সহিহ বুখারী > মুশরিকদের সঙ্গে সন্ধি।

সহিহ বুখারী ২৭০২

حدثنا مسدد، حدثنا بشر، حدثنا يحيى، عن بشير بن يسار، عن سهل بن أبي حثمة، قال انطلق عبد الله بن سهل ومحيصة بن مسعود بن زيد إلى خيبر، وهى يومئذ صلح‏.‏

সাহ্‌ল ইব্‌নু আবূ হাসমা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, খায়বার সন্ধিবদ্ধ থাকাকালে ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু সাহ্‌ল ও মুহাইয়াসা ইব্‌নু মাস‘উদ ইব্‌নু যায়দ (রাঃ) খায়বার গিয়েছিলেন।

সাহ্‌ল ইব্‌নু আবূ হাসমা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, খায়বার সন্ধিবদ্ধ থাকাকালে ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু সাহ্‌ল ও মুহাইয়াসা ইব্‌নু মাস‘উদ ইব্‌নু যায়দ (রাঃ) খায়বার গিয়েছিলেন।

حدثنا مسدد، حدثنا بشر، حدثنا يحيى، عن بشير بن يسار، عن سهل بن أبي حثمة، قال انطلق عبد الله بن سهل ومحيصة بن مسعود بن زيد إلى خيبر، وهى يومئذ صلح‏.‏


সহিহ বুখারী ২৭০০

وقال موسى بن مسعود حدثنا سفيان بن سعيد، عن أبي إسحاق، عن البراء بن عازب ـ رضى الله عنهما ـ قال صالح النبي صلى الله عليه وسلم المشركين يوم الحديبية على ثلاثة أشياء على أن من أتاه من المشركين رده إليهم، ومن أتاهم من المسلمين لم يردوه، وعلى أن يدخلها من قابل ويقيم بها ثلاثة أيام، ولا يدخلها إلا بجلبان السلاح السيف والقوس ونحوه‏.‏ فجاء أبو جندل يحجل في قيوده فرده إليهم‏.‏ قال لم يذكر مؤمل عن سفيان أبا جندل وقال إلا بجلب السلاح‏.‏

বারা’ ইব্‌নু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদায়বিয়ার দিন মুশরিকদের সঙ্গে তিনটি বিষয়ে সন্ধি করেছিলেন। তা হলো- মুশরিকরা কেউ (মুসলিম হয়ে) তাঁর নিকট এলে তিনি তাকে তাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। মুসলিমদের কেউ (মুরতাদ হয়ে) তাদের নিকট গেলে তারা তাকে ফিরিয়ে দিবে না। আর তিনি আগামী বছর মক্কায় প্রবেশ করবেন এবং সেখানে তিন দিন অবস্থান করবেন। কোষবদ্ধ তরবারি, ধনুক ও এ রকম কিছু ব্যতীত অন্য কিছু নিয়ে প্রবেশ করবেন না। ইতোমধ্যে আবূ জান্দাল (রাঃ) শিকল পরা অবস্থায় লাফিয়ে লাফিয়ে তাঁর নিকট এল। তাকে তিনি তাদের নিকট ফিরিয়ে দিলেন। (১৭৮১) আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন, মুআম্মাল (রহঃ) সুফিয়ান (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে আবূ জান্দালের কথা উল্লেখ করেননি। তিনি “কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া” এটুকু উল্লেখ করেছেন।

