সহিহ বুখারী > শিশুদের কাছে কেমনভাবে ইসলামকে তুলে ধরতে হবে?
সহিহ বুখারী ৩০৫৬
قال ابن عمر انطلق النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بن كعب يأتيان النخل الذي فيه ابن صياد حتى إذا دخل النخل طفق النبي صلى الله عليه وسلم يتقي بجذوع النخل وهو يختل ابن صياد أن يسمع من ابن صياد شيئا قبل أن يراه وابن صياد مضطجع على فراشه في قطيفة له فيها رمزة فرأت أم ابن صياد النبي صلى الله عليه وسلم وهو يتقي بجذوع النخل فقالت لابن صياد أي صاف وهو اسمه فثار ابن صياد فقال النبي صلى الله عليه وسلم لو تركته بين
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর রসূল ও ‘উবাই ইব্নু কা’ব (রাঃ) উভয়ে সে খেজুর বৃক্ষের নিকট গমন করেন, যেখানে ইব্নু সাইয়াদ অবস্থান করছিল। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে পৌঁছলেন, তখন তিনি খেজুর ডালের আড়ালে চলতে লাগলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল যে, ইব্নু সাইয়াদের অজান্তে তিনি তার কিছু কথা শুনে নিবেন। ইব্নু সাইয়াদ নিজ বিছানা পেতে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল এবং কী কী যেন গুনগুন করছিল। তার মা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখে ফেলেছিল যে, তিনি খেজুর বৃক্ষ শাখার আড়ালে আসছেন। তখন সে ইব্নু সাইয়াদকে বলে উঠল, হে সাফ! আর এ ছিল তার নাম। সে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নারীটি যদি তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দিত, তবে তার ব্যাপারটা প্রকাশ পেয়ে যেত।
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর রসূল ও ‘উবাই ইব্নু কা’ব (রাঃ) উভয়ে সে খেজুর বৃক্ষের নিকট গমন করেন, যেখানে ইব্নু সাইয়াদ অবস্থান করছিল। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে পৌঁছলেন, তখন তিনি খেজুর ডালের আড়ালে চলতে লাগলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল যে, ইব্নু সাইয়াদের অজান্তে তিনি তার কিছু কথা শুনে নিবেন। ইব্নু সাইয়াদ নিজ বিছানা পেতে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল এবং কী কী যেন গুনগুন করছিল। তার মা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখে ফেলেছিল যে, তিনি খেজুর বৃক্ষ শাখার আড়ালে আসছেন। তখন সে ইব্নু সাইয়াদকে বলে উঠল, হে সাফ! আর এ ছিল তার নাম। সে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নারীটি যদি তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দিত, তবে তার ব্যাপারটা প্রকাশ পেয়ে যেত।
قال ابن عمر انطلق النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بن كعب يأتيان النخل الذي فيه ابن صياد حتى إذا دخل النخل طفق النبي صلى الله عليه وسلم يتقي بجذوع النخل وهو يختل ابن صياد أن يسمع من ابن صياد شيئا قبل أن يراه وابن صياد مضطجع على فراشه في قطيفة له فيها رمزة فرأت أم ابن صياد النبي صلى الله عليه وسلم وهو يتقي بجذوع النخل فقالت لابن صياد أي صاف وهو اسمه فثار ابن صياد فقال النبي صلى الله عليه وسلم لو تركته بين
সহিহ বুখারী ৩০৫৫
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا هشام أخبرنا معمر عن الزهري أخبرني سالم بن عبد الله عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه أخبره أن عمر انطلق في رهط من أصحاب النبي مع النبي صلى الله عليه وسلم قبل ابن صياد حتى وجدوه يلعب مع الغلمان عند أطم بني مغالة وقد قارب يومئذ ابن صياد يحتلم فلم يشعر بشيء حتى ضرب النبي صلى الله عليه وسلم ظهره بيده ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم أتشهد أني رسول الله فنظر إليه ابن صياد فقال أشهد أنك رسول الأميين فقال ابن صياد للنبي صلى الله عليه وسلم أتشهد أني رسول الله قال له النبي صلى الله عليه وسلم آمنت بالله ورسله قال النبي صلى الله عليه وسلم ماذا ترى قال ابن صياد يأتيني صادق وكاذب قال النبي صلى الله عليه وسلم خلط عليك الأمر قال النبي صلى الله عليه وسلم إني قد خبأت لك خبيئا قال ابن صياد هو الدخ قال النبي صلى الله عليه وسلم اخسأ فلن تعدو قدرك قال عمر يا رسول الله ائذن لي فيه أضرب عنقه قال النبي صلى الله عليه وسلم إن يكنه فلن تسلط عليه وإن لم يكنه فلا خير لك في قتله
