সুনানে আবু দাউদ > তাক্বদীর সম্পর্কে

সুনানে আবু দাউদ ৪৬৯৩

حدثنا مسدد، أن يزيد بن زريع، ويحيى بن سعيد، حدثاهم قالا، حدثنا عوف، قال حدثنا قسامة بن زهير، قال حدثنا أبو موسى الأشعري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله خلق آدم من قبضة قبضها من جميع الأرض فجاء بنو آدم على قدر الأرض جاء منهم الأحمر والأبيض والأسود وبين ذلك والسهل والحزن والخبيث والطيب ‏"‏ ‏.‏ زاد في حديث يحيى ‏"‏ وبين ذلك ‏"‏ ‏.‏ والإخبار في حديث يزيد ‏.

আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ আদম (আঃ)-কে একমুঠো মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা তিনি সমগ্র পৃথিবী থেকে নিয়েছিলেন। তাই আদম সন্তান মাটির বিভিন্ন বর্ণ ও প্রকৃতি অনুসারে হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ লোহিত, কেউবা সাদা, কেউ কালো এবং কেউবা এসবের মধ্যবর্তী বর্ণের হয়েছে। এরূপে কেউ কোমল, কেউ কঠোর এবং কেউ অসৎ এবং কেউ সৎ হয়েছে।

আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ আদম (আঃ)-কে একমুঠো মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা তিনি সমগ্র পৃথিবী থেকে নিয়েছিলেন। তাই আদম সন্তান মাটির বিভিন্ন বর্ণ ও প্রকৃতি অনুসারে হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ লোহিত, কেউবা সাদা, কেউ কালো এবং কেউবা এসবের মধ্যবর্তী বর্ণের হয়েছে। এরূপে কেউ কোমল, কেউ কঠোর এবং কেউ অসৎ এবং কেউ সৎ হয়েছে।

حدثنا مسدد، أن يزيد بن زريع، ويحيى بن سعيد، حدثاهم قالا، حدثنا عوف، قال حدثنا قسامة بن زهير، قال حدثنا أبو موسى الأشعري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله خلق آدم من قبضة قبضها من جميع الأرض فجاء بنو آدم على قدر الأرض جاء منهم الأحمر والأبيض والأسود وبين ذلك والسهل والحزن والخبيث والطيب ‏"‏ ‏.‏ زاد في حديث يحيى ‏"‏ وبين ذلك ‏"‏ ‏.‏ والإخبار في حديث يزيد ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৬৯১

حدثنا موسى بن إسماعيل، حدثنا عبد العزيز بن أبي حازم، قال حدثني بمنى، عن أبيه، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ القدرية مجوس هذه الأمة إن مرضوا فلا تعودوهم وإن ماتوا فلا تشهدوهم ‏"‏ ‏.‏

ইবনু 'উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কাদরিয়াগণ হচ্ছে এ উম্মাতের অগ্নিপূজক। সুতরাং তারা রোগাক্রান্ত হলে তোমরা তাদেরকে দেখতে যাবে না এবং তারা মারা গেলে তাদের জানাযায় উপস্থিত হবে না।

ইবনু 'উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কাদরিয়াগণ হচ্ছে এ উম্মাতের অগ্নিপূজক। সুতরাং তারা রোগাক্রান্ত হলে তোমরা তাদেরকে দেখতে যাবে না এবং তারা মারা গেলে তাদের জানাযায় উপস্থিত হবে না।

حدثنا موسى بن إسماعيل، حدثنا عبد العزيز بن أبي حازم، قال حدثني بمنى، عن أبيه، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ القدرية مجوس هذه الأمة إن مرضوا فلا تعودوهم وإن ماتوا فلا تشهدوهم ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৬৯৬

حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن عثمان بن غياث، قال حدثني عبد الله بن بريدة، عن يحيى بن يعمر، وحميد بن عبد الرحمن، قال لقينا عبد الله بن عمر فذكرنا له القدر وما يقولون فيه فذكر نحوه زاد قال وسأله رجل من مزينة أو جهينة فقال يا رسول الله فيما نعمل أفي شىء قد خلا أو مضى أو شىء يستأنف الآن قال ‏"‏ في شىء قد خلا ومضى ‏"‏ ‏.‏ فقال الرجل أو بعض القوم ففيم العمل قال ‏"‏ إن أهل الجنة ييسرون لعمل أهل الجنة وإن أهل النار ييسرون لعمل أهل النار ‏"‏ ‏.‏

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু ইয়া'মুর ও হুমাইদ ইবনু 'আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তারা উভয়ে বলেন, একদা আমরা 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে তাক্বদীর ও এ বিষয়ে সমালোচনাকারীদের বক্তব্যও তুলে ধরি। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো রয়েছেঃ তিনি বলেন, মুযাইনাহ বা জুহাইনাহ গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা করি তা কি পূর্ব নির্ধারিত অনুযায়ী করি, না স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে থাকে? তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাদের আমল পূর্ব-নির্ধারিত। তখন লোকটি বা উপস্থিত লোকদের কেউ বললো, তাহলে আমাদের আমলের মূল্য কি? তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ জান্নাতীদের জন্য জান্নাতের উপযোগী আমল করা সহজ করে দেয়া হয় এবং জাহান্নামীদের জন্য জাহান্নামের উপযোগী আমল করা সহজ করে দেয়া হয়।

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু ইয়া'মুর ও হুমাইদ ইবনু 'আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তারা উভয়ে বলেন, একদা আমরা 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে তাক্বদীর ও এ বিষয়ে সমালোচনাকারীদের বক্তব্যও তুলে ধরি। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো রয়েছেঃ তিনি বলেন, মুযাইনাহ বা জুহাইনাহ গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা করি তা কি পূর্ব নির্ধারিত অনুযায়ী করি, না স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে থাকে? তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাদের আমল পূর্ব-নির্ধারিত। তখন লোকটি বা উপস্থিত লোকদের কেউ বললো, তাহলে আমাদের আমলের মূল্য কি? তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ জান্নাতীদের জন্য জান্নাতের উপযোগী আমল করা সহজ করে দেয়া হয় এবং জাহান্নামীদের জন্য জাহান্নামের উপযোগী আমল করা সহজ করে দেয়া হয়।

حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن عثمان بن غياث، قال حدثني عبد الله بن بريدة، عن يحيى بن يعمر، وحميد بن عبد الرحمن، قال لقينا عبد الله بن عمر فذكرنا له القدر وما يقولون فيه فذكر نحوه زاد قال وسأله رجل من مزينة أو جهينة فقال يا رسول الله فيما نعمل أفي شىء قد خلا أو مضى أو شىء يستأنف الآن قال ‏"‏ في شىء قد خلا ومضى ‏"‏ ‏.‏ فقال الرجل أو بعض القوم ففيم العمل قال ‏"‏ إن أهل الجنة ييسرون لعمل أهل الجنة وإن أهل النار ييسرون لعمل أهل النار ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৬৯৫

حدثنا عبيد الله بن معاذ، حدثنا أبي، حدثنا كهمس، عن ابن بريدة، عن يحيى بن يعمر، قال كان أول من تكلم في القدر بالبصرة معبد الجهني فانطلقت أنا وحميد بن عبد الرحمن الحميري حاجين أو معتمرين فقلنا لو لقينا أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فسألناه عما يقول هؤلاء في القدر ‏.‏ فوفق الله لنا عبد الله بن عمر داخلا في المسجد فاكتنفته أنا وصاحبي فظننت أن صاحبي سيكل الكلام إلى فقلت أبا عبد الرحمن إنه قد ظهر قبلنا ناس يقرءون القرآن ويتفقرون العلم يزعمون أن لا قدر والأمر أنف ‏.‏ فقال إذا لقيت أولئك فأخبرهم أني بريء منهم وهم برآء مني والذي يحلف به عبد الله بن عمر لو أن لأحدهم مثل أحد ذهبا فأنفقه ما قبله الله منه حتى يؤمن بالقدر ثم قال حدثني عمر بن الخطاب قال بينا نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر لا يرى عليه أثر السفر ولا نعرفه حتى جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأسند ركبتيه إلى ركبتيه ووضع كفيه على فخذيه وقال يا محمد أخبرني عن الإسلام ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا ‏"‏ ‏.‏ قال صدقت ‏.‏ قال فعجبنا له يسأله ويصدقه ‏.‏ قال فأخبرني عن الإيمان ‏.‏ قال ‏"‏ أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره ‏"‏ ‏.‏ قال صدقت ‏.‏ قال فأخبرني عن الإحسان قال ‏"‏ أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك ‏"‏ ‏.‏ قال فأخبرني عن الساعة ‏.‏ قال ‏"‏ ما المسئول عنها بأعلم من السائل ‏"‏ ‏.‏ قال فأخبرني عن أماراتها ‏.‏ قال ‏"‏ أن تلد الأمة ربتها وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان ‏"‏ ‏.‏ قال ثم انطلق فلبثت ثلاثا ثم قال ‏"‏ يا عمر هل تدري من السائل ‏"‏ ‏.‏ قلت الله ورسوله أعلم ‏.‏ قال ‏"‏ فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم ‏"‏ ‏.‏

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু ইয়া'মার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, বাসরাহ্‌তে সর্বপ্রথম তাক্বদীর সম্বন্ধে বিতর্ক সৃষ্টি করে মা'বাদ আল্‌-জুহানী। আমি ও হুমাইদ ইবনু 'আবদুর রহমান আল্‌-হিমাইয়ারী হাজ্জ অথবা 'উমরাহ করতে গেলাম। আমরা বললাম, যদি আমারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পাই তাহলে আমরা এসব লোক ত্বাকদীর সম্পর্কে যা বলে সে সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করবো। অতঃপর আল্লাহ্‌ আমাদেরকে 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ) -এর সাক্ষাৎ লাভে সাহায্য করলেন, যিনি মাসজিদে প্রবেশ করেছিলেন। আমি ও আমার সাথী তাকে ঘিরে বসলাম। আমি চিন্তা করলাম যে, আমার সাথী কথা বলার দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করবেন। আমি বললাম, হে 'আবদুর রহমানের পিতা! আমাদের এখানে কিছু সংখ্যক লোকের আত্নপ্রকাশ ঘটেছে যারা কুরআন পড়ে, জ্ঞানচর্চা ও বিতর্কও করে এবং মত পোষণ করে যে, তাক্বদীর বলতে কিছু নেই এবং প্রতিটি বিষয় পূর্ব সিদ্ধান্ত ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটছে। তিনি বললেন, তুমি ঐসব লোকের সাক্ষাত পেলে তাদেরকে সংবাদ দিবে যে, আমি তাদের সাথে সম্পর্কহীন আর তারাও আমার হতে বিচ্ছিন্ন। বিশেষ করে 'আবদুল্লাহ কসম করে বলেন, “তাদের কারো যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তা দান করে দেয়, তবুও তাক্বদীরের উপর ঈমান আনার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তাদের এ দান কবুল করবেন না।” অতঃপর তিনি বলেন, 'উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন ধবধবে সাদা কাপড় পরিহিত ও মিশমিশে কালো চুলধারী এক ব্যক্তি আমাদের নিকট আসলেন। তার মধ্যে ভ্রমণের কোন চিহ্ন দেখা যাচ্ছিলো না, আবার আমাদের মধ্যকার কেউ তাকে চিনতেও পারছে না। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বসলেন। অতঃপর তাঁর (নাবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) দুই হাঁটুর সঙ্গে নিজের দুই হাঁটু মিশিয়ে এবং নিজের দু’হাত তাঁর উরুর উপর রেখে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্বন্ধে বলুন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইসলাম হলো এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রাসূল, সলাত ক্বায়িম করবে, যাকাত দিবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহ্‌র হাজ্জ করবে যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে। তিনি বললেন, ঠিক বলেছেন। তিনি ('উমার) বলেন, তার আচরণ আমরা বিস্মিত হলাম কারণ, তিনি প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তার সমর্থন করছেন। পুনরায় তিনি বলেন, আমাকে বলুন ঈমান কি? তিনি বললেন, আপনি আল্লাহর উপর, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহে, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল ও তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করবেন। তিনি বললেন, হাঁ, ঠিক বলেছেন। এবার আমাকে বলুন ইহসান কি? তিনি বললেন, "আল্লাহর ‘ইবাদত এরূপ নিষ্ঠার সঙ্গে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে নাও পান তবুও মনে করবেন যে, তিনি আপনাকে দেখছেন। অতঃপর তিনি বললেন, ক্বিয়ামাত কবে হবে তা আমাকে বলুন। তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জানেন না। তিনি এবার বললেন, তাহলে ক্বিয়ামাতের নিদর্শনসমূহ বলুন। তিনি বললেন, দাসী আপন মনিবকে জন্ম দিবে এবং নাঙ্গা পা ওয়ালা বস্ত্রহীন দেহ গরীব মেষ চালকদেরকে দালানকোঠা নিয়ে গর্ব করতে দেখবে। তিনি ('উমার) বলেন, অতঃপর লোকটি চলে গেলেন এবং এরপর আমি তিন দিন কাটালাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে 'উমার! তুমি কি জানো, প্রশ্নকারী কে? আমি বললাম, আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেন, তিনি হচ্ছেন জিবরীল (আঃ), তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিখানোর জন্য তোমাদের নিকট এসেছিলেন।

