সুনানে আবু দাউদ > ‘মুলতাযাম’ (কা‘বার দরজা হতে হাতীম পর্যন্ত মধ্যবর্তী স্থানকে জড়িয়ে ধরা)

সুনানে আবু দাউদ ১৯০০

حدثنا عبيد الله بن عمر بن ميسرة، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا السائب بن عمر المخزومي، حدثني محمد بن عبد الله بن السائب، عن أبيه، أنه كان يقود ابن عباس فيقيمه عند الشقة الثالثة مما يلي الركن الذي يلي الحجر مما يلي الباب فيقول له ابن عباس أنبئت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي ها هنا فيقول ‏ "‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ فيقوم فيصلي ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর (দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার পর) হাত ধরে নিয়ে যেতেন এবং বায়তুল্লাহর দরজা সংলগ্ন রুকনের সাথে মিলিত তৃতীয় অংশে দাঁড় করিয়ে দিতেন। অতঃপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ স্থানে সলাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সেখানে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করলেন। [১৯০০] দুর্বল : যঈফ সুনান নাসায়ী (১৮৮/২৯১৮)।

মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর (দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার পর) হাত ধরে নিয়ে যেতেন এবং বায়তুল্লাহর দরজা সংলগ্ন রুকনের সাথে মিলিত তৃতীয় অংশে দাঁড় করিয়ে দিতেন। অতঃপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ স্থানে সলাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সেখানে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করলেন। [১৯০০] দুর্বল : যঈফ সুনান নাসায়ী (১৮৮/২৯১৮)।

حدثنا عبيد الله بن عمر بن ميسرة، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا السائب بن عمر المخزومي، حدثني محمد بن عبد الله بن السائب، عن أبيه، أنه كان يقود ابن عباس فيقيمه عند الشقة الثالثة مما يلي الركن الذي يلي الحجر مما يلي الباب فيقول له ابن عباس أنبئت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي ها هنا فيقول ‏ "‏ نعم ‏"‏ ‏.‏ فيقوم فيصلي ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ১৮৯৮

حدثنا عثمان بن أبي شيبة، حدثنا جرير بن عبد الحميد، عن يزيد بن أبي زياد، عن مجاهد، عن عبد الرحمن بن صفوان، قال لما فتح رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة قلت لألبسن ثيابي - وكانت داري على الطريق - فلأنظرن كيف يصنع رسول الله صلى الله عليه وسلم فانطلقت فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم قد خرج من الكعبة هو وأصحابه وقد استلموا البيت من الباب إلى الحطيم وقد وضعوا خدودهم على البيت ورسول الله صلى الله عليه وسلم وسطهم ‏.‏

আবদুর রহমান ইবনু সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মাক্কাহ বিজয় করলেন তখন আমি (মনে মনে) বললাম, আমি আমার পোশাক পরবো, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি কাজ করেন তাও দেখবো। আমার ঘরও ছিলো পথের পাশেই। সুতরাং আমি চলে গেলাম এবং আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম, তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ কা‘বা ঘরের ভেতর থেকে বাইরে এসে, তার দরজা থেকে হাতীম পর্যন্ত চুমু খেয়েছেন এবং তাঁরা তাঁদের গাল ও চোয়াল রেখেছেন কা’বা ঘরে উপর। এসময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের মাঝখানে ছিলেন। [১৮৯৮]

আবদুর রহমান ইবনু সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মাক্কাহ বিজয় করলেন তখন আমি (মনে মনে) বললাম, আমি আমার পোশাক পরবো, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি কাজ করেন তাও দেখবো। আমার ঘরও ছিলো পথের পাশেই। সুতরাং আমি চলে গেলাম এবং আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম, তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ কা‘বা ঘরের ভেতর থেকে বাইরে এসে, তার দরজা থেকে হাতীম পর্যন্ত চুমু খেয়েছেন এবং তাঁরা তাঁদের গাল ও চোয়াল রেখেছেন কা’বা ঘরে উপর। এসময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের মাঝখানে ছিলেন। [১৮৯৮]

حدثنا عثمان بن أبي شيبة، حدثنا جرير بن عبد الحميد، عن يزيد بن أبي زياد، عن مجاهد، عن عبد الرحمن بن صفوان، قال لما فتح رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة قلت لألبسن ثيابي - وكانت داري على الطريق - فلأنظرن كيف يصنع رسول الله صلى الله عليه وسلم فانطلقت فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم قد خرج من الكعبة هو وأصحابه وقد استلموا البيت من الباب إلى الحطيم وقد وضعوا خدودهم على البيت ورسول الله صلى الله عليه وسلم وسطهم ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ১৮৯৯

حدثنا مسدد، حدثنا عيسى بن يونس، حدثنا المثنى بن الصباح، عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، قال طفت مع عبد الله فلما جئنا دبر الكعبة قلت ألا تتعوذ ‏.‏ قال نعوذ بالله من النار ‏.‏ ثم مضى حتى استلم الحجر وأقام بين الركن والباب فوضع صدره ووجهه وذراعيه وكفيه هكذا وبسطهما بسطا ثم قال هكذا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعله ‏.‏

‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে তার পিতার থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)-এর সাথে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করি। আমরা যখন কা‘বার পিছনে যাই তখন আমি বলি, আপনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছেন না কেন? তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি সম্মুখে গিয়ে হাজরে আসওয়াদে চুমু খেলেন, রুকনে ইয়ামানী এবং দরজার মাঝখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন, তার বুক, চেহারা, উভয় বাহু এবং হাতের তালু স্থাপন করে তা বিছিয়ে রাখলেন। এই বলে তিনি দুই হাত প্রসারিত করে দেখালেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরূপ করতে দেখেছি। [১৮৯৯]

‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে তার পিতার থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)-এর সাথে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করি। আমরা যখন কা‘বার পিছনে যাই তখন আমি বলি, আপনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছেন না কেন? তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি সম্মুখে গিয়ে হাজরে আসওয়াদে চুমু খেলেন, রুকনে ইয়ামানী এবং দরজার মাঝখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন, তার বুক, চেহারা, উভয় বাহু এবং হাতের তালু স্থাপন করে তা বিছিয়ে রাখলেন। এই বলে তিনি দুই হাত প্রসারিত করে দেখালেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরূপ করতে দেখেছি। [১৮৯৯]

حدثنا مسدد، حدثنا عيسى بن يونس، حدثنا المثنى بن الصباح، عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، قال طفت مع عبد الله فلما جئنا دبر الكعبة قلت ألا تتعوذ ‏.‏ قال نعوذ بالله من النار ‏.‏ ثم مضى حتى استلم الحجر وأقام بين الركن والباب فوضع صدره ووجهه وذراعيه وكفيه هكذا وبسطهما بسطا ثم قال هكذا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعله ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ > সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করা

সুনানে আবু দাউদ ১৯০২

حدثنا مسدد، حدثنا خالد بن عبد الله، حدثنا إسماعيل بن أبي خالد، عن عبد الله بن أبي أوفى، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتمر فطاف بالبيت وصلى خلف المقام ركعتين ومعه من يستره من الناس فقيل لعبد الله أدخل رسول الله صلى الله عليه وسلم الكعبة قال لا ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবন আবূ ‘আওফা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমরাহ করতে এসে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাক‘আত সলাত আদায় করেছেন। কাফিরদের সম্ভাব্য আক্রমন থেকে তাঁকে রক্ষার্তে এ সময় তাঁর সাথে তাঁর রক্ষীবাহিনী সাহাবীরা ছিলেন। কেউ ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা‘বার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন কিনা? তিনি বললেন, না। [১৯০২]

আবদুল্লাহ ইবন আবূ ‘আওফা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমরাহ করতে এসে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাক‘আত সলাত আদায় করেছেন। কাফিরদের সম্ভাব্য আক্রমন থেকে তাঁকে রক্ষার্তে এ সময় তাঁর সাথে তাঁর রক্ষীবাহিনী সাহাবীরা ছিলেন। কেউ ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা‘বার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন কিনা? তিনি বললেন, না। [১৯০২]

حدثنا مسدد، حدثنا خالد بن عبد الله، حدثنا إسماعيل بن أبي خالد، عن عبد الله بن أبي أوفى، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتمر فطاف بالبيت وصلى خلف المقام ركعتين ومعه من يستره من الناس فقيل لعبد الله أدخل رسول الله صلى الله عليه وسلم الكعبة قال لا ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ১৯০৩

حدثنا تميم بن المنتصر، أخبرنا إسحاق بن يوسف، أخبرنا شريك، عن إسماعيل بن أبي خالد، قال سمعت عبد الله بن أبي أوفى، بهذا الحديث زاد ثم أتى الصفا والمروة فسعى بينهما سبعا ثم حلق رأسه ‏.‏

ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনেছি। এতে আরো রয়েছে : অতঃপর তিনি সাফা ও মারওয়ায় এসে এর মাঝে সাতবার সাঈ করেন, অতঃপর মাথা মুণ্ডন করেন। [১৯০৩] সহীহ। তবে মুণ্ডন কথাটি বাদে।

ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনেছি। এতে আরো রয়েছে : অতঃপর তিনি সাফা ও মারওয়ায় এসে এর মাঝে সাতবার সাঈ করেন, অতঃপর মাথা মুণ্ডন করেন। [১৯০৩] সহীহ। তবে মুণ্ডন কথাটি বাদে।

حدثنا تميم بن المنتصر، أخبرنا إسحاق بن يوسف، أخبرنا شريك، عن إسماعيل بن أبي خالد، قال سمعت عبد الله بن أبي أوفى، بهذا الحديث زاد ثم أتى الصفا والمروة فسعى بينهما سبعا ثم حلق رأسه ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ১৯০৪

حدثنا النفيلي، حدثنا زهير، حدثنا عطاء بن السائب، عن كثير بن جمهان، أن رجلا، قال لعبد الله بن عمر بين الصفا والمروة يا أبا عبد الرحمن إني أراك تمشي والناس يسعون قال إن أمش فقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يمشي وإن أسع فقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يسعى وأنا شيخ كبير ‏.‏

