সহিহ বুখারী > যিনি আসরের ও ফজরের পর ছাড়া অন্য সময়ে সালাত আদায় মাকরূহ মনে করে না।
সহিহ বুখারী ৫৮৯
حدثنا أبو النعمان، حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن نافع، عن ابن عمر، قال أصلي كما رأيت أصحابي يصلون، لا أنهى أحدا يصلي بليل ولا نهار ما شاء، غير أن لا تحروا طلوع الشمس ولا غروبها.
ইবনু 'উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আমার সাথীদের যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি সেভাবেই আমি সালাত আদায় করি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে সালাতের ইচ্ছা করা ভিন্ন রাতে বা দিনে যে কোন সময়ে কেউ সালাত আদায় করতে চাইলে আমি নিষেধ করি না।
ইবনু 'উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আমার সাথীদের যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি সেভাবেই আমি সালাত আদায় করি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে সালাতের ইচ্ছা করা ভিন্ন রাতে বা দিনে যে কোন সময়ে কেউ সালাত আদায় করতে চাইলে আমি নিষেধ করি না।
حدثنا أبو النعمان، حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن نافع، عن ابن عمر، قال أصلي كما رأيت أصحابي يصلون، لا أنهى أحدا يصلي بليل ولا نهار ما شاء، غير أن لا تحروا طلوع الشمس ولا غروبها.
সহিহ বুখারী > আসরের পর কাযা বা অনূরুপ কোন সালাত আদায় করা।
সহিহ বুখারী ৫৯১
حدثنا مسدد، قال حدثنا يحيى، قال حدثنا هشام، قال أخبرني أبي قالت، عائشة ابن أختي ما ترك النبي صلى الله عليه وسلم السجدتين بعد العصر عندي قط.
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হে ভাগ্নে! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট উপস্থিত থাকার কালে ‘আসরের পরবর্তী দু’রাক’আত কখনও ছাড়েননি।
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হে ভাগ্নে! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট উপস্থিত থাকার কালে ‘আসরের পরবর্তী দু’রাক’আত কখনও ছাড়েননি।
حدثنا مسدد، قال حدثنا يحيى، قال حدثنا هشام، قال أخبرني أبي قالت، عائشة ابن أختي ما ترك النبي صلى الله عليه وسلم السجدتين بعد العصر عندي قط.
সহিহ বুখারী ৫৯২
حدثنا موسى بن إسماعيل، قال حدثنا عبد الواحد، قال حدثنا الشيباني، قال حدثنا عبد الرحمن بن الأسود، عن أبيه، عن عائشة، قالت ركعتان لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعهما سرا ولا علانية ركعتان قبل صلاة الصبح، وركعتان بعد العصر.
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, দু’রাকাত সালাত আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন অবস্থাতেই ছাড়তেন না। তাহলো ফজরের সালাতের পূর্বের দু’রাকাত ও আসরের পরের দু’রাকাত।
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, দু’রাকাত সালাত আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন অবস্থাতেই ছাড়তেন না। তাহলো ফজরের সালাতের পূর্বের দু’রাকাত ও আসরের পরের দু’রাকাত।
حدثنا موسى بن إسماعيل، قال حدثنا عبد الواحد، قال حدثنا الشيباني، قال حدثنا عبد الرحمن بن الأسود، عن أبيه، عن عائشة، قالت ركعتان لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعهما سرا ولا علانية ركعتان قبل صلاة الصبح، وركعتان بعد العصر.
সহিহ বুখারী ৫৯৩
حدثنا محمد بن عرعرة، قال حدثنا شعبة، عن أبي إسحاق، قال رأيت الأسود ومسروقا شهدا على عائشة قالت ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يأتيني في يوم بعد العصر إلا صلى ركعتين.
’আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দিনই আসরের পর আমার নিকট আসতেন সে দিনই দু’রাকাত সালাত আদায় করতেন।
’আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দিনই আসরের পর আমার নিকট আসতেন সে দিনই দু’রাকাত সালাত আদায় করতেন।
حدثنا محمد بن عرعرة، قال حدثنا شعبة، عن أبي إسحاق، قال رأيت الأسود ومسروقا شهدا على عائشة قالت ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يأتيني في يوم بعد العصر إلا صلى ركعتين.