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু ইয়া'মার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, বাসরাহ্‌তে সর্বপ্রথম তাক্বদীর সম্বন্ধে বিতর্ক সৃষ্টি করে মা'বাদ আল্‌-জুহানী। আমি ও হুমাইদ ইবনু 'আবদুর রহমান আল্‌-হিমাইয়ারী হাজ্জ অথবা 'উমরাহ করতে গেলাম। আমরা বললাম, যদি আমারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পাই তাহলে আমরা এসব লোক ত্বাকদীর সম্পর্কে যা বলে সে সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করবো। অতঃপর আল্লাহ্‌ আমাদেরকে 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ) -এর সাক্ষাৎ লাভে সাহায্য করলেন, যিনি মাসজিদে প্রবেশ করেছিলেন। আমি ও আমার সাথী তাকে ঘিরে বসলাম। আমি চিন্তা করলাম যে, আমার সাথী কথা বলার দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করবেন। আমি বললাম, হে 'আবদুর রহমানের পিতা! আমাদের এখানে কিছু সংখ্যক লোকের আত্নপ্রকাশ ঘটেছে যারা কুরআন পড়ে, জ্ঞানচর্চা ও বিতর্কও করে এবং মত পোষণ করে যে, তাক্বদীর বলতে কিছু নেই এবং প্রতিটি বিষয় পূর্ব সিদ্ধান্ত ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটছে। তিনি বললেন, তুমি ঐসব লোকের সাক্ষাত পেলে তাদেরকে সংবাদ দিবে যে, আমি তাদের সাথে সম্পর্কহীন আর তারাও আমার হতে বিচ্ছিন্ন। বিশেষ করে 'আবদুল্লাহ কসম করে বলেন, “তাদের কারো যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তা দান করে দেয়, তবুও তাক্বদীরের উপর ঈমান আনার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তাদের এ দান কবুল করবেন না।” অতঃপর তিনি বলেন, 'উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন ধবধবে সাদা কাপড় পরিহিত ও মিশমিশে কালো চুলধারী এক ব্যক্তি আমাদের নিকট আসলেন। তার মধ্যে ভ্রমণের কোন চিহ্ন দেখা যাচ্ছিলো না, আবার আমাদের মধ্যকার কেউ তাকে চিনতেও পারছে না। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বসলেন। অতঃপর তাঁর (নাবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) দুই হাঁটুর সঙ্গে নিজের দুই হাঁটু মিশিয়ে এবং নিজের দু’হাত তাঁর উরুর উপর রেখে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্বন্ধে বলুন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইসলাম হলো এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রাসূল, সলাত ক্বায়িম করবে, যাকাত দিবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহ্‌র হাজ্জ করবে যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে। তিনি বললেন, ঠিক বলেছেন। তিনি ('উমার) বলেন, তার আচরণ আমরা বিস্মিত হলাম কারণ, তিনি প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তার সমর্থন করছেন। পুনরায় তিনি বলেন, আমাকে বলুন ঈমান কি? তিনি বললেন, আপনি আল্লাহর উপর, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহে, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল ও তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করবেন। তিনি বললেন, হাঁ, ঠিক বলেছেন। এবার আমাকে বলুন ইহসান কি? তিনি বললেন, "আল্লাহর ‘ইবাদত এরূপ নিষ্ঠার সঙ্গে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে নাও পান তবুও মনে করবেন যে, তিনি আপনাকে দেখছেন। অতঃপর তিনি বললেন, ক্বিয়ামাত কবে হবে তা আমাকে বলুন। তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জানেন না। তিনি এবার বললেন, তাহলে ক্বিয়ামাতের নিদর্শনসমূহ বলুন। তিনি বললেন, দাসী আপন মনিবকে জন্ম দিবে এবং নাঙ্গা পা ওয়ালা বস্ত্রহীন দেহ গরীব মেষ চালকদেরকে দালানকোঠা নিয়ে গর্ব করতে দেখবে। তিনি ('উমার) বলেন, অতঃপর লোকটি চলে গেলেন এবং এরপর আমি তিন দিন কাটালাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে 'উমার! তুমি কি জানো, প্রশ্নকারী কে? আমি বললাম, আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেন, তিনি হচ্ছেন জিবরীল (আঃ), তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিখানোর জন্য তোমাদের নিকট এসেছিলেন।

حدثنا عبيد الله بن معاذ، حدثنا أبي، حدثنا كهمس، عن ابن بريدة، عن يحيى بن يعمر، قال كان أول من تكلم في القدر بالبصرة معبد الجهني فانطلقت أنا وحميد بن عبد الرحمن الحميري حاجين أو معتمرين فقلنا لو لقينا أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فسألناه عما يقول هؤلاء في القدر ‏.‏ فوفق الله لنا عبد الله بن عمر داخلا في المسجد فاكتنفته أنا وصاحبي فظننت أن صاحبي سيكل الكلام إلى فقلت أبا عبد الرحمن إنه قد ظهر قبلنا ناس يقرءون القرآن ويتفقرون العلم يزعمون أن لا قدر والأمر أنف ‏.‏ فقال إذا لقيت أولئك فأخبرهم أني بريء منهم وهم برآء مني والذي يحلف به عبد الله بن عمر لو أن لأحدهم مثل أحد ذهبا فأنفقه ما قبله الله منه حتى يؤمن بالقدر ثم قال حدثني عمر بن الخطاب قال بينا نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر لا يرى عليه أثر السفر ولا نعرفه حتى جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأسند ركبتيه إلى ركبتيه ووضع كفيه على فخذيه وقال يا محمد أخبرني عن الإسلام ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا ‏"‏ ‏.‏ قال صدقت ‏.‏ قال فعجبنا له يسأله ويصدقه ‏.‏ قال فأخبرني عن الإيمان ‏.‏ قال ‏"‏ أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره ‏"‏ ‏.‏ قال صدقت ‏.‏ قال فأخبرني عن الإحسان قال ‏"‏ أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك ‏"‏ ‏.‏ قال فأخبرني عن الساعة ‏.‏ قال ‏"‏ ما المسئول عنها بأعلم من السائل ‏"‏ ‏.‏ قال فأخبرني عن أماراتها ‏.‏ قال ‏"‏ أن تلد الأمة ربتها وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان ‏"‏ ‏.‏ قال ثم انطلق فلبثت ثلاثا ثم قال ‏"‏ يا عمر هل تدري من السائل ‏"‏ ‏.‏ قلت الله ورسوله أعلم ‏.‏ قال ‏"‏ فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৬৯৮

حدثنا عثمان بن أبي شيبة، حدثنا جرير، عن أبي فروة الهمداني، عن أبي زرعة بن عمرو بن جرير، عن أبي ذر، وأبي، هريرة قالا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجلس بين ظهرى أصحابه فيجيء الغريب فلا يدري أيهم هو حتى يسأل فطلبنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نجعل له مجلسا يعرفه الغريب إذا أتاه - قال - فبنينا له دكانا من طين فجلس عليه وكنا نجلس بجنبتيه وذكر نحو هذا الخبر فأقبل رجل فذكر هيئته حتى سلم من طرف السماط فقال السلام عليك يا محمد ‏.‏ قال فرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏

আবূ যার ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে সাধারণত সাহাবীদের মধ্যেই বসতেন। ফলে কোন অপরিচিত ব্যক্তি আসলে প্রশ্ন না করা পর্যন্ত বলতে পারতেন না যে, কোন ব্যক্তিটি নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। অতএব আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করলাম যে, আমরা তাঁর জন্য একটা বিশেষ স্থান নির্দিষ্ট করবো যেন আগন্তুকরা দেখেই তাঁকে চিনতে পারে। বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং আমরা তাঁর জন্য মাটি দিয়ে একটি বসার স্থান বানালাম এবং তিনি তার উপর বসলেন আর আমরা তাঁর নিকটে বসলাম। অতঃপর বর্ণনাকারী অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হলো। বর্ণনাকারী তার দৈহিক গঠনেরও বর্ণনা দিলেন। সে উপস্থিত জনতার এক প্রান্ত হতে সালাম দিলো। সে বললো, হে মুহাম্মাদ! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সালামের জবাব দিলেন।

আবূ যার ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে সাধারণত সাহাবীদের মধ্যেই বসতেন। ফলে কোন অপরিচিত ব্যক্তি আসলে প্রশ্ন না করা পর্যন্ত বলতে পারতেন না যে, কোন ব্যক্তিটি নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। অতএব আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করলাম যে, আমরা তাঁর জন্য একটা বিশেষ স্থান নির্দিষ্ট করবো যেন আগন্তুকরা দেখেই তাঁকে চিনতে পারে। বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং আমরা তাঁর জন্য মাটি দিয়ে একটি বসার স্থান বানালাম এবং তিনি তার উপর বসলেন আর আমরা তাঁর নিকটে বসলাম। অতঃপর বর্ণনাকারী অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হলো। বর্ণনাকারী তার দৈহিক গঠনেরও বর্ণনা দিলেন। সে উপস্থিত জনতার এক প্রান্ত হতে সালাম দিলো। সে বললো, হে মুহাম্মাদ! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সালামের জবাব দিলেন।

حدثنا عثمان بن أبي شيبة، حدثنا جرير، عن أبي فروة الهمداني، عن أبي زرعة بن عمرو بن جرير، عن أبي ذر، وأبي، هريرة قالا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجلس بين ظهرى أصحابه فيجيء الغريب فلا يدري أيهم هو حتى يسأل فطلبنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نجعل له مجلسا يعرفه الغريب إذا أتاه - قال - فبنينا له دكانا من طين فجلس عليه وكنا نجلس بجنبتيه وذكر نحو هذا الخبر فأقبل رجل فذكر هيئته حتى سلم من طرف السماط فقال السلام عليك يا محمد ‏.‏ قال فرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৬৯৪

حدثنا مسدد بن مسرهد، حدثنا المعتمر، قال سمعت منصور بن المعتمر، يحدث عن سعد بن عبيدة، عن عبد الله بن حبيب أبي عبد الرحمن السلمي، عن علي، عليه السلام قال كنا في جنازة فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم ببقيع الغرقد فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلس ومعه مخصرة فجعل ينكت بالمخصرة في الأرض ثم رفع رأسه فقال ‏"‏ ما منكم من أحد ما من نفس منفوسة إلا قد كتب الله مكانها من النار أو من الجنة إلا قد كتبت شقية أو سعيدة ‏"‏ ‏.‏ قال فقال رجل من القوم يا نبي الله أفلا نمكث على كتابنا وندع العمل فمن كان من أهل السعادة ليكونن إلى السعادة ومن كان من أهل الشقوة ليكونن إلى الشقوة قال ‏"‏ اعملوا فكل ميسر أما أهل السعادة فييسرون للسعادة وأما أهل الشقوة فييسرون للشقوة ‏"‏ ‏.‏ ثم قال نبي الله ‏"‏ ‏{‏ فأما من أعطى واتقى * وصدق بالحسنى * فسنيسره لليسرى * وأما من بخل واستغنى * وكذب بالحسنى * ‏.‏ فسنيسره للعسرى ‏}‏ ‏"‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বাকী’ আল-গারকাদে এক জানাযায় ছিলাম। সেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বসলেন এবং তাঁর সঙ্গের লাঠি দিয়ে মাটির উপর আঁচর দিতে লাগলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, এমন কোন নিঃশ্বাসধারী নেই যার জাহান্নামে বা জান্নাতে নেককার ও বদকার হিসেবে ঠিকানা লিখে রাখা হয়নি। ‘আলী (রাঃ) বলেন, উপস্থিত জনতার মধ্য হতে একজন উঠে বললো, হে আল্লাহর নাবী! তাহলে আমরা কি আমাদের ঐ লেখার উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দিবো না? তারপর যার নাম সৌভাগ্যবান হিসেবে লেখা আছে সে ভালো কাজেই অগ্রসর হবে, আর আমাদের মধ্যে যার নাম হতভাগা ও পাপিষ্ঠ হিসেবে লেখা আছে সে পাপ কাজেই অগ্রসর হবে। নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা আমল করতে থাকো। কেননা প্রত্যেকের জন্য সেটাই সহজ করা হয়েছে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যে ভাগ্যবান সৎকর্ম তার জন্য সহজ হয়, আর যে পাপিষ্ঠ তার জন্য পাপ কাজ সহজ হয়। অতঃপর আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ "সুতরাং দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দিবো সহজ পথ। আর কেউ কৃপণতা করলে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা উত্তম তা বর্জন করলে আমি তার জন্য সুগম করে দিবো কঠোর পরিণতির পথ" (সূরাহ আল-লাইলঃ ৫-১০)।

আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বাকী’ আল-গারকাদে এক জানাযায় ছিলাম। সেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বসলেন এবং তাঁর সঙ্গের লাঠি দিয়ে মাটির উপর আঁচর দিতে লাগলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, এমন কোন নিঃশ্বাসধারী নেই যার জাহান্নামে বা জান্নাতে নেককার ও বদকার হিসেবে ঠিকানা লিখে রাখা হয়নি। ‘আলী (রাঃ) বলেন, উপস্থিত জনতার মধ্য হতে একজন উঠে বললো, হে আল্লাহর নাবী! তাহলে আমরা কি আমাদের ঐ লেখার উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দিবো না? তারপর যার নাম সৌভাগ্যবান হিসেবে লেখা আছে সে ভালো কাজেই অগ্রসর হবে, আর আমাদের মধ্যে যার নাম হতভাগা ও পাপিষ্ঠ হিসেবে লেখা আছে সে পাপ কাজেই অগ্রসর হবে। নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা আমল করতে থাকো। কেননা প্রত্যেকের জন্য সেটাই সহজ করা হয়েছে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যে ভাগ্যবান সৎকর্ম তার জন্য সহজ হয়, আর যে পাপিষ্ঠ তার জন্য পাপ কাজ সহজ হয়। অতঃপর আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ "সুতরাং দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দিবো সহজ পথ। আর কেউ কৃপণতা করলে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা উত্তম তা বর্জন করলে আমি তার জন্য সুগম করে দিবো কঠোর পরিণতির পথ" (সূরাহ আল-লাইলঃ ৫-১০)।

حدثنا مسدد بن مسرهد، حدثنا المعتمر، قال سمعت منصور بن المعتمر، يحدث عن سعد بن عبيدة، عن عبد الله بن حبيب أبي عبد الرحمن السلمي، عن علي، عليه السلام قال كنا في جنازة فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم ببقيع الغرقد فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلس ومعه مخصرة فجعل ينكت بالمخصرة في الأرض ثم رفع رأسه فقال ‏"‏ ما منكم من أحد ما من نفس منفوسة إلا قد كتب الله مكانها من النار أو من الجنة إلا قد كتبت شقية أو سعيدة ‏"‏ ‏.‏ قال فقال رجل من القوم يا نبي الله أفلا نمكث على كتابنا وندع العمل فمن كان من أهل السعادة ليكونن إلى السعادة ومن كان من أهل الشقوة ليكونن إلى الشقوة قال ‏"‏ اعملوا فكل ميسر أما أهل السعادة فييسرون للسعادة وأما أهل الشقوة فييسرون للشقوة ‏"‏ ‏.‏ ثم قال نبي الله ‏"‏ ‏{‏ فأما من أعطى واتقى * وصدق بالحسنى * فسنيسره لليسرى * وأما من بخل واستغنى * وكذب بالحسنى * ‏.‏ فسنيسره للعسرى ‏}‏ ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৬৯৭

حدثنا محمود بن خالد، حدثنا الفريابي، عن سفيان، قال حدثنا علقمة بن مرثد، عن سليمان بن بريدة، عن ابن يعمر، بهذا الحديث يزيد وينقص قال فما الإسلام قال ‏ "‏ إقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصوم شهر رمضان والاغتسال من الجنابة ‏"‏ ‏.‏ قال أبو داود علقمة مرجئ ‏.

