সহিহ বুখারী > আল্লাহ্ তা’আআলার না-ফরমানি করলে প্রয়োজনে জিম্মী অথবা মুসলিম নারীর চুল দেখা ও তাদের কে বিবস্ত্র করা।
সহিহ বুখারী ৩০৮১
حدثني محمد بن عبد الله بن حوشب الطائفي حدثنا هشيم أخبرنا حصين عن سعد بن عبيدة عن أبي عبد الرحمن وكان عثمانيا فقال لابن عطية وكان علويا إني لاعلم ما الذي جرأ صاحبك على الدماء سمعته يقول بعثني النبي صلى الله عليه وسلم والزبير فقال ائتوا روضة كذا وتجدون بها امرأة أعطاها حاطب كتابا فأتينا الروضة فقلنا الكتاب قالت لم يعطني فقلنا لتخرجن أو لاجردنك فأخرجت من حجزتها فأرسل إلى حاطب فقال لا تعجل والله ما كفرت ولا ازددت للإسلام إلا حبا ولم يكن أحد من أصحابك إلا وله بمكة من يدفع الله به عن أهله وماله ولم يكن لي أحد فأحببت أن أتخذ عندهم يدا فصدقه النبي صلى الله عليه وسلم قال عمر دعني أضرب عنقه فإنه قد نافق فقال ما يدريك لعل الله اطلع على أهل بدر فقال اعملوا ما شئتم فهذا الذي جرأه
আবূ ‘আবদূর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আর তিনি ছিলেন ‘উসমান (রাঃ) এর সমর্থক। তিনি ইব্নু আতিয়্যাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যিনি ‘আলী (রাঃ)-এর সমর্থক ছিলেন, কোন্ বস্তু তোমাদের সাথী (আলী (রাঃ)- কে রক্তপাতে সাহস যুগিয়েছে, তা আমি জানি। আমি তাঁর নিকট শুনেছি, তিনি বলতেন, ‘রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এবং যুবাইর (ইব্নু আওয়াম) (রাঃ)-কে প্রেরণ করেছেন, আর বলেছেন, তোমরা খাক বাগানের দিকে চলে যাও, সেখানে তোমরা একজন মহিলাকে পাবে, হাতিব তাকে একটি পত্র দিয়েছে।’ আমরা সে বাগানে পৌঁছলাম এবং মহিলাটিকে বললাম, পত্রখানি দাও, সে বলল, আমাকে কোন পত্র দেয়নি। তখন আমরা বললাম, ‘হয় তুমি পত্র বের করে দাও, নচেৎ আমরা তোমাকে বিবস্ত্র করব।’ তখন সে মহিলা তার কেশের ভাঁজ থেকে পত্রখানা বের করে দিল। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতিবকে ডেকে পাঠান। তখন সে বলল, ‘আমার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না। আল্লাহ্র কসম! আমি কুফরী করিনি, আমার হৃদয়ে ইসলামের প্রতি অনুরাগই বর্ধিত হয়েছে। আপনার সাহাবীগণের মধ্যে কেউই এমন নেই, মক্কায় যার সাহায্যকারী আত্মীয় স্বজন না আছে। যদ্দারা আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ রক্ষা করেছেন। আর আমার এমন কেউ নেই। তাই আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চেয়েছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে সত্যবাদী হিসেবে স্বীকার করে নিলেন। ‘উমর (রাঃ) বললেন, লোকটিকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই, সে তো মুনাফিকী করেছে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তুমি জান কি? অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলা আহলে বদর সম্পর্কে ভালভাবে জানেন এবং তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা যেমন ইচ্ছা ‘আমল কর।’ একথাই তাঁকে (আলী (রাঃ) দুঃসাহসী করেছে।
আবূ ‘আবদূর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আর তিনি ছিলেন ‘উসমান (রাঃ) এর সমর্থক। তিনি ইব্নু আতিয়্যাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যিনি ‘আলী (রাঃ)-এর সমর্থক ছিলেন, কোন্ বস্তু তোমাদের সাথী (আলী (রাঃ)- কে রক্তপাতে সাহস যুগিয়েছে, তা আমি জানি। আমি তাঁর নিকট শুনেছি, তিনি বলতেন, ‘রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এবং যুবাইর (ইব্নু আওয়াম) (রাঃ)-কে প্রেরণ করেছেন, আর বলেছেন, তোমরা খাক বাগানের দিকে চলে যাও, সেখানে তোমরা একজন মহিলাকে পাবে, হাতিব তাকে একটি পত্র দিয়েছে।’ আমরা সে বাগানে পৌঁছলাম এবং মহিলাটিকে বললাম, পত্রখানি দাও, সে বলল, আমাকে কোন পত্র দেয়নি। তখন আমরা বললাম, ‘হয় তুমি পত্র বের করে দাও, নচেৎ আমরা তোমাকে বিবস্ত্র করব।’ তখন সে মহিলা তার কেশের ভাঁজ থেকে পত্রখানা বের করে দিল। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতিবকে ডেকে পাঠান। তখন সে বলল, ‘আমার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না। আল্লাহ্র কসম! আমি কুফরী করিনি, আমার হৃদয়ে ইসলামের প্রতি অনুরাগই বর্ধিত হয়েছে। আপনার সাহাবীগণের মধ্যে কেউই এমন নেই, মক্কায় যার সাহায্যকারী আত্মীয় স্বজন না আছে। যদ্দারা আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ রক্ষা করেছেন। আর আমার এমন কেউ নেই। তাই আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চেয়েছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে সত্যবাদী হিসেবে স্বীকার করে নিলেন। ‘উমর (রাঃ) বললেন, লোকটিকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই, সে তো মুনাফিকী করেছে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তুমি জান কি? অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলা আহলে বদর সম্পর্কে ভালভাবে জানেন এবং তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা যেমন ইচ্ছা ‘আমল কর।’ একথাই তাঁকে (আলী (রাঃ) দুঃসাহসী করেছে।
حدثني محمد بن عبد الله بن حوشب الطائفي حدثنا هشيم أخبرنا حصين عن سعد بن عبيدة عن أبي عبد الرحمن وكان عثمانيا فقال لابن عطية وكان علويا إني لاعلم ما الذي جرأ صاحبك على الدماء سمعته يقول بعثني النبي صلى الله عليه وسلم والزبير فقال ائتوا روضة كذا وتجدون بها امرأة أعطاها حاطب كتابا فأتينا الروضة فقلنا الكتاب قالت لم يعطني فقلنا لتخرجن أو لاجردنك فأخرجت من حجزتها فأرسل إلى حاطب فقال لا تعجل والله ما كفرت ولا ازددت للإسلام إلا حبا ولم يكن أحد من أصحابك إلا وله بمكة من يدفع الله به عن أهله وماله ولم يكن لي أحد فأحببت أن أتخذ عندهم يدا فصدقه النبي صلى الله عليه وسلم قال عمر دعني أضرب عنقه فإنه قد نافق فقال ما يدريك لعل الله اطلع على أهل بدر فقال اعملوا ما شئتم فهذا الذي جرأه
সহিহ বুখারী > মুজাহিদদেরকে সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপন করা।
সহিহ বুখারী ৩০৮২
حدثنا عبد الله بن أبي الأسود حدثنا يزيد بن زريع وحميد بن الأسود عن حبيب بن الشهيد عن ابن أبي مليكة قال ابن الزبير لابن جعفر أتذكر إذ تلقينا رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا وأنت وابن عباس قال نعم فحملنا وتركك
ইব্নু আবূ মুলাইকা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্নু যুবাইর (রাঃ), ইব্নু জা‘ফর (রাঃ) কে বললেন, তোমার কি মনে আছে, যখন আমি ও তুমি এবং ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) আল্লাহ্র রসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম? ইবনু জা‘ফর বললেন, হ্যাঁ, স্মরণ আছে। রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বাহনে তুলে নিলেন আর তোমাকে ছেড়ে আসলেন।
ইব্নু আবূ মুলাইকা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্নু যুবাইর (রাঃ), ইব্নু জা‘ফর (রাঃ) কে বললেন, তোমার কি মনে আছে, যখন আমি ও তুমি এবং ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) আল্লাহ্র রসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম? ইবনু জা‘ফর বললেন, হ্যাঁ, স্মরণ আছে। রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বাহনে তুলে নিলেন আর তোমাকে ছেড়ে আসলেন।
حدثنا عبد الله بن أبي الأسود حدثنا يزيد بن زريع وحميد بن الأسود عن حبيب بن الشهيد عن ابن أبي مليكة قال ابن الزبير لابن جعفر أتذكر إذ تلقينا رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا وأنت وابن عباس قال نعم فحملنا وتركك
সহিহ বুখারী ৩০৮৩
حدثنا مالك بن إسماعيل حدثنا ابن عيينة عن الزهري قال قال السائب بن يزيد ذهبنا نتلقى رسول الله صلى الله عليه وسلم مع الصبيان إلى ثنية الوداع
সায়িব ইব্নু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে আমরাও আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশে সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত গিয়েছিলাম।
সায়িব ইব্নু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে আমরাও আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশে সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত গিয়েছিলাম।
حدثنا مالك بن إسماعيل حدثنا ابن عيينة عن الزهري قال قال السائب بن يزيد ذهبنا نتلقى رسول الله صلى الله عليه وسلم مع الصبيان إلى ثنية الوداع