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘উমর (রাঃ) কয়েকজন সাহাবীসহ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ইব্নু সাইয়াদের নিকট যান। তাঁরা তাকে বনী মাগালার টিলার উপর ছেলে-পেলেদের সঙ্গে খেলাধূলা করতে দেখতে পান। আর এ সময় ইব্নু সাইয়াদ বালিগ হবার নিকটবর্তী হয়েছিল। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (আগমন) সে কিছু টের না পেতেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পিঠে হাত দিয়ে মৃদু আঘাত করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহ্র প্রেরিত রসূল? তখন ইব্নু সাইয়াদ তাঁর প্রতি তাকিয়ে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মী লোকদের রসূল। ইব্নু সাইয়াদ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল, আপনি কি এ সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহ্র রসূল? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, আমি আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর সকল রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কী দেখ? ইব্নু সাইয়াদ বলল, আমার নিকট সত্য খবর ও মিথ্যা খবর সবই আসে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আসল অবস্থা তোমার কাছে সত্য মিথ্যা মিশিয়ে আছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বললেন, আচ্ছা, আমি আমার অন্তরে তোমার জন্য কিছু কথা গোপন রেখেছি। ইব্নু সাইয়াদ বলল, তা হচ্ছে ধোঁয়া। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আরে থাম, তুমি তোমার সীমার বাইরে যেতে পার না। ‘উমর (রাঃ) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে হুকুম দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যদি সে প্রকৃত দাজ্জাল হয়, তবে তুমি তাকে কাবু করতে পারবে না, যদি সে দাজ্জাল না হয়, তবে তাকে হত্যা করে তোমার কোন লাভ নেই।
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘উমর (রাঃ) কয়েকজন সাহাবীসহ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ইব্নু সাইয়াদের নিকট যান। তাঁরা তাকে বনী মাগালার টিলার উপর ছেলে-পেলেদের সঙ্গে খেলাধূলা করতে দেখতে পান। আর এ সময় ইব্নু সাইয়াদ বালিগ হবার নিকটবর্তী হয়েছিল। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (আগমন) সে কিছু টের না পেতেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পিঠে হাত দিয়ে মৃদু আঘাত করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহ্র প্রেরিত রসূল? তখন ইব্নু সাইয়াদ তাঁর প্রতি তাকিয়ে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মী লোকদের রসূল। ইব্নু সাইয়াদ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল, আপনি কি এ সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহ্র রসূল? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, আমি আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর সকল রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কী দেখ? ইব্নু সাইয়াদ বলল, আমার নিকট সত্য খবর ও মিথ্যা খবর সবই আসে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আসল অবস্থা তোমার কাছে সত্য মিথ্যা মিশিয়ে আছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বললেন, আচ্ছা, আমি আমার অন্তরে তোমার জন্য কিছু কথা গোপন রেখেছি। ইব্নু সাইয়াদ বলল, তা হচ্ছে ধোঁয়া। