সহিহ বুখারী > ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, মাপ ও ওজন ইত্যাদি প্রত্যেক শহরে প্রচলিত রসম ও নিয়ম গ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে তাদের নিয়্যত ও প্রসিদ্ধ পন্থাই অবলম্বন করা হবে।

সহিহ বুখারী ২২১০

حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك، عن حميد الطويل، عن أنس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال حجم رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو طيبة، فأمر له رسول الله صلى الله عليه وسلم بصاع من تمر، وأمر أهله أن يخففوا عنه من خراجه‏.‏

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবূ তায়বা আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শিঙ্গা লাগালেন। তিনি এক সা’ খেজুর দিতে বললেন এবং তার উপর হতে দৈনিক আয়কর কমানোর জন্য তার মালিককে আদেশ দিলেন।

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবূ তায়বা আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শিঙ্গা লাগালেন। তিনি এক সা’ খেজুর দিতে বললেন এবং তার উপর হতে দৈনিক আয়কর কমানোর জন্য তার মালিককে আদেশ দিলেন।

حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك، عن حميد الطويل، عن أنس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال حجم رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو طيبة، فأمر له رسول الله صلى الله عليه وسلم بصاع من تمر، وأمر أهله أن يخففوا عنه من خراجه‏.‏


সহিহ বুখারী ২২১১

حدثنا أبو نعيم، حدثنا سفيان، عن هشام، عن عروة، عن عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت هند أم معاوية لرسول الله صلى الله عليه وسلم إن أبا سفيان رجل شحيح، فهل على جناح أن آخذ من ماله سرا قال ‏ "‏ خذي أنت وبنوك ما يكفيك بالمعروف ‏"‏‏.‏

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মু’আবিয়াহ (রাঃ)-এর মা হিন্দা আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেন, আবূ সুফিয়ান (রাঃ) একজন কৃপণ ব্যক্তি। এমতাবস্থায় আমি যদি তার মাল হতে গোপনে কিছু গ্রহণ করি, তাতে কি গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায়ভাবে গ্রহণ করতে পার।

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মু’আবিয়াহ (রাঃ)-এর মা হিন্দা আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেন, আবূ সুফিয়ান (রাঃ) একজন কৃপণ ব্যক্তি। এমতাবস্থায় আমি যদি তার মাল হতে গোপনে কিছু গ্রহণ করি, তাতে কি গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায়ভাবে গ্রহণ করতে পার।

حدثنا أبو نعيم، حدثنا سفيان، عن هشام، عن عروة، عن عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت هند أم معاوية لرسول الله صلى الله عليه وسلم إن أبا سفيان رجل شحيح، فهل على جناح أن آخذ من ماله سرا قال ‏ "‏ خذي أنت وبنوك ما يكفيك بالمعروف ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ২২১২

حدثني إسحاق، حدثنا ابن نمير، أخبرنا هشام، وحدثني محمد، قال سمعت عثمان بن فرقد، قال سمعت هشام بن عروة، يحدث عن أبيه، أنه سمع عائشة ـ رضى الله عنها ـ تقول ‏{‏ومن كان غنيا فليستعفف ومن كان فقيرا فليأكل بالمعروف‏}‏ أنزلت في والي اليتيم الذي يقيم عليه، ويصلح في ماله، إن كان فقيرا أكل منه بالمعروف‏.‏

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, কুরআনের আয়াতঃ “যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্থ সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে”- (আন-নিসা ৬)। ইয়াতীমের ঐ অভিভাবক সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়, যে তার তত্ত্বাবধান করে ও তার সম্পত্তির পরিচর্যা করে, সে যদি অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তা হতে নিয়মমাফিক খেতে পারবে।

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, কুরআনের আয়াতঃ “যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্থ সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে”- (আন-নিসা ৬)। ইয়াতীমের ঐ অভিভাবক সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়, যে তার তত্ত্বাবধান করে ও তার সম্পত্তির পরিচর্যা করে, সে যদি অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তা হতে নিয়মমাফিক খেতে পারবে।

