সহিহ বুখারী > হজ্জের পর কুরবানী ব্যতীত ‘উমরা আদায় করা।
সহিহ বুখারী ১৭৮৬
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، حدثنا هشام، قال أخبرني أبي قال، أخبرتني عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم موافين لهلال ذي الحجة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من أحب أن يهل بعمرة فليهل، ومن أحب أن يهل بحجة فليهل، ولولا أني أهديت لأهللت بعمرة ". فمنهم من أهل بعمرة، ومنهم من أهل بحجة، وكنت ممن أهل بعمرة، فحضت قبل أن أدخل مكة، فأدركني يوم عرفة، وأنا حائض، فشكوت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " دعي عمرتك، وانقضي رأسك وامتشطي، وأهلي بالحج ". ففعلت، فلما كانت ليلة الحصبة أرسل معي عبد الرحمن إلى التنعيم، فأردفها، فأهلت بعمرة مكان عمرتها، فقضى الله حجها وعمرتها، ولم يكن في شىء من ذلك هدى، ولا صدقة، ولا صوم.
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন যুলহজ্জ মাস আগত প্রায়, তখন আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যে ব্যক্তি ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতে চায়, সে যেন ‘উমরা’র ইহ্রাম বেঁধে নেয়। আর যে ব্যক্তি হজ্জের ইহ্রাম বাঁধতে চায় সে যেন হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতাম। তাই তাঁদের কেউ ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধলেন আর কেউ হজ্জের ইহ্রাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরা’র ইহ্রাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন। এরপর মক্কা পৌঁছার আগেই আমার ঋতু দেখা দিল। ‘আরাফার দিবস চলে এল, আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর আমার এ অসুবিধার কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকত বললাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরা ছেড়ে দাও। আর বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে নাও। আমি তাই করলাম। মুহাস্সাবের রাতে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে আবদুর রহমানকে তান‘ঈম পাঠালেন। (রাবী বলেন) আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁকে সাওয়ারীতে নিজের পিছনে বসিয়ে নিলেন। অতঃপর ‘আয়িশা (রাঃ) আগের ‘উমরা’র স্থলে নতুন ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধলেন। এমনিভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর হজ্জ এবং ‘উমরা উভয়টিই পুরা করালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর কোন ক্ষেত্রেই (দম হিসেবে) কুরবানী বা সদাকাহ দিতে কিংবা সিয়াম পালন করতে হয়নি।
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন যুলহজ্জ মাস আগত প্রায়, তখন আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যে ব্যক্তি ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতে চায়, সে যেন ‘উমরা’র ইহ্রাম বেঁধে নেয়। আর যে ব্যক্তি হজ্জের ইহ্রাম বাঁধতে চায় সে যেন হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতাম। তাই তাঁদের কেউ ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধলেন আর কেউ হজ্জের ইহ্রাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরা’র ইহ্রাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন। এরপর মক্কা পৌঁছার আগেই আমার ঋতু দেখা দিল। ‘আরাফার দিবস চলে এল, আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর আমার এ অসুবিধার কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকত বললাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরা ছেড়ে দাও। আর বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে নাও। আমি তাই করলাম। মুহাস্সাবের রাতে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে আবদুর রহমানকে তান‘ঈম পাঠালেন। (রাবী বলেন) আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁকে সাওয়ারীতে নিজের পিছনে বসিয়ে নিলেন। অতঃপর ‘আয়িশা (রাঃ) আগের ‘উমরা’র স্থলে নতুন ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধলেন। এমনিভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর হজ্জ এবং ‘উমরা উভয়টিই পুরা করালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর কোন ক্ষেত্রেই (দম হিসেবে) কুরবানী বা সদাকাহ দিতে কিংবা সিয়াম পালন করতে হয়নি।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، حدثنا هشام، قال أخبرني أبي قال، أخبرتني عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم موافين لهلال ذي الحجة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من أحب أن يهل بعمرة فليهل، ومن أحب أن يهل بحجة فليهل، ولولا أني أهديت لأهللت بعمرة ". فمنهم من أهل بعمرة، ومنهم من أهل بحجة، وكنت ممن أهل بعمرة، فحضت قبل أن أدخل مكة، فأدركني يوم عرفة، وأنا حائض، فشكوت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " دعي عمرتك، وانقضي رأسك وامتشطي، وأهلي بالحج ". ففعلت، فلما كانت ليلة الحصبة أرسل معي عبد الرحمن إلى التنعيم، فأردفها، فأهلت بعمرة مكان عمرتها، فقضى الله حجها وعمرتها، ولم يكن في شىء من ذلك هدى، ولا صدقة، ولا صوم.
