সহিহ বুখারী > স্বামী ছাড়া অন্যের জন্য স্ত্রীলোকের শোক প্রকাশ।
সহিহ বুখারী ১২৭৯
حدثنا مسدد، حدثنا بشر بن المفضل، حدثنا سلمة بن علقمة، عن محمد بن سيرين، قال توفي ابن لأم عطية ـ رضى الله عنها ـ فلما كان اليوم الثالث دعت بصفرة، فتمسحت به وقالت نهينا أن نحد أكثر من ثلاث إلا بزوج.
মুহাম্মাদ ইব্নু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উম্মু আতিয়্যা (রাঃ)-এর এক পুত্রের মৃত্যু হল। তৃতীয় দিবসে তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করিয়ে ব্যবহার করলেন, আর বললেন, স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্য তিন দিবসের বেশি শোক পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইব্নু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উম্মু আতিয়্যা (রাঃ)-এর এক পুত্রের মৃত্যু হল। তৃতীয় দিবসে তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করিয়ে ব্যবহার করলেন, আর বললেন, স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্য তিন দিবসের বেশি শোক পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।
حدثنا مسدد، حدثنا بشر بن المفضل، حدثنا سلمة بن علقمة، عن محمد بن سيرين، قال توفي ابن لأم عطية ـ رضى الله عنها ـ فلما كان اليوم الثالث دعت بصفرة، فتمسحت به وقالت نهينا أن نحد أكثر من ثلاث إلا بزوج.
সহিহ বুখারী ১২৮২
See previous Hadith
যায়নাব বিন্তু আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
অতঃপর যায়নাব বিন্তু জাহ্শ (রাঃ)-এর ভ্রাতার মৃত্যু হলে আমি তাঁর নিকট গেলাম। তখন তিনি কিছু সুগন্ধি আনয়ন করিয়ে তা ব্যবহার করলেন। অতঃপর বললেন, সুগন্ধি ব্যবহারের আমার কোন প্রয়োজন নেই, তবু যেহেতু আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোন স্ত্রীলোকের পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)। [১২]
যায়নাব বিন্তু আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
অতঃপর যায়নাব বিন্তু জাহ্শ (রাঃ)-এর ভ্রাতার মৃত্যু হলে আমি তাঁর নিকট গেলাম। তখন তিনি কিছু সুগন্ধি আনয়ন করিয়ে তা ব্যবহার করলেন। অতঃপর বললেন, সুগন্ধি ব্যবহারের আমার কোন প্রয়োজন নেই, তবু যেহেতু আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোন স্ত্রীলোকের পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)। [১২]
See previous Hadith
সহিহ বুখারী ১২৮০
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا أيوب بن موسى، قال أخبرني حميد بن نافع، عن زينب ابنة أبي سلمة، قالت لما جاء نعى أبي سفيان من الشأم دعت أم حبيبة ـ رضى الله عنها ـ بصفرة في اليوم الثالث، فمسحت عارضيها وذراعيها وقالت إني كنت عن هذا لغنية، لولا أني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحد على ميت فوق ثلاث، إلا على زوج، فإنها تحد عليه أربعة أشهر وعشرا ".
যায়নাব বিন্ত আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন সিরিয়া হতে আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর মৃত্যুর খবর পৌছল, তার তৃতীয় দিবসে উম্মু হাবীবা (রাঃ) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করলেন এবং তাঁর উভয় গন্ড ও বাহুতে মথিত করলেন। অতঃপর বললেন, অবশ্য আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না, যদি আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং ক্বিয়ামাতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।
যায়নাব বিন্ত আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন সিরিয়া হতে আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর মৃত্যুর খবর পৌছল, তার তৃতীয় দিবসে উম্মু হাবীবা (রাঃ) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করলেন এবং তাঁর উভয় গন্ড ও বাহুতে মথিত করলেন। অতঃপর বললেন, অবশ্য আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না, যদি আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং ক্বিয়ামাতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا أيوب بن موسى، قال أخبرني حميد بن نافع، عن زينب ابنة أبي سلمة، قالت لما جاء نعى أبي سفيان من الشأم دعت أم حبيبة ـ رضى الله عنها ـ بصفرة في اليوم الثالث، فمسحت عارضيها وذراعيها وقالت إني كنت عن هذا لغنية، لولا أني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحد على ميت فوق ثلاث، إلا على زوج، فإنها تحد عليه أربعة أشهر وعشرا ".