বারা’ ইব্‌নু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদায়বিয়ার দিন মুশরিকদের সঙ্গে তিনটি বিষয়ে সন্ধি করেছিলেন। তা হলো- মুশরিকরা কেউ (মুসলিম হয়ে) তাঁর নিকট এলে তিনি তাকে তাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। মুসলিমদের কেউ (মুরতাদ হয়ে) তাদের নিকট গেলে তারা তাকে ফিরিয়ে দিবে না। আর তিনি আগামী বছর মক্কায় প্রবেশ করবেন এবং সেখানে তিন দিন অবস্থান করবেন। কোষবদ্ধ তরবারি, ধনুক ও এ রকম কিছু ব্যতীত অন্য কিছু নিয়ে প্রবেশ করবেন না। ইতোমধ্যে আবূ জান্দাল (রাঃ) শিকল পরা অবস্থায় লাফিয়ে লাফিয়ে তাঁর নিকট এল। তাকে তিনি তাদের নিকট ফিরিয়ে দিলেন। (১৭৮১) আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন, মুআম্মাল (রহঃ) সুফিয়ান (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে আবূ জান্দালের কথা উল্লেখ করেননি। তিনি “কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া” এটুকু উল্লেখ করেছেন।

وقال موسى بن مسعود حدثنا سفيان بن سعيد، عن أبي إسحاق، عن البراء بن عازب ـ رضى الله عنهما ـ قال صالح النبي صلى الله عليه وسلم المشركين يوم الحديبية على ثلاثة أشياء على أن من أتاه من المشركين رده إليهم، ومن أتاهم من المسلمين لم يردوه، وعلى أن يدخلها من قابل ويقيم بها ثلاثة أيام، ولا يدخلها إلا بجلبان السلاح السيف والقوس ونحوه‏.‏ فجاء أبو جندل يحجل في قيوده فرده إليهم‏.‏ قال لم يذكر مؤمل عن سفيان أبا جندل وقال إلا بجلب السلاح‏.‏


সহিহ বুখারী ২৭০১

حدثنا محمد بن رافع، حدثنا سريج بن النعمان، حدثنا فليح، عن نافع، عن ابن عمر، رضى الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج معتمرا، فحال كفار قريش بينه وبين البيت، فنحر هديه، وحلق رأسه بالحديبية، وقاضاهم على أن يعتمر العام المقبل، ولا يحمل سلاحا عليهم إلا سيوفا، ولا يقيم بها إلا ما أحبوا، فاعتمر من العام المقبل فدخلها كما كان صالحهم، فلما أقام بها ثلاثا أمروه أن يخرج فخرج‏.‏

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমরার উদ্দেশে বহির্গত হলেন। কিন্তু কুরাইশ কাফিররা তাঁর ও বাইতুল্লাহ্‌র মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াল। তখন তিনি হুদায়বিয়াতে তাঁর হাদী কুরবানী করলেন, তাঁর মাথা মুড়ালেন এবং তাদের সঙ্গে সন্ধি করলেন যে, আগামী বছর তিনি ‘উমরাহ করবেন আর তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র বহন করবেন না। আর তারা যতদিন চাইবে তার বেশি সেখানে থাকবেন না। পরের বছর তিনি ‘উমরাহ করলেন এবং তাদের সঙ্গে সন্ধি মোতাবেক প্রবেশ করলেন। তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করলেন। তারা তাঁকে বেরিয়ে যেতে বললে, তিনি বেরিয়ে গেলেন।

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমরার উদ্দেশে বহির্গত হলেন। কিন্তু কুরাইশ কাফিররা তাঁর ও বাইতুল্লাহ্‌র মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াল। তখন তিনি হুদায়বিয়াতে তাঁর হাদী কুরবানী করলেন, তাঁর মাথা মুড়ালেন এবং তাদের সঙ্গে সন্ধি করলেন যে, আগামী বছর তিনি ‘উমরাহ করবেন আর তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র বহন করবেন না। আর তারা যতদিন চাইবে তার বেশি সেখানে থাকবেন না। পরের বছর তিনি ‘উমরাহ করলেন এবং তাদের সঙ্গে সন্ধি মোতাবেক প্রবেশ করলেন। তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করলেন। তারা তাঁকে বেরিয়ে যেতে বললে, তিনি বেরিয়ে গেলেন।