সহিহ বুখারী > জিহাদ হতে ফিরে আসার কালে যা বলবে।
সহিহ বুখারী ৩০৮৪
حدثنا موسى بن إسماعيل حدثنا جويرية عن نافع عن عبد الله أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا قفل كبر ثلاثا قال آيبون إن شاء الله تائبون عابدون حامدون لربنا ساجدون صدق الله وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিহাদ হতে ফিরতেন, তখন তিনবার তাকবীর বলতেন। অতঃপর বলতেন, আল্লাহ্র ইচ্ছায় আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ হতে তওবাকারী, তাঁরই ‘ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, আমাদের প্রতিপালককে সিজ্দাকারী। আল্লাহ্ তাআলা তাঁর অঙ্গীকার সত্য প্রমাণিত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রু দলকে পরাভূত করেছেন।
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিহাদ হতে ফিরতেন, তখন তিনবার তাকবীর বলতেন। অতঃপর বলতেন, আল্লাহ্র ইচ্ছায় আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ হতে তওবাকারী, তাঁরই ‘ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, আমাদের প্রতিপালককে সিজ্দাকারী। আল্লাহ্ তাআলা তাঁর অঙ্গীকার সত্য প্রমাণিত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রু দলকে পরাভূত করেছেন।
حدثنا موسى بن إسماعيل حدثنا جويرية عن نافع عن عبد الله أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا قفل كبر ثلاثا قال آيبون إن شاء الله تائبون عابدون حامدون لربنا ساجدون صدق الله وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده
সহিহ বুখারী ৩০৮৫
حدثنا أبو معمر حدثنا عبد الوارث قال حدثني يحيى بن أبي إسحاق عن أنس بن مالك قال كنا مع النبي مقفله من عسفان ورسول الله صلى الله عليه وسلم على راحلته وقد أردف صفية بنت حيي فعثرت ناقته فصرعا جميعا فاقتحم أبو طلحة فقال يا رسول الله جعلني الله فداءك قال عليك المرأة فقلب ثوبا على وجهه وأتاها فألقاه عليها وأصلح لهما مركبهما فركبا واكتنفنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما أشرفنا على المدينة قال آيبون تائبون عابدون لربنا حامدون فلم يزل يقول ذلك حتى دخل المدينة
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উসফান হতে প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, আর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাওয়ারীর উপর আরোহী ছিলেন। তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাঃ) কে তাঁর পেছনে সাওয়ারীর উপর বসিয়েছিলেন। এ সময় উট পিছলিয়ে গেল এবং তাঁরা উভয়ে ছিটকে পড়েন। এ দেখে আবূ ত্বলহা (রাঃ) দ্রুত এসে বললেন, ‘হে আল্লাহ্র রসূল! আল্লাহ্ তাআলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আগে মহিলার খোঁজ নাও। আবূ ত্বলহা (রাঃ) তখন একটা কাপড়ে নিজের মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট আসলেন এবং সে কাপড়টা দিয়ে তাকে ঢেকে দিলেন। অতঃপর তাঁদের দু’জনের জন্য সাওয়ারীকে ঠিক করলেন। তাঁরা উভয়েই আরোহণ করলেন, আর আমরা সবাই আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চারপাশে বেষ্টন করে চললাম। যখন আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দুয়া পড়লেন --------------------------------------- আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তওবাকারী, আমরা ‘ইবাদতকারী, আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আর মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকলেন।
