সুনানে ইবনে মাজাহ > অধিক সত্যবাদী লোকের স্বপ্ন অধিক পরিমাণে সত্য হয়
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯১৭
حدثنا أحمد بن عمرو بن السرح المصري، حدثنا بشر بن بكر، حدثنا الأوزاعي، عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إذا قرب الزمان لم تكد رؤيا المؤمن تكذب وأصدقهم رؤيا أصدقهم حديثا ورؤيا المسلم جزء من ستة وأربعين جزءا من النبوة " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শেষ যমানায় মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন কদাচিৎ অবাস্তব হবে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অধিক সত্যবাদী তার স্বপ্নও অধিক সত্য হবে। মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। [৩২৪৯]
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শেষ যমানায় মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন কদাচিৎ অবাস্তব হবে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অধিক সত্যবাদী তার স্বপ্নও অধিক সত্য হবে। মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। [৩২৪৯]
حدثنا أحمد بن عمرو بن السرح المصري، حدثنا بشر بن بكر، حدثنا الأوزاعي، عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إذا قرب الزمان لم تكد رؤيا المؤمن تكذب وأصدقهم رؤيا أصدقهم حديثا ورؤيا المسلم جزء من ستة وأربعين جزءا من النبوة " .
সুনানে ইবনে মাজাহ > স্বপ্নের ব্যাখ্যা
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯২২
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا محمد بن بشر، حدثنا محمد بن عمرو، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " رأيت في يدي سوارين من ذهب فنفختهما . فأولتهما هذين الكذابين مسيلمة والعنسي " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি স্বপ্নে আমার হাতে দুটি সোনার চুড়ি দেখতে পেলাম। আমি ফুঁ দিতেই তা উড়ে চলে গেলো। আমি এই চুড়িদ্বয়ের এ ব্যাখ্যা করেছি যে, নবুয়াতের দু’ মিথ্যা দাবিদারের আবির্ভাব হবে। তারা হলোঃ মুসায়লামা ও আনসী। [৩২৫৪]
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি স্বপ্নে আমার হাতে দুটি সোনার চুড়ি দেখতে পেলাম। আমি ফুঁ দিতেই তা উড়ে চলে গেলো। আমি এই চুড়িদ্বয়ের এ ব্যাখ্যা করেছি যে, নবুয়াতের দু’ মিথ্যা দাবিদারের আবির্ভাব হবে। তারা হলোঃ মুসায়লামা ও আনসী। [৩২৫৪]
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا محمد بن بشر، حدثنا محمد بن عمرو، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " رأيت في يدي سوارين من ذهب فنفختهما . فأولتهما هذين الكذابين مسيلمة والعنسي " .
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯২৪
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو عامر، أخبرني ابن جريج، أخبرني موسى بن عقبة، أخبرني سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، عن رؤيا النبي، ـ صلى الله عليه وسلم ـ قال " رأيت امرأة سوداء ثائرة الرأس خرجت من المدينة حتى قامت بالمهيعة وهي الجحفة . فأولتها وباء بالمدينة فنقل إلى الجحفة " .
আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, এলোমেলো চুলবিশিষ্ট এক কৃষ্ণকায় নারী নির্গত হয়ে মাহইয়াআ অর্থাৎ জুহফায় পৌছে যাত্রাবিরতি করলো। আমি স্বপ্নের এই ব্যাখ্যা করলাম যে, মদীনার মহামারী জুহফায় স্থানান্তরিত হয়েছে। [৩২৫৬]
আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, এলোমেলো চুলবিশিষ্ট এক কৃষ্ণকায় নারী নির্গত হয়ে মাহইয়াআ অর্থাৎ জুহফায় পৌছে যাত্রাবিরতি করলো। আমি স্বপ্নের এই ব্যাখ্যা করলাম যে, মদীনার মহামারী জুহফায় স্থানান্তরিত হয়েছে। [৩২৫৬]
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو عامر، أخبرني ابن جريج، أخبرني موسى بن عقبة، أخبرني سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، عن رؤيا النبي، ـ صلى الله عليه وسلم ـ قال " رأيت امرأة سوداء ثائرة الرأس خرجت من المدينة حتى قامت بالمهيعة وهي الجحفة . فأولتها وباء بالمدينة فنقل إلى الجحفة " .
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯২৬
حدثنا علي بن محمد، حدثنا وكيع، حدثنا أبو بكر الهذلي، عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " أكره الغل وأحب القيد القيد ثبات في الدين " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি স্বপ্নে গলায় চাকতি দেখা অপছন্দ করি, কিন্তু আংটা পছন্দ করি। কারণ আংটা অর্থ দ্বীনের উপর অবিচল থাকা। [৩২৫৮]
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি স্বপ্নে গলায় চাকতি দেখা অপছন্দ করি, কিন্তু আংটা পছন্দ করি। কারণ আংটা অর্থ দ্বীনের উপর অবিচল থাকা। [৩২৫৮]
حدثنا علي بن محمد، حدثنا وكيع، حدثنا أبو بكر الهذلي، عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " أكره الغل وأحب القيد القيد ثبات في الدين " .