حدثني إسحاق، حدثنا ابن نمير، أخبرنا هشام، وحدثني محمد، قال سمعت عثمان بن فرقد، قال سمعت هشام بن عروة، يحدث عن أبيه، أنه سمع عائشة ـ رضى الله عنها ـ تقول ‏{‏ومن كان غنيا فليستعفف ومن كان فقيرا فليأكل بالمعروف‏}‏ أنزلت في والي اليتيم الذي يقيم عليه، ويصلح في ماله، إن كان فقيرا أكل منه بالمعروف‏.‏


সহিহ বুখারী > এক অংশীদার কর্তৃক (তার অংশ) থেকে অপর অংশীদারের কাছে বিক্রি করা

সহিহ বুখারী ২২১৩

حدثني محمود، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن أبي سلمة، عن جابر ـ رضى الله عنه ـ جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم الشفعة في كل مال لم يقسم، فإذا وقعت الحدود وصرفت الطرق فلا شفعة‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যে সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারা হয় নি, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাতে শুফ’আ [১৬] এর অধিকার প্রদান করেছেন। যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং রাস্তা ভিন্ন করা হয়, তখন আর শুফ’আ এর অধিকার থাকবে না।

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যে সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারা হয় নি, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাতে শুফ’আ [১৬] এর অধিকার প্রদান করেছেন। যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং রাস্তা ভিন্ন করা হয়, তখন আর শুফ’আ এর অধিকার থাকবে না।

حدثني محمود، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن أبي سلمة، عن جابر ـ رضى الله عنه ـ جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم الشفعة في كل مال لم يقسم، فإذا وقعت الحدود وصرفت الطرق فلا شفعة‏.‏


সহিহ বুখারী > এজমালী জমি, বাড়ি ও অন্যান্য আসবাবপত্র বিক্রি করা

সহিহ বুখারী ২২১৪

حدثنا محمد بن محبوب، حدثنا عبد الواحد، حدثنا معمر، عن الزهري، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن جابر بن عبد الله ـ رضى الله عنهما ـ قال قضى النبي صلى الله عليه وسلم بالشفعة في كل مال لم يقسم، فإذا وقعت الحدود وصرفت الطرق فلا شفعة‏.‏

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা হয় নি, তার মধ্যে শুফ’আ লাভের ফায়সালা প্রদান করেছেন। তারপর যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং স্বতন্ত্র করা হয় তখন আর শু’ফআ এর অধিকার থাকবে না। (ই.ফা. ২০৭২) মুসাদ্দাদ (রহঃ) …………আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ) হতে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, যে সম্পদ ভাগ-বাঁটোয়ারা হয় নি (তাতে শু’ফআ)। হিশাম (রহঃ) মা’মর (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদের অনুসরণ করেছেন। আবদুর রায্‌যাক (রহঃ) বলেছেন, যে সম্পদের ভাগ-বাঁটোয়ারা হয় নি, সে সব সম্পদেই (শুফ’আ রয়েছে)। হাদীসটি আবদুর রহমান ইব্‌নু ইসহাক (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। (২২১৩) (আ.প্র. ২০৫৭, ই.ফা. ২০৭৩)

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা হয় নি, তার মধ্যে শুফ’আ লাভের ফায়সালা প্রদান করেছেন। তারপর যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং স্বতন্ত্র করা হয় তখন আর শু’ফআ এর অধিকার থাকবে না। (ই.ফা. ২০৭২) মুসাদ্দাদ (রহঃ) …………আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ) হতে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, যে সম্পদ ভাগ-বাঁটোয়ারা হয় নি (তাতে শু’ফআ)। হিশাম (রহঃ) মা’মর (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদের অনুসরণ করেছেন। আবদুর রায্‌যাক (রহঃ) বলেছেন, যে সম্পদের ভাগ-বাঁটোয়ারা হয় নি, সে সব সম্পদেই (শুফ’আ রয়েছে)। হাদীসটি আবদুর রহমান ইব্‌নু ইসহাক (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। (২২১৩) (আ.প্র. ২০৫৭, ই.ফা. ২০৭৩)