সহিহ বুখারী ৫৯০
حدثنا أبو نعيم، قال حدثنا عبد الواحد بن أيمن، قال حدثني أبي أنه، سمع عائشة، قالت والذي ذهب به ما تركهما حتى لقي الله، وما لقي الله تعالى حتى ثقل عن الصلاة، وكان يصلي كثيرا من صلاته قاعدا ـ تعني الركعتين بعد العصر ـ وكان النبي صلى الله عليه وسلم يصليهما، ولا يصليهما في المسجد مخافة أن يثقل على أمته، وكان يحب ما يخفف عنهم.
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, সে মহান সত্তার কসম, যিনি তাকে (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ) উঠিয়ে নিয়েছেন, আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি দু’রাকাত সালাত কখনই ছাড়েননি। আর সালাতে দাঁড়ানো যখন তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি, তখনই তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন। তিনি তাঁর এ সালাত অধিকাংশ সময়ে বসে বসেই আদায় করতেন। ‘আয়িশা (রাঃ) এ সালাত দ্বারা ‘আসরের পরবর্তী দু’রাকাতের কথা বুঝিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দু’রাকাত সালাত আদায় করতেন, তবে উম্মাতের উপর বোঝা হয়ে পড়ার আশংকায় তা মসজিদে আদায় করতেন না। কেননা, উম্মতের জন্য যা সহজ হয় তাই তাঁর কাম্য ছিল।
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, সে মহান সত্তার কসম, যিনি তাকে (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ) উঠিয়ে নিয়েছেন, আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি দু’রাকাত সালাত কখনই ছাড়েননি। আর সালাতে দাঁড়ানো যখন তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি, তখনই তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন। তিনি তাঁর এ সালাত অধিকাংশ সময়ে বসে বসেই আদায় করতেন। ‘আয়িশা (রাঃ) এ সালাত দ্বারা ‘আসরের পরবর্তী দু’রাকাতের কথা বুঝিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দু’রাকাত সালাত আদায় করতেন, তবে উম্মাতের উপর বোঝা হয়ে পড়ার আশংকায় তা মসজিদে আদায় করতেন না। কেননা, উম্মতের জন্য যা সহজ হয় তাই তাঁর কাম্য ছিল।
حدثنا أبو نعيم، قال حدثنا عبد الواحد بن أيمن، قال حدثني أبي أنه، سمع عائشة، قالت والذي ذهب به ما تركهما حتى لقي الله، وما لقي الله تعالى حتى ثقل عن الصلاة، وكان يصلي كثيرا من صلاته قاعدا ـ تعني الركعتين بعد العصر ـ وكان النبي صلى الله عليه وسلم يصليهما، ولا يصليهما في المسجد مخافة أن يثقل على أمته، وكان يحب ما يخفف عنهم.
সহিহ বুখারী > মেঘলা দিনে জলদি সালাত আদায় করা।
সহিহ বুখারী ৫৯৪
حدثنا معاذ بن فضالة، قال حدثنا هشام، عن يحيى ـ هو ابن أبي كثير ـ عن أبي قلابة، أن أبا المليح، حدثه قال كنا مع بريدة في يوم ذي غيم فقال بكروا بالصلاة فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من ترك صلاة العصر حبط عمله ".
আবূ মালীহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক মেঘলা দিনে আমরা বুরাইদা (রাঃ) -এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, শীঘ্র সালাত আদায় করে নাও। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন, যে ব্যক্তি আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার সমস্ত আমাল বিনষ্ট হয়ে যায়।
আবূ মালীহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক মেঘলা দিনে আমরা বুরাইদা (রাঃ) -এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, শীঘ্র সালাত আদায় করে নাও। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন, যে ব্যক্তি আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার সমস্ত আমাল বিনষ্ট হয়ে যায়।
حدثنا معاذ بن فضالة، قال حدثنا هشام، عن يحيى ـ هو ابن أبي كثير ـ عن أبي قلابة، أن أبا المليح، حدثه قال كنا مع بريدة في يوم ذي غيم فقال بكروا بالصلاة فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من ترك صلاة العصر حبط عمله ".