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উসফান হতে প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, আর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাওয়ারীর উপর আরোহী ছিলেন। তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাঃ) কে তাঁর পেছনে সাওয়ারীর উপর বসিয়েছিলেন। এ সময় উট পিছলিয়ে গেল এবং তাঁরা উভয়ে ছিটকে পড়েন। এ দেখে আবূ ত্বলহা (রাঃ) দ্রুত এসে বললেন, ‘হে আল্লাহ্র রসূল! আল্লাহ্ তাআলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আগে মহিলার খোঁজ নাও। আবূ ত্বলহা (রাঃ) তখন একটা কাপড়ে নিজের মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট আসলেন এবং সে কাপড়টা দিয়ে তাকে ঢেকে দিলেন। অতঃপর তাঁদের দু’জনের জন্য সাওয়ারীকে ঠিক করলেন। তাঁরা উভয়েই আরোহণ করলেন, আর আমরা সবাই আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চারপাশে বেষ্টন করে চললাম। যখন আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দুয়া পড়লেন --------------------------------------- আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তওবাকারী, আমরা ‘ইবাদতকারী, আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আর মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকলেন।
حدثنا أبو معمر حدثنا عبد الوارث قال حدثني يحيى بن أبي إسحاق عن أنس بن مالك قال كنا مع النبي مقفله من عسفان ورسول الله صلى الله عليه وسلم على راحلته وقد أردف صفية بنت حيي فعثرت ناقته فصرعا جميعا فاقتحم أبو طلحة فقال يا رسول الله جعلني الله فداءك قال عليك المرأة فقلب ثوبا على وجهه وأتاها فألقاه عليها وأصلح لهما مركبهما فركبا واكتنفنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما أشرفنا على المدينة قال آيبون تائبون عابدون لربنا حامدون فلم يزل يقول ذلك حتى دخل المدينة
সহিহ বুখারী ৩০৮৬
حدثنا علي حدثنا بشر بن المفضل حدثنا يحيى بن أبي إسحاق عن أنس بن مالك أنه أقبل هو وأبو طلحة مع النبي صلى الله عليه وسلم ومع النبي صلى الله عليه وسلم صفية مردفها على راحلته فلما كانوا ببعض الطريق عثرت الناقة فصرع النبي والمرأة وإن أبا طلحة قال أحسب قال اقتحم عن بعيره فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله جعلني الله فداءك هل أصابك من شيء قال لا ولكن عليك بالمرأة فألقى أبو طلحة ثوبه على وجهه فقصد قصدها فألقى ثوبه عليها فقامت المرأة فشد لهما على راحلتهما فركبا فساروا حتى إذا كانوا بظهر المدينة أو قال أشرفوا على المدينة قال النبي آيبون تائبون عابدون لربنا حامدون فلم يزل يقولها حتى دخل المدينة
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি ও আবূ ত্বলহা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে চলছিলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে সাফিয়্যাহ (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁকে নিজ সাওয়ারীতে তাঁর পেছনে বসিয়ে ছিলেন। পথিমধ্যে এক জায়গায় উটনীটির পা পিছলে গেল। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাফিয়্যাহ ছিটকে পড়ে গেলেন। আর আবূ ত্বলহা (রাঃ) তাঁর উট থেকে তাড়াতাড়ি নেমে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বললেন, ‘হে আল্লাহ্র নবী! আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আপনার কি কোন আঘাত লেগেছে?’ আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘না। তবে তুমি মহিলাটির খোঁজ নাও।’ আবূ ত্বলহা (রাঃ) একটা কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট গেলেন এবং সেই কাপড় দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলেন। তখন সাফিয়্যাহ (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি আবূ ত্বলহা (রাঃ) তাঁদের উভয়ের জন্য সাওয়ারীটি উত্তমরূপে বাঁধলেন। আর তাঁরা উভয়ে (তার উপর) আরোহণ করে চলতে শুরু করেন। অবশেষে যখন তাঁরা মদীনার উপকন্ঠে পৌঁছলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, যখন মদীনার নিকটবর্তী হলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দু‘আ পড়লেন, “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ‘ইবাদতকারী, এবং আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী।” আর মদিনাহ্য় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকলেন।