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আরে থাম, তুমি তোমার সীমার বাইরে যেতে পার না। ‘উমর (রাঃ) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে হুকুম দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যদি সে প্রকৃত দাজ্জাল হয়, তবে তুমি তাকে কাবু করতে পারবে না, যদি সে দাজ্জাল না হয়, তবে তাকে হত্যা করে তোমার কোন লাভ নেই।
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا هشام أخبرنا معمر عن الزهري أخبرني سالم بن عبد الله عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه أخبره أن عمر انطلق في رهط من أصحاب النبي مع النبي صلى الله عليه وسلم قبل ابن صياد حتى وجدوه يلعب مع الغلمان عند أطم بني مغالة وقد قارب يومئذ ابن صياد يحتلم فلم يشعر بشيء حتى ضرب النبي صلى الله عليه وسلم ظهره بيده ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم أتشهد أني رسول الله فنظر إليه ابن صياد فقال أشهد أنك رسول الأميين فقال ابن صياد للنبي صلى الله عليه وسلم أتشهد أني رسول الله قال له النبي صلى الله عليه وسلم آمنت بالله ورسله قال النبي صلى الله عليه وسلم ماذا ترى قال ابن صياد يأتيني صادق وكاذب قال النبي صلى الله عليه وسلم خلط عليك الأمر قال النبي صلى الله عليه وسلم إني قد خبأت لك خبيئا قال ابن صياد هو الدخ قال النبي صلى الله عليه وسلم اخسأ فلن تعدو قدرك قال عمر يا رسول الله ائذن لي فيه أضرب عنقه قال النبي صلى الله عليه وسلم إن يكنه فلن تسلط عليه وإن لم يكنه فلا خير لك في قتله
সহিহ বুখারী ৩০৫৭
وقال سالم قال ابن عمر ثم قام النبي صلى الله عليه وسلم في الناس فأثنى على الله بما هو أهله ثم ذكر الدجال فقال إني أنذركموه وما من نبي إلا قد أنذره قومه لقد أنذره نوح قومه ولكن سأقول لكم فيه قولا لم يقله نبي لقومه تعلمون أنه أعور وأن الله ليس بأعور
সালিম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর নবী লোকদের মাঝে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ তা‘আলার যথাযথ প্রশংসা করলেন। অতঃপর দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। আর বললেন, আমি তোমাদের দাজ্জাল হতে সতর্ক করে দিচ্ছি। প্রত্যেক নবীই তাঁর সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। নূহ (‘আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদেরকে তার সম্পর্কে এমন একটি কথা জানিয়ে দিব, যা কোন নবী তাঁর সম্প্রদায়কে জানাননি। তোমরা জেনে রাখ যে, সে হবে এক চক্ষু বিশিষ্ট আর অবশ্যই আল্লাহ এক চক্ষু বিশিষ্ট নন।
সালিম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর নবী লোকদের মাঝে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ তা‘আলার যথাযথ প্রশংসা করলেন। অতঃপর দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। আর বললেন, আমি তোমাদের দাজ্জাল হতে সতর্ক করে দিচ্ছি। প্রত্যেক নবীই তাঁর সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। নূহ (‘আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদেরকে তার সম্পর্কে এমন একটি কথা জানিয়ে দিব, যা কোন নবী তাঁর সম্প্রদায়কে জানাননি। তোমরা জেনে রাখ যে, সে হবে এক চক্ষু বিশিষ্ট আর অবশ্যই আল্লাহ এক চক্ষু বিশিষ্ট নন।
وقال سالم قال ابن عمر ثم قام النبي صلى الله عليه وسلم في الناس فأثنى على الله بما هو أهله ثم ذكر الدجال فقال إني أنذركموه وما من نبي إلا قد أنذره قومه لقد أنذره نوح قومه ولكن سأقول لكم فيه قولا لم يقله نبي لقومه تعلمون أنه أعور وأن الله ليس بأعور