সহিহ বুখারী > কষ্ট অনুপাতে ‘উমরা’র আজর (নেকী)।
সহিহ বুখারী ১৭৮৭
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا ابن عون، عن القاسم بن محمد، وعن ابن عون، عن إبراهيم، عن الأسود، قالا قالت عائشة ـ رضى الله عنها ـ يا رسول الله يصدر الناس بنسكين وأصدر بنسك فقيل لها " انتظري، فإذا طهرت فاخرجي إلى التنعيم، فأهلي ثم ائتينا بمكان كذا، ولكنها على قدر نفقتك، أو نصبك ".
আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! সাহাবীগণ ফিরছেন দু’টি নুসূক (অর্থাৎ হজ্জ এবং উমরাহ্) পালন করে আর আমি ফিরছি একটি নুসূক (শুধু হজ্জ) আদায় করে। তাঁকে বলা হল, অপেক্ষা কর। পরে যখন তুমি পবিত্র হবে তখন তান‘ঈমে গিয়ে ইহ্রাম বাঁধবে এরপর অমুক স্থানে আমাদের কাছে আসবে। এ ‘উমরা (এর সওয়াব) হবে তোমার খরচ বা কষ্ট অনুপাতে।
আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! সাহাবীগণ ফিরছেন দু’টি নুসূক (অর্থাৎ হজ্জ এবং উমরাহ্) পালন করে আর আমি ফিরছি একটি নুসূক (শুধু হজ্জ) আদায় করে। তাঁকে বলা হল, অপেক্ষা কর। পরে যখন তুমি পবিত্র হবে তখন তান‘ঈমে গিয়ে ইহ্রাম বাঁধবে এরপর অমুক স্থানে আমাদের কাছে আসবে। এ ‘উমরা (এর সওয়াব) হবে তোমার খরচ বা কষ্ট অনুপাতে।
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا ابن عون، عن القاسم بن محمد، وعن ابن عون، عن إبراهيم، عن الأسود، قالا قالت عائشة ـ رضى الله عنها ـ يا رسول الله يصدر الناس بنسكين وأصدر بنسك فقيل لها " انتظري، فإذا طهرت فاخرجي إلى التنعيم، فأهلي ثم ائتينا بمكان كذا، ولكنها على قدر نفقتك، أو نصبك ".
সহিহ বুখারী > ‘উমরা আদায়কারী ‘উমরা’র তাওয়াফ করেই রওয়ানা হলে, তা কি তার জন্য বিদায়ী তাওয়াফের বদলে যথেষ্ট হবে?
সহিহ বুখারী ১৭৮৮
حدثنا أبو نعيم، حدثنا أفلح بن حميد، عن القاسم، عن عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت خرجنا مهلين بالحج في أشهر الحج، وحرم الحج، فنزلنا سرف، فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأصحابه " من لم يكن معه هدى، فأحب أن يجعلها عمرة، فليفعل ومن كان معه هدى فلا ". وكان مع النبي صلى الله عليه وسلم ورجال من أصحابه ذوي قوة الهدى، فلم تكن لهم عمرة، فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال " ما يبكيك ". قلت سمعتك تقول لأصحابك ما قلت فمنعت العمرة. قال " وما شأنك ". قلت لا أصلي. قال " فلا يضرك أنت من بنات آدم، كتب عليك ما كتب عليهن، فكوني في حجتك عسى الله أن يرزقكها ". قالت فكنت حتى نفرنا من منى، فنزلنا المحصب فدعا عبد الرحمن، فقال " اخرج بأختك الحرم، فلتهل بعمرة، ثم افرغا من طوافكما، أنتظركما ها هنا ". فأتينا في جوف الليل. فقال " فرغتما ". قلت نعم. فنادى بالرحيل في أصحابه، فارتحل الناس، ومن طاف بالبيت، قبل صلاة الصبح، ثم خرج موجها إلى المدينة.