সহিহ বুখারী ১২৮১
حدثنا إسماعيل، حدثني مالك، عن عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم، عن حميد بن نافع، عن زينب بنت أبي سلمة، أخبرته قالت، دخلت على أم حبيبة زوج النبي صلى الله عليه وسلم فقالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر تحد على ميت فوق ثلاث، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا ". ثم دخلت على زينب بنت جحش حين توفي أخوها، فدعت بطيب فمست ثم قالت ما لي بالطيب من حاجة، غير أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر يقول " لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر تحد على ميت فوق ثلاث، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا ".
যায়নাব বিন্তু আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী উম্মু হাবীবা (রাঃ)-এর নিকটে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (বৈধ)।
যায়নাব বিন্তু আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী উম্মু হাবীবা (রাঃ)-এর নিকটে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (বৈধ)।
حدثنا إسماعيل، حدثني مالك، عن عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم، عن حميد بن نافع، عن زينب بنت أبي سلمة، أخبرته قالت، دخلت على أم حبيبة زوج النبي صلى الله عليه وسلم فقالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر تحد على ميت فوق ثلاث، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا ". ثم دخلت على زينب بنت جحش حين توفي أخوها، فدعت بطيب فمست ثم قالت ما لي بالطيب من حاجة، غير أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر يقول " لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر تحد على ميت فوق ثلاث، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا ".
সহিহ বুখারী > কবর যিয়ারত।
সহিহ বুখারী ১২৮৩
حدثنا آدم، حدثنا شعبة، حدثنا ثابت، عن أنس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال مر النبي صلى الله عليه وسلم بامرأة تبكي عند قبر فقال " اتقي الله واصبري ". قالت إليك عني، فإنك لم تصب بمصيبتي، ولم تعرفه. فقيل لها إنه النبي صلى الله عليه وسلم. فأتت باب النبي صلى الله عليه وسلم فلم تجد عنده بوابين فقالت لم أعرفك. فقال " إنما الصبر عند الصدمة الأولى ".
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি কবরের পার্শ্বে ক্রন্দন করছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি আল্লাহ্কে ভয় কর বং ধৈর্য ধারণ কর। মহিলাটি বললেন, আমার নিকট থেকে প্রস্থান করুন। আপনার উপর তো আমার মত বিপদ উপস্থিত হয়নি। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চিনতে পারেননি। পরে তাকে বলা হল, তিনি তো নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরজায় উপস্থিত হলেন, তাঁর কাছ কোন প্রহরী ছিল না। তিনি নিবেদন করলেন, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেনঃ ধৈর্য তো বিপদের প্রাথমিক অবস্থাতেই (ধারণ করতে হয়)। [১৩]
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি কবরের পার্শ্বে ক্রন্দন করছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি আল্লাহ্কে ভয় কর বং ধৈর্য ধারণ কর। মহিলাটি বললেন, আমার নিকট থেকে প্রস্থান করুন। আপনার উপর তো আমার মত বিপদ উপস্থিত হয়নি। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চিনতে পারেননি। পরে তাকে বলা হল, তিনি তো নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরজায় উপস্থিত হলেন, তাঁর কাছ কোন প্রহরী ছিল না। তিনি নিবেদন করলেন, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেনঃ ধৈর্য তো বিপদের প্রাথমিক অবস্থাতেই (ধারণ করতে হয়)। [১৩]
حدثنا آدم، حدثنا شعبة، حدثنا ثابت، عن أنس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال مر النبي صلى الله عليه وسلم بامرأة تبكي عند قبر فقال " اتقي الله واصبري ". قالت إليك عني، فإنك لم تصب بمصيبتي، ولم تعرفه. فقيل لها إنه النبي صلى الله عليه وسلم. فأتت باب النبي صلى الله عليه وسلم فلم تجد عنده بوابين فقالت لم أعرفك. فقال " إنما الصبر عند الصدمة الأولى ".