কাসীর উবনু জুমহান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যাক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমি দেখতে পাচ্ছি আপনি সাফা-মারওয়ার মাঝে স্বাভাবিক গতিতে চলছেন, অথচ অন্য লোকেরা দৌড়াচ্ছে। তিনি বললেন, যদি আমি হাঁটি তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এখানে হাঁটতে দেখেছি। আর যদি আমি দৌড়াই (সাঈ করি), তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এখানে দৌড়াতেও দেখেছি। আর এখন তো আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। [১৯০৪]

কাসীর উবনু জুমহান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যাক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমি দেখতে পাচ্ছি আপনি সাফা-মারওয়ার মাঝে স্বাভাবিক গতিতে চলছেন, অথচ অন্য লোকেরা দৌড়াচ্ছে। তিনি বললেন, যদি আমি হাঁটি তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এখানে হাঁটতে দেখেছি। আর যদি আমি দৌড়াই (সাঈ করি), তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এখানে দৌড়াতেও দেখেছি। আর এখন তো আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। [১৯০৪]

حدثنا النفيلي، حدثنا زهير، حدثنا عطاء بن السائب، عن كثير بن جمهان، أن رجلا، قال لعبد الله بن عمر بين الصفا والمروة يا أبا عبد الرحمن إني أراك تمشي والناس يسعون قال إن أمش فقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يمشي وإن أسع فقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يسعى وأنا شيخ كبير ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ১৯০১

حدثنا القعنبي، عن مالك، عن هشام بن عروة، ح وحدثنا ابن السرح، حدثنا ابن وهب، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن أبيه، أنه قال قلت لعائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم وأنا يومئذ حديث السن أرأيت قول الله تعالى ‏{‏ إن الصفا والمروة من شعائر الله ‏}‏ فما أرى على أحد شيئا أن لا يطوف بهما ‏.‏ قالت عائشة كلا لو كان كما تقول كانت فلا جناح عليه أن لا يطوف بهما إنما أنزلت هذه الآية في الأنصار كانوا يهلون لمناة وكانت مناة حذو قديد وكانوا يتحرجون أن يطوفوا بين الصفا والمروة فلما جاء الإسلام سألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فأنزل الله تعالى ‏{‏ إن الصفا والمروة من شعائر الله ‏}‏ ‏.‏

হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে তার পিতার থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আমার ছেলে বেলায় জিজ্ঞেস করলাম, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনমূহের অন্তর্ভুক্ত।” আমি মনে করি, কেউ এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) না করলে তার কোন গুনাহ হবে না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ‘কখনো নয়, তুমি এ আয়াতের যেরূপ ব্যাখ্যা করলে তা ঠিক হলে আয়াতটি হতো এরূপ : “তার কোন গুনাহ নেই যদি সে এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ না করে।” মূলতঃ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে আনসারদের সম্পর্কে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা ‘মানাত’ মূর্তির উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতো। আর এ মানাত মূর্তি ‘কুদাইদ’ পাহাড় বরাবরে অবস্থিত ছিল। সুতরাং তারা সাফা-মাওরয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করাকে আপত্তিকর ভাবতো। ইসলাম গ্রহণের পর তারা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলো। তখন মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন : “নিশ্চই সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত” (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১৫৮)। [১৯০১]

হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে তার পিতার থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আমার ছেলে বেলায় জিজ্ঞেস করলাম, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনমূহের অন্তর্ভুক্ত।” আমি মনে করি, কেউ এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) না করলে তার কোন গুনাহ হবে না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ‘কখনো নয়, তুমি এ আয়াতের যেরূপ ব্যাখ্যা করলে তা ঠিক হলে আয়াতটি হতো এরূপ : “তার কোন গুনাহ নেই যদি সে এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ না করে।” মূলতঃ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে আনসারদের সম্পর্কে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা ‘মানাত’ মূর্তির উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতো। আর এ মানাত মূর্তি ‘কুদাইদ’ পাহাড় বরাবরে অবস্থিত ছিল। সুতরাং তারা সাফা-মাওরয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করাকে আপত্তিকর ভাবতো। ইসলাম গ্রহণের পর তারা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলো। তখন মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন : “নিশ্চই সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত” (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১৫৮)। [১৯০১]

حدثنا القعنبي، عن مالك، عن هشام بن عروة، ح وحدثنا ابن السرح، حدثنا ابن وهب، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن أبيه، أنه قال قلت لعائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم وأنا يومئذ حديث السن أرأيت قول الله تعالى ‏{‏ إن الصفا والمروة من شعائر الله ‏}‏ فما أرى على أحد شيئا أن لا يطوف بهما ‏.‏ قالت عائشة كلا لو كان كما تقول كانت فلا جناح عليه أن لا يطوف بهما إنما أنزلت هذه الآية في الأنصار كانوا يهلون لمناة وكانت مناة حذو قديد وكانوا يتحرجون أن يطوفوا بين الصفا والمروة فلما جاء الإسلام سألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فأنزل الله تعالى ‏{‏ إن الصفا والمروة من شعائر الله ‏}‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ > নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিদায় হাজ্জের বিবরণ

সুনানে আবু দাউদ ১৯০৭

حدثنا أحمد بن حنبل، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا جعفر، حدثنا أبي، عن جابر، قال ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قد نحرت ها هنا ومنى كلها منحر ‏"‏ ‏.‏ ووقف بعرفة فقال ‏"‏ قد وقفت ها هنا وعرفة كلها موقف ‏"‏ ‏.‏ ووقف في المزدلفة فقال ‏"‏ قد وقفت ها هنا ومزدلفة كلها موقف ‏"‏ ‏.

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি এ স্থানে কুরবানী করেছি। আর মিনার পুরো এলাকাই কুরবানীর স্থান। তিনি আরাফার এক স্থানে অবস্থান করেছেন এবং বলেছেনঃ আমি এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর আরাফার সম্পূর্ণ এলাকাই অবস্থানের স্থান। তিনি মুযদালিফার এক স্থানে অবস্থান করেছেন এবং বলেছেনঃ আমি এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর মুযদালিফার পুরো এলাকাই অবস্থানের স্থান। [১৯০৭]

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি এ স্থানে কুরবানী করেছি। আর মিনার পুরো এলাকাই কুরবানীর স্থান। তিনি আরাফার এক স্থানে অবস্থান করেছেন এবং বলেছেনঃ আমি এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর আরাফার সম্পূর্ণ এলাকাই অবস্থানের স্থান। তিনি মুযদালিফার এক স্থানে অবস্থান করেছেন এবং বলেছেনঃ আমি এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর মুযদালিফার পুরো এলাকাই অবস্থানের স্থান। [১৯০৭]

حدثنا أحمد بن حنبل، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا جعفر، حدثنا أبي، عن جابر، قال ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قد نحرت ها هنا ومنى كلها منحر ‏"‏ ‏.‏ ووقف بعرفة فقال ‏"‏ قد وقفت ها هنا وعرفة كلها موقف ‏"‏ ‏.‏ ووقف في المزدلفة فقال ‏"‏ قد وقفت ها هنا ومزدلفة كلها موقف ‏"‏ ‏.


সুনানে আবু দাউদ ১৯০৯

حدثنا يعقوب بن إبراهيم، حدثنا يحيى بن سعيد القطان، عن جعفر، حدثني أبي، عن جابر، فذكر هذا الحديث وأدرج في الحديث عند قوله ‏{‏ واتخذوا من مقام إبراهيم مصلى ‏}‏ قال فقرأ فيها بالتوحيد و ‏{‏ قل يا أيها الكافرون ‏}‏ وقال فيه قال علي - رضى الله عنه - بالكوفة قال أبي هذا الحرف لم يذكره جابر فذهبت محرشا ‏.‏ وذكر قصة فاطمة رضى الله عنها ‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার হাদীসে একথাও রয়েছে : “আর তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে দাঁড়াবার স্থানকে সলাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো”। জা‘ফর ইবনু মুহম্মাদ বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ স্থানে সলাত আদায়কালে সূরাহ ইখলাস ও সূরাহ কাফিরুন পাঠ করেছেন। [১৯০৯]

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার হাদীসে একথাও রয়েছে : “আর তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে দাঁড়াবার স্থানকে সলাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো”। জা‘ফর ইবনু মুহম্মাদ বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ স্থানে সলাত আদায়কালে সূরাহ ইখলাস ও সূরাহ কাফিরুন পাঠ করেছেন। [১৯০৯]

حدثنا يعقوب بن إبراهيم، حدثنا يحيى بن سعيد القطان، عن جعفر، حدثني أبي، عن جابر، فذكر هذا الحديث وأدرج في الحديث عند قوله ‏{‏ واتخذوا من مقام إبراهيم مصلى ‏}‏ قال فقرأ فيها بالتوحيد و ‏{‏ قل يا أيها الكافرون ‏}‏ وقال فيه قال علي - رضى الله عنه - بالكوفة قال أبي هذا الحرف لم يذكره جابر فذهبت محرشا ‏.‏ وذكر قصة فاطمة رضى الله عنها ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ১৯০৫