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে বের হলাম, হজ্জের মাসে এবং হজ্জের কার্যাদি পালনের উদ্দেশ্যে। যখন সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবাগণকে বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই এবং সে এই ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতে চায়, সে যেন তা করে নেয় (অর্থাৎ ‘উমরা করে হালাল হয়)। আর যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার আছে সে এরূপ করবে না (অর্থাৎ হালাল হতে পারবে না)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর কয়েকজন সমর্থ সাহাবীর নিকট কুরবানীর জানোয়ার ছিল তাঁদের হজ্জ ‘উমরায় পরিণত হল না। [‘আয়িশা (রাঃ) বললেন] আমি কাঁদছিলাম, এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? আমি বললাম, আপনি আপনার সাহাবীগণকে যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি। আমি তো ‘উমরা হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম, আমি তো সালাত আদায় করছি না (ঋতুবতী অবস্থায়)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার ক্ষতি হবে না। তুমি তো আদম কন্যাদেরই একজন। তাদের অদৃষ্টে যা লেখা ছিল তোমার জন্যেও তা লিখিত হয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার হজ্জ আদায় কর। সম্ভবতঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে ‘উমরাও দান করবেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি এ অবস্থায়ই থেকে গেলাম এবং পরে মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুহাস্সাবে অবতরণ করলাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান [‘আয়িশা (রাঃ) -এর সহোদর ভাই] (রাঃ) -কে ডেকে বললেনঃ তুমি তোমার বোনকে হারামের বাইরে নিয়ে যাও। সেখান হতে যেন সে ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধে। অতঃপর তোমরা তাওয়াফ করে নিবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আমরা মধ্যরাতে এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি তাওয়াফ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। এ সময় তিনি সাহাবীগণকে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। তাই লোকজন এবং যাঁরা ফজরের পূর্বে তাওয়াফ করেছিলেন তাঁরা রওয়ানা হলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাহ অভিমুখে রওয়ানা হলেন।
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে বের হলাম, হজ্জের মাসে এবং হজ্জের কার্যাদি পালনের উদ্দেশ্যে। যখন সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবাগণকে বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই এবং সে এই ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতে চায়, সে যেন তা করে নেয় (অর্থাৎ ‘উমরা করে হালাল হয়)। আর যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার আছে সে এরূপ করবে না (অর্থাৎ হালাল হতে পারবে না)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর কয়েকজন সমর্থ সাহাবীর নিকট কুরবানীর জানোয়ার ছিল তাঁদের হজ্জ ‘উমরায় পরিণত হল না। [‘আয়িশা (রাঃ) বললেন] আমি কাঁদছিলাম, এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? আমি বললাম, আপনি আপনার সাহাবীগণকে যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি। আমি তো ‘উমরা হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম, আমি তো সালাত আদায় করছি না (ঋতুবতী অবস্থায়)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার ক্ষতি হবে না। তুমি তো আদম কন্যাদেরই একজন। তাদের অদৃষ্টে যা লেখা ছিল তোমার জন্যেও তা লিখিত হয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার হজ্জ আদায় কর। সম্ভবতঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে ‘উমরাও দান করবেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি এ অবস্থায়ই থেকে গেলাম এবং পরে মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুহাস্সাবে অবতরণ করলাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান [‘আয়িশা (রাঃ) -এর সহোদর ভাই] (রাঃ) -কে ডেকে বললেনঃ তুমি তোমার বোনকে হারামের বাইরে নিয়ে যাও। সেখান হতে যেন সে ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধে। অতঃপর তোমরা তাওয়াফ করে নিবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আমরা মধ্যরাতে এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি তাওয়াফ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। এ সময় তিনি সাহাবীগণকে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। তাই লোকজন এবং যাঁরা ফজরের পূর্বে তাওয়াফ করেছিলেন তাঁরা রওয়ানা হলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাহ অভিমুখে রওয়ানা হলেন।
حدثنا أبو نعيم، حدثنا أفلح بن حميد، عن القاسم، عن عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت خرجنا مهلين بالحج في أشهر الحج، وحرم الحج، فنزلنا سرف، فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأصحابه " من لم يكن معه هدى، فأحب أن يجعلها عمرة، فليفعل ومن كان معه هدى فلا ". وكان مع النبي صلى الله عليه وسلم ورجال من أصحابه ذوي قوة الهدى، فلم تكن لهم عمرة، فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال " ما يبكيك ". قلت سمعتك تقول لأصحابك ما قلت فمنعت العمرة. قال " وما شأنك ". قلت لا أصلي. قال " فلا يضرك أنت من بنات آدم، كتب عليك ما كتب عليهن، فكوني في حجتك عسى الله أن يرزقكها ". قالت فكنت حتى نفرنا من منى، فنزلنا المحصب فدعا عبد الرحمن، فقال " اخرج بأختك الحرم، فلتهل بعمرة، ثم افرغا من طوافكما، أنتظركما ها هنا ". فأتينا في جوف الليل. فقال " فرغتما ". قلت نعم. فنادى بالرحيل في أصحابه، فارتحل الناس، ومن طاف بالبيت، قبل صلاة الصبح، ثم خرج موجها إلى المدينة.
সহিহ বুখারী > হজ্জে যে সকল কাজ করতে হয় ‘উমরাতেও তাই করবে।
সহিহ বুখারী ১৭৮৯
حدثنا أبو نعيم، حدثنا همام، حدثنا عطاء، قال حدثني صفوان بن يعلى بن أمية يعني، عن أبيه، أن رجلا، أتى النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالجعرانة وعليه جبة وعليه أثر الخلوق أو قال صفرة فقال كيف تأمرني أن أصنع في عمرتي فأنزل الله على النبي صلى الله عليه وسلم، فستر بثوب ووددت أني قد رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وقد أنزل عليه الوحى. فقال عمر تعال أيسرك أن تنظر إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقد أنزل الله الوحى قلت نعم. فرفع طرف الثوب، فنظرت إليه له غطيط وأحسبه قال كغطيط البكر. فلما سري عنه قال " أين السائل عن العمرة اخلع عنك الجبة واغسل أثر الخلوق عنك، وأنق الصفرة، واصنع في عمرتك كما تصنع في حجك ".