সহিহ বুখারী > নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর বাণীঃ পরিবার-পরিজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়, যদি বিলাপ করা তার অভ্যাস হয়ে থাকে।
সহিহ বুখারী ১২৮৭
See previous Hadith
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তখন ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, ‘উমর (রাঃ) -ও এমন কিছু বলতেন। অতঃপর ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করলেন, ‘উমর (রাঃ)-এর সাথে মক্কা থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলাম। আমরা বাইদা (নামক স্থানে) উপস্থিত হলে ‘উমর (রাঃ) বাবলা বৃক্ষের ছায়ায় একটি কাফিলা দর্শন করতঃ আমাকে বললেন, গিয়ে দেখো এ কাফিলা কার? ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি গিয়ে দেখলাম সেখানে সুহাইব (রাঃ) আছেন। আমি তাঁকে তা অবহিত করলাম। তিনি বললেন, তাঁকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এসো। আমি সুহাইব (রাঃ)-এর নিকট আবার গেলাম এবং বললাম, চলুন, আমীরুল মু’মিনীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন। অতঃপর যখন ‘উমর (রাঃ) (ঘাতকের আঘাতে) আহত হলেন, তখন সুহাইব (রাঃ) তাঁর কাছে আগমন করতঃ এ বলে ক্রন্দন করতে লাগলেন, হায় আমার ভাই! হায় আমার বন্ধু! এতে ‘উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, তুমি আমার জন্য ক্রন্দন করছো? অথচ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির জন্য তার আপন জনের কোন কোন কান্নার কারণে অবশ্যই তাকে ‘আযাব দেয়া হয়।
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তখন ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, ‘উমর (রাঃ) -ও এমন কিছু বলতেন। অতঃপর ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করলেন, ‘উমর (রাঃ)-এর সাথে মক্কা থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলাম। আমরা বাইদা (নামক স্থানে) উপস্থিত হলে ‘উমর (রাঃ) বাবলা বৃক্ষের ছায়ায় একটি কাফিলা দর্শন করতঃ আমাকে বললেন, গিয়ে দেখো এ কাফিলা কার? ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি গিয়ে দেখলাম সেখানে সুহাইব (রাঃ) আছেন। আমি তাঁকে তা অবহিত করলাম। তিনি বললেন, তাঁকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এসো। আমি সুহাইব (রাঃ)-এর নিকট আবার গেলাম এবং বললাম, চলুন, আমীরুল মু’মিনীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন। অতঃপর যখন ‘উমর (রাঃ) (ঘাতকের আঘাতে) আহত হলেন, তখন সুহাইব (রাঃ) তাঁর কাছে আগমন করতঃ এ বলে ক্রন্দন করতে লাগলেন, হায় আমার ভাই! হায় আমার বন্ধু! এতে ‘উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, তুমি আমার জন্য ক্রন্দন করছো? অথচ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির জন্য তার আপন জনের কোন কোন কান্নার কারণে অবশ্যই তাকে ‘আযাব দেয়া হয়।
See previous Hadith
সহিহ বুখারী ১২৮৮
See previous Hadith
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘উমর (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট আমি ‘উমর (রাঃ)-এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ ‘উমর (রাঃ)-কে রহম করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ্ ঈমানদার (মৃত) ব্যক্তিকে তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন তার পরিজনের কান্নার কারণে। অতঃপর ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, (এ ব্যাপারে) আল্লাহর কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (ইরশাদ হয়েছে) : ‘বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না’- (আন‘আম ১৬৪)। তখন ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ই (বান্দাকে) হাসান এবং কাঁদান করান। রাবী ইব্নু আবূ মুলাইকা (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! (এ কথা শুনে) ইব্নু ‘উমর কোন মন্তব্য করলেন না।
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘উমর (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট আমি ‘উমর (রাঃ)-এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ ‘উমর (রাঃ)-কে রহম করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ্ ঈমানদার (মৃত) ব্যক্তিকে তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন তার পরিজনের কান্নার কারণে। অতঃপর ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, (এ ব্যাপারে) আল্লাহর কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (ইরশাদ হয়েছে) : ‘বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না’- (আন‘আম ১৬৪)। তখন ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ই (বান্দাকে) হাসান এবং কাঁদান করান। রাবী ইব্নু আবূ মুলাইকা (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! (এ কথা শুনে) ইব্নু ‘উমর কোন মন্তব্য করলেন না।
See previous Hadith
সহিহ বুখারী ১২৮৫
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا أبو عامر، حدثنا فليح بن سليمان، عن هلال بن علي، عن أنس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال شهدنا بنتا لرسول الله صلى الله عليه وسلم قال ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس على القبر ـ قال فرأيت عينيه تدمعان قال ـ فقال " هل منكم رجل لم يقارف الليلة ". فقال أبو طلحة أنا. قال " فانزل ". قال فنزل في قبرها.
