সহিহ বুখারী > জামারার নিকট সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় ফতোয়া প্রদান করা।
সহিহ বুখারী ১৭৩৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ يُصَلِّي فِي مَسْجِدِ الشَّجَرَةِ، وَإِذَا رَجَعَ صَلَّى بِذِي الْحُلَيْفَةِ بِبَطْنِ الْوَادِي وَبَاتَ حَتَّى يُصْبِحَ.
'আবদুল্লাহ ইব্নু 'আমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
বিদায় হজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সাওয়ারীতে) অবস্থান করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেনঃ একজন জিজ্ঞেস করলেন, আমি জানতাম না , তাই কুরবানী করার আগেই (মাথা) কামিয়ে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তুমি কুরবানী করে নাও, কোন দোষ নেই। অতঃপর অপর একজন এসে বললেন , আমি না জেনে কঙ্কর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ কঙ্কর মেরে নাও, কোন দোষ নেই। সেদিন যে কোন কাজ আগে পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই। (৮৩) ( আঃপ্রঃ ১৬১৭, ইঃফাঃ ১৬২৪)
সহিহ বুখারী ১৭৩৭
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَطْرُقُ أَهْلَهُ، كَانَ لاَ يَدْخُلُ إِلاَّ غُدْوَةً أَوْ عَشِيَّةً.
'আবদুল্লাহ 'ইব্নু 'আমর ইব্নুল 'আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
কুরবানীর দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খুতবা দেওয়ার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ। এরপর অপর এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ , আমি কুরবানী করার আগে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। আর কঙ্কর মারার আগে কুরবানী করে ফেলেছি। এরূপ অনেক কথা জিজ্ঞেস করা হয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই। সব কটির জবাবে তিনি এ কথাই বললেন। সেদিন তাঁকে যা-ই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল , উত্তরে তিনি বলেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই। (৮৩) (আঃপ্রঃ ১৬১৮, ইঃফাঃ ১৬২৫)
সহিহ বুখারী ১৭৩৮
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَارِبٍ، عَنْ جَابِرٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَطْرُقَ أَهْلَهُ لَيْلاً.
'আবদুল্লাহ ইব্নু 'আমর ইব্নুল 'আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উটনীর উপর অবস্থান করছিলেন। অতঃপর হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। যুহরী (রহঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনায় মা'মার (রহঃ) সালিহ (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। (৮৩) (আঃপ্রঃ ১৬১৮(ক), ইঃফাঃ ১৬২৬)
সহিহ বুখারী > মিনার দিবসগুলোতে খুৎবাহ প্রদান করা।
সহিহ বুখারী ১৭৩৯
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسًا ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ، فَأَبْصَرَ دَرَجَاتِ الْمَدِينَةِ أَوْضَعَ نَاقَتَهُ، وَإِنْ كَانَتْ دَابَّةً حَرَّكَهَا. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ زَادَ الْحَارِثُ بْنُ عُمَيْرٍ عَنْ حُمَيْدٍ حَرَّكَهَا مِنْ حُبِّهَا.
ইব্নু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর দিন লোকদের উদ্দেশে একটি খুৎবাহ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল ! আজকের এ দিনটি কোন্ দিন? সকলেই বললেন, সম্মানিত দিন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ শহরটি কোন শহর? তাঁরা বললেন, সম্মানিত শহর। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ মাসটি কোন মাস? তাঁরা বললেন, সম্মানিত মাস। তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের ইয্যত-সম্মান তোমাদের জন্য তেমনি সম্মানিত , যেমন সম্মানিত তোমাদের এ দিনটি , তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাস। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। পরে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ ! আমি কি (আপনার পয়গাম) পৌঁছিয়েছি ! হে আল্লাহ ! আমি কি পৌঁছিয়েছি? ইব্নু আব্বাস (রাঃ) বলেন, সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ , নিশ্চয়ই এ কথাগুলো ছিল তাঁর উম্মতের জন্য অসীয়ত। [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ ] উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। আমার পরে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। (৭০৭৯) (আঃপ্রঃ ১৬১৯, ইঃফাঃ ১৬২৭)
সহিহ বুখারী ১৭৪০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ جُدُرَاتٍ. تَابَعَهُ الْحَارِثُ بْنُ عُمَيْرٍ.