حدثنا محمد بن رافع، حدثنا سريج بن النعمان، حدثنا فليح، عن نافع، عن ابن عمر، رضى الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج معتمرا، فحال كفار قريش بينه وبين البيت، فنحر هديه، وحلق رأسه بالحديبية، وقاضاهم على أن يعتمر العام المقبل، ولا يحمل سلاحا عليهم إلا سيوفا، ولا يقيم بها إلا ما أحبوا، فاعتمر من العام المقبل فدخلها كما كان صالحهم، فلما أقام بها ثلاثا أمروه أن يخرج فخرج‏.‏


সহিহ বুখারী > ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে সন্ধি।

সহিহ বুখারী ২৭০৩

حدثنا محمد بن عبد الله الأنصاري، قال حدثني حميد، أن أنسا، حدثهم أن الربيع ـ وهى ابنة النضر ـ كسرت ثنية جارية، فطلبوا الأرش وطلبوا العفو، فأبوا فأتوا النبي صلى الله عليه وسلم فأمرهم بالقصاص‏.‏ فقال أنس بن النضر أتكسر ثنية الربيع يا رسول الله لا والذي بعثك بالحق لا تكسر ثنيتها فقال ‏"‏ يا أنس كتاب الله القصاص ‏"‏‏.‏ فرضي القوم وعفوا فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن من عباد الله من لو أقسم على الله لأبره ‏"‏‏.‏ زاد الفزاري عن حميد عن أنس فرضي القوم وقبلوا الأرش‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রুবাইয়্যি বিনতে নাযর (রাঃ) এক কিশোরীর সামনের দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। তারা ক্ষতিপূরণ চাইল আর অপরপক্ষ ক্ষমা চাইল। তারা অস্বীকার করল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এল। তিনি কিসাসের আদেশ দিলেন। আনাস ইব্‌নু নাযর (রাঃ) তখন বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! রুবাইয়্যি-এর দাঁত ভাঙ্গা হবে? না, যিনি আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না।’ তিনি বললেন, ‘হে আনাস, আল্লাহ্‌র বিধান হল কিসাস।’ অতঃপর বাদীপক্ষ রাজী হয় এবং ক্ষমা করে দেয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্‌র বান্দাদের মধ্যে এমন বান্দাও রয়েছেন যে, আল্লাহ্‌র নামে কোন কসম করলে তা পূরণ করেন। ফাযারী (রহঃ) হুমায়দ (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করতে গিয়ে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তখন লোকেরা রাজী হল এবং ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করল।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রুবাইয়্যি বিনতে নাযর (রাঃ) এক কিশোরীর সামনের দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। তারা ক্ষতিপূরণ চাইল আর অপরপক্ষ ক্ষমা চাইল। তারা অস্বীকার করল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এল। তিনি কিসাসের আদেশ দিলেন। আনাস ইব্‌নু নাযর (রাঃ) তখন বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! রুবাইয়্যি-এর দাঁত ভাঙ্গা হবে? না, যিনি আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না।’ তিনি বললেন, ‘হে আনাস, আল্লাহ্‌র বিধান হল কিসাস।’ অতঃপর বাদীপক্ষ রাজী হয় এবং ক্ষমা করে দেয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্‌র বান্দাদের মধ্যে এমন বান্দাও রয়েছেন যে, আল্লাহ্‌র নামে কোন কসম করলে তা পূরণ করেন। ফাযারী (রহঃ) হুমায়দ (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করতে গিয়ে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তখন লোকেরা রাজী হল এবং ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করল।

حدثنا محمد بن عبد الله الأنصاري، قال حدثني حميد، أن أنسا، حدثهم أن الربيع ـ وهى ابنة النضر ـ كسرت ثنية جارية، فطلبوا الأرش وطلبوا العفو، فأبوا فأتوا النبي صلى الله عليه وسلم فأمرهم بالقصاص‏.‏ فقال أنس بن النضر أتكسر ثنية الربيع يا رسول الله لا والذي بعثك بالحق لا تكسر ثنيتها فقال ‏"‏ يا أنس كتاب الله القصاص ‏"‏‏.‏ فرضي القوم وعفوا فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن من عباد الله من لو أقسم على الله لأبره ‏"‏‏.‏ زاد الفزاري عن حميد عن أنس فرضي القوم وقبلوا الأرش‏.‏