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯১৯
حدثنا إبراهيم بن المنذر الحزامي، حدثنا عبد الله بن معاذ الصنعاني، عن معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابن عمر، قال كنت غلاما شابا عزبا في عهد رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ فكنت أبيت في المسجد فكان من رأى منا رؤيا يقصها على النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ فقلت اللهم إن كان لي عندك خير فأرني رؤيا يعبرها لي النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ . فنمت فرأيت ملكين أتياني فانطلقا بي فلقيهما ملك آخر فقال لم ترع . فانطلقا بي إلى النار فإذا هي مطوية كطى البئر وإذا فيها ناس قد عرفت بعضهم فأخذوا بي ذات اليمين فلما أصبحت ذكرت ذلك لحفصة فزعمت حفصة أنها قصتها على رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ فقال " إن عبد الله رجل صالح لو كان يكثر الصلاة من الليل " . قال فكان عبد الله يكثر الصلاة من الليل .
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে আমি ছিলাম অবিবাহিত যুবক। আমি মসজিদেই রাত কাটাতাম। আমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখলে সে তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বর্ণনা করতো। আমি মনে মনে বললাম, হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমার জন্য কোন কল্যাণ থাকলে তা আমাকে স্বপ্নে দেখাও যার ব্যাখ্যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলে দিবেন। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি স্বপ্নে আমার নিকট দু’জন ফেরেশতাকে আসতে দেখলাম। তারা আমাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন, পথিমধ্যে আরেকজন ফেরেশতা তাদের সাথে মিলিত হন। তিনি বলেন, তুমি ভয় পেয়ো না। ফেরেশতাদ্বয় আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চললো। তা ছিলো একটি কূপের ন্যায়। তাতে আমি কিছু সংখ্যক লোক দেখতে পেলাম, যাদের কতককে আমি চিনতে পেরেছি। তারা আমাকে ডান দিকে নিয়ে গেলো। ভোর হলে আমি বিষয়টি হাফসা (রাঃ) কে বললাম। হাফসা (রাঃ) তা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বললেন। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ একজন সৎ লোক। সে যদি রাতে অধিক নামায পড়তো। যুহরী (রাঃ) বলেন, তখন থেকে আবদুল্লাহ (রাঃ) রাতে বেশী বেশী নামায পড়তেন। [৩২৫১]
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে আমি ছিলাম অবিবাহিত যুবক। আমি মসজিদেই রাত কাটাতাম। আমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখলে সে তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বর্ণনা করতো। আমি মনে মনে বললাম, হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমার জন্য কোন কল্যাণ থাকলে তা আমাকে স্বপ্নে দেখাও যার ব্যাখ্যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলে দিবেন। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি স্বপ্নে আমার নিকট দু’জন ফেরেশতাকে আসতে দেখলাম। তারা আমাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন, পথিমধ্যে আরেকজন ফেরেশতা তাদের সাথে মিলিত হন। তিনি বলেন, তুমি ভয় পেয়ো না। ফেরেশতাদ্বয় আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চললো। তা ছিলো একটি কূপের ন্যায়। তাতে আমি কিছু সংখ্যক লোক দেখতে পেলাম, যাদের কতককে আমি চিনতে পেরেছি। তারা আমাকে ডান দিকে নিয়ে গেলো। ভোর হলে আমি বিষয়টি হাফসা (রাঃ) কে বললাম। হাফসা (রাঃ) তা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বললেন। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ একজন সৎ লোক। সে যদি রাতে অধিক নামায পড়তো। যুহরী (রাঃ) বলেন, তখন থেকে আবদুল্লাহ (রাঃ) রাতে বেশী বেশী নামায পড়তেন। [৩২৫১]
حدثنا إبراهيم بن المنذر الحزامي، حدثنا عبد الله بن معاذ الصنعاني، عن معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابن عمر، قال كنت غلاما شابا عزبا في عهد رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ فكنت أبيت في المسجد فكان من رأى منا رؤيا يقصها على النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ فقلت اللهم إن كان لي عندك خير فأرني رؤيا يعبرها لي النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ . فنمت فرأيت ملكين أتياني فانطلقا بي فلقيهما ملك آخر فقال لم ترع . فانطلقا بي إلى النار فإذا هي مطوية كطى البئر وإذا فيها ناس قد عرفت بعضهم فأخذوا بي ذات اليمين فلما أصبحت ذكرت ذلك لحفصة فزعمت حفصة أنها قصتها على رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ فقال " إن عبد الله رجل صالح لو كان يكثر الصلاة من الليل " . قال فكان عبد الله يكثر الصلاة من الليل .
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯২১
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا أبو أسامة، حدثنا بريد، عن أبي بردة، عن أبي موسى، عن النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ قال " رأيت في المنام أني أهاجر من مكة إلى أرض بها نخل فذهب وهلي إلى أنها يمامة أو هجر فإذا هي المدينة يثرب ورأيت في رؤياى هذه أني هززت سيفا فانقطع صدره فإذا هو ما أصيب من المؤمنين يوم أحد ثم هززته فعاد أحسن ما كان فإذا هو ما جاء الله به من الفتح واجتماع المؤمنين ورأيت فيها أيضا بقرا والله خير فإذا هم النفر من المؤمنين يوم أحد وإذا الخير ما جاء الله به من الخير بعد وثواب الصدق الذي آتانا الله به يوم بدر " .
আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মক্কা থেকে খেজুর গাছ সমৃদ্ধ এক এলাকায় হিজরত করছি। আমার মনে হলো যে, সেই এলাকা ইয়ামামা অথবা হাজার। কিন্তু আসলে তা মদীনা, যার নাম ইয়াসরিব। আমি আমার এ স্বপ্নে আরও দেখলাম যে, আমি তরবারি নাড়াচাড়া করছি এবং তা মাঝখান দিয়ে ভেঙ্গে গেল। আসলে তা ছিলো উহুদ যুদ্ধে মুমিনদের উপর আগত বিপদ। আমি পুনরায় তরবারি নাড়া দিলে তা পূর্বাপেক্ষা আরো উত্তম রূপ ধারণ করলো। আসলে তা ছিলো আল্লাহ প্রদত্ত পরবর্তী সময়ের বিজয় (মক্কা বিজয়) এবং মুসলমানদের সম্মিলিত অভ্যূত্থান। আমি স্বপ্নে আরো দেখতে পেলাম একটি গাভী। আল্লাহ কল্যাণময়। এরা ছিলেন উহুদের যুদ্ধের শহীদ একদল মুমিন। তাও ভালো, যা আল্লাহ গনীমতের মাল হিসাবে পরে আমাদের দান করেছেন এবং তাও ভালো, যা সত্যের বিনিময় হিসাবে আল্লাহ আমাদের বদর যুদ্ধের দিন দান করেছিলেন। [৩২৫৩]
আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মক্কা থেকে খেজুর গাছ সমৃদ্ধ এক এলাকায় হিজরত করছি। আমার মনে হলো যে, সেই এলাকা ইয়ামামা অথবা হাজার। কিন্তু আসলে তা মদীনা, যার নাম ইয়াসরিব। আমি আমার এ স্বপ্নে আরও দেখলাম যে, আমি তরবারি নাড়াচাড়া করছি এবং তা মাঝখান দিয়ে ভেঙ্গে গেল। আসলে তা ছিলো উহুদ যুদ্ধে মুমিনদের উপর আগত বিপদ। আমি পুনরায় তরবারি নাড়া দিলে তা পূর্বাপেক্ষা আরো উত্তম রূপ ধারণ করলো। আসলে তা ছিলো আল্লাহ প্রদত্ত পরবর্তী সময়ের বিজয় (মক্কা বিজয়) এবং মুসলমানদের সম্মিলিত অভ্যূত্থান। আমি স্বপ্নে আরো দেখতে পেলাম একটি গাভী। আল্লাহ কল্যাণময়। এরা ছিলেন উহুদের যুদ্ধের শহীদ একদল মুমিন। তাও ভালো, যা আল্লাহ গনীমতের মাল হিসাবে পরে আমাদের দান করেছেন এবং তাও ভালো, যা সত্যের বিনিময় হিসাবে আল্লাহ আমাদের বদর যুদ্ধের দিন দান করেছিলেন। [৩২৫৩]
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا أبو أسامة، حدثنا بريد، عن أبي بردة، عن أبي موسى، عن النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ قال " رأيت في المنام أني أهاجر من مكة إلى أرض بها نخل فذهب وهلي إلى أنها يمامة أو هجر فإذا هي المدينة يثرب ورأيت في رؤياى هذه أني هززت سيفا فانقطع صدره فإذا هو ما أصيب من المؤمنين يوم أحد ثم هززته فعاد أحسن ما كان فإذا هو ما جاء الله به من الفتح واجتماع المؤمنين ورأيت فيها أيضا بقرا والله خير فإذا هم النفر من المؤمنين يوم أحد وإذا الخير ما جاء الله به من الخير بعد وثواب الصدق الذي آتانا الله به يوم بدر " .
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯২০
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا الحسن بن موسى الأشيب، حدثنا حماد بن سلمة، عن عاصم بن بهدلة، عن المسيب بن رافع، عن خرشة بن الحر، قال قدمت المدينة فجلست إلى أشيخة في مسجد النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ فجاء شيخ يتوكأ على عصا له فقال القوم من سره أن ينظر إلى رجل من أهل الجنة فلينظر إلى هذا . فقام خلف سارية فصلى ركعتين فقمت إليه فقلت له قال بعض القوم كذا وكذا . قال الحمد لله الجنة لله يدخلها من يشاء وإني رأيت على عهد رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ رؤيا رأيت كأن رجلا أتاني فقال لي انطلق . فذهبت معه فسلك بي في منهج عظيم فعرضت على طريق على يساري فأردت أن أسلكها فقال إنك لست من أهلها . ثم عرضت على طريق عن يميني فسلكتها حتى إذا انتهيت إلى جبل زلق فأخذ بيدي فزجل بي فإذا أنا على ذروته فلم أتقار ولم أتماسك وإذا عمود من حديد في ذروته حلقة من ذهب فأخذ بيدي فزجل بي حتى أخذت بالعروة فقال استمسكت قلت نعم فضرب العمود برجله . فاستمسكت بالعروة . فقال قصصتها على النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ . قال " رأيت خيرا أما المنهج العظيم فالمحشر وأما الطريق التي عرضت عن يسارك فطريق أهل النار ولست من أهلها وأما الطريق التي عرضت عن يمينك فطريق أهل الجنة وأما الجبل الزلق فمنزل الشهداء وأما العروة التي استمسكت بها فعروة الإسلام فاستمسك بها حتى تموت " . فأنا أرجو أن أكون من أهل الجنة فإذا هو عبد الله بن سلام .