حدثنا عبد الله بن محمد النفيلي، وعثمان بن أبي شيبة، وهشام بن عمار، وسليمان بن عبد الرحمن الدمشقيان، - وربما زاد بعضهم على بعض الكلمة والشىء - قالوا حدثنا حاتم بن إسماعيل حدثنا جعفر بن محمد عن أبيه قال دخلنا على جابر بن عبد الله فلما انتهينا إليه سأل عن القوم حتى انتهى إلى فقلت أنا محمد بن علي بن حسين ‏.‏ فأهوى بيده إلى رأسي فنزع زري الأعلى ثم نزع زري الأسفل ثم وضع كفه بين ثديى وأنا يومئذ غلام شاب ‏.‏ فقال مرحبا بك وأهلا يا ابن أخي سل عما شئت ‏.‏ فسألته وهو أعمى وجاء وقت الصلاة فقام في نساجة ملتحفا بها يعني ثوبا ملفقا كلما وضعها على منكبه رجع طرفاها إليه من صغرها فصلى بنا ورداؤه إلى جنبه على المشجب ‏.‏ فقلت أخبرني عن حجة رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فقال بيده فعقد تسعا ‏.‏ ثم قال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم مكث تسع سنين لم يحج ثم أذن في الناس في العاشرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حاج فقدم المدينة بشر كثير كلهم يلتمس أن يأتم برسول الله صلى الله عليه وسلم ويعمل بمثل عمله فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وخرجنا معه حتى أتينا ذا الحليفة فولدت أسماء بنت عميس محمد بن أبي بكر فأرسلت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف أصنع قال ‏"‏ اغتسلي واستذفري بثوب وأحرمي ‏"‏ ‏.‏ فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد ثم ركب القصواء حتى إذا استوت به ناقته على البيداء ‏.‏ قال جابر نظرت إلى مد بصري من بين يديه من راكب وماش وعن يمينه مثل ذلك وعن يساره مثل ذلك ومن خلفه مثل ذلك ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا وعليه ينزل القرآن وهو يعلم تأويله فما عمل به من شىء عملنا به فأهل رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتوحيد ‏"‏ لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك ‏"‏ ‏.‏ وأهل الناس بهذا الذي يهلون به فلم يرد عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا منه ولزم رسول الله صلى الله عليه وسلم تلبيته ‏.‏ قال جابر لسنا ننوي إلا الحج لسنا نعرف العمرة حتى إذا أتينا البيت معه استلم الركن فرمل ثلاثا ومشى أربعا ثم تقدم إلى مقام إبراهيم فقرأ ‏{‏ واتخذوا من مقام إبراهيم مصلى ‏}‏ فجعل المقام بينه وبين البيت قال فكان أبي يقول قال ابن نفيل وعثمان ولا أعلمه ذكره إلا عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قال سليمان ولا أعلمه إلا قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ في الركعتين بـ ‏{‏ قل هو الله أحد ‏}‏ وبـ ‏{‏ قل يا أيها الكافرون ‏}‏ ثم رجع إلى البيت فاستلم الركن ثم خرج من الباب إلى الصفا فلما دنا من الصفا قرأ ‏{‏ إن الصفا والمروة من شعائر الله ‏}‏ ‏"‏ نبدأ بما بدأ الله به ‏"‏ ‏.‏ فبدأ بالصفا فرقي عليه حتى رأى البيت فكبر الله ووحده وقال ‏"‏ لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد يحيي ويميت وهو على كل شىء قدير لا إله إلا الله وحده أنجز وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده ‏"‏ ‏.‏ ثم دعا بين ذلك وقال مثل هذا ثلاث مرات ثم نزل إلى المروة حتى إذا انصبت قدماه رمل في بطن الوادي حتى إذا صعد مشى حتى أتى المروة فصنع على المروة مثل ما صنع على الصفا حتى إذا كان آخر الطواف على المروة قال ‏"‏ إني لو استقبلت من أمري ما استدبرت لم أسق الهدى ولجعلتها عمرة فمن كان منكم ليس معه هدى فليحلل وليجعلها عمرة ‏"‏ ‏.‏ فحل الناس كلهم وقصروا إلا النبي صلى الله عليه وسلم ومن كان معه هدى فقام سراقة بن جعشم فقال يا رسول الله ألعامنا هذا أم للأبد فشبك رسول الله صلى الله عليه وسلم أصابعه في الأخرى ثم قال ‏"‏ دخلت العمرة في الحج ‏"‏ ‏.‏ هكذا مرتين ‏"‏ لا بل لأبد أبد لا بل لأبد أبد ‏"‏ ‏.‏ قال وقدم علي - رضى الله عنه - من اليمن ببدن النبي صلى الله عليه وسلم فوجد فاطمة - رضى الله عنها - ممن حل ولبست ثيابا صبيغا واكتحلت فأنكر علي ذلك عليها وقال من أمرك بهذا فقالت أبي ‏.‏ فكان علي يقول بالعراق ذهبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم محرشا على فاطمة في الأمر الذي صنعته مستفتيا لرسول الله صلى الله عليه وسلم في الذي ذكرت عنه فأخبرته أني أنكرت ذلك عليها فقالت إن أبي أمرني بهذا ‏.‏ فقال ‏"‏ صدقت صدقت ماذا قلت حين فرضت الحج ‏"‏ ‏.‏ قال قلت اللهم إني أهل بما أهل به رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قال ‏"‏ فإن معي الهدى فلا تحلل ‏"‏ ‏.‏ قال وكان جماعة الهدى الذي قدم به علي من اليمن والذي أتى به النبي صلى الله عليه وسلم من المدينة مائة فحل الناس كلهم وقصروا إلا النبي صلى الله عليه وسلم ومن كان معه هدى قال فلما كان يوم التروية ووجهوا إلى منى أهلوا بالحج فركب رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى بمنى الظهر والعصر والمغرب والعشاء والصبح ثم مكث قليلا حتى طلعت الشمس وأمر بقبة له من شعر فضربت بنمرة فسار رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تشك قريش أن رسول الله صلى الله عليه وسلم واقف عند المشعر الحرام بالمزدلفة كما كانت قريش تصنع في الجاهلية فأجاز رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أتى عرفة فوجد القبة قد ضربت له بنمرة فنزل بها حتى إذا زاغت الشمس أمر بالقصواء فرحلت له فركب حتى أتى بطن الوادي فخطب الناس فقال ‏"‏ إن دماءكم وأموالكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا ألا إن كل شىء من أمر الجاهلية تحت قدمى موضوع ودماء الجاهلية موضوعة وأول دم أضعه دماؤنا دم ‏"‏ ‏.‏ قال عثمان ‏"‏ دم ابن ربيعة ‏"‏ ‏.‏ وقال سليمان ‏"‏ دم ربيعة بن الحارث بن عبد المطلب ‏"‏ ‏.‏ وقال بعض هؤلاء كان مسترضعا في بني سعد فقتلته هذيل ‏"‏ وربا الجاهلية موضوع وأول ربا أضعه ربانا ربا عباس بن عبد المطلب فإنه موضوع كله اتقوا الله في النساء فإنكم أخذتموهن بأمانة الله واستحللتم فروجهن بكلمة الله وإن لكم عليهن أن لا يوطئن فرشكم أحدا تكرهونه فإن فعلن فاضربوهن ضربا غير مبرح ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف وإني قد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به كتاب الله وأنتم مسئولون عني فما أنتم قائلون ‏"‏ ‏.‏ قالوا نشهد أنك قد بلغت وأديت ونصحت ‏.‏ ثم قال بأصبعه السبابة يرفعها إلى السماء وينكبها إلى الناس ‏"‏ اللهم اشهد اللهم اشهد اللهم اشهد ‏"‏ ‏.‏ ثم أذن بلال ثم أقام فصلى الظهر ثم أقام فصلى العصر ولم يصل بينهما شيئا ثم ركب القصواء حتى أتى الموقف فجعل بطن ناقته القصواء إلى الصخرات وجعل حبل المشاة بين يديه فاستقبل القبلة فلم يزل واقفا حتى غربت الشمس وذهبت الصفرة قليلا حين غاب القرص وأردف أسامة خلفه فدفع رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد شنق للقصواء الزمام حتى إن رأسها ليصيب مورك رحله وهو يقول بيده اليمنى ‏"‏ السكينة أيها الناس السكينة أيها الناس ‏"‏ ‏.‏ كلما أتى حبلا من الحبال أرخى لها قليلا حتى تصعد حتى أتى المزدلفة فجمع بين المغرب والعشاء بأذان واحد وإقامتين - قال عثمان ولم يسبح بينهما شيئا ثم اتفقوا - ثم اضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى طلع الفجر فصلى الفجر حين تبين له الصبح - قال سليمان بنداء وإقامة ثم اتفقوا - ثم ركب القصواء حتى أتى المشعر الحرام فرقي عليه قال عثمان وسليمان فاستقبل القبلة فحمد الله وكبره وهلله زاد عثمان ووحده فلم يزل واقفا حتى أسفر جدا ثم دفع رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن تطلع الشمس وأردف الفضل بن عباس وكان رجلا حسن الشعر أبيض وسيما فلما دفع رسول الله صلى الله عليه وسلم مر الظعن يجرين فطفق الفضل ينظر إليهن فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده على وجه الفضل وصرف الفضل وجهه إلى الشق الآخر وحول رسول الله صلى الله عليه وسلم يده إلى الشق الآخر وصرف الفضل وجهه إلى الشق الآخر ينظر حتى أتى محسرا فحرك قليلا ثم سلك الطريق الوسطى الذي يخرجك إلى الجمرة الكبرى حتى أتى الجمرة التي عند الشجرة فرماها بسبع حصيات يكبر مع كل حصاة منها بمثل حصى الخذف فرمى من بطن الوادي ثم انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المنحر فنحر بيده ثلاثا وستين وأمر عليا فنحر ما غبر - يقول ما بقي - وأشركه في هديه ثم أمر من كل بدنة ببضعة فجعلت في قدر فطبخت فأكلا من لحمها وشربا من مرقها قال سليمان ثم ركب ثم أفاض رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى البيت فصلى بمكة الظهر ثم أتى بني عبد المطلب وهم يسقون على زمزم فقال ‏"‏ انزعوا بني عبد المطلب فلولا أن يغلبكم الناس على سقايتكم لنزعت معكم ‏"‏ ‏.‏ فناولوه دلوا فشرب منه ‏.‏

জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তাঁর পিতার থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) এর নিকট যাই। আমরা তার নিকটবর্তী হলে তিনি (অন্ধ হওয়ার কারণে) আগন্তুকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন এবং এক পর্যায়ে আমার কাছাকাছি এলে আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী ইবনু হুসাইন ইবনু ‘আলী (রাঃ)। আমার কথা শুনে তিনি আমার মাথার দিকে হাত বাড়ান, আমার জামার উপরের ও নিচের বোতাম খুলে তার হাতের তালু আমার বুকের উপর রাখলেন। তখন আমি ছিলাম যুবক। তিনি বললেন, মারহাবা! মোবারক হোক তোমার আগমণ, স্বাগতম হে ভ্রাতুষ্পুত্র! যা ইচ্ছে জিজ্ঞেস করতে পারো। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি ছিলেন অন্ধ। সলাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি কাপড় পেঁচিয়ে নিজের জায়নামাযের উপর সলাতে দাঁড়ালেন। কিন্তু তার কাপড় ছোট হওয়ায় তিনি যখনই তা কাঁধের উপর রাখছিলেন তখনই এর দু’ পাশ তার দিকে ফিরে আসছিলো। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করলেন, অথচ তার (বড়) চাদরটি আলনার উপর রক্ষিত ছিলো। আমি বললাম, আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাজ্জ সম্বন্ধে বলুন। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে নয় সংখ্যাটির কথা বললেন, অতঃপর বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নয় বছর মদিনায় ছিলেন, এ সময় একবারও হাজ্জ করেননি। অতঃপর দশম বছরে লোকদের মধ্যে ঘোষণা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জ করবেন। ফলে অসংখ্য লোক মাদীনাহয় আসলো এবং প্রত্যেকেই চাইলো যে, তারা রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ করবে এবং তিনি যেসব কাজ করেন তারাও তাই করবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রওয়ানা হলে আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হই। ‘যুল-হুলাইফা’ পর্যন্ত পৌঁছলে আসমা’ বিনতু উমাইস (রাঃ) মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাক্‌রকে প্রসব করেন। কাজেই তিনি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে লোক মারফত জানতে চাইলেন, এখন আমার কি করণীয়? তিনি বললেনঃ তুমি গোসল করে (লজ্জাস্থানে) কাপড় বেঁধে ইহরাম বেঁধে নাও। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে সলাত আদায় করেন, অতঃপর উষ্ট্রী ‘কাসওয়া’র উপর চড়েন। উষ্ট্রীটি যখন আল-বায়দা’ উপত্যকায় দাঁড়ালো তখন জাবির (রাঃ) বলেন, তাঁর সম্মুখে আমার চোখের দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত দেখতে পেলাম শুধু আরোহী ও পদাতিক জনসমুদ্র, তাঁর ডানে, বামে এবং পিছনে সর্বত্রই একই অবস্থা। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে ছিলেন এবং তখন তাঁর ওপর আহকাম সম্বলিত কুরআনের আয়াত নাযিল হচ্ছিল আর তিনিই এর ব্যাখ্যা জানতেন। তিনি যা কিছু করতেন আমরাও অনুরূপ করতাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দিয়ে ইহরাম বেঁধে উচ্চস্বরে পড়লেন : “লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক। লা শারীকা লাকা লাব্বায়িক ইন্নাল- হামদা ওয়ান-নি‘মাতা লাকা ওয়াল-মুলক লা শারীকা লাকা”। তিনি যেভাবে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়েছেন, লোকেরাও সেভাবে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়লো। তাদের কোনো কাজকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অস্বীকৃতি দেননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা শুধু হাজ্জের নিয়্যাত করেছিলাম। ‘উমরা’ সম্পর্কে আমরা জানতাম না। পরে আমরা তাঁর সাথে বায়তুল্লাহয় এসে পৌঁছলে তিনি রুকন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদে চুমু খেলেন এবং তিনবার রমল এবং চারবার স্বাভবিক গতিতে হেঁটে (তাওয়াফ) সম্পন্ন করলেন। অতঃপর মাকামে ইবরাহীমের দিকে অগ্রসর হয়ে পড়লেন : “এবং ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থানকে তোমরা সলাতের স্থানরূপে নির্ধারণ করো” (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১২৫) এবং তিনি মাকামে ইবরাহীম ও বায়তুল্লাহকে সামনে রাখলেন। জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, আমার পিতা বলেছেন, ইবনু নুফাইল এবং ‘উসমান বলেছেন, আমার মনে হয়, এ কথাটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন। সুলাইমান বলেন, আমার ধারণা, জাবির বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই রাক‘আত সলাত ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’ এবং ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ দিয়ে পড়েছেন। আবার তিনি বায়তুল্লাহর নিকট গিয়ে রুকনে (হাজরে আসওয়াদ) চুমু খেলেন। অতঃপর (বায়তুল্লাহর) দরজা দিয়ে বেরিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে গেলেন। তিনি সা‘ফার কাছে গিয়ে পাঠ করলেন : “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত” (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১৫৯)। সুতরাং আমরা সেখান থেকে সাঈ শুরু করবো আল্লাহ যেখান থেকে শুরু করেছেন (অর্থাৎ প্রথমে সাফা হতে এবং পরে মারওয়া হতে) এ বলে তিনি সাফা পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেন। সেখান থেকে বায়তুল্লাহ দেখে তাকবীর বললেন এবং তাঁর তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে বললেনঃ “তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই, মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব তাঁর। তিনিই জীবন-মৃত্যু দানকারী। তিনিই সকল প্রশংসার প্রকৃত হকদার এবং তিনি সবকিছু করতে সক্ষম ও ক্ষমতাবান। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একাই তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করে দেখিয়েছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল (বিদ্রোহী) বাহিনীকে বিতাড়িত ও পরাভূত করেছেন”। তিনি এর মধ্যে অনুরূপ তিনবার দু‘আ করলেন। অতঃপর সেখান থেকে নেমে মারওয়ায় গেলেন, তাঁর পদদ্বয় নিম্নভূমি স্পর্শ করল, তিনি সমতল ভূমিতে রমল করলেন। সমতল ভূমি অতিক্রম করে মারওয়া পাহাড়ের নিকটে এসে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলেন। তারপর মারওয়া পাহাড়ে উঠে তাই করলেন যেরূপ করেছিলেন সাফা পাহাড়ে। পরে মারওয়ার সর্বশেষ তাওয়াফ সম্পন্ন করে বললেনঃ আমি যা পরে জেনেছি তা যদি আগে জানতাম তাহলে কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে আসতাম না এবং (হাজ্জের) ইহরামকে ‘উমরাহ্‌য় পরিণত করতাম। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই, তারা যেন ‘উমরাহ করার পর ইহরাম খুলে ফেলে এবং (তাওয়াফ, সাঈ ইত্যাদিকে) ‘উমরাহ্‌র কাজ হিসেবে করে নেয়। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো তারা ব্যতীত সকল লোক তাদের ইহরাম খুলে মাথার চুল ছেঁটে ফেললো। এ সময় সুরাক্বাহ ইবনু জ‘শুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরূপ কি শুধু আমাদের এ বছরের জন্য প্রযোজ্য, নাকি সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতের আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে বললেনঃ ‘উমরাহ হাজ্জের মধ্যে প্রবেশ করেছে, এভাবে তিনি দু’বার বললেন, সর্বকালের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় ‘আলী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কুরবানীর পশু নিয়ে ইয়ামান থেকে এলেন। তিনি দেখলেন, ফাত্বিমাহ (রাঃ) ইহরাম খুলে রঙ্গিন পোশাক পরে সুরমা লাগিয়েছেন। ‘আলী (রাঃ) এটা অপছন্দ করে বললেন, তোমাকে এরূপ করতে কে বলেছে? তিনি বললেন, আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। বর্ণনাকারী বলেন, এক সময় ‘আলী (রাঃ) ইরাকে একথা বলেছেন, আমি ফাত্বিমাহ্‌র কৃতকর্মের জন্য রাগ করে রাসূলুল্লাহ্‌র (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলাম। আমি তাঁকে জানালাম, আমি ফাত্বিমাহর এ কাজ অপছন্দ করেছি এবং সে বলেছে, আমার পিতা আমাকে এরূপ করতে আদেশ করেছেন। তিনি আমার কথা শুনে বললেনঃ সে সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। (হে ‘আলী!) তুমি হাজ্জ ও ‘উমরাহ্‌র ইহরাম বাঁধার সময় কি বলেছিলে? তিনি বলেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমার ইহরামও অনুরূপ। তিনি বললেনঃ আমার সাথে কুরবানীর পশু আছে। সুতরাং (আমার মত) তুমিও ইহরাম খুলে হালাল হতে পারবে না। অপরদিকে ‘আলী (রাঃ) এর ইয়ামান থেকে নিয়ে আসা কুরবানীর পশু এবং মাদীনাহ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিয়ে আসা কুরবানীর পশু, এগুলো মোট সংখ্যা ছিলো একশটি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর ঐসব সাহাবী যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো তারা ব্যতীত সকলেই ইহরাম খুলে হালাল হয়ে মাথার চুল খাট করলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারা যখন (অষ্টম তারিখ) তারবিয়ার দিনে মিনার দিকে রওয়ানা হলেন, তখন তারা হাজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীতে চড়লেন এবং মিনায় পৌঁছে আমাদেরকে যুহর, ‘আসর, মাগরিব, ‘ইশা এবং ফাজ্‌র, মোট পাঁচ ওয়াক্ত সলাত সেখানে আদায় করলেন এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। তিনি তাঁর জন্য একখানা পশমের তাঁবু টানাতে নির্দেশ দিলেন এবং ‘নামিরা’ নামক স্থানে তা টানান হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে গেলেন। যাতে কুরাইশদের এরূপ সংশয় না করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাশ’আরুল হারামের নিকটবর্তী মুযদালিফায় অবস্থান করবেন, যেরূপ কুরাইশরা জাহিলিয়াতের যুগে করতো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে আরাফাতে আসলেন। এখানে এসে দেখলেন ‘নামিরায়’ তাঁর জন্য তাবু টানান হয়েছে। পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত তিনি ঐ তাবুতে অবস্থান করেন। অতঃপর সূর্য ঢলে পড়লে তিনি ‘কাসওয়া’ উষ্ট্রীটি উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। তা আনা হলে তিনি তাতে চড়ে বাতনুল ওয়াদীতে আসলেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ নিশ্চয় তোমাদের রক্ত ও সম্পদ (পরষ্পরের জন্য) আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই শহরের মতই সম্মানিত। সাবধান! জাহিলী যুগের সমস্ত কাজ ও প্রথা আমার দুই পায়ের নিচে পতিত হলো। জাহিলী যুগের রক্তের সকল দাবি বাতিল। আমি সর্বপ্রথম আমাদের (বনী হাশিমের) রক্তের দাবি পরিত্যাগ করলাম। বর্ণনাকারী ‘উসমানের বর্ণনায় রয়েছে : আমি ইবনু রবী‘আহ্‌র রক্তের দাবি আর সুলইমানের বর্ণনায় রয়েছে : আমি রবী‘আহ ইবনু হারিস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিবের রক্তের দাবি পরিত্যাগ করলাম। আর রবী‘আহ সা‘দ গোত্রে দুগ্ধপুষ্য থাকাকালীন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করেছিলো। জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হলো। আমি সর্বপ্রথম ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিবের সুদের দাবি পরিহার করলাম। তা সম্পূর্ণরূপে বাতিল হলো। তোমরা নারীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর বিধান মোতাবেক তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছো। তাদের উপর তোমাদেরও অধিকার আছে, তারা যেন তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমার ঘরে স্থান না দেয়। তারা এরূপ করলে তাদেরকে খুবই হালকা মারধর করো। তাদের ভরণ-পোষনের দায়িত্বও তোমাদের উপর। তোমরা তা স্বাভাবিকভাবে আদায় করবে। সর্বোপরি আমি তোমাদের মধ্যে এমন একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব। (ক্বিয়ামাতের দিন) তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কি বলবে? তারা বললেন, আমরা সাক্ষ্য দিবো, আপনি আপনার দায়িত্ব যথাযথভাবে পৌঁছিয়েছেন, আপনার আমানাতের হক্ব আদায় করেছেন এবং ভালো কাজের উপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে তর্জনী তুলে ধরেন এবং মানুষের প্রতি ইঙ্গিত করে (তিনবার) বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) আযান অতঃপর ইক্বামাত দিলেন। তিনি যুহরের সলাত আদায় করলেন, পুনরায় ইক্বামাত দিলে ‘আসরের সলাত আদায় করলেন। কিন্তু এ দুইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অন্য (নফল) সলাত পড়েননি। অতঃপর তিনি কাসওয়া উষ্ট্রীতে আরোহণ করে আরাফাতে অবস্থানের স্থানে এলেন এবং কাসওয়া উষ্ট্রীকে ‘জাবালে রহমাতের’ পাদদেশে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে তিনি পাহাড়কে সামনে রেখে ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্য ডুবে আকাশের লালিমা কিছুটা মুছে যাওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। সূর্যের লালিমা বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি ‘উসামাকে তাঁর পেছনে সওয়ারীতে বসিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান থেকে রওয়ানা হলেন এবং উষ্ট্রীর লাগাম শক্ত করে ধরলেন, ফলে উটের মাথা হাওদার সম্মুখভাগের সাথে ছুটতে লাগলো। এ সময় তিনি ডান হাতের ইশারায় বলতে লাগলেন : ধীরস্থিরভাবে পথ চলো, হে লোকেরা, ধীরস্থিরভাবে চলো, হে লোকজন! তিনি কোন বালির টিলার নিকট এলে উষ্ট্রীর লাগাম সামান্য ঢিলা করতেন যাতে তা সহজে টিলায় উঠে সামনে অগ্রসর হতে পারে। অবশেষে তিনি ‘মুযদালিফায়’ উপস্থিত হলেন। এখানে এসে এক আযান ও দুই ইক্বামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সলাত একত্রে আদায় করেন। এ দুই সলাতের মাঝখানে তিনি অন্য কোনো (নফল) সলাত পড়েননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ স্থানে ভোর পর্যন্ত বিশ্রাম করেন। ফাজ্‌রের সময় হলে তিনি ফাজ্‌রের সলাত আদায় করেন। তিনি এ সলাত আদায় করেছেন এক আযান ও এক ইক্বামাতে। অতঃপর তিনি কাসওয়া উষ্ট্রীর উপর চড়ে মাশ‘আরুল হারামে এসে তার উপর উঠেন। তারপর তিনি ক্বিবলাহকে সামনে রেখে মহান আল্লাহর প্রশংসা, তাকবীর এবং তাহলীল পাঠ করেন। তিনি আল্লাহর একত্ববাদেরও ঘোষণা করেন এবং তিনি ভোর হওয়া পর্যন্ত এ স্থানে অবস্থান করেন। অতঃপর সূর্যোদয়ের পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাদল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে রওয়ানা হলেন। ফাদল ছিলেন কালো চুল ও সুন্দর চেহারার অধিকারী যুবক। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চলার পথে জন্তুযানের অবস্থানকারী একদল মহিলাও তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলো। আর ফাদল বারবার তাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাদলের মুখের উপর হাত রাখলেন। ফাদল অন্যদিকে ঘুরে তাদের দিকে দেখছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাদলের মুখের উপর হাত দিয়ে তা অন্যদিকে ফিরালেন। এবার তিনি ‘মুহাসসার’ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং তিনি উষ্ট্রীকে কিছুটা দ্রুত চালালেন। অতঃপর এখান থেকে রওয়ানা হয়ে জামরাতুল কুবরার দিকের মধ্যবর্তী পথ ধরে চললেন এবং সেখানে বৃক্ষের নিকটবর্তী জামরায় এসে উপস্থিত হয়ে তাতে সাতটি কংকর মারলেন আর প্রত্যেক কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর বললেন। কংকরগুলো ছিলো পাথরের ক্ষুদ্র টুকরার মতো এবং তা সমতল ভূমি থেকে নিক্ষেপ করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পশু কুরবানীর স্থানে উপস্থিত হলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি উট কুরবানী করলেন। অতঃপর ‘আলী (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন তিনি অবশিষ্টগুলো যাবাহ করলেন। তিনি ‘আলী (রাঃ)-কে তাঁর কুরবানীতে অংশীদারও করেন। অতঃপর তিনি প্রত্যেকটি যাবাহকৃত পশু হতে এক টুকরো করে গোশত তাঁকে দেয়ার আদেশ করলেন। সুতরাং তা নিয়ে একটি হাঁড়িতে পাকানো হলো। তাঁরা দু’জনেই এ গোশত খেলেন এবং এর ঝোল পান করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উষ্ট্রীতে চড়ে খুব তাড়াতাড়ি রওয়ানা হয়ে বায়তুল্লাহ্‌য় উপস্থিত হলেন। তিনি মক্কায় এসেই যুহরের সলাত আদায় করলেন। পরে তিনি বনি ‘আবদুল মুত্তালিবের নিকট গেলেন। এসময় তারা (লোকদের) যমযমের পানি পান করাচ্ছিলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ হে বনি ‘আবদুল মুত্তালিব! পানি উত্তোলন করতে থাকো। লোকদের অত্যাধিক ভিড় হওয়ার আশংকা যদি না থাকতো তাহলে আমিও তোমাদের সাথে পানি উত্তোলনে অংশগ্রহণ করতাম। এরপর লোকেরা তাঁকে পানির বালতি সরবরাহ করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা থেকে পান করেন। [১৯০৫]

জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তাঁর পিতার থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) এর নিকট যাই। আমরা তার নিকটবর্তী হলে তিনি (অন্ধ হওয়ার কারণে) আগন্তুকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন এবং এক পর্যায়ে আমার কাছাকাছি এলে আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী ইবনু হুসাইন ইবনু ‘আলী (রাঃ)। আমার কথা শুনে তিনি আমার মাথার দিকে হাত বাড়ান, আমার জামার উপরের ও নিচের বোতাম খুলে তার হাতের তালু আমার বুকের উপর রাখলেন। তখন আমি ছিলাম যুবক। তিনি বললেন, মারহাবা! মোবারক হোক তোমার আগমণ, স্বাগতম হে ভ্রাতুষ্পুত্র! যা ইচ্ছে জিজ্ঞেস করতে পারো। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি ছিলেন অন্ধ। সলাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি কাপড় পেঁচিয়ে নিজের জায়নামাযের উপর সলাতে দাঁড়ালেন। কিন্তু তার কাপড় ছোট হওয়ায় তিনি যখনই তা কাঁধের উপর রাখছিলেন তখনই এর দু’ পাশ তার দিকে ফিরে আসছিলো। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করলেন, অথচ তার (বড়) চাদরটি আলনার উপর রক্ষিত ছিলো। আমি বললাম, আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাজ্জ সম্বন্ধে বলুন। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে নয় সংখ্যাটির কথা বললেন, অতঃপর বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নয় বছর মদিনায় ছিলেন, এ সময় একবারও হাজ্জ করেননি। অতঃপর দশম বছরে লোকদের মধ্যে ঘোষণা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জ করবেন। ফলে অসংখ্য লোক মাদীনাহয় আসলো এবং প্রত্যেকেই চাইলো যে, তারা রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ করবে এবং তিনি যেসব কাজ করেন তারাও তাই করবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রওয়ানা হলে আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হই। ‘যুল-হুলাইফা’ পর্যন্ত পৌঁছলে আসমা’ বিনতু উমাইস (রাঃ) মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাক্‌রকে প্রসব করেন। কাজেই তিনি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে লোক মারফত জানতে চাইলেন, এখন আমার কি করণীয়? তিনি বললেনঃ তুমি গোসল করে (লজ্জাস্থানে) কাপড় বেঁধে ইহরাম বেঁধে নাও। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে সলাত আদায় করেন, অতঃপর উষ্ট্রী ‘কাসওয়া’র উপর চড়েন। উষ্ট্রীটি যখন আল-বায়দা’ উপত্যকায় দাঁড়ালো তখন জাবির (রাঃ) বলেন, তাঁর সম্মুখে আমার চোখের দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত দেখতে পেলাম শুধু আরোহী ও পদাতিক জনসমুদ্র, তাঁর ডানে, বামে এবং পিছনে সর্বত্রই একই অবস্থা। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে ছিলেন এবং তখন তাঁর ওপর আহকাম সম্বলিত কুরআনের আয়াত নাযিল হচ্ছিল আর তিনিই এর ব্যাখ্যা জানতেন। তিনি যা কিছু করতেন আমরাও অনুরূপ করতাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দিয়ে ইহরাম বেঁধে উচ্চস্বরে পড়লেন : “লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক। লা শারীকা লাকা লাব্বায়িক ইন্নাল- হামদা ওয়ান-নি‘মাতা লাকা ওয়াল-মুলক লা শারীকা লাকা”। তিনি যেভাবে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়েছেন, লোকেরাও সেভাবে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়লো। তাদের কোনো কাজকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অস্বীকৃতি দেননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা শুধু হাজ্জের নিয়্যাত করেছিলাম। ‘উমরা’ সম্পর্কে আমরা জানতাম না। পরে আমরা তাঁর সাথে বায়তুল্লাহয় এসে পৌঁছলে তিনি রুকন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদে চুমু খেলেন এবং তিনবার রমল এবং চারবার স্বাভবিক গতিতে হেঁটে (তাওয়াফ) সম্পন্ন করলেন। অতঃপর মাকামে ইবরাহীমের দিকে অগ্রসর হয়ে পড়লেন : “এবং ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থানকে তোমরা সলাতের স্থানরূপে নির্ধারণ করো” (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১২৫) এবং তিনি মাকামে ইবরাহীম ও বায়তুল্লাহকে সামনে রাখলেন। জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, আমার পিতা বলেছেন, ইবনু নুফাইল এবং ‘উসমান বলেছেন, আমার মনে হয়, এ কথাটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন। সুলাইমান বলেন, আমার ধারণা, জাবির বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই রাক‘আত সলাত ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’ এবং ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ দিয়ে পড়েছেন। আবার তিনি বায়তুল্লাহর নিকট গিয়ে রুকনে (হাজরে আসওয়াদ) চুমু খেলেন। অতঃপর (বায়তুল্লাহর) দরজা দিয়ে বেরিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে গেলেন। তিনি সা‘ফার কাছে গিয়ে পাঠ করলেন : “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত” (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১৫৯)। সুতরাং আমরা সেখান থেকে সাঈ শুরু করবো আল্লাহ যেখান থেকে শুরু করেছেন (অর্থাৎ প্রথমে সাফা হতে এবং পরে মারওয়া হতে) এ বলে তিনি সাফা পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেন। সেখান থেকে বায়তুল্লাহ দেখে তাকবীর বললেন এবং তাঁর তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে বললেনঃ “তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই, মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব তাঁর। তিনিই জীবন-মৃত্যু দানকারী। তিনিই সকল প্রশংসার প্রকৃত হকদার এবং তিনি সবকিছু করতে সক্ষম ও ক্ষমতাবান। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একাই তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করে দেখিয়েছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল (বিদ্রোহী) বাহিনীকে বিতাড়িত ও পরাভূত করেছেন”। তিনি এর মধ্যে অনুরূপ তিনবার দু‘আ করলেন। অতঃপর সেখান থেকে নেমে মারওয়ায় গেলেন, তাঁর পদদ্বয় নিম্নভূমি স্পর্শ করল, তিনি সমতল ভূমিতে রমল করলেন। সমতল ভূমি অতিক্রম করে মারওয়া পাহাড়ের নিকটে এসে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলেন। তারপর মারওয়া পাহাড়ে উঠে তাই করলেন যেরূপ করেছিলেন সাফা পাহাড়ে। পরে মারওয়ার সর্বশেষ তাওয়াফ সম্পন্ন করে বললেনঃ আমি যা পরে জেনেছি তা যদি আগে জানতাম তাহলে কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে আসতাম না এবং (হাজ্জের) ইহরামকে ‘উমরাহ্‌য় পরিণত করতাম। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই, তারা যেন ‘উমরাহ করার পর ইহরাম খুলে ফেলে এবং (তাওয়াফ, সাঈ ইত্যাদিকে) ‘উমরাহ্‌র কাজ হিসেবে করে নেয়। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো তারা ব্যতীত সকল লোক তাদের ইহরাম খুলে মাথার চুল ছেঁটে ফেললো। এ সময় সুরাক্বাহ ইবনু জ‘শুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরূপ কি শুধু আমাদের এ বছরের জন্য প্রযোজ্য, নাকি সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতের আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে বললেনঃ ‘উমরাহ হাজ্জের মধ্যে প্রবেশ করেছে, এভাবে তিনি দু’বার বললেন, সর্বকালের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় ‘আলী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কুরবানীর পশু নিয়ে ইয়ামান থেকে এলেন। তিনি দেখলেন, ফাত্বিমাহ (রাঃ) ইহরাম খুলে রঙ্গিন পোশাক পরে সুরমা লাগিয়েছেন। ‘আলী (রাঃ) এটা অপছন্দ করে বললেন, তোমাকে এরূপ করতে কে বলেছে? তিনি বললেন, আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। বর্ণনাকারী বলেন, এক সময় ‘আলী (রাঃ) ইরাকে একথা বলেছেন, আমি ফাত্বিমাহ্‌র কৃতকর্মের জন্য রাগ করে রাসূলুল্লাহ্‌র (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলাম। আমি তাঁকে জানালাম, আমি ফাত্বিমাহর এ কাজ অপছন্দ করেছি এবং সে বলেছে, আমার পিতা আমাকে এরূপ করতে আদেশ করেছেন। তিনি আমার কথা শুনে বললেনঃ সে সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। (হে ‘আলী!) তুমি হাজ্জ ও ‘উমরাহ্‌র ইহরাম বাঁধার সময় কি বলেছিলে? তিনি বলেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমার ইহরামও অনুরূপ। তিনি বললেনঃ আমার সাথে কুরবানীর পশু আছে। সুতরাং (আমার মত) তুমিও ইহরাম খুলে হালাল হতে পারবে না। অপরদিকে ‘আলী (রাঃ) এর ইয়ামান থেকে নিয়ে আসা কুরবানীর পশু এবং মাদীনাহ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিয়ে আসা কুরবানীর পশু, এগুলো মোট সংখ্যা ছিলো একশটি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর ঐসব সাহাবী যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো তারা ব্যতীত সকলেই ইহরাম খুলে হালাল হয়ে মাথার চুল খাট করলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারা যখন (অষ্টম তারিখ) তারবিয়ার দিনে মিনার দিকে রওয়ানা হলেন, তখন তারা হাজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীতে চড়লেন এবং মিনায় পৌঁছে আমাদেরকে যুহর, ‘আসর, মাগরিব, ‘ইশা এবং ফাজ্‌র, মোট পাঁচ ওয়াক্ত সলাত সেখানে আদায় করলেন এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। তিনি তাঁর জন্য একখানা পশমের তাঁবু টানাতে নির্দেশ দিলেন এবং ‘নামিরা’ নামক স্থানে তা টানান হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে গেলেন। যাতে কুরাইশদের এরূপ সংশয় না করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাশ’আরুল হারামের নিকটবর্তী মুযদালিফায় অবস্থান করবেন, যেরূপ কুরাইশরা জাহিলিয়াতের যুগে করতো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে আরাফাতে আসলেন। এখানে এসে দেখলেন ‘নামিরায়’ তাঁর জন্য তাবু টানান হয়েছে। পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত তিনি ঐ তাবুতে অবস্থান করেন। অতঃপর সূর্য ঢলে পড়লে তিনি ‘কাসওয়া’ উষ্ট্রীটি উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। তা আনা হলে তিনি তাতে চড়ে বাতনুল ওয়াদীতে আসলেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ নিশ্চয় তোমাদের রক্ত ও সম্পদ (পরষ্পরের জন্য) আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই শহরের মতই সম্মানিত। সাবধান! জাহিলী যুগের সমস্ত কাজ ও প্রথা আমার দুই পায়ের নিচে পতিত হলো। জাহিলী যুগের রক্তের সকল দাবি বাতিল। আমি সর্বপ্রথম আমাদের (বনী হাশিমের) রক্তের দাবি পরিত্যাগ করলাম। বর্ণনাকারী ‘উসমানের বর্ণনায় রয়েছে : আমি ইবনু রবী‘আহ্‌র রক্তের দাবি আর সুলইমানের বর্ণনায় রয়েছে : আমি রবী‘আহ ইবনু হারিস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিবের রক্তের দাবি পরিত্যাগ করলাম। আর রবী‘আহ সা‘দ গোত্রে দুগ্ধপুষ্য থাকাকালীন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করেছিলো। জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হলো। আমি সর্বপ্রথম ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিবের সুদের দাবি পরিহার করলাম। তা সম্পূর্ণরূপে বাতিল হলো। তোমরা নারীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর বিধান মোতাবেক তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছো। তাদের উপর তোমাদেরও অধিকার আছে, তারা যেন তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমার ঘরে স্থান না দেয়। তারা এরূপ করলে তাদেরকে খুবই হালকা মারধর করো। তাদের ভরণ-পোষনের দায়িত্বও তোমাদের উপর। তোমরা তা স্বাভাবিকভাবে আদায় করবে। সর্বোপরি আমি তোমাদের মধ্যে এমন একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব। (ক্বিয়ামাতের দিন) তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কি বলবে? তারা বললেন, আমরা সাক্ষ্য দিবো, আপনি আপনার দায়িত্ব যথাযথভাবে পৌঁছিয়েছেন, আপনার আমানাতের হক্ব আদায় করেছেন এবং ভালো কাজের উপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে তর্জনী তুলে ধরেন এবং মানুষের প্রতি ইঙ্গিত করে (তিনবার) বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) আযান অতঃপর ইক্বামাত দিলেন। তিনি যুহরের সলাত আদায় করলেন, পুনরায় ইক্বামাত দিলে ‘আসরের সলাত আদায় করলেন। কিন্তু এ দুইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অন্য (নফল) সলাত পড়েননি। অতঃপর তিনি কাসওয়া উষ্ট্রীতে আরোহণ করে আরাফাতে অবস্থানের স্থানে এলেন এবং কাসওয়া উষ্ট্রীকে ‘জাবালে রহমাতের’ পাদদেশে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে তিনি পাহাড়কে সামনে রেখে ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্য ডুবে আকাশের লালিমা কিছুটা মুছে যাওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। সূর্যের লালিমা বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি ‘উসামাকে তাঁর পেছনে সওয়ারীতে বসিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান থেকে রওয়ানা হলেন এবং উষ্ট্রীর লাগাম শক্ত করে ধরলেন, ফলে উটের মাথা হাওদার সম্মুখভাগের সাথে ছুটতে লাগলো। এ সময় তিনি ডান হাতের ইশারায় বলতে লাগলেন : ধীরস্থিরভাবে পথ চলো, হে লোকেরা, ধীরস্থিরভাবে চলো, হে লোকজন! তিনি কোন বালির টিলার নিকট এলে উষ্ট্রীর লাগাম সামান্য ঢিলা করতেন যাতে তা সহজে টিলায় উঠে সামনে অগ্রসর হতে পারে। অবশেষে তিনি ‘মুযদালিফায়’ উপস্থিত হলেন। এখানে এসে এক আযান ও দুই ইক্বামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সলাত একত্রে আদায় করেন। এ দুই সলাতের মাঝখানে তিনি অন্য কোনো (নফল) সলাত পড়েননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ স্থানে ভোর পর্যন্ত বিশ্রাম করেন। ফাজ্‌রের সময় হলে তিনি ফাজ্‌রের সলাত আদায় করেন। তিনি এ সলাত আদায় করেছেন এক আযান ও এক ইক্বামাতে। অতঃপর তিনি কাসওয়া উষ্ট্রীর উপর চড়ে মাশ‘আরুল হারামে এসে তার উপর উঠেন। তারপর তিনি ক্বিবলাহকে সামনে রেখে মহান আল্লাহর প্রশংসা, তাকবীর এবং তাহলীল পাঠ করেন। তিনি আল্লাহর একত্ববাদেরও ঘোষণা করেন এবং তিনি ভোর হওয়া পর্যন্ত এ স্থানে অবস্থান করেন। অতঃপর সূর্যোদয়ের পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাদল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে রওয়ানা হলেন। ফাদল ছিলেন কালো চুল ও সুন্দর চেহারার অধিকারী যুবক। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চলার পথে জন্তুযানের অবস্থানকারী একদল মহিলাও তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলো। আর ফাদল বারবার তাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাদলের মুখের উপর হাত রাখলেন। ফাদল অন্যদিকে ঘুরে তাদের দিকে দেখছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাদলের মুখের উপর হাত দিয়ে তা অন্যদিকে ফিরালেন। এবার তিনি ‘মুহাসসার’ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং তিনি উষ্ট্রীকে কিছুটা দ্রুত চালালেন। অতঃপর এখান থেকে রওয়ানা হয়ে জামরাতুল কুবরার দিকের মধ্যবর্তী পথ ধরে চললেন এবং সেখানে বৃক্ষের নিকটবর্তী জামরায় এসে উপস্থিত হয়ে তাতে সাতটি কংকর মারলেন আর প্রত্যেক কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর বললেন। কংকরগুলো ছিলো পাথরের ক্ষুদ্র টুকরার মতো এবং তা সমতল ভূমি থেকে নিক্ষেপ করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পশু কুরবানীর স্থানে উপস্থিত হলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি উট কুরবানী করলেন। অতঃপর ‘আলী (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন তিনি অবশিষ্টগুলো যাবাহ করলেন। তিনি ‘আলী (রাঃ)-কে তাঁর কুরবানীতে অংশীদারও করেন। অতঃপর তিনি প্রত্যেকটি যাবাহকৃত পশু হতে এক টুকরো করে গোশত তাঁকে দেয়ার আদেশ করলেন। সুতরাং তা নিয়ে একটি হাঁড়িতে পাকানো হলো। তাঁরা দু’জনেই এ গোশত খেলেন এবং এর ঝোল পান করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উষ্ট্রীতে চড়ে খুব তাড়াতাড়ি রওয়ানা হয়ে বায়তুল্লাহ্‌য় উপস্থিত হলেন। তিনি মক্কায় এসেই যুহরের সলাত আদায় করলেন। পরে তিনি বনি ‘আবদুল মুত্তালিবের নিকট গেলেন। এসময় তারা (লোকদের) যমযমের পানি পান করাচ্ছিলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ হে বনি ‘আবদুল মুত্তালিব! পানি উত্তোলন করতে থাকো। লোকদের অত্যাধিক ভিড় হওয়ার আশংকা যদি না থাকতো তাহলে আমিও তোমাদের সাথে পানি উত্তোলনে অংশগ্রহণ করতাম। এরপর লোকেরা তাঁকে পানির বালতি সরবরাহ করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা থেকে পান করেন। [১৯০৫]