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি ও আবূ ত্বলহা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে চলছিলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে সাফিয়্যাহ (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁকে নিজ সাওয়ারীতে তাঁর পেছনে বসিয়ে ছিলেন। পথিমধ্যে এক জায়গায় উটনীটির পা পিছলে গেল। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাফিয়্যাহ ছিটকে পড়ে গেলেন। আর আবূ ত্বলহা (রাঃ) তাঁর উট থেকে তাড়াতাড়ি নেমে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বললেন, ‘হে আল্লাহ্র নবী! আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আপনার কি কোন আঘাত লেগেছে?’ আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘না। তবে তুমি মহিলাটির খোঁজ নাও।’ আবূ ত্বলহা (রাঃ) একটা কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট গেলেন এবং সেই কাপড় দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলেন। তখন সাফিয়্যাহ (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি আবূ ত্বলহা (রাঃ) তাঁদের উভয়ের জন্য সাওয়ারীটি উত্তমরূপে বাঁধলেন। আর তাঁরা উভয়ে (তার উপর) আরোহণ করে চলতে শুরু করেন। অবশেষে যখন তাঁরা মদীনার উপকন্ঠে পৌঁছলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, যখন মদীনার নিকটবর্তী হলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দু‘আ পড়লেন, “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ‘ইবাদতকারী, এবং আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী।” আর মদিনাহ্য় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকলেন।
حدثنا علي حدثنا بشر بن المفضل حدثنا يحيى بن أبي إسحاق عن أنس بن مالك أنه أقبل هو وأبو طلحة مع النبي صلى الله عليه وسلم ومع النبي صلى الله عليه وسلم صفية مردفها على راحلته فلما كانوا ببعض الطريق عثرت الناقة فصرع النبي والمرأة وإن أبا طلحة قال أحسب قال اقتحم عن بعيره فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله جعلني الله فداءك هل أصابك من شيء قال لا ولكن عليك بالمرأة فألقى أبو طلحة ثوبه على وجهه فقصد قصدها فألقى ثوبه عليها فقامت المرأة فشد لهما على راحلتهما فركبا فساروا حتى إذا كانوا بظهر المدينة أو قال أشرفوا على المدينة قال النبي آيبون تائبون عابدون لربنا حامدون فلم يزل يقولها حتى دخل المدينة
সহিহ বুখারী > সফর হতে প্রত্যাবর্তনের পর সালাত আদায় করা।
সহিহ বুখারী ৩০৮৭
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن محارب بن دثار قال سمعت جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فلما قدمنا المدينة قال لي ادخل المسجد فصل ركعتين
জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন মদীনায় উপস্থিত হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘মসজিদে প্রবেশ কর এবং দু’ রাক‘আত সালাত আদায় কর।’
জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন মদীনায় উপস্থিত হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘মসজিদে প্রবেশ কর এবং দু’ রাক‘আত সালাত আদায় কর।’
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن محارب بن دثار قال سمعت جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فلما قدمنا المدينة قال لي ادخل المسجد فصل ركعتين
সহিহ বুখারী ৩০৮৮
حدثنا أبو عاصم عن ابن جريج عن ابن شهاب عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب عن أبيه وعمه عبيد الله بن كعب عن كعب أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا قدم من سفر ضحى دخل المسجد فصلى ركعتين قبل أن يجلس
কা’ব (ইব্নু মালিক) (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন চাশতের সময় সফর হতে ফিরতেন, তখন মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নিতেন।
কা’ব (ইব্নু মালিক) (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন চাশতের সময় সফর হতে ফিরতেন, তখন মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নিতেন।
حدثنا أبو عاصم عن ابن جريج عن ابن شهاب عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب عن أبيه وعمه عبيد الله بن كعب عن كعب أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا قدم من سفر ضحى دخل المسجد فصلى ركعتين قبل أن يجلس