ইবনু ইয়া’মুর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু ইয়া’মুর (রাঃ) সূত্রে এ হাদিস কম-বেশি বক্তব্যসহ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বললেন, ইসলাম কি? তিনি (রাঃ) বললেন, সলাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, বায়তুল্লাহর হাজ্জ করা, রমযান মাসের সওম রাখা এবং জানাবাতের গোসল করা। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আলক্বামাহ ইবনু মারসাদ হলেন মুরজিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত।

ইবনু ইয়া’মুর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু ইয়া’মুর (রাঃ) সূত্রে এ হাদিস কম-বেশি বক্তব্যসহ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বললেন, ইসলাম কি? তিনি (রাঃ) বললেন, সলাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, বায়তুল্লাহর হাজ্জ করা, রমযান মাসের সওম রাখা এবং জানাবাতের গোসল করা। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আলক্বামাহ ইবনু মারসাদ হলেন মুরজিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত।

حدثنا محمود بن خالد، حدثنا الفريابي، عن سفيان، قال حدثنا علقمة بن مرثد، عن سليمان بن بريدة، عن ابن يعمر، بهذا الحديث يزيد وينقص قال فما الإسلام قال ‏ "‏ إقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصوم شهر رمضان والاغتسال من الجنابة ‏"‏ ‏.‏ قال أبو داود علقمة مرجئ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৬৯২

حدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، عن عمر بن محمد، عن عمر، مولى غفرة عن رجل، من الأنصار عن حذيفة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لكل أمة مجوس ومجوس هذه الأمة الذين يقولون لا قدر من مات منهم فلا تشهدوا جنازته ومن مرض منهم فلا تعودوهم وهم شيعة الدجال وحق على الله أن يلحقهم بالدجال ‏"‏ ‏.‏

হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক উম্মাতে অগ্নিপূজক রয়েছে। এ উম্মাতের অগ্নিপূজক হলো যারা বলে, তাক্বদীর বলতে কিছু নেই। তাদের মধ্যকার কেউ মারা গেলে তোমরা তার জানাযায় উপস্থিত হবে না এবং তাদের কেউ অসুস্থ হলে তোমরা তাদেরকে দেখতে যাবে না। তারা হচ্ছে দাজ্জালের অনুসারী এবং আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে দাজ্জালের সঙ্গে মিলিত করবেন। [৪৬৯১] দুর্বলঃ যঈফাহ হা/৫৭১৪।

হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক উম্মাতে অগ্নিপূজক রয়েছে। এ উম্মাতের অগ্নিপূজক হলো যারা বলে, তাক্বদীর বলতে কিছু নেই। তাদের মধ্যকার কেউ মারা গেলে তোমরা তার জানাযায় উপস্থিত হবে না এবং তাদের কেউ অসুস্থ হলে তোমরা তাদেরকে দেখতে যাবে না। তারা হচ্ছে দাজ্জালের অনুসারী এবং আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে দাজ্জালের সঙ্গে মিলিত করবেন। [৪৬৯১] দুর্বলঃ যঈফাহ হা/৫৭১৪।

حدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، عن عمر بن محمد، عن عمر، مولى غفرة عن رجل، من الأنصار عن حذيفة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لكل أمة مجوس ومجوس هذه الأمة الذين يقولون لا قدر من مات منهم فلا تشهدوا جنازته ومن مرض منهم فلا تعودوهم وهم شيعة الدجال وحق على الله أن يلحقهم بالدجال ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৬৯৯

حدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، عن أبي سنان، عن وهب بن خالد الحمصي، عن ابن الديلمي، قال أتيت أبى بن كعب فقلت له وقع في نفسي شىء من القدر فحدثني بشىء لعل الله أن يذهبه من قلبي ‏.‏ فقال لو أن الله عذب أهل سمواته وأهل أرضه عذبهم وهو غير ظالم لهم ولو رحمهم كانت رحمته خيرا لهم من أعمالهم ولو أنفقت مثل أحد ذهبا في سبيل الله ما قبله الله منك حتى تؤمن بالقدر وتعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك وأن ما أخطأك لم يكن ليصيبك ولو مت على غير هذا لدخلت النار ‏.‏ قال ثم أتيت عبد الله بن مسعود فقال مثل ذلك - قال - ثم أتيت حذيفة بن اليمان فقال مثل ذلك - قال - ثم أتيت زيد بن ثابت فحدثني عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك ‏.‏

আবূ 'আবদুল্লাহ ইবনুল দায়লামী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) -এর নিকট এসে তাকে বললাম, তাক্বদীর সম্পর্কে আমার মনে একটা দ্বিধার উদ্রেক হয়েছে। তাই আপনি আমাকে এমন কিছু বলুন যার বিনিময়ে আশা করি মহান আল্লাহ আমার মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করবেন। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ তাঁর আসমান ও পৃথিবীবাসী সকলকে শাস্তি দিতে পারেন। তারপরও তিনি তাদের প্রতি অন্যায়কারী সাব্যস্ত হবেন না। পক্ষান্তরে, তিনি যদি তাদের সকলকে দয়া করেন তাহলে তাঁর এ দয়া তাদের জন্য তাদের নেক আমল হতে উত্তম হবে। সুতরাং যদি তুমি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর পথে দান করো আর তাক্বদীরে বিশ্বাস না রাখো, তবে তা গ্রহণ করা হবে না যতোক্ষণ না তুমি পুনরায় তাক্বদীরে বিশ্বাস করবে এবং উপলব্ধি করবে যে, যা তোমার ঘটেছে তা ভুলেও তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না। পক্ষান্তরে, যা এগিয়ে গেছে তা কখনো ভুলেও তোমার বেলায় ঘটবার ছিল না। আর এ বিশ্বাস ছাড়া তুমি মারা গেলে জাহান্নামে যাবে। ইবনুদ দায়লামী বলেন, অতঃপর আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) -এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উদ্বৃতি দিয়ে একই কথা বলেন।

আবূ 'আবদুল্লাহ ইবনুল দায়লামী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) -এর নিকট এসে তাকে বললাম, তাক্বদীর সম্পর্কে আমার মনে একটা দ্বিধার উদ্রেক হয়েছে। তাই আপনি আমাকে এমন কিছু বলুন যার বিনিময়ে আশা করি মহান আল্লাহ আমার মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করবেন। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ তাঁর আসমান ও পৃথিবীবাসী সকলকে শাস্তি দিতে পারেন। তারপরও তিনি তাদের প্রতি অন্যায়কারী সাব্যস্ত হবেন না। পক্ষান্তরে, তিনি যদি তাদের সকলকে দয়া করেন তাহলে তাঁর এ দয়া তাদের জন্য তাদের নেক আমল হতে উত্তম হবে। সুতরাং যদি তুমি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর পথে দান করো আর তাক্বদীরে বিশ্বাস না রাখো, তবে তা গ্রহণ করা হবে না যতোক্ষণ না তুমি পুনরায় তাক্বদীরে বিশ্বাস করবে এবং উপলব্ধি করবে যে, যা তোমার ঘটেছে তা ভুলেও তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না। পক্ষান্তরে, যা এগিয়ে গেছে তা কখনো ভুলেও তোমার বেলায় ঘটবার ছিল না। আর এ বিশ্বাস ছাড়া তুমি মারা গেলে জাহান্নামে যাবে। ইবনুদ দায়লামী বলেন, অতঃপর আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) -এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উদ্বৃতি দিয়ে একই কথা বলেন।

حدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، عن أبي سنان، عن وهب بن خالد الحمصي، عن ابن الديلمي، قال أتيت أبى بن كعب فقلت له وقع في نفسي شىء من القدر فحدثني بشىء لعل الله أن يذهبه من قلبي ‏.‏ فقال لو أن الله عذب أهل سمواته وأهل أرضه عذبهم وهو غير ظالم لهم ولو رحمهم كانت رحمته خيرا لهم من أعمالهم ولو أنفقت مثل أحد ذهبا في سبيل الله ما قبله الله منك حتى تؤمن بالقدر وتعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك وأن ما أخطأك لم يكن ليصيبك ولو مت على غير هذا لدخلت النار ‏.‏ قال ثم أتيت عبد الله بن مسعود فقال مثل ذلك - قال - ثم أتيت حذيفة بن اليمان فقال مثل ذلك - قال - ثم أتيت زيد بن ثابت فحدثني عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০০

حدثنا جعفر بن مسافر الهذلي، حدثنا يحيى بن حسان، حدثنا الوليد بن رباح، عن إبراهيم بن أبي عبلة، عن أبي حفصة، قال قال عبادة بن الصامت لابنه يا بنى إنك لن تجد طعم حقيقة الإيمان حتى تعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك وما أخطأك لم يكن ليصيبك سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏"‏ إن أول ما خلق الله القلم فقال له اكتب ‏.‏ قال رب وماذا أكتب قال اكتب مقادير كل شىء حتى تقوم الساعة ‏"‏ ‏.‏ يا بنى إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏"‏ من مات على غير هذا فليس مني ‏"‏ ‏.

আবূ হাফসাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) তার ছেলেকে বললেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! তুমি ততোক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ঈমানের স্বাদ পাবে না যতোক্ষণ না তুমি জানতে পারবে “যা তোমার উপর ঘটেছে তা ভুলেও এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না। পক্ষান্তরে, যা এড়িয়ে গেছে তা তোমার উপর ভুলেও ঘটবার ছিল না। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম যে বস্তু সৃষ্টি করেছেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, লিখো! কলম বললো, হে রব! কি লিখবো? তিনি বললেন, ক্বিয়ামাত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুর তাক্বদীর লিখো। হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এরূপ বিশ্বাস ছাড়া মারা যায় সে আমার (উম্মাতের) নয়।

আবূ হাফসাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) তার ছেলেকে বললেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! তুমি ততোক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ঈমানের স্বাদ পাবে না যতোক্ষণ না তুমি জানতে পারবে “যা তোমার উপর ঘটেছে তা ভুলেও এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না। পক্ষান্তরে, যা এড়িয়ে গেছে তা তোমার উপর ভুলেও ঘটবার ছিল না। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম যে বস্তু সৃষ্টি করেছেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, লিখো! কলম বললো, হে রব! কি লিখবো? তিনি বললেন, ক্বিয়ামাত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুর তাক্বদীর লিখো। হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এরূপ বিশ্বাস ছাড়া মারা যায় সে আমার (উম্মাতের) নয়।

حدثنا جعفر بن مسافر الهذلي، حدثنا يحيى بن حسان، حدثنا الوليد بن رباح، عن إبراهيم بن أبي عبلة، عن أبي حفصة، قال قال عبادة بن الصامت لابنه يا بنى إنك لن تجد طعم حقيقة الإيمان حتى تعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك وما أخطأك لم يكن ليصيبك سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏"‏ إن أول ما خلق الله القلم فقال له اكتب ‏.‏ قال رب وماذا أكتب قال اكتب مقادير كل شىء حتى تقوم الساعة ‏"‏ ‏.‏ يا بنى إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏"‏ من مات على غير هذا فليس مني ‏"‏ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০১

حدثنا مسدد، حدثنا سفيان، ح وحدثنا أحمد بن صالح، - المعنى - قال حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار، سمع طاوسا، يقول سمعت أبا هريرة، يخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ احتج آدم وموسى فقال موسى يا آدم أنت أبونا خيبتنا وأخرجتنا من الجنة ‏.‏ فقال آدم أنت موسى اصطفاك الله بكلامه وخط لك التوراة بيده تلومني على أمر قدره على قبل أن يخلقني بأربعين سنة فحج آدم موسى ‏"‏ ‏.‏ قال أحمد بن صالح عن عمرو عن طاوس سمع أبا هريرة ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) পরস্পর বিতর্কে প্রবৃত্ত হলেন। মূসা (আঃ) বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদেরকে জান্নাত হতে বঞ্চিত ও বিতাড়িত করেছেন। আদম (আঃ) বললেন, তুমি তো সেই মূসা, আল্লাহ তোমাকে তাঁর কালামের জন্য মনোনীত করেছেন এবং নিজ হাতে তোমার জন্য তাওরাত লিখে দিয়েছেন। তুমি আমাকে এমন একটি কাজের জন্য তিরস্কার করছো যা আমি করবো বলে আমার সৃষ্টির চল্লিশ বছর পূর্বে তিনি সিদ্ধান্ত করে রেখেছেন। অতএব, এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বিজয়ী হলেন।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) পরস্পর বিতর্কে প্রবৃত্ত হলেন। মূসা (আঃ) বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদেরকে জান্নাত হতে বঞ্চিত ও বিতাড়িত করেছেন। আদম (আঃ) বললেন, তুমি তো সেই মূসা, আল্লাহ তোমাকে তাঁর কালামের জন্য মনোনীত করেছেন এবং নিজ হাতে তোমার জন্য তাওরাত লিখে দিয়েছেন। তুমি আমাকে এমন একটি কাজের জন্য তিরস্কার করছো যা আমি করবো বলে আমার সৃষ্টির চল্লিশ বছর পূর্বে তিনি সিদ্ধান্ত করে রেখেছেন। অতএব, এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বিজয়ী হলেন।

حدثنا مسدد، حدثنا سفيان، ح وحدثنا أحمد بن صالح، - المعنى - قال حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار، سمع طاوسا، يقول سمعت أبا هريرة، يخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ احتج آدم وموسى فقال موسى يا آدم أنت أبونا خيبتنا وأخرجتنا من الجنة ‏.‏ فقال آدم أنت موسى اصطفاك الله بكلامه وخط لك التوراة بيده تلومني على أمر قدره على قبل أن يخلقني بأربعين سنة فحج آدم موسى ‏"‏ ‏.‏ قال أحمد بن صالح عن عمرو عن طاوس سمع أبا هريرة ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০৫

حدثنا القعنبي، حدثنا المعتمر، عن أبيه، عن رقبة بن مصقلة، عن أبي إسحاق، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، عن أبى بن كعب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الغلام الذي قتله الخضر طبع كافرا ولو عاش لأرهق أبويه طغيانا وكفرا ‏"‏ ‏.