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক কন্যা [উম্মু কুলসুম (রাঃ)]-এর জানাযায় উপস্থিত হলাম। আল্লাহর রসূল কবরের পার্শ্বে উপবিষ্ট ছিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আমি তাঁর চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে দেখলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে আজ রাতে স্ত্রী মিলন করোনি? আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, আমি। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তা হলে তুমি (কবরে) অবতরণ কর। রাবী বলেন, তখন তিনি আবূ তালহা (রাঃ) তাঁর কবরে অবতরণ করলেন।
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক কন্যা [উম্মু কুলসুম (রাঃ)]-এর জানাযায় উপস্থিত হলাম। আল্লাহর রসূল কবরের পার্শ্বে উপবিষ্ট ছিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আমি তাঁর চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে দেখলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে আজ রাতে স্ত্রী মিলন করোনি? আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, আমি। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তা হলে তুমি (কবরে) অবতরণ কর। রাবী বলেন, তখন তিনি আবূ তালহা (রাঃ) তাঁর কবরে অবতরণ করলেন।
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا أبو عامر، حدثنا فليح بن سليمان، عن هلال بن علي، عن أنس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال شهدنا بنتا لرسول الله صلى الله عليه وسلم قال ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس على القبر ـ قال فرأيت عينيه تدمعان قال ـ فقال " هل منكم رجل لم يقارف الليلة ". فقال أبو طلحة أنا. قال " فانزل ". قال فنزل في قبرها.
সহিহ বুখারী ১২৮৪
حدثنا عبدان، ومحمد، قالا أخبرنا عبد الله، أخبرنا عاصم بن سليمان، عن أبي عثمان، قال حدثني أسامة بن زيد ـ رضى الله عنهما ـ قال أرسلت ابنة النبي صلى الله عليه وسلم إليه إن ابنا لي قبض فائتنا. فأرسل يقرئ السلام ويقول " إن لله ما أخذ وله ما أعطى وكل عنده بأجل مسمى، فلتصبر ولتحتسب ". فأرسلت إليه تقسم عليه ليأتينها، فقام ومعه سعد بن عبادة ومعاذ بن جبل وأبى بن كعب وزيد بن ثابت ورجال، فرفع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الصبي ونفسه تتقعقع ـ قال حسبته أنه قال ـ كأنها شن. ففاضت عيناه. فقال سعد يا رسول الله ما هذا فقال " هذه رحمة جعلها الله في قلوب عباده، وإنما يرحم الله من عباده الرحماء ".