حدثنا محمد بن محبوب، حدثنا عبد الواحد، حدثنا معمر، عن الزهري، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن جابر بن عبد الله ـ رضى الله عنهما ـ قال قضى النبي صلى الله عليه وسلم بالشفعة في كل مال لم يقسم، فإذا وقعت الحدود وصرفت الطرق فلا شفعة‏.‏


সহিহ বুখারী > কারো বিনা অনুমতিতে তার জন্য কোন জিনিস ক্রয় করা হলো এবং সে তাতে সমর্থন দান করলো।

সহিহ বুখারী ২২১৫

حدثنا يعقوب بن إبراهيم، حدثنا أبو عاصم، أخبرنا ابن جريج، قال أخبرني موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ خرج ثلاثة يمشون فأصابهم المطر، فدخلوا في غار في جبل، فانحطت عليهم صخرة‏.‏ قال فقال بعضهم لبعض ادعوا الله بأفضل عمل عملتموه‏.‏ فقال أحدهم اللهم، إني كان لي أبوان شيخان كبيران، فكنت أخرج فأرعى، ثم أجيء فأحلب، فأجيء بالحلاب فآتي به أبوى فيشربان، ثم أسقي الصبية وأهلي وامرأتي، فاحتبست ليلة‏.‏ فجئت فإذا هما نائمان ـ قال ـ فكرهت أن أوقظهما، والصبية يتضاغون عند رجلى، فلم يزل ذلك دأبي ودأبهما، حتى طلع الفجر اللهم إن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا فرجة نرى منها السماء‏.‏ قال ففرج عنهم‏.‏ وقال الآخر اللهم إن كنت تعلم أني كنت أحب امرأة من بنات عمي كأشد ما يحب الرجل النساء، فقالت لا تنال ذلك منها حتى تعطيها مائة دينار‏.‏ فسعيت فيها حتى جمعتها، فلما قعدت بين رجليها قالت اتق الله، ولا تفض الخاتم إلا بحقه‏.‏ فقمت وتركتها، فإن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا فرجة، قال ففرج عنهم الثلثين‏.‏ وقال الآخر اللهم إن كنت تعلم أني استأجرت أجيرا بفرق من ذرة فأعطيته، وأبى ذاك أن يأخذ، فعمدت إلى ذلك الفرق، فزرعته حتى اشتريت منه بقرا وراعيها، ثم جاء فقال يا عبد الله أعطني حقي‏.‏ فقلت انطلق إلى تلك البقر وراعيها، فإنها لك‏.‏ فقال أتستهزئ بي‏.‏ قال فقلت ما أستهزئ بك ولكنها لك‏.‏ اللهم إن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا‏.‏ فكشف عنهم ‏"‏‏.‏

ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি হেঁটে চলছিল। এমন সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করে। হঠাৎ একটি পাথর গড়িয়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দেয়। তাদের একজন আরেকজনকে বলল; তোমরা যে সব আমল করেছ, তার মধ্যে উত্তম আমলের ওয়াসীলা করে আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ কর। তাদের যে একজন বলল আল্লাহ্‌! আমার অতিবৃদ্ধ পিতামাতা ছিলেন, আমি (প্রত্যহ সকালে) মেষ চরাতে বের হতাম। তারপর ফিরে এসে দুধ দোহন করতাম এবং এ দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার নিকট উপস্থিত হতাম ও তারা তা পান করতেন। তারপরে আমি শিশুদের, পরিজনদের এবং স্ত্রীকে পান করতে দিতাম। একরাত্রে আমি আটকা পরে যাই। তারপর আমি যখন এলাম তখন তারা দুজনে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সে বলল, আমি তাদের জাগানো পছন্দ করলাম না। আর তখন শিশুরা আমার পায়ের কাছে (ক্ষুধায়) চীৎকার করছিল। এ অবস্থায়ই আমার এবং পিতা-মাতার ফজর হয়ে গেল। ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি যদি জান তা আমি শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্ট লাভের আশায় করেছিলাম তা হলে তুমি আমাদের গুহার মুখ এতটুকু ফাঁক করে দাও, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন একটু ফাঁকা হয়ে গেল। আরেকজন বলল, ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি জান যে, আমি আমার এক চাচাতো বোনকে এত ভালবাসতাম, যা একজন পুরুষ নারীকে ভালবেসে থাকে। সে বলল, তুমি আমার হতে সে মনস্কামনা সিদ্ধ করতে পারবে না, যতক্ষণ আমাকে একশত দীনার না দেবে। আমি চেষ্টা করে তা সংগ্রহ করি। তারপর আমি যখন তার পদদ্বয়ের মাঝে উপবেশন করি, তখন সে বলে “আল্লাহ্‌কে ভয় কর”। বৈধ অধিকার ছাড়া মাহ্‌রকৃত বস্তুর সীল ভাঙবে না। এতে আমি তাকে ছেড়ে উঠে পড়ি। (হে আল্লাহ্‌) তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের হতে আরো একটু ফাঁক করে দাও। তখন তাদের হতে (গুহার মুখের) দুই-তৃতীয়াংশ ফাঁক হয়ে গেল। অপরজন বলল, হে আল্লাহ্‌! তুমি জান যে, এক ফারাক (পরিমাণ) শস্য দানার বিনিময়ে আমি একজন মজুর রেখেছিলাম। আমি তাকে তা দিতে গেলে সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারপর আমি সে এর ফারাক শস্য দানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু ক্রয় করি এবং রাখাল নিযুক্ত করি। কিছুকাল পরে সে মজুর এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দা! আমাকে আমার পাওনা দাও। আমি বললাম এই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, তুমি কি আমার সাথে উপহাস করছ? আমি বললাম, আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না বরং এসব তোমার। হে আল্লাহ্‌! তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের হতে (গুহার মুখ) উন্মুক্ত করে দাও। তখন তাদের হতে গুহার মুখ উন্মুক্ত হয়ে গেল।

ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি হেঁটে চলছিল। এমন সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করে। হঠাৎ একটি পাথর গড়িয়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দেয়। তাদের একজন আরেকজনকে বলল; তোমরা যে সব আমল করেছ, তার মধ্যে উত্তম আমলের ওয়াসীলা করে আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ কর। তাদের যে একজন বলল আল্লাহ্‌! আমার অতিবৃদ্ধ পিতামাতা ছিলেন, আমি (প্রত্যহ সকালে) মেষ চরাতে বের হতাম। তারপর ফিরে এসে দুধ দোহন করতাম এবং এ দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার নিকট উপস্থিত হতাম ও তারা তা পান করতেন। তারপরে আমি শিশুদের, পরিজনদের এবং স্ত্রীকে পান করতে দিতাম। একরাত্রে আমি আটকা পরে যাই। তারপর আমি যখন এলাম তখন তারা দুজনে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সে বলল, আমি তাদের জাগানো পছন্দ করলাম না। আর তখন শিশুরা আমার পায়ের কাছে (ক্ষুধায়) চীৎকার করছিল। এ অবস্থায়ই আমার এবং পিতা-মাতার ফজর হয়ে গেল। ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি যদি জান তা আমি শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্ট লাভের আশায় করেছিলাম তা হলে তুমি আমাদের গুহার মুখ এতটুকু ফাঁক করে দাও, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন একটু ফাঁকা হয়ে গেল। আরেকজন বলল, ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি জান যে, আমি আমার এক চাচাতো বোনকে এত ভালবাসতাম, যা একজন পুরুষ নারীকে ভালবেসে থাকে। সে বলল, তুমি আমার হতে সে মনস্কামনা সিদ্ধ করতে পারবে না, যতক্ষণ আমাকে একশত দীনার না দেবে। আমি চেষ্টা করে তা সংগ্রহ করি। তারপর আমি যখন তার পদদ্বয়ের মাঝে উপবেশন করি, তখন সে বলে “আল্লাহ্‌কে ভয় কর”। বৈধ অধিকার ছাড়া মাহ্‌রকৃত বস্তুর সীল ভাঙবে না। এতে আমি তাকে ছেড়ে উঠে পড়ি। (হে আল্লাহ্‌) তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের হতে আরো একটু ফাঁক করে দাও। তখন তাদের হতে (গুহার মুখের) দুই-তৃতীয়াংশ ফাঁক হয়ে গেল। অপরজন বলল, হে আল্লাহ্‌! তুমি জান যে, এক ফারাক (পরিমাণ) শস্য দানার বিনিময়ে আমি একজন মজুর রেখেছিলাম। আমি তাকে তা দিতে গেলে সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারপর আমি সে এর ফারাক শস্য দানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু ক্রয় করি এবং রাখাল নিযুক্ত করি। কিছুকাল পরে সে মজুর এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দা! আমাকে আমার পাওনা দাও। আমি বললাম এই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, তুমি কি আমার সাথে উপহাস করছ? আমি বললাম, আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না বরং এসব তোমার। হে আল্লাহ্‌! তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের হতে (গুহার মুখ) উন্মুক্ত করে দাও। তখন তাদের হতে গুহার মুখ উন্মুক্ত হয়ে গেল।

حدثنا يعقوب بن إبراهيم، حدثنا أبو عاصم، أخبرنا ابن جريج، قال أخبرني موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ خرج ثلاثة يمشون فأصابهم المطر، فدخلوا في غار في جبل، فانحطت عليهم صخرة‏.‏ قال فقال بعضهم لبعض ادعوا الله بأفضل عمل عملتموه‏.‏ فقال أحدهم اللهم، إني كان لي أبوان شيخان كبيران، فكنت أخرج فأرعى، ثم أجيء فأحلب، فأجيء بالحلاب فآتي به أبوى فيشربان، ثم أسقي الصبية وأهلي وامرأتي، فاحتبست ليلة‏.‏ فجئت فإذا هما نائمان ـ قال ـ فكرهت أن أوقظهما، والصبية يتضاغون عند رجلى، فلم يزل ذلك دأبي ودأبهما، حتى طلع الفجر اللهم إن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا فرجة نرى منها السماء‏.‏ قال ففرج عنهم‏.‏ وقال الآخر اللهم إن كنت تعلم أني كنت أحب امرأة من بنات عمي كأشد ما يحب الرجل النساء، فقالت لا تنال ذلك منها حتى تعطيها مائة دينار‏.‏ فسعيت فيها حتى جمعتها، فلما قعدت بين رجليها قالت اتق الله، ولا تفض الخاتم إلا بحقه‏.‏ فقمت وتركتها، فإن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا فرجة، قال ففرج عنهم الثلثين‏.‏ وقال الآخر اللهم إن كنت تعلم أني استأجرت أجيرا بفرق من ذرة فأعطيته، وأبى ذاك أن يأخذ، فعمدت إلى ذلك الفرق، فزرعته حتى اشتريت منه بقرا وراعيها، ثم جاء فقال يا عبد الله أعطني حقي‏.‏ فقلت انطلق إلى تلك البقر وراعيها، فإنها لك‏.‏ فقال أتستهزئ بي‏.‏ قال فقلت ما أستهزئ بك ولكنها لك‏.‏ اللهم إن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا‏.‏ فكشف عنهم ‏"‏‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00