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ছেলেটিকে খাদির (খিযির) হত্যা করেছিলেন, তাকে কাফির হিসেবেই সীলমোহর করা হয়েছিল। সে বেঁচে থাকলে তার পিতা-মাতাকে সীমালঙ্ঘন ও কুফরীর দ্বারা বিব্রত করতো।

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ছেলেটিকে খাদির (খিযির) হত্যা করেছিলেন, তাকে কাফির হিসেবেই সীলমোহর করা হয়েছিল। সে বেঁচে থাকলে তার পিতা-মাতাকে সীমালঙ্ঘন ও কুফরীর দ্বারা বিব্রত করতো।

حدثنا القعنبي، حدثنا المعتمر، عن أبيه، عن رقبة بن مصقلة، عن أبي إسحاق، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، عن أبى بن كعب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الغلام الذي قتله الخضر طبع كافرا ولو عاش لأرهق أبويه طغيانا وكفرا ‏"‏ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০৩

حدثنا عبد الله القعنبي، عن مالك، عن زيد بن أبي أنيسة، أن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد بن الخطاب، أخبره عن مسلم بن يسار الجهني، أن عمر بن الخطاب، سئل عن هذه الآية، ‏{‏ وإذ أخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ‏}‏ قال قرأ القعنبي الآية ‏.‏ فقال عمر سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عنها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله عز وجل خلق آدم ثم مسح ظهره بيمينه فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للجنة وبعمل أهل الجنة يعملون ثم مسح ظهره فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للنار وبعمل أهل النار يعملون ‏"‏ ‏.‏ فقال رجل يا رسول الله ففيم العمل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله عز وجل إذا خلق العبد للجنة استعمله بعمل أهل الجنة حتى يموت على عمل من أعمال أهل الجنة فيدخله به الجنة وإذا خلق العبد للنار استعمله بعمل أهل النار حتى يموت على عمل من أعمال أهل النار فيدخله به النار ‏"‏ ‏.

মুসলিম ইবনু ইয়াসার আল্‌-জুহানী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) -কে এ আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলোঃ “যখন তোমার রব আদম সন্তানের পিঠ হতে তাদের সমস্ত সন্তানদেরকে বের করলেন...” (সূরাহ আল-আ’রাফঃ ১৭২)। বর্ণনাকারী বলেন, আল্‌-কা’নাবী এ আয়াত পড়েছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর স্বীয় ডান হাতে তাঁর পিঠ বুলিয়ে তা থেকে তাঁর একদল সন্তান বের করে বললেন, আমি এদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জান্নাতবাসীর উপযোগী কাজই করবে। অতঃপর আবার তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে একদল সন্তান বের করিয়ে বললেন, এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জাহান্নামীদের উপযোগী কাজই করবে। একথা শুনে এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমলের কি মূল্য রইলো? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মহান আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন তখন তার দ্বারা জান্নাতীদের কাজই করিয়ে নেন। শেষে সে জান্নাতীদের কাজ করেই মারা যায়। আর আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যখন তিনি কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তার দ্বারা জাহান্নামীদের কাজ করিয়ে নেন। অবশেষে সে জাহান্নামীদের কাজ করে মারা যায়। অতঃপর এজন্য তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান। সহীহ, পিঠ বুলানো কথাটি বাদে।

মুসলিম ইবনু ইয়াসার আল্‌-জুহানী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) -কে এ আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলোঃ “যখন তোমার রব আদম সন্তানের পিঠ হতে তাদের সমস্ত সন্তানদেরকে বের করলেন...” (সূরাহ আল-আ’রাফঃ ১৭২)। বর্ণনাকারী বলেন, আল্‌-কা’নাবী এ আয়াত পড়েছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর স্বীয় ডান হাতে তাঁর পিঠ বুলিয়ে তা থেকে তাঁর একদল সন্তান বের করে বললেন, আমি এদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জান্নাতবাসীর উপযোগী কাজই করবে। অতঃপর আবার তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে একদল সন্তান বের করিয়ে বললেন, এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জাহান্নামীদের উপযোগী কাজই করবে। একথা শুনে এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমলের কি মূল্য রইলো? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মহান আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন তখন তার দ্বারা জান্নাতীদের কাজই করিয়ে নেন। শেষে সে জান্নাতীদের কাজ করেই মারা যায়। আর আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যখন তিনি কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তার দ্বারা জাহান্নামীদের কাজ করিয়ে নেন। অবশেষে সে জাহান্নামীদের কাজ করে মারা যায়। অতঃপর এজন্য তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান। সহীহ, পিঠ বুলানো কথাটি বাদে।

حدثنا عبد الله القعنبي، عن مالك، عن زيد بن أبي أنيسة، أن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد بن الخطاب، أخبره عن مسلم بن يسار الجهني، أن عمر بن الخطاب، سئل عن هذه الآية، ‏{‏ وإذ أخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ‏}‏ قال قرأ القعنبي الآية ‏.‏ فقال عمر سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عنها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله عز وجل خلق آدم ثم مسح ظهره بيمينه فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للجنة وبعمل أهل الجنة يعملون ثم مسح ظهره فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للنار وبعمل أهل النار يعملون ‏"‏ ‏.‏ فقال رجل يا رسول الله ففيم العمل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله عز وجل إذا خلق العبد للجنة استعمله بعمل أهل الجنة حتى يموت على عمل من أعمال أهل الجنة فيدخله به الجنة وإذا خلق العبد للنار استعمله بعمل أهل النار حتى يموت على عمل من أعمال أهل النار فيدخله به النار ‏"‏ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০৭

حدثنا محمد بن مهران الرازي، حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو، عن سعيد بن جبير، قال قال ابن عباس حدثني أبى بن كعب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ أبصر الخضر غلاما يلعب مع الصبيان فتناول رأسه فقلعه فقال موسى ‏{‏ أقتلت نفسا زكية ‏}‏ ‏"‏ ‏.‏ الآية ‏.‏

উবাই ইবনু কা’ব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ খালিদ (খিযির) একটি কিশোরকে বালকদের সঙ্গে খেলাধূলারত দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি তার মাথা ধরে কাবু করে তাকে হত্যা করলেন। তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ আপনি এক নিষ্পাপ জীবন হত্যা করলেন...” (সূরা কাহ্‌ফঃ ৭৪)।

উবাই ইবনু কা’ব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ খালিদ (খিযির) একটি কিশোরকে বালকদের সঙ্গে খেলাধূলারত দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি তার মাথা ধরে কাবু করে তাকে হত্যা করলেন। তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ আপনি এক নিষ্পাপ জীবন হত্যা করলেন...” (সূরা কাহ্‌ফঃ ৭৪)।

حدثنا محمد بن مهران الرازي، حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو، عن سعيد بن جبير، قال قال ابن عباس حدثني أبى بن كعب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ أبصر الخضر غلاما يلعب مع الصبيان فتناول رأسه فقلعه فقال موسى ‏{‏ أقتلت نفسا زكية ‏}‏ ‏"‏ ‏.‏ الآية ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০৮

حدثنا حفص بن عمر النمري، حدثنا شعبة، ح وحدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، - المعنى واحد والإخبار في حديث سفيان - عن الأعمش قال حدثنا زيد بن وهب حدثنا عبد الله بن مسعود قال حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق ‏ "‏ إن خلق أحدكم يجمع في بطن أمه أربعين يوما ثم يكون علقة مثل ذلك ثم يكون مضغة مثل ذلك ثم يبعث إليه ملك فيؤمر بأربع كلمات فيكتب رزقه وأجله وعمله ثم يكتب شقي أو سعيد ثم ينفخ فيه الروح فإن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع أو قيد ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخلها وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل النار حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع أو قيد ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل الجنة فيدخلها ‏"‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বর্ণনা করেনঃ তিনি তো ছিলেন সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে স্বীকৃত। তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি চল্লিশ দিন তার মায়ের গর্ভে শুক্ররূপে থাকে, অতঃপর চল্লিশ দিন রক্তপিন্ডরূপে বিরাজ করে; তারপর চল্লিশ দিনে মাংসপিন্ডরূপ ধারণ করে। অতঃপর মহান আল্লাহ তার নিকট একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন এবং তাকে চারটি বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়। তখন সে তার রিযিক, মৃত্যু, আমল এবং সে নেককার নাকি বদকার তাও লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর তার মধ্যে রূহ প্রবেশ করানো হয়। বস্তুত, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ জান্নাতের উপযোগী কাজ করতে থাকে। এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত বা এক হাত পরিমাণ দূরত্ব থাকে, এমন সময় তার সামনে তার তাক্বদীরের লেখা অগ্রবর্তী হয়, তখন সে জাহান্নামীদের কাজ করে, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের কাজ করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত বা এক হাত পরিমাণ দূরত্ব থাকে। এমন সময় তার সামনে সে লেখা অগ্রবর্তী হয় এবং সে জান্নাতীদের আমল করে, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।

আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বর্ণনা করেনঃ তিনি তো ছিলেন সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে স্বীকৃত। তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি চল্লিশ দিন তার মায়ের গর্ভে শুক্ররূপে থাকে, অতঃপর চল্লিশ দিন রক্তপিন্ডরূপে বিরাজ করে; তারপর চল্লিশ দিনে মাংসপিন্ডরূপ ধারণ করে। অতঃপর মহান আল্লাহ তার নিকট একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন এবং তাকে চারটি বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়। তখন সে তার রিযিক, মৃত্যু, আমল এবং সে নেককার নাকি বদকার তাও লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর তার মধ্যে রূহ প্রবেশ করানো হয়। বস্তুত, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ জান্নাতের উপযোগী কাজ করতে থাকে। এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত বা এক হাত পরিমাণ দূরত্ব থাকে, এমন সময় তার সামনে তার তাক্বদীরের লেখা অগ্রবর্তী হয়, তখন সে জাহান্নামীদের কাজ করে, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের কাজ করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত বা এক হাত পরিমাণ দূরত্ব থাকে। এমন সময় তার সামনে সে লেখা অগ্রবর্তী হয় এবং সে জান্নাতীদের আমল করে, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।

حدثنا حفص بن عمر النمري، حدثنا شعبة، ح وحدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، - المعنى واحد والإخبار في حديث سفيان - عن الأعمش قال حدثنا زيد بن وهب حدثنا عبد الله بن مسعود قال حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق ‏ "‏ إن خلق أحدكم يجمع في بطن أمه أربعين يوما ثم يكون علقة مثل ذلك ثم يكون مضغة مثل ذلك ثم يبعث إليه ملك فيؤمر بأربع كلمات فيكتب رزقه وأجله وعمله ثم يكتب شقي أو سعيد ثم ينفخ فيه الروح فإن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع أو قيد ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخلها وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل النار حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع أو قيد ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل الجنة فيدخلها ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০৯

حدثنا مسدد، حدثنا حماد بن زيد، عن يزيد الرشك، قال حدثنا مطرف، عن عمران بن حصين، قال قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله أعلم أهل الجنة من أهل النار قال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ قال ففيم يعمل العاملون قال ‏"‏ كل ميسر لما خلق له ‏"‏ ‏.