সহিহ বুখারী > ইয়াহূদীদের উদ্দশ্যে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীঃ “ইসলাম গ্রহণ কর, নিরাপত্তা লাভ কর”।
এই অধ্যায়ে কোনো হাদিস পাওয়া যায়নি।
সহিহ বুখারী > কোন সম্প্রদায় দারুল হারবে ইসলাম গ্রহণ করলে, তাদের ধন-সম্পত্তি ও ক্ষেত-খামার থাকলে তা তাদেরই থাকবে।
সহিহ বুখারী ৩০৫৮
حدثنا محمود أخبرنا عبد الرزاق أخبرنا معمر عن الزهري عن علي بن حسين عن عمرو بن عثمان بن عفان عن أسامة بن زيد قال قلت يا رسول الله أين تنزل غدا في حجته قال وهل ترك لنا عقيل منزلا ثم قال نحن نازلون غدا بخيف بني كنانة المحصب حيث قاسمت قريش على الكفر وذلك أن بني كنانة حالفت قريشا على بني هاشم أن لا يبايعوهم ولا يؤووهم قال الزهري والخيف الوادي
উসামা ইব্নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বিদায় হাজ্জে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আগামীকাল আপনি মক্কায় পৌঁছে কোথায় অবতরণ করবেন? তিনি বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন ঘর বাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে? অতঃপর বললেন, আমরা আগামীকাল খায়ফে বনূ কানানার মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করব। যেখানে কুরায়েশ লোকেরা কুফরীর উপর শপথ করেছিল। আর তা হচ্ছে এই যে, বনূ কানানা ও কুরায়শগণ একত্রে এ শপথ করেছিল যে, তারা বনূ হাশেমের সঙ্গে কেনা-বেচা করবে না এবং তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয়ও দিবে না। যুহরী (রহঃ) বলেন, খায়ফ হচ্ছে একটি উপত্যকা।
উসামা ইব্নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বিদায় হাজ্জে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আগামীকাল আপনি মক্কায় পৌঁছে কোথায় অবতরণ করবেন? তিনি বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন ঘর বাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে? অতঃপর বললেন, আমরা আগামীকাল খায়ফে বনূ কানানার মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করব। যেখানে কুরায়েশ লোকেরা কুফরীর উপর শপথ করেছিল। আর তা হচ্ছে এই যে, বনূ কানানা ও কুরায়শগণ একত্রে এ শপথ করেছিল যে, তারা বনূ হাশেমের সঙ্গে কেনা-বেচা করবে না এবং তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয়ও দিবে না। যুহরী (রহঃ) বলেন, খায়ফ হচ্ছে একটি উপত্যকা।
حدثنا محمود أخبرنا عبد الرزاق أخبرنا معمر عن الزهري عن علي بن حسين عن عمرو بن عثمان بن عفان عن أسامة بن زيد قال قلت يا رسول الله أين تنزل غدا في حجته قال وهل ترك لنا عقيل منزلا ثم قال نحن نازلون غدا بخيف بني كنانة المحصب حيث قاسمت قريش على الكفر وذلك أن بني كنانة حالفت قريشا على بني هاشم أن لا يبايعوهم ولا يؤووهم قال الزهري والخيف الوادي
সহিহ বুখারী ৩০৫৯
حدثنا إسماعيل قال حدثني مالك عن زيد بن أسلم عن أبيه أن عمر بن الخطاب استعمل مولى له يدعى هنيا على الحمى فقال يا هني اضمم جناحك عن المسلمين واتق دعوة المظلوم فإن دعوة المظلوم مستجابة وأدخل رب الصريمة ورب الغنيمة وإياي ونعم ابن عوف ونعم ابن عفان فإنهما إن تهلك ماشيتهما يرجعا إلى نخل وزرع وإن رب الصريمة ورب الغنيمة إن تهلك ماشيتهما يأتني ببنيه فيقول يا أمير المؤمنين أفتاركهم أنا لا أبا لك فالماء والكلا أيسر علي من الذهب والورق وايم الله إنهم ليرون أني قد ظلمتهم إنها لبلادهم فقاتلوا عليها في الجاهلية وأسلموا عليها في الإسلام والذي نفسي بيده لولا المال الذي أحمل عليه في سبيل الله ما حميت عليهم من بلادهم شبرا
যায়দ ইব্নু আসলাম (রাঃ) কর্তৃক তাঁর পিতা থেকে বর্নিতঃ