উসামাহ ইব্নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈকা কন্যা (যায়নাব) তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের নিকট আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাঁকে) সালাম দিবে এবং বলবেঃ আল্লাহরই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের অপেক্ষায় থাকে। তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আগমন করেন। তখন তিনি দন্ডায়মান হলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সা’দ ইব্নু উবাদাহ, মু‘আয ইব্নু জাবাল, উবাই ইব্নু কা’ব, যাইদ ইব্নু সাবিত (রাঃ) এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তুলে দেয়া হল। তখন সে ছটফট করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা ধারনা যে, তিনি এ কথা বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (শব্দ হচ্ছিল)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দু’ চক্ষু বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সা’দ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! একি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন। আর আল্লাহ্ তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।
উসামাহ ইব্নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈকা কন্যা (যায়নাব) তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের নিকট আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাঁকে) সালাম দিবে এবং বলবেঃ আল্লাহরই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের অপেক্ষায় থাকে। তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আগমন করেন। তখন তিনি দন্ডায়মান হলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সা’দ ইব্নু উবাদাহ, মু‘আয ইব্নু জাবাল, উবাই ইব্নু কা’ব, যাইদ ইব্নু সাবিত (রাঃ) এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তুলে দেয়া হল। তখন সে ছটফট করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা ধারনা যে, তিনি এ কথা বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (শব্দ হচ্ছিল)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দু’ চক্ষু বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সা’দ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! একি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন। আর আল্লাহ্ তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।
حدثنا عبدان، ومحمد، قالا أخبرنا عبد الله، أخبرنا عاصم بن سليمان، عن أبي عثمان، قال حدثني أسامة بن زيد ـ رضى الله عنهما ـ قال أرسلت ابنة النبي صلى الله عليه وسلم إليه إن ابنا لي قبض فائتنا. فأرسل يقرئ السلام ويقول " إن لله ما أخذ وله ما أعطى وكل عنده بأجل مسمى، فلتصبر ولتحتسب ". فأرسلت إليه تقسم عليه ليأتينها، فقام ومعه سعد بن عبادة ومعاذ بن جبل وأبى بن كعب وزيد بن ثابت ورجال، فرفع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الصبي ونفسه تتقعقع ـ قال حسبته أنه قال ـ كأنها شن. ففاضت عيناه. فقال سعد يا رسول الله ما هذا فقال " هذه رحمة جعلها الله في قلوب عباده، وإنما يرحم الله من عباده الرحماء ".
সহিহ বুখারী ১২৮৬
حدثنا عبدان، حدثنا عبد الله، أخبرنا ابن جريج، قال أخبرني عبد الله بن عبيد الله بن أبي مليكة، قال توفيت ابنة لعثمان ـ رضى الله عنه ـ بمكة وجئنا لنشهدها، وحضرها ابن عمر وابن عباس ـ رضى الله عنهم ـ وإني لجالس بينهما ـ أو قال جلست إلى أحدهما. ثم جاء الآخر، فجلس إلى جنبي فقال عبد الله بن عمر ـ رضى الله عنهما ـ لعمرو بن عثمان ألا تنهى عن البكاء، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " إن الميت ليعذب ببكاء أهله عليه ". فقال ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قد كان عمر ـ رضى الله عنه ـ يقول بعض ذلك، ثم حدث قال صدرت مع عمر ـ رضى الله عنه ـ من مكة حتى إذا كنا بالبيداء، إذا هو بركب تحت ظل سمرة فقال اذهب، فانظر من هؤلاء الركب قال فنظرت فإذا صهيب، فأخبرته فقال ادعه لي. فرجعت إلى صهيب فقلت ارتحل فالحق أمير المؤمنين. فلما أصيب عمر دخل صهيب يبكي يقول واأخاه، واصاحباه. فقال عمر ـ رضى الله عنه ـ يا صهيب أتبكي على وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " إن الميت يعذب ببعض بكاء أهله عليه ". قال ابن عباس ـ رضى الله عنهما فلما مات عمر ـ رضى الله عنه ـ ذكرت ذلك لعائشة ـ رضى الله عنها ـ فقالت رحم الله عمر، والله ما حدث رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله ليعذب المؤمن ببكاء أهله عليه. ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " إن الله ليزيد الكافر عذابا ببكاء أهله عليه ". وقالت حسبكم القرآن {ولا تزر وازرة وزر أخرى}. قال ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ عند ذلك والله هو أضحك وأبكى. قال ابن أبي مليكة والله ما قال ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ شيئا.
‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উবাইদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ মুলাইকা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মক্কায় উসমান (রাঃ)-এর জনৈকা কন্যার মৃত্যু হল। আমরা সেখানে (জানাযায়) অংশগ্রহন করার জন্য গেলাম। ইব্নু ‘উমর এবং ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) -ও সেখানে উপস্থিত হলেন। আমি তাঁদের দু’জনের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম, অথবা তিনি বলেছেন, আমি তাঁদের একজনের পার্শ্বে গিয়ে উপবেশন করলাম, পরে অন্যজন আগমন করে আমার পার্শ্বে উপবেশন করলেন। (ক্রন্দনের শব্দ শুনে) ইব্নু ‘উমর (রাঃ) ‘আমর ইব্নু ‘উসমানকে বললেন, তুমি কেন ক্রন্দন করতে নিষেধ করছ না? কেননা, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনদের কান্নার কারণে ‘আযাব দেয়া হয়।’
‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উবাইদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ মুলাইকা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মক্কায় উসমান (রাঃ)-এর জনৈকা কন্যার মৃত্যু হল। আমরা সেখানে (জানাযায়) অংশগ্রহন করার জন্য গেলাম। ইব্নু ‘উমর এবং ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) -ও সেখানে উপস্থিত হলেন। আমি তাঁদের দু’জনের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম, অথবা তিনি বলেছেন, আমি তাঁদের একজনের পার্শ্বে গিয়ে উপবেশন করলাম, পরে অন্যজন আগমন করে আমার পার্শ্বে উপবেশন করলেন। (ক্রন্দনের শব্দ শুনে) ইব্নু ‘উমর (রাঃ) ‘আমর ইব্নু ‘উসমানকে বললেন, তুমি কেন ক্রন্দন করতে নিষেধ করছ না? কেননা, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনদের কান্নার কারণে ‘আযাব দেয়া হয়।’
حدثنا عبدان، حدثنا عبد الله، أخبرنا ابن جريج، قال أخبرني عبد الله بن عبيد الله بن أبي مليكة، قال توفيت ابنة لعثمان ـ رضى الله عنه ـ بمكة وجئنا لنشهدها، وحضرها ابن عمر وابن عباس ـ رضى الله عنهم ـ وإني لجالس بينهما ـ أو قال جلست إلى أحدهما. ثم جاء الآخر، فجلس إلى جنبي فقال عبد الله بن عمر ـ رضى الله عنهما ـ لعمرو بن عثمان ألا تنهى عن البكاء، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " إن الميت ليعذب ببكاء أهله عليه ". فقال ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قد كان عمر ـ رضى الله عنه ـ يقول بعض ذلك، ثم حدث قال صدرت مع عمر ـ رضى الله عنه ـ من مكة حتى إذا كنا بالبيداء، إذا هو بركب تحت ظل سمرة فقال اذهب، فانظر من هؤلاء الركب قال فنظرت فإذا صهيب، فأخبرته فقال ادعه لي. فرجعت إلى صهيب فقلت ارتحل فالحق أمير المؤمنين. فلما أصيب عمر دخل صهيب يبكي يقول واأخاه، واصاحباه. فقال عمر ـ رضى الله عنه ـ يا صهيب أتبكي على وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " إن الميت يعذب ببعض بكاء أهله عليه ". قال ابن عباس ـ رضى الله عنهما فلما مات عمر ـ رضى الله عنه ـ ذكرت ذلك لعائشة ـ رضى الله عنها ـ فقالت رحم الله عمر، والله ما حدث رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله ليعذب المؤمن ببكاء أهله عليه. ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " إن الله ليزيد الكافر عذابا ببكاء أهله عليه ". وقالت حسبكم القرآن {ولا تزر وازرة وزر أخرى}. قال ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ عند ذلك والله هو أضحك وأبكى. قال ابن أبي مليكة والله ما قال ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ شيئا.
সহিহ বুখারী ১২৮৯
حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك، عن عبد الله بن أبي بكر، عن أبيه، عن عمرة بنت عبد الرحمن، أنها أخبرته أنها، سمعت عائشة ـ رضى الله عنها ـ زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت إنما مر رسول الله صلى الله عليه وسلم على يهودية يبكي عليها أهلها فقال " إنهم ليبكون عليها، وإنها لتعذب في قبرها ".
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোকের (কবরের) পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যার পরিবারের লোকেরা তার জন্য ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেনঃ তারা তো তার জন্য ক্রন্দন করছে। অথচ তাকে কবরে ‘আযাব দেয়া হচ্ছে।
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোকের (কবরের) পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যার পরিবারের লোকেরা তার জন্য ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেনঃ তারা তো তার জন্য ক্রন্দন করছে। অথচ তাকে কবরে ‘আযাব দেয়া হচ্ছে।
حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك، عن عبد الله بن أبي بكر، عن أبيه، عن عمرة بنت عبد الرحمن، أنها أخبرته أنها، سمعت عائشة ـ رضى الله عنها ـ زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت إنما مر رسول الله صلى الله عليه وسلم على يهودية يبكي عليها أهلها فقال " إنهم ليبكون عليها، وإنها لتعذب في قبرها ".