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কে জান্নাতবাসী আর কে জাহান্নামবাসী তা কি জানা গেছে? তিনি বললেন, হাঁ। প্রশ্নকারী বললো, তাহলে কিসের জন্য আমলকারীরা আমল করবে? তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, প্রত্যেকের জন্য তাই সহজতর যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কে জান্নাতবাসী আর কে জাহান্নামবাসী তা কি জানা গেছে? তিনি বললেন, হাঁ। প্রশ্নকারী বললো, তাহলে কিসের জন্য আমলকারীরা আমল করবে? তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, প্রত্যেকের জন্য তাই সহজতর যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

حدثنا مسدد، حدثنا حماد بن زيد، عن يزيد الرشك، قال حدثنا مطرف، عن عمران بن حصين، قال قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله أعلم أهل الجنة من أهل النار قال ‏"‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ قال ففيم يعمل العاملون قال ‏"‏ كل ميسر لما خلق له ‏"‏ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭১০

حدثنا أحمد بن حنبل، حدثنا عبد الله بن يزيد المقرئ أبو عبد الرحمن، قال حدثني سعيد بن أبي أيوب، قال حدثني عطاء بن دينار، عن حكيم بن شريك الهذلي، عن يحيى بن ميمون الحضرمي، عن ربيعة الجرشي، عن أبي هريرة، عن عمر بن الخطاب، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ لا تجالسوا أهل القدر ولا تفاتحوهم ‏"‏ ‏.‏

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যারা তাক্বদীরে বিশ্বাস করে না তোমরা তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করো না এবং তোমাদেরকে সম্বোধন করার আগে তাদেরকে সম্বোধন করো না। [৪৭০৯] দুর্বলঃ মিশকাত হা/১০৮।

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যারা তাক্বদীরে বিশ্বাস করে না তোমরা তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করো না এবং তোমাদেরকে সম্বোধন করার আগে তাদেরকে সম্বোধন করো না। [৪৭০৯] দুর্বলঃ মিশকাত হা/১০৮।

حدثنا أحمد بن حنبل، حدثنا عبد الله بن يزيد المقرئ أبو عبد الرحمن، قال حدثني سعيد بن أبي أيوب، قال حدثني عطاء بن دينار، عن حكيم بن شريك الهذلي، عن يحيى بن ميمون الحضرمي، عن ربيعة الجرشي، عن أبي هريرة، عن عمر بن الخطاب، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ لا تجالسوا أهل القدر ولا تفاتحوهم ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০২

حدثنا أحمد بن صالح، قال حدثنا ابن وهب، قال أخبرني هشام بن سعد، عن زيد بن أسلم، عن أبيه، أن عمر بن الخطاب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن موسى قال يا رب أرنا آدم الذي أخرجنا ونفسه من الجنة فأراه الله آدم فقال أنت أبونا آدم فقال له آدم نعم ‏.‏ قال أنت الذي نفخ الله فيك من روحه وعلمك الأسماء كلها وأمر الملائكة فسجدوا لك قال نعم ‏.‏ قال فما حملك على أن أخرجتنا ونفسك من الجنة فقال له آدم ومن أنت قال أنا موسى ‏.‏ قال أنت نبي بني إسرائيل الذي كلمك الله من وراء الحجاب لم يجعل بينك وبينه رسولا من خلقه قال نعم ‏.‏ قال أفما وجدت أن ذلك كان في كتاب الله قبل أن أخلق قال نعم ‏.‏ قال ففيم تلومني في شىء سبق من الله تعالى فيه القضاء قبلي ‏"‏ ‏.‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك ‏"‏ فحج آدم موسى فحج آدم موسى ‏"‏ ‏.‏

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! যে আদম (আঃ) আমাদেরকে ও তাঁর নিজেকে জান্নাত হতে বিতাড়িত করেছেন, তাকেঁ আমি দেখতে চাই। অতঃপর মহান আল্লাহ তাকে আদম (আঃ)-কে দেখালেন। তিনি বললেন, আপনিই আমাদের পিতা আদম (আঃ)? আদম (আঃ) তাকে বললেন, হাঁ। অতঃপর তিনি বললেন, আপনি সেই মহান ব্যক্তি যাঁর মধ্যে মহান আল্লাহ তাঁর পক্ষ হতে রূহ সঞ্চার করেছেন এবং আপনাকে সকল কিছুর নাম শিখিয়েছেন, আর ফেরেশতাদেরকে হুকুম দিলে তারা আপনাকে সাজদাহ্ করেছেন। তিনি বললেন, হাঁ। তিনি পুনরায় বললেন, আমাদেরকে ও আপনার নিজেকে জান্নাত হতে বহিষ্কার করার জন্য আপনাকে কোন বস্তু উদ্বুদ্ধ করেছিল? এবার আদম (আঃ) বললেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি মূসা (আঃ)। তিনি বললেন, তুমি বনী ইসরাঈলের এমন একজন নবী যাঁর সাথে আল্লাহ পর্দার অন্তরাল হতে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তোমার ও তাঁর মাঝে সৃষ্টি জগতের কাউকে বার্তাবাহক হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি বললেন, হাঁ। তিনি বললেন, তুমি কি আল্লাহর কিতাবে দেখতে পাওনি যে, সেটি নির্ধারিত ছিল আমাকে সৃষ্টি কারার পূর্বেই? তিনি বললেন, হাঁ। তিনি বললেন, যে বিষয়ে মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত আমার পূর্ব হতেই লিপিবদ্ধ সে ব্যাপারে আমাকে কেন অভিযুক্ত করছো? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সুতরাং এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন।

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! যে আদম (আঃ) আমাদেরকে ও তাঁর নিজেকে জান্নাত হতে বিতাড়িত করেছেন, তাকেঁ আমি দেখতে চাই। অতঃপর মহান আল্লাহ তাকে আদম (আঃ)-কে দেখালেন। তিনি বললেন, আপনিই আমাদের পিতা আদম (আঃ)? আদম (আঃ) তাকে বললেন, হাঁ। অতঃপর তিনি বললেন, আপনি সেই মহান ব্যক্তি যাঁর মধ্যে মহান আল্লাহ তাঁর পক্ষ হতে রূহ সঞ্চার করেছেন এবং আপনাকে সকল কিছুর নাম শিখিয়েছেন, আর ফেরেশতাদেরকে হুকুম দিলে তারা আপনাকে সাজদাহ্ করেছেন। তিনি বললেন, হাঁ। তিনি পুনরায় বললেন, আমাদেরকে ও আপনার নিজেকে জান্নাত হতে বহিষ্কার করার জন্য আপনাকে কোন বস্তু উদ্বুদ্ধ করেছিল? এবার আদম (আঃ) বললেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি মূসা (আঃ)। তিনি বললেন, তুমি বনী ইসরাঈলের এমন একজন নবী যাঁর সাথে আল্লাহ পর্দার অন্তরাল হতে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তোমার ও তাঁর মাঝে সৃষ্টি জগতের কাউকে বার্তাবাহক হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি বললেন, হাঁ। তিনি বললেন, তুমি কি আল্লাহর কিতাবে দেখতে পাওনি যে, সেটি নির্ধারিত ছিল আমাকে সৃষ্টি কারার পূর্বেই? তিনি বললেন, হাঁ। তিনি বললেন, যে বিষয়ে মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত আমার পূর্ব হতেই লিপিবদ্ধ সে ব্যাপারে আমাকে কেন অভিযুক্ত করছো? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সুতরাং এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন।

حدثنا أحمد بن صالح، قال حدثنا ابن وهب، قال أخبرني هشام بن سعد، عن زيد بن أسلم، عن أبيه، أن عمر بن الخطاب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن موسى قال يا رب أرنا آدم الذي أخرجنا ونفسه من الجنة فأراه الله آدم فقال أنت أبونا آدم فقال له آدم نعم ‏.‏ قال أنت الذي نفخ الله فيك من روحه وعلمك الأسماء كلها وأمر الملائكة فسجدوا لك قال نعم ‏.‏ قال فما حملك على أن أخرجتنا ونفسك من الجنة فقال له آدم ومن أنت قال أنا موسى ‏.‏ قال أنت نبي بني إسرائيل الذي كلمك الله من وراء الحجاب لم يجعل بينك وبينه رسولا من خلقه قال نعم ‏.‏ قال أفما وجدت أن ذلك كان في كتاب الله قبل أن أخلق قال نعم ‏.‏ قال ففيم تلومني في شىء سبق من الله تعالى فيه القضاء قبلي ‏"‏ ‏.‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك ‏"‏ فحج آدم موسى فحج آدم موسى ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০৪

حدثنا محمد بن المصفى، حدثنا بقية، قال حدثني عمر بن جعثم القرشي، قال حدثني زيد بن أبي أنيسة، عن عبد الحميد بن عبد الرحمن، عن مسلم بن يسار، عن نعيم بن ربيعة، قال كنت عند عمر بن الخطاب بهذا الحديث وحديث مالك أتم ‏.‏

নু’আইম ইবনু রবী’আহ (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। অতঃপর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তবে ইমাম মালিক (রহঃ) বর্ণিত হাদীস অধিক পূর্ণাঙ্গ। [৪৭০৩] আমি এটি সহীহ এবং যঈফে পাইনি।

নু’আইম ইবনু রবী’আহ (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। অতঃপর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তবে ইমাম মালিক (রহঃ) বর্ণিত হাদীস অধিক পূর্ণাঙ্গ। [৪৭০৩] আমি এটি সহীহ এবং যঈফে পাইনি।

حدثنا محمد بن المصفى، حدثنا بقية، قال حدثني عمر بن جعثم القرشي، قال حدثني زيد بن أبي أنيسة، عن عبد الحميد بن عبد الرحمن، عن مسلم بن يسار، عن نعيم بن ربيعة، قال كنت عند عمر بن الخطاب بهذا الحديث وحديث مالك أتم ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭০৬

حدثنا محمود بن خالد، حدثنا الفريابي، عن إسرائيل، حدثنا أبو إسحاق، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال حدثنا أبى بن كعب، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في قوله ‏{‏ وأما الغلام فكان أبواه مؤمنين ‏}‏ ‏"‏ وكان طبع يوم طبع كافرا ‏"‏ ‏.‏

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে বলতে শুনেছিঃ “আর কিশোরটি, যার মাতা-পিতা ছিল মু’মিন” (সূরাহ কাহ্‌ফঃ ৮০), যেদিন মোহর মারা হয়েছিল সেদিন তাকে কাফির হিসেবেই সীলমোহর মারা হয়েছিল।

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে বলতে শুনেছিঃ “আর কিশোরটি, যার মাতা-পিতা ছিল মু’মিন” (সূরাহ কাহ্‌ফঃ ৮০), যেদিন মোহর মারা হয়েছিল সেদিন তাকে কাফির হিসেবেই সীলমোহর মারা হয়েছিল।

حدثنا محمود بن خالد، حدثنا الفريابي، عن إسرائيل، حدثنا أبو إسحاق، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال حدثنا أبى بن كعب، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في قوله ‏{‏ وأما الغلام فكان أبواه مؤمنين ‏}‏ ‏"‏ وكان طبع يوم طبع كافرا ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ > মুশরিকদের শিশু সন্তান সম্পর্কে

সুনানে আবু দাউদ ৪৭১২

حدثنا عبد الوهاب بن نجدة، حدثنا بقية، ح وحدثنا موسى بن مروان الرقي، وكثير بن عبيد المذحجي، قالا حدثنا محمد بن حرب، - المعنى - عن محمد بن زياد، عن عبد الله بن أبي قيس، عن عائشة، قالت قلت يا رسول الله ذراري المؤمنين فقال ‏"‏ هم من آبائهم ‏"‏ ‏.‏ فقلت يا رسول الله بلا عمل قال ‏"‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله فذراري المشركين قال ‏"‏ من آبائهم ‏"‏ ‏.‏ قلت بلا عمل قال ‏"‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুমিনদের শিশু সন্তানদের কি হবে? তিনি বললেন, তারা তাদের পিতাদের অন্তর্ভূক্ত হবে। অতঃপর বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন নেক আমল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, তারা কি আমল করতো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের সন্তানদের কি হবে? তিনি বললেন, তারাও তাদের পিতাদের অন্তর্গত হবে। আমি বললাম, কোন আমল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, তারা (বেঁচে থাকলে) কিরূপ আমল করতো।

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুমিনদের শিশু সন্তানদের কি হবে? তিনি বললেন, তারা তাদের পিতাদের অন্তর্ভূক্ত হবে। অতঃপর বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন নেক আমল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, তারা কি আমল করতো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের সন্তানদের কি হবে? তিনি বললেন, তারাও তাদের পিতাদের অন্তর্গত হবে। আমি বললাম, কোন আমল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, তারা (বেঁচে থাকলে) কিরূপ আমল করতো।

حدثنا عبد الوهاب بن نجدة، حدثنا بقية، ح وحدثنا موسى بن مروان الرقي، وكثير بن عبيد المذحجي، قالا حدثنا محمد بن حرب، - المعنى - عن محمد بن زياد، عن عبد الله بن أبي قيس، عن عائشة، قالت قلت يا رسول الله ذراري المؤمنين فقال ‏"‏ هم من آبائهم ‏"‏ ‏.‏ فقلت يا رسول الله بلا عمل قال ‏"‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله فذراري المشركين قال ‏"‏ من آبائهم ‏"‏ ‏.‏ قلت بلا عمل قال ‏"‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭১৮

حدثنا موسى بن إسماعيل، حدثنا حماد، عن ثابت، عن أنس، أن رجلا، قال يا رسول الله أين أبي قال ‏"‏ أبوك في النار ‏"‏ ‏.‏ فلما قفى قال ‏"‏ إن أبي وأباك في النار ‏"‏ ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা এক ব্যাক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা কোথায়? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা জাহান্নামে। অতঃপর যখন সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যেতে লাগলো তখন তিনি বললেন, তোমার পিতা ও আমার পিতা জাহান্নামে।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা এক ব্যাক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা কোথায়? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা জাহান্নামে। অতঃপর যখন সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যেতে লাগলো তখন তিনি বললেন, তোমার পিতা ও আমার পিতা জাহান্নামে।

حدثنا موسى بن إسماعيل، حدثنا حماد، عن ثابت، عن أنس، أن رجلا، قال يا رسول الله أين أبي قال ‏"‏ أبوك في النار ‏"‏ ‏.‏ فلما قفى قال ‏"‏ إن أبي وأباك في النار ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭১১

حدثنا مسدد، حدثنا أبو عوانة، عن أبي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل عن أولاد المشركين فقال ‏ "‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মুশরিকদের (নাবালেগ) শিশু সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, তারা (বেঁচে থাকলে) কিরূপ আমল করতো।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মুশরিকদের (নাবালেগ) শিশু সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, তারা (বেঁচে থাকলে) কিরূপ আমল করতো।

حدثنا مسدد، حدثنا أبو عوانة، عن أبي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل عن أولاد المشركين فقال ‏ "‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭১৭

حدثنا إبراهيم بن موسى الرازي، حدثنا ابن أبي زائدة، قال حدثني أبي، عن عامر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الوائدة والموءودة في النار ‏"‏ ‏.‏ قال يحيى بن زكريا قال أبي فحدثني أبو إسحاق أن عامرا حدثه بذلك عن علقمة عن ابن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.