‘উমর (রাঃ) হুনাইয়াহ নামক তাঁর এক আযাদকৃত গোলামকে সরকারী চারণভূমির তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত করেন। আর তাকে আদেশ করেন, হে হুনাইয়াহ! মুসলিমদের সঙ্গে অত্যন্ত বিনয়ী থাকবে, মজলুমের বদ দু‘আ হতে বেঁচে থাকবে। কারণ, মজলুমের দু‘আ কবূল হয়। আর অল্প সংখ্যক উট ও অল্প সংখ্যক বকরীর মালিককে এতে প্রবেশ করতে দিবে। আর ‘আবদুর রহমান ইব্নু ‘আউফ ও ‘উসমান ইব্নু ‘আফফান (রাঃ)-এর পশুর ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কেননা যদি তাদেঁর পশুগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তাঁরা তাদেঁর কৃষি ক্ষেত ও খেজুর বাগানের প্রতি মনোযোগ দিবেন। কিন্তু অল্প সংখ্যক উট-বকরীর মালিকদের পশু ধ্বংস হয়ে গেলে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হবে। আর বলবে, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার পিতা ধ্বংস হোক! তখন আমি কি তাদের বঞ্চিত করতে পারব? সুতরাং পানি ও ঘাস দেয়া আমার পক্ষে সহজ, স্বর্ণ-রেৌপ্য দেয়ার চাইতে। আল্লাহ্র শপথ! এ সব লোকেরা মনে করবে, আমি তাদের প্রতি জুলুম করেছি। এটা তাদেরই শহর, জাহিলী যুগে তারা এতে যুদ্ধ করেছে, ইসলামের যুগে তারা এতেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে মহান আল্লাহ্র শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যে সব ঘোড়ার উপর আমি যোদ্ধাগণকে আল্লাহ্র রাস্তায় আরোহণ করিয়ে থাকি যদি সেগুলো না হতো তবে আমি তাদের দেশের এক বিঘত পরিমাণ জমিও সংরক্ষণ করতাম না।
যায়দ ইব্নু আসলাম (রাঃ) কর্তৃক তাঁর পিতা থেকে বর্নিতঃ
‘উমর (রাঃ) হুনাইয়াহ নামক তাঁর এক আযাদকৃত গোলামকে সরকারী চারণভূমির তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত করেন। আর তাকে আদেশ করেন, হে হুনাইয়াহ! মুসলিমদের সঙ্গে অত্যন্ত বিনয়ী থাকবে, মজলুমের বদ দু‘আ হতে বেঁচে থাকবে। কারণ, মজলুমের দু‘আ কবূল হয়। আর অল্প সংখ্যক উট ও অল্প সংখ্যক বকরীর মালিককে এতে প্রবেশ করতে দিবে। আর ‘আবদুর রহমান ইব্নু ‘আউফ ও ‘উসমান ইব্নু ‘আফফান (রাঃ)-এর পশুর ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কেননা যদি তাদেঁর পশুগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তাঁরা তাদেঁর কৃষি ক্ষেত ও খেজুর বাগানের প্রতি মনোযোগ দিবেন। কিন্তু অল্প সংখ্যক উট-বকরীর মালিকদের পশু ধ্বংস হয়ে গেলে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হবে। আর বলবে, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার পিতা ধ্বংস হোক! তখন আমি কি তাদের বঞ্চিত করতে পারব? সুতরাং পানি ও ঘাস দেয়া আমার পক্ষে সহজ, স্বর্ণ-রেৌপ্য দেয়ার চাইতে। আল্লাহ্র শপথ! এ সব লোকেরা মনে করবে, আমি তাদের প্রতি জুলুম করেছি। এটা তাদেরই শহর, জাহিলী যুগে তারা এতে যুদ্ধ করেছে, ইসলামের যুগে তারা এতেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে মহান আল্লাহ্র শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যে সব ঘোড়ার উপর আমি যোদ্ধাগণকে আল্লাহ্র রাস্তায় আরোহণ করিয়ে থাকি যদি সেগুলো না হতো তবে আমি তাদের দেশের এক বিঘত পরিমাণ জমিও সংরক্ষণ করতাম না।
حدثنا إسماعيل قال حدثني مالك عن زيد بن أسلم عن أبيه أن عمر بن الخطاب استعمل مولى له يدعى هنيا على الحمى فقال يا هني اضمم جناحك عن المسلمين واتق دعوة المظلوم فإن دعوة المظلوم مستجابة وأدخل رب الصريمة ورب الغنيمة وإياي ونعم ابن عوف ونعم ابن عفان فإنهما إن تهلك ماشيتهما يرجعا إلى نخل وزرع وإن رب الصريمة ورب الغنيمة إن تهلك ماشيتهما يأتني ببنيه فيقول يا أمير المؤمنين أفتاركهم أنا لا أبا لك فالماء والكلا أيسر علي من الذهب والورق وايم الله إنهم ليرون أني قد ظلمتهم إنها لبلادهم فقاتلوا عليها في الجاهلية وأسلموا عليها في الإسلام والذي نفسي بيده لولا المال الذي أحمل عليه في سبيل الله ما حميت عليهم من بلادهم شبرا
সহিহ বুখারী > ইমাম কর্তৃক লোকদের নাম লিপিবদ্ধ করা।
সহিহ বুখারী ৩০৬০