সহিহ বুখারী > হাসান ইব্‌নু ‘আলী (রাঃ) সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উক্তি : আমার এ ছেলেটি একজন নেতা। সম্ভবত আল্লাহ্‌ এর মাধ্যমে দু‘টি বড় দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করাবেন।

সহিহ বুখারী ২৭০৪

حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا سفيان، عن أبي موسى، قال سمعت الحسن، يقول استقبل والله الحسن بن علي معاوية بكتائب أمثال الجبال فقال عمرو بن العاص إني لأرى كتائب لا تولي حتى تقتل أقرانها‏.‏ فقال له معاوية ـ وكان والله خير الرجلين ـ أى عمرو إن قتل هؤلاء هؤلاء وهؤلاء هؤلاء من لي بأمور الناس من لي بنسائهم، من لي بضيعتهم فبعث إليه رجلين من قريش من بني عبد شمس عبد الرحمن بن سمرة وعبد الله بن عامر بن كريز، فقال اذهبا إلى هذا الرجل فاعرضا عليه، وقولا له، واطلبا إليه‏.‏ فأتياه، فدخلا عليه فتكلما، وقالا له، فطلبا إليه، فقال لهما الحسن بن علي إنا بنو عبد المطلب، قد أصبنا من هذا المال، وإن هذه الأمة قد عاثت في دمائها‏.‏ قالا فإنه يعرض عليك كذا وكذا ويطلب إليك ويسألك‏.‏ قال فمن لي بهذا قالا نحن لك به‏.‏ فما سألهما شيئا إلا قالا نحن لك به‏.‏ فصالحه، فقال الحسن ولقد سمعت أبا بكرة يقول رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر والحسن بن علي إلى جنبه، وهو يقبل على الناس مرة وعليه أخرى ويقول ‏ "‏ إن ابني هذا سيد، ولعل الله أن يصلح به بين فئتين عظيمتين من المسلمين ‏"‏‏.‏ قال لي علي بن عبد الله إنما ثبت لنا سماع الحسن من أبي بكرة بهذا الحديث‏.‏