সহিহ বুখারী ১২৯০
حدثنا إسماعيل بن خليل، حدثنا علي بن مسهر، حدثنا أبو إسحاق ـ وهو الشيباني ـ عن أبي بردة، عن أبيه، قال لما أصيب عمر ـ رضى الله عنه ـ جعل صهيب يقول واأخاه. فقال عمر أما علمت أن النبي صلى الله عليه وسلم قال " إن الميت ليعذب ببكاء الحى ".
আবূ বুরদার পিতা (আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন ‘উমর (রাঃ) আহত হলেন, তখন সুহাইব (রাঃ) হায়! আমার ভাই! বলতে লাগলেন। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তুমি কি অবহিত নও যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জীবিতদের কান্নার কারণে অবশ্যই মৃতদের ‘আযাব দেয়া হয়?
আবূ বুরদার পিতা (আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন ‘উমর (রাঃ) আহত হলেন, তখন সুহাইব (রাঃ) হায়! আমার ভাই! বলতে লাগলেন। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তুমি কি অবহিত নও যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জীবিতদের কান্নার কারণে অবশ্যই মৃতদের ‘আযাব দেয়া হয়?
حدثنا إسماعيل بن خليل، حدثنا علي بن مسهر، حدثنا أبو إسحاق ـ وهو الشيباني ـ عن أبي بردة، عن أبيه، قال لما أصيب عمر ـ رضى الله عنه ـ جعل صهيب يقول واأخاه. فقال عمر أما علمت أن النبي صلى الله عليه وسلم قال " إن الميت ليعذب ببكاء الحى ".
সহিহ বুখারী > মৃতের জন্য বিলাপ করা মাকরূহ। [১৪]
সহিহ বুখারী ১২৯১
حدثنا أبو نعيم، حدثنا سعيد بن عبيد، عن علي بن ربيعة، عن المغيرة ـ رضى الله عنه ـ قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " إن كذبا على ليس ككذب على أحد، من كذب على متعمدا فليتبوأ مقعده من النار ". سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " من نيح عليه يعذب بما نيح عليه ".
মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মত নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। [মুগীরা (রাঃ) আরও বলেছেন,] আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরও বলতে শুনেছি, যে (মৃত) ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর ‘আযাব দেয়া হবে।
মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মত নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। [মুগীরা (রাঃ) আরও বলেছেন,] আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরও বলতে শুনেছি, যে (মৃত) ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর ‘আযাব দেয়া হবে।
حدثنا أبو نعيم، حدثنا سعيد بن عبيد، عن علي بن ربيعة، عن المغيرة ـ رضى الله عنه ـ قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " إن كذبا على ليس ككذب على أحد، من كذب على متعمدا فليتبوأ مقعده من النار ". سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " من نيح عليه يعذب بما نيح عليه ".
সহিহ বুখারী ১২৯২
حدثنا عبدان، قال أخبرني أبي، عن شعبة، عن قتادة، عن سعيد بن المسيب، عن ابن عمر، عن أبيه ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الميت يعذب في قبره بما نيح عليه ". تابعه عبد الأعلى حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد حدثنا قتادة. وقال آدم عن شعبة " الميت يعذب ببكاء الحى عليه ".
‘উমর (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য কৃত বিলাপের বিষয়ের উপর কবরে শাস্তি দেয়া হয়। আবদুল আ‘লা (রহঃ) ......কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণনায় আবদান (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। আদম (রহঃ) শু’বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য জীবিতদের কান্নার কারণে ‘আযাব দেয়া হয়।
‘উমর (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য কৃত বিলাপের বিষয়ের উপর কবরে শাস্তি দেয়া হয়। আবদুল আ‘লা (রহঃ) ......কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণনায় আবদান (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। আদম (রহঃ) শু’বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য জীবিতদের কান্নার কারণে ‘আযাব দেয়া হয়।
حدثنا عبدان، قال أخبرني أبي، عن شعبة، عن قتادة، عن سعيد بن المسيب، عن ابن عمر، عن أبيه ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الميت يعذب في قبره بما نيح عليه ". تابعه عبد الأعلى حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد حدثنا قتادة. وقال آدم عن شعبة " الميت يعذب ببكاء الحى عليه ".