খারাশাহ ইবনুল হুর্র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি মদীনায় পৌছে মসজিদে নববীতে প্রবীনদের এক মজলিসে বসলাম। একজন প্রবীন লোক তার লাঠিতে ভর দিয়ে আসলেন। লোকেরা বললো, যে ব্যক্তি কোন জান্নাতী লোক দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই ব্যক্তির দিকে তাকায়। তিনি খুঁটির পেছনে দাঁড়িয়ে দু’ রাক’আত সলাত আদায় করলেন। আমি উঠে গিয়ে তাকে বললাম, লোকেরা এই এই বলেছে। তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, জান্নাত আল্লাহর এবং তিনি যাকে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করাবেন। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যুগে একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি দেখলাম এক ব্যক্তি যেন আমার নিকট এসে আমাকে বললো, চলুন। আমি তার সাথে গেলাম। সে আমাকে একটি বিরাট প্রশস্ত রাস্তায় পৌছে দিলো। আমার বাঁ দিকে একটি পথ দেখানো হলো। আমি সেই পথ ধরে অগ্রসর হতে চাইলাম। সে বললো, তুমি এ পথের উপযুক্ত নও। অতঃপর আমার ডানে একটি রাস্তা দেখানো হলো। আমি সেই রাস্তা দিয়ে অগ্রসর হলাম। আমি একটি পিচ্ছিল পাহাড়ে পৌছলে সে আমার হাত ধরে আমাকে ধাক্কা দিলো এবং আমি এর চূড়ায় পৌছে গেলাম, কিন্তু আমি সেখানে স্থির হয়ে থাকতে পরলাম না। আমি এর চূড়ায় লোহার একটি খুঁটি দেখতে পেলাম। এর চূড়ায় ছিলো একটি সোনার হাতল। সে (ফেরেশতা) আমার হাত ধরে ধাক্কা দিলে আমি সেই হাতল ধরে ফেললাম। সে বললো, তুমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছ? আমি বললাম, হাঁ। সে তার পা দ্বারা খুঁটিতে আঘাত করলে আমি হাতলটি দৃঢ়ভাবে ধরে ফেললাম। তিনি বললেন, আমি ঘটনাটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অবহিত করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি উত্তম স্বপ্ন দেখেছো। বিরাট প্রশস্ত রাস্তাটি হলো হাশরের ময়দান। তোমার বাঁ দিকে যে রাস্তাটি চলে গেছে তা হলো জাহান্নামীদের রাস্তা। তুমি জাহান্নামী নও। তোমার ডান দিক দিয়ে যে রাস্তা চলে গেছে তা হলো জান্নাতীদের রাস্তা। পিচ্ছিল পাহাড়টি হলো শহীদদের মনযিল। যে হাতলটি তুমি আঁকড়ে ধরেছিলে, সেটি হলো ইসলামের হাতল। অতঃএব তুমি আমৃত্যু এটি আঁকড়ে ধরে রাখবে। আশা করি আমি জান্নাতবাসী হবো। স্বপ্নটি দেখেছিলেন আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ)। [৩২৫২]
খারাশাহ ইবনুল হুর্র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি মদীনায় পৌছে মসজিদে নববীতে প্রবীনদের এক মজলিসে বসলাম। একজন প্রবীন লোক তার লাঠিতে ভর দিয়ে আসলেন। লোকেরা বললো, যে ব্যক্তি কোন জান্নাতী লোক দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই ব্যক্তির দিকে তাকায়। তিনি খুঁটির পেছনে দাঁড়িয়ে দু’ রাক’আত সলাত আদায় করলেন। আমি উঠে গিয়ে তাকে বললাম, লোকেরা এই এই বলেছে। তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, জান্নাত আল্লাহর এবং তিনি যাকে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করাবেন। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যুগে একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি দেখলাম এক ব্যক্তি যেন আমার নিকট এসে আমাকে বললো, চলুন। আমি তার সাথে গেলাম। সে আমাকে একটি বিরাট প্রশস্ত রাস্তায় পৌছে দিলো। আমার বাঁ দিকে একটি পথ দেখানো হলো। আমি সেই পথ ধরে অগ্রসর হতে চাইলাম। সে বললো, তুমি এ পথের উপযুক্ত নও। অতঃপর আমার ডানে একটি রাস্তা দেখানো হলো। আমি সেই রাস্তা দিয়ে অগ্রসর হলাম। আমি একটি পিচ্ছিল পাহাড়ে পৌছলে সে আমার হাত ধরে আমাকে ধাক্কা দিলো এবং আমি এর চূড়ায় পৌছে গেলাম, কিন্তু আমি সেখানে স্থির হয়ে থাকতে পরলাম না। আমি এর চূড়ায় লোহার একটি খুঁটি দেখতে পেলাম। এর চূড়ায় ছিলো একটি সোনার হাতল। সে (ফেরেশতা) আমার