ই‘য়ালা ইব্নু উমায়্যা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জি‘রানাতে ছিলেন। এ সময় জুব্বা পরিহিত এক ব্যক্তি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললেন, আপনি ‘উমরাতে আমাকে কী কাজ করার নির্দেশ দেন? লোকটির জুব্বাতে খালূক বা হলদে রঙের দাগ ছিল। এ সময় আল্লাহ্ তা‘আলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উপর ওয়াহী নাযিল করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেয়া হল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ‘উমর (রাঃ) -কে বললাম, আল্লাহ্ তাঁর নবীর প্রতি ওয়াহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দেখতে চাই। ‘উমর (রাঃ) বললেন, এসো, আল্লাহ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর প্রতি ওয়াহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় তুমি কি তাঁকে দেখতে আগ্রহী? আমি বললাম, হাঁ। অতঃপর ‘উমর (রাঃ) কাপড়ের একটি কোণ উঁচু করে ধরলেন। আমি তাঁর দিকে নজর করলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আওয়াজ করছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, উটের আওয়াজের মত আওয়াজ। এ অবস্থা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে দূরীভূত হলে তিনি বললেনঃ ‘উমরা সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার হতে জুব্বাটি খুলে ফেল, খালূকের চিহ্ন ধুয়ে ফেল এবং হলদে রঙ পরিষ্কার করে নাও। আর তোমার হজ্জে যা করেছ ‘উমরাতে তুমি তা-ই করবে।
ই‘য়ালা ইব্নু উমায়্যা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জি‘রানাতে ছিলেন। এ সময় জুব্বা পরিহিত এক ব্যক্তি আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললেন, আপনি ‘উমরাতে আমাকে কী কাজ করার নির্দেশ দেন? লোকটির জুব্বাতে খালূক বা হলদে রঙের দাগ ছিল। এ সময় আল্লাহ্ তা‘আলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উপর ওয়াহী নাযিল করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেয়া হল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ‘উমর (রাঃ) -কে বললাম, আল্লাহ্ তাঁর নবীর প্রতি ওয়াহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দেখতে চাই। ‘উমর (রাঃ) বললেন, এসো, আল্লাহ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর প্রতি ওয়াহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় তুমি কি তাঁকে দেখতে আগ্রহী? আমি বললাম, হাঁ। অতঃপর ‘উমর (রাঃ) কাপড়ের একটি কোণ উঁচু করে ধরলেন। আমি তাঁর দিকে নজর করলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আওয়াজ করছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, উটের আওয়াজের মত আওয়াজ। এ অবস্থা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে দূরীভূত হলে তিনি বললেনঃ ‘উমরা সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার হতে জুব্বাটি খুলে ফেল, খালূকের চিহ্ন ধুয়ে ফেল এবং হলদে রঙ পরিষ্কার করে নাও। আর তোমার হজ্জে যা করেছ ‘উমরাতে তুমি তা-ই করবে।
حدثنا أبو نعيم، حدثنا همام، حدثنا عطاء، قال حدثني صفوان بن يعلى بن أمية يعني، عن أبيه، أن رجلا، أتى النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالجعرانة وعليه جبة وعليه أثر الخلوق أو قال صفرة فقال كيف تأمرني أن أصنع في عمرتي فأنزل الله على النبي صلى الله عليه وسلم، فستر بثوب ووددت أني قد رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وقد أنزل عليه الوحى. فقال عمر تعال أيسرك أن تنظر إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقد أنزل الله الوحى قلت نعم. فرفع طرف الثوب، فنظرت إليه له غطيط وأحسبه قال كغطيط البكر. فلما سري عنه قال " أين السائل عن العمرة اخلع عنك الجبة واغسل أثر الخلوق عنك، وأنق الصفرة، واصنع في عمرتك كما تصنع في حجك ".
সহিহ বুখারী ১৭৯০
حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك، عن هشام بن عروة، عن أبيه، أنه قال قلت لعائشة ـ رضى الله عنها ـ زوج النبي صلى الله عليه وسلم وأنا يومئذ حديث السن أرأيت قول الله تبارك وتعالى {إن الصفا والمروة من شعائر الله فمن حج البيت أو اعتمر فلا جناح عليه أن يطوف بهما} فلا أرى على أحد شيئا أن لا يطوف بهما. فقالت عائشة كلا، لو كانت كما تقول كانت فلا جناح عليه أن لا يطوف بهما. إنما أنزلت هذه الآية في الأنصار كانوا يهلون لمناة، وكانت مناة حذو قديد، وكانوا يتحرجون أن يطوفوا بين الصفا والمروة، فلما جاء الإسلام سألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك، فأنزل الله تعالى {إن الصفا والمروة من شعائر الله فمن حج البيت أو اعتمر فلا جناح عليه أن يطوف بهما}. زاد سفيان وأبو معاوية عن هشام ما أتم الله حج امرئ ولا عمرته لم يطف بين الصفا والمروة.