আমির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেছেনঃ যে মহিলা তার কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবরস্হ করেছে এবং যে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত প্রোথিত করা হয়েছে তারা উভয়ে জাহান্নামী।

আমির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেছেনঃ যে মহিলা তার কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবরস্হ করেছে এবং যে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত প্রোথিত করা হয়েছে তারা উভয়ে জাহান্নামী।

حدثنا إبراهيم بن موسى الرازي، حدثنا ابن أبي زائدة، قال حدثني أبي، عن عامر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الوائدة والموءودة في النار ‏"‏ ‏.‏ قال يحيى بن زكريا قال أبي فحدثني أبو إسحاق أن عامرا حدثه بذلك عن علقمة عن ابن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭১৩

حدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، عن طلحة بن يحيى، عن عائشة بنت طلحة، عن عائشة أم المؤمنين، قالت أتي النبي صلى الله عليه وسلم بصبي من الأنصار يصلي عليه قالت قلت يا رسول الله طوبى لهذا لم يعمل شرا ولم يدر به ‏.‏ فقال ‏ "‏ أوغير ذلك يا عائشة إن الله خلق الجنة وخلق لها أهلا وخلقها لهم وهم في أصلاب آبائهم وخلق النار وخلق لها أهلا وخلقها لهم وهم في أصلاب آبائهم ‏"‏ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জানাযার সালাতের জন্য এক আনসারী বালকের লাশ আনা হলো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এর কি সৌভাগ্য সে কোন গুনাহ করেনি এবং তার বয়সও পায়নি। তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ! এর বিপরীত কি হতে পারে না? মহান আল্লাহ জান্নাত ও তার অধিবাসীদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা যখন তাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তখন তারা তাদের পিতাদের মেরুদন্ডে ছিল। আবার তিনি জাহান্নাম ও তার জন্য একদল ভুক্তভোগী সৃষ্টি করেছেন এবং তা তাদের জন্য যখন তিনি সৃষ্টি করেছেন তখন তারা তাদের পিতাদের মেরুদন্ডে ছিল।

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জানাযার সালাতের জন্য এক আনসারী বালকের লাশ আনা হলো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এর কি সৌভাগ্য সে কোন গুনাহ করেনি এবং তার বয়সও পায়নি। তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ! এর বিপরীত কি হতে পারে না? মহান আল্লাহ জান্নাত ও তার অধিবাসীদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা যখন তাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তখন তারা তাদের পিতাদের মেরুদন্ডে ছিল। আবার তিনি জাহান্নাম ও তার জন্য একদল ভুক্তভোগী সৃষ্টি করেছেন এবং তা তাদের জন্য যখন তিনি সৃষ্টি করেছেন তখন তারা তাদের পিতাদের মেরুদন্ডে ছিল।

حدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، عن طلحة بن يحيى، عن عائشة بنت طلحة، عن عائشة أم المؤمنين، قالت أتي النبي صلى الله عليه وسلم بصبي من الأنصار يصلي عليه قالت قلت يا رسول الله طوبى لهذا لم يعمل شرا ولم يدر به ‏.‏ فقال ‏ "‏ أوغير ذلك يا عائشة إن الله خلق الجنة وخلق لها أهلا وخلقها لهم وهم في أصلاب آبائهم وخلق النار وخلق لها أهلا وخلقها لهم وهم في أصلاب آبائهم ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭১৪

حدثنا القعنبي، عن مالك، عن أبي الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ كل مولود يولد على الفطرة فأبواه يهودانه وينصرانه كما تناتج الإبل من بهيمة جمعاء هل تحس من جدعاء ‏"‏ ‏.‏ قالوا يا رسول الله أفرأيت من يموت وهو صغير قال ‏"‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিটি সন্তানই ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাদেরকে ইয়াহুদী বা খৃস্টান বানায়। যেভাবে উট পূর্ণাঙ্গ পশুই জন্ম দেয়, তাতে তোমরা কোন কান কাটা দেখো কি? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অপ্রাপ্ত বয়সে মারা যায় এমন শিশু সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেন, আল্লাহই ভালো জানেন, তারা কিরূপ আমল করতো।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিটি সন্তানই ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাদেরকে ইয়াহুদী বা খৃস্টান বানায়। যেভাবে উট পূর্ণাঙ্গ পশুই জন্ম দেয়, তাতে তোমরা কোন কান কাটা দেখো কি? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অপ্রাপ্ত বয়সে মারা যায় এমন শিশু সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেন, আল্লাহই ভালো জানেন, তারা কিরূপ আমল করতো।

حدثنا القعنبي، عن مالك، عن أبي الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ كل مولود يولد على الفطرة فأبواه يهودانه وينصرانه كما تناتج الإبل من بهيمة جمعاء هل تحس من جدعاء ‏"‏ ‏.‏ قالوا يا رسول الله أفرأيت من يموت وهو صغير قال ‏"‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭১৯

حدثنا موسى بن إسماعيل، حدثنا حماد، عن ثابت، عن أنس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إن الشيطان يجري من ابن آدم مجرى الدم ‏"‏ ‏.

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শয়তান আদম সন্তানের শিরা-উপশিরায় রক্তের ন্যায় প্রবাহিত হয়।

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শয়তান আদম সন্তানের শিরা-উপশিরায় রক্তের ন্যায় প্রবাহিত হয়।

حدثنا موسى بن إسماعيل، حدثنا حماد، عن ثابت، عن أنس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إن الشيطان يجري من ابن آدم مجرى الدم ‏"‏ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭২০

حدثنا أحمد بن سعيد الهمداني، أخبرنا ابن وهب، قال أخبرني ابن لهيعة، وعمرو بن الحارث، وسعيد بن أبي أيوب، عن عطاء بن دينار، عن حكيم بن شريك الهذلي، عن يحيى بن ميمون، عن ربيعة الجرشي، عن أبي هريرة، عن عمر بن الخطاب، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ لا تجالسوا أهل القدر ولا تفاتحوهم الحديث ‏"‏ ‏.‏

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যারা তাক্বদীরে বিশ্বাস করে না তোমরা তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করবে না এবং তোমাদেরকে সন্মোধন করার আগে তাদেরকে সন্মোধন করবে না। [৪৭১৯] দুর্বল।

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যারা তাক্বদীরে বিশ্বাস করে না তোমরা তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করবে না এবং তোমাদেরকে সন্মোধন করার আগে তাদেরকে সন্মোধন করবে না। [৪৭১৯] দুর্বল।

حدثنا أحمد بن سعيد الهمداني، أخبرنا ابن وهب، قال أخبرني ابن لهيعة، وعمرو بن الحارث، وسعيد بن أبي أيوب، عن عطاء بن دينار، عن حكيم بن شريك الهذلي، عن يحيى بن ميمون، عن ربيعة الجرشي، عن أبي هريرة، عن عمر بن الخطاب، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ لا تجالسوا أهل القدر ولا تفاتحوهم الحديث ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭১৬

حدثنا الحسن بن علي، حدثنا حجاج بن المنهال، قال سمعت حماد بن سلمة، يفسر حديث ‏"‏ كل مولود يولد على الفطرة ‏"‏ ‏.‏ قال هذا عندنا حيث أخذ الله عليهم العهد في أصلاب آبائهم حيث قال ‏{‏ ألست بربكم قالوا بلى ‏}‏ ‏.‏

হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি হাম্মাদ ইবনু সালাম (রাঃ) -কে “প্রত্যেক সন্তান ফিতরাতের (সত্য ধর্মের) উপর জন্মগ্রহণ করে”-এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছিঃ এটা আমাদের নিকট সেই ওয়াদা যা পিতার মেরুদন্ডে অবস্থানকালে আল্লাহ তাদের কাছ থেকে ওয়াদা গ্রহণকালে বলেছিলেনঃ আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিল, হাঁ।

হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি হাম্মাদ ইবনু সালাম (রাঃ) -কে “প্রত্যেক সন্তান ফিতরাতের (সত্য ধর্মের) উপর জন্মগ্রহণ করে”-এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছিঃ এটা আমাদের নিকট সেই ওয়াদা যা পিতার মেরুদন্ডে অবস্থানকালে আল্লাহ তাদের কাছ থেকে ওয়াদা গ্রহণকালে বলেছিলেনঃ আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিল, হাঁ।

حدثنا الحسن بن علي، حدثنا حجاج بن المنهال، قال سمعت حماد بن سلمة، يفسر حديث ‏"‏ كل مولود يولد على الفطرة ‏"‏ ‏.‏ قال هذا عندنا حيث أخذ الله عليهم العهد في أصلاب آبائهم حيث قال ‏{‏ ألست بربكم قالوا بلى ‏}‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭১৫

قال أبو داود قرئ على الحارث بن مسكين وأنا أسمع، أخبرك يوسف بن عمرو، أخبرنا ابن وهب، قال سمعت مالكا، قيل له إن أهل الأهواء يحتجون علينا بهذا الحديث ‏.‏ قال مالك احتج عليهم بآخره ‏.‏ قالوا أرأيت من يموت وهو صغير قال ‏ "‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.‏

ইবনু ওয়াহ্ব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি ইমাম মালিক (রহঃ) -এর নিকট বলতে শুনেছি প্রবৃত্তির পূজারীরা আমাদের বিরুদ্ধে উপরোক্ত হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। তারা বলে যে, নাবালেগ অবস্থায় মারা গেছে এমন সন্তান সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বলেনঃ তারা কিরূপ আমল করতো তা আল্লাহ্ই ভালো জানেন।

ইবনু ওয়াহ্ব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি ইমাম মালিক (রহঃ) -এর নিকট বলতে শুনেছি প্রবৃত্তির পূজারীরা আমাদের বিরুদ্ধে উপরোক্ত হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। তারা বলে যে, নাবালেগ অবস্থায় মারা গেছে এমন সন্তান সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বলেনঃ তারা কিরূপ আমল করতো তা আল্লাহ্ই ভালো জানেন।

قال أبو داود قرئ على الحارث بن مسكين وأنا أسمع، أخبرك يوسف بن عمرو، أخبرنا ابن وهب، قال سمعت مالكا، قيل له إن أهل الأهواء يحتجون علينا بهذا الحديث ‏.‏ قال مالك احتج عليهم بآخره ‏.‏ قالوا أرأيت من يموت وهو صغير قال ‏ "‏ الله أعلم بما كانوا عاملين ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ > জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় সম্পর্কে

সুনানে আবু দাউদ ৪৭২১

حدثنا هارون بن معروف، حدثنا سفيان، عن هشام، عن أبيه، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لا يزال الناس يتساءلون حتى يقال هذا خلق الله الخلق فمن خلق الله فمن وجد من ذلك شيئا فليقل آمنت بالله ‏"‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষ পরস্পর প্রশ্ন করতে থাকে, এমনকি শেষ পর্যন্ত বলে ফেলে যে, আল্লাহ তো সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যখনই কেউ এরূপ কিছু অনুভব করবে তখন সে যেন বলে, আমি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষ পরস্পর প্রশ্ন করতে থাকে, এমনকি শেষ পর্যন্ত বলে ফেলে যে, আল্লাহ তো সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যখনই কেউ এরূপ কিছু অনুভব করবে তখন সে যেন বলে, আমি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি।

حدثنا هارون بن معروف، حدثنا سفيان، عن هشام، عن أبيه، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لا يزال الناس يتساءلون حتى يقال هذا خلق الله الخلق فمن خلق الله فمن وجد من ذلك شيئا فليقل آمنت بالله ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭২২

حدثنا محمد بن عمرو، حدثنا سلمة، - يعني ابن الفضل - قال حدثني محمد، - يعني ابن إسحاق - قال حدثني عتبة بن مسلم، مولى بني تيم عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن أبي هريرة، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول فذكر نحوه قال ‏"‏ فإذا قالوا ذلك فقولوا ‏{‏ الله أحد * الله الصمد * لم يلد ولم يولد * ولم يكن له كفوا أحد ‏}‏ ثم ليتفل عن يساره ثلاثا وليستعذ من الشيطان ‏"‏ ‏.