হাসান (বাসরী) (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহ্‌র কসম, হাসান ইব্‌নু ‘আলী (রাঃ) পর্বত প্রমাণ সেনাদল নিয়ে মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর মুখোমুখী হলেন। আম্‌র ইব্‌নু ‘আস (রাঃ) বললেন, আমি এমন সেনাদল দেখতে পাচ্ছি যারা প্রতিপক্ষকে হত্যা না করে ফিরে যাবে না। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তখন বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! আর (মু‘আবিয়াহ ও ‘আম্‌র ইব্‌নুল ‘আস) (রাঃ) উভয়ের মধ্যে মু‘আবিয়াহ (রাঃ) ছিলেন উত্তম ব্যক্তি– ‘হে ‘আমর! এরা ওদের এবং ওরা এদের হত্যা করলে, আমি কাকে দিয়ে লোকের সমস্যার সমাধান করব? তাদের নারীদের কে তত্ত্বাবধান করবে? তাদের দুর্বল ও শিশুদের কে রক্ষণাবেক্ষণ করবে? অতঃপর তিনি কুরায়শের বানূ আবদে শাম্‌স্‌ শাখার দু’ব্যক্তি ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু সামুরাহ ও ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আম্‌র (রাঃ)-কে হাসান (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরা উভয়ে এ ব্যক্তিটির নিকট যাও এবং তাঁর নিকট (সন্ধির) প্রস্তাব পেশ করো, তাঁর সঙ্গে আলোচনা কর ও তাঁর বক্তব্য জানতে চেষ্টা কর।’ তাঁরা তাঁর নিকট রয়ে গেলেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বললেন, আলাপ-আলোচনা করলেন এবং তাঁর বক্তব্য জানলেন। হাসান ইব্‌নু ‘আলী (রাঃ) তাদের বললেন , ‘আমরা ‘আবদুল মুত্তালিবের সন্তান, এই সম্পদ (বায়তুল মালের) আমরা পেয়েছি আর এরা রক্তপাতে লিপ্ত হয়েছে।’ তারা উভয়ে বললেন, [মু‘আবিয়াহ (রাঃ)] আপনার নিকট এরূপ বক্তব্য পেশ করেছেন। আর আপনার বক্তব্যও জানতে চেয়েছেন ও সন্ধি কামনা করেছেন। তিনি বললেন, ‘এ দায়িত্ব কে নিবে?’ তারা (তার জবাবে) বললেন, ‘আমরা এ দায়িত্ব নিচ্ছি।’ অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গে সন্ধি করলেন। হাসান (বসরী) (রহঃ) বলেন, আমি আবূ বাকরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি : ‘রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি মিম্বরের উপর দেখেছি, হাসান বিন ‘আলী (রাঃ) তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার লোকদের দিকে আরেকবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, আমার এ সন্তান একজন নেতা। সম্ভবত তার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তা‘আলা মুসলমানদের দু‘টি বড় দলের মধ্যে মীমাংসা করাবেন।’ আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ (রহঃ) বলেন, ‘আলী ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ আমাকে বলেছেন যে, এ হাদীসের মাধ্যমেই আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে হাসানের শোনা কথা আমাদের নিকট প্রমানিত হয়েছে।

হাসান (বাসরী) (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহ্‌র কসম, হাসান ইব্‌নু ‘আলী (রাঃ) পর্বত প্রমাণ সেনাদল নিয়ে মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর মুখোমুখী হলেন। আম্‌র ইব্‌নু ‘আস (রাঃ) বললেন, আমি এমন সেনাদল দেখতে পাচ্ছি যারা প্রতিপক্ষকে হত্যা না করে ফিরে যাবে না। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তখন বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! আর (মু‘আবিয়াহ ও ‘আম্‌র ইব্‌নুল ‘আস) (রাঃ) উভয়ের মধ্যে মু‘আবিয়াহ (রাঃ) ছিলেন উত্তম ব্যক্তি– ‘হে ‘আমর! এরা ওদের এবং ওরা এদের হত্যা করলে, আমি কাকে দিয়ে লোকের সমস্যার সমাধান করব? তাদের নারীদের কে তত্ত্বাবধান করবে? তাদের দুর্বল ও শিশুদের কে রক্ষণাবেক্ষণ করবে? অতঃপর তিনি কুরায়শের বানূ আবদে শাম্‌স্‌ শাখার দু’ব্যক্তি ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু সামুরাহ ও ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আম্‌র (রাঃ)-কে হাসান (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরা উভয়ে এ ব্যক্তিটির নিকট যাও এবং তাঁর নিকট (সন্ধির) প্রস্তাব পেশ করো, তাঁর সঙ্গে আলোচনা কর ও তাঁর বক্তব্য জানতে চেষ্টা কর।’ তাঁরা তাঁর নিকট রয়ে গেলেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বললেন, আলাপ-আলোচনা করলেন এবং তাঁর বক্তব্য জানলেন। হাসান ইব্‌নু ‘আলী (রাঃ) তাদের বললেন , ‘আমরা ‘আবদুল মুত্তালিবের সন্তান, এই সম্পদ (বায়তুল মালের) আমরা পেয়েছি আর এরা রক্তপাতে লিপ্ত হয়েছে।’ তারা উভয়ে বললেন, [মু‘আবিয়াহ (রাঃ)] আপনার নিকট এরূপ বক্তব্য পেশ করেছেন। আর আপনার বক্তব্যও জানতে চেয়েছেন ও সন্ধি কামনা করেছেন। তিনি বললেন, ‘এ দায়িত্ব কে নিবে?’ তারা (তার জবাবে) বললেন, ‘আমরা এ দায়িত্ব নিচ্ছি।’ অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গে সন্ধি করলেন। হাসান (বসরী) (রহঃ) বলেন, আমি আবূ বাকরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি : ‘রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি মিম্বরের উপর দেখেছি, হাসান বিন ‘আলী (রাঃ) তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার লোকদের দিকে আরেকবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, আমার এ সন্তান একজন নেতা। সম্ভবত তার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তা‘আলা মুসলমানদের দু‘টি বড় দলের মধ্যে মীমাংসা করাবেন।’ আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ (রহঃ) বলেন, ‘আলী ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ আমাকে বলেছেন যে, এ হাদীসের মাধ্যমেই আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে হাসানের শোনা কথা আমাদের নিকট প্রমানিত হয়েছে।

حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا سفيان، عن أبي موسى، قال سمعت الحسن، يقول استقبل والله الحسن بن علي معاوية بكتائب أمثال الجبال فقال عمرو بن العاص إني لأرى كتائب لا تولي حتى تقتل أقرانها‏.‏ فقال له معاوية ـ وكان والله خير الرجلين ـ أى عمرو إن قتل هؤلاء هؤلاء وهؤلاء هؤلاء من لي بأمور الناس من لي بنسائهم، من لي بضيعتهم فبعث إليه رجلين من قريش من بني عبد شمس عبد الرحمن بن سمرة وعبد الله بن عامر بن كريز، فقال اذهبا إلى هذا الرجل فاعرضا عليه، وقولا له، واطلبا إليه‏.‏ فأتياه، فدخلا عليه فتكلما، وقالا له، فطلبا إليه، فقال لهما الحسن بن علي إنا بنو عبد المطلب، قد أصبنا من هذا المال، وإن هذه الأمة قد عاثت في دمائها‏.‏ قالا فإنه يعرض عليك كذا وكذا ويطلب إليك ويسألك‏.‏ قال فمن لي بهذا قالا نحن لك به‏.‏ فما سألهما شيئا إلا قالا نحن لك به‏.‏ فصالحه، فقال الحسن ولقد سمعت أبا بكرة يقول رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر والحسن بن علي إلى جنبه، وهو يقبل على الناس مرة وعليه أخرى ويقول ‏ "‏ إن ابني هذا سيد، ولعل الله أن يصلح به بين فئتين عظيمتين من المسلمين ‏"‏‏.‏ قال لي علي بن عبد الله إنما ثبت لنا سماع الحسن من أبي بكرة بهذا الحديث‏.‏


সহিহ বুখারী > আপোস মীমাংসার ব্যাপারে ইমাম পরামর্শ দিবেন কি?

সহিহ বুখারী ২৭০৬

حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن جعفر بن ربيعة، عن الأعرج، قال حدثني عبد الله بن كعب بن مالك، عن كعب بن مالك، أنه كان له على عبد الله بن أبي حدرد الأسلمي مال، فلقيه فلزمه حتى ارتفعت أصواتهما، فمر بهما النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏ "‏ يا كعب ‏"‏‏.‏ فأشار بيده كأنه يقول النصف‏.‏ فأخذ نصف ما عليه وترك نصفا‏.‏

কা‘ব ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আবূ হাদরাদ আল-আসলামীর কাছে তার কিছু মাল পাওনা ছিল। রাবী বলেন, একবার তার সাক্ষাৎও পেলেন এবং তাকে ধরলেন, এমনকি তাদের আওয়াজ চড়ে গেল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ওহে কা‘ব, অতঃপর হাতের ইশারায় তিনি যেন জানালেন, অর্ধেক। তারপর তিনি তার পাওনা নিলেন আর অর্ধেক ছেড়ে দিলেন।

