَ فِي الْحَرَمِ الْفَأْرَةُ، وَالْعَقْرَبُ، وَالْحُدَيَّا، وَالْغُرَابُ، وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ "
বারাআ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ‘উমরাহ করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি মক্কায় আগমনের অনুমতি চেয়ে মক্কায় কাফিরদের নিকট লোক পাঠান। তারা শর্ত দেয় যে, তিনি সেখানে তিন রাতের বেশি থাকবেন না এবং অস্ত্রকে কোষে আবদ্ধ না করে প্রবেশ করবেন না। আর মাক্কাহবাসীদের কাউকে ইসলামের দাওয়াত দিবে না। বারাআ (রাঃ) বলেন, এ সকল শর্ত ‘আলী ইব্নু আবূ তালিব (রাঃ) লেখা শুরু করলেন এবং সন্ধিপত্রে লিখলেন, “এটা সে সন্ধিপত্র যার উপর আল্লাহ্র রসূল মুহাম্মদ ফায়সালা করেছেন।” তখন কাফিররা বলল, ‘আমরা যদি এ কথা মেনে নিতাম যে, আপনি আল্লাহ্র রসূল, তবে তো আমরা আপনাকে বাধাই দিতাম না এবং আপনার হাতে বায়’আত করে নিতাম। কাজেই এভাবে লিখুন, এটি সেই সন্ধিপত্র যার উপর মুহাম্মদ ইব্নু ‘আবদুল্লাহ ফায়সালা করেছেন।’ তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি মুহাম্মদ ইব্নু ‘আবদুল্লাহ এবং আল্লাহ্র কসম! আমি আল্লাহ্র রসূল। বারাআ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লিখতেন না। তাই তিনি ‘আলী (রাঃ)-কে বললেন, রসূলুল্লাহ মুছে ফেল। ‘আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি কখনো তা মুছব না। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তবে আমাকে দেখিয়ে দাও। তখন ‘আলী (রাঃ) তাঁকে তা দেখিয়ে দিলেন এবং আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা স্বহস্তে মুছে ফেললেন। অতঃপর যখন তিনি মাক্কাহয় প্রবেশ করলেন এবং সে দিনগুলো অতীত হয়ে গেল, তখন তারা ‘আলী (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, তোমার সঙ্গীকে বল, যেন তিনি চলে যান। ‘আলী (রাঃ) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা বললেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে। অতঃপর তিনি যাত্রা করলেন।