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। অতঃপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন, যখন তারা এরূপ কথা বলবে তখন তোমরা বলো, আল্লাহ একক, আল্লাহ অভাবমুক্ত, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তিনি কারো সন্তান নন। আর কেউই তাঁর সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়। অতঃপর যেন বামদিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং শয়তানের (কুমন্ত্রনা) থেকে আশ্রয় চায়।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। অতঃপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন, যখন তারা এরূপ কথা বলবে তখন তোমরা বলো, আল্লাহ একক, আল্লাহ অভাবমুক্ত, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তিনি কারো সন্তান নন। আর কেউই তাঁর সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়। অতঃপর যেন বামদিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং শয়তানের (কুমন্ত্রনা) থেকে আশ্রয় চায়।

حدثنا محمد بن عمرو، حدثنا سلمة، - يعني ابن الفضل - قال حدثني محمد، - يعني ابن إسحاق - قال حدثني عتبة بن مسلم، مولى بني تيم عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن أبي هريرة، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول فذكر نحوه قال ‏"‏ فإذا قالوا ذلك فقولوا ‏{‏ الله أحد * الله الصمد * لم يلد ولم يولد * ولم يكن له كفوا أحد ‏}‏ ثم ليتفل عن يساره ثلاثا وليستعذ من الشيطان ‏"‏ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭২৭

حدثنا أحمد بن حفص بن عبد الله، قال حدثني أبي قال، حدثني إبراهيم بن طهمان، عن موسى بن عقبة، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ أذن لي أن أحدث عن ملك من ملائكة الله من حملة العرش إن ما بين شحمة أذنه إلى عاتقه مسيرة سبعمائة عام ‏"‏ ‏.‏

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্‌র যে সকল ফেরেশতা আরশ বহন করেন তাদের একজনের সঙ্গে আলাপ করার জন্য আমাকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তার কানের লতি হতে কাঁধ পর্যন্ত স্থানের দূরত্ব হলো সাতশো বছরের দূরত্বের সমান।

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্‌র যে সকল ফেরেশতা আরশ বহন করেন তাদের একজনের সঙ্গে আলাপ করার জন্য আমাকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তার কানের লতি হতে কাঁধ পর্যন্ত স্থানের দূরত্ব হলো সাতশো বছরের দূরত্বের সমান।

حدثنا أحمد بن حفص بن عبد الله، قال حدثني أبي قال، حدثني إبراهيم بن طهمان، عن موسى بن عقبة، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ أذن لي أن أحدث عن ملك من ملائكة الله من حملة العرش إن ما بين شحمة أذنه إلى عاتقه مسيرة سبعمائة عام ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭২৮

حدثنا علي بن نصر، ومحمد بن يونس النسائي، - المعنى - قالا حدثنا عبد الله بن يزيد المقرئ، حدثنا حرملة، - يعني ابن عمران - حدثني أبو يونس، سليم بن جبير مولى أبي هريرة قال سمعت أبا هريرة، يقرأ هذه الآية ‏{‏ إن الله يأمركم أن تؤدوا الأمانات إلى أهلها ‏}‏ إلى قوله تعالى ‏{‏ سميعا بصيرا ‏}‏ قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يضع إبهامه على أذنه والتي تليها على عينه قال أبو هريرة ‏.‏ رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرؤها ويضع إصبعيه قال ابن يونس قال المقرئ يعني ‏{‏ إن الله سميع بصير ‏}‏ يعني أن لله سمعا وبصرا ‏.‏ قال أبو داود وهذا رد على الجهمية ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর মুক্তদাস আবূ ইউনুস সুলাইম ইবনু জুবাইর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) -কে এ আয়াতটি পড়তে শুনেছিঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আমানতসমূহ তার প্রাপকের নিকট পৌঁছিয়ে দিতে আদেশ করছেন,... আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা” (সূরাহ আন-নিসাঃ ৫৮) পর্যন্ত। আবূ হুরায়রা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর বৃদ্ধা আঙ্গুলকে কানে এবং তর্জনীকে দুই চোখের উপর রাখতে দেখেছি। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আয়াতটি) পড়তে দেখেছি এবং তাঁর আঙ্গুল দুটি রাখতে দেখেছি। ইবনু ইউনুস বলেন, আল-মুকরী বলেছেন, অর্থাৎ “আল্লাহ নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা” -এর অর্থ হলো আল্লাহ্‌র শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি আছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এতে জাহমিয়াদের মতবাদ বাতিল হয়ে যায়।

আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর মুক্তদাস আবূ ইউনুস সুলাইম ইবনু জুবাইর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) -কে এ আয়াতটি পড়তে শুনেছিঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আমানতসমূহ তার প্রাপকের নিকট পৌঁছিয়ে দিতে আদেশ করছেন,... আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা” (সূরাহ আন-নিসাঃ ৫৮) পর্যন্ত। আবূ হুরায়রা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর বৃদ্ধা আঙ্গুলকে কানে এবং তর্জনীকে দুই চোখের উপর রাখতে দেখেছি। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আয়াতটি) পড়তে দেখেছি এবং তাঁর আঙ্গুল দুটি রাখতে দেখেছি। ইবনু ইউনুস বলেন, আল-মুকরী বলেছেন, অর্থাৎ “আল্লাহ নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা” -এর অর্থ হলো আল্লাহ্‌র শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি আছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এতে জাহমিয়াদের মতবাদ বাতিল হয়ে যায়।

حدثنا علي بن نصر، ومحمد بن يونس النسائي، - المعنى - قالا حدثنا عبد الله بن يزيد المقرئ، حدثنا حرملة، - يعني ابن عمران - حدثني أبو يونس، سليم بن جبير مولى أبي هريرة قال سمعت أبا هريرة، يقرأ هذه الآية ‏{‏ إن الله يأمركم أن تؤدوا الأمانات إلى أهلها ‏}‏ إلى قوله تعالى ‏{‏ سميعا بصيرا ‏}‏ قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يضع إبهامه على أذنه والتي تليها على عينه قال أبو هريرة ‏.‏ رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرؤها ويضع إصبعيه قال ابن يونس قال المقرئ يعني ‏{‏ إن الله سميع بصير ‏}‏ يعني أن لله سمعا وبصرا ‏.‏ قال أبو داود وهذا رد على الجهمية ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭২৩

حدثنا محمد بن الصباح البزاز، حدثنا الوليد بن أبي ثور، عن سماك، عن عبد الله بن عميرة، عن الأحنف بن قيس، عن العباس بن عبد المطلب، قال كنت في البطحاء في عصابة فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فمرت بهم سحابة فنظر إليها فقال ‏"‏ ما تسمون هذه ‏"‏ ‏.‏ قالوا السحاب ‏.‏ قال ‏"‏ والمزن ‏"‏ ‏.‏ قالوا والمزن ‏.‏ قال ‏"‏ والعنان ‏"‏ ‏.‏ قالوا والعنان ‏.‏ قال أبو داود لم أتقن العنان جيدا قال ‏"‏ هل تدرون ما بعد ما بين السماء والأرض ‏"‏ ‏.‏ قالوا لا ندري ‏.‏ قال ‏"‏ إن بعد ما بينهما إما واحدة أو اثنتان أو ثلاث وسبعون سنة ثم السماء فوقها كذلك ‏"‏ ‏.‏ حتى عد سبع سموات ‏"‏ ثم فوق السابعة بحر بين أسفله وأعلاه مثل ما بين سماء إلى سماء ثم فوق ذلك ثمانية أوعال بين أظلافهم وركبهم مثل ما بين سماء إلى سماء ثم على ظهورهم العرش بين أسفله وأعلاه مثل ما بين سماء إلى سماء ثم الله تبارك وتعالى فوق ذلك ‏"‏ ‏.‏

আবদুল মুত্তালিবে পুত্র ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদল লোকের সঙ্গে আল্‌-বাতহা উপত্যকায় ছিলাম, সেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ছিলেন। তাদের মাথার উপর দিয়ে একখন্ড মেঘ উড়ে গেলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটির দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা একে কি বলো? সাহাবীগণ বললেন, মেঘ (সাহাব)। তিনি বললেন, ‘আল্‌-মুয্‌ন’? তারা বললেন, এবং মুয্‌নও (সাদা মেঘ)। তিনি বললেন, আল ‘আল্‌-আনান’? তারা বললেন, আল্‌-আনানও। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আনান’ শব্দটি আমি ভালোভাবে মুখস্ত করতে পারিনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা কি জানো, আসমান ও যমীনের মাঝে কতটুকু দূরত্ব? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, উভয়ের মধ্যকার দূরত্বের পরিমাণ হলো একাত্তর বা বায়াত্তর বা তিয়াত্তর বছরের সমান। তারপর এর মতই দুরত্বে প্রথম আসমান, এভাবে পরপর সাতটি আসমানের দূরত্ব নির্দেশ করলেন। অতঃপর সপ্তম আসমানের উপরে একটি সমুদ্র রয়েছে যার উপর ও নীচের মধ্যকার গভীরতা আসমান ও যমীনের মধ্যকার দূরত্বের সমান। এর উপরে আটটি পাহাড়িঁ ছাগল রয়েছে যার ক্ষুর ও হাঁটুর মধ্যকার দূরত্ব আসমান ও যমীনের মধ্যকার দুরত্বের সমান। তারপর এদের পিঠের উপরে রয়েছে মহান আরশ যার উপর ও নীচের মধ্যকার দূরত্বও আসমান ও যমীনের মধ্যকার দুরত্বের সমান। অতঃপর আর উপর রয়েছেন বরকতময় মহান আল্লাহ। [৪৭২২] দুর্বল।

আবদুল মুত্তালিবে পুত্র ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদল লোকের সঙ্গে আল্‌-বাতহা উপত্যকায় ছিলাম, সেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ছিলেন। তাদের মাথার উপর দিয়ে একখন্ড মেঘ উড়ে গেলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটির দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা একে কি বলো? সাহাবীগণ বললেন, মেঘ (সাহাব)। তিনি বললেন, ‘আল্‌-মুয্‌ন’? তারা বললেন, এবং মুয্‌নও (সাদা মেঘ)। তিনি বললেন, আল ‘আল্‌-আনান’? তারা বললেন, আল্‌-আনানও। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আনান’ শব্দটি আমি ভালোভাবে মুখস্ত করতে পারিনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা কি জানো, আসমান ও যমীনের মাঝে কতটুকু দূরত্ব? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, উভয়ের মধ্যকার দূরত্বের পরিমাণ হলো একাত্তর বা বায়াত্তর বা তিয়াত্তর বছরের সমান। তারপর এর মতই দুরত্বে প্রথম আসমান, এভাবে পরপর সাতটি আসমানের দূরত্ব নির্দেশ করলেন। অতঃপর সপ্তম আসমানের উপরে একটি সমুদ্র রয়েছে যার উপর ও নীচের মধ্যকার গভীরতা আসমান ও যমীনের মধ্যকার দূরত্বের সমান। এর উপরে আটটি পাহাড়িঁ ছাগল রয়েছে যার ক্ষুর ও হাঁটুর মধ্যকার দূরত্ব আসমান ও যমীনের মধ্যকার দুরত্বের সমান। তারপর এদের পিঠের উপরে রয়েছে মহান আরশ যার উপর ও নীচের মধ্যকার দূরত্বও আসমান ও যমীনের মধ্যকার দুরত্বের সমান। অতঃপর আর উপর রয়েছেন বরকতময় মহান আল্লাহ। [৪৭২২] দুর্বল।

حدثنا محمد بن الصباح البزاز، حدثنا الوليد بن أبي ثور، عن سماك، عن عبد الله بن عميرة، عن الأحنف بن قيس، عن العباس بن عبد المطلب، قال كنت في البطحاء في عصابة فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فمرت بهم سحابة فنظر إليها فقال ‏"‏ ما تسمون هذه ‏"‏ ‏.‏ قالوا السحاب ‏.‏ قال ‏"‏ والمزن ‏"‏ ‏.‏ قالوا والمزن ‏.‏ قال ‏"‏ والعنان ‏"‏ ‏.‏ قالوا والعنان ‏.‏ قال أبو داود لم أتقن العنان جيدا قال ‏"‏ هل تدرون ما بعد ما بين السماء والأرض ‏"‏ ‏.‏ قالوا لا ندري ‏.‏ قال ‏"‏ إن بعد ما بينهما إما واحدة أو اثنتان أو ثلاث وسبعون سنة ثم السماء فوقها كذلك ‏"‏ ‏.‏ حتى عد سبع سموات ‏"‏ ثم فوق السابعة بحر بين أسفله وأعلاه مثل ما بين سماء إلى سماء ثم فوق ذلك ثمانية أوعال بين أظلافهم وركبهم مثل ما بين سماء إلى سماء ثم على ظهورهم العرش بين أسفله وأعلاه مثل ما بين سماء إلى سماء ثم الله تبارك وتعالى فوق ذلك ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭২৫

حدثنا أحمد بن حفص، قال حدثني أبي، حدثنا إبراهيم بن طهمان، عن سماك، بإسناده ومعنى هذا الحديث الطويل ‏.

সিমাক (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

এ সানাদে উপর্রোক্ত দীর্ঘ হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণিত।

সিমাক (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

এ সানাদে উপর্রোক্ত দীর্ঘ হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণিত।

حدثنا أحمد بن حفص، قال حدثني أبي، حدثنا إبراهيم بن طهمان، عن سماك، بإسناده ومعنى هذا الحديث الطويل ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭২৪

حدثنا أحمد بن أبي سريج، أخبرنا عبد الرحمن بن عبد الله بن سعد، ومحمد بن سعيد، قالا أخبرنا عمرو بن أبي قيس، عن سماك، بإسناده ومعناه ‏.‏

সিমাক (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণিত।

সিমাক (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণিত।

حدثنا أحمد بن أبي سريج، أخبرنا عبد الرحمن بن عبد الله بن سعد، ومحمد بن سعيد، قالا أخبرنا عمرو بن أبي قيس، عن سماك، بإسناده ومعناه ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭২৬

حدثنا عبد الأعلى بن حماد، ومحمد بن المثنى، ومحمد بن بشار، وأحمد بن سعيد الرباطي، قالوا حدثنا وهب بن جرير، - قال أحمد كتبناه من نسخته وهذا لفظه - قال حدثنا أبي قال سمعت محمد بن إسحاق يحدث عن يعقوب بن عتبة عن جبير بن محمد بن جبير بن مطعم عن أبيه عن جده قال أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم أعرابي فقال يا رسول الله جهدت الأنفس وضاعت العيال ونهكت الأموال وهلكت الأنعام فاستسق الله لنا فإنا نستشفع بك على الله ونستشفع بالله عليك ‏.‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ويحك أتدري ما تقول ‏"‏ وسبح رسول الله صلى الله عليه وسلم فما زال يسبح حتى عرف ذلك في وجوه أصحابه ثم قال ‏"‏ ويحك إنه لا يستشفع بالله على أحد من خلقه شأن الله أعظم من ذلك ويحك أتدري ما الله إن عرشه على سمواته لهكذا ‏"‏ ‏.‏ وقال بأصابعه مثل القبة عليه ‏"‏ وإنه ليئط به أطيط الرحل بالراكب ‏"‏ ‏.‏ قال ابن بشار في حديثه ‏"‏ إن الله فوق عرشه وعرشه فوق سمواته ‏"‏ ‏.‏ وساق الحديث وقال عبد الأعلى وابن المثنى وابن بشار عن يعقوب بن عتبة وجبير بن محمد بن جبير عن أبيه عن جده قال أبو داود والحديث بإسناد أحمد بن سعيد هو الصحيح وافقه عليه جماعة منهم يحيى بن معين وعلي بن المديني ورواه جماعة عن ابن إسحاق كما قال أحمد أيضا وكان سماع عبد الأعلى وابن المثنى وابن بشار من نسخة واحدة فيما بلغني ‏.