হাত ধরে ধাক্কা দিলে আমি সেই হাতল ধরে ফেললাম। সে বললো, তুমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছ? আমি বললাম, হাঁ। সে তার পা দ্বারা খুঁটিতে আঘাত করলে আমি হাতলটি দৃঢ়ভাবে ধরে ফেললাম। তিনি বললেন, আমি ঘটনাটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অবহিত করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি উত্তম স্বপ্ন দেখেছো। বিরাট প্রশস্ত রাস্তাটি হলো হাশরের ময়দান। তোমার বাঁ দিকে যে রাস্তাটি চলে গেছে তা হলো জাহান্নামীদের রাস্তা। তুমি জাহান্নামী নও। তোমার ডান দিক দিয়ে যে রাস্তা চলে গেছে তা হলো জান্নাতীদের রাস্তা। পিচ্ছিল পাহাড়টি হলো শহীদদের মনযিল। যে হাতলটি তুমি আঁকড়ে ধরেছিলে, সেটি হলো ইসলামের হাতল। অতঃএব তুমি আমৃত্যু এটি আঁকড়ে ধরে রাখবে। আশা করি আমি জান্নাতবাসী হবো। স্বপ্নটি দেখেছিলেন আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ)। [৩২৫২]
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، حدثنا الحسن بن موسى الأشيب، حدثنا حماد بن سلمة، عن عاصم بن بهدلة، عن المسيب بن رافع، عن خرشة بن الحر، قال قدمت المدينة فجلست إلى أشيخة في مسجد النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ فجاء شيخ يتوكأ على عصا له فقال القوم من سره أن ينظر إلى رجل من أهل الجنة فلينظر إلى هذا . فقام خلف سارية فصلى ركعتين فقمت إليه فقلت له قال بعض القوم كذا وكذا . قال الحمد لله الجنة لله يدخلها من يشاء وإني رأيت على عهد رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ رؤيا رأيت كأن رجلا أتاني فقال لي انطلق . فذهبت معه فسلك بي في منهج عظيم فعرضت على طريق على يساري فأردت أن أسلكها فقال إنك لست من أهلها . ثم عرضت على طريق عن يميني فسلكتها حتى إذا انتهيت إلى جبل زلق فأخذ بيدي فزجل بي فإذا أنا على ذروته فلم أتقار ولم أتماسك وإذا عمود من حديد في ذروته حلقة من ذهب فأخذ بيدي فزجل بي حتى أخذت بالعروة فقال استمسكت قلت نعم فضرب العمود برجله . فاستمسكت بالعروة . فقال قصصتها على النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ . قال " رأيت خيرا أما المنهج العظيم فالمحشر وأما الطريق التي عرضت عن يسارك فطريق أهل النار ولست من أهلها وأما الطريق التي عرضت عن يمينك فطريق أهل الجنة وأما الجبل الزلق فمنزل الشهداء وأما العروة التي استمسكت بها فعروة الإسلام فاستمسك بها حتى تموت " . فأنا أرجو أن أكون من أهل الجنة فإذا هو عبد الله بن سلام .
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯২৫
حدثنا محمد بن رمح، أنبأنا الليث بن سعد، عن ابن الهاد، عن محمد بن إبراهيم التيمي، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن طلحة بن عبيد الله، أن رجلين، من بلي قدما على رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ وكان إسلامهما جميعا فكان أحدهما أشد اجتهادا من الآخر فغزا المجتهد منهما فاستشهد ثم مكث الآخر بعده سنة ثم توفي . قال طلحة فرأيت في المنام بينا أنا عند باب الجنة إذا أنا بهما فخرج خارج من الجنة فأذن للذي توفي الآخر منهما ثم خرج فأذن للذي استشهد ثم رجع إلى فقال ارجع فإنك لم يأن لك بعد . فأصبح طلحة يحدث به الناس فعجبوا لذلك فبلغ ذلك رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ . وحدثوه الحديث فقال " من أى ذلك تعجبون " فقالوا يا رسول الله هذا كان أشد الرجلين اجتهادا ثم استشهد ودخل هذا الآخر الجنة قبله . فقال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " أليس قد مكث هذا بعده سنة " . قالوا بلى . قال " وأدرك رمضان فصامه وصلى كذا وكذا من سجدة في السنة " . قالوا بلى قال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " فما بينهما أبعد مما بين السماء والأرض " .