সহিহ বুখারী > সময় চলে যাওয়ার পর আযান দেয়া।
সহিহ বুখারী ৫৯৫
حدثنا عمران بن ميسرة، قال حدثنا محمد بن فضيل، قال حدثنا حصين، عن عبد الله بن أبي قتادة، عن أبيه، قال سرنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ليلة فقال بعض القوم لو عرست بنا يا رسول الله. قال " أخاف أن تناموا عن الصلاة ". قال بلال أنا أوقظكم. فاضطجعوا وأسند بلال ظهره إلى راحلته، فغلبته عيناه فنام، فاستيقظ النبي صلى الله عليه وسلم وقد طلع حاجب الشمس فقال " يا بلال أين ما قلت ". قال ما ألقيت على نومة مثلها قط. قال " إن الله قبض أرواحكم حين شاء، وردها عليكم حين شاء، يا بلال قم فأذن بالناس بالصلاة ". فتوضأ فلما ارتفعت الشمس وابياضت قام فصلى.
আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক রাতে আমরা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে ছিলাম। যাত্রী দলের কেউ কেউ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! রাতের এ শেষ প্রহরের আমদের নিয়ে যদি একটু বিশ্রাম নিতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার ভয় হচ্ছে সালাতের সময়ও তোমরা ঘুমিয়ে থকবে। বিলাল (রাঃ) বললেন, আমি আপনাদের জাগিয়ে দিব। কাজেই সবাই শুয়ে পড়লেন। এ দিকে বিলাল (রাঃ) তার হাওদার গায়ে একটু হেলান দিয়ে বসলেন। এতে তাঁর দু’চোখ মুদে আসলো। ফলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। সূর্য কেবল উঠতে শুরু করেছে, এমন সময় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগ্রত হলেন এবং বিলাল (রাঃ) -কে ডেকে বললেন, হে বিলাল! তোমার কথা গেলো কোথায়? বিলাল (রাঃ) বললেন, আমার এতো অধিক ঘুম আর কখনও পায়নি। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তায়ালা যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তোমাদের রূহ কবয করে নিয়েছেন; আবার যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তা তোমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। হে বিলাল! উঠ, লোকদের জন্য সালাতের আযান দাও। অতঃপর তিনি উযু করলেন এবং সূর্য যখন উপরে উঠল এবং উজ্জ্বল হলো তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন।
আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক রাতে আমরা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে ছিলাম। যাত্রী দলের কেউ কেউ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! রাতের এ শেষ প্রহরের আমদের নিয়ে যদি একটু বিশ্রাম নিতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার ভয় হচ্ছে সালাতের সময়ও তোমরা ঘুমিয়ে থকবে। বিলাল (রাঃ) বললেন, আমি আপনাদের জাগিয়ে দিব। কাজেই সবাই শুয়ে পড়লেন। এ দিকে বিলাল (রাঃ) তার হাওদার গায়ে একটু হেলান দিয়ে বসলেন। এতে তাঁর দু’চোখ মুদে আসলো। ফলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। সূর্য কেবল উঠতে শুরু করেছে, এমন সময় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগ্রত হলেন এবং বিলাল (রাঃ) -কে ডেকে বললেন, হে বিলাল! তোমার কথা গেলো কোথায়? বিলাল (রাঃ) বললেন, আমার এতো অধিক ঘুম আর কখনও পায়নি। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তায়ালা যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তোমাদের রূহ কবয করে নিয়েছেন; আবার যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তা তোমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। হে বিলাল! উঠ, লোকদের জন্য সালাতের আযান দাও। অতঃপর তিনি উযু করলেন এবং সূর্য যখন উপরে উঠল এবং উজ্জ্বল হলো তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন।
حدثنا عمران بن ميسرة، قال حدثنا محمد بن فضيل، قال حدثنا حصين، عن عبد الله بن أبي قتادة، عن أبيه، قال سرنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ليلة فقال بعض القوم لو عرست بنا يا رسول الله. قال " أخاف أن تناموا عن الصلاة ". قال بلال أنا أوقظكم. فاضطجعوا وأسند بلال ظهره إلى راحلته، فغلبته عيناه فنام، فاستيقظ النبي صلى الله عليه وسلم وقد طلع حاجب الشمس فقال " يا بلال أين ما قلت ". قال ما ألقيت على نومة مثلها قط. قال " إن الله قبض أرواحكم حين شاء، وردها عليكم حين شاء، يا بلال قم فأذن بالناس بالصلاة ". فتوضأ فلما ارتفعت الشمس وابياضت قام فصلى.