সহিহ বুখারী > ইসলামে আহ্কামে ও ক্রয়-বিক্রয়ে যে সব শর্ত জায়িয।
সহিহ বুখারী ২৭১১
وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ ـ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ ـ لأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى مِائَةِ امْرَأَةٍ ـ أَوْ تِسْعٍ وَتِسْعِينَ ـ كُلُّهُنَّ يَأْتِي بِفَارِسٍ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَقَالَ لَهُ صَاحِبُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ. فَلَمْ يَقُلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ. فَلَمْ يَحْمِلْ مِنْهُنَّ إِلاَّ امْرَأَةٌ وَاحِدَةٌ، جَاءَتْ بِشِقِّ رَجُلٍ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَوْ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، لَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُرْسَانًا أَجْمَعُونَ "
মারওয়ান ও মিসওয়ার ইব্নু মাখরামাহ (রাঃ) আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ থেকে বর্নিতঃ
সেদিন সুহাইল ইব্নু ‘আম্র যখন সন্ধিপত্র লিখল তখন সুহাইল ইব্নু ‘আম্র আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি এরূপ শর্তারোপ করল যে, আমাদের কেউ আপনার নিকট আসলে সে আপনার দ্বীন গ্রহণ করা সত্ত্বেও আপনি তাকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। আর আমাদের ও তার মধ্যে হস্তক্ষেপ করবেন না। মু‘মিনরা এটা অপছন্দ করলেন এবং এতে রাগান্বিত হলেন। সুহাইল এটা ব্যতীত সন্ধি করতে অস্বীকার করল। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে শর্ত মেনেই সন্ধিপত্র লেখালেন। সেদিন তিনি আবু জানদাল (রাঃ)-কে তার পিতা সুহাইল ইব্নু ‘আমরের নিকট ফেরত দিলেন এবং সে চুক্তির মেয়াদ কালে পুরুষদের মধ্যে যেই এসেছিলো মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাকে ফেরত দিলেন। মু’মিন নারীরাও হিজরত করে আসলেন। সে সময় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাঁরা এসেছিলেন তাদেঁর মধ্যে উম্মু কুলসুম বিনতে ‘উকবাহ ইব্নু আবু মুয়ায়ত (রাঃ) ছিলেন। তিনি ছিলেন যুবতী। তাঁর পরিজন তাঁকে তাদের নিকট ফেরত দেয়ার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে দাবী জানালো। কিন্তু তাঁকে তিনি তাদের নিকট ফেরত দিলেন না। কেননা, সেই নারীদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তায়ালা আয়াত নাযিল করেছিলেনঃ মুমিন নারীরা হিজরত করে তোমাদের নিকট আসলে তাদের তোমরা পরীক্ষা কর। আল্লাহ্ তাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা মুমিন তাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবে না- (সূরা আল-মুমতাহিনা : ১০)। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আরবী) এই আয়াতের ভিত্তিতেই তাদের পরীক্ষা করে দেখতেন।
সহিহ বুখারী ২৭১২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ وَأَشْجَعَ النَّاسِ وَأَجْوَدَ النَّاسِ، وَلَقَدْ فَزِعَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ، فَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَبَقَهُمْ عَلَى فَرَسٍ، وَقَالَ وَجَدْنَاهُ بَحْرًا "
মারওয়ান ও মিসওয়ার ইব্নু মাখরামাহ (রাঃ) আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ থেকে বর্নিতঃ
সেদিন সুহাইল ইব্নু ‘আম্র যখন সন্ধিপত্র লিখল তখন সুহাইল ইব্নু ‘আম্র আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি এরূপ শর্তারোপ করল যে, আমাদের কেউ আপনার নিকট আসলে সে আপনার দ্বীন গ্রহণ করা সত্ত্বেও আপনি তাকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। আর আমাদের ও তার মধ্যে হস্তক্ষেপ করবেন না। মু‘মিনরা এটা অপছন্দ করলেন এবং এতে রাগান্বিত হলেন। সুহাইল এটা ব্যতীত সন্ধি করতে অস্বীকার করল। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে শর্ত মেনেই সন্ধিপত্র লেখালেন। সেদিন তিনি আবু জানদাল (রাঃ)-কে তার পিতা সুহাইল ইব্নু ‘আমরের নিকট ফেরত দিলেন এবং সে চুক্তির মেয়াদ কালে পুরুষদের মধ্যে যেই এসেছিলো মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাকে ফেরত দিলেন। মু’মিন নারীরাও হিজরত করে আসলেন। সে সময় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাঁরা এসেছিলেন তাদেঁর মধ্যে উম্মু কুলসুম বিনতে ‘উকবাহ ইব্নু আবু মুয়ায়ত (রাঃ) ছিলেন। তিনি ছিলেন যুবতী। তাঁর পরিজন তাঁকে তাদের নিকট ফেরত দেয়ার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে দাবী জানালো। কিন্তু তাঁকে তিনি তাদের নিকট ফেরত দিলেন না। কেননা, সেই নারীদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তায়ালা আয়াত নাযিল করেছিলেনঃ মুমিন নারীরা হিজরত করে তোমাদের নিকট আসলে তাদের তোমরা পরীক্ষা কর। আল্লাহ্ তাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা মুমিন তাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবে না- (সূরা আল-মুমতাহিনা : ১০)। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আরবী) এই আয়াতের ভিত্তিতেই তাদের পরীক্ষা করে দেখতেন।
সহিহ বুখারী ২৭১৩
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جُبَيْرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ، أَنَّهُ بَيْنَمَا هُوَ يَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ النَّاسُ، مَقْفَلَهُ مِنْ حُنَيْنٍ، فَعَلِقَهُ النَّاسُ يَسْأَلُونَهُ حَتَّى اضْطَرُّوهُ إِلَى سَمُرَةٍ فَخَطِفَتْ رِدَاءَهُ، فَوَقَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَعْطُونِي رِدَائِي، لَوْ كَانَ لِي عَدَدُ هَذِهِ الْعِضَاهِ نَعَمًا لَقَسَمْتُهُ بَيْنَكُمْ، ثُمَّ لاَ تَجِدُونِي بَخِيلاً وَلاَ كَذُوبًا وَلاَ جَبَانًا "
‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, তাদের মধ্যে যারা এই শর্তে রাজী হতো তাকে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুধু এ কথা বলতেন, ‘আমি তোমাকে বায়‘আত করলাম। আল্লাহ্র কসম! বায়‘আত গ্রহণে তাঁর হাত কখনো কোন নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি তাদের শুধু কথার মাধ্যমে বায়‘আত করেছেন।
সহিহ বুখারী ২৭১৪
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ الأَوْدِيَّ، قَالَ كَانَ سَعْدٌ يُعَلِّمُ بَنِيهِ هَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ كَمَا يُعَلِّمُ الْمُعَلِّمُ الْغِلْمَانَ الْكِتَابَةَ، وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْهُنَّ دُبُرَ الصَّلاَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ " فَحَدَّثْتُ بِهِ مُصْعَبًا فَصَدَّقَهُ
যিয়াদ ইব্নু ইলাকা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি জারীর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করলাম। তিনি আমার উপর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনার শর্তারোপ করলেন।
সহিহ বুখারী ২৭১৫
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ "
জারীর ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি সালাত কায়িম করার, যাকাত প্রদান করার এবং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনা করার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বাই‘আত করেছি।
সহিহ বুখারী > তাবীর করা খেজুর গাছ বিক্রি করা।
সহিহ বুখারী ২৭১৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ صَحِبْتُ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ وَسَعْدًا وَالْمِقْدَادَ بْنَ الأَسْوَدِ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ ـ رضى الله عنهم ـ فَمَا سَمِعْتُ أَحَدًا، مِنْهُمْ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِلاَّ أَنِّي سَمِعْتُ طَلْحَةَ يُحَدِّثُ عَنْ يَوْمِ أُحُدٍ.
‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কেউ তাবীর করা খেজুর গাছ বিক্রি করলে তার ফল হবে বিক্রেতার, যদি ক্রেতা শর্তারোপ না করে।