তালহাহ বিন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
দু’ব্যক্তি দূর-দূরান্ত থেকে রাসূল্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে উপস্থিত হলো। তারা ছিলো খাঁটি মুসলমান। তাদের একজন ছিলো অপরজন অপেক্ষা শক্তিধর মুজাহিদ। তাদের মধ্যকার মুজাহিদ ব্যক্তি যুদ্ধ করে শহীদ হলো এবং অপরজন এক বছর পর মারা গেলো। তালহা (রাঃ) বলেন, আমি একদা স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি জান্নাতের দরজায় উপস্থিত এবং আমি তাদের সাথে আছি। জান্নাত থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে এলো এবং তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পরে মারা গিয়েছিল তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিলো। সে পুনরায় বের হয়ে এসে শহীদ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিলো। পরে সে আমার নিকট ফিরে এসে বললো, তুমি চলে যাও। কেননা তোমার (জান্নাতে প্রবেশের) সময় এখনও হয়নি, তোমার পালা পরে। সকাল বেলা তালহা (রাঃ) উক্ত ঘটনা লোকদের নিকট বর্ণনা করলেন। তারা এতে বিস্ময়াভিভূত হলো। বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কানে গেলো এবং তারাও তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করলো। তিনি বলেনঃ কী কারণে তোমরা বিস্মিত হলে? তারা বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই ব্যক্তি তাদের দু’জনের মধ্যে অধিক শক্তিধর মুজাহিদ। তাকে শহীদ করা হয়েছে। অথচ অপর লোকটি তার আগেই জান্নাতে প্রবেশ করলো। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অপর লোকটি কি তার পরে এক বছর জীবিত থাকেনি? তারা বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ সে একটি রমাদান মাস পেয়েছে, রোযা রেখেছে এবং এক বছর যাবত এই এই নামায কি পড়েনি? তারা বললো, হাঁ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আসমান-জমীনের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তাদের দু’জনের মধ্যে রয়েছে তার চেয়ে অধিক ব্যবধান। [৩২৫৭]
তালহাহ বিন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
দু’ব্যক্তি দূর-দূরান্ত থেকে রাসূল্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে উপস্থিত হলো। তারা ছিলো খাঁটি মুসলমান। তাদের একজন ছিলো অপরজন অপেক্ষা শক্তিধর মুজাহিদ। তাদের মধ্যকার মুজাহিদ ব্যক্তি যুদ্ধ করে শহীদ হলো এবং অপরজন এক বছর পর মারা গেলো। তালহা (রাঃ) বলেন, আমি একদা স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি জান্নাতের দরজায় উপস্থিত এবং আমি তাদের সাথে আছি। জান্নাত থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে এলো এবং তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পরে মারা গিয়েছিল তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিলো। সে পুনরায় বের হয়ে এসে শহীদ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিলো। পরে সে আমার নিকট ফিরে এসে বললো, তুমি চলে যাও। কেননা তোমার (জান্নাতে প্রবেশের) সময় এখনও হয়নি, তোমার পালা পরে। সকাল বেলা তালহা (রাঃ) উক্ত ঘটনা লোকদের নিকট বর্ণনা করলেন। তারা এতে বিস্ময়াভিভূত হলো। বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কানে গেলো এবং তারাও তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করলো। তিনি বলেনঃ কী কারণে তোমরা বিস্মিত হলে? তারা বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই ব্যক্তি তাদের দু’জনের মধ্যে অধিক শক্তিধর মুজাহিদ। তাকে শহীদ করা হয়েছে। অথচ অপর লোকটি তার আগেই জান্নাতে প্রবেশ করলো। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অপর লোকটি কি তার পরে এক বছর জীবিত থাকেনি? তারা বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ সে একটি রমাদান মাস পেয়েছে, রোযা রেখেছে এবং এক বছর যাবত এই এই নামায কি পড়েনি? তারা বললো, হাঁ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আসমান-জমীনের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তাদের দু’জনের মধ্যে রয়েছে তার চেয়ে অধিক ব্যবধান। [৩২৫৭]
حدثنا محمد بن رمح، أنبأنا الليث بن سعد، عن ابن الهاد، عن محمد بن إبراهيم التيمي، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن طلحة بن عبيد الله، أن رجلين، من بلي قدما على رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ وكان إسلامهما جميعا فكان أحدهما أشد اجتهادا من الآخر فغزا المجتهد منهما فاستشهد ثم مكث الآخر بعده سنة ثم توفي . قال طلحة فرأيت في المنام بينا أنا عند باب الجنة إذا أنا بهما فخرج خارج من الجنة فأذن للذي توفي الآخر منهما ثم خرج فأذن للذي استشهد ثم رجع إلى فقال ارجع فإنك لم يأن لك بعد . فأصبح طلحة يحدث به الناس فعجبوا لذلك فبلغ ذلك رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ . وحدثوه الحديث فقال " من أى ذلك تعجبون " فقالوا يا رسول الله هذا كان أشد الرجلين اجتهادا ثم استشهد ودخل هذا الآخر الجنة قبله . فقال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " أليس قد مكث هذا بعده سنة " . قالوا بلى . قال " وأدرك رمضان فصامه وصلى كذا وكذا من سجدة في السنة " . قالوا بلى قال رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ " فما بينهما أبعد مما بين السماء والأرض " .