حدثنا محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن الأعمش عن أبي وائل عن حذيفة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم اكتبوا لي من تلفظ بالإسلام من الناس فكتبنا له ألفا وخمس مائة رجل فقلنا نخاف ونحن ألف وخمس مائة فلقد رأيتنا ابتلينا حتى إن الرجل ليصلي وحده وهو خائف حدثنا عبدان عن أبي حمزة عن الأعمش فوجدناهم خمس مائة قال أبو معاوية ما بين ست مائة إلى سبع مائة
হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানুষের মধ্যে যারা ইসলামের কালিমাহ উচ্চারণ করেছে, তাদের নাম লিখে আমাকে দাও। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমরা একহাজার পাঁচশ’ লোকের নাম লিখে তাঁর নিকট পেশ করি। [১] তখন আমরা বলতে লাগলাম, আমরা এক হাজার পাঁচশত লোক, এক্ষণে আমাদের ভয় কিসের? (রাবী) হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে, আমরা এমনভাবে ফিতনায় পড়েছি যাতে লোকেরা ভীত-শংকিত অবস্থায় একা একা সালাত আদায় করছে। (মুসলিম ১/৬৭ হাঃ ১৪৯, আহমাদ ২৩৩১৯) (আ.প্র. ২৮৩০, ই.ফা. ২৮৪০) --------------------- ৩০৬০/১. আ’মাশ (রহঃ) হতে এ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন, তাতে উল্লেখ হয়েছে, আমরা তাদের পাঁচশ’ পেয়েছি। আবূ মু‘আবিয়াহর বর্ণনায় উল্লেখিত হয়েছে, ছয়শ’ হতে সাতশ’ এর মাঝামাঝি। (আ.প্র. নাই, ই.ফা. ২৮৪১)
হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানুষের মধ্যে যারা ইসলামের কালিমাহ উচ্চারণ করেছে, তাদের নাম লিখে আমাকে দাও। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমরা একহাজার পাঁচশ’ লোকের নাম লিখে তাঁর নিকট পেশ করি। [১] তখন আমরা বলতে লাগলাম, আমরা এক হাজার পাঁচশত লোক, এক্ষণে আমাদের ভয় কিসের? (রাবী) হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে, আমরা এমনভাবে ফিতনায় পড়েছি যাতে লোকেরা ভীত-শংকিত অবস্থায় একা একা সালাত আদায় করছে। (মুসলিম ১/৬৭ হাঃ ১৪৯, আহমাদ ২৩৩১৯) (আ.প্র. ২৮৩০, ই.ফা. ২৮৪০) --------------------- ৩০৬০/১. আ’মাশ (রহঃ) হতে এ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন, তাতে উল্লেখ হয়েছে, আমরা তাদের পাঁচশ’ পেয়েছি। আবূ মু‘আবিয়াহর বর্ণনায় উল্লেখিত হয়েছে, ছয়শ’ হতে সাতশ’ এর মাঝামাঝি। (আ.প্র. নাই, ই.ফা. ২৮৪১)
حدثنا محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن الأعمش عن أبي وائل عن حذيفة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم اكتبوا لي من تلفظ بالإسلام من الناس فكتبنا له ألفا وخمس مائة رجل فقلنا نخاف ونحن ألف وخمس مائة فلقد رأيتنا ابتلينا حتى إن الرجل ليصلي وحده وهو خائف حدثنا عبدان عن أبي حمزة عن الأعمش فوجدناهم خمس مائة قال أبو معاوية ما بين ست مائة إلى سبع مائة
সহিহ বুখারী ৩০৬১
حدثنا أبو نعيم حدثنا سفيان عن ابن جريج عن عمرو بن دينار عن أبي معبد عن ابن عباس رضي الله عنهما قال جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إني كتبت في غزوة كذا وكذا وامرأتي حاجة قال ارجع فحج مع امرأتك
ইব্নু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! অমুক যুদ্ধে আমার নাম লেখা হয়েছে আর আমার স্ত্রী হজ্জ আদায়ের সংকল্প নিয়েছে। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর।
ইব্নু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! অমুক যুদ্ধে আমার নাম লেখা হয়েছে আর আমার স্ত্রী হজ্জ আদায়ের সংকল্প নিয়েছে। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর।
حدثنا أبو نعيم حدثنا سفيان عن ابن جريج عن عمرو بن دينار عن أبي معبد عن ابن عباس رضي الله عنهما قال جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إني كتبت في غزوة كذا وكذا وامرأتي حاجة قال ارجع فحج مع امرأتك