জুবাইর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু জুবাইর ইবনু মুত্বঈম তার পিতা হতে তার দাদা সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল! লোকজন খুবই কষ্ট করছে, পরিবার-পরিজন, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, ধন-সম্পদ হ্রাস পাচ্ছে এবং জীবজন্তু মরে যাচ্ছে। সুতরাং, আপনি আমাদের জন্য মহান আল্লাহ্‌র নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করুন। কেননা, আমরা আপনার সুপারিশ নিয়ে আল্লাহ্‌র নিকট যাই এবং আল্লাহ্‌র সুপারিশ নিয়ে আপনার নিকট আসি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়! তুমি কি জানো! তুমি কি বলছো? অতঃপর তিনি তাসবীহ পড়তে থাকলেন, এমনকি তাঁর সাহাবীদের মধ্যেও এর (অসন্তুষ্টির) চিহ্ন পরিলক্ষিত হলো। তিনি আবার বললেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়! আল্লাহ্‌র সুপারিশ নিয়ে তাঁর কোনো সৃষ্টির নিকট যাওয়া যায় না। আল্লাহ্‌র মর্যাদা এর চেয়ে অনেক ঊর্ধে, অনেক মহান। তোমার জন্য দুঃখ হয়! তুমি কি জানো আল্লাহ কে? তাঁর আরশ আসমানের উপর এভাবে আছে। তিনি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বললেন, তাঁর উপর রয়েছে গম্বুজ সদৃশ ছাঁদ। তা সত্ত্বেও তা (আরশ) তাঁকে নিয়ে গোঙ্গানীর মত শব্দ করে, যেমনটি করে আরোহীর কারণে জিনপোষ। ইবনু বাশ্শার তার হাদীসে বলেন, মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে এবং তার আরশ আসমানসমূহের উপরে। অতঃপর হাদীসটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। [৪৭২৫] দূর্বলঃ মিশকাত হা/৫৭২৭।

জুবাইর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু জুবাইর ইবনু মুত্বঈম তার পিতা হতে তার দাদা সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল! লোকজন খুবই কষ্ট করছে, পরিবার-পরিজন, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, ধন-সম্পদ হ্রাস পাচ্ছে এবং জীবজন্তু মরে যাচ্ছে। সুতরাং, আপনি আমাদের জন্য মহান আল্লাহ্‌র নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করুন। কেননা, আমরা আপনার সুপারিশ নিয়ে আল্লাহ্‌র নিকট যাই এবং আল্লাহ্‌র সুপারিশ নিয়ে আপনার নিকট আসি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়! তুমি কি জানো! তুমি কি বলছো? অতঃপর তিনি তাসবীহ পড়তে থাকলেন, এমনকি তাঁর সাহাবীদের মধ্যেও এর (অসন্তুষ্টির) চিহ্ন পরিলক্ষিত হলো। তিনি আবার বললেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়! আল্লাহ্‌র সুপারিশ নিয়ে তাঁর কোনো সৃষ্টির নিকট যাওয়া যায় না। আল্লাহ্‌র মর্যাদা এর চেয়ে অনেক ঊর্ধে, অনেক মহান। তোমার জন্য দুঃখ হয়! তুমি কি জানো আল্লাহ কে? তাঁর আরশ আসমানের উপর এভাবে আছে। তিনি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বললেন, তাঁর উপর রয়েছে গম্বুজ সদৃশ ছাঁদ। তা সত্ত্বেও তা (আরশ) তাঁকে নিয়ে গোঙ্গানীর মত শব্দ করে, যেমনটি করে আরোহীর কারণে জিনপোষ। ইবনু বাশ্শার তার হাদীসে বলেন, মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে এবং তার আরশ আসমানসমূহের উপরে। অতঃপর হাদীসটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। [৪৭২৫] দূর্বলঃ মিশকাত হা/৫৭২৭।

حدثنا عبد الأعلى بن حماد، ومحمد بن المثنى، ومحمد بن بشار، وأحمد بن سعيد الرباطي، قالوا حدثنا وهب بن جرير، - قال أحمد كتبناه من نسخته وهذا لفظه - قال حدثنا أبي قال سمعت محمد بن إسحاق يحدث عن يعقوب بن عتبة عن جبير بن محمد بن جبير بن مطعم عن أبيه عن جده قال أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم أعرابي فقال يا رسول الله جهدت الأنفس وضاعت العيال ونهكت الأموال وهلكت الأنعام فاستسق الله لنا فإنا نستشفع بك على الله ونستشفع بالله عليك ‏.‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ويحك أتدري ما تقول ‏"‏ وسبح رسول الله صلى الله عليه وسلم فما زال يسبح حتى عرف ذلك في وجوه أصحابه ثم قال ‏"‏ ويحك إنه لا يستشفع بالله على أحد من خلقه شأن الله أعظم من ذلك ويحك أتدري ما الله إن عرشه على سمواته لهكذا ‏"‏ ‏.‏ وقال بأصابعه مثل القبة عليه ‏"‏ وإنه ليئط به أطيط الرحل بالراكب ‏"‏ ‏.‏ قال ابن بشار في حديثه ‏"‏ إن الله فوق عرشه وعرشه فوق سمواته ‏"‏ ‏.‏ وساق الحديث وقال عبد الأعلى وابن المثنى وابن بشار عن يعقوب بن عتبة وجبير بن محمد بن جبير عن أبيه عن جده قال أبو داود والحديث بإسناد أحمد بن سعيد هو الصحيح وافقه عليه جماعة منهم يحيى بن معين وعلي بن المديني ورواه جماعة عن ابن إسحاق كما قال أحمد أيضا وكان سماع عبد الأعلى وابن المثنى وابن بشار من نسخة واحدة فيما بلغني ‏.


সুনানে আবু দাউদ > আল্লাহ্‌র দর্শন লাভ

সুনানে আবু দাউদ ৪৭২৯

حدثنا عثمان بن أبي شيبة، حدثنا جرير، ووكيع، وأبو أسامة عن إسماعيل بن أبي خالد، عن قيس بن أبي حازم، عن جرير بن عبد الله، قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم جلوسا فنظر إلى القمر ليلة البدر ليلة أربع عشرة فقال ‏"‏ إنكم سترون ربكم كما ترون هذا لا تضامون في رؤيته فإن استطعتم أن لا تغلبوا على صلاة قبل طلوع الشمس وقبل غروبها فافعلوا ‏"‏ ‏.‏ ثم قرأ هذه الآية ‏{‏ فسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل غروبها ‏}‏

জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি চৌদ্দ তারিখের রাতে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, অচিরেই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে যেমন তোমরা এ চাঁদকে দেখছো, আর একে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না। যদি তোমরা সূর্যোদয়ের ও সূর্যাস্তের পূর্বে সলাত আদায়ে পরাভূত না হও তাহলে তা আদায় করে নাও। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো”।

জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি চৌদ্দ তারিখের রাতে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, অচিরেই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে যেমন তোমরা এ চাঁদকে দেখছো, আর একে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না। যদি তোমরা সূর্যোদয়ের ও সূর্যাস্তের পূর্বে সলাত আদায়ে পরাভূত না হও তাহলে তা আদায় করে নাও। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো”।

حدثنا عثمان بن أبي شيبة، حدثنا جرير، ووكيع، وأبو أسامة عن إسماعيل بن أبي خالد، عن قيس بن أبي حازم، عن جرير بن عبد الله، قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم جلوسا فنظر إلى القمر ليلة البدر ليلة أربع عشرة فقال ‏"‏ إنكم سترون ربكم كما ترون هذا لا تضامون في رؤيته فإن استطعتم أن لا تغلبوا على صلاة قبل طلوع الشمس وقبل غروبها فافعلوا ‏"‏ ‏.‏ ثم قرأ هذه الآية ‏{‏ فسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل غروبها ‏}‏


সুনানে আবু দাউদ ৪৭৩০

حدثنا إسحاق بن إسماعيل، حدثنا سفيان، عن سهيل بن أبي صالح، عن أبيه، أنه سمعه يحدث، عن أبي هريرة، قال قال ناس يا رسول الله أنرى ربنا يوم القيامة قال ‏"‏ هل تضارون في رؤية الشمس في الظهيرة ليست في سحابة ‏"‏ ‏.‏ قالوا لا ‏.‏ قال ‏"‏ هل تضارون في رؤية القمر ليلة البدر ليس في سحابة ‏"‏ ‏.‏ قالوا لا ‏.‏ قال ‏"‏ والذي نفسي بيده لا تضارون في رؤيته إلا كما تضارون في رؤية أحدهما ‏"‏ ‏.

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহকে দেখতে পাবো? তিনি বললেন, মেঘহীন দুপুরে তোমাদের কি সূর্য দেখতে কষ্ট হয়? সাহাবীগন বললেন, না। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, মেঘহীন নির্মল আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোন অসুবিধা হয়? তারা বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সেই, মহান সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমরা এর একটি (চাঁদ বা সূর্য) যেভাবে নির্বিঘ্নে দেখতে পাও সেভাবে তাঁকেও তোমরা দেখবে।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহকে দেখতে পাবো? তিনি বললেন, মেঘহীন দুপুরে তোমাদের কি সূর্য দেখতে কষ্ট হয়? সাহাবীগন বললেন, না। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, মেঘহীন নির্মল আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোন অসুবিধা হয়? তারা বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সেই, মহান সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমরা এর একটি (চাঁদ বা সূর্য) যেভাবে নির্বিঘ্নে দেখতে পাও সেভাবে তাঁকেও তোমরা দেখবে।

حدثنا إسحاق بن إسماعيل، حدثنا سفيان، عن سهيل بن أبي صالح، عن أبيه، أنه سمعه يحدث، عن أبي هريرة، قال قال ناس يا رسول الله أنرى ربنا يوم القيامة قال ‏"‏ هل تضارون في رؤية الشمس في الظهيرة ليست في سحابة ‏"‏ ‏.‏ قالوا لا ‏.‏ قال ‏"‏ هل تضارون في رؤية القمر ليلة البدر ليس في سحابة ‏"‏ ‏.‏ قالوا لا ‏.‏ قال ‏"‏ والذي نفسي بيده لا تضارون في رؤيته إلا كما تضارون في رؤية أحدهما ‏"‏ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ৪৭৩১

حدثنا موسى بن إسماعيل، حدثنا حماد، ح وحدثنا عبيد الله بن معاذ، حدثنا أبي، حدثنا شعبة، - المعنى - عن يعلى بن عطاء، عن وكيع، - قال موسى - ابن عدس عن أبي رزين، - قال موسى العقيلي - قال قلت يا رسول الله أكلنا يرى ربه قال ابن معاذ مخليا به يوم القيامة وما آية ذلك في خلقه قال ‏"‏ يا أبا رزين أليس كلكم يرى القمر ‏"‏ ‏.‏ قال ابن معاذ ‏"‏ ليلة البدر مخليا به ‏"‏ ‏.‏ ثم اتفقا قلت بلى ‏.‏ قال ‏"‏ فالله أعظم ‏"‏ ‏.‏ قال ابن معاذ قال ‏"‏ فإنما هو خلق من خلق الله فالله أجل وأعظم ‏"‏ ‏.‏

আবূ রাযীন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের প্রত্যেকেই কি ক্বিয়ামাতের দিন তার রবকে দেখতে পাবে? তাঁর সৃষ্টির মাঝে এর কোন নিদর্শন আছে কি? তিনি বললেন, হে আবূ রাযীন! তোমাদের প্রত্যেকে কি পূর্ণিমা রাতের চাঁদ দেখে না (অর্থাৎ চৌদ্দ তারিখে নির্মল আকাশে)? তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহ তো মহান। ইবনু মু‘আস বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তা (চাঁদ) তো আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মধ্যকার একটি সৃষ্টি। আর আল্লাহ তো মহিমান্বিত ও সুমহান।

আবূ রাযীন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের প্রত্যেকেই কি ক্বিয়ামাতের দিন তার রবকে দেখতে পাবে? তাঁর সৃষ্টির মাঝে এর কোন নিদর্শন আছে কি? তিনি বললেন, হে আবূ রাযীন! তোমাদের প্রত্যেকে কি পূর্ণিমা রাতের চাঁদ দেখে না (অর্থাৎ চৌদ্দ তারিখে নির্মল আকাশে)? তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহ তো মহান। ইবনু মু‘আস বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তা (চাঁদ) তো আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মধ্যকার একটি সৃষ্টি। আর আল্লাহ তো মহিমান্বিত ও সুমহান।

حدثنا موسى بن إسماعيل، حدثنا حماد، ح وحدثنا عبيد الله بن معاذ، حدثنا أبي، حدثنا شعبة، - المعنى - عن يعلى بن عطاء، عن وكيع، - قال موسى - ابن عدس عن أبي رزين، - قال موسى العقيلي - قال قلت يا رسول الله أكلنا يرى ربه قال ابن معاذ مخليا به يوم القيامة وما آية ذلك في خلقه قال ‏"‏ يا أبا رزين أليس كلكم يرى القمر ‏"‏ ‏.‏ قال ابن معاذ ‏"‏ ليلة البدر مخليا به ‏"‏ ‏.‏ ثم اتفقا قلت بلى ‏.‏ قال ‏"‏ فالله أعظم ‏"‏ ‏.‏ قال ابن معاذ قال ‏"‏ فإنما هو خلق من خلق الله فالله أجل وأعظم ‏"‏ ‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00