কা‘ব ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আবূ হাদরাদ আল-আসলামীর কাছে তার কিছু মাল পাওনা ছিল। রাবী বলেন, একবার তার সাক্ষাৎও পেলেন এবং তাকে ধরলেন, এমনকি তাদের আওয়াজ চড়ে গেল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ওহে কা‘ব, অতঃপর হাতের ইশারায় তিনি যেন জানালেন, অর্ধেক। তারপর তিনি তার পাওনা নিলেন আর অর্ধেক ছেড়ে দিলেন।

حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن جعفر بن ربيعة، عن الأعرج، قال حدثني عبد الله بن كعب بن مالك، عن كعب بن مالك، أنه كان له على عبد الله بن أبي حدرد الأسلمي مال، فلقيه فلزمه حتى ارتفعت أصواتهما، فمر بهما النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏ "‏ يا كعب ‏"‏‏.‏ فأشار بيده كأنه يقول النصف‏.‏ فأخذ نصف ما عليه وترك نصفا‏.‏


সহিহ বুখারী ২৭০৫

حدثنا إسماعيل بن أبي أويس، قال حدثني أخي، عن سليمان، عن يحيى بن سعيد، عن أبي الرجال، محمد بن عبد الرحمن أن أمه، عمرة بنت عبد الرحمن قالت سمعت عائشة ـ رضى الله عنها ـ تقول سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم صوت خصوم بالباب عالية أصواتهما، وإذا أحدهما يستوضع الآخر، ويسترفقه في شىء وهو يقول والله لا أفعل‏.‏ فخرج عليهما رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏ "‏ أين المتألي على الله لا يفعل المعروف ‏"‏‏.‏ فقال أنا يا رسول الله، وله أى ذلك أحب‏.‏

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার দরজায় ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পেলেন; দু‘জন তাদের আওয়াজ উচ্চ করেছিল। তাদের একজন আরেকজনের নিকট ঋণের কিছু মাফ করে দেয়ার এবং সহানুভূতি দেখানোর অনুরোধ করেছিল। আর অপর ব্যক্তি বলছিল, ‘না, আল্লাহ্‌র কসম! আমি তা করব না।’ আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের দু’জনের কাছে এলেন এবং বললেন, সৎ কাজ করবে না বলে যে আল্লাহ্‌র নামে কসম করেছে, সে ব্যক্তিটি কোথায়? সে বলল, ‘হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি। সে যা পছন্দ করবে তার জন্য তা-ই হবে।’

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার দরজায় ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পেলেন; দু‘জন তাদের আওয়াজ উচ্চ করেছিল। তাদের একজন আরেকজনের নিকট ঋণের কিছু মাফ করে দেয়ার এবং সহানুভূতি দেখানোর অনুরোধ করেছিল। আর অপর ব্যক্তি বলছিল, ‘না, আল্লাহ্‌র কসম! আমি তা করব না।’ আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের দু’জনের কাছে এলেন এবং বললেন, সৎ কাজ করবে না বলে যে আল্লাহ্‌র নামে কসম করেছে, সে ব্যক্তিটি কোথায়? সে বলল, ‘হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি। সে যা পছন্দ করবে তার জন্য তা-ই হবে।’

حدثنا إسماعيل بن أبي أويس، قال حدثني أخي، عن سليمان، عن يحيى بن سعيد، عن أبي الرجال، محمد بن عبد الرحمن أن أمه، عمرة بنت عبد الرحمن قالت سمعت عائشة ـ رضى الله عنها ـ تقول سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم صوت خصوم بالباب عالية أصواتهما، وإذا أحدهما يستوضع الآخر، ويسترفقه في شىء وهو يقول والله لا أفعل‏.‏ فخرج عليهما رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏ "‏ أين المتألي على الله لا يفعل المعروف ‏"‏‏.‏ فقال أنا يا رسول الله، وله أى ذلك أحب‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00