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯১৮
حدثنا يعقوب بن حميد بن كاسب المدني، حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله، عن ابن عباس، قال أتى النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ رجل منصرفه من أحد فقال يا رسول الله إني رأيت في المنام ظلة تنطف سمنا وعسلا ورأيت الناس يتكففون منها فالمستكثر والمستقل ورأيت سببا واصلا إلى السماء رأيتك أخذت به فعلوت به ثم أخذ به رجل بعدك فعلا به ثم أخذ به رجل بعده فعلا به ثم أخذ به رجل بعده فانقطع به ثم وصل له فعلا به . فقال أبو بكر دعني أعبرها يا رسول الله . قال " اعبرها " . قال أما الظلة فالإسلام وأما ما ينطف منها من العسل والسمن فهو القرآن حلاوته ولينه وأما ما يتكفف منه الناس فالآخذ من القرآن كثيرا وقليلا وأما السبب الواصل إلى السماء فما أنت عليه من الحق أخذت به فعلا بك ثم يأخذه رجل من بعدك فيعلو به ثم آخر فيعلو به ثم آخر فينقطع به ثم يوصل له فيعلو به . قال " أصبت بعضا وأخطأت بعضا " . قال أبو بكر أقسمت عليك يا رسول الله لتخبرني بالذي أصبت من الذي أخطأت . فقال النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لا تقسم يا أبا بكر " . حدثنا محمد بن يحيى، حدثنا عبد الرزاق، أنبأنا معمر، عن الزهري، عن عبيد الله، عن ابن عباس، قال كان أبو هريرة يحدث أن رجلا، أتى رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ فقال يا رسول الله رأيت ظلة بين السماء والأرض تنطف سمنا وعسلا فذكر الحديث نحوه .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উহুদ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ফেরার পথে এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে একটি ছায়াদার মেঘ দেখেছি, যা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় ঘি ও মধু পড়ছিলো!। লোকদেরকে দেখলাম যে, তারা হাতে তুলে নিয়ে তা পান করছে। কেউ বেশি পাচ্ছে এবং কেউ কম পাচ্ছে। আমি আরো দেখলাম যে, আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত একটি রশি ঝুলছে। আমি দেখলাম যে, আপনি তা ধরে উপরে উঠে গেছেন। আপনার পর আরেকজন তা ধরে উপরে উঠে গেল, তার পরে আরেকজন তা ধরে উপরে উঠে গেল। তার পরে আরেকজন তা ধরলে রশিটি ছিঁড়ে গেলো। পুনরায় তা জোড়া লেগে গেলো এবং সেও তা ধরে উপরে উঠে গেল। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে দিন। তিনি বললেনঃ আচ্ছা, তুমি এর ব্যাখ্যা করো। আবূ বকর (রাঃ) বলেন, মেঘখন্ড হলো ইসলামের ছায়া। পতিত ঘি ও মধু হলো কুরআন থেকে বেশি ও কম লাভকারী। আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত ঝুলন্ত রশি হলো সেই মহাসত্য যার উপর আপনি প্রতিষ্ঠিত। আপনি রশিটি ধরলেন এবং আল্লাহ আপনাকে উপরে উঠিয়ে নিলেন। আপনার পর তা আরেকজন ধরবে এবং আল্লাহ তাকে উপরে তুলে নিবেন। তার পরে আরেকজন ধরবে, সেও তা ধরে উপরে উঠে যাবে। এরপর আরেকজন রশিটি ধরবে এবং তা ছিঁড়ে যাবে। আবার তা জোড়া লাগবে এবং সেও তা ধরে উপরে উঠে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তুমি কিছু তো ঠিক বলেছো এবং কিছু বলেছো ভুল। আবূ বকর (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনাকে শপথ দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে বলে দিন, আমি কোথায় ঠিক করেছি এবং কোথায় ভুল করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ হে আবূ বকর! শপথ দিয়ে বলো না। (বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী) [উপরোক্ত হাদীসে মোট ২ টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ] ২/৩৯১৮(১). আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বর্ণনা করতেন যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে আসমান-যমীনের মাঝে একটি ছায়াদার মেঘখন্ড দেখলাম, যা থেকে ঘি ও মধু ঝরে পড়ছে। .........অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরুপ। [৩২৫০] তাহকীক আলবানীঃ ইবনু আব্বাস ও আবু হুরায়রার হাদীস সহীহ।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উহুদ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ফেরার পথে এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে একটি ছায়াদার মেঘ দেখেছি, যা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় ঘি ও মধু পড়ছিলো!। লোকদেরকে দেখলাম যে, তারা হাতে তুলে নিয়ে তা পান করছে। কেউ বেশি পাচ্ছে এবং কেউ কম পাচ্ছে। আমি আরো দেখলাম যে, আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত একটি রশি ঝুলছে। আমি দেখলাম যে, আপনি তা ধরে উপরে উঠে গেছেন। আপনার পর আরেকজন তা ধরে উপরে উঠে গেল, তার পরে আরেকজন তা ধরে উপরে উঠে গেল। তার পরে আরেকজন তা ধরলে রশিটি ছিঁড়ে গেলো। পুনরায় তা জোড়া লেগে গেলো এবং সেও তা ধরে উপরে উঠে গেল। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে দিন। তিনি বললেনঃ আচ্ছা, তুমি এর ব্যাখ্যা করো। আবূ বকর (রাঃ) বলেন, মেঘখন্ড হলো ইসলামের ছায়া। পতিত ঘি ও মধু হলো কুরআন থেকে বেশি ও কম লাভকারী। আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত ঝুলন্ত রশি হলো সেই মহাসত্য যার উপর আপনি প্রতিষ্ঠিত। আপনি রশিটি ধরলেন এবং আল্লাহ আপনাকে উপরে উঠিয়ে নিলেন। আপনার পর তা আরেকজন ধরবে এবং আল্লাহ তাকে উপরে তুলে নিবেন। তার পরে আরেকজন ধরবে, সেও তা ধরে উপরে উঠে যাবে। এরপর আরেকজন রশিটি ধরবে এবং তা ছিঁড়ে যাবে। আবার তা জোড়া লাগবে এবং সেও তা ধরে উপরে উঠে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তুমি কিছু তো ঠিক বলেছো এবং কিছু বলেছো ভুল। আবূ বকর (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনাকে শপথ দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে বলে দিন, আমি কোথায় ঠিক করেছি এবং কোথায় ভুল করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ হে আবূ বকর! শপথ দিয়ে বলো না। (বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী) [উপরোক্ত হাদীসে মোট ২ টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ] ২/৩৯১৮(১). আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বর্ণনা করতেন যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে আসমান-যমীনের মাঝে একটি ছায়াদার মেঘখন্ড দেখলাম, যা থেকে ঘি ও মধু ঝরে পড়ছে। .........অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরুপ। [৩২৫০] তাহকীক আলবানীঃ ইবনু আব্বাস ও আবু হুরায়রার হাদীস সহীহ।
حدثنا يعقوب بن حميد بن كاسب المدني، حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله، عن ابن عباس، قال أتى النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ رجل منصرفه من أحد فقال يا رسول الله إني رأيت في المنام ظلة تنطف سمنا وعسلا ورأيت الناس يتكففون منها فالمستكثر والمستقل ورأيت سببا واصلا إلى السماء رأيتك أخذت به فعلوت به ثم أخذ به رجل بعدك فعلا به ثم أخذ به رجل بعده فعلا به ثم أخذ به رجل بعده فانقطع به ثم وصل له فعلا به . فقال أبو بكر دعني أعبرها يا رسول الله . قال " اعبرها " . قال أما الظلة فالإسلام وأما ما ينطف منها من العسل والسمن فهو القرآن حلاوته ولينه وأما ما يتكفف منه الناس فالآخذ من القرآن كثيرا وقليلا وأما السبب الواصل إلى السماء فما أنت عليه من الحق أخذت به فعلا بك ثم يأخذه رجل من بعدك فيعلو به ثم آخر فيعلو به ثم آخر فينقطع به ثم يوصل له فيعلو به . قال " أصبت بعضا وأخطأت بعضا " . قال أبو بكر أقسمت عليك يا رسول الله لتخبرني بالذي أصبت من الذي أخطأت . فقال النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لا تقسم يا أبا بكر " . حدثنا محمد بن يحيى، حدثنا عبد الرزاق، أنبأنا معمر، عن الزهري، عن عبيد الله، عن ابن عباس، قال كان أبو هريرة يحدث أن رجلا، أتى رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ فقال يا رسول الله رأيت ظلة بين السماء والأرض تنطف سمنا وعسلا فذكر الحديث نحوه .
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯২৩
حدثنا أبو بكر، حدثنا معاوية بن هشام، حدثنا علي بن صالح، عن سماك، عن قابوس، قال قالت أم الفضل يا رسول الله رأيت كأن في بيتي عضوا من أعضائك قال " خيرا رأيت تلد فاطمة غلاما فترضعيه " . فولدت حسينا أو حسنا فأرضعته بلبن قثم قالت فجئت به إلى النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ فوضعته في حجره فبال فضربت كتفه فقال النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ " أوجعت ابني رحمك الله " .
উম্মুল ফাদল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
উম্মুল ফাদল (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে আপনার দেহের কোন একটি অঙ্গ আমার ঘরে দেখতে পেলাম। তিনি বলেনঃ তুমি ভালোই দেখেছো। ফাতিমাহ একটি সন্তান প্রসব করবে এবং তুমি তাকে দুধ পান করাবে। অতএব ফাতিমাহ (রাঃ) হুসাইন অথবা হাসান (রাঃ) কে প্রসব করেন এবং তিনি তাকে কুসাম এর ভাগের দুধ পান করান। তিনি বলেন, আমি তাকে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গেলাম এবং তাকে তাঁর কোলে রাখলাম। সে পেশাব করে দিলে আমি তার কাঁধে আঘাত করলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি আমার সন্তানকে কষ্ট দিলে, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। [৩২৫৫]
উম্মুল ফাদল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
উম্মুল ফাদল (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে আপনার দেহের কোন একটি অঙ্গ আমার ঘরে দেখতে পেলাম। তিনি বলেনঃ তুমি ভালোই দেখেছো। ফাতিমাহ একটি সন্তান প্রসব করবে এবং তুমি তাকে দুধ পান করাবে। অতএব ফাতিমাহ (রাঃ) হুসাইন অথবা হাসান (রাঃ) কে প্রসব করেন এবং তিনি তাকে কুসাম এর ভাগের দুধ পান করান। তিনি বলেন, আমি তাকে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গেলাম এবং তাকে তাঁর কোলে রাখলাম। সে পেশাব করে দিলে আমি তার কাঁধে আঘাত করলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি আমার সন্তানকে কষ্ট দিলে, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। [৩২৫৫]
حدثنا أبو بكر، حدثنا معاوية بن هشام، حدثنا علي بن صالح، عن سماك، عن قابوس، قال قالت أم الفضل يا رسول الله رأيت كأن في بيتي عضوا من أعضائك قال " خيرا رأيت تلد فاطمة غلاما فترضعيه " . فولدت حسينا أو حسنا فأرضعته بلبن قثم قالت فجئت به إلى النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ فوضعته في حجره فبال فضربت كتفه فقال النبي ـ صلى الله عليه وسلم ـ " أوجعت ابني رحمك الله " .