ইব্নু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে 'আরাফাত ময়দানে খুতবা দিতে শুনেছি। (১৮৪১, ১৮৪৩, ৫৮০৪, ৫৮৫৩) (আঃপ্রঃ ১৬২০, ইঃফাঃ ১৬২৮)
সহিহ বুখারী ১৭৪১
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِينَا، كَانَتِ الأَنْصَارُ إِذَا حَجُّوا فَجَاءُوا لَمْ يَدْخُلُوا مِنْ قِبَلِ أَبْوَابِ بُيُوتِهِمْ، وَلَكِنْ مِنْ ظُهُورِهَا، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ، فَدَخَلَ مِنْ قِبَلِ بَابِهِ، فَكَأَنَّهُ عُيِّرَ بِذَلِكَ، فَنَزَلَتْ {وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِهَا وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَى وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا}.
আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, কুরবানীর দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের খুত্বা দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা কি জান আজ কোন্ দিন? আমরা বললাম , আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সব চেয়ে বেশি জানেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নীরব হয়ে গেলেন। আমরা ধারণা করলাম সম্ভবতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নাম পাল্টিয়ে অন্য নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেনঃ এটি কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম , হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এটি কোন্ মাস? আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ই সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি নীরব হয়ে গেলেন। আমরা মনে করতে লাগলাম , হয়ত তিনি এর নাম পাল্টিয়ে অন্য নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেনঃ এ কি যিলহজ্জের মাস নয়? আমরা বললাম , হ্যাঁ। অতঃপর তিনি বললেনঃ এটি কোন্ শহর? আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ই সবচেয়ে বেশি জানেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নীরব হয়ে গেলেন। ফলে আমরা ভাবতে লাগলাম , হয়ত তিনি এর নাম বদলিয়ে অন্য নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেনঃ এ কি সম্মানিত শহর নয়? আমরা বললাম, নিশ্চয়ই। তোমাদের জান এবং তোমাদের মাল তোমাদের জন্য তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত এমন সম্মানিত যেমন সম্মান রয়েছে তোমাদের এ দিনের, তোমাদের এ মাসের এবং তোমাদের এ শহরের। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেনঃ শোন! আমি কি পৌঁছিয়েছি তোমাদের কাছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ (হে আল্লাহর রাসূল)। অতঃপর তিনি বললেনঃ প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (আমার দাওয়াত) পৌঁছিয়ে দেয়। কেননা, যাদের কাছে পৌঁছানো হবে তাদের মধ্যে অনেক ব্যক্তি এমন থাকে যে, শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী। তোমরা আমার পরে পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। (৬৭) (আঃপ্রঃ ১৬২১, ইঃফাঃ ১৬২৯)
সহিহ বুখারী ১৭৪২
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ، يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَنَوْمَهُ، فَإِذَا قَضَى نَهْمَتَهُ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ "
ইব্নু 'উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় অবস্থানকালে বললেনঃ তোমরা কি জান, এটি কোন্ দিন? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত দিন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কি জান, এটি কোন্ শহর? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত শহর। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কি জান, এটি কোন্ মাস? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত মাস। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ মাস, এ শহর , এ দিনটি তোমাদের জন্য যেমন সম্মানিত , তেমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জান, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের ইয্যত-আবরুকে তোমাদের পরস্পরের জন্য সম্মানিত করে দিয়েছেন। হিশাম ইব্নু গায (রহঃ) নাফি' (রহঃ)-এর মাধ্যমে ইব্নু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হজ্জ আদায়কালে কুরবানীর দিন জামারাতের মধ্যবর্তী স্থলে দাঁড়িয়ে এ কথাগুলো বলেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন যে, এটি হল হজ্জে আকবারের দিন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক। এরপর তিনি সাহাবীগণকে বিদায় জানালেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, এটি-ই বিদায় হজ্জ। (৪৪০৩, ৬০৪৩, ৬১৬৬, ৬৭৮৫, ৬৮৬৮, ৭০৭৭) (আঃপ্রঃ ১৬২২, ইঃফাঃ ১৬৩০)