حدثنا عبد الله بن محمد النفيلي، وعثمان بن أبي شيبة، وهشام بن عمار، وسليمان بن عبد الرحمن الدمشقيان، - وربما زاد بعضهم على بعض الكلمة والشىء - قالوا حدثنا حاتم بن إسماعيل حدثنا جعفر بن محمد عن أبيه قال دخلنا على جابر بن عبد الله فلما انتهينا إليه سأل عن القوم حتى انتهى إلى فقلت أنا محمد بن علي بن حسين ‏.‏ فأهوى بيده إلى رأسي فنزع زري الأعلى ثم نزع زري الأسفل ثم وضع كفه بين ثديى وأنا يومئذ غلام شاب ‏.‏ فقال مرحبا بك وأهلا يا ابن أخي سل عما شئت ‏.‏ فسألته وهو أعمى وجاء وقت الصلاة فقام في نساجة ملتحفا بها يعني ثوبا ملفقا كلما وضعها على منكبه رجع طرفاها إليه من صغرها فصلى بنا ورداؤه إلى جنبه على المشجب ‏.‏ فقلت أخبرني عن حجة رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فقال بيده فعقد تسعا ‏.‏ ثم قال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم مكث تسع سنين لم يحج ثم أذن في الناس في العاشرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حاج فقدم المدينة بشر كثير كلهم يلتمس أن يأتم برسول الله صلى الله عليه وسلم ويعمل بمثل عمله فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وخرجنا معه حتى أتينا ذا الحليفة فولدت أسماء بنت عميس محمد بن أبي بكر فأرسلت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف أصنع قال ‏"‏ اغتسلي واستذفري بثوب وأحرمي ‏"‏ ‏.‏ فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد ثم ركب القصواء حتى إذا استوت به ناقته على البيداء ‏.‏ قال جابر نظرت إلى مد بصري من بين يديه من راكب وماش وعن يمينه مثل ذلك وعن يساره مثل ذلك ومن خلفه مثل ذلك ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا وعليه ينزل القرآن وهو يعلم تأويله فما عمل به من شىء عملنا به فأهل رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتوحيد ‏"‏ لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك ‏"‏ ‏.‏ وأهل الناس بهذا الذي يهلون به فلم يرد عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا منه ولزم رسول الله صلى الله عليه وسلم تلبيته ‏.‏ قال جابر لسنا ننوي إلا الحج لسنا نعرف العمرة حتى إذا أتينا البيت معه استلم الركن فرمل ثلاثا ومشى أربعا ثم تقدم إلى مقام إبراهيم فقرأ ‏{‏ واتخذوا من مقام إبراهيم مصلى ‏}‏ فجعل المقام بينه وبين البيت قال فكان أبي يقول قال ابن نفيل وعثمان ولا أعلمه ذكره إلا عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قال سليمان ولا أعلمه إلا قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ في الركعتين بـ ‏{‏ قل هو الله أحد ‏}‏ وبـ ‏{‏ قل يا أيها الكافرون ‏}‏ ثم رجع إلى البيت فاستلم الركن ثم خرج من الباب إلى الصفا فلما دنا من الصفا قرأ ‏{‏ إن الصفا والمروة من شعائر الله ‏}‏ ‏"‏ نبدأ بما بدأ الله به ‏"‏ ‏.‏ فبدأ بالصفا فرقي عليه حتى رأى البيت فكبر الله ووحده وقال ‏"‏ لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد يحيي ويميت وهو على كل شىء قدير لا إله إلا الله وحده أنجز وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده ‏"‏ ‏.‏ ثم دعا بين ذلك وقال مثل هذا ثلاث مرات ثم نزل إلى المروة حتى إذا انصبت قدماه رمل في بطن الوادي حتى إذا صعد مشى حتى أتى المروة فصنع على المروة مثل ما صنع على الصفا حتى إذا كان آخر الطواف على المروة قال ‏"‏ إني لو استقبلت من أمري ما استدبرت لم أسق الهدى ولجعلتها عمرة فمن كان منكم ليس معه هدى فليحلل وليجعلها عمرة ‏"‏ ‏.‏ فحل الناس كلهم وقصروا إلا النبي صلى الله عليه وسلم ومن كان معه هدى فقام سراقة بن جعشم فقال يا رسول الله ألعامنا هذا أم للأبد فشبك رسول الله صلى الله عليه وسلم أصابعه في الأخرى ثم قال ‏"‏ دخلت العمرة في الحج ‏"‏ ‏.‏ هكذا مرتين ‏"‏ لا بل لأبد أبد لا بل لأبد أبد ‏"‏ ‏.‏ قال وقدم علي - رضى الله عنه - من اليمن ببدن النبي صلى الله عليه وسلم فوجد فاطمة - رضى الله عنها - ممن حل ولبست ثيابا صبيغا واكتحلت فأنكر علي ذلك عليها وقال من أمرك بهذا فقالت أبي ‏.‏ فكان علي يقول بالعراق ذهبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم محرشا على فاطمة في الأمر الذي صنعته مستفتيا لرسول الله صلى الله عليه وسلم في الذي ذكرت عنه فأخبرته أني أنكرت ذلك عليها فقالت إن أبي أمرني بهذا ‏.‏ فقال ‏"‏ صدقت صدقت ماذا قلت حين فرضت الحج ‏"‏ ‏.‏ قال قلت اللهم إني أهل بما أهل به رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قال ‏"‏ فإن معي الهدى فلا تحلل ‏"‏ ‏.‏ قال وكان جماعة الهدى الذي قدم به علي من اليمن والذي أتى به النبي صلى الله عليه وسلم من المدينة مائة فحل الناس كلهم وقصروا إلا النبي صلى الله عليه وسلم ومن كان معه هدى قال فلما كان يوم التروية ووجهوا إلى منى أهلوا بالحج فركب رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى بمنى الظهر والعصر والمغرب والعشاء والصبح ثم مكث قليلا حتى طلعت الشمس وأمر بقبة له من شعر فضربت بنمرة فسار رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تشك قريش أن رسول الله صلى الله عليه وسلم واقف عند المشعر الحرام بالمزدلفة كما كانت قريش تصنع في الجاهلية فأجاز رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أتى عرفة فوجد القبة قد ضربت له بنمرة فنزل بها حتى إذا زاغت الشمس أمر بالقصواء فرحلت له فركب حتى أتى بطن الوادي فخطب الناس فقال ‏"‏ إن دماءكم وأموالكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا ألا إن كل شىء من أمر الجاهلية تحت قدمى موضوع ودماء الجاهلية موضوعة وأول دم أضعه دماؤنا دم ‏"‏ ‏.‏ قال عثمان ‏"‏ دم ابن ربيعة ‏"‏ ‏.‏ وقال سليمان ‏"‏ دم ربيعة بن الحارث بن عبد المطلب ‏"‏ ‏.‏ وقال بعض هؤلاء كان مسترضعا في بني سعد فقتلته هذيل ‏"‏ وربا الجاهلية موضوع وأول ربا أضعه ربانا ربا عباس بن عبد المطلب فإنه موضوع كله اتقوا الله في النساء فإنكم أخذتموهن بأمانة الله واستحللتم فروجهن بكلمة الله وإن لكم عليهن أن لا يوطئن فرشكم أحدا تكرهونه فإن فعلن فاضربوهن ضربا غير مبرح ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف وإني قد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به كتاب الله وأنتم مسئولون عني فما أنتم قائلون ‏"‏ ‏.‏ قالوا نشهد أنك قد بلغت وأديت ونصحت ‏.‏ ثم قال بأصبعه السبابة يرفعها إلى السماء وينكبها إلى الناس ‏"‏ اللهم اشهد اللهم اشهد اللهم اشهد ‏"‏ ‏.‏ ثم أذن بلال ثم أقام فصلى الظهر ثم أقام فصلى العصر ولم يصل بينهما شيئا ثم ركب القصواء حتى أتى الموقف فجعل بطن ناقته القصواء إلى الصخرات وجعل حبل المشاة بين يديه فاستقبل القبلة فلم يزل واقفا حتى غربت الشمس وذهبت الصفرة قليلا حين غاب القرص وأردف أسامة خلفه فدفع رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد شنق للقصواء الزمام حتى إن رأسها ليصيب مورك رحله وهو يقول بيده اليمنى ‏"‏ السكينة أيها الناس السكينة أيها الناس ‏"‏ ‏.‏ كلما أتى حبلا من الحبال أرخى لها قليلا حتى تصعد حتى أتى المزدلفة فجمع بين المغرب والعشاء بأذان واحد وإقامتين - قال عثمان ولم يسبح بينهما شيئا ثم اتفقوا - ثم اضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى طلع الفجر فصلى الفجر حين تبين له الصبح - قال سليمان بنداء وإقامة ثم اتفقوا - ثم ركب القصواء حتى أتى المشعر الحرام فرقي عليه قال عثمان وسليمان فاستقبل القبلة فحمد الله وكبره وهلله زاد عثمان ووحده فلم يزل واقفا حتى أسفر جدا ثم دفع رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن تطلع الشمس وأردف الفضل بن عباس وكان رجلا حسن الشعر أبيض وسيما فلما دفع رسول الله صلى الله عليه وسلم مر الظعن يجرين فطفق الفضل ينظر إليهن فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده على وجه الفضل وصرف الفضل وجهه إلى الشق الآخر وحول رسول الله صلى الله عليه وسلم يده إلى الشق الآخر وصرف الفضل وجهه إلى الشق الآخر ينظر حتى أتى محسرا فحرك قليلا ثم سلك الطريق الوسطى الذي يخرجك إلى الجمرة الكبرى حتى أتى الجمرة التي عند الشجرة فرماها بسبع حصيات يكبر مع كل حصاة منها بمثل حصى الخذف فرمى من بطن الوادي ثم انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المنحر فنحر بيده ثلاثا وستين وأمر عليا فنحر ما غبر - يقول ما بقي - وأشركه في هديه ثم أمر من كل بدنة ببضعة فجعلت في قدر فطبخت فأكلا من لحمها وشربا من مرقها قال سليمان ثم ركب ثم أفاض رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى البيت فصلى بمكة الظهر ثم أتى بني عبد المطلب وهم يسقون على زمزم فقال ‏"‏ انزعوا بني عبد المطلب فلولا أن يغلبكم الناس على سقايتكم لنزعت معكم ‏"‏ ‏.‏ فناولوه دلوا فشرب منه ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ১৯০৬