‘উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বাল্যকালে একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, আল্লাহ্র বাণীঃ “সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হজ্জ কিংবা ‘উমরা সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করতে চায়, তার কোন গুনাহ্ নেই”- (আল-বাকারা : ১৫৮)। তাই সাফা-মারওয়াহ্র সা‘য়ী না করা আমি কারো পক্ষে অপরাধ মনে করি না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, তুমি যেমন বলছ, ব্যাপারটি তেমন হলে আয়াতটি অবশ্যই এমন হতঃ “সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হজ্জ কিংবা ‘উমরা সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করে, তার কোন পাপ নেই”- (আল-বাকারা : ১৫৮)। অর্থাৎ এ দু’টির মাঝে তাওয়াফ করলে কোন পাপ নেই। এ আয়াত তো আনসারদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। কেননা তারা মানাতের জন্য ইহ্রাম বাঁধত। আর মানাত কুদায়দের সামনে ছিল। তাই আনসাররা সাফা-মারওয়াহ্ তাওয়াফ করতে দ্বিধাবোধ করত। এরপর ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ ‘সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হজ্জ কিংবা ‘উমরা করতে চায় তার জন্য এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করায় কোন গুনাহ্ নেই’। সুফয়ান ও আবূ মু‘আবিয়া (রাঃ) হিশাম (রহঃ) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সাফা-মারওয়াহ্র মাঝে তাওয়াফ না করলে আল্লাহ্ কারো হজ্জ এবং ‘উমরাকে পূর্ণ করেন না।
‘উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বাল্যকালে একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, আল্লাহ্র বাণীঃ “সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হজ্জ কিংবা ‘উমরা সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করতে চায়, তার কোন গুনাহ্ নেই”- (আল-বাকারা : ১৫৮)। তাই সাফা-মারওয়াহ্র সা‘য়ী না করা আমি কারো পক্ষে অপরাধ মনে করি না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, তুমি যেমন বলছ, ব্যাপারটি তেমন হলে আয়াতটি অবশ্যই এমন হতঃ “সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হজ্জ কিংবা ‘উমরা সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করে, তার কোন পাপ নেই”- (আল-বাকারা : ১৫৮)। অর্থাৎ এ দু’টির মাঝে তাওয়াফ করলে কোন পাপ নেই। এ আয়াত তো আনসারদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। কেননা তারা মানাতের জন্য ইহ্রাম বাঁধত। আর মানাত কুদায়দের সামনে ছিল। তাই আনসাররা সাফা-মারওয়াহ্ তাওয়াফ করতে দ্বিধাবোধ করত। এরপর ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ ‘সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হজ্জ কিংবা ‘উমরা করতে চায় তার জন্য এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করায় কোন গুনাহ্ নেই’। সুফয়ান ও আবূ মু‘আবিয়া (রাঃ) হিশাম (রহঃ) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সাফা-মারওয়াহ্র মাঝে তাওয়াফ না করলে আল্লাহ্ কারো হজ্জ এবং ‘উমরাকে পূর্ণ করেন না।
حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك، عن هشام بن عروة، عن أبيه، أنه قال قلت لعائشة ـ رضى الله عنها ـ زوج النبي صلى الله عليه وسلم وأنا يومئذ حديث السن أرأيت قول الله تبارك وتعالى {إن الصفا والمروة من شعائر الله فمن حج البيت أو اعتمر فلا جناح عليه أن يطوف بهما} فلا أرى على أحد شيئا أن لا يطوف بهما. فقالت عائشة كلا، لو كانت كما تقول كانت فلا جناح عليه أن لا يطوف بهما. إنما أنزلت هذه الآية في الأنصار كانوا يهلون لمناة، وكانت مناة حذو قديد، وكانوا يتحرجون أن يطوفوا بين الصفا والمروة، فلما جاء الإسلام سألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك، فأنزل الله تعالى {إن الصفا والمروة من شعائر الله فمن حج البيت أو اعتمر فلا جناح عليه أن يطوف بهما}. زاد سفيان وأبو معاوية عن هشام ما أتم الله حج امرئ ولا عمرته لم يطف بين الصفا والمروة.