حدثنا عبد الله بن مسلمة، حدثنا سليمان يعني ابن بلال، ح وحدثنا أحمد بن حنبل، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، - المعنى واحد - عن جعفر بن محمد، عن أبيه، أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الظهر والعصر بأذان واحد بعرفة ولم يسبح بينهما وإقامتين وصلى المغرب والعشاء بجمع بأذان واحد وإقامتين ولم يسبح بينهما ‏.‏ قال أبو داود هذا الحديث أسنده حاتم بن إسماعيل في الحديث الطويل ووافق حاتم بن إسماعيل على إسناده محمد بن علي الجعفي عن جعفر عن أبيه عن جابر إلا أنه قال فصلى المغرب والعتمة بأذان وإقامة ‏.‏

জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফাহর ময়দানে এক আযান ও দুই ইক্বামাতে যুহর ও ‘আসরের সলাত আদায় করেছেন। কিন্তু এ দুই সলাতের মধ্যখানে কোনো তাসবীহ পড়েননি। অনুরূপভাবে তিনি মুযদালিফায় এক আযান ও দুই ইক্বামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সলাত আদায় করেছেন এবং দুই সলাতের মাঝখানে কোন তাসবীহ পড়েননি। [১৯০৬] সহীহ : মুসলিম, জাবির সূত্রে। এটাই সঠিক। এর পূর্বের ১৯০৫ নং হাদীস। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, জাবির হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে : “অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিব ও ‘ইশা এক আযান ও এক ইক্বামাতে আদায় করেছেন”। দুর্বল।

জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফাহর ময়দানে এক আযান ও দুই ইক্বামাতে যুহর ও ‘আসরের সলাত আদায় করেছেন। কিন্তু এ দুই সলাতের মধ্যখানে কোনো তাসবীহ পড়েননি। অনুরূপভাবে তিনি মুযদালিফায় এক আযান ও দুই ইক্বামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সলাত আদায় করেছেন এবং দুই সলাতের মাঝখানে কোন তাসবীহ পড়েননি। [১৯০৬] সহীহ : মুসলিম, জাবির সূত্রে। এটাই সঠিক। এর পূর্বের ১৯০৫ নং হাদীস। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, জাবির হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে : “অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিব ও ‘ইশা এক আযান ও এক ইক্বামাতে আদায় করেছেন”। দুর্বল।

حدثنا عبد الله بن مسلمة، حدثنا سليمان يعني ابن بلال، ح وحدثنا أحمد بن حنبل، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، - المعنى واحد - عن جعفر بن محمد، عن أبيه، أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الظهر والعصر بأذان واحد بعرفة ولم يسبح بينهما وإقامتين وصلى المغرب والعشاء بجمع بأذان واحد وإقامتين ولم يسبح بينهما ‏.‏ قال أبو داود هذا الحديث أسنده حاتم بن إسماعيل في الحديث الطويل ووافق حاتم بن إسماعيل على إسناده محمد بن علي الجعفي عن جعفر عن أبيه عن جابر إلا أنه قال فصلى المغرب والعتمة بأذان وإقامة ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ ১৯০৮

حدثنا مسدد، حدثنا حفص بن غياث، عن جعفر، بإسناده زاد ‏ "‏ فانحروا في رحالكم ‏"‏ ‏.‏

জা‘ফর (রহঃ) হতে একই সানাদ থেকে বর্নিতঃ

এতে আরো আছে সুতরাং : তোমরা নিজ নিজ অবস্থান স্থলে কুরবানী করো।

জা‘ফর (রহঃ) হতে একই সানাদ থেকে বর্নিতঃ

এতে আরো আছে সুতরাং : তোমরা নিজ নিজ অবস্থান স্থলে কুরবানী করো।

حدثنا مسدد، حدثنا حفص بن غياث، عن جعفر، بإسناده زاد ‏ "‏ فانحروا في رحالكم ‏"‏ ‏.‏


সুনানে আবু দাউদ > ‘আরাফাহ ময়দানে অবস্থান সম্পর্কে

সুনানে আবু দাউদ ১৯১০

حدثنا هناد، عن أبي معاوية، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة، قالت كانت قريش ومن دان دينها يقفون بالمزدلفة وكانوا يسمون الحمس وكان سائر العرب يقفون بعرفة قالت فلما جاء الإسلام أمر الله تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم أن يأتي عرفات فيقف بها ثم يفيض منها فذلك قوله تعالى ‏{‏ ثم أفيضوا من حيث أفاض الناس ‏}‏ ‏.‏

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, কুরাইশরা এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা মুযদালিফায় অবস্থান করতো এবং নিজেদের এরূপ আচরণকে বীরত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করতো। অথচ আরবের অন্যান্য লোকেরা আরাফাহ্য় অবস্থান করতো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, ইসলামের আবির্ভাবের পর মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরাফাহ্য় গমনের ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী : “তোমরাও সেখান থেকে ফিরে যাও যেখান থেকে অন্যান্য লোক ফিরে আসে। [১৯১০]

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, কুরাইশরা এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা মুযদালিফায় অবস্থান করতো এবং নিজেদের এরূপ আচরণকে বীরত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করতো। অথচ আরবের অন্যান্য লোকেরা আরাফাহ্য় অবস্থান করতো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, ইসলামের আবির্ভাবের পর মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরাফাহ্য় গমনের ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী : “তোমরাও সেখান থেকে ফিরে যাও যেখান থেকে অন্যান্য লোক ফিরে আসে। [১৯১০]

حدثنا هناد، عن أبي معاوية، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة، قالت كانت قريش ومن دان دينها يقفون بالمزدلفة وكانوا يسمون الحمس وكان سائر العرب يقفون بعرفة قالت فلما جاء الإسلام أمر الله تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم أن يأتي عرفات فيقف بها ثم يفيض منها فذلك قوله تعالى ‏{‏ ثم أفيضوا من حيث أفاض الناس ‏}‏ ‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00